১
মিনিমালিস্ট লাইফ স্ট্যাইল
একজন মিনিমালিস্ট খুব সাদামাটা জীবন যাপন করেন। সাধারণত তারা যেসব জিনিস কোনেন না বা কাছে রাখেন না, সে বিষয়ে এখানে আলোচনা করা হলো। নিজের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
১. অপ্রয়োজনীয় শোপিস বা ঘর সাজানোর ছোটখাটো জিনিস:
মিনিমালিস্টরা ঘরের প্রতিটি কোণ ছোট ছোট খেলনা বা শোপিস দিয়ে ভরিয়ে রাখতে পছন্দ করেন না। তাঁরা ঘরকে ছিমছাম রাখতে পছন্দ করেন। যেমন- অনেকগুলো ছবির ফ্রেমের বদলে শুধু একটি ফুলদানি ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘর পরিষ্কার করাও সহজ হয়।
২. ফাস্ট ফ্যাশন:
সস্তা এবং সাময়িক ট্রেন্ডের পোশাক তাঁরা এড়িয়ে চলেন। কারণ এসব পোশাক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং আলমারিতে ভিড় বাড়ায়। তাঁরা টেকসই এবং মার্জিত পোশাক কেনেন যা অনেকদিন পরা যায়।
৩. অতিরিক্ত জুতো:
গবেষণায় দেখা গেছে একজন মানুষ জীবনে গড়ে ২৫৬ জোড়া জুতো কেনেন। মিনিমালিস্টরা ফ্যাশনের জন্য বারবার নতুন জুতো না কিনে শুধু প্রয়োজনীয় ও আরামদায়ক কয়েক জোড়া জুতো রাখেন।
৪. সিডি, ডিভিডি বা কাগুজে বই:
এখন সবকিছুই ডিজিটালি পাওয়া যায়। তাই তাঁরা ঘরে সিডি বা ডিভিসির স্তূপ না করে স্ট্রিমিং সার্ভিস (যেমন- নেটফ্লিক্স, ইউটিউব) ব্যবহার করেন এবং কাগুজে বইয়ের বদলে ই-বুক পছন্দ করেন।
৫. একটি মাত্র কাজে লাগে এমন রান্নাঘরের সরঞ্জাম:
যেমন- শুধু রসুন কাটার যন্ত্র বা আপেল কাটার যন্ত্র। তাঁরা মনে করেন একটি ভালো ছুরি দিয়েই এসব কাজ করা সম্ভব। তাই বহুমুখী কাজে লাগে এমন সরঞ্জামই তাঁরা কিচেনে রাখেন।
৬. একই জিনিসের একাধিক কপি:
অনেকের অভ্যাস থাকে অপ্রয়োজনে অনেক সেট চাদর বা তোয়ালে জমিয়ে রাখা। মিনিমালিস্টরা একটি বা দুটি ভালো মানের জিনিস রাখেন যা দিয়ে তাঁদের কাজ চলে যায়।
৭. সব ধরনের পরিষ্কারক দ্রব্য:
বাজারের প্রতিটি জিনিসের জন্য আলাদা আলাদা ক্লিনার (যেমন- মেঝে, কাঁচ বা টাইলসের জন্য আলাদা) না কিনে তাঁরা বহুমুখী কাজে লাগে এমন সাধারণ ক্লিনার ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।
৮. ভ্রমণের স্যুভেনিয়ার বা সৃতিচিহ্ন:
তাঁরা ঘোরার সময় অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ব্যাগ ভারী করেন না। তার বদলে ছবি তোলা বা স্মৃতি জমা করাকেই গুরুত্ব দেন।
৯. হুটহাট কেনাকাটা:
ছাড় দেখে বা হুট করে কোনো কিছু তাঁরা কেনেন না। কোনো কিছু কেনার আগে তাঁরা বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করেন এবং ভাবেন সেটা সত্যিই দরকার কি না।
১০. গতানুগতিক উপহার:
তাঁরা উপহার হিসেবে এমন কিছু দিতে বা নিতে পছন্দ করেন যা দ্রুত শেষ হয়ে যায় (যেমন- খাবার) অথবা কোনো অভিজ্ঞতা (যেমন- মুভি টিকিট)। এতে ঘরে আবর্জনা বাড়ে না।
১১. অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার বা রূপচর্চার পণ্য:
সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে বারবার নতুন নতুন ক্রিম বা লোশন না কিনে তাঁরা তাঁদের ত্বকের জন্য উপযোগী নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যই ব্যবহার করেন।
১২. একবার ব্যবহারযোগ্য জিনিস:
পরিবেশের কথা চিন্তা করে তাঁরা ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেট বা টিস্যুর বদলে বারবার ব্যবহার করা যায় এমন কাপড়ের ন্যাপকিন বা কাঁচের পাত্র ব্যবহার করেন।
১৩. অতিরিক্ত স্টোরেজ বিন বা বাক্স:
জিনিসপত্র গোছানোর জন্য বারবার নতুন নতুন প্লাস্টিকের বাক্স না কিনে তাঁরা বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঘর থেকে বিদায় করাকেই শ্রেয় মনে করেন।
১৪. ভাড়ায় চালিত স্টোরেজ ইউনিট:
বিদেশে অনেকে ঘরের অতিরিক্ত জিনিস রাখার জন্য আলাদা গুদাম ভাড়া নেন। মিনিমালিস্টদের যেহেতু জিনিসের পরিমাণ খুব কম, তাই তাঁদের এমন বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না।
__________________
মিনিমালিস্ট হওয়া মানে কৃপণতা নয়, বরং সচেতনভাবে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে শান্তিতে থাকা। এতে টাকা বাঁচে এবং ঘরও পরিষ্কার থাকে। @ Paint with Ashraf
রাস্তার পাশের খাবার বিশেষ করে চা, সিংগারা, ভেলপুরি, ফুচকা, চটপটি ও নানান স্ট্রিটফুড আপাতত এড়িয়ে চলুন। অস্বাস্থ্যকর স্ট্রিটফুড খাওয়ার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ভ°য়াব°হতা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
২
কখনোই একা খাবেন না
মানুষের জীবনে সাফল্য কেবল একার খাটুনিতে আসে না। সম্পর্ক, সহযোগিতা আর আন্তরিকতার হাত ধরেই আসে জীবনের প্রকৃত সফলতা। কিথ ফেরাজ্জির 'নেভার ইট অ্যালোন' বইটি আমাদের শোনায় সেই মানবিক সাফল্যের গল্প-যেখানে প্রতিটি খাবারের টেবিল হয়ে ওঠে নতুন সুযোগের সূচনা।
২০০৫ সালে প্রকাশিত এ বইয়ের লেখক কিথ ফেরাজ্জি একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নেটওয়ার্কিং বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেলয়েট কনসালটিংয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ফেরাজ্জি যে উপলব্ধি করেছেন তা স্পষ্ট-সাফল্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে আন্তরিক সম্পর্কের মধ্যেই।
'নেভার ইট অ্যালোন' মানে কী?
শিরোনামটি সরল হলেও এতে নিহিত রয়েছে এক গভীর বার্তা। 'নেভার ইট অ্যালোন' অর্থ-প্রতিটি খাবারের টেবিলকে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক ও সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা। একা খাওয়া মানে সম্ভাবনার দরজা বন্ধ রাখা-যখন আপনার চারপাশেই ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য সুযোগ ও নতুন গল্পের সম্ভাবনা।
সহযোগিতার দর্শন
ফেরাজ্জির দর্শনে সম্পর্কের শুরুতেই বিনিময়ের আশা নয়-সবার আগে দরকার নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করার মানসিকতা। তিনি বলেন,
'যখনই সম্ভব, মানুষের উপকার রপাশে করুন। সাফল্য তখনই আপনার পাশে আসবে।'
যখন মানুষ বুঝবে আপনি নিঃস্বার্থ, তখন থেকেই সম্পর্ক হবে আরও দৃঢ় ও গভীর।
মানবিক স্পর্শই আলাদা করে
মানুষের নাম মনে রাখা, জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা-এই ছোট ছোট আচরণই একসময় গড়ে তোলে গভীর সম্পর্ক। ফেরাজ্জি মনে করিয়ে দেন, মানবিক স্পর্শই একজন মানুষকে আলাদা করে দেয় অন্যদের থেকে।
সম্পর্কের মানচিত্র
ফেরাজ্জি 'রিলেশনশিপ ম্যাপ' ধারণা দিয়েছেন-আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের একটি মানচিত্র তৈরি করুন। কে কোথায় আছেন, কীভাবে তাঁরা আপনার জীবনে প্রভাব ফেলতে পারেন-এ মানচিত্র কখনো আপনাকে একা ফেলে রাখবে না।
প্রস্তুতি ও গবেষণার গুরুত্ব
কারও সঙ্গে দেখা করার আগে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফেরাজ্জি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পছন্দ-অপছন্দ, আগ্রহের বিষয়গুলো জেনে নিয়ে আলাপ শুরু করলে সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহজেই। এতে বোঝা যায় আপনি কেবল পেশাগত নয়; বরং আন্তরিক বন্ধনে আগ্রহী।
ছোট ছোট মিলনমেলা
বড় অনুষ্ঠান নয়, বরং ছোট ছোট গেট টুগেদার বা এক কাপ চায়ের আড্ডাই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। 'নেভার ইট অ্যালোন' শেখায়-প্রতিটি ছোট আয়োজনের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে আন্তরিক সম্পর্কের সম্ভাবনা।
বাধা পেরিয়ে ওঠার গল্প
কিথ ফেরাজ্জির নিজের জীবনও অনুপ্রেরণার এক গল্প। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন-সামাজিক বৃত্তের বাইরে গিয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আত্মবিশ্বাস ও উন্মুক্ত মন
বইটি বারবার মনে করিয়ে দেয়-আত্মবিশ্বাস ও উন্মুক্ত মনই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি। নিজের ভয় কাটিয়ে উঠুন, প্রতিটি আলাপের সুযোগ নিন। মনে রাখুন, প্রত্যেক মানুষের কাছ থেকেই কিছু শেখার আছে।
'নেভার ইট অ্যালোন' আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-ক্যারিয়ার বা জীবনের যাত্রায় একাকিত্ব নয়, প্রয়োজন মানুষের পাশে থাকা। প্রতিটি সম্পর্কই এক সম্ভাবনার আলো। লেখা: সাব্বির হোসেন
৩
ছোট ছোট কৌশল আপনার স্মৃতিশক্তি বাড়াবে
বয়সের ভারে হোক বা কাজের চাপে, ভুলে যাওয়ার সমস্যা আজকাল আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। চশমাটা কোথায় রাখলেন, পরিচিত নামও হুট করে মনে পড়ছে না কিংবা প্রয়োজনীয় ফাইলটি কোথায় রেখেছেন, তা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন? এমন অভিজ্ঞতা হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্মৃতিশক্তি কোনো স্থির বিষয় নয় ; বরং নিয়মিত চর্চা ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে একে যেকোনো বয়সেই শাণিত করা সম্ভব। বয়সের ভারে হোক বা কাজের চাপে, ভুলে যাওয়ার সমস্যা আজকাল আমাদের অনেকেরই নিত্যসঙ্গী।
মনোযোগই হলো মূল চাবিকাঠি
স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো কোনো বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়া। আমরা যখন একসঙ্গে অনেক কাজ করি, তখন মস্তিষ্ক কোনো তথ্যই স্থায়ীভাবে জমা করতে পারে না। হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো নতুন তথ্য শোনার বা দেখার সময় সেটির দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিন। কোনো কিছু শোনার পর তা মনে মনে বা জোরে কয়েকবার আওড়ান। একে বলা হয় ‘রিহার্সাল’। কারও নাম শোনার পর কথা বলার সময় তাঁর নাম বারবার ব্যবহার করলে তা মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
তথ্য মনে রাখার আধুনিক কৌশল
বড় কোনো তথ্য মনে রাখা কঠিন হলে তাকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। যেমন একটি দীর্ঘ মোবাইল নম্বর মনে রাখার সময় তা তিন বা চার সংখ্যার ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন। আবার জটিল তথ্য মনে রাখতে বিশেষ সংকেত বা ছন্দ ব্যবহার করতে পারেন। কোনো নতুন তথ্যের সঙ্গে আপনার ইতিমধ্যে জানা আছে—এমন কোনো ঘটনার যোগসূত্র স্থাপন করলে তা মনে রাখা সহজ হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘অ্যাসোসিয়েশন’।
শরীরচর্চা করলে ঘুম ভালো হয়, মানসিক চাপ সামলানোও সহজ হয় । জীবনযাত্রায় আনুন ইতিবাচক পরিবর্তন
স্মৃতিশক্তি কেবল মস্তিষ্কের ব্যায়াম নয়, এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার ওপরও নির্ভর করে। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কে তথ্য গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব আমাদের বিচারবুদ্ধি ও স্মৃতি—দুটোই এলোমেলো করে দেয়। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল রাখা জরুরি।
প্রযুক্তির সাহায্য নিন
সব তথ্য মস্তিষ্কে জমা করার বাড়তি চাপ না দিয়ে ক্যালেন্ডার, স্মার্টফোন রিমাইন্ডার বা নোটবুক ব্যবহার করুন। এতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা যায়।
স্মৃতিশক্তিকে একটি পেশির মতো কল্পনা করুন। একে যত বেশি ব্যবহার এবং সঠিক যত্ন করবেন, এটি তত বেশি শক্তিশালী হবে। আজকের এই ছোট ছোট কৌশল আপনার প্রাত্যহিক জীবনে নিয়ে আসতে পারে বড় পরিবর্তন।
সোর্স: ওয়েবএমডি, মেমোরিল্যাব ডা. হিমেল বিশ্বাস
৪
ভালো ক্লাসনোট নেওয়ার কৌশল
ক্লাসে ক্লাসনোট নেওয়ার গুরুত্ব অনেক। ক্লাসে শোনা লেকচার মনে নাও থাকতে পারে। কিন্তু খাতায় নোট নেওয়া থাকলে পরে পড়তে ও বুঝতে অনেক সুবিধা হয়।
জেনে নিন ভালো ক্লাসনোট নেওয়ার কিছু কৌশল।
আলাদা খাতা
সব ক্লাসের নোট একটি খাতায় নিলে পরে বুঝতে অসুবিধা হয়। ধারাবাহিকতাও রক্ষা করা যায় না। তাই কার্যকরী ক্লাসনোট নিতে প্রত্যেক সাবজেক্টের জন্য আলাদা আলাদা খাতা বানিয়ে নাও। তবে খাতাগুলো বেশি মোটা করবে না। এতগুলো বইয়ের সঙ্গে আবার এত মোটা মোটা খাতা বহন করা খুব অসুবিধাজনক হয়ে যাবে। তাই খাতার পৃষ্ঠা সংখ্যা কম রাখবে।
ক্লাসে মনোযোগী হও
কার্যকরী ক্লাসনোট নিতে হলে অবশ্যই ক্লাসে মনোযোগী হতে হবে। ক্লাসে মনোযোগী না হলে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর কোনটি অগুরত্বপূর্ণ তা বুঝবে না। তা ছাড়া মনোযোগী না হলে অনেক কিছু হয়তো ঠিক করে শুনতেই পাবে না। ফলে অমনোযোগী অবস্থায় যে ক্লাসনোট তৈরি করবে তা হবে অসম্পূর্ণ। তাই শিক্ষক ক্লাস শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে লেকচারে মনোযোগ দাও। পেছনে বন্ধুরা কে কী করছে তা লক্ষ্য করার প্রয়োজন নেই। ক্লাসে এত মনোযোগ দিয়ে লেকচার শুনলে হয়তো বন্ধুরা ক্ষেপাবে কিন্তু সুন্দর করে লেকচার নোট করলে পরে এই বন্ধুরাই তোমার পেছনে ঘুরবে। তাই ক্ষেপানোকে পাত্তা না দিয়ে লেকচারে মনোযোগ দাও। শিক্ষকরা পড়ানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বলে দেন। সেগুলোতে 'গুরুত্বপূর্ণ' লিখে রাখো কারণ শিক্ষক প্রশ্ন করবেন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করা টপিকগুলো থেকেই।
বুঝে লেখো
শিক্ষক যা বলছেন তা হুবহু টুকে রাখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষকের কথা বুঝে নিজের মতো গুছিয়ে লেখা। হুবহু লিখতে গিয়ে অনেক সময় পড়া বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে। ফলে লেকচার লিখে নিয়ে গেলেও বাসায় গিয়ে বোঝা যায় না কোন বিষয়ে শিক্ষক কোন কথাটি কেন বলেছিলেন। তাই লেকচার বুঝে নোট করো।
চিত্র এঁকে, সংকেত দিয়ে নোট করে সময় বাঁচাও
ক্লাসে কৌশলে নোট করো। কথার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লেখা কঠিন ব্যাপার। তাই শিক্ষক যা বলছেন তা সম্পূর্ণ নোট নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু একটু কৌশল অবলম্বন করে তুমি ক্লাসনোট সম্পূর্ণ করতে পার। সম্পূর্ণ বাক্য না লিখে মূল শব্দ বা কি ওয়ার্ডগুলো লিখে রাখতে পার। আরও সহজ করতে ক্ষিপ্ত হাতে প্রয়োজনীয় ছবি এঁকে বা সংকেত দিয়েও লিখে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নোট নিতে পার।
হাতে লেখো
পরীক্ষায় হাতে লিখেই উত্তর করতে হয়। তাই ক্লাসে হাতে লিখে নোট নেওয়া এবং বাসায়ও হাতে লিখে নোট করার অভ্যাস কর। এর ফলে কোনো প্রশ্ন লিখতে কতটুকু সময় লাগবে সে সম্পর্কে তুমি একটি ধারণা পাবে। তা ছাড়া দ্রুত লেখার অভ্যাসও তোমার আয়ত্তে আসবে, যা পরীক্ষার দিনগুলোতে কাজে লাগবে। লেখা: লিজা হক
৫
অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করবেন যেভাবে
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানার্জন করেন না, বরং গবেষণা, বিশ্লেষণ ও নানা স্কিল গঠনের সুযোগ পান। এই দক্ষতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি। অ্যাসাইনমেন্ট শুধু পরীক্ষার বিকল্প কিংবা নম্বর তোলার মাধ্যম নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, লেখনশৈলী ও বিশ্লেষণ-ক্ষমতার প্রকাশ।
এটি একজন শিক্ষার্থীকে কেবল পড়ুয়া নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার পথে আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট বিষয়টিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেন না বা কীভাবে সঠিকভাবে একটি মানসম্পন্ন অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে হয়, তা জানেন না। ফলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে করা অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষার্থীর প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত করে। ভালো অ্যাসাইনমেন্ট তৈরির ধাপগুলো তুলে ধরা হলো-
বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা
অ্যাসাইনমেন্ট হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে আগে প্রয়োজন সেটি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া। বিষয়বস্তু কী, কী ধরনের প্রশ্ন রয়েছে, কোন দিকগুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে-এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে অ্যাসাইনমেন্টের গঠন সঠিক হয় না। তাই শিক্ষকের কাছ থেকে প্রয়োজন হলে বাড়তি ব্যাখ্যা নিয়ে নিতে হবে।
তথ্যের উৎস হতে হবে নির্ভরযোগ্য
একটি অ্যাসাইনমেন্টের প্রাণ হচ্ছে তথ্য বা কনটেন্ট। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া একটি অ্যাসাইনমেন্ট কখনোই মানসম্পন্ন হতে পারে না। এ জন্য বই, গবেষণা নিবন্ধ, সরকারি প্রতিবেদন, রেফারেন্সযুক্ত ওয়েবসাইট ও লাইব্রেরি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণ গুগল সার্চ দিয়ে মেলে এমন ব্লগ বা অব্যবস্থাপনার ওয়েবসাইটের তথ্য গ্রহণ করা উচিত নয়। তথ্য যাচাই করে ব্যবহার করা একজন দক্ষ শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য।
রূপরেখা বা আউটলাইন তৈরি
অনেকে সরাসরি লেখায় ঝাঁপিয়ে পড়েন, কিন্তু ভালো লেখার জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা খুব জরুরি। এতে লেখার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকে এবং বিষয়বস্তুর গঠন হয় স্পষ্ট। রূপরেখা তিন ভাগে ভাগ করা যায়-ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার। ভূমিকায় বিষয়টি পরিচয় করিয়ে দিন, মূল অংশে বিশ্লেষণ করুন এবং উপসংহারে পুরো লেখার সারসংক্ষেপ ও নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করুন।
নিজের ভাষায় লেখাই শ্রেয়
তথ্য সংগ্রহ করে হুবহু কপি করে লেখার চেয়ে নিজের ভাষায় উপস্থাপন করাই বেশি মূল্যবান। এতে আপনার বিশ্লেষণী ও বোধশক্তির প্রকাশ ঘটে। যেখান থেকে তথ্য নিচ্ছেন, সেখানে 'উদ্ধৃতি' চিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনে পাদটীকা বা রেফারেন্স যুক্ত করতে হবে। প্লেজারিজম বা চু*রি করে লেখা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয়।
রেফারেন্সিং ও উদ্ধৃতির ব্যবহার
একটি অ্যাসাইনমেন্টে তথ্য বা মতামতের উৎস জানানো খুব জরুরি। এ জন্য অ্যাসাইনমেন্টের শেষে রেফারেন্স লিস্ট যুক্ত করতে হবে। শিক্ষক যেই স্টাইল চায় (APA, MLA, Chicago, Harvard ইত্যাদি), সেই অনুসারে রেফারেন্স দিতে হবে। এটি কেবল অ্যাসাইনমেন্টের গঠনগত সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং আপনাকে একজন দায়িত্বশীল লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বানান ও ভাষার শুদ্ধতা
ভাষাগত শুদ্ধতা হলো একটি ভালো লেখার অন্যতম শর্ত। বাংলা হোক বা ইংরেজি-যে ভাষাতেই লেখেন না কেন, সঠিক বানান, ব্যাকরণ এবং বাক্যগঠন বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজনে অ্যাসাইনমেন্ট লেখা শেষ হওয়ার পর একাধিকবার পড়ে দেখুন এবং কোনো বানান বা তথ্যগত ভুল আছে কি না যাচাই করুন। আজকাল বিভিন্ন স্পেল চেকার বা গ্রামার চেকার অ্যাপও ব্যবহার করা যায়।
উপস্থাপনার দিন বাড়তি গুরুত্ব
একটি সুন্দরভাবে সাজানো অ্যাসাইনমেন্ট শিক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তাই টাইপ করা, পরিষ্কারভাবে ছাপানো এবং প্রাসঙ্গিক কভার পেজসহ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিন। কভার পেজে আপনার নাম, রোল নম্বর, বিষয়, কোর্স কোড, শিক্ষকের নাম ও তারিখ উল্লেখ করুন। কেউ চাইলে ডিজাইন করা কভার পেজও যুক্ত করতে পারেন, তবে সেটি যেন পেশাদারভাবে হয়।
সময়মতো জমা দিন
বলা হয়ে থাকে, 'সময়মতো কাজ না করলে ভালো কাজও মূল্যহীন হয়ে পড়ে।' বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমাদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। তাই যথাসময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক। বিলম্বে জমা দিলে হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে না, অথবা নম্বর কেটে নেওয়া হতে পারে।
লেখা: সাব্বির হোসেন
৬
সীমাবদ্ধতা মানুষকে আরো বেশি সৃজনশীল করে তোলে৷
একজন মানুষ জানে না সে কোন পরিবেশে জন্মাবে, কোথায় তার বেড়ে ওঠা হবে। মানুষের সবকিছু তার নিজের হাতে থাকে না৷
•
ভালোবাসা জিনিসটা এরকম, একবার যদি বীজটা বোনা যায় ভেতরে, তাহলে জিনিসটা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে৷
•
অন্য প্রাণী থেকে মানুষ আলাদা কোন জায়গায়? আমাদের চিন্তার জায়গায়। আমরা কল্পনার ভেতর একটা জগৎ তৈরি করতে পারি।
•
সীমাবদ্ধতা জিনিসটা মানুষকে আরো বেশি সৃজনশীল করে তোলে৷
•
বড় হওয়ার একটা ভালো ব্যাপার এই যে, যখন আমরা বড় হই তখন আমরা যে কোনো জিনিসকে ভিন্নভাবে দেখতে শিখি।
•
তুমি যেটাকে ভালো ভাবছো, সেটা করলেই যে ভালো কিছু হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এমন না।
•
তুমি যদি খারাপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাও, তোমাকে ভালো ভালো জিনিস বেশি বেশি করে পড়তে হবে।
@: চমক হাসান
৭
ড. এ পি জে আবদুল কালামের কাছ থেকে সাফল্যের ১০টি শিক্ষা
ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালাম ছিলেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল বাতিঘর। তরুণ, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ—সকলের কাছেই তিনি অনুকরণীয়। তাঁর জীবনযাত্রা এবং দর্শন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।
১. নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করুন
পরিস্থিতির চাপে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেবেন না। স্বপ্ন সেটাই, যা পূরণ করার তাগিদে ঘুমাতে পর্যন্ত দেন না। আপনার চিন্তাকে কাজে রূপ দিন, কর্মই সাফল্যের পথ তৈরি করবে।
২. শেখা থামাবেন না
জীবন থেকে শিখতে থাকুন। নতুন কিছু জানার আগ্রহই আপনাকে সৃজনশীল করে তুলবে, আর সৃজনশীলতা আপনাকে করবে অনন্য।
৩. নিজের মতো হতে শিখুন
অন্যদের মতো হবার চেষ্টা না করে নিজের স্বকীয়তা গড়ে তুলুন। নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন।
৪. সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে ফেলুন
সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুন চিন্তাধারা তৈরি করুন। প্রতিকূলতা আসবেই—সেগুলোই আপনার সম্ভাবনা প্রমাণের সুযোগ।
৫. একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করুন
সততা, ধৈর্য ও একাগ্রতা বজায় রেখে কাজ করুন। দলগত কাজের গুরুত্ব বুঝুন, এতে সাফল্য আরও বড় হয়।
৬. ফলাফল নিয়ে ভাবুন
যে কাজ করবেন, আগে এর ফলাফল কেমন হতে পারে ভেবে নিন। সম্ভাবনা ও উপকারিতা বিশ্লেষণ করে কাজে নামুন।
৭. ব্যর্থতাকে মেনে নিন
সাফল্যের প্রথম ধাপ হলো ব্যর্থতা। ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে নিজেকে গড়ে তুলুন।
৮. ন্যায়পরায়ণ হোন
অন্যকে কিছু দিতে শিখুন—হোক তা একটি হাসি বা সদয় কথা। হৃদয়ের ন্যায়পরায়ণতাই সত্যিকারের শান্তি আনে।
৯. নিজের কাজকে ভালোবাসুন
কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, নিজের কাজকে ভালোবাসুন। যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিন। সাফল্য আপনার সাথেই থাকবে।
১০. শেখানোর আনন্দ ছড়িয়ে দিন
যুবসমাজকে জ্ঞান দিতে এগিয়ে আসুন। একজন শিক্ষক হওয়া গর্বের ব্যাপার। প্রজন্মের পরিবর্তন ক্লাসরুম থেকেই শুরু হয়।
৮
পরীক্ষার ইতিহাস: কবে, কেন, কিভাবে শুরু হলো এই প্রথা?
স্কুল, পড়াশোনা, বন্ধু–সবই দারুণ। কিন্তু বছরের পর বছর পরীক্ষা দিতে দিতে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নিশ্চয়ই আপনারও মনে হয়েছে– এই পরীক্ষা নামের ‘ঝামেলা’টা কে আবিষ্কার করল? যদি পৃথিবীতে পরীক্ষা না থাকত, কী হতো! অনেকেই মজা করে বলেন– পরীক্ষা আবিষ্কারকই ছাত্রদের সবচেয়ে বড় শ°ত্রু!
কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই ‘শ°ত্রু’র জন্ম কৌতূহল, শৃঙ্খলা আর মেধা যাচাইয়ের তাগিদ থেকে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরুতে পরীক্ষা এমনভাবে ছিল না। প্রাচীন গ্রীস, মিসর বা ভারতের পাঠশালায় জ্ঞান বিতরণ হতো মৌখিকভাবে, গুরু-শিষ্য পদ্ধতিতে। শিষ্যরা সরাসরি শিক্ষকের সামনে বসে শিখত, তাদের শেখার অগ্রগতি পরিমাপ হতো পর্যবেক্ষণ আর আলোচনা দিয়ে।
৬০৫ খ্রিস্টাব্দে চীনের শুই রাজবংশের অধীনে আয়োজিত হয় বিশ্বের প্রথম লিখিত ও আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা– 'ইম্পেরিয়াল এক্সামিনেশন।'
এর উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে যোগ্য মানুষ খুঁজে বের করা। অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রাচীন চীনা দার্শনিক 'কনফুসিয়াসের দর্শন' থেকে প্রণীত হতো। এই পরীক্ষা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, ১৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এর সংস্করণ চলে চীনে।
পাশাপাশি, ইউরোপের শিক্ষায় পরীক্ষা নতুন ধারা আনে। ১২০০–১৫০০ শতাব্দীতে অক্সফোর্ড, প্যারিস, বলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো, যেখানে শিক্ষকরা সরাসরি প্রশ্ন করতেন। ১৬০০–১৭০০ শতকে লাতিন ভাষা ছাড়াও বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৮০৬ সালে ইংল্যান্ডে চালু হয় 'সিভিল সার্ভিস এক্সামিনেশন।' এখান থেকে প্রেরণা নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগে পরীক্ষা চালু করে। এরপর ধীরে ধীরে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ে।
আজ যেই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর আর সিলেবাসভিত্তিক পরীক্ষা আমরা দিই, সেটির অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে স্বীকৃত জার্মান-আমেরিকান অধ্যাপক হেনরি ফিশেল। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ লেখা যাচাই করতে করতে তিনি বিরক্ত হয়ে যান। তখন ভাবতে শুরু করেন– কীভাবে মেধা যাচাই সহজ, দ্রুত ও মানসম্পন্ন করা যায়। তার এই ভাবনা থেকেই আসে আমাদের পরিচিত আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতির ধারণা।
➤চলুন এবার জেনে নিই পরীক্ষা সংক্রান্ত আরো কিছু মজার তথ্য:
☞SAT (Scholastic Assessment Test) নামের পরীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯২৬ সালে, যা যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে।
☞Multiple Choice Question (MCQ) পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয় বিংশ শতকের শুরুতে, যাতে কম সময়ে বেশি শিক্ষার্থী যাচাই করা সম্ভব হয়।
☞বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পরীক্ষা চীনের ইম্পেরিয়াল এক্সামিনেশন– ৯ দিন পর্যন্ত চলত। পরীক্ষার্থীরা গৃ°হব°ন্দি হয়ে লিখত!
☞জাপানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এতটাই প্রতিযোগিতামূলক যে পরীক্ষার মৌসুমকে “একাডেমিক ও°য়ার” বলে ডাকা হয়।
তবে পরীক্ষা নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অনেকেই বলেন, পরীক্ষার চাপ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক স্বাস্থ্য ন°ষ্ট করছে। কেউ আবার বলেন, ভালোভাবে শেখার কোনো বিকল্প নেই, আর পরীক্ষা হলো শেখার মান যাচাইয়ের উপায়।
ভবিষ্যতে কি এই পরীক্ষা পদ্ধতি থাকবে? নাকি মেধা যাচাইয়ের জন্য আসবে নতুন কোনো উদ্ভাবনী পদ্ধতি? এ প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
আপনার পরীক্ষা সম্পর্কিত কোন #মজার স্মৃতি থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।
৯
১ থেকে ২ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার উপায়
সত্য বলুন তো, রাতে যতটা সময় ঘুমান, তার চেয়ে বেশি সময় কি ঘুমানোর চেষ্টাতেই কেটে যায়? তাহলে এ সমস্যায় শুধু আপনিই ভুগছেন না। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি তিনজনে একজন এমন ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। যদিও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির দিনে ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। শিশুদের জন্য সেটা আরও বেশি। তবে আসলে কতটুকু ঘুমের প্রয়োজন, তা কোনো ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে-বলেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় অনেকের। যেমন-
দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি, অস্থিরতা বা বিরক্তি
» কর্মক্ষমতা, একাগ্রতা ও স্মৃতিশক্তি কমা।
» বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া
» হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতার ঝুঁকি বাড়া।
» আবার প্রতিনিয়ত ঘুমানোর জন্য দীর্ঘ সময় চেষ্টা করলে উদ্বেগ বাড়তে পারে। ফলে ঘুমের আবেশ ব্যাহত হতে পারে।
যদি মস্তিষ্কে ঘুমের সংকেত না আসে, ঘুমানোর আগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
» ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। ঘরের পরিবেশ ঘুমের উপযোগী করা।
» দিনের বেলার কাজ রাতে ঘুমে কতটা সহায়ক, তা বিশ্লেষণ করা।
» রাতে কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুমিয়ে পড়া যায়, তা নিয়ে সচেতন থাকা।
এরপরও ঘুমাতে সমস্যা হলে পদ্ধতি বদলে কয়েকটি পদ্ধতি কাজে লাগান।
সামরিক পদ্ধতি
আমেরিকান ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড কোচ লয়েড বাড উইন্টার দ্বিতীয় বিশ্বযু°দ্ধের সময় একটি শিথিলকরণ কৌশল তৈরি করেছিলেন। মনে করা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর প্রি-ফ্লাইট স্কুলের বিমানচালকদের ১২০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করেছিল সে কৌশল।
উইন্টারের 'রিলাক্স অ্যান্ড উইন:
চ্যাম্পিয়নশিপ পারফরম্যান্স' (১৯৮১) বই থেকে জানা যায়, এ পদ্ধতি অনুসরণের ফলে কফি পানের পরেও এবং তাঁদের চারপাশে বন্দুকের গুলি চলার পরেও ভালো ঘুমাতে পারার সাফল্যের হার ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ।
এই ঘুমের পদ্ধতিটি সম্পন্ন হতে পুরো ১২০ সেকেন্ড সময় নেয়। কিন্তু শেষ ১০ সেকেন্ডেই শেষ পর্যন্ত ঘুম আসে
১২০ সেকেন্ডের সামরিক পদ্ধতিতে যেভাবে ঘুমাতে যাবেন
» মুখের ভেতরের পেশিসহ পুরো মুখ শিথিল করুন।
» কাঁধ ছেড়ে দিন। পেশি শক্ত না করে হাত দুটো শরীরের দুই পাশে নামান।
» বুক শিথিল করে শ্বাস ছাড়ুন। পা, উরু শিথিল করুন।
» একটি আরামদায়ক দৃশ্য কল্পনা করুন
» এটি কাজ না করলে ১০ সেকেন্ডের জন্য বারবার নিজেকে 'চিন্তা করো না' বলার চেষ্টা করুন।
» পরের ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
» এটিও যদি কাজ না করে, তাহলে আপনাকে সামরিক পদ্ধতির ভিত্তিগুলোর ওপর কাজ করতে হতে পারে। যেমন শ্বাসপ্রশ্বাস এবং পেশি শিথিলকরণ। এ ছাড়া কিছু অবস্থা; যেমন মনোযোগে ঘাটতি, হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার এই পদ্ধতির কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে।
৬০ সেকেন্ডে ঘুমিয়ে পড়তে চাইলে
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘুমের স্বাস্থ্যবিধি এবং শিথিলকরণ পদ্ধতিগুলো অনিদ্রার চিকিৎসায় কার্যকর।
দুটি পদ্ধতি শ্বাসপ্রশ্বাসে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারে। পেশি শিথিল করে মন শান্ত রাখতে সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো-
৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি
এই শ্বাসপ্রশ্বাস পদ্ধতিটি প্রাণায়াম ব্যায়ামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ধ্যান ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন কৌশলটি যত বেশি অনুশীলন করবেন, এটি ঘুমিয়ে পড়তে তত বেশি কার্যকর হতে পারে। আপনার হাঁপানি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা থাকলে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রস্তুতির জন্য জিহ্বার অগ্রভাগ মুখের তালুর বিপরীতে, সামনের দুটি দাঁতের পেছনে রাখুন। জিহ্বা পুরো সময় সেখানে রাখুন।
৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাসের চক্র কীভাবে করবেন
» দুই ঠোঁটের মাঝখানে সামান্য ফাঁক রাখুন। মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় একটি ছশিং শব্দ করুন। ১০ সেকেন্ডের জন্য। এরপর আপনার মন থেকে নেতিবাচক চিন্তা দূর করার চেষ্টা করুন। তাহলে শরীরের জন্যও ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এবার ঠোঁট বন্ধ করুন এবং নাক দিয়ে চুপচাপ শ্বাস নিন। মনে মনে চার পর্যন্ত গণনা করুন।
» সাত সেকেন্ডের জন্য শ্বাস ধরে রাখুন। এটি অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
» আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে হুশিং শব্দসহ শ্বাস ছাড়ুন।
» আপনি যখন আবার শ্বাস নেন, তখন একটি নতুন চক্র শুরু হবে। চারটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করুন। তবে যদি আপনি আগে শিথিলতা অনুভব করেন তবে আপনার শরীরকে ঘুমাতে দিন। পরদিন সকালে উঠুন পরিতৃপ্ত মনে।
সূত্র: হেলথ লাইন
১০
পিরামিড: এক চিরকালীন বিস্ময়
পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি। পিরামিড হলো এক ধরনের জ্যামিতিক আকৃতি, যার বাইরের তলগুলো ত্রিভুজাকার। এসব তল শীর্ষে গিয়ে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। একটি পিরামিডের কমপক্ষে তিনটি ত্রিভুজাকার পার্শ্বতল থাকে, অর্থাৎ পিরামিডের ভূমিসহ কমপক্ষে চারটি তল থাকে।
ফারাওরা প্রাচীন মিসর শাসন করতেন। তাদের কবর দেওয়ার জন্য পিরামিড নির্মাণ করা হতো। মিসরে ছোট-বড় ৭৫টি পিরামিড আছে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় হচ্ছে গিজার পিরামিড, যা খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। এটি খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির ওপর স্থাপিত। তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছে আনুমানিক এক লাখ। পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথরখণ্ড দিয়ে। সেগুলোর এক-একটির ওজন ৬০ টন আর দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মতো। পাথরের সঙ্গে পাথর জোড়া এমনভাবে পিরামিড তৈরি করা হতো, একটি পাথর থেকে আরেকটি পাথরের মাঝের অংশে একচুলও ফাঁক থাকত না।
সবচেয়ে বড় খুফুর পিরামিডের উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। ৪ হাজার ৪০০ বছর ধরে এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য। ১৮৮৯ সালে আইফেল টাওয়ার তৈরি হওয়ার পর এটি তার গৌরব হারায়। খুফুর পিরামিড ৭৫৫ বর্গফুট জমির ওপর অবস্থিত। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ হাজার বছর আগে এই পিরামিড নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পিরামিডটির ওজন ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টন। ধারণা করা হয়, ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন পাথরের বিশাল বিশাল টুকরা দিয়ে পিরামিড বানানো হয়েছে। প্রতিটি পাথরের ওজন প্রায় ২ দশমিক ৫ টনের মতো। পাথরগুলো দূর-দূরান্তের পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
১১
শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের ১০টি সহজ ও কার্যকর উপায়
অনেক শিক্ষার্থীই মনে করেন, পড়াশোনার ব্যয়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় করা সম্ভব নয়। অথচ ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ নিলেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই শক্ত আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের ১০টি সহজ ও কার্যকর ধাপ তুলে ধরা হলো:
সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি করুন
সঞ্চয় শুধু টাকা জমার বিষয় নয়, এটি একটি ইতিবাচক অভ্যাস। আপনি যখনই আয় বা হাতখরচ পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখার মানসিকতা গড়ে তুলুন।
ছোট থেকেই শুরু করুন
বড় অঙ্কের টাকা জমাতে না পারলেও হতাশ হবেন না। মাসে মাত্র ২০০০-৩০০০ টাকা করে সঞ্চয় করলেও বছর শেষে তা ২৪,০০০-৩৬,০০০ টাকা হতে পারে। পরিমাণ নয়, নিয়মিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখুন
আপনার মূল ব্যয় অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একটি আলাদা সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলুন। এতে আপনার সঞ্চয়ের অগ্রগতি চোখে পড়বে এবং খরচ করা কমে যাবে।
সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
লক্ষ্য ছাড়া সঞ্চয় উৎসাহ হারায়। আপনি কি নতুন ল্যাপটপ কিনতে চান? উচ্চশিক্ষার ফান্ড গড়তে চান? না কি জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে চান? লক্ষ্য থাকলে সঞ্চয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ে।
বাজেট তৈরি করুন
মাসিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখুন। কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তা জানলে অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগ বেরিয়ে আসবে।
'পে ইওরসেলফ ফার্স্ট' নীতি অনুসরণ করুন
আপনি যে পরিমাণ অর্থই পান না কেন, প্রথমেই তার একটি অংশ সঞ্চয়ে রাখুন। ব্যয়ের পর যা বাঁচে তা নয়; বরং শুরুতেই সঞ্চয় করুন।
অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ান
প্রতিদিন ক্যাফেতে খাওয়া, অনলাইন শপিংয়ে অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বারবার রাইড শেয়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এই ছোট ছোট খরচ কমালেই সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে।
অফার, ডিসকাউন্ট ও শিক্ষার্থী ছাড় ব্যবহার করুন
বিভিন্ন সেবা ও পণ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসকাউন্ট থাকে। সেগুলো খেয়াল রাখুন এবং সুযোগমতো ব্যবহার করুন। এতে ব্যয় কমে যাবে।
আয় বৃদ্ধির উপায় খুঁজুন
পার্টটাইম চাকরি, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, টিউশন বা নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় বাড়াতে পারেন। আয় বাড়লে সঞ্চয় করাও সহজ হয়।
নিজের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন
মাস শেষে কত টাকা সঞ্চয় করতে পারলেন, তা লিখে রাখুন। অগ্রগতি দেখতে পারলে অনুপ্রেরণা বাড়ে এবং অভ্যাসটি স্থায়ী হয়।
সঞ্চয় শুরু করা হয়তো প্রথমে কঠিন
মনে হতে পারে, কিন্তু একবার অভ্যাসে পরিণত হলে এটি আপনার সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সঞ্চয়ের এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, ভবিষ্যতের জন্য আপনি আজই বীজ বুনছেন।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা
শিক্ষার্থীদের স্মার্ট বাজেটিংয়ের ৮ ধাপ
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন মানেই স্বাধীনতা, নতুন অভিজ্ঞতা আর নিজের পছন্দমতো চলার সুযোগ। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জন্য এ সময়টাই প্রথমবারের মতো নিজে নিজে টাকাপয়সা সামলানোরও চ্যালেঞ্জ। সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো স্বাধীনভাবে টাকাপয়সা সামলানোর মতো ব্যাপারও শুরু করেন।
ফলে অনেকেই কোন খাতের জন্য কত টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে, তা বুঝতে না পেরে মাসের শুরুতেই দেদার খরচ করে ফেলেন। যে কারণে মাসের শেষের দিকে ধারদেনা করে চলতে হয়। এ সংকট থেকে বাঁচতে হলে শিখতে হবে স্মার্ট বাজেটিং। আপনি ঢাকার কোনো হোস্টেলে থাকুন কিংবা বাসা থেকে আসা-যাওয়া করুন-স্মার্ট বাজেটিং আপনার ছাত্রজীবনকে অনেক সহজ ও আনন্দময় করে তুলতে পারে।
বাজেটিং কেন জরুরি
বাংলাদেশে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট একটা মাসিক খরচের ওপর নির্ভর করেন, যা সাধারণত পরিবার থেকে আসে। অনেকে আবার টিউশন, খণ্ডকালীন চাকরি কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমেও আয় করেন। মাসের মাঝামাঝি টাকা শেষ হয়ে গেলে পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ে। কিন্তু বাজেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি অর্থনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি জরুরি সময়ের জন্য সঞ্চয় করতে শিখবেন।
বাজেটিংয়ের ধাপ
>> আয়ের হিসাব
প্রথমেই নিজের মাসিক আয়ের হিসাব করুন। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আয়ের উৎসগুলো হলো: পরিবার থেকে পাওয়া মাসিক খরচ।
বৃত্তি বা ভাতা (যদি থাকে)। খণ্ডকালীন চাকরি (টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং, ক্যাম্পাস জব ইত্যাদি)।
> খরচের তালিকা করুন
আপনার মাসিক খরচগুলো ভাগ করে নিন। যেমন বাসাভাড়া বা হোস্টেল ফি বাবদ কত টাকা খরচ হচ্ছে, মাসে খাবারের পেছনে কত টাকা যাচ্ছে, যাতায়াত খরচ কেমন, মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল, স্টাডি ম্যাটেরিয়াল (বই, স্টেশনারি, ফটোকপি) থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানা খরচ, ছোটখাটো ঘোরাঘুরি, হঠাৎ কোনো দরকারে কী পরিমাণ টাকার দরকার হতে পারে-এসবের একটা তালিকা তৈরি করে ফেলুন।
>>বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করুন
এখন আপনার আয় অনুযায়ী প্রতিটি খরচের জন্য বাজেট ঠিক করুন। যেমন প্রতি মাসে খাওয়ার পেছনে আপনার কত টাকা বরাদ্দ থাকা উচিত, টুকটাক হাতখরচের জন্য কত টাকা জমা রাখবেন, জরুরি কোনো প্রয়োজনে কত টাকা আলাদা করে রাখা উচিত ইত্যাদি এ বাজেটের ভেতরে চলে আসবে।
» খরচ নিয়মিত ট্র্যাক করুন বাজেটিং এক দিনের কাজ নয়, এটার জন্য অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। বাজেট ট্র্যাক করার জন্য ডায়েরি কিংবা মোবাইল অ্যাপ যেমন মানি লাভার, গুগল শিট, ওয়ালেট ইত্যাদি অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে একবার খরচের হিসাব ট্র্যাক করুন। কোথায় বেশি খরচ হচ্ছে? কোনো বিশেষ খরচ বাদ পড়ছে কি? কোনো খাতে বেশি বা কম খরচ হলে, পরের মাসে বাজেটে পরিবর্তন আনুন।
>> জরুরি ফান্ড গড়ে তুলুন প্রতি মাসে ৫০০-১,০০০ টাকা সঞ্চয় করলেও, হঠাৎ কোনো বিপদে কাজে লাগবে। এই টাকা আলাদা মোবাইল ব্যাংক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখুন, যেন সহজে খরচ না হয়।
>> আয় বাড়ানোর উপায় খুঁজুন যদি খরচ সামলাতে কষ্ট হয় তাহলে টিউশনি, ফ্রিল্যান্সিং (লেখা, ডিজাইন, কোডিং), ইভেন্টে কাজ করতে পারেন। যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বৃত্তি পেয়ে যান, সে ক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচ কিছুটা বেঁচে যায়।
> ঋণের ফাঁদে পড়বেন না অপ্রয়োজনীয় লোন নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। খুব দরকার ছাড়া ধার করবেন না, করলে শর্ত ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। ক্রেডিট কার্ডও না নেওয়াই ভালো। নিলে মাস শেষে পুরো বিল পরিশোধ করুন।
>> মাস শেষে রিভিউ ও অ্যাডজাস্ট করুন
প্রতি মাস শেষে বাজেট ও বাস্তব খরচ তুলনা করুন। কোথায় সাশ্রয় করতে পারলেন তা দেখুন, কোথায় সমস্যা হয়েছে, তার সমাধান ভাবুন। বাজেটিং এক দিনে শেখা যায় না, ধাপে ধাপে অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়। এতে আপনি নিজের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাবেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন, আর পছন্দের জিনিসের জন্যও টাকা জমাতে পারবেন। সূত্র: নার্ড ওয়ালেট @মুসাররাত আবির
১২
'হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস...' বই থেকে শিক্ষা
জীবন যত সহজ মনে হয়, ততটাই জটিল মানুষের মন। বন্ধুত্ব, সহানুভূতি আর ভালোবাসা-এই মানবিক বন্ধনের মূলমন্ত্র আমাদের অনেক সময় অজানা থেকে যায়। কিন্তু ডেল কার্নেগির 'হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল' বইটি যেন সেই হারিয়ে যাওয়া মূলমন্ত্রের মানচিত্র। এখানে লুকিয়ে আছে অমূল্য পাঠ-যা মানুষের মন জয় করে নেয়। আসুন, শিক্ষাগুলো জেনে নিই, একে গাঁথি হৃদয়ের মালায়।
অন্যের সমালোচনা করবেন না
মানুষের মনে আঘাত দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু সেই ক্ষত সারাতে যুগ যুগ লেগে যায়। ডেল কার্নেগি বলেন, সমালোচনা মানুষের আত্মমর্যাদা ভেঙে দেয়, তাকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দেয়। সমালোচনা নয়, বরং ভালো দিকগুলোতে আলোকপাত করুন। মানুষকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন, তার সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে তাকে উৎসাহ দিন। সমালোচনা এড়িয়ে গেলে বন্ধুত্বের বীজ সহজে অঙ্কুরিত হয়।
সবার কাছে প্রিয় হওয়ার কৌশল
মানুষ নিজের গল্প শোনাতে ভালোবাসে। তাদের মন খুলে বলার সুযোগ দিন। মনোযোগ দিয়ে শোনার মধ্যে লুকিয়ে আছে বন্ধুত্বের জাদু। হাসিমুখ, কোমল ভাষা আর চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন, অচেনা মুখগুলোও আপনার আপন হয়ে উঠবে।
ভালো বক্তা হওয়া যায় কী করে
ভালো বক্তা হতে হলে আগে ভালো শ্রোতা হতে হবে। মানুষের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কথার মধ্যে তার আবেগ আর প্রয়োজন খুঁজে নিন। কথা বলার সময় স্পষ্টতা, আন্তরিকতা আর উষ্ণতা আনুন-দেখবেন, আপনার বক্তব্য সবার মনে গেঁথে যাবে।
অন্যদের কীভাবে উৎসাহী করা যায়
মানুষের ছোট সাফল্যকেও সম্মান করুন। প্রশংসা করুন সত্যি সত্যিই। কেউ যদি ভুল করে, তাকে ভর্ৎসনা নয়, বরং উৎসাহ দিয়ে নতুনভাবে চেষ্টা করতে বলুন। এভাবেই মানুষ খুঁজে পায় নিজের ভেতরের আলো।
আপনি তর্কে জিততে পারবেন না
তর্কে জিতে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু সম্পর্ক হারানোর বেদনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। ডেল কার্নেগি বলেন, তর্কে কেউই প্রকৃত বিজয়ী নয়। তর্ক নয়, বরং বিনয়ের সঙ্গে নিজের যুক্তি তুলে ধরাই শ্রেয়। এতে সম্মান রক্ষা হয়, সম্পর্কও অটুট থাকে।
ভুল করে থাকলে তা স্বীকার করুন
মানুষমাত্রই ভুল হয়। নিজের ভুল অকপটে স্বীকার করলে সম্পর্কের ভিত মজবুত হয়। এতে অন্যের মনে আস্থা বাড়ে, আপনার প্রতি শ্রদ্ধা জাগে। ভুল থেকে শেখা-এটাই পরিপক্কতা।
প্রশংসা করুন
সত্যিকারের প্রশংসা মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালে। প্রতিটি ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিন-বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল হবে।
মানুষকে সুখী দেখতে শিখুন। তার হাসির অংশ হতে পারলে বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট থাকে। অন্যের আনন্দে আনন্দ খুঁজুন-সেখানেই জীবনের সার্থকতা।
@সাব্বির হোসেন
১৩
মধ্যবিত্তদের জন্য ছয়টি রেড ফ্ল্যাগ।
১। ভুল জমি, ভুল ফ্লাট: অপর নাম 'কান্না'।
আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় খপ করে খেয়ে ফেলার জন্য উৎ পেতে আছে ভুয়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। কেনার সময় আপনাকে যে জমি দেখানো হবে আসলে তা হয়ত কেনাই হয়নি। জমির মালিককে মাসে দু'হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমির উপর কোম্পানিটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে মাত্র। এ জমি কিনলেন তো বঙ্গোপসাগরে সর্বস্ব বিসর্জন দিলেন। ঠক খাওয়া মানুষটির এসব মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কিছুই করার থাকে না। আশেপাশে তাকালেই এদের হাতে পথের ফকির হয়েছেন এমন অনেককেই দেখবেন। উল্টাপাল্টা ডেভেলপার থেকে ফ্লাট কিনলেও একই দশা। মনে রাখবেন, একটি ভুল জমি বা ফ্লাট ইকুয়াল টু বাকি জীবনের কান্না।
২। অস্বাভাবিক ডিসকাউন্ট: ১০ নম্বর বিপৎসংকেত।
কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পঞ্চাশ হাজার টাকার জিনিস দশ হাজার টাকায় অফার করবে। কমদাম দেখে মধ্যবিত্তরা ঝাঁপ দেন। এরমধ্যে সামান্য কয়েকজনকে পণ্য সরবরাহ করা হবে, বাকিদের দেবে না। সোজা কথায় তাঁদের টাকা মে*রে দেওয়া হবে। বঞ্চিতরা এ কোম্পানির মালিককে জীবনেও ধরতে পারবেন না। তাঁদের সে ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা টাউট কোম্পানির মালিক তাদের ঠকানো টাকায় কিনে নিয়েছে।
৩। না বুঝে ব্যবসা করা: লবণ দিয়ে চা খাওয়া।
এক্ষেত্রে বেশি ধরা খান সারাজীবন চাকুরি করে রিটায়ারমেন্টে বেনিফিট দিয়ে যারা ব্যবসা করতে যান। ব্যবসার 'ব' না বুঝে ব্যবসা করলেন মানে এতদিন রক্ত পানি করে যে টাকা জমিয়েছেন তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেন। হাতে টাকা এলে আপনার কাছে অনেকেই আসবেন ব্যবসা বুদ্ধি দিতে। এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দেবেন। আমাকে কেউ এ বুদ্ধি দিলে আমি হাসতে হাসতে বলব, 'ভাইসাহেব, এক কাপ লবণ দিয়ে চা দেই, ওটা খেলে বুঝবেন লবণ যেমন চায়ের সাথে যায় না, আমার সাথে ব্যবসাও তেমন যায় না।
৪। ব্যবসা করার জন্য অন্যকে টাকা দেওয়া: ভুল সবই ভুল।
ব্যবসা না বুঝে তা করতে গিয়ে আমরা যেমন মা'রা খাই, ঠিকই তেমনি আমাদের মরা লা*শ জলে ভাসে অন্যের হাতে লাভের আশায় সঞ্চয় তুলে দিলে। আমি এমন মানুষ খুব কম দেখেছি, যারা অন্যকে ব্যবসা করার জন্য টাকা দিয়ে জিতেছেন। দুটো কারণে এটা হয়। প্রথমত যিনি ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছেন তিনি নিজেই মা'র খেয়েছেন, ফেরত কোত্থেকে দেবেন? দুই নম্বর হলো, টাকা মে'রে দেওয়া। কয়েকমাস লাভ দিয়ে তারপর অস্বীকার! লাভ তো দূরের কথা আসলই ফেরত পাওয়া যায় না। তাই লাভের আশায় অন্যকে টাকা দিলেন মানে ব্যাংকের চেক কাটলেন না, নিজের ভাগ্যকেই নিজে কেটে দিলেন। সর্বনাশকে লাল গালিচা পেতে আমন্ত্রণ জানালেন।
৫। অস্বাভাবিক মুনাফা বা সুদ: ইঁদুর মা*রা ফাঁদ।
যখন কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রচলিত বা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ মুনাফা বা সু'দের চাইতে বেশি অফার করে তখন বুঝে নেবেন, আপনাকে 'বকরি' বানানোর কায়দা করা হচ্ছে। জ"বাই করাত ছু*রি শান দেওয়া হচ্ছে। এরা তো জ্বীন-ভূত না যে বাজারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাইতে বেশি লাভ দেবে! এটা কি সম্ভব? এদের হাতে কি আলাদীনের চেরাগ আছে? নেই। তবে আপনার টাকা মে'রে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাওয়ার জন্য 'ম্যাজিক কার্পেট' আছে।
৬। বোকা ম্যার্যাথন এবং দুঃখ নামের মেডাল।
আমাদের একটা বাজে অভ্যাস হলো অন্যদের সাথে অন্ধ প্রতিযোগিতা। পাশের বাসায় ৪২ ইঞ্চি টিভি কেনা হয়েছে! আমারও কিনতে হবে। কেউ গাড়ি কিনেছে! ধারকর্জ করে আমাকেও কিনতে হবে। ফলাফল হচ্ছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়া। এ ইঁদুর দৌড়ের কারণে যখন জীবনে ঘোর বর্ষা নামবে তখন হাতে ছাতা থাকবে না। ফালতু প্রতিযোগিতার কারণে সে ছাতা তো কবেই বিক্রি করে দিয়েছি!
তাহলে কী করবেন? সমাধান কী?
উত্তর: উপরের কোনোটিই করবেন না। টাকাও নিরাপদ থাকবে, আপনিও নিরাপদ থাকবেন। হাতের ছাতা হাতেই থাকুক, নয়ত বর্ষাকালে ভিজে ম*রণ জ্বরে ম*রবেন।
১৪
কাজের গতি ও মান বাড়ানোর সহজ কৌশল
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু বেশি পরিশ্রমে সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়, এর সঙ্গে দরকার স্মার্ট পদ্ধতির অনুসরণ। কার্যকর সফল্য পেতে একজন শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর জন্য ফোকাস ধরে রেখে কাজ করা, মানসিক চাপ কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। অনেক সময় প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। এতে কাজের মান কমে যায়। এ ক্ষেত্রে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে কাজের গতি ও মান বাড়ানো সম্ভব।
পোমোডোরো টেকনিক
পড়ালেখা বা কাজ যা-ই হোক, তাতে দীর্ঘ সময় মনোযোগ স্থির রাখা অনেকের জন্য কঠিন। এ সমস্যা সমাধানে পোমোডোরো টেকনিক দারুণ কার্যকর। একটি পূর্ণ মনোযোগে কাজ করুন, তারপর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এমন চারটি সেশনের পর নিন ১৫-২০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি। এই ছন্দে কাজ করলে মানসিক চাপ কমে, ক্লান্তি দূর হয় এবং নতুন উদ্যমে কাজে ফেরা যায়।
ডিপ ওয়ার্ক অ্যান্ড ফোকাস
ডিপ ওয়ার্ক মানে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগে একটি কাজ করা। আমাদের দৈনন্দিন কাজের অনেকটা নষ্ট হয়, যখন আমরা মাল্টিটাস্কিং করি-একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করি। তার বদলে একটিমাত্র কাজকে অগ্রাধিকার দিলে ফল অনেক ভালো হয়। এ সময়ে মোবাইল, সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্যান্য ডিজিটাল বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।
ডিজিটাল ডিটক্স
আজকের দিনে স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা ইউটিউব ছাড়া জীবনযাপন কল্পনা করা কঠিন। তবে প্রযুক্তির এই অতিনির্ভরতা আমাদের শেখার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন, এটি ডিজিটাল ডিটক্স। সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে মনোযোগে ব্যাঘাত কমে এবং মস্তিষ্ক আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
বডি মুভমেন্ট
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শুধু শরীর নয়, মনও অলস হয়ে পড়ে। তাই ৩০-৪০ মিনিট অন্তর হালকা হাঁটাহাঁটি, স্ট্রেচিং বা ২-৩ মিনিটের জন্য সহজ ব্যায়াম করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্ক সতেজ থাকে এবং নতুনভাবে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
হাসি ও আনন্দ
মানসিক চাপ কমাতে হাসি ও আনন্দের বিকল্প নেই। কাজের মধ্যে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে হালকা আড্ডা দিন, পছন্দের গান শুনুন বা মজার কোনো ভিডিও দেখুন। ভালো মেজাজ আপনাকে আবারও কাজের টেবিলে ফিরিয়ে আনবে রে নতুন নতুন উদ্যমে।
শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রয়োগই পারে একজন শিক্ষার্থী বা কর্মীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। শরীর ও মনের প্রাকৃতিক ছন্দ বুঝে কাজের সময় ভাগ করুন। মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন, ক্লান্ত হলে নিজেকে বিরতি দিন। তাহলে এগিয়ে যাবেন দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও সাফল্যের পথে। @ সাব্বির হোসেন
১৫
শিশুকে যে ৭ খাবার খেতে দেবেন না
শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর হলো দ্রুত বৃদ্ধি এবং বিকাশের সময়কাল। প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ হলে তা একটি সুস্থ ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও বাবা-মা এবং অভিভাবকদের শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিয়ে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে চাওয়া স্বাভাবিক, তবে কিছু খাবার শিশুর শরীরের জন্য ঝুঁ*কি তৈরি করতে পারে। চলুন জেনে নেয়া যাক, শিশুকে কোন খাবারগুলো খেতে দেবেন না-
১. মধু
এই প্রাকৃতিক মিষ্টি প্রা*প্তবয়*স্কদের জন্য স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়, তবে এতে ক্লোস্টিডিয়াম বোটুলিনাম ব্যাকটেরিয়ার স্পোর থাকতে পারে, যা এক বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বোটুলিজম অর্থাৎ খাদ্যে বি*ষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর পাচনতন্ত্র এই স্পোর পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট পরিপক্ক থাকে না।
২. অতিরিক্ত চিনি
অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হওয়ার ঝুঁ*কি বেড়ে যেতে পারে। এতে খুব কম বা অনেক সময় কোনো পুষ্টিও থাকে না।
৩. অতিরিক্ত লবণ
শিশুর কিডনি দক্ষতার সঙ্গে প্রচুর সোডিয়াম প্রক্রিয়া করতে পারে না। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ তাদের কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুর খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
৪. পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য এবং জুস এগুলোতে ই. কোলাই, সালমোনেলা এবং লিস্টেরিয়ার মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। যা শিশুর গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সব সময় পাস্তুরিতগুলো বেছে নিন।
৫. অতিরিক্ত গরুর দুধ (এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য) যদিও বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ শিশুর পুষ্টির প্রাথমিক উৎস, তবে খুব তাড়াতাড়ি গরুর দুধ খাওয়ালে হজমের সমস্যা এবং আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। এক বছর বয়সের পরে গরুর দুধ পরিমিত পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে।
৬. কিছু বড় মাছ (উচ্চ পারদযুক্ত) হাঙ্গর, সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকেরেল এবং টাইলফিশের মতো মাছে উচ্চ মাত্রার পারদ থাকতে পারে, যা শিশুর বিকাশমান স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। বড় বাচ্চাদের এবং প্রি-স্কুলারদের জন্য পরিমিত পরিমাণে স্যামন, কড এবং হালকা টুনার মতো ছোট, কম পারদযুক্ত মাছ বেছে নিন।
৭. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় চা, কফি এবং কোমল পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা একটি উদ্দীপক। এগুলো ছোট বাচ্চাদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভিটি, ঘুমের ব্যাঘাত এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এগুলোতে কোনো পুষ্টিও থাকে না।
১৬
২৪ ঘণ্টাকে কাজে লাগানোর কৌশল
সবারই দিন ২৪ ঘণ্টার। কিন্তু এই সময়কে কে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করে ব্যক্তিগত উন্নতি ও সাফল্য। একজন শিক্ষার্থীর জন্য সময় ব্যবস্থাপনা শুধু প্রয়োজন নয়-এটি একান্ত অপরিহার্য। কারণ, পড়াশোনা, বিশ্রাম, সৃজনশীলতা, সামাজিকতা ও আত্ম উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সময়ের চাহিদা ভিন্ন। শরীরবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের কার্যক্ষমতা দিনে বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করলে তার প্রভাবও হয় সর্বোত্তম। চলুন জেনে নিই কীভাবে দিনকে ভাগ করে নেওয়া যায়-
সকাল (৬টা-১০টা)
এই সময়ে শরীর ও মন সবচেয়ে চনমনে থাকে। ঘুম থেকে উঠে নতুন উদ্যমে কঠিন বিষয় বা নতুন কিছু শেখার উপযুক্ত সময় এটি। গণিত, বিজ্ঞানের জটিল অধ্যায়, ল্যাবের কাজ কিংবা গভীর মনোযোগের প্রয়োজন এমন যেকোনো পড়া এই সময়ে করলে মস্তিষ্ক তা সহজেই আত্মস্থ করতে পারে।
দুপুর (১০টা-১টা)
মস্তিষ্কের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা এই সময়ে সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। রচনা লেখা, প্রজেক্ট পরিকল্পনা, প্রোগ্রামিং বা যেকোনো সৃজনশীল কাজের জন্য এটি দারুণ সময়। কঠিন ধারণাকে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা যায় বলেই এ সময়ের যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার্থীর মেধা ও মননের বিকাশ ঘটায়।
বিকেল (৩টা-৫টা)
এই সময়ে শরীর-মনে নতুন উদ্যম ফিরে আসে। নোট রিভিশন, নতুন ধারণার অনুশীলন, প্রজেক্ট ও সৃজনশীল কাজের জন্য এটি দারুণ সময়। দিনের মাঝামাঝি বিশ্রামের পর আবার গতি ফেরে পড়াশোনায়।
দুপুর (১টা-৩টা)
দুপুরের খাবারের পর শরীর কিছুটা ধীর গতি হয়। তাই এ সময়ে হালকা রিভিশন, সহজ নোট তৈরির মতো কাজ করা ভালো। বিশ্রাম ও হালকা পড়াশোনার সংমিশ্রণে এ সময়টি মনকে প্রস্তুত রাখে বিকেলের কাজের জন্য।
সন্ধ্যা (৫টা-৭টা)
এই সময়ে হালকা অধ্যায় পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে শেখা ভাগাভাগি, সামাজিক যোগাযোগ, বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
রাত (৭টা-১১টা)
দিনভর যা শিখেছেন, তা ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য রাত উপযুক্ত। পুনরাবৃত্তি, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নোট নেওয়া, ও পরদিনের পরিকল্পনা-সবই হওয়া উচিত এই সময়ে। তবে গভীর পড়াশোনার পরিবর্তে হালকা মনোযোগী কাজই শ্রেয়।
ঘুম (১১টা-৬টা)
পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া কোনো পড়াশোনাই সফল হতে পারে না। ঘুমের সময়ে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সংরক্ষণ করে এবং দেহ মেরামত হয়। প্রতিদিন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম শিক্ষার্থীর শক্তি, মনোযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
সময় বাঁচানো নয় বরং সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করাই সফলতার মূলমন্ত্র। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে পড়াশোনা, বিশ্রাম, সৃজনশীলতা ও জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
@সাব্বির হোসেন
১৭
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থার যে পাঠগুলো নিতে পারি
একটি শিশুর হাতে ঝাড়ু। স্কুলের করিডর নিজ হাতে মুছছে সে। ক্লাসের শেষে সবাই মিলে গ্লাস পরিষ্কার করছে, টেবিল সাজাচ্ছে, এমনকি টয়লেটও ধুয়ে নিচ্ছে নিঃসংকোচে। এটি কোনো ব্যতিক্রমী দৃশ্য নয়; বরং জাপানের প্রতিটি স্কুলে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চিত্র। জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শেখার রয়েছে অনেক কিছুই।
প্রযুক্তিতে অগ্রসর, শিল্পে সমৃদ্ধ এবং শৃঙ্খলায় অতুলনীয় জাপানে শিশুর গোড়ার ভিত্তিই নির্মাণ হয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর। আমরা অনেকেই জানি, জাপানের স্কুলে শিক্ষার্থীরা দারুণ রেজাল্ট করে, কিন্তু এর পেছনে যে আদর্শ, নীতি এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে, তা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়।
শিশুদের মানুষ করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা শুধু পরীক্ষায়ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়; বরং একজন ভালো মানুষ তৈরিতে তাদের শিক্ষা ভূমিকা রাখে। সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম ৬ বছরে (গ্রেড ১-৬) সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ব শেখাতে। এ সময়টায় পরীক্ষার চাপ থাকে না, থাকে না কোনো র্যাঙ্ককিং ব্যবস্থাও। স্কুলের শিক্ষকেরা আগে শেখান কীভাবে শ্রদ্ধা করতে হয়, কীভাবে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হয়, তারপর শেখান অঙ্ক আর ভাষা। এ ধরনের পাঠপ্রক্রিয়া একজন শিশুর মনে জাগিয়ে তোলে সহানুভূতি, দায়বদ্ধতা এবং সম্মানবোধ। যা শুধু স্কুলেই নয়, গোটা সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
স্কুল মানেই একাত্মতা, দায়িত্ব এবং পরিচ্ছন্নতা
জাপানের স্কুলে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের। আলাদা কোনো ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ছাত্ররা নিজেদের ক্লাসরুম, করিডর, এমনকি বাথরুম পরিষ্কার করে। এতে গড়ে ওঠে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ এবং নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস। কারণ যখন একটি শিশু জানে এই ঘরটুকু তার নিজের হাতেই পরিষ্কার রাখতে হবে, তখন সে কখনোই ময়লা ফেলে না। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই স্কুলে লাঞ্চ পরিবেশন করে। রান্না করা খাবার নিয়ে আসে নির্ধারিত কিছু শিক্ষার্থী, একে অপরকে পরিবেশন করে, তারপর একসঙ্গে খায়। এতে গড়ে ওঠে সহযোগিতা, কৃতজ্ঞতা এবং পরস্পরের প্রতি সম্মান।
শিক্ষক শুধু শিক্ষক নন, একটি আদর্শ জাপানের শিক্ষকেরা শুধু পাঠদানের
কাজ করেন না, তাঁরা হলেন নৈতিকতার আদর্শ। একজন শিক্ষক জানেন, তাঁর প্রতিটি কাজ ছাত্রদের কাছে শিক্ষার অনুষঙ্গ। প্রতিটি ক্লাসে সময়ানুবর্তিতা, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং পাঠ্যবিষয়ের গভীরতা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে অনুসরণ করা হয়। একজন জাপানি শিক্ষক প্রতিদিন প্রায় ১১ ঘণ্টা কাজ করেন। তবে তাঁরা এতে ক্লান্ত হন না, কারণ তাঁরা মনে করেন, এ দায়িত্ব শুধু চাকরি নয়; বরং জাতি গঠনের ভিত্তি।
'হোমরুম' কালচার
জাপানে প্রতিটি ক্লাসের দায়িত্ব থাকে একজন হোমরুম টিচারের ওপর। এই শিক্ষক শুধু ক্লাসে পড়ান না, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন। পারিবারিক সমস্যা, হতাশা, আবেগ বা আত্মবিশ্বাস; সব বিষয়ে তিনি থাকেন সজাগ। বছরের শুরুতে শিক্ষক নিজ হাতে ছাত্রদের নাম লিখে 'স্বপ্নের খাতা' তৈরি করেন। সেখানে লেখা থাকে, কে কী হতে চায়, কোথায় দুর্বল, কোথায় মেধাবী। বছর শেষে সেই খাতায় শিক্ষক মন্তব্য লেখেন একটি ব্যক্তিগত চিঠির মতো। এতে গড়ে ওঠে এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।
গাইড করা, চাপিয়ে দেওয়া নয়
জাপানে উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রবেশ-পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। তবে শিক্ষাব্যবস্থার আশ্চর্য দিক হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগ না করে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ স্কুলে 'ক্র্যাম স্কুল' বা 'জুকু' রয়েছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারে। শিক্ষকেরা গাইড করেন, কিন্তু চাপিয়ে দেন না। মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলে 'পরামর্শদাতা শিক্ষকদের' রাখা হয়, যাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা খোলামেলা কথা বলতে পারে।
আমাদের জন্য শিক্ষণীয় কী
জ্ঞান মানেই কেবল তথ্য নয়, বরং নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা। আমাদের দেশে যেখানে পরীক্ষার ফলাফলই শিক্ষার মূল পরিমাপক, সেখানে জাপানে শেখানো হয় কীভাবে ভালো মানুষ হওয়া যায়, কীভাবে সমাজের একজন সক্রিয় নাগরিক হয়ে ওঠা যায়। শিশুদের মুখে হাসি, চোখে স্বপ্ন, আর মনে দায়িত্ববোধ-এই তিনে গড়ে ওঠে এক সুশৃঙ্খল জাতি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় যদি জাপানের মতো মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শের স্থান দিতে পারি, তবে ভবিষ্যতের পথ আরও আলোকিত হতে পারে। @ এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
১৮
বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো মুদ্রিত বই
বলা হয় 'ডায়মন্ড সূত্র' বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো মুদ্রিত বই। ১৯০০ সালের ১১ মে চীনের দানহুয়াংয়ের একটি গো°পন গুহায় বইটি খুঁজে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় ৮৬৮ সালে চীনেই বইটি মুদ্রিত হয়েছিল। নিশ্চিত করে বলা যায় না ওয়াং জিয়ে কে ছিলেন আর কেনই-বা তিনি এই বইটি ছেপেছিলেন। তবে বইতে একটি চমকপ্রদ তথ্য আছে- মা-বাবার পক্ষ থেকে ওয়াং জিয়ে সর্বসাধারণের কাছে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এটি ছেপেছেন। বইটি আসলে সাড়ে সতের ফুট লম্বা একটি স্ক্রোল। এতে বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন পবিত্র বাণী লেখা রয়েছে, সেই সঙ্গে আঁকা ছবি। বইটি বর্তমানে ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। @ ব্রিটিশ লাইব্রেরি
১৯
চৌকস হওয়ার জাপানি কৌশল
জাপান শুধু প্রযুক্তি বা সৌজন্যর দেশ নয়, তাদের সংস্কৃতিতে লুকিয়ে আছে এমন কিছু বুদ্ধিদীপ্ত অনুশীলন, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ, সুন্দর ও সচেতন করতে পারে। বাড়াতে পারে মনোযোগ ও বুদ্ধিমত্তা। এখানে এমন পাঁচটি জাপানি কৌশল নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
শিরিতরি কৌশল
একদিন বিকেলে রিমি আর ওর ভাই খেলার ছলে শুরু করল শব্দখেলা। রিমি বলল 'চাঁদ'। ওর ভাই বলল 'দুধ'। এরপর রিমি বলল 'ধনুক'। এইভাবেই চলতে লাগল শব্দের পেছন ধরে নতুন শব্দ বলার খেলা। এটাই জাপানি 'শিরিতরি'-একটি জনপ্রিয় শব্দখেলা। এতে প্রথম ব্যক্তি একটি শব্দ বলেন এবং পরের ব্যক্তি সেই শব্দের শেষ অক্ষর দিয়ে আরেকটি শব্দ বলেন। এভাবে ঘুরে ঘুরে খেলা চলতে থাকে। যে মনে রাখতে পারে না বা ভুল করে, সে বাদ। আর যে ঠিক ঠিক মনে রেখে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শব্দ বলতে পারে, সে-ই জয়ী হয়।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'অরণ্যের দিনরাত্রি' সিনেমায় একটি দৃশ্য আছে। সেখানে চরিত্ররা বনে বেড়াতে গিয়ে 'শিরিতরি' খেলে। এই খেলায় মজা যেমন আছে, তেমনি আছে মনোযোগ আর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর গুণ। পরিবারের সবাই মিলে সপ্তাহে এক দিন শিরিতরি খেলুন। সময় বেঁধে নিন যে কম সময়ে বেশি শব্দ বলবে, সে জিতবে। ছোটদের ভাষা শেখানোর জন্য এটি এক অসাধারণ কৌশল।
কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন
তরুণ ছাত্র অর্ণব জাপানি ভাষা শিখতে গিয়ে দেখল, অক্ষরগুলো মুখস্থ করতে কষ্ট হচ্ছে। একদিন শিক্ষক তাঁকে বললেন, 'তুমি প্রতিটি কানজি অক্ষরের ভেতর একটা ছবি কল্পনা করো।' অর্ণব 'mori' শব্দটির মধ্যে তিনটি গাছ কল্পনা করল। বুঝল, এটা মানে ঘন বন। 'hazashi' মানে দুটি গাছ। অর্থাৎ জঙ্গল। এভাবেই প্রতিটি প্রতীক ছবির রূপে রূপান্তর করে মনে রাখা হয়। এই কৌশলই হলো কানজি ভিজ্যুয়ালাইজেশন।
মোজিতসুকি
নতুন বছরে জাপানের একটি গ্রামে উৎসব হচ্ছে। সবাই মিলে তৈরি করছে মোচি-চালের কেক। একজন মুগুর দিয়ে চাল পেষণ করছে, আরেকজন সময়মতো হাত ঢুকিয়ে চালের ভেতর পানি ও ছন্দ দিচ্ছে। একটুও ভুল হলে হতে পারে আঘাত, তাই দুজনের ভেতর গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত তালমেল। এটাই হলো মোজিতসুকি। শুধু রান্না নয়, এটি সম্মিলিত মনোযোগ ও ছন্দ শেখায়। দলগত কাজের মধ্যে কীভাবে আস্থা ও সময়জ্ঞান তৈরি হয়, এটি তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
জাজেন ফোকাস
রাফি পড়ার টেবিলে বসে আছে, কিন্তু মন একদমই বসছে না। তখন সে শিখল 'জাজেন'। প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সে চুপচাপ চোখ আধা বন্ধ করে বসে থাকে, শুধু শ্বাস গোনে। প্রথমে অস্থির লাগলেও ধীরে ধীরে রাফি দেখল, মনোযোগ বাড়ছে, অস্থিরতা কমছে। এভাবেই জাজেন বা জেন ধ্যান আমাদের শেখায় নিজেকে সামলানো, মনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। জাপানিরা ধ্যানকে দৈনন্দিন কাজের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। এই কাজটা নামাজের মাধ্যমেও হয়। তাই নামাজ পড়া বা ইবাদত করা যেতে পারে। অমুসলিম হলে ধ্যান বা ধর্মীয় প্রার্থনা করা যেতে পারে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন ভোরবেলা বা রাতে ঘুমানোর আগে) ৫ মিনিট জাজেন করুন।
কোজিজি
আকাশ প্রতিদিন সকালে এক কাপ চা বানায়। তিনি সেই চা বানানোতেই তার যত্ন, মনোযোগ, ধৈর্য-সব ঢেলে দেয়। আর এই ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে সে খুঁজে পায় শান্তি ও আনন্দ। এটাই হলো কোজিজি ছোট জিনিস, ছোট কাজ, ছোট শব্দ; যেগুলোর মাঝে লুকিয়ে থাকে বড় উপলব্ধি। জাপানিরা মনে করে, জীবন শুধু বড় সিদ্ধান্তে নয়, ছোট অভ্যাসে তৈরি হয়। জাপানিরা ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁচিয়ে রাখেন গল্পের ছলে। বাড়ির বয়স্করা ছোটদের পূর্বপুরুষদের গল্প শোনান। তাঁদের ইতিহাস বই, রান্নার বই, নৃতত্ত্বের বই-এ রকম নানা কিছু গল্পের মতো করে বলা বা লেখা হয়। ইতিহাসের নানা ঘটনা আশ্রয় করে বানিয়ে ফেলা হয় সিনেমাও। ফলে সেগুলো আর বিরক্তিকর লাগে না, বরং 'ইন্টারেস্টিং' লাগে। আবার মনে রাখাও সহজ হয়। তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা,
২০
দক্ষতা উন্নয়নে করণীয়
বর্তমান যুগ প্রযুক্তি ও জ্ঞানের যুগ । একাডেমিক ডিগ্রি যতটা গুরুত্বপূর্ণ , বাস্তব জীবনে টিকে থাকতে ততটাই প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা । বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এখন সময়ের চাহিদা । এ পরিস্থিতিতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে , তেমনি উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে । তাই শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারেন । আত্মমূল্যায়ন এবং পরিকল্পনা দক্ষতা অর্জনের শুরু হয় নিজের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গা চিহ্নিত করা থেকে । একজন শিক্ষার্থীকে জানতে হবে , কোন ক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ ও সামর্থ্য বেশি । তারপর সে অনুযায়ী ছোট ছোট লক্ষ্যের ভিত্তিতে একটি ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন ।
অনলাইন কোর্স এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণ বর্তমানে ইন্টারনেটে বহুবিধ মানসম্পন্ন কোর্স বিনা মূল্যে বা সামান্য খরচে পাওয়া যায় । এগুলোর মধ্যে Coursera , Udemy , Google Skillshop ও ICT Division- এর Learning & Earning Development Project- এর মতো প্ল্যাটফর্মে আইটি , ডিজাইন , যোগাযোগ বা ভাষাজ্ঞানবিষয়ক দক্ষতা অর্জন সম্ভব । এসব প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন । পাঠ্যবইয়ের বাইরে শেখা শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই চলবে না । বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী সমস্যার সমাধান , সৃজনশীল চিন্তা ও দলগত কাজের মতো দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে । ক্লাব ও সংগঠনে অংশগ্রহণ ডিবেট , আইটি , বিজ্ঞান বা উদ্যোক্তা ক্লাবগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ , নেতৃত্ব ও টিমওয়ার্কের দক্ষতা গড়ে তোলে ।
এগুলোর মাধ্যমে হাতে - কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায় । বর্তমানে দেশের সব কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসংখ্য ক্লাব ও সংগঠন গড়ে উঠেছে । এগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে ।
ইন্টার্নশিপ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ কলেজ - বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান , এনজিও বা স্টার্টআপে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে পারেন । এ ছাড়া সমাজসেবামূলক কাজের মধ্যেও সংগঠন পরিচালনা , সময় ব্যবস্থাপনা ও সহমর্মিতার মতো গুণ অর্জন করা সম্ভব।
ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অনুশীলন নতুন কোনো দক্ষতা শিখে সেটিকে নিয়মিত চর্চা করা জরুরি । যেমন : কনটেন্ট লেখা , ভিডিও এডিটিং , কোডিং কিংবা ডিজিটাল মার্কেটিং — যেকোনো ক্ষেত্রেই আত্ম - উদ্যোগী হয়ে নিয়মিত অনুশীলনই দক্ষতা নিশ্চিত করে । শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি অন্তত একটি দক্ষতা নিয়ে নিয়মিত কাজ করা । কারণ , একবিংশ শতাব্দীতে টিকে থাকতে হলে শুধু ডিগ্রি নয় , দক্ষতাই শেষ কথা ।
তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা
২১
দিনে কাজের সময় ঘুম পেলে যা করবেন
বারবার ঘুম পেলে তা কাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলে । ডেডলাইন মিস করা , কাজ জমে যাওয়া , এমনকি চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে । ঘুমের সমস্যা থাকলে চিকিৎসা জরুরি । তবে কিছু বিষয় মেনে চললে কাজের সময় ঘুম পাওয়া থেকে রেহাই পেতে পারেন । কফি বা চা পান করুন ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে , ঘুমের ভাব কমায় । এক কাপ কফি বা চা দ্রুত এনার্জি দেবে । তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে উদ্বেগ বা অস্বস্তি হতে পারে । তাই কফি পান দিনে ২ থেকে ৩ কাপের মধ্যে সীমিত রাখুন ।
পাওয়ার ন্যাপ
লাঞ্চ ব্রেকে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ ম্যাজিকের মতো কাজ করে । নিজের অফিস রুম বা গাড়ির সিটে শুয়ে পড়ুন । অ্যালার্ম সেট করে নিন , যেন বেশি ঘুমিয়ে না পড়েন । মাঝে মাঝে হাঁটাচলা করুন একটানা বসে থাকলে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে ঘুমঘুম ভাব বাড়ে । প্রতি ৩০ মিনিটে একবার ডেস্ক থেকে উঠে হেঁটে আসুন । ফোনে কথা বলার সময় রুমে পায়চারি করুন বা ডেস্কে বসে হাত - পা নাড়াচাড়া করুন ।
গান শুনুন
শান্ত পরিবেশে কাজ করলে ঘুম পেতে পারে । বসের অনুমতি নিয়ে এয়ারফোনে চটপটে গান শুনতে পারেন । এতে মস্তিষ্ক সতেজ হবে , মন ভালো থাকবে ।
হালকা খাবার খান
দুপুরে পেটভরে খাওয়ার পর ঝিমুনি চলে আসে । এর বদলে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার ; যেমন সেদ্ধ ডিম , গ্রিলড চিকেন , সালাদ , বাদাম বা ফল খান । খাদ্যতালিকায় চিনি ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কম রাখুন । কাজের জায়গা আলোকিত রাখুন প্রাকৃতিক আলো ঘুমের ভাব কমায় । জানালার পাশে বসলে পর্দা খুলে দিন । আলো কম হলে ডেস্কে ল্যাম্প বা বাল্ব ব্যবহার করুন । ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন ঝিমুনি থেকে দ্রুত রেহাই পেতে বাথরুমে গিয়ে ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুতে পারেন । এরপর একটু হাওয়া খেতে বারান্দায় যান । দেখবেন ঘুমের ভাব পালিয়েছে ।
ফ্যান বা এসি চালু রাখুন গরম ঘরে কাজ করলে ক্লান্তি বাড়ে । ফ্যান বা এসির ঠান্ডা হাওয়া শরীর সক্রিয় রাখে । এ জন্য ডেস্ক ফ্যানও কিনতে পারেন ।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজ ফাঁকা পড়ে থাকলে ঘুম পায় বেশি । তাই অতিরিক্ত কাজ থাকলে সেগুলো আগেই হালকা করে নিন ।
এসবের পরেও নিয়মিত দিনে ঘুমানো , অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মনোযোগের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ , এটি শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সূত্র: হেলথলাইন
২২
কীভাবে গড়ে তোলা যায় প্রেজেন্টেশনের দক্ষতা?
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রেজেন্টেশন শুধু একটি একাডেমিক কাজ নয়, বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি এবং যোগাযোগ দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ। ভালো প্রেজেন্টেশনের জন্য নিচের কয়েকটি দিক অনুশীলন করা জরুরি:
তথ্যবিশ্লেষণ ও নির্বাচন
শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, কোনো তথ্য প্রাসঙ্গিক, কোনোটি শ্রোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ-তা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন করতে হবে। এ কাজে ক্রি*টিক্যাল থিংকিং (cri*tical thinking) এবং সৃজনশীল চিন্তার ব্যবহার অপরিহার্য।
ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন
তথ্য উপস্থাপনের সময় PowerPoint, Can-va, Prezi বা FigJam-এর মতো টুল ব্যবহার করে চিত্র, চার্ট, ম্যাপ, ও ইনফোগ্রাফের মাধ্যমে বক্তব্যকে বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
উদাহরণ ও তুলনার শক্তি ব্যবহার
আশিক চৌধুরীর মতো করে তুলনা (compar-ative analysis) ব্যবহার করলে জটিল তথ্যও সহজ হয়। 'বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী কানাডার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি'-এ ধরনের উপস্থাপনায় তথ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে।
উপস্থাপনের ভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা
স্পষ্ট উচ্চারণ, আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি, সহজ ভাষায় বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক হিউমার ব্যবহার-এসব মিলেই একটি প্রাণবন্ত প্রেজেন্টেশন তৈরি হয়। বক্তার শরীরী ভাষাও (body language) একটি বড় ভূমিকা পালন করে।
চর্চা ও আত্মমূল্যায়নের গুরুত্ব
নিয়মিত চর্চা ও নিজের ভিডিও দেখে ভুল ধরার অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে বক্তার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। ক্লাস, বন্ধুদের সামনে, বা মাইক্রো-প্রেজেন্টেশন সেশনের মাধ্যমে নিয়মিত চর্চা করতে হবে।
বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখন সময় এসেছে প্রেজেন্টেশন স্কিলকে পাঠ্যসূচির কেন্দ্রে আনার। শুধু সেমিস্টার শেষের ফর্মাল প্রেজেন্টেশন নয়-প্রতিটি কোর্সে ছোট ছোট কমিউনিকেশনভিত্তিক মূল্যায়ন, ইনফোগ্রাফ তৈরির টাস্ক, ভিডিও প্রেজেন্টেশন এবং TED-style বক্তৃতার মতো উপকরণ যুক্ত করা উচিত। শিক্ষকরা চাইলে 'স্টুডেন্ট প্রেজেন্টেশন ক্লাব' তৈরি করে নিয়মিত চর্চার সুযোগ দিতে পারেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাসী হবে, অন্যদিকে তারা হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের করপোরেট বা একাডেমিক লিডার। @ ড. মো. আব্দুল মোমেন
২৩
সংক্ষেপে বাংলা সনের শুরুর ইতিহাস
সন শব্দটি আরবি শব্দ থেকে উদ্ভুত, অর্থ বর্ষ। আর সাল কথাটা ফার্সি শব্দ থেকে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন ও বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার দৃষ্টিপটে মহামতি আকবরই বাংলা সনের প্রবর্তক। বাংলা সন বাংলাদেশের নিজস্ব সন। এর উৎপত্তি ও বিকাশের ইসলামি উত্তরাধিকার সঞ্চাত। বাংলা সন বাংলার ঐতিহ্য পরম্পরায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক উপাদানে পরিণত হয়েছে। বঙ্গাব্দ, বাংলা সন বাংলা বর্ষপঞ্জি হলো বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত সৌর পঞ্জিকাভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিনের গণনা শুরু। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা লাগে। এই সময়টাই সৌর বছর। গ্রেগরীয় সনের মতো বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র। আকাশের রাশিমণ্ড লীতে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়। যেমন যে সময় সূর্য মেষ রাশিতে থাকে সে মাসের নাম বৈশাখ। বাংলাদেশ ছাড়াও পূর্ব ভারতের পশ্চিম বঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গাব্দ শুরু হয় পয়লা বৈশাখ দিয়ে। বঙ্গাব্দ সব সময়ই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির অপেক্ষা ৫৯৩ বছর কম।
সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় ১৯৮৭ সালে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ সালে বাংলা পঞ্জিকার প্রশ্নে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ নেতৃত্বাধীন কমিটির রেখে যাওয়া সুপারিশ গ্রহণ করেছে। তবে ১৪ এপ্রিল বছর শুরুর দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। খ্রিস্টীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষের বছরে চৈত্র মাসে একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারত সাম্রাজ্যের সম্রাট আকবরের আদেশে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তারই বিজ্ঞ রাজ জ্যোতিষী আমির ফতেহ উল্লাহ শিরাজীর গবেষণার ঐতিহাসিক ফসল বাংলা সনের উৎপত্তি ঘটে। ব্রিটিশ রাজত্বের আগে এ দেশেও হিজরি সনই প্রচলিত ছিল। সামাজিক ক্ষেত্র বিশেষ করে মৌসুমের প্রতি দৃষ্টিপাত করেই রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি সনের পরিবর্তে ঋতুভিত্তিক সৌরসনের প্রয়োজন বোধ হয়। বাংলা সন বঙ্গাব্দের উদ্ভব ঘটানো হয়। মানুষ কাল বা সময় বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে আসছিল, সভ্যতার বিকাশের আদি যুগ থেকেই। প্রয়োজনের তাগিদে বছর, মাস, সপ্তাহ দিন ইত্যাদি গণনার প্রচলন করে। বাংলায় শকাব্দ, লক্ষনাব্দ, পালাব্দ, চৈতন্যাব্দ ইত্যাদি সনের প্রচলন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায় বাংলা বা বঙ্গাব্দের প্রচলন শুরু হলে। এই সন প্রচলনের ইতিহাসে সংযোগ ঘটেছে বাঙালি জাতির একান্ত নিজস্ব অব্দ। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনভুক্ত হয়। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ জয়ের পর মুসলমান শাসনামলে তৎকালীন প্রচলিত শকাব্দ ও লক্ষনাব্দ সনের পাশাপাশি শাসনতান্ত্রিক কর্মকান্ডে হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয়।
বাংলা সনের জনক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভারত সম্রাট আকবরের পাশাপাশি রাজা শশাঙ্ক, সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নামও কোনো কোনো লেখক উল্লেখ করেছেন। যদিও ঐতিহাসিকদের যুক্তিবলে প্রমাণিত যে, সম্রাট আকবরই বাংলা সন প্রবর্তনকারী। এদেশে সবাই হিজরি সনই ব্যবহার করত। ফলে ফসল কাটার খুব অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো, কারণ আগের বছর যে তারিখে ফসল কাটতো, পরের বছর সে তারিখ ১১ দিন এগিয়ে যেত। আকবর যে হিজরি সন ছিল তখন থেকেই এক সৌরসংবত প্রবর্তন করেন। এটিই হচ্ছে বঙ্গাব্দ। সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহণের বছর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ (হিজরি ৯৬৩) এবং ৯৬৩ বঙ্গাব্দ। এই থেকে ঐতিহাসিকরা একমত হন যে, হিজরি থেকেই বঙ্গাব্দ চালু করা হয়। ৫২২ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ হিজরি সনের শুরু হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে হিজরতের স্মৃতি রক্ষার্থে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে হিজরি সনের সৃষ্টি। এই সনের শুরু ১৬ জুলাই ৬২২ অব্দ ধরা হলেও আসলে হিজরতের তারিখ রবিউল আওয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার। ২০ সেপ্টেম্বর ৬২২ অব্দ ধরা হলে আরব দেশের নিয়মানুযায়ী বছরের প্রথম মাস পয়লা মহররমের তারিখ হতে বছর ধরা হয়েছে।
হিজরি সন ছিল চন্দ্রমাস। ওই মাসই হিজরি সন ও তারিখের হেরফের হতো, অর্থাৎ সৌর বছরের হিসাবের দিন তারিখ মাসের গরমিল হতো প্রচুর। সে কারণেই ৯৬৩ হিজরি, ৯৬৩ বাংলা সন সমন্বয় করে গণনা শুরু করা হয়। আকবর অবশ্য তার রাজত্বের ২৯তম বর্ষে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে এই বাংলা সন চালু করেন। আকবর সিংহাসনে বসেন ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ এপ্রিল। যদিও তার সিংহাসনে বসার প্রকৃত দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলায় আদি থেকে ঋতু বৈচিত্র্য অনুসারে বাংলা সন চালু করা হয়। রাজার অভিষেক শুরু রাজ্যাভিষেকের বছর ধরে যে সব পঞ্জিকার বছর গণনা শুরু করা হয় সে সব বছরের যে দিনেই রাজার অভিষেক হোক না কেন, ঐতিহ্যের খাতিরে বছর শুরুর দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। @ সোহেল সানি
২৪
উইনফ্রের সাতটি জীবনপাঠ
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী অপরাহ উইনফ্রে । তিনি ‘ দি অপরাহ উইনফ্রে শো'র মাধ্যমে আমেরিকার টেলিভিশন প্রোগ্রামে ইতিহাস গড়ে তুলেছেন । অপরাহ উইনফ্রে শুধুই সফলতার প্রতীক নন — তিনি সাহস ও অন্তর্দৃষ্টির প্রতিচ্ছবি । তাঁর নেওয়া অসংখ্য সাক্ষাৎকার — দালাই লামা , নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে সমাজ বদলে দেওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা কোটি মানুষের জীবনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লেগেছে । আমেরিকান জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফোর্বস অবলম্বনে অনুবাদ করেছেন মুসাররাত আবির ।
চলুন , একনজরে দেখে নিই উইনফ্রের সেই সাতটি জীবনপাঠ , যা আজও আমাদের চলার পথের প্রেরণা হয়ে ওঠে:
নিজের সেরাটা দাও
ভাগ্য আসে যখন প্রস্তুতির সঙ্গে সুযোগের দেখা হয় । এ বিশ্বাসই উইনফ্রেকে গড়েছে । তাঁর মতে , প্রতিটি দিন , প্রতিটি মুহূর্ত — একটি সম্ভাবনার বীজ । তুমি হয়তো জানো না , আগামীকাল কী হবে ; কিন্তু আজ নিজের সেরাটা দিলে- আগামীকালের দরজাও খুলে যাবে । সময় কখনো অপচয় করার জন্য নয় , এটি প্রতিদিন নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তোলার জন্য ।
নিজের শক্তির উৎস খুঁজে নাও
‘ তুমি কেবল তোমার শো নয় , তুমি অনেক বড় কিছু । ' অপরাহ অনেকবার শুনেছেন — শো ছাড়া তিনি কিছুই না । কিন্তু তিনি জানতেন তাঁর মূল্য কোথায় । তাঁর শক্তি আসে ভেতর থেকে । নিজেকে জানো , নিজের সৃষ্টিশীলতার জায়গাটা খুঁজে বের করো । একটি কাজ খুঁজে নাও , যেখানে তুমি আনন্দ পাও , যেখানে তুমি নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারো ।
সব দিন ভালো যাবে না
‘ না ’ মানে শেষ নয় , ‘ না ’ মানে শুধুই — ‘ এখন নয় ’ । জীবন কখনো সরলরেখা নয় । সব দিন সমান ভালো যাবে না , সব প্রয়াসে সফলতা আসবে না। কিন্তু প্রত্যাখ্যান মানেই থেমে যাওয়া নয় । সময়কে বুঝে , সুযোগের জন্য অপেক্ষা করাই কখনো কখনো সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত ।
নিজের ভেতরের কণ্ঠকে বিশ্বাস করো
‘ তোমার অন্তর্দৃষ্টি হলো তোমার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গাইড । ’ অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আমরা অনেকেই উদাসীন । কিন্তু অপরাহ বলেন , এটাই আসলে তোমার ভেতরের কম্পাস । নিজেকে বোঝ , শুনতে শেখো , অনুভব করো — তোমার মন বলছে কী । সঠিক সিদ্ধান্তের মূল সেখানে , বাইরের চিৎকারে নয় — ভেতরের নীরব সাহসেই ।
যা আছে , তাতেই কৃতজ্ঞ থাকো
‘ যা নেই , তার জন্য কষ্ট না পেয়ে যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হও । ' চাওয়ার কোনো শেষ নেই । কিন্তু তৃপ্তি আসে কৃতজ্ঞতা থেকে । যদি প্রতিদিনের ছোট প্রাপ্তিগুলোকে উপভোগ করতে পারো , তাহলেই জীবনে স্বস্তি আসবে । কৃতজ্ঞতা শুধুই ভদ্রতা নয় , এটা একটা জীবনদর্শন ।
ভয়কে জয় করো
একজন রানি ব্যর্থতাকে ভয় পান না । ব্যর্থতা সফলতার আরেক ধাপ । ভয় সাফল্যের সবচেয়ে বড় শত্রু । আমরা যতটা না পারি , তার চেয়েও বেশি থেমে থাকি ভয় থেকে । অপরাহর উপদেশ — রানির মতো ভাবো । আত্মবিশ্বাসী হও , ব্যর্থতা থেকে শেখো । ভয় কাটিয়ে ওঠো , সফলতা তখন তোমার দিকে নিজেই এগিয়ে আসবে ।
ভুল থেকে শিখো
ভুল করা দোষ নয় , কিন্তু ভুল থেকে না শেখাটা অপচয় । জীবনে ভুল হবেই — তা স্বাভাবিক । কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা না নিতে পারা মানে নিজেকে অন্ধকারে রাখা । অপরাহ বলেছিলেন — ক্ষতের জায়গায় প্রলেপ নয় , সেখানে যেন জ্ঞান গজায় । প্রতিটি ভুল হোক একটি নতুন পাঠের জন্মস্থান ।
অপরাহ উইনফ্রে আমাদের দেখিয়েছেন — জীবন মানে কেবল সফলতার গল্প নয় । এটা লড়াই , আত্ম - অন্বেষণ , ব্যর্থতা থেকে শেখা আর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পথ খোঁজার গল্প । তাঁর জীবনের পাঠগুলো কেবল অনুপ্রেরণা নয় — এগুলো আমাদের প্রত্যেকের জন্য একেকটি নকশা , যার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারি নতুন একটি আমি । তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা
২৫
সাফল্যের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (সিডিপি) হলো একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ, যা আপনার পেশাগত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কার্যকর কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। লিখেছেন মো. আশিকুর রহমান।
ধাপ ১: আপনার দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
প্রথমেই আপনার পেশাগত জীবনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার আগ্রহ, দক্ষতা এবং মূল্যবোধ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন আপনি ভবিষ্যতে কোথায় থাকতে চান। এটি হতে পারে নির্দিষ্ট পদে উন্নীত হওয়া, নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান বা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা। এই লক্ষ্য নির্ধারণ আপনার পরবর্তী পদক্ষেপগুলোকে। সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
ধাপ ২: লক্ষ্যকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে বিভক্ত করুন
বৃহৎ লক্ষ্যকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে বিভক্ত করা সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া সহজ করে। প্রতিটি মাইলস্টোন নির্ধারণ করুন, যা আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার লক্ষ্য হয় ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত হওয়া, তাহলে মাইলস্টোন হতে পারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পে নেতৃত্ব প্রদান।
ধাপ ৩: মাইলস্টোন অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করুন
প্রতিটি মাইলস্টোন অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে:
➤অনলাইন সার্টিফিকেশন: বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমে প্রাসঙ্গিক কোর্স সম্পন্ন করে সাটিফিকেশন অর্জন করুন, যা আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
➤মেন্টরশিপ: অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তাদের থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করুন, যা আপনার পেশাগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।
➤ওয়ার্কশপ ও সেমিনার: বিভিন্ন ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করে নতুন দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করুন।
ধাপ ৪: নিয়মিত আপনার পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সামঞ্জস্য করুন: ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই নিয়মিত আপনার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অগ্রগতি মূল্যায়ন করুন এবং প্রয়োজনে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনুন। বাজারের পরিবর্তন, নতুন সুযোগ বা ব্যক্তিগত আগ্রহের পরিবর্তন অনুযায়ী আপনার Career Development Plan (CDP) সামঞ্জস্য করুন, যাতে এটি সর্বদা প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর থাকে।
সুনির্দিষ্ট ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ, মাইলস্টোনে বিভক্তিকরণ, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং নিয়মিত পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও সামঞ্জস্য করার মাধ্যমে আপনি আপনার পেশাগত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। তথ্যসূত্র: আমার দেশ,
২৬
বাংলা’ শব্দের ব্যুৎপত্তি ও বিবর্তন:
আমরা প্রতিদিন বলি ‘বাংলা’, ‘বাঙালি’, ‘বাংলাদেশ’… কিন্তু কখনো মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই শব্দগুলো আসলে কোথা থেকে এলো? কে প্রথম এই নামের সূচনা করল? কীভাবে এলো এসব নাম?
আজ আমি আপনাদের নিয়ে যাব এক রোমাঞ্চকর যাত্রায়। সময়ের হিসাব মিলিয়ে দেখলে প্রায় ৩০০০ বছরের ইতিহাস! প্রাচীন অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ—এই নামটার পেছনে লুকিয়ে আছে লড়াই, বিবর্তন আর মিশে যাওয়ার এক অনবদ্য কাহিনি।
তো চলুন, শুরু করা যাক...
১। 'বাংলা’—এই একটি শব্দের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের লড়াই, বিবর্তন এবং সংমিশ্রণের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক ভূখণ্ড বা একটি ভাষার নাম নয়, বরং এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দর্পণ। প্রাচীন ভারতের আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব, মধ্যযুগের রাজনৈতিক পালাবদল, সংহতি এবং আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনের এক সমন্বিত ফসল এই নাম।
আদি উৎসের সন্ধানে (খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দ):
অস্ট্রিক উৎস: ‘বোঙ্গা’ দেবতা থেকে শুরু
আপনি কি জানেন, সাঁওতাল ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের ভাষায় ‘বোঙ্গা’ মানে দেবতা? তাদের প্রধান দেবতার নাম ‘সিং বোঙ্গা’—অর্থাৎ সূর্য দেবতা! এই ‘সিং’ মানে সূর্য, আর ‘বোঙ্গা’ মানে দেবতা। তিনি সৃষ্টিকর্তা ও সংরক্ষক দেবতা হিসেবে পূজিত হন।
অনেক ভাষাবিদ মনে করেন, এই ‘বোঙ্গা’ থেকেই প্রথমে ‘বঙ্গ’ এবং পরে ‘বাংলা’ শব্দের উৎপত্তি। নৃতাত্ত্বিকরা বলেন, আর্যরা এখানে আসার বহু আগে থেকেই এই অঞ্চলের মানুষ ‘বোঙ্গা’ নামে এক পবিত্র সত্তায় বিশ্বাস করত। ধীরে ধীরে দেবতার নামটাই হয়ে গেল ভূখণ্ডের নাম!
শুধু সিং বোঙ্গাই নন, সাঁওতাল ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের আরও বহু বোঙ্গা আছেন। মারাংবুরু মহান পাহাড় দেবতা, গোষ্ঠীর প্রধান রক্ষাকর্তা। জাহের আয়ু গ্রামের রক্ষাকর্ত্রী দেবী। মড়েক-তুরুইক পাঁচ ও ছয়জন দেবদেবীর সমষ্টি। সরাই বোঙ্গা সম্ভবত শস্য বা উর্বরতার সাথে সম্পর্কিত।
এই বোঙ্গা দেবতাদের কেন্দ্র করে নানা উৎসবও হয়। বাহা বঙ্গা বসন্ত উৎসব, ‘বাহা’ মানে ফুল—ফুল দেবার উৎসব। সরহুল ফসল কাটার উৎসব। মাগে পরব শীতকালীন ফসল তোলার উৎসব। করম শস্যদেবতা করমের পূজা।
মুন্ডাদের সৃষ্টিতত্ত্বে আছে, সিং বোঙ্গা জলের ওপর পাতার নৌকায় ভেসে বেড়াতেন। তারপর কেঁচো বা জোঁকের আনা মাটি দিয়ে স্থল সৃষ্টি করলেন। পরে রাজহাঁসের ডিম থেকে প্রথম মানব-মানবী জন্মাল।
২। দ্রাবিড় উৎস: ‘বং’ গোষ্ঠীর কাহিনি
আরেকটি তত্ত্ব বলে, খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দে এখানে ‘বং’ বা ‘বঙ্গ’ নামে এক শক্তিশালী দ্রাবিড়-ভাষী গোষ্ঠী বাস করত। তাদের গোষ্ঠীর নাম থেকেই এলো ‘বঙ্গ’। দ্রাবিড়ীয় শব্দ ‘ভাঙ্গাই’ থেকেও আসতে পারে, যা ছিল এক বিশেষ প্রজাতির গাছের নাম।
প্রাচীন বং জাতিগোষ্ঠী ও বং-লং প্রদেশ:
মজার ব্যাপার হলো, ড. রাজেন্দ্রলাল মিত্র রচিত ‘The History of the Bengali Language’ গ্রন্থে পাওয়া যায়, প্রাচীন চীনা নথিতে ‘বং-লং’ নামের এক দেশের সন্ধান!
গল্পটা এমন—আনাম (বর্তমান ভিয়েতনাম) রাজবংশের উৎপত্তি নিয়ে চীনা নথিতে আছে, সেখানে এক বাঙালি ব্যক্তি আনামের রাজা হয়েছিলেন। তার নাম ছিল ‘লাক-লোম’। তিনি ‘আউকি’ নামে এক আনামি মেয়েকে বিয়ে করেন। এই লাক-লোম এবং তার অনুসারীরা ছিলেন ভারতের ‘বং-লং’ প্রদেশের অধিবাসী। এই ‘বং-লং’ই ছিল ‘বাংলা’ নামের আদি রূপ!
গবেষকদের মতে, লাক-লোম এবং তার লোকেরা ‘নাগ বংশের’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের টোটেম বা গোষ্ঠী-প্রতীক ছিল ‘নাগ’ (সাপ)। এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইঙ্গিত দেয় যে ‘বং’ গোষ্ঠীর সাথে সাপ-পূজার সম্পর্ক থাকতে পারে।
এই বং গোষ্ঠীর রাজারা খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত আনামে রাজত্ব করেন। মোট আঠারোজন বং-লং বংশোদ্ভূত রাজা সাড়ে ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে রাজত্ব করেছিলেন বলে জানা যায়!
৩। পৌরাণিক ব্যাখ্যা: ঋষি দীর্ঘতমা ও রাজা বলির পাঁচ পুত্র
এবার আসি পুরাণের গল্পে। মহাভারত, হরিবংশ ও বিভিন্ন পুরাণে আছে ঋষি দীর্ঘতমা ও রাজা বলির স্ত্রী সুদেষ্ণার কাহিনি।
ঋষি দীর্ঘতমা ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী কিন্তু জন্মান্ধ (জন্ম থেকে অন্ধ)। তাঁর পত্নী তাঁর সেবা করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং অন্য পুরুষের কাছে যান। ক্রুদ্ধ হয়ে দীর্ঘতমা নিজেকে গঙ্গায় নিক্ষেপ করেন।
রাজা বলি তাঁকে উদ্ধার করেন। কৃতজ্ঞ হয়ে দীর্ঘতমা বলিকে বর দিতে চান। রাজা বলির তখন সন্তান ছিল না। তিনি সন্তানলাভের জন্য দীর্ঘতমার শরণাপন্ন হন।
দীর্ঘতমা রাজা বলিকে জানান, তাঁর (দীর্ঘতমার) বীর্য অত্যন্ত তেজস্বী এবং তিনি রাজার ঔরসে পুত্র উৎপাদনে সক্ষম নন। তাই তিনি রাজা বলির স্ত্রী সুদেষ্ণার সঙ্গে ‘নিয়োগ’ প্রথায় মিলিত হতে রাজি হন।
‘নিয়োগ’ প্রথা কী? প্রাচীন হিন্দু সমাজে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। যদি কোনো পুরুষ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান বা তাঁর সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে তাঁর বিধবা স্ত্রী সন্তান লাভের জন্য পরিবারের অনুমতি নিয়ে কোনো ঋষি, জ্যেষ্ঠ আত্মীয় বা যোগ্য পুরুষের শরণাপন্ন হতেন। এই প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া সন্তান মৃত বা নিঃসঙ্গ পুরুষের সন্তান হিসাবেই গণ্য হতো, এবং সেই সন্তান পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো। এটি ধর্মশাস্ত্র কর্তৃক অনুমোদিত একটি প্রথা ছিল যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বংশ রক্ষা ও পিতৃলোকের ঋণ থেকে মুক্তি লাভ। মহাভারতে কৌরব ও পাণ্ডবদের উৎপত্তির ক্ষেত্রেও এই প্রথার উল্লেখ আছে—ব্যাসদেব অম্বিকা ও অম্বালিকার গর্ভে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডুকে উৎপাদন করেন।
এই নিয়োগ প্রথার মাধ্যমেই সুদেষ্ণার গর্ভে জন্ম নেয় পাঁচ পুত্র— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পুণ্ড্র ও সুহ্ম (বা সূক্ষ্ম)। এই পাঁচ সন্তান রাজা বলির সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি পায় এবং তাদের নামে পাঁচটি রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘বঙ্গ’ ছিলেন সেই পাঁচ ভাইয়ের একজন। ষোড়শ শতকের ইতিহাসবিদ ফিরিশতা এবং আবুল ফজল ইবনে মুবারক তাদের গ্রন্থে এই বর্ণনা দিয়েছেন।
তবে এটাকে গালগল্প বলে অনেকে উড়িয়ে দেন।
৪। বৈদিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যে ‘বঙ্গ’ (খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দ)
(ঐতরেয় আরণ্যক ও ঋগ্বেদীয় যুগের সমাজ)
সবচেয়ে মজার তথ্য হলো, প্রথম দিকে আর্যরা বঙ্গবাসীদের খুব একটা পছন্দ করত না।
সংস্কৃত সাহিত্যে ‘বঙ্গ’ শব্দের সর্বপ্রাচীন সাহিত্যিক নিদর্শন পাওয়া যায় ‘ঐতরেয় আরণ্যক’-এ (খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০-৫০০ অব্দ)। ঋগ্বেদের এই অংশে বঙ্গ, বগধ (মগধ) এবং চেরপাদ নামে তিনটি জাতির কথা বলা হয়েছে, যারা বৈদিক ধর্মশৃঙ্খলা ও আচার-আচরণ লঙ্ঘন করে পূর্ব দিকে গমন করেছিল।
এই গ্রন্থে বঙ্গের মানুষকে ‘বয়াংসি’ বা পাখির মতো ভিন্ন ভাষায় কথা বলা মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদেরকে “পক্ষীসদৃশ যাযাবর” বা পক্ষী টোটেমধারী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। বোধ হয় পক্ষিবিশেষ তাদের টোটেম ছিল।
কিন্তু ড. শ্রীকুশল বরণ চক্রবর্ত্তীর মতে, এখানে পাখির ডাকের সাথে বাঙালির ভাষাকে তুলনা করে বাঙালির মুখের বুলিকে ছোটো করা হয়নি, বরং বাঙালির মুখের সুমিষ্ট ধ্বনিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং বাঙালির ভাষার সুমিষ্ট ধ্বনিকেই মহিমান্বিত করা হয়েছে। বৈদিক যুগ থেকেই বঙ্গের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং ঋগ্বেদের কাল থেকে আজও বাঙালি জাতি নিরবচ্ছিন্ন বহমান।
তবে বৌধায়ন ধর্মসূত্রে আরও কঠোরভাবে বলা হয়েছে যে, কেউ যদি অঙ্গ, বঙ্গ বা কলিঙ্গ জনপদে ভ্রমণ করে, তবে তাকে ফিরে এসে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। বৈদিক সাহিত্যে পুন্ড্রদেরকে ‘দস্যু’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। মোটকথা, বৈদিক সাহিত্যে বাংলাদেশের অধিবাসীদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ লক্ষ করা যায় এবং বৌধায়ন ধর্মসূত্রের যুগ পর্যন্ত এ বিদ্বেষ লক্ষ করা যায়। এই ধরনের সামাজিক নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বঙ্গ একটি শক্তিশালী জনপদ হিসেবে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল, যা পরবর্তীকালের আর্য সাহিত্যে ক্রমশ স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
৫। মহাকাব্য ও পুরাণের ভৌগোলিক ব্যাপ্তি
মহাভারত ও রামায়ণে বঙ্গের উল্লেখ অনেক বেশি বিস্তারিত এবং সম্মানজনক।
মহাভারতের ‘দিগ্বিজয়’ পর্বে বলা হয়েছে যে, পাণ্ডব বীর ভীম পূর্ব ভারত অভিযানের সময় লোহিত্য (ব্রহ্মপুত্র) নদের তীরে বঙ্গের রাজাকে পরাজিত করেছিলেন।
কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ (খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী)-এ বঙ্গকে অত্যন্ত উন্নত মানের সাদা ও মসৃণ সুতিবস্ত্র উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গ অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ছিল এবং বাণিজ্যের মাধ্যমে এটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল।
কালিদাসের রঘুবংশ, মৎস্য পুরাণ, বায়ু পুরাণ, ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ প্রভৃতিতে বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। গ্রিক-রোমান লেখকদের বিবরণে এই অঞ্চল ‘গঙ্গারিডাই’ নামে পরিচিত ছিল।
‘বঙ্গ’ থেকে ‘বঙ্গাল’—এটা একটা বড়ো পরিবর্তন! এই ‘আল’ প্রত্যয় যোগের রহস্য কী?
প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় কুমিল্লা তাম্রশাসনে (৭২০ খ্রিষ্টাব্দ)। এখানে বৌদ্ধ রাজা আনন্দদেবের উপাধি দেওয়া হয়েছে ‘শ্রী বঙ্গাল মৃগাঙ্ক’ — মানে ‘বাঙ্গালার চন্দ্র’!
এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নেসারি তাম্রশাসন (৮০৫ খ্রিষ্টাব্দ)। দক্ষিণ ভারতের রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় গোবিন্দের এই লিপিতে পাল সম্রাট ধর্মপালকে বলা হয়েছে ‘বঙ্গালের রাজা’! এটি ‘বঙ্গাল’ শব্দটির সবচেয়ে প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য লিখিত প্রমাণ।
১১শ শতাব্দীতে চোল রাজা রাজেন্দ্র চোলের তিরুমালাই শিলালিপিতে এই অঞ্চলের নাম ‘বঙ্গালদেশ’। শুধু নামই না, সেখানে বঙ্গালদেশের বৃষ্টির বর্ণনা পর্যন্ত দেওয়া আছে—সম্রাট গোবিন্দচন্দ্রের কথা বলা হয়েছে, যার রাজ্য ছিল বৃষ্টিবহুল বঙ্গালদেশ!
পাল ও চন্দ্র বংশীয় রাজাদের আমলে ‘বঙ্গাল’ নামটি একটি স্বীকৃত ভৌগোলিক নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
৬। আবুল ফজলের ‘আল’ তত্ত্ব (১৬শ শতক)
মুঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আইন-ই-আকবরী’-তে (খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দী) দিলেন এক ভিন্ন ব্যাখ্যা।
তিনি বললেন, প্রাচীনকালে বন্যা থেকে বাঁচতে এই অঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে ও নিম্নাঞ্চলে ১০ গজ উঁচু ও ২০ গজ চওড়া মাটির বাঁধ দেওয়া হতো। এই বাঁধের নাম ছিল স্থানীয় ভাষায় ‘আল’। ‘বঙ্গ’ + ‘আল’ = ‘বঙ্গাল’ বা ‘বাঙ্গালাহ’!
তাঁর মতে, বাঙ্গালাহ ছিল বিশাল—পূর্ব-পশ্চিমে চট্টগ্রাম থেকে তেলিয়াগড় পর্যন্ত ৪০০ ক্রোশ, আর উত্তর-দক্ষিণে উত্তরে পর্বতমালা থেকে দক্ষিণে হুগলি জেলার মন্দারণ পর্যন্ত ২০০ ক্রোশ!
আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড। এটি একটি প্রবিধানপূর্ণ প্রশাসনিক সারগ্রন্থ এবং একটি আধুনিক গেজেটিয়ারের সমতুল্য। এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সম্রাট আকবরের সরকার ব্যবস্থা, এর বহুবিধ প্রশাসনিক বিভাগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ প্রভৃতি।
বাংলা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো তিন ভাগে বর্ণিত সুবা বাংলার বিবরণ। প্রথম ভাগে সুবার ইতিহাস ও ভৌগোলিক বর্ণনা, দ্বিতীয় ভাগে ১৯টি সরকারে বিভক্ত বাংলার প্রতিটি সরকারের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলের আলোচনা এবং তৃতীয় ভাগে বর্ণিত হয়েছে প্রদেশে কর আরোপের বিবরণ।
আইন-ই-আকবরী প্রথম গ্রন্থ যেখানে আমরা জানতে পারি, বাংলা তখন ১৯টি সরকারে বিভক্ত ছিল এবং মোট ধার্য করের পরিমাণ ছিল এক কোটি টাকারও বেশি!
ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে অনেক গবেষক মনে করেন, সংস্কৃত ‘তদ্ধিত’ প্রত্যয় ‘আল’ বা ‘আইল’ থেকে এই শব্দের উৎপত্তি হতে পারে, যা ভূমি বা সীমানাকে নির্দেশ করে। যদিও আবুল ফজলের ব্যাখ্যাটি অনেকে ‘লোক-ব্যুৎপত্তি’ হিসেবে মনে করেন, তবুও বাংলার নদীবহুল ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাঁধ বা আলের গুরুত্ব অপরিসীম ছিল বিধায় এই তত্ত্বটি ঐতিহাসিকভাবে ফেলনা নয়।
৭। সুলতানি আমল: ‘বাঙ্গালাহ’র জন্ম (১৩৫২ খ্রি.)
এতক্ষণ যা বললাম, সেসব ছিল ছোটো ছোটো জনপদের গল্প। বঙ্গ, পুণ্ড্র, রাঢ়, গৌড়, সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র—প্রায় ষোলটি আলাদা আলাদা রাজ্য! তাদের মধ্যে বঙ্গ ছিল অন্যতম।
আরেকটু বিস্তারিত বলি:
প্রথম ধাপ: খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত
এই সময়ে 'বঙ্গদেশ' বলে কিছুই ছিল না। বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল অসংখ্য ছোটো ছোটো স্বাধীন জনপদ। এগুলো ছিল আলাদা আলাদা রাজ্য বা অঞ্চল, যেমন—গৌড়, পুণ্ড্র, বঙ্গ, রাঢ়, সমতট, হরিকেল, বরেন্দ্র ইত্যাদি। এদের প্রত্যেকের নিজস্ব শাসক, নিজস্ব পরিচয় ছিল। 'বঙ্গ' ছিল এদের মধ্যে একটি মাত্র জনপদ, সম্ভবত বর্তমান ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল অঞ্চলের কোনো অংশ জুড়ে এর অবস্থান ছিল।
দ্বিতীয় ধাপ: সপ্তম শতকের শুরু (রাজা শশাঙ্কের সময়)
রাজা শশাঙ্ক নামে এক শক্তিশালী শাসক এলেন। তিনি বর্তমান মালদহ ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চল (উত্তরবঙ্গের পশ্চিম অংশ) থেকে শুরু করে উৎকল (বর্তমান ওড়িশার কিছু অংশ) পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করে একটি একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেন। এই রাজ্যের নাম ছিল গৌড় রাজ্য। শশাঙ্কের সময় থেকেই 'গৌড়' শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কিন্তু, শশাঙ্কের এই গৌড় রাজ্যের ভেতরে তখনও গৌড়, পুণ্ড্র ও বঙ্গ—এই তিনটি প্রধান জনপদ আলাদা আলাদাভাবে বিদ্যমান ছিল। মানে শশাঙ্ক এদের জয় করে একই শাসনাধীন এনেছিলেন, কিন্তু জনপদগুলো তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র সত্তা পুরোপুরি হারায়নি। তখন 'সমগ্র বঙ্গদেশ' বলতে মূলত এই তিনটি জনপদ—গৌড়, পুণ্ড্র ও বঙ্গ—এর সমষ্টিকে বোঝানো হতো।
তৃতীয় ধাপ: অষ্টম শতক থেকে
এই সময় থেকে একটা বড়ো পরিবর্তন শুরু হলো। ধীরে ধীরে গৌড়, পুণ্ড্র, রাঢ়, সমতট, হরিকেলসহ সব ছোট ছোট জনপদ ও বিভাগ বঙ্গ জনপদের সাথে একীভূত হয়ে যেতে থাকলো। মানে 'বঙ্গ' নামটা আস্তে আস্তে শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি সাধারণ নাম হয়ে উঠতে শুরু করল। এখন 'বঙ্গ' বলতে বোঝানো শুরু হলো এই বিস্তৃত অঞ্চলকে।
চতুর্থ ধাপ: পাল ও সেন আমল (অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক)
পাল ও সেন রাজারা এই একীভূত বঙ্গ অঞ্চল শাসন করতেন। কিন্তু এখানে একটি বিশেষ দ্বন্দ্ব ছিল। এই বিশাল অঞ্চল ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে 'বঙ্গ' নামে পরিচিত হলেও, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে তখনও এর নাম ছিল 'গৌড় রাজ্য'। অর্থাৎ শশাঙ্কের আমলের গৌড় রাজ্যের ঐতিহ্য তখনও টিকে ছিল। এই অঞ্চলকে তখনও 'গৌড়' বলেই বেশি উল্লেখ করা হতো, যদিও এর ভেতরের জনগণ ও সংস্কৃতি ছিল 'বঙ্গ' নামের সাথে যুক্ত।
সহজভাবে বললে, তখন পরিস্থিতিটা এমন ছিল—একটা বিস্তীর্ণ এলাকা 'বঙ্গ' নামে পরিচিত, কিন্তু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দলিলে তার নাম 'গৌড়' লেখা হয়। 'বঙ্গ' নামটা তখন ছিল মূলত ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়, আর 'গৌড়' ছিল রাজনৈতিক ঐতিহ্যের নাম।
এই দ্বৈততা অনেক দিন ধরে চলেছিল। পরে ১৩৫২ সালে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ যখন 'বাঙ্গালাহ' প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে এবং 'বঙ্গ' নামটিই রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দে এলেন সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ। তিনি লখনৌতি, সোনারগাঁও ও সাতগাঁও—এই তিন অঞ্চল এক করে ফেললেন।
নিজেকে ঘোষণা করলেন ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ (বাংলার সুলতান) এবং ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ (বাঙালিদের রাজা)।
এই প্রথম সমগ্র বাংলা একক শাসনের অধীনে এলো। এর গুরুত্ব ছিল অনেক।
ভৌগোলিক ঐক্য: তিনটি প্রধান প্রশাসনিক বিভাগকে প্রথমবারের মতো ‘বাঙ্গালাহ’ নামে একক কাঠামোয় আনা হয়।
সাংস্কৃতিক সংহতি: হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম অধিবাসীদের একই ‘বাঙালি’ পরিচয়ে একত্রিত করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ভাষার স্বীকৃতি: ফারসি রাজভাষা হওয়া সত্ত্বেও সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা সাহিত্যিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করতে শুরু করে।
১৫২৮ সাল নাগাদ বাংলার পাঠান সুলতানরাই প্রথম বাঙ্গালাহ শব্দের ব্যবহার শুরু করেন, তবে তার আগেই দ্বাদশ শতাব্দীর দু’জন বৈদেশিক পর্যটক মার্কো পোলো ও রশিদুদ্দিন তাঁদের ভ্রমণ কাহিনিতে ‘বঙ্গাল’ নামটা ব্যবহার করেছিলেন।
৮। ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তন:
চর্যাপদ ও আদি বাংলার রূপান্তর–
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’-এ (৮ম-১২শ শতাব্দী) আমরা তৎকালীন সমাজের চিত্র পাই। চর্যাপদে বঙ্গ, বঙ্গাল ও বাঙালি শব্দগুলো পাওয়া যায়।
চর্যাপদের ৩৩ নম্বর পদে কবি ভুসুকুপা লিখেছেন— “আজু ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী” (আজ ভুসুকু বাঙালি হলো)।
ভাবতে পারেন? হাজার বছর আগেও মানুষ নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিত! এখানে ‘বাঙালি’ শব্দটি একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় রূপান্তরকে নির্দেশ করে। দশম শতাব্দীতেই ‘বাংলা’ বা ‘বাঙালি’ পরিচয়টি যে প্রান্তিক জনসমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল, চর্যাপদ তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
বাংলা ভাষার বিবর্তনের স্তরসমূহও সংক্ষেপে জানা দরকার এটা জানতে।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘The Origin and Development of the Bengali Language’ এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গবেষণায় বাংলা ভাষার বিবর্তনের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা ভাষার আদি উৎস ‘মাগধী প্রাকৃত’, যা পরে ‘মাগধী অপভ্রংশ’ হয়ে বর্তমান বাংলায় রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, বাংলা সরাসরি ‘গৌড়ীয় প্রাকৃত’ এবং ‘গৌড়ীয় অপভ্রংশ’ থেকে উদ্ভূত। ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতাব্দীতে, চর্যাপদের সময়কালের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলা ভাষার বিবর্তন পর্যায়ক্রমে বলা যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ থেকে খ্রিষ্টীয় ৬০০ সাল পর্যন্ত মাগধী প্রাকৃতের যুগ, যখন কথ্য ভাষার বিকাশ ঘটে এবং সংস্কৃতের প্রভাব হ্রাস পায়। খ্রিষ্টীয় ৬০০ থেকে ৯০০ সাল পর্যন্ত অপভ্রংশ বা অবহট্ঠের যুগ, ভাষার চূড়ান্ত বিকৃতি ও আঞ্চলিক রূপান্তর ঘটে। খ্রিষ্টীয় ৯০০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত আদি বাংলার যুগ, চর্যাপদের ভাষা প্রচলিত হয় যা আধুনিক বাংলার ভিত্তি। খ্রিষ্টীয় ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্য বাংলার যুগ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য রচিত হয় এবং ফারসি শব্দের সংমিশ্রণ ঘটে।
এখন কথা হলো, বঙ্গ কি সংস্কৃত শব্দ?
‘বঙ্গ’ শব্দটিকে কি পুরোপুরি সংস্কৃত উৎসের শব্দ বলা যায়? এর সরাসরি উত্তর হলো—সম্ভবত না, পুরোপুরি সংস্কৃত উৎসের শব্দ বলা ঠিক হবে না।
বাংলা শব্দের ব্যুৎপত্তি নিয়ে আমরা আগেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেখানেই দেখা গেছে, ‘বঙ্গ’ নামটির উৎপত্তি নিয়ে একাধিক তত্ত্ব আছে এবং সংস্কৃত উৎস তার মধ্যে একটি মাত্র ধারা। বিষয়টি খোলাসা করে বলছি—
প্রথমত, সংস্কৃত উৎসের পক্ষে যুক্তি কী?
অনেক ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক মনে করেন, ‘বঙ্গ’ একটি সংস্কৃত শব্দ। তাদের যুক্তি হলো—
১. প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে ‘বঙ্গ’ শব্দের বহুল ব্যবহার আছে। ‘ঐতরেয় আরণ্যক’, ‘মহাভারত’, ‘রামায়ণ’, ‘পুরাণ’, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’, কালিদাসের ‘রঘুবংশ’—সবখানেই ‘বঙ্গ’ শব্দটি পাওয়া যায় ।
২. পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রাজা বলির পুত্র ‘বঙ্গ’-এর নাম থেকেই এই অঞ্চলের নামকরণ—এই ব্যাখ্যাটি সরাসরি সংস্কৃত সাহিত্য থেকে আগত ।
৩. ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের মতো ঐতিহাসিক মনে করেন, ‘বাংলা’ শব্দের উচ্চারণ হয়েছে ‘বঙ্গ’ থেকেই, যেটি মূলত একটি সংস্কৃত শব্দ। আর্যরা এই অঞ্চলকে ‘বঙ্গ’ হিসেবে অভিহিত করতো ।
দ্বিতীয়ত, সংস্কৃত উৎসের বিপক্ষে যুক্তি কী?
এখানেই মূল বিতর্ক। অনেক গবেষক মনে করেন, ‘বঙ্গ’ শব্দটি সংস্কৃতের আগেও ছিল এবং আর্যরা সেটি গ্রহণ করেছে মাত্র। তাদের যুক্তি হলো—
১. ‘ঐতরেয় আরণ্যক’-এ ‘বঙ্গ’ শব্দটি প্রথম পাওয়া গেলেও, সেখানে বঙ্গবাসীদের আর্য-বহির্ভূত ‘বয়াংসি’ বা পাখির মতো ভাষায় কথা বলা মানুষ বলে বর্ণনা করা হয়েছে । অর্থাৎ আর্যরা নিজেরা স্বীকার করেছে যে, এই গোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতির বাইরের।
২. ভাষাবিদরা মনে করেন, অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, গঙ্গা প্রভৃতি শব্দ প্রাগার্য (আর্য-পূর্ববর্তী) উৎস থেকে এসেছে। এগুলো সম্ভবত তিব্বতীয় বা অস্ট্রিক ভাষা থেকে আগত ।
৩. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা অঞ্চলের আদি অধিবাসীদের ভাষা ছিল অস্ট্রিক। তাদের দেবতার নাম ‘বোঙ্গা’ থেকেই ‘বঙ্গ’ শব্দের উৎপত্তি হতে পারে ।
৪. দ্রাবিড় ভাষায় ‘বং’ নামের একটি গোষ্ঠীর নাম ছিল, যারা খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে এ অঞ্চলে বাস করত। সেই গোষ্ঠীর নাম থেকেও ‘বঙ্গ’ আসতে পারে ।
৫. তিব্বতি ভাষায় ‘বনস্’ মানে ভেজা মাটি। যেহেতু বাংলাদেশের মাটি অধিকাংশ সময় ভেজা থাকে, তাই তিব্বতি ‘বনস্’ থেকেও ‘বঙ্গ’ নামের উৎপত্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হয় ।
তৃতীয়ত, পৌরাণিক ব্যাখ্যার সীমাবদ্ধতা
মহাভারত ও পুরাণের ‘বলি পুত্র বঙ্গ’ কাহিনি পৌরাণিক। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, এটি আর্যদের নিজেদের সুবিধার্থে তৈরি করা ব্যাখ্যা। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, “ব্রাত্যজনের চরিত্র হরণের জন্য এটি একটা চিত্তাকর্ষক ব্রাহ্মণ্য প্রচার” । অর্থাৎ অনার্য জনগোষ্ঠীকে আর্য সমাজের অন্তর্ভুক্ত করতে এই ধরনের কাহিনি রচিত হতে পারে।
উপসংহারে কী দাঁড়ায়?
‘বঙ্গ’ শব্দটিকে সম্পূর্ণ সংস্কৃত উৎসের শব্দ বলা যাবে না। বরং বলতে হবে—
· ‘বঙ্গ’ সম্ভবত একটি প্রাক-আর্য শব্দ, যা অস্ট্রিক, দ্রাবিড় বা তিব্বতীয় ভাষা থেকে এসেছে।
· আর্যরা ভারতে আসার পর এই অঞ্চলের নাম ‘বঙ্গ’ হিসেবে গ্রহণ করে এবং সংস্কৃত সাহিত্যে তা বহুল ব্যবহৃত হয়।
· পরবর্তীতে সংস্কৃতের প্রভাবে ‘বঙ্গ’ শব্দটি সংস্কৃত শব্দ হিসেবেই পরিচিতি পায়।
অর্থাৎ ভাষাগত ও নৃতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বলছে, ‘বঙ্গ’-এর শিকড় অনেক গভীরে—সংস্কৃতেরও আগে। সংস্কৃত সাহিত্যে এটি ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু উৎপত্তি সংস্কৃত নয়।
৯। ইউরোপীয়দের আগমণ: বেঙ্গালা থেকে বেঙ্গল
ইউরোপীয় বণিক ও পর্যটকরা যখন সমুদ্রপথে এই অঞ্চলে আসতে শুরু করেন, তখন তারা স্থানীয় ‘বাঙ্গালাহ’ শব্দটিকে নিজেদের উচ্চারণের উপযোগী করে নেন।
মুঘলদের দেওয়া নামের অনুকরণে পর্তুগিজরা এই অঞ্চলকে বলত ‘বেঙ্গালা’। ষোড়শ শতাব্দীতে মার্কো পোলোর লেখায় ‘সিটি অফ বেঙ্গল’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাঙ্গালির আবাসভূমিকে বলা হতো বঙ্গদেশ। ইংরেজিতে বলা হতো ‘বেঙ্গল’, এই নামটা দিয়েছিল ইংরেজরা। তারা এটা নিয়েছিল পর্তুগিজদের দেওয়া ‘বেঙ্গালা’ শব্দ থেকে, আর বেঙ্গালা শব্দটি মুসলমানদের দেওয়া ‘বঙ্গালাহ’ শব্দের রূপান্তর মাত্র।
১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মোঘল সম্রাট আকবর বাংলা অধিকার করেন। গৌড়ের রাজনৈতিক সত্তা বিলুপ্ত হয়। সম্রাট আকবরের আমল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশ ‘বঙ্গাল’ নাম ধারণ করে এবং বাংলা তখন মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবায় পরিণত হয়। পরবর্তী ২০০ বছর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে থাকে। মুঘল সাম্রাজ্যের পর বাংলা স্বাধীন নবাবদের দ্বারা শাসিত হতে থাকে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলা ইংল্যান্ডের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায় এবং ইংরেজদের হাতে যাওয়ার পর এর নাম হয় ‘বেঙ্গল’। ব্রিটিশ ভারতে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি’ নামে বিশাল এক এলাকা শাসিত হয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় ‘বঙ্গ’ এবং ‘বাংলা’ শব্দ দুটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্লোগান হিসেবে পুনর্জীবিত হয়।
১০। ‘বাংলাদেশ’—স্বাধীনতার নাম (১৯৭১)
বিংশ শতাব্দীতে এলো নতুন অধ্যায়। ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখলেন— “আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে”। তখন ‘বাংলাদেশ’ মানে ছিল সমগ্র অখণ্ড বাংলার রূপক।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলো। এই অঞ্চল প্রথমে পূর্ববঙ্গ (১৯৪৭-১৯৫৫), তারপর পূর্ব পাকিস্তান (১৯৫৫-১৯৭১) নামে পরিচিত হয়।
কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের মনে ‘বাংলা’ ভাষার প্রতি যে ভালোবাসা জন্মায়, তা থেকেই ‘বাংলাদেশ’ নামটির পুনরুত্থান ঘটে। মায়ের ভাষার জন্য আন্দোলন ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়।
১৯৬৯-৭০ সালের রাজনৈতিক উত্তাল সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে এই অঞ্চলের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’।
অবশেষে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ‘বাংলা’ শব্দটি তার সুদীর্ঘ ইতিহাসের চূড়ান্ত সার্থকতা খুঁজে পায়—একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম হিসেবে: স্বাধীন বাংলাদেশ।
১১। সংক্ষেপে কালানুক্রমিক ধারা:
খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দে বং বা বঙ্গ নামের উৎপত্তি, যা দ্রাবিড় গোষ্ঠীর নাম এবং অস্ট্রিক দেবতা ‘বোঙ্গা’-র সাথে সম্পর্কিত। খ্রিষ্টপূর্ব ৭০০ অব্দে ‘ঐতরেয় আরণ্যক’-এ ‘বঙ্গ’ শব্দের প্রথম সাহিত্যিক উল্লেখ পাওয়া যায়।
খ্রিষ্টীয় ৭২০ সালে কুমিল্লা তাম্রশাসনে ‘বঙ্গাল’ শব্দের প্রথম লিখিত ব্যবহার দেখা যায়। ৮০৫ সালে নেসারি শিলালিপিতে ধর্মপালকে ‘বঙ্গালার রাজা’ বলা হয়। দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে চর্যাপদে ‘বঙ্গালী’ শব্দটি জাতিগত পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ প্রথম রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপন করে নামকরণ করেন ‘বাঙ্গালাহ’। ষোড়শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ বণিকদের দেওয়া নাম ‘বেঙ্গালা’ এবং একই সময়ে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে প্রশাসনিক নাম হয় ‘সুবা বাঙ্গালা’।
অষ্টাদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনামলে নাম হয় ‘বেঙ্গল’। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের অংশ হিসেবে নাম হয় পূর্ববঙ্গ। অবশেষে ১৯৭১ সালে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে চূড়ান্ত নাম হয় ‘বাংলাদেশ’।
একটা নামের পেছনে এত ইতিহাস!
অস্ট্রিক ভাষার আধ্যাত্মিক ‘বোঙ্গা’ থেকে শুরু করে বৈদিক সাহিত্যে উপেক্ষিত ‘বঙ্গ’, শিলালিপির ‘বঙ্গাল’, সুলতানদের ‘বাঙ্গালাহ’, মুঘলদের ‘সুবাহ-ই-বাঙ্গালা’, পর্তুগিজদের ‘বেঙ্গালা’, ইংরেজদের ‘বেঙ্গল’—সবকিছু পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত স্বাধীন ‘বাংলাদেশ’।
রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন, প্রাচীনকাল থেকে ‘বঙ্গ’ এবং ‘বঙ্গাল’ ছিল দু’টি পৃথক দেশ। ‘বঙ্গাল’ দেশের নাম থেকেই কালক্রমে সমগ্র দেশের নামকরণ ‘বাংলা’ হয়েছে। বর্তমানকালে বাংলাদেশের অধিবাসীদেরকে যে ‘বঙ্গাল’ বলা হয় তা সেই স্মৃতিই বহন করছে।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের গবেষণা আমাদের দেখিয়েছে যে, বাংলা ভাষা ও তার নাম কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও ভাষাতাত্ত্বিক সাধনার এক নিরবচ্ছিন্ন ফল।
প্রতি বার যখন আমরা বলি ‘বাংলা’, ‘বাঙালি’, ‘বাংলাদেশ’—আমরা অজান্তেই সেই হাজার বছরের আদিবাসী মুন্ডাদের আধ্যাত্মিকতা, বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যের সাধনা, স্বাধীনতাকামী সুলতানদের সংগ্রাম এবং ভাষা শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানাই।
ভাষা আর নাম কোনো মৃত জীবাশ্ম নয়। এটা জীবন্ত সত্তা। বদলায়, বাড়ে, বিকশিত হয়। এটা আটকিয়ে রাখার বস্তু না। বাইন্ধা রাখলে কী হয় সংস্কৃত ভাষা তার প্রমাণ।
তথ্যসূত্র:
১। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, The Origin and Development of the Bengali Language
২। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা
আবুল ফজল, আইন-ই-আকবরী
৩। কুমিল্লা তাম্রশাসন (৭২০ খ্রি.), নেসারি তাম্রশাসন (৮০৫ খ্রি.), তিরুমালাই শিলালিপি (১১শ শতাব্দী)
৪। চর্যাপদ
৫। মহাভারত, ঐতরেয় আরণ্যক
৬। ড. রাজেন্দ্রলাল মিত্র, The History of the Bengali Language
৭। রমেশচন্দ্র মজুমদার, History of Ancient Bengal
৮। অন্যান্য মধ্যযুগীয় ইতিহাস গ্রন্থ
৯। বাংলাপিডিয়া
@ আকাশ হোসেন রায়হান
২৭
ইনকিলাব জিন্দাবাদ
ইনকিলাব আরবি শব্দ। জিন্দাবাদ উর্দু শব্দ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানটি আরবি ও উর্দুর মিশেল। তিনি বলেন, জিন্দাবাদ মানে অভিনন্দন জানানো। ফলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানের মানে হলো বিপ্লবকে অভিনন্দন জানানো।
১৯২১ সালে মাওলানা হাসরাত মোহানি প্রথম ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানটি ব্যবহার করেন। স্লোগানটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দিয়েছিলেন হাসরাত মোহানি।
এরপরে এ স্লোগান ঠাঁই করে নেয় উপনিবেশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের নেতা ভগত সিংয়ের কণ্ঠেও। তার বক্তৃতা এবং লেখার মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছিল।
১৯২৯ সালে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ভগত সিং বলেন, ’ ইনকিলাব বা বিপ্লব বোমা বা পিস্তলের সংস্কৃতি নয়। আমাদের বিপ্লবের অর্থ হলো প্রকাশ্য অন্যায়ের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া।’
একটু অন্যভাবে-
এই স্লোগানটি ১৯২১ সালে ইসলামিক পণ্ডিত, উর্দু কবি,ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী,ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা হাসরাত মোহানি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়।
এটি ভগত সিং (১৯০৭-১৯৩১) দ্বারা ১৯২০ এর দশকের শেষের দিকে তার বক্তৃতা এবং লেখার মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছিল। এটি হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের অফিসিয়াল স্লোগানও ছিল,এবং কমিউনিস্ট একত্রীকরণের স্লোগানের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া আজাদ মুসলিম কনফারেন্সের একটি স্লোগান।
১৯২৯ সালের এপ্রিলে,এই স্লোগানটি ভগৎ সিং এবং তার সহযোগী বটুকেশ্বর দত্ত দ্বারা উত্থাপিত হয়েছিল, যিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা হামলার পরে এই স্লোগান দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে, প্রথমবারের মতো একটি উন্মুক্ত আদালতে, এই স্লোগানটি ১৯২৯ সালের জুন মাসে দিল্লির হাইকোর্টে তাদের যৌথ বিবৃতির অংশ হিসাবে উত্থাপিত হয়েছিল।
তারপর থেকে, এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম র্যালিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন তরুণদের অনেকেই ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানটি ব্যবহার করেন। @ উইকিপিডিয়া...
২৮
আমেরিকার বোস্টনে ১৯৮৬ সালে একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করা হয় ৷ এক ফাঁসির আসামীকে ফাঁসির সাজা শোনানো হলো ৷ কতিপয় বিজ্ঞানী সে আসামীর উপর একটি পরীক্ষা করার প্রস্তাব করলেন । কয়েদীকে শোনানো হলো ফাঁসির বদলে তোমাকে বিষাক্ত কোবরা সাপ দংশন করিয়ে হত্যা করা হবে।
কয়েদীকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাত-পা বেঁধে দেয়া হলো, তারপর তার চোখে পট্টি বেঁধে বিষাক্ত কোবরা সাপ না এনে তার বদলে দুটি সেফ্টি পিন ফুটানো হলো। ফলে কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েদির মৃত্যু হলো ৷ পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল সাপের বিষ রয়েছে তার শরীরের মধ্যে। প্রশ্ন হলো এই বিষ কোথা থেকে এলো, যা ঐ কয়েদীর প্রাণ কেড়ে নিল।
বলা হয় সেই বিষ তার নিজের শরীর থেকেই উৎপত্তি হয়েছিল।আমাদের সংকল্প থেকে positive এবং negative এনার্জির সৃষ্টি হয়। আর সে এনার্জি আমাদের শরীরে হরমোনের উৎপত্তি করে ৷ 75% রোগের মূল কারণ হলো আমাদের negative চিন্তাধারা। মানুষ নিজের চিন্তাধারা থেকে ভস্মাসূর হয়ে নিজ প্রজাতিকে বিনাশ করছে। আপনার চিন্তাধারা সর্বদা positive রাখুন এবং খুশী থাকুন।
২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমরা ভাবি যে '‘মানুষ কি মনে করবে!" ৫০ বছর আমরা ভয় পাই ‘মানুষ কি ভাববেন!‘ ৫০ বছর পরে আমরা বুঝতে পারি ‘'কেউ আমার কথা চিন্তাই
করেনি৷‘' কিন্তু তখন তেমন কিছু করার থাকে না!
তাই ইচ্ছেশক্তিকে কখনোই থামতে দেয়া যাবে না। কে কি বলে তা নিয়ে না ভেবে নিজের পজিটিভ চিন্তাগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
২৯
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা
পুরো বাংলাভাষাভাষি এলাকার (বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার কিছু অংশ) বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার তুলনায় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা একটু ভিন্ন। সাধারণ শুদ্ধবাংলা থেকে এর দূরত্ব এত বেশি যে অনেক এলাকার বাঙালি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা একেবারেই বুঝতে পারে না। সে কারণেই হয়ত সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছিলেন, বাংলা ভাষা সিলেটে আহত হয়েছিল এবং চট্টগ্রামে নিহত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, কয়েকবছর আগে পার্থ বড়ুয়া, চিত্রলেখা গুহ প্রমুখ কিছু চাটগাইয়া নাটক বানিয়েছিল। সাধারণ বাঙালিদের পক্ষে সেগুলো বোঝা এত কঠিন ছিল যে সেগুলোর বাংলা সাব টাইটেল দিতে হয়েছিল।
এর কারণ শুধু উচ্চারণ বিভ্রাটের জন্য নয়, ভাষার আঙ্গিকেও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা ভিন্ন। বাংলা ভাষার নেতিবাচক না প্রত্যয় ক্রিয়াপদের পরে বসে, যেমন, আমি খাব না, আমি যাব না ইত্যাদি। কিন্তু চাটগাঁইরা বলে, আঁই ন খাইউম, আঁই ন যাইউম। এছাড়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কতগুলো শব্দ আছে যেগুলো বাংলার আর কোনও অঞ্চলে ব্যবহৃত হয় না এবং এসব শব্দের উৎপত্তি বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবী, ফার্সি, তুর্কী ইত্যাদি ভাষা ইত্যাদির অপভ্রংশও নয়। এ্সব শব্দের মধ্যে আছে কুরা (মুর্গী), গর্বা (অতিথি), গম (ভাল থাকা), পানলার (বোধ হয়) ইত্যাদি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গালির কথা বাদি দিলাম।
এতদসত্ত্বেও চট্টগ্রামের কিছু ভৌগোলিক যায়গার নাম খুবই কাব্যিক। যেমন, চট্টগ্রামের প্রধান নদীর নাম কর্ণফুলি ও অন্যটি শঙ্খ। কি সুন্দর তৎসম শব্দের সমাহার এসব নামে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের কিছু কিছ এলাকার নাম সত্যি রোমাণ্টিক। যেমন, নন্দনকানন, চন্দনপুরা, পাথরঘাটা, পাহাড়তলী। পাহাড়গুলোরও বাহারী নাম। যেমন দেব পাহাড়, জয় পাহাড়, পরীর পাহার, বাটালী পাহাড়। সব মিলে বাংলায় চট্টগ্রামের একটা স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। @ সারোয়ার জামীল
৩০
আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন
সন্ধেবেলা আরামকেদারায় বসে খবরের কাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এমন সময় সদর দরজা থেকে জোরালো আওয়াজ এলো, "কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি ?"
জবাবে বললাম, "হ্যাঁ, মামা, আসুন।"
অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা এলো। আয়েশ করে চা-নাশতা খেতে খেতে জমে উঠল দু'জনের আসর। কথায় কথায় বললাম, আচ্ছা, মামা, আপনি যে ওকালতি পেশার সঙ্গে যুক্ত, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আরবি-ফারসি শব্দ। জানেন তো ?
- তাই নাকি ! যেমন ?
- আদালত দিয়ে শুরু করি ?
- মানে ?
- মানে 'আদালত' আরবি। 'শুরু'ও আরবি।
- আদালত আরবি, জানতাম। কিন্তু, শুরুটাও আরবি ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ। তারপর ধরুন, আপনি উকিল। ওকালতি আপনার পেশা। এখানে 'উকিল', 'ওকালতি' আরবি। আর 'পেশা'টা ফারসি।
- জানতাম না তো !
- তারপর দেখুন, 'মামলা', 'মোকদ্দমা' দুটোই আরবি। এতে যারা আপনাদের সাহায্য নেয়, তাদের আপনারা বলেন মক্কেল। এই 'মক্কেল'ও আরবি। 'হাকিম', 'হুকুম', 'এজাহার', 'বয়ান', 'ফরমান', 'ফয়সালা' এমনকি বিচারপতির 'রায়' পর্যন্ত আরবি। আচ্ছা, আসামি শব্দটা কোন্ ভাষা থেকে এসেছে বলুন তো ?
- আসাম থেকে ?
- নাহ্। 'আসামি' আরবি। এই আসামি বা সাক্ষীদের আপনারা তো জেরা বা সওয়াল করেন, 'জেরা' আর 'সওয়াল'ও আরবি।
- আজব ব্যাপার তো !
- 'আজব'টাও আরবি। আপনি যে ভিতরে আসার আগে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে, 'কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি' বলে আওয়াজ দিয়েছিলেন। এখানে 'আওয়াজ' ফারসি। 'সদর' আরবি। 'দরজা' ফারসি। কলমচির 'কলম' আরবি, 'চি' তুর্কি। আর 'বাবু' হলো ফারসি।
- বেশ আজব ব্যাপার তো !
- এই 'বেশ'টা ফারসি। 'আজিব' আরবি। আর আমি জবাব দিয়েছিলাম, হ্যাঁ মামা, আসুন। এখানে 'জবাব' আরবি, 'মামা' ফারসি। তারপর, আপনি এসে দেখলেন যে, আমি আরামকেদারায় বসে খবরকাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এখানে 'আরাম' ও 'কেদারা' ফারসি এবং 'খবর', 'কাগজ' ও 'নজর' আরবি।
- তার মানে, আমরা রোজকার জীবনে যেসব কথা বলি, তার বেশিরভাগই আরবি, ফারসি ?
- আলবত। এই 'আলবত'টাও আরবি। এক্ষুনি আপনি যে বললেন, রোজকার জীবনে... বেশিরভাগই... এখানে 'রোজকার' ফারসি, বেশিভাগের 'বেশি'টা ফারসি।
- কী মুশকিল ! এতদিন জানতাম না তো !
- 'মুশকিল' আরবি হলেও শুধু শুধু মুশকিল হবে কেন ! একটু অভিধান ঘাঁটলেই মুশকিল আসান হয়ে যাবে। তখন জানতে পারবেন 'আসান'ও আরবি। আচ্ছা, মনে করে দেখুন তো, আপনি আসার পর অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা পাঠানো হলো। এখানে 'অন্দর' ফারসি, 'মহল' আরবি। আর নাশতাটা ?
- নিশ্চয়ই ফারসি।
- বিলকুল ঠিকই বলেছেন। 'নাশতা' ফারসি। দেখুন এই 'বিলকুল' হলো আরবি। আচ্ছা, এরপর আমরা আয়েশ করে নাশতা খেতে খেতে আসর জমিয়ে দিলাম। তাই না ?
- তাই তো, এর মধ্যেও আরবি-ফারসি আছে নাকি ?
- অবশ্যই আছে। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা সাবলীল গতিতে চলতেই পারবে না যে ! দেখুন আরাম শব্দটা ফারসি, আগেই আমরা জেনেছি। এর জুড়ি যে 'আয়েশ', এটা আরবি। আসর জমানোর মধ্যে 'আসর' ও 'জমা' দুটোই আরবি। আরবিতে 'আশর' মানে দশ। দশজন মিলে যে মজলিস হয়, সেটাই হয়েছে আসর। এক্ষুনি যে 'মজলিস' বললাম, এটাও আরবি। 'জলসা', 'মহফিল' এগুলোও আরবি। অবশ্য কলকাতার বাবুরা মহফিলকে 'মাইফেল' (গানবাজনার আসর) বানিয়ে নিয়েছে !
- তার মানে, আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা অচল !
- তা আর বলতে ! এই যে আপনি বললেন, মানে, এই 'মানে' শব্দটাও আরবি। বাদ দিলে বললেন তো ! 'বাদ'ও আরবি। বাদ না বলে 'বাতিল' বললে সেটাও আরবি। 'রদ' করলেও আরবি। আচ্ছা মামা, আমরা ফের আদালতের রাস্তায় ফিরে যাই চলুন। আসামিকে মাঝে মাঝে তো পুলিশের হেফাজতে রাখতে হয়। তারপর জামিন, খালাস ইত্যাদি থাকে। এখানে 'হেফাজত', 'জামিন', 'খালাস'— তিনটিই আরবি। আর হ্যাঁ, 'ফের' ও 'ফেরা' আরবি এবং 'রাস্তা' ফারসি।
'রাস্তা'য় 'ফির'তে গেলেও আরবি-ফারসি !
- এখন তো দেখছি, আরবি-ফারসি ছাড়া কদম ফেলাই যাবে না !
- কী করে যাবে ! 'কদম' শব্দটাও তো আরবি। আরেকটা চমকপ্রদ তথ্য শুনুন, আমরা এই যে কথায় কথায় বাঙালি, বাংলা ইত্যাদি বলছি, এর 'বাংলা' শব্দটাই তো ফারসি !
- সে কী ! জানতাম না তো ! বাংলা শব্দটাও ফারসি। কী আশ্চর্য !
- আচ্ছা, বাংলা ভাষায় এত বেশি এবং এমন সব অপরিহার্য আরবি-ফারসি শব্দের স্বচ্ছন্দ ব্যবহার থেকে কী বোঝা যায় ? এটাই বোঝা যায় যে, বাংলা ভাষার পুষ্টিসাধন ও সৌন্দর্যায়নে বিদেশি ভাষার অনেক বেশি অবদান আছে।
- অনেক কিছু জানলাম, বাবা !
- 'বাবা' তুর্কি। 'কাকা' ফারসি। তাই তো বলছি: আমরা, মানে বাঙালিরা জাতি-ধর্ম-সাক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে, হাজার হাজার আরবি-ফারসি শব্দ অহরহ ব্যবহার করছি ('হাজার' ফারসি) । এগুলো আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ ও পুষ্ট করার পাশাপাশি মোলায়েমও করেছে ('মোলায়েম' ফারসি)। এসব শব্দকে আমরা বাংলা করেই নিয়েছি। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন!
লিখেছেন : অনল পাল
৩১
রানী ভবানী
বগুড়া জেলার সান্তাহারের ছাতিয়ানগ্রামে রানী ভবানীর জন্মগ্রহণ করেন। সংস্কার এবং সংরক্ষণের অভাবে রানী ভবানীর বাপের বাড়ি (Rani Bhabani’s Father House) আজ ধ্বংসের পথে। প্রচলিত আছে সপ্তদশ শতাব্দীতে ছাতিয়ানগ্রামের জমিদার আতারাম চৌধুরী ছিলেন নিঃসন্তান। আত্মারাম চৌধুরী সন্তান লাভের আশায় বাড়ীর কাছে নির্জন পুকুর পাড়ে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে পূজা-অর্চনা করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রীর গর্ভে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হলে তার নাম রাখা হয় ভবানী। জমিদার যেস্থানে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন সে জায়গাটি সিদ্ধেশ্বরী নামে পরিচিত হয়ে উঠে।
ভবানীর ১০ বছর বয়সে নাটোরের রাজকুমার রামকান্তের সাথে ভবানীর বিয়ের প্রস্তাব আসে। ভবানীর ৩টি শর্তে বিয়েতে রাজী হন। ভবানীর শর্ত ছিল বিয়ের পর আরও এক বছর পর্যন্ত তিনি তার বাবার বাড়ীতেই থাকবেন। আর সেই এক বছরে ছাতিয়ানগ্রামে প্রতিদিন একটি করে পুকুর খনন করে দিতে হবে। ছাতিয়ানগ্রাম থেকে নাটোর পযর্ন্ত লাল সালুর কাপড় দিয়ে ছাউনীযুক্ত নতুন রাস্তা তৈরী করতে হবে। আর এলাকার প্রজাদের ভূমিদান করে তাদের স্বাবলম্বী করতে হবে। ভবানীর শর্তগুলো পালনের চিহ্ন ছাতিয়ানগ্রামে আজও রয়েছে।
রাজা রামকান্তের মৃত্যুর পর ১৭৪৮ সালে রানী ভবানী নাটোরের জমিদারি গ্রহন করে ১৮০২ সালে পযর্ন্ত পরিচালনা করেন। প্রচলিত আছে নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সভায় রানী ভবানীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু রানী ইংরেজদের বিরোধিতা করেছিলেন।
৩২
দুজন মানুষের স্বপ্নে কি যোগাযোগ হওয়া সম্ভব !
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মধ্যে স্বপ্নেও যোগাযোগের সম্ভাবনা রয়েছে । দুজন মানুষের যোগাযোগ হচ্ছে কেবল স্বপ্নে। হয়তো স্বপ্নেই তাঁরা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছেন। একেক দিন স্বপ্নে একেক রকম অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন তাঁরা। ঘুম থেকে উঠে বাস্তবে হয়তো হন্যে হয়ে খুঁজছেন অপর মানুষটিকে। কিন্তু বাস্তবে সেই মানুষটার কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, তা দুজনের কেউই নিশ্চিত নন। আবার পরের দিন স্বপ্নে যে সেই মানুষটার সঙ্গেই দেখা হবে, তা-ও নিয়ন্ত্রণ করার উপায় নেই।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বা মুভির বড় পর্দায় হয়তো এমন দৃশ্য আপনি দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই স্বপ্নে দুজন মানুষের মধ্যে যোগাযোগ হওয়া সম্ভব? এমন প্রশ্ন আপনার মনে জাগতেই পারে। মজার ব্যাপার হলো, বিজ্ঞানীরা আপনার এই ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং তাঁরা দেখিয়েছেন, দুজন মানুষের মধ্যে স্বপ্নেও যোগাযোগ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
লুসিড ড্রিম হলো এমন একধরনের স্বপ্ন, যেখানে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থাতেই বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে। অর্থাৎ সে স্বপ্নের মধ্যে নিজেকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। চাইলে স্বপ্নের গল্প বা দৃশ্যপটও নিজের মতো বদলে ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বা তার বেশি লুসিড ড্রিমার স্বপ্নের মধ্যেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। দুজনের ঘুমের র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা রেম পর্যায় যদি একই সময়ে ঘটে, তবে তাঁদের মধ্যে সংকেত পাঠানো এবং প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা সহজ হয়। একে সিঙ্ক্রোনাইজড রিম বলা যেতে পারে।
লুসিড ড্রিম হলো এমন একধরনের স্বপ্ন, যেখানে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থাতেই বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে। অর্থাৎ সে স্বপ্নের মধ্যে নিজেকে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
গবেষকেরা ধারণা করেন, দুজন স্বপ্নদ্রষ্টা আলাদা ঘরে, আলাদা স্থানে বা এমনকি আলাদা সময়ে ঘুমালেও তাঁদের মধ্যে সংকেতের আদান-প্রদান সম্ভব। তবে কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে এই যোগাযোগ কীভাবে ঘটে, তা এখনো পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। যদিও ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনার কথা শোনা যায়, যেখানে মানুষ স্বপ্নে প্রিয়জন বা মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ভবিষ্যতের বিপদ সম্পর্কে সতর্কবার্তা বা দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।
একাধিক গবেষণায় ইইজি ব্যবহার করে দেখা গেছে, যাঁরা একসঙ্গে লুসিড ড্রিমার হিসেবে স্বপ্নে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুগুলো একই প্যাটার্নে সক্রিয় হয়। অর্থাৎ তাঁরা যে শুধু স্বপ্নে যোগাযোগের অনুভূতি পাচ্ছেন তা নয়, বাস্তবেও তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ একে অপরের সঙ্গে সমন্বিত হচ্ছে।
সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি যুগান্তকারী পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্নায়ুপ্রযুক্তি স্টার্টআপ রেমস্পেস। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁরা দুজন অভিজ্ঞ লুসিড ড্রিমারকে নিয়ে এই পরীক্ষা চালায়। দুজনের মধ্যে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাঁরা নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন এবং বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে দূর থেকে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ও ঘুম-চক্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।
একাধিক গবেষণায় ইইজি ব্যবহার করে দেখা গেছে, যাঁরা একসঙ্গে লুসিড ড্রিমার হিসেবে স্বপ্নে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুগুলো একই প্যাটার্নে সক্রিয় হয়।
পরীক্ষায় প্রথম ব্যক্তি যখন লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করেন, তখন সার্ভার থেকে একটি বিশেষ ভাষার শব্দ ইয়ারবাডের মাধ্যমে তাঁর কানে পাঠানো হয়। তিনি স্বপ্নের মধ্যেই শব্দটি উচ্চারণ করেন, যা সেন্সরের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এর আট মিনিট পর দ্বিতীয় ব্যক্তি লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করলে সার্ভার থেকে রেকর্ড করা সেই শব্দটি তাঁর কাছে পাঠানো হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে স্বপ্নেও যোগাযোগ করা সম্ভব। ঘুম থেকে উঠে তিনি শব্দটি নিশ্চিত করেন। একে অনেকেই ড্রিম টেলিপ্যাথি হিসেবে দেখলেও, এটি মূলত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে স্বপ্নে যোগাযোগ।
২০২৪ সালের অক্টোবরে এই যুগান্তকারী গবেষণার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা স্বপ্ন গবেষণার দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। সূত্র: টেক এক্সপ্লোরিস্ট বিজ্ঞান চিন্তা
৩৩
মোটা লাল চাল
"যতোই উপকারি হোক গরীবেও মোটা লাল চাইলের ভাত খেতে চায় না; কেউ কিনে না চামারা ধান। নিজেদের পিঠা খেতে লাগে তাই এখনও আবাদ করি " এক চামারা চাষির আক্ষেপ।
এ যেন সৈয়দ মুজতবা আলী বর্ণিত সেই অচ্ছেদ্য চক্র। লাল চাল শহরের ভোক্তারা কিনেনা তাই কৃষক আবাদ করেনা। আবার জৈব লাল চাল বিক্রেতারা দাম কমায় না তাই সচেতন ভোক্তারা কিনে খেতে পারেনা।
গভীর পানির ধান চামারা । বন্যার পানিতেও টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে চামারার; পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ধানগাছ।
গভীর পানিতে আবাদ হয় তাই চামারা ধান চাষ করতে রাসায়নিক সার বি*ষ লাগে না।
টাঙ্গাইল , মানিকগঞ্জ, ঢাকা জেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নভূমিতে এই ধানের আবাদ এখনও টিকে আছে।
এই ধানের চাল মোটা ও লাল রঙের হয়। এই চালের ভাত মিঠা স্বাদের। চামারা চাল পুষ্টি সমৃদ্ধ তো বটেই, স্বাদও দারুন। এর খিচুড়ি অসাধারণ, পিঠাও সুস্বাদু।
বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জমি প্লাবন সমভূমি। এই জমিগুলি আমন মৌসুমে অনাবাদী থাকে কারণ পানিতে যে ধানগুলি হয় তার চাল মোটা।
যতোই উপকারি হোক মোটা চাল গরীবেও খায় না। সবাই ফেয়ার এন্ড লাভলী মার্কা সাদার চেয়েও বেশি সাদা চিকন চালের ধান খেতে চায়।
খাদ্যাভাস পরিবর্তনের কারণে চামারা সহ অন্যান্য পানির ধানের আবাদ কমে গেছে; উপযোগিতা হারাইছে সেক্সি মিনিকেটের কাছে।
অথচ চামারার স্বাদ বুঝাতেই এই গ্রাম্য বচন আছে-
ইস্টির মধ্যে মামারা যদি থাকে নানি,
ধানের মধ্যে চামারা যদি থাকে পানি।
শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাতিপুতির পকেটে পয়সা যায়। উহারা আবার ইরির মূল ডোনার।
কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে আবাদের বোরো ধান গবেষণায়। সচেতন হোন দিনে অন্তত একবেলা লাল চালের ভাত বা পান্তা খান। শিশু ও গর্ভবতী মায়ের ভাতের থালায় লাল চালের ভাত দিন।
ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে বোরো আবাদ বন্ধ করতে হবে তাহলেই শুধুমাত্র বংশ পরম্পরায় ধানচাষ মুক্তি পাবে। আউশ ও আমন ধান আবাদে ফিরতে হবে। নিজেদের সংস্কৃতিতে না ফিরলে ভবিষ্যৎ হরপ্পা মোহেনজোদারোর মতো ধ্বংস হবে বঙ্গ।
জমিতে সেচের সাহায্যে উচ্চফলনশীল বোরো চাষের ফলে গভীর পানির ধান বা জলিধানের জমির পরিমাণ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৯ লক্ষ হেক্টর। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৫.১ লক্ষ হেক্টর ধানিজমি বর্ষাকালে অনাবাদি থাকে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাতিপুতিরা একদিকে রাসায়নিক সার বিষ ও হাইব্রিড বীজ বেঁচতেছে যার ফলে এই দেশ ক্যান্সারের খনিতে রুপান্তরিত হচ্ছে। আবার উহারাই ক্যান্সারের ঔষধ বেঁচে।
উত্তর খুঁজে বের করেন ভূগর্ভস্থ পানি নাইট্রাস, ক্যাডমিয়াম, লেড, ক্রোমিয়াম সহ নানান রাসায়নিকে বিষাক্ত কেন? কেনইবা সেচ নির্ভর বোরো ধান আবাদ করে আর্সেনিকের বিষে নীল স্বদেশ? তথ্যসূত্রঃ জাগরনীয়া.কম
৩৪
ভাস্কর নভেরা আহমেদ কে ছিলেন:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতির নাম হামিদুর রহমান হিসেবে লিপিবদ্ধ করা আছে কিন্তু ভাস্কর নভেরা আহমেদের নাম কোথাও লেখা নেই, অথছ নভেরা আহমেদ'ই মুল পরিকল্পনায় ছিলেন।
শহীদ মিনার তৈরির এক ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান শহীদ মিনারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রধান স্থপতি ছিলেন একজন ইংরেজ। নাম তার লেকলেন। তিনি বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের সিম্বল; বাঙালি স্থপতির করা উচিত। স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে শহীদ মিনারের নকশার জন্য প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নকশা করতে রাজি হননি। এ সময় শিল্পী হামিদুর রহমানের তৎপরতায় তিনি ও ভাস্কর নভেরা আহমেদ মিলে একটা নকশা করেছিলেন। অবশ্য শহীদ মিনারের মূল নকশাটি নভেরা আহমেদের করা। কিন্তু নভেরা আহমেদের নাম কোথাও লেখা নাই, সেই কারনেই নভেরা আহমেদ অভিমানে দেশ থেকে চলে গেছেন ফ্রান্সে, এবং তাঁর বাঁকিটা জীবন প্যারিসে কাটিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৫ মে তিনি প্যারিসের উত্তরে এক ছোট্ট শহর ভাল দ্য'ও তে মৃত্যুবরণ করেন ও সেখানেই সমাধীস্থ হন।
এই প্রসঙ্গে রুপান্তর পত্রিকা থেকে, বাঁকিটা এখানে প্রকাশ করলাম:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা ১৯৫৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারিভাবে পাস করা হয়। সেই সময় শহীদ মিনারের মূল নকশায় একটি অংশে লেখা ছিল ‘শহীদ মেমোরিয়াল : কম্পোজার হামিদুর রহমান মুর্যালিস্ট ইন কোলাবরেশন উইথ নভেরা আহমেদ স্কাল্পটর।’ এখানে নভেরাকে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও আনা ইসলামের বইটিতে ২০১৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভাস্কর নভেরা আহমেদ শহীদ মিনার প্রসঙ্গে বলেছেন ‘... আমি আমার আইডিয়ার কথা বলেছি। কী করতে হবে বলেছি। ... অনেক কাজ একা করতে হবে বলে হামিদকে বলি সাহায্যের জন্য। ... সে আমার কথা অনুসরণ করত। ... কারণ আইডিয়া আমার। সে বুঝত না আমি কী চাচ্ছি, সম্পূর্ণভাবে কী চাচ্ছি। তাই আমি যখন যা করতে বলতাম, তখন তাই করত।’ ‘নভেরা : বিভুঁইয়ে স্বভূমে’ বইটিতে শহীদ মিনারের প্রধান নকশাবিদ যে নভেরা আহমেদ তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যদিও বহুদিন ধরে এ স্বীকৃতি নানাভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নানাভাবে হয়েছে বিকৃত। ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর অতিবাহিত হলেও এখন সময় এসেছে শহীদ মিনারের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার, সংরক্ষণ করার।
নভেরা আহমেদ কে? তিনি কি শুধু বাংলাদেশের প্রথম আধুনিক ভাস্কর? জীবনের একটা পর্যায় প্যারিসে অতিবাহিত করলেও যিনি কখনো বাংলাদেশের পাসপোর্ট ত্যাগ করেননি? সাদামাটা জীবন এবং ‘সরলতা’ ও ‘ন্যূনতমতা’ যার সৃষ্টির প্রধান বৈশিষ্ট্য? বাংলাদেশের সুন্দরবনে (ক্যাটালগে উল্লিখিত) ২৯ মার্চ ১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া নভেরা আহমেদ শিল্পবিষয়ক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন লন্ডন ও ফ্লোরেন্সে। ১৯৫৭ সালে শহীদ মিনারের প্রধান নকশাকার হিসেবে যুক্ত হলেও নভেরার মূল নকশা আজ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পায়নি। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয় তার ‘ইনার গেজ’ শীর্ষক প্রথম একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী। এ উপলক্ষে প্রকাশিত ক্যাটালগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পচর্চায় এ প্রদর্শনীকে ছোটখাটো বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেছেন। নভেরার সেসব সৃষ্টিকে তিনি যুক্ত করতে চেয়েছিলেন শিল্পের নতুন ঐতিহ্যের সঙ্গে। দেশের প্রথম ভাস্কর্য প্রদর্শনী করে সেখানেই থেমে থাকেননি নভেরা। শাস্ত্রীয় নৃত্য শিখতে গিয়েছেন ভারতে। এশিয়ার নানা দেশে ভ্রমণ করেছেন। অর্জন করছেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা। বুদ্ধের দর্শনে হয়েছেন সমৃদ্ধ। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ভগ্নাংশ দিয়ে ভাস্কর্য গড়ে থাইল্যান্ডে করেছেন প্রদর্শনী। ১৯৭১ সাল থেকে প্যারিসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্যারিসে গ্রেগোয়ার সালঁ দ্য এক্সপোজিশিয়ঁ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় নভেরার রেট্রোসপেকটিভ (১৯৬৯-২০১৪) প্রদর্শনী। নভেরা আহমেদের জীবনের নানাদিক, শিল্পকর্মের গভীর বিশ্লেষণ ও তুলনামূলক আলোচনা ছড়িয়ে আছে কথাসাহিত্যিক আনা ইসলামের ‘নভেরা : বিভুঁইয়ে স্বভূমে’ বইতে। সঙ্গে রয়েছে নভেরার জীবন ও শিল্পকর্মের কালক্রমিক বিবরণ। নভেরা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আনা ইসলাম বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের ‘আমি তারেই খুঁজে বেড়াই, যে রয় মনে আমার মনে’ এই নিবিড় দর্শন ও ঐশ্বরিক বিশ্বাস ভাস্কর নভেরাকে বোঝার এক অন্যতম সূত্র। নিঃসন্দেহে এ বই নভেরা সম্পর্কে আমাদের জানার জগৎকে আরও প্রসারিত করে তুলবে।
নভেরার অনন্য সৃষ্টিশীল প্রয়াস ‘শহীদ মিনার’কে ঘিরে বাঙালির চেতনা জেগে উঠেছে বারবার। যদিও ভাষাশহীদদের স্মৃতিতে শহীদ মিনারের সূচনা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে বদরুল আলম ও সাঈদ হায়দারের নকশায় ১০ ফুট উঁচু ও ৬ ফুট চওড়া একটি মিনার নির্মাণ করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের পরই এ মিনার ভেঙে দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। অবশ্য শুধু ঢাকায় নয়, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ঘটনার পর থেকে দেশের নানা স্থানে এমনসব শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল। ১৯৫৭ সালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের আগপর্যন্ত আমরা নানা আকারের শহীদ মিনারের ছবি দেখি বিভিন্ন বইপত্রে। কিন্তু ১৯৫৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে শত-সহস্র শহীদ মিনার। ১৯৫৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হলেও সাময়িক স্থগিত থাকার পর ১৯৬৩ সালে শহীদ মিনারের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার পর আবার শহীদ মিনারের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং আশির দশকের শুরুতে বর্তমান শহীদ মিনার নির্মাণ শেষ হয়। তবে উল্লেখ করার বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা শহীদ মিনারের সংখ্যা কত? কারা কোন সময় কোন পরিস্থিতিতে দেশের নানা স্থানে এসব শহীদ মিনার নির্মাণ করছেন তার কোনো তথ্য কোথাও সংরক্ষিত হয়নি। এরই মধ্যেই বাঙালি যেখানে গেছে সেখানেই গড়ে তুলেছে এমন শহীদ মিনার। নিজেদের চিনতে ও চেনাতে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করছে একুশে ফেব্রুয়ারি। তথ্যসুত্র: দেশ রুপান্তর
৩৫
সুখ মানে কী? টাকা? খ্যাতি? ক্ষমতা?
নাকি এমন একজন মানুষ, যার সামনে আপনি অভিনয় করেন না?
প্রাচীন গ্রিসে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ-তৃতীয় শতকে, এপিকুরাসের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এক চিন্তক—মেট্রোডোরাস অব ল্যাম্পসাকাস (প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৩১–২৭৮)। ইতিহাসে তিনি খুব উচ্চস্বরে বিখ্যাত নন, কিন্তু এপিকুরীয় দর্শনের ভেতরে তার কণ্ঠ ছিল গভীর।
এপিকুরাস বলতেন—সুখ মানে স্থায়ী প্রশান্তি, অযথা ভয় ও যন্ত্রণার অনুপস্থিতি।
মেট্রোডোরাস এই ভাবনাকে আরও মানবিক করে তুলেছিলেন। তার কাছে সুখের কেন্দ্রবিন্দু ছিল—বন্ধুত্ব।
কেন বন্ধুত্ব?
কারণ মানুষ একা সুখী হতে পারে না।
আপনার বাড়ি থাকতে পারে, অর্থ থাকতে পারে—
কিন্তু দুঃসময়ে পাশে কেউ না থাকলে সেই নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে।
এপিকুরাসের “গার্ডেন” ছিল এমন এক সম্প্রদায়, যেখানে নারী-পুরুষ, দাস-মুক্ত সবাই সমানভাবে বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বসবাস করত। মেট্রোডোরাস এই সম্পর্ককেই সুখের বাস্তব ভিত্তি বলে দেখেছিলেন।
সুখ মানে ভোগ নয়
এপিকুরীয় দর্শনকে অনেকেই ভুল বোঝে—ভাবেন, তারা শুধু ভোগের কথা বলেছে।
আসলে তারা বলেছে সংযমের কথা।
কম চাহিদা, কম ভয়, কম প্রতিযোগিতা—
আর বেশি আন্তরিক সম্পর্ক।
মেট্রোডোরাসের মতে, যে মানুষ বন্ধুদের সঙ্গে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, নিজের ভয় ভাগ করতে পারে—সে ইতিমধ্যেই সুখের কাছাকাছি।
আজকের সময়ে
আজ আমরা হাজার “ফলোয়ার” নিয়ে গর্ব করি, কিন্তু সত্যিকারের বন্ধু কয়জন?
ডিজিটাল সংযোগ বেড়েছে, কিন্তু অন্তরের সংযোগ?
আমরা প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত—
বন্ধুকে প্রতিদ্বন্দ্বী বানাই, তুলনার মানদণ্ড বানাই।
কিন্তু সুখ কি প্রতিযোগিতার মঞ্চে জন্মায়?
আপনার সুখের ভিত্তি কোথায়?
ব্যাংক ব্যালেন্সে?
নাকি এমন দুই-তিনজন মানুষের মধ্যে, যারা আপনাকে যেমন আছেন তেমনভাবে গ্রহণ করে?
মেট্রোডোরাস হয়তো বলতেন—
বন্ধুত্ব মানে বিলাসিতা নয়।
এটাই মানুষের মানসিক নিরাপত্তার প্রথম ঘর।
হয়তো সত্যিই—
সুখের মূলভিত্তি কোনো বস্তু নয়,
একটা সম্পর্ক।
৩৬
সবজি কাটার একটি সহজ কৌশল তাদের ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে প্রস্তুত করছেন সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রোকলি, কেল এবং ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজিতে মাইরোসিনেজ (myrosinase) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম থাকে। এই এনজাইম থেকে তৈরি হয় সালফোরাফেন (sulforaphane)-যা ক্যান্সার প্রতিরোধী ও প্রদাহ কমাতে সক্ষম একটি শক্তিশালী যৌগ।কিন্তু সমস্যা হলো, রান্নার সময় তাপের কারণে এই এনজাইম অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।
যদি আপনি সবজি কেটে রান্না করার আগে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে দেন, তাহলে এনজাইমটি যথেষ্ট সময় পায় সালফোরাফেনে রূপান্তরিত হওয়ার জন্য। এর ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে-কিছু ক্ষেত্রে তিনগুণ পর্যন্ত।
এই অভ্যাসটি সহজ করতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, রান্না শুরু করার প্রথম ধাপই হওয়া উচিত সবজি কাটা। সবজি ছোট করে কাটলে এনজাইমের কাজ করার জন্য বেশি পৃষ্ঠতল তৈরি হয়। আর হালকা ভাপানো বা দ্রুত সাঁতলানোর মতো রান্নার পদ্ধতি উপকারী যৌগগুলোকে বেশি অক্ষত রাখতে সাহায্য করে।
আরও বেশি উপকার পেতে রান্না করা সবজির সঙ্গে কাঁচা ক্রুসিফেরাস উৎস-যেমন সরিষার বীজ বা হর্সর্যাডিশ-মেশানো যেতে পারে। এগুলো আবার সালফোরাফেন তৈরির প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
রান্নার সময়ে এই ছোট পরিবর্তনটি আপনার খাবারকে শুধু সবজি খাওয়া নয়, বরং তাদের পূর্ণ ঔষধি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর একটি উপায় করে তুলতে পারে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। @সাইকোলজি এবং বিজ্ঞানের অজানা তথ্য।
৩৭
ইংরেজির বাইরে আরেকটি ভাষা কেন শিখবেন? নতুন ভাষা শেখার ৯টি উপকারিতা
আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি আমাদের পরিচয়, ইতিহাস, অনুভূতি ও আত্মপরিচয়ের গভীর অংশ। মাতৃভাষা আমাদের ভাবতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়, নিজের মানুষদের সঙ্গে হৃদয়ের কথা বলতে শেখায়।
আজকের বাস্তবতায় ইংরেজি শেখাও প্রায় অপরিহার্য। শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই ইংরেজির উপস্থিতি শক্তিশালী। তাই একজন বাংলাভাষীর জন্য বাংলা প্রথম ভাষা, ইংরেজি দ্বিতীয় ভাষা—এটা আমরা প্রায় স্বাভাবিক সত্য হিসাবেই মেনে নিই। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, ইংরেজির বাইরে আরেকটি ভাষা শেখা কি “দ্বিতীয় ভাষা”, না “তৃতীয় ভাষা”?
সংখ্যার হিসাবে দেখলে, এটি অবশ্যই তৃতীয় ভাষা। কিন্তু বাস্তব আলোচনায় যখন আমরা “দ্বিতীয় ভাষা” বলি, তখন সেটি বোঝায়—মাতৃভাষার বাইরে সক্রিয়ভাবে শেখা আরেকটি নতুন ভাষা। এই লেখায় আমরা সেই অর্থেই আলোচনা করছি—বাংলা ও ইংরেজির বাইরে আরেকটি ভাষা শেখা কেন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংখ্যাটি এখানে মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হল—দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তার। ইংরেজি আপনাকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে। কিন্তু আরেকটি ভাষা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতির গভীরে নিয়ে যায়। ইংরেজি আপনাকে “গ্লোবাল” করে। আরেকটি ভাষা আপনাকে “গভীরভাবে গ্লোবাল” করে।
.
কেন ইংরেজির বাইরে আরেকটি ভাষা শেখা গুরুত্বপূর্ণ?
অনেকে মনে করেন, ইংরেজি জানলেই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবতা হল, বিশ্ব এখন বহুভাষিক। ব্যবসা, কূটনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব বাড়ছে।
চীনে ব্যবসা করতে চাইলে চীনা ভাষা জানলে সুবিধা, জার্মানিতে কাজ করতে চাইলে জার্মান ভাষা জানলে অগ্রাধিকার, মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে চাইলে আরবি জানা বাড়তি শক্তি। ইংরেজি দিয়ে যোগাযোগ সম্ভব, কিন্তু স্থানীয় ভাষা দিয়ে সম্পর্ক তৈরি সম্ভব।
বিশ্ব অর্থনীতি যতই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, ততই ভাষাজ্ঞান একটি কৌশলগত দক্ষতায় পরিণত হচ্ছে। ইংরেজি এখন একটি বেসলাইন স্কিল। কিন্তু তার বাইরে আরেকটি ভাষা আপনাকে ভিড় থেকে আলাদা করে দেয়।
দ্বিভাষিক হওয়ার আরও কিছু স্পষ্ট উপকার আছে: এটি মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, সৃজনশীলতা বাড়ায়, কর্মজীবনে সুযোগ বাড়ায় এবং নিজের মাতৃভাষা বোঝার ক্ষমতাও গভীর করে।
নিচে আমরা ৯টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা দেখব।
১. এটি আপনার মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে
নতুন ভাষা শেখা মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। এতে নতুন ব্যাকরণ, শব্দ ও বাক্যগঠন শিখতে হয়। মস্তিষ্ক যখন এসব বোঝার চেষ্টা করে, তখন তা আরও সক্রিয় হয়। যেমন ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয়, তেমনি ভাষা শেখায় মস্তিষ্কও শক্তিশালী হয়।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মাতৃভাষায় কথা বলার সময় আমরা মস্তিষ্কের একটি অংশ বেশি ব্যবহার করি। কিন্তু দ্বিতীয় ভাষা বলার সময় মস্তিষ্কের দুই অংশই কাজ করে। এতে মস্তিষ্কের গঠন আরও মজবুত হয়।
এছাড়া, একাধিক ভাষা জানা মস্তিষ্ককে বার্ধক্য থেকেও সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একাধিক ভাষা জানেন, তাদের মধ্যে আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেরিতে দেখা যায়।
২. মনোযোগ বাড়ায়
সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত গতির জীবনের কারণে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমছে। নতুন ভাষা শেখা এ সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। কারণ, ভাষা শেখার সময় আপনাকে মনোযোগ ধরে রাখতে হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিতে হয়।
দ্বিভাষিক মানুষ কথা বলার সময় মনে মনে ভাষা বদলান। এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্য এড়িয়ে যেতে শেখায়।
৩. চাকরির সুযোগ বাড়ায়
বিশ্ব এখন বহু সংস্কৃতির। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশে অফিস খুলছে। তাই দ্বিভাষিক কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। নতুন ভাষা জানলে আপনার চাকরির সুযোগ দ্বিগুণ হতে পারে।
প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে আলাদা কিছু জানা আপনাকে এগিয়ে রাখে। সিভিতে একটি বিদেশি ভাষা থাকলে নিয়োগকর্তার নজরে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আজকের বাজারে যারা একাধিক ভাষা জানেন, তারা ভাল যোগাযোগকারী ও সমস্যা সমাধানে দক্ষ হিসেবে বিবেচিত হন।
৪. সৃজনশীলতা বাড়ায়
ভাষা শেখার মাধ্যমে আপনি সেই ভাষাভাষী মানুষের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন। নতুন সংস্কৃতি জানলে দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। এতে আপনি নতুনভাবে ভাবতে শিখেন।
নতুন ভাষায় বাক্য গঠন করতে গিয়ে মস্তিষ্ককে ভিন্নভাবে কাজ করতে হয়। এতে সৃজনশীলতা বাড়ে, যা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগে।
৫. মাতৃভাষার দক্ষতা বাড়ায়
মাতৃভাষা আমরা ছোটবেলা থেকে স্বাভাবিকভাবে শিখি। কিন্তু নতুন ভাষা শেখার সময় ব্যাকরণ, শব্দ, বাক্যগঠন সচেতনভাবে শিখতে হয়।
এর ফলে আপনি নিজের ভাষার নিয়মগুলিও ভালভাবে বুঝতে পারেন। দুই ভাষার পার্থক্য বুঝতে পারলে ভাষাজ্ঞান আরও মজবুত হয় এবং কথাবার্তা ও বোঝার ক্ষমতা বাড়ে।
৬. একসঙ্গে একাধিক কাজের দক্ষতা বাড়ায়
অনেকেই একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারেন না। কিন্তু দ্বিভাষিক মানুষের মস্তিষ্ক ভাষা বদলাতে অভ্যস্ত। ফলে তারা কাজ বদলাতেও তুলনামূলক দ্রুত।
গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিভাষিক শিশুরা একাধিক কাজ করতে ভাল সাড়া দেয়। বয়স বাড়লেও তাদের এই দক্ষতা টিকে থাকে।
৭. মানসিক ক্ষয় ধীর করে
নতুন ভাষা শেখা মানসিক সমস্যা দেরিতে আনতে সাহায্য করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একাধিক ভাষা জানেন, তাদের মানসিক ক্ষয়ের লক্ষণ কয়েক বছর দেরিতে দেখা যায়।
দ্বিতীয় ভাষা বার্ধক্য থামায় না, কিন্তু মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৮. স্মৃতিশক্তি উন্নত করে
মস্তিষ্ককে পেশির সঙ্গে তুলনা করা হয় কারণ ব্যবহার করলে এটি শক্তিশালী হয়। ভাষা শেখার সময় নতুন শব্দ ও নিয়ম মনে রাখতে হয়। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।
যারা একাধিক ভাষা জানেন তারা নাম, তালিকা, ফোন নম্বর বা দিকনির্দেশ মনে রাখতে তুলনামূলক ভাল পারেন। শব্দ শেখা স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সহায়ক।
৯. আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
বিদেশি ভাষায় কথা বলতে গেলে ভুল হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু বার বার চেষ্টা করলে এই ভয় কমে যায়।
নিজের ভাষা নয়, অন্য ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। একটি ভাষায় দক্ষ হওয়া মানে একটি নতুন দক্ষতা অর্জন করা। এতে নিজের ওপর বিশ্বাসও বাড়ে।
.
কোন ভাষাটি প্রথমে শিখবেন?
দ্বিতীয় ভাষা শেখার উপকারের শেষ নেই। এখানে আমরা কেবল কয়েকটি তুলে ধরেছি। তবে আসল অভিজ্ঞতা আপনি নিজেই পাবেন যখন শেখা শুরু করবেন। তাই এমন একটি ভাষা বেছে নিন, যা আপনার ভাল লাগে, এবং নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিন।
সঠিক ভাষা বেছে নিতে হলে আগে নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দিন। শুধু কাজে লাগবে বলে নয়, যে ভাষার প্রতি টান আছে, সেটি শেখা তুলনামূলকভাবে সহজ। আপনার লক্ষ্য কী—ভ্রমণ, পেশা, নাকি পারিবারিক ইতিহাস? কারণটাই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।
যদি সিদ্ধান্তে আসতে না পারেন, তাহলে কয়েকটি ভাষা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করুন। সেই ভাষার সিনেমা দেখুন, গান শুনুন, ইতিহাস পড়ুন। দেখুন কোনটি আপনাকে টানে।
.
যেসব বিষয় বিবেচনা করতে পারেন
প্রথমে ঠিক করুন কেন শিখতে চান। যদি চাকরির উন্নতি চান, তাহলে চীনা বা জার্মানের মত ভাষা কাজে লাগতে পারে। আর যদি ভ্রমণ বা নিজের শিকড়ের টান থাকে, তাহলে সেই ভাষাই বেছে নিন যেটির সঙ্গে আবেগের যোগ আছে।
এরপর সময় ও কঠিনতার বিষয়টি ভাবুন। যারা ইংরেজিতে দক্ষ তাদের জন্য স্প্যানিশ বা ডাচ শেখা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু জাপানি বা আরবি শিখতে বেশি সময় লাগবে, কারণ এগুলির লিখনপদ্ধতি ও ব্যাকরণ ভিন্ন।
শেষে ভাবুন, শেখার উপকরণ পাওয়া কতটা সহজ। অ্যাপ, শিক্ষক বা ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকলে শেখা সহজ হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কয়েক দিন সময় নিয়ে ভাষাটি শুনে ও দেখে বুঝে নিন কেমন লাগে।
নিজেকে এই প্রশ্নগুলি করতে পারেন:
• আমার আসল কারণ কী?
আমি কি কারণে শিখতে চাই? কাজ, ভ্রমণ, পড়াশোনা, নাকি ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকে? কারণটাই আমাকে টিকিয়ে রাখবে।
• এই ভাষা কি আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে?
আমি যে পেশায় আছি বা যেতে চাই, সেখানে এই ভাষা কাজে লাগবে? নির্দিষ্ট কোনো দেশে যাওয়ার ইচ্ছে আছে?
• ভাষাটা শুনলে বা দেখলে কি ভাল লাগে?
গান, সিনেমা, সংস্কৃতি—এসব কি আমাকে টানে? আগ্রহ না থাকলে নিয়মিত শেখা কঠিন হয়।
• আমি কত সময় দিতে পারব?
প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হলেও কি নিয়মিত দিতে পারব? কিছু ভাষা দ্রুত শেখা যায়, কিছুতে সময় বেশি লাগে—আমি কি সেই সময়ের জন্য প্রস্তুত?
• শেখার সুযোগ কি আছে?
অনলাইন রিসোর্স, শিক্ষক বা কথা বলার মানুষ—এসব পাওয়া যাবে? সুযোগ থাকলে অগ্রগতি দ্রুত হয়।
• আমি কি দীর্ঘ যাত্রার জন্য প্রস্তুত?
ভাষা শেখা কয়েক সপ্তাহের বিষয় নয়। আমি কি ১-২ বছর ধরে ধৈর্য ধরে এগোতে পারব?
• আমি সহজ পথ চাই, নাকি চ্যালেঞ্জ নিতে রাজি?
নিজের স্বভাব বুঝুন। ব্যস্ত জীবনে খুব কঠিন ভাষা শুরু করলে হতাশা আসতে পারে।
• ৫ বছর পর এই ভাষা জানলে নিজেকে কোথায় দেখতে চাই?
নিজেকে কল্পনা করুন—আন্তর্জাতিক কাজে, বিদেশ ভ্রমণে বা নতুন বন্ধুত্বে। কোন দৃশ্যটা আপনাকে বেশি টানে?
সবশেষ কথা, যে ভাষা আপনি টিকিয়ে রাখতে পারবেন, সেটাই সঠিক ভাষা। জনপ্রিয় ভাষা নয়, আপনার ভাষা বেছে নিন।
দ্বিতীয় ভাষা শেখা নিজের জন্য একটি মূল্যবান বিনিয়োগ। এটি মস্তিষ্কের উন্নতি থেকে শুরু করে চাকরির সুযোগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি বোঝার পথ খুলে দেয়। ভাষার মাধ্যমে বিশ্বকে জানুন এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করুন।@ City Alo
৩৮
ডার্ক অক্সিজেন: সমুদ্রের অতল গভীরে বিজ্ঞানের নতুন বিস্ময়
সমুদ্রের তলদেশ সবসময়ই মানুষের কল্পনাকে উসকে দিয়েছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিজ্ঞানীরা সেই অন্ধকার গভীরতা থেকে এমন এক তথ্য নিয়ে এসেছেন, যা বিজ্ঞানের অক্সিজেন বিষয়ক প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ১৩ হাজার ফুট নিচে, যেখানে সূর্যের আলোর লেশমাত্র পৌঁছায় না, সেখানে প্রাকৃতিকভাবে অক্সিজেন তৈরি হচ্ছে।
স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সুইটম্যান ও তার দলের এই আবিষ্কারের নাম দেওয়া হয়েছে 'ডার্ক অক্সিজেন'।
গত প্রায় ২৫০ বছর ধরে আধুনিক জীববিজ্ঞান একটি ধ্রুব সত্যের ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে—অক্সিজেন তৈরির একমাত্র পথ হল সালোকসংশ্লেষণ। ১৭৭০-এর দশকে জোসেফ প্রিস্টলি দেখান যে উদ্ভিদ বাতাস পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং ১৭৭৯ সালে জান ইঙেনহাউস প্রমাণ করেন যে এই প্রক্রিয়াটি সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ঘটে।
কিন্তু ডার্ক অক্সিজেনের আবিষ্কার সেই বিশ্বাসে প্রথমবারের মত ফাটল ধরাল। এটি প্রমাণ করেছে যে, সূর্যালোক বা কোনো সবুজ উদ্ভিদ ছাড়াই প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম।
যেভাবে জানা গেল ডার্ক অক্সিজেনের কথা
প্রশান্ত মহাসাগরের মেক্সিকো এবং হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মাঝে অবস্থিত বিশাল এক অঞ্চলের নাম 'ক্লারিওন-ক্লিপারটন জোন'। খনিজসমৃদ্ধ সমুদ্রতলের জন্য বিখ্যাত এই এলাকায় গভীরতা এতটাই বেশি যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে আসে, আর চাপ হয় অকল্পনীয়।
দীর্ঘ এক দশক ধরে এই এলাকায় জরিপ চালাতে গিয়ে গবেষকরা একটা বিষয় লক্ষ্য করলেন। নিয়ম অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রের অন্ধকার ও উচ্চ চাপে অক্সিজেন তৈরির কোনো সুযোগ নেই। বরং সেখানকার প্রাণীরা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন ব্যবহার করায় এর মাত্রা কমার কথা। কিন্তু দেখা গেল, সমুদ্রতলের অক্সিজেনের মাত্রা কমছে না, বরং রহস্যজনকভাবে বাড়ছে।
শুরুতে সেন্সরের ত্রুটি মনে করা হলেও বার বার পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেল—যন্ত্র নয়, প্রকৃতিই এখানে অন্য কোনো খেলা খেলছে।
অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সুইটম্যান জানান, ২০১৩ থেকে ২০২১—গবেষণার প্রথম ৮ বছর তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারেননি যে সমুদ্রতলে অক্সিজেন তৈরি হতে পারে। ২০২১ সালে তিনি যখন উন্নত সেন্সর ব্যবহার করে পুনরায় জরিপ চালান, তখন আবারও একই ফলাফল পান।
বার বার পরীক্ষার পর যখন দেখা গেল যে ফলাফল বদলাচ্ছে না, তখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে এটি যন্ত্রের ভুল নয়, বরং প্রকৃতি সেখানে নিজে থেকেই অক্সিজেন উৎপাদন করছে।
রহস্যের জট খুলতে সুইটম্যান সমুদ্রের তলা থেকে কিছু ছোট পাথর সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে আসেন। সেখানে পরীক্ষা করে দেখেন, এই পাথরগুলি যখন সমুদ্রের লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে থাকে, তখন তারা একেকটি ব্যাটারির মত কাজ করতে শুরু করে।
'জিওব্যাটারি' ও প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইসিসের রহস্য
ল্যাবরেটরিতে নিয়ে আসা আলুর মত দেখতে ছোট ছোট এই পাথুরে পিণ্ডগুলিকে বলা হয় 'পলিমেটালিক নডিউলস'। ভূতত্ত্বের ভাষায় 'নডিউল' বলতে বোঝায় কোনো একটি নিউক্লিয়াসকে (যেমন মাছের হাড় বা দাঁত) কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোলাকার খনিজ পিণ্ড।
ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল, কোবাল্ট, তামা এবং লিথিয়ামের মত অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু দিয়ে গড়ে ওঠা এই নডিউলগুলির রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল। নডিউলের উপরিভাগে থাকা বিভিন্ন ধাতব স্তরের মধ্যে বিভব বৈষম্য তৈরি হওয়ার ফলে পাথরগুলি একেকটি প্রাকৃতিক 'লিথিয়াম ব্যাটারি' বা 'জিওব্যাটারি' হিসাবে কাজ করে।
এই নডিউলগুলির বিদ্যুৎ শক্তিই মূলত সমুদ্রের গভীরে অক্সিজেন তৈরির কারিগর। প্রক্রিয়াটি অনেকটা ল্যাবরেটরির ইলেক্ট্রোলাইসিসের মত—যেখানে বিদ্যুৎ প্রয়োগ করে পানি থেকে অক্সিজেন আলাদা করা হয়। পার্থক্য শুধু এটুকুই যে, এখানে কোনো কৃত্রিম বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিটি পাথর নিজেই প্রায় ১.৫ ভোল্টের বিদ্যুৎশক্তি ধারণ করে।
যখন একাধিক পাথর কাছাকাছি থাকে, তখন তাদের সম্মিলিত ভোল্টেজ আরও বেড়ে যায়। এই প্রাকৃতিক বিদ্যুৎ যখন সমুদ্রের পানির অণুকে আঘাত করে, তখন তা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে বিভক্ত হয়ে যায়। এভাবেই কোনো উদ্ভিদ বা সূর্যালোক ছাড়াই সৃষ্টি হয় রহস্যময় 'ডার্ক অক্সিজেন'।
.
নডিউল কি প্রাণীদের জন্য বিপজ্জনক?
নডিউলের এই বৈদ্যুতিক সক্রিয়তা সমুদ্রের প্রাণীদের জন্য বিপদের বদলে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়। প্রতিটি নডিউল থেকে উৎপন্ন ১.৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ আসলে একটি সাধারণ পেন্সিল ব্যাটারির চাইতে বেশি নয়। সমুদ্রের নোনা জল বিদ্যুতের সুপরিবাহী হওয়ায় এই সামান্য বিদ্যুৎ দ্রুত চারপাশের বিশাল জলরাশিতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণঘাতী তীব্রতা তৈরি হয় না।
গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা কোটি কোটি বছর ধরে এই মৃদু তড়িৎ-রাসায়নিক পরিবেশের মাঝেই বিবর্তিত হয়েছে। আসলে, সূর্যালোকহীন এই চরম অন্ধকারে শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের একটি বড় অংশই জোগান দেয় এই প্রাকৃতিক ব্যাটারিগুলি। ফলে এই বিদ্যুৎ প্রাণীদের তড়িতাহত করে না, বরং তাদের প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার মূল শক্তি হিসাবে কাজ করে।
.
বিবর্তনবাদের নতুন সমীকরণ
ডার্ক অক্সিজেনের এই আবিষ্কার শুধু একটি খনিজ রহস্য নয়—এটি প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে আমাদের চিরাচরিত ধারণাকেই বদলে দিতে পারে।
এতদিন মনে করা হত, প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে সায়ানোব্যাকটেরিয়া সূর্যের আলো ব্যবহার করে অক্সিজেন তৈরি শুরু করার পরেই পৃথিবীতে জটিল প্রাণীর বিবর্তন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু এই আবিষ্কার প্রশ্ন তুলছে—তার আগেও কি সমুদ্রের অন্ধকার তলদেশে প্রাণের বিকাশ ঘটছিল?
যদি এই পাথরগুলি কোটি কোটি বছর ধরে অক্সিজেন তৈরি করে থাকে, তবে পৃথিবীর আদি প্রাণ হয়ত সূর্যের ওপর নির্ভর না করেই টিকে ছিল। এই তত্ত্বের প্রভাব শুধু পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। সূর্যালোকহীন অন্য কোনো গ্রহেও যদি এ ধরনের পাথর থাকে, তবে সেখানেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ভিনগ্রহে প্রাণ খোঁজার মানদণ্ড বদলে যেতে পারে শুধু এই একটি আবিষ্কারের কারণেই।
.
খনি উত্তোলন বনাম পরিবেশ
সমুদ্রতলের এই নডিউলগুলি সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা মূলত রিমোট-কন্ট্রোল চালিত বিশালাকার রোবোটিক কালেক্টর যানের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৪০০০ থেকে ৬০০০ মিটার গভীরে পাঠানো এই যন্ত্রগুলি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মত নডিউলগুলি শুষে নিয়ে রাইজার পাইপের মাধ্যমে উপরে জাহাজে পাঠিয়ে দেয়।
এই আবিষ্কারটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন পৃথিবী বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের জন্য সমুদ্রতলের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু ডার্ক অক্সিজেনের তথ্য সামনে আসার পর পরিবেশবিদরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
কারণ, যন্ত্রের চাপে সমুদ্রতলের কোটি বছরের পুরোনো পলিস্তর ওলটপালট হওয়ার পাশাপাশি এই জীবনদায়ী অক্সিজেনের উৎসটিও চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, নডিউলগুলোই গভীর সমুদ্রের বহু বিরল প্রাণীর একমাত্র শক্ত আশ্রয় এবং প্রজননক্ষেত্র। অনেক প্রজাতির অক্টোপাস ও স্পঞ্জ তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য সরাসরি এই পাথরের ওপর নির্ভর করে।
খনন করতে গিয়ে এগুলি সরিয়ে ফেললে হাজার হাজার প্রজাতি শ্বাসরোধে মারা যাওয়ার এবং সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সবুজ শক্তির নামে সমুদ্রের একটি প্রাণদায়ী রহস্য ধ্বংস করা কতটা যৌক্তিক, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকৃতি আমাদের বার বার দেখায় যে, তার প্রতিটি উপাদান—সমুদ্রের অতলে পড়ে থাকা এক টুকরো পাথরও—অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে প্রাণের অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। বিজ্ঞানের এই নতুন মাইলফলক তাই কেবল একটি আবিষ্কারের গল্প নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। উন্নয়নের পথে হাঁটার আগে প্রকৃতির এই নীরব অবদানগুলি বোঝা, কেবল বিজ্ঞানীদের নয়, আমাদের সকলের দায়িত্ব। @ City Alo
৩৯
ইউরোপের রেনেসাঁ বা নবজাগরণ
(চতুর্দশ-সপ্তদশ শতাব্দী) ছিল মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস ভেঙে মানবতাবাদ, যুক্তি, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং ধর্মনিরপেক্ষতার (Secularism) উত্থানের কাল। এই সময়ে চার্চের প্রভাব হ্রাস করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করা হয় এবং ক্লাসিক্যাল জ্ঞান, শিল্প ও বিজ্ঞানের গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা ইউরোপকে আধুনিক সভ্যতার পথে নিয়ে যায়।
আপনার পর্যবেক্ষণটি একদম সঠিক। ইউরোপের আধুনিক বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে ওঠার পেছনে রেনেসাঁ (Renaissance) বা নবজাগরণ ছিল একটি বৈপ্লবিক মোড়। এটি শুধু শিল্পকলা বা সাহিত্যের পরিবর্তন ছিল না, বরং মানুষের চিন্তা করার পদ্ধতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।
ইউরোপের উন্নতির পেছনে রেনেসাঁ যে পরিবর্তনগুলো এনেছিল:
ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাজনীতি (Secularism):
মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চের প্রভাব ছিল অপরিসীম। রেনেসাঁ পরবর্তী সময়ে 'রাষ্ট্র' এবং 'ধর্ম'কে আলাদা করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়। ম্যাকিয়াভেলি-র মতো চিন্তাবিদরা রাজনীতিকে ধর্মের পরিবর্তে বাস্তববাদ এবং জনস্বার্থের নিরিখে দেখার পথ দেখান।
মানবতাবাদ (Humanism):
পরকালের চিন্তায় মগ্ন না থেকে মানুষের বর্তমান জীবন, আনন্দ এবং সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। "মানুষই সবকিছুর পরিমাপক"-এই ধারণাটি ব্যক্তি স্বাধীনতার বীজ বপন করে।
বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদ (Rationalism):
ধর্মীয় ডগমার পরিবর্তে প্রমাণ এবং যুক্তির ওপর ভিত্তি করে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বাড়ে। গ্যালিলিও, কোপারনিকাস এবং নিউটনের মতো বিজ্ঞানীদের হাত ধরে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়, যা পরবর্তীকালে 'শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution)-এর পথ প্রশস্ত করে।
মুদ্রণ যন্ত্রের প্রভাব:
গুটেনবার্গের প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কারের ফলে জ্ঞান কেবল উচ্চবিত্ত বা পাদ্রিদের হাতে সীমাবদ্ধ থাকল না, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গেল। মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও প্রশ্ন করার মানসিকতা তৈরি হলো।
বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অনেক সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন, যেসব দেশ আজও জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় মধ্যযুগীয় গোঁড়ামি আঁকড়ে আছে, তাদের জন্য ইউরোপের এই 'রেনেসাঁ' একটি বড় শিক্ষা হতে পারে।
রেনেসাঁ এবং এর প্রভাবের মূল দিকসমূহ:
মানবতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা:
রেনেসাঁ চিন্তাবিদরা ধর্মের চেয়ে পার্থিব জীবন, শিক্ষা এবং মানবীয় দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছিলেন। এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে এনেছিল।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণা:
মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গাণিতিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানচর্চা শুরু হয়, যেমন-গ্যালিলিও বা কোপার্নিকাসের কাজ।
শিল্প ও সংস্কৃতির পুনর্জন্ম:
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মাইকেলেঞ্জেলোর মতো শিল্পীরা মানবদেহ ও প্রকৃতির ওপর গভীর গবেষণার মাধ্যমে শিল্পকলায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।
মুদ্রণযন্ত্র ও জ্ঞানের প্রসার:
ছাপাখানা আবিষ্কারের ফলে দ্রুত বই ও নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা চার্চের একচ্ছত্র জ্ঞান আধিপত্য ভাঙতে সাহায্য করে।
রাজনৈতিক পরিবর্তন:
ইতালির নগররাষ্ট্রগুলোতে (যেমন-ফ্লোরেন্স, ভেনিস) ব্যবসায়ী ও পৃষ্ঠপোষকরা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে সাহায্য করে, যা পুঁজিবাদ ও আধুনিক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করে।
মূলত:
রেনেসাঁ ইউরোপকে 'অন্ধকার যুগ' থেকে বের করে এনে মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক যুগের পথে পরিচালিত করেছিল।
আপনি কি মনে করেন আধুনিক মুসলিম বিশ্বের বা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উন্নতির জন্য এ ধরনের একটি 'বৌদ্ধিক নবজাগরণ' বা সংস্কারের প্রয়োজন আছে? তথ্য: উইকিপিডিয়া, @ মৃণাল নন্দী
৪০
ডিমের সরু প্রান্ত উপরে রাখবেন নাকি প্রশস্ত প্রান্ত উপরে রাখবেন?
ডিম উচ্চমানের প্রোটিন জাতীয় খাবার। যার প্রধান অংশগুলো হলো খোলস,ঝিল্লি, বায়ু কোষ, সাদা অংশ (অ্যালবুমেন) ও কুসুম। অপরদিকে ডিমের লক্ষণীয় হচ্ছে একটি সরু প্রান্ত ও একটি প্রশস্ত প্রান্ত। এটি কেন হয় ?
ডিম বিকশিত হওয়ার সময় ডিম্বাণুর ভ্রুণের মধ্যভাগ দিয়ে গমন করে। এই সময় ঘূর্ণনের ফলে কুসুম/অ্যালবুমেন এবং ঝিল্লির ক্যালসিয়াম তৈরি হয়। যার ফলে সামনে সুবিন্যস্ত সরু প্রান্ত এবং পেছনে প্রশস্ত প্রান্তের সাথে বায়ু কোষ সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ক্যালসিয়াম শক্ত খোলসে পরিণত হয়। ডিম প্রস্রবের সময় এটি উল্টে যায় ও প্রশস্ত প্রান্তটি প্রথমে বের হয়। মূলত প্রশস্ত প্রান্তে চাপ-ধারণ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ডিম ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশ কমে যায়।
তাহলে ডিম সংরক্ষণের সময় প্রশস্ত প্রান্ত নিচে রাখা উচিত?
না, একদমই না। পূর্বেই বলা হয়েছে যে প্রশস্ত প্রান্তের সাথে বায়ু কোষ থাকে। যেটি ডিমের মধ্যস্থ সকল উপাদানের থেকে হালকা। যখন প্রশস্ত প্রান্তটি নিচে থাকে,বায়ু কোষ উপরে যেতে চাই।ফলে মধ্যস্থ উপাদানগুলোকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। এতে প্রোটিনের স্ট্র্যান্ডগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে শুরু করে। একসময় বায়ু কোষটি কুসুমে প্রবেশ করে এবং ব্যাকটেরিয়া সেখানে বিনা বাঁধাই বংশবিস্তারের করে। যার ফলে ডিম দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
অপরপক্ষে সরু প্রান্ত নিচে রাখলে বায়ু কোষটি উপরে থাকে। যার ফলে কুসুমের সাথে কোনো ধাক্কার সম্ভাবনা থাকে না এবং ডিম অনেক দিন সংরক্ষণ করা যায়।
৪১
বান্না বালক
ইথিওপিয়ার প্রত্যন্ত বনাঞ্চলে বসবাসকারী একটি অনন্য আদিবাসী গোষ্ঠী রয়েছে যারা লাঠির ওপর ভর করে চলাফেরার জন্য বেশ বিখ্যাত। শুনতে বেশ অদ্ভুত লাগলেও বান্না উপজাতিরা ঠিক এভাবেই চলাচল করে। এই প্রাচীন প্রথা, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে আসছে এবং এই প্রথা তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
বান্না উপজাতি ইথিওপিয়ার একটি ওমটিক জাতিগোষ্ঠী, যারা লোয়ার ওমো উপত্যকায় বাস করে। মূলত এই উপত্যকাটির অবস্থান ওয়েইটো এবং ওমো নদীর মাঝামাঝিতে। ২০০৭ সালের আদমশুমারি অনুসারে, তাদের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। তারা মূলত কৃষিকাজে নিয়োজিত।
এই বান্না উপজাতীয় প্রবীণদের মতে, বহু শতাব্দী আগে থেকেই তাদের লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচলের ধারা বয়ে আসছে। মূলত তাদের পৈতৃক জমির গভীরতা এবং জলাভূমিতে চলাচলের উপায় হিসেবে স্টিল্টের ওপর হাঁটার প্রথার উৎপত্তি হয়েছে। অনেকে আবার এটাও বলেন যে, যুবকরা গবাদিপশু পালন করার সময় বন্য প্রাণীর আক্রমণ এড়াতে একটি চমৎকার উপায় হিসেবে এভাবে হাঁটার প্রচলন শুরু করে।
স্টিল্টস ওয়াকিং এই সম্প্রদায়ের উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় এই ঐতিহ্যের বাহক হলো উপজাতীয় অবিবাহিত যুবকরা। একটি উৎসব চলাকালীন বান্না উপজাতিদের নিয়ম হলো শরীরে সাদা স্ট্রিপে এঁকে লাঠিতে ভর দিয়ে বেশ দক্ষতার সঙ্গে হাঁটা। এই স্টিল্ট তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের খুঁটি স্থানীয়ভাবে খুব সহজে পাওয়া যায়। একটি স্টিল্ট কয়েক মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে এবং তাদের সরানোর জন্য প্রচুর দক্ষতা, ভারসাম্য এবং শারীরিক শক্তির প্রয়োজন হয়।
আশ্চর্যজনকভাবে উপজাতি যুবকরা এটিকে বেশ দক্ষতার সঙ্গে টেনে নিয়ে যায়, যা তাদের শক্তি এবং শারীরিক যোগ্যতার প্রদর্শন। জটিল ফুটওয়ার্ক, নাচের মতো গতি এবং অ্যাক্রোবেটিক পারফরম্যান্স করার মাধ্যমে তারা শ্রোতাদের মোহিত করে। মূলত, বান্না উপজাতির স্টিল্ট হাঁটা প্রথার অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। অল্প বয়স্ক পুরুষদের জন্য এটি তারুণ্য থেকে পরিপক্বতার দিকে একটি পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে।
খুঁটিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সুন্দরভাবে হাঁটা গোত্রের কাছে একটি দৃঢ় বার্তা পাঠায় যে ছেলেটি দায়িত্বশীল, স্বাধীনচেতা, দৃঢ়-ইচ্ছাসম্পন্ন এবং সিংহের মতো নির্মমতার সঙ্গে জীবন নিতে আত্মবিশ্বাসী।
লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটা কেবল পরিবহনের একটি মাধ্যম তা কিন্তু নয়। বরং এটি বান্না উপজাতির জন্য উদযাপন এবং যোগাযোগের একটি মাধ্যম, যা বিবাহ, ফসল কাটার উৎসব এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ঐতিহ্য এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক উৎসব এবং পর্যটনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। সৌজন্যে: Imran’s GK
পাওলো কোয়েলহোর এই কথাটি আধুনিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আমরা অনেক কিছু পেতে চাই বড় চাকরি, বেশি টাকা, সামাজিক মর্যাদা। কিন্তু এর বিনিময়ে যদি আপনার ঘুম হারাম হয়, মানসিক শান্তি নষ্ট হয়, তাহলে সেই সাফল্যের কী মূল্য?
যে চাকরিতে প্রতিদিন অপমানিত হতে হয়, যে সম্পর্কে প্রতি মুহূর্তে টেনশনে থাকতে হয়, যে ব্যবসায় নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হয় এসব আসলে সাফল্য নয়, বরং ধীর বিষপান। লাখ টাকা বেতন পেয়ে যদি রাতে ঘুমাতে না পারেন, তাহলে সেই টাকার কী দরকার?
জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মনের শান্তি। যা আপনার শান্তি কেড়ে নেয়, তা থেকে দূরে থাকার সাহস রাখুন সেটা মানুষ হোক, চাকরি হোক বা পরিস্থিতি হোক। মনে রাখবেন, কোনো অর্জনই আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে বড় নয়। কখনো কখনো 'না' বলাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৪২
'ডিগ্রি' নয়, 'স্কিল'-ই আসল ক্যাশ!
"A degree gets you the interview, but a skill gets you the paycheck!"
আগে পাড়ার কাকিমারা জিজ্ঞেস করত, "বাবা, রেজাল্ট কী হলো?" আর এখন বসেরা জিজ্ঞেস করে, "বাবা, কাজটা পারো কি না বলো?"
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে একটা তেতো সত্যি হজম করে নিন— আপনার ড্রয়ারে থাকা ওই সোনালী বর্ডারের সার্টিফিকেটটা এখন কেবলই একটা সুন্দর কাগজ। কারণ, মেটাভার্স আর AI-এর যুগে আপনার ডিগ্রি নয়, আপনার 'স্কিল' (Skill) বা দক্ষতাই হচ্ছে আপনার আসল ব্যাংক ব্যালেন্স!
চলুন দেখি, কেন আপনার গ্রাজুয়েশন টুপির চেয়ে আপনার হাতের কাজ এখন বেশি দামী:
১. AI আপনার ডিগ্রি চিবিয়ে খেয়ে ফেলেছে!
আগে লোকে ৪ বছর ধরে গ্রাফিক ডিজাইন শিখত। আর এখন? Midjourney বা Canva 5.0-কে একটা প্রম্পট দিলেই সে সেকেন্ডে এমন ডিজাইন নামিয়ে দেয় যা দেখে ভিন্টেজ ডিজাইনাররাও ভিরমি খাবেন!
শিক্ষা: এখনকার বাজারে 'আমি সফটওয়্যার চালাতে জানি' বলাটা ক্রেডিট না, বরং 'আমি AI-কে দিয়ে সেরা আউটপুট বের করতে জানি'—এটাই হলো আসল স্কিল।
২. লার্নিং এখন 'মিনিট' হিসেবে, 'বছর' হিসেবে নয়!
আগে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে বছর বছর ঘাম ঝরাতে হতো। ২০২৬-এ এসে মানুষ দেখে আপনার 'Problem Solving' ক্ষমতা।
আপনি কি ৫ মিনিটে একটা জটিল কোডিং বাগ ফিক্স করতে পারেন?
আপনি কি আপনার ডিজিটাল অবতারের জন্য থ্রি-ডি ড্রেস বানাতে পারেন?
ব্যস! কোম্পানি আপনার সিজিপিএ দেখবে না, দেখবে আপনার Portfolio। এখানে কাজ কথা বলে, কাগজ নয়!
৩. গ্লোবাল ভিলেজে 'ডিগ্রি'র ভাষা নেই!
আপনি হয়তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়েছেন বা প্রাইভেট থেকে—আমেরিকার কোনো টেক-জায়ান্টের তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। তারা দেখবে আপনি Unity বা Unreal Engine-এ কতটা দক্ষ।
মজা কোথায়? আপনার বস হয়তো জাপানিজ, আর আপনি বাংলাদেশি। আপনাদের কমন ভাষা ইংরেজি নয়, আপনাদের কমন ভাষা হলো 'Skill'। স্কিল থাকলে পকেটে ডলার আসতে বাধ্য!
৪. গেমাররাই এখন গেম-চেঞ্জার!
আগে মা-বাবা বলত, "সারাদিন মোবাইল টিপলে কি ভাত জুটবে?" এখন দেখা যাচ্ছে, যারা ভালো গেম খেলত, তারাই মেটাভার্সের সেরা 'Environment Designer'!
ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে আপনার বিচরণ যত বেশি, আপনার ডিমান্ড তত চড়া। গেমিং স্কিল এখন প্রফেশনাল স্কিলে রূপান্তর হয়েছে। আম্মু, এখন তো মোবাইল টেপাই আমার আসল কাজ!
২০২৬-এর 'সুপার স্কিল' কোনগুলো? (নিজেকে আপডেট রাখুন!)
১. Prompt Engineering: AI-কে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার জাদু।
২. Emotional Intelligence (EQ): রোবটের যুগে মানুষের আবেগ বুঝে ডিল করার ক্ষমতা।
৩. No-Code Development: কোডিং না জেনেও অ্যাপ বা ওয়েবসাইট বানানো।
৪. Cyber Security: ডিজিটাল চোরদের হাত থেকে নিজের আর কোম্পানির সম্পদ বাঁচানো।
প্রো-টিপ: ডিগ্রি কি ফেলে দেব?
আরে না! ডিগ্রি আপনার শভনতা বাড়ায়, কিন্তু স্কিল আপনার উনুন জ্বালায়। ডিগ্রিকে রাখুন 'ব্যাকআপ' হিসেবে, আর স্কিলকে বানান আপনার 'মেইন পাওয়ার'। মনে রাখবেন— "A degree gets you the interview, but a skill gets you the paycheck!"
শেষ কথা
২০২৬ সালে এসে যদি আপনি এখনো মনে করেন 'বিসিএস বা সরকারি চাকরিই শেষ কথা', তবে বন্ধু আপনি ডাইনোসরের যুগে বাস করছেন। এখন জমানা হলো 'Nano-Degrees' আর 'Micro-Skills'-এর।
কমেন্টে জানান তো— গত ৩ মাসে আপনি নতুন কোন স্কিলটা শিখেছেন? নাকি এখনো সেই পুরনো সার্টিফিকেট মোছামুছি করছেন?
তথ্য, - Muhammad_Nasim_Hossain
৪৩
গিরগিটির রঙ বদলের গল্প
ভোরবেলা এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। সকালের প্রকৃতি অনেকটা শান্ত ও স্নিগ্ধ। ছাত্রছাত্রীরা সায়কদার কাছে চলে এসেছে। ঘরের জানালা দিয়ে সকালের নরম আলো ঢুকছে। সায়কদা টেবিলের উপর রাখা একটি বই বন্ধ করে ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকাল। কৌতূহলী মুখগুলোর ভিড়ে সায়নি প্রথমে জিজ্ঞেস করল — সায়কদা আসার সময় তোমাদের বাগানের গাছে এক গিরগিটি দেখলাম, কি গাঢ় রঙ। আচ্ছা গিরগিটি নিজের দেহের রঙ বদলায় কীভাবে?
সায়কদা হেসে বলল — গিরগিটির রঙ বদল দেখলে মনে হবে যেন কোনো জাদু চলছে, তাই না? আসলে এটা জাদু নয়, ত্বকের ভেতরে চলা নিখুঁত জীববিজ্ঞানের খেলা। গিরগিটির ত্বককে যদি খুব কাছে থেকে যদি দেখতিস, তাহলে বুঝতে পারতিস — ওটা কেবল ত্বক নয়, যেন স্তরে স্তরে সাজানো এক ক্ষুদ্র রঙের ল্যাবরেটরি। সেই ল্যাবরেটরিতে আছে কিছু বিশেষ কোষ, যাদের কাজই হলো রঙের সঙ্গে খেলা করা।
— কোষ? মানে রঙের জন্য আলাদা কোষ থাকে?
— ঠিক তাই। ত্বকের ভেতরে এমন কিছু কোষ থাকে যেগুলো আলো আর রঞ্জকের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ভাব তো, তোর ঘরের পর্দা যদি একটু টেনে দিস, তাহলে ঘরের আলো কমে যাবে; আবার খুলে দিলে ঘর আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। গিরগিটির ত্বকের কোষগুলোও কিছুটা সেরকম কাজ করে—কিন্তু আরও সূক্ষ্মভাবে। কিছু কোষে থাকে মেলানিন নামের গাঢ় রঞ্জক, যা ছড়িয়ে পড়লে ত্বক গাঢ় দেখায়, আর গুটিয়ে এলে হালকা লাগে।
তাহলে গাঢ়–হালকা হওয়াটাই রঙ বদল? সুমন জিজ্ঞেস করল।
— তা কিছুটা সত্যি। আসল নাটকটা ঘটে আরেক ধরনের কোষে। সেখানে রঞ্জক নেই, আছে অতি ক্ষুদ্র স্ফটিকের মতো এক গঠন। এগুলো এত ছোট যে ন্যানোমিটার মাপে মাপতে হয়। এই স্ফটিকগুলো আলোর সঙ্গে এমনভাবে মিথস্ক্রিয়া করে যে প্রতিফলিত আলোর রঙ পাল্টে যায়। অর্থাৎ, রঙ তৈরি হচ্ছে কেবল রাসায়নিক রঞ্জক দিয়ে নয়, আলোক পদার্থবিজ্ঞানের জটিল নিয়মের মাধ্যমেও।
তপন কৌতূহলী হয়ে চোখ বড় করে বলল—আলো দিয়ে রঙ তৈরি? সেটা আবার কীভাবে?
— ধর, সাবানের বুদবুদ বা ময়ূরের পালক। ওখানে যে ঝলমলে রঙ দেখিস, সেগুলো অনেক সময় শুধু পিগমেন্টের জন্য নয়— অনেকটা আলোর প্রতিফলন আর বিচ্ছুরণের কারণে হয়। গিরগিটির ত্বকের ক্ষুদ্র স্ফটিকগুলোও তেমন কাজ করে। স্ফটিকগুলোর মাঝে দূরত্ব সামান্য বদলালেই কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি প্রতিফলিত হবে তা পাল্টে যায়। দূরত্ব কম হলে অন্য রঙ, বাড়লে অন্য রঙ। যেন অদৃশ্য এক অপটিক্যাল মেশিন ত্বকের ভেতরেই বসানো।
— কিন্তু সেই দূরত্ব বদলায় কীভাবে? কে বদলায়?
— এখানেই আসে শরীরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। গিরগিটি যখন পরিবেশের তাপমাত্রা, আলো, ভয় বা উত্তেজনা অনুভব করে, তখন স্নায়ুতন্ত্র ত্বকের কোষগুলোর কাছে সংকেত পাঠায়। সেই সংকেত কোষের ভেতরের গঠনকে সামান্য টেনে বা ঢিলে করে। এতটাই সূক্ষ্ম পরিবর্তন যে বাইরে থেকে বোঝাই যায় না—কিন্তু আলোর আচরণ বদলে গিয়ে আমাদের চোখে সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙ দেখা দেয়।
— তাহলে গিরগিটি ইচ্ছে করলেই রঙ বদলায়? সায়নি জানতে চাইল।
— ইচ্ছে বলতে যা বুঝিস, তার চেয়ে এটা বেশি শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। যেমন তোরা ঠান্ডায় কাঁপিস বা গরমে ঘেমে যাস, তখন তোদের শরীর নিজেই মানিয়ে নেয়। গিরগিটির ক্ষেত্রেও অনেকটা তাই। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য গাঢ় বা হালকা হওয়া, অন্য গিরগিটিকে সংকেত দেওয়া, কিংবা মানসিক অবস্থার প্রকাশ—সবই এই রঙ পরিবর্তনের অংশ।
— সবাই তো বলে ছদ্মবেশের জন্যই রঙ বদলায়। সেটা কেন? সুমন বলল।
— সেটাও সত্য, তবে পুরো সত্য নয়। ছদ্মবেশ একটা দিক মাত্র। গাঢ় রঙ বেশি তাপ শোষণ করে, হালকা রঙ তাপ প্রতিফলিত করে—এই সহজ পদার্থবিজ্ঞান গিরগিটির জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ। আবার সামাজিক যোগাযোগেও রঙের ভূমিকা আছে। কখনো সতর্কবার্তা, কখনো প্রজননের সংকেত সেক্ষেত্রে ত্বকই হয়ে ওঠে ওদের ভাষা।
— সায়কদা, তাহলে গিরগিটির ত্বক যেন জীবন্ত বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির মেলবন্ধন !
— প্রকৃতির থেকে সেরা ল্যাব আর নেই । আমরা ল্যাবরেটরিতে যা তৈরি করতে চেষ্টা করি, অনেক সময় জীবজগৎ তা বহু আগে থেকেই নিখুঁতভাবে ব্যবহার করছে। গিরগিটির রঙ পরিবর্তন তার এক সুন্দর উদাহরণ—যেখানে জীববিজ্ঞান, রসায়ন আর আলোর পদার্থবিজ্ঞান একসঙ্গে কাজ করে।
— গিরগিটির ত্বকের ভেতরের কোষ আর আলোর খেলা—ওগুলো কীভাবে কাজ করে তা বুঝলাম। কিন্তু একটা কথা মাথায় ঘুরছে… গিরগিটির এই রঙ বদলানোর ক্ষমতা এলই বা কেন? বিবর্তনের দিক থেকে এর লাভটা কী? সুমন প্রশ্ন করল।
— আহা, এটাই তো আসল বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন। কোনো বৈশিষ্ট্য কীভাবে কাজ করে তা জানাটা এক ধাপ, আর কেন তৈরি হলো তা বোঝা আরেক গভীর ধাপ। চল, কল্পনা করি বহু হাজার, লক্ষ বছর আগের পৃথিবী। তখনকার গিরগিটির পূর্বপুরুষরা ছিল আজকের মতো দক্ষ রঙ-শিল্পী নয়। তাদের দেহে রঙের সামান্য তারতম্য ঘটত, হয়তো একটু গাঢ়, একটু হালকা।
— মানে তখন এত নাটকীয় রঙ বদল ছিল না?
— সম্ভবত না। বিবর্তন কখনো হঠাৎ বিশাল লাফ দেয় না, ছোট ছোট পরিবর্তনের সিঁড়ি বেয়ে এগোয়। ভাব, কোনো এক প্রাচীন টিকটিকির ত্বকে যদি এমন কোষের বিন্যাস তৈরি হলো, যা তাকে আশপাশের আলো বা তাপমাত্রার সঙ্গে সামান্য মানিয়ে নিতে সাহায্য করল, সেটা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাকে একটু হলেও বাড়িয়ে দিল।
— কীভাবে বাড়াল?
— ধর, যে প্রাণী একটু বেশি গাঢ় রঙের হতে পারত, সে ঠান্ডায় রোদে দ্রুত গরম হতে পারত। আর যে একটু হালকা রঙের হতে পারত, সে রোদে অতিরিক্ত গরম এড়াতে পারত। এই ক্ষুদ্র সুবিধাগুলোই ছিল জীবন-মরণ ফারাক। প্রকৃতির কঠোর বাছাইয়ে যারা পরিবেশের সঙ্গে ভালো মানিয়ে নিল, তারাই বেশি টিকে রইল, বেশি বংশবিস্তার করল।
— তাহলে প্রথম লাভটা ছিল তাপ নিয়ন্ত্রণ? সায়নি জানতে চাইল।
— সম্ভবতা তাই। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ জীবনের এর মৌলিক চাহিদা। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। একবার যদি ত্বকের কোষগুলো আলো প্রতিফলন বা রঞ্জকের বণ্টনে সামান্য নমনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে সেই ব্যবস্থাকে বিবর্তন আরও কাজে লাগাতে শুরু করে। যেমন শিকারির চোখ ফাঁকি দেওয়া।
— মানে ছদ্মবেশ! সুমন চেঁচিয়ে উঠল।
— ঠিক তাই। যে গিরগিটি আশপাশের রঙের সঙ্গে একটু ভালো মিশে যেতে পারত, সে শিকারির নজর এড়াতে পারত। আবার শিকার ধরার ক্ষেত্রেও সুবিধা পেত। ফলে সেই বৈশিষ্ট্যধারীরা বেঁচে থাকার দৌড়ে এগিয়ে গেল।
— তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু এত উজ্জ্বল রঙ? সেগুলো তো লুকোনোর জন্য নয়।
— চমৎকার পর্যবেক্ষণ সুমন। বিবর্তনে একটি বৈশিষ্ট্য একাধিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। রঙ তখন হয়ে উঠল যোগাযোগের মাধ্যম। ভাব, কোনো গিরগিটি যদি রাগ, ভয় বা প্রজনন-প্রস্তুতির সময় ভিন্ন রঙে ফুটে উঠতে পারে— তাহলে সে তার সঙ্গী বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে দ্রুত বার্তা দিতে পারে। এতে সংঘর্ষ কমে, সঠিক সঙ্গী নির্বাচন সহজ হয়।
— মানে বলতে চাইছ ত্বকই তাদের ভাষা?
— একদম। প্রাকৃতিক নির্বাচন এর পাশাপাশি এখানে কাজ করে যৌন নির্বাচনও। যে রঙ বা রঙ পরিবর্তন সঙ্গীকে আকর্ষণ করল, সেই বৈশিষ্ট্য আরও ছড়িয়ে পড়ল প্রজন্মে প্রজন্মে। ধীরে ধীরে ত্বকের ভেতরের ন্যানোক্রিস্টাল, রঞ্জক কোষ, স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ—সবই আরও সূক্ষ্ম ও কার্যকর হয়ে উঠল।
— বুঝলাম, তাহলে গিরগিটির রঙ বদল একদিনে তৈরি হয়নি, বরং বহু প্রয়োজনের চাপে গড়ে উঠেছে?
— হাঁ, এটাই বিবর্তনের সৌন্দর্য। প্রকৃতি নতুন কিছু বানাতে বসে না; পুরনো ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে ব্যবহার করে। তাপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, শিকারিদের এড়িয়ে চলা, শিকার ধরা, সামাজিক সংকেত, সঙ্গী নির্বাচন—সব মিলিয়ে রঙ পরিবর্তনের ক্ষমতা ধীরে ধীরে এক বহুমুখী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
— সায়কদা, শুনে মনে হচ্ছে গিরগিটির ত্বক শুধু রঙ বদলায় না, তারা দীর্ঘ বিবর্তনীয় ইতিহাস বহন করে।
— সত্যিই তাই। প্রতিটি রঙের ঝলক, প্রতিটি পরিবর্তনের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অসংখ্য প্রজন্মের বেঁচে থাকার গল্প। আমরা যা দেখি তা কেবল ফলাফল; এর নেপথ্যে কাজ করেছে সময়, প্রাকৃতিক নির্বাচন আর প্রকৃতির অবিরাম পরীক্ষা।
সবাই চুপ করে রইল। যেন সবাই অনুভব করছে—একটি গিরগিটির ত্বকের ভেতর শুধু আলোর পদার্থবিজ্ঞান নয়, বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাসও জ্বলজ্বল করছে। লেখা - পঞ্চানন মণ্ডল
৪৪
শরীর যখন কাঁদতে পারে না, তখন সে রোগ হয়ে কথা বলে
আমরা অনেক সময় ভাবি, মনের কষ্ট মনে চেপে রাখলেই বোধহয় সব মিটে গেল। কিন্তু সত্যিটা হলো, আমরা যা প্রকাশ করি না, আমাদের শরীর তা জমা করে রাখে।
জমানো চোখের পানি যখন রোগ হয়ে ফেরে
বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, মনের ভেতরের অপ্রকাশিত আবেগ বা চাপা কষ্টগুলো কখনোই ফুরিয়ে যায় না। সেগুলো শরীরের ভেতরে গুমরে মরে। যখন আমাদের কান্না চোখের পানি হয়ে ঝরতে পারে না, তখন তা অন্য কোনো পথ খোঁজে বের হওয়ার জন্য। আর সেই পথটাই হলো 'শারীরিক অসুস্থতা'।
আপনি কি খেয়াল করেছেন? দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া মাইগ্রেন। অব্যক্ত ক্ষোভ বা অস্থিরতা থেকে আসা পেটের সমস্যা বা হজমের গোলমাল। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে বুকের ওপর এক ধরণের ভারী পাথর চেপে বসা অনুভূতি। ক্রমাগত বিষণ্ণতা থেকে আসা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
এগুলো আসলে কোনো সাধারণ রোগ নয়, এগুলো আমাদের শরীরের আর্তনাদ। শরীর আমাদের বলতে চায়— "আমি আর পারছি না, এবার একটু থামো।"
নিরাময় শুরু হোক মনের যত্ন দিয়ে
আমরা জ্বরের ওষুধ খাই, কিন্তু জ্বরের পেছনের ক্লান্তিটাকে পাত্তা দিই না। আমরা ব্যথানাশক বড়ি গিলি, কিন্তু যে উদ্বেগ থেকে ব্যথাটা জন্মেছে, সেটাকে এড়িয়ে যাই।
মনে রাখবেন:
১. কথা বলুন: মনের জট খুলতে প্রিয় কারো সাথে কথা বলুন।
২. কাঁদতে শিখুন: কান্না দুর্বলতা নয়, এটি মনের বিষাক্ত টক্সিন বের করে দেওয়ার প্রাকৃতিক উপায়।
৩. নিজের সময় নিন: শরীর যদি বিশ্রাম চায়, তবে তাকে বিশ্রাম দিন। পৃথিবী থমকে যাবে না।
আমাদের শরীর একটি মন্দিরের মতো। আপনি যদি এর ভেতরের হাহাকার না শোনেন, তবে বাইরের দেয়াল ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। তাই নিজেকে ভালোবাসুন, নিজের আবেগকে মর্যাদা দিন। "আপনার মন যা বলতে পারছে না, তা আপনার শরীরের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে দেবেন না।" @ Edu Quest
৪৫
মরিয়া হয়ে চেষ্টা করা
সক্রেটিস ধ্যান করছেন। নিঃশ্চুপ বসে হয়তো জীবনবোধ নিয়ে ভাবছেন। সে সময় এক তরুণ তার কাছে গিয়ে বসলো। সক্রেটিস টের পেলেন না।
অনেকক্ষণ পর সে তরুণকে লক্ষ করলেন। তরুণটি বললো, সক্রেটিস, আমার একটা প্রশ্ন ছিলো।
—কী প্রশ্ন?
—সফলতার রহস্যটা কী? What is the secret to success?
সক্রেটিস হাসলো। বললো, কাল সকালে নদীর ধারে এসো। তখন বলবো।
পরদিন সকালেই তরুণ নদীর ধারে গিয়ে হাজির। সক্রেটিস আসলেন। বললেন, চলো নদীতে নামি। পানিতে নামতে নামতে দুজন গলা অবধি নেমে গেলো। তরুণ খুবই বিস্মিত হতে লাগলো! হঠাৎ, সক্রেটিস সে তরুণের ঘাড় চেপে পানিতে ডু'বি'য়ে দিলেন। তরুণটা ছটফট করতে লাগলো। সক্রেটিসের শক্তির সাথে পেরে উঠছিলো না। কিছুক্ষণ পর সক্রেটিস তাকে তুললেন। তরুণের চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। বুকভরা নিঃশ্বাস নিয়ে সে যেনো জীবন খুঁজে পেলো।
—সক্রেটিস বললো, কিছু বুঝলে?
—কিছু না!
সক্রেটিস প্রাজ্ঞের হাসি হাসলেন।
—তোমাকে যখন পানিতে ডুবিয়ে রাখা হলো তখন তুমি প্রবলভাবে কি চেয়েছিলে?
—বাতাস। শুধুমাত্র বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চেয়েছিলাম!
—এটাই হলো সফলতার রহস্য। একটু বাতাসের জন্য তুমি যেমন তীব্রভাবে মরিয়া হয়ে উঠেছিলে, ঠিক এমন মরিয়া হয়ে কিছু চাইলেই সফলতা আসবে। এটাই সফলতার রহস্য। এই বলে, সক্রেটিস বিদায় নিলেন।
সফলতার প্রথম ধাপ হলো— A burning desire. আমাদের ইচ্ছেশক্তি হলো শক্তিশালী স্প্রিং-এর মতো। এটাকে টেনে ধরে রাখাই কঠিন। একটু হেলা করলেই ছোট হয়ে যায়।
-সংগৃহীত।
৪৬
লোকে কী ভাববে—এই রোগ থেকে বাঁচতে না পারলে জীবন শেষ! জানুন ওষুধ কী।
The Biggest Disease: "What Will People Say?"
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেলখানার নাম জানেন? তিহার জেল বা আলকাট্রাজ নয়। সবচেয়ে বড় জেলখানা হলো— "লোকে কী বলবে?"
আমাদের হাজারো স্বপ্ন, হাজারো প্রতিভা এবং লক্ষ কোটি ইচ্ছে প্রতিদিন এই একটি মাত্র বাক্যের নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।
আমরা নিজেদের পছন্দ মতো পোশাক পরতে ভয় পাই, পছন্দের ক্যারিয়ার বাছতে ভয় পাই, এমনকি মন খুলে হাসতেও ভয় পাই—পাছে লোকে কিছু বলে!
কিন্তু ভাবুন তো, জীবনটা কার? আপনার। কষ্টটা কার? আপনার। অথচ জীবনের রিমোট কন্ট্রোলটা আপনি তুলে দিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশী আর আত্মীয়দের হাতে।
এই রোগ যদি এখনই সারাতে না পারেন, তবে শেষ বয়সে আপনার ঝুলিতে শুধু 'আফসোস' ছাড়া আর কিচ্ছু থাকবে না।
এই রোগের ৩টি কার্যকরী ওষুধ (The Cure)
১. বিল পেমেন্ট থিওরি (The Bill Payment Logic)
যখনই মনে হবে "লোকে কী বলবে", নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন—
"আমার বাড়ির চাল, আমার অসুস্থতার খরচ বা আমার ইলেকট্রিক বিল কি এই লোকগুলো দেয়?"
যদি উত্তর 'না' হয়, তবে তাদের কথায় আপনার কিছু যায় আসা উচিত নয়। যে আপনার ভরণপোষণ করে না, তার মতামত আপনার জীবনে মূল্যহীন।
২. লোকের মেমোরি খুব দুর্বল
বাস্তবতা হলো, লোকে আপনাকে নিয়ে ভাবার অত সময় পায় না। তাদের আলোচনার স্থায়িত্ব বড়জোর ২ দিন।
আজ আপনি ব্যর্থ হলে তারা হাসবে, কাল সফল হলে তারাই আপনার সাথে সেলফি তুলতে লাইনে দাঁড়াবে।
লোকের মুখ আপনি বন্ধ করতে পারবেন না, তাই ওদিকে কান না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. সমালোচকরা দর্শকের আসনে থাকে
খেয়াল করে দেখবেন, যারা মাঠে খেলে (খেলোয়াড়), তারা কখনো গ্যালারির দর্শকদের কথায় কান দেয় না।
যারা জীবনে কিছু করতে পারে না, তারাই কেবল অন্যের সমালোচনা করে সময় কাটায়।
তাই কেউ আপনার নিন্দা করলে খুশি হোন। বুঝবেন, আপনি তাদের চেয়ে এগিয়ে আছেন, আর তারা দর্শকের আসনে বসে শুধুই তালি বা গালি দিতে পারবে।
শেষ কথা
কবরস্থানে গিয়ে দেখবেন, সেখানে শুয়ে থাকা মানুষগুলোরও অনেক স্বপ্ন ছিল, যা তারা পূরণ করেনি শুধু "লোকে কী বলবে" ভেবে।
আজ তারা নেই, আর সেই "লোকগুলো"ও নেই।
তাই সমাজকে নয়, নিজের মনকে খুশি করুন। কারণ দিনশেষে আয়নার সামনে আপনাকে একাই দাঁড়াতে হবে, সমাজকে নিয়ে নয়।
আজ থেকে স্লোগান হোক—
"কুছ তো লোগ কহেঙ্গে, লোগো কা কাম হ্যায় কেহনা। আমি চলব আমার পথে।"
জীবন আপনার, তাই নিয়মটাও আপনার হওয়া উচিত! @ MotivationalQuotesBangla
৪৭
হাকালুকি হাওর
বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় বিস্তৃত হাকালুকি হাওর এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি। প্রায় ১৮১.১৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই হাওরটি ৫টি উপজেলা (বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী, ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ) জুড়ে বিস্তৃত ।
প্রধান আকর্ষণ ও জীববৈচিত্র্য
পরিযায়ী পাখি: শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) এখানে সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে প্রায় ২০০ প্রজাতির বিরল অতিথি পাখির সমাগম ঘটে । এটি বর্তমানে পাখি পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য ।
মৎস্য সম্পদ: হাকালুকি হাওরে রুই, কাতলা, বোয়াল, পাবদা ও আইড়সহ প্রায় ১৫০ প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায় । বর্তমানে হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ।
প্রাকৃতিক রূপ: বর্ষাকালে পুরো হাওর সাগরের মতো বিশাল জলরাশিতে রূপ নেয়, আর শীতকালে বিশাল প্রান্তর জুড়ে দেখা যায় সবুজ ঘাস ও বিল।
জলাবন (Swamp Forest): হাকালুকিতে হিজল ও করচ গাছের সমৃদ্ধ জলাবন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিলুপ্তপ্রায় এই জলাবনগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।
সাম্প্রতিক অবস্থা ও ভ্রমণ তথ্য (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
পর্যটন সুবিধা: বর্তমানে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী বাগান করা হয়েছে, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
সুরক্ষা বিধি: পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার হাকালুকি হাওরকে 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে এখানে উচ্চস্বরে গান বাজানো, প্লাস্টিক বর্জন এবং যত্রতত্র মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
যাতায়াত: ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে মৌলভীবাজার বা সিলেট হয়ে কুলাউড়া বা বড়লেখা থেকে সহজেই হাকালুকি যাওয়া যায় । এ আই জেমিনি @ Bakul Kumar Shaha
৪৮
রিদম জিরো এবং দাস এক্সপেরিমেন্ট
সার্বিয়ার এক সুন্দরী তরুণী, নাম মারিয়া আব্রামোভিচ, ১৯৭৪ সালে এক ভ'য়া'ব'হ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল পৃথিবীকে, একটি এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে। ওই এক্সপেরিমেন্টের নাম ছিল রিদম জিরো।
লোকজনে ভর্তি একটি রুমের ভিতর মারিয়া স্ট্যাচুর মতোন দাঁড়িয়ে ছিল। সামনে টেবিলে রাখা অপ্রাসঙ্গিক, অগুরুত্বপূর্ণ, একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাহাত্তরটি জিনিস— লিপস্টিক, কেক, ছুরি, কাঁচি, গোলাপ, পিস্তল সহ আরো অনেক কিছু।
বলা হয়েছিল, রাত আটটা থেকে দুইটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে মারিয়ার সঙ্গে। অনুমতিপত্রে স্বাক্ষর ছিল মারিয়ার। প্রথম আড়াই ঘণ্টা মারিয়াকে ফুল দিয়েছিল মানুষ। চুল আঁচড়ে দিয়েছিল, ভালোবেসেছিল।
সময় যতই গড়াল, লোকজন ততই হিং'স্র হয়ে উঠল। শেষ দুই ঘণ্টায় মারিয়াকে থা'প্প'ড় মা'রা হয়, পরনের জামাকাপড় ছিঁ'ড়ে ন'গ্ন করে ফেলা হয়, ছু'রি দিয়ে শরীরে আ'ঘা'ত করা হয়, এমনকি শে'ষ'দিকে একজন পি'স্ত'ল নিয়ে মারিয়ার গলা চে'পে ধ'রে ট্রি'গা'র টানতে যাচ্ছিল প্রায়!
মারিয়া কি ওদের কোনো ক্ষ'তি করেছিল?
ওদের কারোর জায়গা জমি নিজের বলে দাবি করেছিল? ওদের কাউকে মা'র'ধ'র করেছিল?
কারো সাথে প্রতারণা করেছিল?
সে তো কাউকে চিনতও না। কিন্তু ওরা মারিয়াকে থা'প্প'ড় মে'রে'ছি'ল, গায়ে থু'থু ছিটিয়েছিল, পরনের পোশাক ছিঁ'ড়ে ফেলেছিল, একের পর এক আ'ঘা'তে করেছিল ক্ষ'ত'বি'ক্ষ'ত!
এক্সপেরিমেন্ট শেষে মারিয়া যখন হেঁটে চলে যাচ্ছিল, তখন তাকে অ'প'মা'ন করা একটি লোকও চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না তার, ল'জ্জা'য়।
১৯৯৮ সালে জার্মানিতেও প্রায় একই রকম একটি ঘটনা ঘটে। চৌদ্দজন লোককে স্বেচ্ছায় টাকার বিনিময়ে একটি সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয় যার নাম ছিল দাস এক্সপেরিমেন্ট।
এরপর ওই লোকগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ওদের কাছে সময় পনের দিন। এই পনের দিন ওদের একভাগ কারাগারের কয়েদি হিসেবে অভিনয় করবে, বাকিরা থাকবে কারাগারের গার্ড। সবার অজান্তে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি মনিটর করা হবে। শর্ত ছিল, কোনো গার্ড কোনো কয়েদিকে শারীরিকভাবে আ'ঘা'ত করতে পারবে না। অর্থাৎ কোনরকম ভায়োলেন্স অ্যালাউড না।
প্রথম প্রথম সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ২ দিন পার হওয়ার আগেই গার্ডরা কয়েদিদের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করা শুরু করে। শেষদিকে তো পুরো এক্সপেরিমেন্টেরই বারোটা বেজে যায়।
লক্ষ্য করুন, ওরা জানে ওরা কেউই আসল গার্ড নয়। যারা কারাগারে বন্দি, তারাও সত্যিকারের কয়েদি নয়। ওদের শুধু অভিনয় করতে বলা হয়েছে কয়েকটা দিনের জন্য। অথচ বাহাত্তর ঘন্টা পার হওয়ার আগেই শুধুমাত্র বন্দিদের ওপর নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য ওরা কারাগারের লাইট অফ করে, গ্যাস ছে'ড়ে, কয়েদিদের জামাকাপড় খু'লে উ'ল'ঙ্গ করে, শোয়ার একমাত্র বিছানাটাও বের করে নেয় যাতে কেউ ঘুমাতে না পারে। শুধু তাই নয়, সময় গড়ানোর সাথে সাথে গার্ডের দল কয়েদিদের হাত পা বেঁধে নি'র্যা'ত'ন করে, তাদের মুখের ওপর প্র'স্রা'ব করে, এক নারী কয়েদিকে ধ'র্ষ'ণে'র চেষ্টা করে এবং এমনকি একজনকে মে'রে ফেলেছিল প্রায়!
মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করলে আপনি জানতে পারবেন, মানুষ অন্যকে হিং'সা করে, ঘৃ'ণা করে, অ'পছন্দ করে নানান কারণে। ওর বুদ্ধি বেশি, আমার কম কেন? ওর টাকা বেশি, আমার কম কেন? ওর সম্মান বেশি, আমার কম কেন?
রিদম জিরো এবং দাস এক্সপেরিমেন্ট আপনাকে শেখাবে একজন মানুষের আরেকজনকে ঘৃ'ণা বা অ'পছন্দ করতে আসলে কোনো কারণ লাগে না। মানুষ অকারণেই তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা সহকর্মীকে হিং'সা করে, পরিচিত অপরিচিত বিভিন্ন লোকের নামে ব'দ'নাম রটিয়ে বেড়ায়, অন্যের ক্ষ'তি করার চেষ্টা করে— কেননা মানুষের স্বভাবই অমন!
মানুষ কোনোদিনই শান্তিকামী ছিল না, নয় এবং থাকবেও না। সে সবসময়ই হিং'স্র, লো'ভী, ব'র্ব'র, ভ'ণ্ড এবং স্বা'র্থ'প'র।
তাহলে প্রশ্ন জাগে, পৃথিবীতে কি সত্যিকারের ভালো মানুষ বলে কিছু নেই? হ্যাঁ, আছে, হাতেগোনা অল্পকিছু। বাকিরা— যাদেরকে আপনি ভালো বলে মনে করেন— তারা আসলে সুযোগের অভাবে ভালো। পর্যাপ্ত সুযোগ পেলেই তারা আপনাকে তাদের আসল রূপ দেখিয়ে ছাড়বে।-সংগৃহীত। @ Jamil Hosen
৪৯
সম্পর্কে কে কতটা বিশ্বস্ত বা অনুগত (Loyal), তা কেবল মিষ্টি কথায় বোঝা সম্ভব নয়
অনেক সময় মানুষ মুখে অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু প্রয়োজনে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি যদি জানতে চান আপনার পাশের মানুষটি সত্যিই কতটা সৎ, তবে কোনো বিতর্ক বা ঝগড়া ছাড়াই নিচের এই দুটি ‘ সাইকোলজি’ ট্রিক ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
১. দূরত্বের পরীক্ষা (The Distance Test)
এই পরীক্ষাটি খুবই সাধারণ কিন্তু কার্যকর। সম্পর্কে অনেক সময় আমরা একে অপরের জন্য অতিরিক্ত ‘অ্যাভেলেবল’ হয়ে যাই। আপনি যদি কাউকে পরীক্ষা করতে চান, তবে নিজের দিক থেকে একটু দূরত্ব বা ব্যবধান তৈরি করুন।
কী করবেন: আগের মতো সবসময় তাঁর জন্য সময় বের করবেন না। কল বা মেসেজের উত্তর দিতে কিছুটা দেরি করুন। নিজেকে নিজের কাজে একটু বেশি ব্যস্ত দেখান।
ফলাফল: যদি সেই মানুষটি সত্যিই আপনার প্রতি অনুগত হয়, তবে সে আপনার এই অভাবটা অনুভব করবে। সে নিজ থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে এবং আপনার সমস্যার কথা জানতে চাইবে। কিন্তু যদি সম্পর্কটি কেবল ‘টাইম পাস’ হয়, তবে দেখবেন তাঁর আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং সে নিজের মতো করে অন্য কোথাও ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
২. কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করা (The Fake Problem Test)
মানুষের আসল চরিত্র বোঝা যায় সংকটের সময়। আপনি যদি কাউকে পরীক্ষা করতে চান, তবে একটি ছোটখাটো মিথ্যে সমস্যা বা সংকটের কথা তাঁর কাছে শেয়ার করুন—এমন কিছু যা শুনতে গম্ভীর কিন্তু বাস্তবে আপনার বড় কোনো ক্ষতি করবে না।
কী করবেন: তাঁকে বলুন আপনি কোনো মানসিক চাপে আছেন বা কোনো সমস্যায় ফেঁসে গেছেন। দেখুন তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন হয়।
ফলাফল: একজন বিশ্বস্ত মানুষ কখনোই আপনাকে একা ফেলে যাবে না। সে সমস্যার সমাধানের রাস্তা খুঁজবে এবং আপনাকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাবে। কিন্তু একজন স্বার্থপর বা ‘ফেক’ মানুষ হয় আপনার সমস্যা শুনে এড়িয়ে যাবে, নয়তো আপনার এই দুর্বলতা নিয়ে অন্য কোথাও হাসাহাসি করবে বা আপনাকে নিয়ে আড়ালে আলোচনা করবে।
মূল শিক্ষা
আমরা প্রায়ই মানুষের ‘শব্দ’ বা কথার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাস স্থাপন করি। কিন্তু মনে রাখবেন:
কথা সস্তা, কিন্তু প্রতিক্রিয়া (Reaction) অমূল্য।
মানুষের আচরণ এবং তাঁর কাজের মাধ্যমেই তাঁর সততা ফুটে ওঠে। যে আপনার অনুপস্থিতিতে আপনাকে খোঁজে এবং আপনার বিপদে আপনার হাত শক্ত করে ধরে, সেই প্রকৃত অনুগত। বাকিরা কেবল আপনার সুসময়ের বন্ধু।
সম্পর্ককে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে মাঝেমধ্যে বাস্তবের আয়নায় পরখ করে নেওয়া ভালো। কারণ আপনি যাঁকে নিজের জীবন ভাবছেন, সে হয়তো কেবল সময়ের অপেক্ষা করছে আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য।
আপনার জীবনেও কি এমন কেউ আছে? আজই একবার ভেবে দেখুন।
আপনার যদি মনে হয় এই তথ্যটি আপনার বন্ধুদের কোনো ভুল মানুষের হাত থেকে বাঁচাতে পারে, তবে এটি শেয়ার করতে ভুলবেন না!
ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন এবং জীবনের গূঢ় রহস্য জানতে এই পোস্টটি সেভ করে রাখুন এবং অন্যদের সাথেও শেয়ার করুন। প্রতিদিন নিজেকে ১% উন্নত করার লক্ষ্যে আমাদের এই পেজটিকে ফলো করে রাখুন। @Rohit Baagdii
৫০
সিজারের পর “গোপন বাস্তবতা” – যা খুব কম মানুষ জানে
সিজারে শুধু এক জায়গা নয়—৭টা স্তর কাটা হয়
ত্বক → চর্বি → মাংস → স্নায়ু → পেশি → জরায়ু → ভেতরের আস্তরণ
তাই ব্যথা শুধু সেলাইয়ের জায়গায় না,
ভেতর ভেতর অনেকদিন ধরে ব্যথা থাকে
এই কথাটা প্রায় কেউ বলে না।
“ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে” — কিন্তু নার্ভ ড্যামেজ হলে?
সিজারের সময় ছোট ছোট স্নায়ু কেটে যেতে পারে
ফলাফল:
হঠাৎ জ্বালা
পিন ফোটার মতো ব্যথা
ছুঁলেই ব্যথা
মাসের পর মাস কোমর–পেট ব্যথা
এটাকে অনেক সময় বলা হয়—
“আপনার মাথার ব্যথা”
কিন্তু আসলে এটা নার্ভ ইস্যু
সিজারের পর ভেতরে ভেতরে আঠা (Adhesion) তৈরি হয়
এটা সবচেয়ে অবহেলিত সত্য
অপারেশনের জায়গায় ভেতরের অঙ্গগুলো একে অপরের সাথে লেগে যায়
এর ফল:
দাঁড়ালে/বসলে টান
এক পাশে ব্যথা
পরের পিরিয়ডে বেশি কষ্ট
ভবিষ্যতে আবার অপারেশনে সমস্যা
এই কথাটা সচরাচর বলা হয় না, কারণ
এটার সহজ টেস্ট নেই।
সিজারের পর গ্যাস–অম্বল আজীবনের সঙ্গী হতে পারে
কারণ:
অপারেশনের সময় অন্ত্র নাড়া খায়
অ্যানেস্থেসিয়া অন্ত্রের গতি কমায়
তাই অনেক মায়ের হয়:
গ্যাস
বুক জ্বালা
কোষ্ঠকাঠিন্য
পেট ফাঁপা
কিন্তু এটাকে বলা হয়— “ডেলিভারির পর নরমাল”
বারবার সিজার হলে
জরায়ু দুর্বল হয় (সত্যি কথা)
জরায়ুর দেয়াল পাতলা হয়
ভবিষ্যতে রক্তক্ষরণ ঝুঁকি বাড়ে
পরের প্রেগন্যান্সিতে বাড়তি সাবধানতা দরকার
তাই “একবার সিজার মানেই সব সিজার”—এটা অর্ধসত্য, পুরো সত্য না।
ইনজেকশনের ব্যথা অনেক সময় মনের ভয় বাড়ায়
Painkiller কমে গেলে ব্যথা হঠাৎ বাড়ে
তখন অনেক মা ভাবেন— “আমার কিছু ভুল হচ্ছে”
আসলে:
ওষুধের ইফেক্ট শেষ
ভেতরের সেলাই টান দিচ্ছে
এটা জানালে অর্ধেক ভয় এমনিই কমে যায়।
সবচেয়ে বড় লুকানো সত্য
ডেলিভারির পর মায়ের যত্ন—সিস্টেম দেয় না সব নজর যায় বেবির দিকে
মায়ের:ব্যথা, মানসিক চাপ, একাকীত্ব সব “স্বাভাবিক” বলে এড়িয়ে যাওয়া হয় কিন্তু— অনেক মা এই সময় চুপচাপ ভেঙে পড়েন
তাহলে কী করবেন?
নিজের ব্যথাকে অবহেলা করবেন না “নরমাল” বললেও প্রশ্ন করবেন
৪০ দিনের পরও ব্যথা থাকলে চেকআপ
শরীর + মন—দুটোই সমান জরুরি
একটা শেষ কথা (খুব সত্য)
মা হওয়া মানে কষ্ট সহ্য করা নয়, মা হওয়া মানে—যত্ন পাওয়ার যোগ্য হওয়া Collected @ Sou Rita