স্মারকলিপি
হে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা!
শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মত দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আপনার মত একজন গুণীজনকে পেয়ে আমরা সত্যই আনন্দিত । আপনাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম ও মোবারকবাদ।
হে শিক্ষাদরদি!
শিক্ষায় গলদ থাকা মানেসে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। খারাপ চিকিৎসকের কাছে সন্তানের চিকিৎসার দায়িত্ব দিয়ে যেমন নিরাপদ বোধ করা যায় না, শিক্ষাও তেমনি। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে অন্তত ১১ ধরনের। ফলে কারিকুলামভেদে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতার মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার পার্থক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) গবেষণায়ও। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে যেই অভিভাবক যত বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারে, তার সন্তান তত মানসম্মত শিক্ষা পায়। শিক্ষায় এ বৈষম্য দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।এছাড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনেকে নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছেন না। নানা রকম গোজামিল জোড়া তালি দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিক্ষকদের উপস্থিতি খুবই হতাশাজনক এবং পড়াশুনার মান অত্যন্ত নিম্নমুখী। এতে পঠনপাঠনের ঘাটতি পূরণ করতে শিক্ষার্থীরা কোচিং ক্লাসের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য হচ্ছে; যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই শিক্ষাব্যবস্থাগুলোকে যদি আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী কারিকুলাম স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি না করি, তাহলে আমাদের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী অদক্ষ থেকে যাবে এবং জাতি হিসেবে আমরা অন্ধকারে হারিয়ে যাব। এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সময়োপযোগী ও অতি সহজ বাস্তবায়নযোগ্য আইডিয়া হল 'সেলফ লার্নিং' শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটা একটা অতি ছোট্ট সহজ আইডিয়া শিক্ষার এই জটিল হ-য-ব-র ল সমস্যা সমাধানের জন্য।
হে সূর্য সন্তান!
‘সেল্ফ লার্নিং’ ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে চালু করতে হবে। এতে ইউটিউবের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে দেশের সেরা শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে "বিষয় ভিত্তিক" শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে “নিজের স্কুলের শিক্ষকদের বাইরে, পড়ুয়ারা সেরা শিক্ষকদের ক্লাশ করতে পারবে, পাশাপাশি এতে শিক্ষকরাও প্রশিক্ষণ পাবে। কোনো কিছু না বুঝলে শিক্ষার্থীরা কমেন্ট করতে পারবে এবং একই বিষয়ে অন্যান্য শিক্ষকের আরো ক্লাশ দেখতে পারবে। এছাড়া নিজ স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও বিষয়টা আরো বুঝে নিতে পারবে। এতে করে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল কিংবা নটোরডেম কলেজের সাথে, অজপাড়া গ্রামের যে কোনো স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার মানের গ্যাপ বা দূরত্ব কমে যাবে। বিদেশে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।
হে সমাজসেবক!
‘সেল্ফ লার্নিং’ শিক্ষা ব্যবস্থা একটি প্রকল্প আকারে চালু করতে কোন বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে না। কয়েকটি ভালো মানের ক্যামেরা ও ক্যামেরাম্যান + ভিডিও এডিটর এবং একটি সুন্দর পরিকল্পনা তৈরিই যথেষ্ট, এ সক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের আছে। এ পরিকল্পনায় সাদামাটা ৫টি পদক্ষেপই যথেষ্ট।
১। প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে মাস্টার্স শ্রেণি পর্যন্ত প্রত্যেকটি ক্লাসের জন্য আলাদা করে বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত ভিডিও তৈরি করা।।
২। সে সব ভিডিও "শ্রেণী ,পাঠ্য বই ও সাবজেক্ট তালিকা বদ্ধ করে" বাংলাদেশ শিক্ষা পোর্টালের পাশাপাশি ইউটিউব লিঙ্ক-এ আপলোড করা।
৩। প্রতিটা ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে অন্তত চারটি ফ্রি এআই চ্যাট বটের লিংক রাখা। যাতে শিক্ষার্থী কোনো কিছু না বুঝলে সরাসরি বলতে পারে এবং উত্তর নিতে পারে।
৪। উক্তশ্রেণী্র এই সাবজেক্ট-এর একটা শিক্ষক ফোরাম লিংক ভিডিওর বিবরণীতে ট্যাগ করে রাখা। যাতে করে উক্ত সাবজেক্টের শিক্ষকেরা তাদের মতামত ও শিক্ষনীয় দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারে, প্রয়োজনে নিজেদের তৈরি ভিডিও, বক্তব্য ও নোট আপলোড করতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন নোট বা আপডেট থাকলে তা উপস্থাপন করতে পারে।।
৫। ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা, বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব কমই আপগ্রেডিশন বা সংস্করণ করেছে। এখন সময় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অনার্স ও মাস্টার্সে যেসব কোর্স পড়ানো হয়, সেগুলোয় এ সময়ের উপযোগী নতুন কোর্স সংযোজন করা, যাতে পড়াশোনা শেষে যেকোনো সেক্টরে কাজ করার জন্য ন্যূনতম একটি ভিত্তি তৈরি হয়।
এতে শিক্ষার্থীদের সুবিধা:
পড়ুয়ারা বাড়িতে বসেই মোবাইলে এই ভিডিওগুলি দেখতে পাবে। তবে, যে সমস্ত স্কুলের স্মার্ট ক্লাসরুম রয়েছে তারা স্কুলেই ওই ভিডিও চালিয়ে পঠনপাঠন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। বারবার replay করে মন দিয়ে শুনে নিলে অবশ্যই পড়াশুনা এবং উত্তরের মান ভাল হবে।”
অতএব মহোদয় সমীপে নিবেদন, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সেল্ফ লার্নিং’ শিক্ষা ব্যবস্থা একটি প্রকল্প আকারে চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদন জানাচ্ছি।
বিনীত নিবেদক-
আবু ওবাইদ,
নির্বাহী পরিচালক, সুনাগরিক সঙ্ঘ
তাং …….