'সবার সেরা হতে হলে' চর্চা করুন বিশ্বসেরা দশটি অভ্যাস
১) দশ সেকেন্ড সময় নিয়ে একটা ছোট্ট হ্যাবিট প্র্যাকটিস করবেন। খুব আস্তে আস্তে করে গভীরভাবে নাক দিয়ে একবার নিঃশ্বাস নেন, তারপর আবার খুব আস্তে আস্তে নাক দিয়ে নিঃশ্বাসটা ছেড়ে দে্ন। এতে আপনি কোন পার্থক্য ফিল করেননি। কিন্তু শরীরের ভিতরে যে মেকানিজম সেখানে কিন্তু অলরেডি একটা পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। যখনই আমরা এই ধরনের ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করি, সাথে সাথে আমাদের হার্ট রেট স্লো হয়ে যায় এবং আমাদের নার্ভাস সিস্টেম কাম ডাউন হয়ে যায় । এই প্রক্রিয়াটা আমাদেরকে খুব হেল্প করে আমাদের স্ট্রেস রিলিফ করতে। তাই পরবর্তী সময়ে যখনই আপনার লাইফে কোনো একটা স্ট্রেস চলে আসবে, যখনই আপনি অস্থির ফিল করবেন, তখন জাস্ট ১০সেকেন্ড সময় নিন, দুটো গভীরভাবে ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করবেন, ব্যাস, ডান। এবং আরও একটা ইম্পর্টেন্ট জায়গায় আপনি সেটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটা হচ্ছে কোন কিছুতে রিঅ্যাকশন দেয়ার ক্ষেত্রে। যেকোনো জায়গায় কোন কিছু একটা রিঅ্যাক্ট দিতে হচ্ছে,সময় নিন, দুইটা ব্রিদিং এক্সারসাইজ প্র্যাকটিস করুন, তারপরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। দেখা যাবে এই ডিপ ব্রিদিং ছাড়া যে রিঅ্যাকশনটা হতো এবং এর পরে যে রিঅ্যাকশনটা দিচ্ছেন, দুটোর মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য চলে আসবে। ফলে আপনি অনেক ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন, আপনার সুবিধা বাড়বে।
২) আমি আপনার সাথে কথা বলছি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কিন্তু মাঝে মাঝে একটু ফোন দেখছি, একটা নোটিফিকেশন এসেছে, সেটা দেখছি। অর্থাৎ আপনার সাথে কথা বলতে বলতে আমার ফোনের দিকে তাকাচ্ছি বারবার? আপনার কাছে নিশ্চয়ই এটা ভালো লাগছে না, আপনার কাছে মনে হচ্ছে যে, উনি আমাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটিকে বলে ব্যাট এটিটিউট। এই প্র্যাকটিসটা নিজের মধ্যে হতে রিমুভ করবেন। নেক্সট টাইম যখনই কেউ আপনার সাথে কথা বলতে আসবে। সেটা ক্লাসমেট হোক, কলিগ হোক, যে-ই হোক, যখনই কেউ কথা বলতে আসবে, ফোনটা ফেস ডাউন করে রাখবেন। অর্থাৎ ফোনের যেন উপরের সাইডটা না দেখা যায়।কারণ নোটিফিকেশন আসলে সেখানে আপনার পপ আপ হয়। তাই, আপনি ফোনটাকে ডাউন করে রাখবেন, কথা বলার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনবেন।
৩), 'এর পরে কি?' এই ফ্রেইজটা বা এই কোশ্চেনটা, এটা নিজেকে তিনবার জিজ্ঞেস করবেন। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে আমরা অধিকাংশ সময় চিন্তা করি, আচ্ছা, এটা করলে এটা হবে। কিন্তু আপনি এইটুকুতে থেমে যাবেন না। আপনাকে মাল্টিপল লেয়ারে চিন্তা করতে হবে, আমরা অধিকাংশ সময় ফার্স্ট লেয়ারে চিন্তা করি যে, এটা হলে এটা হবে, এই শেষ। অধিকাংশ সময় মানুষ এভাবেই ডিসিশন নেন। কিন্তু আপনি যদি আরও অ্যাডভান্সড লেয়ারে গিয়ে ডিসিশন নিতে চান, তাহলে' এর পরে কি?' এই কোশ্চেনটা তিনবার করবেন নিজেকে। এটাকে বলে লজিক্যাল থিংকিং। লজিক্যাল থিংকিং ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট।
৪) নেগেটিভ থিংকিং। থিংক করতে করতে একটা সময় আমরা লজিক্যালি থিংক করতে পারি না, আমরা ইলজিক্যালি নেগেটিভ লেয়ারে চলে যাই, নেগেটিভলি অনেক কিছু চিন্তা করতে থাকি। এটা একটা দুষ্ট চক্রের মতো, একবার যদি আপনি নেগেটিভ থিংকিং এর ফাঁদে পড়ে যান, দেখবেন যে, বারবার করে আপনি সেই চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছেন। ব্রেক করার সহজ উপায় হচ্ছে, যখনই আপনার মন কোন একটা নেগেটিভ চিন্তা আসে, আপনি তখনি যেকোনো ছোট একটা কাজ শুরু করুন। যেমন, নিজের ডেস্কটা একটু গোছালেন, নিজের মোজা-জামা ধুলেন, কিচেনে গিয়ে দুটো প্লেট ধুলেন, গাছে পানি দিলেন। নিজের কাপড় গোছালেন। আপনি যেটা নিয়ে ভাবছেন তার সঙ্গে একদম রিলেটেড না। যখনই আপনার মাইন্ড ওই কাজটাতে চলে যাবে, তখনই কিন্তু ওই যে নেগেটিভ থিংকিং-এর ফাঁদটা ব্রেক করবে। তাই, দিস টাইনি হ্যাবিট ইজ ভেরি পাওয়ারফুল।
৫) নোটবুক লেখা। সেটাতে রাইট এভরিথিং ডাউন। আমরা অনেক কিছুই আমাদের মাথায় রাখার চেষ্টা করি, যে আজকে আমাকে ওইখানে বিল দিতে হবে, ওমুককে একটা ফোন দিতে হবে, ওমুক থেকে ওই জিনিসটা নিতে হবে এবং আমরা ভাবি যে আমাদের ব্রেইন সবকিছু মনে রাখবে। অনেকের ব্রেইন মনে রাখতে পারে,কিন্তু সেজন্য ব্রেইনের আবার মেমোরি খরচ হয়। এই মেমোরি বাঁচিয়ে রাখার জন্য, আপনার যখন যা কিছু মনে পড়বে, নতুন কোন আইডিয়া, নতুন কোন কথা, কিছু নতুন ভাবছেন,সঙ্গে সঙ্গে রাইট ইঁট ডাউন। সেটা আপনি কাগজে বা যেকোনো অ্যাপ ব্যবহার করে হতে পারে । দেখবেন, যখন আপনি এই প্র্যাকটিসটা করা শুরু করবেন, আপনার ব্রেইনের স্পেসে অনেক র্যাম খালি হয়ে যাবে। আমাদের মাইন্ড সবসময় কেন যেন একটা কুয়াশাচ্ছন্ন, একটা ধোঁয়াচ্ছন্ন ব্যাপার হয়ে থাকে কেন? আপনি যদি এই হ্যাবিটটা প্র্যাকটিস করা শুরু করেন, সবকিছু আমি লিখে রাখবো ত। তাহলে দেখবেন, আপনার মেন্টাল ক্লারিটি অনেক ইম্প্রুভ করেছে।
৬) ট্রাই করবেন প্রতিটা কমিউনিকেশনে ট্রাই টু বি অথেন্টিক। এর খুব সহজ টেকনিক হচ্ছে, তাকে একটা জেনুইন প্রশ্ন-উত্তর বা রেসপন্স করা। সে যে বিষয়ে কথা বলছে, হ্যাঁ, হুম, হুম, ও আচ্ছা এইসব না বলে প্রকৃত সে কি বলতে চাইছে তার উপরে প্রশ্ন বা উত্তর করা ! কেউ একজন মেসেজ লিখছে, আপনি শুধু হুম লিখলেন বা কোন উত্তরই দিলেন না। এটা জেনুইন থিং নয়, এটা বেয়াদবি। জেনুইনলি কোনো কমেন্ট করবেন। যেমন- আপনি যদি কারো পোস্ট বা ভিডিওতে একটা কমেন্ট করতে চান, তাহলে একটা গদ বাঁধা কমেন্ট না করে সুন্দর একটা জেনুইন কমেন্ট করবেন। যে আসলেই কি আপনার ভালো লেগেছে অথবা ভালো লাগেনি । বিষয় নিয়ে আপনার অবজেকশন ভালো কাজে লাগে। এতে সে বা তারা রিয়েলাইজ করে যে, আপনি আসলে মনোযোগ দিয়ে তার বা তাদের কথা শুনছেন, দ্যাট উইল বিল্ড পার্সোনাল কানেকশন।
৭) ইটস অল অ্যাবাউট ট্রাস্ট। ট্রাস্ট বলতে অধিকাংশ সময় আমরা ভাবি যে বড় বড় ওয়াদা, বড় বড় প্রমিস, কিন্তু এতে ট্রাস্ট কি বিল্ড করা যায় না, ট্রাস্ট বিল্ড হয় স্পেশালি আমাদের ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে। যার নাম ডিপিএস অফ ট্রাস্ট। ডিপোজিট স্কিম যেটা ব্যাংকে প্রতি মাসে অল্প, অল্প করে আপনি টাকা জমাবেন এবং এভাবে জমালে আপনি পাঁচ, দশ বছর পরে দেখা যাবে বড় অ্যামাউন্ট হবে। কিরকম স্মল ডিপোজিট? আপনি কাউকে বলেছেন, আপনি দশটার সময় আসবেন, দশটার সময় আসবেন। যদি আপনি না পারেন, তাহলে আগেই জানিয়ে দিবেন অথবা সরি বলবেন ।
৮) নেক্সট হ্যাবিটট হচ্ছে প্রতিদিন কিছুটা সময় সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা বা বোরডম থাকা। হ্যাঁ, প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট থেকে অন্তত ৩০ মিনিট একদম একা বসে থাকবেন। ফোনে হাতে নিবেন না, কোন বই থাকবে না, কোন টিভি থাকবে না, কিচ্ছু থাকবে না, শুধু আপনি এবং আপনার চিন্তা। পারলে অন্ধকার ঘরে করতে পারেন অথবা যেকোনো জায়গায় আপনি রিলাক্সিং সিচুয়েশনে গিয়ে বসে থাকবেন। কারণ, বোরডম ইজ রিয়েলি ইম্পর্টেন্ট ফর আওয়ার ব্রেইন। আমাদের ব্রেইনের ক্রিয়েটিভিটি গ্রো করার জন্য এবং এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাম ডাউন করার জন্য, এটা খুবই দরকার ।
৯) নেক্সট যে হ্যাবিটটা হচ্ছে, নেভার গো টু জিরো। প্রতিদিন আপনার নিজস্বই কিছু কাজ আছে। কিন্তু কখনো আপনি দেখলেন যে, দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আজকের দিনে কোন প্রোডাক্টিভ কোন কাজই করা হয় নাই, এন্ড দ্যাট ইজ আ জিরো ডে। এইরকম দিন যেন তৈরি না হয়, এমন কি ঈদের দিনও না, হ্যাঁ! কোন ডেইকে আপনি জিরো বানানোর চেষ্টা করবেন না। যাই কিছু করেন, বাট ডোন্ট মেক ইট জিরো। প্রোডাক্টিভিটি লিস্টে আপনার যেই কাজ, সেখানে কখনোই নিজেকে জিরোতে নিবেন না।
১০) লাস্ট হ্যাবিটটা হচ্ছে, প্রতিদিন নিজেকে অন্তত তিনবার এই কথাটা বলার চেষ্টা করবেন যে, আমি এমন একজন মানুষ, যে-কাজগুলো শুরু করি সে কাজটা আমি শেষ করি। ইটস আ পজিটিভ অ্যাফারমেশন, নিজেকে নিজে মোটিভেট ফিল করার জন্য। এতে আপনার যে আইডেন্টিটি সেটার সাথে বিল্ড হয়ে যাবে, তখন দেখবেন যে, আসলে সবগুলো কাজ করা আপনার জন্য সহজ হয়ে আসছে, কারন দিস ইজ ইওর আইডেন্টিটি। 📚
আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে লিডিয়া নামের একটা প্রাচীন রাজ্যে শুরু হয় ভীষণ এক বিদ্রোহ। প্রাচীনকালের সেই লিডিয়া রাজ্যটি ছিল বর্তমান তুরস্ক অঞ্চলে। ওই সময় লিডিয়া থেকে শুরু করে ভারতবর্ষের কিছু অংশ পর্যন্ত বিশাল অঞ্চল ছিল পারস্যের মহান সম্রাট দারিয়ুসের নিয়ন্ত্রণে। আর এই বিশাল সাম্রাজ্যের রাজদরবার ছিল পারস্যের মালভূমিতে। লিডিয়া থেকে রাজার প্রাসাদের দূরত্ব ছিল প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার। আর এই পুরোটা পথ জুড়েই ছিল পর্বত, নদী, মরুভূমির মতো বিশাল বিশাল বাঁধা।
তবে এত বাঁধা সত্ত্বেও লিডিয়ার সেই বিদ্রোহের খবর সম্রাট দারিয়ুস অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে নির্দেশ দিলেন সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে। শেষ পর্যন্ত সেই বিদ্রোহ দমন করতেও সক্ষম হয় দারিয়ুসের বাহিনী। শুনতে খুব সাধারণ একটা ঘটনা মনে হলেও ওই আমলে এই ধরনের যোগাযোগ ছিল প্রায় অসম্ভব। তাহলে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছিল কীভাবে? আসলে সম্রাট দারিয়ুসের শাশনামলে সারদিস থেকে সুসা পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটা রাজপথ ছিল। আর এর সাথে ছিল সাম্রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত এক অভিনব ডাক–ব্যবস্থা।
রাজপথের প্রতি ২৫–৩০ কিলোমিটার পরপর ছিল ডাকঘর বা রিলে স্টেশন। সেখানে প্রস্তুত থাকত নতুন ঘোড়া, খাবার, আর পাহারাদার। একজন ঘোড়সওয়ার ছুটে এসে চিঠি দিয়ে নেমে পড়ত, আর সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ঘোড়সওয়ার ছুটে যেত পরবর্তী স্টেশনের দিকে। দিন কিংবা রাত, বৃষ্টি কিংবা তুষারপাত—সবকিছু উপেক্ষা করে এই সম্রাটের ঘোড়াচালকরা ছুটে চলত অবিরাম।
গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডটাস পারস্য জাতির লোকদের খুব একটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু তিনিও বাধ্য হয়েছেন তার লেখাতে এই ডাক ব্যবস্থার উল্লেখ করতে। যে পথ পাড়ি দিতে সাধারণ যাত্রীর লাগত প্রায় তিন মাস, সেখানে রাজকীয় বার্তা পৌঁছে যেত মাত্র সাত থেকে নয় দিনে।
যেমন বিশাল ছিল এই সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী, তেমন বিশাল ছিল এই সাম্রাজ্য, আর তেমনি কৌশলী ছিলেন আকামেনিদ সাম্রাজ্যের সম্রাটরা। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন—আকেমেনিদরা সাম্রাজ্যকে শুধু জয় করেনি, তারা সাম্রাজ্যকে প্রশাসনে রূপান্তর করেছিল। অনেকেই বলেন যে রোমানরাই নাকি প্রথম রাজপথ তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রথমবার মহাদেশজুড়ে এই রাজপথ তৈরির কাজটি আসলে শুরু করেছিলেন আকামেনিদ সম্রাট দারিয়ুস। প্রাচীনকালে এই সাম্রাজ্যের মতো এত শক্তিশালী কোনো সাম্রাজ্যই আসলে ছিল না। অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, আকামেদিনরা যদি শুধু গ্রিস জয় করতে পারতো, তাহলে আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতা বলেই হয়ত কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকত না। তার বদলে সেখানে থাকত আকামেনিদদের পারস্য সংস্কৃতি।
অনেক আধুনিক ইতিহাসবিদই মনে করেন যে, এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের ‘আধুনিক’ সাম্রাজ্য। আকেমেনিদরা বুঝেছিল যে, একটি বিশাল ভূখণ্ড শুধু সৈন্য দিয়েই ধরে রাখা যায় না। তাই তারা গড়ে তোলে স্যাট্রাপি ব্যবস্থা। প্রতিটি প্রদেশে একজন গভর্নর থাকত, কিন্তু তার ক্ষমতা সীমাহীন ছিল না। আলাদা আলাদা কর্মকর্তা কর আদায়, বিচার এবং সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকত। এর ফলে দুর্নীতি ও বিদ্রোহের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আজকের দিনের প্রশাসনিক ‘চেক এ্যান্ড ব্যালেন্সের’ আদিম রূপ দেখা যায় এই সাম্রাজ্যেই।
আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাদের ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি সম্মান। পারস্যের এই সাম্রাজ্য পৃথিবীর বিশাল অঞ্চল শাসন করেছিল। কিন্তু তারা যেখানে গিয়েছে সেই অঞ্চলের স্থানীয় ভাষা, আইন ও ধর্ম তারা ধ্বংস করেনি। মিশরে তারা ফারাওদের মতো শাসন করেছে, মেসোপটেমিয়ায় গিয়ে তারা ব্যাবিলনীয় রীতিনীতি বজায় রেখেছে, ইহুদিদের তারা ব্যাবিলনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এই নীতি তাদের সাম্রাজ্যকে স্থিতিশীল করেছিল। কারণ মানুষ নিজেদের শাসিত মনে করেনি, বরং তারা নিজেদের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছিল।
প্রাচীন পৃথিবীর সত্যিকারের পরাশক্তি ছিল এই পারসিকরা। আপনারা অনেকেই থ্রি হান্ড্রেড সিনেমাতে সম্রাট জেরেক্সিসের গ্রিস আক্রমণের ঘটনার চলচ্চিত্রায়ন দেখেছনে। টম হল্যান্ড তার পার্সিয়ান ফায়ার বইতে পাশ্চাত্য আর প্রাচ্য সংস্কৃতির মধ্যকার সেই প্রাচীন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর সেই বইতে তিনি দেখিয়েছিলেন যে, জেরেক্সিস যদি গ্রিস জয় করে ফিরত তাহলে হয়ত ইতিহাসের গতিপথই বদলে যেত। কারণ পশ্চিমাদের আজকের সভ্যতা দাড়িয়ে আছে ইউরোপের রেনেসাঁর সাফল্যের ওপর ভর করে। আর রেনেসাঁ শব্দের অর্থ হলো রিবার্থ। কিসের রিবার্থ? কিসের পুনর্জন্ম? সেই ক্লাসিক গ্রিস যুগের জ্ঞান আর প্রজ্ঞার পূর্ণজন্ম। আর জেরেক্সিস যদি সেদিন গ্রীক জয় করে ফিরে আসতো, তাহলে সেই গ্রীক জ্ঞানের ন্যারেটিভই লেখা হতো নতুন করে।
হিমাংশু
পুঁজিবাদ, সমাজবাদ ও সাম্যবাদ: আসল পার্থক্যটা কোথায়?
পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, সাম্যবাদ—এই শব্দগুলো আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজে পড়ি, টিভির বিতর্কে শুনি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহার করি। কিন্তু সত্যিই কি আমরা জানি, এই তিনটি মতবাদ একে অপরের থেকে কতটা আলাদা?
পুঁজিবাদ কী?
পুঁজিবাদের সবচেয়ে সহজ অর্থ হলো—
উৎপাদনের উপায় (যেমন—কারখানা, যন্ত্রপাতি, জমি) সরকারের নয়, বরং ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকে।
এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য একটাই— মুনাফা করা এবং সেই মুনাফা দিয়ে আরও পুঁজি তৈরি করা।
একটি সহজ উদাহরণ:-
ধরা যাক, কারও কাছে একটি বাস আছে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায়—
মালিক বাসটি চালাবে কি না, বিক্রি করবে কি না, নাকি একেবারেই চালাবে না, এসব সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মালিকের। সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করে না।
পুঁজিবাদের চারটি মূল স্তম্ভ:
১. ব্যক্তিগত মালিকানা (Private Ownership)
কারখানা, জমি, যন্ত্র—সবই ব্যক্তিগত মালিকানায়
২. মজুরি ব্যবস্থা (Wage Labour)
শ্রমিক নির্দিষ্ট বেতন পায়, মুনাফার অংশীদার হয় না
৩. পুঁজি সঞ্চয় (Capital Accumulation)
মুনাফা থেকে আরও বিনিয়োগ, আরও ব্যবসা
৪. প্রতিযোগিতা (Competition)
খোলা বাজার, যেখানে একাধিক কোম্পানি একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে
পুঁজিবাদের জন্ম কোথায়?
পুঁজিবাদের জন্ম হয় ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা (Feudal System) ভেঙে পড়ার পর।
আগে কৃষকেরা জমিদারের জমিতে কাজ করত, নিজের জমি বা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছিল না। এই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরই মুক্ত বাজার অর্থনীতি (Free Market) গড়ে ওঠে।
শিল্পবিপ্লব ও পুঁজিবাদের নির্মম দিক
১৮ ও ১৯ শতকের শিল্পবিপ্লবের সময় গ্রাম ফাঁকা হতে থাকে, মানুষ কাজের খোঁজে শহরে চলে আসে, সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়
১. পুঁজিপতি শ্রেণি — কারখানার মালিক
২. শ্রমিক শ্রেণি — মজুরিভিত্তিক কর্মী
এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ—দিনে ১৪–১৬ ঘণ্টা কাজ, শিশু শ্রম, অস্বাস্থ্যকর বস্তি, ধনী ও দরিদ্রের বিশাল ব্যবধান।
তবুও পুঁজিবাদ আজও টিকে আছে কেন?
কারণ পুঁজিবাদ সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলেছে।
আজ— আমাদের হাতে অসংখ্য পছন্দ, একই পণ্যের বহু ব্র্যান্ড, ভোক্তা-নির্ভর অর্থনীতি
তবে এর আরেকটি অন্ধকার দিকও আছে—
১. অতিরিক্ত ভোগবাদ
২. প্রকৃতির সীমাহীন শোষণ
পুঁজিবাদের প্রধান চিন্তাবিদরা:
১. অ্যাডাম স্মিথ
তিনি বলেন—বাজার চলে একটি “অদৃশ্য হাত” (Invisible Hand) দ্বারা
সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দরকার নেই
২. জন মেনার্ড কেইন্স
মহামন্দার পর তিনি বলেন—বাজার সবসময় নিজে নিজে ঠিক হয় না
সরকারকে হস্তক্ষেপ করতেই হয়
আজকের বেশিরভাগ দেশ এই দুই মতের মিশ্রণ অনুসরণ করে।
সমাজবাদ: সমতার খোঁজ
পুঁজিবাদের বৈষম্যের প্রতিক্রিয়ায় জন্ম নেয়—সমাজবাদ (Socialism)
এর মূল ধারণা—
উৎপাদনের উপায় সমাজের সবার আর মুনাফা বণ্টন হবে ন্যায্যভাবে
সমাজবাদের মূল নীতি
১. সুযোগের সমতা
২. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
৩. শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা
ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনাতেই “সমাজবাদী” শব্দটি রয়েছে।
বাস্তব উদাহরণ: নর্ডিক দেশ
নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক—
১. প্রায় বিনামূল্যের শিক্ষা
২. উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা
৩. কিন্তু করের হার বেশি
এটি এক ধরনের সামাজিক চুক্তি (Social Contract)।
সাম্যবাদ: সমাজবাদের চরম রূপ
সাম্যবাদ (Communism) আরও এক ধাপ এগিয়ে বলে—
১. কোনো শ্রেণি থাকবে না
২. কোনো রাষ্ট্র থাকবে না
৩. এমনকি টাকা-পয়সাও থাকবে না
এই ধারণা দেন— কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস।
রুশ বিপ্লব ও বাস্তবতা
১৯১৭ সালে লেনিন মার্ক্সের চিন্তাধারা বাস্তবে প্রয়োগ করেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়— জনগণের নামে সবকিছু রাষ্ট্রের হাতে চলে যায় একে বলা হয় রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ।
ব্যর্থতার প্রধান কারণ
১. পরিশ্রমে উৎসাহের অভাব
২. উদ্ভাবনের ঘাটতি
৩. সমবায়ী কৃষির ব্যর্থতা
ফলাফল—অকাল, দুর্ভিক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন
আজকের পৃথিবীর বাস্তব চিত্র:
আজ কোনো দেশই
পুরোপুরি পুঁজিবাদী বা পুরোপুরি সাম্যবাদী নয়।
১. আমেরিকা → পুঁজিবাদী, কল্যাণমূলক কর্মসূচি
২. চীন → কমিউনিস্ট শাসন + মুক্ত বাজার
৩. ভারত → মিশ্র অর্থনীতি
ফ্যাসিবাদ: ভয়ংকর আরেক মতবাদ
২০ শতকে উঠে আসে— ফ্যাসিবাদ
এর বৈশিষ্ট্য—একনায়কতন্ত্র, চরম জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা। এটি না পুরো পুঁজিবাদ না পুরো সাম্যবাদ— বরং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বেসরকারি ব্যবস্থা।
উপসংহার
প্রতিটি মতবাদই কিছু ভালো দিয়েছে, আবার কিছু ক্ষতিও করেছে।
আজকের বিশ্ব এই সব চিন্তার মধ্যে একটি সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা করছে।
📚
সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম (Sudden Wealth Syndrome)
মনোবিজ্ঞান বলছে, এই 'আচমকা বড়লোক' হওয়াটা অনেকের জন্য আনন্দের চেয়ে বড় বিপর্যয় নিয়ে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়— সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম (Sudden Wealth Syndrome)।
আজ চলুন এই "টাকার জ্বরের" ময়নাতদন্ত করি!
সাডেন ওয়েলথ সিনড্রোম কী? এটা কি কোনো রোগ?
না, এটি কোনো শারীরিক রোগ নয়, বরং এটি একটি মানসিক ও আবেগীয় অস্থিরতা। যখন একজন মানুষ তার ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি সম্পদ হুট করে পেয়ে যায়, তখন তার মস্তিষ্ক সেই নতুন বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না।
সহজ উপমা: ধরুন, আপনি সারা জীবন সাইকেল চালিয়েছেন। হঠাৎ আপনাকে একটা সুপারফাস্ট 'স্পোর্টস কার' বা 'জেট বিমান' চালাতে দেওয়া হলো। কোনো ট্রেনিং ছাড়া কি আপনি সেটা কন্ট্রোল করতে পারবেন? নির্ঘাত ক্র্যাশ করবেন!
হঠাৎ আসমানি টাকাও ঠিক তেমন—সঠিক 'ড্রাইভিং স্কিল' (Money Management) না থাকলে জীবনটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
কেন হঠাৎ টাকা এলে জীবন 'নষ্ট' হয়ে যায়? নেপথ্যের কারণগুলো:
১. প্যারালাইসিস বাই অ্যানালাইসিস (সিদ্ধান্তহীনতা): এত টাকা দিয়ে কী করব? কোথায় রাখব? কাকে দেব? এই চিন্তায় মানুষ প্যানিক অ্যাটাক বা চরম দুশ্চিন্তায় ভোগে।
২. অদৃশ্য 'বন্ধুর' ভিড়: টাকা আসার খবর ছড়ালে দেখবেন— হারানো খালাতো ভাই, ১০ বছর আগে দেখা হওয়া বন্ধু আর পাড়ার মোড়ের 'হিতাকাঙ্ক্ষীরা' লাইন ধরছে। কে আপন আর কে টাকার কাঙাল, এটা বুঝতে না পেরে মানুষ ভুল মানুষের হাতে সম্পদ তুলে দেয়।
৩. গিল্ট বা অপরাধবোধ: "আমি কেন পেলাম? আমার অন্য আত্মীয়রা তো গরিব!"—এই অহেতুক অপরাধবোধ থেকে অনেকে উল্টোপাল্টা দান-খয়রাত করে বা বাজে খরচ করে দ্রুত সব টাকা উড়িয়ে দিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
৪. পরিচয় সংকট (Identity Crisis): এতদিন আপনি ছিলেন সাধারণ একজন মানুষ। এখন আপনি 'বড়লোক'। আপনার পুরোনো বন্ধুরা আপনাকে আর আগের মতো গ্রহণ করছে না, আবার উচ্চবিত্তদের সাথেও আপনি মিলতে পারছেন না। এই একাকীত্ব থেকে অনেকে নেশা বা ডিপ্রেশনের পথে পা বাড়ায়।
রেড ফ্ল্যাগ: টাকা আসার পর কী কী ভুল হয়?
বিলাসবহুল কেনাকাটা: ধুমধাম করে দামি গাড়ি বা অপ্রয়োজনীয় বিশাল বাড়ি কেনা (যার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আপনার নেই)।
বিনিয়োগের ভুল সিদ্ধান্ত: চটজলদি দ্বিগুণ করার লোভে আজেবাজে স্কিমে টাকা ঢালা।
সম্পর্ক নষ্ট করা: টাকার দাপটে কাছের মানুষদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।
এই সিনড্রোম থেকে বাঁচার 'মাস্টার প্ল্যান'
যদি কপালগুণে আপনার হাতে বড় কোনো অংক আসে, তবে নিজেকে সামলাবেন কীভাবে?
একটি 'কুলিং অফ' পিরিয়ড নিন: টাকা পাওয়ার পর প্রথম ৩-৬ মাস বড় কোনো কেনাকাটা বা বিনিয়োগ করবেন না। আপনার মস্তিষ্ককে এই বড় অংকের সাথে 'অ্যাডজাস্ট' হতে সময় দিন।
পেশাদার পরামর্শ নিন: কোনো ভালো ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা ট্যাক্স কনসালট্যান্টের সাথে কথা বলুন। আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অংকের হিসাব করুন।
গোপনীয়তা রক্ষা করুন: চিৎকার করে সবাইকে জানানোর দরকার নেই। সম্পদ যত নীরব থাকে, শান্তিতে থাকা তত সহজ হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন: যদি খুব বেশি অস্থির লাগে, তবে একজন থেরাপিস্টের সাথে কথা বলুন। মনে রাখবেন, টাকা আপনার দাস, আপনি টাকার দাস নন!
শেষ কথা
টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে; কিন্তু টাকা দিয়ে 'বিপদ' কেনা খুব সহজ! হঠাৎ আসা সম্পদকে ধরে রাখার জন্য পকেটের চেয়ে মাথার শক্তি বেশি প্রয়োজন।
তাই লটারি লাগুক বা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ পান—আগে নিজের 'সফটওয়্যার' আপডেট করুন, তারপর হার্ডওয়্যার (বিলাসিতা) কিনুন!
📚 তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায় #Muhammad_Nasim_Hossain
চিনির চেয়েও ভয়ংকর ময়দা? ইনসুলিনের আসল শত্রু কে?
আমরা ছোটবেলা থেকে জানি, "চিনি খাওয়া খারাপ, চিনিতে ডায়াবেটিস বাড়ে।" তাই আমরা চায়ে চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিই, কিন্তু অবলীলায় বিস্কুট, পরোটা, পুরি বা সাদা পাউরুটি খেয়ে যাচ্ছি। ভাবছি—"এগুলো তো আর মিষ্টি না, এগুলো নিরাপদ।"
কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এক ভয়ংকর সত্য কথা— আপনার রক্তে সুগার বা ইনসুলিন স্পাইক করার ক্ষেত্রে সাদা চিনি (Table Sugar)-এর চেয়েও বেশি শক্তিশালী হলো সাদা ময়দা (Refined Flour)।
শুনতে অবাক লাগছে? চিনি তো মিষ্টি, আর ময়দা তো পানসে! তাহলে ময়দা কেন বেশি ক্ষতিকর? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বায়োকেমিস্ট্রি বা রাসায়নিক গঠনের ভেতরে।
১. গ্লুকোজ বনাম ফ্রুক্টোজ (The Structure):
চিনি (Table Sugar): চিনি বা সুক্রোজ হলো ৫০% গ্লুকোজ এবং ৫০% ফ্রুক্টোজের মিশ্রণ। আপনি যখন চিনি খান, এর অর্ধেক অংশ (ফ্রুক্টোজ) লিভারে চলে যায় প্রসেস হওয়ার জন্য (যা ফ্যাটি লিভার বানায়, কিন্তু তাৎক্ষণিক রক্তে সুগার বাড়ায় না)। বাকি অর্ধেক (গ্লুকোজ) রক্তে যায়।
ময়দা (Maida): ময়দা হলো ১০০% স্টার্চ। আর স্টার্চ মানেই হলো হাজার হাজার গ্লুকোজের অণু দিয়ে তৈরি একটি লম্বা চেইন (Chain of Glucose)। এতে কোনো ফ্রুক্টোজ নেই। অর্থাৎ, ময়দা খাওয়া মানে আপনি সরাসরি ১০০% গ্লুকোজ খাচ্ছেন।
২. অ্যামাইলোপেকটিন-এ (The Super Starch):
গমের মধ্যে এক বিশেষ ধরণের স্টার্চ থাকে যার নাম 'অ্যামাইলোপেকটিন-এ' (Amylopectin A)। এটি এতটাই দুর্বল বন্ধনে আবদ্ধ থাকে যে, মুখের লালায় থাকা এনজাইম (Amylase) স্পর্শ করার সাথে সাথেই এটি ভেঙে গ্লুকোজ হয়ে যায়।
৩. মিহি কণা (Surface Area):
ময়দাকে মেশিনে পিষে এতটাই মিহি পাউডার করা হয় যে, এর হজম হতে কোনো সময়ই লাগে না। পেটে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এটি গ্লুকোজ হয়ে রক্তের স্রোতে মিশে যায়।
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) এর খেলা:
খাবার কত দ্রুত রক্তে সুগার বাড়ায়, তার মাপকাঠি হলো জিআই (GI)।
সাদা চিনির GI: ৬৫ (মাঝারি)
সাদা ময়দার GI: ৮৫ (অনেক বেশি!)
তার মানে, এক চামচ চিনি খাওয়ার চেয়ে এক টুকরো সাদা পাউরুটি বা বিস্কুট খাওয়া আপনার ইনসুলিনকে আরও দ্রুত এবং উঁচুতে (Spike) নিয়ে যায়।
ফলাফল:
এই তীব্র ইনসুলিন স্পাইক আপনার শরীরকে ৩টি নির্দেশ দেয়:
১. ফ্যাট জমাও: ইনসুলিন হলো 'ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন'।
২. তেল বাড়াও: ইনসুলিন সিবাম বা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় = ব্রণ (Acne)।
৩. ক্ষুধা বাড়াও: দ্রুত সুগার বেড়ে আবার দ্রুত কমে যায় (Crash), ফলে কিছুক্ষণ পরেই আবার প্রচণ্ড ক্ষুধা পায়।
মিষ্টি খাচ্ছেন না বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগবেন না। যদি সকালের নাস্তায় পরোটা, বিকেলে বিস্কুট বা নুডলস আর রাতে নানরুটি খান—তবে আপনি চিনির চেয়েও খারাপ কিছু ঢুকাচ্ছেন শরীরে। ইনসুলিন এবং ত্বক ঠিক রাখতে চাইলে চিনি এবং ময়দা—দুটোকেই 'না' বলুন।
সাধারণত আমরা 'বাসি খাবার' বলতে নষ্ট বা অস্বাস্থ্যকর কিছু বুঝি। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার রান্না করার পর নির্দিষ্ট সময় রেখে দিলে সেগুলোর পুষ্টিগুণ উল্টো বেড়ে যায়। বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাবারে এই পরিবর্তনটা বেশি দেখা যায়।
নিচে এমন ৬টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যা বাসি বা ঠান্ডা করে খেলে শরীরের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে:
১. পান্তা ভাত (Fermented Rice)
আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত বাসি খাবারের তালিকায় সবার উপরে। গরম ভাত পানিতে ভিজিয়ে সারারাত রাখলে তাতে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়া ঘটে।
কেন উপকারী: এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন B12, B6 এবং ক্যালসিয়াম তৈরি হয়।
উপকারিতা: এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং এতে থাকা প্রোবায়োটিকস (উপকারী ব্যাকটেরিয়া) পেটের হজমশক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. সিদ্ধ আলু (Cold Boiled Potatoes)
আলু সিদ্ধ করার পর যদি তা সাথে সাথে না খেয়ে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করা হয়, তবে তার গুণাগুণ বদলে যায়।
কেন উপকারী: ঠান্ডা আলুতে 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ' (Resistant Starch) তৈরি হয়। এটি সাধারণ শর্করার মতো রক্তে দ্রুত সুগার বাড়ায় না।
উপকারিতা: এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
৩. হাতে গড়া রুটি
তাজা গরম রুটির চেয়ে কয়েক ঘণ্টা আগের বাসি রুটি শরীরের জন্য অনেক সময় বেশি উপকারী বলে মনে করা হয়।
কেন উপকারী: রুটি রেখে দিলে এতে থাকা আর্দ্রতা কমে যায় এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) হ্রাস পায়।
উপকারিতা: বাসি রুটি দুধে ভিজিয়ে খেলে হজমের সমস্যা কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর।
৪. পাস্তা (Leftover Pasta)
শুনতে অবাক লাগলেও, পাস্তা রান্না করার পর ঠান্ডা করে বা পুনরায় গরম করে খেলে তা শরীরের জন্য ভালো।
কেন উপকারী: আলুর মতোই পাস্তাকে ঠান্ডা করলে এর শর্করা 'রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে' রূপান্তরিত হয়।
উপকারিতা: এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে দেয় না (Insulin spike প্রতিরোধ করে)। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি ভালো কৌশল হতে পারে।
৫. ওটস (Overnight Oats)
ওটস সরাসরি জ্বাল দিয়ে খাওয়ার চেয়ে সারারাত দুধ বা দইয়ে ভিজিয়ে রেখে 'ওভারনাইট ওটস' হিসেবে খাওয়া বেশি জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর।
কেন উপকারী: দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকার ফলে ওটসের ভেতরে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড ভেঙে যায়, যা শরীরের জন্য পুষ্টি শোষণ সহজ করে তোলে।
উপকারিতা: এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
৬. ডাল (Lentils)
অনেকেই মনে করেন বাসি ডাল খেতে বেশি সুস্বাদু। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণও আছে।
কেন উপকারী: ডাল রান্না করে রেখে দিলে এর ভেতরের প্রোটিন ও ফাইবার ভালোভাবে মিশে যায় এবং পুষ্টি উপাদানগুলো আরও স্থিতিশীল হয়।
উপকারিতা: বাসি ডাল সহজে হজম হয় এবং এটি শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
সতর্কতা: বাসি খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেটি যেন যথাযথভাবে ফ্রিজে বা নিরাপদ তাপমাত্রায় সংরক্ষিত থাকে। খাবার থেকে কোনো দুর্গন্ধ আসলে বা রং বদলে গেলে তা খাবেন না।
“রোগী ছোঁয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।” আর সেই কথার জন্যই তাঁকে পাগল ঘোষণা করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল!
এই মানুষটির নাম ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথম “হাইজিন হিরো”।
অষ্টাদশ শতকে ভিয়েনার এক হাসপাতালে প্রতিদিন মারা যেত অসংখ্য প্রসূতি। কেউ জানতো না কেন। ইগনাজ দেখলেন—ডাক্তাররা মর্গে মৃতদেহ পরীক্ষা করে সোজা রোগী দেখতে যান, হাত না ধুয়েই। তিনি নির্দেশ দিলেন—“হাত ক্লোরিনে ধুয়ে নিন।”
অলৌকিকভাবে প্রসূতি মৃত্যুর হার কমে গেল ৯৯%। কিন্তু তখনকার ডাক্তার সমাজ বিশ্বাস করতো—রোগ হয় দুষ্ট আত্মার কারণে, জীবাণুর কারণে নয়। ফলে তাঁকে ‘পাগল’ বলা হলো, চাকরি গেল, শেষে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
কিন্তু সত্য চিরকাল টিকে থাকে। বহু বছর পর লুই পাস্তুর ও জোসেফ লিস্টার তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করেন—রোগ আসলে জীবাণু থেকেই হয়। আজ আমরা যেভাবে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার, স্টেরিলাইজার ব্যবহার করি—সবকিছুর শিকড় সেই স্যামেলওয়াইজের ভাবনায়।
আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে তাঁকেই মনে করি—যিনি নিজের প্রাণ দিয়ে শিখিয়েছিলেন,
“একটা পরিষ্কার হাত, এক পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে।”
আপনিও যদি চান ক্লাসে, আড্ডায় কিংবা যে কোনো ভিড়ে আপনার উপস্থিতি আলাদাভাবে অনুভূত হোক
তাহলে এই ৩টি সাইকোলজিক্যাল হ্যাবিট আজ থেকেই নিজের জীবনে ঢুকিয়ে দিন।
১. নিজের উপস্থিতি তৈরি করুন (Command Your Presence)
আপনি কথা বলার আগেই আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনেক কিছু বলে দেয়।
কুঁজো হয়ে হাঁটা, চোখ নামিয়ে কথা বলা
এই অভ্যাসগুলো মানুষকে অবচেতনভাবেই আপনাকে “দুর্বল” ভাবতে শেখায়।
কী করবেন?
মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাঁটুন
কথা বলার সময় স্বাভাবিক আই কন্টাক্ট রাখুন
কথা বলুন স্পষ্ট ও ধীরভাবে
কেন কাজ করে?
আত্মবিশ্বাসই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাক।
যখন আপনি নিজের শরীর ও কথার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনেন,
মানুষ অজান্তেই আপনাকে সম্মান দিতে শুরু করে।
আপনার উপস্থিতি তখন আর সংখ্যা থাকে না
তা হয়ে ওঠে একটি পাওয়ার।
২. শব্দের অপচয় বন্ধ করুন (The Power of Silence)
অনেকে মনে করে বেশি কথা বললেই গুরুত্ব বাড়ে।
কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো।
যে সারাক্ষণ কথা বলে, মানুষ তাকে হালকা ভাবে।
আর যে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না
তার কথার ওজন থাকে।
কী করবেন?
কম কথা বলুন, বেশি শুনুন
সব আলোচনায় মতামত দেওয়ার দরকার নেই
চুপ থাকতে স্বচ্ছন্দ হন
কেন কাজ করে?
আপনি যত কম কথা বলবেন,
আপনার প্রতিটি শব্দ তত বেশি শক্তিশালী হবে।
মানুষ তখন আপনার কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করবে।
মনে রাখবেন
গভীর নদী কখনো শব্দ করে না।
৩. শোরগোল নয়, রেজাল্টে ফোকাস করুন (Silent Improvement)
অনেকেই কাজ শুরু করার আগেই ঢোল পেটায়।
সাময়িক বাহবা পাওয়া যায়,
কিন্তু ফোকাস নষ্ট হয়।
কী করবেন?
আপনার লক্ষ্য সবার সামনে প্রকাশ করবেন না
দুর্বলতাগুলো নিয়ে নীরবে কাজ করুন
প্রতিদিন নিজেকে ১% করে উন্নত করুন
কেন কাজ করে?
দুনিয়া আপনার পরিশ্রম দেখতে চায় না,
দুনিয়া দেখতে চায় ফলাফল।
আপনার পরিশ্রম হোক নিঃশব্দ,
কিন্তু সাফল্য হোক গগনবিদারী।
একদিন আপনার রেজাল্টই কথা বলবে
আপনাকে কিছু বলতে হবে না।
শেষ কথা
পাওয়ার কখনো চেঁচিয়ে অর্জন করা যায় না।
এটা তৈরি করতে হয় ভেতর থেকে।
আত্মবিশ্বাস আনুন আপনার চলনে
গাম্ভীর্য আনুন আপনার কথায়
উন্নতি আনুন আপনার কাজে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক। জরিপ, মা সমাবেশসহ অসংখ্য অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল (শিক্ষকতার বাইরে) কাজ করতে হয় তাদের। এ কাজে সরকারের বছরে প্রায় এক হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়। একই সঙ্গে অপেশাদার কাজের কারণে প্রায় ৯৩ শতাংশ শিক্ষক কর্মক্লান্ত। তারা ক্লান্তির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে (লেট-স্টেজ বার্নআউট) রয়েছেন।
অপেশাদার বা অতিরিক্ত দাপ্তরিক কাজ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ৯০ শতাংশ শিক্ষক পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। নন-প্রফেশনাল কাজের অতিরিক্ত চাপ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মান, শিক্ষকের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার্থীদের শিখনফলে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও একমাত্র নির্ভরযোগ্য আদি নিদর্শন হলো চর্যাপদ। এটি মূলত বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থী সিদ্ধাচার্যদের সাধন-সঙ্গীত বা ভজন গান [১.২.৪, ১.৩.১]।
চর্যাপদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
আবিষ্কার: ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন [১.১.২, ১.৫.১]।
প্রকাশকাল: ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় [১.১.১, ১.৫.২]।
রচয়িতা: চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১টি হলেও পুঁথিতে সাড়ে ছেচল্লিশটি পদ পাওয়া গেছে। এর রচয়িতা মূলত ২৪ জন (মতান্তরে ২৩ জন) বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, যাদের মধ্যে লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকু পা এবং শবর পা অন্যতম [১.১.১, ১.২.৯, ১.৪.২]
ভাষা: এর ভাষাকে 'আলো-আঁধারি' বা সন্ধ্যা ভাষা বলা হয়, কারণ এর অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক অর্থ বোঝা কঠিন [১.৪.২, ১.৪.৭]।
রচনাকাল: অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, এটি খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে
মানুষের_মন_পড়া কি সত্যিই সম্ভব? সরাসরি না।
কিন্তু মানুষের অবচেতন মন (Subconscious Mind) এমন কিছু সিগন্যাল শরীরের মাধ্যমে প্রকাশ করে যা পুরোপুরি লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।
আপনি যদি এই মনস্তাত্ত্বিক ইশারাগুলো বুঝতে শেখেন, তাহলে খুব সহজেই আন্দাজ করতে পারবেন
সামনের মানুষটির মনে আপনার জন্য আসলে কী চলছে।
আজকের এই পোস্টে জানবেন এমন ৫টি কার্যকর সাইকোলজি টেকনিক, যেগুলো খেয়াল করলে আপনি মুহূর্তেই কাউকে Read করতে পারবেন।
১. মিররিং ইফেক্ট (The Mirroring Trick)
কথা বলার সময় লক্ষ্য করুন
সামনের মানুষটি কি অজান্তেই আপনার মতো করে বসছে?
আপনার কথা বলার টোন, হাতের ভঙ্গি কিংবা স্টাইল কি সে কপি করছে?
সাইকোলজি বলে:
যখন কেউ আপনার প্রতি ভেতরে ভেতরে আকৃষ্ট বা ইমপ্রেসড হয়, তখন তার অবচেতন মন আপনার সাথে একটি কানেকশন তৈরি করতে চায়।
এই কারণেই সে আপনাকে মিরর করতে শুরু করে।
এটা নকল নয় এটা হলো সম্মান আর সংযোগের এক নীরব ভাষা।
২. বিহেভিয়ার চেঞ্জ সিগন্যাল (The Appearance Reflex)
আপনার সামনে এলেই কি মানুষটির আচরণ বদলে যায়?
বারবার চুল ঠিক করা, পোশাক গুছিয়ে নেওয়া, কিংবা গলার স্বর হালকা নরম বা গম্ভীর হয়ে যাওয়া?
সাইকোলজি বলে:
আপনার উপস্থিতিতে সে নিজের সেরা ভার্সনটা দেখাতে চায়।
এই আচরণটি প্রমাণ করে সে চায় আপনার পুরো ফোকাস শুধু তার দিকেই থাকুক।
সে চায় আপনি তাকে নোটিস করুন।
৩. রিঅ্যাকশন চেক (The Group Laugh Secret)
গ্রুপে সবাই একসাথে কোনো জোকসে হাসলে খেয়াল করুন
হাসির মুহূর্তে সে প্রথমে কার দিকে তাকায়?
সাইকোলজি বলে:
হাসি হলো মানুষের সবচেয়ে অসতর্ক মুহূর্ত।
এই সময় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার প্রিয় বা সবচেয়ে কাছের মানুষের দিকেই তাকায়।
যার দিকে তাকিয়ে সে হাসে বুঝে নিন, তার মনে সেই ব্যক্তির জায়গাটা বিশেষ।
৪. ডিটেইল ডিটেক্টিভ (The Attention Grip)
আপনি হয়তো অনেক আগে সাধারণ কোনো কথা বলেছিলেন
কিন্তু সে এখনো সেটা মনে রেখেছে।
আপনার পছন্দ-অপছন্দ, ছোট অভ্যাস কিংবা জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো তার মনে গেঁথে আছে।
সাইকোলজি বলে:
যখন কেউ আপনার ছোট ছোট বিষয়েও গভীর মনোযোগ দেয় এবং বারবার আপনার কাছে আসার সুযোগ খোঁজে
তখন সে কেবল ইমপ্রেস করতে চায় না, বরং আপনার জীবনে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়।
৫. প্রক্সিমিটি ম্যাগনেট (The Physical Intent)
ভিড় বা গ্রুপে থাকলেও কি সে সবসময় কোনো না কোনোভাবে আপনার কাছেই থাকে?
কথা বলার সময় একটু ঝুঁকে আসা বা অকারণেই কাছে দাঁড়িয়ে পড়া এগুলো কি কাকতালীয়?
সাইকোলজি বলে:
আমাদের মন যাকে পছন্দ করে, শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পার্সোনাল স্পেস-এ যেতে চায়।
এই কাছে আসার প্রবণতা আসলে এক নীরব বার্তা
“আমি তোমার সান্নিধ্য চাই।”
শেষ কথা
এই সাইকোলজি টেকনিকগুলো আপনাকে মানুষ বোঝার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।
তবে মনে রাখবেন
এই জ্ঞান কাউকে নিয়ন্ত্রণ বা ঠকানোর জন্য নয়।
বরং মানুষের অনুভূতি বুঝে, তাদের সাথে সুন্দর, সম্মানজনক আর গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যই এটি ব্যবহার করা উচিত।
যখন আপনি অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করেন, তখন আপনি নিজের উন্নতির গতি কমিয়ে দেন। নিজের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হোন আপনি নিজেই।
•
ক্ষমা করা মানে এই নয় যে অপর ব্যক্তি যা করেছে তা সঠিক ছিল; ক্ষমা মানে হলো নিজের মনের ভেতর জমে থাকা বিষ থেকে নিজেকে মুক্ত করা।
•
আপনি যা হারিয়েছেন তার জন্য আফসোস না করে, আপনার কাছে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া শিখুন; এটিই সুখী হওয়ার সহজ উপায়।
•
আপনার প্রাকৃতিক দক্ষতা এবং বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা যখন এক বিন্দুতে মেলে, তখনই আপনি আপনার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা 'ধর্ম' খুঁজে পান।
•
ফলের আশা ত্যাগ করে কাজের প্রক্রিয়ার ওপর মনোযোগ দিন; কর্ম ঠিক থাকলে ফল এমনিতেই আসবে।
•
জীবন তখনই সার্থক হয় যখন আপনি অন্যের উপকারে আসতে পারেন। জীবনের মূল লক্ষ্যই হলো সেবা।
•
বড় কিছু অর্জনের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন। বীজ রোপণ করার পর দিনই যেমন ফল পাওয়া যায় না, সফলতার ক্ষেত্রেও তাই।
•
চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে চিন্তা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে দূর না করে সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করতে শিখুন।
•
একা থাকা মানেই একাকীত্ব নয়। নির্জনতা হলো নিজের সাথে সময় কাটানো এবং নিজের ভেতরকে চেনা।
•
আপনার সকালটা যেভাবে শুরু হবে, আপনার সারাদিন সেভাবেই কাটবে। তাই দিনের শুরুটা হোক গঠনমূলক কোনো কাজের মাধ্যমে।
•
যখনই উত্তেজিত বা অস্থির বোধ করবেন, দীর্ঘ শ্বাস নিন। আপনার নিঃশ্বাসই আপনার মনকে শান্ত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
•
ব্যর্থতা মানে হেরে যাওয়া নয়, বরং এটি একটি ইঙ্গিত যে আপনাকে অন্য কোনো পথে চেষ্টা করতে হবে।
•
আপনি যে ধরনের মানুষের সাথে সময় কাটাবেন, আপনার চিন্তাধারাও ঠিক তেমন হয়ে উঠবে। তাই ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন।
•
কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক বড় একটি গুণ। এটি সম্পর্ককে মজবুত করে।
•
কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিই দুঃখের মূল কারণ। বস্তু বা মানুষের প্রতি মায়া রাখুন, কিন্তু মোহগ্রস্ত হবেন না।
•
সব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। মাঝে মাঝে নীরবতা বজায় রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
•
নিজের মূল্য নির্ধারণের চাবিকাঠি অন্যের হাতে দেবেন না। আপনি ভেতর থেকে যেমন, সেটাই আপনার আসল সম্পদ।
•
অতীত নিয়ে অনুশোচনা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করতে শিখুন।
_______________________
Source: Think Like a Monk
অপ্রয়োজনীয় চিন্তা বর্জন করুন: যে বিষয়গুলো আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, সেগুলো নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন।
•
বাস্তবসম্মত হোন: কল্পনাপ্রসূত নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন এবং বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিন।
•
চিন্তা হোক ফলপ্রসূ: প্রতিটি চিন্তার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকা উচিত।
•
অতীতকে যেতে দিন: অতীত নিয়ে পড়ে থাকা মানে বর্তমানের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।
•
ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা কমান: ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আপনাকে বর্তমানের কাজ থেকে বিচ্যুত করে।
•
তথ্য হজম করা শিখুন: সব তথ্য আপনার জন্য প্রয়োজনীয় নয়; শুধু আপনার কাজে লাগে এমন তথ্য গ্রহণ করুন।
•
নিজের সত্য জানুন: অন্যদের মতামতের চেয়ে নিজের বিচারবুদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিন।
•
মানসিক প্রশান্তি সবচেয়ে বড় সম্পদ: মনের অস্থিরতা আপনার কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
•
সরলতা বজায় রাখুন: জীবনকে জটিল করবেন না; সহজ চিন্তাই আপনাকে সঠিক পথ দেখাবে।
•
দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন: অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করার চেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজে নামা ভালো।
•
নিজের ভুলের দায়ভার নিন: যখন আপনি নিজের ভুলের দায়িত্ব নেবেন, তখনই আপনি তা সংশোধনের শক্তি পাবেন।
•
লক্ষ্যে অটল থাকুন: মনোযোগ বারবার পরিবর্তন করলে সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
•
ভাবনা নয়, কাজে গুরুত্ব দিন: আপনি কী ভাবছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি আসলে কী করছেন।
•
নিজের সীমাবদ্ধতা জানুন: সব কিছু আপনি একবারে করতে পারবেন না, এটি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
•
প্রতিটি দিন একটি নতুন সুযোগ: আজকের দিনটি কীভাবে কাটাবেন, তা আপনার সকালের চিন্তার ওপর নির্ভর করে।
•
নিজের ওপর বিনিয়োগ করুন: আপনার মস্তিষ্ক আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার; একে ধারালো রাখুন।
•
অন্যের সাথে তুলনা বন্ধ করুন: আপনার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত আপনার গতকালের নিজের সাথে।
•
জীবন ক্ষণস্থায়ী: তাই অর্থহীন বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এই মূল্যবান সময় অপচয় করবেন না।
_________________
সূত্র: থিংক স্ট্রেইট
খেসারির ডাল বা খেসারি কলাই।
খেসারি ডালে ২০-৩০% প্রোটিন থাকে! যা ডালের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ! এজন্য খেসারি হলো কম খরচে আমিষের উত্তম একটি উৎস।
ইতিহাস বলে, প্রায় ৮,০০০ বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলে এটা চাষ করা হতো। এরও আগে তুরস্ক ও সিরিয়ার উর্বর ক্রিসেন্ট এলাকায় চাষ শুরু হয়। পরে মানুষ এশিয়া এবং আফ্রিকায় নিয়ে আসে।
খেসারি যেকোন জলবায়ুতে টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন বিধায় ফলন হয় প্রচুর, কিন্তু খরচ আর শ্রম প্রয়োজন হয় কম! ফলে বঙ্গে যখন খরা মৌসুম চলতো, তখন কৃষকরা ব্যাপক পরিমাণে খেসারি উৎপাদন করতো।
অতীতে বঙ্গের একজন গৃহস্থ নারী কেবল খেসারি ডাল দিয়েই পুরো এক বেলার খাবার রান্না করে ফেলত– খেসারির খিচুড়ি, খেসারি দিয়ে তেঁতুলের ঝোলের তরকারি, খেসারি ভর্তা, পেঁয়াজু, খেসারির ডালভাজি ইত্যাদি। গ্রামবাংলার মানুষ প্রতি দিনের খাবারের অংশ হিসেবে খেসারি ডাল খেত।
.
খেসারি ডাল খাদ্য হিসেবে পুষ্টিকর হলেও এতে β-ODAP নামক নিউরোটক্সিন থাকে।
বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়ে যায়, দীর্ঘসময় ধরে শুধুমাত্র খেসারি ডালই খাদ্য হিসেবে খেতে থাকলে ল্যাথিরিজম নামক পায়ের প্যারালাইসিস হয়।
ভারতের স্বাধীনতার পরও বহু দশক ধরে জমিদাররা চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক ব্যবস্থায় কৃষকদেরকে শোষণ করেছে। মজুরি হিসেবে তাদেরকে টাকা না দিয়ে দিয়েছে সস্তা খেসারি। খেসারি বিক্রি করে অন্য খাবার কেনা যেতো না। কৃষকদেরকে বাধ্য হয়ে কেবলমাত্র খেসারি খেয়ে বেঁচে থাকতে হতো।
না খেয়ে মারা যাওয়া কিংবা খেয়ে পঙ্গুত্ব বরণের মধ্যে দরিদ্র কৃষকরা বেছে নিয়েছিল পরেরটিকেই। যখন এই শ্রমিকরা ল্যাথিরিজমে আক্রান্ত হত, তাদেরকে ছাঁটাই করা হতো। তখন তারা কাজ হারিয়ে পাটনা, বেনারস, বোম্বে, কলকাতা ইত্যাদি বড় বড় শহরে গিয়ে ভিক্ষা শুরু করতো। এসব শহরের ভিক্ষুকদের বড় অংশ ছিল এই ল্যাথিরিজমে আক্রান্ত খেসারি খাওয়া শ্রমিক।
১৯৩০–৫০ এর দশক থেকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে খেসারি ডালের চাষ, বিক্রি ও মানবখাদ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৬১ সালের Prevention of Food Adulteration Act এর আওতায় অনেক জায়গায় খেসারিকে মানুষের খাবার হিসেবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
ফলে একটি সাশ্রয়ী ও টেকসই ফসল কৃষকদের হাতছাড়া হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা যায়, খেসারি নিজে এককভাবে বিপজ্জনক নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি একঘেয়ে খাওয়া ও চরম দারিদ্র্যেই ল্যাথিরিজম হয়। তবু ভয় ও পুরোনো নীতির কারণে নিষেধাজ্ঞা বহু বছর বহাল থাকে।
বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজি বিভাগের চীফ ড. বিজয়নাথ মিশরা খেসারি ডাল নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেন। উত্তর প্রদেশের ৯ হাজার মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালান ড. মিশরা। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগেরই খাবারের একটি বড় অংশ ছিল খেসারি ডাল। তাদের মধ্যে খোঁড়া বা পা কাঁপার প্রবণতা মোটেই দেখা যায়নি। তার মতে, "যদি স্বাভাবিকভাবে খেসারি ডাল খাওয়া হয় এবং ডালের সাথে অন্যান্য খাবার খাওয়া হয়, তখন নিউরোল্যাথিরিজমের কোনো অস্তিত্বই দেখা যায় না। কেবল খেসারি খেলেই ল্যাথিরিজম হয়ে যাবে, এমন নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে চোখে পড়ে কেবল খরা ও অন্যান্য দুর্যোগের কারণে দুর্ভিক্ষপীড়িত অঞ্চলেই ল্যাথিরিজমের প্রকোপ হয়েছে।"
ড. বিজয়নাথ মিশ্রার মতো এই ধরনের গবেষণার ভিত্তিতেই ২০১৬ সালে ভারত সরকার খেসারি ডালের ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। বাংলাদেশেও এর চাষ ও বিক্রিতে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) এবং বিএআরআই (BARI) ইতিমধ্যে খেসারির এমন কিছু জাত উদ্ভাবন করেছে (যেমন বিনাকেশারি-১) যেগুলোতে টক্সিনের মাত্রা অত্যন্ত নগণ্য।
.
যদি টানা ৩ থেকে ৬ মাস প্রতিদিনের মোট খাদ্যের ৩০% থেকে ৫০% বা তার বেশি খেসারি ডাল হয়, তবেই ল্যাথিরিজম হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বর্তমানে এটা প্রমাণিত, যদি খেসারি ডাল ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে ওই পানি ফেলে ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া হয় তাহলে কোন সমস্যা হয় না।
তারপরও কারো যদি ভয় লাগে তাহলে ডাল সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে খাবেন।
খেসারি উপযুক্ত পরিবেশে প্রতি হেক্টরে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে পারে, আর অনুকূল পরিবেশ না থাকলে তা এক টনের নিচে নেমে আসে। একইসাথে, অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে, পানির অভাবে টক্সিনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।
এই ফসল সঠিক ব্যবস্থাপনায় এবং বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় মানুষকে পুষ্টি দিতে পারে।
অধিক ক্রুড প্রোটিন থাকার কারণে গবাদিপশুর সেরা প্রোটিন জাতীয় খাবার হতে পারে খেসারি।
Mission: Captain Green
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাপটিস্ট মিশনারী ডঃ সিসিল সিলাস মিড (Dr. Cecil Silas Mead) সেই বিরল মানুষদের মধ্যে অন্যতম প্রধান একজন । তিনি বিদেশি হয়েও বাংলার মাটিতে এসে যে কাজটি করেছিলেন, তা কোনো ধর্মীয় আগ্রাসন নয়, ছিল শিক্ষার মাধ্যমে আত্মমর্যাদা, মানবিক অধিকার এবং সামাজিক পুনর্গঠনের এক মৌলিক প্রয়াস । বিশেষ করে নমঃশূদ্র সমাজের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিকভাবে গভীর ও বহুমাত্রিক ।
উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের প্রথম ভাগের পূর্ববঙ্গ ছিল ভয়াবহ সামাজিক বৈষম্যে জর্জরিত । নমঃশূদ্ররা সংখ্যায় বিপুল হলেও সামাজিক মর্যাদায় ছিলেন অস্পৃশ্য । শিক্ষার অধিকার কার্যত নিষিদ্ধ, গ্রাম্য বিদ্যালয়ে প্রবেশেও বাধা, সরকারি চাকরি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় প্রবেশ প্রায় অসম্ভব । ব্রাহ্মণ্য সমাজব্যবস্থা তাদের ‘অস্পৃশ্য’ পরিচয়ে আটকে রেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল । এই বাস্তবতায় ডঃ সিসিল সিলাস মিড যখন পূর্ববঙ্গে আসেন, তখন তিনি প্রথমেই বুঝেছিলেন, এই সমাজকে বদলাতে হলে ধর্মীয় বিতর্ক নয়, প্রয়োজন শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং সংগঠিত সামাজিক উদ্যোগ ।
ডঃ মিডের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল নমঃশূদ্র সমাজের জন্য শিক্ষাকে বাস্তব ও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা । তিনি বিদ্যালয় স্থাপন করেন, শিক্ষক তৈরি করেন, স্থানীয় ভাষায় পাঠ্যক্রম গড়ে তোলেন । এই শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, ছিল মানুষ হিসেবে নিজেকে জানার ও প্রতিষ্ঠা করার শিক্ষা । তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নমঃশূদ্র শিশুদের প্রথমবার বলা হয়েছিল যে তারা জন্মসূত্রে নিচু নয়, তারা মানুষ, তাদেরও চিন্তা করার অধিকার আছে, প্রশ্ন করার অধিকার আছে । এই কথাগুলো আজ সহজ শোনালেও, তখন তা ছিল সামাজিক বিপ্লবের সমান ।
শিক্ষার পাশাপাশি তিনি নমঃশূদ্র সমাজের সামাজিক সংস্কারেও গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন । বাল্যবিবাহ, কুসংস্কার, আত্মঘৃণা, এই সবকিছু থেকে মুক্তির জন্য তিনি যে সাংগঠনিক কাজ করেছেন, তা ছিল সুদূরপ্রসারী । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে ভাঙতে চাননি, ভেতর থেকে শক্ত করতে চেয়েছিলেন । বিদেশি হয়েও তিনি স্থানীয় মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও বাস্তবতাকে সম্মান করতেন । এই কারণেই তাঁর উদ্যোগগুলো টিকে ছিল এবং মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করেছিল ।
ডঃ সিসিল সিলাস মিডকে যদি বন্ধু, সুহৃদ বা দীনবন্ধু বলা হয়, তাহলে সেটা কোনো অতিশয়োক্তি নয় । তবে তিনি ত্রাণকর্তা ছিলেন না দয়ার জায়গা থেকে, ছিলেন সহযোদ্ধা । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে কখনো ‘উদ্ধারের বস্তু’ হিসেবে দেখেননি, দেখেছিলেন পরিবর্তনের সক্ষম এক মানবগোষ্ঠী হিসেবে । এখানেই তাঁর কাজের মৌলিকত্ব । উপনিবেশিক যুগে বহু মিশনারি এসেছেন, কিন্তু সবাই নিপীড়িত সমাজের সামাজিক আত্মমর্যাদা গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হননি । ডঃ মিড সেই বিরল ব্যতিক্রম ।
বেদনাদায়ক হল, আজ নমঃশূদ্র সমাজের প্রায় ৯৫% মানুষ তাঁর নামই জানেন না । কোনো পাঠ্যবইয়ে নেই, কোনো সমাজ ইতিহাসে গুরুত্ব দিয়ে নেই, কোনো রাজনৈতিক স্মৃতিচর্চায় নেই । এই বিস্মৃতিও কাকতালীয় নয় । যাঁরা নমঃশূদ্র সমাজকে ইতিহাসে অদৃশ্য রাখতে চেয়েছেন, তাঁরাই সেই সমাজের বন্ধুদেরও অদৃশ্য করে দিয়েছেন । ফলে ডঃ মিড আজ শুধু ইতিহাসের প্রান্তে পড়ে থাকা একটি নাম ।
এই কারণেই বলা যায়, প্রত্যেক নমঃশূদ্র ঘরে ডঃ সিসিল সিলাস মিডের ছবি প্রয়োজন, তাঁকে প্রতিদিন একবার নমস্কার করা প্রয়োজন । কারণ এটা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার বিষয় । প্রতিদিন তাঁকে একবার নমস্কার করা মানে কোনো ধর্মীয় আচারের অনুকরণ নয়, নিজেদের ইতিহাসকে সম্মান করা, সুহৃদ বন্ধুকে সম্মান করা । যাঁরা আমাদের জন্য আলো জ্বালিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ না করলে সেই আলো নিভে যায় । ইতিহাসকে স্মরণ করা মানেই আত্মপরিচয়কে আরও দৃঢ় করা ।
ডঃ সিসিল সিলাস মিড আমাদের শেখান যে মুক্তি সবসময় নিজের ভেতর থেকেই আসে, কিন্তু অনেক সময় বাইরের কেউ সেই মুক্তির দরজাটা খুলে দেয় । তিনি নমঃশূদ্র সমাজকে সম্পূর্ণ মুক্তি না দিলেও, তিনি তাদের হাতে চাবিটা তুলে দিয়েছিলেন । সেই চাবি ছিল শিক্ষা, সম্মান ও আত্মমর্যাদা আর সংগঠনের শক্তি ।
আজ যখন নমঃশূদ্র সমাজ নিজের ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায়, তখন ডঃ সিসিল সিলাস মিডকে পুনরাবিষ্কার করা অপরিহার্য । তিনি বিদেশী হয়েও কোনো বিদেশি নায়ক নন, তিনি এই মাটিরই আমাদের ইতিহাসের অংশ । তাঁকে না জানার অর্থ, নিজের লড়াইয়ের শেকড় না জানা । আর যে সমাজ নিজের শেকড় ভুলে যায়, তার ভবিষ্যৎ সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে ।.
মধ্যবিত্তের 'স্যান্ডউইচ' জীবন:
আমরাই সেই মহান 'মধ্যবিত্ত'! যারা সকালের নাস্তায় ডিমের দাম বাড়লে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসি, আর রাতে শুয়ে স্বপ্ন দেখি ইলন মাস্কের সাথে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার। আমরা খাই 'স্ট্রেস' কমানোর খাবার! বিরিয়ানি বা চিনিযুক্ত চা আমাদের কাছে স্রেফ খাবার নয়, সারাদিনের অপমানের 'ট্রিট'।
ফলাফল: আমাদের ডিএনএ-তে পুষ্টির বদলে জমার হয় সুগার আর প্রেশার। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার জন্য হাজারটা লুপহোল আর বড় বড় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাখে।
মধ্যবিত্ত: আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যে সৎভাবে ট্যাক্স দেয়, কিন্তু লাইনে দাঁড়ালে আপনার জন্য কোনো 'কোটা' নেই। আপনি যেন সেই ট্রেনের যাত্রী, যার কাছে টিকিট আছে কিন্তু বসার সিট নেই!
"লোকে কী বলবে?" আমরা রিকশাওয়ালার সাথে ২ টাকা নিয়ে দরদাম করি, কিন্তু বড় শোরুমে গিয়ে ঠকছি জেনেও হাসি মুখে ক্রেডিট কার্ড ঘষি—কেবল 'স্ট্যাটাস' বাঁচাতে! এই ইগোই আমাদের বড় হওয়ার পথে প্রধান দেয়াল।
রেফ্রিজারেটর আসার অনেক আগে, রাশিয়া ও ফিনল্যান্ডের মানুষ দুধ সংরক্ষণের এক অদ্ভুত কৌশল ব্যবহার করত—তারা দুধের বালতিতে একটি ব্যাঙ ফেলে দিত। তাদের জানা ছিল, ইউরোপীয় ব্রাউন ফ্রগ (Rana temporaria) নামের এই ব্যাঙ দুধকে টক হওয়া থেকে রক্ষা করে। আজকের দিনে তাদের এই কাজ অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এটি ব্যাঙের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি কার্যকর প্রয়োগ ছিল। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট লেবেদেভ আবিষ্কার করেন যে এই ব্যাঙের ত্বক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যৌগ নিঃসরণ করে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দুধ নষ্ট হওয়া ঠেকায়।
১. 'মানি অন দ্য ব্রেইন': টাকা কি আমাদের সহানুভূতি কমিয়ে দেয়?
বিজ্ঞানীদের একটি বিখ্যাত পরীক্ষা আছে (Monopoly Experiment)। দেখা গেছে, খেলায় যখন কাউকে কৃত্রিমভাবে বেশি টাকা দেওয়া হয়, তখন তার হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন বদলে যায়। সে অন্য খেলোয়াড়দের প্রতি কম সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে এবং নিজেকে বেশি 'যোগ্য' ভাবতে শুরু করে।
সহজ কথা: টাকা যখন বেশি আসে, তখন আমাদের ব্রেইনের Prefrontal Cortex-এ এমন কিছু পরিবর্তন ঘটে যা আমাদের 'এম্প্যাথি' বা অন্যের দুঃখ বোঝার ক্ষমতাকে কিছুটা ঝাপসা করে দিতে পারে। টাকা তখন নিরপেক্ষ থাকে না, সে হয়ে ওঠে 'অহংকারের জ্বালানি'।
২. ডোবামিন আর টাকার নেশা: টাকা কি ড্রাগস?
আপনি যখন লটারিতে টাকা পান বা ব্যবসায় লাভ করেন, তখন আপনার ব্রেইনে Dopamine-এর বন্যা বয়ে যায়। ঠিক যেমনটা ঘটে কোনো আসক্তির ক্ষেত্রে।
মজার ব্যাপার হলো, টাকা খরচ করার সময়ের চেয়ে টাকা পাওয়ার আগের মুহূর্তের উত্তেজনা ব্রেইনের কাছে বেশি আনন্দদায়ক!
অর্থাৎ, টাকা তখন কেবল সম্পদ নয়, সে তখন আপনার নিউরনের জন্য একটা 'সুড়সুড়ি'। এই কারণেই অনেক ধনী ব্যক্তি আরও টাকার পেছনে ছোটেন, কারণ তাদের ব্রেইন ওই ডোবামিন হাই-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
৩. 'মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং': আপনার টাকা কি আলাদা আলাদা খোপে থাকে?
অর্থনীতিবিদ রিচার্ড থ্যালার দেখিয়েছেন, আমরা টাকাকে নিরপেক্ষ ভাবি না।
কষ্ট করে উপার্জিত ১০০০ টাকা আমরা খুব সাবধানে খরচ করি।
কিন্তু রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বা উপহারের ১০০০ টাকা আমরা খুব সহজেই উড়িয়ে দেই!
টাকা কিন্তু একই, কিন্তু আমাদের ব্রেইন একেক টাকাকে একেক 'চরিত্র' দেয়। কুড়িয়ে পাওয়া টাকাটা যেন 'বখাটে বন্ধু', আর উপার্জিত টাকাটা 'লক্ষ্মী সন্তান'!
৪. টাকার ‘জেনেটিক মেমোরি’ ও আপনি
আমরা আগের আর্টিকেলে জেনেছি দারিদ্র্যের ছাপ জিনে থাকে। ঠিক তেমনি, যাদের পূর্বপুরুষেরা হঠাৎ ধনী হয়েছিলেন বা চরম অভাব থেকে উঠে এসেছেন, তাদের টাকার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি (Money Script) ভিন্ন হয়।
কেউ টাকা জমিয়ে রাখতে রাখতে 'কিপটেমি'র পর্যায়ে চলে যান (বংশগত ভয় থেকে), আবার কেউ টাকা পেলেই সব খরচ করে ফেলেন—যেন টাকাটা হাত থেকে পালিয়ে যাবে!
সিদ্ধান্ত: টাকা তাহলে কী?
টাকা আসলে একটা 'Magnifier' বা আতশিকাঁচ।
টাকা আপনার ভেতরের আসল চরিত্রটাকে বড় করে দেখায়। আপনি যদি দয়ালু হন, টাকা আপনাকে মহৎ করে তুলবে। আর যদি ভেতরে জটিলতা থাকে, টাকা সেটাকে আরও উসকে দেবে।
টাকা নিরপেক্ষ হতে পারে ব্যাংকের খাতায়, কিন্তু আপনার রক্তে আর মগজে সে চরম Bias বা পক্ষপাতদুষ্ট!
আপনার কী মনে হয়?
টাকা কি মানুষের স্বভাব নষ্ট করে, নাকি মানুষের লুকানো স্বভাবটা বের করে আনে?
আপনার পকেটে টাকা থাকলে কি আপনি নিজেকে একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী (নাকি একটু বেশি গম্ভীর) অনুভব করেন?
কমেন্টে জানান আপনার 'মানি সাইকোলজি'!
প্রধান শিক্ষকের কাছে লেখা আব্রাহাম লিংকনের ঐতিহাসিক চিঠি
মাননীয় মহোদয়,
আমার পুত্রকে জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনার কাছে পাঠালাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন এটাই আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়, সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে এও শেখাবেন; প্রত্যেক খারাপের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে, প্রত্যেক স্বার্থপর রাজনীতিবিদের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকেন। তাকে শেখাবেন, পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চাইতে একটি উপার্জিত ডলার অধিক মূল্যবান।
তাকে শেখাবেন, কীভাবে পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে বিজয়োল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন একথা বুঝতে শেখে, যারা অত্যাচারী তাদেরকে নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য দিয়ে সহজেই কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তাও তাকে শেখাবেন।
আমার পুত্রকে শেখাবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাস করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। নিজের ওপর তার যেন পূর্ণ আস্থা থাকে, এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুলও মনে করে।
তাকে শেখাবেন, ভালো মানুষের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন হুজুগে মাতাল জনতার পথ অনুসরণ না করে এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। সে যেন সবার কথা শোনে এবং সত্যটা ছেঁকে যেন শুধু ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে এ শিক্ষাও তাকে দেবেন। সে যেন শেখে দুঃখের মাঝেও কীভাবে হাসতে হয়। আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই, সে কথাও তাকে বুঝতে শেখাবেন। যারা নির্দয়, নির্মম তাদেরকে সে যেন ঘৃণা করতে শেখে। আর অতিরিক্ত আরাম-আয়েশ থেকে সাবধান থাকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন কিন্তু সোহাগ করবেননা, কেননা আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাঁটি হয়। আমার সন্তান যেন বিপদে ধৈর্যহারা না হয়, থাকে যেন তার সাহসী হবার ধৈর্য। তাকে এ শিক্ষাও দেবেন, নিজের প্রতি তার যেন পূর্ণ আস্থা থাকে আর তখনই তার সুমহান আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।
উচ্চ তাপে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উত্তম ফ্যাটগুলো হলো—
- ঘি, মাখন
এটা সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরাপদ, উচ্চ তাপে খুব স্থিতিশীল, অক্সিডেশন কম, হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে, খাবারের স্বাদ-ঘ্রাণ বাড়ায়, অল্পেই কাজ হয়। ভাজা, ভুনা, তরকারি সবখানে ব্যবহারযোগ্য।
- পশু চর্বি
বিশেষ করে গরুর চর্বি ভাজাপোড়ার জন্য অত্যন্ত উপযোগী, উচ্চ স্মোক পয়েন্ট বিশিষ্ট, ডিপ ফ্রাই এর জন্য খুবই উত্তম, একই চর্বি বারবার ব্যবহারেও সমস্যা হয়না। এজন্য আগে ফাস্টফুডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
- নারকেল তেল
স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকায় এটাও উচ্চ তাপে বেশ স্থিতিশীল, তাপ সহনশীল, অক্সিডেশন কম। ভাজা, ঝোল, রান্নায় বেশ উপযোগী।
ঘি, মাখন, পশুচর্বি, নারকেল তেল এসবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় তাপমাত্রা কমলে সহজেই জমে সলিড বা সেমি সলিড হয়ে যায়। এই জমে যাওয়া একদমই খারাপ কিছুনা। বরং উল্টো ব্যাপার। যে ফ্যাট ঠান্ডায় জমে সেটাই সাধারণত তাপে বেশি স্থিতিশীল। এই কারণেই ঘি, মাখন, চর্বি, নারকেল তেল রান্না ও ভাজায় সবচেয়ে উত্তম!
যেটা ঠান্ডায় জমে, সেটা ধমনীতেও জমে ব্লক হবে এটা মূলত ব্রেইনওয়াশিং!
এখন সরিষার তেল কেমন?
সরিষার তেল বাজারের নিকৃষ্ট রিফাইন্ড তেলের চেয়ে বেশি নিরাপদ। কিন্তু তারমানে এই না যে, এটা ইচ্ছামতো ঢেলে ঢেলে খাবেন! যেহেতু এটা বীজ তেল তাই রান্নায় ব্যবহারের আগে কিছু বিষয় জেনে নেয়া উত্তম।
সরিষার তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে, কিন্তু অল্প পরিমাণে। এটা ঘি বা নারকেল তেলের মতো স্যাচুরেটেড নয়, আবার সূর্যমুখী/সয়াবিনের মতো অতিরিক্ত পলিআনস্যাচুরেটেডও নয়। সরিষার তেলে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট প্রায় ৭–৮%, মনো-আনস্যাচুরেটেড (MUFA) প্রায় ৬০%, পলি-আনস্যাচুরেটেড (PUFA) প্রায় ৩০% থাকে। এই MUFA-dominant প্রোফাইলটাই সরিষার তেলের বড় সুবিধা, অন্যান্য বীজ তেলের তুলনায়। কারণ তাপে PUFA এর চেয়ে MUFA বেশি স্থিতিশীল। তাই মাঝারি তাপের রান্নায় সরিষার তেল তুলনামূলক নিরাপদ।
সহজলভ্য হওয়ায় বাংলায়, উত্তর ভারতে শত শত বছর ধরে এটি দিয়ে ভাজা, ঝোল, ভুনা সব হচ্ছে।
তবে উচ্চ তাপে ডিপ ফ্রাই, বারবার ব্যবহার ইত্যাদি ক্ষেত্রে এটা অস্বাস্থ্যকর।
আমি কখনো বলিনি সরিষার তেল সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। আমি বলেছি মানুষ তো তেল ব্যবহারে অভ্যস্ত, তেল ছাড়া চলেনা। তাই নিয়মিত রান্নাবান্নার তেল হিসেবে নিকৃষ্ট রিফাইন্ড তেলের চেয়ে এটা বেশি নিরাপদ। কোল্ডপ্রেস হলে বেশি ভাল।
রিফাইন্ড সিড অয়েল ব্যাপারটা সম্পূর্ণই কর্পোরেট কারবার!
কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের স্বাস্থ্য ও ঐতিহ্য ধ্বংসের কারবার!
কাজেই জীবন, জীবিকা, দেশের স্বার্থে রিফাইন্ড অয়েল বর্জন করুন।
রাইসব্র্যান, সয়াবিন, পাম, সানফ্লাওয়ার যেটাই হোক, রিফাইন্ড তেলের প্রসঙ্গ পুরোই বাদ!
এদেশে স্থানীয়ভাবে তৈলবীজ থেকে তেল বের করার দুটি প্রধান পদ্ধতি আছে কোল্ডপ্রেস (ঐতিহ্যবাহী ঘানিতে) ও হটপ্রেস (এক্সপেলার মেশিনে)।
কোল্ডপ্রেস পদ্ধতি স্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে উত্তম। এতে তেলের গুণাগুণ, রঙ, ঘ্রাণ, স্বাদ সবই ভাল হয়। প্রাচীনকাল থেকে পশুশক্তি কাজে লাগিয়ে এভাবে তেল উৎপাদন হতো। এখন মেক্যানিক্যালিও এটা উৎপাদন হয়। শুধু চাপ দিয়ে তেল বের করা হয়।
আরেকটি তুলনামূলক নিরাপদ যেটি তা হলো হটপ্রেস পদ্ধতি। তেলবীজ ভেজে বা হালকা গরম করে তারপর এক্সপেলার মেশিনের মেকানিক্যাল প্রেসারে তেল বের করা হয়। তবে উত্তাপের কারণে কিছুটা গুণাগুণ নষ্ট হয়।
সরিষা, তিল, তিসি, কুসুম, বাদাম, সূর্যমুখী এসব বেশিরভাগ বীজ তেলেই থাকে PUFA (polyunsaturated fat), যা তাপে খুব অস্থির। তাই কোল্ডপ্রেস হলেও উচ্চ তাপে রান্না করলে এই ফ্যাট সহজে অক্সিডাইজ হয়। এজন্য বীজ তেলে উচ্চ তাপের রান্না, ভাজাপোড়া করা অস্বাস্থ্যকর।
কোল্ডপ্রেস হোক বা যাই হোক যেকোনো বীজ তেলের ব্যবহার হতে হবে কম তাপে অথবা কাঁচা। কোল্ডপ্রেস বীজ তেলের ব্যবহার হবে সালাদ, ভর্তা, ভাত, ডাল ইত্যাদির উপর অল্প ঢেলে কিংবা রান্নার শেষে ফিনিশিং অয়েল হিসেবে। তাহলেই স্বাস্থ্য উপকারিতা পাবেন। (আর রিফাইন্ড বীজ তেল কিন্তু কাঁচা খাওয়া যায় না!)
তেল-চর্বি খাওয়া মানুষের জন্য সমস্যা না!
মানুষের সমস্যা হয় নিকৃষ্ট রিফাইন্ড অয়েল খেয়ে আর বীজ তেলে ভাজাপোড়া খেয়ে। এটা ক্লিয়ার না করেই মানুষের কাছে তেল-চর্বিটাকে পুরো ভিলেন বানিয়ে দেয়া হচ্ছে, সবখানে বলা হচ্ছে তেল খারাপ, চর্বি খারাপ, তেল ছাড়া রান্না করতে হবে, চর্বি ফেলে দিতে হবে!
অথচ সুস্থ থাকতে নিয়মিত হেলদি ফ্যাট খাওয়া খুবই প্রয়োজনীয়!
ঐতিহ্য থেকে সরে যাওয়াতেই মূলত আমরা তেলচর্বির সঠিক ব্যবহার জানিনা।
যাইহোক আজ জেনে নিন - উচ্চতাপের রান্না ও ভাজার জন্য ঘি, মাখন, পশুর চর্বি, নারকেল তেল উপযোগী; হালকা তাপের রান্নায় ও কাঁচা খাওয়ায় কোল্ডপ্রেসড সরিষা, তিল, তিসি, চিনাবাদাম ইত্যাদি বীজের তেল উপযোগী; আর হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ফ্যাটি লিভার, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস কনফার্ম করার জন্য পাম, সয়াবিন, রাইসব্র্যান, সানফ্লাওয়ার, সাফফ্লাওয়ার ইত্যাদি রিফাইন্ড তেল উপযোগী!
Mission: Captain Green
যখন কোনো নেতিবাচক চিন্তা আসে, তখন তাতে জড়িয়ে না পড়ে একজন নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে তা দেখুন।
•
মন একটি চমৎকার যন্ত্র, কিন্তু এটি যখন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
•
আপনার ভালো থাকা বা খারাপ থাকা বাইরের পরিস্থিতির ওপর নয়, বরং আপনি আপনার ভেতরের শক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করছেন তার ওপর নির্ভর করে।
•
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নিজের হৃদয়কে সবসময় খোলা রাখুন। এটি বন্ধ হয়ে গেলেই আপনি শক্তিহীন বোধ করবেন।
•
অতীতকে ধরে রাখা মানে হলো নিজের ভেতরে আবর্জনা জমিয়ে রাখা। এগুলোকে যেতে দিন।
•
ব্যথাকে ভয় পাবেন না। ব্যথা বা কষ্ট হলো শক্তির একটি রূপ। একে এড়িয়ে না গিয়ে এর মধ্য দিয়ে যেতে শিখুন, তাহলেই এটি আপনাকে আর কষ্ট দেবে না।
•
আপনার ভয়ের কারণগুলো আসলে আপনার মনের তৈরি করা দেয়াল। এই দেয়ালগুলো অতিক্রম করলেই প্রকৃত স্বাধীনতা পাওয়া যায়।
•
আপনি যদি আপনার আরামদায়ক সীমানা বা কম্ফোর্ট জোনের ভেতরে আটকে থাকেন, তবে আপনি কখনোই আপনার প্রকৃত রূপ খুঁজে পাবেন না।
•
অনিশ্চয়তাকে আলিঙ্গন করুন। জীবন অনিশ্চিত এবং এটাই জীবনের সৌন্দর্য। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা বন্ধ করুন।
•
মুক্তি মানে সব সমস্যা সমাধান করা নয়, বরং সমস্যাগুলো থাকলেও শান্ত থাকতে শেখা।
•
বর্তমানে বাস করুন। অধিকাংশ সময় আমরা হয় অতীতে পড়ে থাকি অথবা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করি। কিন্তু জীবন কেবল 'এখনই' ঘটছে।
•
একদিন আমরা সবাই মারা যাব—এই সত্যটি মনে রাখলে জীবনকে অনেক বেশি মূল্যবান এবং অর্থবহ মনে হয়।
•
প্রতিযোগিতা ছেড়ে দিন। পৃথিবীর সাথে লড়াই করার চেয়ে নিজের ভেতরের অস্থিরতার সাথে সন্ধি করা বেশি জরুরি।
•
জীবন যেভাবে আপনার সামনে আসে, তাকে সেভাবেই গ্রহণ করতে শিখুন। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মানেই অশান্তি।
•
নিজেকে প্রশ্ন করুন: "আমি আসলে কে?"—এই একটি প্রশ্নই আপনাকে গভীর আধ্যাত্মিক উপলব্ধির দিকে নিয়ে যাবে।
•
সুখ কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি সিদ্ধান্ত। আজই সিদ্ধান্ত নিন যে যাই ঘটুক না কেন, আপনি শান্ত এবং আনন্দিত থাকবেন।
________________________
সূত্র: The Untethered Soul
হাসলে যে যে স্বাস্থ্য উপকা্রীতা পাওয়া যায় !
হাসি এমন আবেগের প্রকাশ যা আমাদের মন এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুন কাজ করে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, জোরে হাসলে শুধু আমাদের মনই হালকা রাখে তা নয়,বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। হাসি থেরাপির আরও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১) মানসিক চাপ কমানো : গবেষণায় দেখা গেছে ,হাসি কর্টিসলের মাত্রা কমায়। এর ফলে মন সব ধরনের চাপ ভালোভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।
২) হৃদরোগের স্বাস্থ্য: যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে,অনেক চাপের মধ্যে থাকলেও হাসি হৃৎস্পন্দন এবং রক্তচাপ কমায়।
৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি : হাসি এমন এক অনুভূতি যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যার ফলে শরীর অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
৪) ব্যথা কমায় : হাসির সময় নিঃসৃত এন্ডোরফিন প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
৫) শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতি : হাসি একটি দুর্দান্ত ব্যায়াম। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং পেশি শিথিল করে। হাসি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য হাসি থেরাপি খুবই উপকারী হতে পারে। হাসতে হলে, আপনি কমেডি শো দেখতে পারেন অথবা বন্ধুদের সাথে রসিকতাও করতে পারেন।
হাসি, সামাজিক সংযোগ এবং আত্মবিশ্বাস
হাসি এমন এক অভিব্যক্তির প্রকাশ যা অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়। সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে কাউকে হাসতে দেখলে পর্যবেক্ষকের মস্তিষ্কের মিরর নিউরন সক্রিয় হয়, যার ফলে তার মধ্যেও হাসি সংক্রমিত হয় । এই প্রকাশ সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।
তথ্যসূত্র : জনকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক