শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং যৌবন ও স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য হচ্ছে 'কোলাজেন'!
৩০ বছরের পর যখন শরীর স্বাভাবিকভাবে কম কোলাজেন তৈরি করতে শুরু করে, তখন খাদ্য থেকেই এটি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে যায়।
কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার ও ভিটামিনসমূহ শরীরে নতুন কোলাজেন তৈরি করে, ফলে ত্বক টানটান, গ্লো করা এবং যৌবনদীপ্ত থাকে।
কোলাজেন হলো দেহের স্ট্রাকচারাল প্রোটিন। এটা ত্বক, হাড়, পেশি, চুল, নখ, চোখ, রক্তনালী, জয়েন্ট এ সবকিছুর জন্য কাঠামো তৈরি করে।
সোজা কথায়, এটা দেহের প্রাকৃতিক আঠা, যা সবকিছুকে শক্তভাবে একসাথে ধরে রাখে।
শরীরের মোট প্রোটিনের প্রায় ৩০ শতাংশই কোলাজেন দ্বারা গঠিত!
শরীরে ২৮ প্রকারেরও বেশি কোলাজেন রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই হলো টাইপ-১, ২, ৩, ৫ এবং ১০ কোলাজেন।
শরীর নিজেই প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরি করে।
তবে ২০-৩০ বছর বয়সের পর থেকে দেহে কোলাজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে।
বিশেষ করে, নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ পরবর্তী সময় ও হরমোন পরিবর্তনের কারণে কোলাজেন পতন ত্বরান্বিত হয়।
এই প্রক্রিয়াকে আরো বেশি তরান্বিত করে ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব, ধূমপান, মদ্যপান, চিনি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, রিফাইন্ড ফুড, জাংকফুড ইত্যাদি!
এর ফলাফল হিসাবে দেখা দেয়–
- ত্বকের বলিরেখা, শুষ্কতা, ঝুলে পড়া, ফাইন লাইন
- ঠোঁট, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, পড়ে যাওয়া
- হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া (osteoporosis), জয়েন্টে ব্যথা ও শক্ত ভাব
অনেকেই ভাবে, হাড় মানে শুধুই ক্যালসিয়াম। কিন্তু আসলে হাড়ের গঠন অনেকটা স্টিল ও কংক্রিটের মতো।
কোলাজেন হলো স্টিলের মতো, এটি হাড়ের ভেতরে ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যা হাড়কে নমনীয়তা ও কিছুটা ইলাস্টিসিটি দেয়।
আর,
ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য মিনারেল হলো কংক্রিটের মতো, এগুলো কোলাজেন ফ্রেমওয়ার্কের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরে দেয়, ফলে হাড় শক্ত ও টেকসই হয়।
যদি কোলাজেন না থাকে, তাহলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাবে, একটু চাপেই ভেঙে যাবে।
আর যদি ক্যালসিয়াম না থাকে, তাহলে হাড় নরম ও বাঁকানো হয়ে যাবে।
হাড়ে কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম দুটিই সমান জরুরি।
এ কারণেই হাড়ের জন্য শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না; প্রোটিন, ভিটামিন C, ভিটামিন D এবং কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবারও লাগবে।
বয়সের সঙ্গে কোলাজেন কমে যাওয়া স্বাভাবিক, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করলে এই প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব।
যেমন- পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ব্যায়াম।
ভিটামিন সি কোলাজেন সংশ্লেষণের একটি অপরিহার্য কো-ফ্যাক্টর।
কোলাজেন উৎপাদন অপ্টিমাইজ করতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের সাথে কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।
কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা–
- হাড়ের ঝোল (Bone Broth)
পশুপাখির হাড়, হাটু-গোড়ালির হাড় (পায়া)
মাছের মাথা, মাছের চামড়া, ছোট মাছ, হাঁস-মুরগির চামড়া ও পা
- অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (Organ Meats)
পশুপাখির লিভার (কলিজা), কিডনি, গিলা (হৃদপিণ্ড), মগজ (Brain)
- হোল প্রোটিন
ডিম, মাছ, মাংস, ডাল।
- পশুপাখির চামড়া কোলাজেনের ভাল উৎসগুলোর একটি। গরু ছাগলের চামড়া রান্না করে খাওয়া যায়। হাঁস-মুরগির চামড়াসহ মাংস খাওয়া যায়।
- মাছের মধ্যে কোলাজেন সবচেয়ে বেশি থাকে স্কিন, কাঁটা, মাথায় ও ছোট মাছে।
শুধু কোলাজেন খেলেই হবে না, শরীরে যাতে এটি উত্তমরূপে এবজর্ব হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
এর জন্য প্রয়োজন–
- ভিটামিন-সি
লেবু, কাচা মরিচ, আমলকী, টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি
- তামা, জিংক সমৃদ্ধ খাবার
বাদাম, তিল, যকৃত (লিভার), বীজ, ডাল, ছোলা, ডিম
- সালফার সমৃদ্ধ খাবার
পেঁয়াজ, রসুন, ডিম, বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি
- অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার
কালো চাল, লাল চাল, সবুজ শাক, হলুদ, গ্রিন টি, হার্বাল টি
সবচেয়ে উত্তম হলো ব্যালান্সড ডায়েট ফলো করা, যেখানে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল, বীজ এর সমন্বয় থাকে।
কোলাজেন বাড়ানোর জন্য এই খাবারগুলো খেলে যেমন ভালো, তেমনি চিনি, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটযুক্ত, রিফাইন্ড ফ্যাটযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এতে কোলাজেন তৈরি হওয়ার হার কমে যায় এবং শরীরে ইনফ্লামেশন হয়।
ভেতর ঠিক না রেখে বাইরে থেকে ক্রিম-লোশন মেখে কোনো লাভ নাই।
- দিনে অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন। কোলাজেন হাইড্রেশনের জন্য পানি দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে কোলাজেন ভাঙন দ্রুত ঘটে।
- ধূমপান, অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড বাদ দিন। এগুলো কোলাজেন ভেঙে দেয়। অস্বাস্থ্যকর খাবার (প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি, রিফাইন্ড খাবার) কোলাজেন উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে।
- রোদে প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট থাকুন। ভিটামিন D ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করবে।
- মানসিক দুশ্চিন্তা ও ঘুমের অভাব কোলাজেন উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চাপ বা দুশ্চিন্তা কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে দেয়, যা কোলাজেন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও কোলাজেন ক্ষয় হয়। ঘুমের সময় শরীরের কোষ মেরামত হয়, যা কোলাজেন উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
Captain Green
"রহস্যময় রথসচাইল্ড ফ্যামিলি - দুনিয়ার বিতর্কিত গোপন শাসক!"
,
,
বছরের পর বছর গাজায় ইসরাইল কর্তৃক নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যা করা হয় - যা দেখে আপনার মন কাঁদে, এবং প্রশ্ন ও জাগে কেনো বিশ্ববিবেক ইসরাইলের এই আগ্রাসনের বিপক্ষে কথা বলতে পারেনা, কেনোই বা সব শক্তিশালী রাষ্ট্র এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে কুর্নিশ করে চলে!
এর উত্তর অনেক গভীরে - আমরা যাদেরকে বিশ্বের সুপার পাওয়ার হিসেবে জানি, তারা সবাইই এক অদৃশ্য শক্তির হাতে বন্দী।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত আমেরিকাও এই গোপন শক্তির নির্দেশ মেনে চলে - যাকে ডাকা হয় "ডীপস্টেট" নামে। বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী দেশ ও এরকম সিক্রেট গ্রুপের নির্দেশেই বড় বড় সিদ্ধান্ত নেয়।
,
আমেরিকা সহ সুপার পাওয়ার ন্যাশন গুলিকে কন্ট্রোল করা সিক্রেট গ্রুপ, ডীপস্টেটের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী সদস্য হিসেবে ধরা ইহুদী "রথসচাইল্ড ফ্যামিলি" কে। বিশ্বের ব্যাংকিং বিজনেসের সূচনাকারী পরিবারদের অন্যতম এই রথসচাইল্ড ফ্যামিলির ইতিহাস ও তাদের প্রভাব সম্পর্কে না জানলে আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না কিভাবে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ইসরাইল ও ইহুদীরা কেনো, কিভাবে সবার উপরে ছড়ি ঘুড়ায় এতো অপকর্মের পরেও . . . .
,
,
নানা অপকর্ম ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের জন্যে ইহুদী জাতি বিভিন্ন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে যাযাবরের মতোন এই দেশ, ঐদেশে ঘুরে বেড়াতো - এবং পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে এরা গোপনে মিশে যায়। এর মধ্যে জার্মানির ফ্র্যাংকফুর্টে আবাস গড়ে ইহুদী রথসচাইল্ড পরিবার। এই পরিবারের ব্যাংকিং বিজনেসের সূচনা হয় ম্যায়ের এমশ্যাল রথসচাইল্ডের মাধ্যমে, যার জন্ম ১৭৪৪ সালে জার্মানিতে।।
ম্যায়ের এমশ্যাল রথসচাইল্ডের পিতা এমশ্যাল মোজেস রথসচাইল্ড চেয়েছিলেন ম্যায়ের এমশ্যাল একজন রাবাই (ধর্মযাজক) হন, তিনি পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরতে তাকে যোগ দিতে হয় ব্যাংকিং ফার্মে শিক্ষানবিশ হিসেবে। সেখানে অল্প বয়সেই ম্যায়ের এমশ্যাল ফরেইন ট্রেড ও কারেন্সি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞ্যান লাভ করেন। তারপর নিজদের পারিবারিক ট্রেড ও কারেন্সি বিজনেসে ফেরত আসেন।
ম্যায়ের এমশ্যালের বাবার কাছ থেকে তখনকার ক্রাউন প্রিন্স উইলহেমের বিরল মুদ্রার লেনদেন ছিলো, ম্যায়ের এমশ্যালের সাথে এই সম্পর্ক আরোও দৃড় হয়, উইলহেম পরবর্তীতে সম্রাট হন ম্যায়ের উইলহেমের ক্রাউন এজেন্ট পদ পান।
ম্যায়ের এমশ্যালকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নাই, ফ্র্যাংকফুর্টে তার ব্যাংকিং বিজনেস ফুলেফেপে উঠতে থাকে।
,
ম্যায়ের এমশ্যাল তার ব্যাংকিং বিজনেস বড় করতে তার ৫ ছেলের একজনকে ফ্র্যাংকফুর্টে রেখে বাকি ৪ জনকে সেসময়কার ইউরোপের ৪ সমৃদ্ধ শহর ভিয়েনা, প্যারিস, লন্ডন ও নেপলসে পাঠান। মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংকিং তখন এই রথসচাইল্ডদের হাত দিয়েই শুরু হয়। ইউরোপের ৫ শহরে ব্যাংকিং ব্র্যাঞ্চ চালুর মাধ্যমে সেই শহরে তাদের ব্যবসাই গড়ে উঠলোনা শুধুমাত্র, ডাইভার্সিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের লাভ কোনো নির্দিষ্ট শহর বা দেশের শাসকের সাথে সম্পর্কের উপর নির্ভর করবেনা, এক ব্র্যাঞ্চের ক্ষতির মুখোমুখি হলেও সেটা আরেক ব্র্যাঞ্চের লাভ দিয়ে পুষানো যাবে।
তবে এই বড় শহরগুলিতে ব্যাংকিং বিজনেসটা পরবর্তীতে কাজে আসে পলিটিক্যাল কারনে . . .
,
ম্যায়ের এমশ্যাল রথসচাইল্ড মারা যান ১৮১২ সালে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার ৫ ছেলেকে একসাথে ডেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দেন। তার ছেলেরা ও বংশধররা যেনো ফ্যামিলি বন্ডিং ঠিক রেখেই ব্যবসাটা এগিয়ে নেন, বেশি বেশি ছেলে সন্তান নিয়ে এবং নিজ বংশের মধ্যেই সব বিয়েশাদি দিয়ে নিজদের ব্যবসা ও সম্পদের মালিকানা যেনো ছেলেদের মাধ্যমে রথসচাইল্ড পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।
,
উনবিংশ শতাব্দীতে ফ্র্যাংকফুর্ট, ভিয়েনা, লন্ডন, প্যারিস, নেপলস ও পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যান্য বড় শহরে ব্যাংকিং বিজনেস করার সুবিধা ছিলো তখন ইউরোপে শিল্প বিপ্লব চলে, আর এসব শহরে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে উঠছিলো। রথসচাইল্ডরা এই নতুন গজিয়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলিকে ফাইনান্স করে নিজেরাও দ্রুত অনেক সম্পদের মালিক হতে থাকে। তবে এই ইউরোপিয়ানরা সেসময় একিসাথে একে অপরের সাথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত ছিলো, এবং প্রায়ই কোনো কোনো না কোনো যুদ্ধে লিপ্ত থাকতো। যুদ্ধ চালাতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হতো - আর রথসচাইল্ডরা বসেই থাকতো উচ্চ সুদে এই জাতিগুলিকে লোন দিয়ে নিজদের অবস্থান আরোও শক্তিশালী করতে।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ওয়ার ফাইনান্সিং ছিলো ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার চলা "ওয়াটারলু" র যুদ্ধ। এই যুদ্ধে রথসচাইল্ডদের প্যারিস শাখা ফ্রান্সকে ফাইনান্স করে, লন্ডন শাখা ইংল্যান্ডকে ফাইনান্স করে - যুদ্ধে যেই জিতুক বা হারুক লাভ কিন্তু ঐ রথসচাইল্ডদেরই! ইংরেজরা এসময় "রেড আর্মি" নামক এক গুন্ডা বাহিনীকে ফ্রান্সের অভ্যন্তরে পাঠায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্যে, রথসচাইল্ডরা এই রেড আর্মিকে ফাইনান্সের মাধ্যমেও অনেক লাভ করে নেয়।
ওয়াটারলু যুদ্ধে নেপোলিয়নের ফ্রান্সের পরাজয় আসন্ন ছিলো। কিন্তু ম্যায়ের এমশ্যালের ৩য় ছেলে নাথান রথসচাইল্ড, যে কিনা লন্ডনের ব্র্যাঞ্চের দায়িত্বে ছিলো - সে তার ইনফর্মারের মাধ্যমে এই খবরটা আগেভাগে পেয়ে পুরো ইংল্যান্ডে তার ভাড়াটে লোকদের দিয়ে গুজব রটিয়ে দিলো ফ্রান্স না, ইংল্যান্ডই এই যুদ্ধ হারতে যাচ্ছে! এই গুজবের কারনে ইংল্যান্ডের মানুষজন তাদের হাতে থাকা সব গভর্নমেন্ট বন্ড বিক্রি করতে শুরু করে লসের আশংকায়। ইংল্যান্ডের বন্ডের দাম ধুপ করে অনেক কমে যায় এবং সুযোগসন্ধানী, চতুর নাথান রথসচাইল্ড নিজের সৃষ্টি করা গুজবের ফলাফল হিসেবে কমে যাওয়া সেই গভর্নমেন্ট বন্ডগুলির ৯০% ই কিনে নেন! দুইদিন পর খবর আসে যে ফ্রান্স না, ইংরেজরাই এই যুদ্ধে জয়ী - তখন আবারো ইংলিশ গভর্নমেন্ট বন্ডের দাম বাড়তে থাকে। নাথান রথসচাইল্ড সেই বন্ডগুলি পরবর্তী ২ বছরে প্রায় ২০০% লাভে বিক্রি করে রথসচাইল্ডদের অর্থভাণ্ডার আরোও বিশাল করে ফেলেন।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তখন প্রায় পুরো বিশ্বই শাসন করে। সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকেই রথসচাইল্ড পরিবার এভাবে ওয়ার ফাইনান্সিং আর গভর্নমেন্ট বন্ড কিনে নিজদের প্রতি দায়বদ্ধ করে ফেলে। ব্রিটিশ সরকার এরপর থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় রথসচাইল্ডদের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে। মধ্যপ্রাচ্যর মাটিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পিছনে ব্রিটিশদের সমর্থন রথসচাইল্ডরাই আদায় করে নেয়।
,
এই রথসচাইল্ডদের এই ইংল্যান্ডকে সহযোগীতা ফ্রান্সের মানুষদের ক্ষেপিয়ে তুলে, কেননা নেপোলিয়ন ফ্রান্সে বসবাসরত ইহুদীদের প্রতি অন্যান্য ইউরোপিয়ানদের তুলনায় অনেক সহনশীল ছিলেন।
,
ইউরোপের বড় বড় সমৃদ্ধশালী শহরে ব্যাংকিং বিজনেস চালু, তাদের শিল্প বিপ্লবের সাথে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে ফাইনান্স করা, রাজ পরিবার ও সরকারকে ফাইনান্স করার মাধ্যমে রথসচাইল্ডরা অনেক উপার্জন করলেও সেই অর্থ তারা গোল্ড, রিয়েল এস্টেটের মতোন বস্তুগত সম্পদ (Tangible Assets) এ ই বিনিয়োগ করতোনা। তারা তাদের ৮০-৯০% সম্পদই বিনিয়োগ করতো গভর্নমেন্ট বন্ড, ট্রেজারি বিল, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে - যাতে ইহুদী বিদ্বেষ থেকে জনগন কিংবা শাসকেরা তাদের কোনো সম্পদ দখল করতে না পারে, ধ্বংস করতে না পারে!
রথসচাইল্ডরা ইউরোপের শক্তিশালী, ধনী রাষ্ট্রগুলির শাসকদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের বড় বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করা শুরু করে। ইউরোপের সুপার পাওয়াররা তখন থেকেই বলতে গেলে ইহুদী রথসচাইল্ডদের অনুগত হয়ে যায়।
,
ইউরোপিয়ানরা যখন নিজদের মধ্যে যুদ্ধে ব্যস্ত, তখন আটলান্টিকের ঐপাড়ে আমেরিকা শিল্প ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া শুরু করে। এই আমেরিকাতে ১৮৯৩ এ অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়। জেপি মরগান গ্রুপের পাশাপাশি সেসময় রথসচাইল্ড পরিবার তাদের অফুরন্ত টাকার ভান্ডার নিয়ে হাজির হয় আমেরিকাকে উদ্ধার করতে। আমেরিকান সরকার ও তাদের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানকে ফাইনান্স করার মাধ্যমে রথসচাইল্ডরা আমেরিকার মাটিতেও নিজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে নেয় এবং একিসাথে ভবিষ্যৎ সুপার পাওয়ারকেও নিজদের কব্জায় নিয়ে আসা শুরু করে।
,
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যুদ্ধ হয়, অনেক ক্ষমতাসীন রাজতন্ত্র আর শাসকদের পতন হয়। পুরনো শাসনযন্ত্রর পতন, নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থানে রথসচাইল্ড ও ইহুদীরা গোপনে অনেক ফান্ডিং করতো, তেমনি ওয়ার ফাইনান্সিং ও সমানতালে চলতে থাকে। তবে ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে হিটলারের কারনে তাদের ব্যাংকিং ব্যবসায় একটা ছন্দপতন আসে, ফ্র্যাংকফুর্ট ও ভিয়েনা থেকে থেকে তাদের ব্যাংকিং বন্ধ করতে হয় নাজি বাহিনীর ইহুদী দমন নীতির কারনে। এর আগে প্যারিসে তাদের ব্যবসায় একটা ধাক্কা আসে ফ্রান্সের নাগরিকদের প্রতিবাদে। আর নেপলসের শাখাটাও বন্ধ করা লাগে ইতালি ও নেপলসের বিদ্রোহর কারনে।
তবে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয় নাই কারন লন্ডন শাখা ঠিকিই এক্টিভ ছিলো, ইংল্যান্ডের সাথে সম্পর্ক কখনো খারাপ হয়নাই। আর সেইসময়ে রথসচাইল্ডদের বেশিরভাগ ইনভেস্টমেন্ট আমেরিকার দিকে ঝুকে গেছে, যেই আমেরিকাই আদতে পরবর্তীতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ টা জিতে।
,
২য় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ও এন্টি জায়ানিস্ট নাজি বাহিনীর পরাজয় ঘটলে রথসচাইল্ডরা পুনরায় ইউরোপে তাদের ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এস্টাবলিশ করে।
এরপর এই আআধুনিক যুগে এসে অনেক বড় বড় ব্যাংকের আবির্ভাব ঘটে যা রথসচাইল্ডদের ব্যাংকিং বিজনেসকে চ্যালেঞ্জ জানানো শুরু করে। এসময় রথসচাইল্ড কাজিনদের মধ্যে একটা বিরোধ দেখা দেয় যে তারাও বাকিদের মতোন তাদের শেয়ার সবার জন্যে উন্মুক্ত করে দিবে কি দিবেনা। তবে ম্যায়ের এমশ্যালের সেই লিগ্যাসীকে ফলো করে তারা আবারো একমত হয়ে যায়, সাময়িকভাবে কিছু ব্যবসায়ীক ক্ষতিকে স্বীকার করে নিয়ে - ফ্যামিলি লিগ্যাসী, বন্ডিং আর কন্ট্রোল রথসচাইল্ডদের বাকিদের থেকে আলাদা হওয়ার একমাত্র মূলনীতি।
,
,
রথসচাইল্ড কন্সপাইরেসি ইন মডার্ন ডে -
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় রথসচাইল্ডদের শীর্ষে উঠার বড় কারনগুলি ছিলো - মুদ্রা সম্পর্কে অগাথ জ্ঞ্যান, সুযোগের সদ্ব্যবহার, শাসকদের সাথে সুসম্পর্ক এবং যুদ্ধে বিনিয়োগ। যুদ্ধ মানেই যেখানে হানাহানি, রক্তপাত আর সম্পদের ধ্বংস - সেখানে যুদ্ধ মানেই রথসচাইল্ডদের অর্থনৈতিক লাভ।
যাযাবর ইহুদী জাতির এসময় আনটাচেবল থাকার বড় রহস্য নিজেরা ইউনাইটেড থেকে বাকি সব জাতিকে ডিভাইডেশন আর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত করা। বিভিন্ন দেশে এদের প্রতিনিধি থাকতো সরকারের উচ্চপর্যায়ে অথবা শাসকদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতো - এদের মাধ্যমে এক দেশের সাথে আরেক দেশের যুদ্ধ, কিংবা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির উস্কানি দেওয়া হতো। এই যুদ্ধ আর সহিংসতার উস্কানি দিতে কিছু টাকা ইনভেস্ট হতো, যা কিনা পরবর্তীতে এই রথসচাইল্ডদের ওয়ার ফাইনান্সিং র প্রফিট থেকে উঠে আসতো।
,
আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তেও এদের প্রভাব আমেরিকান গভর্নমেন্ট কিংবা প্রেসিডেন্টের থেকেও বেশি। ধারনা করা হয় ১৯৬৩ সালে প্রেসিডন্ট জন এফ কেনেডির হত্যার পিছনেও রথসচাইল্ডদের ইন্ধন ছিলো। কেননা সোভিয়েতের সাথে কোল্ডওয়ার চলাকালীন সময়ে কেনেডি সোভিয়েতের সাথে যুদ্ধের বদলে শান্তিচুক্তিতে আসেন। নিরাপত্তা পরিষদের কিউবা আক্রমনের প্রস্তাব বাতিল করেন, ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকেও আমেরিকাকে সড়িয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এবং তিনি সিক্রেট সোসাইটি নিয়ে একটা বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ইউএস ডলার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বাইরে প্রিন্ট করার প্ল্যান করেছিলেন।
এবং এর কয়দিন পরেই তাকে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু বরন করতে হয়, যেই রহস্যের সমাধান আজোও হয়নি!
,
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে যে রথসচাইল্ডদের কেউ বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনীর মধ্যে নাই। কিন্তু তার মানে এই না যে তাদের প্রভাব কমে গেছে, সম্পত্তি অনেকের মধ্যে ভাগ হওয়ায় তাদের ব্যাক্তিগত সম্পদের পরিমান শীর্ষ ধনীদের চেয়ে কম, কিন্তু পারিবারিক ভাবে ধরলে সেটা এখনো অনেক বেশি - কিন্তু সেই হিসেবটা তারা এখন আর দেয়না। প্রযুক্তি, প্রশাসন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সবই তাদের অনুগত - কেউ তাদের সঠিক হিসাব চাওয়ার সাহস রাখেনা!
ফ্রান্স-ইংল্যান্ড যুদ্ধের মতোন আধুনিক কালের অনেক যুদ্ধ এবং আমেরিকা ও তার মিত্র ন্যাটো বাহিনীর বিভিন্ন মিশনে রথসচাইল্ডরা আগেকার মতোন ফাইনান্স করে বড় বড় প্রফিট বাগিয়ে নিচ্ছে - এরকম ইনফো এখন আগের মতোন পাওয়া যায়না, কিন্তু সব ইনফর্মেশনের উপর ফুল কন্ট্রোল রাখা ইহুদীরা যে এই ইনফোগুলি হাইড করে নিজদের অর্থভাণ্ডার বড় করছেনা তার গ্যারান্টি কি? এতোদিনের লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা কি তারা বাদ দিয়ে দিয়েছে?
আমেরিকা, বৃটেন সহ ন্যাটো রাই কেবল না - রথসচাইল্ডদের তৈরী করা ব্যাংকিং চ্যানেলের কাছে দায়বদ্ধ অর্থনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র ও সফল ব্যাক্তিসমূহও! ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, বিগ কর্পোরেট হাউজ, মাল্টিন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের কাছে যেই দায়বদ্ধ, নির্ভরশীল হয়েছে - ধরে নিতে হবে সে একিসাথে রথসচাইল্ড ও ইহুদী চক্রের কাছেও দায়বদ্ধ হয়ে গেছে!
,
ফিলিস্তিনিদের জন্যে মানবতা যতোই কাদুক - রথসচাইল্ড ও ইহুদীদের জন্যে মুনাফাই আসল, যেই মুনাফা তাদেরকে এনে দিয়েছে সবার উপর ছড়ি ঘোরানোর অঢেল ক্ষমতা!!!
রথসচাইল্ডদের পতন ছাড়া সন্ত্রাসী ইহুদীরাষ্ট্র ইসরাইলের পতন কখনোই হবেনা . . .
প্রকৃতিতে কিছু মাছ আছে যারা পরিবেশগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে বলেন 'সিকোয়েনশিয়াল হারমাফ্রোডিটিজম'। মূলত কোনো প্রজাতির মধ্যে নির্দিষ্ট লিঙ্গের সংখ্যা কমে গেলে বা গোষ্ঠীর সামাজিক কাঠামো বদলে গেলে এই পরিবর্তন ঘটে।
সমুদ্রের অনেক মাছ, যেমন ক্লাউনফিশ, প্যারটফিশ এবং র্যাস এই আচরণে বিশেষভাবে পরিচিত। উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় Finding Nemo অ্যানিমেটেড সিনেমার ক্লাউনফিশ। বাস্তবে এই মাছগুলো প্রথমে পুরুষ হিসেবে জন্মায়। যদি দলে প্রধান স্ত্রী ক্লাউনফিশ মা'রা যায়, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষটি স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয়। এই পরিবর্তনের পেছনে ব্যাখ্যা হলো তাদের দেহে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে যা তাদের গোন্যাডস বা লিঙ্গ গ্রন্থিকে নতুনভাবে গঠন করে।
প্যারটফিশ ও র্যাস প্রজাতির মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। বড় দলে যদি আলফা ফিমেল বা আলফা মেইল অনুপস্থিত হয়, তাহলে অন্য সদস্যরা সামাজিক হায়ারার্কি বজায় রাখতে লিঙ্গ পরিবর্তন করে। এতে প্রজাতির প্রজনন ব্যাহত হয় না এবং নতুন সঙ্গীর খোঁজে সময় নষ্ট হয় না। ফলে টিকে থাকা সহজ হয়।
গবেষকরা বলছেন, এই সেক্স-চেইঞ্জিং বিহেভিয়ার জলজ ইকোসিস্টেমে বায়োডাইভার্সিটি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, কোরাল রিফ ধ্বংস, ও ওভারফিশিং-এর কারণে অনেক প্রজাতির সেক্স রেশিও বিঘ্নিত হচ্ছে, যা তাদের জনসংখ্যাগত স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আর্থ ডট কম এবং ডিসকভার ওয়াইল্ডলাইফের মতে, এই সেক্স-সুইচিং প্রক্রিয়া জলজ প্রাণীদের মধ্যে সামাজিক কাঠামো, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোজনের এক জটিল উদাহরণ, যা প্রকৃতির বিস্ময়কর জটিলতাকে তুলে ধরে। তাই এ ধরনের মাছ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি, যাতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য অটুট থাকে। (বিজ্ঞান্বেষী)
লেখা: মেহেদী হাসান অভি
ঘসেটি বেগম -----
প্রেম,রাজনীতি ও ইতিহাসের নিষ্ঠুরতা -----
ঐতিহাসিক চরিত্রদের জীবন কখনও কেবল রাজনীতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। তাঁদের প্রেম,আকাঙ্ক্ষা,
ব্যর্থতা,এবং আত্মগ্লানিও ইতিহাসের শরীর গঠনে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘসেটি বেগম—নবাব আলীবর্দ্দির জ্যেষ্ঠ কন্যা—ছিলেন এমনই এক নারী,যাঁর জীবন ছিল রাজকীয় ঐশ্বর্য,রাজনৈতিক কূটচাল,এবং ব্যক্তিগত বেদনার এক জটিল মিশ্রণ।
রাজবংশের কন্যা,কিন্তু সুখহীন বিবাহ -----
আলীবর্দ্দি খাঁ ছিলেন নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী,তাঁর স্ত্রীও ছিলেন মহীয়সী। কিন্তু তাঁদের কন্যা ঘসেটি ও আমিনার জীবন ছিল বিতর্কে ঘেরা। ঘসেটির বিবাহ হয় নওয়াজেসের সঙ্গে—ঢাকার শাসনকর্তা,আলীবর্দ্দির ভাই হাজী আহম্মদের পুত্র। কিন্তু এই বিবাহ সুখ আনেনি। নওয়াজেসের ঔদাসীন্য,ভোগবিলাস,এবং রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা ঘসেটিকে একাকী করে তোলে। মতিঝিলের সাঙ-ই-দালান প্রাসাদে তাঁর একাকীত্ব যেন প্রতিধ্বনিত হয় ভাগীরথীর স্থবির জলে।
প্রেমের খোঁজে এক নারীর আত্মসংগ্রাম -----
ঘসেটি প্রেম চেয়েছিলেন,কিন্তু পাননি। হোসেন কুলি—নওয়াজেসের সহকারী,সুঠাম,সুদর্শন,তুর্কী যুবক—ছিলেন তাঁর জীবনের একমাত্র উন্মাদ প্রেম। কিন্তু সেই প্রেমও ছিল অসম,আত্মবিনাশী। হোসেনের কাছে ঘসেটি ছিলেন এক সুযোগ,এক ব্যবহারযোগ্য সম্পদ। পরে হোসেন চলে যান আমিনার দিকে—আরও সুন্দরী,
আরও প্রলুব্ধকারী। ঘসেটি প্রেমে পরাজিত হন,কিন্তু তাঁর হৃদয় জ্বলতে থাকে প্রতিহিংসায়।
এই প্রেম-প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ব্যক্তিগত নয়,তা ছিল রাজনৈতিক। সিরাজউদ্দৌলার উত্থান,ঘসেটির মতিঝিল কেন্দ্রিক শক্তি গঠন,এবং এক্রামদৌলার দত্তক গ্রহণ—সবই ছিল ক্ষমতার খেলা। কিন্তু এই খেলায় ঘসেটি একা হয়ে পড়েন। তাঁর পাশে কেউ থাকে না—না প্রেমিক,না সৈন্য,না আত্মীয়।
রাজনীতি,বিশ্বাসঘাতকতা ও পতন -----
ঘসেটি ছিলেন ধনসম্পদে সমৃদ্ধ,রাজনৈতিকভাবে সচেতন,এবং সাহসী। বর্গীর হাঙ্গামায় তিনি নবাবকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। মতিঝিল প্রাসাদ গড়ে তোলেন নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য। রাজা রাজবল্লভ,
নজর আলি—সবাই তাঁর পাশে দাঁড়ান,কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা সবাই সরে যান।
সিরাজের সন্দেহ,ঘসেটির চক্রান্ত,এবং মতিঝিল আক্রমণের পর ঘসেটি বন্দী হন। তাঁর ধন,মান,মর্যাদা—সব লুণ্ঠিত হয়। হীরাঝিল প্রাসাদে বন্দী ঘসেটি তখন শুধুই এক অসহায় নারী,যাঁর জীবনে প্রেম ছিল,কিন্তু ভালোবাসা ছিল না।
মৃত্যু: ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিণতি -----
১৭৬০ সালের জুন মাসে,মীরনের নির্দেশে ঘসেটি ও আমিনাকে মাঝনদীতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। এক সময়ের রাজকন্যা,নবাবের আদরের মেয়ে,মতিঝিলের রাণী—জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি শুধুই এক পরিত্যক্ত নারী। তাঁর মৃত্যু ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চূড়ান্ত রূপ,কিন্তু তার মধ্যে ছিল এক নারীর ব্যর্থ প্রেমের আত্মগ্লানি,একাকীত্ব,এবং ইতিহাসের নিষ্ঠুরতা।
ঘসেটি বেগম ছিলেন না কেবল এক "দ্বিচারিনী" নারী,যেমন ইতিহাস তাঁকে চিহ্নিত করেছে। তিনি ছিলেন এক প্রেমকাতর,ক্ষমতাকামী,সাহসী নারী—যাঁর জীবন ছিল এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডি। তাঁর প্রেম ছিল উগ্র,তাঁর রাজনীতি ছিল জটিল,তাঁর মৃত্যু ছিল নির্মম। কিন্তু তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—নারীর আকাঙ্ক্ষা,
প্রেম,এবং রাজনৈতিক ভূমিকা ইতিহাসে কতটা অবহেলিত,কতটা ভুলভাবে ব্যাখ্যাযুক্ত।
ঘসেটি বেগম ইতিহাসের এক অনন্তযৌবনা চরিত্র,যাঁর জীবন আজও আমাদের প্রশ্ন করে—প্রেম কি শুধু পুরুষের অধিকার? রাজনীতি কি শুধু পুরুষের খেলা? আর নারীর ব্যর্থতা কি শুধুই তাঁর চারিত্রিক কলঙ্ক?
-------------------------------------------- Manas Bangla.
বাব মীর জাফর আলী খান।১৭৬৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দুরারোগ্য কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
পলাশী ষড়যন্ত্রের মুলহোতা ছিলেন জগৎশেঠ গং । উনিশ শতকের হিন্দু পুনর্জাগরণ জগৎশেঠকে বাদ দিয়ে মীর জাফরকে কলংকিত করেছে।
সুশীল চৌধুরী লিখেছেন :পলাশী চক্রান্তের নায়ক মীর জাফর এবং তিনিই আসল বিশ্বাসঘাতক- এ ধারণা বহুল প্রচলিত। বাংলায় মীর জাফর নামটাই বিশ্বাসঘাতকের প্রতীক হয়ে গেছে- ওটা বিশ্বাসঘাতকতার সমার্থক শব্দ। এ ধরনের ধারণা সমাজে চলে আসছে এ বিশ্বাস থেকে যে, পলাশীর চক্রান্ত এবং পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের জন্য দায়ী মূলত মীর জাফর। সুতরাং মীর জাফর ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে যে ধারণা বহুদিন ধরে প্রচলিত তা কতটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য তার তথ্যভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণ খুবই প্রয়োজন (সুশীল চৌধুরী, পলাশীর অজানা কাহিনী, পৃষ্ঠা : ১১১)। আমরা জানি, মীর জাফরের সঙ্গে দেশীয় চক্রান্তকারীদের মধ্যে ছিলেন জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, এবং ইংরেজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন উইলিয়াম ওয়াটস, লিউক স্ক্র্যাফটন ও রবার্ট ক্লাইভ। আসলে মীর জাফর শিখন্ডী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র । যদিও মীর জাফরও ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়েছিল এবং এ ষড়যন্ত্রের মাশুল হিসেবে আমরা হারাই স্বাধীন বাংলা।
পলাশী বিপর্যয়ের জন্য দায়ী এদেশের বর্ণহিন্দুদের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা । অন্যান্য কুচক্রীরা তাদের সহযোগী মাত্র!
রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক কারণে ইংরেজ ও নবাবের প্রভাবশালী কর্মকর্তা জগৎ শেঠ,মানিক চাঁদ ও রায় দুর্লভ রামের সাথে মৈত্রী সম্পর্ক গড়ে ওঠে । প্রকৃতপক্ষে ইংরেজদের সঙ্গে তাদের এই মৈত্রীই ছিল সিরাজদ্দৌলার পতনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ।
সতের শতকের শুরু থেকেই বাংলার যে কোন রাজনৈতিক পালাবদলে শেঠ পরিবার ও জগৎশেঠই মূখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন । সুশীল চৌধুরী পলাশীর অজানা কাহিনী বইয়ে লিখেছেন:দেশীয় ষড়যন্ত্রীদের মধ্যে শেঠরাই পলাশি চক্রান্ত ও বিপ্লবের মূল উদ্যোক্তা,এবং এঁদের সম্মতি ও সহযোগিতা ছাড়া ইংরেজরা যা করেছে তা কখনও করতে পারতো না
(পলাশীর অজানা কাহিনী-সুশীল চৌধুরী পৃষ্ঠা১১৬)
ইতিহাসবিদ এম এ রহিম লিখেছেন :২৩ এপ্রিল ১৭৫৭ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলিকাতা কাউন্সিল নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করিবার জন্য এক প্রস্তাব পাশ করে। ক্লাইভ উর্মিচাঁদকে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র গড়িয়া তোলার কাজে ব্যবহার করেন। --ষড়যন্ত্রকারিগণ জগৎশেঠির বাড়িতে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়।জগৎশেঠ,উর্মিচাঁদ, রায়দুর্লভ,মীর জাফর রাজবল্লভ এবং আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই বৈঠকে যোগ দেন। ইংরেজ কোম্পানির এজেন্ট ওয়াটস মহিলাদের মত পর্দা ঘেরা পাল্কিতে জগৎশেঠের বাড়িতে আসেন। এই বৈঠকে সিরাজুদ্দৌলাকে সরাইয়া মীর জাফরকে বাংলার মসনদে বসাইবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ওয়াটস এই কাজে ইংরেজদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন।
(বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস -এম এ রহিম, পৃষ্ঠা ১৬)
মূলত ইংরেজ ও হিন্দুর যৌথ ষড়যন্ত্রের ফসল পলাশীর বিপর্যয় এবং ফলোশ্রুতিতে বাংলায় মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।
বৃটিশ ভারতে হিন্দু পূনর্জাগরণের পর্যায়ে স্বাধীনতাকামী যুব সমাজের কাছে বিদেশী ইংরেজদের হাতে স্বাধীনতা তুলে দেয়ার কাজটি গর্হিত মনে হতে শুরু করে । তখন হিন্দু বুদ্ধিজীবীরা কল্পিত ইতিহাস,নাটক,প্রহসন ইত্যাদির মাধ্যমে জগৎশেঠ গংদের বিশ্বাসঘাতকতার কাহিনী গুম করে দিয়ে এই মর্মে ব্যাপক প্রচার চালান যে,সেকালের প্রধান ও চরম ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতক ছিলেন মীরজাফর । ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বাঙ্গালার ইতিহাস নামক মুসলিম বিদ্বেষী বানোয়াট ইতিহাস দিয়ে তার শুরু ।
মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকে এক সময়ের ক্ষমতাশালী মুসলমান অভিজাত শ্রেণীকে ক্রমান্বয়ে পশ্চাতে ঠেলে দেয়া হয়েছিল,মীর জাফর হচ্ছেন সে অধঃপতিত শ্রেণীর প্রতিনিধি । উল্লেখযোগ্য যে,ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী মুসলমান অভিজাত শ্রেণীর অনুপস্হিতিতে বাস্তবিকপক্ষে উদীয়মান হিন্দু বণিক শ্রেণী ও কর্মচারীরা খালি মাঠ পেয়ে যায়। আলীবর্দী খানের হিন্দুদের প্রতি উদার নীতি সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নবাব আলবির্দী খানের শাসনামলে হিন্দু কর্মকর্তাদের নিয়োগ বৃদ্ধি পায়। এ সময় যারা প্রধান ভূমিকা পালন করেন তাদের মধ্যে জানকী রাম , দুর্লভ রাম , রাম নারায়ন , কিরাত চাঁদ, বিরু দত্ত, গোকুল চাঁদ , উমিচাঁদ রায় এবং রাম রাম সিংহের নাম উল্লেখযোগ্য। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে হিন্দু কর্মকর্তা অধিক সংখ্যায় নিয়োগ পান। এ ভাবে আলীবর্দী খানের শাসনামলে সকল ক্ষেত্রে প্রতিপত্তিশালী হয়ে ওঠে। এর পরিণতি হয়েছিল অত্যন্ত অশুভ। । জগত শেঠ,মানিক চাঁদ ও নন্দ কুমাররা যে ষড়যন্ত্র করেছিল,তার শিখন্ডী হিসেবে মীর জাফর আলীকে ব্যবহার করেছে মাত্র!!
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ মোহর আলী লিখেছেন :আঠারো শতকের বাংলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন এক বিপর্যয়ের সন্মুখীন হয়েছিল যে,মীর জাফর আলী খান ইংরেজ,হিন্দু বণিক ও আমত্যদের সাথে ষড়যন্ত্র না করলেও সিরাজউদ্দৌলার পতন ঠেকানো যেত না । কারণ দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ,উদ্যমী এবং রোমাঞ্চ প্রিয় ইংরেজরা হিন্দু বণিক শ্রেণীর সঙ্গে জোট বেধে সিরাজউদ্দৌলার পতন না ঘটিয়ে এবং তাদের মনোনীত কোন ক্রীড়নককে মসনদে না বসিয়ে তাদের চক্রান্ত কিছুতেই বন্ধ করতেন না ।
পলাশীর পরাজয়কে গ্লোবাল স্কেলে দেখলে এটা বহুধাবিভক্ত, রাজনৈতিক বিবেচনাহীন ক্ষুদ্রস্বার্থসন্ধানী প্রাচ্যের বিরুদ্ধে কুটিল, সুযোগসন্ধানী, হিংস্র, সংগঠিত ও আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত পাশ্চাত্যের জয় দেখা যায়। এটা অবধারিত ছিল।
তবে, এ যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের কাছে আবারও শত্রু-মিত্রের ফারাক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাচীরের আড়ালে মুঘল হারেম: যেখানে শাসন চলত নিয়মে, নিরাপত্তায় ও নিঃশব্দ ক্ষমতায়!
মুঘল হারেম বলতে আমরা অনেক সময় শুধু বিলাসিতা বা রহস্যময় জীবন কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবে হারেম ছিল একটি কঠোর নিয়মে পরিচালিত, সুসংগঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এখানে প্রতিটি কাজ, প্রতিটি মানুষের চলাফেরা—সবই চলত নির্দিষ্ট বিধি মেনে।
হারেমের ভিতরে একাধিক দপ্তর ছিল। আলোক প্রজ্জ্বলনের দপ্তর আলো জ্বালানোর দায়িত্ব নিত, ফরাসখানা দেখত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আবদারখানা ছিল পানীয় জলের জন্য, রন্ধনশালায় রান্না হত, আর আলাদা ভান্ডারে রাখা থাকত শাল, পোশাক ও গালিচা। এমনকি অস্ত্র রাখার ব্যবস্থাও ছিল।
নিরাপত্তার ব্যবস্থাটি ছিল বহুস্তরযুক্ত। প্রাসাদের প্রাচীরের বাইরে রাজপুত ও ‘আহাদি’ সৈন্যরা পাহারা দিতেন। তাঁরা একজন মনসবদারের অধীনে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করতেন। ভিতরের দিকে থাকতেন খোজারা। যদিও তাঁদের প্রাসাদের সব জায়গায় ঢোকার অনুমতি ছিল না, তবু হারেমের মহিলা কর্মচারী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব তাঁদের উপরেই ছিল। বেগম বা সম্ভ্রান্ত মহিলাদের কর্মচারীরা সরাসরি পুরুষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতেন না—এটি অসম্মানজনক বলে মনে করা হত।
হারেমের নিরাপত্তা সপ্তাহভিত্তিক পালায় চলত। সাত দিনের জন্য সাতটি রক্ষী বাহিনী ছিল, প্রতিটি দল একদিন করে পাহারা দিত। এই বাহিনীর প্রধানকে বলা হত ‘মীর-মহল’। দায়িত্ব বণ্টন ও রক্ষীদের নাম নথিভুক্ত করতেন ‘মীর-আর্জ’। বাদশাহের আদেশ ও ফরমান এই দুই আধিকারিকের হাত দিয়েই হারেমের সর্বত্র পৌঁছত।
১৫৫৬ থেকে ১৭০৭ সাল পর্যন্ত এই কঠোর নিয়ম মেনে চলা হত। হারেমে কারা ঢুকছে, কারা বেরোচ্ছে—সবকিছুরই লিখিত হিসাব রাখা হত। অনেক কর্মচারী আবার গুপ্তচরের কাজও করতেন। তাঁরা কথাবার্তা ও নানা সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে গোপনে বাদশাহকে জানাতেন।
মুঘল বাদশাহ যখন দীর্ঘ সফরে বেরোতেন—শিকার, যুদ্ধ বা রাজকার্যের জন্য—তখন গোটা হারেমই তাঁর সঙ্গে যেত। আকবর ও জাহাঙ্গিরের বিভিন্ন ভ্রমণে তার স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়। মহিলারা পালকি, পর্দা ঘেরা ‘বহল’, ‘রথ’ বা ‘চৌখণ্ডি’-তে যাতায়াত করতেন। সব যানই এমনভাবে ঢাকা থাকত যাতে বাইরের কেউ তাঁদের দেখতে না পারে। সম্রাট আকবর তো এমন এক বিশাল যান তৈরি করেছিলেন, যার ভিতরে ঘুমানো, স্নান ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও ছিল।
ভ্রমণের সময় রাজকীয় তাঁবু খাটানো হত। বাদশাহের তাঁবুর কাছেই থাকত সম্ভ্রান্ত মহিলাদের শিবির। চারপাশে মোটা গালিচা বা কাঠের পর্দা দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হত। এই ভ্রমণেই হারেমের মহিলারা প্রাসাদের গণ্ডির বাইরে কিছুটা স্বাধীনতা অনুভব করতেন।
হারেমে মহিলাদের ব্যক্তিগত জীবন ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে বাদশাহদের একাধিক স্ত্রী ও উপপত্নী থাকলেও সকলের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো সম্ভব হত না। দীর্ঘ বিরতির পরেই সেই সাক্ষাৎ ঘটত।
(চলবে....)
©Manas Bangla
মোগল হারেমের অন্দরমহল: সম্রাটদের বিলাস, শৃঙ্খলা ও অদৃশ্য রহস্য!
মোগল সাম্রাজ্যের হারেম কেবল রাজপরিবারের নারীদের আবাসস্থল ছিল না—এটি ছিল এক সুসংগঠিত, কঠোর নিয়ন্ত্রিত ও রহস্যে ঘেরা এক স্বতন্ত্র জগৎ। বাদশাহের কন্যা, স্ত্রী, মাতা ও শ্রদ্ধেয়া আত্মীয়দের আরাম, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এখানে গড়ে উঠেছিল এক বিস্তৃত প্রশাসনিক ও স্থাপত্য কাঠামো।
হারেমের প্রতিটি আবাস সাজানো ছিল ফুল ও ফলের বাগিচা, সুগন্ধি, ছায়াঘেরা পথ, শীতল ফোয়ারা ও সরোবর দিয়ে। গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত ছিল জলাধার ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। এই পরিমণ্ডলে বসবাসকারীরা যেন আনন্দ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন—সে দিকেই ছিল সর্বাধিক গুরুত্ব।
হারেমে রক্ষিতাদের জন্য ছিল পৃথক কক্ষ। অনেককে বাজার থেকে ক্রয় করা হত, আবার অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক রীতিনীতি মেনে জাঁকজমক সহকারে পিতৃগৃহ থেকে আনা হতো। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাদশাহের পক্ষ থেকে বিপুল উপহার ও ভরণপোষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হত। হারেমের বিভিন্ন আবাস পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল পরিকল্পিত রাস্তার মাধ্যমে, যাতে চলাচল নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ থাকে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ছিল হারেমের সবচেয়ে কঠোর দিক। প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ছিল একটিমাত্র প্রধান দরজা, যেখানে দিন-রাত সশস্ত্র ও বিশ্বস্ত প্রহরীরা পাহারা দিতেন। ভিতরের অংশে দায়িত্বে থাকতেন খোজা ও মহিলা রক্ষীরা এবং বাইরের প্রহরায় থাকত রাজপুত সৈন্যরা। ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে নির্দিষ্ট রক্ষীদল এই দায়িত্ব পালন করত।
মোগল হারেমের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল এর ভূগর্ভস্থ পথ ও কক্ষ। প্রতিটি আবাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল গোপন সুড়ঙ্গ ও সিঁড়ি। আজও আগরা কিল্লার আকবরি মহল ও জাহাঙ্গিরি মহলের নীচে বহু তলবিশিষ্ট ভূগর্ভস্থ কক্ষের অস্তিত্ব দেখা যায়। দীর্ঘ এক সুড়ঙ্গপথ যমুনা নদীর দিকে চলে গিয়েছে, যার মাধ্যমে বাদশাহ যে কোনও সময়, গোপনে যে কোনও আবাসে উপস্থিত হতে পারতেন। এই পথ ব্যবহারের অধিকার ছিল একমাত্র সম্রাটেরই।
ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলিতে জলাধার, ফোয়ারা ও কৃত্রিম জলপ্রপাত থাকায় সেগুলি গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকভাবেই শীতল থাকত। ধারণা করা হয়, বাদশাহ তাঁর পছন্দের কোনও মহিলাকে নিয়ে এই শীতল কক্ষেই বিশ্রাম নিতেন।
যত কঠোর ব্যবস্থাই থাকুক, হারেমে অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বিশেষত যৌন কেচ্ছা সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। ভূগর্ভস্থ একটি বিশেষ কক্ষে ফাঁসি কার্যকর করা হত এবং সেখানেই থাকা গভীর কূপে মৃতদেহ নিক্ষেপ করা হতো। ফলে শাস্তির স্থান ও দেহের পরিণতি বাইরের দুনিয়ার কাছে অজানাই থেকে যেত। এই ফাঁসিঘরকে কেন্দ্র করে বহু রহস্যময় কাহিনি প্রচলিত থাকলেও, এর অস্তিত্ব মোগল শাসকদের কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষার মানসিকতাই তুলে ধরে।
হারেমের নিচের আরও কিছু গোপন কক্ষে সংরক্ষিত ছিল মোগল সাম্রাজ্যের বিপুল কোষাগার। আকবর থেকে শাহজাহান পর্যন্ত প্রায় একশো বছর ধরে সঞ্চিত সোনা, রুপো, হিরে ও মূল্যবান রত্ন কড়া নিরাপত্তায় রাখা ছিল এখানে। ঐতিহাসিক আব্দুল হামিদ লাহোরি ও ফরাসি পর্যটক ট্যাভারনিয়ের এই গোপন কোষাগারের কথা উল্লেখ করেছেন। ট্যাভারনিয়েরের ভাষায়, ইউরোপে যেমন ফ্রান্স ঐশ্বর্যে শ্রেষ্ঠ, এশিয়ায় তেমনই মোগল বাদশাহ।
এই সমগ্র ব্যবস্থাপনা চলত অসংখ্য মহিলা কর্মচারীর মাধ্যমে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আলো ও পর্দার ব্যবস্থা, আসবাব ও গালিচা সাজানো, বাগিচার পরিচর্যা, ফুল সংগ্রহ, খাদ্য পরিবেশন থেকে শুরু করে প্রসাধনী সামগ্রী সরবরাহ—সবকিছুই চলত কঠোর নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে। এক মহলের কর্মচারী অন্য মহলে গেলেও সেখানে কাজ করার অনুমতি পেতেন না।
(চলবে.......)
©Manas Bangla
প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা: সুস্থ জীবনের সহজ পাসওয়ার্ড
"আজ যদি ৩০ মিনিট হাঁটার সময় বের করতে না পারেন, তবে ভবিষ্যতে হাজার মাইল ডাক্তারখানায় দৌড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন।"
কথাটা শুনতে কিছুটা কঠিন মনে হলেও এটাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সত্য। আমরা যান্ত্রিক জীবনের মোহে পড়ে নিজেদের শরীরের যত্ন নিতে ভুলে যাচ্ছি। কিন্তু মনে রাখবেন, শরীর যদি ঠিক না থাকে, তবে আপনার কষ্টার্জিত কোনো সাফল্যই উপভোগ করতে পারবেন না।
কেন প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি?
আমরা অনেকেই মনে করি ব্যায়াম মানেই জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিটের একটি 'ব্রিস্ক ওয়াকিং' বা দ্রুত হাঁটা আপনার জীবনে জাদুর মতো পরিবর্তন আনতে পার
হার্টের বন্ধু: প্রতিদিন হাঁটলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৩৫-৪০% কমে যায়। �
মানসিক প্রশান্তি: হাঁটার সময় শরীরে 'এন্ডোরফিন' হরমোন নিঃসৃত হয়, যা স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে মনকে ফুরফুরে রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে শরীরকে ফিট রাখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটা সবচেয়ে কার্যকরী প্রাকৃতিক ঔষধ।
অজুহাত নয়, শুরুটা হোক আজই!
আমরা প্রায়ই বলি "সময় নেই"। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, দিনে আমরা কতটা সময় ফেসবুক স্ক্রল করে বা অকারণে বসে নষ্ট করি? সেখান থেকে মাত্র ৩০ মিনিট নিজের শরীরের জন্য বিনিয়োগ করা কি খুব কঠিন?
টিপস:
১. লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
২. অফিসে বা বাজারে যাওয়ার সময় কিছুটা পথ হেঁটে যান।
৩. প্রিয় কোনো গান বা পডকাস্ট শুনতে শুনতে হাঁটুন, সময় বুঝতেই পারবেন না!
উপসংহার
হাজার টাকার জিম মেম্বারশিপ বা দামি ডায়েট চার্টের চেয়ে "নিয়মিত হাঁটা" অনেক বেশি কার্যকর। মনে রাখবেন, আজকের অলসতা আগামীকালের বড় কোনো রোগের আমন্ত্রণপত্র হতে পারে।
তাই আজই এক জোড়া আরামদায়ক জুতো পরে বেরিয়ে পড়ুন। আপনার শরীর আপনার মন্দির, এর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আপনারই
উট - একটি অবাক করা প্রাণী!
"তারা কি উটের দিকে দেখে না - কিভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?"
(আল গাশিয়াহ:১৭)
উট এমন এক প্রাণী যার শরীরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি এটি মরুভূমির কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য পুরোপুরি অভিযোজিত করেছে। আসুন, জানি উটের কিছু অসাধারণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে:
তাজা ও নোনতা উভয় জল পান করার ক্ষমতা:
উটের কিডনি নোনা পানি থেকে অতিরিক্ত লবণ ফিল্টার করে, এটিকে পানযোগ্য করে তোলে। অতিরিক্ত লবণ পরে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করা হয়।
কাঁটা ঝোপ খাওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা:
উটের লালা মোটা এবং বিশেষ গুণযুক্ত যা কাঁটা নরম করে। এর ঠোঁট এবং মুখের ভেতরের গঠন শক্তিশালী, যা উটকে সহজেই কাটা গাছ চিবাতে সহায়তা করে।
প্রতিরক্ষামূলক ডবল চোখের পাতা:
উটের চোখের পাতা দুটি স্তরের হয়—একটি পাতলা ও স্বচ্ছ এবং অন্যটি মোটা ও মাংসপেশী। বালি ঝড়ের সময়, উট তার স্বচ্ছ চোখের পাতা বন্ধ করে যাতে বালি চোখে প্রবেশ না করে, তবে তা দেখতে পায়। ঘন চোখের পাতা ধুলোবালি থেকেও চোখকে রক্ষা করে।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা:
উট তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারে।
আপনার ভাগ্য কি কপালে নাকি ডিএনএ-তে লেখা? জিনের 'গোপন ডায়েরি' এডিটিংয়ে আধুনিক বিজ্ঞান!
এতদিন জানতেন তো, কপালে যা লেখা আছে তা মোছা যায় না? কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান বলছে—যদি লেখাটা আপনার 'জিনে' (Gene) থাকে, তবে সেখানে কিছুটা এডিট বা কাটছাঁট করার সুযোগ কিন্তু চলে আসতেছে!
হয়তো ভাবছেন, এ আবার কেমন জাদুকরী কথা? চলুন, বিজ্ঞানের এই জগতটা সহজ করে বুঝি।
১. জিনোম সিকোয়েন্সিং: আপনার শরীরের 'ফুল বায়োডাটা'!
আপনার শরীর কীভাবে চলবে, আপনার চোখের রঙ কেমন হবে, এমনকি ভবিষ্যতে আপনার বড় কোনো রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না—সবকিছু লেখা থাকে আপনার জিনের ভেতর।
জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো সেই টেকনোলজি, যা দিয়ে আপনার শরীরের এই কোটি কোটি অক্ষরের 'গোপন কোড' পড়ে ফেলা যায়।
কেন এটি দরকার? ধরুন, একটা জাইগোট (ভ্রূণ) তৈরি হলো। আধুনিক প্রযুক্তিতে তার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আগেভাগেই জানা সম্ভব তার ভবিষ্যতে কোনো বংশগত রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না। এটা অনেকটা লটারি জেতার আগে নাম্বার জেনে যাওয়ার মতো!
২. জিন থেরাপি: শরীরের ভেতর 'সফটওয়্যার আপডেট'!
আমাদের কম্পিউটারে ভাইরাস ঢুকলে যেমন অ্যান্টি-ভাইরাস দিই, জিন থেরাপি অনেকটা তেমনই। যদি কারো শরীরে কোনো ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকে যা রোগ সৃষ্টি করছে, তবে ডাক্তাররা এখন তিনটি কাজ করার চেষ্টা করছেন:
প্রতিস্থাপন: খারাপ জিন সরিয়ে ভালো জিন বসিয়ে দেওয়া।
নিষ্ক্রিয় করা: যে জিনটি ঝামেলা করছে, তাকে 'সুইচ অফ' করে দেওয়া।
সংশোধন: জিনের ভেতরে থাকা ভুল কোডটি ঠিক করে দেওয়া।
কিভাবে করা হয়? বিজ্ঞানীরা অনেক সময় 'বন্ধু' ভাইরাসকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করে শরীরের ভেতর সঠিক জিনের অনুলিপি পাঠিয়ে দেন। ভাবুন তো, ভাইরাস এখন আর রোগ ছড়াচ্ছে না, বরং কুরিয়ার সার্ভিসের মতো আপনার শরীরে সুস্থতা পৌঁছে দিচ্ছে!
৩. জিনোম এডিটিং (CRISPR): জিনের 'কাট-কপি-পেস্ট'!
বর্তমানে বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চমকের নাম হলো CRISPR-Cas9। এটা অনেকটা আপনার কি-বোর্ডের 'ব্যাকস্পেস' বা 'ডিলিট' বাটনের মতো। জিনের যে অংশটুকুতে ত্রুটি আছে, ঠিক সেই অংশটুকু কেটে সেখানে সঠিক কোড বসিয়ে দেওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: হয়তো এমন একদিন আসবে, যখন ডায়াবেটিস বা থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগগুলো জন্মের আগেই জিনের পাতা থেকে মুছে ফেলা যাবে!
নৈতিকতা বনাম বিজ্ঞান: আমরা কি 'ডিজাইনার বেবি' বানাতে যাচ্ছি?
সুবিধা তো অনেক, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। যদি আমরা জিনের সব কোড বদলে দিতে পারি, তবে কি মানুষ নিজের ইচ্ছামতো ফরমায়েশ দিয়ে 'সুপার ইন্টেলিজেন্ট' বা 'অলিম্পিক অ্যাথলেট' সন্তান বানাতে চাইবে? একে বলা হয় 'Designer Babies'। এটি একটি জটিল নৈতিক (Ethical) বিষয়। বিজ্ঞান কি তবে স্রষ্টার কাজে হস্তক্ষেপ করছে? এই বিতর্ক কিন্তু বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে!
শেষ কথা: বিজ্ঞান যখন আশার আলো
জিন প্রযুক্তি এখনো অনেকটা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, এটি আমাদের বংশগত রোগের অন্ধকার থেকে মুক্তি দেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ক্যানসার থেকে শুরু করে বিরল সব জেনেটিক ডিসঅর্ডার—সবকিছুর সমাধান হয়তো লুকিয়ে আছে আমাদের এই ক্ষুদ্র ডিএনএ-র ভাঁজেই।
ভবিষ্যৎ পৃথিবী হবে সুস্থ জিনের, যেখানে রোগ থাকবে কম আর প্রাণশক্তি থাকবে ভরপুর!
সচেতন থাকুন, বিজ্ঞানের সাথে থাকুন। আপনার শরীর আপনার সম্পদ, আর বিজ্ঞান তার পাহারাদার!
তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায়—
Muhammad Nasim Hossain
মাইক্রোবায়োম- আপনার জিনের "রিমোট কন্ট্রোল"
আগের পর্বে আমরা জেনেছিলাম পরিবেশ কীভাবে আপনার জিনের নকশাকে বদলে দেয়। আজ কথা বলব এমন এক সাম্রাজ্য নিয়ে যারা আপনার শরীরের ভেতরেই বাস করে, কিন্তু তারা আপনার নিজের অংশ নয়! আপনার জিনের ‘রিমোট কন্ট্রোল’ কিন্তু অনেকটাই তাদের হাতে।
মনে করুন, আপনার শরীর একটা বিশাল বড় রাজপ্রাসাদ। আপনি সেই প্রাসাদের মালিক (আপনার জিন)। কিন্তু সেই প্রাসাদে কোটি কোটি ক্ষুদ্র ‘ভাড়াটে’ বাস করে—যাদের আমরা বলি মাইক্রোবায়োম (Microbiome)। এই ভাড়াটেরা যদি ভালো হয়, তবে প্রাসাদ ঝলমল করবে; আর যদি তারা দুষ্টু হয়, তবে মালিকের (জিনের) বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে!
মাইক্রোবায়োম আসলে কারা?
সহজ কথায়, আপনার অন্ত্রে, ত্বকে এবং সারা শরীরে বসবাসকারী ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক)। মজার ব্যাপার হলো, আপনার শরীরে আপনার নিজের কোষের চেয়ে এই অণুজীবের সংখ্যা সম্ভবত বেশি! অর্থাৎ, আপনি আসলে যতটা ‘মানুষ’, তার চেয়ে বেশি ‘অণুজীবের কলোনি’!
জিনের সাথে এদের গোপন মাখামাখি:
১. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ‘প্রথম উপহার’:
শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, সে তার মায়ের কাছ থেকে কেবল জিন পায় না, পায় এক বিশাল অণুজীবের ভাণ্ডার। জন্মের সময় এবং মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এই ‘বন্ধুরা’ শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। এটাই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রথম ‘সফটওয়্যার ইনস্টলেশন’।
২. পেট ঠিক তো দুনিয়া ঠিক (The Gut-Brain Axis):
আপনার জিন হয়তো বলছে আপনি খুব সাহসী, কিন্তু আপনার পেটের মাইক্রোবায়োম যদি উল্টোপাল্টা হয়, তবে আপনার অযথাই দুশ্চিন্তা (Anxiety) হতে পারে। এই অণুজীবগুলো এমন সব কেমিক্যাল তৈরি করে যা সরাসরি আপনার মস্তিষ্ক এবং জিনের প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, আপনি কী খাচ্ছেন, তা ঠিক করে দিচ্ছে আপনার ‘মেজাজ’ কেমন হবে!
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওস্তাদ:
আপনার জিনগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) অনেকটা অলস পুলিশের মতো। মাইক্রোবায়োম তাদের ট্রেনিং দেয়—কাকে মারতে হবে আর কাকে ছাড়তে হবে। আপনার ‘ভাড়াটে’রা যদি শক্তিশালী হয়, তবে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো জিনগত ঝুঁকিগুলোও অনেকটা দমে থাকে।
আপনার শরীরের ‘অদৃশ্য বাগান’ কীভাবে সাজাবেন? (টিপস)
আপনার এই ক্ষুদে বন্ধুদের খুশি রাখতে পারলেই আপনার জিনগুলো শান্তিতে কাজ করতে পারবে:
ফাইবার হোক আপনার হাতিয়ার: শাকসবজি আর ফলমূল হলো মাইক্রোবায়োমের প্রিয় বিরিয়ানি! আপনি যত বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাবেন, আপনার ভেতরের ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো তত শক্তিশালী হবে।
চিনি হলো এদের শত্রু: অতিরিক্ত চিনি আর প্রসেসড ফুড আপনার শরীরে ‘খারাপ গ্যাংস্টার’ ব্যাকটেরিয়াদের জন্ম দেয়, যারা আপনার ডিএনএ-তে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে।
মাটি আর প্রকৃতির কাছে যান: অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Germaphobia) অনেক সময় ভালো ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। মাঝে মাঝে খোলা বাতাসে যান, গাছপালা নাড়াচাড়া করুন—নতুন নতুন বন্ধু ব্যাকটেরিয়া আপনার শরীরে ঢুকতে দিন।
আসল টুইস্ট: আপনি কী তাদের চালাচ্ছেন, নাকি তারা আপনাকে?
বিজ্ঞান বলছে, আপনি যা খেতে পছন্দ করেন (যেমন: মিষ্টি বা ফাস্ট ফুড), অনেক সময় তা আপনার ইচ্ছা নয়; বরং আপনার পেটের ব্যাকটেরিয়াদের চাহিদা! তারা আপনার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে আপনাকে দিয়ে কেনায়। ভাবুন একবার, শরীর আপনার কিন্তু রিমোট কন্ট্রোল কার হাতে!
আজকের ‘টেক-অ্যাওয়ে’ ডোজ:
আপনার মাইক্রোবায়োম হলো আপনার জিনের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া করে যেমন শান্তিতে থাকা যায় না, তেমনি এই অণুজীবদের অবহেলা করে সুস্বাস্থ্য সম্ভব নয়।
শেষ কথা:
আপনার জিন আপনার জীবনের ব্লু-প্রিন্ট হতে পারে, কিন্তু সেই ব্লু-প্রিন্টকে পাহারা দেয় এই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন অণুজীব। আজ থেকেই আপনার ভেতরের এই ক্ষুদে বন্ধুদের যত্ন নেওয়া শুরু করুন। ভালো খাবার আর সুন্দর লাইফস্টাইল দিয়ে তাদের পোষ মানান—দেখবেন আপনার জিনগত সম্ভাবনাগুলো ম্যাজিকের মতো কাজ শুরু করেছে!
আপনার শরীরের ভেতরের এই বিশাল বিশ্বকে ভালোবাসুন, তবেই আপনি থাকবেন ফিট আর ফুরফুরে!
#Microbiome #Epigenetics #HealthRevolution #Genetics #HealthyLiving
তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায়—
Muhammad Nasim Hossain
ভয় বনাম আশা: কোনটা আপনার জিনকে নিয়ন্ত্রণ করে বেশি?
Fear vs Hope — আপনার শরীরের গোপন পাওয়ার সুইচ!
আগের পর্বে আমরা জেনেছিলাম, বিশ্বাস কীভাবে বিজ্ঞানের সাথে হাত মিলিয়ে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ রসায়নকে বদলে দেয়। আজ আমরা আলোচনা করব আমাদের মনের এমন দুটি প্রবল শক্তি নিয়ে, যারা প্রতিমুহূর্তে আপনার শরীরের ভেতর এক অদৃশ্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে ভয় (Fear), অন্যদিকে আশা (Hope)। আপনার জন্য প্রশ্ন হলো—এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জিতছে কে? এবং আপনার শরীর কার নির্দেশে চলছে?
১. ভয়: শরীরের জন্য এক নীরব বিষ
ভয় কেবল মনের একটি সাময়িক অনুভূতি নয়—এটি আপনার শরীরের ওপর সরাসরি একটি বায়োকেমিক্যাল অ্যাটাক। আপনি যখন কোনো কিছু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তা বা ভয় পান, তখন আপনার শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো ঘটে:
স্ট্রেস হরমোনের বন্যা: মস্তিষ্ক থেকে অনবরত কর্টিসল (Cortisol) নির্গত হয়।
সিস্টেম শাটডাউন: আপনার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ‘স্ট্যান্ডবাই মোডে’ চলে যায়। কারণ শরীর তখন মনে করে সামনে বড় কোনো বিপদ, তাই সে রোগ ঠেকানোর চেয়ে বাঁচার লড়াইয়ে শক্তি খরচ করে।
শারীরিক ক্ষতি: বিজ্ঞান বলছে, দীর্ঘদিন ভয়ে থাকলে শরীরে ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়—যা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
সহজ কথায়: ভয় পাওয়া মানে নিজের শরীরকে প্রতিদিন নিজ হাতে অল্প অল্প করে বিষ খাওয়ানো।
২. আশা: আপনার শরীরের ‘ইন-বিল্ট’ ফার্মেসি
এবার মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখুন। যখন আপনি মনের মধ্যে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক একটি শক্তিশালী ল্যাবরেটরির মতো কাজ শুরু করে। আপনি যখন ভাবেন—"সব ঠিক হয়ে যাবে" বা "আমি এটা কাটিয়ে উঠব", তখন শরীর নিঃসরণ করে:
সেরোটোনিন: যা আপনাকে মানসিক শান্তি দেয়।
ডোপামিন: যা আপনাকে কাজে উৎসাহ বা মোটিভেশন জোগায়।
এন্ডোরফিন: যা শরীরের প্রাকৃতিক পেইনকিলার হিসেবে কাজ করে।
এই হরমোনগুলো সরাসরি আপনার জিনের এক্সপ্রেশন বদলে দেয় এবং শরীরকে ‘রিপেয়ার মোডে’ নিয়ে যায়। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়—আশা কেবল আবেগ নয়, এটি একটি শক্তিশালী মেডিসিন।
৩. জিন কি ভাগ্য, নাকি আপনার মনের দাস? (Epigenetics)
আপনার জিন অনেকটা একটি লোড করা বন্দুকের (Loaded Gun) মতো। কিন্তু সেই বন্দুকের ট্রিগার টানে কে? উত্তর হলো—আপনার পরিবেশ এবং আপনার মন।
ভয় → আপনার শরীরের রোগ সৃষ্টিকারী জিনগুলোকে 'ON' করে দেয়।
আশা → শরীরের নিরাময়কারী (Healing) এবং দীর্ঘায়ু জিনগুলোকে 'ON' করে।
এটাই হলো এপিজেনেটিক্স (Epigenetics)-এর মূল জাদু। অর্থাৎ, আপনার ভবিষ্যৎ শুধু আপনার পূর্বপুরুষের ডিএনএ দিয়ে নির্ধারিত নয়; আপনার মানসিক অবস্থাও আপনার শারীরিক সুস্থতার কারিগর।
৪. বিশ্বাস যখন ভয়ের ঢাল
এখানেই বিশ্বাসের মাহাত্ম্য-
বিশ্বাস ভয়কে বলে— "তুমি একা নও, ভয় পেয়ো না।
" আর আশাকে বলে— "তুমি ঠিক পথেই আছো।"
যখন একজন মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে, "আমার সাথে এমন একজন পরম সত্তা আছেন যিনি সব দেখছেন এবং আমাকে সাহায্য করবেন,
" তখন বিজ্ঞানের ভাষায় তার শরীরে 'রিল্যাক্সেশন রেসপন্স' তৈরি হয়।
ধর্মীয় ভাষায় একেই বলে 'তাওয়াক্কুল' বা পূর্ণ সমর্পণ।
ভাষা ভিন্ন হলেও শরীর ও মনের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব হুবহু এক!
আসল সত্য: ব্রেক বনাম এক্সিলারেটর
আপনার শরীর হলো একটি দামি গাড়ি।
ভয় হলো সেই গাড়ির ব্রেক (Brake)
আশা হলো সেই গাড়ির এক্সিলারেটর (Accelerator)
গাড়ি চালানোর জন্য ব্রেকের প্রয়োজন আছে (সতর্কতা হিসেবে), কিন্তু আপনি যদি সারাক্ষণ ব্রেক চেপে ধরে রাখেন, তবে গাড়ি যেমন এগোবে না, তেমনি ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যাবে।
তাই, জীবনকে এগিয়ে নিতে আশার এক্সিলারেটর চাপা জরুরি
আজকের 'লাইফ-হ্যাক' ডোজ
১. ভয়কে প্রশ্ন করুন: যখনই কোনো ভয় আপনাকে আঁকড়ে ধরবে, নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন— "এই ভয়টা কি বর্তমানের কোনো বাস্তব বিপদ, নাকি আমার কল্পনার ভবিষ্যৎ?" দেখবেন অর্ধেক ভয় ওখানেই হাওয়া!
২. আশা ট্রেনিং (Hope Training): প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত একটি ভালো সম্ভাবনার কথা ভাবুন যা আগামীকাল ঘটতে পারে। আপনার অবচেতন মন সারা রাত সেই পজিটিভ কেমিক্যালগুলো তৈরি করতে ব্যস্ত থাকবে।
৩. সমর্পণ বা তাওয়াক্কুল: সব সমস্যার সমাধান আপনার হাতে নেই। কিছু বিষয় বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিন। এই ‘ছেড়ে দেওয়াটাই’ আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখার সবচেয়ে বড় থেরাপি।
শেষ কথা:
ভয় আপনাকে হয়তো কেবল টিকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আশা আপনাকে বাঁচতে শেখায়। আপনার শরীর প্রতি সেকেন্ডে আপনার মনের নির্দেশ মেনে কাজ করছে।
তাই সিদ্ধান্ত আপনার—আপনি আজ আপনার কোষগুলোকে ভয় খাওয়াবেন, নাকি আশার আলো দেখাবেন?
নিজের মনের যত্ন নিন, কারণ আপনার মনই আপনার জিনের সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক!
#FearVsHope #Epigenetics #MentalHealth #ScienceOfFaith #MindBodyConnection
তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায়—
Muhammad Nasim Hossain
গর্ভাবস্থায় মায়ের মন: শিশুর মস্তিষ্কের "সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার"!
আপনিই আপনার সন্তানের প্রথম শিক্ষক, আর আপনার 'মন' হলো তার প্রথম স্কুল। তাই হাসুন, স্বপ্ন দেখুন এবং সুস্থ থাকুন!
আমরা সবাই জানি, গর্ভাবস্থায় মায়ের ভালো খাবার খাওয়া জরুরি। কিন্তু আপনি কি জানেন? মা কী খাচ্ছেন তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে মা কী "ভাবছেন" বা কী "অনুভব" করছেন!
বিজ্ঞান বলছে, গর্ভের শিশু কেবল মায়ের রক্ত থেকে পুষ্টি নেয় না, সে মায়ের প্রতিটি আবেগ (Emotion) থেকেও তার ভবিষ্যতের স্বভাব ও বুদ্ধির রসদ সংগ্রহ করে। একেই বলে এপিজেনেটিক কানেকশন!
গর্ভাশয় কি একটি 'ওয়াইফাই জোন'?
হ্যাঁ, ঠিক তাই! মায়ের মস্তিষ্ক আর গর্ভের শিশুর মধ্যে চলে এক অদৃশ্য ডেটা ট্রান্সফার। মা যখন কোনো তীব্র আবেগ অনুভব করেন, তখন তার শরীরে কিছু রাসায়নিক সিগন্যাল বা হরমোন তৈরি হয়, যা সরাসরি প্লাসেন্টার মাধ্যমে শিশুর কাছে পৌঁছে যায়।
১) হাসিখুশি মা = "হ্যাপি জিন" অন!
মা যখন আনন্দিত থাকেন বা হাসেন, তখন শরীরে ডোপামিন ও এন্ডোরফিন-এর মতো 'ফিল গুড' হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি শিশুর মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যা তার নিউরাল পাথওয়ে বা মস্তিষ্কের গঠনকে পজিটিভভাবে প্রভাবিত করে। ফলাফল? শান্ত মেজাজের এবং বুদ্ধিদীপ্ত এক শিশু!
২) স্ট্রেস ও দুশ্চিন্তা: শিশুর ভবিষ্যতের 'উদ্বেগ' হার্টবিট!
মা যদি দীর্ঘসময় ধরে প্রচণ্ড মানসিক চাপে বা ভয়ে থাকেন, তবে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়।
এপিজেনেটিক্স বলছে, এই অতিরিক্ত কর্টিসল শিশুর মস্তিষ্কের সেই অংশকে (Amygdala) অতি-সক্রিয় করে দিতে পারে, যা ভয় ও উদ্বেগের সাথে যুক্ত।
এর ফলে জন্মের পর শিশুটি খিটখিটে হওয়া, বেশি কাঁদা বা ভবিষ্যতে তার মধ্যে মনোযোগের অভাব (ADHD) হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
৩) মিউজিক ও কথা বলা: মস্তিষ্কের টিউনিং
মায়ের পছন্দের গান বা গর্ভের শিশুর সাথে আলতো করে কথা বলা—এগুলো স্রেফ পাগলামি নয়! এই শব্দতরঙ্গগুলো শিশুর শ্রবণশক্তি ও ভাষার প্রাথমিক ভিত তৈরি করে এবং শিশুর মনে নিরাপত্তার বোধ জাগিয়ে তোলে।
মায়ের মানসিক রিমোট কন্ট্রোল: কী করবেন?
আপনার গর্ভের ছোট্ট সোনামণিকে পৃথিবীর সেরা 'জেনেটিক গিফট' দিতে হলে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিন:
ডিজিটাল ডিটক্স: ভয়ের মুভি বা নেতিবাচক খবর এড়িয়ে চলুন। আপনার ব্রেন যা দেখছে, আপনার সন্তানও যেন তারই প্রতিচ্ছবি পাচ্ছে।
গভীর শ্বাস ও ধ্যান: প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। আপনার শান্ত মন মানেই শিশুর জন্য একটি শান্ত পৃথিবী।
বাবার ভূমিকা (The Support System): এই সময়ে বাবার সবচেয়ে বড় কাজ হলো মায়ের চারপাশের পরিবেশকে হাসিখুশি রাখা। মনে রাখবেন, বাবার দেওয়া মানসিক প্রশান্তি পরোক্ষভাবে সন্তানের বুদ্ধিমত্তা বাড়াচ্ছে!
শেষ কথা
গর্ভাবস্থা মানে কেবল একটি শরীর গঠন নয়, এটি একটি "মন" গঠনও বটে। আপনার জিনে হয়তো রাগ বা উদ্বেগের ইতিহাস আছে, কিন্তু গর্ভাবস্থায় আপনার ইতিবাচক মানসিক অবস্থা সেই জিনের সুইচগুলোকে 'অফ' করে দিতে পারে!
মজার তথ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মা যদি নিয়মিত গান শোনেন বা বই পড়েন, জন্মের পর সেই সুর বা কণ্ঠ শুনলে শিশুটি দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। কারণ সে সেটি আগেই 'চিনে' ফেলেছে!
তথ্য গবেষণা ও অনুপ্রেরণায়—Muhammad Nasim Hossain
একই বাবা-মায়ের সন্তান, অথচ আমরা কেউ কার্বন কপি নই! কেন?
রহস্যের নাম—জিনগত প্রকরণ বা জেনেটিক ভ্যারিয়েশন (Genetic Variation)
ছোটবেলায় নিশ্চয়ই শুনেছেন—আত্মীয়রা এসে বলে, "তোর চোখটা মায়ের মতো, কিন্তু রাগটা একদম বাবার মতো!"
আবার আপনার নিজের ভাই বা বোনের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, "আমরা তো একই ছাদের নিচে বড় হয়েছি, একই খাবার খেয়েছি, বাবা-মাও এক—তবুও ও আমার চেয়ে এত আলাদা কেন?"
আজকের পর্বে আমরা প্রকৃতির সেই "মাস্টার শেফ" এর রান্নার গোপন রেসিপি জানব, যিনি একই উপাদান দিয়ে প্রতিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের মানুষ তৈরি করেন!
১. জীবনের লটারি: বাবার অর্ধেক + মায়ের অর্ধেক = নতুন আপনি!
নিষিক্তকরণের (Fertilization) সময় যখন শুক্রাণু আর ডিম্বাণু মিলিত হয়, তখন মূলত দুটি ভিন্ন পরিবারের ইতিহাসের মিলন ঘটে।
বাবার শরীর থেকে আসে ২৩টি ক্রোমোজোম এবং মায়ের শরীর থেকে আসে ২৩টি। মোট ৪৬টি ক্রোমোজোমের এই প্যাকেজটিই হলো আপনার জীবনের ব্লু-প্রিন্ট।
কিন্তু আসল ম্যাজিকটা ঘটে এর ঠিক আগের ধাপে!
২. মায়োসিস ও ক্রসিং ওভার: প্রকৃতির তাস ফাটানোর খেলা!
শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরির সময় আমাদের শরীরে 'মায়োসিস' (Meiosis) নামে এক বিশেষ ধরণের কোষ বিভাজন হয়। এটাকে আপনি বলতে পারেন "তাসের বাণ্ডিল শাফেল করা বা ফাটানো"।
ধরুন, বাবার কাছে এক সেট তাসের বাণ্ডিল (জিন) আছে, আর মায়ের কাছে এক সেট। মায়োসিসের সময় প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়ম কাজ করে, যার নাম "ক্রসিংওভার" (Crossing Over)।
ক্রসিং ওভার আসলে কী? (অদল-বদল)
কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোমগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে এবং নিজেদের কিছু অংশ অদল-বদল করে নেয়।
ব্যাপারটা অনেকটা এমন—আপনি আর আপনার বন্ধু পরীক্ষার আগে বইয়ের কিছু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে নিজেদের মধ্যে অদল-বদল করে নিলেন। ফলে আপনার বইটাও আর আগের মতো রইল না, বন্ধুরটাও না। দুটোর মধ্যেই নতুন তথ্যের মিশ্রণ ঘটল!
এই "জিনগত অদল-বদল"-এর কারণেই কোনো শুক্রাণু বা ডিম্বাণুই হুবহু একরকম হয় না। প্রতিটি জননকোষ একেকটি ইউনিক প্যাকেট!
৩. আপনি কেন 'লিমিটেড এডিশন'?
আপনার ভাই বা বোন যখন জন্মালো, তখন বাবা-মায়ের জিনের যেই কম্বিনেশন বা মিক্সিং হয়েছিল, আপনার জন্মের সময় তাসগুলো আবার নতুন করে শাফেল করা হয়েছে। ফলে কম্বিনেশনটা হয়েছে ভিন্ন।
এজন্যই ভাই-বোনের মধ্যে কিছু মিল থাকে (কারণ তাসের বাণ্ডিল একই), কিন্তু তারা হুবহু এক হয় না (কারণ প্রতিবার শাফেল বা বাটা হয়েছে ভিন্নভাবে)।
পৃথিবীতে ৮০০ কোটি মানুষ আছে, কিন্তু আপনার ডিএনএ-এর হুবহু গঠন আর কারো নেই। You are truly one in 8 billion!
৪. প্রকৃতি কেন এমন করে? (অভিযোজন ও জীববৈচিত্র্য)
এখন প্রশ্ন হলো, প্রকৃতি কেন ফটোকপি না করে এত ঝামেলা করে ভ্যারিয়েশন বা ভিন্নতা তৈরি করে?
উত্তর হলো—টিকে থাকা বা সার্ভাইভাল।
যদি আমরা সবাই হুবহু এক হতাম, তবে একটি মাত্র শক্তিশালী ভাইরাস বা পরিবেশের একটি পরিবর্তন আমাদের সবাইকে একসাথে শেষ করে দিতে পারত। কিন্তু এই জিনগত বৈচিত্র্যের কারণেই কেউ কেউ শীতে বেশি কষ্ট পায়, আবার কেউ গরমে। কেউ কোনো রোগে কাবু হয়, আবার কেউ সেই রোগকে জয় করে ফেলে।
এই বৈচিত্র্যই (Biodiversity) হলো প্রকৃতির ঢাল, যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।
শেষ কথা
সুতরাং, আয়নায় যখন নিজেকে দেখবেন, মনে রাখবেন—আপনার এই চেহারা, স্বভাব এবং বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ-কোটি জিনের এক অদ্ভুত সুন্দর লটারির ফলাফল। আপনি শুধু আপনার বাবা-মায়ের সন্তানই নন, আপনি প্রকৃতির লক্ষ বছরের বিবর্তনের এক অনন্য স্বাক্ষর।
নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের এই অনন্যতাকে উদযাপন করুন। কারণ, আপনার মতো আর দ্বিতীয় কেউ এই মহাবিশ্বে নেই!
সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং ন্যাচারাল লাইফস্টাইলের সাথেই থাকুন।
তথ্য গবেষণা ও সংকলনে—Muhammad Nasim Hossain
বারবার পড়েও মনে থাকে না? জাপানি পদ্ধতিতে পড়লে থাকবে আজীবন মনে
প্রকাশিত: ২৩:১১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করেও পরীক্ষার হলে গিয়ে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়—এ অভিজ্ঞতা নতুন নয়। কেউ অঙ্কের ফর্মুলা ভুলে যান, কেউ আবার ইতিহাসের সন-তারিখ গুলিয়ে ফেলেন। যতই পড়া হোক না কেন, ঠিক সময়ে মনে না পড়ার যন্ত্রণায় ভোগেন বহু শিক্ষার্থী। তবে জাপানের কিছু কার্যকর পড়াশোনার কৌশল এই সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে।
কাইদান হোশিকি: ধাপে ধাপে শেখার কৌশল
জাপানি ভাষায় ‘কাইদান’ অর্থ সিঁড়ি। যেমন এক লাফে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠা যায় না, পড়াশোনাতেও তেমনই ধাপে ধাপে এগোতে হয়। বড় একটি অধ্যায় একদিনে শেষ করার চেষ্টা করলে বোঝা ও মনে রাখা—দুটোই কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পদ্ধতিতে বলা হয়, বড় অধ্যায়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে পড়তে। একটি অংশ ভালোভাবে বোঝার পরেই পরের অংশে যাওয়া উচিত। এতে পড়ার চাপ কমে, ভয় কাটে এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন মনে থাকে।
শিকাকু-কা: ছবি দিয়ে শেখা
গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দের চেয়ে ছবি মস্তিষ্কে অনেক বেশি সহজে গেঁথে যায়। তাই পড়ার সময় ছবি, চার্ট, মাইন্ড ম্যাপ বা মডেলের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর।
শুধু বই পড়ে যাওয়ার বদলে যদি বিষয়টি আঁকা, ডায়াগ্রাম বা ভিডিওর মাধ্যমে বোঝা যায়, তাহলে তা অনেক দ্রুত ও স্থায়ীভাবে মনে থাকে।
অনদুকু: জোরে জোরে পড়ার উপকারিতা
মা-ঠাকুরমাদের বলা “জোরে পড়ো”—এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। জাপানি পদ্ধতি ‘অনদুকু’ অনুযায়ী, জোরে পড়লে চোখ, মুখ ও কান—তিনটি ইন্দ্রিয় একসঙ্গে কাজ করে।
তবে শুধু শব্দ করে পড়লেই হবে না; বুঝে পড়া জরুরি। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং স্মৃতিতে তথ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়।
জিকো-সেতসুমেই: নিজেকে নিজে বোঝানো
এই পদ্ধতিতে বলা হয়, পড়া বিষয়টি নিজের ভাষায় নিজের কাছেই ব্যাখ্যা করতে। যেন আপনি নিজেই নিজের শিক্ষক।
নিজেকে বোঝানোর সময় মস্তিষ্ক তথ্যগুলো গুছিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয় এবং অনেকদিন মনে থাকে। আসলে কাউকে বোঝাতে গেলে আগে নিজেকে ভালোভাবে বুঝতে হয়—এটাই এই কৌশলের মূল শক্তি।
পড়াশোনায় সফল হতে ৫ ধাপ অনুসরণ করুন
১. বিষয়বস্তু ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন
২. বুঝে পড়ুন, মুখস্থ নয়
৩. ছবি, চার্ট বা মডেলের সাহায্য নিন
৪. জোরে জোরে পড়ে শোনান নিজেকে
৫. শেষে নিজের ভাষায় নিজেকে বোঝান
পড়াশোনা মানেই শুধু দীর্ঘ সময় বইয়ের সামনে বসে থাকা নয়। কীভাবে পড়ছেন, সেটাই আসল। জাপানি এই কৌশলগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে পড়া হবে সহজ, মনে থাকবে দীর্ঘদিন—আর পরীক্ষার হলে আর তালগোল পাকাবে না।
টাকার চিন্তা ডিপ্রেশনের থেকেও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে দেহ ও মস্তিষ্ককে।
লন্ডনে পাঁচ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের উপর পরীক্ষা করে এই তথ্য দেয় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা যায়, স্নায়ুবিক জটিলতা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে 'টাকার চিন্তা' বিষন্নতার চেয়েও বেশি দায়ি। তাছাড়া এই তালিকায় অযত্ন, শারীরিক অক্ষমতা, শোক ও ডিভোর্সেরও কিছুটা দায় রয়েছে। ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানপ্রিয়।
টাকার চিন্তা ডিপ্রেশনের থেকেও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে দেহ ও মস্তিষ্ককে।
লন্ডনে পাঁচ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের উপর পরীক্ষা করে এই তথ্য দেয় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা যায়, স্নায়ুবিক জটিলতা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে 'টাকার চিন্তা' বিষন্নতার চেয়েও বেশি দায়ি। তাছাড়া এই তালিকায় অযত্ন, শারীরিক অক্ষমতা, শোক ও ডিভোর্সেরও কিছুটা দায় রয়েছে।
© বিজ্ঞানপ্রিয়।
রাগ আর ভয়ই হতে পারে আপনার সাফল্যের সবচেয়ে বড় অস্ত্র?
শুধু জানতে হবে, লাগামটা কোথায় ধরবেন।
১. রাগ (Anger): ধ্বংস নয়, জেদে রূপান্তর করুন
রাগ কেন হয়?
খুব সহজ যখন কিছু আমাদের মনের মতো হয় না।
অপমান হলে রাগ হয়, অভাব থাকলে রাগ হয়, ব্যর্থ হলে রাগ হয়।
বেশিরভাগ মানুষ এই রাগের মাথায় চিৎকার করে, জিনিস ভাঙে, অন্যকে আঘাত করে।
ফলাফল? শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা হয় নিজেরই।
কিন্তু আপনি চাইলে অন্যভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
এই রাগটাকে আগুন বানান
নিজেকে বলুন,
“আজ যে মানুষটা আমাকে ছোট করল, আমি নিজের সাফল্য দিয়েই তাকে জবাব দেব।”
এই রাগকে বদলে দিন জেদে।
যেদিন কাজ করতে ইচ্ছে করবে না, সেদিন সেই অপমানের কথা মনে করে নিজেকে তাতিয়ে তুলুন।
মনে রাখবেন
দুনিয়ার প্রায় সব বড় সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল কোনো না কোনো অপমান, কষ্ট বা রাগ থেকে।
রাগ থেকে জন্ম নেওয়া জেদই মানুষকে দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করায়।
২. ভয় (Fear): বাধা নয়, জ্বালানি বানান
ভয় আমাদের থামিয়ে দেয়
নতুন কিছু শুরু করতে ভয়, হারাতে ভয়, ব্যর্থ হতে ভয়।
কিন্তু সত্যটা হলো
ভয় থাকা খারাপ না, ভয়কে ভয় পাওয়া খারাপ।
ভয়কে কাজে লাগান।
যদি ভয় থাকে পরীক্ষায় ফেল করবেন
এই ভয়ই আপনাকে রাত জেগে পড়তে বাধ্য করবে।
যদি ভয় থাকে ভবিষ্যতে পরিবারকে সুখে রাখতে পারবেন না
এই ভয়ই আপনাকে প্রতিদিন ১০ গুণ বেশি পরিশ্রম করাবে।
আসলে, অসফল হওয়ার ভয়ই মানুষকে সাফল্যের সবচেয়ে কাছে নিয়ে যায়।
যেদিন আপনার ভয় আপনার অলসতাকে হার মানাবে
সেদিনই আপনি বিজয়ী।
শেষ কথা
আবেগ বা ইমোশন প্রকৃতি আমাদের এমনি এমনি দেয়নি।
ছুরি দিয়ে ফল কাটা যায়, আবার হাতও কাটা যায়
দোষ ছুরির না, দোষ ব্যবহারের।
আপনার রাগ আর ভয়কে নিজের মালিক বানাবেন না।
এদের নিজের চাকর বানান। সঠিক পথে চালান।
তাহলেই দেখবেন
যে রাগ আপনাকে ধ্বংস করতে পারত, সেই রাগই আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।
যে ভয় আপনাকে থামিয়ে দিতে পারত, সেই ভয়ই আপনাকে দৌড়াতে শেখাচ্ছে।
মনে রাখবেন
ইমোশন আমাদের দুর্বলতা নয়। সঠিক ব্যবহার জানলে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এমনই পাওয়ারফুল টিপস আর বাস্তব জীবন দর্শন পেতে আমাদের পেজটি ফলো করে রাখুন।
ভালো কনটেন্টের ভিড়ে এই ধরনের Real & Practical লেখা সত্যিই বিরল।
১৪০০ সালের শেষের দিকের কথা।
ইতালির ফ্লোরেন্স শহর।
গভীর রাত। সবাই ঘুমে।
কিন্তু এক লোক চুপিসারে মোমবাতি হাতে কবরস্থানে বা হাসপাতালের মর্গে ঢুকে পড়ছেন।
তিনি নতুন কবর খুঁড়ে বের করছেন মানুষের লাশ।
তারপর সেই পচা লাশ কেটে দেখছেন মানুষের হাড়, মাংস আর নার্ভগুলো কীভাবে কাজ করে।
ভাবছেন লোকটা কোনো সাইকোপ্যাথ বা সিরিয়াল কিলার?
না বস!
ইনি লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।
তিনি ছবি আঁকতেন।
কিন্তু তার জেদ ছিল - "আমি মানুষের ছবি আঁকব, কিন্তু সেটা পুতুলের মতো হবে না। সেটা এতটাই জীবন্ত হবে যেন মনে হয় ক্যানভাস থেকে বের হয়ে আসবে।"
আর জীবন্ত ছবি আঁকার জন্য তিনি ৩০টিরও বেশি মানুষের লাশ ব্যবচ্ছেদ বা ডিসেকশন করেছিলেন।
ডাক্তাররা তখনো জানতেন না মানুষের স্পাইন বা মেরুদণ্ড দেখতে কেমন, বা মায়ের পেটে বাচ্চা কীভাবে থাকে। লিওনার্দো সেগুলো নিখুঁতভাবে এঁকেছিলেন।
মোনালিসার সেই রহস্যময় হাসিটা তিনি আঁকতে পেরেছিলেন কারণ তিনি জানতেন মুখের ত্বকের নিচে কোন পেশি বা মাসল কীভাবে নড়াচড়া করে।
একে বলে "অ্যানাটমিক্যাল অ্যাকিউরেসি"।
এখানেই গল্পের প্রথম টুইস্ট!
সবাই তাকে চেনে চিত্রশিল্পী হিসেবে। 'দ্য লাস্ট সাপার' বা 'মোনালিসা'র জন্য।
কিন্তু আপনি কি জানেন, ছবি আঁকা ছিল তার পার্ট-টাইম কাজ?
তার আসল নেশা ছিল সায়েন্স আর ইনভেনশন।
আজ থেকে ৫০০ বছর আগে, যখন মানুষ আকাশে ওড়ার কথা স্বপ্নেও ভাবত না, তখন লিওনার্দো তার নোটবুকে "এরিয়াল স্ক্রু"-র ডিজাইন করেছিলেন - যা আজকের হেলিকপ্টারের পূর্বপুরুষ।
তিনি এমন এক গাড়ির ডিজাইন করেছিলেন যা ঘোড়া ছাড়াই চলবে- আজকের অটোমোবাইল বা রোবোটিক কারের কনসেপ্ট।
এমনকি যুদ্ধের জন্য আর্মার্ড ট্যাঙ্ক, প্যারাসুট, মেশিনগান- সব কিছুর ব্লু-প্রিন্ট তিনি করে রেখেছিলেন।
চিন্তা করুন তো, ৫০০ বছর আগে বসে একজন মানুষ আজকের টেকনোলজি দেখছেন!
এটা কি টাইম ট্রাভেল না?
কিন্তু গল্পের দ্বিতীয় টুইস্ট শুনলে আপনি আরও অবাক হবেন।
লিওনার্দো তার সব আইডিয়া একটা নোটবুকে লিখে রাখতেন। কিন্তু সেই লেখাগুলো সাধারণ কেউ পড়তে পারত না।
কেন জানেন?
কারণ তিনি লিখতেন "মিরর রাইটিং" বা উল্টো করে। আয়না ধরলে তবেই সেই লেখা সোজা দেখা যেত।
অনেকে বলে তিনি তার সিক্রেট আইডিয়াগুলো চার্চ বা অন্যদের থেকে লুকানোর জন্য এমন করতেন।
আবার অনেকে বলে, তিনি বাঁহাতি ছিলেন বলে এভাবে লিখতেন।
কিন্তু কারণ যাই হোক, তার নোটবুকগুলো ছিল ভবিষ্যতের এক এনসাইক্লোপিডিয়া।
তিনি জিওলজি বা ভূতত্ত্ব নিয়েও কাজ করেছেন।
তখন মানুষ বিশ্বাস করত পাহাড়ের ওপর মাছের কঙ্কাল বা ফসিল পাওয়া যায় কারণ মহাপ্লাবন বা নূহ নবীর আমলের বন্যার পানি সেখানে উঠেছিল।
কিন্তু লিওনার্দো বললেন, "উহু! এই পাহাড়গুলো একসময় সমুদ্রের নিচে ছিল, টেকটনিক প্লেটের কারণে এগুলো ওপরে উঠে এসেছে।"
ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে লজিক দিয়ে কথা বলা- ওই সময়ে এটা ছিল মৃত্যুদণ্ডের শামিল। কিন্তু লিওনার্দো সত্য বলতে ভয় পাননি।
সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার কি জানেন?
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি অনেক কাজ শেষই করতেন না।
তিনি ছবি আঁকতে আঁকতে বোর হয়ে যেতেন, তারপর চলে যেতেন অংক কষতে। আবার অংক রেখে চলে যেতেন নদীর পানির প্রবাহ বা ফ্লুইড ডাইনামিক্স নিয়ে গবেষণা করতে।
আজকের দিনে তাকে হয়তো বলা হতো "অমনোযোগী ছাত্র" বা "ADHD রোগী"।
কিন্তু আসলে তার কৌতূহল ছিল অসীম। তিনি বলতেন, "Saper Vedere" (সাপের ভেদেরে)- যার মানে হলো "কীভাবে দেখতে হয় তা জানা"।
তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে আপনাকে ভালো আর্টিস্ট হতে হবে, আবার ভালো আর্টিস্ট হতে হলে সায়েন্স জানতে হবে। সব কিছুই কানেক্টেড।
, এই গল্প থেকে আপনার লেসন কী?
আপনি যখন ভাবেন- "আমি সায়েন্সের ছাত্র, আমার কবিতা পড়ে কী লাভ?" বা "আমি আর্টসের ছাত্র, টেকনোলজি আমার দরকার নেই" - তখন আপনি নিজেকে লিমিট করে ফেলেন।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আমাদের শিখিয়ে গেছেন, পৃথিবীটা কোনো বক্সের মধ্যে বন্দি না।
আপনার কৌতূহলকে কোনো সাবজেক্ট বা সিলেবাস দিয়ে বেঁধে রাখবেন না।
চোখ খোলা রাখুন।
লাশ কাটা ঘরের ওই জ্ঞান যেমন মোনালিসার হাসি ফুটিয়েছিল, তেমনি আপনার বিভিন্ন ধরণের স্কিল আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলবে।
নিজেকে এক্সপ্লোর করুন বস, আপনি যা ভাবেন, আপনি তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু!
"মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর গল্পটা কেবল আয়নার ওই মানুষটাই জানে।"
আমরা যখন সবার সামনে হাসি-খুশি থাকি, তখন মানুষ ভাবে জীবনটা হয়তো অনেক সহজ। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতায়, যখন চারপাশ নিঝুম হয়ে যায়, তখন নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহসটুকু সবাই পায় না।
মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার পর, যখন মনে হয় আর কোনো পথ নেই, ঠিক সেই মুহূর্তে নিজেকে আবার জোড়া দেওয়ার কাজটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন লড়াই।
অদৃশ্য সেই লড়াই
বাইরে থেকে হয়তো আমাকে খুব স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। আমি সময়মতো কাজে যাচ্ছিলাম, মানুষের সাথে কথা বলছিলাম, এমনকি হাসছিলামও। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, যে ঝোড়ো হাওয়া আমার আত্মবিশ্বাসকে বারবার উপড়ে ফেলছিল, তার খবর কেউ রাখেনি। ডিপ্রেশন বা মানসিক ভাঙন কোনো দৃশ্যমান ক্ষত নয় যে ব্যান্ডেজ বেঁধে সারিয়ে তোলা যাবে। এটা একটা নীরব যুদ্ধ, যেখানে প্রতিপক্ষ আপনি নিজেই।
আয়না যখন সাক্ষী
একটা সময় আসে যখন আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের প্রতিবিম্বটাকেও অচেনা মনে হয়। ফোলা চোখ, ফ্যাকাশে মুখ আর এক বুক হাহাকার—এটাই ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই আয়নার মানুষটাই দেখেছে আমার নিঃশব্দ কান্না, আমার হাঁপিয়ে ওঠা দীর্ঘশ্বাস আর মাঝরাতে নিজেকে সামলানোর সেই আপ্রাণ চেষ্টা। কেউ পাশে এসে বলেনি, "চিন্তা নেই, আমি আছি।" বরং আমাকেই আয়নার ওই মানুষটাকে বলতে হয়েছে, "তোমাকে বাঁচতে হবে, তোমাকে আবার হাসতে হবে। এই নয় যে আমি রাতারাতি বদলে গেছি। ফিরে আসা মানে হলো—প্রতিদিন অল্প অল্প করে নিজেকে ক্ষমা করতে শেখা। প্রতিটি ছোট ছোট পদক্ষেপে নিজের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাওয়া। আজ যখন আমি আবার হাসতে পারি, যখন আমি জীবনকে নতুন করে ভালোবাসতে শুরু করেছি, তখন পেছনের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে পড়লে বুকটা কেঁপে ওঠে। কিন্তু সেই সাথে এক অদ্ভুত গর্বও হয়।
"মানুষ হারতে হারতে ক্লান্ত হয় ঠিকই, কিন্তু সেই ক্লান্তির ছাই থেকেই ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জন্ম হয়।"
শেষ কথা
যারা আজ এই পোস্টটি পড়ছেন এবং যারা বর্তমানে এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের বলছি—আপনার লড়াইটা কেউ না দেখুক, আয়নার মানুষটা তো দেখছে। আপনি যে হাল ছাড়েননি, এটাই আপনার সবচেয়ে বড় জয়। ভেঙে পড়লে আবার উঠে দাঁড়ানো যায়, অন্ধকার ফুরালে আলো আসবেই। শুধু নিজের ওপর বিশ্বাসটা হারাবেন না।
গল্পটা শুধু আমার আর আয়নার ওই মানুষটার। আর এই ফিরে আসাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
=====
শিক্ষা কীভাবে সমাজকে মুক্ত চিন্তার দিকে নিয়ে যেতে পারে—এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি বলে কেউ কেউ হয়তো ধরে নিতে পারেন আমি বুঝি ক্ষমতার কোনো আসনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছি। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদি প্রশাসনিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই লক্ষ্য হতো, তবে ১০-১২ বছর আগেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে পদোন্নতির দৌড়ে নেমে পড়তাম, বিভাগীয় রাজনীতির হিসাব-নিকাশে জড়িয়ে যেতাম।
মানুষের এই সন্দেহপ্রবণতাকে আমি দোষ দিই না। দীর্ঘদিন ধরে চারপাশে যা দেখে এসেছে, তাতে নিঃস্বার্থ চিন্তা যে আদৌ সম্ভব—এই বিশ্বাসটাই অনেকের হারিয়ে গেছে। অথচ ব্যক্তিগত লাভের বাইরেও চিন্তা করা যায়, সমাজের জন্য কথা বলা যায়—এই সরল সত্যটুকুই যেন আজ মানুষের কাছে অচেনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যেটুকু করি, তা করি কারণ তাতেই আমার আনন্দ।
====