ফিউচার একাডেমি
ফিউচার একাডেমি
শিক্ষক গাইড (কোন প্রস্তুতিগুলো শেখানো জরুরি)
১। আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক দক্ষতা শেখান
স্কুলে শিশু সব সময় নিজের পছন্দমতো পরিবেশ পাবে না। খেলনা ভাগ করতে হবে, অপেক্ষা করতে হবে, কোনো কাজে ব্যর্থ হতে পারে, আবার কখনো মন খারাপও হবে। তাই এগুলো শেখান,
১। রাগ, দুঃখ, ভয় ও আনন্দের মতো আবেগের নাম বলতে।
২। মন খারাপ হলে বড়দের কাছে সাহায্য চাইতে।
৩। রাগ হলে মারধর বা জিনিস ছুড়ে না ফেলে বিকল্প আচরণ করতে।
৪। কোনো কিছু না পেলে হতাশা সামলানোর চেষ্টা করতে।
৫। কান্না করলে তাকে লজ্জা না দিয়ে আবেগ প্রকাশের নিরাপদ সুযোগ দিতে।
মনে রাখবেন: এই বয়সে শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পরিণত হয় না। তাই সব সময় শান্ত থাকতে পারাই প্রস্তুতির শর্ত নয়; বরং বড়দের সাহায্যে ধীরে ধীরে নিজেকে সামলানো শেখাই লক্ষ্য। আর ভুল করবে টুকটাক শিখবে।
২। নিজের প্রয়োজন ও অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখান
শিশু স্কুলে গিয়ে শিক্ষকের কাছে নিজের প্রয়োজন বোঝাতে না পারলে অস্বস্তিতে পড়তে পারে।
অনুশীলন করান,
১। “আমার পানি লাগবে।”
২। “আমি ওয়াসরুমে যাব।”
৩। “আমি এটা বুঝতে পারিনি।”
৪।“আমার সাহায্য লাগবে।”
৫। “আমি ভয় পাচ্ছি।”
৬।“আমি এখন এটা খেলতে চাই না।”
শিশু যেন নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে পারে-এটাই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অনেক কথা বলতে পারাই যথেষ্ট নয়; অন্যের কথা বুঝতে পারা এবং সহজ নির্দেশ অনুসরণ করার দক্ষতাও প্রয়োজন।
৩। নির্দেশ শোনা ও অনুসরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
স্কুলে শিক্ষক একসঙ্গে অনেক শিশুকে নির্দেশ দেন। তাই ছোট ছোট নির্দেশ অনুসরণ করার অনুশীলন করান। যেমন: “তোমার জুতাটা নিয়ে দরজার পাশে রাখো।”, “বইটা তাকের ওপর রাখো, তারপর আমার কাছে এসো।”, “খেলনা গুছিয়ে হাত ধুতে যাও।”,গল্প শোনার পর গল্পের একটি ঘটনা নিজের ভাষায় বলতে বলুন। প্রথমে একটি সহজ নির্দেশ দিন। শিশু স্বচ্ছন্দ হলে দুটি ধাপের নির্দেশ দিন।
একসঙ্গে অনেক নির্দেশ দেবেন না। শিশুর বয়স, ভাষাগত দক্ষতা ও মনোযোগের সক্ষমতা অনুযায়ী নির্দেশ সহজ রাখুন।
৪। অন্য শিশুদের সঙ্গে মিশতে শেখান
স্কুলে গিয়ে শিশুকে নতুন বন্ধু, নতুন নিয়ম ও দলগত পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। তাই শেখান,
১। অন্য শিশুর সঙ্গে খেলনা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করতে।
২। নিজের পালার জন্য অপেক্ষা করতে।
৩। খেলায় অন্যের পালাকেও গুরুত্ব দিতে।
৪। কেউ কথা বললে শোনার চেষ্টা করতে।
৫। ঝগড়া হলে মারধর না করে কথা বলতে।
৬। অন্য কেউ ‘না’ বললে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে।
শিশু যেন নিজের পছন্দ প্রকাশ করতে পারে, আবার অন্যের পছন্দও সম্মান করতে শেখে।
সব শিশুই সমান সামাজিক হবে না। কেউ দ্রুত বন্ধু বানায়, কেউ সময় নেয়। স্কুলে প্রস্তুত হওয়ার জন্য খুব মিশুক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কিছু ক্ষেত্রে তার মতো ছেড়ে দিয়ে, অবজারভ করুন।
৫। টয়লেট ব্যবহারের প্রস্তুতি নিন
৩.৫–৪.৫ বছর বয়সে অনেক শিশু টয়লেট ব্যবহারে বেশ স্বাধীন হয়ে ওঠে। তবে প্রত্যেক শিশুর বিকাশের গতি আলাদা।
স্কুলে দেওয়ার আগে অনুশীলন করান,
১। প্রস্রাব বা পায়খানা পেলে শিক্ষককে জানাতে।
২। স্কুলের টয়লেট ব্যবহারের নিয়ম বুঝতে।
৩। টয়লেটের পর পরিষ্কার হওয়ার চেষ্টা করতে।
৪। সাবান দিয়ে হাত ধুতে।
৫। পোশাক নামানো ও পরার কাজে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিতে।
শিশু এখনো পুরোপুরি স্বাধীন না হলে আতঙ্কিত হবেন না। স্কুলের টয়লেট নীতি জানিয়ে দিন এবং টয়লেট শেখানোর জন্য লজ্জা দেওয়া, ভয় দেখানো বা জোর করা উচিত নয়।
৬।নিজের ছোট ছোট কাজ নিজে করার অভ্যাস করান
যেমন:
- নিজে চামচ দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করা।
- পানির বোতল খোলা ও বন্ধ করা।
- নিজের ব্যাগ ও পানির বোতল চিনতে পারা।
- টিফিনের বাক্স খোলা ও বন্ধ করার অনুশীলন।
- জুতা পরা ও খোলার চেষ্টা করা।
- ব্যবহৃত জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা।
- খাবারের আগে ও টয়লেটের পর হাত ধোয়া।
সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে না। লক্ষ্য হলো শিশুকে নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
৭। মনোযোগ ও কাজ শেষ করার অভ্যাস তৈরি করুন
এই বয়সে শিশুর মনোযোগ বড়দের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে পড়ানো বা জোর করে কাজ শেষ করানো প্রয়োজন নেই।
বরং
১। ৫–১০ মিনিট গল্প শোনা বা ছবি দেখা দিয়ে শুরু করুন।
২। পাজল, ব্লক, আঁকাআঁকি ও সাজানোর খেলায় অংশ নিতে দিন।
৩। একটি ছোট কাজ শেষ করে পরের কাজে যাওয়ার অভ্যাস করান।
৪। খেলনা গুছিয়ে রাখা বা ছবিতে নির্দিষ্ট বস্তু খোঁজার খেলা খেলুন।
৫। মাঝেমধ্যে নড়াচড়া ও বিরতির সুযোগ দিন।একটু ওঠা বসা, ড্যান্স ইত্যাদি।
সময় ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, তবে শিশুর আগ্রহ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিন। মনোযোগ মানে চুপচাপ বসে থাকা নয়। শিশুর সক্রিয়ভাবে শেখা, অনুসন্ধান করা ও কাজে ফিরে আসার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
৮। নিজের শরীরের সীমা ও নিরাপত্তা শেখান
স্কুলে শিশুকে নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
শেখান,
১। নিজের শরীরের ব্যক্তিগত অংশ সম্পর্কে বয়সোপযোগী ধারণা দিতে।
২। কেউ অস্বস্তিকরভাবে স্পর্শ করলে ‘না’ বলতে ও সরে আসতে।
৩। অস্বস্তিকর ঘটনা হলে বিশ্বস্ত বড়দের জানাতে।
৪। শিক্ষক বা অন্য কেউ কিছু বললেই তা গোপন রাখতে হবে-এমন ধারণা না দিতে।
৫। স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় অনুমোদিত অভিভাবক ছাড়া কারও সঙ্গে না যেতে।
৬। হারিয়ে গেলে নির্ধারিত নিরাপদ বড় ব্যক্তির সাহায্য চাইতে। ব্যাগে বড়দের নাম্বার ও ঠিকানা দিয়ে একটা ছোট্ট ডায়রি রেখে দিন।
শিশুকে বোঝান, কোনো ঘটনা ঘটলে সে আপনাকে বলতে পারবে এবং তাকে দোষ দেওয়া হবে না।
গুড টাচ-ব্যাড টাচ শেখানোর পাশাপাশি শিশুর সম্মতি, ব্যক্তিগত সীমা এবং সাহায্য চাওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা জরুরি।
৯। স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত করুন
স্কুল শিশুর জন্য সম্পূর্ণ নতুন জগৎ হতে পারে। তাই হঠাৎ দীর্ঘ সময়ের জন্য একা রেখে দেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন।
১। সম্ভব হলে স্কুলটি আগে ঘুরিয়ে দেখান।
২। স্কুলের মাঠ, শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেটের সঙ্গে পরিচিত করান।
৩। স্কুল নিয়ে আনন্দদায়ক গল্প বলুন।
৪। বাড়িতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সেজে খেলার মাধ্যমে স্কুলের নিয়ম বোঝান।
৫। বিদায়ের সময় কী হবে তা সহজভাবে বুঝিয়ে দিন।
৬। স্কুলে যাওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন।
শিশু প্রথম দিনেই আনন্দের সঙ্গে স্কুলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কান্না বা অস্বস্তি মানেই শিশু স্কুলের জন্য প্রস্তুত নয়-এমনও নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র কষ্ট হলে কারণ খুঁজে স্কুলের সঙ্গে আলোচনা করুন। ওদের ক্লাস সাধারনত ২-৩ ঘন্টা হয় তাই কাউকে ওই সময়টা স্কুলে রাখুন কারন এখন স্কুল মানেই সব শিখে ফেলতে হবে এমন নয়। কেবল নতুন পরিবেশ বোঝা আর নতুন অভিজ্ঞতা নেয়া।
১০। বাবা-মা থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের প্রস্তুতি দিন
অনেক শিশু বাড়ির পরিচিত মানুষদের ছেড়ে নতুন পরিবেশে যেতে ভয় পায়। তাই,
১। পরিচিত বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে অল্প সময় থাকার সুযোগ দিন।
২। বিদায়ের সময় শান্ত ও আশ্বস্তকারী থাকুন।
৩। লুকিয়ে চলে যাবেন না।
৪। “মা/বাবা তোমাকে নিতে আসবে”-এমন প্রতিশ্রুতি দিলে তা অবশ্যই রাখুন। মিথ্যা বলবেন না।
৫। শিশুর ভয়কে ছোট করে দেখবেন না।
৬। স্কুলে কান্না করলে “তুমি তো বড় হয়েছ, কান্না করছ কেন?” বলে লজ্জা দেবেন না।
শিশুকে ধীরে ধীরে বুঝতে সাহায্য করুন যে বাবা-মা চলে গেলেও আবার ফিরে আসবেন।
১১। পড়াশোনার প্রাথমিক প্রস্তুতি নিন-কিন্তু চাপ দেবেন না
৩.৫–৪.৫ বছর বয়সে অক্ষর, সংখ্যা ও বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে। তবে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে সব অক্ষর লেখা, অনেক সংখ্যা মুখস্থ করা বা পড়তে পারা বাধ্যতামূলক ধরে নেবেন না। বরং
১। প্রতিদিন গল্পের বই পড়ুন।
২। ছবির নাম বলতে ও ছবি নিয়ে গল্প করতে উৎসাহ দিন।
৩। ছড়া, গান ও শব্দের খেলা খেলুন।
৪। রং, আকার, বড়-ছোট ও বেশি-কমের ধারণা দিন।
৫। ব্লক, মাটি বা নিরাপদ উপকরণ দিয়ে হাতের দক্ষতা বাড়ান।
৬। কাগজে আঁকিবুঁকি ও দাগ টানার সুযোগ দিন।
৭। শিশুর কৌতূহল অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর দিন।
শিশুকে প্রশ্ন করুন, “তোমার কী মনে হয়?”, “এরপর কী হতে পারে?”-এতে ভাষা, চিন্তা ও কল্পনাশক্তি বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
১২। ঘুম, খাবার ও দৈনন্দিন রুটিন ঠিক করুন
স্কুলের সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগে থেকেই শিশুর পরিবারে রুটিন দিয়ে দিন।
১। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে ওঠা।
২। বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ রাখা।
৩। স্কুলের সময় অনুযায়ী সকালের নাশতা করা।
৪। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগলে জানাতে শেখানো।
৫। পুষ্টিকর খাবার ও পানি গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা।
৬। ঘুমের আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করা।
৭। ঘুমের আগে ও সকালে ফোন দেখার নিয়ম বড় ছোট কারো জন্য নয়।
বিশেষ করে স্কুলে যাওয়ার জন্য শিশুর ঘুম কমিয়ে দেবেন না। পর্যাপ্ত ঘুম শেখা, মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এবং সকালের নাস্তাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সেখানে প্রোটিন মাস্ট। তাহলে মনোযোগ ভালো থাকে।
স্ক্রিন থেকে দূরে রাখুন বিশেষ করে মেবাইল থেকে, টিভি মাঝে মাঝো, নির্বাচিত কনটেন্ট তবে মোবাইল একদম নয়।
বাবা-মায়েরও প্রস্তুতি প্রয়োজন
শিশুর পাশাপাশি বাবা-মায়ের মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শেখান-,
১। শিশু স্কুলে গিয়ে কাঁদলে তিনি যেন ধৈর্য ধরতে পারে।
২। অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা না করে নিজের সন্তানের অগ্রগতি বুঝতে।
৩। শিক্ষক কোনো সমস্যা জানালে আত্মপক্ষ সমর্থন না করে শুনতে।
৪। শিশুর ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিতে।
৫। স্কুলের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখতে।
৬। শিশুর নিরাপত্তা, আবেগীয় চাহিদা ও ব্যক্তিগত সীমাকে গুরুত্ব দিতে।
শিশুকে শুধু নিয়ম মানতে শেখানো নয়, বরং তার প্রয়োজন বোঝা এবং তাকে নিরাপদ অনুভব করানোও বাবা-মার দায়িত্ব।
৩.৫–৪.৫ বছর বয়সী একটি শিশুর সবচেয়ে বড় অর্জন সব অক্ষর চিনতে পারা নয়। বরং সে যেন নিজের কথা বলতে পারে, প্রয়োজন হলে সাহায্য চাইতে পারে, অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারে, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে পারে এবং ভুল করলেও নিজেকে নিরাপদ অনুভব করে।
স্কুল শিশুকে শুধু পড়াশোনা শেখানোর জায়গা নয়; এটি তার সামাজিক, আবেগীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ।
তাই শিশুকে প্রস্তুত করুন-ভয় দেখিয়ে নয়, তুলনা করে নয়, বরং ভালোবাসা, ধৈর্য, খেলা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
৩–৫ বছর বয়সী শিশুদের কাছে পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক ও মজার করে তোলার ১৫টি কার্যকর টিপস
শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে পড়াকে শুধু বই, খাতা ও পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পড়াশোনাকে খেলা, গল্প, ছবি, ধাঁধা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করার ১৫টি উপায়
১. পড়াশোনাকে খেলায় পরিণত করুন
শিশুরা খেলতে খেলতে অনেক কিছু সহজে শিখতে পারে। তাই যোগ-বিয়োগ শেখাতে রঙিন ব্লক, বোতাম বা পেনসিল ব্যবহার করুন। বাংলা শব্দ শেখাতে বর্ণের কার্ড দিয়ে খেলা করুন।
উদাহরণ: শিশুকে ৫টি আমের ছবি দেখিয়ে আরও ৩টি আম যোগ করুন। তারপর জিজ্ঞাসা করুন, মোট আম কতটি হলো? এভাবে অঙ্ক শেখা আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
২. গল্পের মাধ্যমে নতুন বিষয় শেখান
শিশুদের গল্প শুনতে ও কল্পনা করতে ভালো লাগে। তাই বাংলা, ইংরেজি ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়গুলো ছোট ছোট গল্পের মাধ্যমে বোঝান।
গল্প শেষে জিজ্ঞাসা করুন, ‘তারপর কী হলো?’ অথবা ‘তুমি হলে কী করতে?’ এতে শিশুর ভাষা, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও গল্প বোঝার দক্ষতা অনুশীলন হবে।
৩. ছবি ও ফ্ল্যাশকার্ড ব্যবহার করুন
নতুন শব্দ শেখানোর সময় শব্দের সঙ্গে ছবি দেখান। যেমন—Apple-এর পাশে আপেলের ছবি এবং Cat-এর পাশে বিড়ালের ছবি রাখুন।
প্রথমে ছবি দেখে শব্দ বলতে দিন। পরে শব্দ দেখে ছবি খুঁজতে বলুন। কিছুক্ষণ পর ছবি সরিয়ে দিয়ে মনে করে শব্দটি বলতে উৎসাহ দিন।
৪. ছোট ছোট শেখার চ্যালেঞ্জ দিন
একসঙ্গে অনেক পড়া চাপিয়ে না দিয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। যেমন—আজ পাঁচটি নতুন শব্দ শেখা, পাঁচটি অঙ্ক সমাধান করা অথবা একটি ছোট গল্প পড়া।
শিশু লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে হতাশ করবেন না। তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজের পরিমাণ ঠিক করুন। মনে রাখবেন, দ্রুত শেষ করার চেয়ে সঠিকভাবে বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৫. স্টার চার্ট তৈরি করে উৎসাহ দিন
শিশুর ভালো অভ্যাস ও শেখার চেষ্টাকে উৎসাহিত করতে একটি স্টার চার্ট তৈরি করুন। নিজের পড়া গুছিয়ে রাখা, চেষ্টা করে অঙ্ক সমাধান করা কিংবা নতুন শব্দ শেখার জন্য স্টার দিতে পারেন।
কয়েকটি স্টার জমলে শিশুকে পছন্দের গল্প বেছে নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে খেলাধুলা করা অথবা পার্কে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ দিন। প্রতিটি কাজের জন্য দামি উপহার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৬. প্রশ্নোত্তর ও ধাঁধার খেলা খেলুন
পড়া শেষে বই বন্ধ করে শিশুকে সহজ প্রশ্ন করুন। যেমন—আজ কী শিখলে? এই শব্দের অর্থ কী? সাতের সঙ্গে কত যোগ করলে বারো হবে?
এ ছাড়া ফল, পশুপাখি, রং, সংখ্যা ও দৈনন্দিন জীবনের বিষয় নিয়ে ধাঁধা খেলতে পারেন। উত্তর ভুল হলে বকাঝকা না করে ছোট্ট ইঙ্গিত দিন, যাতে শিশু নিজে চিন্তা করে উত্তর খুঁজে পায়।
৭. পড়ার জন্য সুন্দর ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন
পড়ার জায়গাটি পরিষ্কার, পর্যাপ্ত আলোযুক্ত ও আরামদায়ক রাখুন। বই, খাতা, পেনসিল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের কাছে রাখুন।
পড়ার সময় টেলিভিশন, মোবাইলের নোটিফিকেশন ও অন্যান্য বিভ্রান্তি কমিয়ে দিন। শিশুকে এমন পরিবেশ দিন, যেখানে সে নিশ্চিন্তে পড়তে, প্রশ্ন করতে ও ভুল থেকে শিখতে পারে।
৮. বাস্তব জীবনের সঙ্গে পড়াশোনা যুক্ত করুন
শিশুকে বোঝান যে পড়াশোনা শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়, দৈনন্দিন জীবনেও কাজে লাগে।
বাজারে গিয়ে জিনিসের দাম গোনা, রান্নাঘরে ফলের সংখ্যা নির্ণয়, ঘড়ি দেখে সময় বলা কিংবা বাড়ির বিভিন্ন জিনিসের ইংরেজি নাম শেখানোর মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পড়াশোনার সংযোগ তৈরি করুন।
তাকে নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে দিন। প্রয়োজনে ছবি আঁকতে বা উদাহরণ দিতে বলুন। কোথাও ভুল হলে ধৈর্য ধরে সংশোধন করুন।
নিজের ভাষায় শেখা বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করলে শিশু কতটা বুঝেছে, তা যাচাই করা যায় এবং তার আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে।
৯. শিশুকে শিক্ষক হতে দিন
শিশু কোনো বিষয় শেখার পর তাকে বলুন, ‘এবার তুমি আমাকে শেখাও, আজ কী শিখেছ।’
তাকে নিজের ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে দিন। প্রয়োজনে ছবি আঁকতে বা উদাহরণ দিতে বলুন। কোথাও ভুল হলে ধৈর্য ধরে সংশোধন করুন।
নিজের ভাষায় শেখা বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করলে শিশু কতটা বুঝেছে, তা যাচাই করা যায় এবং তার আত্মবিশ্বাসও বাড়তে পারে।
১০. পড়ার মাঝে ছোট বিরতি দিন
একটানা দীর্ঘ সময় পড়তে বাধ্য করলে শিশু ক্লান্ত ও বিরক্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স, মনোযোগ ও ক্লান্তি অনুযায়ী ছোট ছোট পড়ার পর্ব তৈরি করুন।
যেমন, ১৫–২০ মিনিট পড়ার পর কয়েক মিনিট বিরতি দিতে পারেন। বিরতির সময় পানি পান, একটু হাঁটাচলা বা হালকা শরীরচর্চা করতে দিন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে আরও কম সময়ের পড়ার পর্ব দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।
১১. ফলাফলের চেয়ে চেষ্টার প্রশংসা করুন
শিশু ভুল করলেও তার চেষ্টা ও অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিন। শুধু ভালো নম্বর পাওয়ার পর প্রশংসা না করে কঠিন কাজ চেষ্টা করা, ভুল বুঝতে পারা এবং আবার চেষ্টা করার জন্যও উৎসাহ দিন।
যেমন বলতে পারেন, ‘তুমি নিজে চেষ্টা করে অঙ্কটি সমাধান করেছ, খুব ভালো!’ এতে শিশু বুঝবে যে শেখার পথে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
১২. শব্দ তৈরি ও বানানের খেলা খেলুন
বাংলা বর্ণ বা ইংরেজি অক্ষরের কার্ড তৈরি করে শিশুকে সেগুলো সাজিয়ে শব্দ বানাতে বলুন।
যেমন—C + A + T = CAT। এরপর CAT শব্দটি দিয়ে একটি বাক্য তৈরি করতে বলুন। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও বর্ণ সাজিয়ে ছোট শব্দ তৈরি করতে পারেন।
এভাবে অক্ষর চেনা, বানান, শব্দভান্ডার ও বাক্য গঠনের দক্ষতা অনুশীলন করা যায়।
সপ্তাহে কয়েক দিন পরিবারের সবাই মিলে কুইজ, ধাঁধা, শব্দ খোঁজা বা গণনার খেলা খেলুন। বড়রা বই পড়ে শোনাতে পারেন এবং শিশুর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও সাহায্য করতে পারেন।
এতে শেখার পরিবেশ আরও আনন্দময় হয় এবং শিশুর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগও বাড়ে।
১৩. পরিবারের সবাই মিলে শেখার সময় রাখুন
শিশুর পড়াশোনার দায়িত্ব শুধু তার একার বা একজন অভিভাবকের নয়। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে শেখার আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন।
সপ্তাহে কয়েক দিন পরিবারের সবাই মিলে কুইজ, ধাঁধা, শব্দ খোঁজা বা গণনার খেলা খেলুন। বড়রা বই পড়ে শোনাতে পারেন এবং শিশুর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও সাহায্য করতে পারেন।
এতে শেখার পরিবেশ আরও আনন্দময় হয় এবং শিশুর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগও বাড়ে।
১৪. শিশুকে পছন্দের সুযোগ দিন
শিশুকে সব সময় নির্দেশ না দিয়ে তার মতামত জানতে চান। যেমন—‘আজ আগে গল্প পড়বে, নাকি অঙ্ক করবে?’ অথবা ‘ছবি এঁকে শিখবে, নাকি কার্ড দিয়ে?’
অবশ্যই প্রয়োজনীয় পড়া ও শেখার লক্ষ্য বজায় রাখবেন। তবে কাজের ক্রম বা অনুশীলনের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে শিশু নিজের শেখার বিষয়ে আগ্রহী ও দায়িত্বশীল হতে শিখতে পারে।
১৫. প্রতিদিন আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করুন
পড়াশোনার শেষটা এমনভাবে করুন, যাতে শিশু শেখার বিষয়ে ইতিবাচক অনুভূতি নিয়ে উঠে যেতে পারে।
শেষে একটি মজার ধাঁধা দিন, পছন্দের গল্প পড়ুন অথবা আজকের শেখা বিষয় থেকে একটি সহজ প্রশ্ন করুন। তারপর জিজ্ঞাসা করুন, ‘আজকের পড়ার মধ্যে কোনটা তোমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে?’
শিশুর উত্তর মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এতে তার আগ্রহ, অসুবিধা ও পছন্দ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা যাবে।
শিক্ষকরা স্কুলে শিশুদের সামনে যেসব বাক্য ব্যবহার করবেন তার তালিকা
১. Come and sit down to study. — আসো এবং পড়তে বসো।
২. Take out your books and copy. — তোমার বই ও খাতা বের করো।
৩. Open your book to page number ten. — তোমার বইয়ের দশ নম্বর পৃষ্ঠা খোলো।
৪. Is your pencil sharpened? — তোমার পেন্সিল কি কাটা আছে?
৫. Get your geometry box. — তোমার জ্যামিতি বক্সটি নিয়ে এসো।
৬. Pay attention to your studies. — লেখাপড়ায় মন দাও।
৭. Look at the board carefully. — বোর্ডের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকাও।
৮. Listen to me carefully. — আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো।
৯. Don't look here and there while studying. — পড়ার সময় এদিক-ওদিক তাকিও না।
১০. Focus on your work. — তোমার কাজের ওপর মনোযোগ দাও।
১১. Have you finished your homework? — তোমার বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে কি?
১২. Write it down in your notebook. — এটি তোমার খাতায় লিখে নাও।
১৩. Improve your handwriting. — তোমার হাতের লেখা সুন্দর করো।
১৪. Don't make spelling mistakes. — বানান ভুল করো না।
১৫. Erase this and write it again. — এটা মুছে ফেলো এবং আবার লেখো।
১৬. Your handwriting is very messy. — তোমার হাতের লেখা খুব নোংরা হয়েছে।
১৭. Keep your handwriting neat and clean. — তোমার হাতের লেখা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখো।
১৮. Complete your work on time. — সময়ের মধ্যে তোমার কাজ শেষ করো।
১৯. Copy this down from the board. — বোর্ড থেকে এটি তুলে নাও।
২০. Underline the important words. — গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর নিচে দাগ দাও।
২১. Read it aloud. — জোরে জোরে পড়ো।
২২. Read silently. — মনে মনে পড়ো।
২৩. Memorize this poem/answer. — এই কবিতাটি/উত্তরটি মুখস্থ করো।
২৪. Try to understand the meaning. — অর্থ বোঝার চেষ্টা করো।
২৫. Don't just mug up, understand the concept. — শুধু মুখস্থ করো না, বিষয়টি বোঝো।
২৬. Repeat after me. — আমার পরে পরে বলো।
২৭. Speak a little louder. — আরেকটু জোরে বলো।
২৮. Read the chapter thoroughly. — অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়ে নাও।
২৯. You made a mistake here. — তুমি এখানে একটি ভুল করেছ।
৩০. Try again, you can do it. — আবার চেষ্টা করো, তুমি পারবে।
৩১. Very good, keep it up! — খুব ভালো, এভাবে চালিয়ে যাও!
৩২. You are a smart boy/girl. — তুমি একটি বুদ্ধিমান ছেলে/মেয়ে।
৩৩. Why are you getting so distracted? — তুমি এত অমনোযোগী হচ্ছ কেন?
৩৪. Sit straight while studying. — পড়ার সময় সোজা হয়ে বসো।
৩৫. Don't bend too much while reading. — পড়ার সময় খুব বেশি ঝুঁকো না।
৩৬. Are you feeling sleepy? — তোমার কি ঘুম পাচ্ছে?
৩৭. Do you want a break? — তুমি কি একটু বিরতি চাও?
৩৮. Drink some water. — একটু পানি খাও।
৩৯. Close your book now. — এখন তোমার বই বন্ধ করো।
৪০. Pack your school bag for tomorrow. — আগামীকালের জন্য তোমার স্কুল ব্যাগ গুছিয়ে রাখো।
৪১. Revise what you learned yesterday. — গতকাল যা পড়েছ তা আবার রিভিশন দাও।
৪২. Will you be able to do this sum? — তুমি কি এই অংকটা করতে পারবে?
৪৩. Show me your answer sheet. — তোমার উত্তরপত্রটি আমাকে দেখাও।
৪৪. You need to work harder. — তোমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
৪৫. Practice makes a man perfect. — অভ্যাসে মানুষের দক্ষতা বাড়ে।
৪৬. Don't leave anything for tomorrow. — আগামীকালের জন্য কোনো কাজ ফেলে রেখো না।
৪৭. Do you have any doubts? — তোমার কি কোনো সন্দেহ বা প্রশ্ন আছে?
৪৮. Ask me if you don't understand. — না বুঝলে আমাকে জিজ্ঞেস করো।
৪৯. Keep your desk clean and tidy. — তোমার পড়ার টেবিল পরিষ্কার ও গোছানো রাখো।
৫০. Now go and play for a while. — এখন যাও, কিছুক্ষণ খেলাধুলা করো।