১
গোয়া ১৯৪৭ সালের পরেও ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি
ব্রিটিশরা গোয়া (Goa) বাদে প্রায় পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছিল, গোয়াতে পর্তুগিজরা তাদের শাসন বজায় রেখেছিল; এছাড়া, কিছু দেশীয় রাজ্য যেমন কাশ্মীর, মহীশূর, হায়দ্রাবাদ সরাসরি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে না থাকলেও ব্রিটিশ প্রভাব বলয়ে ছিল।
বিস্তারিত:
গোয়া: পর্তুগিজরা ১৬০০ সালেরও আগে ভারতে আসে এবং তাদের উপনিবেশ, যেমন গোয়া, ব্রিটিশদের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা পেলেও গোয়া পর্তুগালের অধীনেই ছিল, যা ১৯৬১ সালে ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়।
দেশীয় রাজ্য:
ব্রিটিশ ভারত মূলত সরাসরি ব্রিটিশ প্রদেশ এবং দেশীয় রাজ্য নিয়ে গঠিত ছিল। দেশীয় রাজ্যগুলো নামেমাত্র স্বাধীন ছিল, কিন্তু তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে থাকত, তাই এগুলি 'পরোক্ষ শাসন' বা 'প্রভাব বলয়ে' ছিল।
সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ:
ব্রিটিশরা পলাশীর যুদ্ধ (১৭৫৭) থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০০ বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, যা 'ব্রিটিশ রাজ' নামে পরিচিত ছিল।
সুতরাং, একটি একক স্থান হিসেবে 'গোয়া' ব্রিটিশদের সরাসরি শাসন থেকে মুক্ত ছিল, যা পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
গোয়ার পরিচিতি:
গোয়া ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট, কিন্তু বিখ্যাত রাজ্য, যা তার মনোরম সমুদ্র সৈকত, পর্তুগাল-প্রভাবিত সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং জমজমাট
নাইটলাইফের জন্য পরিচিত;
এটি আগে পর্তুগিজ উপনিবেশ ছিল এবং ১৯৬১ সালে ভারতের সাথে যুক্ত হয়। গোয়া তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং উচ্চমানের জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত এবং এটি ভারতের একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র, যা উত্তর ও দক্ষিণ গোয়া জেলায় বিভক্ত।
ভৌগোলিক অবস্থান:
অবস্থান: ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে, আরব সাগরের পাশে।
সীমানা:
উত্তরে মহারাষ্ট্র, পূর্বে ও দক্ষিণে কর্ণাটক এবং পশ্চিমে আরব সাগর।
রাজধানী:
পানাজি (Panaji)।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি:
পর্তুগিজ প্রভাব: প্রায় ৪৫০ বছর পর্তুগিজ শাসনের অধীনে থাকায় এখানে ইউরোপীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য মিশ্রণ দেখা যায়।
স্বাধীনতা:
১৯৬১ সালে ভারত এটি দখল করে এবং ১৯৮৭ সালে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যে পরিণত হয়।
ঐতিহ্য:
পর্তুগিজ স্থাপত্য, পুরনো গির্জা ও মন্দির, এবং UNESCO ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এখানকার অন্যতম আকর্ষণ।
পর্যটন ও আকর্ষণ
সমুদ্র সৈকত: উত্তর গোয়ার সৈকতগুলো (যেমন বাগা, কালাঙ্গুট) প্রাণবন্ত এবং দক্ষিণ গোয়ার সৈকতগুলো (যেমন পালোলেম) শান্ত ও নিরিবিলি।
অন্যান্য আকর্ষণ:
জলপ্রপাত, সবুজ পাহাড়, প্রাচীন গুহা এবং নারকেল গাছের সারি।
অর্থনীতি:
পর্যটন ছাড়াও কৃষি (ধান, নারকেল) এবং খনিজ (লোহা, ম্যাঙ্গানিজ) এখানকার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গুরুত্বপূর্ণ শহর
উত্তর গোয়া: রেস্তোরাঁ, নাইটলাইফ ও বিনোদনের কেন্দ্র।
দক্ষিণ গোয়া: বিলাসবহুল রিসোর্ট ও নিরিবিলি পরিবেশের জন্য পরিচিত।
অন্যান্য: মারগাও (Margao), ভাস্কো দা গামা (Vasco da Gama)।
গোয়া ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি ছোট, কিন্তু বিখ্যাত রাজ্য, যা তার মনোরম সমুদ্র সৈকত, পর্তুগাল-প্রভাবিত সংস্কৃতি, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং জমজমাট
গোয়া কিভাবে ভারতের অংশ হল
গোয়া ভারতের অংশ হয়েছিল ১৯৬১ সালে, যখন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন বিজয় (Operation Vijay) -এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৫০ বছরের পর্তুগিজ শাসন থেকে এটিকে মুক্ত করে এবং গোয়া, দমন ও দিউকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর ১৯৮৭ সালের ৩০শে মে গোয়া একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।
তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
২
উয়ারী-বটেশ্বর ও চন্দ্রকেতুগড়
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে আলেকজান্ডার পাঞ্জাব জয় করে পূর্বদিকে অগ্রসর হতে চাইলেও বিপাশা নদীর তীরে তার অপরাজেয় সেনাবাহিনী বিদ্রোহ করে ফিরে যায়, কারণ গ্রিক ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় গঙ্গা নদীর ওপারে অবস্থিত ‘গঙ্গারিডাই’ নামক এক শক্তিশালী জাতি বা রাজ্যের কথা শোনা যায়, যাদের ছিল ৪-৬ হাজার যুদ্ধহস্তী। এই গঙ্গারিডাইকে বাঙালির আদিপুরুষ হিসেবে দেখা হয়, যা কেবল গল্প নয়—উয়ারী-বটেশ্বর ও চন্দ্রকেতুগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন (রৌপ্য মুদ্রা, টেরাকোটা যুদ্ধচিত্র, রোমান মুদ্রা) প্রমাণ করে যে তৎকালীন বঙ্গ-রাঢ় জনপদ ছিল বাণিজ্যিক ও সামরিকভাবে সমৃদ্ধ, এবং নন্দ রাজ্যের সঙ্গে তাদের কৌশলগত মিত্রতা গঙ্গারিডাইকে এতটা ভয়ঙ্কর করে তুলেছিল।
৩
প্রাচীন রোমানদের দাঁত পরিষ্কার করত মানুষের মূত্র ব্যবহার করে
আজ দাঁত সাদা করতে আমরা টুথপেস্ট, মাউথওয়াশ বা আধুনিক ডেন্টাল চিকিৎসার উপর নির্ভর করি। কিন্তু প্রাচীন রোমানদের দাঁত পরিষ্কারের ধারণা ছিল আমাদের কল্পনারও বাইরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—তারা দাঁত সাদা রাখতে মানুষের মূত্র ব্যবহার করত।
রোমান সমাজে মূত্র ছিল একটি মূল্যবান রাসায়নিক উপাদান। এতে থাকা অ্যামোনিয়া প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করত। এই অ্যামোনিয়াই দাঁতের দাগ তুলতে সাহায্য করত বলে রোমানরা বিশ্বাস করত। এমনকি স্পেন থেকে আমদানি করা মূত্রকে বিশেষভাবে উন্নত মানের মনে করা হতো।
এই প্রথা এতটাই প্রচলিত ছিল যে রোমান সম্রাট ভেস্পাসিয়ান মূত্র সংগ্রহের উপর কর বসিয়েছিলেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে মূত্র সংগ্রহের পাত্র রাখা হতো, যেখানে মানুষ ইচ্ছামতো মূত্র ফেলত। পরে তা ধোপা ও দাঁত পরিষ্কারকারীরা সংগ্রহ করত। সম্রাটের বিখ্যাত উক্তি ছিল—“Pecunia non olet”, অর্থাৎ “টাকার কোনো গন্ধ নেই।”
আজকের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতি অস্বাস্থ্যকর ও অদ্ভুত মনে হলেও, সে সময়ে এটি ছিল বিজ্ঞানের একটি ব্যবহারিক প্রয়োগ। তখনকার মানুষ জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে জানত না, কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকেই তারা বুঝেছিল কোন জিনিস পরিষ্কারে কার্যকর।
এই ইতিহাস আমাদের শেখায় সভ্যতা মানেই সবসময় আধুনিক জ্ঞান নয়। মানবজাতি পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে আজকের উন্নত স্বাস্থ্যবিধিতে পৌঁছেছে। অতীতের এই অদ্ভুত অভ্যাসগুলোই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে।
৪
সবার চোখে 'ভালো মানুষ' সাজার চেষ্টা
নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যকে খুশি করাটা বোকামি। কেন সবাইকে খুশি করার চেষ্টা আজই বন্ধ করবেন?
১. ব্যক্তিত্বের মৃত্যু (Death of Personality)
যার নিজস্ব কোনো মতামত নেই, তার কোনো ব্যক্তিত্ব নেই। আপনি যখন অন্যের খুশির জন্য নিজের মত পাল্টে ফেলেন, তখন আপনি নিজেকেই অসম্মান করেন। যে মানুষটি সবার বন্ধু হতে চায়, সে আসলে দিনশেষে কারোই বন্ধু হতে পারে না, এমনকি নিজেরও না।
২. মানসিক অশান্তি (Mental Stress)
অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে আপনি নিজের ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেন, তা ধীরে ধীরে আপনাকে হতাশ করে তোলে। সবাইকে খুশি করতে গেলে আপনি নিজের জন্য সময় পাবেন না, নিজের স্বপ্নের জন্য কাজ করতে পারবেন না। অন্যের মুখে হাসি ফোটানো ভালো, কিন্তু নিজের হাসি কেড়ে নিয়ে নয়।
৩. 'না' বলা শিখুন (Power of No)
"না" বলাটা কোনো অপরাধ নয়, এটি একটি বাউন্ডারি বা সীমানা। আপনার যদি কোনো কাজ করতে ভালো না লাগে বা আপনার সাধ্যের বাইরে হয়, তবে বিনীতভাবে "না" বলুন। যারা আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে, তারা আপনার "না"-কে শ্রদ্ধা করবে। আর যারা স্বার্থপর, তারাই কেবল রাগ করবে। স্বার্থপরদের রাগতে দেওয়াই ভালো। পৃথিবীর সব মানুষ আপনাকে পছন্দ করবে না—এটাই স্বাভাবিক এবং এটাই সুন্দর। সবার চোখে 'পারফেক্ট' হওয়ার চেষ্টা বাদ দিন। তার চেয়ে নিজের চোখে 'সৎ' থাকুন। যে আপনাকে গ্রহণ করবে, সে আপনার দোষ-গুণ সবসহই গ্রহণ করবে।
নিজেকে বলুন— "আমি সবার জন্য নই, আমি আমার জন্য।" কারা আজ থেকে নিজের খুশিকে গুরুত্ব দেবেন? কমেন্টে লিখুন— "ME FIRST"
৫
প্রাচীন মিশরীয় গর্ভধারণ ও শিশুর লিঙ্গ নির্ণয়ের পদ্ধতি
৩৫০০ বছর আগে মিশরীয়রা গর্ভধারণ ও শিশুর লিঙ্গ নির্ণয়ের জন্য একটি অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। ২০১৮ সালের শেষের দিকে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা "প্যাপিরাস কার্লসবার্গ কালেকশন"(প্রাচীন মিশরীয় কাগজ) থেকে প্রাপ্ত একটি চিকিৎসাবিষয়ক প্যাপিরাস অনুবাদ করেছেন, যেখানে এই পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া গেছে।
এই পদ্ধতিতে গর্ভবতী নারীকে দুটি পৃথক ব্যাগে প্রস্রাব করতে হতো—একটি গমের দানা ও অন্যটি যবের দানায় ভরা। এরপর পর্যবেক্ষণ করা হতো কোন ব্যাগের দানা আগে অঙ্কুরিত হয়। গম অঙ্কুরিত হলে নারীর গর্ভে মেয়ে শিশু আর যব অঙ্কুরিত হলে ছেলে শিশু আছে বলে ধরা হতো। কোনো ব্যাগেই অঙ্কুর না গজালে ধরে নেওয়া হতো নারীটি গর্ভবতী নন।
এই পরীক্ষা শুধু মিশরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পরবর্তীতে গ্রিক, রোমান ও মধ্যযুগীয় ইউরোপেও এই পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ১৬৯৯ সালে প্রকাশিত একটি জার্মান লোককথার বইয়ে এমনকি ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত এশিয়া মাইনরে এই পদ্ধতি চালু ছিল বলে জানা যায়।
১৯৬৩ সালে একদল গবেষক এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখেন। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভবতী নারীদের প্রস্রাব প্রায় ৭০% ক্ষেত্রে গম বা যবের দানা অঙ্কুরিত করতে সক্ষম। তবে শিশুর লিঙ্গ নির্ণয়ে এই পদ্ধতি কার্যকর ছিল না। বিজ্ঞানীদের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীদের প্রস্রাবে থাকা ইস্ট্রোজেন হরমোন বীজের অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করতে পারে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে মানব সভ্যতার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সমৃদ্ধ। প্রাচীন মিশরীয় চিকিৎসকরা তাদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত জ্ঞান রাখতেন। আজ থেকে হাজার বছর আগেও মানুষ কতটা উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি জানতেন, এই গবেষণা তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। (বিজ্ঞান্বেষী) @ সাকিফ, তথ্যসূত্র: CNN
৬
Upgrade Yourself or Get Outdated
আজ যা শিখেছেন, ৫ বছর পর তা অচল হয়ে যাবে—নিজেকে আপডেট না করলে নকিয়া (Nokia)-র মতো হারিয়ে যেতে সময় লাগবে না; শেখা থামালে, বাড়া থামবে। একসময় নকিয়া (Nokia) ছিল মোবাইল জগতের একচ্ছত্র রাজা। তাদের মনে হয়েছিল, তাদের কেউ হারাতে পারবে না।
কিন্তু তারা সময়ের সাথে নিজেদের বদলায়নি, অ্যান্ড্রয়েডকে গুরুত্ব দেয়নি। ফলাফল? চোখের পলকে তারা ইতিহাস হয়ে গেল।
আমাদের ক্যারিয়ারটাও ঠিক তেমনই। আপনি ১০ বছর আগে কী শিখেছিলেন বা আপনার কতগুলো ডিগ্রি আছে—সেটা আজকের দিনে খুব একটা ম্যাটার করে না। আজকের বাজার দেখতে চায়—"আপনি এখন কী পারেন এবং আগামীর জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত।" দাঁড়িয়ে থাকা জল যেমন পচে যায়, তেমনই আপডেট না থাকলে ক্যারিয়ারও নষ্ট হয়ে যায়।
কেন নিজেকে প্রতিনিয়ত আপডেট করা জরুরি?
১. স্কিলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে (Skills Have an Expiry Date)
আগে একটা স্কিল শিখলে সেটা দিয়ে ২০ বছর চাকরি করা যেত। কিন্তু এখন প্রযুক্তির যা গতি, তাতে আজ যা শিখছেন, ৫ বছর পর তা হয়তো অচল হয়ে যাবে। যেমন— টাইপরাইটার চালানো এখন কোনো স্কিল নয়, ওটা এখন যাদুঘরের বস্তু। নিজেকে নতুন সফটওয়্যার, এআই (AI) এবং নতুন টেকনোলজির সাথে মানিয়ে নিন।
২. অভিজ্ঞতা বনাম প্রাসঙ্গিকতা (Experience vs Relevance)
অনেকে বলেন, "আমার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে।" কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেটা কি ১০ বছরের নতুন অভিজ্ঞতা, নাকি ১ বছরের অভিজ্ঞতাই ১০ বছর ধরে রিপিট করেছেন? অভিজ্ঞতা থাকলেই হবে না, সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান যুগের জন্য প্রাসঙ্গিক (Relevant) হতে হবে।
৩. কমফোর্ট জোন হলো ক্যারিয়ারের কবর
"চাকরি তো চলছেই, নতুন কিছু শিখে কী হবে?"—এই চিন্তাই আপনাকে ডুবিয়ে দেবে। যখন কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে, তখন তারা তাদেরই রাখে যারা 'মাল্টি-টাস্কিং' পারে এবং যারা নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী। তাই নিরাপদ জোনে বসে না থেকে, প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন।
শেষ কথা
ডিগ্রি আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্ত নিয়ে যাবে, কিন্তু স্কিল এবং আপগ্রেডেশন আপনাকে প্রমোশন দেবে। ছাত্রজীবন শেষ হলেও ছাত্র হওয়া শেষ করবেন না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিখতে থাকুন। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন কোম্পানি আপনাকে প্রয়োজন মনে করে, আপনি কোম্পানিকে নয়।
নিজেকে বলুন—
"আমি নকিয়া হতে চাই না, আমি আইফোনের মতো প্রতি বছর নতুন ভার্সনে আসতে চাই।" কারা আজ থেকে নতুন কিছু শেখার শপথ নিচ্ছেন? কমেন্টে লিখুন— "ALWAYS LEARNING"
৭
নবপলীয় যুগ ও মানুষের অভিবাসন
কে বহিরাগত আর কে ভূমিপূত্র? এই আলাপ তুলে কাউকে শ্রেষ্ঠ আর কাউকে হেয় করা এক ধরনের অপরাধের শামিল। পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের ইতিহাস হলো অভিবাসনের ইতিহাস।পৃথিবীর সকল প্রিহিস্টোরিয়ান একমত যে, আধুনিক মানুষের উদ্ভব ঘটেছিলো আফ্রিকায় এবং তারপর তারা ধীরে ধীরে পৃথিবীর নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ।
আজকের যে পাক-ভারত-বাংলাদেশ উপমহাদেশ এখানেও একসময় কোনো মানুষ ছিলো না। এখানকার সকল মানুষই, সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষই বাইরে থেকে এসেছে। সে হিসেবে সবাই বহিরাগত। পার্থক্য শুধু সময়ের। কেউ আগে কেউ পরে এসেছে। এই ধারাটি চলমান ছিলো আধুনিক জাতি রাস্ট্র গঠিত হবার আগ পর্যন্ত। সে হিসেবে বলা যায় কমপক্ষে ১৯ শতক অথবা ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত এ ধারা এখানে বহমান ছিলো। জাতি রাস্ট্র গঠিত হওয়ার পরেও অভিবাসন চালু আছে তবে ভিন্ন ফরমেটে।
আদিম মানুষের এই অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে বলা হয় নবপলীয় যুগ (Neolithic)।এই সময়কে ডিফাইন করা হয় কৃষিকাজের শুরু, স্থায়ী বসতি, ও পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উন্নত ব্যবহার্য হাতিয়ার (Tools) শনাক্তকরনের মাধ্যমে। এই যে নবপলীয় সময় সেটাও আবার সবখানে একইসাথে আসে নাই। একেক স্থানে একেক সময়। যেমন, বাংলা'র ক্ষেত্রে সময় এখনো সঠিকভাবে জানা যায় না।
এই উপমহাদেশে নবপলীয় সময়ের অনেক আগে থেকেই মানুষের বসতি ছিলো। বিশেষত বর্তমান বাংলাদেশ অংশসহ উত্তর-পূর্ব ভারতে। ধারণা করা হয়, প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষের আগমন ঘটেছিলো আর্য নামে যে জনগোষ্ঠী এই উপমহাদেশে বসতি গড়ে তুলেছিল এরা এসেছিলো বর্তমান ইরান-আফগানিস্থান ও মধ্যএশিয়ার কিছু এলাকা থেকে। বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় নামে যে জনগোষ্ঠী তারাও এসেছিল বর্তমানের পাকিস্থান ও ইরান সীমান্তবর্তী কোনো এক এলাকা থেকে। তারও আগে আরেকটি ইন্দো-ইরানি জাতীগোষ্ঠী বসতি গড়ে তুলেছিল বর্তমান পাকিস্থানের মেহেরগড় এলাকায়, এরাই মূলত পরবর্তীকালে সিন্ধু/হরপ্পা সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। এই ইন্দো-ইরানীরা আবার এসেছিল বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আদতে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য কেবল ভারতীয় আর্য'ই নয়, আধুনিক ইউরোপীয়ানদেরও পূর্ব-ভিটা। অভিবাসনের এই ধারা চলমান ছিল, গ্রীক, গ্রেকো-ব্যাকট্রিয়ান, তুর্ক, আফগান, মুগল প্রভৃতি জাতি-গোষ্ঠী পর্যন্ত। আর্য, দ্রাবিড়, তুর্ক, আফগান, মুগলরা তথাকথিত ‘বহিরাগত’ হলেও তারা আর ফিরে যায় নাই, এই ভূমিকেই তারা নিজেদের করে নিয়েছিল। এগুলো সবই ছিলো উল্লেখযোগ্য বড় আকারের আগমন যারা স্থানীয় রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছিলো। এর বাইরেও আপনি দেখবেন, বিশেষত উত্তরের পাহাড়ী এলাকাগুলোতে চাইনিজ বংশোদ্ভূত মানুষ, যারা এসেছিলো পূর্ব দিক থেকে অর্থাত চায়না ও সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে। যতদুর জানা যায়, মুন্ডা, সাওতাল, খাসিয়া, খুমিক সহ অস্টো-এশিয়াটিক জাতিগোষ্ঠীসমূহ আফ্রিকা থেকে সুদুর অতীতের কোনো একসময়ে এ উপমহাদেশে সবার আগে এসে পৌছেছিল । এ উপমহাদেশের আদি অধিবাসী যদি কাউকে বলতে হয় তবে এদেরকেই বলতে হবে।
আবার বর্তমান বাংলাদেশ এক সময় ছিলো সমুদ্রবক্ষে যা লক্ষ লক্ষ (প্রায় ১২৪ মিলিয়ন) বছরে পলিমাটি দিয়ে ভরাট হয়ে বর্তমান ভূ-ভাগ গঠিত হয়েছে। এই ভূ-ভাগ গঠন প্রক্রিয়া এখনো চলমান । এখানেও পূর্ব ও পশ্চিম থেকে মানুষ এসেছে, তবে আর্যরা বাংলায় আসার আগেই এখানে নানা মানবগোষ্ঠী ছিলো যাদের মাঝে, খুব সম্ভবত, অগ্রবর্তী ছিলো মুন্ডা, সাঁওতাল, খাসিয়া, জৈন্তিয়া, কোডা প্রভূতি জাতি-গোষ্ঠি।
অর্থাত এই উপমহাদেশ হলো এমন একটি এলাকা যেখানে পশ্চিম (মধ্যপ্রাচ্য-ইরান-আফগান-মধ্যএশিয়া) ও পূর্ব (চায়না-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া) থেকে মানুষ প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে প্রাক-আধুনিক সময় পর্যন্ত অভিবাসিত হয়েছে। এদের মাঝে কেউ কেউ স্থায়ীভাবে থেকে গেছে, কেউ আবার চলে গেছে, কেউ কেউ লুটপাট করে নিয়ে গেছে অর্থ-সম্পদ।
তাহলে স্থানীয় আর বহিরাগত কে? আর্যরা ভারতে এসে এই ‘স্থানীয়’/ পূর্বে আগত অধিবাসী বা অনার্যদের উপর নিপীড়ন করেছে, যেহেতু তারা সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী ছিল। একই কারনে অন্য জাতিগোষ্ঠী কিংবা ধর্মীয়-গোষ্ঠীগুলোর উপরে নানাভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে এবং এখনো করছে।এদের নিপীড়নেই ‘স্থানীয়’ অনার্যরা যখন যেখানে আশ্রয় পেয়েছে তাকেই গ্রহণ করেছে। কখনো বৌদ্ধ কিংবা কখনো ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় খুঁজেছে।
এই আর্যরা নিজেদের ভূমিপূত্র বলে দাবী করে এবং 'বহিরাগত' ও 'আক্রমণকারী' তত্ত্ব হাজির করেছে। এরা নিজেরাই 'বহিরাগত' ও 'আক্রমণকারী' হওয়া সত্ত্বেও অন্যদেরকে এইভাবে ট্যাগিং করছে কেবল নিজেদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বজায় রাখার জন্য। এই উপমহাদেশীয় যে সভ্যতা সেই সভ্যতা বিনির্মানে এখানে আগত সকল জাতিগোষ্ঠী'রই অবদান রয়েছে। @Md Mizanur Rahman
৮
যুক্তবঙ্গের ধারণা ব্যর্থ হওয়ার কারণ
১৯৪৭ সালে অখণ্ড বাংলা স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারেনি মূলত ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ভারত ভাগের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যুক্তবঙ্গের ধারণা ব্যর্থ হওয়া, এবং পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের পৃথক ভারতের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে; যদিও 'যুক্তবঙ্গ' নামে একটি স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব ছিল, যা ধর্মীয় বিভাজন এড়াতে চেয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
মূল কারণসমূহ:
দ্বি-জাতি তত্ত্ব (Two-Nation Theory): ব্রিটিশ ভারত ভাগ করার ক্ষেত্রে মুসলিম লীগের 'দ্বি-জাতি তত্ত্ব' প্রাধান্য পায়, যেখানে বলা হয় মুসলিম ও হিন্দু দুটি ভিন্ন জাতি এবং তাদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রয়োজন।
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা (Mountbatten Plan): ১৯৪৭ সালের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনায় ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে বাংলা প্রদেশকেও ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যুক্তবঙ্গের প্রস্তাবের ব্যর্থতা:
শহীদ সোহরাওয়ার্দী: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও কিরণ শঙ্কর রায়ের মতো নেতারা একটি অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন যুক্তবঙ্গ চেয়েছিলেন, যা ভারত বা পাকিস্তানের অংশ হবে না।
মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরোধিতা: মুসলিম লীগ (পশ্চিম বাংলার মুসলিমদের) এবং কংগ্রেস (পশ্চিম বাংলার হিন্দুদের) কেউই যুক্তবঙ্গের ধারণায় পুরোপুরি সমর্থন দেয়নি। মুসলিম লীগ চেয়েছিল পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হোক, আর কংগ্রেস চেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থাকুক।
সিলেটের গণভোট: ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে সিলেটে গণভোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলটি আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্ব বাংলার (পূর্ব পাকিস্তান) সাথে যুক্ত হয়, যা অখণ্ড বাংলার ধারণাকে দুর্বল করে দেয়।
ব্রিটিশ সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ব্রিটিশ সরকার ভারত ভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এবং বাংলা প্রদেশকে ধর্মীয় ভিত্তিতে পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, ফলে অখণ্ড বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
এই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটের কারণে ১৯৪৭ সালে একটি স্বাধীন, অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠিত হতে পারেনি, বরং বাংলা বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অংশে পরিণত হয়।
৯
নালন্দা ও তক্ষশীলা
আজ আমরা যেসব আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জানি, তার ধারণা কিন্তু প্রথম জন্ম নেয় ইউরোপে নয় বরং প্রাচীন ভারতে। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতেই ভারতে এমন শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল, যেগুলোকে আধুনিক অর্থে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায়।
এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমান বিহার রাজ্যে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসত। চীন, কোরিয়া, জাপান, তিব্বত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিক্ষার্থীরা এখানে বসবাস করে দর্শন, গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, ভাষাবিজ্ঞান ও বৌদ্ধ দর্শন অধ্যয়ন করত। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল এর বিশাল গ্রন্থাগার ব্যবস্থা। ইতিহাসবিদদের মতে, এখানে লক্ষাধিক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল এবং গ্রন্থাগারটি তিনটি আলাদা ভবনে বিভক্ত ছিল। এই পাণ্ডুলিপিগুলো হাতে লেখা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষিত হতো।
শুধু নালন্দাই নয় তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে চানক্য ও চরক-এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বরা শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তক্ষশীলায় পড়ানো হতো রাজনীতি, চিকিৎসাবিদ্যা, সামরিক কৌশল এবং অর্থনীতি।
১০
গ্রামের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫% যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অন্যান্য দেশে বসবাস করেন
গুজরাটের কচ্ছ জেলায় অবস্থিত মাধাপার (প্রায়শই মাধাপুর নামে পরিচিত) ব্যাংক আমানতের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের অন্যতম ধনী গ্রাম হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি বজায় রেখেছে। এই গ্রামে ১৭টি ব্যাংক শাখা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে HDFC ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), ICICI ব্যাংক এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকের মতো প্রধান প্রতিষ্ঠান। জনসংখ্যার প্রায় ৬৫% অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) যারা যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বিভিন্ন আফ্রিকান দেশে বসবাস করেন। এই বাসিন্দারা প্রায়শই তাদের নিজ গ্রামে তহবিল পাঠান, স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাদের সঞ্চয় রেখে।
এই বেসরকারি সম্পদ উচ্চমানের অবকাঠামোর জন্য অর্থায়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক স্কুল, হাসপাতাল, হ্রদ, এমনকি একটি উন্নত গোশালা (গরু আশ্রয়স্থল)। প্রায়শই সরকারি সাহায্যের পরিবর্তে সম্প্রদায়ের তহবিলের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়।
১১
মালিকের মনোযোগ ভাগ হয়ে গেলে কুকুরের মনে ঈর্ষা জন্মে
কুকুরেরা ভালোবাসার ক্ষেত্রে 'একচেটিয়া' হতে পছন্দ করে; মালিকের মনোযোগ ভাগ হয়ে গেলে তাদের মনে ঈর্ষা জন্মাতে পারে।
আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন? যখন আপনি অন্য কোনো পোষ্যকে আদর করেন, তখন আপনার কুকুরটি কেমন যেন মনমরা হয়ে যায় বা হঠাৎ করে আপনার কাছে এসে মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে? এটিই হলো তাদের ভালোবাসার অধিকারবোধ, যেখানে তারা চায় আপনি শুধু তাদেরই ভালোবাসুন!
কেন এমন হয়?
কুকুরেরা তাদের মালিককে নিজেদের 'সম্পদ' মনে করে। আপনার আদর, আপনার খেলার সময়, আপনার মনোযোগ—এই সবই তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। যখন এই মনোযোগ অন্য কোনো প্রাণী (যেমন: বিড়াল বা অন্য কুকুর) ভাগ করে নেয়, তখন তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং এক ধরনের 'হারিয়ে ফেলার' ভয় কাজ করে, যা ঈর্ষার জন্ম দেয়।
২০২০ সালে ইউকে-ভিত্তিক একটি ভ্যাকেশন রেন্টাল কোম্পানি, ক্যানাইন কটেজেস (Canine Cottages), একটি ছোট্ট গবেষণা করে। তারা চারটি কুকুরের হৃদস্পন্দন মাপার জন্য বিশেষ কলার ব্যবহার করে এবং তাদের মালিকদের সাথে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে।
ফলাফল ছিল অত্যন্ত মিষ্টি:
মালিক যখন কুকুরটিকে "I love you" বলেন, তখন তাদের হৃদস্পন্দন গড়ে ৪৬% পর্যন্ত বেড়ে যায়। এটি তাদের উত্তেজনা এবং আনন্দ প্রকাশ করে।
তুলনামূলকভাবে, মালিক যখন কুকুরটিকে আলিঙ্গন (Cuddling) করেন, তখন তাদের হৃদস্পন্দন প্রায় ২৩% কমে যায়, যা শান্তি ও সন্তুষ্টি নির্দেশ করে। যদিও এটি একটি ছোট আকারের গবেষণা ছিল, তবে এটি মানব এবং কুকুরের মধ্যে স্নেহ ও বন্ধনের একটি সুন্দর শারীরিক প্রমাণ তুলে ধরে। আপনার ভালোবাসার কথাগুলো আপনার প্রিয় পোষ্যটির জন্য সত্যিই আনন্দের কারণ!
১২
কেন ডিগ্রির চেয়ে স্কিল বা দক্ষতা বেশি জরুরি?
১. মুখস্তবিদ্যা বনাম কাজের দক্ষতা (Theory vs Practical)
ইউনিভার্সিটি আমাদের শেখায় 'কী' (What) করতে হবে, কিন্তু স্কিল শেখায় 'কিভাবে' (How) করতে হবে।
বইয়ের পাতায় সাঁতার কাটা শেখা আর নদীতে নেমে সাঁতার কাটার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।
সার্টিফিকেট হলো একটা 'এন্ট্রি পাস' বা টিকিট মাত্র, কিন্তু ভেতরে টিকে থাকতে হলে আপনাকে 'পারফর্ম' করতে হবে।
২. ডিগ্রি বাড়ে, চাকরি কমে
আজকাল অলিতে-গলিতে মাস্টার্স পাস ছেলেমেয়ে ঘুরছে। সবার হাতেই সার্টিফিকেট আছে।
তাহলে আপনাকে কেন চাকরি দেবে?
আপনাকে চাকরি দেবে যদি আপনার এমন কোনো স্কিল থাকে (যেমন—ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স, কোডিং, কমিউনিকেশন), যা অন্যদের নেই। ভিড়ের মধ্যে আলাদা হতে হলে কাগজ নয়, কাজ দেখাতে হবে।
৩. সার্টিফিকেটের মেয়াদ
আপনার সার্টিফিকেটের জ্ঞান ৫-১০ বছর পর পুরনো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনি যদি কাজ শেখেন, নিজেকে আপডেট রাখেন, তবে সেই দক্ষতা আপনাকে সারাজীবন রোজগার দেবে।
মনে রাখবেন, "ক্ষুধার্ত পেটে ডিগ্রির কাগজ চিবিয়ে খাওয়া যায় না, কিন্তু দক্ষতা থাকলে পাথর খুড়েও টাকা বের করা যায়।"
শেষ কথা
তাই শুধু পাসের পেছনে না ছুটে, নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলুন। পড়াশোনা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু সেটা যেন শুধু সার্টিফিকেটের জন্য না হয়। এমন কিছু শিখুন, যাতে আপনি চাকরির পেছনে না ছোটেন, বরং চাকরি আপনাকে খুঁজে নেয়।
১৩
ফার্স্ট হওয়ার চাপ: ১০টি ক্ষতি
1. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে
উদাহরণ: রাফি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ভাবে কাল যদি পরীক্ষায় ভুল হয় তাহলে বাবা-মা রাগ করবে — ফলে ঠিকমতো ঘুম হয় না।
2. শেখার আনন্দ হারায়
উদাহরণ: সায়মা একসময় বিজ্ঞান নিয়ে গল্প পড়তে ভালোবাসত, কিন্তু এখন শুধু সিলেবাসের প্রশ্ন মুখস্থ করে, কারণ "অতিরিক্ত কিছু পড়ার সময় নেই"।
3. শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়
উদাহরণ: নিয়মিত রাত জেগে পড়াশোনা করার কারণে আরিয়ান চোখের ব্যথা ও মাথাব্যথায় ভোগে, সকালে ক্লাসে মনোযোগ রাখতে পারে না।
4. সামাজিক দক্ষতা কমে যায়
উদাহরণ: মিথিলা বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চায়, কিন্তু মা বলেন “সময় নষ্ট করো না, পড়তে বসো” — ফলে সে ধীরে ধীরে একা হয়ে যায়।
5. আত্মমর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়
উদাহরণ: ফয়সাল পরীক্ষায় দ্বিতীয় হলে ভাবে, “আমি ব্যর্থ, আর কেউ আমার ওপর গর্ব করবে না।”
6. ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কমে যায়
উদাহরণ: নতুন কোনো প্রজেক্ট বা কুইজে অংশ নিতে বলে শিক্ষক, কিন্তু তানিয়া ভয় পায় “ভুল করলে লজ্জা হবে” বলে অংশ নেয় না।
7. সৃষ্টিশীলতা কমে যায়
উদাহরণ: আগে রুহান গল্প লিখতে ভালোবাসত, কিন্তু এখন বাবা বলেন “এগুলো সময় নষ্ট, শুধু ম্যাথ প্র্যাকটিস করো” — ফলে তার কল্পনাশক্তি চর্চা বন্ধ হয়ে গেছে।
8. দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হয়
উদাহরণ: সবসময় চাপ দিয়ে পড়ানোর কারণে সোহা কলেজে গিয়ে বই দেখলেই বিরক্ত হয়ে যায়।
9. অতিরিক্ত তুলনা ও ঈর্ষা তৈরি হয়
উদাহরণ: মাহির প্রতিদিন ভাবে কাদের থেকে সে ভালো করছে আর কারা তাকে পেরিয়ে যাচ্ছে — ফলে সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব হয় না।
10. পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।
উদাহরণ: সবসময় ফলাফল নিয়ে চাপ দেওয়ায় লিজা বাবা-মায়ের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা বন্ধ করে দেয়, শুধু রাগ বা চুপচাপ প্রতিক্রিয়া দেখায়।@স্বাস্থ্য_বিচিত্রা See less
১৪
বিচ্ছুর সন্তান নিজেদের মাকে খেয়ে বেঁচে থাকে
বিচ্ছু যখন তার সন্তান প্রসব করে তখন সে তার সন্তানদের নিজের পিঠে আশ্রয় দেয়। মায়ের শরীরই হয়ে ওঠে তাদের প্রথম পৃথিবী। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সন্তানরা নিজেদের মায়ের পিঠের মাংস ছিঁড়ে খেতে শুরু করে। মা জানেন, তিনি চাইলে প্রতিরোধ করতে পারেন, তাদের সরিয়ে দিতে পারেন, এমনকি শেষ করে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেন না। নীরবে সহ্য করেন। নিজের মাংস, নিজের কষ্ট, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানদের বড় করে তোলেন। অবশেষে মা বিচ্ছু মারা যান, আর সেই সন্তানরা বেঁচে থাকে, বড় হয়, পৃথিবীর আনন্দ ভোগ করে।ে
এ দৃশ্যটি কেবল বিচ্ছুর গল্প নয় এটি আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি। আজও অসংখ্য পিতা-মাতা ঠিক বিচ্ছুর মতোই নীরবে কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের জন্য জীবন উৎসর্গ করছেন। তারা রোদ-বৃষ্টির পরোয়া না করে, দিন-রাতের হিসাব ভুলে, নিজেদের সমস্ত স্বপ্ন ও সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের জন্য ঘাম ঝরাচ্ছেন, চোখের পানি মুছছেন, তবুও হাসি মুখে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সন্তানরা বড় হয়ে কেমন আচরণ করে? যাদের জন্য মা-বাবা নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদেরই অনেক সন্তান বাবা-মায়ের কষ্টের খবর নেয় না। অনেকে ভালোবাসা, অনেকে টাকায় তারা বাবা-মাকে ভুলে যায়। মায়ের হাতের রান্না, বাবার ঘামের টাকায় পড়াশোনার স্মৃতি সবকিছু তারা অবহেলা করে। কেউ কেউ দূরে চলে যায়, সম্পর্ক ছিন্ন করে, এমনকি কখনো কখনো মায়া-মমতার সেই মাটির ঘরটিতে আর ফিরে তাকায় না।
সন্তানরা কি ভাবে? পিতা-মাতার বুকে কষ্টের উত্তাপ ঢেলে তারা শান্তি খুঁজে পাবে? তারা কি জানে না, বাবা-মায়ের দোয়া ছাড়া, তাদের আশীর্বাদ ছাড়া পৃথিবীর কোনো সুখই স্থায়ী হয় না?
সমাজের এই চিত্র আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। সন্তানদের মনে রাখা দরকার পিতা-মাতা বেঁচে থাকা মানে আশীর্বাদের ছায়া বেঁচে থাকা। আর সেই ছায়া একবার সরলে গেলে, হাজার ভালোবাসা, হাজার সম্পদ, হাজার স্বপ্নও জীবনে সত্যিকার শান্তি এনে দিতে পারবে না।
১৫
মধু হলো একমাত্র খাবার যা কখনো নষ্ট হয় না
মিশরের পিরামিডে তিন হাজার বছরের পুরনো মধুর পাত্র পাওয়া গেছে। অবাক করা ব্যাপার হলো, সেই মধু এখনও খাওয়ার উপযুক্ত। কোনো পচন নেই, কোনো দুর্গন্ধ নেই। মধু হলো একমাত্র খাবার যা কখনো নষ্ট হয় না। এর পেছনে আছে চারটি বৈজ্ঞানিক কারণ।
প্রথমত, মধুতে পানি খুবই কম। মাত্র ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে হলে পানি লাগে। কিন্তু মধুতে এত কম পানি যে ব্যাকটেরিয়া শুকিয়ে মরে যায়।
দ্বিতীয়ত, মধু অত্যন্ত অম্লীয়। এর পিএইচ লেভেল ৩ থেকে ৪.৫। এই অম্লীয় পরিবেশে জীবাণু বাঁচতে পারে না। তারা মারা যায় দ্রুত।
তৃতীয়ত, মধুতে আছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড। মৌমাছি যখন মধু তৈরি করে, তখন একটি এনজাইম যোগ করে। এই এনজাইম ধীরে ধীরে তৈরি করে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, যা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক।
চতুর্থত, মধুর ঘনত্ব এত বেশি যে সেখানে কোনো জীবাণু প্রবেশ করতে পারে না। চিনির উচ্চ ঘনত্ব একটি প্রতিরক্ষা স্তর তৈরি করে।
মজার ব্যাপার হলো, প্রাচীনকালে মধু ব্যবহার করা হতো ক্ষত সারাতে। এখনও আধুনিক চিকিৎসায় ব্যবহার হয় মেডিকেল গ্রেড মধু। কারণ এটি ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে দ্রুত।
তবে একটি শর্ত আছে। মধু যদি ভালোভাবে সিল করে না রাখা হয়, তাহলে বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। তখন পানির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে গাঁজন শুরু হতে পারে। কিন্তু সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে মধু টিকে থাকবে যুগের পর যুগ। প্রকৃতির তৈরি এই মিষ্টি খাবার আসলে এক অমর সৃষ্টি।
১৬
ব্ল্যাক হোলের রহস্যময় জগৎ
মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত ও রহস্যময় জ্যোতিষ্কগুলোর মধ্যে ব্ল্যাক হোল অন্যতম। এরা এতটাই ঘন এবং শক্তিশালী যে আলো পর্যন্ত এদের আকর্ষণ থেকে পালাতে পারে না। ফলে আমরা সরাসরি ব্ল্যাক হোল দেখতে পাই না, কেবল এর প্রভাবে আশপাশের তারকা ও গ্যাসের আচরণ দেখে এর অস্তিত্ব টের পাই।
ব্ল্যাক হোল তৈরি হয় যখন কোনো বিশাল তারকা নিজের জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়ে ভেতরের দিকে ধসে পড়ে। এ সময় তারার ভর এতটাই সঙ্কুচিত হয়ে যায় যে একটি বিন্দুতে অসীম ঘনত্ব তৈরি হয়, যাকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। এর চারপাশে তৈরি হয় ইভেন্ট হরাইজন, যেটি পেরুলেই আর কিছুই ফিরে আসতে পারে না।
বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ব্ল্যাক হোলের চারপাশ থেকে নির্গত এক্স-রে এবং রেডিও তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করে এর ভেতরের রহস্য জানার চেষ্টা করছেন। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলে, যা মানব ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক অর্জন।
ব্ল্যাক হোল শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, এরা মহাবিশ্বের গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল চারপাশের তারকাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি কিছু গবেষক ধারণা করছেন, ব্ল্যাক হোল হয়তো সময় ও স্থানের নতুন মাত্রা বোঝার চাবিকাঠিও হতে পারে।
এখনও ব্ল্যাক হোল অনেকটা রহস্যের আড়ালে ঢাকা। কিন্তু প্রতিটি নতুন গবেষণা আমাদের সেই অন্ধকার গহ্বরের ভেতরকার অজানা জগতকে বোঝার পথে এক ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে।
সূত্র: সাইন্স এলার্ট, বিবিসি সাইন্স ফোকাস
১৭
শিয়ালদের সামাজিক আচরণ
গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোনো মেয়ে শিয়াল মারা যায়, তার পুরুষ সঙ্গী জীবনের বাকি অংশ সিঙ্গল থাকে। এর পেছনে জোরালো আবেগগত বন্ধন এবং মেলামেশার সময় গঠিত স্থায়ী সঙ্গীপ্রতি আনুগত্য কাজ করে। অন্যদিকে, যদি পুরুষ শিয়াল মারা যায়, মেয়ে শিয়াল দ্রুত নতুন সঙ্গীর খোঁজ শুরু করে। এটি প্রজননের সফলতা এবং বংশবিস্তার নিশ্চিত করার প্রাকৃতিক প্রবণতা।
১৮
সময় ভ্রমণ কি সত্যিই সম্ভব?
সময় ভ্রমণ বা Time Travelশুধু বিজ্ঞান কল্পকাহিনির কল্পনা নয়, বরং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানও এটি নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করছে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী, সময় একদম স্থির নয়; এটি গতি ও মাধ্যাকর্ষণের ওপর নির্ভর করে ভিন্নভাবে প্রবাহিত হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, যখন কোনো বস্তু আলোর কাছাকাছি গতিতে চলে, তখন তার জন্য সময় ধীরে চলে। পৃথিবীর তুলনায় সে ব্যক্তি ভবিষ্যতে একটু দ্রুত পৌঁছাতে পারে। এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক নাম টাইম ডাইলেশন। মহাকাশচারীরা বাস্তবে এর সূক্ষ্ম প্রভাব লক্ষ্য করেন, যদিও দৈনন্দিন জীবনে আমরা এটি অনুভব করতে পারি না।
মাধ্যাকর্ষণও সময়কে প্রভাবিত করে। বিশাল গ্রহ বা ব্ল্যাক হোলের কাছে গেলে সময় তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে অতিক্রম করে। অর্থাৎ মহাবিশ্বের একই মুহূর্ত ভিন্ন স্থানে ভিন্নভাবে অতিক্রম করে। এটি কল্পকাহিনির মতো শোনালেও, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষায় এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অতীতে ফিরে যাওয়ার ধারণা এখনো পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক নয়। বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, সময়কে পেছনের দিকে ঘোরানো সম্ভব নয়। তাই "ভবিষ্যতে যাওয়া" যেখানে আংশিক বাস্তবসম্মত, সেখানে "অতীতে ফেরা" রয়ে গেছে বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় ধাঁধা।
এর বাইরে, সময় ভ্রমণ নিয়ে কল্পনা আমাদের মানসিক ও সৃজনশীল চিন্তাকেও উদ্দীপ্ত করে। সাহিত্য, সিনেমা এবং গল্পের মাধ্যমে আমরা এই ধারণার বিভিন্ন দিক অন্বেষণ করি, যা আমাদের বাস্তব বিজ্ঞান বোঝার আগ্রহ বাড়ায়। বিজ্ঞান এবং কল্পনার এই মিলনই সময় ভ্রমণকে আজও রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
অবশেষে বলা যায়, সময় ভ্রমণ এখনো আমাদের কল্পনার এক জাদুকরী ধারণা হলেও, এর ভিত্তি আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে গভীরভাবে নিহিত। ভবিষ্যতে হয়তো এমন কোনো আবিষ্কার হবে, যা আমাদের সময় ও মহাবিশ্ব সম্পর্কিত ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
সূত্র: বিবিসি সাইন্স ফোকাস। লাইভ সাইন্স
১৯
মাত্র ৪ দিনে স্মৃতিশক্তি নষ্ট করছে জাঙ্ক ফুড!
আপনার প্রিয় হাই-ফ্যাট জাঙ্ক ফুড মাত্র চার দিনের মধ্যে আপনার মস্তিষ্ককে ওলট-পালট করে দিতে পারে!
আমেরিকার UNC স্কুল অভ মেডিসিনের বিজ্ঞানীদের করা এক নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা দেখেছেন, চর্বিযুক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার মাত্র ৪ দিনের মধ্যে মস্তিষ্কের স্মৃতি কেন্দ্র 'হিপ্পোক্যাম্পাস'-এর নির্দিষ্ট কিছু নিউরন (CCK ইন্টারনিউরন) অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ফলে মস্তিষ্কের স্মৃতি প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা তৈরি হয়। অর্থাৎ, এটি শুধু শরীরের ওজন বাড়ায় না, বরং ওজন বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিসের সূত্রপাতের আগেই স্মৃতিশক্তির ক্ষতি করতে শুরু করে।
নিয়মিত জাঙ্ক ফুড সেবন স্থূলতা-সম্পর্কিত ডিমেনশিয়া (Dementia) এবং আলঝেইমার্স (Alzheimer's) রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও উপবাসের (যেমন ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং) মাধ্যমে মস্তিষ্কের গ্লুকোজের (Glucos) মাত্রা পুনরুদ্ধার করা গেলে এই অতিরিক্ত সক্রিয় নিউরনগুলো শান্ত হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
আজই ফ্যাট-যুক্ত জাঙ্ক ফুড পরিহার করুন, মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখুন! মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনুন।
২০
ধূমকেতু: মহাজগতের ভ্রাম্যমাণ অতিথি
রাতের আকাশে হঠাৎ লেজওয়ালা উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা দিলে আমরা তাকে ধূমকেতু বলি। প্রাচীন কালে মানুষ এগুলোকে রহস্যময় কিংবা অশুভ লক্ষণ ভেবে ভয় পেত। কিন্তু নাসা ও বিবিসির তথ্য বলছে, ধূমকেতু আসলে মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী।
ধূমকেতুর মূল গঠন বরফ, ধুলা ও শিলার মিশ্রণ দিয়ে। সূর্যের কাছাকাছি এলে এর বরফ গলে গিয়ে গ্যাস ও ধুলা নির্গত হয়, আর সেখান থেকেই তৈরি হয় এর দীর্ঘ আলোকিত লেজ। এই লেজই পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ধূমকেতুর ভেতরে এমন সব উপাদান থাকতে পারে, যা কোটি বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের বীজ বপনে ভূমিকা রেখেছিল।
নাসার মহাকাশযান ইতিমধ্যেই কয়েকটি ধূমকেতুর কাছে গিয়েছিল তথ্য সংগ্রহ করতে। সেসব তথ্য থেকে জানা যায়, ধূমকেতু শুধু সৌরজগতের অতীত বোঝায় না, বরং আমাদের গ্রহের জলের উৎপত্তির সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। অন্যদিকে, বিবিসি জানিয়েছে, পৃথিবীর সঙ্গে ধূমকেতুর সংঘর্ষ অতীতে একাধিকবার ঘটেছে এবং তার প্রভাব জীববৈচিত্র্যেও পড়েছে।
আজকের দিনে ধূমকেতু আর ভয় নয়, বরং বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের উৎস। এগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্ব এখনো অসংখ্য অজানা রহস্যে ভরা। প্রতিটি ধূমকেতু যেন মহাজগত থেকে আসা এক অমূল্য বার্তাবাহক, যা আমাদের অতীত জানায় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শেখায়।
সূত্র: নাসা। বিবিসি
২১
"থোরিয়াম"- ভবিষ্যতের জ্বালানি
থোরিয়াম একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ পারমাণবিক জ্বালানি, যা ভবিষ্যতের শক্তির বড় সমাধান হতে পারে। মাত্র একটি গলফ বলের আকারের থোরিয়ামের টুকরো একজন মানুষের সারাজীবনের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এটি প্রচলিত ইউরেনিয়ামের তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি পাওয়া যায় এবং অনেক বেশি কার্যকরও।
থোরিয়াম থেকে উৎপন্ন তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ইউরেনিয়ামের তুলনায় অনেক কম এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য কম ক্ষতিকর। আরও ভালো দিক হলো, থোরিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যায় না, তাই এটি নিরাপত্তার দিক থেকেও সুবিধাজনক।
বিশ্বব্যাপী গবেষকরা থোরিয়াম-ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর নিয়ে কাজ করছেন, যা প্রচলিত চুল্লির তুলনায় আরও সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং টেকসই। উন্নত প্রযুক্তি ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে থোরিয়াম হতে পারে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ শক্তির মূল উৎস।
এই জ্বালানির মাধ্যমে আমরা পেতে পারি কম খরচে, দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ , যা আমাদের জীবনকে আরও সহজ ও সবুজ করে তুলবে।
২২
অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফল
অনেকেই মনে করেন যত বেশি পানি খাওয়া যাবে, শরীর তত ভালো থাকবে। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। মানবদেহে পানির একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য থাকে, যাকে বলা হয় fluid balance। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে সমস্যা শুরু হয়। অতিরিক্ত পানি শরীরে ঢুকলে কিডনির পক্ষে তা দ্রুত বের করে দেওয়া সব সময় সম্ভব হয় না, বিশেষ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক পানি খেলে।
অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় hyponatremia। সোডিয়াম আমাদের স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্রা কমে গেলে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বিভ্রান্তি, এমনকি খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি কোনো কল্পকাহিনি নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি সুপরিচিত ও প্রমাণিত একটি অবস্থা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পানির চাহিদা সবার জন্য এক রকম নয়। শরীরের ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, ঘাম, খাদ্যাভ্যাস এবং কিডনির কার্যক্ষমতার উপর পানির প্রয়োজন নির্ভর করে। “দিনে ৮ গ্লাস পানি” এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিকভাবে সবার জন্য বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। সুস্থ শরীর নিজেই তৃষ্ণার মাধ্যমে জানিয়ে দেয় কখন পানি দরকার।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হলো শরীরের সংকেত। তৃষ্ণা লাগা, প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ থাকা, অতিরিক্ত দুর্বলতা না থাকা, এগুলো সাধারণত যথেষ্ট পানির ইঙ্গিত দেয়। জোর করে, প্রয়োজনের বাইরে পানি খাওয়া উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। বিজ্ঞান এখানে পরিষ্কার, বেশি মানেই সব সময় ভালো নয়।
২৩
'কাঁচা খেজুরের রস'
শীতের সকালে এক গ্লাস 'কাঁচা খেজুরের রস' আপনার পরিবারের জন্য মারণফাঁদ হতে পারে—নিপা ভাইরাস কোনো গুজব নয়, এটি নীরব ঘাতক।
আপনি কি জানেন, যে হাড়িতে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে, রাতের অন্ধকারে সেখানে বাদুড় মুখ দিয়েছে কি না? নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড়ের লালা বা প্রস্রাব থেকে ছড়ায়। আর শীতকালে খেজুরের রসই হলো এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার প্রায় ৭০% থেকে ১০০% পর্যন্ত হতে পারে। তাই সামান্য স্বাদের জন্য নিজের বা পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবেন না।
নিপা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কী করবেন আর কী করবেন না?
১. কাঁচা খেজুরের রসকে 'না' বলুন (Avoid Raw Date Juice)
সবচেয়ে বড় সতর্কতা—গাছ থেকে পাড়া কাঁচা খেজুরের রস একদম খাবেন না।
বাদুড় রাতে রসের হাড়িতে মুখ দেয় বা প্রস্রাব করে, যা খালি চোখে বোঝা অসম্ভব। তবে কি রস খাওয়া যাবে না? যাবে।
নিরাপদ উপায়: রস বা গুড় যদি ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ফোটানো হয়, তবে ভাইরাস মারা যায়। তাই রস ফুটিয়ে পায়েস বা গুড় বানিয়ে খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ।
২. পাখির খাওয়া ফল খাবেন না
বাগান থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বা গাছে থাকা পাখির ঠোকর দেওয়া ফল (যেমন—পেয়ারা, কুল, আম) খাবেন না।
বাদুড় বা পাখিরা অনেক সময় ফল আধখাওয়া করে ফেলে রাখে, যা থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
বাজার থেকে ফল কিনে আনার পর খুব ভালো করে ধুয়ে তারপর খাবেন।
৩. লক্ষণ ও সতর্কতা (Symptoms & Care)
জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রলাপ বকা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া—এগুলো নিপা ভাইরাসের লক্ষণ।
আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসলে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোবেন।
শেষ কথা
আতঙ্কিত হবেন না, শুধু সাবধান হোন।
আপনার একটু অসাবধানতা পুরো পরিবারকে বিপদে ফেলতে পারে।
শীতের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কাঁচা রস খাওয়া বন্ধ করুন, সুস্থ থাকুন।
নিজেকে বলুন—"স্বাদ বড় না জীবন বড়? আমি কাঁচা রস খাব না।"
২৪
বাঁ-হাতি কি বিশেষ মেধার লক্ষণ নাকি কেবল একটি অভ্যাস?
সারা বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ বাঁ-হাতি। অথচ ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, আলবার্ট আইন্সটাইন, মেরি কুরি কিংবা আজকের বিল গেটস এবং বারাক ওবামা: তারা সবাই ছিলেন বাঁ-হাতি।
অনেকেই প্রশ্ন করেন: বাঁ-হাতি হওয়া কি আসলেই বেশি বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ? বিজ্ঞান কী বলে?
মস্তিষ্কের বিশেষ গঠন (The Brain Connection)
আমাদের মস্তিষ্ক দুটি অংশে বিভক্ত: ডান এবং বাম গোলার্ধ। সাধারণত বাঁ-হাতিদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডান অংশ (Right Hemisphere) বেশি সক্রিয় থাকে। এই অংশটি মূলত সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি এবং স্থানিক ধারণা (Spatial Awareness) নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে বাঁ-হাতিদের মস্তিষ্কের দুই অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার মাধ্যম (Corpus Callosum) সাধারণের চেয়ে বড় হতে পারে। এর ফলে তারা যেকোনো সমস্যাকে একটু ভিন্নভাবে এবং দ্রুত সমাধান করার ক্ষমতা রাখে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'Divergent Thinking'।
জোর করে হাত বদলানো কি ঠিক?
আমাদের সমাজে অনেক সময় বাচ্চাকে জোর করে ডান হাতে লেখানোর চেষ্টা করা হয়। বিজ্ঞান বলছে এটি বাচ্চার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বাচ্চা কোন হাত ব্যবহার করবে তা তার মস্তিষ্কের গঠন দ্বারা নির্ধারিত। জোর করে হাত বদলানোর চেষ্টা করলে বাচ্চার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর ফলে:
- কথা বলায় জড়তা বা তোতলামি (Stuttering) দেখা দিতে পারে।
- পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যেতে পারে।
- আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
২৫
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কি ফ্রান্সের খাবার
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামটা শুনলেই মনে হয় এটি ফ্রান্সের খাবার। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এই জনপ্রিয় আলুভাজার জন্ম আসলে ফ্রান্সে নয়। আলুর উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকায় বিশেষ করে আজকের পেরু ও চিলি অঞ্চলে। সেখানকার আদিবাসীরা বহু শতাব্দী আগে থেকেই লম্বা করে কাটা আলু তেলে ভেজে খেতেন। ১৬০০ দশকের দিকে স্প্যানিশরা এই ভাজা আলুর রেসিপি ইউরোপে নিয়ে আসে।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামটি জনপ্রিয় হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। তখন বেলজিয়ামে থাকা মার্কিন সৈন্যরা স্থানীয়ভাবে খাওয়া লম্বা আলুভাজাকে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বলে ডাকতে শুরু করেন, কারণ বেলজিয়ামের অনেক মানুষ তখন ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন। রান্নার ভাষায় আলুকে চিকন ও লম্বা করে কাটাকে বলা হয় ফ্রেঞ্চিং। এই কাটিং স্টাইল থেকেই ফ্রেঞ্চড ফ্রায়েড পটেটো, পরে সংক্ষেপে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামটি চালু হয়।
১৮৫৬ সালে প্রথমবার একটি রান্নার বইয়ে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নামটি ছাপা হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফাস্টফুড সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাওয়া সাইড ডিশগুলোর একটি। তবে যেহেতু এটি ডুবোতেলে ভাজা, তাই নিয়মিত বেশি খেলে হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মাঝেমধ্যে ও পরিমিত পরিমাণে খেলেই এটি সবচেয়ে নিরাপদ ও উপভোগ্য।@ ইভা আক্তার
২৬
চাণক্য: প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ
(খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০-২৮৩ অব্দ) একজন প্রাচীন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক ও রাজ-উপদেষ্টা এবং অর্থশাস্ত্র নামক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন।চাণক্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে প্রাচীন ভারতের একজন দিকপাল ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বগুলি চিরায়ত অর্থনীতির বিকাশ লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তার পাণ্ডিত্যের জন্য চাণক্যকে ভারতের মেকিয়াভেলি বলা হয়। চাণক্যের রচনা গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনের শেষ দিকে অবলুপ্ত হয় এবং ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে পুনরাবিষ্কৃত হয়। প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক চাণক্য পরবর্তীকালে মৌর্য্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজ-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথম জীবন:
প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিত, দার্শনিক, ও রাজউপদেষ্টা কৌটিল্য বা বিষ্ণু গুপ্ত (খ্রি. ৩৭১-২৮৩)। তিনি চাণক্য নামে অধিক পরিচিত। তাঁর জন্ম নিয়ে রয়েছে মতান্তর। কারো মতে তাঁর জন্ম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের তক্ষশীলায়। আবার কারো মতে কৌটিল্য বা চাণক্যের জন্ম চণক নামে একটি গ্রামে, ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান সম্বন্ধে বেশ কয়েকটি মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। বৌদ্ধ গ্রন্থ মহাবংশটীকা অনুসারে, তক্ষশীলায় তাঁর জন্ম হয়। জৈন পুঁথি অদ্বিধন চিন্তামণি চাণক্যকে অভিহিত করেছে দ্রমিলা নামে , যার অর্থ তিনি দক্ষিণ ভারতের অধিবাসী ছিলেন। হেমচন্দ্র রচিত পরিশিষ্টপর্ব গ্রন্থানুসারে, চাণক্য চণক নামক গ্রামে চণিন নামক এক ব্রাহ্মণ ও তাঁর পত্নী চণেশ্বরীর গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। অন্য উৎস মতে, চণক তার পিতার নাম ছিল। চাণক্য প্রাচীন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষালাভ করেন ও পরবর্তীকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আচার্য্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বেদ সম্বন্ধে একজন পণ্ডিত ছিলেন এবং বিষ্ণুর উপাসক ছিলেন।
কর্মজীবন:
বিশাখদত্ত রচিত মুদ্রারাক্ষস নামক সংস্কৃত নাটকে নন্দ সাম্রাজ্য পতনে চাণক্যের ভূমিকা বর্ণিত রয়েছে। এই গ্রন্থানুসারে, হিমালয়ের একটি পার্বত্য রাজ্যের অধীশ্বর পর্বতেশ্বরের সঙ্গে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা চাণক্য কূটনৈতিক মিত্রতা স্থাপন করে নন্দ সাম্রাজ্যকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। কিন্তু এই সময়, পর্বতেশ্বরকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হলে মলয়কেতু তার স্থানে সিংহাসনে আরোহণ করেন। নন্দ সাম্রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাক্ষসের সঙ্গে মিলিত ভাবে মলয়কেতু নন্দ সাম্রাজ্যের অধিকৃত এলাকা দাবি করেন। শেষ নন্দ সম্রাট ধননন্দের হত্যার প্রতিশোধ নিতে মলয়কেতুর সহায়তায় রাক্ষস রাজধানী আক্রমণ করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই পরিস্থিতিতে চাণক্য যেন তেন প্রকারে রাক্ষসকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করাতে চেয়েছিলেন। রাক্ষসের প্রতীক মুদ্রাটি হস্তগত করে চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে উদ্দেশ্য করে একটি নকল চিঠি প্রস্তুত করেন। এই চিঠিতে রাক্ষসের মুদ্রার ছাপ (সীলমোহর) দিয়ে লেখা হয় যে তিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক। চাণক্য প্রথমেই মলয়কেতুর নিকট এই চিঠির বিষয়ে বার্তা পাঠালে তাতে বিশ্বাস করে মলয়কেতু রাক্ষসের সঙ্গত্যাগ করেন। এই ভাবে চাণক্য রাক্ষসকে তার সঙ্গীদের থেকে দূরে সরিয়ে দেন। পরবর্তী কৌশল হিসেবে তিনি রাক্ষসের বন্ধু চন্দনদাসের মৃত্যুদণ্ড দিলে রাক্ষস তাকে বাঁচাতে, আত্মসমর্পণে ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধ্য হন।
বিন্দুসারের সঙ্গে সম্পর্ক:
জৈন প্রবাদানুসারে, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের উপদেষ্টা চাণক্য শত্রু দ্বারা বিষপ্রয়োগে হত্যা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে শারীরিক প্রতিষেধক তৈরী করার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যকে তাঁর অজান্তে অল্প মাত্রায় বিষ পান করাতেন। একদিন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য তাঁর বিষযুক্ত খাবার অন্তঃসত্ত্বা দুর্ধরার সঙ্গে ভাগ করে খেলে, দুর্ধরার মৃত্যু হয়। তাঁর সন্তানকে বাঁচাতে চাণক্য সদ্যমৃত দুর্ধরার পেট কেটে তাকে বের করে আনলে বিন্দুসারের জন্ম হয়। পরবর্তীকালে বিন্দুসার মৌর্য্য সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করলে চাণক্য তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হেমচন্দ্রের পরিশিষ্টপর্ব অনুসারে, বিন্দুসারের একজন মন্ত্রী সুবন্ধু চাণক্যকে অপছন্দ করতেন। তিনি বিন্দুসারকে জানান যে তার মাতা দুর্ধরার মৃত্যুর জন্য চাণক্য দায়ী ছিলেন। এই ঘটনার কথা জানতে পেরে বিন্দুসার প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হলে বৃদ্ধ চাণক্য জৈন আচার সল্লেখনা বা স্বেচ্ছা-উপবাস করে দেহত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এই সময় চাণক্য যে তার মাতার মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী ছিলেন না, তা অনুসন্ধান করে বিন্দুসার জানতে পেরে নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং সুবন্ধুকে চাণক্যের নিকট পাঠান যাতে, চাণক্য তার মৃত্যু সঙ্কল্প ত্যাগ করেন। কিন্তু সুযোগসন্ধানী সুবন্ধু এই সময় চাণক্যকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন।
চাণক্য শ্লোকে শিক্ষা:
ভারতবর্ষের মধ্যে চাণক্য ছিলেন একজন অসাধারণ পণ্ডিত। মানুষের কর্তব্য, সঠিক ধর্মপথে চালনা, সমাজকল্যাণ, উপযুক্ত বিদ্যা ও শিক্ষা বিষয়ে তিনি অনেক শ্লোক রচনা করেছেন। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, চণকের পুত্র বা চণক বংশীয় সন্তান বলে তাঁর নাম চাণক্য। তিনি আবার কৌটিল্য, বিষ্ণুগুপ্ত এমনকি বিষ্ণু শর্মা নামেই পরিচিত ছিলেন। অবশ্য এই বিষয়ে অনেক মতভেদ আছে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে চাণক্যের আর্বিভাব। চন্দ্রগুপ্তকে মগধের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে চাণকোর অবদান খুবই উল্লেখযোগ্য। খ্রিস্টপূর্ব ৩২১-এ চন্দ্রগুপ্ত রাজা ধননন্দকে যুদ্ধে হারিয়ে রাজধানী পাটলিপুত্র দখল করেন। চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন চাণক্য। মহামতি চাণক্য তাঁর প্রতিভা বলে যে শ্লোক রচনা করেছেন তার সামাজিক মূল্য বিরাট। চাণক্য শ্লোক বর্তমানেও মনে হয় খুবই প্রাসঙ্গিক। চাণক্য শ্লোকের ভাববস্তু আমাদের জীবনের সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে আছে তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার কোনো উপায় নেই। চাণক্যের শ্লোকগুলি অধিকাংশই বাস্তবধর্মী। শিক্ষা ও বিদ্যা বিষয়ে চাণক্য শ্লোক আমাদের জীবনে কতটা অপরিহার্য তা শ্লোকের বিষয়বস্তুর মধ্যে পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠেছে। আমাদের জীবন প্রবাহে চাণক্য শ্লোকের উপদেশ ঠিকমতো গ্রহণ করলে মানব সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।
জনসংস্কৃৃতিতে:
১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় চন্দ্রগুপ্ত নামক একটি বাংলা নাটক রচনা করেন।
১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত নামক একটি তেলুগু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যেখানে অক্কিনেনী নাগেশ্বর রাও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্যের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত চাণক্য নামক একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে মীতেশ সফারি ও চন্দ্রপ্রকাশ দ্বিবেদী চাণক্যের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত চক্রবর্তী অশোক সম্রাট নামক একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে মনোজ জোশী চাণক্যের ভূমিকায় অভিনয় করেন।
স্টার প্লাসের চন্দ্র নন্দিনী ধারাবাহিকে চাণক্যের চরিত্রে অভিনয় করেন মনোজ কোলাৎকার। তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
২৭
বিড়াল নিয়ে তিনটি ভিন্নধর্মী ঐতিহাসিক কাহিনী
মধ্যযুগে ইউরোপে বিড়ালকে শয়তানের সহযোগী মনে করা হতো বিশ্বাস করুন বা না-ই করুন, কালো বিড়াল মানেই ছিল অপশক্তির প্রতীক। তখনকার সমাজে মানুষ মনে করত, বিড়াল বিশেষ করে কালো বিড়াল হল জাদুকরী নারীদের সহচর বা শয়তানের আভাস। এই কুসংস্কার শুধু বাচ্চাদের গল্প নয়, বাস্তবেই তখন লাখ লাখ বিড়ালকে হত্যার শিকার হতে হয়েছিল।
কালো বিড়াল দেখলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ত। মানুষ ভেবেই নিত যে, বিড়ালের দেখা মানে শয়তান উপস্থিত। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে, নারী যদি গোপনে বিড়াল পালন করতেন, তাকে “উইচ বা ডাইনি” বলে দোষী সাব্যস্ত করে পুড়িয়ে মারা হতো। অর্থাৎ ভুল বিশ্বাসের কারণে মানুষ ও প্রাণীর জীবন উভয়ই বিপন্ন হতো।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল অন্যরকম। বিড়াল মূলত ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী শিকার করত। বিড়াল হত্যা হওয়ার ফলে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যায়, যা পরবর্তীতে ইউরোপে ব্ল্যাক ডেথ মহামারীর বিস্তারকে প্ররোচিত করে। এই মহামারীতে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ হারায়। অর্থাৎ ভুল কুসংস্কারের কারণে শুধু প্রাণী নয়, মানুষের জীবনও বিপন্ন হয়েছিল।
এটি আমাদের ইতিহাস শেখায় যে, অন্ধ বিশ্বাসের ফলাফল কতটা বিধ্বংসী হতে পারে। বিজ্ঞান, যৌক্তিক চিন্তা এবং প্রমাণভিত্তিক বিচার না থাকলে সমাজে কত বিপর্যয় ঘটতে পারে তা স্পষ্ট। মধ্যযুগের এই ঘটনা শুধু ইতিহাস নয়, এটি সতর্কবার্তা যে কোনও কুসংকার বা অন্ধবিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করা গুরুত্বপূর্ণ।
১. পেলুসিয়ামের যুদ্ধ: বিড়াল যখন ঢাল
৫২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্যের রাজা দ্বিতীয় কাম্বিসেস মিশর আক্রমণ করেন। তিনি জানতেন মিশরীয়রা বিড়ালকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে পূজা করে এবং কোনোভাবেই তাদের আঘাত করবে না। পারস্যের সৈন্যরা তাদের ঢালের ওপর জ্যান্ত বিড়ালের ছবি এঁকেছিল এবং যুদ্ধের সামনের সারিতে জ্যান্ত বিড়াল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মিশরীয় সৈন্যরা যখন দেখল আক্রমণ করলে বিড়ালদের আঘাত লাগবে, তারা অস্ত্র ফেলে পিছু হটে। এভাবেই কোনো বড় রক্তপাত ছাড়াই পারস্য জয়ী হয়েছিল!
২. অপারেশন অ্যাকোস্টিক কিটি (Acoustic Kitty)
১৯৬০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধের সময় আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা CIA একটি বিড়ালকে গুপ্তচর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিল। তারা বিড়ালের কানের ভেতরে একটি মাইক্রোফোন এবং লেজের ভেতরে একটি অ্যান্টেনা বসিয়ে দেয় যাতে এটি সোভিয়েত দূতাবাসের লোকজনের গোপন কথা শুনতে পারে।
এই প্রকল্পে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বিড়ালটিকে যখন প্রথম মিশনে ছাড়া হলো, সে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ট্যাক্সির নিচে পড়ে মারা যায়। ফলে প্রকল্পটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
৩. টাইটানিকের 'আনসিংকেবল' স্যাম (Unsinkable Sam)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একটি বিড়াল ছিল যার নাম স্যাম। সে ছিল জার্মানির যুদ্ধজাহাজ 'বিসমার্ক'-এ। জাহাজটি যখন ডুবে যায়, ব্রিটিশরা স্যামকে উদ্ধার করে তাদের নিজেদের জাহাজে নিয়ে যায়। অদ্ভুতভাবে, এরপর স্যাম যে দুটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে (HMS Cossack এবং HMS Ark Royal) ছিল, সেগুলোও ডুবে যায়। কিন্তু তিনবারই স্যাম অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরে! এরপর তার নাম দেওয়া হয় 'আনসিংকেবল স্যাম'।
বিড়ালের আরও কিছু মজার তথ্য:
মধ্যযুগীয় কুসংস্কার: ইউরোপে একসময় বিশ্বাস করা হতো বিড়াল ডাইনিদের সহযোগী। এই ভয়ে প্রচুর বিড়াল মেরে ফেলা হয়েছিল, যার ফলে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং প্লেগ মহামারি তীব্র আকার ধারণ করে।
মিশরের শোক: প্রাচীন মিশরে একটি পোষা বিড়াল মারা গেলে তার মালিক শোক পালনের জন্য নিজের ভ্রু (eyebrows) কামিয়ে ফেলতেন।
২৮
""ইরান" কি আদি "আর্যদের দেশ"
""ইরান" শব্দের মূল অর্থ "আর্যদের দেশ" বা "আর্যদের ভূমি", যা প্রাচীন ফার্সি শব্দ 'এরণ' (Erān) থেকে এসেছে এবং এটি সংস্কৃত 'আর্য' (Arya) শব্দের সাথে সম্পর্কিত, যার অর্থ 'মহৎ', 'উচ্চজাতি' বা 'সভ্য'। নামটি সেই অঞ্চলের আদিবাসী আর্য জাতিগোষ্ঠীকে নির্দেশ করে যারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল।
উৎপত্তি:
ইরান নামটি প্রাচীন ফার্সি শব্দ 'এরণ' (Erān) থেকে এসেছে, যা arya বা 'আর্য' থেকে উদ্ভূত।
অর্থ:
আর্যদের দেশ' বা 'আর্য জনগণের ভূমি'।
আর্য: '
আর্য' শব্দের অর্থ 'মহৎ', 'সম্মানিত', 'সভ্য' বা 'উচ্চজাতি'।
নামকরণ:
১৯৩৫ সালে রেজা শাহ পাহলভি আন্তর্জাতিকভাবে 'ইরান' নামটি ব্যবহারের অনুরোধ জানান, যা পূর্বে 'পারস্য' নামে পরিচিত ছিল।
বিস্তারিত:
ইরানীরা মূলত আহুরা মাজদা (মঙ্গল) দেবতায় বিশ্বাসী ছিল এবং তাদের ধর্ম ছিল জরথুষ্ট্রবাদ (অগ্নীপুজা), যেখানে আগুনকে পবিত্র প্রতীক হিসেবে মানা হতো; তাদের প্রাচীন নাম ছিল পারস্য, যা ছিল বৃহত্তর এক সাম্রাজ্যের নাম, যা বিভিন্ন সময়ে কুরুশ, দারিয়াস-এর মতো সম্রাটদের দ্বারা শাসিত হতো এবং তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস আজকের আধুনিক ইরান ও জরথুষ্ট্রবাদের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
তবে তাদের প্রাচীন ধর্ম ছিল জরথুষ্ট্রবাদ (Zoroastrianism), যা অগ্নি-পূজা এবং আর্যদের সাথে সম্পর্কিত, এবং আর্যরা ভারত ও ইরানে বসতি স্থাপনকারী একই ইন্দো-ইরানীয় গোষ্ঠীর অংশ ছিল, তাই তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ বিশ্বাস বা সাংস্কৃতিক সংযোগ থাকতে পারে, ইসলাম আবির্ভাবের আগে জরথুষ্ট্রবাদ ছিল প্রধান ধর্ম, যা অগ্নিকে পবিত্র মনে করত, এবং এটি অনেকটা হিন্দুধর্মের মতো ছিল, বরং এটি একটি পৃথক প্রাচীন ধর্ম।
প্রাচীন মিশর, গ্রীস, রোম, আফ্রিকা, এশিয়া, আমেরিকা এবং অন্যত্র প্রচলিত ধর্মে, প্রাচীনকাল থেকেই অর্চনা প্রতিবিম্ব বা মূর্তির প্রতি শ্রদ্ধা সাধারণ অভ্যাস, এবং অর্চনা প্রতিবিম্ব ধর্মের ইতিহাসে বিভিন্ন অর্থ এবং তাৎপর্য বহন করেছে। উপরন্তু, দেবতা বা দেবতাদের বস্তুগত চিত্র সবসময় বিশ্বের সব সংস্কৃতিতে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।
প্রাচীনতম তথাকথিত ভেনাস মূর্তিগুলি প্রাগৈতিহাসিক ঊর্ধ্ব প্যালিওলিথিক যুগের। এজিয়ান সাগরের দ্বীপসমূহের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ ও ৩য় সহস্রাব্দ থেকে নিওলিথিক যুগের সাইক্ল্যাডিক পরিসংখ্যান পেয়েছে, খ্রিস্টপূর্ব ২য় সহস্রাব্দ থেকে সিন্ধু ভ্যালি সভ্যতার স্থান থেকে নমস্ত ভঙ্গিতে প্রতিমা, এবং বিশ্বজুড়ে অনেক পুরনো পেট্রোগ্লিফ দেখায় যে মানুষ অত্যাধুনিক ছবি তৈরি করতে শুরু করেছে। যাইহোক, এইসব বর্ণনা করা ঐতিহাসিক গ্রন্থের অভাবের কারণে, এটা স্পষ্ট নয় যে, ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে কোন সম্পর্ক থাকলে, এই পরিসংখ্যানগুলির কি ছিল? অথবা তাদের অন্যান্য অর্থ এবং ব্যবহার ছিল কিনা, এমনকি খেলনা হিসাবেও।
প্রাচীনতম ঐতিহাসিক তথ্য যা নিশ্চিত করে যে ধর্মীয় পূজাপদ্ধতির চিত্টগুলি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা থেকে, তারপর গ্রিক সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত। খ্রিস্টপূর্ব ২য় সহস্রাব্দে ধর্মীয় পূজাপদ্ধতির চিত্রের দুটি বিস্তৃত রূপ দেখা যায়, একটি ছবিতে জুমরফিক (পশু বা প্রাণী-মানুষের সংমিশ্রণে দেবতা) এবং অন্য একটি নৃতাত্ত্বিক (মানুষের ছবিতে দেবতা)। প্রাচীন মিশর প্রভাবিত বিশ্বাসে আগেরটি বেশি দেখা যায়, যখন নৃতাত্ত্বিক চিত্রগুলি ইন্দো-ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে বেশি পাওয়া যায়। প্রকৃতির প্রতীক, উপকারী প্রাণী বা ভীত প্রাণী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ইউক্রেনের মাধ্যমে ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ডে ৪,০০০ থেকে ২,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্টিলে আবিষ্কৃত হয়েছে, এবং মধ্য এশিয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার মাধ্যমে, পরামর্শ দেয় যে প্রাচীন নৃতাত্ত্বিক পরিসংখ্যানগুলিতে জুমোরফিক মোটিফ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নর্ডিক ও ভারতীয় উপমহাদেশে, উদাহরণস্বরূপ, গবাদি পশু বা মূর্তি সাধারণ ছিল। আয়ারল্যান্ডে, মূর্ত প্রতীকগুলিতে শূকর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পারস্য কী ছিল?
প্রাচীন নাম: "পারস্য" (Persia) ছিল ইরানের একটি ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক অঞ্চলের নাম, যা পরে পুরো দেশ বোঝাতে ব্যবহৃত হতো।
সাম্রাজ্য:
এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও শক্তিশালী সাম্রাজ্য (যেমন হাখমানেশি সাম্রাজ্য), যা ভারত থেকে মিশর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
অগ্নীপুজা (জরথুষ্ট্রবাদ) কী ছিল?
প্রধান ধর্ম: জরথুষ্ট্রবাদ ছিল প্রাচীন ইরানের রাষ্ট্রধর্ম, যা নবী জরথুষ্ট্র (Zoroaster) প্রবর্তন করেন।
আহুরা মাজদা:
এই ধর্মানুসারে, আহুরা মাজদা (জ্ঞানময় প্রভু) হলেন প্রধান দেবতা, এবং "আগুনের শিখা" পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হতো, যা মন্দিরগুলোতে ১,৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জ্বালানো আছে।
মূল বিষয়:
পারস্য হলো প্রাচীন ইরানের নাম, আর জরথুষ্ট্রবাদ ছিল তাদের প্রধান ধর্ম যেখানে তারা আগুনকে সম্মান করত। ইরানীরা তাদের ঐতিহ্যগত ধর্ম (জরথুষ্ট্রবাদ) এবং সংস্কৃতির ধারক, যা পারস্য সাম্রাজ্যের ইতিহাসের অংশ ছিল। তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
২৯
সবুজ অ্যানাকোন্ডা
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপগুলোর মধ্যে একটি সবুজ অ্যানাকোন্ডা (Eunectes murinus)। এই সাপের স্ত্রী প্রজাতির মধ্যে একটি অদ্ভুত আচরণ দেখা যায়, যাকে বলা হয় যৌন নরখাদকতা (sexual cannibalism)। মিলনের পর অনেক সময় স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে খেয়ে ফেলে।
সবুজ অ্যানাকোন্ডা সাপেদের মধ্যে এই আচরণটি কোনো রাগ বা হিংসার কারণে নয়। বরং এর আসল কারণ হলো গর্ভধারণের সময় স্ত্রী অ্যানাকোন্ডার প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী হওয়ার পর স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা প্রায় ৭ মাস পর্যন্ত কিছুই খায় না। এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য শরীরে জমা শক্তির উপর নির্ভর করতে হয় স্ত্রী অ্যানাকোন্ডাদের। এই কারণে পুরুষ অ্যানাকোন্ডাকে খেয়ে ফেললে স্ত্রী সাপ একসাথে অনেক প্রোটিন ও চর্বি পায়। আর এই পুষ্টি তার পেটের ভেতরে থাকা বাচ্চাগুলোর ঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে , ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও পুরুষ অ্যানাকোন্ডারা আকারে অনেক বড় স্ত্রী অ্যানাকোন্ডার সাথে মিলনের চেষ্টা করে। অনেক সময় একসাথে কয়েকটি পুরুষ একটি স্ত্রী সাপের সাথে মিলনের জন্য লড়াই করে—এটাকে বলা হয় “ব্রিডিং বল”।
মিলন শেষ হওয়ার পর যদি স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা শিকার করতে চায়, তাহলে পুরুষ সাপের বাঁচার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। যদিও সব মিলনের পর এমনটা হয় না, তবুও এটি বেশ সাধারণ ঘটনা।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক কৌশল, যার মাধ্যমে স্ত্রী অ্যানাকোন্ডা নিজের শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং তার বাচ্চাদের বেঁচে থাকার সুযোগ বাড়ায়। আমাজনের কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য প্রকৃতি এভাবেই কঠোর কিন্তু কার্যকর নিয়ম তৈরি করেছে।
৩০
পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট
জেনে অবাক হবেন পৃথিবীর সব থেকে বড় পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এখনো বাড়ছে ! এটি এখনো তার বাড়ন্ত অবস্থায় আছে মানে এখনো পুরোপুরি বড় হয়নি !!
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর প্রায় ৪ মিলিমিটার করে লম্বা হচ্ছে। ব্যাপারটা অনেকটা আমাদের নখ বাড়ার মতো, খুবই ধীর গতিতে, কিন্তু থামছে না। অবিরত বেড়েই চলেছে !!
এর কারণটা খুব ইন্টারেস্টিং। ইন্ডিয়ান প্লেট নামের বিশাল এক মাটির পাত ক্রমাগত ধাক্কা মারছে এশিয়ান প্লেটকে, যা প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে শুরু হয়েছিল এবং আজও অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটটি প্রতি বছর প্রায় দুই ইঞ্চি হারে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ক্রমাগত ধাক্কা দিয়ে চলেছে। এই প্রচণ্ড চাপের ফলে দুটি প্লেটের সংযোগস্থলে থাকা ভূমি ধীরে ধীরে মুচড়ে গিয়ে ওপরের দিকে উঠে আসছে, ঠিক যেমন একটি গাড়ির ধাক্কায় তার সামনের অংশ দুমড়ে যায়। এই ধীর কিন্ত অবিরত ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার ফলেই এভারেস্ট প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪ মিলিমিটার বা ০.১৬ ইঞ্চি করে উঁচু হচ্ছে।আর এই ধাক্কার কারণেই পুরো হিমালয় পর্বতমালা, আর তার সাথে এভারেস্টও, ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে !!
তবে মজার ব্যাপার হলো, একদিকে যেমন এভারেস্ট উঁচু হচ্ছে, অন্যদিকে বাতাস, বরফ আর ভূমিকম্প তাকে ক্ষয় করারও চেষ্টা করছে।
৩১
জীবনে এগিয়ে যেতে ২০টি স্বর্ণযুগের নীতি
১. যারা তোমাকে খুঁজছে না, তাদের দিকে নজর দেবেন না
সবসময় তাদের উপর সময় নষ্ট না করে যারা তোমার মূল্য বোঝে তাদের সাথে থাকুন।
২. ভিক্ষা করা বন্ধ করো
ভালোবাসা বা স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা নয়, নিজের যোগ্যতা বাড়াও।
৩. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলো না
সংক্ষিপ্ত ও শান্ত বক্তৃতা সর্বদা বেশি প্রভাব ফেলে।
৪. অসম্মান সহ্য করো না
সদয় ও দৃঢ়ভাবে নিজের মর্যাদা রক্ষা করুন।
৫. অন্যের সম্পদ বা সাফল্যের প্রতি লোভ করবেন না
নিজের পথে মনোযোগ রাখুন এবং দৈনিক কৃতিত্বের তালিকা তৈরি করুন।
৬. একমুখী সম্পর্ক কমান
যারা প্রতিদান দেয় না, তাদের সঙ্গে সময় সীমিত রাখুন।
৭. নিজের উন্নয়নে বিনিয়োগ করুন
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সচ্ছলতায় সময় ও অর্থ ব্যয় করুন।
৮. গসিপ বা পরচর্চা বন্ধ করুন
মন শান্ত রাখতে অন্যের বিষয়ে আলোচনা কম করুন।
৯. কথা বলার আগে ভাবুন
সত্য? প্রয়োজনীয়? সদয়?—এই তিনটি প্রশ্ন করুন।
১০. সবসময় নিজের সেরাটা দেখান
পোশাক, আচরণ ও ভাষা—সবই আপনার পরিচয়ের অংশ।
১১. লক্ষ্য পূরণের দিকে মনোযোগ দিন
স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে প্রতিদিনের কাজ অর্থবহ হয়।
১২. সময়কে গুরুত্ব দিন
‘না’ বলতে শিখুন এবং অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রম এড়িয়ে চলুন।
১৩. অসম্মানজনক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকুন
আত্মসম্মান রক্ষা করা জরুরি।
১৪. নিজের উপর খরচ করতে দ্বিধা করবেন না
নিজের মূল্য বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেকে বিনিয়োগ করা।
১৫. মাঝে মাঝে দূরে থাকুন
সবসময় সহজলভ্য হলে মূল্য কমে যায়; মাঝে মাঝে অনুপস্থিতি মূল্য বাড়ায়।
১৬. দানশীল হন, তবে সীমা রাখুন
নিয়মিত সামান্য দানের অভ্যাস তৈরি করুন।
১৭. আমন্ত্রণ ছাড়া উপস্থিত হবেন না
অনুষ্ঠান শেষে বেশি সময় না কাটান।
১৮. প্রাপ্য অনুযায়ী আচরণ করুন
ভদ্রতার সঙ্গে ভদ্রতা, দৃঢ়তার সঙ্গে দৃঢ়তা প্রদর্শন করুন।
১৯. টাকা ফেরত চাইতে দুইবারই যথেষ্ট
প্রথম রিমাইন্ডার শিষ্টাচারপূর্ণ, দ্বিতীয়টি দৃঢ়—তারপর থেমে যান।
২০. যেটাই করুন, উৎকৃষ্টভাবে করুন
ছোট বা বড় সব কাজে দক্ষতা ও নিষ্ঠা সাফল্য আনে।
সংগৃহীত
৩২
আলু বনাম আইরিশ
আলুর জন্ম দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতে, আজকের পেরু আর বলিভিয়ার পাহাড়ি এলাকায়। স্থানীয় মানুষ অন্তত ৭ হাজার বছর আগে থেকেই আলু চাষ করত।
স্প্যানিশরা ষোড়শ শতকে যখন আমেরিকা দখল করে, তখন তারা প্রথম আলুকে ইউরোপে নিয়ে আসে। আনুমানিক ১৫৭০ সালের দিকে আলু স্পেনে পৌঁছায়। শুরুতে ইউরোপীয়রা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল। মাটির নিচে জন্মায়, বাইবেলে নাম নেই, দেখতে বিকৃত। অনেকেই ভাবত এটা রোগের কারণ।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল আলাদা। ইউরোপে তখন গম, যব আর রাইয়ের ওপর মানুষের জীবন নির্ভর করত। সমস্যা হলো, এসব শস্য আবহাওয়ার ওপর খুব সংবেদনশীল। একটু ঠান্ডা, একটু বৃষ্টি বেশি হলেই ফসল নষ্ট। আলু সেখানে একেবারে বিপ্লব ঘটায়।
এক একর জমিতে গম যেখানে প্রায় ১ টন ক্যালোরি দিত, আলু সেখানে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ক্যালোরি দিতে পারত। উপরন্তু আলুতে ছিল ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট। একজন মানুষ শুধু আলু আর সামান্য দুধ খেয়েও বেঁচে থাকতে পারত।
এই কারণেই আলু ধীরে ধীরে ইউরোপের দরিদ্র মানুষের প্রধান খাবার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ডের জমি ছোট, কৃষক দরিদ্র, ব্রিটিশ শাসনের কারণে নিজের জমির ওপরও নিয়ন্ত্রণ সীমিত।
আলু ছিল একমাত্র ফসল যা অল্প জমিতে একটা পরিবারকে পুরো বছর খাওয়াতে পারত। ১৮০০ সালের দিকে আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আলুর ওপর নির্ভরশীল ছিল। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দৈনিক গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি আলু খেত। সংখ্যাটা আজ শুনলে অবাক লাগবে, কিন্তু সেটাই ছিল বাস্তবতা।
১৮৪৫ সালের আগে আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় কারণই ছিল আলু। আলু না থাকলে এত মানুষ ওই ছোট দ্বীপে বেঁচে থাকাই সম্ভব হতো না। এখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়।
১৮৪৫ সালে ইউরোপে দেখা দেয় আলুর এক ভয়ংকর রোগ, পটেটো ব্লাইট। বৈজ্ঞানিক নাম ফাইটোফথোরা ইনফেস্টান্স। এই রোগে আলুর গাছ বাইরে থেকে সবুজ দেখালেও ভেতরে ভেতরে পচে যেত। আয়ারল্যান্ডে চাষ করা আলুর প্রায় সবটাই ছিল একই জাতের। মানে জেনেটিক বৈচিত্র্য প্রায় শূন্য। ফলে রোগ একবার ঢুকতেই পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথম বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ আলু নষ্ট হয়। পরের বছরগুলোতে ক্ষতি আরও ভয়াবহ হয়। ১৮৪৬, ১৮৪৭, ১৮৪৮ এই কয়েক বছরে প্রায় পুরো ফসল ধ্বংস হয়ে যায়। ফলাফল ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
পরিসংখ্যান এখানে গল্পের চেয়েও নির্মম। ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ডে আনুমানিক ১০ লাখ মানুষ অনাহার ও রোগে মারা যায়। আরও প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, প্রধানত আমেরিকা, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ায়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। এমন জনসংখ্যা পতন ইউরোপের ইতিহাসে বিরল।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, দুর্ভিক্ষ চলাকালীন সময়েও আয়ারল্যান্ড থেকে খাবার রপ্তানি হচ্ছিল। গম, মাংস, দুধ, মাখন নিয়মিত ইংল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছিল। কারণ জমির মালিক ছিল ইংরেজ, আর চুক্তি অনুযায়ী রপ্তানি বন্ধ করা হয়নি। অর্থাৎ একদিকে মানুষ না খেয়ে মরছে, অন্যদিকে দেশ থেকে খাবার বের হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, এটা ছিল রাজনৈতিক আর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ফল।
এই দুর্ভিক্ষ শুধু আয়ারল্যান্ডকে বদলায়নি। আমেরিকার জনসংখ্যা গঠনে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ নিজেদের আইরিশ বংশোদ্ভূত বলে পরিচয় দেয়। নিউইয়র্ক, বোস্টন, শিকাগোর মতো শহরের শ্রম বাজার আয়ারল্যান্ড থেকে আসা অভিবাসীদের দিয়েই গড়ে ওঠে। এই অভিবাসন ঢেউ না হলে আধুনিক আমেরিকার চেহারাই আলাদা হতো।
আলু ইউরোপকে শিক্ষা দিয়েছে এক কঠিন সত্য। একটি মাত্র পণ্যের ওপর পুরো সমাজকে দাঁড় করালে সেটা যত উপকারীই হোক, ঝুঁকি ভয়াবহ। পরে ইউরোপীয় দেশগুলো কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার দিকে যায়। একাধিক জাত, একাধিক ফসল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।
আমদানি রপ্তানির দিক থেকেও আলুর প্রভাব বিশাল। দুর্ভিক্ষের পর ইউরোপে খাদ্য আমদানির ওপর দৃষ্টি বাড়ে। কেবল স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে, অন্য দেশ থেকে শস্য আনার পরিকল্পনা শুরু হয়। আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা ধারণার বীজ এখানেই।
আজ আপনি যখন কোনো দেশে আলু আমদানি বা রপ্তানির হিসাব দেখেন, সেটা শুধু দাম বা টনের গল্প না। এর পেছনে আছে লাখ লাখ মানুষের জীবন, ভুল সিদ্ধান্তের শিক্ষা আর একটি সাধারণ ফসলের অসাধারণ ক্ষমতা। @ আরিফুল ইসলাম আদিল
৩৩
বুদ্ধিমত্তার ১১টি লক্ষণ, যা ভালো রেজাল্ট বা ডিগ্রির ওপর নির্ভর করে না।
১. আলোচনার গভীরে যাওয়ার জন্য প্রশ্ন করা:
বুদ্ধিমান মানুষরা কেবল কথা বলার জন্য কথা বলেন না। তারা এমন প্রশ্ন করেন যা বিষয়টিকে আরও পরিষ্কার করে এবং অন্যদের চিন্তা করতে সাহায্য করে।
২. উত্তর দেওয়ার আগে একটু থামা:
দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেয়ে ভেবেচিন্তে উত্তর দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। কথা বলার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিলে উত্তরের মান বাড়ে এবং মানুষ আপনার কথার ওপর বেশি আস্থা পায়।
৩. ভুল প্রমাণিত হলে নিজের মতামত পরিবর্তন করা:
নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পেলে যারা নিজের ভুল স্বীকার করে মত বদলাতে পারে, তারা মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান। একে 'ইন্টেলেকচুয়াল হিউমিলিটি' বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিনয় বলা হয়।
৪. জটিল বিষয় সহজ ভাষায় বোঝানো:
কঠিন কোনো বিষয়কে সাধারণ ভাষায় বুঝিয়ে বলা বুদ্ধিমত্তার একটি বড় লক্ষণ। যারা বিষয়টি খুব ভালো বোঝেন, কেবল তারাই সেটি সহজভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
৫. প্যাটার্ন বা ধরন শনাক্ত করা:
বুদ্ধিমান মানুষরা লক্ষ্য করেন যে কোন জিনিসগুলো বারবার ঘটছে। তারা কেবল কারণটি খুঁজে বের করেন না, বরং সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নেন।
৬. আবেগের বসে সিদ্ধান্ত না নেওয়া:
তারা নিজের আবেগ বুঝতে পারেন (যেমন: রাগ বা দুঃখ), কিন্তু সেই আবেগকে সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দেন না। তারা অস্থির না হয়ে পরিস্থিতি শান্তভাবে মোকাবিলা করেন।
৭. ছোট ছোট পরিকল্পনার মাধ্যমে বড় সমস্যা এড়ানো:
তারা সবকিছু আগে থেকে গুছিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। যেমন: চাবি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের রিমাইন্ডার দেওয়া। এই ছোট অভ্যাসগুলো শেষ মুহূর্তের বড় ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
৮. কথা শোনার পর তার সারমর্ম বোঝা:
তারা কেবল চুপ করে শোনেন না, বরং বক্তার কথার মূল ভাবটি বুঝতে চেষ্টা করেন এবং তা প্রতিফলিত করেন। এতে অন্য মানুষটি অনুভব করেন যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৯. ফিডব্যাক বা মতামত গ্রহণ করা:
নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তারা অন্যের গঠনমূলক সমালোচনা শোনেন এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেন।
১০. প্রতিদিনের ছোটখাটো বিষয়ে কৌতূহলী হওয়া:
বুদ্ধিমান মানুষরা সবসময় শিখতে চান। "এই জিনিসটা কেন এমন?" বা "এটা কীভাবে কাজ করে?"—এমন ছোট ছোট কৌতূহল তাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করে।
১১. বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা:
তারা জীবনের এক ক্ষেত্রের শিক্ষাকে অন্য ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেন। যেমন: রান্নার কোনো অভিজ্ঞতাকে অফিসের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে ব্যবহার করা। তারা বিভিন্ন আইডিয়া এবং মানুষের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় করতে পারেন।
_________________
বুদ্ধিমত্তা মানেই অনেক ডিগ্রি বা বড় বড় শব্দ ব্যবহার করা নয়; বরং এটি হলো পরিস্থিতি বোঝা, শেখার মানসিকতা রাখা এবং মানুষের সাথে সুন্দরভাবে যোগাযোগ করার সক্ষমতা।
৩৪
মেকআপের ইতিহাস
আজকের দিনে মেকআপ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, স্টাইলের অংশ। কিন্তু প্রাচীন মিশরে মেকআপের ইতিহাস প্রায় ৫,০০০ বছর পুরনো। সেই সময় মিশরীয় নারীরা কালো কায়ল বা “কালা” ব্যবহার করত চোখ সাজাতে। এটা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্যবিধান এবং আত্মরক্ষারও অংশ ছিল।
কালো কায়ল মূলত তৈরি হত গ্যালেনাইট (galena) নামক সীসা খনিজ থেকে। কায়ল চোখে ব্যবহার করলে সূর্যের আলো ও ধুলো রোধ হতো। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এটি চোখ সংক্রমণ কমাতেও সাহায্য করত। সাধারণ মানুষ থেকে ফারাও পর্যন্ত সবাই এই পদ্ধতি ব্যবহার করত। প্রাচীন মিশরে আইলাইনার পরিধান মানেই শুধু স্টাইল নয়, সামাজিক পরিচয় ও মর্যাদার প্রতীকও ছিল।
সাদা এবং লাল রঙের মেকআপও ব্যবহৃত হত। লাল রঙের লিপস্টিক ও গাল রঙ হিমালয়ী লাল খনিজ থেকে তৈরি হতো। এই রঙ মুখে প্রাণ ও সৌন্দর্য আনার পাশাপাশি ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার হতো। অদ্ভুত হলেও সত্য—প্রাচীন মিশরের মেকআপ শুধু ফ্যাশন নয়, এটি ছিল স্বাস্থ্যবিধান, ধর্ম এবং সামাজিক মর্যাদার এক একক। আধুনিক মেকআপ শিল্পের শিকড় আসলে এখান থেকেই।
৩৫
টাকা মানুষের সামাজিক অবস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু তার ভেতরের মূল চরিত্র নয়
হেনরি ফোর্ড বলেন, টাকা মানুষের বাহ্যিক অবস্থা বা সামাজিক অবস্থান বদলাতে পারে, কিন্তু তার ভেতরের মূল চরিত্র, স্বভাব বা ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করতে পারে না; বরং টাকা থাকলে সেই স্বভাব আরও প্রকট হয়ে ওঠে, তা ভালো হোক বা মন্দ। তাঁর মতে, ধনী হওয়ার কারণে কেউ রাতারাতি ভালো মানুষ হয়ে যায় না, বরং যার মধ্যে আগে থেকেই লোভ বা অহংকার ছিল, টাকার কারণে তা আরও প্রকাশ পায়; আবার যে সৎ, সে আরও ভালো কাজ করে।
কেন তিনি এমনটা বলেছেন (সম্ভাব্য কারণ):
টাকা একটা আয়না: ফোর্ড বিশ্বাস করতেন যে, টাকা আসলে মানুষের ভেতরের আসল রূপটাকেই প্রকাশ করে, যেমনটা একটি আয়না করে।
চরিত্রের প্রকাশ:
টাকা থাকলে মানুষ তার প্রকৃত চরিত্র অনুযায়ী আচরণ করে। তাই, টাকা মানুষকে "বদলায়" না, বরং তার "আসল রূপ" বেরিয়ে আসে (যেমন: কৃপণতা বা উদারতা)।
বস্তুগত বনাম চারিত্রিক পরিবর্তন:
তিনি হয়তো দেখাতে চেয়েছিলেন যে, বাহ্যিক পরিবর্তন (যেমন: বড় বাড়ি, গাড়ি) সহজ, কিন্তু চারিত্রিক পরিবর্তন (স্বভাব) অনেক কঠিন এবং তা টাকার ওপর নির্ভরশীল নয়।
ব্যবসায়িক দর্শন:
ফোর্ড নিজেও একজন বড় শিল্পপতি ছিলেন, তাই তিনি হয়তো দেখেছেন যে, টাকা বা সম্পদ একজন মানুষের ক্ষমতা বাড়ালেও তার নৈতিক ভিত্তি বা স্বভাবের ওপর প্রভাব ফেলে না, বরং তা কেবল সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী বা দুর্বল করে তোলে।
সংক্ষেপে:
ফোর্ডের বার্তা ছিল—টাকা শুধু সুযোগ ও ক্ষমতা দেয়, কিন্তু মানুষের ভেতরের মানুষটাকে পাল্টাতে পারে না, বরং তাকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। টাকা মানুষের বাহ্যিক পরিস্থিতি, সামাজিক অবস্থান এবং সুযোগ-সুবিধা বদলে দিতে পারে, কিন্তু তার ভেতরের চরিত্র, নীতিবোধ বা মৌলিক স্বভাবকে পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে না, যা মূলত ব্যক্তির নিজস্ব মন-মানসিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার উপর নির্ভরশীল। কিছু ক্ষেত্রে টাকা মানুষকে আরও খারাপ করে তোলে, আবার অনেক সময় ভালো মানুষের আচরণও পরিবর্তিত হয় না, যা ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি ও নৈতিকতার ওপর নির্ভর করে।
মূল বিষয়:
অবস্থান পরিবর্তন: টাকা মানুষের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক মর্যাদা, এবং পরিবেশের পরিবর্তন ঘটায়, যা বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান।
স্বভাবের ভিন্নতা:
কিছু মানুষ ধনী হওয়ার পরও নম্র ও ভালো থাকে, আবার কেউ কেউ টাকা পেয়ে খারাপ হয়ে যায়, যা ব্যক্তির নিজস্ব মানসিকতার প্রতিফলন।
ব্যক্তিগত মানসিকতা:
স্বভাব পরিবর্তন হওয়াটা ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছা, সচেতনতা এবং মানসিকতার ওপর নির্ভর করে; টাকা শুধু একটি বাহ্যিক প্রভাবক।
সুতরাং: উক্তিটি বোঝায় যে বাহ্যিক প্রাচুর্য বা অভাব মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করলেও, প্রকৃত স্বভাব বা চারিত্রিক গুণাবলী ভিতরের বিষয়, যা সহজে পরিবর্তন হয় না, অথবা পরিবর্তনের জন্য ব্যক্তির নিজস্ব প্রচেষ্টা ও মানসিকতার প্রয়োজন হয়। তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
৩৬
আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যে
১৪শ শতকে পশ্চিম আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন মানসা মুসা। ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি শুধু তাঁর সময়ের নয় সম্ভবত মানব ইতিহাসেরই সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তাঁর সম্পদের মূল উৎস ছিল স্বর্ণ ও লবণ, কারণ তখনকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণখনির নিয়ন্ত্রণ ছিল মালি সাম্রাজ্যের হাতে।
১৩২৪ সালে মানসা মুসা হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে যাত্রা করেন। এই যাত্রাই তাঁকে ইতিহাসে অমর করে তোলে। তিনি সঙ্গে নিয়ে যান হাজার হাজার দাস, সৈন্য এবং উট প্রতিটি উটের পিঠে বোঝাই ছিল সোনা। পথে পথে তিনি এত বেশি স্বর্ণ দান করেন যে মিশরের কায়রো শহরে স্বর্ণের মূল্য প্রায় এক দশক ধরে পড়ে যায়। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা যায় ম্যান-মেড ইনফ্লেশন।
কিন্তু মানসা মুসা শুধু ধনীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন জ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক। তাঁর শাসনামলে টিম্বাকটু শহর পরিণত হয় জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে। সেখানে গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার ও মসজিদ। হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল, যা আজও আফ্রিকার বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে।
ইউরোপ যখন তখনো মধ্যযুগীয় অন্ধকারে, আফ্রিকার মালি সাম্রাজ্য তখন অর্থনীতি, শিক্ষা ও প্রশাসনে ছিল অগ্রসর। কিন্তু ইতিহাস দীর্ঘদিন এই অধ্যায়কে উপেক্ষা করেছে।
৩৭
‘চাস্কি’ দৌড়বিদ
দক্ষিণ আমেরিকার ইনকা সাম্রাজ্যে ছিল এক অবিশ্বাস্য যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ‘চাস্কি’ নামের দৌড়বিদরা। তারা পাহাড়, উপত্যকা এবং দুর্গম পথ পেরিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বার্তা পৌঁছে দিতেন তাও অবিশ্বাস্য গতিতে।
ইনকা সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে। কিন্তু তাদের কাছে কোনো ঘোড়া, চাকা বা লিখিত ভাষা ছিল না। তবুও তারা নিখুঁতভাবে সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক নির্দেশ, সামরিক খবর এবং জরুরি বার্তা আদান-প্রদান করত। চাস্কিরা সাধারণত তরুণ, প্রশিক্ষিত এবং অসাধারণ সহনশীল দৌড়বিদ ছিলেন। তারা পাহাড়ি পথে একটানা দৌড়াতে পারতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এই যোগাযোগ ব্যবস্থাটি ছিল রিলে পদ্ধতিতে গঠিত। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর ছোট ছোট স্টেশন থাকত, যেগুলোকে বলা হতো ‘তাম্বো’। এক চাস্কি দৌড়ে এসে বার্তা হস্তান্তর করতেন পরবর্তী চাস্কির কাছে, আর সে সঙ্গে সঙ্গে দৌড় শুরু করত। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হতো।
বার্তাগুলো কখনো মৌখিকভাবে, আবার কখনো ‘কিপু’ নামের গিঁট দেওয়া দড়ির মাধ্যমে পাঠানো হতো, যা সংখ্যাগত ও প্রশাসনিক তথ্য বহন করত। এই ব্যবস্থা এতটাই কার্যকর ছিল যে, সম্রাট ইনকার কাছে দূরবর্তী প্রদেশের খবর মাত্র এক–দুই দিনের মধ্যেই পৌঁছে যেত।
সোজা বাংলায় বলা যায়, আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির বহু আগেই ইনকারা মানবশক্তি, শৃঙ্খলা এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যব্যবস্থা তৈরি করেছিল। এটি ইতিহাসে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও সংগঠনের এক অনন্য উদাহরণ।
৩৮
মানুষের শরীর
মানুষের শরীরের চামড়া প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০–৪০,০০০ কোটি নতুন কোষ তৈরি করে এবং প্রায় ২৮ দিনে সম্পূর্ণ নতুন হয়ে যায়।
আমরা সচরাচর ভাবি, চামড়া শুধু আমাদের শরীরকে ঢেকে রাখে বা সৌন্দর্য রক্ষা করে। কিন্তু চামড়ার ভেতরে চলমান এই প্রক্রিয়াটি অবিশ্বাস্য। আমাদের চামড়া একটি জীবন্ত অঙ্গ, যা ক্রমাগত নিজেকে পুনর্নবীকরণ করে। প্রতি ২৮ দিন অন্তর প্রায় সব উপরের স্তরের চামড়া নতুন কোষে প্রতিস্থাপিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় skin cell turnover।
প্রতি মিনিটে কোটি কোটি চামড়ার কোষ মৃত হয় এবং নতুন কোষ তাদের জায়গা নেয়। এই নিয়মিত প্রতিস্থাপন আমাদের চামড়াকে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর রাখে। ছোট শিশুদের চামড়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত নতুন হয়, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গতি কমতে থাকে। তাই বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার স্থিতিস্থাপকতা ও উজ্জ্বলতা কমে যায়। চমকপ্রদ বিষয় হলো, চামড়ার এই পুনর্নবীকরণ শুধুমাত্র বাইরের আঘাতের জন্য নয়, বরং শারীরিক রোগ, ক্ষতি বা সূর্যের UV ক্ষতির মতো বিপর্যয়কেও মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর রাখা সম্ভব।
মানুষের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীটি আমাদের মুখের ভেতরে—চোয়ালের “ম্যাসেটার” পেশী। আকারে ছোট হলেও এটি অবিশ্বাস্য শক্তি তৈরি করতে পারে।
আমরা সাধারণত ভাবি শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশী হয়তো পা বা হাতের কোনো বড় পেশী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মানুষের চোয়ালের পেশী—বিশেষ করে ম্যাসেটার মাংসপেশী শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীগুলোর একটি। বৈজ্ঞানিকভাবে মাপলে দেখা যায়, এই পেশী প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে বিপুল চাপ তৈরি করতে পারে।
এই পেশীর কারণেই মানুষ কঠিন খাবার চিবোতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষের চোয়াল একসাথে প্রায় ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম। এই শক্তি ছাড়া বাদাম, শক্ত ফল, কিংবা মাংসজাত খাবার চিবানো প্রায় অসম্ভব হতো। প্রাচীন মানুষেরা যখন রান্না করা খাবারের উপর নির্ভর করত না, তখন এই পেশী আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
চোয়ালের পেশী শুধু খাবার চিবানোতেই ব্যবহৃত হয় না—কথা বলা, মুখের অভিব্যক্তি, এমনকি দাঁত স্থির রাখার কাজেও এর ভূমিকা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাপ বা মানসিক চাপের কারণে অনেক মানুষ অজান্তেই দাঁত চেপে ধরে রাখে, যাকে বলা হয় bruxism। এর ফলে মাথাব্যথা, দাঁতের ক্ষয় এবং চোয়ালে ব্যথা হতে পারে।
এই তথ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরীরের শক্তি সব সময় আকারে বড় কিছুর মধ্যে লুকিয়ে থাকে না। ছোট কিন্তু অত্যন্ত দক্ষ পেশীগুলোই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে।
মানুষের হাড় প্রথমে শক্ত থাকে না শিশুর জন্মের সময় তার শরীরে থাকে প্রায় ৩০০টির মতো নরম কার্টিলেজ ও হাড়ের গঠন, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে শেষে দাঁড়ায় প্রায় ২০৬টি শক্ত হাড়ে।
আমরা সাধারণত ভাবি, জন্ম থেকেই শরীরের হাড় শক্ত ও স্থায়ী থাকে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। শিশুর শরীরের বহু অংশ আসলে তৈরি হয় কার্টিলেজ দিয়ে অর্থাৎ নরম, নমনীয় টিস্যু দিয়ে। সময়ের সাথে সাথে শরীরে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে এবং একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নরম অংশগুলো ধীরে ধীরে শক্ত হাড়ে রূপ নেয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ossification।
শিশুদের হাড় নরম থাকার কারণে তারা পড়ে গেলেও তুলনামূলক কম আঘাত পায়। আবার একই কারণে তাদের হাড় দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং শরীরের গঠন দ্রুত পরিবর্তিত হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা যখন পূর্ণবয়স্ক হই, তখন এই যুক্ত হাড়গুলো স্থায়ী রূপ নেয় এবং শক্ত হয়ে যায়। সেই কারণে বড়দের হাড় ভাঙলে সেরে উঠতে সময়ও বেশি লাগে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো হাড় নিজেকে সারাতে পারে। যখন হাড় ভাঙে, শরীর নতুন টিস্যু তৈরি করে সেটিকে আবার জোড়া লাগায়। তাই বলা যায়, হাড় শুধু আমাদের শরীরকে দাঁড় করিয়ে রাখে না, বরং এটি একটি জীবন্ত টিস্যুও।
পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ডিএনএ-এর ৯৯.৯% এক! মাত্র ০.১% ভিন্নতার কারণেই তৈরি হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব, চেহারা, স্বভাব, এমনকি রোগ ঝুঁকির পার্থক্য। আমরা প্রায়ই ভাবি মানুষে মানুষে কত বড় পার্থক্য রূপ, ভাষা, সংস্কৃতি, বর্ণ, উচ্চতা কিংবা আচরণে। কিন্তু জিনতত্ত্বের দৃষ্টিতে দেখলে চমক অপেক্ষা করছে। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, একজন ইউরোপিয়ান, একজন এশিয়ান বা আফ্রিকান সব মানুষের ডিএনএ-র ৯৯.৯% অংশই সম্পূর্ণ এক। অর্থাৎ, আমরা সবাই জেনেটিক অর্থে প্রায় একদম একই নকশায় তৈরি। মাত্র ০.১% ডিএনএ সিকোয়েন্সের পার্থক্য আমাদের চোখের রঙ থেকে শুরু করে ত্বকের রঙ, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত নানাভাবে আলাদা করে তোলে।
৩৯
পলিনেশিয়ান নাবিকরা
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের পলিনেশিয়ানরা বহু বছর আগে এমন এক অসাধারণ নাবিকি দেখিয়েছিলেন, যা আজও মানুষের বিস্ময় জাগায়। তারা বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিতেন, কিন্তু কোনো কম্পাস, নৌকাসূচক যন্ত্র বা আধুনিক যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়াই। প্রাকৃতিক উপাদানই ছিল তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গাইড।
পলিনেশিয়ান নাবিকরা সমুদ্রের ঢেউয়ের চলাচল, বাতাসের দিক এবং চাঁদের অবস্থান দেখে নিজেদের দিক নির্ধারণ করতেন। কখনো কখনো তারা পাখির উড়ার দিকও পর্যবেক্ষণ করতেন, যা তাদেরকে ভবিষ্যতের আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিত। এই জ্ঞান এবং পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার সাহায্যে তারা সহজেই নির্দিষ্ট দ্বীপে পৌঁছাতেন।
তাদের ব্যবহার করা ক্যানোয় নামে নৌকাগুলো অত্যন্ত চতুরভাবে তৈরি ছিল। এই নৌকাগুলো প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রা করতে পারত। এটি শুধুমাত্র তাদের নৌকা তৈরি করার দক্ষতার পরিচয়ই নয়, বরং দেখায় তাদের সাহসিকতা ও ধৈর্যও। একেবারে অজানা, দূরের দ্বীপে পৌঁছানোর জন্য তারা পুরোপুরি নিজেদের বুদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জ্ঞানকে ভরসা করতেন।
আজকের আধুনিক নেভিগেশন যন্ত্রের আগমনের বহু আগে, পলিনেশিয়ানরা প্রমাণ করেছেন যে প্রকৃতিই হতে পারে সবচেয়ে নিখুঁত কম্পাস। সমুদ্র, চাঁদ, বাতাস এবং জীবজগত এই চার উপাদান তাদের যাত্রাকে সহজ করে দিত। এই ইতিহাস আমাদের শেখায়, মানুষের বুদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা প্রকৃতির সাথে মেলালে কতটা বিস্ময়কর ফলাফল আসতে পারে।
পলিনেশিয়ান নাবিকদের এই সাহসিকতা, প্রাকৃতিক জ্ঞান এবং দিকনির্ধারণের কৌশল আজও গবেষক এবং নাবিকদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তারা দেখিয়েছেন যে, প্রযুক্তি ছাড়াই কল্পনাশক্তি, অধ্যবসায় এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর বোঝাপড়া দিয়ে মানুষ দূরবর্তী সমুদ্রের রহস্যও জয় করতে পারে।
৪০
সম্রাট কনস্টান্টাইন
খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসে সম্রাট কনস্টান্টাইনের ভূমিকা একটি বড় মোড় পরিবর্তনের ঘটনা। চতুর্থ শতকের শুরুতে তিনি ছিলেন প্রথম রোমান সম্রাট, যিনি প্রকাশ্যে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং এটিকে সাম্রাজ্যের মূলধারায় নিয়ে আসেন। তবে ধর্মীয় এই পরিবর্তন ছিল শুধু বিশ্বাসের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বাস্তববাদী রাজনৈতিক কৌশলও। কনস্টান্টাইন খুব ভালোভাবেই বুঝেছিলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে প্যাগান উৎসব ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে গেছে, সেগুলোকে হঠাৎ করে বাতিল করা সম্ভব নয়। বরং সেই উৎসবগুলোকেই নতুন অর্থ দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তখন রোমানদের মধ্যে ডিসেম্বরের শেষ দিকে জনপ্রিয় ছিল ‘স্যাটারনালিয়া’ এবং ‘Sol Invictus’ অপরাজেয় সূর্যের জন্মদিন উদযাপন। ২৫ ডিসেম্বরকে সূর্যের পুনর্জন্মের প্রতীক ধরা হতো, যখন শীতকাল পেরিয়ে দিন আবার বড় হতে শুরু করে। মানুষ এই দিনটিকে আনন্দ, আলো এবং উৎসবের মাধ্যমে পালন করত। কনস্টান্টাইন বুঝলেন, এই উৎসবের আবেগ ও জনপ্রিয়তাকে অগ্রাহ্য করা নয়, বরং এর ওপর দাঁড়িয়েই খ্রিস্টধর্মকে প্রতিষ্ঠা করা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এই কারণেই যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে ২৫ ডিসেম্বরকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। এতে একদিকে খ্রিস্টান ধর্মীয় পরিচয় তৈরি হলো, অন্যদিকে প্যাগান জনগোষ্ঠীর পরিচিত উৎসবও টিকে রইল তবে নতুন অর্থে। প্রায় ৩৫০ খ্রিস্টাব্দে পোপ জুলিয়াস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন যে, ২৫ ডিসেম্বরই হবে যিশুর জন্মোৎসব, অর্থাৎ ক্রিসমাস।
ফলে ক্রিসমাস জন্ম নিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে যেখানে পুরোনো প্যাগান ঐতিহ্য ও নতুন খ্রিস্টান বিশ্বাস মিলেমিশে গেল। এই সিদ্ধান্ত শুধু ধর্মীয় ছিল না; এটি ছিল সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার এক কৌশলী পদক্ষেপ।
৪১
কোড অব হাম্মুরাবি
আজ আমরা সংবিধান, আদালত আর আইনের শাসনের কথা বলি। কিন্তু এর শিকড় খুঁজতে গেলে আমাদের যেতে হবে প্রায় ৩,৮০০ বছর আগে, প্রাচীন ব্যাবিলনে। তখনই রাজা হাম্মুরাবি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত আইনের সংকলন তৈরি করেন, যা পরিচিত “কোড অব হাম্মুরাবি” নামে।
এই আইনগুলো খোদাই করা হয়েছিল একটি বিশাল কালো ডায়োরাইট পাথরের স্তম্ভে। এতে প্রায় ২৮২টি আইন লিপিবদ্ধ ছিল, যা জনসমক্ষে স্থাপন করা হতো যাতে সবাই আইন জানতে পারে। এটি ছিল এক বিপ্লবী ধারণা আইন হবে লিখিত, সবার জন্য এক, এবং শাসকের খেয়ালখুশির উপর নির্ভরশীল নয়। হাম্মুরাবির কোডে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জন্য আলাদা শাস্তির উল্লেখ ছিল। অপরাধ, ব্যবসা, বিয়ে, সম্পত্তি, শ্রম—সব কিছুরই নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। সবচেয়ে পরিচিত নীতি ছিল “চোখের বদলে চোখ”, যা ন্যায়ের ধারণাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।
যদিও আজকের দৃষ্টিতে অনেক আইন কঠোর ও অসম মনে হতে পারে, তবু সেই সময়ের জন্য এটি ছিল এক অসাধারণ অগ্রগতি। এটি প্রমাণ করে যে মানুষ খুব প্রাচীনকাল থেকেই ন্যায়বিচার, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিল। এই পাথরের স্তম্ভ শুধু আইন নয়, মানব সভ্যতার চিন্তাধারার এক ঐতিহাসিক দলিল। আধুনিক আইনব্যবস্থা, বিচার ধারণা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার যে ভিত্তি আমরা দেখি—তার সূচনা হয়েছিল এই ব্যাবিলনের মাটিতেই।