নাচ একটি প্রাকৃতিক স্ট্রেস উপশমকারী, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

নাচ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে, যার ফলে মনোযোগ ও মননশীলতা বৃদ্ধি পায়।

ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং এন্ডোরফিনের মতো হরমোনগুলো শরীর ও মনকে প্রফুল্ল ও আনন্দিত 

রাখতে সাহায্য করে, যা নাচের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।


পড়া মনে রাখতে সমস্যা হচ্ছে? সহজ কিছু কৌশল চেষ্টা করে দেখুন।

অনেক সময় মনোযোগ ঠিক থাকে না, আবার কখনও পড়া পড়ি ঠিকই করি, কিন্তু মাথায় ধরে রাখতে পারি না। এটা খুব সাধারণ বিষয়, আর একটু সঠিক উপায়ে চললে অনেকটাই বদলে যায়। নিচে কয়েকটা সহজ কৌশল দেওয়া হলো, যেগুলো আস্তে আস্তে অভ্যাস করে নিলে মনে রাখা অনেক সহজ হয়।

1. যেটা পড়ছেন, সেটা চোখ দিয়ে শুধু স্ক্যান করবেন না। নিজের ভাষায় ছোট করে ব্যাখ্যা করে বলার চেষ্টা করুন। এতে ব্রেইন তথ্যকে ভালোভাবে ধরে রাখে।

2. পড়া শেষে কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি আসলে কী শিখলেন। এই ধরণের রিভিউ স্মৃতি শক্তিশালী করে।

3. বড় চ্যাপ্টার একবারে না পড়ে ভাগ করে নিন। ছোট অংশে পড়লে চাপ কমে যায় আর মনে থাকে বেশি।

4. পড়ার সময় বিরতি নিন। টানা বসে থাকলে মনোযোগ কমে যায়, তাই মাঝে মাঝে ছোট বিরতি মাথাকে রিফ্রেশ করে।

5. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুম। ঠিক মতো না ঘুমালে ব্রেইন তথ্য জমাতে পারে না। তাই প্রতিদিনই পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন।

পড়া কেবল সময় দিয়ে হয় না, সঠিক কৌশলও প্রয়োজন হয়। নিয়মিত চর্চা করলে আপনিও সহজে মনে রাখতে পারবেন।


ব্যথা কমাতে ঠান্ডা আর গরম সেঁক 


ব্যথা কমাতে ঠান্ডা আর গরম সেঁক দুটোই কাজে লাগে তবে কোনটা ব্যবহার করা যাবে সেটা ব্যথার ধরন ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

ঠান্ডা সেঁক কখন কার্যকরী:

•নতুন আঘাত।

•ফোলাভাব শুরু হওয়া।

•নতুন মচকানো ও ফোলাভাব •আঘাতের পর প্রথম এক বা দুই দিন কারণ ঠান্ডা সেঁকে ফোলা কমে ব্যথা কম লাগে।

গরম সেঁক কখন কার্যকরী:

•পেশির টান ও পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া।

•পুরনো ব্যথা।

•কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, মাসিকের ব্যথা।

তবে, যদি তীব্র ফোলা থাকে তাহলে গরম সেঁক দিলে ফোলা বাড়তে পারে।

যদি আঘাত খুব পুরনো না হয় তাহলে আগে ঠান্ডা পরে ধীরে ধীরে গরম সেঁক ভালো।

@তাইয়েবুন নেছা..



যে অনুভূতি আজ তীব্র, কাল সেটাই মিলিয়ে যাবে।

কোনো অনুভূতিই স্থায়ী নয়। আনন্দ হোক, দুঃখ হোক, অস্বস্তি হোক, বা সেই হঠাৎ ভয়, সবই আসে, থাকে তারপর সরে যায়। আমরা ভুল করি শুধু এই ভেবে যে, এটাই বুঝি আমার নতুন বাস্তবতা। অথচ সত্যটা খুব সোজা, অনুভূতিগুলো ঢেউয়ের মতো। তীব্র হয়,ভেঙে পড়ে, তারপর মিলিয়ে যায়।

আমরা একটা অনুভূতিকে আঁকড়ে ধরি, দুঃখ হলে মনে করি এটাই আমার শেষ অবস্থা, আনন্দ হলে ভয় পাই কখন হারাবে। কিন্তু অনুভূতিকে এত গুরুত্ব দেওয়ার আসলে দরকার নেই।

ভাবুন তো, একটা খারাপ মিটিং। একটা রিজেকশন ইমেইল। তখন মনে হয় যেন জীবনের ওপরই বিচার পড়ে গেছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরে, সবকিছু আগের মতোই চলে। আপনার পৃথিবী ভেঙে পড়ে না। শুধু একটা অনুভূতি বদলে যায় আরেকটার সাথে। এটাই নিয়ম। আমরা যত বেশি নিজের অনুভূতিকে ফ্যাক্ট ধরে নিই, ততই আটকে যাই। অথচ আবেগ আসলে তথ্য, সিগন্যাল। বাস্তবতা নয়।

হৃদয় ভেঙেছে, অনুভব করুন। পুরোপুরি অনুভব করুন। তারপর হাঁটুন। কাজ করুন। মুখ ধুয়ে ফেলুন। জীবন নিজেই একসময় আপনাকে অন্য অনুভূতিতে টেনে নিয়ে যাবে। জীবনে চলতে থাকতে হবে। ধীরে, ধীরেই হোক। কারণ অনুভূতির ঢেউ বদলাবে, দৃশ্যপটও বদলাবে।


যারা নিয়মিত দ্রুত হাঁটেন, তারা ধীরে হাঁটা মানুষের তুলনায় দীর্ঘায়ু হন।

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত স্বাস্থ্য ডেটাব্যাংক UK Biobank–এর প্রায় ৪ লাখ অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দ্রুত হাঁটা মানুষের হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও মেটাবলিজম সাধারণত শক্তিশালী হয়। গবেষকরা বলেন, এটি সরাসরি দ্রুত হাঁটার কারণে নয় বরং দ্রুত হাঁটা হলো শরীরের সামগ্রিক ফিটনেসের একটি সূচক।

>দ্রুত হাঁটা মানুষের মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক কম

>তাদের রক্তসঞ্চালন ও অক্সিজেন গ্রহণক্ষমতা ভালো

>স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কম

>মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও দ্রুত হাঁটা কার্যকর

গবেষকরা আরও বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের brisk walking হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হরমোনজনিত বেশ কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। দ্রুত হাঁটা নিজে আয়ু বাড়ায় না বরং যারা হাঁটতে পারে ও দ্রুত হাঁটে, তারা সাধারণত আগে থেকেই ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী। সেজন্য তাদের আয়ুও তুলনামূলক দীর্ঘ হয়ে থাকে।

কী করলে উপকার পাওয়া যাবে?

>প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট তীব্র গতিতে হাঁটা

>হাঁটার সময় এমন গতি রাখা যাতে কথা বলা যায়, কিন্তু গাইতে অসুবিধা হয়

>সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন নিয়মিত অনুশীলন

>ওজন, ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ

গবেষণা বলছে দ্রুত হাঁটা মানুষের স্বাস্থ্যের সূচক ভালো হয়, তাই তারা তুলনামূলক বেশি দিন বাঁচতে পারে। তবে দীর্ঘায়ু নির্ভর করে সুষম খাবার, ঘুম, অভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও।


নেকড়েরা না খেয়ে এক সপ্তাহের বেশি বাঁচতে পারে

নেকড়ের হাড় হিম করা ডাকের কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। এ ধরনের ডাক বহুদূর পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়, ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। নেকড়েরা মূলত পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এরকম করে। একটি নেকড়ে ডাকলে বাকিরাও সাড়া দেয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বিভিন্ন গুহার গর্তে বাস করে এরা। এই নেকড়েদের একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। এরা না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে এক সপ্তাহেরও বেশি।

নেকড়েদের বিপাক হার অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি। এর মানে, এরা খাবার থেকে দ্রুত শক্তি উৎপাদন করতে পারে, দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে না খেয়ে। নেকড়েরা নিজেদের দেহে ঘ্রেলিন (Ghrelin) নামের একটি হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঘ্রেলিন একধরনের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন। এ ছাড়াও নেকড়েরা শরীরে প্রচুর পরিমাণে চর্বি জমা করে। কখনো খাবারের অভাব হলে এই চর্বি কাজ করে শরীরের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে।

নেকড়েরা খুব সামাজিক প্রাণী। দল বেঁধে বাস করে। ইংরেজিতে নেকড়ের দলকে বলে প্যাক—উলফ প্যাক। একটি প্যাকে সাধারণত ৬ থেকে ১২টি নেকড়ে থাকে। নেকড়ের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যানিস লুপাস (Canis lupus)।


 স্বপ্নে যখন মনে হয় আমরা পড়ে যাচ্ছি,

অনেকেরই অভিজ্ঞতা আছে স্বপ্নে যখন মনে হয় আমরা পড়ে যাচ্ছি, দুর্ঘটনায় পড়ছি, সেই মুহূর্তেই হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়।

অনেকে মনে করেন এটি রহস্যময় বা ভয়ংকর কিছু, কিন্তু আসলে এর চমৎকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখা আছে।

মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা:

আমাদের মস্তিষ্ক একটি Survival System নিয়ে কাজ করে, যার প্রধান দায়িত্ব হলো আমাদের বাঁচিয়ে রাখা।

যখন স্বপ্নে কোনো বিপদ বা মৃ-ত্যুর অনুভূতি আসে, মস্তিষ্ক সেই পরিস্থিতিকে বাস্তব বিপদ মনে করে এবং সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে জাগিয়ে তোলে।

কেন এমন হয়?

কারণ মস্তিষ্ক মৃ-ত্যুর পরের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না। এটি একটি সম্পূর্ণ অজানা বিষয়।

মস্তিষ্ক অজানা পরিস্থিতি simulate করতে পারে না। তাই যখন স্বপ্ন সেই মুহূর্তের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, মস্তিষ্ক দ্রুত অ্যালার্ম সিগন্যাল দেয়:

“জাগো! নিরাপদ হও!”

এটাই হলো Hypnic Jerk বা Survival Reflex।

সংক্ষেপে বলা যায়:

স্বপ্নে মা-রা যাওয়ার মুহূর্তে ঘুম ভেঙে যাওয়া কোনো রহস্য নয়, বরং মস্তিষ্কের জীবনরক্ষাকারী প্রতিক্রিয়া।

অজানা অবস্থায় না যাওয়ার চেষ্টা

সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ প্রক্রিয়া

ছোট সারাংশ:

স্বপ্নে মা-রা যাওয়ার আগে ঘুম ভেঙে যায় কারণ আমাদের মস্তিষ্কও জানে না মৃ|ত্যুর পরে কী হয়। তাই নিজের সুরক্ষার জন্যই সে আমাদের জাগিয়ে তোলে।


আমাদের শরীরের বিষয়ে ২১ টি চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে যা জানলে আপনি মুগ্ধ ও বিস্মিত হবেন। :

১ . জিভ দেখে অনেক কিছু বুঝা যায়। জিভের নমুনা একেবারে অনন্য। তাই কাউকে জিভ দেখানোর সময় এটি মনে রাখবেন।

২. একটি চুল ঝুলন্ত আপেলের ওজন ধরে রাখতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা আপেলের মাত্রা নির্দিষ্ট করেন নি।

৩. কোনও ব্যক্তির মুখে বিদ্যমান ব্যাকটিরিয়ার সংখ্যা পৃথিবীর মোট লোক সংখ্যার সমান বা তারও বেশি।

৪. ব্যক্তির নখগুলো নরম ও ভঙ্গুর এবং চাঁদহীন হলে তা অতিরিক্ত থাইরয়েডের নির্দেশ করতে পারে।

৫. মস্তিস্কের স্পন্দনের গতি ঘন্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।

৬ আমাদের ধারনা চার ধরণের রক্ত রয়েছে আমাদের দেহে। আসলে রক্তের ধরন ২৯ টি। তাদের মধ্যে বিরলতম হচ্ছে বোম্বাই সাব টাইপ।

৭. মাত্র একদিনে আমাদের রক্ত ​​১৯ ৩১২ কিলোমিটার দূরত্ব 'দৌড়ায়'।

৮. মানবদেহের সকল স্নায়ুর মোট দৈর্ঘ্য ৪৫ কিলোমিটার।

৯. একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ২০০০০ বার শ্বাস নেয়।

১০. বিশ্বের প্রায় সকল লোকের চোখের পাতায় 'ডেমোডেক্স' নামের একটি বিশেষ ধরনের উপাদান থাকে।

১১. মানুষের চোখ ১ কোটি পর্যন্ত নানা রংয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক এর সবগুলো মনে রাখতে পারে না।

১২. আমাদের কান প্রায় অবিশ্বাস্য গতিতে জীবনব্যাপী বাড়তে থাকে। কান প্রতি বছর এক মিলিমিটারের এক চতুর্থাংশ পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

১৩. আমাদের হৃদপিণ্ড বছরে ৩৫ মিলিয়ন বার বিট দেয়।

১৪. মানবদেহ প্রতিদিন প্রায় এক মিলিয়ন ত্বকের কোষ হারিয়ে ফেলে, যার পরিমাণ বছরে ২ কিলোগ্রাম হয়।

১৫. আপনার ত্বকের প্রতি ১ বর্গ সেন্টিমিটারে প্রায় শতাধিক ব্যথা সংবেদক রয়েছে।

১৬. ছেলেদের জিহ্বার পৃষ্ঠে মেয়েদের চেয়ে স্বাদের কুঁড়ি(টেষ্ট বাট) কম থাকে।

১৭. একজন ব্যক্তি তার জীবনে গড়পড়তায় প্রায় ৩৫ টন খাদ্যগ্রহণ করে।

১৮. একজন মানুষ তার জীবনের প্রায় পাঁচ বছর দারুন সক্রিয় থাকে।

১৯. আমাদের মস্তিস্কে প্রতি সেকেন্ডে ১০০০০০ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।

২০. আপনার হাঁচির গতি ঘন্টায় ১৬০ কিমি।

২১. হাসিতে মুখের ১৭টি পেশিকে 'ট্রিগার' করে। অন্যদিকে কান্নায় ৪৩ টি পেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। তাই আরও হাসুন।

সূত্র : ব্রাইট


সূর্যের আলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।


সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন-D তৈরিতে সাহায্য করে, যা আমাদের মুড ও মানসিক স্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রোদে থাকলে মস্তিষ্কে Serotonin নামক “হ্যাপি হরমোন” বৃদ্ধি পায়, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সামান্য সময়ও সূর্যের আলো পান তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

বাইরে গিয়ে রোদে হাঁটা বা সতেজ বাতাস নেওয়া, এগুলোও মানসিক স্বাস্থ্যকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

তাহলে কি করবো?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সপ্তাহে ৩–৫ দিন, প্রতিদিন প্রায় ১০–৩০ মিনিট রোদে থাকা স্বাস্থ্য ও মন দুটোর জন্যই উপকারী হতে পারে।

(বিশেষ করে সকালের নরম রোদ সবচেয়ে ভালো।)

ঘরের বাইরে গিয়ে একটু হাঁটা।

হাত ও মুখে কিছুটা রোদ লাগা।

প্রকৃতির মাঝে কিছুক্ষণ থাকা।

এসব ছোট অভ্যাসও মনকে হালকা ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

মনে রাখার বিষয়:

শুধু রোদ নয়, ভালো ঘুম, সুষম খাবার, ব্যায়াম এবং আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলা সবই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কারও যদি দীর্ঘ সময় ধরে দুঃখ, হতাশা বা মন-খারাপ স্থায়ীভাবে থাকে, তাহলে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে ভালো উপায়।

 সূর্য শুধু আলো নয়, এটা এক ধরনের স্বাভাবিক থেরাপি!

নিজেকে একটু সময় দিন, আর আলোকে আপনাকে ছুঁতে দিন।


বাতাসে ভেসে থাকা অদৃশ্য শত্রুরা কারা,আপনার শরীর কীভাবে তাদের সাথে প্রতিদিন যুদ্ধ করে?

আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন বায়ুতে ভেসে বেড়ানো হাজারো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুও আমাদের শরীরে ঢোকার সুযোগ খোঁজে। খালি চোখে দেখা যায় না এমন এই ক্ষুদ্র শত্রুদের মোকাবিলা করতে আমাদের দেহ এক অবিশ্বাস্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে।

​এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট তিনটি স্তরে কাজ করে:

​১. প্রথম বাধা: আমাদের ত্বক, নাকের ভেতরের লোম ও শ্লেষ্মা (মিউকাস) এদের প্রাথমিক প্রবেশপথেই আটকানোর চেষ্টা করে। এই প্রাকৃতিক ফিল্টার বেশিরভাগ জীবাণুকে গলা বা ফুসফুসে পৌঁছাতে দেয় না।

​২. জরুরী বাহিনী: জীবাণু যখন প্রথম বাধা অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করে, তখন শ্বেত রক্তকণিকার একটি বিশেষ দল, যাদের 'ফ্যাগোসাইট' বলা হয়, দ্রুত ছুটে আসে। এরা সরাসরি জীবাণুকে গিলে ফেলে ধ্বংস করে দেয়।

​৩. স্মার্ট প্রতিরক্ষা: শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো অ্যান্টিবডি। এরা নির্দিষ্ট শত্রুদের চিনে নিয়ে তাদের দুর্বল করে দেয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো 'মেমরি সেল,,, যারা একবারের আক্রমণ মনে রাখে। পরবর্তীতে একই জীবাণু এলে এরা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দিয়ে আমাদের অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে। টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই স্মৃতি কোষগুলোকেই প্রস্তুত করা হয়।

​তাই মনে রাখবেন, আপনার শরীর প্রতি মুহূর্তে নীরবভাবে একটি বড় যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। এই অভ্যন্তরীণ যোদ্ধাদের সাহায্য করতে নিয়মিত হাত পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করে সতর্ক থাকুন। আপনার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত থাকুক!


পান্তা ভাত ঠিকভাবে বানাতে যেটুকু জানা জরুরি।

পান্তা ভাত অ্যাসিড রিফ্লাক্স আর ডাইজেস্টিভ সমস্যায় দারুণ কাজ করে। এটা আমাদের ঘরোয়া প্রোবায়োটিক খাবার। কিন্তু অনেকেই ঠিক নিয়ম জানি না। নিচের গাইডে সব পরিষ্কারভাবে সাজানো আছে।

১. পান্তা ভাত কীভাবে কাজ করে: ভাত পানির নিচে থাকলে ব্যাকটেরিয়া স্টার্চ ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিডই পাচনের জন্য উপকারী।

২. পানি কত দেবেন: ভাত ১ থেকে ২ ইঞ্চি পানি দিয়ে পুরো ঢেকে রাখবেন। এতে বাতাস লাগবে না আর ফার্মেন্ট ঠিকভাবে হবে।

৩. কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন: নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন পানিতে ছোট বুদবুদ উঠবে এবং পানি ঘোলাটে হবে, তখন বুঝবেন পান্তা তৈরি।

৪. কোন চালে ভালো হয়: সাদা চালে সবচেয়ে ভালো হয় কারণ স্টার্চ বেশি থাকে। লাল চালেও হবে, কিন্তু সময় বেশি লাগে আর টেক্সচার শক্ত হয়।

৫. ভাত কখন পানি দেবেন: রান্না করা ভাত ঠাণ্ডা হলেই পানি দিন। বেশি সময় বাইরে রেখে পুরনো করার দরকার নেই।

৬. কোন পাত্র ব্যবহার করবেন: কাঁচ বা মাটির পাত্র নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। প্লাস্টিক বা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করবেন না।

৭. ঢেকে রাখবেন কি না: অবশ্যই ঢেকে রাখবেন যাতে ধুলা বা পোকা না পড়ে।

৮. দই দিলে দ্রুত হয়: ভাত, পানি আর সামান্য দই একসাথে রাখলে এক রাতেই ভালো পান্তা তৈরি হয়।

৯. স্টার্টার পানি ব্যবহার, আগের দিনের পান্তার আধা কাপ পানি নতুন পানির সাথে মিশালে খুব দ্রুত ফার্মেন্ট হয়।

১০. পান্তার পানি ফেলে দেবেন না, এতেও প্রোবায়োটিক থাকে। সরাসরি খেয়ে ফেলুন।

১১. খুব গরমে পান্তা ঠিকমতো হবে না, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। তাই গরমে সময় বেশি লাগতে পারে।

১২. তৈরি হয়ে গেলে,খেতে দেরি হলে ফ্রিজে রাখুন। এতে ফার্মেন্টেশন থেমে যাবে।



আপনি চাইলে এখন থেকে একদম নির্ভুলভাবে পান্তা ভাত বানাতে পারবেন।


১৫৮২ সালের অক্টোবর মাসটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অদ্ভুত মাস হিসেবে পরিচিত। এই মাসে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের কারণে একটি বড় পরিবর্তন এসেছিল।

এই মাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ক্যালেন্ডার থেকে ১০ দিন বাদ দেওয়া হয়েছিল।​যেসব দেশে নতুন ক্যালেন্ডার চালু হয়েছিল, সেখানে ৪ঠা অক্টোবর, ১৫৮২ সালের পরের দিনটি হয়েছিল সরাসরি ১৫ই অক্টোবর, ১৫৮২।

​অর্থাৎ, ৫ই অক্টোবর থেকে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত দিনগুলো ক্যালেন্ডার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

​গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার প্রবর্তন ​পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির (Pope Gregory XIII) নির্দেশ অনুযায়ী পুরোনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের ত্রুটি সংশোধনের জন্য এই গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার (Gregorian calendar) চালু করা হয়।​জুলিয়ান ক্যালেন্ডার প্রতি বছর সৌর বছরের থেকে সামান্য বেশি সময় গণনা করত, ফলে সময়ের সাথে সাথে ইস্টার পর্বের মতো ধর্মীয় উৎসবের তারিখগুলো ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছিল।​এই ১০ দিন বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বসন্ত বিষুবকে (Spring Equinox) আবার সঠিক সময়ে ফিরিয়ে আনা এবং ক্যালেন্ডারকে সৌর বছরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

​প্রথমদিকে ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মতো ক্যাথলিক দেশগুলো এই নতুন ক্যালেন্ডার গ্রহণ করেছিল।​অন্যান্য দেশগুলো ধীরে ধীরে এটি গ্রহণ করে যেমন গ্রেট ব্রিটেন ১৭৫২ সালে এবং রাশিয়া ১৯১৮ সালে এটি গ্রহণ করে।​এই পরিবর্তনের ফলে ১৫৮২ সালের অক্টোবর মাসটি ৩১ দিনের পরিবর্তে কার্যত ২১ দিনের হয়েছিল (৪ তারিখ পর্যন্ত জুলিয়ান এবং তারপর ১৫ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী)।@ Shabbir Hossain


পৃথিবীর ২৪ ঘণ্টার ইতিহাসে মানুষ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অতিথি।

পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর। এই দীর্ঘ সময়কে যদি একটি ২৪ ঘণ্টার ঘড়ির মতো ধরে নিই, তাহলে পুরো ইতিহাসটাই একটি দিনের ভেতর দেখা যায়। আর সেই বিশাল ইতিহাসে মানুষের জায়গা কোথায় জানেন? দিনের একদম শেষের দিকে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে।

হোমো সেপিয়েন্স অর্থাৎ আধুনিক মানুষের বয়স প্রায় ৩ লাখ বছর। এই হিসাবকে ২৪ ঘণ্টার স্কেলে আনলে দেখা যায় আমরা উপস্থিত মাত্র ৫ থেকে ৭ সেকেন্ড। ভাবতে অবাক লাগে, পৃথিবীর পুরো গল্পে আমরা শুধু শেষ পাতার একটুকরো লাইন।

নিচে সহজভাবে কয়েকটি বড় ঘটনা সাজানো হলো।

২৪ ঘণ্টার ঘড়িতে পৃথিবীর ইতিহাস:

•রাত ১২টা,পৃথিবীর জন্ম।

•ভোর ৪টা,প্রথম জীবনের উদ্ভব। অতি সূক্ষ্ম এককোষী প্রাণী।

•রাত ১০টা ২৪ মিনিট,স্থলে প্রথম উদ্ভিদ।

•রাত ১১টা,ডাইনোসরের যুগ শুরু।

•রাত ১১টা ৪১ মিনিট,ডাইনোসরের বিলুপ্তি।

•রাত ১১টা ৫৪ মিনিট,স্তন্যপায়ী ও প্রাইমেটদের উত্থান।

•রাত ১১টা ৫৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড,মানুষের আবির্ভাব। পুরো দিনের হিসেবে একটুখানি সময়।

•রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড,এখনকার মুহূর্ত।

এই তুলনা আমাদের একটা জিনিস খুব পরিষ্কারভাবে দেখায়। পৃথিবী অনেক পুরনো, আর আমরা খুবই নতুন। এত অল্প সময়ে আমরা পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলেছি। তাই এই গ্রহকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

ছোট এই সময়টুকুই আমাদের সুযোগ। চাইলে ভালো পরিবর্তনও আনা যায় ঠিক এই সময়ের মধ্যেই।


০ মিনিটের হাঁটা রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে এবং হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।


গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর মাত্র ১০/১৫ মিনিট হাঁটলেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।

নিয়মিত হাঁটা রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমায়, হার্টের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে যা সাধারণত ৩০ মিনিট হাঁটার পর আরও কার্যকরভাবে অনুভূত হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও হাঁটা অত্যন্ত উপকারী। মাত্র ৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই স্ট্রেস কমে, উদ্বেগ হ্রাস পায় এবং এন্ডোরফিনসহ বিভিন্ন মুড-বুস্টিং রাসায়নিক নিঃসরণের ফলে মুড ভালো হয়, মনোযোগ বাড়ে এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত হয়।

প্রতিদিনের রুটিনে even ছোট ছোট বিরতিতেও হাঁটাকে অন্তর্ভুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য উপকার এনে দিতে পারে।

আপনি খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটুন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, কিংবা প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটার লক্ষ্য ঠিক করুন হার্টের সুস্থতার জন্য নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য, ভালো এনার্জি এবং সামগ্রিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে তোলে।

সূত্র: Blue Cross NC. (2023). *The Benefits of Walking


পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র তৈরির অবিশ্বাস্য গল্প।

গুগল ম্যাপস আসার বহু হাজার বছর আগে মানুষ কীভাবে পথ চিনত?মানুষ যখন প্রযুক্তি চিনত না, তখনও তারা নদী-পাহাড়ের দূরত্ব মাপত, দিক চিনত, আর আঁকত মানচিত্র-অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্য।

প্রাচীনতম বিশ্ব মানচিত্র:ব্যাবিলন (খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০)

কাগজ নয়-মাটির চাকতিতে খোদাই করা মানচিত্র।

ব্যাবিলন ছিল বিশ্বের কেন্দ্র। চারপাশে ছিল নদী আর কিছু রহস্যময় ‘কাল্পনিক দ্বীপ’।অদ্ভুতভাবে এই মানচিত্রে পারস্য বা মিসরের মতো বড় সভ্যতার নামও নেই।আরও পুরোনো মানচিত্র-২৫,০০০ বছর আগে ইরাক, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রেলিয়া-বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া প্রাচীন খোদাই।সেখানেও পাহাড়, নদী, উপত্যকার নকশা-স্থানীয় দিকনির্দেশের জন্য তৈরি।

গ্রিক দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডার(খ্রিষ্টপূর্ব ৬১০-৫৪৬)

নাবিক ও বণিকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রথম বড় আকারের বিশ্ব মানচিত্র তৈরির চেষ্টা।তিনি প্রথমদের একজন যিনি বলেছিলেন-পৃথিবী বক্র।কম্পাসের আগেও ছিল গণিতের জাদু।মানুষ ত্রিকোণমিতি ব্যবহার করে দূরের বস্তুর দূরত্ব বের করত,নদীর ওপারের গাছ, পাহাড়, দুর্গ-সবকিছুর হিসাব মিলিয়ে তৈরি হতো মানচিত্র।সার্ভেয়াররা পুরো অঞ্চলকে ভাগ করত ত্রিভুজে।

মধ্যযুগের Mappa Mundi (১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ)

ধর্মীয় প্রতীক আর গল্পে ভরা মানচিত্র

যার কেন্দ্র-জেরুজালেম।আরব বিজ্ঞানীদের বিপ্লবী অবদান।সমুদ্রযাত্রা, ব্যবসা আর ভূগোল-সবকিছুকে আরও নিখুঁত করেছিল তাদের সূক্ষ্ম মানচিত্র।

আর আজকের গুগল ম্যাপস

হাজার বছরের কৌতূহল, গণনা, সার্ভে, যুদ্ধ, বাণিজ্য আর ভয়-ত্রাসের অভিজ্ঞতা মিলেই আজ আমাদের হাতে এসেছে এক ক্লিকের ম্যাপ

মানব সভ্যতার এক বিশাল উত্তরাধিকার। @রাকিব


না খেয়ে কত দিন বেঁচে থাকা সম্ভব? 

৭৪ বছর বয়সে জীর্ণ-শীর্ণ শরীরের মহাত্বা গান্ধী একবার অনশনে ২১ দিন পর্যন্ত না খেয়ে ছিলেন! বিভিন্ন দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার নজিরও খুব একটা দুর্লভ নয়। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক সুস্থতা, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশের তাপমাত্রা, দেহে পানি ও চর্বির পরিমাণ প্রভৃতি নিয়ামকের ওপর নির্ভর করে | তবে না খেয়ে ঠিক কত দিন বেঁচে থাকা যায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা নেই। কেননা দিনের পর দিন কোনো ব্যক্তিকে না খেয়ে রেখে গবেষণা নৈতিকতার দিক থেকে একটি যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। তবে বিভিন্ন দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, অনশন কিংবা ধর্মঘটের বিভিন্ন ঘটনা থেকে বিজ্ঞানীরা খাবার ছাড়া মানুষের বেঁচে থাকার একটা ধারণা প্রদান করেন।

কোনো রকম খাবার ও পানি ছাড়া সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মতো বেঁচে থাকা সম্ভব। তবে শুধু খাবার খাওয়া বাদ রেখে শুধু পানি পান করে 2-3 মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব হতে পারে। অনশন-ধর্মঘটে ঐচ্ছিকভাবে খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে মোটামুটি 45-61 দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার নজির পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায়- ১৮.৫ বিএমআই মানের নিচের কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিক বিএমআই-এর মানুষের চেয়ে প্রায় ৪ বছর পর্যন্ত কম বাঁচে। তাই ব্যক্তির ওজন, দৈহিক কাঠামো, বয়সের ন্যায় নিয়ামকগুলোও না খেয়ে বেঁচে থাকার সময়ে ঢের পার্থক্যের সৃষ্টি করে।

না খেয়েও কীভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়?

দিনের পর দিন না খেয়ে বেঁচে থাকা অনেকের কাছে এক বিস্ময়ের বিষয়। খাদ্যই আমাদের দৈহিক কার্যকলাপের চালিকাশক্তি। শর্করা জাতীয় খাবার হজমের পর তা গ্লুকোজে পরিণত হয়, যা দেহে শক্তির জোগান দেয়। প্রয়োজনমাফিক শক্তির জোগান দেওয়া শেষে অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন রূপে জমা থাকে। মোটামুটি 24 ঘন্টা না খেয়ে থাকার পর দেহের স্বাভাবিক কার্যকলাপে বিঘ্ন ঘটে। দেহে গ্লুকোজের সরবরাহ না থাকায় এক সময় যকৃতে জমা থাকা গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এই গ্লুকোজই তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়। কিন্তু একসময় যকৃতের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যায়। এরপর দেহ চর্বি ভেঙে শক্তির চাহিদা মেটায়। এজন্য রোগা-পাতলা ব্যক্তির তুলনায় স্থূল ব্যক্তিরা না খেয়ে বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন! এভাবে প্রথম পাঁচ দিনে ব্যক্তির ১-২ কেজি ওজন কমে যায়। দেহে পানিশূন্যতা এই ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ। এরপর শক্তির শেষ ভরসাস্থল হিসেবে দেহ মাংসপেশীর ক্ষয় করতে শুরু করে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ না খেয়ে থাকার পর প্রত্যেক দিন ব্যক্তির প্রায় ৩০০ গ্রাম করে ওজন কমতে থাকে। এভাবে ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের চরম ঘাটতি একপর্যায়ে ব্যক্তির মৃত্যু ঘনিয়ে আনে।


পড়াশোনার আগে দৌড়াদৌড়ি করুন!

নতুন গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে একদম ঝলমলে একটা বিষয়, পড়তে বসার ঠিক আগে যদি মাত্র একটু সময় জোরে দৌড়ানো যায়, শেখার গতি প্রায় ২০% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

শরীর যখন হঠাৎ তীব্র গতিতে নড়ে, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন আর নরএপিনেফ্রিন বাড়তে থাকে। এই দুই কেমিক্যালই মনোযোগ ঠিক করে, স্মৃতিকে তীক্ষ্ণ করে আর মাথাকে একটা ফোকাসড মুডে নিয়ে যায়। ছোট্ট একটা স্প্রিন্ট মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, নিউরোপ্লাস্টিসিটিও বাড়ে মানে নতুন তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা আরও বেটার হয়।

আরেকটা কথা হলো গবেষণা নতুন নয়, এটা ২০০৭ সালের গবেষণা। মাত্র দুই মিনিটের মতো জোরে দৌড়ালেই মস্তিষ্ক মুহূর্তে সজাগ হয়ে ওঠে, মানসিক ক্লান্তি কমে যায়। আর যেহেতু এটা খুব দ্রুত কাজ করে, তাই পড়াশোনা, সৃজনশীল কাজ, কোডিং বা কঠিন কোনো সমস্যায় মাথা দিতে যাওয়ার ঠিক আগেই করলে সবচেয়ে বেশি লাভ।@ নাঈমুল ইসলাম,


যে মুহুর্তের আবেগ যত বেশি, সেই স্মৃতি ততই দীর্ঘস্থায়ী!

প্রতিদিন আমাদের সাথে প্রতি মূহুর্তে কত কি ঘটে যাচ্ছে। কিছু মনে থাকে, কিছু ভূলে যায়। কিছু ঘটনা মনে থাকলেও তা ঝাপসা হয়, কিছু আবার মনে দাগ কেটে যায়, মনে থাকে আজীবন। যে স্মৃতিতে থাকে আবেগ, সেটাই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

শৈশবের আনন্দময় মূহুর্ত, কোনো প্রিয়জনের বিদায় বা জীবনের বিশেষ কোনো মুহূর্ত, জীবনের প্রথম বাইসাইকেল, প্রথম মোবাইল পাওয়ার স্মৃতি বহু বছর পরও যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এটাই হলো Emotional Memory অর্থাৎ আবেগীয় স্মৃতি।

বিজ্ঞান বলছে, আমাদের মস্তিষ্কে থাকা amygdala (আবেগের কেন্দ্র) এবং hippocampus (স্মৃতির কেন্দ্র) একসাথে কাজ করে যখন কোনো ঘটনা আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। যে মুহূর্তে আমরা তীব্র ভয়, ভালোবাসা, আনন্দ বা কষ্ট অনুভব করি, মস্তিষ্ক সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ট্যাগ দিয়ে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখে।

তাই কোনো গন্ধ, কোনো ছবি, একটি গান বা পরিচিত জায়গা হঠাৎ আমাদেরকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যেন সময় এক মুহূর্তে অতীতের চলে গেছে। আমরা তাতে নিজেকে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে ফেলি।

আবেগই আসলে স্মৃতিকে জীবন্ত করে রাখে। যখনি কোনো ঘটনা আপনাকে কাঁদিয়েছে, হাসিয়েছে বা গভীর ভাবে নাড়া দিয়েছে, মস্তিষ্ক সেটাই সবচেয়ে যত্নে ধরে রাখে। কারণ সে জানে এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই কিছু স্মৃতি কখনও পুরোনো হয় না।


অটোমোবাইলের আগমন


ভারতের আধুনিক শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ইতিহাসে অটোমোবাইলের আগমন ছিল এক বিশাল মাইলফলক। উনিশ শতকের শেষভাগে যখন প্রথম মোটরচালিত গাড়ি ভারতের মাটিতে আসে, তখন উপমহাদেশজুড়ে এটি ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ঘোড়ার গাড়ি, পালকি বা ট্রামের যুগে হঠাৎ মোটরচালিত যন্ত্র রাস্তায় দেখা দেওয়া সাধারণ মানুষের মনে বিস্ময় ও কৌতূহল তৈরি করে। এ ঘটনা শুধু একটি নতুন বাহনের আগমন নয়, বরং ভারতের শিল্প ও অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

ঔপনিবেশিক যুগে প্রথমবারের মতো ভারতে মোটরগাড়ির প্রবেশ ঘটে ১৮৯৭ সালে। এটি ভারতীয় সমাজে আধুনিক প্রযুক্তির এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করে। আর প্রথম গাড়িটি আনা হয়েছিল কলকাতার বাসিন্দা একজন ব্রিটিশ প্রকৌশলী মিস্টার ফস্টার-এর জন্য। গাড়িটি ছিল ফরাসি মডেলের De Dion-Bouton, যা সে সময় ইউরোপে জনপ্রিয় ছিল।

তবে ভারতীয় হিসেবে প্রথম গাড়ির মালিক হন জামশেদজী নসরওয়ানজি টাটা ১৯০১ সালে। তিনি ছিলেন ভারতের শিল্পবিপ্লবের জনক। ১৯০১ সালে জামশেদজী টাটা ইউরোপ থেকে একটি Mercedes-Benz গাড়ি আমদানি করেন। এটি তাঁকে ভারতীয় হিসেবে প্রথম গাড়ির মালিক করে তোলে।

প্রথম গাড়ি আগমনের কয়েক বছরের মধ্যেই গাড়ির ব্যবহার ধীরে ধীরে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৩ সালে বম্বেতে প্রথমবারের মতো গাড়ির সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ প্রশাসক, ভারতীয় রাজা-মহারাজা ও জমিদারদের মধ্যে গাড়ি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী শ্রেণির কাছেও গাড়ি ছিল আধুনিকতা ও বিলাসের প্রতীক। এভাবেই ভারতীয় সমাজে পরিবহন ব্যবস্থায় গাড়ি এক স্থায়ী স্থান করে নেয়।


বিজ্ঞানী ফ্রিডরিক এঙ্গেলস  

ছিলেন জার্মান সমাজ বিজ্ঞানী,লেখক,রাজনৈতিক তাত্ত্বিক,দার্শনিক এবং মার্কসের সাথে মার্কসবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৮৪৫ সালে তিনি নিজের প্রত্যক্ষন এবং গবেষণার ভিত্তিতে ইংল্যান্ডে শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা প্রকাশ করেন। ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্কসের সাথে যৌথভাবে কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার রচনা করেন,পরে কার্ল মার্কসকে পুঁজি গ্রন্থটি গবেষণা ও রচনার জন্য অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করেন।

মার্কসের মৃত্যুর পরে তিনি সেই বইয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড-দুটি সম্পাদনা করেন। আরো তিনি মার্কসের "উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব" বিষয়ের নোটগুলো একত্রিত করেন এবং এগুলো পরে "পুঁজি"র চতুর্থ খণ্ড হিসেবে প্রকাশিত হয়।তিনি পরিবার অর্থনীতি বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

তিনি ১৮২০ সালে জার্মানীর বারামানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন জার্মানের একজন বড় শিল্পপতি। অত্যন্ত রক্ষণশীল এবং গোঁড়া ধর্মীয় পরিবেশে তিনি ছোটবেলায় লালিত পালিত হয়েছিলেন। কিন্তু অতিমাত্রায় ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। অচিরেই তিনি ধর্মের ব্যাপারে সংশয়ী হয়ে উঠলেন।

ব্যবসা ও রাজনীতির প্রতি তার ছিল বিশেষ ঝোঁক। এ কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াও ছেড়ে দিয়েছিলেন। ছোটবেলায় তিনি কবিতা লিখতেন,তাও তিনি বাদ দিয়েছিলেন। তিনি পিতার ব্যবসায় হাত লাগাতে লাগলেন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক বিষয়ে এবং হেগেলীয় দর্শনের পঠন-পাঠন শুরু করলেন। হেগেলীয় দর্শন অধ্যয়নে তিনি এর বিশেষ ত্রুটিসমূহ লক্ষ্য করতে লাগলেন এবং তার মনে এর বিপুল সমালোচনা জমা হতে লাগলো।

তিনি বিভিন্ন বস্তুবাদী দর্শন দ্বারা আকৃষ্ট হতে লাগলেন এবং তৎকালীন কিছু কিছু প্রচলিত সাম্যবাদী চিন্তার সাথে পরিচিত হতে থাকেন,তবে এ সম্পর্কে তার মনে সংশয় দেখা দেয়।

১৮৪২ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং এক বছর সেখানে চাকরি করেন। সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি সমকালীন বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক নীতি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।

সেনাবাহিনী থেকে ফেরার পরে ১৮৪২ সালের নভেম্বর মাসের এক কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে তিনি তার পিতার নির্দেশে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে এটা ছিল তার পিতার অধীনে স্রেফ কেরানীর চাকরিমাত্র। তিনি প্রায় দুই বছর ইংল্যান্ডে অতিবাহিত করেন।

বিশেষ রাজনৈতিক কারণে মার্কস যখন ইংল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের জন্য নির্বাসন নেন,তখন এঙ্গেলসও ইংল্যান্ড চলে আসেন। ব্যক্তিগত জীবনে এঙ্গেলস ছিলেন অত্যন্ত উদার এবং হাসিখুশি ধরনের মানুষ। জীবনে বড় হবার লোভ তার ছিল না। তিনি যা কিছুই করতেন তা কর্তব্য মনে করে বা ভালো লাগার তাগিদে করতেন। মার্কস-এর সহযোগিতা করার মানসিকতা থেকে তিনি দর্শন চর্চা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। মার্কস-এর মৃত্যুর পরেও ইংল্যান্ডে ছিলেন। তবে ১৮৯১ সালে তিনি ম্যানচেস্টার ছেড়ে লন্ডনে চলে আসেন এবং সেখানেই ১৮৯৫ সালের ৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

১৮৪৫ থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত সময়টা এঙ্গেলস ব্রাসেলস ও প্যারিসে কাটান এবং তার বৈজ্ঞানিক চর্চার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাসেলস ও প্যারিসের জার্মান শ্রমিকদের মধ্যে ব্যবহারিক কাজ মিলিয়ে নেন। এইখানে গুপ্ত জার্মান সমিতি কমিউনিস্ট লিগের সঙ্গে মার্কস ও এঙ্গেলসের যোগাযোগ হয়,এ সংঘ তাদের ওপর ভার দেয় তাদের রচিত সমাজতন্ত্রের মূলনীতি উপস্থিত করার জন্য। এভাবেই জন্ম নেয় ১৮৪৮ সালে ছাপা মার্কস ও এঙ্গেলসের সুবিখ্যাত - কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার।

ছোট্ট এই পুস্তিকাখানি বহু বৃহৎ গ্রন্থের মূল্য ধরে সভ্য জগতের সমস্ত সংগঠিত ও সংগ্রামী প্রলেতারিয়েত আজও তার প্রেরণায় সজীব ও সচল। ১৮৪৮ সালের যে বিপ্লব প্রথমে ফ্রান্সে শুরু হয়ে পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বিস্তৃত হয় সেই সময় মার্কস এঙ্গেলস দেশে ফেরেন। সেখানে,প্রুশিয়ার রাইন অঞ্চলে তারা কলোন থেকে প্রকাশিত গণতান্ত্রিক "নতুন রাইনিশ গেজেটের" প্রধান হয়ে ওঠেন। রাইনিশ প্রুশিয়ার সমস্ত বিপ্লবী গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠেন দুই বন্ধু।

১৮৭০ সালে এঙ্গেলস লন্ডনে ফেরেন এবং ১৮৮৩ সালে মার্কসের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের কর্মভারাক্রান্ত মিলিত মানসিক জীবন চালিয়ে যান। এর ফল হল মার্কসের দিক থেকে পুঁজি আর এঙ্গেলসের দিক থেকে ছোট বড় একসারি বই। পুঁজিবাদী অর্থনীতির জটিল ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করেন মার্কস। আর অতি সহজ ভাষায় প্রায়ই বিতর্কমূলক রচনার সাধারণ বৈজ্ঞানিক সমস্যা এবং অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে ইতিহাসের বস্তুবাদি বোধ ও মার্কসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখেন এঙ্গেলস।

এঙ্গেলসের এইসব রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্যুরিঙের বিরুদ্ধে বিতর্কমূলক রচনা,পরিবার ব্যক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি (১৮৯৫), ল্যুদভিগ ফয়েরবাখ (১৮৯২), রাশিয়ার প্রসঙ্গে এঙ্গেলস (১৮৯৪)। মার্কস মারা যান, পুঁজি বিষয়ে তার বৃহৎ রচনা সম্পূর্ণরূপে গুছিয়ে যেতে পারেননি। খসড়া হিসেবে অবশ্যই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। বন্ধুর মৃত্যুর পর পুঁজির ২য় ও ৩য় খন্ড গুছিয়ে তোলা ও প্রকাশনের গুরুভার শ্রমে আত্মনিয়োগ করলেন তারই অকৃত্রিম বন্ধু শ্রমিক শ্রেণির মহান শিক্ষাগুরু ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস। সূত্র: উইকিপিডিয়া


 ‘জেনারেশন বেটা’

২০২৬ সালে জন্ম নেওয়া শিশুরাই হবে ‘জেনারেশন বেটা’ জেনারেশন আলফার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবিত নাম।

সমাজবিজ্ঞানীদের তৈরি আধুনিক বর্ণানুক্রমিক প্রজন্ম-ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় এই নামকরণ করা হয়েছে।

জেনারেশন বেটা শিশুরা বড় হবে এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং টেকসই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ভবিষ্যতকে গঠন করবে।

এই নামটি নতুন এক সামাজিক যুগের সূচনা এবং মানুষ–প্রযুক্তি সম্পর্কের ক্রমবিবর্তনকেও প্রতিফলিত করে।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সাথে সাথে, ২০২৬ সালে জন্ম নেওয়া শিশুরাই হবে এই নতুন, ভবিষ্যৎমুখী প্রজন্মের প্রথম সদস্য।


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানব মস্তিষ্ক নিজেকে নতুন ভাবে গড়ে তোলে।

বর্তমানে এক নতুন গবেষণা অনুযায়ী,আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের গঠন পরিবর্তনের সময় এই প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে আলাদা কয়েকটি পর্যায় বা 'ইপক' এ ঘটে। প্রতিটি পর্যায়ে মস্তিষ্ক নতুনভাবে চিন্তা করা ও তথ্য প্রক্রিয়া করার ধরন পুনর্গঠন করে।

গবেষকেরা প্রথমবারের মতো বলছেন যে গড় মানুষের মস্তিষ্কে এই পরিবর্তনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় চিহ্নিত করা গেছে: ৯ বছর, ৩২ বছর, ৬৬ বছর এবং ৮৩ বছর। এই সময়কালগুলোর প্রতিটি ইপক বা পর্যায়ে মস্তিষ্কের গঠন ও সংযোগ ব্যবস্থায় স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যায়।

এই সন্ধানগুলো দেখাতে পারে কেন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বা স্নায়ুবিক রোগগুলো মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট পুনর্গঠনের সময় বেশি দেখা দেয়।


যারা দিনে মাত্র ২–৫টি সিগারেট খান

যারা দিনে মাত্র ২–৫টি সিগারেট খান, তাদের হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে যায়। আর এখানেই শেষ না অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও প্রায় ৬০% বাড়ে।

মানে, “কম খাই, ক্ষতি কম” এই ধারণা পুরোই ভুল। কারণ সিগারেটের প্রতিটি টানই রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে। পরিমাণ কম হলেও ক্ষতির মেকানিজম একই থাকে শুধু একটু ধীরে কাজ করে।

তাই নিরাপদ মাত্রা বলে কিছু নেই। সিগারেট যত কম, ঝুঁকিও তত কম কিন্তু পুরো ঝুঁকি থেকে বাঁচার একটাই উপায়: একেবারে এভয়েড করা।

বুঝছেন তো? @নাঈমুল ইসলাম


ত্বক ফর্সা রাখার গোপন ৫টি ট্রিকস

১. হাইড্রেশন এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়া

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি খেলে ত্বকের কোষগুলো হাইড্রেট থাকে, লবণ জমা কমে এবং স্বাভাবিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি খাওয়া জরুরি।

২. সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার  ভালোভাবে  ওয়াশ করা, এতে মৃত কোষ অপসারণ হয় এবং ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হতে থাকে। 

কারণ ভিটামিন সি আমাদের ত্বক ফর্সা করতে সহায়তা করে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। যার কারণে ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে সহায়তা করে। কমলা, লেবু, স্ট্রবেরিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। এগুলো খেলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

৪. পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত টেনশন করলে কর্টিসল বাড়ে, যা কোলাজেন ভেঙে ত্বকের ক্ষতি করে এবং মেলানিন বৃদ্ধি করে ত্বক কালচে করে দেয়। তাই প্রতিদিন ৭-৮ঘণ্টা ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. সূর্যের আলোতে থাকা UV রশ্মি থেকে সুরক্ষা

আমাদের সূর্যের আলোতে আল্ট্রাভায়োলেট এ এবং আল্ট্রাভায়োলেট বি নামক ক্ষতিকর রশ্মি থাকে। সেগুলো ত্বকে পড়ে ত্বক কালচে বা সানবার্ন করতে পারে, কারণ এগুলো ত্বকের DNA ড্যামেজ করে এবং মেলানিন ত্বকের পিগমেন্টেশন বা কালচে রং বাড়ায়। এই সময়ে যদি সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা পাবেন।  


বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৩ ধরনের রঙে পাওয়া যায়, এবং প্রতিটির ব্যবহার ও গুরুত্ব আলাদা।

সহজভাবে দেখে নিন:–

 সবুজ পাসপোর্ট (Ordinary Passport)

সাধারণ জনগণের জন্য।

ভ্রমণ, চাকরি, পড়াশোনা, চিকিৎসা, ট্যুর—ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয়।

সবচেয়ে বেশি মানুষ এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে।

 নীল পাসপোর্ট (Official Passport)

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য।

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের সময় ব্যবহৃত হয়।

কিছু দেশে বিশেষ প্রটোকল বা সুবিধা পাওয়া যায়।

 লাল পাসপোর্ট (Diplomatic Passport)

মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রদূত, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য।

রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক কাজে বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহৃত হয়।

অনেক দেশে ভিসা ছাড় এবং বিশেষ সম্মান থাকে।

 কেন রঙ আলাদা রাখা হয়?

ইমিগ্রেশনে দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য।

ব্যবহার এবং গুরুত্ব অনুযায়ী আলাদা করে বোঝানোর জন্য।

সংক্ষেপে:

 সবুজ — সাধারণ মানুষ | ব্যক্তিগত ভ্রমণ

 নীল — সরকারি কর্মকর্তা | সরকারি কাজ

 লাল — কূটনীতিক ও ভিআইপি | রাষ্ট্রীয় ভ্রমণ

এখন দেখলেই বুঝতে পারবেন কোন পাসপোর্ট কোন কাজে ব্যবহার করা হয়!\



জানেন কি? আমাদের স্বাদের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে আমাদের নাক থেকে।


খাবারের স্বাদ নিয়ে আমরা প্রায়ই ভাবি যে এটা শুধুই জিহ্বার কাজ। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন! আপনার জিহ্বা আসলে মাত্র পাঁচটি মৌলিক স্বাদ চিনতে পারে মিষ্টি, নোনা, টক, তেতো এবং উমামি। জিহ্বায় থাকা প্রায় ১০,০০০ টেস্ট বাড শুধু এই সীমিত স্বাদগুলোই শনাক্ত করতে পারে।

কিন্তু যখন আপনি বিরিয়ানি, ইলিশ মাছ বা চকলেট খান, তখন যে জটিল এবং সমৃদ্ধ স্বাদ অনুভব করেন, তার বেশিরভাগটাই আসে আপনার নাক থেকে! খাবার চিবানোর সময় এর সুগন্ধ আপনার গলার পেছন দিয়ে নাকের ভেতরে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা বলেন "রেট্রোনেসাল অলফ্যাকশন"। নাকে থাকা প্রায় ৪০০টি ভিন্ন ধরনের গন্ধ রিসেপ্টর হাজারো রকম সুগন্ধ চিনতে পারে, এবং মস্তিষ্ক সেই গন্ধের সাথে জিহ্বার স্বাদকে মিলিয়ে সম্পূর্ণ স্বাদের অনুভূতি তৈরি করে।

এজন্যই সর্দি কাশি হলে খাবার একেবারে বিস্বাদ লাগে। নাক বন্ধ থাকলে আপনি শুধু জিহ্বার সেই পাঁচটি মৌলিক স্বাদই পান, কিন্তু খাবারের আসল চরিত্র হারিয়ে যায়। এমনকি পেঁয়াজ এবং আপেলও প্রায় একই রকম স্বাদ লাগবে যদি আপনি নাক বন্ধ করে চোখ বুজে খান! পরের বার খাওয়ার সময় একটু মনোযোগ দিয়ে দেখবেন নাক চেপে ধরে খেলে স্বাদ কেমন লাগে, আর নাক ছেড়ে দিলে কীভাবে পুরো স্বাদ ফিরে আসে। এই সাধারণ পরীক্ষাটি আপনাকে বুঝিয়ে দেবে যে স্বাদের জগতে নাকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ!



