রাস্তার পাশের খাবার বিশেষ করে চা, সিংগারা, ভেলপুরি, ফুচকা, চটপটি ও নানান স্ট্রিটফুড আপাতত এড়িয়ে চলুন। ট্রাস্ট মি, অস্বাস্থ্যকর স্ট্রিটফুড খাওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ভ°য়াব°হতা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
কখনোই একা খাবেন না
মানুষের জীবনে সাফল্য কেবল একার খাটুনিতে আসে না। সম্পর্ক, সহযোগিতা আর আন্তরিকতার হাত ধরেই আসে জীবনের প্রকৃত সফলতা। কিথ ফেরাজ্জির 'নেভার ইট অ্যালোন' বইটি আমাদের শোনায় সেই মানবিক সাফল্যের গল্প-যেখানে প্রতিটি খাবারের টেবিল হয়ে ওঠে নতুন সুযোগের সূচনা।
২০০৫ সালে প্রকাশিত এ বইয়ের লেখক কিথ ফেরাজ্জি একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নেটওয়ার্কিং বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেলয়েট কনসালটিংয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ফেরাজ্জি যে উপলব্ধি করেছেন তা স্পষ্ট-সাফল্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে আন্তরিক সম্পর্কের মধ্যেই।
'নেভার ইট অ্যালোন' মানে কী?
শিরোনামটি সরল হলেও এতে নিহিত রয়েছে এক গভীর বার্তা। 'নেভার ইট অ্যালোন' অর্থ-প্রতিটি খাবারের টেবিলকে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা। একা খাওয়া মানে সম্ভাবনার দরজা বন্ধ রাখা-যখন আপনার চারপাশেই ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য সুযোগ ও নতুন গল্পের সম্ভাবনা।
সহযোগিতার দর্শন
ফেরাজ্জির দর্শনে সম্পর্কের শুরুতেই বিনিময়ের আশা নয়-সবার আগে দরকার নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করার মানসিকতা। তিনি বলেন,
'যখনই সম্ভব, মানুষের উপকার রপাশে করুন। সাফল্য তখনই আপনার পাশে আসবে।'
যখন মানুষ বুঝবে আপনি নিঃস্বার্থ, তখন থেকেই সম্পর্ক হবে আরও দৃঢ় ও গভীর।
মানবিক স্পর্শই আলাদা করে
মানুষের নাম মনে রাখা, জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা-এই ছোট ছোট আচরণই একসময় গড়ে তোলে গভীর সম্পর্ক। ফেরাজ্জি মনে করিয়ে দেন, মানবিক স্পর্শই একজন মানুষকে আলাদা করে দেয় অন্যদের থেকে।
সম্পর্কের মানচিত্র
ফেরাজ্জি 'রিলেশনশিপ ম্যাপ' ধারণা দিয়েছেন-আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একটি মানচিত্র তৈরি করুন। কে কোথায় আছেন, কীভাবে তাঁরা আপনার জীবনে প্রভাব ফেলতে পারেন-এ মানচিত্র কখনো আপনাকে একা ফেলে রাখবে না।
প্রস্তুতি ও গবেষণার গুরুত্ব
কারও সঙ্গে দেখা করার আগে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফেরাজ্জি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পছন্দ-অপছন্দ, আগ্রহের বিষয়গুলো জেনে নিয়ে আলাপ শুরু করলে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহজেই। এতে বোঝা যায় আপনি কেবল পেশাগত নয়; বরং আন্তরিক বন্ধনে আগ্রহী।
ছোট ছোট মিলনমেলা
বড় অনুষ্ঠান নয়, বরং ছোট ছোট গেট টুগেদার বা এক কাপ চায়ের আড্ডাই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। 'নেভার ইট অ্যালোন' শেখায়-প্রতিটি ছোট আয়োজনের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আন্তরিক সম্পর্কের সম্ভাবনা।
বাধা পেরিয়ে ওঠার গল্প
কিথ ফেরাজ্জির নিজের জীবনও অনুপ্রেরণার এক গল্প। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন-সামাজিক বৃত্তের বাইরে গিয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আত্মবিশ্বাস ও উন্মুক্ত মন
বইটি বারবার মনে করিয়ে দেয়-আত্মবিশ্বাস ও উন্মুক্ত মনই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি। নিজের ভয় কাটিয়ে উঠুন, প্রতিটি আলাপের সুযোগ নিন। মনে রাখুন, প্রত্যেক মানুষের কাছ থেকেই কিছু শেখার আছে।
'নেভার ইট অ্যালোন' আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-ক্যারিয়ার বা জীবনের যাত্রায় একাকিত্ব নয়, প্রয়োজন মানুষের পাশে থাকা। প্রতিটি সম্পর্কই এক সম্ভাবনার আলো।
লেখা: সাব্বির হোসেন
ভালো ক্লাসনোট নেওয়ার কৌশল
ক্লাসে ক্লাসনোট নেওয়ার গুরুত্ব অনেক। ক্লাসে শোনা লেকচার মনে নাও থাকতে পারে। কিন্তু খাতায় নোট নেওয়া থাকলে পরে পড়তে ও বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।
জেনে নিন ভালো ক্লাসনোট নেওয়ার কিছু কৌশল।
আলাদা খাতা
সব ক্লাসের নোট একটি খাতায় নিলে পরে বুঝতে অসুবিধা হয়। ধারাবাহিকতাও রক্ষা করা যায় না। তাই কার্যকরী ক্লাসনোট নিতে প্রত্যেক সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা খাতা বানিয়ে নাও। তবে খাতাগুলো বেশি মোটা করবে না। এতগুলো বইয়ের সঙ্গে আবার এত মোটা মোটা খাতা বহন করা খুব অসুবিধাজনক হয়ে যাবে। তাই খাতার পৃষ্ঠা সংখ্যা কম রাখবে।
ক্লাসে মনোযোগী হও
কার্যকরী ক্লাসনোট নিতে হলে অবশ্যই ক্লাসে মনোযোগী হতে হবে। ক্লাসে মনোযোগী না হলে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কোনটি অগুরত্বপূর্ণ তা বুঝবে না। তা ছাড়া মনোযোগী না হলে অনেক কিছু হয়তো ঠিক করে শুনতেই পাবে না। ফলে অমনোযোগী অবস্থায় যে ক্লাসনোট তৈরি করবে তা হবে অসম্পূর্ণ। তাই শিক্ষক ক্লাস শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে লেকচারে মনোযোগ দাও। পেছনে বন্ধুরা কে কী করছে তা লক্ষ্য করার প্রয়োজন নেই। ক্লাসে এত মনোযোগ দিয়ে লেকচার শুনলে হয়তো বন্ধুরা ক্ষেপাবে কিন্তু সুন্দর করে লেকচার নোট করলে পরে এই বন্ধুরাই তোমার পেছনে ঘুরবে। তাই ক্ষেপানোকে পাত্তা না দিয়ে লেকচারে মনোযোগ দাও। শিক্ষকরা পড়ানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বলে দেন। সেগুলোতে 'গুরুত্বপূর্ণ' লিখে রাখো কারণ শিক্ষক প্রশ্ন করবেন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করা টপিকগুলো থেকেই।
বুঝে লেখো
শিক্ষক যা বলছেন তা হুবহু টুকে রাখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষকের কথা বুঝে নিজের মতো গুছিয়ে লেখা। হুবহু লিখতে গিয়ে অনেক সময় পড়া বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে। ফলে লেকচার লিখে নিয়ে গেলেও বাসায় গিয়ে বোঝা যায় না কোন বিষয়ে শিক্ষক কোন কথাটি কেন বলেছিলেন। তাই লেকচার বুঝে নোট করো।
চিত্র এঁকে, সংকেত দিয়ে নোট করে সময় বাঁচাও
ক্লাসে কৌশলে নোট করো। কথার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেখা কঠিন ব্যাপার। তাই শিক্ষক যা বলছেন তা সম্পূর্ণ নোট নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু একটু কৌশল অবলম্বন করে তুমি ক্লাসনোট সম্পূর্ণ করতে পার। সম্পূর্ণ বাক্য না লিখে মূল শব্দ বা কি ওয়ার্ডগুলো লিখে রাখতে পার। আরও সহজ করতে ক্ষিপ্ত হাতে প্রয়োজনীয় ছবি এঁকে বা সংকেত দিয়েও লিখে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নোট নিতে পার।
হাতে লেখো
পরীক্ষায় হাতে লিখেই উত্তর করতে হয়। তাই ক্লাসে হাতে লিখে নোট নেওয়া এবং বাসায়ও হাতে লিখে নোট করার অভ্যাস কর। এর ফলে কোনো প্রশ্ন লিখতে কতটুকু সময় লাগবে সে সম্পর্কে তুমি একটি ধারণা পাবে। তা ছাড়া দ্রুত লেখার অভ্যাসও তোমার আয়ত্তে আসবে, যা পরীক্ষার দিনগুলোতে কাজে লাগবে।
লেখা: লিজা হক
অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করবেন যেভাবে
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানার্জন করেন না, বরং গবেষণা, বিশ্লেষণ ও নানা স্কিল গঠনের সুযোগ পান। এই দক্ষতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি। অ্যাসাইনমেন্ট শুধু পরীক্ষার বিকল্প কিংবা নম্বর তোলার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, লেখনশৈলী ও বিশ্লেষণ-ক্ষমতার প্রকাশ।
এটি একজন শিক্ষার্থীকে কেবল পড়ুয়া নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার পথে আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট বিষয়টিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেন না বা কীভাবে সঠিকভাবে একটি মানসম্পন্ন অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে হয়, তা জানেন না। ফলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে করা অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত করে। ভালো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির ধাপগুলো তুলে ধরা হলো-
বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা
অ্যাসাইনমেন্ট হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে আগে প্রয়োজন সেটি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া। বিষয়বস্তু কী, কী ধরনের প্রশ্ন রয়েছে, কোন দিকগুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে-এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে অ্যাসাইনমেন্টের গঠন সঠিক হয় না। তাই শিক্ষকের কাছ থেকে প্রয়োজন হলে বাড়তি ব্যাখ্যা নিয়ে নিতে হবে।
তথ্যের উৎস হতে হবে নির্ভরযোগ্য
একটি অ্যাসাইনমেন্টের প্রাণ হচ্ছে তথ্য বা কনটেন্ট। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া একটি অ্যাসাইনমেন্ট কখনোই মানসম্পন্ন হতে পারে না। এ জন্য বই, গবেষণা নিবন্ধ, সরকারি প্রতিবেদন, রেফারেন্সযুক্ত ওয়েবসাইট ও লাইব্রেরি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণ গুগল সার্চ দিয়ে মেলে এমন ব্লগ বা অব্যবস্থাপনার ওয়েবসাইটের তথ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। তথ্য যাচাই করে ব্যবহার করা একজন দক্ষ শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য।
রূপরেখা বা আউটলাইন তৈরি
অনেকে সরাসরি লেখায় ঝাঁপিয়ে পড়েন, কিন্তু ভালো লেখার জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা খুব জরুরি। এতে লেখার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকে এবং বিষয়বস্তুর গঠন হয় স্পষ্ট। রূপরেখা তিন ভাগে ভাগ করা যায়-ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার। ভূমিকায় বিষয়টি পরিচয় করিয়ে দিন, মূল অংশে বিশ্লেষণ করুন এবং উপসংহারে পুরো লেখার সারসংক্ষেপ ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করুন।
নিজের ভাষায় লেখাই শ্রেয়
তথ্য সংগ্রহ করে হুবহু কপি করে লেখার চেয়ে নিজের ভাষায় উপস্থাপন করাই বেশি মূল্যবান। এতে আপনার বিশ্লেষণী ও বোধশক্তির প্রকাশ ঘটে। যেখান থেকে তথ্য নিচ্ছেন, সেখানে 'উদ্ধৃতি' চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনে পাদটীকা বা রেফারেন্স যুক্ত করতে হবে। প্লেজারিজম বা চু*রি করে লেখা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়।
রেফারেন্সিং ও উদ্ধৃতির ব্যবহার
একটি অ্যাসাইনমেন্টে তথ্য বা মতামতের উৎস জানানো খুব জরুরি। এ জন্য অ্যাসাইনমেন্টের শেষে রেফারেন্স লিস্ট যুক্ত করতে হবে। শিক্ষক যেই স্টাইল চায় (APA, MLA, Chicago, Harvard ইত্যাদি), সেই অনুসারে রেফারেন্স দিতে হবে। এটি কেবল অ্যাসাইনমেন্টের গঠনগত সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং আপনাকে একজন দায়িত্বশীল লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বানান ও ভাষার শুদ্ধতা
ভাষাগত শুদ্ধতা হলো একটি ভালো লেখার অন্যতম শর্ত। বাংলা হোক বা ইংরেজি-যে ভাষাতেই লেখেন না কেন, সঠিক বানান, ব্যাকরণ এবং বাক্যগঠন বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে অ্যাসাইনমেন্ট লেখা শেষ হওয়ার পর একাধিকবার পড়ে দেখুন এবং কোনো বানান বা তথ্যগত ভুল আছে কি না যাচাই করুন। আজকাল বিভিন্ন স্পেল চেকার বা গ্রামার চেকার অ্যাপও ব্যবহার করা যায়।
উপস্থাপনার দিন বাড়তি গুরুত্ব
একটি সুন্দরভাবে সাজানো অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তাই টাইপ করা, পরিষ্কারভাবে ছাপানো এবং প্রাসঙ্গিক কভার পেজসহ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিন। কভার পেজে আপনার নাম, রোল নম্বর, বিষয়, কোর্স কোড, শিক্ষকের নাম ও তারিখ উল্লেখ করুন। কেউ চাইলে ডিজাইন করা কভার পেজও যুক্ত করতে পারেন, তবে সেটি যেন পেশাদারভাবে হয়।
সময়মতো জমা দিন
বলা হয়ে থাকে, 'সময়মতো কাজ না করলে ভালো কাজও মূল্যহীন হয়ে পড়ে।' বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। তাই যথাসময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক। বিলম্বে জমা দিলে হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে না, অথবা নম্বর কেটে নেওয়া হতে পারে।
লেখা: সাব্বির হোসেন
ইট দ্যাট ফ্রগ বই থেকে ৯ শিক্ষা
ব্রায়ান ট্রেসি একজন কানাডিয়ান–আমেরিকান আত্মোন্নয়নমূলক বক্তা ও লেখক। তাঁর রচিত ‘ইট দ্যাট ফ্রগ’ বইটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়। বইটি এখন পর্যন্ত ৪২টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ বইয়ের শিক্ষা বাস্তবজীবনে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। বইটি পড়ে শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
এই বইতে লেখক গুরুত্বপূর্ণ কাজকে রূপক অর্থে ব্যাঙ খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ, ব্যাঙ খাওয়া যেমন কঠিন ও বিরক্তিকর, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করাও কঠিন। শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে পারলে সহজ বা পছন্দের কাজ করতে সমস্যা হয় না। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় থেকে শুরু করে সব কাজ সহজে সম্পন্ন হয়। এভাবে কাজ করলে কোনো কাজ জমা পড়ে থাকে না। তাই সবার আগে ব্যাঙগুলো তথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আর সেগুলো দিনের শুরুতে করতে হবে। কোনো গড়িমসি করা যাবে না। বইটিতে গড়িমসি করাকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
লক্ষ্য নির্ধারণ হোক স্পষ্ট
সফলতার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়। সেই লক্ষ্য হতে হবে খুবই স্পষ্ট এবং বাস্তবায়নযোগ্য। লক্ষ্য স্পষ্ট থাকলে কাজ করার ক্ষেত্রে কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। ব্রায়ান ট্রেসি পাঠকদের লক্ষ্যগুলো লিখে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য দিকনির্দেশনার আলোকে মনোযোগের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অগ্রাধিকার দিন কাজকে
আমাদের সব কাজ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই কাজগুলোকে এ, বি, সি ও ডি পদ্ধতিতে শ্রেণিবদ্ধ করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এ শ্রেণিতে, এরপরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ বি শ্রেণিতে, মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সি এবং সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ডি শ্রেণিতে রেখে সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে এ শ্রেণির কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে বি, সি এবং ডি শ্রেণির কাজ শেষ করতে হবে।
আগের রাতে হোক দিনের পরিকল্পনা
আগামীকাল কী কী কাজ করতে হবে, সেগুলোর পরিকল্পনা আগের রাতে করে ফেলতে হবে। তাহলে নতুন দিনের শুরুতে আপনি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। কোন কাজ দিনের প্রথমে শুরু করতে হবে, সেটা আপনি জানবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আপনার সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এতে সময় নষ্ট হবে না। গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজও বাদ পড়বে না।
কাজে নেমে পড়ুন
শুধু স্বপ্ন দেখে আর পরিকল্পনা করে বসে থাকলে সফলতা আসবে না। সফলতার জন্য লেখক বইয়ে কাজে নেমে পড়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। আপনি কাজ না করে যত গড়িমসি করবেন, ততই আপনার মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ভর করবে। ফলে কাজগুলো করা হয়ে উঠবে না। তাই যত কঠিন মনে হোক না কেন, কাজ শুরু করতে হবে; তবেই সফলতা আসবে।
আত্মশৃঙ্খলা বাড়ান
কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনার জন্য আত্মশৃঙ্খলা বাড়ানো অপরিহার্য। ব্রায়ান ট্রেসি পাঠকদের জন্য আত্মনিয়ন্ত্রণ অনুশীলন করতে বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ যত বোরিং হোক না কেন, তা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করেছেন।
বিভ্রান্তি দূর করুন
কাজ করার ক্ষেত্রে নানা বিভ্রান্তি আসে, যেমন পড়তে বসলে মোবাইল টিপতে মন চায়। কাজের ক্ষেত্রে যত বিভ্রান্তি আছে, সব দূর করে কাজে মনোনিবেশ করলে ভালো ফল আশা করা যায়।
প্রযুক্তিকে বিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যবহার করুন
উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি কাজে লাগান। তবে এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া এড়িয়ে চলুন। কাজ করার সময় প্রয়োজনে
প্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অ্যাপস ব্যবহার করুন। কিন্তু যেসব প্রযুক্তি এবং অ্যাপস কাজে বিভ্রান্তি ঘটায়, সেগুলো দূরে রাখতে হবে; যেমন পড়াশোনার সময় মোবাইল।
নিজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করুন
শুধু কাজ করলে হবে না, নিয়মিত নিজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে। যথাযথ অগ্রগতি না হলে কাজের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। কেননা জীবনে সফলতা শুধু পরিশ্রম করলে যদি পাওয়া যেত, তাহলে গাধা হতো বনের রাজা। তাই কাজের পরিশ্রমের পাশাপাশি কৌশলী হতে হবে। প্রয়োজনে কৌশল পরিবর্তন করে একই কাজ নতুনভাবে বা একই স্থান থেকে শুরু করা যেতে পারে।
ড. এ পি জে আবদুল কালামের কাছ থেকে সাফল্যের ১০টি শিক্ষা
ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালাম ছিলেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তরুণ, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ—সকলের কাছেই তিনি অনুকরণীয়। তাঁর জীবনযাত্রা এবং দর্শন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।
১. নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করুন
পরিস্থিতির চাপে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেবেন না। স্বপ্ন সেটাই, যা পূরণ করার তাগিদে ঘুমাতে পর্যন্ত দেন না। আপনার চিন্তাকে কাজে রূপ দিন, কর্মই সাফল্যের পথ তৈরি করবে।
২. শেখা থামাবেন না
জীবন থেকে শিখতে থাকুন। নতুন কিছু জানার আগ্রহই আপনাকে সৃজনশীল করে তুলবে, আর সৃজনশীলতা আপনাকে করবে অনন্য।
৩. নিজের মতো হতে শিখুন
অন্যদের মতো হবার চেষ্টা না করে নিজের স্বকীয়তা গড়ে তুলুন। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।
৪. সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে ফেলুন
সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুন চিন্তাধারা তৈরি করুন। প্রতিকূলতা আসবেই—সেগুলোই আপনার সম্ভাবনা প্রমাণের সুযোগ।
৫. একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করুন
সততা, ধৈর্য ও একাগ্রতা বজায় রেখে কাজ করুন। দলগত কাজের গুরুত্ব বুঝুন, এতে সাফল্য আরও বড় হয়।
৬. ফলাফল নিয়ে ভাবুন
যে কাজ করবেন, আগে এর ফলাফল কেমন হতে পারে ভেবে নিন। সম্ভাবনা ও উপকারিতা বিশ্লেষণ করে কাজে নামুন।
৭. ব্যর্থতাকে মেনে নিন
সাফল্যের প্রথম ধাপ হলো ব্যর্থতা। ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে নিজেকে গড়ে তুলুন।
৮. ন্যায়পরায়ণ হোন
অন্যকে কিছু দিতে শিখুন—হোক তা একটি হাসি বা সদয় কথা। হৃদয়ের ন্যায়পরায়ণতাই সত্যিকারের শান্তি আনে।
৯. নিজের কাজকে ভালোবাসুন
কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, নিজের কাজকে ভালোবাসুন। যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিন। সাফল্য আপনার সাথেই থাকবে।
১০. শেখানোর আনন্দ ছড়িয়ে দিন
যুবসমাজকে জ্ঞান দিতে এগিয়ে আসুন। একজন শিক্ষক হওয়া গর্বের ব্যাপার। প্রজন্মের পরিবর্তন ক্লাসরুম থেকেই শুরু হয়।
পরীক্ষার ইতিহাস: কবে, কেন, কিভাবে শুরু হলো এই প্রথা?
স্কুল, পড়াশোনা, বন্ধু–সবই দারুণ। কিন্তু বছরের পর বছর পরীক্ষা দিতে দিতে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নিশ্চয়ই আপনারও মনে হয়েছে– এই পরীক্ষা নামের ‘ঝামেলা’টা কে আবিষ্কার করল? যদি পৃথিবীতে পরীক্ষা না থাকত, কী হতো! অনেকেই মজা করে বলেন– পরীক্ষা আবিষ্কারকই ছাত্রদের সবচেয়ে বড় শ°ত্রু!
কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ‘শ°ত্রু’র জন্ম কৌতূহল, শৃঙ্খলা আর মেধা যাচাইয়ের তাগিদ থেকে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরুতে পরীক্ষা এমনভাবে ছিল না। প্রাচীন গ্রীস, মিসর বা ভারতের পাঠশালায় জ্ঞান বিতরণ হতো মৌখিকভাবে, গুরু-শিষ্য পদ্ধতিতে। শিষ্যরা সরাসরি শিক্ষকের সামনে বসে শিখত, তাদের শেখার অগ্রগতি পরিমাপ হতো পর্যবেক্ষণ আর আলোচনা দিয়ে।
৬০৫ খ্রিস্টাব্দে চীনের শুই রাজবংশের অধীনে আয়োজিত হয় বিশ্বের প্রথম লিখিত ও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা– 'ইম্পেরিয়াল এক্সামিনেশন।'
এর উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে যোগ্য মানুষ খুঁজে বের করা। অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রাচীন চীনা দার্শনিক 'কনফুসিয়াসের দর্শন' থেকে প্রণীত হতো। এই পরীক্ষা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, ১৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এর সংস্করণ চলে চীনে।
পাশাপাশি, ইউরোপের শিক্ষায় পরীক্ষা নতুন ধারা আনে। ১২০০–১৫০০ শতাব্দীতে অক্সফোর্ড, প্যারিস, বলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো, যেখানে শিক্ষকরা সরাসরি প্রশ্ন করতেন। ১৬০০–১৭০০ শতকে লাতিন ভাষা ছাড়াও বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৮০৬ সালে ইংল্যান্ডে চালু হয় 'সিভিল সার্ভিস এক্সামিনেশন।' এখান থেকে প্রেরণা নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগে পরীক্ষা চালু করে। এরপর ধীরে ধীরে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ে।
আজ যেই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর আর সিলেবাসভিত্তিক পরীক্ষা আমরা দিই, সেটির অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে স্বীকৃত জার্মান-আমেরিকান অধ্যাপক হেনরি ফিশেল। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ লেখা যাচাই করতে করতে তিনি বিরক্ত হয়ে যান। তখন ভাবতে শুরু করেন– কীভাবে মেধা যাচাই সহজ, দ্রুত ও মানসম্পন্ন করা যায়। তার এই ভাবনা থেকেই আসে আমাদের পরিচিত আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতির ধারণা।
➤চলুন এবার জেনে নিই পরীক্ষা সংক্রান্ত আরো কিছু মজার তথ্য:
☞SAT (Scholastic Assessment Test) নামের পরীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯২৬ সালে, যা যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
☞Multiple Choice Question (MCQ) পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয় বিংশ শতকের শুরুতে, যাতে কম সময়ে বেশি শিক্ষার্থী যাচাই করা সম্ভব হয়।
☞বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা চীনের ইম্পেরিয়াল এক্সামিনেশন– ৯ দিন পর্যন্ত চলত। পরীক্ষার্থীরা গৃ°হব°ন্দি হয়ে লিখত!
☞জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এতটাই প্রতিযোগিতামূলক যে পরীক্ষার মৌসুমকে “একাডেমিক ও°য়ার” বলে ডাকা হয়।
তবে পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অনেকেই বলেন, পরীক্ষার চাপ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক স্বাস্থ্য ন°ষ্ট করছে। কেউ আবার বলেন, ভালোভাবে শেখার কোনো বিকল্প নেই, আর পরীক্ষা হলো শেখার মান যাচাইয়ের উপায়।
ভবিষ্যতে কি এই পরীক্ষা পদ্ধতি থাকবে? নাকি মেধা যাচাইয়ের জন্য আসবে নতুন কোনো উদ্ভাবনী পদ্ধতি? এ প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
আপনার পরীক্ষা সম্পর্কিত কোন #মজার স্মৃতি থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
১ থেকে ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার উপায়
সত্য বলুন তো, রাতে যতটা সময় ঘুমান, তার চেয়ে বেশি সময় কি ঘুমানোর চেষ্টাতেই কেটে যায়? তাহলে এ সমস্যায় শুধু আপনিই ভুগছেন না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজনে একজন এমন ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। যদিও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির দিনে ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। শিশুদের জন্য সেটা আরও বেশি। তবে আসলে কতটুকু ঘুমের প্রয়োজন, তা কোনো ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে-বলেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় অনেকের। যেমন-
দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি, অস্থিরতা বা বিরক্তি
» কর্মক্ষমতা, একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি কমা।
» বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া
» হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার ঝুঁকি বাড়া।
» আবার প্রতিনিয়ত ঘুমানোর জন্য দীর্ঘ সময় চেষ্টা করলে উদ্বেগ বাড়তে পারে। ফলে ঘুমের আবেশ ব্যাহত হতে পারে।
যদি মস্তিষ্কে ঘুমের সংকেত না আসে, ঘুমানোর আগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
» ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ঘরের পরিবেশ ঘুমের উপযোগী করা।
» দিনের বেলার কাজ রাতে ঘুমে কতটা সহায়ক, তা বিশ্লেষণ করা।
» রাতে কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুমিয়ে পড়া যায়, তা নিয়ে সচেতন থাকা।
এরপরও ঘুমাতে সমস্যা হলে পদ্ধতি বদলে কয়েকটি পদ্ধতি কাজে লাগান।
সামরিক পদ্ধতি
আমেরিকান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড কোচ লয়েড বাড উইন্টার দ্বিতীয় বিশ্বযু°দ্ধের সময় একটি শিথিলকরণ কৌশল তৈরি করেছিলেন। মনে করা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর প্রি-ফ্লাইট স্কুলের বিমানচালকদের ১২০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল সে কৌশল।
উইন্টারের 'রিলাক্স অ্যান্ড উইন:
চ্যাম্পিয়নশিপ পারফরম্যান্স' (১৯৮১) বই থেকে জানা যায়, এ পদ্ধতি অনুসরণের ফলে কফি পানের পরেও এবং তাঁদের চারপাশে বন্দুকের গুলি চলার পরেও ভালো ঘুমাতে পারার সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ।
এই ঘুমের পদ্ধতিটি সম্পন্ন হতে পুরো ১২০ সেকেন্ড সময় নেয়। কিন্তু শেষ ১০ সেকেন্ডেই শেষ পর্যন্ত ঘুম আসে
১২০ সেকেন্ডের সামরিক পদ্ধতিতে যেভাবে ঘুমাতে যাবেন
» মুখের ভেতরের পেশিসহ পুরো মুখ শিথিল করুন।
» কাঁধ ছেড়ে দিন। পেশি শক্ত না করে হাত দুটো শরীরের দুই পাশে নামান।
» বুক শিথিল করে শ্বাস ছাড়ুন। পা, উরু শিথিল করুন।
» একটি আরামদায়ক দৃশ্য কল্পনা করুন
» এটি কাজ না করলে ১০ সেকেন্ডের জন্য বারবার নিজেকে 'চিন্তা করো না' বলার চেষ্টা করুন।
» পরের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
» এটিও যদি কাজ না করে, তাহলে আপনাকে সামরিক পদ্ধতির ভিত্তিগুলোর ওপর কাজ করতে হতে পারে। যেমন শ্বাসপ্রশ্বাস এবং পেশি শিথিলকরণ। এ ছাড়া কিছু অবস্থা; যেমন মনোযোগে ঘাটতি, হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার এই পদ্ধতির কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে।
৬০ সেকেন্ডে ঘুমিয়ে পড়তে চাইলে
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি এবং শিথিলকরণ পদ্ধতিগুলো অনিদ্রার চিকিৎসায় কার্যকর।
দুটি পদ্ধতি শ্বাসপ্রশ্বাসে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারে। পেশি শিথিল করে মন শান্ত রাখতে সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো-
৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি
এই শ্বাসপ্রশ্বাস পদ্ধতিটি প্রাণায়াম ব্যায়ামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ধ্যান ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন কৌশলটি যত বেশি অনুশীলন করবেন, এটি ঘুমিয়ে পড়তে তত বেশি কার্যকর হতে পারে। আপনার হাঁপানি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রস্তুতির জন্য জিহ্বার অগ্রভাগ মুখের তালুর বিপরীতে, সামনের দুটি দাঁতের পেছনে রাখুন। জিহ্বা পুরো সময় সেখানে রাখুন।
৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাসের চক্র কীভাবে করবেন
» দুই ঠোঁটের মাঝখানে সামান্য ফাঁক রাখুন। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় একটি ছশিং শব্দ করুন। ১০ সেকেন্ডের জন্য। এরপর আপনার মন থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করার চেষ্টা করুন। তাহলে শরীরের জন্যও ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এবার ঠোঁট বন্ধ করুন এবং নাক দিয়ে চুপচাপ শ্বাস নিন। মনে মনে চার পর্যন্ত গণনা করুন।
» সাত সেকেন্ডের জন্য শ্বাস ধরে রাখুন। এটি অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
» আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে হুশিং শব্দসহ শ্বাস ছাড়ুন।
» আপনি যখন আবার শ্বাস নেন, তখন একটি নতুন চক্র শুরু হবে। চারটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করুন। তবে যদি আপনি আগে শিথিলতা অনুভব করেন তবে আপনার শরীরকে ঘুমাতে দিন। পরদিন সকালে উঠুন পরিতৃপ্ত মনে।
সূত্র: হেলথ লাইন
পিরামিড: এক চিরকালীন বিস্ময়
পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। পিরামিড হলো এক ধরনের জ্যামিতিক আকৃতি, যার বাইরের তলগুলো ত্রিভুজাকার। এসব তল শীর্ষে গিয়ে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। একটি পিরামিডের কমপক্ষে তিনটি ত্রিভুজাকার পার্শ্বতল থাকে, অর্থাৎ পিরামিডের ভূমিসহ কমপক্ষে চারটি তল থাকে।
ফারাওরা প্রাচীন মিসর শাসন করতেন। তাদের কবর দেওয়ার জন্য পিরামিড নির্মাণ করা হতো। মিসরে ছোট-বড় ৭৫টি পিরামিড আছে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় হচ্ছে গিজার পিরামিড, যা খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। এটি খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির ওপর স্থাপিত। তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছে আনুমানিক এক লাখ। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথরখণ্ড দিয়ে। সেগুলোর এক-একটির ওজন ৬০ টন আর দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মতো। পাথরের সঙ্গে পাথর জোড়া এমনভাবে পিরামিড তৈরি করা হতো, একটি পাথর থেকে আরেকটি পাথরের মাঝের অংশে একচুলও ফাঁক থাকত না।
সবচেয়ে বড় খুফুর পিরামিডের উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। ৪ হাজার ৪০০ বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য। ১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার তৈরি হওয়ার পর এটি তার গৌরব হারায়। খুফুর পিরামিড ৭৫৫ বর্গফুট জমির ওপর অবস্থিত। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ হাজার বছর আগে এই পিরামিড নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পিরামিডটির ওজন ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টন। ধারণা করা হয়, ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাথরের বিশাল বিশাল টুকরা দিয়ে পিরামিড বানানো হয়েছে। প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় ২ দশমিক ৫ টনের মতো। পাথরগুলো দূর-দূরান্তের পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
অনেক শিক্ষার্থীই মনে করেন, পড়াশোনার ব্যয়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। অথচ ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিলেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই শক্ত আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের ১০টি সহজ ও কার্যকর ধাপ তুলে ধরা হলো:
সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করুন
সঞ্চয় শুধু টাকা জমার বিষয় নয়, এটি একটি ইতিবাচক অভ্যাস। আপনি যখনই আয় বা হাতখরচ পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখার মানসিকতা গড়ে তুলুন।
ছোট থেকেই শুরু করুন
বড় অঙ্কের টাকা জমাতে না পারলেও হতাশ হবেন না। মাসে মাত্র ২০০০-৩০০০ টাকা করে সঞ্চয় করলেও বছর শেষে তা ২৪,০০০-৩৬,০০০ টাকা হতে পারে। পরিমাণ নয়, নিয়মিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখুন
আপনার মূল ব্যয় অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একটি আলাদা সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে আপনার সঞ্চয়ের অগ্রগতি চোখে পড়বে এবং খরচ করা কমে যাবে।
সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
লক্ষ্য ছাড়া সঞ্চয় উৎসাহ হারায়। আপনি কি নতুন ল্যাপটপ কিনতে চান? উচ্চশিক্ষার ফান্ড গড়তে চান? না কি জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চান? লক্ষ্য থাকলে সঞ্চয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ে।
বাজেট তৈরি করুন
মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখুন। কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তা জানলে অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগ বেরিয়ে আসবে।
'পে ইওরসেলফ ফার্স্ট' নীতি অনুসরণ করুন
আপনি যে পরিমাণ অর্থই পান না কেন, প্রথমেই তার একটি অংশ সঞ্চয়ে রাখুন। ব্যয়ের পর যা বাঁচে তা নয়; বরং শুরুতেই সঞ্চয় করুন।
অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ান
প্রতিদিন ক্যাফেতে খাওয়া, অনলাইন শপিংয়ে অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বারবার রাইড শেয়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এই ছোট ছোট খরচ কমালেই সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে।
অফার, ডিসকাউন্ট ও শিক্ষার্থী ছাড় ব্যবহার করুন
বিভিন্ন সেবা ও পণ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসকাউন্ট থাকে। সেগুলো খেয়াল রাখুন এবং সুযোগমতো ব্যবহার করুন। এতে ব্যয় কমে যাবে।
আয় বৃদ্ধির উপায় খুঁজুন
পার্টটাইম চাকরি, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, টিউশন বা নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় বাড়াতে পারেন। আয় বাড়লে সঞ্চয় করাও সহজ হয়।
নিজের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন
মাস শেষে কত টাকা সঞ্চয় করতে পারলেন, তা লিখে রাখুন। অগ্রগতি দেখতে পারলে অনুপ্রেরণা বাড়ে এবং অভ্যাসটি স্থায়ী হয়।
সঞ্চয় শুরু করা হয়তো প্রথমে কঠিন
মনে হতে পারে, কিন্তু একবার অভ্যাসে পরিণত হলে এটি আপনার সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সঞ্চয়ের এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, ভবিষ্যতের জন্য আপনি আজই বীজ বুনছেন।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা
শিক্ষার্থীদের স্মার্ট বাজেটিংয়ের ৮ ধাপ
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন মানেই স্বাধীনতা, নতুন অভিজ্ঞতা আর নিজের পছন্দমতো চলার সুযোগ। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জন্য এ সময়টাই প্রথমবারের মতো নিজে নিজে টাকাপয়সা সামলানোরও চ্যালেঞ্জ। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে টাকাপয়সা সামলানোর মতো ব্যাপারও শুরু করেন।
ফলে অনেকেই কোন খাতের জন্য কত টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে, তা বুঝতে না পেরে মাসের শুরুতেই দেদার খরচ করে ফেলেন। যে কারণে মাসের শেষের দিকে ধারদেনা করে চলতে হয়। এ সংকট থেকে বাঁচতে হলে শিখতে হবে স্মার্ট বাজেটিং। আপনি ঢাকার কোনো হোস্টেলে থাকুন কিংবা বাসা থেকে আসা-যাওয়া করুন-স্মার্ট বাজেটিং আপনার ছাত্রজীবনকে অনেক সহজ ও আনন্দময় করে তুলতে পারে।
বাজেটিং কেন জরুরি
বাংলাদেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট একটা মাসিক খরচের ওপর নির্ভর করেন, যা সাধারণত পরিবার থেকে আসে। অনেকে আবার টিউশন, খণ্ডকালীন চাকরি কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমেও আয় করেন। মাসের মাঝামাঝি টাকা শেষ হয়ে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে। কিন্তু বাজেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি জরুরি সময়ের জন্য সঞ্চয় করতে শিখবেন। [fb.com/janaojanaa360]
বাজেটিংয়ের ধাপ
>> আয়ের হিসাব
প্রথমেই নিজের মাসিক আয়ের হিসাব করুন। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আয়ের উৎসগুলো হলো: পরিবার থেকে পাওয়া মাসিক খরচ।
বৃত্তি বা ভাতা (যদি থাকে)। খণ্ডকালীন চাকরি (টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং, ক্যাম্পাস জব ইত্যাদি)।
> খরচের তালিকা করুন
আপনার মাসিক খরচগুলো ভাগ করে নিন। যেমন বাসাভাড়া বা হোস্টেল ফি বাবদ কত টাকা খরচ হচ্ছে, মাসে খাবারের পেছনে কত টাকা যাচ্ছে, যাতায়াত খরচ কেমন, মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল (বই, স্টেশনারি, ফটোকপি) থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানা খরচ, ছোটখাটো ঘোরাঘুরি, হঠাৎ কোনো দরকারে কী পরিমাণ টাকার দরকার হতে পারে-এসবের একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন।
>>বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করুন
এখন আপনার আয় অনুযায়ী প্রতিটি খরচের জন্য বাজেট ঠিক করুন। যেমন প্রতি মাসে খাওয়ার পেছনে আপনার কত টাকা বরাদ্দ থাকা উচিত, টুকটাক হাতখরচের জন্য কত টাকা জমা রাখবেন, জরুরি কোনো প্রয়োজনে কত টাকা আলাদা করে রাখা উচিত ইত্যাদি এ বাজেটের ভেতরে চলে আসবে।
» খরচ নিয়মিত ট্র্যাক করুন বাজেটিং এক দিনের কাজ নয়, এটার জন্য অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। বাজেট ট্র্যাক করার জন্য ডায়েরি কিংবা মোবাইল অ্যাপ যেমন মানি লাভার, গুগল শিট, ওয়ালেট ইত্যাদি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে একবার খরচের হিসাব ট্র্যাক করুন। কোথায় বেশি খরচ হচ্ছে? কোনো বিশেষ খরচ বাদ পড়ছে কি? কোনো খাতে বেশি বা কম খরচ হলে, পরের মাসে বাজেটে পরিবর্তন আনুন।
>> জরুরি ফান্ড গড়ে তুলুন প্রতি মাসে ৫০০-১,০০০ টাকা সঞ্চয় করলেও, হঠাৎ কোনো বিপদে কাজে লাগবে। এই টাকা আলাদা মোবাইল ব্যাংক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখুন, যেন সহজে খরচ না হয়।
>> আয় বাড়ানোর উপায় খুঁজুন যদি খরচ সামলাতে কষ্ট হয় তাহলে টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং (লেখা, ডিজাইন, কোডিং), ইভেন্টে কাজ করতে পারেন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বৃত্তি পেয়ে যান, সে ক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচ কিছুটা বেঁচে যায়।
> ঋণের ফাঁদে পড়বেন না অপ্রয়োজনীয় লোন নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। খুব দরকার ছাড়া ধার করবেন না, করলে শর্ত ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। ক্রেডিট কার্ডও না নেওয়াই ভালো। নিলে মাস শেষে পুরো বিল পরিশোধ করুন।
>> মাস শেষে রিভিউ ও অ্যাডজাস্ট করুন
প্রতি মাস শেষে বাজেট ও বাস্তব খরচ তুলনা করুন। কোথায় সাশ্রয় করতে পারলেন তা দেখুন, কোথায় সমস্যা হয়েছে, তার সমাধান ভাবুন। বাজেটিং এক দিনে শেখা যায় না, ধাপে ধাপে অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। এতে আপনি নিজের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাবেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন, আর পছন্দের জিনিসের জন্যও টাকা জমাতে পারবেন।
সূত্র: নার্ড ওয়ালেট
লেখা: মুসাররাত আবির
'হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস...' বই থেকে শিক্ষা
জীবন যত সহজ মনে হয়, ততটাই জটিল মানুষের মন। বন্ধুত্ব, সহানুভূতি আর ভালোবাসা-এই মানবিক বন্ধনের মূলমন্ত্র আমাদের অনেক সময় অজানা থেকে যায়। কিন্তু ডেল কার্নেগির 'হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল' বইটি যেন সেই হারিয়ে যাওয়া মূলমন্ত্রের মানচিত্র। এখানে লুকিয়ে আছে অমূল্য পাঠ-যা মানুষের মন জয় করে নেয়। আসুন, শিক্ষাগুলো জেনে নিই, একে গাঁথি হৃদয়ের মালায়।
অন্যের সমালোচনা করবেন না
মানুষের মনে আঘাত দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু সেই ক্ষত সারাতে যুগ যুগ লেগে যায়। ডেল কার্নেগি বলেন, সমালোচনা মানুষের আত্মমর্যাদা ভেঙে দেয়, তাকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দেয়। সমালোচনা নয়, বরং ভালো দিকগুলোতে আলোকপাত করুন। মানুষকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন, তার সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে তাকে উৎসাহ দিন। সমালোচনা এড়িয়ে গেলে বন্ধুত্বের বীজ সহজে অঙ্কুরিত হয়।
সবার কাছে প্রিয় হওয়ার কৌশল
মানুষ নিজের গল্প শোনাতে ভালোবাসে। তাদের মন খুলে বলার সুযোগ দিন। মনোযোগ দিয়ে শোনার মধ্যে লুকিয়ে আছে বন্ধুত্বের জাদু। হাসিমুখ, কোমল ভাষা আর চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন, অচেনা মুখগুলোও আপনার আপন হয়ে উঠবে।
ভালো বক্তা হওয়া যায় কী করে
ভালো বক্তা হতে হলে আগে ভালো শ্রোতা হতে হবে। মানুষের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কথার মধ্যে তার আবেগ আর প্রয়োজন খুঁজে নিন। কথা বলার সময় স্পষ্টতা, আন্তরিকতা আর উষ্ণতা আনুন-দেখবেন, আপনার বক্তব্য সবার মনে গেঁথে যাবে।
অন্যদের কীভাবে উৎসাহী করা যায়
মানুষের ছোট সাফল্যকেও সম্মান করুন। প্রশংসা করুন সত্যি সত্যিই। কেউ যদি ভুল করে, তাকে ভর্ৎসনা নয়, বরং উৎসাহ দিয়ে নতুনভাবে চেষ্টা করতে বলুন। এভাবেই মানুষ খুঁজে পায় নিজের ভেতরের আলো।
আপনি তর্কে জিততে পারবেন না
তর্কে জিতে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সম্পর্ক হারানোর বেদনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ডেল কার্নেগি বলেন, তর্কে কেউই প্রকৃত বিজয়ী নয়। তর্ক নয়, বরং বিনয়ের সঙ্গে নিজের যুক্তি তুলে ধরাই শ্রেয়। এতে সম্মান রক্ষা হয়, সম্পর্কও অটুট থাকে।
ভুল করে থাকলে তা স্বীকার করুন
মানুষমাত্রই ভুল হয়। নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করলে সম্পর্কের ভিত মজবুত হয়। এতে অন্যের মনে আস্থা বাড়ে, আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জাগে। ভুল থেকে শেখা-এটাই পরিপক্কতা।
প্রশংসা করুন
সত্যিকারের প্রশংসা মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালে। প্রতিটি ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিন-বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল হবে।
মানুষকে সুখী দেখতে শিখুন। তার হাসির অংশ হতে পারলে বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকে। অন্যের আনন্দে আনন্দ খুঁজুন-সেখানেই জীবনের সার্থকতা।
লেখা: সাব্বির হোসেন
মধ্যবিত্তদের জন্য ছয়টি রেড ফ্ল্যাগ।
১। ভুল জমি, ভুল ফ্লাট: অপর নাম 'কান্না'।
আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় খপ করে খেয়ে ফেলার জন্য উৎ পেতে আছে ভুয়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। কেনার সময় আপনাকে যে জমি দেখানো হবে আসলে তা হয়ত কেনাই হয়নি। জমির মালিককে মাসে দু'হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমির উপর কোম্পানিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে মাত্র। এ জমি কিনলেন তো বঙ্গোপসাগরে সর্বস্ব বিসর্জন দিলেন। ঠক খাওয়া মানুষটির এসব মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকে না। আশেপাশে তাকালেই এদের হাতে পথের ফকির হয়েছেন এমন অনেককেই দেখবেন। উল্টাপাল্টা ডেভেলপার থেকে ফ্লাট কিনলেও একই দশা। মনে রাখবেন, একটি ভুল জমি বা ফ্লাট ইকুয়াল টু বাকি জীবনের কান্না।
২। অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট: ১০ নম্বর
বিপৎসংকেত।
কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পঞ্চাশ হাজার টাকার জিনিস দশ হাজার টাকায় অফার করবে। কমদাম দেখে মধ্যবিত্তরা ঝাঁপ দেন। এরমধ্যে সামান্য কয়েকজনকে পণ্য সরবরাহ করা হবে, বাকিদের দেবে না। সোজা কথায় তাঁদের টাকা মে*রে দেওয়া হবে। বঞ্চিতরা এ কোম্পানির মালিককে জীবনেও ধরতে পারবেন না। তাঁদের সে ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা টাউট কোম্পানির মালিক তাদের ঠকানো টাকায় কিনে নিয়েছে।
৩। না বুঝে ব্যবসা করা: লবণ দিয়ে চা খাওয়া।
এক্ষেত্রে বেশি ধরা খান সারাজীবন চাকুরি করে রিটায়ারমেন্টে বেনিফিট দিয়ে যারা ব্যবসা করতে যান। ব্যবসার 'ব' না বুঝে ব্যবসা করলেন মানে এতদিন রক্ত পানি করে যে টাকা জমিয়েছেন তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেন। হাতে টাকা এলে আপনার কাছে অনেকেই আসবেন ব্যবসা বুদ্ধি দিতে। এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেবেন। আমাকে কেউ এ বুদ্ধি দিলে আমি হাসতে হাসতে বলব, 'ভাইসাহেব, এক কাপ লবণ দিয়ে চা দেই, ওটা খেলে বুঝবেন লবণ যেমন চায়ের সাথে যায় না, আমার সাথে ব্যবসাও তেমন যায় না।
৪। ব্যবসা করার জন্য অন্যকে টাকা দেওয়া: ভুল সবই ভুল।
ব্যবসা না বুঝে তা করতে গিয়ে আমরা যেমন মা'রা খাই, ঠিকই তেমনি আমাদের মরা লা*শ জলে ভাসে অন্যের হাতে লাভের আশায় সঞ্চয় তুলে দিলে। আমি এমন মানুষ খুব কম দেখেছি, যারা অন্যকে ব্যবসা করার জন্য টাকা দিয়ে জিতেছেন। দুটো কারণে এটা হয়। প্রথমত যিনি ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেই মা'র খেয়েছেন, ফেরত কোত্থেকে দেবেন? দুই নম্বর হলো, টাকা মে'রে দেওয়া। কয়েকমাস লাভ দিয়ে তারপর অস্বীকার! লাভ তো দূরের কথা আসলই ফেরত পাওয়া যায় না। তাই লাভের আশায় অন্যকে টাকা দিলেন মানে ব্যাংকের চেক কাটলেন না, নিজের ভাগ্যকেই নিজে কেটে দিলেন। সর্বনাশকে লাল গালিচা পেতে আমন্ত্রণ জানালেন।
৫। অস্বাভাবিক মুনাফা বা সুদ: ইঁদুর মা*রা ফাঁদ।
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রচলিত বা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুনাফা বা সু'দের চাইতে বেশি অফার করে তখন বুঝে নেবেন, আপনাকে 'বকরি' বানানোর কায়দা করা হচ্ছে। জ"বাই করাত ছু*রি শান দেওয়া হচ্ছে। এরা তো জ্বীন-ভূত না যে বাজারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে বেশি লাভ দেবে! এটা কি সম্ভব? এদের হাতে কি আলাদীনের চেরাগ আছে? নেই। তবে আপনার টাকা মে'রে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাওয়ার জন্য 'ম্যাজিক কার্পেট' আছে।
৬। বোকা ম্যার্যাথন এবং দুঃখ নামের মেডাল।
আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হলো অন্যদের সাথে অন্ধ প্রতিযোগিতা। পাশের বাসায় ৪২ ইঞ্চি টিভি কেনা হয়েছে! আমারও কিনতে হবে। কেউ গাড়ি কিনেছে! ধারকর্জ করে আমাকেও কিনতে হবে। ফলাফল হচ্ছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়া। এ ইঁদুর দৌড়ের কারণে যখন জীবনে ঘোর বর্ষা নামবে তখন হাতে ছাতা থাকবে না। ফালতু প্রতিযোগিতার কারণে সে ছাতা তো কবেই বিক্রি করে দিয়েছি!
তাহলে কী করবেন? সমাধান কী?
উত্তর: উপরের কোনোটিই করবেন না। টাকাও নিরাপদ থাকবে, আপনিও নিরাপদ থাকবেন। হাতের ছাতা হাতেই থাকুক, নয়ত বর্ষাকালে ভিজে ম*রণ জ্বরে ম*রবেন।
কাজের গতি ও মান বাড়ানোর সহজ কৌশল
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু বেশি পরিশ্রমে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়, এর সঙ্গে দরকার স্মার্ট পদ্ধতির অনুসরণ। কার্যকর সফল্য পেতে একজন শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর জন্য ফোকাস ধরে রেখে কাজ করা, মানসিক চাপ কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। এতে কাজের মান কমে যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে কাজের গতি ও মান বাড়ানো সম্ভব।
পোমোডোরো টেকনিক
পড়ালেখা বা কাজ যা-ই হোক, তাতে দীর্ঘ সময় মনোযোগ স্থির রাখা অনেকের জন্য কঠিন। এ সমস্যা সমাধানে পোমোডোরো টেকনিক দারুণ কার্যকর। একটি পূর্ণ মনোযোগে কাজ করুন, তারপর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এমন চারটি সেশনের পর নিন ১৫-২০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি। এই ছন্দে কাজ করলে মানসিক চাপ কমে, ক্লান্তি দূর হয় এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফেরা যায়।
ডিপ ওয়ার্ক অ্যান্ড ফোকাস
ডিপ ওয়ার্ক মানে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগে একটি কাজ করা। আমাদের দৈনন্দিন কাজের অনেকটা নষ্ট হয়, যখন আমরা মাল্টিটাস্কিং করি-একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করি। তার বদলে একটিমাত্র কাজকে অগ্রাধিকার দিলে ফল অনেক ভালো হয়। এ সময়ে মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।
ডিজিটাল ডিটক্স
আজকের দিনে স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউব ছাড়া জীবনযাপন কল্পনা করা কঠিন। তবে প্রযুক্তির এই অতিনির্ভরতা আমাদের শেখার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন, এটি ডিজিটাল ডিটক্স। সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে মনোযোগে ব্যাঘাত কমে এবং মস্তিষ্ক আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
বডি মুভমেন্ট
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শুধু শরীর নয়, মনও অলস হয়ে পড়ে। তাই ৩০-৪০ মিনিট অন্তর হালকা হাঁটাহাঁটি, স্ট্রেচিং বা ২-৩ মিনিটের জন্য সহজ ব্যায়াম করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং নতুনভাবে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
হাসি ও আনন্দ
মানসিক চাপ কমাতে হাসি ও আনন্দের বিকল্প নেই। কাজের মধ্যে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে হালকা আড্ডা দিন, পছন্দের গান শুনুন বা মজার কোনো ভিডিও দেখুন। ভালো মেজাজ আপনাকে আবারও কাজের টেবিলে ফিরিয়ে আনবে রে নতুন নতুন উদ্যমে।
শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োগই পারে একজন শিক্ষার্থী বা কর্মীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। শরীর ও মনের প্রাকৃতিক ছন্দ বুঝে কাজের সময় ভাগ করুন। মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন, ক্লান্ত হলে নিজেকে বিরতি দিন। তাহলে এগিয়ে যাবেন দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সাফল্যের পথে।
লেখা: সাব্বির হোসেন
শিশুকে যে ৭ খাবার খেতে দেবেন না
শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর হলো দ্রুত বৃদ্ধি এবং বিকাশের সময়কাল। প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হলে তা একটি সুস্থ ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও বাবা-মা এবং অভিভাবকদের শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিয়ে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে চাওয়া স্বাভাবিক, তবে কিছু খাবার শিশুর শরীরের জন্য ঝুঁ*কি তৈরি করতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক, শিশুকে কোন খাবারগুলো খেতে দেবেন না-
১. মধু
এই প্রাকৃতিক মিষ্টি প্রা*প্তবয়*স্কদের জন্য স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়, তবে এতে ক্লোস্টিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে, যা এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বোটুলিজম অর্থাৎ খাদ্যে বি*ষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর পাচনতন্ত্র এই স্পোর পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ক থাকে না।
২. অতিরিক্ত চিনি
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হওয়ার ঝুঁ*কি বেড়ে যেতে পারে। এতে খুব কম বা অনেক সময় কোনো পুষ্টিও থাকে না।
৩. অতিরিক্ত লবণ
শিশুর কিডনি দক্ষতার সঙ্গে প্রচুর সোডিয়াম প্রক্রিয়া করতে পারে না। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ তাদের কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
৪. পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য এবং জুস এগুলোতে ই. কোলাই, সালমোনেলা এবং লিস্টেরিয়ার মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। যা শিশুর গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সব সময় পাস্তুরিতগুলো বেছে নিন।
৫. অতিরিক্ত গরুর দুধ (এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য)
যদিও বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ শিশুর পুষ্টির প্রাথমিক উৎস, তবে খুব তাড়াতাড়ি গরুর দুধ খাওয়ালে হজমের সমস্যা এবং আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। এক বছর বয়সের পরে গরুর দুধ পরিমিত পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে।
৬. কিছু বড় মাছ (উচ্চ পারদযুক্ত)
হাঙ্গর, সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকেরেল এবং টাইলফিশের মতো মাছে উচ্চ মাত্রার পারদ থাকতে পারে, যা শিশুর বিকাশমান স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় বাচ্চাদের এবং প্রি-স্কুলারদের জন্য পরিমিত পরিমাণে স্যামন, কড এবং হালকা টুনার মতো ছোট, কম পারদযুক্ত মাছ বেছে নিন।
৭. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়
চা, কফি এবং কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা একটি উদ্দীপক। এগুলো ছোট বাচ্চাদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভিটি, ঘুমের ব্যাঘাত এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এগুলোতে কোনো পুষ্টিও থাকে না।
২৪ ঘণ্টাকে কাজে লাগানোর কৌশল
সবারই দিন ২৪ ঘণ্টার। কিন্তু এই সময়কে কে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করে ব্যক্তিগত উন্নতি ও সাফল্য। একজন শিক্ষার্থীর জন্য সময় ব্যবস্থাপনা শুধু প্রয়োজন নয়-এটি একান্ত অপরিহার্য। কারণ, পড়াশোনা, বিশ্রাম, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও আত্ম উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সময়ের চাহিদা ভিন্ন। শরীরবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের কার্যক্ষমতা দিনে বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করলে তার প্রভাবও হয় সর্বোত্তম। চলুন জেনে নিই কীভাবে দিনকে ভাগ করে নেওয়া যায়-
সকাল (৬টা-১০টা)
এই সময়ে শরীর ও মন সবচেয়ে চনমনে থাকে। ঘুম থেকে উঠে নতুন উদ্যমে কঠিন বিষয় বা নতুন কিছু শেখার উপযুক্ত সময় এটি। গণিত, বিজ্ঞানের জটিল অধ্যায়, ল্যাবের কাজ কিংবা গভীর মনোযোগের প্রয়োজন এমন যেকোনো পড়া এই সময়ে করলে মস্তিষ্ক তা সহজেই আত্মস্থ করতে পারে।
দুপুর (১০টা-১টা)
মস্তিষ্কের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা এই সময়ে সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। রচনা লেখা, প্রজেক্ট পরিকল্পনা, প্রোগ্রামিং বা যেকোনো সৃজনশীল কাজের জন্য এটি দারুণ সময়। কঠিন ধারণাকে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা যায় বলেই এ সময়ের যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার্থীর মেধা ও মননের বিকাশ ঘটায়।
বিকেল (৩টা-৫টা)
এই সময়ে শরীর-মনে নতুন উদ্যম ফিরে আসে। নোট রিভিশন, নতুন ধারণার অনুশীলন, প্রজেক্ট ও সৃজনশীল কাজের জন্য এটি দারুণ সময়। দিনের মাঝামাঝি বিশ্রামের পর আবার গতি ফেরে পড়াশোনায়।
দুপুর (১টা-৩টা)
দুপুরের খাবারের পর শরীর কিছুটা ধীর গতি হয়। তাই এ সময়ে হালকা রিভিশন, সহজ নোট তৈরির মতো কাজ করা ভালো। বিশ্রাম ও হালকা পড়াশোনার সংমিশ্রণে এ সময়টি মনকে প্রস্তুত রাখে বিকেলের কাজের জন্য।
সন্ধ্যা (৫টা-৭টা)
এই সময়ে হালকা অধ্যায় পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে শেখা ভাগাভাগি, সামাজিক যোগাযোগ, বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
রাত (৭টা-১১টা)
দিনভর যা শিখেছেন, তা ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য রাত উপযুক্ত। পুনরাবৃত্তি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নোট নেওয়া, ও পরদিনের পরিকল্পনা-সবই হওয়া উচিত এই সময়ে। তবে গভীর পড়াশোনার পরিবর্তে হালকা মনোযোগী কাজই শ্রেয়।
ঘুম (১১টা-৬টা)
পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া কোনো পড়াশোনাই সফল হতে পারে না। ঘুমের সময়ে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সংরক্ষণ করে এবং দেহ মেরামত হয়। প্রতিদিন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শিক্ষার্থীর শক্তি, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
সময় বাঁচানো নয় বরং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই সফলতার মূলমন্ত্র। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে পড়াশোনা, বিশ্রাম, সৃজনশীলতা ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
লেখা: সাব্বির হোসেন
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার যে পাঠগুলো নিতে পারি
একটি শিশুর হাতে ঝাড়ু। স্কুলের করিডর নিজ হাতে মুছছে সে। ক্লাসের শেষে সবাই মিলে গ্লাস পরিষ্কার করছে, টেবিল সাজাচ্ছে, এমনকি টয়লেটও ধুয়ে নিচ্ছে নিঃসংকোচে। এটি কোনো ব্যতিক্রমী দৃশ্য নয়; বরং জাপানের প্রতিটি স্কুলে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চিত্র। জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শেখার রয়েছে অনেক কিছুই।
প্রযুক্তিতে অগ্রসর, শিল্পে সমৃদ্ধ এবং শৃঙ্খলায় অতুলনীয় জাপানে শিশুর গোড়ার ভিত্তিই নির্মাণ হয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। আমরা অনেকেই জানি, জাপানের স্কুলে শিক্ষার্থীরা দারুণ রেজাল্ট করে, কিন্তু এর পেছনে যে আদর্শ, নীতি এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে, তা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।
শিশুদের মানুষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা শুধু পরীক্ষায়ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়; বরং একজন ভালো মানুষ তৈরিতে তাদের শিক্ষা ভূমিকা রাখে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ৬ বছরে (গ্রেড ১-৬) সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ব শেখাতে। এ সময়টায় পরীক্ষার চাপ থাকে না, থাকে না কোনো র্যাঙ্ককিং ব্যবস্থাও। স্কুলের শিক্ষকেরা আগে শেখান কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয়, কীভাবে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়, তারপর শেখান অঙ্ক আর ভাষা। এ ধরনের পাঠপ্রক্রিয়া একজন শিশুর মনে জাগিয়ে তোলে সহানুভূতি, দায়বদ্ধতা এবং সম্মানবোধ। যা শুধু স্কুলেই নয়, গোটা সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
স্কুল মানেই একাত্মতা, দায়িত্ব এবং পরিচ্ছন্নতা
জাপানের স্কুলে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের। আলাদা কোনো ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ছাত্ররা নিজেদের ক্লাসরুম, করিডর, এমনকি বাথরুম পরিষ্কার করে। এতে গড়ে ওঠে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস। কারণ যখন একটি শিশু জানে এই ঘরটুকু তার নিজের হাতেই পরিষ্কার রাখতে হবে, তখন সে কখনোই ময়লা ফেলে না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্কুলে লাঞ্চ পরিবেশন করে। রান্না করা খাবার নিয়ে আসে নির্ধারিত কিছু শিক্ষার্থী, একে অপরকে পরিবেশন করে, তারপর একসঙ্গে খায়। এতে গড়ে ওঠে সহযোগিতা, কৃতজ্ঞতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান।
শিক্ষক শুধু শিক্ষক নন, একটি আদর্শ জাপানের শিক্ষকেরা শুধু পাঠদানের
কাজ করেন না, তাঁরা হলেন নৈতিকতার আদর্শ। একজন শিক্ষক জানেন, তাঁর প্রতিটি কাজ ছাত্রদের কাছে শিক্ষার অনুষঙ্গ। প্রতিটি ক্লাসে সময়ানুবর্তিতা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং পাঠ্যবিষয়ের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে অনুসরণ করা হয়। একজন জাপানি শিক্ষক প্রতিদিন প্রায় ১১ ঘণ্টা কাজ করেন। তবে তাঁরা এতে ক্লান্ত হন না, কারণ তাঁরা মনে করেন, এ দায়িত্ব শুধু চাকরি নয়; বরং জাতি গঠনের ভিত্তি।
'হোমরুম' কালচার
জাপানে প্রতিটি ক্লাসের দায়িত্ব থাকে একজন হোমরুম টিচারের ওপর। এই শিক্ষক শুধু ক্লাসে পড়ান না, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন। পারিবারিক সমস্যা, হতাশা, আবেগ বা আত্মবিশ্বাস; সব বিষয়ে তিনি থাকেন সজাগ। বছরের শুরুতে শিক্ষক নিজ হাতে ছাত্রদের নাম লিখে 'স্বপ্নের খাতা' তৈরি করেন। সেখানে লেখা থাকে, কে কী হতে চায়, কোথায় দুর্বল, কোথায় মেধাবী। বছর শেষে সেই খাতায় শিক্ষক মন্তব্য লেখেন একটি ব্যক্তিগত চিঠির মতো। এতে গড়ে ওঠে এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।
গাইড করা, চাপিয়ে দেওয়া নয়
জাপানে উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রবেশ-পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। তবে শিক্ষাব্যবস্থার আশ্চর্য দিক হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ স্কুলে 'ক্র্যাম স্কুল' বা 'জুকু' রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। শিক্ষকেরা গাইড করেন, কিন্তু চাপিয়ে দেন না। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলে 'পরামর্শদাতা শিক্ষকদের' রাখা হয়, যাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা খোলামেলা কথা বলতে পারে।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় কী
জ্ঞান মানেই কেবল তথ্য নয়, বরং নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা। আমাদের দেশে যেখানে পরীক্ষার ফলাফলই শিক্ষার মূল পরিমাপক, সেখানে জাপানে শেখানো হয় কীভাবে ভালো মানুষ হওয়া যায়, কীভাবে সমাজের একজন সক্রিয় নাগরিক হয়ে ওঠা যায়। শিশুদের মুখে হাসি, চোখে স্বপ্ন, আর মনে দায়িত্ববোধ-এই তিনে গড়ে ওঠে এক সুশৃঙ্খল জাতি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যদি জাপানের মতো মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শের স্থান দিতে পারি, তবে ভবিষ্যতের পথ আরও আলোকিত হতে পারে।
লেখা: এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো মুদ্রিত বই
বলা হয় 'ডায়মন্ড সূত্র' বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো মুদ্রিত বই। ১৯০০ সালের ১১ মে চীনের দানহুয়াংয়ের একটি গো°পন গুহায় বইটি খুঁজে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় ৮৬৮ সালে চীনেই বইটি মুদ্রিত হয়েছিল। নিশ্চিত করে বলা যায় না ওয়াং জিয়ে কে ছিলেন আর কেনই-বা তিনি এই বইটি ছেপেছিলেন। তবে বইতে একটি চমকপ্রদ তথ্য আছে- মা-বাবার পক্ষ থেকে ওয়াং জিয়ে সর্বসাধারণের কাছে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এটি ছেপেছেন। বইটি আসলে সাড়ে সতের ফুট লম্বা একটি স্ক্রোল। এতে বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন পবিত্র বাণী লেখা রয়েছে, সেই সঙ্গে আঁকা ছবি। বইটি বর্তমানে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।
ছবি সৌজন্য: ব্রিটিশ লাইব্রেরি
চৌকস হওয়ার জাপানি কৌশল
জাপান শুধু প্রযুক্তি বা সৌজন্যর দেশ নয়, তাদের সংস্কৃতিতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু বুদ্ধিদীপ্ত অনুশীলন, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ, সুন্দর ও সচেতন করতে পারে। বাড়াতে পারে মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা। এখানে এমন পাঁচটি জাপানি কৌশল নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
শিরিতরি কৌশল
একদিন বিকেলে রিমি আর ওর ভাই খেলার ছলে শুরু করল শব্দখেলা। রিমি বলল 'চাঁদ'। ওর ভাই বলল 'দুধ'। এরপর রিমি বলল 'ধনুক'। এইভাবেই চলতে লাগল শব্দের পেছন ধরে নতুন শব্দ বলার খেলা। এটাই জাপানি 'শিরিতরি'-একটি জনপ্রিয় শব্দখেলা। এতে প্রথম ব্যক্তি একটি শব্দ বলেন এবং পরের ব্যক্তি সেই শব্দের শেষ অক্ষর দিয়ে আরেকটি শব্দ বলেন। এভাবে ঘুরে ঘুরে খেলা চলতে থাকে। যে মনে রাখতে পারে না বা ভুল করে, সে বাদ। আর যে ঠিক ঠিক মনে রেখে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শব্দ বলতে পারে, সে-ই জয়ী হয়।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'অরণ্যের দিনরাত্রি' সিনেমায় একটি দৃশ্য আছে। সেখানে চরিত্ররা বনে বেড়াতে গিয়ে 'শিরিতরি' খেলে। এই খেলায় মজা যেমন আছে, তেমনি আছে মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর গুণ। পরিবারের সবাই মিলে সপ্তাহে এক দিন শিরিতরি খেলুন। সময় বেঁধে নিন যে কম সময়ে বেশি শব্দ বলবে, সে জিতবে। ছোটদের ভাষা শেখানোর জন্য এটি এক অসাধারণ কৌশল।
কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন
তরুণ ছাত্র অর্ণব জাপানি ভাষা শিখতে গিয়ে দেখল, অক্ষরগুলো মুখস্থ করতে কষ্ট হচ্ছে। একদিন শিক্ষক তাঁকে বললেন, 'তুমি প্রতিটি কানজি অক্ষরের ভেতর একটা ছবি কল্পনা করো।' অর্ণব 'mori' শব্দটির মধ্যে তিনটি গাছ কল্পনা করল। বুঝল, এটা মানে ঘন বন। 'hazashi' মানে দুটি গাছ। অর্থাৎ জঙ্গল। এভাবেই প্রতিটি প্রতীক ছবির রূপে রূপান্তর করে মনে রাখা হয়। এই কৌশলই হলো কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন।
মোজিতসুকি
নতুন বছরে জাপানের একটি গ্রামে উৎসব হচ্ছে। সবাই মিলে তৈরি করছে মোচি-চালের কেক। একজন মুগুর দিয়ে চাল পেষণ করছে, আরেকজন সময়মতো হাত ঢুকিয়ে চালের ভেতর পানি ও ছন্দ দিচ্ছে। একটুও ভুল হলে হতে পারে আঘাত, তাই দুজনের ভেতর গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত তালমেল। এটাই হলো মোজিতসুকি। শুধু রান্না নয়, এটি সম্মিলিত মনোযোগ ও ছন্দ শেখায়। দলগত কাজের মধ্যে কীভাবে আস্থা ও সময়জ্ঞান তৈরি হয়, এটি তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
জাজেন ফোকাস
রাফি পড়ার টেবিলে বসে আছে, কিন্তু মন একদমই বসছে না। তখন সে শিখল 'জাজেন'। প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সে চুপচাপ চোখ আধা বন্ধ করে বসে থাকে, শুধু শ্বাস গোনে। প্রথমে অস্থির লাগলেও ধীরে ধীরে রাফি দেখল, মনোযোগ বাড়ছে, অস্থিরতা কমছে। এভাবেই জাজেন বা জেন ধ্যান আমাদের শেখায় নিজেকে সামলানো, মনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। জাপানিরা ধ্যানকে দৈনন্দিন কাজের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। এই কাজটা নামাজের মাধ্যমেও হয়। তাই নামাজ পড়া বা ইবাদত করা যেতে পারে। অমুসলিম হলে ধ্যান বা ধর্মীয় প্রার্থনা করা যেতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন ভোরবেলা বা রাতে ঘুমানোর আগে) ৫ মিনিট জাজেন করুন।
কোজিজি
আকাশ প্রতিদিন সকালে এক কাপ চা বানায়। তিনি সেই চা বানানোতেই তার যত্ন, মনোযোগ, ধৈর্য-সব ঢেলে দেয়। আর এই ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে সে খুঁজে পায় শান্তি ও আনন্দ। এটাই হলো কোজিজি ছোট জিনিস, ছোট কাজ, ছোট শব্দ; যেগুলোর মাঝে লুকিয়ে থাকে বড় উপলব্ধি। জাপানিরা মনে করে, জীবন শুধু বড় সিদ্ধান্তে নয়, ছোট অভ্যাসে তৈরি হয়। জাপানিরা ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখেন গল্পের ছলে। বাড়ির বয়স্করা ছোটদের পূর্বপুরুষদের গল্প শোনান। তাঁদের ইতিহাস বই, রান্নার বই, নৃতত্ত্বের বই-এ রকম নানা কিছু গল্পের মতো করে বলা বা লেখা হয়। ইতিহাসের নানা ঘটনা আশ্রয় করে বানিয়ে ফেলা হয় সিনেমাও। ফলে সেগুলো আর বিরক্তিকর লাগে না, বরং 'ইন্টারেস্টিং' লাগে। আবার মনে রাখাও সহজ হয়।
তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা,
দক্ষতা উন্নয়নে করণীয়
বর্তমান যুগ প্রযুক্তি ও জ্ঞানের যুগ । একাডেমিক ডিগ্রি যতটা গুরুত্বপূর্ণ , বাস্তব জীবনে টিকে থাকতে ততটাই প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা । বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের চাহিদা । এ পরিস্থিতিতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে , তেমনি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে । তাই শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারেন । আত্মমূল্যায়ন এবং পরিকল্পনা দক্ষতা অর্জনের শুরু হয় নিজের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গা চিহ্নিত করা থেকে । একজন শিক্ষার্থীকে জানতে হবে , কোন ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ ও সামর্থ্য বেশি । তারপর সে অনুযায়ী ছোট ছোট লক্ষ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন ।
অনলাইন কোর্স এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ বর্তমানে ইন্টারনেটে বহুবিধ মানসম্পন্ন কোর্স বিনা মূল্যে বা সামান্য খরচে পাওয়া যায় । এগুলোর মধ্যে Coursera , Udemy , Google Skillshop ও ICT Division- এর Learning & Earning Development Project- এর মতো প্ল্যাটফর্মে আইটি , ডিজাইন , যোগাযোগ বা ভাষাজ্ঞানবিষয়ক দক্ষতা অর্জন সম্ভব । এসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন । পাঠ্যবইয়ের বাইরে শেখা শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই চলবে না । বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী সমস্যার সমাধান , সৃজনশীল চিন্তা ও দলগত কাজের মতো দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে । ক্লাব ও সংগঠনে অংশগ্রহণ ডিবেট , আইটি , বিজ্ঞান বা উদ্যোক্তা ক্লাবগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ , নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্কের দক্ষতা গড়ে তোলে ।
এগুলোর মাধ্যমে হাতে - কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায় । বর্তমানে দেশের সব কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসংখ্য ক্লাব ও সংগঠন গড়ে উঠেছে । এগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ।
ইন্টার্নশিপ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান , এনজিও বা স্টার্টআপে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারেন । এ ছাড়া সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যেও সংগঠন পরিচালনা , সময় ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার মতো গুণ অর্জন করা সম্ভব ।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অনুশীলন নতুন কোনো দক্ষতা শিখে সেটিকে নিয়মিত চর্চা করা জরুরি । যেমন : কনটেন্ট লেখা , ভিডিও এডিটিং , কোডিং কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং — যেকোনো ক্ষেত্রেই আত্ম - উদ্যোগী হয়ে নিয়মিত অনুশীলনই দক্ষতা নিশ্চিত করে । শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি অন্তত একটি দক্ষতা নিয়ে নিয়মিত কাজ করা । কারণ , একবিংশ শতাব্দীতে টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি নয় , দক্ষতাই শেষ কথা ।
তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা
দিনে কাজের সময় ঘুম পেলে যা করবেন
বারবার ঘুম পেলে তা কাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলে । ডেডলাইন মিস করা , কাজ জমে যাওয়া , এমনকি চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে । ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসা জরুরি । তবে কিছু বিষয় মেনে চললে কাজের সময় ঘুম পাওয়া থেকে রেহাই পেতে পারেন । কফি বা চা পান করুন ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে , ঘুমের ভাব কমায় । এক কাপ কফি বা চা দ্রুত এনার্জি দেবে । তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে উদ্বেগ বা অস্বস্তি হতে পারে । তাই কফি পান দিনে ২ থেকে ৩ কাপের মধ্যে সীমিত রাখুন ।
পাওয়ার ন্যাপ
লাঞ্চ ব্রেকে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ ম্যাজিকের মতো কাজ করে । নিজের অফিস রুম বা গাড়ির সিটে শুয়ে পড়ুন । অ্যালার্ম সেট করে নিন , যেন বেশি ঘুমিয়ে না পড়েন । মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন একটানা বসে থাকলে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে ঘুমঘুম ভাব বাড়ে । প্রতি ৩০ মিনিটে একবার ডেস্ক থেকে উঠে হেঁটে আসুন । ফোনে কথা বলার সময় রুমে পায়চারি করুন বা ডেস্কে বসে হাত - পা নাড়াচাড়া করুন ।
গান শুনুন
শান্ত পরিবেশে কাজ করলে ঘুম পেতে পারে । বসের অনুমতি নিয়ে এয়ারফোনে চটপটে গান শুনতে পারেন । এতে মস্তিষ্ক সতেজ হবে , মন ভালো থাকবে ।
হালকা খাবার খান
দুপুরে পেটভরে খাওয়ার পর ঝিমুনি চলে আসে । এর বদলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার ; যেমন সেদ্ধ ডিম , গ্রিলড চিকেন , সালাদ , বাদাম বা ফল খান । খাদ্যতালিকায় চিনি ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কম রাখুন । কাজের জায়গা আলোকিত রাখুন প্রাকৃতিক আলো ঘুমের ভাব কমায় । জানালার পাশে বসলে পর্দা খুলে দিন । আলো কম হলে ডেস্কে ল্যাম্প বা বাল্ব ব্যবহার করুন । ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন ঝিমুনি থেকে দ্রুত রেহাই পেতে বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুতে পারেন । এরপর একটু হাওয়া খেতে বারান্দায় যান । দেখবেন ঘুমের ভাব পালিয়েছে ।
ফ্যান বা এসি চালু রাখুন গরম ঘরে কাজ করলে ক্লান্তি বাড়ে । ফ্যান বা এসির ঠান্ডা হাওয়া শরীর সক্রিয় রাখে । এ জন্য ডেস্ক ফ্যানও কিনতে পারেন ।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজ ফাঁকা পড়ে থাকলে ঘুম পায় বেশি । তাই অতিরিক্ত কাজ থাকলে সেগুলো আগেই হালকা করে নিন ।
এসবের পরেও নিয়মিত দিনে ঘুমানো , অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মনোযোগের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ , এটি শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
কীভাবে গড়ে তোলা যায় প্রেজেন্টেশনের দক্ষতা?
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রেজেন্টেশন শুধু একটি একাডেমিক কাজ নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং যোগাযোগ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। ভালো প্রেজেন্টেশনের জন্য নিচের কয়েকটি দিক অনুশীলন করা জরুরি:
তথ্যবিশ্লেষণ ও নির্বাচন
শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, কোনো তথ্য প্রাসঙ্গিক, কোনোটি শ্রোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ-তা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন করতে হবে। এ কাজে ক্রি*টিক্যাল থিংকিং (cri*tical thinking) এবং সৃজনশীল চিন্তার ব্যবহার অপরিহার্য।
ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন
তথ্য উপস্থাপনের সময় PowerPoint, Can-va, Prezi বা FigJam-এর মতো টুল ব্যবহার করে চিত্র, চার্ট, ম্যাপ, ও ইনফোগ্রাফের মাধ্যমে বক্তব্যকে বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
উদাহরণ ও তুলনার শক্তি ব্যবহার
আশিক চৌধুরীর মতো করে তুলনা (compar-ative analysis) ব্যবহার করলে জটিল তথ্যও সহজ হয়। 'বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী কানাডার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি'-এ ধরনের উপস্থাপনায় তথ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে।
উপস্থাপনের ভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা
স্পষ্ট উচ্চারণ, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি, সহজ ভাষায় বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক হিউমার ব্যবহার-এসব মিলেই একটি প্রাণবন্ত প্রেজেন্টেশন তৈরি হয়। বক্তার শরীরী ভাষাও (body language) একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
চর্চা ও আত্মমূল্যায়নের গুরুত্ব
নিয়মিত চর্চা ও নিজের ভিডিও দেখে ভুল ধরার অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে বক্তার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। ক্লাস, বন্ধুদের সামনে, বা মাইক্রো-প্রেজেন্টেশন সেশনের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা করতে হবে।
বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখন সময় এসেছে প্রেজেন্টেশন স্কিলকে পাঠ্যসূচির কেন্দ্রে আনার। শুধু সেমিস্টার শেষের ফর্মাল প্রেজেন্টেশন নয়-প্রতিটি কোর্সে ছোট ছোট কমিউনিকেশনভিত্তিক মূল্যায়ন, ইনফোগ্রাফ তৈরির টাস্ক, ভিডিও প্রেজেন্টেশন এবং TED-style বক্তৃতার মতো উপকরণ যুক্ত করা উচিত। শিক্ষকরা চাইলে 'স্টুডেন্ট প্রেজেন্টেশন ক্লাব' তৈরি করে নিয়মিত চর্চার সুযোগ দিতে পারেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসী হবে, অন্যদিকে তারা হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের করপোরেট বা একাডেমিক লিডার।
লেখা: ড. মো. আব্দুল মোমেন
সংক্ষেপে বাংলা সনের শুরুর ইতিহাস
সন শব্দটি আরবি শব্দ থেকে উদ্ভুত, অর্থ বর্ষ। আর সাল কথাটা ফার্সি শব্দ থেকে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন ও বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার দৃষ্টিপটে মহামতি আকবরই বাংলা সনের প্রবর্তক। বাংলা সন বাংলাদেশের নিজস্ব সন। এর উৎপত্তি ও বিকাশের ইসলামি উত্তরাধিকার সঞ্চাত। বাংলা সন বাংলার ঐতিহ্য পরম্পরায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক উপাদানে পরিণত হয়েছে। বঙ্গাব্দ, বাংলা সন বাংলা বর্ষপঞ্জি হলো বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত সৌর পঞ্জিকাভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিনের গণনা শুরু। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা লাগে। এই সময়টাই সৌর বছর। গ্রেগরীয় সনের মতো বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র। আকাশের রাশিমণ্ড লীতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়। যেমন যে সময় সূর্য মেষ রাশিতে থাকে সে মাসের নাম বৈশাখ। বাংলাদেশ ছাড়াও পূর্ব ভারতের পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গাব্দ শুরু হয় পয়লা বৈশাখ দিয়ে। বঙ্গাব্দ সব সময়ই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির অপেক্ষা ৫৯৩ বছর কম। সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় ১৯৮৭ সালে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালে বাংলা পঞ্জিকার প্রশ্নে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন কমিটির রেখে যাওয়া সুপারিশ গ্রহণ করেছে। তবে ১৪ এপ্রিল বছর শুরুর দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। খ্রিস্টীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষের বছরে চৈত্র মাসে একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারত সাম্রাজ্যের সম্রাট আকবরের আদেশে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারই বিজ্ঞ রাজ জ্যোতিষী আমির ফতেহ উল্লাহ শিরাজীর গবেষণার ঐতিহাসিক ফসল বাংলা সনের উৎপত্তি ঘটে। ব্রিটিশ রাজত্বের আগে এ দেশেও হিজরি সনই প্রচলিত ছিল। সামাজিক ক্ষেত্র বিশেষ করে মৌসুমের প্রতি দৃষ্টিপাত করেই রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনের পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক সৌরসনের প্রয়োজন বোধ হয়। বাংলা সন বঙ্গাব্দের উদ্ভব ঘটানো হয়। মানুষ কাল বা সময় বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আসছিল, সভ্যতার বিকাশের আদি যুগ থেকেই। প্রয়োজনের তাগিদে বছর, মাস, সপ্তাহ দিন ইত্যাদি গণনার প্রচলন করে। বাংলায় শকাব্দ, লক্ষনাব্দ, পালাব্দ, চৈতন্যাব্দ ইত্যাদি সনের প্রচলন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায় বাংলা বা বঙ্গাব্দের প্রচলন শুরু হলে। এই সন প্রচলনের ইতিহাসে সংযোগ ঘটেছে বাঙালি জাতির একান্ত নিজস্ব অব্দ। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনভুক্ত হয়। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ জয়ের পর মুসলমান শাসনামলে তৎকালীন প্রচলিত শকাব্দ ও লক্ষনাব্দ সনের পাশাপাশি শাসনতান্ত্রিক কর্মকান্ডে হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয়।
বাংলা সনের জনক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভারত সম্রাট আকবরের পাশাপাশি রাজা শশাঙ্ক, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নামও কোনো কোনো লেখক উল্লেখ করেছেন। যদিও ঐতিহাসিকদের যুক্তিবলে প্রমাণিত যে, সম্রাট আকবরই বাংলা সন প্রবর্তনকারী। এদেশে সবাই হিজরি সনই ব্যবহার করত। ফলে ফসল কাটার খুব অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো, কারণ আগের বছর যে তারিখে ফসল কাটতো, পরের বছর সে তারিখ ১১ দিন এগিয়ে যেত। আকবর যে হিজরি সন ছিল তখন থেকেই এক সৌরসংবত প্রবর্তন করেন। এটিই হচ্ছে বঙ্গাব্দ। সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহণের বছর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ (হিজরি ৯৬৩) এবং ৯৬৩ বঙ্গাব্দ। এই থেকে ঐতিহাসিকরা একমত হন যে, হিজরি থেকেই বঙ্গাব্দ চালু করা হয়। ৫২২ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ হিজরি সনের শুরু হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে হিজরতের স্মৃতি রক্ষার্থে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে হিজরি সনের সৃষ্টি। এই সনের শুরু ১৬ জুলাই ৬২২ অব্দ ধরা হলেও আসলে হিজরতের তারিখ রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার। ২০ সেপ্টেম্বর ৬২২ অব্দ ধরা হলে আরব দেশের নিয়মানুযায়ী বছরের প্রথম মাস পয়লা মহররমের তারিখ হতে বছর ধরা হয়েছে।
হিজরি সন ছিল চন্দ্রমাস। ওই মাসই হিজরি সন ও তারিখের হেরফের হতো, অর্থাৎ সৌর বছরের হিসাবের দিন তারিখ মাসের গরমিল হতো প্রচুর। সে কারণেই ৯৬৩ হিজরি, ৯৬৩ বাংলা সন সমন্বয় করে গণনা শুরু করা হয়। আকবর অবশ্য তার রাজত্বের ২৯তম বর্ষে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে এই বাংলা সন চালু করেন। আকবর সিংহাসনে বসেন ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ এপ্রিল। যদিও তার সিংহাসনে বসার প্রকৃত দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলায় আদি থেকে ঋতু বৈচিত্র্য অনুসারে বাংলা সন চালু করা হয়। রাজার অভিষেক শুরু রাজ্যাভিষেকের বছর ধরে যে সব পঞ্জিকার বছর গণনা শুরু করা হয় সে সব বছরের যে দিনেই রাজার অভিষেক হোক না কেন, ঐতিহ্যের খাতিরে বছর শুরুর দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়।
লেখা: সোহেল সানি
উইনফ্রের সাতটি জীবনপাঠ
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী অপরাহ উইনফ্রে । তিনি ‘ দি অপরাহ উইনফ্রে শো'র মাধ্যমে আমেরিকার টেলিভিশন প্রোগ্রামে ইতিহাস গড়ে তুলেছেন । অপরাহ উইনফ্রে শুধুই সফলতার প্রতীক নন — তিনি সাহস ও অন্তর্দৃষ্টির প্রতিচ্ছবি । তাঁর নেওয়া অসংখ্য সাক্ষাৎকার — দালাই লামা , নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে সমাজ বদলে দেওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা কোটি মানুষের জীবনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লেগেছে । আমেরিকান জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস অবলম্বনে অনুবাদ করেছেন মুসাররাত আবির ।
চলুন , একনজরে দেখে নিই উইনফ্রের সেই সাতটি জীবনপাঠ , যা আজও আমাদের চলার পথের প্রেরণা হয়ে ওঠে:
নিজের সেরাটা দাও
ভাগ্য আসে যখন প্রস্তুতির সঙ্গে সুযোগের দেখা হয় । এ বিশ্বাসই উইনফ্রেকে গড়েছে । তাঁর মতে , প্রতিটি দিন , প্রতিটি মুহূর্ত — একটি সম্ভাবনার বীজ । তুমি হয়তো জানো না , আগামীকাল কী হবে ; কিন্তু আজ নিজের সেরাটা দিলে- আগামীকালের দরজাও খুলে যাবে । সময় কখনো অপচয় করার জন্য নয় , এটি প্রতিদিন নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তোলার জন্য ।
নিজের শক্তির উৎস খুঁজে নাও
‘ তুমি কেবল তোমার শো নয় , তুমি অনেক বড় কিছু । ' অপরাহ অনেকবার শুনেছেন — শো ছাড়া তিনি কিছুই না । কিন্তু তিনি জানতেন তাঁর মূল্য কোথায় । তাঁর শক্তি আসে ভেতর থেকে । নিজেকে জানো , নিজের সৃষ্টিশীলতার জায়গাটা খুঁজে বের করো । একটি কাজ খুঁজে নাও , যেখানে তুমি আনন্দ পাও , যেখানে তুমি নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারো ।
সব দিন ভালো যাবে না
‘ না ’ মানে শেষ নয় , ‘ না ’ মানে শুধুই — ‘ এখন নয় ’ । জীবন কখনো সরলরেখা নয় । সব দিন সমান ভালো যাবে না , সব প্রয়াসে সফলতা আসবে না ।
কিন্তু প্রত্যাখ্যান মানেই থেমে যাওয়া নয় । সময়কে বুঝে , সুযোগের জন্য অপেক্ষা করাই কখনো কখনো সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত ।
নিজের ভেতরের কণ্ঠকে বিশ্বাস করো
‘ তোমার অন্তর্দৃষ্টি হলো তোমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গাইড । ’ অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আমরা অনেকেই উদাসীন । কিন্তু অপরাহ বলেন , এটাই আসলে তোমার ভেতরের কম্পাস । নিজেকে বোঝ , শুনতে শেখো , অনুভব করো — তোমার মন বলছে কী । সঠিক সিদ্ধান্তের মূল সেখানে , বাইরের চিৎকারে নয় — ভেতরের নীরব সাহসেই ।
যা আছে , তাতেই কৃতজ্ঞ থাকো
‘ যা নেই , তার জন্য কষ্ট না পেয়ে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হও । ' চাওয়ার কোনো শেষ নেই । কিন্তু তৃপ্তি আসে কৃতজ্ঞতা থেকে । যদি প্রতিদিনের ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করতে পারো , তাহলেই জীবনে স্বস্তি আসবে । কৃতজ্ঞতা শুধুই ভদ্রতা নয় , এটা একটা জীবনদর্শন ।
ভয়কে জয় করো
একজন রানি ব্যর্থতাকে ভয় পান না । ব্যর্থতা সফলতার আরেক ধাপ । ভয় সাফল্যের সবচেয়ে বড় শত্রু । আমরা যতটা না পারি , তার চেয়েও বেশি থেমে থাকি ভয় থেকে । অপরাহর উপদেশ — রানির মতো ভাবো । আত্মবিশ্বাসী হও , ব্যর্থতা থেকে শেখো । ভয় কাটিয়ে ওঠো , সফলতা তখন তোমার দিকে নিজেই এগিয়ে আসবে ।
ভুল থেকে শিখো
ভুল করা দোষ নয় , কিন্তু ভুল থেকে না শেখাটা অপচয় । জীবনে ভুল হবেই — তা স্বাভাবিক । কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা না নিতে পারা মানে নিজেকে অন্ধকারে রাখা । অপরাহ বলেছিলেন — ক্ষতের জায়গায় প্রলেপ নয় , সেখানে যেন জ্ঞান গজায় । প্রতিটি ভুল হোক একটি নতুন পাঠের জন্মস্থান ।
অপরাহ উইনফ্রে আমাদের দেখিয়েছেন — জীবন মানে কেবল সফলতার গল্প নয় । এটা লড়াই , আত্ম - অন্বেষণ , ব্যর্থতা থেকে শেখা আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পথ খোঁজার গল্প । তাঁর জীবনের পাঠগুলো কেবল অনুপ্রেরণা নয় — এগুলো আমাদের প্রত্যেকের জন্য একেকটি নকশা , যার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারি নতুন একটি আমি ।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা
সাফল্যের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (সিডিপি) হলো একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ, যা আপনার পেশাগত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কার্যকর কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান।
ধাপ ১: আপনার দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
প্রথমেই আপনার পেশাগত জীবনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আগ্রহ, দক্ষতা এবং মূল্যবোধ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন আপনি ভবিষ্যতে কোথায় থাকতে চান। এটি হতে পারে নির্দিষ্ট পদে উন্নীত হওয়া, নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা। এই লক্ষ্য নির্ধারণ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপগুলোকে। সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
ধাপ ২: লক্ষ্যকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে বিভক্ত করুন
বৃহৎ লক্ষ্যকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে বিভক্ত করা সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া সহজ করে। প্রতিটি মাইলস্টোন নির্ধারণ করুন, যা আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার লক্ষ্য হয় ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত হওয়া, তাহলে মাইলস্টোন হতে পারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পে নেতৃত্ব প্রদান।
ধাপ ৩: মাইলস্টোন অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করুন
প্রতিটি মাইলস্টোন অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে:
➤অনলাইন সার্টিফিকেশন: বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমে প্রাসঙ্গিক কোর্স সম্পন্ন করে সাটিফিকেশন অর্জন করুন, যা আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
➤মেন্টরশিপ: অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তাদের থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করুন, যা আপনার পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।
➤ওয়ার্কশপ ও সেমিনার: বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করে নতুন দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করুন।
ধাপ ৪: নিয়মিত আপনার পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সামঞ্জস্য করুন: ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই নিয়মিত আপনার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন এবং প্রয়োজনে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনুন। বাজারের পরিবর্তন, নতুন সুযোগ বা ব্যক্তিগত আগ্রহের পরিবর্তন অনুযায়ী আপনার Career Development Plan (CDP) সামঞ্জস্য করুন, যাতে এটি সর্বদা প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর থাকে।
সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ, মাইলস্টোনে বিভক্তিকরণ, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং নিয়মিত পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সামঞ্জস্য করার মাধ্যমে আপনি আপনার পেশাগত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ,