নাচ, খেলাধুলা, চিত্রকলা, গান বা নতুন কিছু শেখার মতো সৃজনশীল কাজ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ ধরনের অভ্যাস মস্তিষ্কের স্নায়বিক নমনীয়তা বাড়ায় এবং নতুন সংযোগ তৈরি হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
গবেষণায় দেখা যায়, নিয়মিত সৃজনশীল অনুশীলন বয়সজনিত কগনিটিভ ক্ষয় ধীর হবার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কগনিটিভ বয়সকে বাস্তব বয়সের তুলনায় কম দেখাতে পারে।
যখন সবকিছু পরিকল্পনামতো হয় না: ১০টি শিক্ষার
জীবন অনিশ্চিত—আমরা যতই পরিকল্পনা করি না কেন, অনেক কিছুই প্রত্যাশিতভাবে ঘটে না। ব্যর্থতা, মানসিক চাপ ও আবেগগত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কীভাবে সৌম্যভাবে চলা যায়, তার সহজ কিন্তু গভীর নির্দেশনা দরকার হয়। প্রতিকূলতা মানে শেষ নয়, বরং এগুলোই আত্মোন্নয়ন এবং শান্তির নতুন পথ। কিন্তু আমরা কীভাবে জীবনের এই অনিশ্চয়তাগুলোকে গ্রহণ করতে এবং ভালোবাসতে শিখব?
যখন সবকিছু তোমার ইচ্ছেমতো হয় না—তখন শিখে নাও এই ১০টি শিক্ষা
১. গ্রহণ করলেই আসে শান্তি
বাস্তবতাকে অস্বীকার করলে শুধু কষ্টই বাড়ে। কী হওয়া উচিত ছিল সেটা না ভেবে, যা হয়েছে সেটাকে মেনে নেওয়া মানে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিক স্বচ্ছতা অর্জন করা।
২. আবেগ স্থায়ী নয়
কোনো অনুভূতি—দুঃখ, রাগ বা হতাশা—চিরস্থায়ী নয়। এগুলো ঢেউয়ের মতো আসে ও যায়। এটা বোঝা গেলে আবেগের তোড়ে ভেসে যাওয়ার ভয় কমে।
৩. নিজের প্রতি সদয় হও
সবচেয়ে কঠিন সমালোচক আমরা নিজেরাই। কঠিন সময়ে নিজের প্রতি মমতা ও দয়া দেখালে আত্মনিরাময় দ্রুত হয় এবং সিদ্ধান্তও হয় সঠিক।
৪. নিয়ন্ত্রণের মায়া থেকে মুক্ত হও
আমাদের অধিকাংশ কষ্ট আসে এমন কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার চেষ্টা থেকে, যা আমাদের হাতেই নেই। ফলাফলের ওপর জোর না দিয়ে জীবনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলে শান্তি আসে।
৫. দৃষ্টিভঙ্গিই পার্থক্য গড়ে দেয়
ঘটনা যত খারাপ মনে হয়, সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে আমরা কেমন করে তা দেখি। "আমার সঙ্গে কেন এমন হলো?" এর বদলে "আমি এটা থেকে কী শিখতে পারি?" ভাবলে সমস্যা হয়ে ওঠে শেখার ক্ষেত্র।
৬. থামো ও নিঃশ্বাস নাও
চাপের মুহূর্তে একবার থেমে গভীর নিঃশ্বাস নেওয়া অনেক বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। ধীরে চললে প্রতিক্রিয়া হয় বুদ্ধিমানের মতো, আবেগপ্রবণ নয়।
৭. তুলনা মানেই অস্বস্তি
অন্যের সাফল্যের সঙ্গে নিজের কষ্টের তুলনা করলে শুধু অশান্তি বাড়ে। প্রত্যেকের যাত্রাই আলাদা—নিজের পথে মনোযোগ দিলে জীবনের অর্থ বাড়ে।
৮. ব্যথাই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
কষ্টের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়। ব্যথা এড়িয়ে না গিয়ে, কৌতূহল নিয়ে গ্রহণ করলে তা হতে পারে আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের সুযোগ।
৯. কৃতজ্ঞতা বদলে দেয় হৃদয়ের রঙ
কঠিন সময়েও কিছু না কিছু থাকার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া যায়। কী নেই সেটা না ভেবে কী এখনো আছে সেটাতে মনোযোগ দিলে অন্ধকারেও আলো খুঁজে পাওয়া যায়।
১০. ছেড়ে দাও, এগিয়ে যাও
অতীত আঁকড়ে থাকলে বর্তমান হারিয়ে যায়। ক্ষোভ, আক্ষেপ আর অবাস্তব প্রত্যাশা ছেড়ে দিলে তৈরি হয় নতুন সম্ভাবনার জায়গা।
জীবনের চ্যালেঞ্জ মানে বাধা নয়, বরং এগুলো আমন্ত্রণ—নিজেকে জানার, ভাবার, আর অন্তর শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার।আমরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তবে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, সেটা আমাদের হাতেই।
হয়তো প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
“যদি জীবনের প্রতিকূলতাগুলোই আমাদের আরও ভালো কিছুতে নিয়ে যেতে চায়?” © inner Soul
বন্ধুত্বের যত্ন: সম্পর্ক জোড়াতালি নয়, ভালোবাসার আরেক ভাষা
বন্ধুত্ব—এটি এমন এক সম্পর্ক, যার মধ্যে নেই কোনো রক্তের টান, কিন্তু রয়েছে হৃদয়ের গভীর টান। জীবনের প্রতিটি বাঁকে, সুখে-দুঃখে, জয়ের মুহূর্তে বা ভেঙে পড়া সন্ধ্যায়—বন্ধুরাই হয় আমাদের নির্ভরতার ঠিকানা। একজন সত্যিকারের বন্ধু শুধু পাশে থাকে না, আমাদের ভেতরের মানুষটিকে চিনতেও সাহায্য করে। তবে কখনও কখনও, এই সম্পর্কেই ফাঁটল ধরে, দূরত্ব তৈরি হয়, কিংবা এমন জায়গায় গিয়েও দাঁড়ায়, যেখানে একে অপরকে চেনাই মুশকিল হয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতেই দরকার পড়ে "বন্ধুত্ব থেরাপি"র—শুধু সম্পর্ক বাঁচিয়ে তোলার জন্য নয়, সম্পর্কটিকে নতুন করে উপলব্ধি করার জন্যও। এটি কোনো ওষুধ নয়, বরং একটি মনোভাব—যা আমাদের শেখায়, বন্ধুত্বও যত্ন চায়, ভালোবাসা চায়, বোঝাপড়ার আলোয় স্নান করতে চায়।
আমরা যেমন দাম্পত্য বা পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করি, তেমনি বন্ধুত্বকেও সময়, শ্রম আর আন্তরিকতার ছোঁয়া দিতে হয়। কখনো ভুল বোঝাবুঝি, কখনো সময়ের অভাব, আবার কখনো জীবনের মোড় ঘুরে যাওয়ায় বন্ধুত্বে দূরত্ব চলে আসে। অথচ, আমরা ধরেই নিই—বন্ধুত্ব তো এমনিতেই থাকবে! এই ভাবনাটাই কখনও কখনও সম্পর্কের নীরব ক্ষয় ডেকে আনে।
বন্ধুত্ব থেরাপি আমাদের শিখায়—একটা সুস্থ বন্ধুত্ব গড়তে হলে খোলামেলা আলাপ, সম্মান, এবং একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহানুভূতি অপরিহার্য। এটি এমন এক নিরাপদ জায়গা তৈরি করে, যেখানে দুই বন্ধু বিনা ভয়ে নিজের মনের কথা বলতে পারে। সম্পর্ক যখন টালমাটাল হয়, তখন এই থেরাপি সেই বন্ধনকে আবার জোড়া লাগানোর সুযোগ করে দেয়।
এই থেরাপি অনেকরকম হতে পারে। কেউ চাইলে একা কাউন্সেলরের সাহায্য নিতে পারে, আবার কেউ চাইলে তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে বসে সমস্যার গভীরে যেতে পারে। কারো কারো কাছে এই থেরাপি মানে—নিজের আচরণ বিশ্লেষণ করে, সীমা নির্ধারণ করে, সম্পর্ককে পরিণতভাবে বোঝার চেষ্টা করা।
গভীর সত্য হলো—সম্পর্ক একদিনে ভাঙে না, যেমন একদিনে গড়েও ওঠে না। সময়, বিশ্বাস আর আন্তরিক চেষ্টায় গড়ে ওঠে টেকসই বন্ধন। জীবন আমাদের বিভিন্ন দিকে টেনে নিয়ে গেলেও, যদি মনে থাকে বন্ধন টিকিয়ে রাখার আকুলতা—তবেই বন্ধুত্ব ফিরে পায় তার প্রাণ।
তাই, যদি আপনি এখন কোনো বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়, অথবা মনে হয় দূরত্বটা বেড়ে গেছে—তবে ভয় পাবেন না। আপনি একা নন। সম্পর্কের ওঠানামা জীবনেরই অংশ, আর সম্পর্ককে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাটুকুই হতে পারে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।
বন্ধুত্ব থেরাপি শুধু দুই জনের মাঝের সম্পর্ককেই নয়, আমাদের মনের ভেতরটাকেও সেরে তোলে। কারণ, দিনের শেষে, বন্ধুরাই তো আমাদের গল্পের নায়ক। তাদের সঙ্গে গড়া সম্পর্কের মাঝেই আমরা খুঁজি ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর নিজেকে চেনার শক্তি।
আর সেই বন্ধুত্বের যত্ন নেওয়া মানেই—নিজেকেই আরও একটু ভালোবাসা। © inner Soul
টাকার চিন্তা ও ঘুমহীনতার দুষ্টচক্র: কী বলছে বিজ্ঞান
ফিন্যান্সিয়াল স্ট্রেস ও ঘুমের ওপর এর প্রভাব:
রাত গভীর হলে শরীর বিশ্রাম চাইলেও অনেকের মস্তিষ্ক থামে না। বাড়িভাড়া, বিল, চাকরির অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ ঘুমের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটি-র এক সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ফিন্যান্সিয়াল স্ট্রেস সরাসরি ঘুমের মান কমিয়ে দেয় এবং পরদিন কাজের দক্ষতাকেও প্রভাবিত করে।
গবেষণাটি প্রায় ৯ মাস ধরে পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ও এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের পূর্ণকালীন সদস্যদের ওপর। অংশগ্রহণকারীদের ঘুম পরিমাপে ব্যবহার করা হয় রিস্ট-ওর্ন অ্যাক্টিগ্রাফ, যা প্রকৃত ঘুম ও বিছানায় ছটফট করার সময় আলাদা করে শনাক্ত করতে সক্ষম।
ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করেন, তাঁদের ঘুম কম হয় এবং ঘুমের গভীরতাও নষ্ট হয়। গবেষক রেবেকা ব্রোসইট জানান, টাকার চিন্তা মস্তিষ্কে মানসিক উত্তেজনা তৈরি করে। এতে শরীর থেকে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে সজাগ অবস্থায় রাখে,ঘুমের সম্পূর্ণ বিপরীত প্রক্রিয়া।
গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সমস্যা শুধু কম আয়ের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, আয় যতই হোক না কেন,চাকরির নিরাপত্তাহীনতা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে ঘুম ব্যাহত হয়। অর্থাৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অনুভূতিই এখানে মূল বিষয়।
গবেষকেরা মনে করছেন, সমস্যার সমাধানে কর্মক্ষেত্রে সময়মতো বেতন, চাকরির স্থায়িত্ব ও কাজের নমনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন মানা এবং বিছানায় শুয়ে আর্থিক হিসাব না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থ জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হলেও, সেই অর্থের চাপ যদি ঘুম কেড়ে নেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সূত্র: Rice University Research, U.S. Department of Defense-funded study
যাদের কোনভাবেই রাতে ঘুম হয় না,,তাদের জন্য তাড়াতাড়ি ঘুমানোর কিছু কার্যকরী সমাধান
একটা মানুষ না খেয়ে প্রায় ২১ দিন থাকতে পারে, কিন্তু না ঘুমিয়ে ১০ দিনের বেশি থাকতে পারে না। কারণ আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরে কিছু উপকারী হরমোন নিঃসরণ হয়, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম ভালো না হলে শরীর ও মনের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিচে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম তুলে ধরা হলো, যেগুলো মেনে চললে ৩ মিনিটের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব।
১) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত ট্রিপ্টোফ্যান নামক হরমোন। এই হরমোন আমাদের ঘুমাতে ও ঘুম থেকে জাগতে সহায়তা করে। রাতে খাবারের তালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখলে, ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে খাবার খেলে এবং খাবারের পর ৫-১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে ঘুম ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
২) শ্বাসের ব্যায়াম, যাকে 4-7-8 মেথড বলা হয়। সারা বিশ্বে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই মেথড অনুসরণ করলে খুব সহজেই ৩ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব। পদ্ধতিটি হলো-৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে বুক ভরে শ্বাস নেবেন, ৭ সেকেন্ড শ্বাস আটকে রাখবেন (এই সময় কোনোভাবেই শ্বাস নেওয়া যাবে না) এবং ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়বেন। এই প্রক্রিয়াটি ১৫–২০ বার পুনরাবৃত্তি করতে হবে এবং সোজা হয়ে শুয়ে থাকতে হবে। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং যারা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তারা আজ থেকেই এটি করে দেখতে পারেন।
৩) প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় সকালে ব্যায়াম করা। তবে যেকোনো সময় ব্যায়াম করলে তা সন্ধ্যা ৭টার আগেই শেষ করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হরমোন ও ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়। ফলে শরীরে ক্লান্তি আসে এবং রাতে দ্রুত ঘুম হয়।
৪) ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ১ গ্লাস কুসুম গরম দুধ খেলে ট্রিপ্টোফ্যান হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে এবং ঘুমের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়াও ঘুমের আগে গরম দুধ খেলে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা আছে, তারা এই সমস্যা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পেতে পারেন।
৫) দিনে কখনোই ঘুমানো উচিত নয়। দিনে ঘুমালে ইনসমনিয়া বা দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বৈজ্ঞানিকভাবে ঘুম ভালো করার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় রুমের মূল লাইট বন্ধ করে দিন এবং অল্প আলোতে কিছুক্ষণ বই পড়ুন। ঘুমানোর আগে তেতো জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করুন। তেতো খাবার একধরনের উত্তেজক উপাদান, যা হজম হতে ৪-৭ ঘণ্টা সময় নেয়। তাই দুপুরের পর থেকেই তেতো জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন।@ ফাহমিদা নির্জনা
মুরগি দুই চোখে দুই জগৎ দেখে!
পৃথিবী আমরা যেভাবে দেখি, ঠিক সেভাবে মুরগির চোখে ধরা দেয় না। ওরা একই সাথে দুই জগত দেখে। এক চোখ দিয়ে দূরের পরিবেশ নজরে রাখে যে শিকারি আসছে কি না। আর অন্য চোখ দিয়ে কাছে থাকা খাবার বা পোকামাকড় ট্র্যাক করে। বেঁচে থাকার জন্য এটা তাদের নীরব কিন্তু মারাত্মক কার্যকর কৌশল।
রঙ দেখার ক্ষমতাও মানুষের চেয়ে কম নয় বরং বেশি। আমরা যেখানে শুধু লাল, সবুজ আর নীলের মিশ্রণ দেখি, মুরগি সেখানে আল্ট্রাভায়োলেট আলোও দেখতে পারে। ফলে তাদের কাছে ফুল, খাবার বা পালক সবকিছুই অনেক বেশি উজ্জ্বল আর ডিটেইলড লাগে। আমাদের চোখে যা সাধারণ, তাদের চোখে তা হাই-রেজোলিউশন।
ঘুমের সময়ও ওরা পুরোপুরি অফলাইনে যায় না। মুরগি এক চোখ খোলা রেখে ঘুমাতে পারে। তখন মস্তিষ্কের এক পাশ ঘুমায়, আরেক পাশ জেগে পাহারা দেয়। মানে শরীর বিশ্রামে, কিন্তু নিরাপত্তা অন ডিউটি প্রকৃতির এক নিখুঁত নাইট শিফট।
মুরগির চোখ খুব বেশি নড়াচড়া করতে পারে না। তাই ওরা বারবার মাথা ঝাঁকায়। এই মাথা নড়ানো আসলে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ঠিক করার মতো চারপাশের দৃশ্যকে পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য।
চোখ ছোট হলেও রেটিনা খুব ঘন। তাই ছোট ছোট চলন্ত পোকামাকড়ও ওদের চোখ এড়িয়ে যায় না। হাঁটতে হাঁটতে খাবার খোঁজে, চোখে পড়লেই ফোকাস লক তারপর ডিরেক্ট অ্যাকশন!
সব মিলিয়ে, মুরগির চোখ কোনো সাধারণ চোখ না। এটা যেন প্রকৃতির বানানো এক স্মার্ট সারভাইভাল ক্যামেরার মতো!@ নাঈমুল ইসলাম,
ঠান্ডায় কি জীবাণু কমে যায়? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, হ্যাঁ, ঠান্ডায় ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার অনেক কমে যায়।
ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকা ও বাড়ার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা দরকার। বেশিরভাগ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মাঝারি উষ্ণতায় সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মানুষের শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি পরিবেশে তারা সহজেই বাড়তে পারে।
কিন্তু ঠান্ডা পরিবেশে কী হয়?
ফ্রিজের মতো কম তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার ভেতরের কাজকর্ম ধীর হয়ে যায়। যেসব এনজাইম তাদের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সাহায্য করে, সেগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। ফলে ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বাড়ে, অনেক সময় প্রায় বাড়েই না। এই কারণেই ফ্রিজে রাখা খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় বেশি দিন ভালো থাকে। ঠান্ডা খাবার নষ্টকারী জীবাণুর গতি কমিয়ে দেয়।
তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। ঠান্ডায় ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি মরে যায় না। কিছু বিশেষ ধরনের জীবাণু ঠান্ডাতেও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তাই ফ্রিজে রাখা খাবারও অনেক দিন পর নষ্ট হতে পারে।
সহজ করে বললে, ঠান্ডা জীবাণু ধ্বংস করে না, কিন্তু তাদের বৃদ্ধি অনেকটাই থামিয়ে দেয়। আর এটাই খাদ্য সংরক্ষণের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।
@ফেরদৌসী আক্তার তারিন
নীল তিমি যখন মারা যায়
নীল তিমি যখন মারা যায় তখন তার বিশাল দেহ গভীর সমুদ্রে ডুবে যায়। এই ঘটনাকে বলা হয়' তিমি জলপ্রপাত'। এটি গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
তিমির দেহ প্রথমে বড় মৃতভোজী প্রাণীদের খাদ্য হয়। হাঙর এবং বড় মাছ কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে নরম মাংস খেয়ে থাকে। এই পর্যায়ে বহু প্রাণী শক্তি ও পুষ্টি পায়।
এরপর ছোট প্রাণী এবং অণুজীব তিমির অবশিষ্ট অংশ ভাঙতে শুরু করে। হাড়ের ভেতরে থাকা চর্বি থেকে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া শক্তি উৎপন্ন করে। এই ব্যাকটেরিয়াকে ঘিরে কেঁচো ঝিনুক ও অন্যান্য গভীর সমুদ্রের প্রাণী বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বড় তিমির দেহ কয়েক দশক পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যকে শক্তির যোগান দিতে পারে।@তাইয়েবুন নেছা..
মনোযোগ কমে যাচ্ছে—এটা কি ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, না ডিজিটাল রোগ?
আগে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক কাজে মন দিতে পারত। এখন ৫ মিনিট বই পড়লেও মনে হয় মন ছুটে যাচ্ছে অন্যদিকে। অনেকেই ভাবে“আমার ইচ্ছাশক্তি কমে গেছে।
কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টা শুধু ব্যক্তিগত নয়।
আজকের ডিজিটাল দুনিয়া আমাদের মগজকে ট্রেনিং দিচ্ছে দ্রুত উত্তেজনা খুঁজতে। নোটিফিকেশন, রিল, শর্ট ভিডিও সবই মগজের ডোপামিন সিস্টেমকে বারবার ট্রিগার করে। ফলে মগজ ধীরে, গভীর মনোযোগের কাজকে “বিরক্তিকর” মনে করতে শুরু করে।
এটা ব্যক্তিগত ব্যর্থতা না, বরং এক ধরনের ডিজিটাল কন্ডিশনিং।
যখন মগজ অভ্যস্ত হয়ে যায় দ্রুত রিওয়ার্ডে, তখন ধৈর্য লাগে এমন কাজ, পড়া, ভাবা, মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে আশার কথা হলো,এই রোগ স্থায়ী না।
মনোযোগ জন্মগত ক্ষমতা না, এটা চর্চার ফল। ডিজিটাল ডায়েট, নোটিফিকেশন কমানো আর একটানা কাজের ছোট অভ্যাসই মগজকে আবার গভীর মনোযোগে ফিরিয়ে আনতে পারে।
প্রশ্নটা তাই এটা না“আমি কেন পারছি না?”
প্রশ্নটা হওয়া উচিত,“আমার মগজকে আমি কীভাবে ট্রেনিং দিচ্ছি?”
Source (বিশ্বস্ত গবেষণা ও রিপোর্ট):
যে ব্যথাকে আমরা ঘৃণা করি, সেটাই দাঁতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ”
দাঁতের ব্যথা শুরু হলেই আমাদের দৈনন্দিন জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। খাওয়া, কথা বলা even মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা প্রায়ই দাঁতের ব্যথাকে শত্রু মনে করি। কিন্তু আধুনিক দন্তবিজ্ঞান বলছে, এই ব্যথাই আসলে দাঁতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ।
দাঁতের গঠন তিনটি স্তরে বিভক্ত,বাইরের শক্ত স্তর এনামেল, মাঝের স্তর ডেন্টিন, এবং সবচেয়ে ভেতরের অংশ পাল্প। এই পাল্পেই থাকে স্নায়ু ও রক্তনালি। দাঁতের ক্ষয়, সংক্রমণ বা অতিরিক্ত চাপ যখন পাল্পে পৌঁছে যায়, তখনই ব্যথার সৃষ্টি হয়।
গরম বা ঠান্ডা খাবারে যে শিরশির অনুভূতি হয়, সেটি আসলে সরাসরি তাপমাত্রার ব্যথা নয়। ডেন্টিনের ভেতরের তরলের নড়াচড়া পাল্পের স্নায়ুকে উত্তেজিত করে, সেখান থেকেই ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়।
ডেন্টাল বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁতের ব্যথা একটি প্রতিরক্ষামূলক সংকেত। এই সংকেত আমাদের জানিয়ে দেয় যে দাঁতে সমস্যা শুরু হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যদি দাঁত ব্যথা অনুভব না করত, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত ব্যবহার করেই যেতাম, ফলে ক্ষতি আরও মারাত্মক হতো।
মানুষের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক দাঁত আর নতুন করে জন্মায় না। তাই দাঁতের ব্যথা আমাদের কষ্ট দিলেও, এটি দাঁতকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করার একটি প্রাকৃতিক সতর্কতা ব্যবস্থা।
অর্থাৎ, দাঁতের ব্যথা শুধু যন্ত্রণা নয়,এটি আমাদের শরীরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
সোর্স:Live Science
(ডেন্টাল হেলথ বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদন)_মামুন রহমান
আপনি জানেন কি, আমাদের পায়ের তালুতে এমন কিছু নার্ভ পয়েন্ট আছে যা পুরো শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত?
লোকজ অভিজ্ঞতা ও আয়ুর্বেদিক বিশ্বাস অনুযায়ী, রাতে ঘুমানোর আগে পায়ের তালুতে তেল মালিশ করলে শরীর ও মন দুটোই শান্ত হয়।
অনেকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে
ঘুম গভীর হয়
স্ট্রেস কমে
শরীর রিল্যাক্স থাকে
সকালে ঘুম থেকে উঠলে ক্লান্তি কম লাগে
শোনা যায়, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আজীবন এই অভ্যাস মেনে চলেছিলেন এবং ৮৭ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের শরীর ব্যথা বা অসুস্থতায় ভোগেননি।
আরেকজন বলেছিলেন, শুধু পায়ের তালুতে তেল মালিশ করেই তার অনিদ্রার সমস্যা কমে গেছে।
কী তেল ব্যবহার করবেন?
নারিকেল তেল / সরিষার তেল / তিলের তেল যেটা আপনার শরীরের সঙ্গে মানায়।
মনে রাখবেন: এটি একটি ন্যাচারাল রিল্যাক্সেশন হ্যাবিট।
শ্বাসরোধে মাছের মৃত্যু
বাজারে গেলে আমরা প্রায় সবাই আগে খুঁজি জ্যান্ত মাছ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সেই অদেখা কষ্টের কথাই সামনে এনেছেন। ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মাছ মারার সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর একটি হলো, জল থেকে তুলে এনে খোলা বাতাসে ফেলে রাখা। আমাদের চোখে এটা হয়তো স্বাভাবিক, কিন্তু মাছের জন্য এটি কার্যত শ্বাসরোধে মৃত্যুর মতো। গবেষণায় দেখা গেছে, রেনবো ট্রাউটের মতো মাছ এই অবস্থায় প্রায় দশ মিনিট পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। দশ মিনিট পুরোটা সময়ই তারা ধীরে ধীরে দমবন্ধ হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করে, তারপর একসময় নিস্তেজ হয়ে যায়।
আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, বাতাসে ওঠানোর মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই মাছের শরীরে তীব্র মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা দেয়। মাত্র ৬০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাদের শরীরের জল ও খনিজ পদার্থের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ব্যথা, অস্বস্তি আর আতঙ্ক সব মিলিয়ে কষ্টটা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
গবেষকদের মতে, তুলনামূলকভাবে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ মারা হলে সেটি বেশি মানবিক পদ্ধতি। এতে মাছ দ্রুত জ্ঞান হারায় এবং যন্ত্রণার সময়টা কমে আসে।
মাছ খাওয়া ভুল নয়, ঐতিহ্যও ভুল নয়। কিন্তু খাবারের পথে যে প্রাণটি শেষ নিঃশ্বাস নেয়, তার কষ্টটুকু অন্তত জানার দায় আমাদের আছে। হয়তো জানলেই একদিন আমরা আরও মানবিক পথ বেছে নিতে পারব অল্প হলেও।@টিম সাইকোলজি
ঘুমের ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক নিজেই নিজেকে খেতে শুরু করে
নতুন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে ঘুমের ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক নিজেই যেন নিজেকে খেতে শুরু করে এর পেছনে কাজ করে অতিরিক্ত সক্রিয় ইমিউন কোষ।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ঝিমুনি বা ক্লান্তি আসে না; এটি মস্তিষ্কের ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্যই বদলে দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা ঘুম কমাই, তখন গ্লিয়াল কোষ নামে পরিচিত বিশেষ কোষ বিশেষ করে অ্যাস্ট্রোসাইট ও মাইক্রোগ্লিয়া অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্বাভাবিক অবস্থায় অ্যাস্ট্রোসাইটের কাজ হলো স্নায়ুর আবর্জনা ও অপ্রয়োজনীয় সংযোগ পরিষ্কার করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় জেগে থাকলে এরা অতিসক্রিয় হয়ে পড়ে এবং সুস্থ স্নায়ু সংযোগও ভেঙে ফেলতে শুরু করে। এর ফলে মস্তিষ্কের সার্কিট বা সংযোগব্যবস্থায় ক্ষতিকর প্রুনিং ঘটে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এই নিজেকে খেয়ে ফেলা প্রক্রিয়ার প্রভাব শুধু সাময়িক ব্রেন ফগ বা মনোযোগ কমে যাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। মাইক্রোগ্লিয়ার অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ যেমন আলঝেইমার এর একটি পরিচিত পূর্বাভাস। গঠনগত ক্ষতির পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের অভাব স্মৃতি সংরক্ষণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। তাই বিশ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া এখন আর শুধু কাজের উৎপাদনশীলতার বিষয় নয়; এটি মস্তিষ্ককে দীর্ঘমেয়াদি বুদ্ধিবৃত্তিক অবক্ষয় ও স্নায়বিক রোগ থেকে রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সূত্র: Bellesi, M., de Vivo, L., Chini, M., Lotito, G. B., & Cirelli, C. (2017).
ভ্যাপিং ধূমপানের চেয়ে কম ক্ষতিকর?
ছবির বাম পাশে যে ফুসফুসটি দেখছেন, সেটি সুস্থ মানুষের। রঙ গোলাপি, নরম, সহজে প্রসারিত হয়। অক্সিজেন ঠিকভাবে নিতে পারে।
ডান পাশে যে ফুসফুসটি আছে, সেটি ভ্যাপিং করা মানুষের। এটি প্রদাহে ভরা, শক্ত হয়ে গেছে, ভেতরে রাসায়নিকের ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়।
ভ্যাপিং শুধু পানি বাষ্প নয়, ভ্যাপের ভেতরে থাকে গরম তেল, ধাতব কণা ও নানা কেমিক্যাল। এগুলো শ্বাসের সাথে সরাসরি ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে EVALI নামে মারাত্মক ফুসফুসের রোগ হতে পারে। অনেক মানুষকে ICU পর্যন্ত যেতে হয়েছে। কেউ কেউ আর পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেনি।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ক্ষতি খুব দ্রুত হতে পারে। এমনকি তরুণ ও আগে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রেও। শুরুতে লক্ষণ হালকা থাকায় অনেকেই গুরুত্ব দেয় না।
কিন্তু এগুলো কখনোই স্বাভাবিক নয়:
১.শ্বাসকষ্ট।
২.বুকের ব্যথা।
৩.দীর্ঘদিন ধরে কাশি,এগুলো শরীরের সতর্ক সংকেত।
পরিশেষে একটাই কথা, ধূমপান যেমন ক্ষতিকর, ভ্যাপিংও তেমনি ক্ষতিকর। আপনি যদি ভ্যাপ করেন, আজই থামুন।
অব্যক্ত আবেগ কখনো মরে না। একদিন না একদিন সেগুলো আরও বিকৃত রূপে সামনে আসে
ফ্রয়েড বলেছিলেন, অব্যক্ত আবেগ কখনো মরে না। একদিন না একদিন সেগুলো আরও বিকৃত রূপে সামনে আসে। কথাটা শুনতে অস্বস্তিকর হলেও এর ভেতরে গভীর সত্য আছে।
আমরা অনেক সময় ভাবি, কষ্টটা ভুলে গেলে সব শেষ। কিন্তু আমাদের অবচেতন মন এভাবে কাজ করে না। যেসব অনুভূতি আমরা চেপে রাখি, যেগুলোকে ভুলে যাওয়া বলে এড়িয়ে যাই, সেগুলো ভেতরে ভেতরে থেকেই যায়।
সময় গড়ানোর সাথে সাথে এই চাপা আবেগগুলো রূপ বদলায়। কখনো অকারণ রাগ হয়ে বের হয়, কখনো দুশ্চিন্তা হয়ে, কখনো আবার সম্পর্কের ভেতর অদ্ভুত দূরত্ব তৈরি করে। তখন আমরা নিজেরাই বুঝতে পারি না, এত ছোট একটা ঘটনায় এত বড় প্রতিক্রিয়া কেন হচ্ছে।
আসলে কারণটা লুকিয়ে থাকে পুরোনো, অস্বীকৃত অনুভূতিগুলোর ভেতরে।যে বিষয়গুলো আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, ভয় দেখিয়েছে, বা আপনি মানতে চাননি, সেগুলো যত তাড়াতাড়ি মেনে নিতে পারবেন, ততই মানসিক শান্তি বজায় থাকবে।
নিজেকে ভালো রাখার মানে সবকিছু ভুলে যাওয়া নয়।নিজেকে ভালো রাখার মানে হলো ভেতরে জমে থাকা অনুভূতিগুলোকে চিনে নেওয়া, প্রকাশ করা, আর যা হয়ে গেছে তা ধীরে ধীরে মেনে নেওয়া।
একজন মায়ের কণ্ঠ বিশেষ করে তার গান, শিশুর মস্তিষ্কে নিরাপত্তা ও প্রশান্তির সংকেত দেয়। মায়ের কণ্ঠ বা গান শোনা হলে শিশুর প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন ধীর হয়, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং শরীর শিথিল অবস্থায় আসে।
একই সঙ্গে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়। অক্সিটোসিন ও এন্ডরফিনের মতো ভালো হরমোন বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের গান বা কণ্ঠ শোনা হলে শিশুর মস্তিষ্কের আবেগ, স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে জড়িত অংশগুলো বেশি সক্রিয় হয়।ফলস্বরূপঃ
•শিশু শান্ত হয়।
•মনোযোগ বাড়ে।
•শিশুর ঘুম ভালো হয়।
•ভাষা শেখার ক্ষমতা উন্নত হয়।
•মস্তিষ্কের সংযোগ গঠনে সহায়তা করে।
@তাইয়েবুন নেছা..
পৃথিবীর এক অমর প্রাণী ব্যাকওয়ার্ড-এজিং জেলিফিশ
ক্ষুদ্রকায় একধরনের জেলিফিশ, প্রাণীবিদদের কাছে যার পরিচয় Turritopsis doohmii। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য জেলিফিশের এই ক্ষুদ্র প্রজাতিকে 'অমর জেলিফিশ' নামেও চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। আক্ষরিক অর্থেই কিন্তু এরা নিজেদের অমর করে রেখেছে। মৃত্যুর কোনওরকম আশঙ্কা থাকলে, এর বার্ধক্যের উলটো পথ ধরে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের গবেষকদল দেখেছেন, যদি এই জেলিফিশের শরীরের কোনও অংশে আঘাত লাগে, বা অসুস্থ হয়ে পড়ে তত্ক্ষণাত্ এরা 'পলিপ স্টেজ'-এ চলে যায়। চারপাশে মিউকাস মেমব্রেন তৈরি করে গুটি বাঁধে। এই পলিপ অবস্থায় এরা তিন দিন পর্যন্ত থাকে। এর মধ্যে শরীরের সব কোষকে নতুন কোষে রূপান্তর করে, বয়স একদম কমিয়ে ফেলে। এ ভাবেই বারবার নিজেকে রূপান্তরের মাধ্যমে এরা বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখে।
রঙ মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারে
মনে করুন, আপনি নতুন বাসা দেখতে গেলেন। একটিতে প্রবেশ করার পর কিছুটা অস্বস্থি লাগলো, অন্য আরেকটিতে গেলেন সেটা ভালো লাগলো, মনটা শান্তি অনুভব করলো। আগের ঘরটি খালি ছিলো, তবে অস্বস্থি লাগলো কেন? ভৌতিক কিছু ছিলো না তো।
না! তেমন কিছু না! আসবাবপত্র, শব্দ বা মানুষের কারণেও না। শুধু রঙের পার্থক্য! রঙ আমাদের মনে প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। কারণ রঙ শুধু চোখে দেখার বিষয় নয়, রঙ সরাসরি মানুষের মানসিকতা, আবেগ ও আচরণে প্রভাব ফেলে।
প্রশ্ন করতে পারেন- রঙ্গে এমন কি আছে যে এটি মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে? কারণটা হল তরঙ্গদৈর্ঘ্য। রঙ্গে আছে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য। এই আলো চোখের মাধ্যমে মস্তিষ্কের Visual Cortex এবং limbic System এ গিয়ে পৌঁছায়, তার থেকে মস্তিষ্ক অর্থ তৈরি করে(আলো ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমার পূর্বের পোস্ট "আপনি যা দেখছেন, সেটাই কি বাস্তব!" টি দেখে আসতে পারেন)। রঙ তখনই অনুভূতি যখন মস্তিষ্ক তা ব্যাখ্যা করে। তাই রঙ অনুভব করা যায়। ভিন্ন রঙের ভিন্ন অনুভূতি কারণ তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যও ভিন্ন হয়।
লাল রঙ উত্তেজনা বাড়ায়, শক্তি ও তাড়না জাগায়, অস্থিরতা বাড়িয়ে রক্তচাপও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই রঙের কারণে আমাদের মারমুখী মনোভাব তৈরি হয়।
নীল রঙ দ্বারা বিষক্রিয়া বোঝালেও এটি শান্তি প্রকাশ করে, মনোযোগ বাড়ায় মস্তিষ্কের চাপ কমায়, তবে অতিরিক্ত প্রভাবে বিষণ্ণ লাগে।
হলুদ মনকে উৎফুল্য করে, আনন্দিত করে, সৃজনশীল করে। তবে অতিরিক্ত প্রভাবে উদ্বেগ তৈরি করে।
সবুজ ভারসাম্যকারী, প্রশান্তি উৎপত্তি কারী, চোখের আরাম দান কারী। এই জন্য সবুজ শ্যামল পরিবেশ আমাদের মনে প্রশান্তি আনে।
বেগুনির সম্পর্ক কল্পনার সাথে, এর দ্বারা আধ্যাত্মিকতা ও গভীর মনো-ভাবনা প্রকাশ পায়।
কালো ক্ষমতা ও গম্ভীরতা প্রদর্শন করে, শূন্যতাও প্রকাশ করে।
সাদা পরিচ্ছন্নতা ও সরলতার প্রতীক। সাদা নতুন শুরু বোঝায়।
যেহেতু রঙ সরাসরি Visual Cortex এবং limbic System এ প্রবেশ করে, তাই এটি দ্রুত কাজ করে। সচেতন মন চিন্তা করার আগেই অবচেতন মন সক্রিয় হয়ে আবেগ তৈরি করে।
তবে রঙের প্রভাব সব লোকের জন্য একই হয় না। এক এক লোকের এক এক রকম। কারণ স্মৃতির, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রভাবে রঙ কারো কাছে ভালো কারো কাছে মন্দ। সাদা যেমন কারো কাছে শান্তি তো কারো কাছে ভয়।
রঙ শুধু সাজসজ্জা নয়, রঙ হলো আবেগের ভাষা।
সকল দেখা চোখের জন্য নয়, কিছু দেখা মনের ক্ষতও হয়।
আপনার প্রিয় রঙ কোনটি এবং তা আপনার মানসিকতায় কেমন প্রভাব ফেলে?
ইমোজির শুরুটা কিভাবে হয়েছিল!
ইমোজির শুরুটা হয়েছিল জাপানের একটি ছোট উদ্যোগ থেকে। ১৯৯৯ সালে, জাপানের টেলিকম কোম্পানি 'এনটিটি ডোকোমো' তাদের মোবাইল ইন্টারনেট সেবাকে আরও সহজ আর আকর্ষণীয় করতে চেয়েছিল।
সেই সময় শিগেতাকা কুরিতা নামে একজন ডিজাইনার ভাবলেন,শুধু লেখা দিয়ে সব অনুভূতি বোঝানো কঠিন। তাই তিনি তৈরি করলেন, ছোট ছোট চিত্র যেগুলো দিয়ে আবহাওয়া,সময়,খাবার, মনের অনুভূতি বোঝানো যাবে।
তিনি মোট ১৭৬টি ইমোজি প্রথম তৈরি করেছিলেন। ইমোজিগুলো ছিল ১২ বাই ১২ পিক্সেল আকারের। কেউ তখন ভাবেনি,এই ছোট আইডিয়াই একদিন পুরো বিশ্বের যোগাযোগের ভাষা বদলে দেবে।
আজ ইমোজি ছাড়া,অনলাইন কথোপকথন প্রায় অসম্পূর্ণ মনে হয়।জাপান থেকে শুরু হওয়াএই ছোট আবিষ্কার এখন বিশ্বজুড়ে অনুভূতির সবচেয়ে সহজ প্রকাশ।
সাইকোলজি:
জাপানি শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে শান্ত ও স্বনির্ভর শিশুদের মধ্যে অন্যতম। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের শৈশব কড়া নিয়ম বা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে নয়, বরং স্বাধীনতার পরিবেশেই গড়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, কঠোর নিয়ম বা মুখস্থভিত্তিক চর্চার চেয়ে দৈনন্দিন রুটিন ও ছোট ছোট পারস্পরিক যোগাযোগই অনেক আগে থেকেই আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করে—যা পশ্চিমা পদ্ধতির আগেই কার্যকর হয়। ছোট ছোট কথোপকথন, যেমন সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর, ভাষা দক্ষতা ও আবেগীয় সংযোগকে দৃঢ় করে, যা একটি শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী শিশুর ভিত্তি তৈরি করে।।
জাপানে খুব অল্প বয়স থেকেই শিশুদের স্বনির্ভরতা উৎসাহিত করা হয়। তারা একা ছোটখাটো কাজ বা বাজারের জিনিস আনতে যায়, যার মাধ্যমে দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শেখে। খাবার, গোসল ও ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট ও নিয়মিত রুটিন শিশুদের নিরাপত্তার অনুভূতি দেয় এবং উদ্বেগ কমায়। প্রাথমিক পর্যায়ে পড়াশোনার চাপের বদলে খেলাধুলাই মনোযোগ, সৃজনশীলতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলে—কোনো মানসিক চাপ ছাড়াই।
ঘরের ছোট কাজ ও ক্ষুদ্র দায়িত্ব শিশুদের জবাবদিহিতা শেখায়। প্রতিদিনের সামান্য কাজ, যেমন একটি বাটি বহন করা বা তোয়ালে ভাঁজ করা, তাদের মস্তিষ্কের নির্বাহী ক্ষমতা (executive function) উন্নত করে এবং নিজেদের অবদান রাখার অনুভূতি তৈরি করে। আবেগগত কোচিং—যেখানে শিশুর অনুভূতিগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ে কথা বলা হয়—তাদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ায়।
সমাজভিত্তিক আস্থা শিশুদের নিরাপদে অনুসন্ধান করতে সাহায্য করে। বড়রা নিজেরাই শান্ত আচরণের উদাহরণ দেন, কোমলভাবে সংশোধন করেন এবং নিখুঁততার চেয়ে প্রচেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাজা বাতাসে সময় কাটানো, অল্প সময় বাইরে থাকা ও ছোটখাটো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ছোট থেকেই শুরু করুন। প্রতিদিন দশ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কথা বলা, একটি একক দায়িত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত ঘুমের রুটিন—এই ছোট অভ্যাসগুলোই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে। ফ্ল্যাশকার্ড, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা অযথা চাপের চেয়ে ধারাবাহিক ছোট চর্চাই সব সময় বেশি কার্যকর।
কানে হেডফোন থাকলে খাবারের স্বাদ কম লাগে!
এটা আপনার একার কোনো সমস্যা না প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। আর এর পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোর টিমওয়ার্ক।
খাবারের স্বাদ আমরা শুধু জিভ দিয়ে পাই না। স্বাদের বড় একটা অংশ আসে ঘ্রাণ আর শব্দের সঙ্গে মিলে। আমরা যখন কিছু খাই, তখন খাবারের গন্ধ নাক দিয়ে ওঠে, আর কামড় দেওয়ার সময় যে খসখসে বা মচমচে শব্দ হয় সেগুলো মস্তিষ্ককে বলে দেয়, “এইটা সুস্বাদু।” এই তিনটা ইন্দ্রিয় একসাথে কাজ করেই পূর্ণ স্বাদের অনুভূতি তৈরি করে।
কিন্তু কানে হেডফোন বা এয়ারবাড থাকলে কী হয়? বাইরের প্রাকৃতিক শব্দগুলো চাপা পড়ে যায়। চিপসের খসখসে আওয়াজ, আপেলের কামড়ের শব্দ এসব মিস হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই চিবানোর শব্দ কম শোনা গেলে মস্তিষ্ক খাবারকে কম আকর্ষণীয় বলে ধরে নেয়। ফলে স্বাদও ফিকে লাগে।
আরেকটা ব্যাপার হলো মনোযোগ। হেডফোনে গান বা ভিডিও চললে মস্তিষ্কের বড় অংশ ব্যস্ত থাকে শোনার কাজে। তখন খাওয়ার দিকে পুরো মনোযোগ থাকে না। মস্তিষ্ক যেহেতু হাফ মনোযোগ দেয়, তাই স্বাদও হাফ লাগে। ঠিক যেন মন দিয়ে না শুনলে গান ভালো না লাগার মতো।
এমনকি বিজ্ঞান বলছে, উচ্চ শব্দ বা নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির মিউজিক জিভের স্বাদ অনুভব করার সিগন্যালকেও সামান্য বদলে দিতে পারে। তাই হেডফোন কানে থাকলে মিষ্টি কম মিষ্টি, ঝাল কম ঝাল মনে হতে পারে।@ নাঈমুল ইসলাম
কাঁচা রসুন
কাঁচা রসুন হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রসুনে থাকা অ্যালিসিন শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে শক্তিশালী করে।
কাঁচা রসুন হজম শক্তিশালী করে, হজমের সমস্যা কমায় এবং গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে উপকারী।
রসুন প্রদাহ ও ব্যথা কমায়, শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং জোড়ার ব্যথায় উপকার দিতে পারে।
এটি ত্বক ও চুলের জন্য ভালো। রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে, ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।
সতর্কতা হিসেবে বলা যায়, খালি পেটে বেশি কাঁচা রসুন খেলে গ্যাস্ট্রিক বা মুখে জ্বালা হতে পারে তাই পরিমিত খাওয়াই ভালো।@তাইয়েবুন নেছা..
কখন চুপ থাকতে হয়, সেটা শেখা জরুরী
অথচ জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর অধিকাংশই হয় অতিরিক্ত কথা বলার জন্য। আর সবচেয়ে বড় জয় আসে ঠিক সময়ে মুখ বন্ধ রাখতে পারলে। কিছু মুহূর্ত আছে, যেখানে চুপ থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।নীরবতা আমাদের জীবনকে আরও হালকা, শান্ত আর সুন্দর করে তুলতে পারে।
১. যখন খুব রেগে যান:
রাগ তো কিছুক্ষণের। কিন্তু রেগে বলা কথা থেকে যায় অনেকদিন। সেই কথার ক্ষত কখনো (Sorry ) বলেও পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না। রাগ উঠলে একটু থামুন, গভীর নিশ্বাস নিন, নিজেকে সামলে নিন।
২. যখন কোনো বিষয়ে আপনার পরিষ্কার ধারণা নেই:
সবকিছুতে মতামত দেওয়া বুদ্ধিমানের লক্ষণ নয়। যা জানেন না, সেখানে চুপ করে শোনা অনেক বেশি পরিপক্ক আচরণ। "আমি জানি" না বলতে লজ্জার কিছু নেই—এটা আপনাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে।
৩. জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে:
চাকরি, বিয়ে, টাকার লেনদেন এসব আবেগে নেওয়ার জিনিস নয়। চুপচাপ একা বসে নিজের সঙ্গে ভাবুন।সবসময় অন্যের মতামতের ওপর ভরসা করবেন না।
৪. কেউ কষ্টে থাকলে:
দুঃখের সময়ে বড় বড় উপদেশ খুব কমই কাজে লাগে।চুপ করে শুধু পাশে থাকাটাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হয়ে ওঠে।
৫. খারাপ বা টক্সিক পরিবেশে:
সব জায়গায় উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। খারাপ মানুষ বা নেগেটিভ পরিবেশ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়াই আসল বুদ্ধিমানের কাজ।
নিজের মনের শান্তিকে সবার আগে রাখুন। সব জায়গায় কথা বলাই স্মার্টনেস নয়। ঠিক জায়গায় চুপ থাকতে পারাটাই আসল পরিপক্কতা।
ডিজিটাল যুগের এক 'নীরব ঘাতক'
ফেসবুক রিলস, টিকটক বা ইউটিউব শর্টস—বর্তমানে আমাদের অবসরের সঙ্গী। কিন্তু এই ১৫ থেকে ৬০ সেকেন্ডের বিনোদন আমাদের মস্তিষ্কের গঠন ও আচরণে এমন কিছু পরিবর্তন আনছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বেশ উদ্বেগজনক।
রিলস ডিজাইন করা হয় এমনভাবে যাতে প্রতি কয়েক সেকেন্ড পরপর নতুন এবং চমকপ্রদ কিছু সামনে আসে। যখনই আমরা একটি নতুন ভিডিও দেখি, আমাদের মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক এক প্রকার হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি আমাদের আনন্দ দেয়। সমস্যা হলো, ঘনঘন ডোপামিন পাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, যা একজন মানুষকে ড্রাগ আসক্তির মতো ভিডিও স্ক্রল করতে বাধ্য করে।
মনোযোগের ক্ষমতা বা 'অ্যাটেনশন স্প্যান' হ্রাস
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত শর্ট ভিডিও দেখেন, তাদের দীর্ঘক্ষণ কোনো একটি বিষয়ে (যেমন বই পড়া বা ক্লাস লেকচার শোনা) মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। একে বলা হচ্ছে 'গোল্ডফিশ ইফেক্ট'। মস্তিষ্ক দ্রুত পরিবর্তনশীল তথ্যে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় গভীর চিন্তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, শর্ট ভিডিওর অতি-ব্যবহার মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেয়। মানুষ খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায় এবং যেকোনো কাজের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে পেতে চায় । ফলে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে তারা পিছিয়ে পড়ে।
ভার্চুয়াল জগতের এই চাকচিক্যময় ভিডিওগুলো অনেক সময় মানুষের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি করে। অন্যদের 'নিখুঁত' জীবন দেখে নিজের জীবনের ওপর অসন্তোষ জন্মে, যা থেকে উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে।
সাহারা মরুভূমি এবং আমাজন রেইনফরেস্ট
পৃথিবীর মানচিত্রে সাহারা মরুভূমি এবং আমাজন রেইনফরেস্টের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি মহাদেশে হলেও, এদের মধ্যে রয়েছে এক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, আমাজন বনের টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির এক বিশাল অংশ আসে হাজার হাজার মাইল দূরের সাহারা মরুভূমি থেকে।
প্রতি বছর সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী 'বডেল ডিপ্রেশন' নামক এলাকা থেকে কয়েক কোটি টন ধুলোবালি বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধুলিকণাগুলো আসলে কয়েক হাজার বছর আগের প্রাচীন হ্রদের তলানির অবশিষ্টাংশ, যা খনিজ উপাদান এবং বিশেষ করে ফসফরাসে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ এই ধুলোর বিশাল মেঘকে উড়িয়ে নিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকায়। আমাজন রেইনফরেস্টে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে সেখানকার মাটির পুষ্টিগুণ প্রতিনিয়ত ধুয়ে যায়, আর ঠিক এই অভাবটি পূরণ করে সাহারা থেকে আসা ধুলোবালি।
হিসেব অনুযায়ী, প্রতি বছর সাহারা থেকে যে পরিমাণ ফসফরাস আমাজনে পৌঁছায়, তা আমাজনের মাটি থেকে বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাওয়া পুষ্টির পরিমাণের প্রায় সমান। অর্থাৎ, পৃথিবীর এক প্রান্তের এক জনমানবহীন ধূসর মরুভূমি অন্য প্রান্তের এক সবুজ সতেজ অরণ্যকে প্রতিমুহূর্তে প্রাণদান করে চলেছে।
প্রকৃতির এই নিখুঁত ভারসাম্য আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর প্রতিটি অংশ একে অপরের ওপর কতটা নিবিড়ভাবে নির্ভরশীল। একটির অস্তিত্ব ছাড়া অন্যটির টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।
পরোপকারেই সুস্থ থাকবে মস্তিষ্ক, কমবে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি!
~
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অন্যদের সাহায্য করলে মস্তিষ্কের বার্ধক্য বা ক্ষয় হওয়ার গতি ধীর হয়ে যায়।
৩০,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর টানা দুই দশক ধরে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত অন্যদের সহায়তা করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবা দেওয়া কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেশী বা স্বজনদের সাহায্য করা, তাদের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি লোপ পাওয়ার হার অন্যদের তুলনায় প্রায় ১৫% থেকে ২০% কম।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ছোটখাটো সাহায্যও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
গবেষকরা বলছেন, এই অভ্যাসটি বিশেষ করে মধ্যবয়স্ক ও বৃদ্ধদের জন্যে অত্যন্ত কার্যকর, কারণ এটি আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে এবং মস্তিষ্কের সজীবতা বজায় রাখতে গবেষকরা পাড়া-প্রতিবেশী ও সমাজের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো এবং একে-অপরের বিপদে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। @মুস্তাকিম গিয়াস
নাক বন্ধ! স্বাদও বন্ধ!
যদি বলি আপনি খাবারের মজা পাচ্ছেন নাকের মাধ্যমে, মানবেন কি?
জানি মানবেন না, মানানোর দায়িত্ব আমার। খেয়াল করে দেখুন তো, সর্দি অবস্থায় যখন খাবার খান—আপনার মুখে খাবার আছে, কিন্তু স্বাদ নেই। তবে স্বাদ পাচ্ছেন না কেন?
কারণ স্বাদ নেওয়া শুধু জিহ্বার কাজ নয়। আমাদের স্বাদ নেওয়ার কাজটি জিহ্বা একা করতে পারেনা। জিহ্বার সাথে কাজ করে নাক ও মস্তিষ্ক। তাদের মিলিত পরিশ্রমে আমরা স্বাদের অভিজ্ঞতা পাই। জিহ্বা আসলে মিষ্টি, লবণাক্ত, টক, তেতো, উ-মামি ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না।
খাবারের স্বাদ আসে নাক থেকে। খাবার খাওয়ার সময় তার গন্ধ টা নাকের রিসেপ্টরে যায়, সেটি বলে দেয় খাবারটি আম, কফি নাকি মাংস। তাই খাবারের স্বাদ পাওয়া ৮০% নির্ভর করে নাকের উপর। কারণ জিহ্বা দেয় মূল সংকেত আর নাক দেয় তার পরিচয়।
মস্তিষ্কের Orbitofrontal Cortex এ স্বাদ, গন্ধ, অনুভূতি একত্র হয়। স্বাদ ও গন্ধ সরাসরি স্মৃতি ও আবেগের সাথে যুক্ত। তাই প্রিয় খাবারের স্বাদ বা গন্ধ আমাদের বহু বছর পূর্বের অতিতে নিয়ে যায়।
যেহেতু খাবারের মান নির্ভর করে স্বাদের উপর, তাই রাধূনিগন খাবারের স্বাদ বাড়াতে বিভিন্ন মসলা ব্যবহার করেন, রেস্টুরেন্ট গুলোতে সুবাস ছড়ানো হয়। অর্থাৎ-আমরা শুধু স্বাদ গ্রহণ করি না গ্রহণ করি গন্ধ, স্মৃতি, আবেগ ও অভিজ্ঞতা। আমাদের জিহ্বা শুধু সংকেত দেয়, নাক দেয় পরিচয় আর মস্তিষ্ক দেয় অর্থ।
এখন তবে মানছেন তো-নাক বন্ধ! স্বাদও বন্ধ! কখনও কি নাক বন্ধ অবস্থায় খেয়ে দেখেছেন?
যারা অর্ধেক বিপ্লব করে, তারা আসলে নিজেদের কবরই খুঁড়ে - লুই আন্তোনিও দ্য সেন্ট-জাস্ট
ইতিহাস আমাদের বারবার একটাই শিক্ষা দেয় অর্ধেক সাহস সবচেয়ে বিপজ্জনক।লুই আন্তোনিও দ্য সেন্ট-জাস্ট ছিলেন ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম তাত্ত্বিক ও নেতা। তাঁর এই উক্তিটি আসলে বিপ্লবের কৌশল নয়, বরং মানুষের মানসিক দুর্বলতার এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।
এই কথার গভীর অর্থ কী?
যখন কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র অন্যায়, বৈষম্য বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় কিন্তু সেই লড়াইকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে না,
তখন সেই অসম্পূর্ণ পরিবর্তনই ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের বীজ বপন করে।
অর্ধেক বিপ্লব পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ভাঙে না।আবার নতুন ব্যবস্থাকেও শক্তভাবে দাঁড় করাতে পারে না।ফলে জন্ম নেয় প্রতিশোধ, বিশৃঙ্খলা ও চরম সহিংসতা।
মনোবিজ্ঞানে একে বলা যায় “Cognitive Dissonance of Change”
পরিবর্তনের পথে মানুষ যখন মাঝপথে থেমে যায়,
তখন অপরাধবোধ, ভয় ও অনিশ্চয়তা একসাথে কাজ করে।
এই মানসিক অস্থিরতা থেকেই জন্ম নেয় প্রতিক্রিয়াশীলতা ও ধ্বংস।
ফরাসি বিপ্লবের পর দেখা গেছে অসম্পূর্ণ সংস্কার ও অর্ধেক সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত
বিপ্লবীদের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।
• ন্যায়বিচারের পথে গেলে সাহসকে সম্পূর্ণ করতে হয়
• পরিবর্তন চাইলে দায়িত্বও সম্পূর্ণ নিতে হয়
• অর্ধেক লড়াই কখনো নিরাপদ নয় বরং তা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ
এই উক্তি শুধু বিপ্লবের নয়, জীবনেরও শিক্ষা দেয় অর্ধেক সত্য, অর্ধেক সাহস আর অর্ধেক সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ভয়ংকর।@_মামুন রহমান
নাম Dead sea হলেও এটি মূলত একটি লেক
সাধারণত সাগরের পানির লবনাক্ততা ৩.৫% হয়ে থাকে। কিন্তু এই লেকের পানির শতকরা ৩৪% হচ্ছে লবন। এই অতিরিক্ত লবনাক্ততার কারণে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই এখানে ভেসে থাকা যায়। তাছাড়াও এই অতি লবনের কারনে এখানে কোনো মাছ বসবাস করতে পারেনা। তাই এর নাম ডেড সী। যদিও এর নাম Dead sea হলেও এটি মূলত একটি লেক।
এক মুহূর্তের আতঙ্ক, দীর্ঘ সময়ের প্রভাব : প্যানিক অ্যাটাক
প্যানিক অ্যাটাক ডিসঅর্ডারটি হলো একটি মানসিক উদ্বেগের রোগ।সহজ কথায় যদি বলি যখন আপনি প্যানিক অ্যাটাক অনুভব করবেন তখন আপনার মনে হবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।
চলুন দেখে আসি এর উপসর্গগুলো-
১)প্রচন্ড নার্ভাস হওয়া।
২)প্রচন্ড ভয় পাওয়া।
৩)মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা।
৪)একা থাকতে চাওয়া এবং লোকের সঙ্গ এড়ানো ইত্যাদি যা একজনের প্যানিক অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
আপনি প্যানিক অ্যাটাক ডিসঅর্ডারে ভুগছেন কিনা যেসব লক্ষন দেখে বুঝবেন তা হলো-
১)দ্রুত হৃদস্পন্দন
২)বুকে ব্যথা।
৩)শ্বাসকষ্ট।
৪)অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
৫)ঝিমুনিভাব।
৬)দূর্বলতা।
৭)পেটে ব্যথা।
এছাড়াও হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়া কাঁপুনি দিয়ে উঠা,হঠাৎ কানে সাইরেন বেজে উঠা ইত্যাদিও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষন।
অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে প্যানিক অ্যাটাক হয়। যদি কোনো ব্যাক্তি দীর্ঘসময় প্রচন্ড মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার মধ্যে কাটায় তার প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।অনেক সময় ৫-১০ মিনিট পরপরও অ্যাটাক হয় এবং বেশ কিছুক্ষণ ধরেই চলতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট সিচ্যুয়েশানে প্যানিক অ্যাটাক হয়।যেমন:কোলাহলে,অতিরিক্ত নির্জন পরিবেশে বা অন্ধকারে। প্যানিক অ্যাটাকের কারণগুলো নির্ভর করে ভালবাসার কাউকে হারাবার ভয়, নিজেকে বা নিজের প্রিয়জনকে ক্ষতি পৌঁছানোর হুমকি, ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদির উপর।
যাইহোক, প্যানিক অ্যাটাক কোনো সতর্কীকরণ ছাড়াও দেখা দিতে পারে। প্যানিক অ্যাটাক কমানোর জন্য নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারেন:
১)নিয়মিত ব্যায়াম করা
২) উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা.
৩)ক্যাফেইন কম পরিমাণে খাওয়া
৪)একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
হঠাৎ করেই যদি প্যানিক অ্যাটাক অনুভব করেন কিছুটা স্থীর হয়ে বসে নিশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে প্যানিক অ্যাটাকের সম্মুখীন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
- আদিবা ইসলাম(JnU)
স্বপ্ন কী?
স্বপ্ন হলো ঘুমের সময় মস্তিষ্কে তৈরি হওয়া বিভিন্ন চিত্র, শব্দ, অনুভূতি ও চিন্তার সমষ্টি। আমরা ঘুমালেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি বন্ধ থাকে না; বরং কিছু অংশ তখনও সক্রিয় থাকে। এই সক্রিয়তার ফলেই স্বপ্নের সৃষ্টি হয়।
REM ঘুম ও স্বপ্ন
বিজ্ঞানীরা ঘুমকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো REM (Rapid Eye Movement) ধাপ।
এই সময় চোখ দ্রুত নড়ে,মস্তিষ্ক খুব সক্রিয় থাকে,হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যায়, গবেষনা মতে সবচেয়ে বেশি ও স্পষ্ট স্বপ্ন দেখা যায় তখন মানুষ যখন REM ঘুম থেকে বঞ্চিতহয়,তাহলে তার মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বপ্ন দেখার বৈজ্ঞানিক কারণসমূহ হলো
১. স্মৃতি সংরক্ষণ ও শেখা
দিনভর আমরা যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জন করি, স্বপ্ন সেই তথ্যগুলো সাজিয়ে-গুছিয়ে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে।
এই কারণেই পরীক্ষার আগে পড়া বিষয় অনেক সময় স্বপ্নে আসে।
২. আবেগ নিয়ন্ত্রণ
স্বপ্ন মানুষের ভয়, দুঃখ, আনন্দ ও চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
যারা মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, তাদের স্বপ্ন সাধারণত বেশি তীব্র হয়।
৩. মস্তিষ্কের অনুশীলন
কিছু বিজ্ঞানীর মতে, স্বপ্ন হলো মস্তিষ্কের একটি সিমুলেশন বা অনুশীলন পদ্ধতি।
এতে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য মস্তিষ্ক নিজেকে প্রস্তুত করে।
৪. অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দেওয়া
স্বপ্নের মাধ্যমে মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি ও তথ্য মুছে ফেলে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজে রাখা যায়।
স্বপ্ন কেন অদ্ভুত হয়?
স্বপ্ন অদ্ভুত হওয়ার প্রধান কারণ হলো স্বপ্ন দেখার সময় যুক্তিবোধ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অংশ কম সক্রিয় থাকে।
তাই স্বপ্নে দেখা যায়
উড়তে পারা, অসম্ভব জায়গায় থাকা, হঠাৎ দৃশ্য পরিবর্তন
এই সবই স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক ঘটনা। কিন্তু এখানে অনেকের প্রশ্ন দুঃস্বপ্ন কেন হয়?
দুঃস্বপ্ন সাধারণত হয়
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ভয় বা ট্রমা, অসুস্থতা, অনিয়মিত ঘুম ইত্যাদি কারনে।
দুঃস্বপ্ন আমাদের মস্তিষ্কের একটি সতর্ক সংকেত, যা মানসিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে।
মানুষের মন নিয়ে কিছু অবাক করা সাইকোলজি ফ্যাক্ট!
1. মানুষের ব্রেইন নেগেটিভ কথা পজিটিভ কথার চেয়ে দ্রুত মনে রাখে। তাই ১০টা প্রশংসার চেয়ে ১টা অপমান বেশি প্রভাব ফেলে।
2. যাকে বেশি মিস করি, তাকেই সবচেয়ে কম দেখানোর চেষ্টা করি। কারণ ইগো আর ভয়দুটোই কাজ করে।
3. চোখে চোখ রেখে কথা বললে মানুষ আপনাকে বেশি বিশ্বাস করে। কিন্তু খুব বেশি তাকালে উল্টো অস্বস্তি তৈরি হয়।
4. হাসি শুধু আনন্দের প্রকাশ না এটা স্ট্রেস কমানোর থেরাপিও। জোর করে হাসলেও ব্রেইন সেটাকে সুখ হিসেবে ধরে।
5. রাতে বেশি ভাবা মানুষ সাধারণত বেশি বুদ্ধিমান হয়।
কারণ তাদের ব্রেইন সহজে ‘off’ হতে চায় না।
6. কেউ যদি হঠাৎ আপনার সাথে খুব খোলামেলা হয়,
তাহলে ধরে নিতে পারেন সে মানসিকভাবে ক্লান্ত।
7. মানুষ নিজের সম্পর্কে কথা বলতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। তাই ভালো শ্রোতা হলে সবাই আপনাকে পছন্দ করবে।
8. আমরা প্রায়ই সেই মানুষদের প্রেমে পড়ি,
যারা আমাদের বাবা-মায়ের আচরণের সাথে মিল রাখে।
9. একই গান বারবার শুনতে ইচ্ছা করে যখন,
তখন বুঝতে হবে আপনি কোনো অনুভূতির মধ্যে আটকে আছেন।
10. যারা বেশি চুপচাপ থাকে,
তারা সাধারণত সবচেয়ে বেশি চিন্তা করে।
মানবদেহের কোষ
মানবদেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষের রয়েছে নিজস্ব গঠন ও নির্দিষ্ট কাজ। তবে আকারের দিক থেকে মানবদেহের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে ছোট কোষ নিয়ে অনেকের কৌতূহল রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবদেহের সবচেয়ে বড় কোষ হলো ডিম্বাণু। এটি নারীর প্রজনন কোষ। ডিম্বাণুর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ জিনগত উপাদান ও পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর আকার তুলনামূলক বড় হওয়ায় এটি খালি চোখে দেখা যায়।
অন্যদিকে, মানবদেহের সবচেয়ে ছোট কোষ হলো শুক্রাণু। এটি পুরুষের প্রজনন কোষ। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হলেও এটি দ্রুত গতিশীল এবং জিনগত তথ্য বহনে সক্ষম। এই দুই কোষের আকার ও গঠনের ভিন্নতা প্রকৃতির এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য, যা মানবদেহের জটিলতা ও ভারসাম্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।@ইভা আক্তার
গাছ কি একে অপরের সাথে কথা বলে? বিজ্ঞান যা বলছে
আমরা গাছকে সাধারণত নীরব ও অনুভূতিহীন ভাবি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, গাছ একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। শব্দে নয়, বরং রাসায়নিক সংকেত ও শিকড়ের মাধ্যমে।
১. শিকড়ের গোপন নেটওয়ার্ক। মাটির নিচে গাছের শিকড়ের সাথে বিশেষ এক ধরনের ছত্রাক (Mycorrhizal fungi) যুক্ত থাকে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গাছেরা একে অপরের সাথে পুষ্টি, তথ্য ও সংকেত আদান–প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন “Wood Wide Web”
২. বিপদের সতর্ক সংকেত। যখন কোনো গাছ পোকামাকড়ের আক্রমণে পড়ে, তখন সে বাতাসে বিশেষ রাসায়নিক ছড়িয়ে দেয়। এই সংকেত পেয়ে আশেপাশের গাছেরা আগেভাগেই নিজেদের পাতায় প্রতিরক্ষামূলক উপাদান তৈরি করে নেয়।
৩. মা গাছের ভূমিকা। বড় ও পুরনো গাছগুলোকে Mother Tree বলা হয়। এরা আশেপাশের ছোট ও দুর্বল গাছকে অতিরিক্ত পুষ্টি দিয়ে সাহায্য করে এবং টিকে থাকতে সহায়তা করে।
এ থেকে আমরা কী বুঝি?
• গাছ শুধু অক্সিজেন দেয় না
• তারা একটি সংগঠিত ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থায় বাস করে
• বন ধ্বংস মানে শুধু গাছ কাটা নয়, একটি জীবন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট করা
প্রকৃতি নীরব, কিন্তু নির্বোধ নয়।
Tasmia Binte Alam
এটি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া,
আরভাইন University of California, Irvine এর একটি গবেষণার ফলাফল।
গবেষণাটির মূল বিষয়গুলো হলো:
১. গবেষণা: বিজ্ঞানীরা ৬০ থেকে ৮৫ বছর বয়সী একদল মানুষের ওপর এই গবেষণাটি চালান।
২. পদ্ধতি: তাদেরকে ৬ মাস ধরে প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় ২ ঘণ্টা করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সুগন্ধি Essential oils যেমন গোলাপ, কমলা, ইউক্যালিপটাস, লেবু, পেপারমিন্ট, রোজমেরি এবং ল্যাভেন্ডার শুঁকতে দেওয়া হয়েছিল।
৩. ফলাফল: ৬ মাস পর দেখা যায়, যারা নিয়মিত সুগন্ধি ব্যবহার করেছেন, তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় ২২৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞানের ভাষায়, আমাদের নাকের ঘ্রাণশক্তি Olfactory sense সরাসরি মস্তিষ্কের মেমোরি সেন্টার বা হিপোক্যাম্পাসের সাথে যুক্ত। তাই ঘুমের মধ্যে সুগন্ধ মস্তিষ্কের এই অংশকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
সিজনাল ডিপ্রেশন (Seasonal Affective Disorder – SAD)
ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেক মানুষ হঠাৎ করে মন খারাপ, ক্লান্তি, আগ্রহ কমে যাওয়া বা একধরনের শূন্যতা অনুভব করেন। বিশেষ করে শীতকালে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় Seasonal Affective Disorder (SAD)।
কেন শীতকালে বেশি হয়?
• সূর্যালোক কমে যাওয়া: শরীরে “ভালো লাগার হরমোন” Serotonin কম তৈরি হয়, ফলে মন খারাপ ও বিষণ্ণতা বেড়ে যায়।
• Melatonin হরমোনের পরিবর্তন: অন্ধকার বেশি হলে Melatonin বেশি নিঃসৃত হয়, যা ঘুম বাড়ায় এবং শক্তি কমায়।
• Biological Clock বিঘ্নিত হওয়া: দিনের আলো কম বা বেশি হলে শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দ নষ্ট হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
লক্ষণ:
• মন খারাপ বা শূন্যতা অনুভব
• আগ্রহ ও উদ্দীপনা কমে যাওয়া
• বেশি ঘুম বা ক্লান্তি
• একা থাকতে ইচ্ছে করা
• খাওয়ায় পরিবর্তন
কী করলে উপকার হয়?
• দিনের আলোতে কিছু সময় থাকা
• হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা।
• সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা
• প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া
মনে রাখা দরকার, SAD কোনো দুর্বলতা নয়, এটি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত ও চিকিৎসাযোগ্য মানসিক অবস্থা।
সোর্স: American Psychiatric Association (APA)
চোখে চোখে কথা বলা, মানুষের বিশ্বাস তৈরিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে চোখে চোখ রেখে কথা বললে, মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামের একটি হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়। এই হরমোনকে বিশ্বাস ও সম্পর্কের হরমোন বলা হয়।
চোখে চোখে তাকালে, মানুষ মনে করে সামনে থাকা ব্যক্তি সৎ আত্মবিশ্বাসী এবং মনোযোগী। এতে কথা বলার সময় আন্তরিকতা অনুভূত হয়। ফলে অবচেতনে বিশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায়।
মনোবিজ্ঞানে একে নন ভার্বাল কমিউনিকেশন বলা হয়। অনেক সময় শব্দের চেয়েও চোখের দৃষ্টি বেশি শক্তিশালী বার্তা দেয়।
তবে অতিরিক্ত বা দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ চোখে চোখে যোগাযোগ সবচেয়ে কার্যকর।
এই কারণেই সাক্ষাৎকার, বন্ধুত্ব, ব্যবসায়িক আলোচনা এবং সম্পর্ক গঠনে চোখে চোখে কথা বলা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষণায় প্রমাণিত।
তাইয়েবুন নেছা..
পৃথিবীর সকল মানুষের DNA ৯৯.৯% মিল। কিন্ত কেন?
মানব প্রজাতি হিসেবে আমরা যখন একে অপরের দিকে তাকাই, তখন শুধুমাত্র অগণিত বৈচিত্র্য আমাদের চোখে পড়ে—অঞ্চল, ভাষা, সংস্কৃতি এবং সবচেয়ে স্পষ্টত, শারীরিক বৈশিষ্ট্য। এই দৃশ্যমান পার্থক্যগুলো এতটাই প্রকট যে মনে হতে পারে আমরা বুঝি বহু ভিন্ন ভিন্ন ধারা থেকে এসেছি। কিন্তু বিজ্ঞান, বিশেষ করে জেনেটিক্স, এক গভীরতর এবং আরও চমকপ্রদ সত্য উন্মোচন করেছে।
জেনেটিক গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল হলো: পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ডিএনএ কোডের ৯৯.৯% অংশ হুবহু এক। এর মানে হলো, উচ্চতা, ত্বকের রঙের ভিন্নতা, মুখের গড়ন, এমনকি আমাদের আবেগ বা মেধার তারতম্য—যা কিছু আমাদের স্বতন্ত্র করে তোলে—তার উৎস হলো এই বিশাল জেনোমের মাত্র ০.১ শতাংশ। এই ক্ষুদ্র ব্যবধান, যা তিন বিলিয়ন ডিএনএ বেস জোড়ের মধ্যে প্রায় তিন মিলিয়ন পরিবর্তন মাত্র, তা-ই আট বিলিয়ন মানুষের সবরকম বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছে।
এই চরম একাত্মতা প্রমাণ করে যে মানুষ হলো প্রকৃতির অন্যতম কম জেনেটিক বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণী। যদি আমরা চিম্পাঞ্জি বা এমনকি সাধারণ কিছু পতঙ্গের দিকেও তাকাই, তাদের অভ্যন্তরীণ জেনেটিক ভিন্নতা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের এই অভিন্নতা ঐতিহাসিক এক সঙ্কটকালের দিকে ইঙ্গিত করে: মানবজাতির আদিম ইতিহাস এক "জেনেটিক বটলনেক"-এর মধ্য দিয়ে গেছে, যখন প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর মানবসংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছিল। আজকের প্রতিটি মানুষ সেই ক্ষুদ্র আদিম জনসংখ্যার বংশধর, যারা প্রায় একই জেনেটিক নকশা বহন করত।
এই জ্ঞান আমাদের চিরাচরিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। চেহারায় বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও দুজন মানুষ জেনেটিকভাবে খুব কাছাকাছি হতে পারে, আবার দেখতে একই রকম দুজন মানুষের মধ্যেও পার্থক্য বেশি থাকতে পারে। জেনেটিক বৈচিত্র্যের সিংহভাগই বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান। তাই, বাহ্যিক চেহারার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা "জাতি" (Race) বা "বর্ণ"-এর মতো সামাজিক ধারণাগুলো জেনেটিক্সের সূক্ষ্ম মানদণ্ডে সম্পূর্ণ অর্থহীন প্রমাণিত হয়।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণে, দৃশ্যমান পার্থক্যের আবরণ ভেদ করে দেখলে আমরা বুঝতে পারি, মানবজাতি এক একত্রিত একক। আমাদের মধ্যেকার সমস্ত বৈচিত্র্য সেই সামান্য ০.১% পার্থক্যের ফল; বাকি ৯৯.৯% ডিএনএ আমাদের সকলের মধ্যে এক অটুট বন্ধন তৈরি করে রেখেছে।
আমরা যখন এখনো GPA5 আর BCS-এর পেছনে ছুটছি,
ঠিক তখনই পাশের দেশ ভারত বিশ্ববাজারের জন্য CEO তৈরি করছে।
প্রশ্ন একটাই কোথায় ভুল করছি আমরা?
চলুন, একটু বাস্তবতা চেক করি।
সত্যি কথা বলতে গেলে, লেখাটা একটু তেতো লাগতে পারে।
কিন্তু নিজের বা সন্তানের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে হলে এই Reality Check আজ জরুরি।
Google, Microsoft, Adobe, Starbucks..এই সব জায়ান্ট কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বে আজ ইন্ডিয়ানরা।
আর আমরা?
এখনো “পাস করলেই মিষ্টি খাওয়াবো” মেন্টালিটিতে আটকে আছি।
পার্থক্যটা মেধার না. পার্থক্যটা Mindset-এর।
১. গ্রেড বনাম স্কিল (The GPA Trap)
আমাদের কাছে ভালো ছাত্র মানেই মুখস্থ করে GPA–5।
ওদের কাছে ভালো ছাত্র মানেই Problem Solver, Creator, Innovator।
ভারতে স্কুল লেভেল থেকেই Coding, Robotics, Logical Thinking শেখানো হয়।
আমরা শিখি কীভাবে পরীক্ষায় পাশ করতে হয়,
ওরা শেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়।
ফলাফল?
আমরা তৈরি করি চাকরিপ্রার্থী,
ওরা তৈরি করে লিডার।
২. নিরাপত্তা বনাম উন্নতি (Safety vs Growth)
আমাদের স্বপ্ন“একটা সরকারি চাকরি, লাইফ সেট”।
কিন্তু ইতিহাস বলে,
Leadership কখনো Comfort Zone থেকে জন্মায় না।
ইন্ডিয়ানরা রিস্ক নেয়, স্টার্টআপ বানায়, ফেল করেও আবার দাঁড়ায়।
আমাদের ভয়..
“চাকরি না থাকলে সমাজ কী বলবে?”
৩. কর্পোরেট কালচার: কাজ নাকি তেলবাজি?
দুঃখজনক হলেও সত্য..
আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রমোশন হয়
কে বসকে বেশি খুশি রাখতে পারে, তার উপর।
Talent-এর চেয়ে Reference আর “Yes Sir” বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ফলে Decision Making বা Leadership Skill তৈরি হয় না।
আমরা সারাজীবনই থেকে যাই Order Follower।
৪. কমিউনিকেশন যখন আতঙ্ক
টেকনিক্যাল স্কিল আছে, কিন্তু
১০ জন বিদেশির সামনে কথা বলতে গেলে আত্মবিশ্বাস হারাই।
কারণ আমরা ইংরেজি শিখেছি পরীক্ষা পাস করার জন্য,
কথা বলার জন্য নয়।
অথচ একজন গ্লোবাল লিডার জানে..
কাজ জানার পাশাপাশি কাজটা প্রেজেন্ট করতে জানতে হয়।
৫. নেটওয়ার্কিং নিয়ে ভুল ধারণা
আমাদের কাছে নেটওয়ার্কিং মানে..
“ভাই, একটা চাকরি দেন।”
কিন্তু গ্লোবাল লিডাররা শুরু থেকেই
Knowledge Share করে
Community বানায়
Global Platform-এ নিজেকে দৃশ্যমান করে।
নেটওয়ার্ক ছাড়া সুযোগ আসে না।
তাহলে সমাধান কী?
হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
আমাদের মেধা আছে শুধু দিকনির্দেশনা ভুল।
আজ থেকেই নিজেকে প্রশ্ন করুন..
❝ বিশ্ববাজারে বিক্রি করার মতো **কোন স্কিলটা আমার আছে? ❞
এখন ফোকাস করুন:
Problem Solving & Critical Thinking
Communication & English Fluency
Technology & AI Adaptability
Global Mindset & Networking
নিজেকে শুধু লোকাল পরীক্ষার্থী ভাবা বন্ধ করুন।
নিজেকে তৈরি করুন গ্লোবাল লিডার হিসেবে।
দুনিয়াটা এখন ছোট,
সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়।@— মামুন রহমান
দাঁত ব্রাশ করার পরেও মুখে গন্ধ কেন থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু দাঁত নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে।
১. জিহ্বা পরিষ্কার না করা
মুখের দুর্গন্ধের সবচেয়ে বড় কারণ হলো জিহ্বা।
জিহ্বার ওপর ছোট ছোট খাঁজে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। শুধু দাঁত ব্রাশ করলে এগুলো পরিষ্কার হয় না। এই ব্যাকটেরিয়াই সালফার গ্যাস তৈরি করে, যা দুর্গন্ধের মূল উৎস।
সমাধান:প্রতিদিন ব্রাশের সময় জিহ্বা পরিষ্কার করা জরুরি।
২. দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে থাকা
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার পচে গিয়ে দুর্গন্ধ তৈরি করে। অনেক সময় ব্রাশ সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারে না।
সমাধান: ডেন্টাল ফ্লস বা দাঁতের খিলান পরিষ্কার করার সরঞ্জাম ব্যবহার করা।
৩. মুখ শুকিয়ে যাওয়া (ড্রাই মাউথ)
লালা মুখের প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। কিন্তু পানি কম খেলে, ধূমপান করলে বা কিছু ওষুধের কারণে মুখ শুকিয়ে যায়। এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়ে। সমাধান: পর্যাপ্ত পানি পান,চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবানো, ধূমপান এড়িয়ে চলা।
৪. পেট ও নাক গলার সমস্যা
মুখের দুর্গন্ধ সব সময় দাঁতের কারণে হয় না। গ্যাস্ট্রিক,
বদহজম,সাইনাস,টনসিল ইনফেকশন এসব সমস্যাতেও মুখে বাজে গন্ধ হতে পারে।
সমাধান: সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।
৫. পুরনো বা নোংরা টুথব্রাশ
অনেকেই মাসের পর মাস একই টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। এতে ব্যাকটেরিয়া জমে যায়, যা উল্টো মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়।
সমাধান: প্রতি ২-৩ মাসে টুথব্রাশ বদলানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
1. দিনে অন্তত ২ বার দাঁত ব্রাশ
2. জিহ্বা পরিষ্কার করা
3. ফ্লস ব্যবহার
4. প্রচুর পানি পান
5. ৬ মাসে একবার ডেন্টিস্ট দেখানো
দাঁত ব্রাশ করলেই মুখের দুর্গন্ধ পুরোপুরি দূর হবে এই ধারণা ভুল। মুখের যত্ন মানে দাঁত, জিহ্বা, মাড়ি ও শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যের সম্মিলিত পরিচর্যা। নিয়ম মেনে চললে সহজেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।@ইভা আক্তার
পাকস্থলীতে ৫দিন পরপর নতুন আস্তরণ তৈরী হয়!
পাকস্থলীর কাজই হলো খাবার ভেঙে হজম করা। এই কাজের জন্য সে ব্যবহার করে খুব শক্তিশালী অ্যাসিড ও এনজাইম। এই অ্যাসিড এতটাই শক্ত যে, চাইলে শুধু খাবার নয় পাকস্থলীর নিজের কোষও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন আসে, এত শক্ত অ্যাসিডের মাঝেও পাকস্থলী নিজে কেন গলে যায় না?
এর পেছনে আছে শরীরের এক চমৎকার আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। পাকস্থলীর ভেতরের দেয়াল একটি পুরু, পিচ্ছিল শ্লেষ্মার স্তর দিয়ে ঢাকা থাকে, যাকে মিউকাস লেয়ার বলা হয়। এই স্তরটা অ্যাসিড আর পাকস্থলীর কোষের মাঝখানে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে অ্যাসিড সরাসরি কোষের ক্ষতি করতে পারে না।
তবে এই সুরক্ষাবর্ম চিরস্থায়ী নয়। প্রতিদিন অ্যাসিডের আঘাতে এই মিউকাস স্তর ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শরীর এটা খুব ভালোভাবেই সামলায়। প্রায় প্রতি পাঁচ দিন পরপর পাকস্থলী নিজেই এই শ্লেষ্মার আস্তরণ নতুন করে তৈরি করে ফেলে। একেবারে ফ্রেশ একটা লাইনিং, যেন পুরোনোটা কখনো ছিলই না।
এই অবিরাম নবায়নের কারণেই পাকস্থলী নিজের ভেতরের অ্যাসিডের সঙ্গে বসবাস করেও নিরাপদ থাকে। বলা যায়, পাকস্থলী নিজেই নিজের ঢাল বানায়, আবার সময়মতো সেটা বদলেও ফেলে নিজেকে নিজে হজম হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য।
নাঈমুল ইসলাম
শিশুর উপর অতিরিক্ত কঠোরতা কেন ক্ষতিকর?
শিশুকে বেশি বকা, চাপ বা কঠোর শাসনে রাখলে তার শরীর, মন আর আচরণে খারাপ প্রভাব পড়ে। সহজ ভাষায় মূল কথাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো
মস্তিষ্ক ও শেখার ক্ষতি:
দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শিশুর শেখার ক্ষমতা, স্মৃতি আর মনোযোগ কমে যায়। ভুল করার ভয় তাদের শেখার আগ্রহ নষ্ট করে।
মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব:
বারবার বকাঝকা করলে শিশুর মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়। বড় হয়ে ডিপ্রেশন বা সামাজিক দূরত্বের ঝুঁকি বাড়ে।
আচরণগত সমস্যা:
এমন শিশুরা সহজে রেগে যায়, জেদি হয়, বেশি কান্নাকাটি করে, বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া করে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ হারায়।
শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়:
মানসিক চাপ থেকে ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা ও বারবার অসুস্থ হওয়া দেখা যেতে পারে।
পরিবারের সম্পর্ক দুর্বল হয়:
অতিরিক্ত কঠোরতায় শিশুর মনে হয়, তাকে কেউ বোঝে না। এতে বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।
ভবিষ্যৎ জীবনেও প্রভাব:
শৈশবের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বড় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ও নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।
তাহলে করণীয় কী?
• শাস্তির বদলে নরম ও ব্যাখ্যাভিত্তিক আচরণ।
• ভুল হলে গাইড করা, ভয় দেখানো নয়।
• প্রতিদিন মন দিয়ে শিশুর কথা শোনা।
• চেষ্টা ও ভালো কাজে প্রশংসা করা।
• নিরাপদ, ভালোবাসাময় পরিবেশ তৈরি করা।
• পড়াশোনা, খেলা ও বিশ্রামের ভারসাম্য রাখা।
মনে রাখবেন, আপনার সচেতন আচরণই আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের ভিত্ত।
বাচ্চার ভেতরের সেরা মানুষটাকে জাগিয়ে তুলতে তিনটি সহজ অভ্যাস।
বাচ্চারা জন্ম থেকেই সম্ভাবনায় ভরা। আমরা শুধু সেই সম্ভাবনাগুলো ফুটে ওঠার জন্য সঠিক পরিবেশ দেই। নিচের তিনটি অভ্যাস আপনার বাচ্চাকে আত্মবিশ্বাসী আর সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে সাহায্য করবে।
১. ভালোবেসে ধৈর্যের সাথে সামলান
জেদ, ভুল, কান্না সবই বড় হওয়ার অংশ। আপনি শান্ত থাকলে আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে গাইড করলে সে নিরাপদ বোধ করে। নিরাপত্তা থেকেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
২. বাচ্চার ভুলকে স্বাভাবিকভাবে নিন
ভুল দেখলেই বকাঝকা নয়। বুঝিয়ে দিন কোথায় ঠিক করা যায়। এতে সে শেখে যে ভুল মানে ভয় নয়, শেখার সুযোগ।
৩. বাচ্চাকে সব সময় কড়া করে ঠিক করবেন না
প্রতিটি ছোট ভুলে কড়া আচরণ করলে সে নিজের মত বলতে সংকোচ বোধ করে। শান্তভাবে বোঝান, ভাবার সুযোগ দিন। এতে বিচারবুদ্ধি আর আত্মসম্মান দুটোই বাড়ে।
এই তিনটি অভ্যাস আপনার বাচ্চাকে ধীরে ধীরে এমন একজন মানুষ হতে সাহায্য করবে যে আত্মবিশ্বাসী, সম্মানবোধসম্পন্ন আর নিজের ভুল থেকে শেখার ক্ষমতা রাখে।
নিজের সঙ্গে কথা বলেন? অভিনন্দন-আপনি ভাবনার চেয়েও বেশি স্মার্ট।
গবেষকদের মতে, নিজের সঙ্গে কথা বলা কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী কগনিটিভ টুল। আপনি যখন নিজের চিন্তাগুলো মুখে বলে প্রকাশ করেন, তখন একসঙ্গে সক্রিয় হয় মস্তিষ্কের একাধিক অংশ-ভাষা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, স্মৃতি ব্যবস্থা এবং সমস্যা সমাধানের অঞ্চল।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোনো কাজ করতে গিয়ে নিজেকে কথা বলে গাইড করে, তারা নীরবে কাজ করা মানুষের তুলনায় প্রায় ২০% দ্রুত কাজ শেষ করে এবং ভুলও কম করে। এর কারণ হলো, জোরে কথা বললে একটি ফিডব্যাক লুপ তৈরি হয়মস্তিষ্ক একবার তথ্যটি ভাবনার মাধ্যমে প্রক্রিয়া করে, আরেকবার নিজের কণ্ঠে শুনে আবার তা বিশ্লেষণ করে।
শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই নিজের সঙ্গে কথা বলে, কারণ এতে তাদের শেখা ও মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক এই অভ্যাস ধরে রাখেন, তাদের মধ্যে দেখা যায়,
মনোযোগ বেশি থাকে,
স্মৃতি শক্তিশালী হয়,
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত হয়,
তাই পরেরবার কেউ যদি আপনাকে নিজের সঙ্গে কথা বলতে দেখে অবাক হয়, হাসিমুখে বলুন
'আমি আমার কগনিটিভ পারফরম্যান্স অপটিমাইজ করছি'।@রাকিব
কেন ৬০ সেকেন্ডে মিনিট, ৬০ মিনিটে ঘণ্টা?
আমাদের ১০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি এসেছে হাতের ১০টি আঙ্গুল ব্যবহার করে গণনা করার সুবিধার্থে। আজ থেকে অন্তত ৫,০০০ বছর আগে, সুমেরীয় সভ্যতায় জটিল গাণিতিক এবং জ্যামিতিক হিসাবের জন্য দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির পরিবর্তে ১২ এবং ৬০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করতো।
১০ ভিত্তিক পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা হলো, ১০ কে শুধুমাত্র ২ ও ৫ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভাগ করা যায় না। সেই তুলনায় ১২ কে ২, ৩, ৪, ৬ দ্বারা এবং ৬০ কে ২ থেকে ৬ পর্যন্ত সবগুলো সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায়। ফলে এসব পদ্ধতিতে ভগ্নাংশের কাজ হিসেব করা বেশ সহজ ছিল।
এছাড়া সুমেরীয়রা এবং পরবর্তীতে ব্যাবলনীয়রা হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাকি চারটি আঙ্গুলের তিনটি করে বিভাজন হিসেব করে এক হাতে মোট ১২ পর্যন্ত গণনা করত। এক হাতের ১২টি সংখ্যাকে অন্য হাতের ৫টি আঙ্গুল দ্বারা গুণ করলে দুই হাতে সর্বোচ্চ ৬০ পাওয়া যায়। এটিও মিনিট-সেকেন্ডে ৬০ সংখ্যাটি নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
জ্যামিতি ও জ্যোতির্বিদ্যা:-
সুমেরীয় সভ্যতার পতনের পর খ্রিস্টপূর্ব অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্যাবলনীয়রা কোণ পরিমাপের জন্য ডিগ্রী আবিস্কার করে। সে সময় তাদের ধারণা ছিল পৃথিবী ৩৬০ দিনে একবার সূর্যকে আবর্তন করে। অর্থাত্ যদি প্রতিদিনের কৌণিক আবর্তনকে ১ ডিগ্রি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে পূর্ণ আবর্তনে ৩৬০ ডিগ্রি সম্পন্ন হয়। ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন, এখান থেকেই বৃত্তের ৩৬০ ডিগ্রির ধারণাটি আসে।
বৃত্তের এক ষষ্ঠাংশ, অর্থাত্ ৬০ ডিগ্রি প্রকৃত কোণ গঠন করে। অর্থাত্ ৬০ ডিগ্রী করে বৃত্তের অভ্যন্তরে ছয়টি ত্রিভুজ আঁকলে প্রতিটি ত্রিভুজ সমবাহু হয়। এ কারণে তখন থেকেই জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিদ্যায় ৬০ সংখ্যাটির বিশেষ গুরুত্ব ছিল।
৩৩৫ থেকে ৩২৪ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বিশাল এলাকা বিজয়ের ফলে ব্যাবিলনের জ্যোতির্বিদ্যা গ্রীসে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইসলামের আবির্ভাবের পর মুসলিম বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদরাও রোম এবং ভারত থেকে ১২ এবং ৬০ ভিত্তিক সময় পরিমাপের পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এভাবে ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতি বিস্তার লাভ করে। @SciByte BD
নারীদের নারী বান্ধবী
Talker Research এর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নারীরা তাদের কাছের নারী বন্ধুদের সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় কাটালে সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত এবং মানসিকভাবে পরিপূর্ণ অনুভব করেন
২০০০ জন নারীর ওপর করা একটি জরিপে দেখা যায় যে প্রায় প্রতি ২২ দিনে একবার একটি girls night নারীদের সংযুক্ত বোধ করতে সমর্থন পেতে এবং নিজেকে জীবন্ত অনুভব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
অংশগ্রহণকারীরা জানান এই ধরনের সামাজিক আড্ডার পর তাদের মানসিক চাপ কমে যায় মন ভালো থাকে এবং নিজের পরিচয়ের অনুভূতি আরও দৃঢ় হয়। এই ফলাফলগুলো দেখায় যে বন্ধুত্ব শুধু বিনোদনের বিষয় নয় বরং এটি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার একটি অপরিহার্য অংশ
মানুষের সহানুভূতির ক্ষমতা কমে যাচ্ছে
এক সময় পরিবারকে মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় মনে করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে মা-সন্তান, বাবা-সন্তান ও ভাইয়ে ভাইয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এসব ঘটনা আর বিচ্ছিন্ন নয় বরং পারিবারিক সহিংসতা এখন একটি উদ্বেগজনক সামাজিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ঋণের বোঝা ও পারিবারিক কলহ মানুষের সহানুভূতির ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে আপনজনও শত্রু হিসেবে দেখা দিতে শুরু করে। নিউরোসায়েন্স বলছে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে দুর্বল করে, ফলে মানুষ হঠাৎ রাগের বশে প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অনেক পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ঘটে পরিকল্পনা ছাড়াই, মুহূর্তের উত্তেজনায়।
এ সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও। ডিপ্রেশন, বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা সাইকোসিসে ভোগা বহু মানুষ সামাজিক লজ্জার কারণে চিকিৎসা পান না। এতে বাস্তবতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়, যা সহিংস আচরণকে উসকে দেয়। পাশাপাশি পরিবারে যোগাযোগের ঘাটতি, অভিযোগ ও অবিশ্বাস এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে আবেগগত বিচ্ছিন্নতাও দ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছে।
আরেকটি বড় কারণ হলো সহিংসতায় অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। প্রতিদিন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুনের খবর দেখে সমাজ ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে পড়ছে, যা সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন, বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি ও দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে পরিবারই অনেক সময় রাগ ও হতাশার প্রথম বিস্ফোরণস্থল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, সহানুভূতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা এবং পরিবারে যোগাযোগের সংস্কৃতি ফেরানো জরুরি। @ইভা আক্তার
ক্লিনিক্যালি ডেথ কী?
ক্লিনিক্যালি ডেথ বলতে এমন এক সংকটজনক অবস্থাকে বোঝায়, যখন একজন মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ একসাথে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রথমত, শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রোগী নিজে থেকে আর নিঃশ্বাস নিতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, হৃদস্পন্দন থেমে যায়। হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়।
তৃতীয়ত, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেন পৌঁছায় না।
এই পর্যায়টিকেই সাধারণত মৃত্যুর প্রথম এবং সবচেয়ে ভয়ংকর ধাপ হিসেবে ধরা হয়।
বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা কতটা?
এই অবস্থায় বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। তবুও চিকিৎসাবিজ্ঞানে কিছু বিরল ঘটনা আছে, যেখানে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা পেলে কেউ কেউ ক্লিনিক্যালি ডেথের পরও আবার ফিরে এসেছে।
এই ঘটনাগুলো বিজ্ঞানের চোখে অত্যন্ত বিরল। আর সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় এগুলো বিস্ময়কর বা অলৌকিক বলেই মনে হয়।
জীবন আর মৃত্যুর মাঝের এই সূক্ষ্ম সীমারেখাই ক্লিনিক্যালি ডেথ।
কোমা ও অজ্ঞান অবস্থায় মস্তিষ্ক কী করে?
মানুষ যখন কোমায় থাকে বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে, বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সবকিছু থেমে গেছে। চোখ বন্ধ, শরীর স্থির, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু ভেতরে, মস্তিষ্ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সে তখনও কাজ করে শুধু অন্য এক ছন্দে, অন্য এক জগতে।
অজ্ঞান অবস্থায় সাধারণত মস্তিষ্কের সচেতন অংশগুলো সাময়িকভাবে অফলাইন হয়ে যায়, বিশেষ করে যেগুলো আমাদের চারপাশের বাস্তবতা বোঝায়। কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো সচল থাকে। অনেকটা কম্পিউটার স্লিপ মোডে যাওয়ার মতো স্ক্রিন নিভে যায়, কিন্তু ভেতরের সিস্টেম চালু থাকে।
কোমার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গভীর। এখানে মস্তিষ্কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, বিশেষ করে থ্যালামাস ও কর্টেক্সের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান। ফলে মানুষ বাইরের কোনো শব্দ, স্পর্শ বা আলোকে সচেতনভাবে অনুভব করতে পারে না। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কোমা রোগীর মস্তিষ্ক নির্দিষ্ট শব্দ বা পরিচিত কণ্ঠস্বরের প্রতি সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়া দেখায় তাতে মনে হয় যেন ভেতরে কোথাও কিছু এখনো শুনছে।
তাহলে প্রশ্ন আসে ওরা কি স্বপ্ন দেখে?
এর উত্তর পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গভীর অজ্ঞান অবস্থায় সাধারণ স্বপ্নের মতো দৃশ্য খুব কমই হয়। কারণ স্বপ্নের জন্য যে ঘুম দরকার, কোমায় তা প্রায় অনুপস্থিত। তবে হালকা কোমা বা অজ্ঞান হওয়ার সময় কিছু মানুষ পরে জানান তারা ঝাপসা আলো, শব্দ, কিংবা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির কথা মনে করতে পারেন। তবে এটা স্বপ্ন না স্মৃতির টুকরো সেটা আলাদা করা কঠিন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ জেগে ওঠার পর বলে সময় যেন এক মুহূর্তেই কেটে গেছে। কারণ সচেতন সময়ের হিসাব রাখার ক্ষমতা তখন বন্ধ থাকে। মস্তিষ্ক তখন যেন বাস্তবতার বাইরে এক নিঃশব্দ অপেক্ষায় থাকে না পুরো ঘুম, না পুরো জাগরণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোমা বা অজ্ঞান অবস্থা মানে মস্তিষ্কের মৃত্যু নয়। বরং এটা এক ধরনের গভীর অন্তরাল যেখানে ব্রেইন বেঁচে থাকে, কাজ করে, কিন্তু কথা বলে না। নীরব, রহস্যময়, আর এখনো বিজ্ঞানের জন্য অনেক প্রশ্ন রেখে যায়। @নাঈমুল ইসলাম
ঘনিষ্ঠ মানবিক সম্পর্কই সুখ ও সুস্থতার সবচেয়ে বড় কারণ
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আশি বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষের জীবনে অর্থ খ্যাতি বা উচ্চ সাফল্যের চেয়ে, ঘনিষ্ঠ মানবিক সম্পর্কই সুখ ও সুস্থতার সবচেয়ে বড় কারণ।
যারা পরিবার বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে গভীর ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকে।
তারা কম স্ট্রেস অনুভব করে,শারীরিকভাবে তুলনামূলক বেশি সুস্থ ও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে।
অনেক মানুষকে আমরা সবসময় হাসিখুশি দেখি। কিন্তু এদের মধ্যেই কেউ কেউ ভিতরে গভীর দুঃখ, চাপ বা শূন্যতা অনুভব করে, যা বাইরে বোঝা যায় না। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় "Smiling Depression"।
• Smiling Depression কী?
এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি বাইরে পুরোপুরি স্বাভাবিক, হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত দেখায়, কিন্তু ভিতরে থাকে দুঃখ, হতাশা, ক্লান্তি বা অনুভূতির অভাব।
এটি DSM-5-এ আলাদা রোগ হিসেবে নেই, তবে মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে ডিপ্রেশনের লুকানো রূপ বলে থাকেন।
• কেন এমন হয়?
১| সমাজ বা পরিবারের সাসনে দুর্বল না দেখানোর চেষ্টা
২| নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে অস্বস্তি
৩| কাজ বা দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য হওয়া
৪| ভেতরের ব্যথা লুকিয়ে রাখা অভ্যাস
• বৈজ্ঞানিক ব্যাখা:
হাসি একটি বাহ্যিক facial expression, যা মস্তিষ্কের অনুভূতি স্নায়বিক প্রক্রিয়ায় কাজ করে। তাই কেউ বাহিরে হাসতে পারে কিন্তু ভিতরে আনন্দ অনুভব নাও করতে পারে৷ @তাসমিয়া বিনতে আলম
নিয়ান্ডারথালরা ৪ লাখ বছর আগেই আগুন তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করত
ব্রিটেনে আবিষ্কৃত নতুন প্রমাণ মানব ইতিহাসের আগুন ব্যবহারের ধারণাকে এক লাফে হাজার বছর পিছিয়ে দিয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি নিয়ান্ডারথালরা ৪ লাখ বছর আগেই আগুন তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করত। ইংল্যান্ডের সাফোকের বার্নহাম এলাকায় খননকাজে পাওয়া গেছে পোড়া মাটি, তাপে ভাঙা হাতকুঠার এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাইরাইট খনিজ, যা ফ্লিন্টের সঙ্গে ঘষা দিলে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করে। গবেষকদের মতে, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরানোর সরঞ্জামই ছিল।
এই পাইরাইট ওই এলাকায় স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ কেউ আগুন তৈরির উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে এটি বহন করে এনেছিল যা নিয়ান্ডারথালদের উন্নত জ্ঞান ও পরিকল্পনাশক্তির ইঙ্গিত দেয়। গবেষকেরা বলছেন, এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সরাসরি আগুন প্রযুক্তির প্রমাণ। তাদের ভাষায়, এ আবিষ্কার আমাদের ৪০ বছরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ছিল মানব বিবর্তনের বড় বাঁক রান্না, ঠান্ডা থেকে বাঁচা, শিকার, সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সবই আগুনের ওপর নির্ভরশীল। আর সেই প্রযুক্তি নিয়ান্ডারথালরা এত আগেই mastered হয়েছিল
কাকের স্মৃতিশক্তি সমস্ত পাখিদের থেকে অনেকটাই প্রবল
সাধারণভাবে দেখলে মনে হয়, কাক শুধু গাছে বসে কা কা করে ডাকে। এদের স্মৃতিশক্তিই বা আর কতটুকু হবে? রং এবং কর্কশ শব্দের জন্য এদেরকে অনেক মানসিক ঘৃণা চোখে দেখেন। পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক জন মার্জলাফ গবেষণাটি পক্ষী শ্রেণিদের মধ্যে এই কাককে নিয়ে গবেষণা করেন। আসল কথা তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কাক সময়ে প্রতিশোধ নিতে পারে কিনা।
আর অদ্ভুত এই পরীক্ষার সময় তিনি একটি ভয়ংকর মুখোশ পরে জালের সাহায্যে সাতটি কাক ধরেন। কিছু সময় কাকদের আটকে রাখেন। এদের পায়ে চিহ্নিত রিং পরিয়ে দেন। কাকগুলোর ডানায় বিশেষ ধরনের চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়। যাতে পরবর্তীকালে এদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা না হয়। পরে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু কাকগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর ঘটে অদ্ভুত ঘটনা। তিনি লক্ষ্য করেন ধরে রাখা কাকগুলি তাকে ক্রমশ অনুসরণ করতে শুরু করেছে। যখনই তিনি বিশেষ ধরনের ওই মুখোশটি পরে পরীক্ষাগারের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতেন তখনই তাকে কাকগুলো ভয়ংকর রকমের আক্রমণ করতো। তবে শুধু এই সাতটি কাক আক্রমণ করত এমন না, অন্যান্য কাকও এসে আক্রমণে যোগ দিত।
বিজ্ঞানীর একটি ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে তার জীবনে এই আক্রমণের ঘটনা সাত বছর ধরে চলতে থাকে। অধ্যাপক মার্জরফ ও তাঁর সহকারীরা মাঝেমধ্যে একই মুখোশ পরে ক্যাম্পাসে হাঁটাহাঁটি করতেন এবং কাকদের খাবার দিতেন। মার্জলাফ বলেছেন, একবার সেই মুখোশ পরে হাঁটার সময় ৫৩টির মধ্যে ৪৭টি কাক তাঁকে দেখে কা কা করছিল। এর মানে, কাকেরা শুধু বিপদ চিনতে পারে এমন না, অন্যদেরও বিপদের এই তথ্য শিখিয়ে দিতে পারে।
কাকের যে শুধু ভালো স্মৃতিশক্তি আর বুদ্ধিমত্তা আছে, এমন না, এদের সামাজিক কাঠামোও খুব জটিল। এরা পারিবারিক গোষ্ঠীতে বসবাস করে। সাধারণভাবে কাকেরা একজনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে এসে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে। এদের আচরণ থেকে বোঝা যায়, এদের আবেগও জটিল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ওই বিজ্ঞানী জেনেছেন কাক মৃত সঙ্গীর জন্য একধরনের ‘শোকসভা’ করতে দেখা যায়।
২০১৩ সালের পর থেকে অধ্যাপক মার্জলাফের ওপর কাকের আগ্রাসন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে,পরীক্ষার প্রায় দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর পর অধ্যাপক মার্জলাফ আবার সেই মুখোশ পরে বাইরে হাঁটেন। এই প্রথমবারের মতো কাক তাঁকে আক্রমণ করেনি। কোনো প্রতিক্রিয়াও দেখায়নি।
নারীদের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর পিছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে:
১. হরমোন পরিবর্তন:
নারীদের জীবন মানসিক চক্র,প্রেগনেন্সি, প্রসব-পরিবর্তী সময় ও মেনোপজ বারবার হরমোন ওঠানামা ঘটে। এই পরিবর্তন সরাসরি মুড ও মানসিক ভারসাম্য প্রভাব ফেলে৷
২. সামাজিক চাপ ও প্রত্যাশা:
সমাজে নারীদের ওপর দায়িত্ব– পরিবার, সম্পর্ক, নিজের ক্যারিয়ার, এসব সামলানোর মানসিক চাপ অনেক বেশি হয়। এতে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়।
৩. নিরাপত্তাহীনতা ও স্ট্রেস:
নারীরা অনেক সময় পরিবেশ, আচরণ কিংবা পরিবারের নানা পরিস্থিতিতে বেশি মানসিক চাপের মুখে পড়ে। এই দীর্ঘমেয়াদি স্টেস ডিপ্রেশন তৈরি করতে পারে।
৪. আবেগ প্রকাশের ধরন:
গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা আবেগ বেশি অনুভব করে এবং তা নিয়ে ভাবেও বেশি (rumination)। এ কারণে দুঃখ বা চাপ মনের ভেতর জমে গিয়ে ডিপ্রেশন বাড়তে পারে৷
সংক্ষেপে:
হরমোন, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও আবেগের গভীরতা–সব মিলিয়ে নারীদের ডিপ্রেশনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। @- তাসমিয়া বিনতে আলম
শীতে মাথায় খুশকি বেড়ে যাচ্ছে? এই সমস্যার পেছনের আসল কারণ।
শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে, তাই মাথার ত্বকও শুকিয়ে যায়। শুষ্ক স্ক্যাল্পে খুশকি সহজে হয়। এছাড়া আমরা এই সময় গরম পানিতে চুল ধুই এবং কম চুল ধোয়া হয়। এতে মাথায় তেল জমে যায়। এই তেল থেকে Malassezia নামে এক ধরনের ছত্রাক বাড়ে, যা খুশকি তৈরি করে।টুপি, মাফলার বা হেলমেট বেশি পরলেও মাথায় ঘাম হয়, বাতাস ঢোকে না, ফলে খুশকি আরও বাড়ে।
কীভাবে সহজে খুশকি কমাবেন:
১.খুব গরম পানিতে চুল ধোবেন না।
২.সপ্তাহে ২–৩ বার চুল ধুলেই যথেষ্ট।
৩.নারকেল তেল ও লেবুর রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন।
৪.টুপি বা হেলমেট খুলে রাখুন যতটা সম্ভব।
৫.পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৬.প্রয়োজনে ভালো অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৪–৬ সপ্তাহেও না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো ভালো।
শীত এলেই খুশকি হবে, এমন নয়। একটু যত্ন নিলেই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
নিয়মিত উপবাস শরীরের ইনসুলিন লেভেল কমায়
ফলে শরীর জমে থাকা ফ্যাট ব্যবহার করতে শুরু করে
সঠিক খাবার ও সময় মেনে করলে ওজন কমাতে সাহায্য করে
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়
গবেষণায় দেখা গেছে intermittent fasting ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়ক
টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে
কোষ পরিষ্কার ও মস্তিষ্কের উপকার
উপবাসে autophagy নামের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়
এতে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পরিষ্কার হয়
মস্তিষ্কে ফোকাস ও মানসিক স্বচ্ছতা বাড়তে পারে
ইমিউন সিস্টেম ও প্রদাহ কমানো
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে
নিয়মিত উপবাস শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হতে পারে
তবে সতর্কতা জরুরি
সব মানুষের জন্য উপবাস উপযোগী নয়
গর্ভবতী নারী
ডায়াবেটিস রোগী
অত্যন্ত দুর্বল বা আন্ডারওয়েট ব্যক্তি
এদের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন
সিদ্ধান্ত
নিয়মিত উপবাস কোনো ম্যাজিক নয়
কিন্তু সঠিকভাবে করলে এটি বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
সোর্স -Harvard Health Publishing, Johns Hopkins Medicine
ছোট বাচ্চাকে চুমু দেয়া কেন ঝুঁকিপূর্ণ।
নতুন জন্ম নেয়া শিশু খুব নাজুক। মাত্র কয়েক সপ্তাহ থেকে ছয় মাস বয়সী বাচ্চাদের ইমিউন সিস্টেম ঠিকমতো গড়ে ওঠে না। জন্মের পর প্রথম দুই মাসে তারা সামান্য কিছু অ্যান্টিবডি পায় মায়ের কাছ থেকে। এ সময় হার্পিস ভাইরাস, রেস্পিরেটরি ভাইরাস, হুপিং কফ, সাইটমেগালোভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সংক্রমণে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
দুই থেকে ছয় মাসে কিছু টিকা শুরু হয়, আর শরীর ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক বছর পার হলে ভ্যাক্সিনের সুরক্ষা বাড়ে, মায়ের অ্যান্টিবডিও মজবুত হয় এবং শিশুর নিজের ইমিউন সিস্টেম শক্তি পায়।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে সেই শিশুরা যারা নিয়মিত মায়ের দুধ পায় না। সেরেলাক দিয়ে পেট ভরানো যায়, কিন্তু মায়ের দুধে থাকা অ্যান্টিবডির মতো সুরক্ষা আর কোথাও পাওয়া যায় না। তাই এসব শিশুর সামনে হাঁচি, কাশি দেয়া যাবে না। ঠাণ্ডা বা জ্বর থাকলে তাদের কাছে যাওয়া উচিত না। নিজের মুখ শিশুর মুখের খুব কাছে নেয়াও ঠিক না।
অনেক সময় পরিচিত কেউ এসে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে গালে ঘষে, নাকে নাক দেয় বা নিজের স্যালাইভা বাচ্চার ত্বকে লাগায়। এগুলো শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সবাই একইভাবে মুখের যত্ন নেয় না। ধূমপান থেকে শুরু করে খারাপ ওরাল হাইজিনও তাদের মুখে নানা জীবাণু বাড়িয়ে তোলে। তাই বিনয়ের সঙ্গে এ আচরণ থেকে বিরত থাকার কথা বলুন।
বাচ্চাকে আদর করতে চাইলে করুন মাথায়, বিশেষ করে মাথার পেছনে। বয়স এক বছর হলে কপালে হালকা চুমু দেয়া যেতে পারে। শিশুকে ভিজিয়ে ফেলে এমন চুমু একদম এড়ানো উচিত। কারণ ছোট বাচ্চারা আপনার বড়দের মতো শক্ত নয়। ন্যূনতম যত্নে তারা নিরাপদ থাকে।
খেজুরের রস
শীতকালে বাদুর খেজুরের রস চুষে খায়। তাদের লালাতে নিপাহ এনকেফালাইটিসের জীবাণু থাকতে পারে। সেই জীবাণু সরাসরি কাঁচা রসে মিশে যায়। আর এভাবেই মানুষ সংক্রমিত হয়।
নিপাহ এনকেফালাইটিস কোনো সাধারণ রোগ না। এই রোগে মৃত্যুর হার ৭০ শতাংশেরও বেশি। তাই কাঁচা রস খেয়ে আইসিইউতে যাওয়ার মতো ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।
সতর্ক থাকলে ঝুঁকি কমে। কাঁচা রসের পরিবর্তে সিদ্ধ রস খান।
আমি কি কখনো আমার উপযুক্ত কেউকে পাবো?
অনেক মেয়ের মনে একটি অদৃশ্য ভয় কাজ করে "আমি কি কখনো আমার মতো কেউকে পাবো?"
মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতিকে বলা হয় Anuptaphobia, অর্থাৎ
• একাকী থেকে যাওয়ার ভয়।
• নিজের জন্য সঠিক মানুষকে না পাওয়ার আশঙ্কা।
কেন এই ভয় তৈরি হয়?
• অতিরিক্ত প্রত্যাশা:
নিজের জন্য খুব উচ্চ মানসিক বা আবেগিক প্রত্যাশা থাকলে মনে হয়, "এমন মানুষ পাওয়া কি সম্ভব?"
• পূর্বের কষ্ট বা ব্যর্থ সম্পর্ক:
আগের অভিজ্ঞতা মেয়েদের মনে সন্দেহ তৈরি করে, "আবার যদি ভুল মানুষকে বিশ্বাস করি?"
• সামাজিক চাপ ও তুলনা: অন্য সবাই সম্পর্ক করছে দেখে নিজের প্রতি প্রশ্ন জাগে, "আমি কেন পাচ্ছি না?"
• ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিয়তা: নিজের পাশে কাকে পাওয়া যাবে, এই ভাবনা থেকেই ভয় বাড়ে।
• ভয় থাকা মানেই দুর্বলতা নয়।
এটা একদমই স্বাভাবিক অনুভূতি। বরং এই ভয় অনেক মেয়েকে
নিজের মূল্য বুঝতে
সম্পর্ক বেছে নিতে
ভুল মানুষ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।
কম্পিউটার কেন শুধু 0 এবং 1 বোঝে?—একটি বৈজ্ঞানিক ও সহজ ব্যাখ্যা
কম্পিউটার আজকের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণনাকারী যন্ত্র হলেও এর ভিতরের ভাষা অত্যন্ত সহজ—Binary, অর্থাৎ 0 এবং 1। এই দুটি সংখ্যা দিয়ে কম্পিউটার প্রতিটি ডেটা, ছবি, শব্দ, ভিডিও, এমনকি তোমার লেখা টেক্সটও প্রক্রিয়া করে। কারণ হলো, কম্পিউটারের মূল ভিত্তি হলো ইলেকট্রনিক সার্কিট, যেখানে বিদ্যুতের দুটি অবস্থা থাকে: চালু (1) এবং বন্ধ (0)। ট্রানজিস্টর নামের ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সুইচ এই দুটি অবস্থার মাধ্যমেই সব কমান্ড সম্পন্ন করে।
Binary ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নির্ভুলতা। ইলেকট্রিক সিগনালে Noise থাকলেও দুটি অবস্থাকে (0 বা 1) আলাদা করা খুব সহজ; ফলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বহুসংখ্যক সংখ্যা ব্যবহারে সার্কিট জটিল হয়ে যেত, ত্রুটির পরিমাণও বাড়ত। তাই কম্পিউটার সহজ ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে Binary বেছে নিয়েছে। আজ আমরা যে সফটওয়্যার, অ্যাপ, গেম, ওয়েব, AI মডেল ব্যবহার করি—সবই প্রথমে উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা হয়, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেগুলো রূপান্তরিত হয় Binary Machine Code-এ।
ছবি, অডিও, ভিডিও—সব ধরনের ডেটাই শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট 0 ও 1 এর সিকোয়েন্সে রূপ নেয়। প্রতিটি অক্ষর ASCII/Unicode কোড হয়ে Binary তে যায়; অডিও ডিজিটাল স্যাম্পল হয়ে Binary হয়; ভিডিও ফ্রেম-by-frame Binary তে রূপান্তরিত হয়। ফলে বলা যায়—Binary হলো পুরো ডিজিটাল প্রযুক্তির মেরুদণ্ড। এই দুটি সংখ্যা ছাড়া আধুনিক কম্পিউটিং, ইন্টারনেট, মোবাইল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—কোনোটাই সম্ভব নয়।
ঘুমের মান
আপনি হয়তো প্রতিদিনই নিয়ম করে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন। লাইট বন্ধ করে, বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে রাতভর ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম ভাঙতেই শরীর যেন ভারী লাগে মাথা ঝিমঝিম করে, মন খারাপ থাকে, আর দিন শুরু হওয়ার আগেই মনে হয় শক্তি ফুরিয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা কিন্তু মোটেও অস্বাভাবিক নয় বরং আজকাল অনেক মানুষই এই সমস্যায় ভুগছেন। কারণটা ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান।
ঘুমবিজ্ঞানীরা বলছেন, যতক্ষণ ঘুমের বিভিন্ন ধাপ লাইট স্লিপ, ডীপ স্লিপ ও REM স্লিপ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ শরীর আসল অর্থে বিশ্রাম পাবে না।ড. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘুমবিজ্ঞান ও শিশু স্নায়ুবিজ্ঞানে কাজ করছেন, বলেন তোমার বেশি সময় ঘুমের দরকার নেই, দরকার মানসম্মত ঘুম।
ঘুমের মান নষ্ট হওয়ার সাধারণ কারণ:
১. ঘুম-শ্বাস সমস্যা (Sleep Apnea)
রাতে ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়া বা শ্বাসের অনিয়ম গভীর ঘুমকে বারবার ভেঙে দেয়। ফলে সকালে ক্লান্তি অনুভূত হয়।
২. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে নীল আলো মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের শুরু বিলম্বিত করে।
৩. অনিয়মিত ঘুমচক্র
প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো জাগা শরীরের জৈবিক ঘড়িকে বিভ্রান্ত করে এবং ঘুমের মান কমিয়ে দেয়।
ভালো ঘুম হলো সেই ঘুম যেখানে শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে, হরমোন ঠিক থাকে, মস্তিষ্ক পরিষ্কার হয় এবং পরের দিনের শক্তি সঞ্চিত হয়। তাই ঘন্টা ঠিক থাকলেই হবে না ঘুমের গভীরতা ও ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুম ভালো রাখার ৭টি বৈজ্ঞানিক উপায়:
১. নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম ও জাগরণ
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে গেলে সার্কাডিয়ান রিদম স্থির থাকে। এতে ঘুম স্বাভাবিকভাবে গভীর হয়।
২. স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন
ঘুমানোর অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে সব ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করুন।
৩. ঘুমের পরিবেশ ঠিক করুন
ঠান্ডা, অন্ধকার ও নিরব ঘর ঘুমের মান উন্নত করে। আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা প্রায় ১৮–২০°C।
৪. ক্যাফেইন কমিয়ে দিন
বিকেল বা রাতে চা-কফি এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম
প্রতিদিন কিছু শারীরিক কর্মকাণ্ড ঘুমকে গভীর করতে সাহায্য করে। তবে ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে ব্যায়াম না করাই ভালো।
৬. মানসিক প্রশান্তির রুটিন
ঘুমানোর আগে হালকা পড়া, ধ্যান, বা গভীর শ্বাস নেওয়া স্নায়ুকে শান্ত করে।
৭. ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী বা ঝাল তেলযুক্ত খাবার ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে।
ঘুমের পরিমাণ নয় মানই আসল। যখন ঘুম সত্যিকারের পুনরুদ্ধারমূলক হয়, তখনই সকালে মন পরিষ্কার থাকে, শক্তি ফিরে আসে, আর পুরো দিনটা কাটে সতেজভাবে।