রান্নাঘরের আ*গুন থেকে সতর্ক হবেন যেভাবে
এখন শীতকাল। শীতকালে অ*গ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাধারণত বেশি ঘটে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আ*গুনের সূত্রপাত হতে পারে। রান্নাঘর এর মধ্যে অন্যতম। বাসাবাড়িতে অ*গ্নিকাণ্ডের বড় কারণও এটি। যেকোনোভাবেই হোক, অসাবধানতাবশত এখান থেকে আ*গুনের সূত্রপাত হতে পারে। এ ছাড়া রান্নাঘরে ব্যবহৃত অন্যান্য ইলেকট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স থেকেও আ*গুন লাগতে পারে।
যেভাবে সতর্ক থাকবেন
গ্যাস-সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন: এক কাপ পানিতে সামান্য ডিটারজেন্ট বা সাবান মিশিয়ে ফেনা তৈরি করুন। সেই ফেনা স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে গ্যাস পাইপ, রেগুলেটর ও চুলার সংযোগস্থলে লাগান। বুদ্বুদ উঠলে বুঝবেন, গ্যাস লিক হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে রেগুলেটর বন্ধ করুন এবং মিস্ত্রি ডাকুন। কখনোই লাইটার কিংবা আগুন দিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করবেন না।
পাইপ, রেগুলেটর ও চুলার সংযোগে লিকেজ পরীক্ষা:
নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে চেক করুন। বাবল উঠলে বুঝতে হবে লিক রয়েছে। গ্যাসের গন্ধ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করুন, ইলেকট্রিক সুইচ অন করবেন না। জানালা খুলে দিন এবং রেগুলেটর বন্ধ করুন। চুলার আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। তেল কিংবা খাবারের উচ্ছিষ্ট বদ্ধ অবস্থায় জমে থাকলে সহজে আগুন ধরতে পারে। চুলার পাশে অনেকে গরম পাত্র ধরার জন্য কাপড় রাখেন। এই কাপড়ে আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এগুলো চুলা থেকে দূরে রাখুন।
ওভেন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার ইত্যাদি ব্যবহারে সতর্কতা:
ব্যবহারের পর পর প্লাগ খুলে রাখুন। ভেজা হাতে ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহার করবেন না। ছেঁড়া অথবা পুরোনো সকেট থাকলে সেগুলো পরিবর্তন করুন। যখন এসব ব্যবহার করবেন, ঘরের শিশুকে একটু দূরে রাখুন।
চুলার পাশে সহজে পু/ড়ে যায়, সে ধরনের বস্তু রাখবেন না:
চুলার পাশে টিস্যু, পলিথিন, তেল, তোয়ালে ইত্যাদি রাখবেন না। এক্সস্ট ফ্যান কিংবা চিমনি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে তেল জমে আ*গুন ধরার ঝুঁ*কি কমে। ফ্যান না থাকলে দ্রুত লাগিয়ে নিন। সম্ভব হলে রান্নাঘরে রাখতে পারেন একটি ছোট ফায়ার এক্সটিংগুইশার অথবা বালুর বালতি।
চুলার নিচের অংশ পরিষ্কার রাখুন:
চুলার নিচে খাবার পড়ে কিংবা তেল জমে থাকলে আ*গুন যেকোনো সময় লেগে যেতে পারে। গ্যাস সিলিন্ডারটি শুকনো জায়গায় রাখবেন। সংযোগের রাবার রিং ঠিক আছে কি না, তা দেখুন। সিলিন্ডার বদলানোর সময় আগুন পুরোপুরি বন্ধ রাখুন।
আরও যা যা করবেন
>> প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু সতর্কতা:
রান্না শেষে রেগুলেটর বন্ধ করুন, প্লাগ খুলে রাখুন, চুলার আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং সহজে পুড়তে পারে তেমন বস্তু দূরে রাখুন। ঘরে সব সময় একটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বালুর বালতি বা মোটা ভেজা তোয়ালে রাখুন।
>> গ্যাসের মাধ্যমে আগুন লাগলে প্রথমে মূল সংযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করুন। এরপর যত দ্রুত সম্ভব ফা°য়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিন।
>> দুর্ঘটনা ঘটলে আ°তঙ্কিত হওয়া যাবে না। দ্রুত পরিবারের সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।
হঠাৎ লিফটে আট*কে পড়লে যা করবেন
লিফটে আ*টকে পড়া হঠাৎ ঘটতে পারে, আর মুহূর্তেই আত*ঙ্ক ছড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু শান্ত থাকা এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই এ অবস্থায় নিরাপদ থাকার মূল চাবিকাঠি।
প্রথমেই গভীর শ্বাস নিন ও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। আত*ঙ্কিত হলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ*ঙ্কা থাকে। এরপর দেখুন লিফটে থাকা 'অ্যালার্ম' বা 'ইমারজেন্সি বাটন' আছে কি না। সেটি চাপুন এবং ভবনের সিকিউরিটি বা মেইনটেন্যান্স টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেক লিফটে ইন্টারকম বা ফোন নম্বর দেওয়া থাকে- সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। যদি মোবাইলের সিগন্যাল পাওয়া যায়, পরিবারের সদস্য বা ভবন কর্তৃপক্ষকে জানান।
কখনোই দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করবেন না। এতে যান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লিফট যদি কোনো তলার মাঝে আ*টকে যায়, তবু লাফানো বা দরজায় ধা*ক্কা দেওয়া বিপ*জ্জনক। লিফটের ভেতরে আলো নিভে গেলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করুন, তবে ব্যাটারি সংরক্ষণে সচেতন থাকুন। যদি অন্য কেউ আপনার সঙ্গে থাকে, সবাইকে শান্ত থাকতে উৎসাহ দিন। সহযাত্রীদের মধ্যে কেউ অসুস্থ বা শিশু থাকলে আগে তাদের যত্ন নিন। উদ্ধারকারী দল আসা পর্যন্ত বসে থাকুন, ঘাম কমাতে ধীরে শ্বাস নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- লিফট সাধারণত নিরাপদ কাঠামো, এটি হঠাৎ পড়ে যায় না। তাই ধৈর্য ধরে সহায়তা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শান্ত মন ও সচেতন পদক্ষেপই আপনাকে নিরাপদে বের করে আনবে।
মাছের কাঁ*টা গলায় বিঁ*ধলে যা করবেন
গলায় মাছের কাঁ*টা ফোটার ভ*য়ে অনেকেই মাছ খেতে ভ*য় পান, আবার অনেকে মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁ*টা আ*টকে ফেলেন। এর ফলে অস্বস্তিতে ভোগেন। তবে ঘরোয়া কিছু টোটকায় খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া যায় এই সমস্যা থেকে। কী কী করতে পারেন রইল তার উপায়।
➤গলায় আ*টকে থাকা মাছের কাঁ*টা নামাতে পাকা কলা খান। কলায় ছোট্ট করে কা*মড় দিন। অল্প চি*বিয়ে গিলে ফেলার চেষ্টা করুন। কখন গলা থেকে কাঁ*টা নেমে যাবে টেরই পাবেন না।
➤পাউরুটির ছোট টুকরো চি*বিয়ে না খেয়ে গি*লে ফেলুন। কিংবা এক টুকরো রুটি দুধে ভিজিয়ে চিপড়ে নিন। এবার ছোট বলের মতো রোল করে গিলে ফেলুন।
➤শুকনো ভাত ভালো করে দলা পাকিয়ে গি*লে নিন চি*বাবেন না। এভাবে কয়েকবার খেলে ভাতের আঠা মাছের কাঁ*টাকে নিচে নামিয়ে দেয়।
➤গলায় কাঁ*টা আটকালে সামান্য অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। অলিভ অয়েল অন্য তেলের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল। তাই গলা থেকে কাঁ*টা পিছলে নেমে যাবে সহজেই। আপনি যদি শুধু অলিভ অয়েল পান করতে না পারেন, তবে এক কাপ জলে মিশিয়েও খেতে পারেন।
➤গলায় কাঁ*টা ফুটলে এক টুকরো পাতিলেবুতে একটু লবণ মাখিয়ে নিন। এবার চু-ষে চু*ষে লেবুর রস খান। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যা-সিড কাঁটা গ*লিয়ে হজম করিয়ে দিতে পারে। লবণ পানিতে গার্গল করুন। এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে মেশান ভালো করে। কিছুক্ষণ গার্গল করুন। যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি স্বস্তি অনুভব করছেন, ততক্ষণ এই কৌশলটি পুনরাবৃত্তি করুন। আপনি এক কাপ গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন। তাহলে কাঁ*টা নরম হয়ে গলা থেকে নেমে যাবে।
➤ভিনেগার গলা থেকে মাছের কাঁ-টা নামাতে দারুণ কাজ করে। তাই পানির সঙ্গে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে খেলে কাঁ-টা সহজেই নেমে যাবে।
সাপে কা*টলে করণীয় কী? বর্জনীয় কী?
সাপে কা*টার পর প্রথম ১০০ মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাপে কা*টলে সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব জেলা হাসপাতালে যেতে হবে।
> সাপে কা*টা রোগীকে আশ্বস্ত করা, আত*ঙ্কিত হতে না দেওয়া। আত*ঙ্কিত হয়ে হার্টফেল করার সম্ভাবনা থাকে।
> সাপ চেনা গেলে ভালো। না চিনলে চিনতে বা ধরতে গিয়ে সময় নষ্ট না করা।
> রোগীর শরীরে চুড়ি, আংটি, ব্রেসলেট, তাবিজ ইত্যাদি থাকলে তা খুলে ফেলা।
> রোগীকে হাঁটাচলা করতে না দেওয়া। বিশেষত দংশিত অঙ্গ নাড়াচাড়া না করা হাঁটাচলার কারণে বি*ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
> যেকোনো দ্রুততম যান, যেমন- মোটরসাইকেল অথবা অ্যামবুলেন্সে করে ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না।
> দংশিত অঙ্গ শক্ত করে বাঁধা যাবে না, এতে অঙ্গহানি হতে পারে।
> দংশিত স্থান কেটে বা চু*ষে বি*ষ বের করার চেষ্টা করা, মালিশ করা, বরফ দেওয়া যাবে না।
> মরিচ, পানিপড়া, গাছগাছড়া ইত্যাদি খাওয়ানো যাবে না।
> কোনো অবস্থাতেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট করা যাবে না। ওঝা বা কবিরাজ বি*ষ নামাতে পারে না।
> রোগীর শরীরে সাপের দাঁতের চিহ্ন দেখে সাপ বি*ষধর না-কি নির্বি*ষ তা বিবেচনা না করা।
হঠাৎ দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের করণীয়
স্কুল শুধুই পাঠ্যবই আর ক্লাসরুম নয়। এটি শিশু-কিশোরদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, শেখার জায়গা। কিন্তু যদি সেই স্কুলেই হঠাৎ নেমে আসে বড় কোনো বিপদ! তখন কী করবে শিক্ষার্থীরা? থাকছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা-
ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মূল্যায়ন
আত*ঙ্ক নয় সচেতনতা এই নীতিতে চলতে হবে। হঠাৎ দুর্ঘটনায় অকারণে চিৎকার বা হুড়োহুড়ি করা যাবে না। এতে অন্যরাও আত*ঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে। সব সময় শিক্ষক বা বড়দের নির্দেশ মেনে চলা নিরাপদ।
নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া
বি*স্ফো*রণ, আ*গুন বা দুর্ঘটনার শব্দ শুনলেই জানালা, কাচ ও ঝু*লন্ত জিনিসপত্র থেকে দূরে সরে যেতে হবে। স্কুলে যদি নির্ধারিত বহির্গমন পথ থাকে, সেটি দিয়ে দ্রুত খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে।
আ*গুন লাগলে করণীয়
আ*গুন লাগলে আত*ঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিচু হয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে, কারণ ধোঁয়া ওপরের দিকে ছড়ায়। মুখ ও নাক কাপড় বা হাত দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যেন ধোঁয়া শ্বাসনালিতে না ঢোকে। পানিতে ভেজানো কাপড় শরীরে পেঁচিয়ে বা নাক-মুখ ঢেকে বের হতে পারলে ভালো। বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে জানালার পাশে গিয়ে সাহায্যের জন্য ইশারা করতে হবে।
জরুরি নম্বর মুখস্থ রাখা
জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯-যেখান থেকে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সের সহায়তা পাওয়া যায়-এই নম্বরটি শিক্ষার্থীদের মুখস্থ রাখা উচিত। পাশাপাশি স্থানীয় থানার নম্বর, স্কুল কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বর জানা থাকলে বিপদের সময় যোগাযোগ সহজ হয়।
কক্ষের ভেতর আটকে গেলে
দরজা বন্ধ হয়ে গেলে জানালার পাশে গিয়ে হাত নাড়ানো, কাপড় ঝোলানো বা শব্দ করে সাহায্যের সংকেত দিতে হবে। চিৎকার না করে, নির্দিষ্ট শব্দ করলে তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ধোঁয়া থাকলে মাটির কাছাকাছি হয়ে শ্বাস নিতে হবে এবং মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের বিপদে সচেতনভাবে নিজেকে রক্ষা করতে শেখানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলা।
কানে পানি ঢুকলে করণীয়
যে কোনো সময় অসাবধানতাবশত কানে পানি ঢুকে যেতে পারে।
কানে পানি যাওয়াটা কোনো সমস্যা নয়। এতে ভ য় পাওয়ার কিছু নেই। যাদের কানে আগে থেকে সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাঁদের কানে পানি ঢুকলে কান ভারী লাগতে পারে বা কানে অস্বস্তি হতে পারে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, কান থেকে পানি বের করার উপায়-
যে কানে পানি ঢুকেছে, সে দিকে মাথা কাত করুন। হাতের তালু কাপের মতো করুন। সেই হাত কানের ওপর রাখুন, এরপর সামান্য চাপ দিয়ে তালু সমতল করে ফেলুন। এতে বাতাসের চাপে কানের ভেতরের পানি বেরিয়ে আসবে।
তুলা বা কটনবাড দিয়ে কানের পানি বের করার চেষ্টা করবেন না। এসব কানের জন্য অনেক ক্ষতিকর।
আপনার বাম অথবা ডান যে কানে পানি ঢুকেছে সেই পাশে মাথা ঝুঁকিয়ে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে কান ধরে ঝাঁকি দিতে থাকুন। এতে দেখবেন পানি কান থেকে বেরিয়ে আসবে।
তুলা বা কটনবাড দিয়ে কানের পানি বের করার চেষ্টা করবেন না
তুলা বা কটনবাড দিয়ে কানের পানি বের করার চেষ্টা করবেন না।
কানে পানি ঢুকলে চুইংগাম চিবোতে
পারেন। এতে মুখের বিভিন্ন পেশী সচল থাকার কারণে কানের পানি বেরিয়ে আসতে পারে।
কানের পানি বের করার সহজ উপায় হচ্ছে শ্বাস নেওয়া। কোনো কারণে কানে পানি ঢুকল লম্বা শ্বাস নিন। এবার দুই আঙুল দিয়ে নাক চেপে ধরে সেই অবস্থায় শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করুন। এইভাবে কয়েকবার করলে কান থেকে পানি বের হয়ে আসতে পারে।
বর্ষায় বাইক চালাচ্ছেন? জেনে নিন নিরাপদে চলার ১০টি জরুরি কৌশল
বর্ষাকাল মানেই প্রকৃতির শীতল পরশ, বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় হাঁটার রোমান্স। কিন্তু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এটি হতে পারে রীতিমতো দুঃস্বপ্ন! পিচ্ছিল রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই—সঠিক প্রস্তুতি থাকলে বর্ষাতেও বাইক চালানো হতে পারে নিরাপদ, ঝামেলামুক্ত এবং আরামদায়ক।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বর্ষায় বাইক চালানোর সবচেয়ে কার্যকর ১০টি পরামর্শ:
১. পিচ্ছিল রাস্তায় বাড়তি সতর্কতা
বৃষ্টির প্রথম ধাপে রাস্তার ওপরে জমে থাকা তেল, ধুলো ও কাদা দ্রুত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে।
➤হঠাৎ ব্রেক না করে ধীরে ধীরে গতি কমান
➤বাঁক নেওয়ার সময় হেলানো না হয়ে সরাসরি টার্ন করুন
➤সাদা লাইন বা ম্যানহোলের ওপর দিয়ে চালানো এড়িয়ে চলুন
২. টায়ার পরীক্ষা করুন
ভালো গ্রিপওয়ালা টায়ার বর্ষায় আপনার সেরা বন্ধু।
➤টায়ারের খাঁজ (tread depth) পর্যবেক্ষণ করুন
➤পুরনো টায়ার বদলে ফেলুন
➤নির্ধারিত এয়ার প্রেশার বজায় রাখুন
৩. ব্রেকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করুন
বৃষ্টির পানিতে বিশেষ করে ড্রাম ব্রেক অনেক সময় ঠিকমতো কাজ না-ও করতে পারে।
➤ডিস্ক ব্রেক হলে প্যাড চেক করুন
➤ব্রেক টেস্ট করুন বৃষ্টির আগে
➤সামনের ও পেছনের ব্রেক ব্যালেন্স করে ব্যবহার করুন
৪. নিজেকে রাখুন শুকনো ও সুরক্ষিত
ভেজা পোশাকে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি থাকে, সাথে চালাতেও অসুবিধা হয়।
➤ওয়াটারপ্রুফ রেইন কোট ও প্যান্ট ব্যবহার করুন
➤রেইন শু কভার ব্যবহার করুন
➤হেলমেটের ভিজর (visor) পরিষ্কার রাখুন
৫. হেডলাইট ও টেইললাইট চালু রাখুন
বর্ষায় ভিজিবিলিটি কমে যায়, তাই দিনে-রাতেও লাইট অন রাখুন—নিজের উপস্থিতি অন্যদের জানাতে।
৬. কম গিয়ারে চালান
কম গিয়ার ব্যবহার ইঞ্জিন ব্রেকিং বাড়ায়, ফলে হঠাৎ ব্রেক করার প্রয়োজন কমে এবং স্লিপ করার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।
৭. পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তায় সাবধান!
পানির নিচে গর্ত, ড্রেন বা উঁচু-নিচু জায়গা থাকতেই পারে।
➤প্লাবিত রাস্তায় বাইক চালানো এড়িয়ে চলুন
➤টেইলপাইপ পর্যন্ত পানি উঠলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে
৮. গতির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন
ভেজা রাস্তায় গতি বেশি মানেই বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা।
➤৪০–৫০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে না চালানোই ভালো
➤হঠাৎ ব্রেক নয়, ধীরে ধীরে গতি কমান
৯. বাইক পরিচর্যা করুন নিয়মিত
বৃষ্টিতে চেইন, ব্রেক ও অন্যান্য অংশে মরিচা ধরতে পারে।
➤সপ্তাহে অন্তত একবার বাইক পরিষ্কার করুন
➤চেইনে গ্রিজ বা লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন
১০. কাগজপত্র ও ইন্স্যুরেন্স আপডেট রাখুন
জরুরি সময়ে সহায়তা পেতে বাইকের ইন্স্যুরেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য কাগজ আপডেট রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বৃষ্টি মানেই বিপদ নয়—বরং এটি হতে পারে এক নতুন অভিজ্ঞতা, যদি আপনি প্রস্তুত থাকেন। সঠিক সরঞ্জাম, সাবধানতা ও সচেতনতা আপনাকে দেবে নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা।
বৃষ্টিকে ভয় না পেয়ে বুঝেশুনে চলুন—তাহলেই বর্ষার রাস্তা হবে আরও উপভোগ্য।
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
বর্তমানে বাংলাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু সচেতনতা ও সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বজ্রপাতের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিচে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয় কিছু দিক তুলে ধরা হলো:
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে করণীয় পদক্ষেপসমূহ:
⃣ ১) আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা ও সতর্ক থাকা:
➤বজ্রপাতের মৌসুমে (মার্চ থেকে মে, এবং অক্টোবর-নভেম্বর) প্রতিদিনের আবহাওয়া রিপোর্ট শুনুন।
➤আকাশ মেঘলা হলে, বজ্রের গর্জন শোনা গেলে বা বিদ্যুৎ চমক দেখা দিলে সতর্ক হোন।
⃣ ২) বাড়ির ভিতরে অবস্থান করুন:
➤বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন।
➤ধাতব বস্তু, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও তার থেকে দূরে থাকুন।
➤জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।
⃣ ৩) বাইরে থাকলে করণীয়:
➤খোলা মাঠ, ধানক্ষেত, বা উঁচু স্থানে থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে বসুন। মাটির সাথে পুরো শরীর স্পর্শ না করিয়ে কেবল পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে বসুন।
➤গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আঘাত করে, তাই গাছের নিচে থাকা বিপজ্জনক।
➤বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী তার, বৈদ্যুতিক খুঁটি, টেলিফোন টাওয়ার, এবং ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
➤বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই ভালো।
⃣ ৪) জলাশয় এড়িয়ে চলুন:
➤বজ্রপাতের সময় পুকুর, নদী, খাল বা জলাশয়ে থাকা বিপজ্জনক।
➤বজ্রপাতের সময় সাঁতার কাটা বা মাছ ধরা বন্ধ রাখুন।
প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা:
➤বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসুন।
➤শ্বাসকষ্ট বা অচেতন অবস্থায় থাকলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিন ও হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করুন।
➤ CPR (হৃদপিণ্ড চালু করার পদ্ধতি) দিতে পারলে দিন।
দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
➤গ্রামে বজ্রনিরোধক (লাইটনিং এরেস্টার) স্থাপন করা।
➤বিদ্যালয়, মসজিদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনে বজ্রনিরোধক বসানো।
➤গ্রামের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বজ্রপাতের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান।
বজ্রপাত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও, সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত বজ্রপাতের মৌসুমে সাবধানতা অবলম্বন করা এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা। একসাথে সচেতন হলে আমরা বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারব।
গ্যাসের চুলা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! আপনি কি জানেন?
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাসের চুলা (stove) থেকে বেনজিন নামক একটি ক্যানসারজনিত রাসায়নিক নির্গত হয়, যা লিউকেমিয়াসহ নানা মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শুধু রান্নাঘর নয়, রান্নার ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই বেনজিন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে!
বিশেষ করে যারা:
• প্রতিদিন অনেকক্ষণ গ্যাসে রান্না করেন
• ছোট ঘরে বা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন
• জানালা-ভেন্টিলেশন কম
তাঁদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি!
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, বেনজিনের কোনো মাত্রাই নিরাপদ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও ভয়াবহ।
কি করবেন?
• সম্ভব হলে ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করুন
• রান্নার সময় জানালা খুলে দিন
• ভালো মানের কিচেন হুড ব্যবহার করুন
• দিনের কিছু সময় ঘরের বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন
আপনার পরিবারের স্বাস্থ্য আপনার হাতে। সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন।