কোনো কিছু শেখার সময় ব্রেনের ফাংশন কিভাবে কাজ করে।

কোনো কথ্য কনটেন্ট গ্রহণের সময় মস্তিষ্ক তিনটি ধাপে কাজ করে। প্রথমে তথ্যকে এনকোড করে অর্থাৎ শব্দগুলো বুঝে নেয় ও তাদের প্রাসঙ্গিক অর্থ মেমোরি থেকে রিয়েল টাইমে খুঁজে আনে। এরপর সেগুলোকে ‘ওয়ার্কিং মেমোরিতে’ অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে। যেখানে সেই তথ্য একত্রিত, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ করা হয়। সবশেষে প্রয়োজন হলে সেই তথ্যকে লং-টার্ম মেমোরিতে স্থানান্তর করে।

সমস্যাটা শুরু হয় তখনই, যখন অনেক তথ্য খুব দ্রুত একসাথে চলে আসে। মানুষ সাধারণত প্রতি মিনিটে ১৫০ শব্দ পর্যন্ত আরামে শুনতে ও বুঝতে পারে। ৩০০ বা ৪৫০ শব্দ প্রতি মিনিটেও শোনা সম্ভব হলেও এতে মস্তিষ্কের ওয়ার্কিং মেমোরিতে প্রেসার পড়ে।

এই ওয়ার্কিং মেমোরি অনেকটা কম্পিউটারের র‍্যামের মতো। এটা অস্থায়ী স্মৃতি এবং ধারণক্ষমতা সীমিত। খুব বেশি তথ্য একসঙ্গে খুব দ্রুত আসলে তা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কে কগনিটিভ ওভারলোড তৈরি হয়, এবং অনেক তথ্য স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে পারে। ফলাফল স্থায়ী স্মৃতিতে সকল তথ্য পৌঁছাবে না।

সম্প্রতি একটি মেটা অ্যানালাইসিসে ২৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভিডিও প্লেব্যাক স্পিড যত বাড়ে, শেখার মান তত কমে। ১.৫x গতিতে বড় ক্ষতি হয় না, তবে ২x বা তার বেশি গতিতে গেলে পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়।

গড়ে একজন শিক্ষার্থীর স্কোর ১৭% পর্যন্ত কমে যেতে পারে শুধুমাত্র স্পিড বাড়ানোর কারণে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের প্রসেসিং স্পিড ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে থাকে।

তবে এটা দেখার বিষয় যে নিয়মিত দ্রুত গতির ভিডিও দেখলে মস্তিষ্ক এটার সাথে মানিয়ে নিতে পারে কি না, বা দীর্ঘমেয়াদে এর কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না। কেউ কেউ সম্ভাবনা দেখছেন কগনিটিভ প্রসেসিং শক্তি বৃদ্ধির।

তবে আপাতত গবেষণাগুলো নেতিবাচক দিকগুলোরই বেশি ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ কেবল সময় বাঁচানোর জন্য লেকচার, অডিও বুক প্লেব্যাক স্পিড বাড়ালে শেখার আনন্দ কমে যায়। তাই শেখার গুণগত মান এবং নিজের মানসিক ক্লান্তির বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই এই অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়। (বিজ্ঞান্বেষী)

তথ্যসূত্র: দ্য কনভারসেশন





হাত বাঁধা, দাঁড়ানোর ভঙ্গি—কি সত্যিই ঐশ্বরিক নির্দেশ, নাকি ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক প্রভাব? 

শিয়া-সুন্নি ও মাজহাবী বৈচিত্র্য**: যদি এই পদ্ধতি রাসূল (সা.)-এর একমাত্র শিক্ষা হতো, তবে কেন এত পার্থক্য? শিয়ারা হাত না বেঁধে (হাত ছেড়ে) নামাজ পড়ে, যখন সুন্নিরা বাঁধে। সুন্নি মাজহাবে (হানাফি, শাফেয়ী, মালেকি) হাত বাঁধার স্থান এবং নিয়ম ভিন্ন। এছাড়া, শিয়ারা জোহর-আসর এবং মাগরিব-ইশা একসাথে পড়ে, যা সুন্নিদের থেকে আলাদা। এই বিভক্তি রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়, যা নবীর ইন্তেকালের পর উমাইয়া ও আব্বাসি যুগে বিকশিত হয়েছে। 

===

সবজি ভাত রুটি আলু ছাড়া শুধু মাংস আর চর্বি খেয়ে কি সুস্থ থাকা সম্ভব? ১৯২৮ সালের একটি পাগলাটে এক্সপেরিমেন্ট!

আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি—সুস্থ থাকতে হলে প্লেট ভরে শাক-সবজি খেতেই হবে। আর চর্বি? ওরে বাবা! ওটা তো হার্ট অ্যাটাকের যম!

কিন্তু ১৯০৬ সালে হার্ভার্ডের বিজ্ঞানী Vilhjalmur Stefansson যা দেখলেন, তা পুরো চিকিৎসা বিজ্ঞানকে একশ বছর আগে চ্যালেঞ্জ করেছিল।

তিনি কানাডিয়ান আর্কিটিকে Inuit (এস্কিমো) দের সাথে থাকতে শুরু করলেন। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, ইনুইটরা কোনো সবজি খায় না, কোনো ফল খায় না, কোনো শস্য (Grain) ছোঁয় না। তাদের খাবারের ৭০-৮০% ক্যালরি আসে Caribou (হরিণ) এবং Seal-এর চর্বি ও মাংস থেকে।

ফলাফল?

১. তাদের কোনো হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সার ছিল না।

২. তাদের দাঁত ছিল একদম মজবুত, কোনো ক্যাভিটি ছাড়া।

তিনি ফিরে এসে যখন এই কথা বললেন, ডাক্তাররা তাকে পাগল ভাবলেন! "এটা অসম্ভব! ভিটামিন সি ছাড়া তো স্কার্ভি হয়ে মরে যাওয়ার কথা!"

তখন Stefansson নিলেন এক ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ!

সাল ১৯২৮। নিউ ইয়র্কের Bellevue Hospital-এ এক অদ্ভুত পরীক্ষা শুরু হলো। Stefansson এবং তার সঙ্গী ১ বছর ল্যাবরেটরিতে কড়া নজরদারিতে থাকলেন। শর্ত একটাই—তারা শুধুমাত্র মাংস আর চর্বি খাবেন। কোনো সবজি বা শর্করা ছোঁবেন না।

বিজ্ঞানিরা অপেক্ষায় ছিলেন কখন তাদের শরীর ভেঙে পড়ে। কিন্তু ১ বছর পর রিপোর্ট দেখে সবার চোখ কপালে উঠল:

তাদের কোনো পুষ্টির অভাব হয়নি (স্কার্ভি হয়নি)।

কিডনি ও হার্ট ছিল ঘোড়ার মতো শক্তিশালী।

Stefansson উল্টো কয়েক কেজি মেদ কমিয়ে ফিট হয়েছিলেন!



মধ্য ইয়েমেনের মরুভূমির বুকে অবস্থিত এক শহর। চারপাশে মজবুত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।

বিশ্বের প্রাচীনতম পরিকল্পিত ও দেয়ালঘেরা এক শহর।

ওল্ড ওয়ালড সিটি অব শিবাম!

বিশ্বের সব থেকে বেশি সংখ্যক উচু বিল্ডিং আছে আম্রিকার ম্যানহাটান শহরে।

আম্রিকার ম্যানহাটানের সাথে তুলনা করে এই প্রাচীন শহরকে বলা হয় 'ম্যানহাটান অব ডেজার্ট'!

পার্থক্য এটাই– আধুনিক ম্যানহাটান স্টিল-কংক্রিট দিয়ে, আর মরুভূমির ম্যানহাটানের স্কাইস্ক্র্যাপারগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে নির্মিত!

এখানে প্রথম বসতি স্থাপন হয় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে (প্রায় ২,০০০ বছর আগে)।

১২৯৮ সালের বন্যায় শহরের অনেক বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

১৫৩২ সালের আরও একবার বন্যার পর শহরটি নতুন করে গড়ে তোলা হয়। তখনকার স্থপতিরাই কাদামাটির টাওয়ারবাড়িগুলো বানিয়েছিলেন।

অর্থাৎ বর্তমানের মরুভূমির ম্যানহাটান রূপ মূলত ১৫৩২ সালের পর গড়ে ওঠে।

শিবাম (Shibam) শহরে টাওয়ার বাড়িগুলো (mudbrick tower houses) মূলত হাদ্রামি কারিগর ও স্থপতিরা নির্মাণ করেন। এই ভবনগুলো কাদামাটি দিয়ে তৈরি এবং এগুলোর উচ্চতা ৫-৭ তলা পর্যন্ত!

কোনো রাজা বা সম্রাটের আদেশে নয়, শহরের স্থানীয় জনগণ ও বণিক শ্রেণী মিলে নিজেরাই নির্মাণ করেছিল।

শুধু আবাসনের প্রয়োজনে নয়, এসব টাওয়ার হাউসের নকশা ও উচ্চতা অনেকটাই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার কথা ভেবে তৈরি।

শিবাম শহরটি একটি দুর্গনগরীর মতো। শহরটি প্রায় ৯ হেক্টর (৯০,০০০ বর্গমিটার) এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এই শহর পুরাটাই মাটির দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। ৪০০/৫০০ বছর আগে এটি ছিল ইয়েমেনে ব্যবসা বানিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। দেওয়াল দিয়ে ঘিরে দেবার কারণ ছিল বেদুইন দস্যুদের হাত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

শহরে প্রতিটি বাড়ি মূলত তৈরি করা হয়েছিল ১০০ জন লোকের ধারণ ক্ষমতা হিসাব করে। বাড়ি গুলির প্রতিটি তলা আবার তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন কাজে।

নিচ তলা তৈরি হয়েছে গৃহপালিত প্রাণী রাখার জন্য, ২য় তলা বানানো হয়েছে ব্যবসা বানিজ্যের দোকান বা লেনদেন করার অফিসের জন্য আর তৃতীয় তলা থেকে মানুষের বসবাসের জন্য।

১ম এবং ২য় তলায় সাধারণত কোন জানালা রাখা হত না।

৩য় তলা থেকে আবার শুরু হত ভিন্ন নিয়ম। ৩য় তলা তৈরি হয়েছে অতিথিদের বসবাসের ব্যবস্থা অনুসারে, ৪র্থ এবং ৫ম তলা তৈরি হয়েছে স্ত্রী এবং বাচ্চাদের থাকার ব্যবস্থা অনুসারে আর ৬ষ্ঠ তলা তৈরি হয়েছে কমন রুম হিসেবে।

এই বাড়ি গুলির মধ্যে সব বাড়ি বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হত না। এর মধ্যে কিছু বাড়ি মসজিদ হিসেবে, কিছু বাড়ি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হত।

বর্তমানে এইসব ব্যবস্থা আর নেই, বলাই বাহুল্য।

এই শহরটিতে বর্তমানে প্রায় ৫০০ টি বিল্ডিং আছে এবং প্রায় ৭,০০০ এর মত লোক বসবাস করে। তারা সকলেই এই বাড়িগুলির প্রতিটি তলা পেয়েছেন পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে।

এই প্রতিটি বাড়ি তৈরি হয়েছে মাটির ইট দিয়ে। তবে এই ইট বর্তমান সময়ের ইটের মত আগুনে পোড়ানো না।

মাটির সাথে খড় ও পানির মিশ্রণ করা হত, এরপরে একে নির্দিষ্ট আকৃতি দিয়ে রোদে শুকানো হত কয়েক দিন। মরুভুমির প্রচন্ড রোদে কিছুদিন পরেই ইটগুলি বাড়ি তৈরির উপযুক্ত হয়ে যেত।

সিঁড়ি, বিম এবং কাঠামোর সাপোর্টের জন্য কাঠ ব্যবহৃত হয়েছে। নিচের দেয়াল প্রস্থে অনেক মোটা এবং উপরের দিকে ক্রমশ পাতলা।

প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে বাড়িগুলির বাইরের দেওয়ালে চুনকাম করে দেওয়া হয়।

ব্যাস এতটুকুই যথেষ্ট। এভাবেই মাটির বহুতল ভবনগুলো শত শত বছর ধরে টিকে রয়েছে!

শিবাম শহরটি এক উন্নত ভার্নাকুলার আরবান ডিজাইনের উদাহরণ।

আর শহরের কাদামাটির টাওয়ার বাড়িগুলো ভার্নাকুলার আর্কিটেকচারের এক অসাধারণ নিদর্শন।

ভার্নাকুলার আর্কিটেকচার মানে হলো একটি অঞ্চলের স্থানীয় মানুষ দ্বারা, স্থানীয় উপকরণ (কাদামাটি, খড়, পানি, চুন, কাঠ, বাঁশ) ব্যবহার করে এবং স্থানীয় জলবায়ু/সংস্কৃতির প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মিত আর্কিটেকচার।

এগুলো সাধারণত কোনো প্রফেশনাল আর্কিটেক্ট দ্বারা নয়, স্থানীয় লোক বা কারিগররা নিজেরাই তৈরি করে।

এই ধরনের স্থাপনা অত্যন্ত টেকসই (Sustainable) এবং পরিবেশবান্ধব। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে শত শত বছর টিকে থাকে।

Captain Green


প্রকৃতিতে প্রাণীদের এমন কিছু অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য শক্তি আছে—শুনলে সত্যিই মাথা ঘুরে যাবে।

চলুন জানি কোন প্রাণির কি শক্তি বা ক্ষমতা আছে-

১. অক্টোপাস – রঙ বদলে অদৃশ্য হওয়া

অক্টোপাস মুহূর্তের মধ্যে নিজের রঙ ও গঠন বদলাতে পারে। শত্রুর সামনে একেবারে মিলিয়ে যায়—যেন জীবন্ত ক্যামোফ্লাজ!

২. পিঁপড়া – নিজের ওজনের ৫০ গুণ বেশি তুলতে পারে

একটি ছোট পিঁপড়া তার শরীরের তুলনায় বিশাল বোঝা বহন করে। মানুষের সাথে তুলনা করলে, যেন আপনি একাই ট্রাক তুলছেন!

৩. টিকটিকি – লেজ ফেলে বাঁচে

শত্রু ধরতে এলে টিকটিকি লেজ ফেলে পালায়। কিছুদিন পর আবার নতুন লেজ গজায়।

৪. হাঙর – বিদ্যুৎ অনুভব করার শক্তি

হাঙর পানির ভেতরে অন্য প্রাণীর শরীর থেকে আসা অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেতও অনুভব করতে পারে। অন্ধকারেও শিকার ধরতে পারে!

৫. ঈগল – অবিশ্বাস্য দৃষ্টি

ঈগল আকাশের অনেক উঁচু থেকে মাটিতে থাকা ছোট শিকারও দেখতে পায়। মানুষের চোখের চেয়ে প্রায় ৪–৫ গুণ বেশি শক্তিশালী।

৬. বাদুড় – চোখ ছাড়াই দেখা

বাদুড় ইকোলোকেশন ব্যবহার করে। শব্দ ছুঁড়ে দিয়ে তার প্রতিধ্বনি শুনে চারপাশ “দেখে” ফেলে।

৭. ব্যাঙ – শীতকালে বরফ হয়ে বেঁচে থাকে

কিছু ব্যাঙ শীতকালে পুরোপুরি বরফ হয়ে যায়, হৃদস্পন্দন থেমে যায়—কিন্তু বসন্তে আবার জীবিত!

৮. সাপ – তাপ দেখা

সাপ ইনফ্রারেড দৃষ্টি দিয়ে উষ্ণতা দেখতে পারে। অন্ধকারেও উষ্ণ দেহ চিনে নেয়।

৯. হাতি – দূর থেকে কম্পন বুঝে ফেলে

হাতি মাটির কম্পন দিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরের বিপদ বা সঙ্গীর উপস্থিতি বুঝতে পারে।

১০. শামুক – চরম ধৈর্যের শক্তি

শামুক মাসের পর মাস না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে।


শক্ত করে ঢাকনা লাগানো কৌটো বা সিলবন্ধ প্যাকেটে রাখা চাল-ডালে পোকা আসে কোথা থেকে!!

প্যাকেট বন্ধ চাল-ডালে পোকার ডিম ঢোকে মূলত চাষের ক্ষেত বা মজুত করার গুদাম থেকেই, ওইসময় চাল বা ডালের দানার গায়ে বা ভেতরেই স্ত্রী পোকা ডিম পেড়ে রেখে দেয়; ডিমগুলো খুব ছোট হয়, তাই চোখে পড়েনা, উপযুক্ত ঋতুতে এই ডিম প্যাকেটের ভেতরেই ফুটে পোকার শূককীট বা লার্ভা বের হয় এবং চাল-ডাল কেটে খেয়ে বড় হয়, এরপর পিউপা গঠন করে, তারপর ধরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় বিকশিত হয় ও চাল-ডাল ফুটো করে বেরিয়ে আসে।

সাধারণত উইভিল বলে পরিচিত ছোট বিটল জাতীয় পোকাগুলো চাল-ডালকে নির্ভর করে জীবনচক্র সম্পন্ন করে।

ক্ষেত বা গুদামে থাকা অবস্থায় স্ত্রী পোকা ডাল-চালের দানার ভেতরে ছোট্ট গর্ত করে ডিম পাড়ে এবং সেই গর্ত একটি শরীর নিঃসৃত সিমেন্টের মত আঠা জাতীয় পদার্থ দিয়ে বন্ধ করে দেয়।

উপযুক্ত ঋতুতে ডিম থেকে লার্ভার মাধ্যমে বিকশিত হয়ে বেরিয়ে আসা পূর্ণাঙ্গ পোকাগুলো অন্য চাল-ডালের দানা গুলোতে ডিম পাড়তে শুরু করে এবং চক্রটি চলতে থাকে।

বর্তামনে নিরাপদ উপায়ে এইসব পোকাদের প্রতিরোধ করতে এয়ার টাইট গুদামে বা প্যাকেটে নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে দেওয়া হয়, ফলে অক্সিজেনের অভাবে ডিম মরে যায়।


জাদুকরী এক ভাসমান শহর। কিন্তু এই জাদুর পেছনে লুকিয়ে আছে মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং দুঃসাহসিক এক প্রকৌশলগত বিস্ময়। ভেনিস আসলে জলের ওপর ভাসছে না, বরং এটি দাঁড়িয়ে আছে এক অদৃশ্য অরণ্যের ওপর অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ কাঠের খুঁটি, যা শহরের প্রতিষ্ঠাতারা শত শত বছর আগে নরম কাদা ভেদ করে শক্ত মাটিতে পুঁতে দিয়েছিলেন।

পঞ্চম শতাব্দীতে বর্বর আক্রমণ থেকে বাঁচতে একদল শরণার্থী অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের এই জলাভূমিতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু এখানকার নরম কাদা আর বালির ওপর কোনো স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তখনই তারা এক অবিশ্বাস্য সমাধান বের করেন। তারা ক্রোয়েশিয়া এবং স্লোভেনিয়ার জঙ্গল থেকে অ্যাল্ডার এবং ওক গাছের লক্ষ লক্ষ শক্তিশালী গুঁড়ি নৌকায় করে নিয়ে আসেন। এরপর সেই কাঠের খুঁটিগুলোকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কাদামাটির গভীরে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করানো হয়, যতক্ষণ না সেগুলো ‘ক্যর‍্যান্টো’ নামক এক কঠিন এঁটেল মাটির স্তরে পৌঁছায়। এই খুঁটিগুলো এতটাই ঘন করে পোঁতা হয়েছিল যে, তারা সম্মিলিতভাবে এক বিশাল এবং স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বিস্ময়টি হলো, কীভাবে এই কাঠের খুঁটিগুলো শত শত বছর ধরে জলের নিচে থেকেও পচে যায়নি? এর পেছনের বিজ্ঞানটি হলো, পচন প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, যা জলের নিচের কাদামাটিতে প্রায় অনুপস্থিত। অক্সিজেনের অভাবে কাঠ পচে যাওয়ার পরিবর্তে, লবণাক্ত জলের খনিজ পদার্থ ধীরে ধীরে কাঠের ভেতরে প্রবেশ করে এবং কাঠকে সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী ও পাথরের মতো কঠিন এক কাঠামোতে পরিণত করে, যা ‘পেট্রিফিকেশন’ বা প্রস্তরীভবন প্রক্রিয়ার সমতুল্য।


রাগের মাথায় কাউকে 'কথা' শোনানোর আগে ১০ সেকেন্ড ভাবুন—কথার কোনো 'ব্যাকস্পেস' বা 'ডিলিট' বাটন নেই; আপনার ২ মিনিটের রাগ একটা ২০ বছরের সম্পর্ককে চিরতরের জন্য শেষ করে দিতে পারে।

Anger is temporary, but the damage is permanent

বন্দুক থেকে বের হওয়া গুলি আর মুখ থেকে বের হওয়া বুলি—এই দুটো জিনিস দুনিয়ার কোনো শক্তিই আর ফেরত আনতে পারে না।

আমরা যখন রেগে যাই, তখন আমাদের হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়।

সেই মুহূর্তে আমরা এমন সব নিষ্ঠুর কথা বলে ফেলি, যা হয়তো আমরা মন থেকে মিন করি না।

কিন্তু সামনের মানুষটার হৃদয়ে সেই কথাগুলো তীরের মতো বিঁধে যায়।

রাগ কমে গেলে আপনি হয়তো "সরি" বলবেন, কিন্তু ওই মানুষটা আপনার বলা সেই জঘন্য কথাগুলো কোনোদিন ভুলতে পারবে না।

সম্পর্ক ভাঙতে হাতুড়ি লাগে না, শুধু কয়েকটা কটু কথাই যথেষ্ট।

#MotivationalQuotesBangla

মনে রাখবেন, কম্পিউটারে লেখা মুছতে 'Delete' বা 'Backspace' বাটন থাকে, কিন্তু জীবনে সেটা নেই।

একবার মুখ ফসকে যা বেরিয়ে যাবে, তা সারা জীবনের জন্য একটা ক্ষত হয়ে থেকে যাবে।

তাই রাগের সময় চুপ থাকাটা কোনো দুর্বলতা নয়, এটা হলো সম্পর্কের প্রতি আপনার সম্মান।

কেন রাগের মাথায় কথা বলা বন্ধ করবেন?

১. সম্পর্কের মৃত্যু (Death of Relationship)

২০ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা বিশ্বাস, ভালোবাসা আর সম্মান—সবকিছু ধুলোয় মিশিয়ে দিতে আপনার ২ মিনিটের রাগই যথেষ্ট।

রাগের মাথায় আপনি হয়তো জেতার জন্য তর্ক করছেন, কিন্তু তর্ক শেষে দেখবেন আপনি জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু আপনি মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছেন।

২. কথার ওজন (Weight of Words)

শারীরিক আঘাতের দাগ কিছুদিন পর শুকিয়ে যায়, কিন্তু কথার আঘাতের দাগ আমৃত্যু থেকে যায়।

আপনি হয়তো রাগের মাথায় কাউকে "অযোগ্য" বা "বাজে" বলে ফেললেন।

রাগ কমলে আপনি ভুলে যাবেন, কিন্তু ওই মানুষটা আয়নার সামনে দাঁড়ালেই আপনার ওই কথাগুলো তার কানে বাজবে।

#MotivationalQuotesBangla

৩. ১০ সেকেন্ডের সূত্র (The 10-Second Rule)

যখনই খুব রাগ হবে, সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না।

লম্বা শ্বাস নিন এবং মনে মনে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনুন।

নিজেকে প্রশ্ন করুন—"আমি এখন যা বলতে যাচ্ছি, তা কি ১০ মিনিট পর আমার ভালো লাগবে?"

দেখবেন, আপনার রাগের পারদ অনেকটাই নেমে গেছে।

শেষ কথা

রাগ মানুষের শত্রু, আর মৌনতা মানুষের শক্তি।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে মাঝে মাঝে হেরে যেতে হয়, চুপ থাকতে হয়।

কারণ ভালোবাসার মানুষটার চেয়ে আপনার ইগো বা রাগ বড় হতে পারে না।

নিজেকে বলুন—

"আমি আমার রাগের গোলাম নই, আমি আমার কথার মালিক।"


মানুষকে ‘মানুষ’ হিসাবে গড়ে তুলতে তাই সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল তার রান্নাঘর, 

বাঘ-সিংহ একবার পেট ভরানোর মতো খাদ্য পেয়ে গেলে দিন তিনেক না খেয়ে আরামসে কাটাতে পারে। ঐ একবার-খাওয়া খাদ্যই তার তিন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। গোরু একবার খায়, তারপর ঘন্টার পর ঘন্টা বসে বসে জাবর কাটে। জাবর না কাটলে তার খাবার হজম হয় না। অথচ মানুষ একবার পেট ভরে খেয়ে নিলেও পাঁচ-ছ’ঘন্টা পরে আবার তার খিদে পায়। তখন সে আবার খায়।

কেন?

কেননা মানুষ তার খাদ্য অন্যান্য পশুদের তুলনায় অনেক বেশি সহজে হজম করে ফেলতে পারে। আর সেই জন্য সে তিন দিনে যে পরিমাণ খাবার খায়, আর তা থেকে যে পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করে, তা শরীরের ওজন অনুপাতে বাঘ-সিংহ-গোরু-মোষের তুলনায় অনেক বেশি। এই শক্তির এক বিরাট অংশ পায় তার মস্তিষ্ক। ফলে বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় অনেক বেশি বিকশিত হয়েছে।

আর তাই মানুষ অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমান হয়েছে।

কেন মানুষ খাদ্য সহজে হজম করতে পারে? কেননা মানুষই একমাত্র শিখেছে খাবার-দাবার রান্না করতে। সেই যে সুদূর অতীতে সে শিখেছিল আগুন জ্বালাতে, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হয়েছে খাদ্যবস্তু ঝলসে নিতে। তাতে শক্তপোক্ত খাদ্যবস্তু নরম হয়েছে। অনেক বেশি সংখ্যক জিনিস তার খাদ্যে পরিণত হয়েছে এই জন্য। আর তাতে উপস্থিত বড় বড় অণুগুলো ভেঙে ছোট ছোট হয়েছে, যা সহজে হজমের উপযোগী। সে শিখেছে স্টার্চকে ‘জিলেটিনাইজ’ করে, প্রোটিনকে ‘ডিনেচার’ করে খেতে, যারা সহজে হজমযোগ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাতে যোগ হয়েছে লবণ, তেল-মশলা, ইত্যাদি। কিন্তু আসল ব্যাপারটা ওটাই – তাপ দিয়ে খাদ্যবস্তুকে সহজপাচ্য করে তোলা।

খেয়াল করে দেখুন, কাঁচা খাবার খেতে হলে শুধু তা হজম করার পেছনেই মেহনত কত! প্রচুর চিবাতে হয়, তার জন্য বড় বড় দাঁত লাগে, শক্তিশালী চোয়াল লাগে, অনেক বড় এবং জটিল পৌষ্টিকতন্ত্র লাগে। খাদ্য জোগাড় করার পেছনে মেহনত বাদ দিন, জোগাড়-হওয়া খাদ্য শুধু হজম করার পেছনেই খাদ্যের এক বড়সড় অংশ থেকে পাওয়া শক্তি খরচ করতে হয়। অথচ রান্না-করা খাবার সেই-অর্থে খানিকটা আদ্ধেক-হজম-হওয়া খাবার। কাঁচা খাবার হজমের প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত ব্যাপারগুলো ঘটে, তার বেশ কিছুটা রান্নার মধ্যেই সারা হয়ে যায় বলে মানুষের পক্ষে হজম ব্যাপারটা অনেক সহজ এবং এর পেছনে শক্তিব্যয় করতে হয় অনেক কম। তুলনামূলকভাবে ছোট ও সরল পৌষ্টিকতন্ত্র দিয়েই তা সম্ভব হয়। শক্তির এই ব্যয়সঙ্কোচ মানুষের কাজে লেগেছে মস্তিষ্ক ও কগনিশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় বিবর্তনের পেছনে খরচ করতে। ফলে সময়ের সঙ্গে পুষ্ট ও বৃহত্তর হয়েছে তার মস্তিষ্ক। কেবলমাত্র একটা দু-পেয়ে জানোয়ার থেকে সে ‘মানুষ’ হয়েছে।




জীবন যখন অতিরিক্ত গম্ভীর হয়ে যায়, তখন সব চাপ দূর করার জন্য লম্বা ধ্যানের চেয়ে একটু 'পাগলামি' করা বেশি কাজে দেয়। মস্তিষ্ক যখন জ্যাম হয়ে থাকে, তখন নিজেকে একটু হালকা করার কিছু মজার ও অদ্ভুত উপায় এখানে আলোচনা করা হলো৷

​১. "ভেজা কুকুরের" মতো শরীর ঝাড়া:

​প্রাণীরা কিন্তু ঠিক কাজটাই করে। কোনো চাপের মুখে পড়লে তারা শরীর ঝেড়ে সেটা দূর করে দেয়।

​কীভাবে করবেন: উঠে দাঁড়ান এবং ৩০ সেকেন্ডের জন্য আপনার হাত, পা এবং পুরো শরীর জোরে জোরে ঝাকান। ঠোঁট দিয়ে "ব্লুব-ব্লুব" শব্দ করুন। আপনি যখন গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরের মতো শরীর ঝাকাবেন, তখন নিজেকে খুব গম্ভীর কোনো মানুষ ভাবাটা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