লাল ডিমের দাম নাকি বেশি? 

ডিমের রং নিয়ে এতদিন যে কনফিউশন সেটা আসলে পুরোই মিথ।

সাদা আর লাল ডিম দুটোর ভেতরের পুষ্টি একই রকম, যেন দু’জন যমজ ভাই শুধু জামার রং আলাদা।

ডিমের খোলার রং আসে শুধু মুরগির জাত থেকে। সাদা পালকের মুরগি সাদা ডিম দেয়, আর লালচে পালকের মুরগি লাল ডিম দেয় ব্যাপারটা এতটাই সিম্পল।

অনেকে ভাবে লাল ডিম বেশি হেলদি কিন্তু আসলে এটা দামের কারণে তৈরি ভুল ধারণা, স্বাস্থ্যের কারণে না। দুটোই সমান পুষ্টিকর, সমান উপকারী, আর স্বাদেও তেমন কোনো বড় ডিফারেন্স নেই। মাঝে মাঝে খাদ্যের কারণে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু সেটা রঙের জন্য নয়।

তাই বাজারে দাঁড়িয়ে রং দেখে চিন্তা না করে টাটকা, পরিষ্কার আর ভালো মানের ডিমটাই বাছাই করলেই হলো। @নাঈমুল ইসলাম


গান ও স্মৃতি: অনুভূতির অদৃশ্য সম্পর্ক!

আমাদের মনের সাথে গান অনেক গভীরভাবে যুক্ত। কখনো একই গান বারবার শোনার প্রবণতা থাকে, যার কারণ শুধুই “মজা” নয়, এটা আমাদের স্মৃতি এবং আবেগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

 স্মৃতির সঙ্গে গান

মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামক অংশ স্মৃতি সংরক্ষণ ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কোনো গান শুনলে এটি সেই সময়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যা আমরা ভুলতে চাই না বা আবার অনুভব করতে চাই।

 আবেগের কনফোর্ট জোন

গান আমাদের মনের জন্য নিরাপদ স্থান তৈরি করে। প্রিয় গান শোনার সময় আমরা আনন্দ, স্বস্তি বা কিছু সময়ের জন্য দুঃখ ভুলে যেতে পারি।

 স্ট্রেস হ্রাস ও ডোপামিন

প্রিয় গান শোনার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ এবং স্বস্তি বৃদ্ধি করে। তাই গান শোনার অভ্যাস অনেক সময় মানসিক চাপ কমানোর জন্যও কাজ করে।

 বারবার শোনার মানসিক কারণ

যে গান আমাদের বারবার শোনার ইচ্ছা করে, তা সাধারণত সেই মুহূর্ত বা অনুভূতির সঙ্গে জড়িত, যা আমরা মিস করি বা সংরক্ষণ করতে চাই।

সংক্ষেপে:

গান শুধু সুর নয়, এটি আমাদের স্মৃতি, আবেগ এবং অনুভূতির সঙ্গে জড়িত একটি জাদুকরী শক্তি।

একই গান শুনলেও আমরা প্রতিবার নতুন কিছু অনুভব করি, কারণ এটি আমাদের হারানো মুহূর্ত এবং গভীর আবেগকে ফিরিয়ে আনে।



পিপড়া বিদ্যা

পিপড়ার কোনো ফুসফুস নেই, এটাই সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়! মানুষের মতো তারা ফুসফুস ব্যবহার করে শ্বাস নেয় না। তার বদলে পিপড়া শ্বাস নেয় স্পিরাকল নামে ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে। প্রজাতি ভেদে এদের শরীরে ৯ বা ১০টি স্পিরাকল থাকে। এই ছিদ্রগুলো দিয়ে বাতাস সরাসরি শরীরের ভেতরে ঢোকে এবং বের হয়ে যায়।

তাই পিপড়াকে শ্বাস নিতে আলাদা কোনো অঙ্গের দরকার হয় না। তাদের ছোট আকার ও হালকা দেহ গঠন এমনভাবে তৈরি যে স্পিরাকলই তাদের জন্য যথেষ্ট।


সুদানের কথা। 

সুদান বিশ্বের এমন একটা দেশ যেখানে প্রতিবছর ৭০-৯০টন স্বর্ন উৎপন্ন হলেও বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

* Georank-এর মতে, সুদান GDP per capita দিক থেকে ১৭৮তম (মোট প্রায় ১৯৭ দেশে) অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে অনেক নিচে।

* Visual Capitalist-এর এক দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, ২০২৫-এ GDP per capita ভিত্তিক “পাগল দরিদ্র” দেশগুলোর তালিকায় সুদান ৭ নম্বরে ছিল।

* Money.it-এর একটি সাম্প্রতিক তালিকা বলছে, সুদান দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ৭ম স্থানে রয়েছে তাদের মাপদণ্ডে।

২০২৪-এ সুদানের সোনা উৎপাদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৬৪ টন ছিল। কিছু আন্দাজ মতে, উৎপাদন আরও বেশি হতে পারে  আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন প্রায় ৭০-৯০ টন প্রতি বছর। তবে সমস্যাটা হলো উৎপাদিত সোনার বড় অংশই অবৈধভাবে বা কালোপথে দেশ থেকে যাচ্ছে (smuggling)। কিছু রিপোর্ট বলছে ৫০-৮০% উৎপাদিত সোনা দেশের আয়গণনায় ধরা হয় না বা চোরাচালান হয়। সুদানের নিশ্চিত সোনা রিজার্ভ (confirm reserve) অনেকেই উল্লেখ করেছেন প্রায় ৫৩৩ টন ছিল।

সুদানে সোনার ভলিউম যেমন বড়, কিন্তু রাজ্য বা সাধারণ মানুষের হাতে তার পুরো লাভ প্রতিফলিত হয় না কারণ অনেক গভীর হলেও আমি সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

অনেক সোনা বিবেচনায় আসে না কারণ তা অবৈধভাবে দেশে থেকে চলে যায়। রিপোর্ট আছে যে নিয়মিতভাবে সোনা সীমান্ত পেরিয়ে পাশের দেশগুলোতে যায়, যা রাজ্যকে বড় রকম রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে।

সুদানে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অস্ত্রসঙ্ঘাত আছে। কিছু সোনা খনিটি সেনাবাহিনাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে  অর্থাৎ রাজ্য পুরোপুরি লাভ করতে পারছে না, কারণ যেসব গোষ্ঠি নিয়ন্ত্রণে, তারা নিজেদের জন্য সোনা ব্যবহার করছে বা বিক্রি করছে। সোনা এক ধরনের “যুদ্ধ তহবিল” হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে  অর্থাৎ রাজনৈতিক বা সামরিক গোষ্ঠীগুলো সোনা থেকে আয় করছে, কিন্তু তা সাধারণ জনগণের কল্যাণে প্রবাহিত হচ্ছে না।

স্বর্ণ খনির অনেক অংশ খুবই প্রথাগত (artisanal) খনিতে, যেখানে সরকার মানিটরিং খুব কম। রাজস্ব সংগ্রহে দুর্বলতা রয়েছে, এবং অনেক আইন সুষ্ঠুভাবে কার্যকর হচ্ছে না। সম্পদের “শ্রম বৃদ্ধি না” অর্থাৎ সোনা শুধু খোরা এবং বাইরে চলে যাচ্ছে, সেই ধরণের বিনিয়োগ বা ভিত্তি তৈরি করতে পারিনি যা সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে।

সুদানের অর্থনীতি খুব ভঙ্গুর যেখানকার যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি আছে, সেখানেই স্বর্ণের পুরো সম্ভাবনা সদ্ব্যবহার করা যায় না। রফতানার চ্যানেল নিয়েও সমস্যা: অনেক সোনা এমন জায়গা থেকে যায় যেখানে সরকার সব নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। “সংসার নীতি” (governance) কম থাকায়, স্বর্ণ উৎপাদন থেকেই যে আয় আসতে পারে, সেটি সম্প্রতি সাধারণ নাগরিকদের কল্যাণে Poorest অংশে পৌঁছাচ্ছে না।

অনেক ধনী প্রাকৃতিক সম্পদ-দেশে সম্পদের অভিশাপ দেখা যায় অর্থাৎ প্রচুর প্রাকৃতিক ধন থাকলেও রাজনীতি, শোষণ, দুঃশাসন ও দূরমার্কেটজাত কাজে অর্থনীতি এমনভাবে গড়ায় যে সাধারণ মানুষের জীবনে বড় কল্যাণ হয় না। সুদানও এই সমস্যার শিকার হতে পারে। সোনা-আধারিত অর্থনীতি খুব ভ্যারিয়েবল হতে পারে; যদি সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে সাধারণ জনগণকে প্রকৃত সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না।

সুদানে সোনা প্রচুর পাওয়া যায় গত বছরের উৎপাদন আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৪ টন, এবং গড় অনুমান ৭০-৯০ টন প্রতি বছরেও আছে। কিন্তু এই সোনার পুরো লাভ দেশে আসছে না কারণ বড় অংশ চোরাচালান হয়ে যাচ্ছে, রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না, এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণে রাজ্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি হচ্ছে না। ফল হিসেবে, যদিও সুদান একটি ধনী দেশ প্রাকৃতিক দিক থেকে, কিন্তু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তার সম্পদের পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাধা দিচ্ছে।@ Shabbir Hossain


পা থাকা সত্বেও ব্যাঙ না হেঁটে, লাফায় ! 

ব্যাঙের পা আছে ঠিকই, কিন্তু তবুও সে হাঁটতে চায় না লাফিয়ে লাফিয়েই চলতে ভালোবাসে। আর এর পেছনে আছে দারুণ এক বিবর্তনের গল্প। ব্যাঙের পূর্বপুরুষরা ছিল পানিতে বাস করা প্রাণী। সময়ের সাথে যখন তারা স্থলে আসতে শুরু করল, তাদের পিছনের পাগুলো ধীরে ধীরে আরও লম্বা, শক্তিশালী আর স্প্রিংয়ের মতো গঠনে রূপ নিল যাতে তারা সহজে শিকার ধরতে পারে এবং বিপদ এলে মুহূর্তেই দূরে সরে যেতে পারে।

ব্যাঙের সামনের পা ছোট আর পেছনের পা বড় এই ভারসাম্য তার লাফানোর ক্ষমতাকে আরও নিখুঁত করে তোলে। পিছনের পায়ের পেশিগুলো এতটা শক্ত যে একটু চাপ দিলেই ব্যাঙ অনেক দূর পর্যন্ত ছুটে যেতে পারে। হাঁটলে যেখানে ধীরে ধীরে অল্প দূরত্ব যাওয়া যেত, লাফানোর মাধ্যমে ব্যাঙ একই সময়ে অনেক দূর পার হয়ে ফেলে। তাই এর জন্য শক্তি কম খরচ হয়, বাঁচার সম্ভাবনাও বাড়ে।

মোট কথা, ব্যাঙের শরীর এমনভাবে ডিজাইন করা হালকা, নমনীয়, আর শক্তিশালী পিছনের পা-সহ যে হাঁটার চেয়ে লাফানোই তার জন্য বেশি দ্রুত, বেশি নিরাপদ এবং বেশি কার্যকর। তাই পা থাকা সত্ত্বেও ব্যাঙের দুনিয়া লাফাতে লাফাতেই চলে যায়।@নাঈমুল ইসলাম


আলাস্কার উটকিয়াগভিক শহরে পোলার নাইট  

​মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উত্তরের শহর আলাস্কার ব্যারো (বর্তমানে যার নাম উটকিয়াগভিক) এই বছরের মতো তাদের শেষ সূর্যোদয় দেখেছে এবং এর বার্ষিক পোলার নাইট (মেরু-রাত্রি)-এ প্রবেশ করেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস অনুসারে, সেখানে  নভেম্বর সূর্য অস্ত গিয়েছে এবং  প্রায় পঁয়ষট্টি দিন সূর্যোদয় হবে না।

​সূর্য দিগন্তের উপরে না উঠলেও উটকিয়াগভিক শহরটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকে না। এনওএএ  অনুসারে, বাসিন্দারা প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা ধরে সিভিল টোয়াইলাইট  অনুভব করেন।

​এই সময় সূর্য দিগন্তের ঠিক নিচে থাকে এবং ভোরের বা সন্ধ্যার মতো একটি হালকা নীল আলো সরবরাহ করে।

​এটি স্থানীয়দেরকে শীতকালের গভীরতম সময়েও কিছু প্রাকৃতিক আলো বজায় রাখতে সহায়তা করে।

​জানুয়ারির শেষের দিকে একবার সূর্য ফিরে এলে, দিনের আলো দ্রুত বাড়তে থাকবে। মে মাসের মধ্যে, উটকিয়াগভিক বিপরীত ঘটনা, অর্থাৎ মিডনাইট সান (মধ্যরাতের সূর্য)-এ প্রবেশ করবে, যখন সূর্য প্রায় নব্বই দিন ধরে একটানা দৃশ্যমান থাকবে। নাসা অনুসারে, দিনের আলোর এই চরম পরিবর্তনগুলি হল পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষীয় আনতির একটি প্রত্যক্ষ ফল, যা মেরু অঞ্চলে নাটকীয় ঋতুগত বৈসাদৃশ্য তৈরি করে।


  টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার করলে হেমোরয়েডস (পাইলস বা অর্শ) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাফোন ঘাঁটার কারণে আমরা টয়লেটে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ব্যয় করি সাধারণত ৫ মিনিটের বেশি

চাপ বৃদ্ধি  টয়লেট সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে মলদ্বারের (Rectal area) রক্তনালীগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এই ক্রমাগত চাপই রক্তনালীগুলোকে স্ফীত করে তোলে, যা পাইলস বা হেমোরয়েডস নামে পরিচিত।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টয়লেটে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের হেমোরয়েডস হওয়ার ঝুঁকি যারা ব্যবহার করেন না তাদের তুলনায় ৪৬% পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, টয়লেটে ৫ মিনিটের বেশি সময় ব্যয় করা উচিত নয়।

টয়লেটে বই, সংবাদপত্র বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।


পৃথিবীর মোট গভীরতা


আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তার মোট গভীরতা প্রায় ১২,৭৪২ কিলোমিটার! কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো-মানবজাতি এতদিনেও মাটির নিচে মাত্র ১২ কিলোমিটার পর্যন্তই পৌঁছাতে পেরেছে!

এই জায়গাটির নাম রাশিয়ার কোলা সুপার ডিপ বোরহোল - Kola Superdeep Borehole পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর গর্ত। যেটি  নরওয়ে সীমান্তের কাছে  অবস্থিত ।সেখানে তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল (প্রায় ১৮০° সেলসিয়াস) যে ড্রিল মেশিনগুলো পর্যন্ত গলে গিয়েছিল!

আর এটা ছিল শুধু পৃথিবীর ওপরের স্তর! নিচে আছে ম্যান্টল, যেখানে পাথর গলে গলে লাভার মতো তরল অবস্থায় রয়েছে। তার নিচে আউটার কোর - এক বিশাল সাগর, যা তৈরি লিকুইড লোহা ও নিকেল দিয়ে। আর একদম ভেতরে আছে ইনার কোর, যার তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস, সূর্যের পৃষ্ঠের মতোই ভয়ংকর গরম।

এর খনন ১৯৭০ সালে শুরু হয়  । এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবিস্কার  হয় যেমন

1. অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা

১২ কিমি গভীরে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৮০°C—এর বেশি গভীর খনন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

2. ২৫ কোটিরও বেশি বছরের পুরনো শিলা

কেউ তা আগে কখনো দেখেনি।

3. মাইক্রোফসিল (জীবাশ্ম) চিহ্ন

প্রায় ২ কিমি গভীরে ২৪টি প্রাচীন অণুজীবের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়।

(জীবন্ত নয়, কেবল জীবাশ্মের রাসায়নিক নিদর্শন)

4. গ্রানাইট-ব্যাসাল্ট রূপান্তর সম্পর্কে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়

বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, গভীরে গ্রানাইটের নিচে ব্যাসাল্ট পাওয়া যাবে—কিন্তু পাওয়া যায়নি।

এটি ভূতত্ত্বে বড় সংশোধন আনে। পরে ১৯৯২ সালে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও, পৃথিবীর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক জ্বলন্ত অগ্নি কুন্ড।


ক্যাঙারু কোর্ট মানে কী?

ক্যাঙারু কোর্ট বলতে বোঝায় এক ধরনের অবৈধ, পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায় বিচার প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়ম–কানুন মানা হয় না, আর বিচারও হয় প্রহসনের মতো।

সরলভাবে বললে, যে বিচার শুরু থেকেই অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে থাকে, যেখানে আসামির কথা শোনা হয় না, প্রমাণ লাগে না, আর সিদ্ধান্ত ঠিক করা থাকে আগেই, সেই ভুয়া বিচারকেই বলে ক্যাঙারু কোর্ট।

এটা আসল আদালত নয়; বরং নামমাত্র বিচার, যেখানে ন্যায়বিচারের লেশমাত্রও থাকে না।


জাপানের আকিতা ইনু জাতের কুকুর "হাচিকো"

তার মালিক প্রফেসর হিদেসাবুরো উয়েনো-র প্রতি অসীম ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার জন্য সারা বিশ্বে বিখ্যাত-

বলা হয়ে থাকে- আজও হাচিকো ও তার মালিকের এই গল্প পশুপ্রেমীদের চোখে আনে জল এবং হৃদয়কে করে কম্পিত।

তাদের এই গভীর ভালোবাসা বন্ধনকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডকুমেন্ট্রি এবং মুভিও।

প্রতিদিন হাচিকো তার প্রফেসর মালিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য  শিবুয়া স্টেশনে পৌঁছে দিত এবং বিকেলে আবার তাকে নিতে

যেত,এটাই ছিল তার প্রায় দুই বছরের নিত্যদিনের রুটিন।

কিন্তু একদিন মালিক হঠাৎ রক্তক্ষরণ / হৃদরোগে মারা যান—এবং আর কখনোই ফিরে আসেননি।

তবুও হাচিকো তার রুটিন মত প্রতিদিন আসতো সেই স্টেশনে তার মালিকের জন্য-

এভাবে ১-২ দিন, ১-২ সপ্তাহ, মাস, বছর পেরিয়ে গেলে কুকুরটি সম্পর্কে তার মালিকের প্রতি অসীম ভালবাসার গল্প ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। শুরু হয় বিভিন্ন নিউজ ও টিভি রিপোর্টারদের ভিড় এবং অনেকে তার জন্য ভালোবেসে খাবার এবং টাকার ফান্ডও তৈরি করে।

এভাবে একই জায়গায় প্রতিদিন রুটিন মত প্রায়  ১০ বছর ৯ মাস ধরে  সেই স্টেশনে মালিকের জন্য অপেক্ষা করে গেছে, বৃষ্টি-ঝড়, শীত-গরম যাই হোক না কেন।

শেষ পর্যন্ত ১৯৩৫ সালে হাচিকোও মারা যায় এবং তার মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এক অবিশ্বাস্য ধরনের শোকের ছায়া নেমে আসে শহরটিতে।

তার এই অবিচল ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার স্মরণে আজও শিবুয়া স্টেশনে হাচিকোর ব্রোঞ্জের মূর্তি রয়েছে।

এটা আমাদের শেখায় প্রাণী ও মানুষের প্রতি  অসীম ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার এক  অমূল্য উপস্থাপ।



নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস 

নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস নারীদের মধ্যে নানা ধরনের শারীরিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাই হিল দেহের স্বাভাবিক ভঙ্গি বদলে দেয় এবং পায়ের সামনের অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। ফলে পায়ের আঙুলে ব্যথা, গোড়ালি মচকানো, হাঁটু কোমরে টান, রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা এবং ক্যাফ মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ব্যবহারে হাঁটার ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে যায়।

প্রতিরোধ

• প্রতিদিন নয়, মাঝে মাঝে ও স্বল্প সময়ের জন্য হাই হিল ব্যবহার করুন

• ২ ইঞ্চির নিচু হিল বেছে নিন

• নরম কুশনযুক্ত জুতা ব্যবহার করুন

• দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাঝেমধ্যে পা বিশ্রাম দিন

• অতিরিক্ত উচ্চ হিল এড়িয়ে চলুন

সমাধান

• প্রতিদিন ৫–১০ মিনিট পা স্ট্রেচিং ও ক্যালফ এক্সারসাইজ করুন

• পায়ের আঙুলে বা গোড়ালিতে ব্যথা হলে বরফ সেক দিন

• প্রয়োজন হলে অর্থোপেডিক ইনসোল ব্যবহার করুন

• ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

বিশেষজ্ঞরা জানান, সচেতনতা এবং সঠিক জুতা নির্বাচন করলে হাই হিলের কারণে হওয়া বেশিরভাগ সমস্যাই এড়ানো সম্ভব।


অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল 


তিনি বিশ্বকে বদলে দেওয়ার জন্য টেলিফোন আবিষ্কার করেননি, আবিষ্কার করেছিলেন কারণ তিনি যে দুজন নারীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তারা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন না। অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল সারা জীবন নীরবতার মধ্যে দিয়ে শব্দকে ধাওয়া করে গেছেন। তাঁর মা তাকে শুনতে পেতেন না। তার স্ত্রী তাকে শুনতে পেতেন না। আর সেই অসহ্য কষ্ট যাকে ভালোবাসেন তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পাওয়া, এটাই তাঁকে মানব ইতিহাস বদলে দিতে চালিত করেছিল।

​স্কটল্যান্ডের এডিনবরা। ১৮০০-এর দশকের মাঝামাঝি। যুবক অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল এমন একটি বাড়িতে বড় হয়ে উঠেছিলেন যেখানে নীরবতার একটি বিশেষ স্থান দখল করেছিল। তাঁর মা এলাইজা গুরুতর বধির ছিলেন। তিনি একটি কানের টিউবের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন, একটি লম্বা স্পিকিং ট্রাম্পেট তাঁর কানের সাথে চেপে ধরা হতো যাতে তিনি শব্দের ক্ষীণ কম্পন ধরতে পারেন। যখন অ্যালেক্সান্ডার তাঁর সাথে কথা বলতেন, তখন সরাসরি টিউবটির মধ্যে কথা বলতেন এবং তিনি যখন বুঝতে পারতেন, তখন তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠত। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তিনি নীরবতার মধ্যে বাস করতেন।

​তাঁর বাবা, অ্যালেক্সান্ডার মেলভিল বেল ছিলেন একজন স্পিচ বিশেষজ্ঞ যিনি "দৃশ্যমান স্পিচ টেকনিক" আবিষ্কার করেছিলেন আর এটি একটি ধ্বনিগত লিখন পদ্ধতি যা মানুষের মুখ তৈরি করতে পারে এমন প্রতিটি শব্দকে উপস্থাপন করতে প্রতীক ব্যবহার করত। এটি বধির ব্যক্তিদের শুনতে না পারা শব্দগুলি তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক শারীরিক অবস্থানগুলি দেখিয়ে কথা বলতে সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। বেল পরিবার কেবল একটি পরিবার ছিল না, এটি ছিল শব্দ, বক্তৃতা এবং বধিরতার বাধা অতিক্রম করে যোগাযোগের চ্যালেঞ্জের একটি পরীক্ষাগার। যুবক অ্যালেক্সান্ডার আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন এই ভেবে যিনি শুনতে পান না, তাঁর কাছে আপনি কীভাবে পৌঁছাবেন।

​১৮৭০ সালে, এক ট্র্যাজেডি আঘাত হানে। বেলের দুই ভাই-ই যক্ষ্মায় মারা যান। তাঁর বাবা-মা, তাঁদের শেষ জীবিত পুত্রকে একই ভাগ্য থেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে, পরিবারকে স্কটল্যান্ড থেকে কানাডার অন্টারিওর ব্র্যান্টফোর্ডে স্থানান্তরিত করেন। অ্যালেক্সান্ডার তখন ২৩ বছর বয়সী, শোকে কাতর, একটি নতুন দেশে নতুন করে শুরু করছেন। তিনি ১৮৭১ সালে বোস্টনে চলে যান এবং তাঁর বাবার পদ্ধতি ব্যবহার করে বধির শিশুদের জন্য একটি স্কুল খোলেন। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। ছাত্ররা তাঁকে ভালোবাসত কারণ তিনি তাদের বিচ্ছিন্নতা সরাসরি বুঝতেন।

​এবং এরপরে তাঁর দেখা হয় মাবেল হাববার্ডের (Mabel Hubbard) সাথে।

​​মাবেল পাঁচ বছর বয়সে স্কারলেট জ্বরের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি আর কখনও শুনতে পাননি। কিন্তু তিনি ছিলেন মেধাবী, প্রাণবন্ত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি অসাধারণ দক্ষতার সাথে ঠোঁটে পড়তে শিখেছিলেন। তিনি কথা বলতে শিখেছিলেন, যদিও তিনি নিজের কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন না। তখন বয়স বিশ পেরোনো বেলকে তাঁকে পড়ানোর জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। পড়াতে গিয়ে তিনি মাবেলের প্রেমে পড়ে গেলেন।

​মাবেল ছিলেন গার্ডিনার গ্রিন হাববার্ডের মেয়ে, যিনি ছিলেন সেসময়ের একজন ধনী আইনজীবী। সম্পর্কটি অসম্ভব মনে হয়েছিল, যেখানে একজন দরিদ্র অভিবাসী শিক্ষক তাঁর ধনী ছাত্রীর প্রেমে পড়ছেন। কিন্তু মাবেল গ্রাহামবেলের মধ্যে কিছু দেখেছিলেন, যা ছিল তাঁর প্রবল সংকল্প, তাঁর দয়া ও তাঁর উজ্জ্বল মন। পরবর্তীতে তাদের বাগদান সম্পন্ন হলো। এবং বেল নীরবে একটি প্রতিশ্রুতি করলেন, আর সেটি হচ্ছে, যেকোনো উপায়ে, তিনি এমন একটি পথ খুঁজে বের করবেন যাতে সে তাঁকে শুনতে পায়।

​বেল কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন আবিষ্কারক, যিনি কিনা শব্দের যান্ত্রিকতা নিয়ে আচ্ছন্ন। দিনের বেলায়, তিনি বধির শিশুদের শেখাতেন। রাতে, তিনি তারযুক্ত সরঞ্জাম, ব্যাটারি এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কয়েলে ঘেরা বোস্টনের একটি সংকীর্ণ গবেষণাগারে কাজ করতেন।

​তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল একটি "হারমোনিক টেলিগ্রাফ" তৈরি করা, বা এমন একটি যন্ত্র বানানো যা একই তারের উপর বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে একাধিক টেলিগ্রাফ বার্তা একই সাথে পাঠাতে পারত।

​কিন্তু তিনি যখন কাজ করছিলেন, তখন আরও একটি মৌলিক চিন্তা তাঁকে আচ্ছন্ন করল, "যদি কম্পন বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে এবং বিদ্যুৎ যদি পুনরায় কম্পন তৈরি করতে পারে" তবে কি মানুষের কণ্ঠস্বর একটি তারের মধ্য দিয়ে যেতে পারে?  তিনি কি মাবেলের সাথে কথা বলতে পারবেন এবং সে তাঁকে শুনতে পারবে?

​তিনি আচ্ছন্নভাবে কাজ করে গেলেন। তাঁর সহকারী, টমাস ওয়াটসন, তাঁকে একের পর এক প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন।

​১০ মার্চ, ১৮৭৬। বোস্টনের এক্সিটার প্লেসে বেলের পরীক্ষাগার। বেল ছিলেন একটি ঘরে। ওয়াটসন ছিলেন অন্য ঘরে, হলরুমে, গ্রহণকারী যন্ত্রটি নিয়ে। বেল নিজের গায়ে ব্যাটারির অ্যাসিড ফেলে দিয়েছিলেন। হতাশা ও যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করে বললেন:

​"মি. ওয়াটসন, এখানে আসুন আমি আপনাকে দেখতে চাই।"

​ওয়াটসন এটি শুনতে পেলেন। কিন্তু বাতাসের মাধ্যমে নয়। তারের মাধ্যমে, বিদ্যুতের মাধ্যমে।

​বেল ১৮৭৬ সালের ৭ মার্চ টেলিফোন আবিষ্কারের জন্য তাঁর পেটেন্ট পান। সেই বিখ্যাত প্রথম কলের তিন দিন আগে। কিন্তু ঠিক যেদিন বেল তাঁর পেটেন্ট ফাইল করেন, একই দিনে ইলিষা গ্রে নামে আরেকজন আবিষ্কারক প্রায় একই রকম একটি যন্ত্রের জন্য একটি পেটেন্ট কেভিয়াট (আবেদন করার উদ্দেশ্যের বিজ্ঞপ্তি) ফাইল করেন।

​কে প্রথম এটি আবিষ্কার করেছিলেন?

​আইনগত মামলাগুলি অবিলম্বে শুরু হয়েছিল টেলিফোন পেটেন্ট নিয়ে ৬০০ টিরও বেশি আইনি চ্যালেঞ্জ, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি করে তোলে। কিছু ইতিহাসবিদ এখনও বিতর্ক করেন যে বেল বা গ্রে (বা ইতালীয় আবিষ্কারক আন্তোনিও মেউচি, যিনি এর আগে একটি "টেলিট্রোফোনো" তৈরি করেছিলেন) সত্যিই কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য কিনা।

​কিন্তু বেলের পেটেন্ট বহাল রইল। আর টেলিফোন সবকিছু বদলে দিল।

​বেল খ্যাতি চাননি। তিনি আসলে এটির জন্য অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি পরে বলেছিলেন, "টেলিফোন আমার জীবনে একটি অশান্তির কারণ হয়েছে।" তিনি তাঁর স্টাডি রুমে একটি টেলিফোন রাখতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বধির শিশুদের শিক্ষাদানে তাঁর কাজকে যেকোনো আবিষ্কারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।

​কিন্তু বিশ্ব ভিন্নমত পোষণ করেছিল। টেলিফোন বলতে গেলে দুনিয়াজুড়ে ব্যপক আলোচিত ও জনপ্রিয় হলো। কয়েক বছরের মধ্যে টেলিফোন নেটওয়ার্ক শহর জুড়ে, তারপর দেশ জুড়ে, তারপর মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।

​বেল কখনও আবিষ্কার করা থামাননি। তিনি বিমান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন টেট্রাহেড্রাল ঘুড়ি তৈরি করেছিলেন এবং প্রাথমিক বিমান চালনা নকশা নিয়ে কাজ করেছিলেন যা রাইট ভাইদের প্রভাবিত করেছিল। তিনি হাইড্রফুয়েল বোট ডিজাইন করেছিলেন যা গতির রেকর্ড ভেঙেছিল। তিনি অপটিক্যাল টেলিযোগাযোগ নিয়ে কাজ করেছিলেন, যা ফাইবার অপটিক্সের পূর্বসূরি। তিনি শ্রবণ সমস্যা শনাক্ত করার জন্য "অডিওমিটার" তৈরি করেছিলেন। এবং সবসময়, তিনি তাঁর প্রথম ভালোলাগার কাজের কাছে ফিরে আসতেন, যা ছিল বধিরদের যোগাযোগে সহায়তা করা।

​তিনি ১৮৭৭ সালে মাবেলকে বিয়ে করেন। তাঁদের চারটি সন্তান ছিল (দুটি শৈশবে মারা যায়)। ৪৫ বছর ধরে, তাঁরা নিবেদিত অংশীদার ছিলেন। মাবেলের প্রতিভা তাঁর সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্বামীর আবিষ্কারের সময় তাঁর বেশিরভাগ ব্যবসায়িক বিষয় পরিচালনা করতেন।

​২ আগস্ট, ১৯২২। কানাডার নোভা স্কটিয়ায় নিজের বাড়িতে বেল মারা যান। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। আর সেসময় মাবেল তাঁর পাশেই ছিলেন।

​৪ আগস্ট, তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন, এমন কিছু ঘটল যা আগে কখনও হয়নি: সন্ধ্যা ৬:২৫-এ, উত্তর আমেরিকার প্রতিটি টেলিফোন নীরব হয়ে গেল। এক মিনিটের জন্য, ১ কোটি ৩০ লাখ টেলিফোন অকেজো হয়ে গেল। কোনো কল নেই। কোনো রিং নেই। কোনো কণ্ঠস্বর নেই।

​যে বিশ্বকে বেল কথা বলতে শিখিয়েছিলেন, সেই বিশ্ব নীরবতায় থেমে গিয়েছিল, সেই মানুষটিকে সম্মান জানাতে যিনি তাঁর প্রিয়জনদের জন্য নীরবতা ভাঙার চেষ্টা করে পুরোটা জীবন কাটিয়েছিলেন।

​অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেছিলেন কারণ তাঁর মা তাঁকে শুনতে পেতেন না এবং তাঁর স্ত্রী তাঁকে শুনতে পেতেন না, এবং সেই অসহ্য দূরত্ব তাঁকে একটি পথ খুঁজে বের করতে চালিত করেছিল। তিনি বিশ্বকে সংযুক্ত করার জন্য তাঁর এই কর্মযজ্ঞ শুরু করেননি। তিনি তাঁর নিজের দুনিয়াকে সংযুক্ত করার জন্য শুরু করেছিলেন, আর তা হচ্ছে, তিনি যে দুজন নারীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তাঁদের জন্য।

​কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত হৃদয়ের কষ্ট সমাধান করতে গিয়ে, তিনি মানবতাকে বিপ্লবী কিছু দিলেন, যা ছিল অসম্ভব দূরত্বেও প্রিয়জনদের কণ্ঠস্বর শোনার ক্ষমতা।

​টেলিফোন উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেয়নি। এটি ভালোবাসা থেকে জন্ম নিয়েছিল। এবং সম্ভবত এই কারণেই এটি কাজ করেছিল।

​তিনি তাঁর সারা জীবন নীরবতার মধ্যে দিয়ে শব্দকেই তাড়া করেছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত, তিনি বিশ্বকে দূরে থেকেও কণ্ঠস্বর শুনার ক্ষমতা দিলেন।

​অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল। শিক্ষক। আবিষ্কারক। পুত্র। স্বামী। সেই মানুষ যিনি শূন্যতার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন।

"তাঁর এই আবিষ্কার ​খ্যাতির জন্য নয়। ভালোবাসার জন্য।"



মনকে বদলে দেওয়ার ৭টি শক্তিশালী মাইন্ড-হ্যাক!

১. বিরক্তিকে শক্তিতে পরিণত করুন

বোরিং মুহূর্তগুলোতে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই নতুন ধারণা তৈরি করে। যখনই বিরক্ত লাগবে, জেনে রাখুন এই সময়টাই সৃজনশীলতার দরজা খোলা থাকে।

২. কাউন্টডাউন শ্বাস

টেনশন জমে গেলে ধীরে ৫–৪–৩–২–১ গুনে গভীর নিঃশ্বাস নিন এবং ধীরে ছাড়ুন। এই ছোট প্রক্রিয়াটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মাথা পরিষ্কার করে।

৩. দুই মিনিটের নীরব বিরতি

মাত্র দুই মিনিট সম্পূর্ণ নীরব থাকুন।মস্তিষ্ক এই সুযোগে নিজেকে রিসেট করে, ফলে ফোকাস ও মনোযোগ দ্রুত ফিরে আসে।

৪. ভবিষ্যতের নিজেকে দিয়ে সিদ্ধান্ত নিন

কোনো সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে উঠলে নিজেকে প্রশ্ন করুন

ছয় মাস পরের আমি চাইবে আমি এখন কী করি?বর্তমান আবেগ পাশে সরে যায়, সিদ্ধান্ত হয় পরিপক্ব ও পরিষ্কার।

৫. ধীরগতিকে আত্মবিশ্বাসে পরিবর্তন করুন

নার্ভাস লাগলে কথা বলা ও শরীরের নড়াচড়া একটু ধীরে করুন। মস্তিষ্ক এই সংকেতকে আত্মবিশ্বাস হিসেবে ধরে নেয় এবং ভয়ের প্রভাব কমে যায়।

৬. শেষ ত্রিশ সেকেন্ডের চাপ

কোনো কাজ শুরু করতে কষ্ট হলে নিজেকে বলুন শুধু ত্রিশ সেকেন্ড কাজ করি।অদ্ভুতভাবে, এই ত্রিশ সেকেন্ডই আপনাকে পুরো কাজ শেষ করার পথে টেনে নিয়ে যায়।

৭. কাজের লিস্ট দিয়ে মানসিক চাপ কমান

যত কাজ মাথায় রাখবেন, মস্তিষ্ক ততই চাপ অনুভব করবে।

সব কাজ কাগজে লিখে ফেললে মস্তিষ্ক মনে করে আপনি নিয়ন্ত্রণে আছেন, ফলে চাপ দ্রুত কমে।



ভূমিকম্প কেন হয়?

পৃথিবী বাইর থেকে স্থির মনে হলেও ভেতরে সবসময় চলাচল চলছে। পৃথিবীর কঠিন বহিরাবরণকে বলা হয় লিথোস্ফিয়ার, আর এই স্তরটি কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে ভাগ করা। এই প্লেটগুলো সমুদ্রের ওপর ভাসমান বরফখণ্ডের মতো নয়; বরং তারা গরম ম্যাগমার ওপর ধীরে ধীরে সরে যায়। এই নড়াচড়াই ভূমিকম্পের মূল কারণ।

যখন দুটি প্লেট একে অপরকে ঠেলে আসে, চাপ সৃষ্টি হয়। কখনও তারা পাশাপাশি ঘষা খেতে খেতে আটকে থাকে, আর চাপ জমতে থাকে বছরের পর বছর। আবার কখনও একটি প্লেট অন্যটির নিচে ঢুকে যায়। চাপ একটি পর্যায়ে গিয়ে আর সহ্য করা যায় না, তখন প্লেট হঠাৎ সরে বা ভেঙে শক্তি মুক্ত হয়। এই শক্তি তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েই ভূমিকম্প তৈরি করে।

ভূমিকম্প শুরু হয় মাটির গভীরে একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে, যাকে হাইপোসেন্টার বা ফোকাস বলা হয়। এর ঠিক ওপরে ভূমির যে স্থানে কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়, সেটি হলো এপিসেন্টার। এপিসেন্টারের কাছে ধ্বংস বেশি হয়, কারণ সেখানে ভূকম্পন তরঙ্গের আঘাত সবচেয়ে শক্তিশালী থাকে।

বিশ্বের যেসব অঞ্চলে দুটি বা তার বেশি টেকটোনিক প্লেটের সীমান্ত রয়েছে, সেসব জায়গায় ভূমিকম্প বেশি দেখা যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের “রিং অব ফায়ার” অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকম্প বেল্ট। এখানে নিয়মিত ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে।

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কিছু কার্যক্রমও ক্ষুদ্র ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। বিশাল বাঁধে পানির চাপ, গভীর খনন, কিংবা অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ও গ্যাস উত্তোলনে মাটির স্তর দুর্বল হয়ে ছোট স্কেলের কম্পন দেখা দিতে পারে। যদিও বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের তুলনায় এগুলোর সংখ্যা খুব কম।

বিজ্ঞানীরা আজ প্লেটের নড়াচড়া, ফাটল রেখার ইতিহাস এবং সিসমিক সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারেন। ভূমিকম্পের সঠিক সময় পূর্বাভাস দেওয়া এখনও সম্ভব নয়, কিন্তু প্রস্তুতি বাড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানো এখন অনেকটাই সম্ভব হচ্ছে।

সূত্র: ১. USGS ২. National Geographic



সৌরশক্তিচালিত সমুদ্র শামুককে জানুন,  প্রথম প্রাণী যে নিজেই আলোকসংশ্লেষণ করতে পারে।


পূর্বাঞ্চলীয় এমেরাল্ড এলিসিয়ার  একটি অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে, এটি গাছের মতো বাঁচতে পারে। শৈবাল Vaucheria litorea খেয়ে শামুকটি শৈবালের ক্লোরোপ্লাস্ট নিজের কোষে সঞ্চয় করে। এর ফলে এটি উদ্ভিদের মতো সূর্যালোক ব্যবহার করে শক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়।

কিছু শামুক আবার এক বছর পর্যন্ত কিছু না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে, শুধুই সূর্যালোকের ওপর নির্ভর করে। এর উজ্জ্বল সবুজ রঙ কেবল ক্লোরোপ্লাস্ট থেকেই আসে না, বরং এটি প্রাকৃতিক ছদ্মবেশ হিসেবেও কাজ করে, যা তাকে সাগর শৈবালের মধ্যে মিশে থাকতে এবং শিকারিদের চোখ এড়াতে সাহায্য করে।

সর্বোচ্চ ২.৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বাড়তে পারে এই শামুক। এরা সাধারণত লবণাক্ত জলাভূমি ও জোয়ারভাটা অঞ্চলে thrives করে,  যেখানে প্রচুর সূর্যালোক পাওয়া যায়। গাছ ও প্রাণীর মাঝের সীমারেখা ঘুঁচিয়ে, Elysia chlorotica বিবর্তনের অন্যতম মেধাবী টিকে থাকার কৌশল প্রদর্শন করে, এবং বিজ্ঞানীদের আলোকসংশ্লেষণ ও শক্তি দক্ষতা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।


ঘুম

ঘুম হল বিপাককে প্রভাবিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে একই ধরনের খাবার খেলেও, যারা কম ঘুমায় তারা কম চর্বি ঝরায়।  একটি পরীক্ষায়, যে অংশগ্রহণকারীরা মাত্র ৫.৫ ঘন্টা ঘুমিয়েছিল, তারা ৮.৫ ঘন্টা ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম শরীরিক চর্বি হারায়।

​যখন ঘুম সীমিত হয়, তখন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রক হরমোনগুলি ভারসাম্যহীন হয়ে যায়, যার ফলে আপনার প্রকৃত প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ক্ষুধা অনুভূত হয়। একই সময়ে, কর্টিসল বেড়ে যায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা  কমে যায়, যা শরীরকে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করার পরিবর্তে আরও বেশি ক্যালোরি চর্বি হিসাবে সঞ্চয় করতে প্ররোচিত করে।

​এমনকি একটি নিখুঁত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলেও, অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার পুরো বিপাক প্রক্রিয়াকে চর্বি কমানো থেকে চর্বি জমার দিকে স্থানান্তরিত করতে পারে।



সাবকনশাস মাইন্ড: বিজ্ঞানের চোখে আপনার ভিতরে থাকা লুকানো শক্তি।

আমাদের মস্তিষ্কের মাত্র ৫% সচেতনভাবে কাজ করে, আর বাকি ৯৫% নিয়ন্ত্রণ করে সাবকনশাস মাইন্ড। এখানেই জমা থাকে আপনার অভ্যাস, ভয়, আত্মবিশ্বাস ও আচরণের মূল প্রোগ্রামিং।

নিউরোসায়েন্স বলে,  বারবার কোনো চিন্তা বা কাজ করলে মস্তিষ্ক নতুন সংযোগ তৈরি করে। তাই খারাপ অভ্যাস কাটানো বা ভালো অভ্যাস গড়া পুরোপুরি সম্ভব।

কীভাবে সাবকনশাস মাইন্ড রি-প্রোগ্রাম করা করা যায়,

আপনি প্রতিনিয়ত যে কাজ গুলো করছেন, সেগুলো ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে করুণ।  এ ছাড়া আপনি যখন কিছু কল্পনা করেন, তখন মস্তিষ্কে সেই একই নিউরাল সার্কিট সক্রিয় হয়, যেগুলো বাস্তবে কাজ করার সময় সক্রিয় হয়। তাই আপনি ভিজ্যুয়ালাইজেশন করতে পারেন। কাজ পুনরাবৃত্তি করতে পারেন। মেডিটেশন করতে পারেন।

আপনার সাবকনশাস মাইন্ড আপনার জীবনকে নীরবে চালিত করছে, আপনি প্রতিনিয়ত যা ভাবেন, বারবার করেন, আপনি সেটাই হয়ে যান।@রাকিব


ছেলে মেয়ে উভয়েরই চুল পড়ে কিন্তু ছেলেরাই কেন টাকের শিকার

পুরুষদের টাক পড়ার কারণ:

হরমোন: পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন এবং এর উপজাত ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT) এর প্রতি জেনেটিক সংবেদনশীলতা থাকে। এই হরমোনগুলো চুলের ফলিকলকে সঙ্কুচিত করে এবং চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।

বংশগত কারণ: টাক পড়ার একটি প্রধান কারণ হলো জিনগত বৈশিষ্ট্য। কিছু পুরুষের জিনগতভাবে এই হরমোনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেশি থাকে, যার ফলে তাদের টাক পড়ে

প্রকৃতির ভিন্নতা: প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা হলো পুরুষদের মধ্যে টাক পড়া, যা তাদের মাথায় পুরুষের হরমোন এবং Y ক্রোমোজোমের উপস্থিতির কারণে ঘটে।

মেয়েদের টাক না পড়ার কারণ :

হরমোনের প্রভাব: মেয়েদের মধ্যে DHT হরমোনের মাত্রা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম থাকে, ফলে তাদের চুল পড়ার প্রবণতাও কম।

ক্রোমোজোমের পার্থক্য: পুরুষদের শরীরে Y ক্রোমোজোম থাকে, যা টাক পড়ার সাথে সম্পর্কিত। মেয়েদের শরীরে Y ক্রোমোজোম থাকে না, তাই তাদের টাক পড়ার প্রবণতা কম হয়।

অন্যান্য কারণ: যদিও মেয়েদের টাক পড়ার প্রবণতা কম, তবে কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন বা অন্য কারণেও তাদের চুল পড়তে পারে। এই ধরনের টাক সাধারণত সার্বিকভাবে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো হয়, পুরুষদের মতো নির্দিষ্ট জায়গায় টাক পড়ে না।

সারসংক্ষেপ : ছেলেদের মাথায় টাক পড়ার প্রধান কারণ হলো জেনেটিক সংবেদনশীলতা এবং হরমোন, বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন ও ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT)। এই হরমোনগুলি পুরুষদের মধ্যে বেশি থাকে, যা চুলের ফলিকলকে সংকুচিত করে এবং চুল পাতলা হয়ে পড়ে যায়। অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে এই হরমোনের মাত্রা কম থাকার কারণে এবং তাদের শরীরে Y ক্রোমোজোম না থাকায় টাক পড়ার প্রবণতা অনেক কম থাকে।@ ফাহমিদা নির্জনা


মনোবিজ্ঞানের শক্তিশালী কিছু টিপস!

পিপল মিররিং এফেক্ট

ধীরে–ধীরে অন্যের ভঙ্গি, টোন বা ভাষা মিলিয়ে কথা বললে তারা আপনাকে স্বাভাবিকভাবেই বেশি পছন্দ করে। এটি স্বাভাবিকভাবে করুন অতিরিক্ত করলে কৃত্রিম লাগবে।

পজিটিভ সাইলেন্স টেকনিক

কেউ যখন বিরক্ত বা রেগে আছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিয়ে ৫–৭ সেকেন্ড চুপ থাকা অনেকসময় উত্তেজনা কমিয়ে দেয়।এতে আপনার নিয়ন্ত্রণ, পরিপক্বতা ও স্থিরতা বোঝা যায়।

ফুট-ইন-দ্য-ডোর টেকনিক

মানুষকে বড় অনুরোধের আগে ছোট অনুরোধ করলে তারা সহজেই রাজি হয়ে যায়। ব্যবহার করবেন নৈতিক কাজে কারও উপর চাপ তৈরি করতে নয়।

হিউম্যান নেচার ফ্যাক্ট

মানুষ নিজেদের সম্পর্কে কথা বলতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। কাউকে বুঝতে হলে প্রশ্ন করুন এবং শোনার দক্ষতা বাড়ান।

পাবলিক প্রাইভেট ডুয়ালিটি

মানুষ সাধারণত জনসমক্ষে নিজেদের ভালো দিক দেখাতে চেষ্টা করে। কারো প্রকৃত আচরণ বুঝতে চাইলে তার চাপের মুহূর্তে বা ব্যক্তিগতভাবে আচরণ দেখুন।

অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করবেন না

অনেক ব্যাখ্যা দিলে মানুষ আপনাকে কম আত্মবিশ্বাসী ভাবতে পারে। স্বল্প ও পরিষ্কার কথায় সিদ্ধান্ত বা অনুভূতি বলুন।

হাই-ভ্যালু বাউন্ডারি

যে মানুষ সবসময় হ্যাঁ বলে তাকে মানুষ গুরুত্ব কম দেয়।

নিজের সীমা (boundary) নির্ধারণ করুন না বলা একটি মনোবৈজ্ঞানিক শক্তি।

নীরবতা

আলোচনায় হঠাৎ নীরব হলে অনেকেই মনে করে আপনি গভীরভাবে ভাবছেন। এতে আলোচনায় আপনার গুরুত্ব বাড়ে।

ফার্স্ট ও লাস্ট ইমপ্রেশন এফেক্ট

মানুষ প্রায়ই কাউকে তার প্রথম ও শেষ আচরণ দিয়ে বিচার করে। প্রথম সাক্ষাৎ ও শেষ কথাবার্তায় একটু বাড়তি সচেতন থাকুন।

স্মাইলিং ব্রেইন-হ্যাক

হাসি মস্তিষ্ককে ফাঁকি দেয় হাসলে আপনার মস্তিষ্ক মনে করে আপনি সত্যিই ভালো আছেন। খারাপ লাগলেও হালকা হাসি মানসিক ভার কমাতে পারে।


আমেরিকা নিষিদ্ধ করেছে, আমরা খাচ্ছি প্রতিদিন!

আপনারা কি খেয়াল করেছেন, ইদানীং খুব কম বয়সেই মানুষের হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ হচ্ছে? এর পেছনে সবচেয়ে বড় খলনায়ক কিন্তু আমাদের প্রিয় কিছু খাবার! চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রান্স ফ্যাট'। সহজ কথায়, এটি এক ধরনের কৃত্রিম চর্বি, যা আপনার হার্টের রক্তনালীগুলোকে ধীরে ধীরে ব্লক করে দেয়। বিশ্বজুড়ে হৃদরোগের জন্য এই ট্রান্স ফ্যাটকেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়। অথচ প্রতিদিনের নাস্তায়, বিস্কুটে বা ভাজাপোড়ায় আমরা নিজের অজান্তেই এই বিষ শরীরে ঢোকাচ্ছি।

ট্রান্স ফ্যাট আসলে কী? ভালো নাকি খারাপ? ট্রান্স ফ্যাট মূলত দুই ধরনের হয়।

একটি হলো প্রাকৃতিক, যা গরু বা ছাগলের মতো ঘাস খাওয়া প্রাণীর মাংস বা দুধে প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। যেমন, আসল ঘি বা মাখন। এই প্রাকৃতিক ট্রান্স ফ্যাট খুব একটা ক্ষতিকর নয়, যদি না আপনি অতিরিক্ত খান।

কিন্তু আসল বিপদ হলো 'আর্টিফিসিয়াল' বা কৃত্রিম ট্রান্স ফ্যাট নিয়ে। কলকারখানায় যখন সস্তায় খাবার তৈরির জন্য তরল তেলকে হাইড্রোজেন গ্যাসের সাথে মিশিয়ে জমাট বেঁধে শক্ত করা হয়, তখন এই বিষাক্ত চর্বি তৈরি হয়। আমাদের দেশে যেটাকে আমরা 'ডালডা' বা 'বনস্পতি ঘি' নামে চিনি, সেটা আসলে এই ক্ষতিকর চর্বির দলা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আমাদের খাবারে বিষের উপস্থিতি বাংলাদেশে আমরা দোকান থেকে যেসব মুখরোচক খাবার কিনি, যেমন বিস্কুট, চিপস, চানাচুর কিংবা রাস্তার ধারের গরম সিঙ্গারা, পুরি, এগুলোর স্বাদ বাড়াতে এবং মচমচে করতে দেদারসে ডালডা বা ভেজিটেবল ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ গড়ে প্রায় ১১ শতাংশ! অথচ দিনে মাত্র ২ গ্রামের বেশি ট্রান্স ফ্যাট খেলেই আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যায়। আরও ভয়ের ব্যাপার হলো আমাদের সয়াবিন তেল নিয়ে।

সয়াবিন তেলে প্রচুর পরিমাণে 'লিনোলেনিক এসিড' থাকে। যখন রাস্তার ধারের দোকানদার একই তেলে বারবার পুরি বা পিয়াজু ভাজেন, তখন উচ্চ তাপে ওই তেল বিষাক্ত ট্রান্স ফ্যাটে পরিণত হয়। অর্থাৎ, আমরা টাকা দিয়ে যে 'টেস্টি' খাবার কিনছি, তা আসলে আমাদের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

এই কৃত্রিম চর্বি এতটাই ভয়ংকর যে, আমেরিকার খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) ২০১৮ সালেই এটি উৎপাদন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এরপর সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ডেনমার্ক, নরওয়েসহ বিশ্বের অনেক দেশ আইন করে খাবারে এর ব্যবহার বন্ধ করেছে।

কিন্তু আমাদের দেশে এখনো এর কোনো শক্ত নিয়ন্ত্রণ নেই। তথাকথিত 'ভেজিটেবল ঘি' বা 'বাটার' নামে যা বিক্রি হচ্ছে, তা আসলে এই কৃত্রিম চর্বিতে ঠাসা।

বাচার উপায় কী? সবচেয়ে বড় সমাধান হলো বাইরের প্যাকেটজাত এবং ভাজাপোড়া খাবার বর্জন করা। বিশেষ করে ডালডা দিয়ে তৈরি খাবার এবং রাস্তার ধারের পোড়া তেলের খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। সয়াবিন তেলের বদলে সরিষা বা অন্য স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহারের চেষ্টা করুন এবং রান্নায় তেল বারবার গরম করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, জিহ্বায় একটু স্বাদের চেয়ে হার্টের সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি।


যে শহরে ডলার আবিষ্কার হয়েছিলো

মার্কিন ডলার বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত মুদ্রা। এটি প্রাথমিক ডি ফ্যাক্টো গ্লোবাল টেন্ডার এবং বিশ্বের অনানুষ্ঠানিক স্বর্ণমান উভয়ই।

ফেডারেল রিজার্ভের মতে, বিশ্বের আর্থিক রিজার্ভের ৫৮% মার্কিন ডলারে সংরক্ষিত। যা ইউরো, ইয়েন এবং রেনমিনবির মোট বিদেশী ধারণের দ্বিগুণেরও বেশি।

একত্রিশটি দেশ হয় এটিকে তাদের সরকারী মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে অথবা এর নামে তাদের অর্থের নামকরণ করেছে। ৬৫টি দেশ তাদের মুদ্রার মূল্য এর সাথে সংযুক্ত করেছে।

তবুও, একটি জায়গা যেখানে ডলার গ্রহণ করা হয় না তা হল ছোট্ট চেক শহর জাচিমভ, যা বিদ্রূপাত্মক।কারণ ডলারের জন্মস্থান এই শহর।

বোহেমিয়ার ক্রুশনে হোরি পর্বতমালার জঙ্গলের গভীরে, যেখানে ডলারের উৎপত্তি হয়েছিল ৫০০ বছরেরও বেশি আগে ১৫২০ সালে।

স্থানীয়রা জানান, আমাদের পূর্বপুরুষরা ডলারের মুদ্রা তৈরি করেলেও অনেক দিন ধরে এর একটাও দেখিনি।

আমরা কেবল কোরুনা, ইউরো অথবা কখনও কখনও রাশিয়ান রুবেল গ্রহণ করি।

চেক-জার্মান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ২,৩০০ জন লোকের একটি নিদ্রাহীন শহর, যেখানে ডলারের জন্মস্থান হলেও বর্তমানে কোন ডলারের অস্তিত্ব নেই।

সম্ভবত আপনি এই জায়গাটির নাম কখনও শোনেননি। আপনি সম্ভবত জানেন না যে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ। এবং আপনি সম্ভবত কখনও বুঝতে পারেননি যে মুক্ত বিশ্বকে ক্ষমতায়িত মুদ্রার উৎপত্তি এই এক-রাস্তার শহর থেকে, যা এখনও কমিউনিজমের পতনের ফলে বিপর্যস্ত, যেখানে ব্যাংকের চেয়ে পতিতালয় বেশি - বলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকৃতপক্ষে, আপনি জাচিমভের প্রধান আকর্ষণের উপর দিয়ে হেঁটে, পাহাড়ের নিচে ভেঙে পড়া পরিত্যক্ত গথিক এবং রেনেসাঁ ভবনগুলির পাশ দিয়ে, উপত্যকার পাদদেশে অবস্থিত ডে স্পাগুলির বিলাসবহুল ক্লাস্টারের চারপাশে এবং ষোড়শ শতাব্দীর দুর্গ পর্যন্ত, এবং কখনও বুঝতে পারবেন না যে এটিই ডলারের জন্মস্থান। তবে এখানে বসবাসকারী বেশিরভাগ মানুষই জানে না!

অলাভজনক উন্নয়ন পর্বত অঞ্চল ক্রুশনে হোরি - এরজগেবার্গের পরিচালক মাইকেল আরবান বললেন, যখন তিনি আমাকে একটি অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে টাকশালের খিলানযুক্ত বেসমেন্টে নিয়ে গেলেন যেখানে মুদ্রাগুলি পরীক্ষা করা হয়েছিল।

"পৃথিবীর অন্য কোনও খনির শহরে জাচিমভের মতো এত বড় প্রভাব ছিল না, কিন্তু আমরা আমাদের ইতিহাস ভুলে গেছি।"@ বিবিসি



বিশ্বে আজ প্রায় ৮০০ কোটি মানুষ।

প্রত্যেক মানুষের আছে ১০টি করে আঙুল, অর্থাৎ মোট আঙুল  ৮০০০ কোটি (৮০ বিলিয়ন)

আর আশ্চর্য সত্য হচ্ছে,

এই ৮০০০ কোটি আঙুলের প্রতিটির ছাপ (Fingerprint) একেবারে আলাদা।

এমনকি যমজ (Identical Twins) সন্তানদেরও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক নয়।

বিজ্ঞান বলে,

ভ্রূণ অবস্থায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিবেশগত পার্থক্যের কারণে প্রতিটি আঙুলের রিজ (ridge) নকশা আলাদা হয়।

অর্থাৎ মানুষের শরীরে এমন একটি সাইনেচার রাখা হয়েছে, যা পৃথিবীতে আর কারও নেই, ছিল না, থাকবে না।

একজন মানুষের পরিচয়, অপরাধ প্রমাণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সব জায়গায় এই অদ্ভুত নকশাটাই আজ চূড়ান্ত প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক মুহূর্ত ভেবে দেখুন!

হাজার হাজার কোটি ছাপ, তবুও একটাও অন্যটির সঙ্গে মেলে না।

এটা কি কেবলই কাকতালীয়?

সত্যিই, শুধু এটুকু চিন্তা করলেই মহান স্রষ্টার অসীম মহত্ত্ব ও জ্ঞান বোঝা যায়।@রাকিব


ডিপ্রেশন কি?

ডিপ্রেশন হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষ দীর্ঘসময় ধরে গভীর দুঃখ, হতাশা এবং জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এটি শুধু সাধারণ মন খারাপ নয়, বরং এটি গুরুতর মানসিক অসুস্থতা, যা মানুষের চিন্তা, আচরণ, ঘুম, খাওয়া-দাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে।

সাধারণ লক্ষণ:

সবসময় দুঃখ বা একাকী অনুভব করা।

পছন্দের কোনো কাজে আগ্রহ না থাকা।

ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন।

মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা ও ক্লান্তি।

নিজেকে অযোগ্য মনে করা।

সম্ভাব্য কারণ:

স্ট্রেস, সম্পর্কের সমস্যা, প্রিয়জন হারানো, পারিবারিক বা আর্থিক চাপ, অতীতের কষ্ট, একাকীত্ব ইত্যাদি।

কীভাবে মোকাবিলা করা যায়:

অনুভূতি বিশ্বাসের মানুষকে বলুন।

নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিন।

নিজের পছন্দের কাজ করুন।

প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

শেষ কথা!

ডিপ্রেশন লজ্জার নয়। এটা চিকিৎসাযোগ্য।

যেমন শরীরের যত্ন প্রয়োজন, তেমন মনেরও যত্ন প্রয়োজন।

নিজেকে ভালোবাসুন, কারণ আপনি গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান। 



কাকেরা চেহারা ১৭ বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে, এমনকি বদলাও নিতে পারে!

কাকেরা মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে। শুধু মনে রাখা নয়, বিশেষত যারা তাদের ক্ষতি করেছে, সেই মুখগুলো তারা দীর্ঘদিন ভুলে না। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি কাক কোনো মুখ প্রায় ১৭ বছর পর্যন্ত মনে রাখতে পারে। পাখিদের মধ্যে এমন জ্ঞানীয় ক্ষমতা বিরল, এবং এটি কাকদের বুদ্ধিমত্তার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

এই স্মৃতিশক্তি কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক। যখন একটি কাক কোনো ক্ষতিকারক ব্যক্তিকে দেখে, সে তীব্র সতর্কধ্বনি করে। এই সংকেত শুনে আশেপাশের অন্য কাকরাও সেই ব্যক্তির প্রতি সতর্ক হয়ে ওঠে। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, যেসব তরুণ কাক আগে কখনো ওই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি হয়নি, তারাও অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখে শিখে নেয়। এভাবে একটি পুরো কলোনি একই ব্যক্তিকে চিনতে এবং তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে।

কাকদের বদলা নেওয়ার ক্ষমতাও চমকপ্রদ। তারা ক্ষতিকারক ব্যক্তিকে দেখলে উচ্চস্বরে চিৎকার করে এবং তার চারপাশে উড়তে থাকে। কখনো কখনো দলবদ্ধভাবে তাকে তাড়া করে বা মাথার উপর দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি তারা সেই ব্যক্তির গাড়ি বা সম্পত্তিতে বিষ্ঠা ফেলে, যা অনেকে পরিকল্পিত প্রতিশোধ বলে মনে করেন। এই আচরণকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ বলে অভিহিত করলেও, আসলে এটি তাদের বেঁচে থাকার কৌশল।

বিপজ্জনক কাউকে মনে রাখা এবং সেই তথ্য দলের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া কাকদের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই ক্ষমতা প্রমাণ করে যে কাকদের মধ্যে শুধু উন্নত স্মৃতিশক্তিই নয়, বরং একটি জটিল সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয়।



নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (NPD):

কখনও এমন মানুষদের দেখেছেন, যারা সব আলো নিজের দিকে টেনে নেয়?যেখানে একজন ব্যক্তির নিজের প্রতি অতিরিক্ত গৌরব, অহংকার, শ্রেষ্ঠত্ববোধ করে। তাদের সুখ মানে আপনি কেমনভাবে তাদের প্রশংসা করলেন। তাদের রাগ মানেই আপনি এক মুহূর্তে তাদের কেন্দ্র থেকে দূরে সরে গেলেন। তাদের চিন্তা ভাবনার মানসিক দুনিয়া সবসময় তার সময়, তার স্বপ্ন, তার ইচ্ছা, তার প্রায়োরিটি,তার ক্যারিয়ার, তার অবস্থান এইসবকে গিরেই চলে। সব কিছুতে সে নিজেকে সবার উপরে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাবে আর অন্যকে মানিপুলেট করার চেষ্টা করে পরোক্ষভাবে।

তারা ভালোবাসে, কিন্তু ভালোবাসার ভেতরেও নিজের আয়না খোঁজে। চোখে চোখ রাখলে বুঝবেন, সেখানে “আমি” ছাড়া আর কেউ নেই. আপনি একজন ক্ষুদ্র অণু মাত্র।

সম্পর্কের শুরু দিকের চিত্রটা কিন্তু এমন থাকেনা, শুরুতে থাকে যত্ন, প্রশংসা, মূল্য,কেয়ার, মিষ্টি কথায় মন ভোলানো কিন্তু সময়ের সাথে বদলে যায় দৃশ্যপট।

তাদের দেখলে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, ভেতরটাই থাকে ভয়ের পুরু দেয়াল। কেউ ভুল ধরলে তা অপমান আর সমালোচনা মনে হয়, যা সে মেনে নিতে পারেনা। অন্যদের সাফল্যে ঈর্ষা করে বা ভাবে অন্যরা তার প্রতি ঈর্ষান্বিত। সবসময় চাই প্রশংসা, মনোযোগ, গুরুত্ব। আর না পেলে ক্ষোভ, কোল্ড বিহ্যাভিউর আবার কখনও অপমানও করে বসেন।অন্যের অনুভূতি বা প্রয়োজন তাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। নিজের ভুলকে এমনভাবে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয় যে, অপরজনই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। দুঃখবোধ বা অপরাধবোধ এসব তাদের ব্যক্তিত্বে খুব কমই দেখা যায়। কারণ তাদের জগতে “আপনি” নয়, কেবলমাত্র “আমি”-ই টিকে থাকে। মানুষকে ব্যবহার করা হয় কেবল তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পূরণের সিঁড়ি হিসেবে।

এইসব নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিত্বের মানুষদের বৈশিষ্ট্য। তাদের কাছে সম্পর্ক মানে নিয়ন্ত্রণ, সম্মান মানে প্রশংসা, আর ভালোবাসা মানে একমুখী আয়না, যেখানে প্রতিফলিত হয় শুধু তাদেরই রূপ। ফলে দিনের শেষে তারা নিজেরাই একাকিত্ব অনুভব করে যদিও তা কখনও স্বীকার করতে চায় না। আর এই কারণেই তাদের সম্পর্কগুলো খুব বেশি স্থায়ীও হয় না।

গবেষণা বলছে, নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৭৫% ই পুরুষ, অর্থাৎ পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। @ উম্মে সালমা সায়মা



ডলফিন আসলে কতটা বুদ্ধিমান? জানলে অবাক হবেন।

ডলফিনকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং মানুষের পরে বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তাদের অবস্থান প্রায়শই শিম্পাঞ্জির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের বুদ্ধিমত্তা কেবল খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা জটিল সামাজিক আচরণ, উন্নত যোগাযোগ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত।

চলুন দেখে নিই ডলফিন আসলে কতটা বুদ্ধিমান :

১. স্নায়ুগত প্রমাণ (Neurological Evidence)

ডলফিনের বুদ্ধিমত্তা বুঝতে গেলে সবার আগে তাদের মস্তিষ্কের দিকে তাকাতে হয়।

বিশাল ও জটিল মস্তিষ্ক: ডলফিনের মস্তিষ্ক অন্যান্য অনেক প্রাণীর (এমনকি মানুষের পূর্বপুরুষ হোমো হাবিলিস-এর) তুলনায় বড় এবং জটিল। বিশেষ করে বোটলনোজ ডলফিনের মস্তিষ্কের ওজন প্রায় ১৬০০ গ্রাম।

সেরেব্রাল কর্টেক্স (Cerebral Cortex): মানুষের মস্তিষ্কের মতো ডলফিনের মস্তিষ্কের বহিরাবরণটিও (যা উচ্চতর জ্ঞানীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে) ভাঁজযুক্ত (Gyrified)। এই ভাঁজ মস্তিষ্কের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে দেয়, যা জটিল চিন্তাভাবনা এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা নির্দেশ করে।

স্পিন্ডল নিউরন (Spindle Neurons): এই বিশেষায়িত কোষগুলি মানুষ, গ্রেট এপস, হাতি এবং ডলফিনের মতো উচ্চ সামাজিক প্রাণীর মস্তিষ্কে পাওয়া যায়। এরা আবেগ, সামাজিক আচরণ, বিচার, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সহানুভূতি এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি-র সঙ্গে যুক্ত।

এনসেফালাইজেশন কোশেন্ট (EQ): এটি হলো শরীরের আকারের সাথে মস্তিষ্কের আকারের অনুপাত। মানুষের EQ প্রায় ৭.৪, যেখানে বোটলনোজ ডলফিনের EQ প্রায় ৫.৩, যা মানুষ ছাড়া অন্য যেকোনো প্রাণীর তুলনায় অনেক বেশি।

২. উন্নত যোগাযোগ এবং ভাষা (Advanced Communication)

ডলফিনরা কেবল শব্দ করে না, বরং তাদের মধ্যে এক প্রকার জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

স্বতন্ত্র শিস (Signature Whistle): প্রতিটি ডলফিনের একটি নিজস্ব, স্বতন্ত্র শিস থাকে, যা ঠিক মানুষের নামের মতো কাজ করে। তারা একে অপরকে এই শিসের মাধ্যমে সম্বোধন করে।

দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি: বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে ডলফিনরা তাদের পুরোনো সঙ্গীদের শিস ২০ বছর পরেও মনে রাখতে পারে, যা অ-মানব প্রাণীদের মধ্যে রেকর্ড করা দীর্ঘতম সামাজিক স্মৃতি।

সাংকেতিক ভাষা বোঝা: গবেষণায় দেখা গেছে, ডলফিনরা মানুষের তৈরি প্রতীক বা সাংকেতিক ভাষা বুঝতে পারে এবং কেবল শব্দ নয়, বরং বাক্য গঠনের বিন্যাস (Syntax)-ও বোঝে। যেমন, তারা বোঝে যে 'হুপটিকে বলের কাছে নিয়ে যাও' এবং 'বলটিকে হুপের কাছে নিয়ে যাও' দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন নির্দেশ।

ইকোলোকেশনের মাধ্যমে বিশ্ব উপলব্ধি: তারা উন্নত ইকোলোকেশনের মাধ্যমে নিজেদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অবিশ্বাস্য বিস্তারিত তথ্য জানতে পারে।

৩. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বুদ্ধিমত্তা (Social and Cultural Intelligence)

ডলফিনরা অত্যন্ত জটিল সমাজ তৈরি করে, যা উন্নত বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।

স্ব-সচেতনতা (Self-awareness): ডলফিনরা আয়না পরীক্ষায় (Mirror Test) সহজেই উত্তীর্ণ হয়। এই ক্ষমতা (আয়নায় নিজেদের প্রতিবিম্ব চিনে নেওয়া) ইঙ্গিত করে যে তাদের মধ্যে স্ব-সচেতনতা এবং বিমূর্ত চিন্তাভাবনা (Abstract Thinking) রয়েছে।

সহযোগিতামূলক শিকার: তারা দলবদ্ধভাবে (Cooperative Feeding) শিকার করে, এমনকি কখনও কখনও তারা জেলেদের সাথেও সহযোগিতা করে মাছ ধরার জন্য।

সংস্কৃতি এবং শিক্ষা: তারা নতুন কৌশল (যেমন: কাদামাটির জাল তৈরি করা) শেখে এবং এই নতুন দক্ষতাগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিখিয়ে দেয়। এই সামাজিক শিক্ষাকে এক ধরনের জলজ সংস্কৃতি (Aquatic Culture) বলা হয়।

সহানুভূতি ও পরার্থপরতা (Empathy and Altruism): বিপন্ন মানুষকে বা অন্য আহত ডলফিনকে সাঁতার কেটে সাহায্য করার বহু ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যা তাদের উচ্চ মাত্রার সহানুভূতি প্রকাশ করে।

৪. হাতিয়ারের ব্যবহার এবং সৃজনশীলতা (Tool Use and Creativity)

ডলফিনরা কেবল প্রতিক্রিয়া দেখায় না, বরং সৃজনশীলভাবে পরিবেশকে ব্যবহার করে।

হাতিয়ার ব্যবহার: অস্ট্রেলিয়ার কিছু ডলফিন শিকারের সময় তাদের রোস্ট্রামের (ঠোঁটের মতো অংশ) সুরক্ষার জন্য সামুদ্রিক স্পঞ্জ ব্যবহার করে। এটি অ-মানব প্রাণীদের মধ্যে হাতিয়ার ব্যবহারের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ।

খেলোয়াড়ি মনোভাব: তারা নিছক বেঁচে থাকার তাগিদে নয়, বরং আনন্দের জন্য জলজ বুদ্বুদের রিং তৈরি করে বা সামুদ্রিক শৈবাল নিয়ে খেলা করে, যা তাদের উন্নত জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং অবসর যাপনের প্রমাণ।

এই সবগুলি তথ্যই প্রমাণ করে যে ডলফিন আসলে কতটা বুদ্ধিমান। অনেক গবেষক তাদের বুদ্ধিমত্তা ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুর সমতুল্য বলে অনুমান করেন।


মাকড়সা কেন নিজের জাল খেয়ে ফেলে?

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাকড়সা কখনোই তার পুরোনো বা ছেঁড়া জাল ফেলে দেয় না। বরং খেয়ে ফেলে। এই আচরণ শুনতে যতই অদ্ভুত শোনাক, প্রকৃতি কিন্তু ঠিকই যুক্তিটা গুছিয়ে রেখেছে!

আমাদের আশেপাশেই বাস করে এক খুদে স্থপতি।

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার কি জানেন?

নিজের বানানো এই বাসা সে আবার খেয়েও ফেলে!

এই ক্ষুদ্র অথচ অদ্ভুতুড়ে স্থপতিটি হলো মাকড়সা। নিজের তৈরি করা সূক্ষ্ম, নিখুঁত ও জটিল নকশার জাল, তাদের কেবল থাকার জায়গাই নয়, এটাকে তারা শিকারের ফাঁদ হিসেবেও ব্যবহার করে।

ফলে এগুলো একই সঙ্গে তাদের আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং জীবিকা। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাকড়সা কখনোই তার পুরোনো বা ছেঁড়া জাল ফেলে দেয় না। বরং খেয়ে ফেলে। এই আচরণ শুনতে যতই অদ্ভুত শোনাক, প্রকৃতি কিন্তু ঠিকই যুক্তিটা গুছিয়ে রেখেছে!

জাল, অথচ মূল্যবান প্রোটিন!

জাল বোনা যতই সহজ মনে হোক, এর পিছনে থাকে প্রচুর পরিশ্রম আর শক্তির খরচ। মাকড়সার সিল্ক গ্রন্থি বিশেষ ধরনের প্রোটিন তৈরি করে। যেগুলো শক্ত, স্থায়ী এবং অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক সুতায় রূপ নেয়। একটি পূর্ণাঙ্গ জাল বানাতে লাগে সময়, ধৈর্য আর বিপুল পরিমাণ শক্তি।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে ওই জাল ধুলোয় মলিন হয়ে যায়, আঠালো শক্তি কমে যায়, বাতাসে দুলতে দুলতে ছিঁড়ে যায়। তখন তা আর শিকার ধরতে পারে না। আর ঠিক তখনই মাকড়সা মহার্ঘ সেই কাজটি করে- খেয়ে ফেলে নিজের পুরোনো জাল।

কারণ ওই জালে যে আছে তার জন্য মূল্যবান প্রোটিন। নিজেই নিজের জাল খেয়ে সেই প্রোটিন পুনরুদ্ধার করে মাকড়সা। আর এভাবেই নতুন সুতা তৈরির প্রয়োজনীয় রসদ সে সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার করে।

শক্তি সঞ্চয়ের কৌশল

আসলে মাকড়সার এই জাল অনেক শক্তি খরচের কাজ। নতুন সিল্ক উৎপাদনের জন্য খাবারের পুষ্টি ভেঙে বিশেষ ধরনের প্রোটিন তৈরি করতে হয়। যে পরিবেশে খাদ্য কম পাওয়া যায়, যেমন বনভূমি, মরুভূমি বা কীটপতঙ্গের সংখ্যা কম এমন এলাকায় মাকড়সার জাল তৈরি আরও বেশি কষ্টসাধ্য হয়। তাই পুরোনো জাল খেয়ে শক্তি সাশ্রয় করা একটি বুদ্ধিমান কৌশল। এতে একদিকে নতুন প্রোটিন তৈরির চাপ কমে, অন্যদিকে শরীরের শক্তি অযথা অপচয় হয় না। খাদ্য সংকটের সময় এটাই তাদের বাঁচিয়ে রাখে।

নতুন জাল শিকার ধরতে কার্যকর।

পুরোনো জাল দেখতে যতই শক্ত মনে হোক, সময়ের সঙ্গে তার কার্যকারিতা দ্রুত কমে যায়। আঠালো অংশ নষ্ট হয়ে গেলে পোকামাকড় আর আটকে থাকে না। ফলে শিকার ধরার সম্ভাবনা থাকে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এ অবস্থায় মাকড়সা পুরোনো জাল খেয়ে নতুন, মজবুত, আঠালো জাল বানায়। যেগুলো আবারও কার্যকর ফাঁদে পরিণত হয়। এর ফলে শিকার ধরা সহজ হয়, বেঁচে থাকা নিশ্চিত হয় এবং পরিবেশ বদলালেও দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়।

প্রকৃতির টেকসই খেয়াল!

মাকড়সার এই আচরণ শুধু বেঁচে থাকার কৌশল নয়। এটি প্রকৃতির টেকসই জীবনের অনন্য উদাহরণ। মানুষ যেখানে প্রায় সবকিছুই ব্যবহার শেষে ফেলে দেয়, সেখানে একটি ছোট্ট প্রাণী আমাদের শেখায় কীভাবে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তি সাশ্রয় করা যায়। অপচয় না করে সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর এই ক্ষমতা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁচার শিক্ষা দেয়।

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার আশ্চর্য উদাহরণ

মাকড়সা নিজের জাল খেয়ে শুধু শক্তি ও পুষ্টিই ফেরত পায় না বরং নিশ্চিত করে যে তার শিকার ধরার ফাঁদ সবসময় কার্যকর। এই আচরণ আমাদের শেখায়- একটা ক্ষুদ্রতম প্রাণিও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলে। অথচ মানুষের ঢের বেশি মেধা আর বুদ্ধি থাকার পরও, তারা প্রবল উৎসাহ মিয়ে পরিবেশ ধ্বংস করে চলেছে। মাকড়সার টিকে থাকার এই নীরব সংগ্রাম প্রকৃতিতে লুকিয়ে থাকা টেকসই জীবনধারার এক সুন্দর প্রতিফলন।

নিজের জাল নিজেরই খেয়ে ফেলা!

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, আসলে এটিই প্রকৃতির এক অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল। এতে মাকড়সা পায় পুষ্টি, শক্তি, নতুন জাল তৈরি করার ক্ষমতা এবং শিকার ধরার উদ্যম এক্ষেত্রে আমাদের প্রতি প্রকৃতির বার্তা হলো- অপচয় কমাও, পুনর্ব্যবহার করো, টিকে থাকো।


রিটায়ার্ড হাসবেন্ড সিনড্রোম:

এটা এমন একটি অবস্থা যখন স্বামী চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর স্ত্রীর মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ বা হতাশা দেখা দেয়।

জাপানে এটি বেশি আলোচিত হয়, কারণ সেখানে স্বামীরা দীর্ঘদিন অফিসকেন্দ্রিক জীবন কাটান আর স্ত্রীরা গৃহকেন্দ্রিক ভূমিকা পালন করেন।

কেন জাপানে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়?

“Salaryman culture”, জাপানি কর্মজীবনে পুরুষরা—দিনে ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করেন যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের জন্য ওভার টাইম পান না। আবার অফিস শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটাতে হয় তাই বাড়িতে খুব কম সময়ের জন্য তাদের উপস্থিতি থাকে। ফলে স্ত্রীরা দশকের পর দশক নিজের মতো করে সংসার চালান ও দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী সময় কাটান।

অবসরের পর হঠাৎ বাসায় ২৪/৭ স্বামীর উপস্থিত থাকেন আর স্ত্রীর কাজের পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করেন।

“এটা কেন এমন?”, “ওটা কেন করছ?”—এই ধরনের মন্তব্য চলতে থাকে। এতে স্ত্রীর স্বাধীনতার জায়গা সংকুচিত হয়।

ফলে স্বামীর যে পরিচয় ছিল কর্মজীবী, অর্থ সরবরাহকারি আর বড় বিষয়ে সিদ্ধান্তদাতা অবসরের পর সেই পরিচয় ভেঙে যায়।

অনেক স্বামী কর্মহীন হয়ে সময় কাটাতে স্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। স্ত্রী একদিকে সার্বক্ষণিক যত্নদাতা, অন্যদিকে মানসিক চাপ বহনকারী হয়ে ওঠেন। এতে স্ত্রীর মানসিক ও শারীরিক উপসর্গ দেখা যেতে পারে। যেমন বিরক্তি ও রাগ, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে অনীহা, কখনো বিষণ্নতা।

জাপানে অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীরা বলে, “স্বামী অবসর নেবার পর আমার শ্বাস নিতেই কষ্ট হয়।”

মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা:

স্ত্রীরা দীর্ঘদিন সংসারের “ম্যানেজার” ছিলেন।

হঠাৎ সেই নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় মানসিক চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন স্বামীর সাথে আবেগগত দূরত্ব থাকায় হঠাৎ শারীরিক নৈকট্য আরামদায়ক নয় বরং চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই সিনড্রোম দেখায়- কর্মজীবন বনাম পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যহীনতা, নারীর অদৃশ্য শ্রমের (unpaid domestic labor) চাপ। বিষয়টি আসলে সমাজব্যবস্থার ফল, স্বামী বা স্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়।

সমাধান বা মোকাবিলার পথ হল অবসরের আগে দম্পতির মানসিক প্রস্তুতি,স্বামীর নিজস্ব শখ ও সামাজিক জীবন গড়ে তোলা। রিটায়ার্ড হাসবেন্ড সিনড্রোম—নারীবিদ্বেষী ধারণা নয়

“স্ত্রী খারাপ” বলার গল্প নয়। এটা দীর্ঘদিনের সামাজিক কাঠামো ও অসম ভূমিকার ফল।

বাংলাদেশে কেন বিষয়টি কম প্রকাশ পায়?

১. সামাজিক লজ্জা ও নীরবতা: স্ত্রীদের বিরক্তি “অকৃতজ্ঞতা” হিসেবে দেখা হয়, “স্বামীর যত্ন করা কর্তব্য”—এই ধারণা প্রবল। তাই অনেক নারী নিজের কষ্ট প্রকাশ করেন না।

২. যৌথ পরিবার ব্যবস্থা:

সন্তান, নাতি–নাতনি, আত্মীয়ের উপস্থিতি

দায়িত্ব ও মনোযোগ ভাগ হয়ে যায় এতে সমস্যা কিছুটা চাপা পড়ে।

৩. ধর্মীয় ও নৈতিক বয়ান:

ধৈর্য, ত্যাগ, সহনশীলতার শিক্ষা পারিবারিক সমস্যাকে আধ্যাত্মিকভাবে ব্যাখ্যা করা। মানসিক সমস্যাকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয় না।

বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্তদের স্ত্রীরা সাধারণত বলেন,“উনি সারাক্ষণ ঝামেলা করেন”, "অবসরের পর মানুষটা বদলে গেছে”, “ঘরে থাকলে শান্তি নেই”

“সব কাজে নাক গলান”।

(জাপানে স্যালারি মেন হলো এমন সব অফিস কর্মচারী যারা কোনো কোম্পানিতে মাসিক বেতনে চাকরি করেন, স্যুট-টাই পরেন, সাধারণত ওভারটাইম ছাড়াই অফিসে অতিরিক্ত কর্ম ঘন্টা কাজ করেন এবং চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর অনুগত্য প্রদর্শন করেন।)


সম্রাট অশোক ও কলিঙ্গ যুদ্ধ


সম্রাট অশোকের উত্থান ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের শক্তিশালী শাসক হিসেবে, যিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে যুদ্ধ ত্যাগ করে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ' ধম্ম' নীতি প্রচারে মনোনিবেশ করেন, যার ফলে তাঁর সাম্রাজ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তাঁর পতনের কারণ মূলত তাঁর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের দুর্বল উত্তরাধিকারী, কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অভাব এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রবণতা, যা কয়েক দশকের মধ্যে মৌর্য সাম্রাজ্যকে ভেঙে দেয়।

উত্থান (Rise)

বংশ পরিচয়: অশোক ছিলেন মৌর্য সম্রাট বিন্দুসারের পুত্র এবং চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র, যিনি উত্তরাধিকার যুদ্ধে জয়লাভ করে সিংহাসনে বসেন।

প্রথম দিকের নৃশংসতা: সিংহাসনে আরোহণের প্রথম দিকে তিনি বেশ নিষ্ঠুর ছিলেন এবং সাম্রাজ্য বিস্তারে সচেষ্ট ছিলেন।

কলিঙ্গ যুদ্ধ ও পরিবর্তন: খ্রিস্টপূর্ব ২৬০ অব্দের দিকে কলিঙ্গ যুদ্ধ ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। এই যুদ্ধে অপরিসীম রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত হন।

ধম্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম: কলিঙ্গ যুদ্ধের পর তিনি যুদ্ধনীতি ত্যাগ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি অহিংসা, সহনশীলতা ও 'ধম্ম' (ধর্ম) প্রচারের নীতি গ্রহণ করেন, যা তাঁর শাসনের মূল ভিত্তি হয়।

সাম্রাজ্যের বিস্তার ও সুশাসন: তিনি বিশাল মৌর্য সাম্রাজ্যকে একত্রিত রাখেন, শিল্পকলা ও স্থাপত্যের বিকাশ ঘটান এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেন (যেমন - রাস্তা, কুয়ো, সরাইখানা নির্মাণ)।

পতন (Fall)

অশোকের মৃত্যুর পর: তাঁর মৃত্যুর পর (২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) তাঁর প্রতিষ্ঠিত নৈতিক সাম্রাজ্য দ্রুত দুর্বল হতে শুরু করে।

দুর্বল উত্তরাধিকারী: তাঁর উত্তরাধিকারীরা অশোকের মতো শক্তিশালী ও যোগ্য ছিলেন না; তাঁদের দুর্বল শাসন সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করে।

কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অভাব: সাম্রাজ্যের বিশালতা ও নৈতিক শাসনের কারণে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে।

প্রাদেশিক বিচ্ছিন্নতা: প্রাদেশিক শাসকরা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে শুরু করে এবং মৌর্য সাম্রাজ্য fragmented হয়ে যায়।

সাম্রাজ্যের অবক্ষয়: এই কারণগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটায়, যদিও তাঁর 'ধম্ম' আদর্শ টিকে ছিল।


মৃত্যুর পর মানবদেহের পচন: প্রকৃতির স্বাভাবিক পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া।

মৃত্যুর পর মানবদেহে যে পচন প্রক্রিয়া ঘটে, তা কোনো অস্বাভাবিক বা ভয়ের বিষয় নয়। এটি প্রকৃতির একেবারে স্বাভাবিক নিয়ম, যেখানে দেহ ধীরে ধীরে ভেঙে গিয়ে পরিবেশের সাথে মিশে যায়। পরিবেশ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার উপর নির্ভর করে এই প্রক্রিয়ার গতি কম বা বেশি হতে পারে। সাধারণভাবে এটি কয়েকটি ধাপে ঘটে।

মৃত্যুর পর প্রথম একদিনে শরীরের ভেতরের কোষগুলো নিজেরাই ভাঙতে শুরু করে। রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ায় কোষ অক্সিজেন পায় না, ফলে এনজাইমের মাধ্যমে কোষের ভেতরের উপাদান নষ্ট হয়। এই সময় বাইরে তেমন পরিবর্তন না দেখা গেলেও শরীর ঠান্ডা হয় এবং পেশি শক্ত হতে শুরু করে।

পরবর্তী কয়েক দিনে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে গ্যাস তৈরি করে। এতে শরীর ফুলে যায় এবং ত্বকের রঙ বদলাতে শুরু করে। এই সময়েই পচনের গন্ধ তৈরি হয়।

এরপরের এক থেকে তিন সপ্তাহে পচন সবচেয়ে বেশি হয়। ত্বক, পেশি ও ভেতরের অঙ্গ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পোকামাকড় ও জীবাণু একসাথে কাজ করে দেহকে ভেঙে ফেলে। অনেক সময় তরল বের হয় এবং শরীর ধীরে ধীরে শুকিয়ে আসে।

এক থেকে কয়েক মাস পর বেশিরভাগ নরম অংশ মাটিতে মিশে যায়। দেহ তখন প্রায় কঙ্কালের মতো হয়ে যায়। জীবাণুর কাজ কমে আসে, কারণ খাবার হিসেবে ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে যায়।

শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পরে শুধু হাড় অবশিষ্ট থাকে। সময়ের সাথে সাথে সেগুলিও মাটির সাথে মিশে যায়। এভাবেই দেহের উপাদান প্রকৃতিতে ফিরে গিয়ে নতুন জীবনের অংশ হয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, মৃত্যুর পর দেহের পচন হলো প্রকৃতির পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া। ফরেনসিক বিজ্ঞানে এই ধাপগুলো দেখে মৃত্যুর সময় সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। ঠান্ডা পরিবেশে এটি ধীরে চলে, আর গরমে দ্রুত ঘটে।@ ফেরদৌসী আক্তার তারিন