​২. মারমুখী গুঞ্জন:

​সবচেয়ে নাটকীয় কোনো গানের সুর মাথায় নিন এবং আপনার বালিশের ভেতরে মুখ গুঁজে বা ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে করতে জোরে জোরে সেটি গুঞ্জন করুন।

​কেন করবেন: এই গুঞ্জন আপনার শরীরের ভেগাস নার্ভকে (vagus nerve) উদ্দীপিত করে, যা শরীরকে শিথিল করতে সাহায্য করে। আর শুনতে বেশ মজাও লাগে।

​৩. "বিচ্ছিরি ছবি" আঁকা:

​একটি কলম আর কাগজ নিন। মাত্র ৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তার কারণ বা ব্যক্তির একটি জঘন্য ছবি আঁকার চেষ্টা করুন।

​লক্ষ্য: ছবিটা যেন এতটাই বিচ্ছিরি হয় যে দেখে হাসি পায়। হাতগুলোকে নুডলসের মতো আর মাথাটাকে আলুর মতো আঁকুন। আপনার ভয়ের কারণকে যখন একটা আলুর মতো দেখাবে, তখন ভয়টা এমনিতেই কমে যাবে।

​৪. জড় পদার্থের সাথে কথা বলা:

​আপনার ঘরের ল্যাম্প, স্ট্যাপলার বা কোনো গাছের সাথে কথা বলুন। আপনার সারাদিনের গল্পটি তাদের কাছে খুব গম্ভীর কোনো ব্রিটিশ উচ্চারণে বা কোনো গোয়েন্দা সিনেমার মতো করে বর্ণনা করুন।

​কেন কাজ করে: মনের কথাগুলো বাইরে বের করে দিলে চিন্তা কমে, আর অদ্ভুত গলায় কথা বললে নিজের সমস্যাগুলোকে আর অত বড় মনে হয় না।

​৫. ৩০ সেকেন্ডের ড্যান্স পার্টি:

​এমন কোনো গান ছেড়ে দিন যা শুনলে এমনিতে নাচ আসে না।

​নিয়ম: আপনাকে খুব বাজেভাবে নাচতে হবে। যদি আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগে, তবে বুঝবেন নাচটা ভুল হচ্ছে! হাত-পা অদ্ভুতভাবে ছুড়ুন এবং পাগলের মতো লাফালাফি করুন।

​বিশেষ পরামর্শ: আপনি যদি অফিসে থাকেন এবং এসব করতে না পারেন, তবে "দ্য গ্রিঞ্চ স্মাইল" চেষ্টা করুন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখকে যতটা সম্ভব চওড়া আর অদ্ভুতভাবে বাঁকিয়ে হাসুন। আপনার মাংসপেশির এই অদ্ভুত ভঙ্গি মস্তিষ্ককে ধোঁকা দেয় এবং মনকে মুহূর্তেই কিছুটা হালকা করে দেয়।


ঈশ্বর কণা বলতে হিগস বোসন (Higgs Boson) কণাকে বোঝানো হয়, যা মহাবিশ্বের অন্যান্য মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করে এবং পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; এর আবিষ্কার মহাবিশ্বের গঠন ও ভরের রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করেছে, তাই একে 'ঈশ্বর কণা' বা 'গড পার্টিকেল' বলা হয়, যার নামকরণ মূলত বিজ্ঞানী পিটার হিগসের নামে হয়েছে।

কেন একে 'ঈশ্বর কণা' বলা হয়?

ভর প্রদানকারী: এই কণার সঙ্গে সম্পর্কিত 'হিগস ক্ষেত্র' (Higgs field) মহাবিশ্বের প্রায় সমস্ত মৌলিক কণাকে ভর দেয়, যা মহাবিশ্বের সবকিছুকে একটি নির্দিষ্ট আকার ও গঠন পেতে সাহায্য করে।

মহাবিশ্বের রহস্য:

হিগস বোসন কণার আবিষ্কার মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বস্তুর ভর সৃষ্টির মৌলিক রহস্য উন্মোচনের চাবিকাঠি, তাই এর গুরুত্ব বোঝাতে এমন নামকরণ।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

তত্ত্ব ও আবিষ্কার: ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানী পিটার হিগস ও তাঁর সহকর্মীরা এই কণার ধারণা দেন, এবং ২০১২ সালে CERN-এর লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার (LHC) পরীক্ষায় এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

স্ট্যান্ডার্ড মডেল:

এটি কণা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি অপরিহার্য অংশ, যা মৌলিক কণা ও তাদের মিথস্ক্রিয়া ব্যাখ্যা করে।

ঈশ্বর বিগ ব্যাং এবং ঈশ্বর কণা:

কণা হলো সেই মৌলিক কণা যা মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকে ভর দেয় এবং এর অস্তিত্বই আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বকে সম্ভব করেছে।

বা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে একটি অতি ঘন ও উত্তপ্ত বিন্দু থেকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি, যেখানে পদার্থ ও শক্তির বিকাশ ঘটেছিল। ঈশ্বর কণা (হিগস বোসন) সরাসরি বিগ ব্যাং-এর কারণ নয়, বরং মহাবিস্ফোরণের পর তৈরি কণাগুলোকে ভর প্রদান করে পদার্থ গঠনে সাহায্য করেছে, যা কণা পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

বিস্তারিত বিষয়সমূহ:

বিগ ব্যাং ও ঈশ্বর কণা: বিগ ব্যাং-এর মুহূর্তে বা ঠিক পরপরই যে প্রচণ্ড শক্তি ছিল, তা থেকে বিভিন্ন কণা তৈরি হয়। পরবর্তীতে এই কণাগুলো Higgs boson-এর মাধ্যমে ভর প্রাপ্ত হয়ে পরমাণু ও গ্যালাক্সি গঠনে সহায়তা করে।

বিগ ব্যাং তত্ত্ব:

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সমস্ত স্থান, কাল ও শক্তি একটি ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে প্রসারণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়েছে

আদিম কণা:

বিগ ব্যাং-এর পর আদিম কণাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই ধীরে ধীরে পদার্থ তৈরি হয়

সংক্ষেপে:

ঈশ্বর কণা হলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর কণাগুলোকে ভর দেওয়ার প্রক্রিয়া, আর বিগ ব্যাং হলো সেই শুরুর মাহেন্দ্রক্ষণ।

https://www.facebook.com/share/v/16rxAToirH/

তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী


আপনি সানস্ক্রিন মাখেন, ছাতা ব্যবহার করেন, কড়া রোদ এড়িয়ে চলেন। তবুও ইদানীং আয়নায় তাকালে মনে হয় ত্বকটা যেন ঝুলে যাচ্ছে (Sagging), গালের চামড়া কুঁচকে যাচ্ছে। বয়স ৩০ বা ৩৫ হওয়ার আগেই মনে হচ্ছে ৪০ ছুঁই ছুঁই। আপনি হয়তো ভাবছেন, "আমার স্কিন কেয়ারে নিশ্চয়ই কোনো বড় ভুল হচ্ছে।"

​না, আপনার সানস্ক্রিনে ভুল নেই। ভুলটা আছে আপনার বিকেলের নাস্তায় বা চায়ের কাপে। আপনার এই অকাল বার্ধক্যের নাম 'সুগার সাগ' (Sugar Sag)।

​আমরা জানি চিনি খেলে মোটা হয়, কিন্তু চিনি যে আমাদের ত্বককে ভেতর থেকে 'চুইংগামের' মতো টেনে নামিয়ে দেয়, তা অনেকেই জানি না। এর পেছনের বিজ্ঞানটা জানলে আপনি আজই মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দেবেন।

বিজ্ঞান কী বলে?

আমাদের ত্বক টানটান এবং বাউন্সি থাকে 'কোলাজেন' এবং 'ইলাস্টিন' নামের প্রোটিনের কারণে। এগুলো অনেকটা স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে, যা চামড়াকে টাইট রাখে।

​কিন্তু যখনই আপনি রসগোল্লা, কেক, বিস্কুট বা চিনি দেওয়া চা খান, সেই অতিরিক্ত সুগার বা গ্লুকোজ রক্তের মাধ্যমে ত্বকে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে এটি কোলাজেন প্রোটিনের সাথে আঠার মতো জড়িয়ে ধরে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ভয়ংকর প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'গ্লাইকেশন' (Glycation)।

​সহজ একটি উদাহরণ দিই—

চিনির শিরায় ডুবিয়ে রাখলে যেমন নরম পাউরুটি শক্ত এবং ভঙ্গুর (Brittle) হয়ে যায়, ঠিক তেমনি গ্লুকোজ আপনার ত্বকের নরম ও ফ্লেক্সিবল কোলাজেন ফাইবারগুলোকে শক্ত, ভঙ্গুর এবং কাঁচের মতো অনমনীয় করে ফেলে। ফলে আপনার ত্বকের সেই 'স্প্রিং' নষ্ট হয়ে যায়। তখন ত্বক আর মাধ্যাকর্ষণের (Gravity) সাথে পেরে ওঠে না, ঢিলা হয়ে ঝুলে পড়ে এবং ভাঁজ বা রিংকেলস দেখা দেয়।

আপনি ওপর থেকে যতই হাজার টাকার 'অ্যান্টি-এজিং' বা 'রিংকেল লিফটিং' ক্রিম মাখুন না কেন, যদি ভেতর থেকে চিনি আপনার কোলাজেনকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিতে থাকে, তবে কোনো লাভ হবে না। ফুটো বালতিতে পানি ভরার মতো অবস্থা হবে।

​তাই তারুণ্য ধরে রাখতে চান? পার্লার বা কসমেটিকস শপে যাওয়ার আগে রান্নাঘরে যান এবং চিনির কৌটাটা ডাস্টবিনে ফেলে দিন। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম নয়, 'নো-সুগার ডায়েট'-ই হলো আসল যৌবনের চাবিকাঠি।


প্রতিদিন অল্প কয়েকটা সিগারেটও হৃদরোগের ঝুঁকি স্পষ্টভাবে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণা অনুসারে, দিনে ১-৫ টি সিগারেট খাওয়া মানুষদের মধ্যেও হৃদরোগ, স্ট্রোক ও রক্তনালীর রোগের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে মাত্র ২-৫ সিগারেট খায়, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৪০%- ৫০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।এই ঝুঁকি ভারী ধূমপায়ীদের তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। অর্থাৎ কম ধূমপান করলেই ঝুঁকি নিরাপদ হয়ে যায় এমন ধারণা ভুল।

গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধু সিগারেট কমানো যথেষ্ট নয়। হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ত্যাগ করা। অল্প ধূমপানও নীরবে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক হৃদরোগের কারণ হতে পারে।



সাল ১৯৬৫।

জাপান তখন এক অদ্ভুত সময় পার করছে। যুদ্ধের ধ্বংস পেছনে ফেলে দেশজুড়ে নতুন রাস্তা হচ্ছে, ফুটপাথ হচ্ছে, ব্রিজ হচ্ছে, শহর বড় হচ্ছে। ১৯৬০-এর দশক মানেই জাপানের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিস্ফোরণ।চারদিকে উন্নয়ন, গতি, যন্ত্র, গাড়ি। সবাই ব্যস্ত, সবাই এগোচ্ছে।

কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার ভিড়ে একটা শ্রেণী ধীরে ধীরে আরও অসহায় হয়ে পড়ছিল। যারা দেখতে পায় না। নতুন রাস্তা মানে তাদের জন্য নতুন ঝুঁকি। হঠাৎ ফুটপাথ শেষ, হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া, হঠাৎ সিঁড়ি, চারদিক দিয়ে দ্রুতগতির গাড়ি। শহর যত আধুনিক হচ্ছিল, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের চলাচল তত বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল।

এই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে একজন মানুষ প্রশ্ন করেছিলেন।

এই শহর কি শুধু চোখওয়ালাদের জন্য?

এই প্রশ্নটাই এসেছিল Seiichi Miyake-এর মাথায়। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ ছিলেন না। কোনো ক্ষমতার মানুষও না। তিনি কেবল বাস্তবটা দেখেছিলেন। দেখেছিলেন, নতুন রাস্তা বানানো হচ্ছে কিন্তু সবাইকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। তখনই তিনি ভাবেন—যদি চোখ দিয়ে দেখা না যায়,

তাহলে কি পা দিয়ে রাস্তা “দেখা” সম্ভব নয়?

কি অসম্ভব সুন্দর ভাবনা।

এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় এক নীরব কিন্তু যুগান্তকারী আবিষ্কার।জাপানি ভাষয় বলে 点字ブロック (Tenji Block) তেনজি বুরোক্কু।জাপানি বর্ণমালায় ল ধ্বণি নাই।তাই ল এর যায়গায় র দিয়ে সেটা প্রকাশ করে।দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত।

এই তেনজি ব্লক ই চোখের বদলে পায়ের অনুভূতিকে ব্যবহার করে পথ দেখানোর এক মানবিক প্রযুক্তি।

দুই বছর ধরে ভাবনা, পরীক্ষা আর সংশোধনের পর ১৯৬৭ সালে, জাপানের Okayama শহরে প্রথমবারের মতো এই ব্লক বসানো হয়।

এটি কোনো সৌন্দর্যের জন্য না। কোনো ডিজাইনের জন্য না। শহর আধুনিক দেখানোর জন্যও না। একটাই উদ্দেশ্য।আর সেটা হলো ,দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ যেন নিজের পায়ে, নিজের সিদ্ধান্তে, নিরাপদে চলতে পারে।

এই ব্লক চোখে দেখার জন্য নয়। এটা পায়ে পড়ার ভাষা। গোল উঁচু দাগ মানে থামুন, সামনে বিপদ। লম্বা রেখা মানে এই পথ ধরে এগিয়ে যান। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ পা বা সাদা ছড়ির স্পর্শে এই সংকেত বুঝে নেয়, ঠিক যেমন আমরা চোখে সাইনবোর্ড পড়ি।

এখন প্রশ্ন আসে,এই ব্লক কেন হলুদ?

অন্য কোনো রঙ কেন নয়?

বাংলাদেশসহ অনেক দেশে মানুষ ভাবে, এটা বুঝি ডিজাইনের জন্য। রাস্তা সুন্দর করার জন্য। এই ধারণাটা শুধু ভুল না, ভয়ংকর রকমের অজ্ঞতা।

হলুদ রঙ বেছে নেওয়া হয়েছিল পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক কারণে। কম দেখা মানুষদের চোখে সবচেয়ে দ্রুত ধরা পড়ে হলুদ। ধূসর রাস্তা, কালো অ্যাসফল্ট বা কংক্রিটের ওপর হলুদই সবচেয়ে বেশি কনট্রাস্ট তৈরি করে। কম আলো, বৃষ্টি বা কুয়াশার মধ্যেও হলুদ আলাদা করে চোখে পড়ে। তাই জাপান সিদ্ধান্ত নেয় ,এই ব্লক শুধু থাকলেই হবে না, চোখে পড়তেই হবে। আজ এই রঙই আন্তর্জাতিক মান।

কিন্তু আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন। বাংলাদেশে অনেকেই জানেই না এটা কী। কেউ জানলেও ভাবে এটা সাজানোর ইট। কেউ এর ওপর দোকানের মাল রাখে, কেউ মোটরসাইকেল তোলে। সবচেয়ে দুঃখের ও আফসোসের কথা হলো আমাদের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে এসব নিয়ে কিছু লেখেনি।মুরব্বি বা শিক্ষিত সমাজ ও জানেনা এটা কেন।

আমরা পড়ি কার বাবা কী করেছেন, কার মা কী করেছেন, কার স্বামী কোন ইতিহাসে ছিলেন। সরকার বদলালে ইতিহাসও বদলায়। একটার জায়গায় আরেকটা ঢোকে। এই কাদাছোড়াছুড়ির ভেতর আমরা ধীরে ধীরে একটা বিকলাঙ্গ প্রজন্ম তৈরি করছি—যাদের মধ্যে কৌতূহল নেই, প্রশ্ন নেই, মানবিক চিন্তা নেই।

জাপান আমাদের একটা নীরব শিক্ষা দেয়। সভ্যতা মানে শুধু উঁচু দালান বা বড় বড় কথা না। সভ্যতা মানে এমন শহর বানানো, যেখানে সবচেয়ে দুর্বল মানুষটাও নিরাপদে চলতে পারে। এই হলুদ ব্লক কোনো ইট না। এটা কারো চোখ।

একজন মানুষের ভাবনা, এক শহরের রাস্তা।

আজ সারা পৃথিবীকে পথ দেখাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু এর ওপর দিয়ে হেঁটে যাব, নাকি একদিন থেমে বোঝার চেষ্টা করব—পায়ের নিচে থাকা এই নীরব ইতিহাসটা আসলে কী বলে?

আমরা কি এমন কোনো আবিষ্কার করে পৃথিবীকে বলতে পারবো আরবীয়রা যে আমাদের মিসকিন ,ভিখারি বলে এটা হয়তো সত্য কিন্তু জ্ঞানের দিক দিয়ে ,জানার দিক দিয়ে আমরা ভিখারি নই।

শাহীন আকন


ডিএনএ হলো ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিডের সংক্ষিপ্তরূপ। আমাদের দেহের প্রতিটি কোষের ভেতর রয়েছে এই দ্বি-সূত্রাকার রাসায়নিক যৌগ। পলিমারের মতো একত্রে বন্ধন তৈরি করে জীবনের স্থায়ী নীলনকশা তৈরি করে এই ক্ষারজাতীয় যৌগ। এর মধ্যে চারটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষার রয়েছে। তারা একে অন্যের সঙ্গে জুটি বাঁধে, একে বেসপেয়ার বা জোড়াবদ্ধ ক্ষার বলে। মানুষের ডিএনএতে প্রায় ৩ বিলিয়ন বেসপেয়ার রয়েছে। এরা একটি আরেকটির সঙ্গে পেঁচিয়ে থাকে। যৌগগুলোর সম্পূর্ণ সেটটি জিনোম নামে পরিচিত। যেকোনো মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের জিনোমের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশই হুবহু একরকম। তবে সামান্য শূন্য দশমিক ১ শতাংশ পার্থক্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে একজনের সঙ্গে আরেকজনের চেহারা, আচরণ ও বংশগতভাবে পার্থক্য তৈরি করে দেয়। এই পার্থক্যটাই ব্যবহার করা হয় ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে।

মানুষের জিনোমের ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রকাশ করতে কিছু রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ডিএনএর ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক টুকরা তথ্যই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে কিংবা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারে। এ ছাড়া কোনো পুরোনো বা নষ্ট হওয়া মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যেতে পারে এই পদ্ধতিতে।

ধরা যাক, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে অপরাধ সংঘটনের স্থান থেকে প্রাপ্ত জেনেটিক নমুনা এবং সন্দেহভাজনের জেনেটিক নমুনাকে সংগ্রহ করা হবে। তারপর ১৩টি মূল STR-এর জন্য স্ক্যান করা হবে এগুলোকে। STR হলো জিনোমে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ২-৬টি নিউক্লিওটাইড-দীর্ঘ অনুক্রমের পুনরাবৃত্তি সংগ্রহ। যেহেতু STR-এর পুনরাবৃত্তিগুলো দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এই জেনেটিক মার্কারের সেট প্রতিটি ব্যক্তির আলাদা হয়। এই বৈশিষ্ট্য STR-কে একটি অনন্য ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট হিসেবে আদর্শ করে তোলে।

টিভি সিরিজের সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক। একটি এএনএ বিশ্লেষক মেশিনে অপরাধীর চুল, নখ বা অন্য কোনো নমুনার কিছু অংশ প্রবেশ করিয়ে অপরাধীর চেহারা কেমন, তার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সম্প্রতি একদল ডাচ গবেষকেরা নতুন একটি পরীক্ষা-পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। অপরাধ সংঘটিত স্থান থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনাকে পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তির চোখের রং শনাক্ত করা যায় এ পদ্ধতিতে। ছয়টি নির্দিষ্ট এসএনপিকে ব্যবহার করা হয় অপরাধীর চোখের রং শনাক্ত করতে। কিন্তু পরীক্ষাটি ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর জিনোমের নকশার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তাই আরও বিচিত্র জনগোষ্ঠীর জন্য এটা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তা ছাড়া শুধু চোখের রঙের মিলের কারণেই কারও কাউকে দোষী করা যায় না। পরীক্ষাটি শুধু অপরাধীকে খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি অত্যন্ত নির্ভুল পদ্ধতি। বেশির ভাগ দেশে এখন ঠিক একইভাবে ডিএনএ রেকর্ডগুলো রাখে, ঠিক যেমন পুলিশ আসল ফিঙ্গারপ্রিন্টের অনুলিপি রাখে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এর আরও ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, যেমন কোনো রোগীর হয়তো অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য দাতার দেহের টিস্যুর সঙ্গে গ্রহীতার টিস্যুর ম্যাচিং করতে হয়। এ কাজ দ্রুত করা যায় ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে। পারিবারিকভাবে যেসব রোগ বংশানুক্রমে ছড়ায়, সেগুলো সহজে শনাক্ত ও নিরাময়েও এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা সহজ। তবে ফরেনসিক বিজ্ঞান মূলত একটি সম্ভাব্যতা-নির্ভর বিজ্ঞান, এমনকি এটি নিশ্চিতভাবে অপরাধী শনাক্ত করতে পারে না। তাই চেষ্টা চলছে এই পদ্ধতিকে আরও নিখুঁত করে তোলার।


বেশিরভাগ মানুষই এটা বুঝতে পারে না, কিন্তু চোখের মাইট নামক ক্ষুদ্র প্রাণী মানুষের ত্বকে, বিশেষ করে চোখের পাপড়ি এবং চোখের পাতার চারপাশে বাস করে। এই মাইটগুলিকে ডেমোডেক্স বলা হয় এবং প্রায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্কেরই এগুলি থাকে।


এগুলি এত ছোট যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া এগুলি দেখা যায় না এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি কোনও ক্ষতি করে না।


চোখের মাইট চোখের কাছে লোমকূপ এবং তেল গ্রন্থির ভিতরে বাস করে। তারা প্রাকৃতিক ত্বকের তেল খায় এবং ত্বকের কোষ নষ্ট করে, যা আসলে তাদের বেঁচে থাকার একটি অংশ।


এই মাইটগুলি রাতে বেশি সক্রিয় থাকে, যার কারণে কিছু লোক সকালে চোখ চুলকানি বা জ্বালাপোড়া লক্ষ্য করতে পারে। ঘুমের সময় তারা নড়াচড়া করে এবং খায়, তারা ফলিকলের ভিতরে বর্জ্যও রেখে যায়।


বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে, এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকারক নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মাইটের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাই কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। সমস্যাগুলি তখনই শুরু হয় যখন মাইটের সংখ্যা খুব বেশি হয়ে যায়। এই অবস্থাকে ডেমোডেক্স ওভারগ্রোথ বলা হয়।


যখন খুব বেশি মাইট থাকে, তখন মানুষের চোখের পাতা চুলকানো, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া, চোখের পাতায় খসখসে ভাব, অথবা চোখে কৃশতা অনুভব করার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর। চোখের পাতার দুর্বল পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া, বার্ধক্য, অথবা ত্বকের কিছু নির্দিষ্ট অবস্থা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


সুসংবাদ হল, চোখের মাইটের সমস্যাগুলি চিকিৎসাযোগ্য। ডাক্তাররা প্রায়শই চোখের পাতা হালকাভাবে পরিষ্কার করার, ঔষধযুক্ত ওয়াইপ দেওয়ার বা মাইটের সংখ্যা কমাতে নির্দিষ্ট চিকিৎসার পরামর্শ দেন। চোখের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলাও সাহায্য করতে পারে।


সংক্ষেপে, চোখের মাইট মানুষের ত্বকের একটি প্রাকৃতিক অংশ, এবং বেশিরভাগ মানুষ কখনও না জেনেই তাদের সাথে থাকে। ভারসাম্য হারিয়ে গেলেই এগুলি কেবল একটি সমস্যা হয়ে ওঠে, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সহজ স্বাস্থ্যবিধি এবং যত্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

from Al Mamun  


মদ না খেয়েও মাতাল হওয়ার ঘটনা শুনতে অসম্ভব মনে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি একটি বাস্তব ও অত্যন্ত বিরল সমস্যা, যার নাম 'অটো-ব্রুয়ারি সিন্ড্রোম' (ABS)।

সম্প্রতি 'নেচার মাইক্রোবায়োলজি' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো এই রোগের মূল কারণ এবং শরীরের ভেতরের সেই 'লুকানো কারখানা'টি খুঁজে পেয়েছেন। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর গবেষকরা জানিয়েছেন, আমাদের পেটের ভেতরে থাকা কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া Carbohydrates জাতীয় খাবারকে অ্যালকোহলে রূপান্তরিত করে ফেলে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করেও মাতাল হয়ে পড়েন, যা তাদের জীবনে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, এমনকি আইনি ঝামেলারও সৃষ্টি করে। এতদিন এই রোগটি সম্পর্কে চিকিৎসকদের স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় এবং রোগ নির্ণয় করা কঠিন ছিল বলে রোগীরা বছরের পর বছর ভুল চিকিৎসার শিকার হতেন, কিন্তু নতুন এই গবেষণা তাদের জন্য এক বিশাল আশার আলো নিয়ে এসেছে।

দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ভেঙে গবেষকরা এবার নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়াকে এই সমস্যার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার মধ্যে 'এসচেরিচিয়া কোলাই' (E. coli) এবং 'ক্লেবসিলেলা নিউমোনি' (Klebsiella pneumoniae) অন্যতম। গবেষণায় ২২ জন আক্রান্ত রোগীর সাথে তাদের সুস্থ পরিবার-সদস্য এবং অন্যান্য সুস্থ মানুষের তুলনা করে দেখা গেছে যে, যখন রোগের প্রকোপ বাড়ে, তখন রোগীদের অন্ত্রে থাকা এসব ব্যাকটেরিয়া সাধারণ খাবারকে দ্রুত গাজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে অ্যালকোহলে পরিণত করে সরাসরি রক্তে মিশিয়ে দেয়। যদিও সাধারণ মানুষের হজম প্রক্রিয়ায় খুব সামান্য অ্যালকোহল তৈরি হতে পারে, কিন্তু ABS আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে তারা মাতাল বোধ করেন। এতদিন রোগ নির্ণয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতো, যা সব জায়গায় পাওয়া যেত না; তবে এই গবেষণায় দেখা গেছে যে মলের নমুনা পরীক্ষা করেই ভবিষ্যতে এই রোগটি অনেক সহজে ও সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এই গবেষণার সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া। গবেষকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখেছেন যে, প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না হওয়া একজন রোগীকে 'ফিকাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্লান্টেশন' (সুস্থ মানুষের অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া রোগীর শরীরে স্থাপন) করার পর তার অবস্থার জাদুকরী উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়বার এই ট্রান্সপ্লান্ট এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পর তিনি টানা ১৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং তার শরীরে আর কোনো উপসর্গ দেখা দেয়নি। গবেষক এলিজাবেথ হোম্যানের মতে, এই পদ্ধতিটি অটো-ব্রুয়ারি সিন্ড্রোমের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে এখন এই বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষেরা দ্রুত সঠিক রোগ নির্ণয়, উন্নত চিকিৎসা এবং একটি সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

Team Science Bee

World Vision (বিশ্ব দর্শন)


"অমুকে পারলে তুমি কেন পারো না?" — এই একটা লাইন আমাদের দেশে কত হাজার ট্যালেন্টকে যে কবর দিয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই!

খুব সাধারণ একটা ছবি (কিংবা কনসেপ্ট), কিন্তু এর পেছনের মেসেজটা আমাদের পুরো সোশ্যাল স্ট্রাকচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।

আমাদের দেশে খুব অসুস্থ একটা প্র্যাকটিস বা অলিখিত নিয়ম আছে। কম্পেয়ার করা। পাশের বাসার আন্টি বা নিজের বাবা-মা, সবাই এক বুলি আওড়ায়— "ও জিপিএ-৫ পাইছে, তুমি কেন পেলে না? ওর স্যালারি এত, তোমার কেন না?"

আমরা ভুলে যাই, সবার মেন্টাল বা ফিজিক্যাল ক্যাপাবিলিটি এক হয় না। ইটস ইম্পসিবল।

আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত কথাটা মনে আছে? "সবাই জিনিয়াস। কিন্তু আপনি যদি একটা মাছকে গাছে ওঠার যোগ্যতা দিয়ে বিচার করেন, তবে সে সারাজীবন নিজেকে অপদার্থ ভেবেই বাঁচবে।"

কারণ মাছের কাজ গাছে ওঠা না, তার রাজত্ব হলো পানিতে। ঠিক উল্টোটা বানরের ক্ষেত্রে। কিন্তু আমাদের সমাজ জোর করে ওই মাছকে গাছেই উঠাতে চায়।

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন:

-যে ছেলেটা পড়াশোনায় হয়তো খুব একটা ভালো না, তার গানের গলা হয়তো অদ্ভুত সুন্দর।

-ক্লাসের যেই মেয়েটা লাস্ট বেঞ্চে বসে, কোনো পড়া পারে না—খেলার মাঠে হয়তো তাকেই কেউ হারাতে পারে না।

-কারো হয়তো ম্যাথ দেখলেই জ্বর আসে, হাত কাঁপে—কিন্তু সেই হাতই যখন রংতুলি ধরে, তখন মাস্টারপিস তৈরি হয়।

সমস্যাটা হলো, আমরা সবাই সবার থেকে আলাদা—এটা মানতে চাই না। আমরা সবাইকে এক পাল্লায় মাপি। আমাদের মাপকাঠি একটাই—হয় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, নাহলে বিসিএস ক্যাডার।

এর বাইরে যেই ছেলেটা বা মেয়েটা অন্য কিছুতে বেস্ট, তাকে আমরা 'অকর্মা', 'বাজে ছাত্র' বা 'লুজারের' ট্যাগ লাগিয়ে দেই।

ফলাফল?

দেশের সেরা শিল্পী বা খেলোয়াড় হওয়ার পটেনশিয়াল থাকা মানুষটা তার কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে। সে তখন হতাশ হয়ে সমাজের সেট করে দেওয়া ওই তথাকথিত "সোনার টুকরা" হওয়ার ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার জন্য দৌড়াতে থাকে। দিনশেষে আমরা পাই একজন হতাশ ব্যাঙ্কার বা অযোগ্য ইঞ্জিনিয়ার, আর হারিয়ে ফেলি একজন অসাধারণ আর্টিস্টকে।

কাউকে এক মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা বন্ধ করুন। এভরিওয়ান ইজ ইউনিক। যে যেই জায়গায় ভালো, তাকে সেই আকাশটায় উড়তে দিন। বিশ্বাস করেন, জোর করে মাছকে গাছে ওঠানোর চেয়ে, তাকে পানিতে ছেড়ে দিলে সে অনেক বেশি ভালো পারফর্ম করবে।

আসুন, জাজমেন্টাল না হয়ে একটু সাপোর্টিভ হই।


"অমুকে পারলে তুমি কেন পারো না?" — এই একটা লাইন আমাদের দেশে কত হাজার ট্যালেন্টকে যে কবর দিয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই!

খুব সাধারণ একটা ছবি (কিংবা কনসেপ্ট), কিন্তু এর পেছনের মেসেজটা আমাদের পুরো সোশ্যাল স্ট্রাকচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়।

আমাদের দেশে খুব অসুস্থ একটা প্র্যাকটিস বা অলিখিত নিয়ম আছে। কম্পেয়ার করা। পাশের বাসার আন্টি বা নিজের বাবা-মা, সবাই এক বুলি আওড়ায়— "ও জিপিএ-৫ পাইছে, তুমি কেন পেলে না? ওর স্যালারি এত, তোমার কেন না?"

আমরা ভুলে যাই, সবার মেন্টাল বা ফিজিক্যাল ক্যাপাবিলিটি এক হয় না। ইটস ইম্পসিবল।

আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত কথাটা মনে আছে? "সবাই জিনিয়াস। কিন্তু আপনি যদি একটা মাছকে গাছে ওঠার যোগ্যতা দিয়ে বিচার করেন, তবে সে সারাজীবন নিজেকে অপদার্থ ভেবেই বাঁচবে।"

কারণ মাছের কাজ গাছে ওঠা না, তার রাজত্ব হলো পানিতে। ঠিক উল্টোটা বানরের ক্ষেত্রে। কিন্তু আমাদের সমাজ জোর করে ওই মাছকে গাছেই উঠাতে চায়।

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন:

-যে ছেলেটা পড়াশোনায় হয়তো খুব একটা ভালো না, তার গানের গলা হয়তো অদ্ভুত সুন্দর।

-ক্লাসের যেই মেয়েটা লাস্ট বেঞ্চে বসে, কোনো পড়া পারে না—খেলার মাঠে হয়তো তাকেই কেউ হারাতে পারে না।

-কারো হয়তো ম্যাথ দেখলেই জ্বর আসে, হাত কাঁপে—কিন্তু সেই হাতই যখন রংতুলি ধরে, তখন মাস্টারপিস তৈরি হয়।

সমস্যাটা হলো, আমরা সবাই সবার থেকে আলাদা—এটা মানতে চাই না। আমরা সবাইকে এক পাল্লায় মাপি। আমাদের মাপকাঠি একটাই—হয় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, নাহলে বিসিএস ক্যাডার।

এর বাইরে যেই ছেলেটা বা মেয়েটা অন্য কিছুতে বেস্ট, তাকে আমরা 'অকর্মা', 'বাজে ছাত্র' বা 'লুজারের' ট্যাগ লাগিয়ে দেই।

ফলাফল?

দেশের সেরা শিল্পী বা খেলোয়াড় হওয়ার পটেনশিয়াল থাকা মানুষটা তার কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে। সে তখন হতাশ হয়ে সমাজের সেট করে দেওয়া ওই তথাকথিত "সোনার টুকরা" হওয়ার ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার জন্য দৌড়াতে থাকে। দিনশেষে আমরা পাই একজন হতাশ ব্যাঙ্কার বা অযোগ্য ইঞ্জিনিয়ার, আর হারিয়ে ফেলি একজন অসাধারণ আর্টিস্টকে।

কাউকে এক মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা বন্ধ করুন। এভরিওয়ান ইজ ইউনিক। যে যেই জায়গায় ভালো, তাকে সেই আকাশটায় উড়তে দিন। বিশ্বাস করেন, জোর করে মাছকে গাছে ওঠানোর চেয়ে, তাকে পানিতে ছেড়ে দিলে সে অনেক বেশি ভালো পারফর্ম করবে।

আসুন, জাজমেন্টাল না হয়ে একটু সাপোর্টিভ হই।


যারা ভেতর থেকে খুব অসুখী, তারা প্রতিদিনের কথাবার্তায় অজান্তেই এমন কিছু কথা বলেন যা তাদের মানসিক অবস্থা প্রকাশ করে।

​গভীরভাবে অসুখী মানুষেরা সাধারণত যে ১০টি কথা বলেন তা হলো-

​১. "লাভ কী?":

এটি কেবল একটি সাধারণ প্রশ্ন নয়; এটি জীবনের প্রতি নিস্পৃহতা প্রকাশ করে। যখন কেউ বারবার এটি বলেন, তখন বোঝা যায় তিনি ভবিষ্যতে ভালো কিছু হওয়ার আশা হারিয়ে ফেলেছেন।

​২. "জীবনটাই এমন":

এটি এক ধরণের মেনে নেওয়া বা আত্মসমর্পণ। ব্যক্তি যখন মনে করেন যে দুঃখ বা সমস্যা তার জীবনেরই অংশ এবং এটি পরিবর্তনের কোনো উপায় নেই, তখন তিনি এই বাক্যটি ব্যবহার করেন।

​৩. "আমি শুধু একটু ক্লান্ত, আর কিছু না":

শারীরিক ক্লান্তির চেয়েও এটি মানসিক অবসাদ লুকাতে বেশি ব্যবহৃত হয়। মনের ভেতরের ভারী দুঃখ বা বিষণ্ণতা সরাসরি বলতে না পেরে মানুষ প্রায়ই একে 'ক্লান্তি' হিসেবে চালিয়ে দিতে চান।

​৪. "আমি জানতাম এমনই হবে":

এটি নেতিবাচক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। কোনো কাজ শুরু করার আগেই ব্যর্থতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা বা ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনাকে শুরুতেই নাকচ করে দেওয়া অসুখী মনের লক্ষণ।

​৫. "ভালোই তো" বা "খুব তো ভালো":

অন্যের সাফল্য বা আনন্দ দেখে অভিনন্দন জানানোর বদলে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই কথাটি বলা। এটি নিজের জীবনের অপূর্ণতা এবং অন্যের প্রতি সূক্ষ্ম ঈর্ষা থেকে আসতে পারে।

​৬. "আমি আর এসবে পরোয়া করি না":

এটি হতাশার চূড়ান্ত পর্যায়। যখন কোনো মানুষ বারবার হোঁচট খায় বা কষ্ট পায়, তখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে সবকিছুর ওপর থেকে মায়া কাটিয়ে ফেলার ভান করে।

​৭. "কিছুই তো বদলায় না":

এটি আটকে থাকার অনুভূতি। মানুষ যখন মনে করে তার পরিস্থিতি বা জীবন কখনোই উন্নত হবে না, তখন সে এই ধরণের নৈরাশ্যবাদী কথা বলে।

​৮. "আমি ঠিক আছি":

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কিন্তু সম্ভবত সবচেয়ে বড় মিথ্যা। যখন কেউ তার আসল অনুভূতি আড়াল করতে চায় বা কাউকে তার সমস্যার কথা বলে বিরক্ত করতে চায় না, তখন সে "আমি ঠিক আছি" বলে এড়িয়ে যায়।

​৯. "সবই আমার ভাগ্য":

নিজের জীবনের অপ্রাপ্তি বা সমস্যার জন্য সবসময় ভাগ্যকে দোষ দেওয়া। এটি আসলে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার একটি মানসিক সংকেত।

​১০. "সবাই তো স্বার্থপর" বা "কাউকে বিশ্বাস করা যায় না":

মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা। যখন কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে, তখন সে পৃথিবীকে কেবল একটি খারাপ জায়গা হিসেবে দেখতে শুরু করে এবং অন্যদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।

​•

এই কথাগুলো সরাসরি কোনো সাহায্যের ডাক না হলেও এগুলো মনের গভীরের অসুখী হওয়ার লক্ষণ। যদি কেউ আপনার আশেপাশে নিয়মিত এই ধরণের কথা বলেন, তবে তাদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া এবং তাদের কথা শোনার চেষ্টা করা জরুরি। অনেক সময় মানুষ কেবল চায় কেউ একজন তার মনের কথাটি শুনুক।



সাস্টেনেবল খাদ্য উৎপাদন বললে আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে পশুপালন-কে! শাকসবজি বা শস্য আবাদ-কে না! পশুপালন হচ্ছে সবার আগে। শুধু শাকসবজি বা শস্য আবাদ দিয়ে টেকসই কৃষি সম্ভব না। শাকসবজি বা শস্য বা হাঁসমুর্গি হলো সেকেন্ডারি।

গরু,ছাগল, ভেড়া, মহিষ ইত্যাদি পশুপালন বাদ দিয়ে শুধু বেগুন, ফুলকপি, লালশাক, পালংশাক, পেঁয়াজ, আলু, পটল চাষ করে কোনো মানুষ জিন্দেগীতেও স্বনির্ভর ও টেকসই হতে পারবেনা।

উপমহাদেশে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যর দিকে তাকালেই আপনার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখন কৃষকের ব্যাংক ছিল না, সাবসিডি ছিল না, কেমিক্যাল সার ছিল না, কিন্তু কৃষক ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ!

কিভাবে?

কারণ তার কাছে পশু ছিল।

যে কৃষকের একটা গরু ছিল সে ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ।

গবাদিপশুই ছিলো কৃষকের শক্তি, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ।

আলু, পটোল, সিম, বরবটি, করল্লা না!

পশুপালনই কৃষকের মেরুদণ্ড। পশুপালনের পাশাপাশি কৃষক সহায়ক বা সেকেন্ডারি হিসেবে শাকসবজি করতো। আর এই শাকসবজি বা শস্য উৎপাদনটা কৃষক সুন্দরভাবে করতে পারতো এই পশুপালনের ওপর ভর করেই।

পশু না থাকলে ভালো ফসল হতো না, মাটিতে প্রাণ থাকতো না, কৃষকের স্বাধীনতাও থাকতো না।

আজ আমরা উল্টো পথে হাঁটছি।

পশুপালন বাদ দিয়ে কৃত্রিম সার, হাইব্রিড বীজের আমদানিনির্ভর কৃষির ফাঁদে পড়েছি! আমাদের মাটি মরে গেছে, কৃষক ঋণগ্রস্ত, খাদ্য নিরাপত্তা ভালনারেবল!

আমি ক্যাপ্টেন গ্রিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি স্বনির্ভর ও টেকসই থাকতে গেলে পশুপালন প্রাইমারি, ফসল সেকেন্ডারি হতে হবে। এটাই ছিল আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এটাই মিশন ক্যাপ্টেন গ্রিন!

Captain Green


আমাদের চারপাশে এখন এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। সবাই ছুটছে। কেউ বিত্তের পেছনে, কেউ খ্যাতির পেছনে, আবার কেউ ক্ষমতার পেছনে। কিন্তু এই ছুটাছুটির মাঝে আমরা কি আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি হারিয়ে ফেলছি না? সেটি হলো— "শান্তি"।

সাফল্যের সংজ্ঞা কি কেবলই সংখ্যা?

অনেকে মনে করেন, রাত জেগে কাজ করা, শরীরের ওপর অত্যাচার করা আর অন্যের অধিকার হরণ করে উপরে ওঠাই হলো সাফল্য। কিন্তু একটু গভীরভাবে ভেবে দেখুন তো—

যে টাকা আপনাকে রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেয় না, সেই টাকা কি আদেও কোনো সুখ আনে?

যে পদমর্যাদা পেতে গিয়ে আপনি কাছের মানুষদের চোখের জল ঝরিয়েছেন, সেই চেয়ারে বসে কি তৃপ্তি পাওয়া যায়?

বিবেকের আদালত ও প্রশান্তির ঘুম

প্রকৃত সাফল্য আসে তখন, যখন দিনশেষে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বলা যায়— "আজ আমি কারো ক্ষতি করিনি।" আমাদের শরীর একটি আমানত, আর ঘুম হলো সেই আমানতের বিশ্রাম। আপনি যদি অন্যের শান্তি নষ্ট করে নিজের প্রাসাদ গড়েন, তবে সেই প্রাসাদের দেয়াল আপনাকে সারারাত অভিশাপ দেবে।

সাফল্য মানে কেবল জয় নয়; সাফল্য মানে সঠিক পথে টিকে থাকা।

কিছু প্রশ্ন নিজের জন্য:

১. আপনার অর্জিত সাফল্য কি আপনাকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখছে?

২. আপনার কারণে কি অন্য কারো রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে?

৩. বালিশে মাথা রাখার ৫ মিনিটের মধ্যে কি আপনার চোখে ঘুম আসে?

মনে রাখবেন, পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বিছানা কেনা যায়, কিন্তু নিশ্চিন্ত ঘুম কেনা যায় না। সেটি অর্জন করতে হয় সততা আর ভালোবাসা দিয়ে।

তাই আসুন, এমন সফলতার পেছনে না ছুটি যা আমাদের অমানুষ বানিয়ে দেয়। বরং এমন কিছু করি যাতে নিজে শান্তিতে ঘুমানো যায় এবং অন্যকেও শান্তিতে রাখা যায়।

আপনার মতামত কী? সাফল্যের জন্য কি ঘুমের ত্যাগ অপরিহার্য, নাকি মানসিক শান্তিই আসল জয়?


আপনি কি জানেন, বড় কোনো কর্মকর্তার সাথে প্রথম সাক্ষাতের প্রথম ৩০ সেকেন্ডেই নির্ধারিত হয়ে যায় আপনার প্রমোশন বা ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ? অধিকাংশ মানুষ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সঠিক শিষ্টাচার না জানার কারণে বড় কর্মকর্তাদের কাছে নিজের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেন। এই ১৫টি শিষ্টাচার জানলে আপনি যেকোনো প্রফেশনাল মিটিংয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে পারবেন।

আপনার চেয়ে পদমর্যাদায় বড় বা উচ্চপদস্থ কোনো ব্যক্তির সাথে দেখা করার সময় পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার বা 'নরমস' বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. সময়ানুবর্তিতা (Punctuality)

নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করুন। উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সময় অত্যন্ত মূল্যবান, তাই আপনার কারণে তাদের সময় নষ্ট হওয়া আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রকাশ করে।

২. পূর্ব প্রস্তুতি (Preparation)

সাক্ষাতের উদ্দেশ্য এবং আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আগে থেকেই স্বচ্ছ ধারণা রাখুন। কোনো তথ্য বা রিপোর্টের প্রয়োজন হলে তা সাথে রাখুন যাতে প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেওয়া যায়।

৩. পোশাক-পরিচ্ছদ (Professional Attire)

পরিবেশের সাথে মানানসই এবং মার্জিত পোশাক পরিধান করুন। আপনার পোশাক আপনার ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন ঘটায়।

৪. দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো (Standing to Greet)

তিনি যখন কক্ষে প্রবেশ করবেন বা আপনি যখন তার সামনে যাবেন, তখন দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানানো একটি মৌলিক শিষ্টাচার। তিনি বসার ইঙ্গিত দিলে বা তিনি নিজে বসার পর আপনি বসুন।

৫. অভিবাদন ও সঠিক সম্বোধন (Addressing with Respect)

সঠিক পদবি বা সম্মানসূচক শব্দ (যেমন- স্যার, ম্যাম বা জনাব) ব্যবহার করে অভিবাদন জানান। অতি-ঘনিষ্ঠতা বা নাম ধরে ডাকা থেকে বিরত থাকুন, যদি না তিনি আপনাকে তেমন নির্দেশ দেন।

৬. হ্যান্ডশেক শিষ্টাচার (Handshake Etiquette)

পেশাদার ক্ষেত্রে সাধারণত উচ্চপদস্থ ব্যক্তি আগে হাত বাড়ালে তবেই হ্যান্ডশেক করা উচিত। হ্যান্ডশেক করার সময় আত্মবিশ্বাসের সাথে হালকা চাপ দিন, তবে তা যেন খুব জোরে না হয়।

৭. শারীরিক ভঙ্গি (Body Language)

বসার সময় সোজা হয়ে বসুন। চেয়ারে খুব বেশি আরাম করে হেলান দিয়ে বসা বা পা নাচানো পরিহার করুন। আপনার বসার ভঙ্গি যেন বিনয় ও মনোযোগ প্রকাশ করে।

৮. আই কন্টাক্ট বা চোখের যোগাযোগ (Eye Contact)

কথা বলার সময় সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। এটি আপনার সততা এবং আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করে। তবে একটানা তাকিয়ে না থেকে স্বাভাবিকভাবে চোখের পলক ফেলুন।

৯. ধৈর্য ধরে শোনা (Active Listening)

তিনি কথা বলার সময় মন দিয়ে শুনুন এবং মাঝপথে কথা থামিয়ে দেবেন না। তার কথা শেষ হলে প্রয়োজনে ২-৩ সেকেন্ড বিরতি নিয়ে আপনার উত্তর বা মতামত দিন।

১০. সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক কথা (Be Concise)

উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা সাধারণত ব্যস্ত থাকেন। তাই অপ্রাসঙ্গিক কথা এড়িয়ে সরাসরি মূল বিষয়ে আলোচনা করুন। আপনার বক্তব্য যেন যুক্তিপূর্ণ এবং সংক্ষেপে উপস্থাপিত হয়।

১১. ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (Digital Etiquette)

সাক্ষাতের আগে ফোন সাইলেন্ট বা সুইচড অফ করে রাখুন। টেবিলের ওপর ফোন না রেখে পকেটে বা ব্যাগে রাখুন। আলোচনার মাঝে ফোন চেক করা অত্যন্ত অভদ্রতা।

১২. নোট নেওয়ার অভ্যাস (Note Taking)

আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো লিখে রাখার জন্য একটি ডায়েরি বা নোটপ্যাড সাথে রাখুন। এটি প্রমাণ করে যে আপনি তার কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং আপনি কাজের প্রতি যত্নশীল।

১৩. গলার স্বর ও ভাষার ব্যবহার (Tone of Voice)

কথা বলার সময় গলার স্বর খুব বেশি উঁচুতে তুলবেন না, আবার খুব নিচু স্বরেও কথা বলবেন না। মার্জিত এবং পেশাদার ভাষা ব্যবহার করুন; কোনো স্ল্যাং বা আঞ্চলিকতার টান এড়িয়ে চলাই ভালো।

১৪. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ (Showing Gratitude)

আলোচনা শেষ হওয়ার পর তার মূল্যবান সময়ের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। এটি আপনার প্রতি তার একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করবে।

১৫. ফলো-আপ (Follow-up)

সাক্ষাতের পর আলোচনার সারসংক্ষেপ বা পরবর্তী করণীয় জানিয়ে একটি ধন্যবাদসূচক ইমেইল বা মেসেজ পাঠানো একটি অত্যন্ত ভালো প্রফেশনাল প্র্যাকটিস।

উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের এই শিষ্টাচারগুলো কেবল কিছু ধরাবাঁধা নিয়ম নয়, বরং এটি আপনার ব্যক্তিত্ব, পরিপক্বতা এবং পেশাদারিত্বের প্রতিফলন। সঠিক আচরণ ও বিনয় আপনার প্রতি অন্যের আস্থা ও শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী সফলতায় এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরিতে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।


হিউম্যান সাইকোলজি-এর কিছু চমৎকার ফ্যাক্ট কী কী?

১. দেখতে সুন্দর হওয়া মানুষগুলো অন্য মানুষদের কাছে সব থেকে বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু আপনার চেহারা দেখতে যদি গড়পরতা হয় তাহলে আপনাকে গড়ের থেকে বেশি কিছু করতে হবে। আর দেখতে একেবারে খারাপ লোকদের মানুষের কাছে গ্রহন যোগ্য হতে অসাধারন কিছু করতে হয়।

কারণ মানুষের মন শারীরিক সৌন্দর্যকে বেশি পছন্দ করে এবং মনের অপরিপক্কতার কারণে কুৎসিত চেহারাকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এবং সেই প্রজ্ঞা অভিজ্ঞতা যা সময় থেকে পাওয়া যায়।

2. আপনার বান্ধবী/প্রেমিককে ছেড়ে যাওয়া আপনার বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক কঠিন বলে মনে হতে পারে।

কারণ রোমান্টিক সম্পর্ক আপনার শরীরে শক্তিশালী ফেরোমোন নিঃসৃতি কে প্ররোচিত করে যা আপনাকে আপনার সঙ্গীর সাথে শক্তিশালী বন্ধন অনুভূতি বিকাশ করতে বাধ্য করে। যার ফলে এই ধরনের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা আপনার কাছে কঠিন মনে হয়।

৩. আপনি একজন ব্যক্তির প্রতি যত বেশি মনোযোগ দেবেন, সে আপনাকে তত বেশি attitude দেখাবে ।

এর কারণ হল মানুষ যত বেশি মনোযোগ পায়, তাদের মন মনে করে যে তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদর্শন এবং যে ব্যক্তি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে সে তার সঙ্গ পাবার জন্য মরিয়া।

৪. অর্থ বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং সুখ জাগিয়ে তোলে। এটি তাদের কাজ করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়।


উটকে কেন বিষাক্ত সাপ খাওয়ানো হয়?

আমরা সকলেই জানি উট মরুভূমির প্রাণী।

অজানা জীবাণুর আক্রমণে কখনো কখনো উটের ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, তখন উট কিছু খায়না সুধু সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে একে হায়াম রোগ বলে। এই রোগের এখন পর্যন্ত কোন ঔষধ আবিষ্কার হয়নি। তাই এর ফলে আক্রান্ত উটটির মৃত্যু অনিবার্য হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে "হায়াম" মানে সাপকে জীবিত গিলে ফেলা। 

মিডিল ইস্টে একটি বিশ্বাস প্রচলিত আছেযে, উটের "হায়াম" নামক এ রোগের সুস্থতা নির্ভর করে বিষাক্ত জীবিত সাপকে আধমরা করে গিলিয়ে ফেলার মাধ্যমে।

আর সাপ গিলে ফেলার পর উটের পাকস্থলীতে যখন সাপের বিষ সঞ্চালিত হয় তখন ধীরে ধীরে উটের মাঝে তৃষ্ণার অনুভূতি হয় এবং ৮ ঘন্টা এ অবস্থায় থাকার পর সাপের বিষের যন্ত্রনায় উটের চোখ থেকে অঝোরে পানি পড়তে থাকে (এই পানিকে তিরয়াক বলা হয়)।


‘সাদা-কলার চাকরি’ বলতে মূলত অফিসভিত্তিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রশাসনিক কাজকে বোঝায়, যেখানে শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বেশি প্রয়োজন হয়। ব্যাংকার, প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক, ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার), আইটি বিশেষজ্ঞ, হিসাবরক্ষক ইত্যাদি এই ধরনের পেশার আওতাভুক্ত। সাধারণত, এই চাকরি করা কর্মীরা করপোরেট পোশাক পরেন এবং ভালো বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান। 

মুরগির চোখ সম্পর্কে কিছু মজার ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

দুই চোখে দুই জগৎ: মুরগির চোখে বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—ওরা এক চোখ দিয়ে দূরের বস্তু দেখে, আর অন্য চোখ দিয়ে কাছে থাকা জিনিস দেখে! এটা ওদের জন্য বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে কাজে আসে।

রঙ চিনতে পারে —: মানুষ যেখানে RGB (লাল, সবুজ, নীল) দেখতে পারে, মুরগি তার চেয়েও বেশি—ওরা UV (আল্ট্রাভায়োলেট) আলোও দেখতে পারে! ফলে ওরা অনেক বেশি উজ্জ্বল ও ডিটেইল ভিউ পায়।

ঘুমের সময় অর্ধেক মস্তিষ্ক ঘুমায় —: মুরগি এক চোখ খোলা রেখে ঘুমাতে পারে, তখন তাদের মস্তিষ্কের একটি পাশ ঘুমায়, অন্য পাশ সচেতন থাকে। এটা শিকারির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দারুণ কৌশল।

চোখ নাড়ানোর ক্ষমতা কম — মুরগির চোখ সরানোর ক্ষমতা খুবই সীমিত, তাই তারা ঘন ঘন মাথা নাড়ে যাতে আশেপাশের জিনিস স্পষ্টভাবে দেখতে পারে।

দৃষ্টি শক্তি প্রখর — মুরগির চোখে রেটিনা ঘন হওয়ায় ওরা ছোট ছোট বস্তুও অনেক স্পষ্টভাবে দেখতে পারে, বিশেষ করে চলন্ত পোকামাকড়।

ইগল-স্টাইল ফোকাস: — মুরগির রেটিনা ঘন, তাই ওরা চলন্ত পোকামাকড় বা ছোট কিছুও শার্পলি ট্র্যাক করতে পারে। হেঁটে হেঁটে খুঁজে খায়, চোখে ধরেই ফেলে।

চোখ ছোট হলেও, মুরগির দৃষ্টিশক্তি যেন একেকটা ন্যাচারাল বায়োনিক ক্যামেরা !

Science and Psychology , World Vision (বিশ্ব দর্শন)


আর্থিক চাপ শুধু মাথার ভেতর ঘোরে না, এটা ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরেও জায়গা করে নেয়।

আজকের এই আড্ডায়,

চলুন দেখি—কীভাবে টাকার অনিশ্চয়তা মনের সীমানা ছাড়িয়ে শরীর ও সুস্থতাকেও স্পর্শ করে।

পকেট খালি তো মাথা ভার? পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি—আর্থিক স্ট্রেস বা ‘মানি-টেনশন’!

আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, "টাকাই কি সব?" কিংবা "টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না।" কথাগুলো শুনতে দারুণ রোমান্টিক হলেও, যখন মৌলিক প্রয়োজনের সময় বিল মেটাতে হিমশিম খেতে হয়, তখন দর্শন আর বাস্তবতা দুদিকে হাঁটা দেয়। আসলে, আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স আর আপনার ব্রেইনের নিউরনের মধ্যে এক গভীর মিতালী আছে। চলুন দেখি, কীভাবে টাকা সরাসরি আপনার শরীর আর মনের রিমোট কন্ট্রোল হাতে নিয়ে বসে থাকে!

টাকার অভাব শুধু পকেটে নয়, আঘাত করে সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) নামক অংশে। অনিশ্চয়তার ভাইরাস: যখন আপনি জানেন না আগামী মাসের ঘর ভাড়া কীভাবে আসবে, তখন আপনার মস্তিষ্ক সার্বক্ষণিক ‘Survival Mode’-এ চলে যায়। ফলাফল: কর্টিসল (Cortisol) হরমোনের বন্যা বয়ে যায় শরীরে। যার ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনিদ্রা (Insomnia) এবং মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

১. নিউট্রিশন গ্যাপ: অর্থের অভাবে মানুষ অনেক সময় সস্তা এবং ক্ষতিকর (High-carb/Junk food) খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিনতো পায় না বরং শরীর আরো অসুস্থ হয়ে যেতে থাকে

২. চিকিৎসায় অনীহা: "বিভিন্ন সমস্যাতে মনে করি, হয়তো এসব এমনি ঠিক হয়ে যাবে"—এই ভেবে আমরা ডাক্তার দেখাই না অনেক সময় শুধু খরচের ভয়ে। এই অবহেলাই পরে বড় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৩. বিশ্রাম বনাম ওভারটাইম: পর্যাপ্ত ঘুম আর বিশ্রাম শরীরের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। কিন্তু আর্থিক চাপে থাকা মানুষ বিশ্রামকে ‘বিলাসিতা’ মনে করে দিনরাত খাটেন, যা শরীরকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।

ভ্রমণ ও শখ: অনেকে ভাবেন, "ঘুরে বেড়ানো বা শখের কাজ করা মানেই টাকা নষ্ট।" কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।

মেন্টাল রিকভারি (Mental Recovery): প্রকৃতির কাছে যাওয়া বা নিজের পছন্দের কাজ করা আপনার মেন্টাল ব্যাটারিকে রিচার্জ করে। এটি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং আপনার কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি 'Maintenance Break'।

শেষ কথা

আর্থিক সচ্ছলতা মানে কেবল দামী গাড়ি বা ব্র্যান্ডের ঘড়ি নয়; এটি হলো: বিপদে ভরসা, মাথা গোঁজার নিশ্চিন্ত ঠাঁই। অসুস্থতায় সুচিকিৎসার ভরসা। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোর সামর্থ্য। তাই শরীর আর মনকে ভালো রাখতে চাইলে, আর্থিক পরিকল্পনা বা Financial Wellness-কেও আপনার রুটিনে জায়গা দিন। @ Muhammad_Nasim_Hossain


হাজার টাকার ব্রাইটেনিং ক্রিম মাখছেন, কিন্তু ত্বকের সেই কাঙ্ক্ষিত 'গ্লো' বা উজ্জ্বলতা কিছুতেই আসছে না? উল্টো আয়নায় নিজেকে দেখলে মনে হয়, ত্বকটা কেমন যেন কালচে, ম্লান বা 'ডার্টি' হয়ে আছে?

​আপনি হয়তো ভাবছেন, "ক্রিমটা বোধহয় ভালো না" অথবা "আমার রোদে পোড়া দাগ যাচ্ছে না"। তাই আপনি ফেসওয়াশ বদলাচ্ছেন, স্ক্রাব করছেন, পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করছেন। কিন্তু লাভ হচ্ছে না।

​এবার একটু ক্রিমের কৌটা থেকে নজর সরিয়ে নিজের পেটের দিকে তাকান।

আপনার কি দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) বা গ্যাসের সমস্যা আছে? সকালে বাথরুমে যাওয়ার পর কি মনে হয় পেটটা পুরোপুরি পরিষ্কার হলো না? সারাদিন কি পেটটা ভার ভার লাগে?

​যদি উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে আপনার ত্বকের এই ম্লান ভাবের জন্য দায়ী আপনার অপরিষ্কার পেট।

​ বিজ্ঞান কী বলে? (The Gut-Skin Axis)

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলেন, "আমাদের ত্বক হলো আমাদের পেটের আয়না (Mirror of the Gut)।" চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সম্পর্ককে বলা হয় 'গাট-স্কিন অ্যাক্সিস' (Gut-Skin Axis)।

​বিষয়টা খুব সহজভাবে ভাবুন—আপনার বাড়ির ড্রেন বা নর্দমা যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেই নোংরা পানি কি উপচে পড়ে চারপাশ ভাসিয়ে দেবে না? ঠিক তাই ঘটে আমাদের শরীরে।

আমাদের শরীর প্রতিদিন বর্জ্য বা টক্সিন বের করে দেওয়ার জন্য পায়খানা, প্রস্রাব এবং ঘাম ব্যবহার করে। কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে যখন সেই বর্জ্য শরীর থেকে ঠিকমতো বের হতে পারে না, তখন সেই টক্সিনগুলো পুনরায় শোষিত হয়ে রক্তে মিশে যায়। শরীর তখন বাধ্য হয়ে সেই বিষাক্ত পদার্থগুলোকে তার দ্বিতীয় বৃহত্তম নির্গমন পথ—অর্থাৎ 'ত্বক' দিয়ে বের করার চেষ্টা করে।

​ফলাফল?

ত্বকের সেই স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে যায়, ত্বক দেখতে ধূসর বা ম্লান লাগে, এবং মুখে দেখা দেয় জেদি ব্রণ, র‍্যাশ বা অ্যালার্জি। কারণ, আপনি ভেতর থেকে বিষাক্ত হয়ে আছেন।

​তাহলে সমাধান কী? ফেসিয়াল নাকি ফাইবার?

পার্লারে গিয়ে হাজার টাকার 'গোল্ড ফেসিয়াল' করে ওপরের চামড়া চকচকে করার চেষ্টা করে লাভ নেই, যদি ভেতরের ড্রেন বন্ধ থাকে।

​ত্বক ফর্সা করার আগে পেট পরিষ্কার করুন:

১. প্রাকৃতিক ঝাড়ুদার: প্রতিদিন রাতে বা সকালে এক গ্লাস পানিতে ইসবগুলের ভুসি (Psyllium Husk) ভিজিয়ে খান। এটি পেটের নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে।(খাওয়ার নিয়ম জেনে খাবেন)

২. ফাইবার: ভাতের পরিমাণ কমিয়ে প্রচুর শাক-সবজি এবং সালাদ খান।

৩. পানি: পর্যাপ্ত পানি পান করুন যাতে টক্সিনগুলো ফ্লাশ আউট হয়ে যায়।

​মনে রাখবেন, পেট যখন হাসবে, ত্বক তখন চকচক করবে। ভেতর থেকে পরিষ্কার হোন, বাইরের মেকআপ ছাড়াই আপনাকে উজ্জ্বল দেখাবে। @ Probal Kumar Mondal



ছোটবেলা থেকে শুনে আসছেন—"ত্বক সুন্দর রাখতে দিনে ৮ গ্লাস পানি খেতেই হবে।" সেই কথা মেনে আপনিও বোতল বোতল পানি খাচ্ছেন, সারাদিন বাথরুমেই দৌড়াচ্ছেন, অথচ দিনের শেষে আয়নায় সেই খসখসে আর রুক্ষ ত্বকই দেখছেন?

​আপনার মনে প্রশ্ন জাগে না— "এত পানি খাচ্ছি, তাও আমার স্কিন কেন সাহারা মরুভূমির মতো শুকিয়ে আছে?"

​আপনি হয়তো ভাবছেন পানির পরিমাণ কম হচ্ছে, তাই পানির গ্লাস আরও বাড়াচ্ছেন। কিন্তু থামুন! ভুলটা পানির পরিমাণে নয়, ভুলটা আপনার পানির 'ধরনে'।

​বিশ্বাস করুন, আপনি আসলে পানি খেয়ে নিজের শরীরকে হাইড্রেট করছেন না, বরং শরীরকে ধুয়ে পুষ্টি বের করে দিচ্ছেন!

​বিজ্ঞান কী বলছে? (The Electrolyte Myth)

আমাদের শরীরের কোষগুলো (Cells) হলো ছোট ছোট বেলুনের মতো। এই বেলুনগুলো ফুলেফেঁপে সজীব থাকার জন্য ভেতরে পানি ধরে রাখা দরকার।

​কিন্তু সমস্যা হলো, পানি একা একা কোষের ভেতরে থাকতে পারে না। পানিকে কোষের ভেতরে চুম্বকের মতো ধরে রাখতে প্রয়োজন হয় 'ইলেক্ট্রোলাইটস' (Electrolytes)—যার প্রধান দুটি উপাদান হলো সোডিয়াম (লবণ) এবং পটাশিয়াম।

​আপনি যখন সারা দিন শুধু সাদা পানি (Plain Water) খেতে থাকেন, তখন দুটি ঘটনা ঘটে:

১. আপনার শরীরে আগে থেকে যেটুকু মিনারেল বা লবণ ছিল, তা অতিরিক্ত পানির স্রোতে ধুয়ে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়।

২. কোষে পানি ধরে রাখার কেউ থাকে না, তাই পানি ঢোকে আর বেরিয়ে যায়।

​একে বলা হয় 'সেলুলার ডিহাইড্রেশন'। অর্থাৎ, আপনি অ্যাকুরিয়ামের মতো পেটে পানি জমিয়ে রাখছেন ঠিকই, কিন্তু আপনার ত্বক ক্যাকটাসের মতোই তৃষ্ণার্ত থেকে যাচ্ছে। উল্টো মিনারেল হারিয়ে শরীর আরও দুর্বল আর নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।

​তাহলে সমাধান কী? পানি খাওয়া বন্ধ করবেন?

মোটেও না। তবে 'সাদা পানি' খাওয়া বন্ধ করে 'জীবন্ত পানি' খান। পানিকে কোষে পাঠাতে হলে তার সাথে একটু 'লবণ' মিশিয়ে নিন।

​১. লেবু-লবণ পানি: প্রতি লিটার পানিতে এক চিমটি বিট লবণ (Himalayan Pink Salt) এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই সামান্য লবণই সেই চাবিকাঠি যা পানিকে আপনার ত্বকের কোষের ভেতরে লক (Lock) করে দেবে।

​২. ডাবের পানি: এটি হলো প্রকৃতির তৈরি সেরা এনার্জি ড্রিংক, যাতে সোডিয়াম আর পটাশিয়ামের পারফেক্ট ব্যালেন্স আছে।

​তাই এরপর থেকে শুধু পানি গিলবেন না। পানিকে একটু স্বাদ দিন, মিনারেল দিন। বাথরুমের দৌড়াদৌড়ি কমবে, আর ত্বক হবে ভেতর থেকে বাউন্সি ও সজীব। @ Probal Kumar Mondal


গালে আর কপালের দুই পাশে অসংখ্য ছোট ছোট গর্ত। ত্বকটা মসৃণ তো নয়ই, বরং দেখতে অনেকটা কমলার খোসার (Orange Peel) মতো অমসৃণ আর খসখসে লাগে। লজ্জায় আপনি মানুষের খুব কাছে দাঁড়িয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। ভাবেন— "ইশ! ও নিশ্চয়ই আমার নাকের এই বড় বড় গর্তগুলো দেখছে!"

​সমাধান খুঁজতে আপনি হয়তো ইউটিউব দেখে বরফ ঘষছেন, কিংবা হাজার টাকা খরচ করে 'পোর মিনিমাইজিং টোনার' (Pore Minimizing Toner) কিনে আনছেন। কিন্তু সত্যি করে বলুন তো, এতে কি কোনো স্থায়ী লাভ হয়েছে? বরফ ঘষলে হয়তো ১০ মিনিটের জন্য চামড়াটা একটু টানটান লাগে, তারপর যেই লাউ সেই কদু!

​আসলে, আপনি ভুল দরজায় কড়া নাড়ছেন। পোরস বা লোমকূপ কোনো দরজা-জানালা নয় যে চাইলেই সেটা খুলবে আর বন্ধ হবে। এর চাবিকাঠি আপনার টোনারের বোতলে নেই, আছে আপনার রক্তে মিশে থাকা 'হরমোন'-এর হাতে।

​বিজ্ঞান কী বলছে? কেন গর্ত বড় হয়?

​আমাদের ত্বকের প্রতিটি লোমকূপের নিচেই একটি তেলের খনি থাকে, যার নাম 'সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ড' (Sebaceous Gland)। এই গ্ল্যান্ডের কাজ হলো ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজড রাখা।

​কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন আপনি অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, বা রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (সাদা ভাত, ময়দা, ফাস্ট ফুড) খান।

১. এই খাবারগুলো খাওয়ার পর আপনার রক্তে 'ইনসুলিন' (Insulin) হরমোন ধপ করে বেড়ে যায়।

২. ইনসুলিন বাড়লে এটি আপনার শরীরের পুরুষ হরমোন বা 'অ্যান্ড্রোজেন'-কে জাগিয়ে তোলে।

৩. এই অ্যান্ড্রোজেন হরমোন নিচের ওই তেল গ্রন্থি বা সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়— "আরও বড় হও! আরও তেল তৈরি করো!"

​ভাবুন তো, একটি বেলুনের ভেতর যদি আপনি বাতাস ভরতেই থাকেন, বেলুনটা কি আকারে বড় হবে না? ঠিক তাই ঘটে আপনার ত্বকের নিচে। অতিরিক্ত তেলের চাপে নিচের গ্ল্যান্ডটি ফুলেফেঁপে বড় হয়ে যায়। আর নিচের থলি বড় হয়ে গেলে, ওপরের মুখটাও (Pore) বড় হয়ে হাঁ করে থাকে।

​এটাই হলো আপনার ওপেন পোরসের আসল রহস্য। আপনি ওপর থেকে যতই টোনার বা বরফ দিন না কেন, ভেতরের ফোলানো বেলুনটাকে (গ্ল্যান্ড) যদি ছোট না করতে পারেন, তবে গর্ত কখনোই ছোট হবে না।

​তাহলে স্থায়ী সমাধান কী?

​পোরলেস বা মসৃণ ত্বক পেতে হলে আপনাকে 'রুট কজ' বা মূল কারণ ঠিক করতে হবে। আর তা হলো—তেলের কারখানার সুইচ অফ করা।

​১. কার্বোহাইড্রেট কমান: গ্ল্যান্ড ছোট করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো 'লো-কার্ব ডায়েট'। ভাত, রুটি আর চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন। ইনসুলিন যখন নিয়ন্ত্রণে আসবে, তেল গ্রন্থিগুলো তখন খাবার না পেয়ে এমনিতেই সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে যাবে। বিশ্বাস করুন, লো-কার্ব ডায়েট শুরু করার ২১ দিনের মধ্যে আপনি দেখবেন আপনার ত্বকের টেক্সচার বদলাতে শুরু করেছে।

​২. ওমেগা-৩ যোগ করুন: তেলের অভাব যাতে না হয়, সেজন্য খারাপ তেলের বদলে ভালো ফ্যাট (মাছের তেল, বাদাম, চিয়া সিড) খান। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখবে কিন্তু গ্ল্যান্ড বড় করবে না।

​ত্বক কোনো প্লাস্টিকের শিট নয় যে ওপর থেকে পালিশ করলেই চকচক করবে। এটি একটি জীবন্ত অর্গান। ভেতরের ইঞ্জিন (হরমোন) ঠান্ডা রাখুন, বাইরের বডি (ত্বক) এমনিতেই মসৃণ হয়ে যাবে।

​আজ থেকে টোনারের পেছনে টাকা না ঢেলে, ডায়েটের দিকে নজর দিন। গাল হবে আপেলের মতো মসৃণ, কমলার খোসার মতো নয়@ Probal Kumar Mondal


সারাদিন তো ঘরেই থাকি, রোদেও বের হই না—তাও কেন আমার গালে মেছতার এই বাজে দাগ?"

​আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের গালের কালচে ছোপ বা মেছতার দাগ দেখে এই প্রশ্নটা কি আপনার মনেও আসে? আপনি হয়তো বিশ্বের দামী দামী সানস্ক্রিন মাখছেন, রোদে বের হলে ছাতা ব্যবহার করছেন, এমনকি পার্লারে গিয়ে ফেসিয়ালও করাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই ওই নাছোড়বান্দা দাগগুলো যাচ্ছে না। উল্টো দিন দিন যেন আরও গাঢ় হচ্ছে!

​আপনার মনে হতে পারে, "আমার কপালটাই খারাপ"। কিন্তু বিশ্বাস করুন, দোষটা আপনার কপালের নয়, দোষটা হয়তো আপনার রান্নাঘরের ওই জ্বলন্ত চুলার!

​আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি—"রোদ মানেই মেছতা"। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে এক নতুন ভিলেনের কথা, যার নাম 'থার্মাল এজিং' (Thermal Aging)।

একজন বাঙালি নারী হিসেবে আপনি প্রতিদিন গড়ে ২-৩ ঘণ্টা, বা তারও বেশি সময় রান্নাঘরে কাটান। চুলার আগুনের গনগনে তাপ বা ভাপ সরাসরি আপনার মুখে লাগে। সূর্যের আলোতে যেমন অতিবেগুনী রশ্মি (UV Ray) থাকে, তেমনি চুলার আগুনে থাকে 'ইনফ্রারেড হিট' (Infrared Heat)।

​আপনি যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে রান্না করেন, তখন এই প্রচণ্ড তাপ আপনার ত্বকের 'মেলানোসাইট' (Melanocyte) বা রং তৈরি করা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে তোলে। তখন এই কোষগুলো আত্মরক্ষার জন্য প্রচুর পরিমাণে মেলানিন উৎপাদন করে, যা ত্বকের ওপর কালচে ছোপ বা মেছতা হিসেবে ভেসে ওঠে। আর আপনার শরীরে যদি ইস্ট্রোজেনের আধিপত্য (যেমন পিসিওএস বা প্রেগন্যান্সি) থাকে, তবে এই তাপ আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করে—দাগ তখন আরও গভীর ও স্থায়ী হয়ে যায়।

​তাহলে কি রান্না বন্ধ করে দেবেন?

অবশ্যই না। কিন্তু শুধু সানস্ক্রিন মেখে আগুনের পাশে দাঁড়ালে লাভ হবে না, কারণ সানস্ক্রিন আলো আটকায়, তাপ আটকাতে পারে না। আপনাকে করতে হবে ভেতর থেকে প্রতিরোধ।

​১. ভেন্টিলেশন: রান্নার সময় অবশ্যই এক্সহস্ট ফ্যান (Exhaust Fan) চালান বা জানালা খুলে দিন, যাতে তাপটা মুখে জমে না থাকে। সম্ভব হলে কিছুক্ষণ পর পর মুখটা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে তাপ নামিয়ে ফেলুন।

​২. খাওয়ার সানস্ক্রিন: মেছতা তাড়াতে হলে ক্রিমের চেয়ে বেশি জরুরি ডায়েট। প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে টমেটো (রান্না করা) এবং গাজর রাখুন। টমেটোতে থাকা 'লাইকোপিন' এবং গাজরের 'বিটা-ক্যারোটিন' আপনার ত্বকের নিচে এমন একটি প্রাকৃতিক ঢাল তৈরি করে, যা ইনফ্রারেড হিটের ক্ষতি থেকে ত্বককে ভেতর থেকে বাঁচায়।

​মেছতার দাগ ঢাকতে কনসিলার নয়, ত্বককে তাপ সহ্য করার শক্তি দিন। রান্নাঘরের যত্ন নিন, ত্বক নিজের যত্ন নিজেই নেবে।@ Probal Kumar Mondal


চোখের নিচে কালি দেখে বন্ধুরা কি প্রায়ই টিপ্পনী কাটে—'কিরে, রাতে ঘুমাসনি? নাকি নেশা করিস?'"—লজ্জায়, অপমানে আপনি হয়তো কোনো উত্তর দিতে পারেন না, শুধু বাইরে যাওয়ার আগে একগাদা কনসিলার বা মেকআপ দিয়ে প্রাণপণে চেষ্টা করেন সেই কালো দাগ বা গর্তগুলো লুকিয়ে রাখতে।

​আপনি হয়তো ভাবেন, রাত জাগার কারণেই বুঝি এমনটা হচ্ছে; তাই নিয়ম করে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যখন সকালে আয়নায় সেই একই বিধ্বস্ত চেহারা দেখেন, তখন হতাশা আর বাড়ে। কিন্তু জানেন কি, সবসময় রাত জাগা বা দুশ্চিন্তা এর মূল কারণ নয়; আপনার এই 'পান্ডা আইজ'-এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে এক গভীর শারীরিক ঘাটতি, যার নাম 'আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া' বা রক্তশূন্যতা। আমাদের চোখের নিচের চামড়া বা ত্বক শরীরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় অত্যন্ত পাতলা হয়, অনেকটা স্বচ্ছ কাগজের মতো। আপনার শরীরে যখন পর্যাপ্ত আয়রন বা হিমোগ্লোবিন থাকে না, তখন রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায় এবং রক্ত কালচে বা নীলচে বর্ণ ধারণ করে।

চোখের নিচের ওই পাতলা চামড়ার নিচ দিয়ে তখন সেই অক্সিজেনহীন কালচে রক্তনালীগুলোই ভেসে ওঠে, যাকে আমরা ভুল করে 'দাগ' বা 'পিগমেন্টেশন' ভাবি। এছাড়া টিস্যুতে অক্সিজেনের অভাবেই চোখের নিচটা গর্তের মতো বসে যায় বা নিস্তেজ দেখায়। তাই হাজার টাকার দামী 'আন্ডার-আই ক্রিম' (Under-eye cream) ঘষে বা চোখের ওপর শসা দিয়ে যত্ন নেওয়ার আগে একবার ল্যাবে গিয়ে সামান্য একটি সিবিসি (CBC) টেস্ট করিয়ে দেখুন। হয়তো আপনার চোখের নিচে দামী ক্রিম নয়, আপনার রক্তে 'আয়রন' বা 'লোহা' দরকার। কলিজা, কচুশাক বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ান, দেখবেন কনসিলার ছাড়াই আপনার চোখ আবার ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আসল সৌন্দর্য মেকআপে নয়, আসল সৌন্দর্য সুস্থ রক্তে।


আমাদের ত্বক টানটান এবং বাউন্সি থাকে 'কোলাজেন' এবং 'ইলাস্টিন' নামের প্রোটিনের কারণে। এগুলো অনেকটা স্প্রিংয়ের মতো কাজ করে, যা চামড়াকে টাইট রাখে।

​কিন্তু যখনই আপনি রসগোল্লা, কেক, বিস্কুট বা চিনি দেওয়া চা খান, সেই অতিরিক্ত সুগার বা গ্লুকোজ রক্তের মাধ্যমে ত্বকে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে এটি কোলাজেন প্রোটিনের সাথে আঠার মতো জড়িয়ে ধরে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ভয়ংকর প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'গ্লাইকেশন' (Glycation)।

​সহজ একটি উদাহরণ দিই—

চিনির শিরায় ডুবিয়ে রাখলে যেমন নরম পাউরুটি শক্ত এবং ভঙ্গুর (Brittle) হয়ে যায়, ঠিক তেমনি গ্লুকোজ আপনার ত্বকের নরম ও ফ্লেক্সিবল কোলাজেন ফাইবারগুলোকে শক্ত, ভঙ্গুর এবং কাঁচের মতো অনমনীয় করে ফেলে। ফলে আপনার ত্বকের সেই 'স্প্রিং' নষ্ট হয়ে যায়। তখন ত্বক আর মাধ্যাকর্ষণের (Gravity) সাথে পেরে ওঠে না, ঢিলা হয়ে ঝুলে পড়ে এবং ভাঁজ বা রিংকেলস দেখা দেয়।

আপনি ওপর থেকে যতই হাজার টাকার 'অ্যান্টি-এজিং' বা 'রিংকেল লিফটিং' ক্রিম মাখুন না কেন, যদি ভেতর থেকে চিনি আপনার কোলাজেনকে প্রতিনিয়ত ভেঙে দিতে থাকে, তবে কোনো লাভ হবে না। ফুটো বালতিতে পানি ভরার মতো অবস্থা হবে।

​তাই তারুণ্য ধরে রাখতে চান? পার্লার বা কসমেটিকস শপে যাওয়ার আগে রান্নাঘরে যান এবং চিনির কৌটাটা ডাস্টবিনে ফেলে দিন। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম নয়, 'নো-সুগার ডায়েট'-ই হলো আসল যৌবনের চাবিকাঠি।


এইমাত্র তো খেলেন, আবার খিদে পেয়েছে? 

—আপনার পেট ভরা থাকলেও আপনার শরীরের ভেতরের কোটি কোটি কোষ আসলে না খেয়ে ধুঁকছে!

​পিসিওএস (PCOS)-এর প্রধান ভিলেন হলো 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স'। আপনি যখন ভাত বা রুটি খাচ্ছেন, তা হজম হয়ে গ্লুকোজ বা সুগার হিসেবে রক্তে মিশছে। স্বাভাবিক শরীরে ইনসুলিন হরমোন সেই সুগারকে কোষের ভেতরে ঢুকিয়ে শক্তি তৈরি করে। কিন্তু আপনার শরীরে ইনসুলিন কাজ করছে না, অর্থাৎ কোষের দরজার তালা খুলছে না। ফলে ঘটছে এক আজব ঘটনা—আপনার রক্তে সুগারের বন্যা বইছে, অথচ কোষের ভেতরে এক ফোঁটাও শক্তি পৌঁছাচ্ছ না। অনেকটা সমুদ্রের মাঝখানে তৃষ্ণার্ত নাবিকের মতো—চারদিকে পানি, কিন্তু পান করার মতো এক ফোঁটাও নেই। আপনার কোষগুলো তখন শক্তির অভাবে চিৎকার করতে থাকে এবং মস্তিষ্কে ইমার্জেন্সি সিগন্যাল পাঠায়— "আমরা মারা যাচ্ছি, জলদি খাবার পাঠাও!" মস্তিষ্ক তখন আপনাকে বাধ্য করে আবার খেতে। আপনি ভাবছেন আপনি লোভে পড়ে খাচ্ছেন, কিন্তু আসলে আপনার কোষগুলো বাঁচার জন্য খাবার চাইছে।

​তাই পরের বার অকারণে খিদে পেলে নিজেকে গালি দেবেন না। বুঝবেন, আপনার পেট ভরেছে ঠিকই, কিন্তু কোষের পেট ভরেনি। এই সমস্যার সমাধান বেশি খাওয়া বা কম খাওয়া নয়, সমাধান হলো 'সঠিক খাওয়া'। এমন খাবার খান যা ইনসুলিনকে শান্ত রাখে—যেমন প্রচুর প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার। "পেট ভরানো"র চেয়ে "কোষকে পুষ্টি দেওয়া" (Nutrient Density) বেশি জরুরি। শরীরকে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি বুঝিয়ে দিন, দেখবেন ওই রাক্ষুসে খিদে জাদুর মতো গায়েব হয়ে গেছে।


কেন শত চেষ্টার পরও প্রেগন্যান্সি আসছে না? 

ডা. জেসন ফাং-এর গবেষণা আমাদের চোখের সামনে এক নতুন সত্য তুলে ধরেছে। অনেক সময় ইনফার্টিলিটির কারণ হরমোনের অভাব নয়, বরং কোষের আবর্জনা। আমাদের শরীরের কোষগুলোর ভেতরে প্রতিনিয়ত নানারকম রাসায়নিক বিক্রিয়া চলে। এর ফলে তৈরি হয় বর্জ্য পদার্থ, পুরনো প্রোটিন এবং অকেজো কোষের অংশবিশেষ। প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে একে বলা হয় ‘আম’ বা টক্সিন। আর মডার্ন সায়েন্সের ভাষায় একে আমরা বলি ‘সেলুলার ডিব্রিস’ (Cellular Debris)।

​সমস্যা হলো, আমরা যখন সারাদিন বিরতিহীনভাবে খেতে থাকি, আমাদের শরীর এই আবর্জনা পরিষ্কার করার সুযোগই পায় না।​২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি দেখিয়েছিলেন যে, আমাদের কোষগুলো নিজেদের আবর্জনা নিজেরাই খেয়ে ফেলে শক্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই 'অটোফ্যাজি' বা সেলুলার ক্লিনিং প্রসেসটি চালু হওয়ার একটা শর্ত আছে। সেটি হলো— খাবার বন্ধ রাখা বা ফাস্টিং।

​যখন আপনি খাচ্ছেন, তখন আপনার ইনসুলিন হরমোন বেশি থাকে এবং শরীর 'গ্রোথ মোড' বা জমানোর মুডে থাকে (mTOR pathway)। এ সময় শরীর কোনো কিছুই ফেলে দেয় না, বরং সব জমিয়ে রাখে—তা চর্বি হোক বা কোষের আবর্জনা। কিন্তু যখন আপনি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন (ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং), তখন ইনসুলিন কমে যায় এবং শরীর সংকটে পড়ে। তখন সে বলে, "বাইরে থেকে তো খাবার আসছে না, চলো ঘরের ভেতরের আবর্জনাগুলো পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করি।"

​ঠিক তখনই জরায়ু এবং ওভারির কোষগুলো তাদের ভেতরের জমে থাকা টক্সিন, ড্যামেজড প্রোটিন এবং মৃত কোষগুলোকে রিসাইকেল বা পরিষ্কার করতে শুরু করে। একে বলা যায় জরায়ুর 'ডিপ ক্লিনজিং'। উপবাসের এই সময়টুকুতেই শরীর তার ত্রুটিপূর্ণ টিস্যুগুলো ভেঙে ফেলে এবং নতুন, সতেজ কোষ দিয়ে জরায়ুর দেয়াল পুনর্গঠন করে। এই পরিচ্ছন্ন, ঝকঝকে জরায়ুই হলো একটি সুস্থ প্রেগন্যান্সির জন্য তৈরি উর্বর জমি।


রেড লাইট থেরাপি (RLT) কি?

একটি অ-আক্রমণাত্মক চিকিৎসা, যা ত্বকের কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে উদ্দীপিত করে ক্ষত নিরাময়, প্রদাহ কমানো, ব্যথামুক্ত করা এবং ত্বকের বার্ধক্য (বলিরেখা) রোধে স্বল্প-তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলো ব্যবহার করে [১, ৩, ৪]। এটি মূলত LED প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে এবং ঘরে বা ক্লিনিকে ব্যবহার করা যায় [২, ৫]। 

রেড লাইট থেরাপির প্রধান উপকারিতা:

কার্যপদ্ধতি:

রেড লাইট থেরাপিতে ব্যবহৃত লাল আলো শরীরের কোষের গভীরে প্রবেশ করে কোষের শক্তি (ATP) উৎপাদন বাড়ায় [৬]। এটি সাধারণ ঘরোয়া থেরাপি ল্যাম্পের মাধ্যমে করা সম্ভব, যা ১০-২০ মিনিট ব্যবহার করা যায় [১৪]। 

সতর্কতা:

যদিও এটি বেশ কার্যকর, তবুও ব্যবহারের আগে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।