চুপ থাকলে কেউ জানবে না, আপনি কতটা স্মার্ট! যতই ভালো আইডিয়া থাকুক, যদি বলতে না পারেন—তাহলে সেটা আপনার ভেতরেই আটকে যাবে। কথা বলা কোনো প্রতিভা নয়, এটা একটা স্কিল


দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়

দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকলে তা মানুষের মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করে তোলে, কারণ তখন শরীর ও মনের মধ্যে স্বাভাবিক সমন্বয় ভেঙে যায়। 

শরীর নড়াচড়া বন্ধ করলেই মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে, ফলে মনোযোগ, চিন্তার গতি এবং নতুন আইডিয়া তৈরির ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু মানুষ যখন হাঁটা শুরু করে, তখন এই স্থবিরতা ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্ক আবার সচল হতে শুরু করে।

হাঁটার সময় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয় এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। এমনকি হালকা গতির হাঁটাও মনকে সতেজ করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং সৃজনশীল চিন্তাকে জাগিয়ে তোলে। 

এজন্য অনেক সময় দেখা যায়, হাঁটতে হাঁটতেই জটিল সমস্যার সহজ সমাধান মাথায় আসে বা নতুন ভাবনার জন্ম হয়। এটি শুধু শারীরিক সুস্থতার বিষয় নয়, বরং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায়।

অন্যদিকে, গাড়িনির্ভর শহরজীবন মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য করে, যা ধীরে ধীরে শরীর ও মস্তিষ্ক—দুটোকেই অলস করে তোলে। এই অভ্যাস মানুষের চিন্তাশক্তিকে মন্থর করে এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়। হাঁটার উপযোগী শহর ও পরিবেশ এই চক্র ভাঙতে সাহায্য করে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বেশি চলাফেরা করে।

এমন পরিবেশে বসবাসকারী মানুষরা সাধারণত বেশি সতর্ক, মানসিকভাবে চাঙ্গা এবং দৈনন্দিন কাজে বেশি উদ্যমী থাকে।

 ফলে হাঁটা শুধু একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, বরং পরিষ্কার চিন্তা, উন্নত মনোযোগ এবং সুস্থ মনের জন্য একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী উপায় হিসেবে কাজ করে। @দি স্টোরি অব সায়েন্স

বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে শুরু করে। 

বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে শুরু করে। একই সাথে অক্সিটোসিন এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো ভালো লাগার হরমোন নিঃসৃত হয়। সামাজিক যোগাযোগ আর হালকা ব্যায়াম একসাথে হলে এই হরমোনগুলোর প্রভাব আরও শক্তিশালী হয় ফলে মন শান্ত থাকে আনন্দের অনুভূতি বাড়ে।

হাঁটা একটি এরোবিক এক্সারসাইজ হওয়ায় এতে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বেশি হয়। বন্ধুর সাথে গল্প করতে করতে হাঁটলে ব্রেইনের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় থাকে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সামাজিকভাবে একসাথে হাঁটার সময় মস্তিষ্কের মিরর নিউরন সিস্টেম সক্রিয় হয়। এর ফলে একে অপরের আবেগ ও আচরণ সহজে বোঝা যায় এবং সম্পর্কের মধ্যে সংযোগ বা বন্ডিং তৈরি হয়। এই কারণেই পাশাপাশি হাঁটলে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ মনে হয়।

বন্ধুর সাথে হাঁটা ডোপামিন রিওয়ার্ড সিস্টেমকেও সক্রিয় করে। আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে মস্তিষ্ক এটাকে মনে রাখে ফলে ভবিষ্যতে আবার হাঁটতে ইচ্ছা হয় এবং নিয়মিত অভ্যাস গড়ে ওঠে।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও সামাজিক মেলামেশা একসাথে থাকলে ডিপ্রেশন ও একাকিত্বের ঝুঁকি কমে। হাঁটার সময় কর্টিসল কমা আর ভালো হরমোন বাড়ার কারণে ঘুমের মানও উন্নত হয়। @নাফিউল ইসলাম

ক্রিসমাস ট্রি 


আজকের দিনে ক্রিসমাস ট্রি যেন খ্রিস্টধর্মের অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। কিন্তু ইতিহাস বলছে, এই চিরসবুজ গাছটির উৎপত্তি কোনো ধর্মীয় অনুশাসন থেকে নয়; বরং ভয়, কুসংস্কার ও বেঁচে থাকার আশার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। খ্রিস্টধর্মের অনেক আগেই, উত্তর ইউরোপের মানুষ চিরসবুজ পাইন ও ফার গাছকে বিশেষ অর্থে দেখত।

প্রাচীন উত্তর ইউরোপে শীতকাল ছিল সবচেয়ে আতঙ্কের সময়। দীর্ঘ রাত, সূর্যের অনুপস্থিতি, তীব্র ঠান্ডা এবং ফসলহানির ভয় মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করত। সেই সময় প্রায় সব গাছের পাতা ঝরে গেলেও পাইন ও ফার গাছ সবুজ থাকত। এই অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য থেকেই মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে, এই গাছের মধ্যে কোনো বিশেষ শক্তি রয়েছে যা মৃত্যুর মধ্যেও জীবনের প্রতীক।

লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চিরসবুজ গাছ অশুভ আত্মা, রোগ ও অন্ধকার শক্তিকে দূরে রাখে। অনেক এলাকায় শীতকালে ঘরের দরজা বা ঘরের ভেতরে পাইন গাছের ডাল ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাতে দুষ্ট শক্তি প্রবেশ করতে না পারে। এটি ছিল এক ধরনের প্রতিরক্ষামূলক কৌশল, কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবার ও ঘরকে নিরাপদ রাখা।

পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্ম ইউরোপে বিস্তার লাভ করলে, এই পুরোনো লোকাচারগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। বরং চার্চ ধীরে ধীরে এগুলোকে নতুন অর্থ দিয়ে গ্রহণ করে। চিরসবুজ গাছকে ব্যাখ্যা করা হয় চিরজীবন ও আশার প্রতীক হিসেবে। এইভাবেই প্রাক-খ্রিস্টীয় লোকবিশ্বাস একটি খ্রিস্টান উৎসবের অংশে রূপ নেয়।

আধুনিক ক্রিসমাস ট্রির ধারণা মূলত জার্মান অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়, যেখানে ঘরের ভেতরে পুরো গাছ সাজানোর রীতি গড়ে ওঠে। কিন্তু এর শিকড় লুকিয়ে আছে সেই সময়ের মানুষের ভয় আর টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষায়। অর্থাৎ, ক্রিসমাস ট্রি প্রথমে ছিল না বিশ্বাসের প্রতীক এটি ছিল অশুভ শক্তি তাড়ানোর এক মানবিক প্রয়াস, যা সময়ের সঙ্গে উৎসবের সৌন্দর্যে রূপান্তরিত হয়েছে।



দ্রুত শেখার এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ৭টি কার্যকরী উপায়।


​১. নিজেকে বারবার যাচাই বা পরীক্ষা করুন।

শুধু বই পড়া বা কোনো বিষয় বারবার পড়ার চেয়ে নিজেকে পরীক্ষা করা বেশি কার্যকর। আপনি যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর ভুলও করেন, তবে সেটি পরে সঠিক করার মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্ক বিষয়টি আরও গভীরভাবে গেঁথে নেয়। ভুল করার মাধ্যমে আপনার মস্তিষ্ক বুঝতে পারে আপনার কোথায় ঘাটতি আছে।

​২. দুই বা তিনটি জিনিস একসাথে শিখুন।

একই বিষয় টানা দীর্ঘক্ষণ না পড়ে কিছুটা সময় পরপর আলাদা ভিন্নধর্মী কোনো বিষয় শিখলে মস্তিষ্ক আরও সজাগ থাকে। যেমন—অংকের মাঝে মাঝে একটু ভাষা শিক্ষা বা অন্য কিছু করা। একে বিজ্ঞানের ভাষায় 'ইন্টারলিভিং' (Interleaving) বলা হয়, যা মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতা বাড়ায়।

​৩. শেখার পদ্ধতিতে ভিন্নতা আনুন।

একই কাজ হুবহু একইভাবে না করে প্রতিবার ছোট ছোট পরিবর্তন আনুন। ধরুন, আপনি কোনো বক্তব্য বা প্রেজেন্টেশন মুখস্থ করছেন। এটি প্রতিবার ভিন্ন গতিতে বলার চেষ্টা করুন অথবা ভিন্ন রুমে গিয়ে প্র্যাকটিস করুন। এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আপনার মস্তিষ্ককে আরও দ্রুত শিখতে বাধ্য করে।

​৪. জোরে জোরে পড়ুন বা শব্দ করে বলুন।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো বিষয় মনে মনে পড়ার চেয়ে জোরে জোরে উচ্চারণ করে পড়লে তা বেশি মনে থাকে। একে 'প্রোডাকশন ইফেক্ট' (Production Effect) বলা হয়। কথাগুলো মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার ফলে মস্তিষ্ক সেগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে।

​৫. বিরতি দিয়ে শিখুন।

একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা না পড়ে মাঝখানে বিরতি দিন। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা বিরতি দিলে মস্তিষ্ক অর্জিত জ্ঞানগুলোকে 'একত্রিত' (Consolidate) করার সুযোগ পায়। বিরতির পর যখন আপনি আবার একই জিনিস পড়বেন, তখন তা আরও ভালো মনে থাকবে।

​৬. ভালো করে ঘুমান।

শেখার পর পর্যাপ্ত ঘুম খুবই জরুরি। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক তথ্যগুলো সাজায় এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য ছেঁটে ফেলে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে জমা করে। কম ঘুম আপনার শেখার গতি ধীর করে দেয়।

​৭. শারীরিক ব্যায়াম করুন।

ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তির সাথে যুক্ত নিউরনগুলো সক্রিয় হয়। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম আপনার মনোযোগ এবং নতুন কিছু গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

​দ্রুত শিখতে হলে কেবল পরিশ্রম করলেই হবে না, বরং কৌশলগুলো অনুসরণ করে বুদ্ধিমত্তার সাথে শিখতে হবে। ভুল করা, ব্যায়াম করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম আপনার শেখার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: ফাস্ট কোম্পানী


সুইস ব্যাংক বলতে আসলে সুইজারল্যান্ডের একটা ব্যাংক নয়, বেশকিছু ব্যাংককে বোঝানো হয়


জার্মানিতে নাৎসি বাহিনী ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই ইহুদীরা জার্মানি ছাড়তে শুরু করে। ধনী ইহুদিদের টাকা পয়সা জমা হতে থাকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাঙ্ক গুলোতে। মজার ব্যাপারটি হচ্ছে হিটলারের নাৎসি বাহিণীও টাকা জমানো শুরু করে সুইস ব্যাঙ্ক গুলোতে। 

১৯৩৮ সালে জার্মানি অস্ট্রিয়া দখল করে নেয়। হিটলার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে দেউলিয়া ঘোষণা করে। ফলে ভিয়েনার সেন্ট্রাল ব্যাংকের যাবতীয় সম্পত্তি সরিয়ে নেয়া হয় জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ভল্টে। ৯০ হাজার কেজি সোনা আর বিলিয়ন ডলারের সমমুল্যের সম্পত্তি সরিয়ে নেয়া হয় ভিয়েনা থেকে জার্মানিতে।

সেইবছরের অক্টোবরেই সংখ্যালঘু জার্মানদের রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে হিটলার দখল করে নেয় চেকোস্লোভাকিয়া। সেখান থেকে যথারীতি সোনা আর অর্থের গন্তব্য হয় জার্মান সেন্ট্রাল ব্যাংকে। সেই আমলের ৬৬ মিলিয়ন ডলার মুল্যের সোনা ও অর্থ।

অর্থাৎ ভিন্নদেশ দখল করা হিটলারের জন্য বেশ লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হতে শুরু করে। একটা দেশ দখল করো, এরপর সেইদেশটিকে নিজ সম্রাজ্যে একীভূত করো। এবং সেই দেশের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক লিকুইডেট করো। সোজা হিসাব। সরল লুটপাট।  

হিটলার পোলান্ড আক্রমন করার মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ব্রিটেন এবং ফ্রান্স অফিসিয়ালি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

হিটলার পোলান্ড দখলের পর প্রথম ধাক্কা খায়। পোলান্ডের  সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে পোলিশরা সোনা সরিয়ে রোমানিয়া আর তুরস্ক ঘুরে পাঠিয়ে দিয়েছে ফ্রান্সে। অর্থাৎ পোলান্ড দখল করে পোলিশ সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে কিছুই পাননি হিটলার।

এরপর ১৯৪০ সালের মে মাসে নেদারল্যান্ড আক্রমন করে হিটলার। ভয়াবহ লুটপাট চালায় সেখানে। নেদারল্যান্ডের সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে ১৬৩ মিলিয়ন ডলার সমমুল্যের সোনা লুটপাট করে জার্মানি। 

এরপর বেলজিয়ামের পালা। কিন্তু বেলজিয়াম অনুসরন করেছিলো পোল্যান্ডকে। ফলাফল, বেলজিয়ামের সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে হিটলার কিছুই পেলো না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় স্তালিনগ্রাডের যুদ্ধের পর। সমগ্র বিশ্বযুদ্ধে একটি দেশ একেবারে নিউট্রাল ছিলো। সেটা হল সুইজারল্যান্ড। যেহেতু সে নিউট্রাল, সেহেতু সেই হিটলারের সাথে ব্যাবসা করতে পারবে। সে যদি হিটলারের সাথে ব্যাবসা না করে, তাহলে সেটা হবে মিত্র বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয়া। আবার সে মিত্র বাহিনীর সাথেও ব্যাবসা করবে। কারণ যদি সে মিত্র বাহিনীর সাথে ব্যাবসা না করে, তাহলে তার নিউট্রাল অবস্থান নষ্ট হবে। সে তখন হয়ে যাবে হিটলারের পক্ষের। অর্থাৎ নিউট্রালিটির নামে আসলে সে দুই ঘাটের পানিই খাবে। খেয়েছেও তা।

নাৎসিদের হাত থেকে বাঁচতে প্রথম দিকে ইহুদীরা যেমন তাদের টাকা পয়সা সুইস ব্যাংকে জমা করতে শুরু করে, তেমন যখন হিটলার একটার পর একটা দেশ দখলে ব্যস্ত, তখন সেইসব দেশের মানুষেরাও তাদের টাকা পয়সার নিরাপত্তার জন্য সুইস ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। আবার যুদ্ধের শেষ দিকে যখন হিটলার আর তার নাৎসি জার্মানি ব্যাকফুটে চলে যায়, তখন তারাও তাদের টাকা পয়সার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শরনাপন্ন হয় সুইজারল্যান্ডের। অর্থাৎ গোটা বিশ্বযুদ্ধে সুইজারল্যান্ডের খালি লাভই হয়েছে। টাকা আর টাকা। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সোনা মজুদ হয়েছে সুইস ব্যাংকের ভল্টে। এই হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সুইস ব্যাংকের ভুমিকা।

আমরা জানি ক্ষমতাধর কেউ বিশাল অংকের টাকা লুকিয়ে রাখতে আজও সুইস ব্যাংক ব্যবহার করে। সুইস ব্যাংক বলতে আসলে সুইজারল্যান্ডের একটা ব্যাংক নয়, বেশকিছু ব্যাংককে বোঝানো হয়। যেমন, UBS, Credit Swiss, Julius Bar ইত্যাদি। সবচেয়ে নামকরা UBS… সুইজারল্যান্ডের সব ব্যাংকই সুইস সিক্রেসি act এর আয়তায় পড়ে।

সুইস ব্যাংকগুলো এখন অবশ্য বেশি নজর দিচ্ছে এশিয়াসহ উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি। নতুন করে যেসব দেশে মধ্যবিত্তের সংখ্যা বাড়ছে, ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি, সেসব দেশের দিকেই এখন তাদের নজর। ফলে মোটেই ব্যবসা কমছে না সুইস ব্যাংকগুলোর বরং বাড়ছে। ©রাজিক হাসান

Psychological Reactance কী?


সামাজিক মনোবিজ্ঞানী Jack W. Brehm ১৯৬৬ সালে এই তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন। এটি বোঝায়... যখন কোনো মানুষের ওপর অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম, নিষেধ বা বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়, তখন তার ভেতরে স্বাভাবিকভাবে প্রতিরোধ তৈরি হয়। সহজভাবে বললে, মানুষ মনে করে "আমার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।" ফলস্বরূপ, নিয়ম মানার বদলে তা ভাঙার আকর্ষণ বাড়ে।

কেন কঠোর নিয়মে উল্টো ফল দেয়?

মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার পছন্দ করে।

• জোর করে মানানো নিয়ম -> প্রতিরোধ তৈরি করে

• অতিরিক্ত কড়া নিয়ন্ত্রণ -> গোপনে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা

“এটা করা যাবে না।” এরকম বললে অনেকের জন্য সেটা করার আকর্ষণ বেড়ে যায়। আবার খুব কড়া ডায়েট বা অফিসের কঠোর নিয়ম মানুষকে গোপনে বা অজ্ঞাতভাবে নিয়ম ভাঙতে প্রলুব্ধ করে।

কীভাবে নিয়ম কার্যকর করা যায়?

• নিয়মের কারণ বোঝানো

• কিছুটা স্বাধীনতা ও পছন্দের সুযোগ রাখা

• আদেশের বদলে সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করা

যখন মানুষ অনুভব করে, “আমি নিজে বেছে নিচ্ছি” তখন নিয়ম মানার সম্ভাবনা অনেক বেশি হয়। কঠোর নিয়ম মানুষকে বিদ্রোহী করে তোলে স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়লে প্রতিরোধ তৈরি হয়। এই স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়াই Psychological Reactance

সোর্স: Brehm, J. W. (1966) - A Theory of Psychological Reactance, APA @ Tasmia Binte Alam

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন নদী

নদীগুলো পাহাড়ের মতোই পুরনো মনে হতে পারে, কিন্তু অন্যান্য প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের মতোই এদেরও জীবনচক্র আছে। অনেক নদীই বেড়ে ওঠে এবং ভূদৃশ্যে তাদের আঁকাবাঁকা চিহ্ন তৈরি করে, শেষ পর্যন্ত শুকিয়ে যাওয়ার আগে। তবে কিছু নদী অন্যদের তুলনায় বেশি দিন টিকে থাকে। তাহলে আজ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন নদী কোনটি?

বিজয়ী নদীটি ডাইনোসরের চেয়েও পুরনো: অস্ট্রেলিয়ার ফিঙ্কে নদী, অথবা আদিবাসী অ্যারেন্টে ভাষায় লারাপিন্টা, ৩০ কোটি থেকে ৪০ কোটি বছরের পুরনো।

এই নদী এবং খালের নেটওয়ার্কটি উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ৪০০ মাইল (৬৪০ কিলোমিটার) এরও বেশি বিস্তৃত। মহাদেশের কেন্দ্রস্থলে শুষ্ক অবস্থার কারণে নদীটি কেবল মাঝেমধ্যে প্রবাহিত হয়; বছরের বেশিরভাগ সময় এটি বিচ্ছিন্ন জলাশয়ের একটি স্ট্রিং হিসাবে বিদ্যমান থাকে। তবে, ভূতাত্ত্বিক রেকর্ড, আবহাওয়া প্রোফাইল এবং পার্শ্ববর্তী পলি এবং শিলাগুলিতে রেডিওনিউক্লাইড পরিমাপের সংমিশ্রণ বিজ্ঞানীদের এই নদী ব্যবস্থাকে ডেভোনিয়ান (৪১৯ মিলিয়ন থেকে ৩৫৯ মিলিয়ন) বা কার্বোনিফেরাস (৩৫৯ মিলিয়ন থেকে ২৯৯ মিলিয়ন) সময়কালের সাথে ডেট করতে সক্ষম করেছে। @Source: Live science


এমন কিছু সকালের অভ্যাস , যা দ্রুত সফলতার দিকে ধাবিত করে


​১. তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা: সফল শিক্ষার্থীরা সাধারণত সূর্য ওঠার আগে বা খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। এতে তারা দিনের শুরুতে বাড়তি কিছু সময় পায় যা তাদের অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখে।

​২. বিছানা গোছানো: দিন শুরু করার প্রথম কাজ হিসেবে তারা নিজের বিছানা গুছিয়ে নেয়। এটি একটি ছোট কাজ হলেও এটি মনে একটি অর্জনের অনুভূতি দেয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে দিন শুরু করতে সাহায্য করে।

​৩. প্রচুর পানি পান করা: সারারাত ঘুমের পর শরীর পানিশূন্য হয়ে থাকে। তাই সকালে এক গ্লাস পানি পান করে তারা শরীর ও মস্তিষ্ককে সজাগ করে তোলে।

​৪. শারীরিক ব্যায়াম বা ইয়োগা: হালকা শরীরচর্চা বা ইয়োগা করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং মন ভালো থাকে। এটি সারাদিন পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

​৫. সুস্থ ও পুষ্টিকর নাস্তা: সফল শিক্ষার্থীরা কখনোই সকালের নাস্তা বাদ দেয় না। প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার তাদের দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়।

​৬. মেডিটেশন বা ধ্যান: অন্তত ৫-১০ মিনিট নিরিবিলি বসে ধ্যান করা মানসিক প্রশান্তি আনে এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।

​৭. দিনের পরিকল্পনা করা (To-Do List): তারা সারাদিন কী কী পড়বে বা কোন কাজগুলো করবে, তার একটি তালিকা তৈরি করে। এতে সময়ের অপচয় হয় না।

​৮. সবচেয়ে কঠিন কাজটি আগে করা: দিনের শুরুতে যখন মস্তিষ্ক সবচেয়ে সজাগ থাকে, তখন তারা সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি পড়তে বসে। একে 'Eat the Frog' কৌশল বলা হয়।

​৯. পজিটিভ অ্যাফারমেশন (ইতিবাচক চিন্তা): আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলা বা ডায়েরি লেখা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

​১০. ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকা: ঘুম থেকে উঠেই ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া চেক করার অভ্যাস তারা এড়িয়ে চলে। এতে মনোযোগ বিচ্যুত হয় না এবং মস্তিষ্ক শান্ত থাকে।

​এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত পালনের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার পড়াশোনায় এবং জীবনে অনেক বেশি সফল হতে পারে। সূত্র: মানি কন্ট্রোল


যারা রাতের চেয়ে সকালকে বেশি পছন্দ করেন, তাদের কিছু বিশেষ ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য 


​১. অধিক উদ্যোগী হওয়া (Proactivity): যারা সকালে দ্রুত কাজ শুরু করেন, তারা সাধারণত জীবনের যেকোনো বিষয়ে বেশি উদ্যোগী হন। তারা সমস্যা আসার আগেই তা সমাধানের চেষ্টা করেন এবং অলস বসে না থেকে কাজ এগিয়ে রাখেন।

​২. মানসিক স্থিরতা (Emotional Stability): গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের মানুষদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তার হার কম থাকে। তারা মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল হন এবং জীবনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বেশি ইতিবাচক হয়।

​৩. উন্নত আত্ম-সংযম (Self-Discipline): সকালে ওঠার জন্য যে নিয়মানুবর্তিতা প্রয়োজন, তা তাদের ব্যক্তিত্বেও প্রতিফলিত হয়। তারা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য পূরণে বেশি মনোযোগী হন এবং সাময়িক আনন্দ ত্যাগ করে বড় সাফল্যের জন্য কাজ করতে পারেন।

​৪. কর্তব্যপরায়ণতা (Conscientiousness): যারা সকালে কাজ করতে পছন্দ করেন, তারা সাধারণত খুব গোছানো, দায়িত্বশীল এবং নিখুঁতভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত হন। তারা নিয়ম মেনে চলেন এবং সময়ের মূল্য বোঝেন।

​৫. সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস (Better Physical Health Habits): সকালের শান্ত পরিবেশে ব্যায়াম করা বা স্বাস্থ্যকর নাস্তা খাওয়ার সময় পাওয়া যায়। তাই এই ধরনের মানুষদের শারীরিক স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাস অন্যদের চেয়ে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

​৬. ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ (Optimism): সকালের মানুষরা সাধারণত ভবিষ্যতের ব্যাপারে বেশি আশাবাদী হন। ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টোর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এরা রাতের পাখিদের তুলনায় নিজেদের জীবন নিয়ে বেশি সন্তুষ্ট থাকেন।

​৭. কর্মজীবনে বেশি সফল ও সন্তুষ্ট (Career Satisfaction): যেহেতু অধিকাংশ অফিস বা কর্মক্ষেত্র সকালের শিডিউল মেনে চলে, তাই যারা সকালে সক্রিয় থাকেন, তারা অন্যদের চেয়ে ভালো পারফর্ম করেন। তারা সহজেই পদোন্নতি পান এবং নিজের কাজ নিয়ে বেশি খুশি থাকেন।

​সকালকে বেছে নেওয়া মানে শুধু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা নয়, বরং এটি আপনার সুশৃঙ্খল, ইতিবাচক এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বেরই একটি বহিঃপ্রকাশ। সূত্র: ভেগ আউট


১০

​যেসব পরিস্থিতিতে চুপ থেকে সরে আসাই শ্রেয়

 

​১. যখন কেউ আপনাকে তর্কে উস্কানি দেয়: অনেক সময় মানুষ কেবল তর্কের খাতিরে বা আপনাকে ছোট করার জন্য উস্কানিমূলক কথা বলে। এই ‘ফাঁদে’ পা না দিয়ে চুপ থাকা এবং সরে আসা আপনার মানসিক শান্তির জন্য ভালো।

​২. আবেগ যখন চরমে থাকে: যখন আপনি খুব রাগান্বিত বা আবেগপ্রবণ থাকেন, তখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়। এই অবস্থায় কিছু বললে পরে অনুশোচনা করতে হতে পারে। তাই নিজেকে শান্ত করতে সাময়িক নীরবতা জরুরি।

​৩. যখন অপর পক্ষ কথা শুনতেই নারাজ: আপনি যদি দেখেন কেউ আপনার কথা শোনার বা বোঝার মানসিকতায় নেই, সেখানে কথা বলা শক্তির অপচয় মাত্র। এমন পরিস্থিতিতে নিজের যুক্তিবোধ বজায় রেখে সরে আসাই ভালো।

​৪. সম্পর্ক যখন সংশোধনের অতীত: কিছু বিষাক্ত সম্পর্ক আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। যদি বারবার চেষ্টা করেও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না আসে, তবে সেখানে কথা বাড়িয়ে লাভ নেই; বরং সরে আসাই সম্মানের।

​৫. যখন আপনার কথা অন্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে: কখনও কখনও সত্যি কথা তিতা হয় এবং তা অন্যের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনার কথা পরিস্থিতির উন্নতি না করে বরং কারও ক্ষতি করে, তবে চুপ থাকাটাই মহানুভবতা।

​৬. নিজের ইগোকে প্রশ্রয় না দেওয়া: অনেক সময় আমরা কেবল নিজেকে ঠিক প্রমাণ করার জন্য তর্কে লিপ্ত হই। কিন্তু শান্ত থাকা এবং ‘আমিই সঠিক’—এই ইগো ত্যাগ করা আপনাকে আরও পরিণত করে তোলে।

​৭. অত্যধিক নেতিবাচক পরিবেশে: যখন চারপাশে কেবল অন্যের সমালোচনা বা নেতিবাচক চর্চা হয়, তখন সেই আলোচনায় অংশ না নিয়ে চুপচাপ সরে যাওয়া আপনার ব্যক্তিত্বকে বজায় রাখে।

​৮. কেউ যখন আপনার সীমানা (Boundaries) লঙ্ঘন করে: আপনি যদি আপনার সীমাবদ্ধতা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়ার পরও কেউ তা বারবার অমান্য করে, তবে সেখানে তর্ক না করে সরাসরি সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

​৯. সঠিক হওয়ার মূল্য যখন অনেক বেশি: কখনও কখনও আপনি হয়তো শতভাগ সঠিক, কিন্তু তা প্রমাণ করতে গেলে দীর্ঘস্থায়ী কোনো অশান্তি বা প্রিয়জনের সাথে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে শান্তি রক্ষায় চুপ থাকাই সবচেয়ে বড় জয়।

নীরবতা মানে দুর্বলতা নয়, বরং এটি নিজের শক্তি এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখার একটি সচেতন কৌশল। সব যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই; কিছু যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়াই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা। সূত্র: গ্লোবাল ইংলিশ এডিটিং


১১

 একা থাকা বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু না থাকা আপনার সফলতার চাবিকাঠি হতে পারে 


​১. অটল আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি হয়।

যাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই, তারা নিজের সমস্যা নিজেই সমাধান করতে শেখে। অন্যের উপদেশের জন্য অপেক্ষা না করে তারা নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর ভরসা করতে পারে। এই আত্মনির্ভরশীলতা কঠিন সময়ে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

​২. নিজের কাজে দক্ষ হওয়ার জন্য প্রচুর সময় পাওয়া যায়।

বন্ধুত্ব বজায় রাখা মানেই আড্ডা, পার্টি বা গেট-টুগেদারে অনেক সময় ব্যয় করা। যারা একা থাকেন, তারা এই সময়টুকু নিজের দক্ষতা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করতে পারেন। ফলে তারা অন্যদের চেয়ে দ্রুত নিজেদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ হয়ে ওঠেন।

​৩. আবেগের বদলে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

বন্ধুদের প্রভাবে আমরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু যারা একা থাকেন, তারা সমাজ বা বন্ধুদের চাপে না পড়ে নিজেদের লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তারা স্রেফ দেখানোর জন্য নয়, বরং যা প্রয়োজন তা-ই করেন।

৪. নিজস্ব ও অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হওয়া।

বন্ধুদের দলে থাকলে সবার চিন্তাধারা প্রায় একই রকম হয়ে যায়। একা থাকলে এই 'দলগত চিন্তা' (Groupthink) থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তারা নতুন ও ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারেন, যা উদ্ভাবনী কাজের জন্য জরুরি।

​৫. অস্বস্তিকে উন্নতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা৷

খারাপ সময়ে মন হালকা করার জন্য কথা বলার মতো বন্ধু না থাকলে সেই কষ্ট মানুষকে ভেতর থেকে শক্ত করে। তারা একাকীত্ব বা অস্বস্তিকে ভয় পায় না, বরং সেই পরিস্থিতি সামলে নিয়ে সামনে এগোতে শেখে।

​৬. নিজের শক্তি বা এনার্জি সংরক্ষণ করা৷

সামাজিক সম্পর্ক সামলানো বেশ চাপের কাজ। বন্ধুদের ঝগড়া মেটানো বা তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অনেক মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। বন্ধু না থাকলে এই পুরো এনার্জি বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ করা যায়।

​৭. ভুল বোঝাবুঝিতে ঘাবড়ে না যাওয়া।

সফল হতে গেলে অনেক সময় এমন কাজ করতে হয় যা অন্যরা বুঝতে পারে না। যারা একা থাকতে অভ্যস্ত, তারা লোকে কী ভাবল বা কে ভুল বুঝল—তা নিয়ে মাথা ঘামান না। তারা স্রেফ নিজের কাজে মনোযোগ দেন।

​৮. ব্যক্তিগত সম্পর্কের বদলে পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি।

বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, অনেক সফল মানুষ ব্যক্তিগত বন্ধু কম রাখলেও কাজের ক্ষেত্রে বিশাল বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তারা আবেগ আর পেশাদারিত্বকে আলাদা রাখতে পারেন, যা ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য খুব জরুরি।

এর মানে এই নয় যে সফল হতে হলে আপনাকে অসামাজিক হতে হবে। মূল কথা হলো, যারা একা থাকেন তারা আসলে অসামাজিক নন, তারা বরং খুব 'সিলেক্টিভ' বা বাছাই করা মানুষের সাথে মেশেন। তারা জনপ্রিয় হওয়ার চেয়ে নিজের উন্নতিতে বেশি গুরুত্ব দেন।

​আপনি যদি নিজেকে এমন একাকী মানুষের দলে খুঁজে পান, তবে মনে রাখবেন—আপনি পিছিয়ে নেই, হয়তো আপনি একদম অন্যরকম ও অসাধারণ কোনো সাফল্যের জন্য তৈরি হচ্ছেন। সূত্র: সাইকোলজি টুডে


১২

প্রোডাক্টিভ মানুষ হবেন যেভাবে 


​১. স্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়ে দিন শুরু করুন।

কাজ শুরু করার আগেই ঠিক করে নিন আজ কী কী করবেন। প্রতিদিন সকালে ৫-১০ মিনিট সময় নিয়ে সারা দিনের কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক থেকে তিনটি কাজ আগে শেষ করার লক্ষ্য নিন।

​২. স্মার্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

আপনার লক্ষ্যগুলো যেন সুনির্দিষ্ট (Specific), পরিমাপযোগ্য (Measurable), অর্জনযোগ্য (Achievable), প্রাসঙ্গিক (Relevant) এবং সময়াবদ্ধ (Time-bound) হয়। ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করলে কাজে উৎসাহ বজায় থাকে।

​৩. একসাথে অনেক কাজ (Multitasking) করবেন না।

আমরা মনে করি একসাথে অনেক কাজ করলে দ্রুত শেষ হবে, কিন্তু আসলে এতে মনোযোগ নষ্ট হয় এবং ভুল বেশি হয়। তাই একটি সময়ে একটি মাত্র কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিন।

​৪. ৮০/২০ নিয়ম (Pareto Principle) অনুসরণ করুন।

সাধারণত আমাদের ২০% কাজ থেকেই ৮০% ফলাফল আসে। তাই খুঁজে বের করুন কোন কাজগুলো আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই কাজগুলোতে বেশি সময় দিন।

​৫. মনোযোগ নষ্টকারী বিষয়গুলো দূরে রাখুন।

কাজের সময় ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। সোশ্যাল মিডিয়া বা অপ্রয়োজনীয় মেসেজ চেক করা থেকে বিরত থাকুন। গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন।

​৬. নিয়মিত বিরতি নিন।

টানা কাজ করলে মস্তিস্ক ক্লান্ত হয়ে যায়। 'পোমোডোরো' (Pomodoro) পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন— অর্থাৎ ২৫ মিনিট কাজ করার পর ৫ মিনিট বিরতি নিন। এতে কাজের গতি ও মান বাড়ে।

​৭. ডিজিটাল এবং শারীরিক পরিবেশ গোছানো রাখুন৷

আপনার টেবিল এবং কম্পিউটারের ডেস্কটপ অগোছালো থাকলে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। দিন শেষে মাত্র ২ মিনিট সময় নিয়ে চারপাশ গুছিয়ে রাখুন, যাতে পরের দিন ফ্রেশ মনে কাজ শুরু করতে পারেন।

​৮. সাপ্তাহিক পর্যালোচনা করুন।

সপ্তাহ শেষে একবার ভেবে দেখুন—কী কী কাজ ভালো হয়েছে আর কোথায় সমস্যা ছিল। এই ছোট রিভিউ আপনাকে সামনের সপ্তাহে আরও ভালো করতে সাহায্য করবে।

​৯. প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখুন।

আপনার কাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত নতুন কিছু শিখুন। নতুন প্রযুক্তি বা কাজের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানলে আপনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন এবং কাজ সহজ হবে।

​১০. পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিজের যত্ন নিন।

ভালো ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। শরীর সুস্থ থাকলে এবং মন শান্ত থাকলে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই বেশি কাজ করতে পারবেন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং পুষ্টিকর খাবার খান।

প্রোডাক্টিভিটি মানে কেবল বেশি কাজ করা নয়, বরং সঠিক কাজটি সঠিকভাবে করা। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো আপনার কর্মজীবনকে আরও সহজ এবং সফল করে তুলবে। সূত্র: ডেভোট ডট টিম ব্লগ

১৩

সুখী জীবনের জন্য ১০টি কার্যকর কৌশল  


​১. যে মানুষ আপনাকে আর গুরুত্ব দিচ্ছে না, তার পেছনে পড়ে থাকবেন না। পড়ে থাকা মানে নিজেকে কষ্ট দেওয়া। প্রাক্তন সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল চেক করবেন না।কাউকে জোর করে ধরে রাখা কোনো সমাধান নয়। যদি কেউ আপনাকে সম্মান না দেয়, তবে সেখান থেকে সরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

​২. বিষাদের গান বা ছ্যাকা খাওয়া গান শুনবেন না। ইতিবাচক গান শুনুন। প্রেরণামূলক বই পড়ুন বা পডকাস্ট দেখুন। অথবা কমেডি নাটক সিনেমা দেখুন। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে যাবে।

​৩. মানুষের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখুন। কেউ আপনার মেসেজের উত্তর দেয়নি বা ফোন ধরেনি মানেই সে আপনাকে এড়িয়ে চলছে— এমনটা ভাবা ভুল। নেতিবাচক চিন্তা আপনার মানসিক চাপ বাড়ায়। মানুষকে অযথা সন্দেহ না করে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে জীবন সহজ হয়।

​৪. অতীত থেকে শিক্ষা নিন, কিন্তু বর্তমানে বাঁচুন। অতীতের ভুল বা কষ্ট নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকলে সময় নষ্ট হয়। অতীত কেবল আপনার অভিজ্ঞতার জন্য। বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিন এবং জীবনে নতুন কিছু করার জায়গা তৈরি করুন।

​৫. নিজ থেকে উদ্যোগ নিন। সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ করুন বা নতুন কিছু শুরু করুন। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা বা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিজেই করুন।

​৬. ভয়কে দূরে সরিয়ে রাখুন। অজানা কিছু মানেই খারাপ— এই ধারণাটি ভুল। ভয় আমাদের নতুন কিছু করতে বাধা দেয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, "যদি নতুন কিছু করার ফলে আমার জীবন আরও সুন্দর হয়?" ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই হলো স্মার্টনেস।

​৭. প্রতিদিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। আপনার জীবনে যা কিছু ভালো আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। মন খারাপ থাকলে আপনার জীবনের অন্তত ৬টি ভালো জিনিসের নাম মনে করুন। এটি আপনার মানসিক ফোকাসকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দেবে।

​৮. বাস্তববাদী হোন। জীবনকে অযথা প্রত্যাশা আর কাল্পনিক চিন্তা দিয়ে জটিল করবেন না। বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক, তাকে মেনে নেওয়াই হলো এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ। পরিস্থিতি মেনে নিলে মন শান্ত থাকে।

​৯. ভালো সঙ্গ নির্বাচন করুন৷ এমন মানুষের সাথে মেলামেশা করুন যারা আপনাকে উৎসাহিত করে এবং আপনার কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনে। যারা সবসময় নেতিবাচক কথা বলে বা আপনাকে নিচু করে দেখে, তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

​১০. সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের জীবনের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। অন্য কেউ আপনার সাথে খারাপ করেছে বলে নিজেকে 'ভিকটিম' বা অসহায় ভাববেন না। আপনার সুখ এবং মানসিক শান্তি নির্ভর করে আপনি কোন পথে চলবেন এবং কী সিদ্ধান্ত নেবেন তার ওপর।

​নিজের জীবনকে ভালোবাসার মতো করে সাজিয়ে তোলা আপনারই দায়িত্ব। বিরক্তি বা দুঃখ এড়িয়ে সুখে থাকার চাবিকাঠি আপনার সিদ্ধান্তের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। সূত্র: yourtango.com

১৪

জীবনের এমন কিছু সত্য, যা আপনার জীবনের পথচলা সহজ করবে


যিনি সবারই বন্ধু, তাঁর সঙ্গে বুঝেশুনে চলুন। এ রকম ব্যক্তির সঙ্গে হুট করে বন্ধুত্ব তো নয়ই; বরং নিরাপদ দূরত্বে থাকুন। আর কিছু কিছু মানুষ থেকে আপনি যত দূরে থাকবেন, ততই ভালো।

অন্যের দ্বারা কেবল ব্যবহৃত হওয়ার চেয়ে একা থাকা ঢের ভালো।

আপনার আশপাশে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের আপনি পছন্দ করেন না। মূলত সেই সব মানুষের জন্য আপনি এমন সব পরিস্থিতিতে পড়েন, যেসব আপনার জন্য অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর। যেসব আপনার ভেতরে আত্মবিশ্বাসহীনতা, দ্বিধার সংকট তৈরি করে। আর্থিক সচ্ছলতা আপনাকে এ ধরনের মানুষকে এড়িয়ে চলার স্বাধীনতা দেয়।

মানুষ যত ওপরে উঠতে থাকে, ততই একা হতে থাকে। কেননা, ওপরে কতজনই–বা উঠতে পারে? ওপরে উঠতে পারে গুটিকয় মানুষ। নিচের স্তরে মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সবার ওপরের স্তরে মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে কম। তাই একা হতে ভয় পাবেন না। আর সত্যি কথা বলতে কী, সত্যিকারের একজন বা দুজন ভালো বন্ধু, সৎ জীবনসঙ্গী বা দুঃসময়ে পাশে থাকার মতো পরিবার—একজীবনে এটুকুই যথেষ্ট।

সৎ, ভালো মানুষেরা পৃথিবীতে বিরল। তাই তাঁদের খোঁজ পেলে সম্ভব হলে জীবনের যাত্রাপথের সঙ্গী করে নিন।

আপনি মনে মনে নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করেন? অন্যের সফলতায় ঈর্ষা বোধ করেন? এর একটাই মানে। আপন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নন। আপনি নিজেকে নিয়ে সুখী নন, বরং নিজের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন।

জীবনের পুরোটা সময় আপনার সুখে কাটবে না। তবে খারাপ সময়ও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূলত খারাপ সময়ই আপনার ভেতরের সেরাটা বের করে আনতে, ‘বেস্ট ভার্সন’ হয়ে উঠতে সাহায্য করে।

কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আর এটাই জীবনের সৌন্দর্য। আপনার খারাপ সময়ও সব সময় থাকবে না।

ব্যর্থতা জীবনের অংশ। ব্যর্থ হওয়ার পরও আপনি নিজের সেরাটা ঢেলে সঠিক সময়ে সফলতার দেখা পান।

অন্যে আপনাকে নিয়ে কী ভাবল, সেটি আপনার ভাবনা নয়। তবে কোনো ঘটনায় বা পরিস্থিতিতে আপনি কী প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, সেটা আপনার নিয়ন্ত্রণে।

আপনি এখন যে জীবনটা যাপন করছেন, একসময় এটাই ছিল স্বপ্ন। তাই কখনো সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করতে ভুলবেন না। 

তাৎক্ষণিক ফল না পেয়ে ভালো কিছু করার জন্য কখনোই অনুশোচনা করবেন না। মনে রাখবেন, ভালো কিছু বহু গুণে সঠিক সময়ে আপনার জীবনে ফিরে আসবে।

আপনি সবার ‘কাপ অব টি’ নন, এটিই স্বাভাবিক।  সূত্র: কি ফর সাকসেস

১৫



মানুষ চাইলেই নিজের জীবনে আরও বেশি সুখ খুঁজে নিতে পারে। দুঃখকষ্টের কোনো জাদুকরী ওষুধ নেই। তবে কিছু মানসিক, আবেগময় ও শারীরিক অভ্যাস আমাদের জীবনে সুখের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

আপনার জীবনে পেছনের ব্যর্থতা আছে বা কোনো অপ্রিয় ঘটনা আছে৷ এসব যদি আপনি ভুলতে পেরে থাকেন, আপনি সুখী মানুষ।

আপনি কখনোই অতিরিক্ত চাপ নেন না৷ আপনার কাজে আপনার আনন্দ আছে৷ কেউ চাপ দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে চাইলে আপনি সুন্দরভাবে 'না' বলতে পারেন। আপনি সুখী মানুষ।

ফেসবুকে অন্যের সাফল্য দেখছেন। কেউ চাকরি পেয়েছে, কেউ জীবনে বিশেষ কিছু অর্জন করেছে৷ কেউ গাড়ি কিনেছে, কেউ বিদেশে ঘুরতে গেছে৷ এসব দেখে যদি আপনার হিংসা না হয়, নিজের জীবন নিয়ে হতাশা না আসে, সেই লোকের সাথে নিজের জীবনের তুলনা না করেন, তাহলে আপনি সুখী মানুষ৷

আপনি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেন না৷ ভেবে চিন্তে, বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেন৷ অন্য কারো চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না৷ নিজের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। আপনি সুখী মানুষ।

জীবনের ছোটখাটো ঝামেলাকে বড় করে দেখেন না৷ ঝামেলাকে বড় করে দেখলেই সেটা বড় হয়ে যায়৷ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলে সেটা আর ঝামেলাই না৷ আপনার তুড়ি মারার ক্ষমতা আছে৷ আপনি সুখী মানুষ৷

পারফেক্ট জীবনের পেছনে সময় নষ্ট করেন না৷ পৃথিবীতে কেউ পারফেক্ট না। কারো পক্ষে শতভাগ পারফেক্ট হওয়া সম্ভবও না৷ তাই আপনার সকল সীমাবদ্ধতা, অপূর্ণতাকে মেনে নিয়ে দিনযাপন করেন। পারফেক্ট হবেন না জেনেই দক্ষতা বাড়ান, সমৃদ্ধ হোন। তাহলে আপনি সুখী মানুষ৷

আপনি শুধু নিজের সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকেন না৷ আশপাশের লোকের সমস্যা সম্পর্কে ভাবেন, সমাধানে যেতে চেষ্টা করেন। অন্য মানুষের উপকারে মানসিক তৃপ্তি আসে৷ সুখী মানুষ হওয়ার জন্য এটা প্রয়োজন।

আপনার কোনো অহেতুক প্রত্যাশা নেই৷ যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, ওসব নিয়ে কপাল না চাপড়িয়ে অ্যাডজাস্ট করে নিয়েছেন৷ তাহলে আপনি সুখী মানুষ৷ সূত্র: সাইকোলজি টুডে


১৬

 আপনার চিন্তার ধরনই আপনার মূল সমস্যা


অনেক মানুষ মনে করে, “আমার টাকা নেই, পরিচিত কেউ নেই, ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই-তাই আমি কিছু করতে পারছি না।”

কিন্তু সত্যিটা হলো- এগুলো আপনার আসল বাধা না। আসল বাধা হলো, আপনি ভেতরে ভেতরে আগেই হেরে গেছেন।

Netflix দেখার জন্য সময় বের হয়, কিন্তু নতুন কোনো স্কিল শেখার জন্য সময় নেই।

দুই ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া যায়, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিরিয়াসভাবে ভাবার সময় হয় না।

নতুন কোনো সুযোগ দেখলেই মনে হয়, “এটা আমার দ্বারা হবে না…”

এটাই হলো আসল সমস্যা। সত্যটা খুব সোজা-

আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো আপনার নিজের সীমাবদ্ধ চিন্তা (Limiting Beliefs)।

যেদিন আপনি ভাবতে শুরু করবেন-“আমার ব্যাকগ্রাউন্ড যেমনই হোক, আমি সফল হতে পারি।”

“অন্যরা যদি পারে, আমি কেন পারবো না?”“টাকা বা কনেকশন না থাকলেও আমি নিজের জায়গা নিজেই বানাতে পারি।”

ঠিক সেদিন থেকেই আপনার উন্নতির পথ শুরু হবে।

- আগে নিজের ভুল বিশ্বাসগুলো চিনে নিন

- যে চিন্তা আপনাকে পিছিয়ে রাখছে, সেটা বদলান

- কাজ শুরু করুন—কারণ শুধু ভাবলে কিছুই বদলায় না

আপনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটা আপনার ভবিষ্যৎ ঠিক করে না।

আপনি কীভাবে ভাবছেন—সেটাই ঠিক করে আপনি কোথায় যাবেন।

তাই আগে নিজের চিন্তা ঠিক করুন। সবকিছু ঠিক হতে শুরু করবে।


১৭

Win the Morning, Win the Day


ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা—দিনের এই প্রথম ৩ ঘণ্টাই ঠিক করে দেয় আপনি ভিড়ের অংশ হবেন, নাকি লিডার হবেন!

 যারা জীবনে লিডার বা সফল, তাদের দিন শুরু হয় সূর্য ওঠার আগে। যখন বাকি পৃথিবী ঘুমে থাকে, তখন তারা তাদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা—এই ৩ ঘণ্টা হলো দিনের সবচেয়ে দামী সময়, যাকে বলা হয় 'গোল্ডেন আওয়ার' (Golden Hour)।

এই ৩ ঘণ্টা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে

১. নীরবতা এবং ফোকাস (Zero Distraction)

এই সময়টা পৃথিবীর কোলাহল থাকে না। এই নীরবতায় আপনি নিজের কাজ, পড়াশোনা বা প্ল্যানিং যতটা মন দিয়ে করতে পারবেন

২. প্রো-অ্যাকটিভ বনাম রি-অ্যাকটিভ

সাধারণ মানুষ ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করে অফিসের জন্য দৌড় দেয় (Reactive)। কিন্তু লিডাররা হাতে সময় নিয়ে ওঠেন। তারা মেডিটেশন করেন, ব্যায়াম করেন বা বই পড়েন। তারা দিনটাকে নিয়ন্ত্রণ করেন, দিন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে না। সকালের এই মানসিক প্রশান্তি সারাদিন তাদের মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

৩. প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা

আপনি যদি প্রতিদিন সবার চেয়ে ৩ ঘণ্টা আগে ওঠেন, তবে সপ্তাহে আপনি ২১ ঘণ্টা এবং মাসে প্রায় ৯০ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন!

যখন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ঘুম থেকে উঠবে, ততক্ষণে আপনি তাদের চেয়ে কয়েক মাইল এগিয়ে গেছেন।

 

১৮

কিছু শখ মস্তিষ্কের একঘেয়েমি দূর করে


এখানে সৃজনশীলতা বা ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু শখের কথা বলা হয়েছে। এগুলো আপনার মস্তিষ্কের একঘেয়েমি দূর করে এবং নতুনভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে।

​১. পেইন্টিং বা আঁকাআঁকি: আপনার শিল্পী হওয়ার প্রয়োজন নেই; শুধু রং আর তুলি নিয়ে মনে যা আসে তা আঁকলে মস্তিষ্কের জড়তা কাটে।

২. জার্নালিং বা ডায়েরি লেখা: নিজের চিন্তাগুলো লিখে রাখা আপনার কল্পনাশক্তিকে শাণিত করে এবং মনের চাপ কমায়।

৩. রান্না বা বেকিং: নতুন রেসিপি ট্রাই করা এক ধরনের সৃজনশীল পরীক্ষা। খাবারের স্বাদ ও সাজসজ্জা নিয়ে কাজ করলে নতুন আইডিয়া জন্ম নেয়।

৪. বাগান করা (Gardening): প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটালে এবং একটি গাছকে বেড়ে উঠতে দেখলে মনে প্রশান্তি আসে, যা ক্রিয়েটিভ চিন্তার জন্য খুব জরুরি।

৫. মাটির কাজ বা পটারি: নিজ হাতে মাটি দিয়ে কোনো কিছু তৈরি করা আপনাকে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিতে শেখায়।

৬. ছবি তোলা (Photography): সাধারণ জিনিসের মধ্যে অসাধারণ কিছু খুঁজে বের করার অভ্যাস আপনার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়।

৭. বুনন বা সেলাই (Knitting/Embroidery): সুঁই-সুতার কাজ বা উলের বুনন মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং হাতের সুনিপুণ কাজে সৃজনশীলতা প্রকাশ পায়।

৮. বাদ্যযন্ত্র শেখা: নতুন কোনো সুর শেখা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো মস্তিষ্কের দুই অংশকেই সচল রাখে।

৯. পাজল বা ধাঁধা মেলানো: এটি সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায়, যা সৃজনশীল কাজের একটি প্রধান অংশ।

১০. নতুন ভাষা শেখা: ভিন্ন সংস্কৃতির ভাষা ও শব্দ জানলে মানুষের চিন্তার জগৎ আরও বড় হয়।

শখ মানে এই নয় যে আপনাকে এতে সেরা হতে হবে। মূল উদ্দেশ্য হলো আনন্দ পাওয়া এবং নিজের একঘেয়ে রুটিন থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করা। যখন আপনার মন ফুরফুরে থাকে এবং আপনি চাপমুক্ত থাকেন, তখনই সৃজনশীলতা সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়।

​আপনি চাইলে আপনার পছন্দমতো যেকোনো একটি কাজ আজই শুরু করতে পারেন। সূত্র: গুড হাউসকিপিং


১৯

ইউরোপে থাকলে কি গায়ের রং পুরোপুরি ফর্সা হয়ে যাবে?


কোনো শ্যামলা বর্ণের মানুষ যদি অনেক বছর ইউরোপের কোনো বরফ শীতল দেশে থাকে তাহলে কি তার গায়ের রং পুরোপুরি ফর্সা হয়ে যাবে? 

অনেক বছর ইউরোপে থাকলেও শ্যামলা মানুষের গায়ের রং “পুরোপুরি ফর্সা” হয়ে যাবে না।

কারণগুলো

গায়ের রং মূলত জেনেটিক

ত্বকের রং নির্ধারিত হয় মেলানিনের পরিমাণ ও ধরন দিয়ে—এটা আপনার DNA-তে লেখা। জায়গা বদলালে DNA বদলায় না।

পরিবেশে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে

কম রোদে থাকলে:

ট্যান কমে

ত্বক কিছুটা হালকা দেখাতে পারে

কিন্তু এটা রিভার্সিবল—রোদে গেলে আবার আগের মতো হবে।

জেনেটিক পরিবর্তন ব্যক্তিগত জীবনে হয় না

একজন মানুষের জীবদ্দশায় ত্বকের রঙের জিন বদলায় না।

প্রজন্ম ধরে থাকলে ধীরে পরিবর্তন সম্ভব

শত/হাজার বছর ধরে কম UV অঞ্চলে বসবাস করলে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে ত্বক ধীরে হালকা হতে পারে।

এটাই ইউরোপীয়দের ক্ষেত্রে হয়েছে—এক প্রজন্মে নয়।

সারকথা:

ব্যক্তিগতভাবে → না

প্রজন্ম ধরে → হ্যাঁ, খুব ধীরে।

মানুষের ত্বকের রঙ মেলানিন নামের রঞ্জক দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই মেলানিন কতটা তৈরি হবে তা জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। শ্যামলা বা ফর্সা বর্ণ তাই মূলত জন্মগত বৈশিষ্ট্য।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি,মেলানিন উৎপাদন বাড়ায়। ইউরোপের ঠান্ডা দেশে সূর্যালোক কম থাকায় দীর্ঘদিন সেখানে থাকলে, ত্বকের উপরের স্তর সাময়িকভাবে কিছুটা হালকা দেখাতে পারে। তবে ত্বকের ভেতরের মেলানিন এবং মেলানোসাইট অপরিবর্তিত থাকে।

অনেক বছর ঠান্ডা দেশে থাকলেও, গায়ের রং পুরোপুরি ফর্সা হয়ে যায় না। আবার রোদে গেলে আগের রং ফিরে আসে। কারণ জিনের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন হয় না।

বিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন মানুষের জীবদ্দশায় পরিবেশের কারণে তার ডিএনএ বদলায় না। ত্বকের রঙের জেনেটিক পরিবর্তন বহু প্রজন্ম ধরে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে ঘটে। তাই শ্যামলা বর্ণের মানুষের গায়ের রং বা জিন ঠান্ডা দেশে থাকার ফলে স্থায়ীভাবে বদলায় না।

তবে একটি বিষয় আছে যাকে বলা হয় এপিজেনেটিক প্রভাব। এতে জিনের কাজ করার ধরন সামান্য বদলাতে পারে। কিন্তু এতে গায়ের রং পুরো বদলে যায় না এবং পরবর্তী প্রজন্মে স্থায়ীভাবে চলে যায় এমনও নয়।

২০

 চুইংগাম চিবানো মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়ক


কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চুইংগাম চিবানো সাময়িকভাবে মনোযোগ সতর্কতা এবং প্রতিক্রিয়ার গতি বাড়াতে পারে।

এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে এবং হালকা মানসিক উদ্দীপনা তৈরি হয়। এই উদ্দীপনা মানুষকে বেশি সচেতন রাখে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

একঘেয়ে বা চাপযুক্ত কাজে চুইংগাম চিবানো মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হতে পারে। চিবানোর প্রক্রিয়া শরীরকে কিছুটা আরাম দেয় এবং মানসিক অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখে।

তাইয়েবুন নেছা..

পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র আওয়াজ


ভাবুন তো, এমন একটি আওয়াজ যার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ৪০ কিলোমিটার দূরে থাকা ব্যক্তিরও কানের পর্দা ফেটে গিয়েছিল!

১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার Krakatoa আগ্নেয়গিরি যখন বিস্ফোরিত হয়েছিল, তখন পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র আওয়াজ সৃষ্টি হয়েছিল। এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ৩০০০ মাইল দূরে থেকেও এই শব্দ শোনা গিয়েছিল। সাধারণ একটি রকেটের ইঞ্জিন থেকে প্রায় ১৮০ dB আওয়াজ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে এই আগ্নেয়গিরি থেকে সৃষ্ট হওয়া আওয়াজের মাত্রা ছিল প্রায় ৩১০ dB! এটিকে কোনো শব্দ বললে আসলে ভুল হবে। কারন এর ফলে যে Pressure wave তৈরি হয়েছিল তা পৃথিবীর চারদিকে প্রায় চারবার ঘুরেছিল।

শুধু যে শব্দ তৈরি করেছিল তা নয়, এর ফলে যে সুনামির সৃষ্টি হয়েছিল তাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। প্রকৃতির গর্জন যে কতটা ভয়ানক হতে পারে, এটি তার একটি উদাহরণ।

২২

হাফ সিদ্ধ ও ফুল সিদ্ধ ডিমের পার্থক্য 


হাফ সিদ্ধ ডিমে ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে ' 'সালমোনেলা' নামের জীবাণু পুরোপুরি নষ্ট নাও হতে পারে। সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক, মানুষের জন্য মাঝে মাঝে খেলে তেমন বড় কোনো সমস্যা হয় না । তবে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পুষ্টিগুণের দিক থেকে হাফ সিদ্ধ ও ফুল সিদ্ধ ডিমের পার্থক্য খুব বেশি নয়। হাফ সিদ্ধ ডিমে কিছু ভিটামিন সামান্য বেশি থাকতে পারে। আবার ফুল সিদ্ধ ডিমে প্রোটিন পুরোপুরি রান্না হওয়ায় শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে। সাধারণভাবে, ডিম ফুল সিদ্ধ করলেও এর মূল পুষ্টিগুণ যেমনঃ প্রোটিন, ফ্যাট এবং মিনারেল প্রায় একই থাকে।

সব দিক বিবেচনায় , স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য ফুল সিদ্ধ ডিম সবচেয়ে ভালো বিকল্প। নিয়মিত খাওয়ার ক্ষেত্রে ফুল সিদ্ধ ডিমই বেশি স্বাস্থ্য সম্মত। আর হাফ সিদ্ধ বা লিকুইড কুসুম ডিম চাইলে মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

২৩

গভীর সমুদ্রের ভালোবাসা: যেখানে পুরুষ মাছ বিলীন হয় স্ত্রীর দেহে


গভীর সমুদ্রের অন্ধকার জগতে অ্যাঙ্গলারফিশের বংশবিস্তারের পদ্ধতি অত্যন্ত বিস্ময়কর। এই প্রজাতির পুরুষ মাছগুলো আকারে স্ত্রী মাছের তুলনায় অনেক ক্ষুদ্র হয়। মিলনের প্রয়োজনে একটি পুরুষ মাছ যখন কোনো বিশালাকার স্ত্রী মাছের দেখা পায়, তখন সে তার গায়ে কামড় দিয়ে আটকে যায়। সময়ের সাথে সাথে পুরুষ মাছটি স্ত্রী মাছের শরীরের সাথে পুরোপুরি মিশে যায় বা বিলীন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সে কেবল একটি শুক্রাণুর থলিতে পরিণত হয়, যা স্ত্রী মাছটি প্রয়োজনমতো ডিম পাড়ার সময় ব্যবহার করতে পারে। প্রকৃতির এই চরম আত্মত্যাগ ও মিলন প্রক্রিয়া সত্যিই বিরল।


২৪

 হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া পাখি পথ হারায় না কেন?


প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কোটি কোটি পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়, অনেক সময় সমুদ্র, মরুভূমি কিংবা অজানা আকাশপথ পেরিয়ে কোনো মানচিত্র বা জিপিএস ছাড়াই। প্রশ্ন হলো, তারা পথ হারায় না কেন?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাখিদের শরীরে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক ন্যাভিগেশন সিস্টেম। অনেক পরিযায়ী পাখি সূর্য ও তার অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করে। দিনের বেলায় সূর্যের কোণ, আর রাতে তারা নক্ষত্রের অবস্থান ব্যবহার করে তারা নিজেদের পথ ঠিক রাখে।এর পাশাপাশি পাখিদের রয়েছে আশ্চর্য ক্ষমতা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অনুভব করা। গবেষণায় দেখা গেছে, পাখিদের চোখ ও মস্তিষ্কে এমন বিশেষ কোষ আছে, যেগুলো পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড শনাক্ত করতে পারে। একে বলা হয় magnetoreception। এর মাধ্যমে তারা উত্তর-দক্ষিণ বুঝতে পারে, এমনকি মেঘলা আকাশেও।

আরও মজার বিষয় হলো, পাখিরা ভূপ্রকৃতি, নদী, পাহাড়, উপকূলরেখা এবং গন্ধও মনে রাখে। অভিজ্ঞ পাখিরা আগের যাত্রার স্মৃতি ব্যবহার করে পরেরবার আরও নিখুঁতভাবে গন্তব্যে পৌঁছায়। তরুণ পাখিরা আবার দলবদ্ধভাবে উড়ে অভিজ্ঞ পাখিদের অনুসরণ করে শেখে।

সব মিলিয়ে, পাখিদের এই দীর্ঘ যাত্রা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় এটি সূর্য, নক্ষত্র, চৌম্বক ক্ষেত্র, স্মৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ।@ তথ্য সূত্র:National Geographic,

২৫

ডাইনোসরের বয়স নিয়ে চমকপ্রদ সত্য


আমরা অনেকেই ভাবি ডাইনোসররা নিশ্চয়ই শত শত বছর বেঁচে থাকত, কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় জানা গেছে, বেশিরভাগ ডাইনোসরের গড় আয়ু ছিল আশ্চর্যজনকভাবে কম।

যেমন, টিরানোসরাস রেক্স মাত্র ১৬–২২ বছরে পুরো বড় হয়ে যেত এবং সাধারণত ২৭–৩৩ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকত। আবার বিশাল আকারের ডাইনোসর যেমন ব্রন্টোসরাস ও ডিপ্লোডোকাস প্রায় ৩৯–৫৩ বছর জীবিত থাকত, খুব বেশি হলে ৭০ বছর। আকারে বিশাল হলেও তাদের জীবন ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট, এটাই ডাইনোসরদের এক আশ্চর্য বাস্তবতা!

২৬

বার্ড-ইটিং স্পাইডার


দক্ষিণ আমেরিকার টারান্টুলা, যা 'বার্ড-ইটিং স্পাইডার' বা পাখি-খেকো মাকড়সা নামেও পরিচিত, এটি বিশ্বের বৃহত্তম মাকড়সার প্রজাতি। এদের দেহের গড় দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার এবং পায়ের বিস্তার ২৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

​অন্যদিকে, ক্ষুদ্রতম মাকড়সাগুলো পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় লম্বায় খুব কমই এক মিলিমিটার অতিক্রম করে। যদিও সব প্রজাতির মাকড়সা শিকারি, তবে তারা সবাই শিকার মারার জন্য বিষের ওপর নির্ভর করে না।

২৭

অবচেতন মনকে প্রভাবিত করা বা নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল


ডার্ক সাইকোলজি বা অন্ধকার মনোবিজ্ঞান মূলত মানুষের অবচেতন মনকে প্রভাবিত করা বা নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল নিয়ে কাজ করে। এগুলো যেমন চমকপ্রদ, তেমনি কিছুটা ভয়ংকরও হতে পারে।

নিচে এমন কিছু তথ্য দেওয়া হলো যা আপনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে:

১. ‘বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন’ ইফেক্ট (উল্টো কৌশল)

আমরা মনে করি আমরা যাদের পছন্দ করি, তাদের জন্য কাজ করি। কিন্তু ডার্ক সাইকোলজি বলে—আপনি যদি কাউকে দিয়ে আপনার কোনো কাজ করিয়ে নিতে পারেন, তবে সেই ব্যক্তি আপনাকে আগের চেয়ে বেশি পছন্দ করতে শুরু করবে। কারণ তার মস্তিষ্ক তাকে বোঝাবে যে, "যেহেতু আমি একে সাহায্য করছি, তার মানে নিশ্চয়ই আমি একে পছন্দ করি।" মানুষ নিজের যুক্তির কাছে নিজেই হেরে যায়।

২. নীরবতার শক্তি (The Power of Silence)

যদি কেউ আপনাকে কোনো প্রশ্নের অসম্পূর্ণ বা মিথ্যা উত্তর দেয়, তবে আপনি কিছুই বলবেন না। শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ তাকিয়ে থাকুন। এই নীরবতা অপর ব্যক্তিকে এতটাই অস্বস্তিতে ফেলে দেবে যে, সেই অস্বস্তি কাটাতে সে গড়গড় করে সত্যি কথা বা আরও গোপন তথ্য বলে দেবে।

৩. গ্যাসলাইটিং (Gaslighting)

এটি মানসিকভাবে কাউকে ভেঙে ফেলার অন্যতম ভয়ংকর কৌশল। এতে বারবার একজনকে বলা হয় যে তার স্মৃতিশক্তি খারাপ বা সে যা দেখছে তা ভুল। এক সময় ওই ব্যক্তি নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে এবং পুরোপুরি অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

৪. ফলস অ্যাট্রিবিউশন (ভুল উত্তেজনা)

মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সময় উত্তেজনার কারণ ঠিকঠাক বুঝতে পারে না। যেমন—আপনি যদি কাউকে নিয়ে কোনো ভয়ের সিনেমা দেখেন বা পাহাড়ে চড়েন (যেখানে হার্টবিট বেড়ে যায়), তবে তার মস্তিষ্ক ওই শারীরিক উত্তেজনাকে আপনার প্রতি আকর্ষণ হিসেবে ভুল করতে পারে। একে 'মিসঅ্যাট্রিবিউশন অফ অ্যারাউসাল' বলা হয়।

৫. ছোট সাহায্য থেকে বড় ফাঁদ (Foot-in-the-door)

কেউ যদি আপনাকে দিয়ে প্রথমে খুব ছোট একটি কাজ করিয়ে নেয় (যা আপনি না বলতে পারবেন না), তবে পরবর্তীতে সে যখন বড় কোনো অন্যায় আবদার করবে, আপনার মস্তিষ্ক তখনো 'হ্যাঁ' বলার প্রবণতা দেখাবে। কারণ মানুষ নিজের আচরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।

২৮

মানুষ পা'দে কেন?


পা'দ বা ফ্ল্যাটাস হলো মানুষের পরিপাকতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। খাদ্য হজমের সময় অন্ত্রে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে এবং একে পা'দ বলা হয়। এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয় বরং সুস্থ হজম প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক অংশ।

খাওয়ার সময় বা কথা বলতে বলতে মানুষ অজান্তেই কিছু বাতাস গিলে ফেলে। এই বাতাস পাকস্থলী ও অন্ত্রে জমা হয়ে থাকে। পরে যখন চাপ সৃষ্টি হয় তখন সেই বাতাস পা'দ হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।

পরিপাকনালিতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া খাদ্য ভেঙে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি করে। এই ভাঙন প্রক্রিয়ার সময় হাইড্রোজেন মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্যাস উৎপন্ন হয়। এসব গ্যাস অন্ত্রে জমে গেলে তা পা'দ হিসেবে নির্গত হয়।

কিছু খাবার হজমের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি গ্যাস তৈরি করে। যেমন: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ,মুলা, দুধ এবং কোমল পানীয়। এসব খাবার গ্রহণ করলে অনেক মানুষের গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজম হলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা কমে যায়। ফলে গ্যাস সহজে বের হতে পারে না এবং জমে থেকে পরে একসঙ্গে নির্গত হয়। এতে পাদের পরিমাণ বাড়তে পারে।

একজন সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ১৪ থেকে ২৫ বার পাদতে পারে। এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয় বরং পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করছে তার একটি স্বাভাবিক চিহ্ন। @ নাফিউল ইসলাম

২৯

মানুষ জন্মগতভাবে কথা বলা ও শোনার ক্ষমতা নিয়ে জন্মালেও পড়ার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না।

মানুষের মস্তিষ্ক সারাক্ষণই সক্রিয় থাকে। তবে কোনো লেখা পড়ার সময় মস্তিষ্ক যে মাত্রায় ও যে ধরনের কাজ করে, তা অন্য অনেক দৈনন্দিন কাজের চেয়ে আলাদা। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে, পড়া শুধু তথ্য গ্রহণের একটি পদ্ধতি নয়; এটি একটি সম্পূর্ণ ব্রেন অ্যাকটিভিটি, যা মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যপ্রণালীকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ জন্মগতভাবে কথা বলা ও শোনার ক্ষমতা নিয়ে জন্মালেও পড়ার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না। ইতিহাসের বিচারে পড়া মানবসভ্যতার তুলনামূলকভাবে নতুন একটি আবিষ্কার। ফলে মস্তিষ্কে পড়ার জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট অংশ আগে থেকে তৈরি ছিল না। মানুষ পড়তে শিখেছে মস্তিষ্কের বিদ্যমান অংশগুলোকে নতুনভাবে সংযুক্ত করে। এ প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা বলেন নিউরোপ্লাস্টিসিটি অর্থাৎ অভ্যাসের মাধ্যমে মস্তিষ্ক নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলে।

পড়ার সময় মস্তিষ্কের একাধিক অংশ একসঙ্গে সক্রিয় হয়। চোখে দেখা অক্ষর প্রথমে ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে প্রক্রিয়াজাত হয়, এরপর তা ভাষা বোঝার অংশে যায়। একই সঙ্গে কাজ করে মনোযোগ, স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত অংশগুলো। ফলে পড়া মানে শুধু চোখ দিয়ে শব্দ দেখা নয়; বরং অর্থ তৈরি, অনুভূতি বোঝা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের সংযোগব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

যারা নিয়মিত বই পড়ে, তাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং বিশ্লেষণী চিন্তা তুলনামূলকভাবে উন্নত হয়। এমনকি গল্প বা উপন্যাস পড়ার সময় পাঠকের মধ্যে চরিত্রের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি হয়। এ সময় মস্তিষ্কের যে অংশ শারীরিক ব্যথা বা অস্বস্তির অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত, সেই অংশও সক্রিয় হতে পারে।

ভাষাভেদে পড়ার প্রভাবও ভিন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ইংরেজির মতো বর্ণভিত্তিক ভাষা এবং চীনা ভাষার মতো চিত্রভিত্তিক ভাষা পড়ার সময় মস্তিষ্কে আলাদা আলাদা স্নায়ুপথ সক্রিয় হয়। অর্থাৎ একই মানুষের মস্তিষ্কে ভিন্ন ভাষার জন্য ভিন্ন সার্কিট তৈরি হতে পারে।

তবে আধুনিক যুগে গভীরভাবে পড়ার অভ্যাস চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহারের কারণে মানুষ দ্রুত স্ক্রল করে পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এতে মনোযোগ কমে যাচ্ছে এবং তথ্য গভীরভাবে বোঝার সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে পড়াশোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। @সূত্র: BBC World Service, 

৩০

বই পড়লে মানসিক চাপ গড়ে প্রায় ৬৮% পর্যন্ত কমে

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ সাসেক্স এর একটি গবেষণার ফলাফল এটি। মাইন্ডল্যাব ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন কগনিটিভ নিউরোসাইকোলজিস্ট ডেভিড লুইস। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল  দৈনন্দিন  বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে স্ট্রেস কতটা কমে তা পরিমাপ করা।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র ৬ মিনিট মনোযোগ দিয়ে বই পড়লে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক চাপ গড়ে প্রায় ৬৮% পর্যন্ত কমে যায়। এই সময়ের মধ্যে হৃদস্পন্দন ধীরে আসে, পেশির টান কমে এবং মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে একটি শান্ত অবস্থায় পৌঁছায়।

বই পড়ার সময় মানুষের মন অন্য সব দুশ্চিন্তা থেকে সরে আসে। কল্পনা ও গল্পের ভেতরে ডুবে থাকার ফলে, মানসিক চাপের উৎসগুলো সাময়িকভাবে দূরে সরে যায়। যা স্বাভাবিকভাবেই মানসিক স্বস্তি তৈরি করে।

একই গবেষণায় বই পড়ার সঙ্গে, গান শোনা, হাঁটা কিংবা চা পান করার মতো অন্যান্য স্ট্রেস কমানোর উপায়ের তুলনা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, বই পড়া স্ট্রেস কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে।

তাইয়েবুন নেছা..

শীত এলে ঠান্ডা লাগবেই, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন, একই জায়গায় থেকেও কেউ কাঁপছে, আবার কেউ বেশ আরামেই আছে। এর পেছনে শুধু আবহাওয়া নয়, শরীরের ভেতরের কিছু বিষয়ও কাজ করে।

শীতকালে অনেকের হাত, পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। কারও আবার সারাক্ষণ কাঁপুনি ভাব থাকে। বেশিরভাগ সময় এটা স্বাভাবিক হলেও, কখনও কখনও শরীরের কোনো ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

• সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো আয়রন বা লোহার অভাব। শরীরে রক্ত কম হলে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না, তাই হাত-পা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। পালং শাক, ডাল, লাল মাংস, কলিজা এসব খাবার উপকারী। সাথে লেবু বা কমলার মতো ভিটামিন C থাকলে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হয়।

• থাইরয়েডের সমস্যা থাকলেও শীতে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। থাইরয়েড হরমোন কম হলে শরীর তাপ তৈরি করতে পারে না। সাথে ক্লান্তি, ওজন বাড়া বা চুল পড়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে TSH পরীক্ষা করা জরুরি।

• ভিটামিন B12 এর ঘাটতিও একটি কারণ। বিশেষ করে যারা নিরামিষ খাবার বেশি খান, তাদের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়। ডিম, দুধ, মাছ, মাংস এসব খাবার B12 এর ভালো উৎস।

• এছাড়া কম ওজন, দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, রক্ত চলাচলের সমস্যা বা ডায়াবেটিস থাকলেও শীতে বেশি ঠান্ডা লাগতে পারে। তখন শরীর গরম রাখতে বাড়তি কষ্ট হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে আরাম পেতে গরম কাপড় পরুন, হালকা ব্যায়াম করুন, গরম পানি বা চা পান করুন এবং ঘুম ঠিক রাখার চেষ্টা করুন।

 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নিজে থেকে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না। আগে রক্ত পরীক্ষা করে আসল কারণ জানুন। সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। শীত উপভোগ করুন। নিজের শরীরের কথাও একটু মন দিয়ে শুনুন। @ফেরদৌসী আক্তার তারিন


৩১

ঘুমের মধ্যে কথা বলা 


ঘুমের মধ্যে কথা বলা বা  Somniloquy (সোমনিলোকুই) একটি স্বাভাবিক এবং সাধারণ ঘটনা। এটি মূলত ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটে, যখন মস্তিষ্কের কিছু অংশ আংশিকভাবে সক্রিয় থাকে। অনেক সময় আমরা নিজেই ঘুমের সময় বলা কথাগুলো মনে রাখি না।

কেন এমন হয়?

• মানসিক চাপ বা উদ্বেগ: অতিরিক্ত চিন্তা বা স্ট্রেস ঘুমের মধ্যে কথা বলার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

• বংশগত প্রভাব: পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ঘুমের মধ্যে কথা বলার অভ্যাস থাকলে সম্ভাবনা বেশি থাকে।

• মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকলাপ: ঘুমের কিছু পর্যায়ে ভাষা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত মস্তিষ্কের অংশ আংশিকভাবে সক্রিয় থাকে।

• সাধারণ সতর্কতা:

সাধারণত ঘুমের মধ্যে কথা বলা ক্ষতিকর নয়। তবে যদি এর সঙ্গে ঘুমে চলাফেরা, আতঙ্কজনক স্বপ্ন বা চিৎকার যুক্ত হয়, তাহলে ঘুম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অনেক সময় ঘুমের মধ্যে বলা কথা আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে, তাই প্রায়ই আমরা তা মনে রাখি না।@ Tasmia Binte Alam

৩২

যাদের দক্ষতা বা জ্ঞান কম, তারা নিজের অজ্ঞতা বুঝতে পারে না।


আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো বিষয়ে কম জানা মানুষই সবচেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে। আর যারা সত্যিই জানে, তারা বরং নিজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক থাকে। এই মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাটির নাম Dunning–Kruger Effect।

১৯৯৯ সালে মনোবিজ্ঞানী David Dunning ও Justin Kruger দেখান... যাদের দক্ষতা বা জ্ঞান কম, তারা নিজের অজ্ঞতা বুঝতে পারে না। কারণ, কোনো বিষয়ের ভুল ধরতে বা নিজেকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে যে মানসিক দক্ষতা দরকার, সেটিও তাদের মধ্যে কম থাকে। ফলে তারা নিজেদের গড়ের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান মনে করে এবং আত্মবিশ্বাস অতিরিক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে, জ্ঞান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের metacognition বা নিজের চিন্তাকে যাচাই করার ক্ষমতা বাড়ে। তখন তারা বুঝতে পারে সব জানা সম্ভব নয়।

এই কারণেই দেখা যায়,

কম জ্ঞান→বেশি আত্মবিশ্বাস

বেশি জ্ঞান→বেশি সতর্কতা ও শেখার আগ্রহ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য নিয়ে দৃঢ় মতামত দেওয়া, না বুঝেই জটিল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া। এসবই Dunning–Kruger Effect-এর সাধারণ উদাহরণ। সত্যিকারের জ্ঞান মানুষকে অহংকারী নয়, বরং বিনয়ী করে তোলে। সোর্স: Dunning–Kruger Effect | APA | Britannica

৩৩

পলিথিনের জন্ম হয়েছিল একেবারে দুর্ঘটনা থেকে

পলিথিন ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন। বাজারের ব্যাগ, খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা বৈদ্যুতিক তার, সবখানেই এর ব্যবহার। মজার ব্যাপার হলো, এই দরকারি উপাদানটির জন্ম হয়েছিল একেবারে দুর্ঘটনা থেকে। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞানী রেজিনাল্ড গিবসন ও এরিক ফসেট ইথিলিন গ্যাস নিয়ে পরীক্ষার সময় হঠাৎ রিঅ্যাক্টরে সামান্য অক্সিজেন ঢুকে পড়ে। পরীক্ষাটি সফল না হলেও তারা ভেতরে পান সাদা, মোমের মতো এক পদার্থ। সেটিই ছিল প্রথম পলিথিন।

হালকা, নমনীয়, জলরোধী আর বিদ্যুৎ নিরোধক হওয়ায় এটি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাডারের ইনসুলেশনে ব্যবহার শুরু হয়, আর যুদ্ধের পর এটি সাধারণ মানুষের জীবনে ঢুকে পড়ে।

৩৪

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, এই দুটি শব্দ আমরা প্রায়ই রোগের সঙ্গে শুনে থাকি। তবে এরা এক জিনিস নয়। গঠন, কাজের ধরন ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

ব্যাকটেরিয়া হলো: এককোষী জীব। এদের নিজস্ব কোষপ্রাচীর ও DNA থাকে এবং এরা নিজেরাই বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। অনেক ব্যাকটেরিয়া আমাদের হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখে। তবে কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষা বা টাইফয়েডের মতো রোগও সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে,

• ভাইরাস: এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ জীব নয়। এদের নিজস্ব কোষ নেই এবং নিজেরা বংশবিস্তার করতে পারে না। ভাইরাস বেঁচে থাকতে ও ছড়াতে হলে অবশ্যই কোনো জীবিত কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ফ্লু, ডেঙ্গু, করোনা এসব রোগ ভাইরাসজনিত।

চিকিৎসার দিক থেকেও পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, ভাইরাসের বিরুদ্ধে নয়। তাই ভাইরাসজনিত রোগে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে কোনো উপকার হয় না বরং শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার পার্থক্য জানা মানে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবহার এড়িয়ে চলা। সচেতনতা বাড়লেই অনেক রোগ থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। @Tasmia Binte Alam


৩৫

ঈশ্বরের পক্ষে হ্যাঁ না ভোট


রুশ কমুনিস্ট পার্টির ধর্মের প্রতি কঠোর অবস্থান অনেক পুরানো। ১৯২৭ সালে রুশ দেশে প্রলেতারিয়াজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এক জরুরি সভার আহবান করা হয়। সভার আলোচ্য বিষয় মাত্র একটি - ঈশ্বর আছে কি নেই?

অনেক তর্ক বিতর্কের পর স্থির হল, জনমত অর্থাৎ ঈশ্বরের পক্ষে হ্যাঁ না ভোট নেওয়া হোক।

ভোটে 'বিপুল ভোটাধিক্যে' ঈশ্বরের পরাজয় হল। ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হল ঈশ্বর বলে কিছু নেই।

ঈশ্বর অতি কষ্ঠে পেলেন শতকরা একটি ভোট। সমস্ত প্রশাসন মিডিয়া ঈশ্বরের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। অর্থাৎ ঈশ্বর থাকলেও বোঝা গেল তার পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্ট অতিশয় রদ্দী, আর টাউটরা উভয় পক্ষের পয়সা খেয়ে শেষটায় ভোট দেয় বিধর্মীদের।

ঈশ্বরের ম্যানিফেস্টো ছিল তিনি ধার্মিকদের মৃত্যুর পর স্বর্গরাজ্য পাইয়ে দেবেন। বিরুদ্ধ পক্ষ প্রচার করল মৃত্যুর পর স্বর্গরাজ্য, অর্থাৎ পোস্ট-ডেটেট চেক অন অ নন-এক্সিটিঙ ব্যাঙ্ক।

সুতরাং ঈশ্বর দশ চক্রে ভূত হয়ে রুশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হলেন। রুশের সংবিধানে লেখা হল, 'ধর্মনিরেপেক্ষ কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রে ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করার অধিকার সর্ব কম্যুনিস্টের আছে'।

এরপর শুরু হল বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪১/৪২ সনে রুশ যখন হিটলারের হামলায় যায়-যায়, তখন স্তালিন বাধ্য হল খুলে দিলেন বেবাক চার্চ, বিস্তর মঠ, নিমন্ত্রণ করলেন মিত্র ইংলন্ডের পাদ্রীদেরকে। কারণ নাস্তিক দেশের সাথে কেউ সামরিক জোট করবে না। এরপর গির্জায় গির্জায় প্রার্থনা উঠলো, 'ঈশ্বর, হোলি রাশাকে বাঁচাও।'

৩৬


দ্রাবিড়রা কারা? দ্রাবিড়রা কখন এখানে এসেছিলেন?


এখন পর্যন্ত যা জানা গেলো, “আমরা” হচ্ছি অন্ততঃ ছয়টি জিনগত ও ভাষাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর সমষ্টি। এই সমষ্টির আদিস্তরে রয়েছে অস্ট্রলয়েড, এখন যাদেরকে AASI বলা হয়। দ্বিতীয় স্তরে অস্ট্রো-এশিয়াটিক, মুন্ডা সাঁওতাল খাসিয়া জনগোষ্ঠী। আমাদের “আমরা” পরিচয়ের তৃতীয় স্তরে রয়েছেন দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠী।

দ্রাবিড়- সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারনা, এরা দক্ষিন ভারতের মানুষ। ভাষাগোষ্ঠী হিসেবে দ্রাবিড় হচ্ছে দক্ষিন ভারতের কয়েকটি ভাষা( কন্নড়, তামিল, তেলেগু, মালায়লাম ইত্যাদি) । আমরা এখন যে কথা বলি তার মধ্যে বহুল প্রচলিত অনেক শব্দ দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর বা এর কাছাকাছি। যেমনঃ- কলা( কন্নড় ভাষায় কালে), চাল( তামিল ভাষায় চারু), মীন( তামিল ভাষায় মিন), পেট( তেলেগু ভাষায় পেট), ভুড়ি( মালায়লাম ভাষায় বরি), শাড়ি( তামিলা ভাষায় চেরি)। আমরা যে দুধ থেকে ফার্মেনেন্ট করে দই, মাঠা তৈরী করি; নারিকেল এবং টক জাতীয় খাবার খাই অথবা পিঠাপুলি পছন্দ করি- এসব দ্রাবিড় সংস্কৃতিজাত। বাংলায় এখন সরাসরি দ্রাবিড় হিসেবে চিহ্নিত করার মত কোন জনগোষ্ঠী না থাকলেও আমাদের সবার মধ্যেই দ্রাবিড় সংস্কৃতি এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো- দ্রাবিড়রা কারা? দ্রাবিড়রা কখন এখানে এসেছিলেন?অস্ট্রলয়েড(AASI)গণ একটানা পরিভ্রমন করেনি। কেউ কেউ কোন জায়গায় রয়ে গেছে, কেউ কেউ অন্যদিকে এগিয়ে গেছে। দ্রাবিড়রা কি দক্ষিন ভারতে থেকে যাওয়া AASI? উত্তর একেবারে সরল নয়।

আমরা ফিরে যাবো শুরুর আলাপে যেখানে ইথিওপিয়া থেকে মহাযাত্রা শুরু। আদি হোমো সেপিয়ানসরা প্রায় কাছাকাছি সময়ে তিনদিকে পরিযায়ী হয়। দক্ষিনমুখী যাত্রা নিয়ে আমরা আগে আলোচনা করে এসেছি। আরেকটি অংশ আফ্রিকারই বিভিন্ন দিকে ছড়িয়েছে, অপর একটি অংশ উত্তরে লেভেন্ট(জর্দান, লেবানন, সিরিয়া) হয়ে  এগিয়ে গেছে। উত্তর যারা গেলো তাদের এক দল উত্তর পশ্চিমে চলে গেলো ইউরোপের দিকে, এক দল উত্তরপূর্বে এগিয়ে আবার দিক পরিবর্তন করে আসলো বর্তমান ইরানে। এখান থেকে এক অংশ আরো পূর্বে পরিভ্রমন করতে করতে সাইবেরিয়া পেরিয়ে একসময় আমেরিকা পর্যন্ত চলে গেলো। এদেরকে বলা হয় বেরিঞ্জিয়ান বা এনসেসটর অফ নেটিভ আমেরিকান। আমরা থামছি ইরানে।

যারা দক্ষিনমুখী যাত্রা করে আরব উপদ্বীপ, ইয়েমেন, ওমান হয়ে পশ্চিম ও দক্ষিন ভারতের দিকে এগিয়ে এসেছিলো সেই AASI দের একটি অংশও  ভারতে প্রবেশের আগেই উত্তরমুখী হলো, এরাও গিয়ে ইরানের সীমানায় ঢুকলো।

ইরানের জার্গোস অঞ্চলে দুই গ্রুপের দেখা হলো যাদের পূর্বপুরুষরা ইথিওপিয়া থেকে কেউ উত্তরে যাত্রা করেছিলো, কেউ করেছিলো দক্ষিনে ৷ ততোদিনে অবশ্য ৪৫ হাজার বছর পেরিয়ে গেছে। উত্তর ও দক্ষিনমুখী পরিযায়ীদের উত্তরপ্রজন্ম যারা ইরানে মিলিত হলো তারা শিকারী সংগ্রাহক থেকে কৃষিজীবিতে পরিনত হলো। এরাই আদি কৃষক সমাজ। ধান নয়, এরা উৎপাদন করলো- গম, বার্লি, ডাল ইত্যাদি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান এরা অর্জন  করলো। এতোদিনের পশু শিকারের বদলে, পশু পালন বিশেষ করে ছাগল পালন শুরু করলো তারা এবং কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক গৃহস্থ সমাজ পত্তন করলো। এই ইরানিয়ান আদি কৃষক সমাজের একটি অংশ ইরান থেকে নেমে এলো বেলুচিস্তানের মেহেরগড়ে। এসব আজকে থেকে ১০ হাজার বছর আগের কথা।

একটা পর্যায়ে  কৃষিজীবি ও শিকারী- এই দুই জনগোষ্ঠীর দেখা হলো সিন্ধু নদীর অববাহিকায়।  সম্মিলিত ভাবে  তারা গড়ে তুললো এক আশ্চর্য্য সভ্যতা। এই সভ্যতার লোকজন কৃষিকাজ পুরোদমে জানলো, মাটির শিল্পকর্ম গড়লো, নগর তৈরী করলো, সমুদ্র বানিজ্যও শুরু করলো।  এটিই সিন্ধু সভ্যতা( হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো- এই সভ্যতার আলাদা আলাদা নগরী)। ৫ হাজার বছর আগের। পৃথিবীর পুরনো সভ্যতাগুলোর একটি গড়ে উঠলো বর্তমানের পাকিস্তানের সিন্ধ, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান এবং ভারতের গুজরাট( কিছুটা হরিয়ানা ও রাজস্থান সহ)। 

সভ্যতা শুরুর কয়েক শত থেকে এক হাজার বছরের মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগে( খরা, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ইত্যাদি) এই সভ্যতা লুপ্ত হওয়া শুরু করে। সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা তখন ক্রমশঃ দক্ষিন ভারতে সরে আসে। এরাই দ্রাবিড়। দ্রাবিড়দের বড় অংশ দক্ষিন ভারতে রয়ে গেলেও অনেকেই বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই ছড়িয়ে পড়ার অংশ হিসেবে সিন্ধু সভ্যতার স্মৃতিবাহী দ্রাবিড়দের একাংশ বঙ্গেও ও আসে। যোগ হয় “আমরা” পরিচয়ের তৃতীয় স্তর।

দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর একটি গোত্রের নাম ছিলো “বং” এ থেকে অঞ্চলের নাম বঙ্গ- এমন একটি প্রচলিত ধারনা আছে । আবার অস্ট্রো-এশিয়াটিক মুন্ডাদের একজন দেবীর নাম “বঙ্গ”- এরকম দাবীও রয়েছে।

এইসব দাবীনামার আলাপ কমপক্ষে ৪ হাজার বছর আগের। ইন্দো- ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর আর্যরা  ততোদিনে ভারতের উত্তর অংশে চলে এসেছে, বঙ্গে আসতে তখনো অনেক দেরী। কিন্তু তাদের আদি রচনায় “বঙ্গ”- এর উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে। এই আলাপ করবো আমরা আরো পরে। এর আগে আরো কিছু বাকী রয়ে গেছে। @ Hasan Murshed

৩৭

টাকার কোনো গন্ধ নেই

আজকের দিনে পরিষ্কার কাপড় মানেই ডিটারজেন্ট, সুগন্ধি আর জীবাণুনাশক। কিন্তু প্রাচীন রোমানদের কাছে পরিষ্কারের ধারণা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবাক লাগলেও সত্যি রোমানরা কাপড় ধোয়ার জন্য ব্যবহার করত মানুষের প্রস্রাব।

প্রাচীন রোমে কাপড় ধোয়ার কাজ করতেন যাদের বলা হতো ফুলোনেস (Fullones)। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে প্রস্রাবে থাকা অ্যামোনিয়া একটি শক্তিশালী পরিষ্কারক উপাদান। এই অ্যামোনিয়া কাপড়ের তেল, ময়লা ও দাগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

রোম শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পাত্র বসানো থাকত, যেখানে মানুষ প্রস্রাব করত। পরে সেই প্রস্রাব সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হতো লন্ড্রি কারখানায়। সেখানেই কাপড় ভিজিয়ে, পা দিয়ে মাড়িয়ে পরিষ্কার করা হতো। ধোয়ার পর কাপড় শুকিয়ে আবার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হতো। এই প্রথা এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে রোমান সম্রাট ভেসপাসিয়ান প্রস্রাব সংগ্রহের উপর কর বসান। এই কর থেকে রাজকোষে বিপুল অর্থ জমা পড়ত। তখনই তিনি বিখ্যাত উক্তিটি বলেন—“Money does not smell” (টাকার কোনো গন্ধ নেই)।

আজকের দৃষ্টিতে এটি অস্বাস্থ্যকর ও কল্পনাতীত মনে হলেও, তখনকার সময়ে এটি ছিল সবচেয়ে কার্যকর প্রযুক্তি। আধুনিক কেমিস্ট্রি প্রমাণ করেছে—অ্যামোনিয়া সত্যিই শক্তিশালী ক্লিনিং এজেন্ট।

৩৯

ইসলামি স্বর্ণযুগের পতন


ইসলামি স্বর্ণযুগের পতনের জন্য কোনো একক কারণ ছিল না, বরং রাজনৈতিক বিভেদ, মঙ্গোল আক্রমণ, অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং রক্ষণশীল ধর্মীয় চিন্তাধারার উত্থান (যা বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রসারে বাধা দেয়)-এগুলোর সম্মিলিত প্রভাব ছিল, যেখানে মোল্লাতন্ত্রের প্রভাব এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য, যা যুক্তি ও বিজ্ঞানকে অবদমিত করে।

পতনের প্রধান কারণসমূহ:

রাজনৈতিক বিভেদ ও দুর্বলতা: আব্বাসীয় খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়ে, ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা কমে যায়।

মঙ্গোল আক্রমণ:

১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের বাগদাদ ধ্বংস (House of Wisdom সহ) জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করে, যা স্বর্ণযুগের উপর একটি বড় আঘাত ছিল।

ধর্মীয় রক্ষণশীলতার উত্থান:

আল-গাজালীর মতো চিন্তাবিদদের প্রভাবে যুক্তি ও দর্শনের চেয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রাধান্য পেতে শুরু করে, যা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে নিরুৎসাহিত করে। মোল্লাতন্ত্রের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং এরা সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় মতবিরোধ ও বিভেদ সৃষ্টি করে।

আল-গাজালীর প্রভাবে যুক্তি ও দর্শনের চেয়ে ধর্মীয় গোঁড়ামি প্রাধান্য পাওয়ার ধারণাটি আংশিক সত্য; তিনি দর্শনের সমালোচনা করলেও, মূলত ধর্মকে দর্শনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়ে যুক্তি ও দর্শনকে শরীয়াহ ও ঐশী জ্ঞানের অধীনস্থ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় চিন্তার পুনরুত্থান ও সুফিবাদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাহায্য করলেও, অনেক ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রাধান্য বাড়িয়েছিল, যদিও তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মকে রক্ষা করা এবং যুক্তি ও দর্শনের অপব্যবহার রোধ করা।

আল-গাজালীর অবস্থান:

দর্শন বিরোধিতা (আংশিক): ইমাম গাজ্জালী গ্রিক দর্শন, বিশেষত অ্যারিস্টটল ও ইবনে সিনার কিছু মতবাদ, যেমন কার্যকারণ সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করেন, যা অনেক সময় ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তিনি মনে করতেন, দর্শনের সিদ্ধান্তগুলো ভয়াবহ হতে পারে এবং তা ধর্মীয় সত্যকে বিকৃত করতে পারে।

যুক্তির ব্যবহার (গঠনমূলক):

তিনি যুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করেননি, বরং ধর্মীয় জ্ঞানকে (যেমন ফিকহ ও কালাম) আরও সুশৃঙ্খল করতে যুক্তিকে একটি পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন, যা ইসলামিক বিজ্ঞানে যুক্তির প্রয়োগকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

ধর্মকে প্রাধান্য:

তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল ধর্মকে রক্ষা করা। তিনি 'ওহীর জ্ঞান' (ঐশী জ্ঞান) ও শরিয়াহকে সর্বোচ্চ স্থান দেন এবং দার্শনিক জ্ঞানকে ওহীর আলোকে যাচাই করার কথা বলেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'তাহাফুত আল-ফালাসিফা' দর্শনের অসংগতি তুলে ধরে।

সুফীবাদ ও শরিয়াহর সমন্বয়:

তিনি সুফিবাদকে শরিয়াহর সাথে একীভূত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দেন, যা ধর্মীয় অনুশাসনকে আরও শক্তিশালী করে।

প্রভাব ও ফলাফল:

ধর্মীয় পুনরুত্থান: তাঁর প্রচেষ্টায় মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্জাগরণ ঘটে এবং কুরআন ও হাদীসের মাহাত্ম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

গোঁড়ামির কারণ:

যদিও তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভারসাম্য আনা, তাঁর কঠোর সমালোচনা অনেক ক্ষেত্রে দার্শনিক চিন্তাধারার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত কঠোরতা (গোঁড়ামি) ও গোঁড়ামির জন্ম দেয় বলে অনেকে মনে করেন, যা যুক্তির চেয়ে ধর্মীয় অনুশাসনকে বড় করে তোলে।

সুতরাং, আল-গাজালীর প্রভাবে যুক্তি ও দর্শনের চেয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রাধান্য বেড়েছিল, কিন্তু এর কারণ ছিল দর্শনকে নিয়ন্ত্রণ করে ধর্মকে সুরক্ষিত করা, ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্ম দেওয়া নয়, যদিও এর ফলশ্রুতিতে এমন একটি ধারা তৈরি হয়েছিল।

জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদের হত্যা:

ইসলামি স্বর্ণযুগে কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কিছু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি persecution (নির্যাতনের) শিকার হয়েছিলেন, যেমন বিখ্যাত দার্শনিক আল-কিন্দি বা সুফি আল-হালাজ, যাদের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার (heresy) অভিযোগ আনা হয়েছিল, যদিও এটি সার্বজনীন ছিল না এবং অনেক শাসক জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিতও করতেন (যেমন আল-মামুন)।

মূল বিষয়গুলো:

জ্ঞানচর্চা ও বিরোধিতা: আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনের শাসনামলে জ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও, কিছু রক্ষণশীল ধর্মীয় গোষ্ঠী (যেমন মু'তাযিলাদের বিরোধিতা) এবং রাজনৈতিক কারণে দার্শনিকদের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন আল-কিন্দিকে কিছু সময় দূরে রাখা হয়েছিল.

দার্শনিকদের উপর নির্যাতন:

সুফি মানসুর আল-হালাজ-কে 'আনাল হক' (আমিই সত্য) বলার দায়ে 'কাফের' আখ্যা দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা সে সময়ের ধর্মীয় রক্ষণশীলতার একটি উদাহরণ.

"ইসলামি স্বর্ণযুগ" নিবন্ধটি মূলত এই সময়ের বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির উপর আলোকপাত করে, যদিও এর ভেতরেই মতবিরোধ ও কিছু নিপীড়নের উল্লেখ পাওয়া যায়। সুতরাং, এটা বলা যায় যে স্বর্ণযুগে এমন ঘটনা ঘটলেও, এটি ছিল সেই সময়ের জটিল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ, যা সামগ্রিক জ্ঞানচর্চাকে দমন করেনি, বরং কিছু ক্ষেত্রে জ্ঞানীদের দেশান্তরিত বা নির্যাতিত হতে হয়েছিল.

অর্থনৈতিক পরিবর্তন:

নতুন বাণিজ্য পথের উত্থান এবং ইউরোপীয়দের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক কেন্দ্রিকতাকে হ্রাস করে।

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়:

নৈতিকতার অভাব, দুর্নীতি এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতও রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করে। সুতরাং, মোল্লাতন্ত্র বা ধর্মীয় রক্ষণশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও, এটি ছিল পতনের অনেকগুলো আন্তঃসংযুক্ত কারণের একটি, যা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে মিলেমিশে কাজ করেছে। তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী

৩৯

উচ্চমূল্যের মানুষ’ বা ‘High-Value Person’ হওয়ার ৫টি লক্ষণ


​১. ​একজন উচ্চমূল্যের মানুষ নিজের জীবনের সব ঘটনার জন্য অন্যকে বা ভাগ্যকে দোষারোপ করেন না। তারা ভুল করলে তা স্বীকার করেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে উন্নত করেন। তারা অজুহাত না দেখিয়ে সমাধানে বিশ্বাসী।

​২. ​চারপাশে যখন সবাই উত্তেজিত বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, একজন উচ্চমূল্যের মানুষ তখন নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। তারা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিচার করেন।

​এটি উচ্চতর ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ। তারা জানেন যে বাহ্যিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু নিজের প্রতিক্রিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

​৩. ​উচ্চমূল্যের মানুষ কেবল মুড বা মনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে কাজ করেন না। তাদের নির্দিষ্ট কিছু জীবনদর্শন বা মূল্যবোধ থাকে।

​অনুপ্রেরণা না থাকলেও তারা কাজের ডেডলাইন বজায় রাখেন। তাদের আচরণ দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দ্বারা পরিচালিত হয়, সাময়িক আবেগের দ্বারা নয়।

​৪. ​যখন কোনো সমস্যা সামনে আসে, তারা ভেঙে পড়েন না। তারা ব্যর্থতাকে শেষ হিসেবে দেখেন না, বরং নিজেকে আরও শক্তিশালী করার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

​৫. নিজের স্বার্থের চেয়ে বড় কিছুর জন্য কাজ করেন। ​তারা কেবল নিজের ভোগ-বিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না। অন্যের উপকার করা বা সমাজের কোনো কাজে অবদান রাখাকে তারা গুরুত্ব দেন।

​তারা বিশ্বাস করেন যে প্রকৃত সুখ আসে কিছু দেওয়ার মাধ্যমে, কেবল ভোগ করার মাধ্যমে নয়। তারা অন্যদের মেন্টর হিসেবে সাহায্য করেন এবং এমন কাজ করেন যা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের উপকারে আসে।

এই লক্ষণগুলো রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। এগুলো সচেতন অনুশীলন এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। একজন উচ্চমূল্যের মানুষ হওয়া মানে কেবল সফল হওয়া নয়, বরং একজন নীতিবান ও মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। asraf

৪০

মুঘল শাহজাদা থেকে একজন ক্ষমতা লোভী, পলাতক দেশদ্রোহী হয়ে উঠার গল্প 

আওরঙ্গজেবের পুত্র ** মুহাম্মদ আকবর** (১৬৭৯-৮০) রাজপুত বিদ্রোহের সময় পিতাকে অনুসরণ না করে তাদের সাথে যোগ দেন এবং নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন, যা একটি ব্যর্থ বিদ্রোহে পরিণত হয়; এরপর তিনি দাক্ষিণাত্যে পালিয়ে যান এবং মারাঠা নেতা শাম্ভাজির কাছে আশ্রয় নেন, যার ফলে আওরঙ্গজেব বাধ্য হন দাক্ষিণাত্য অভিযানে দীর্ঘস্থায়ী হতে, কারণ আকবর ও মারাঠাদের জোট মুঘল সাম্রাজ্যের জন্য বড় হুমকি ছিল।

বিদ্রোহের কারণ ও পলায়নের প্রেক্ষাপট:

রাজপুত বিদ্রোহ: ১৬৭৯ সালে আওরঙ্গজেবের কঠোর নীতি ও যোধপুরের অধিগ্রহণের কারণে রাজপুতদের মধ্যে ব্যাপক বিদ্রোহ দেখা দেয়, যা মেওয়াড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আকবরের দায়িত্ব: আওরঙ্গজেব পুত্র আকবরকে এই বিদ্রোহ দমনের জন্য পাঠান, কিন্তু আকবর রাজপুতদের কৌশল ও আওরঙ্গজেবের প্রতি তাদের ক্ষোভের কারণে তাদের পক্ষে চলে যান।

আত্ম-ঘোষণা: আকবর নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেন এবং রাজপুতদের সাথে মিলে মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন, কিন্তু আওরঙ্গজেবের কৌশলে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

পলায়ন ও আশ্রয়:

বিদ্রোহের সমাপ্তি: রাজপুতদের সাথে আকবরের জোট ভেঙে যায় এবং আকবর দাক্ষিণাত্যে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

** শাম্ভাজির আশ্রয়:** দাক্ষিণাত্যে তিনি মারাঠা ছত্রপতি শাম্ভাজির কাছে আশ্রয় নেন, যা মুঘল প্রশাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।

পরিণতি:

আকবরের এই পলায়ন ও শাম্ভাজির সাথে জোট আওরঙ্গজেবকে দাক্ষিণাত্য অভিযানে দীর্ঘকাল ব্যয় করতে বাধ্য করে, যা শেষ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শাম্ভাজির পতনের অন্যতম কারণও হয়ে দাঁড়ায়।


ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের মঞ্চ মোঘল সাম্রাজ্য

মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের চোখ বোজার সাথে সাথেই দিল্লির বাতাসে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এক প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ে রূপ নিল। সম্রাট আর নেই, কিন্তু পেছনে রেখে গেছেন বিশাল এক সাম্রাজ্য আর তিন উচ্চাকাঙ্ক্ষী পুত্র—মুয়াজ্জম, আজম এবং কাম বখশ। মুঘল ঐতিহ্যের সেই চিরচেনা ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের মঞ্চ আবার প্রস্তুত হলো।

শাহজাদা মুহাম্মদ আজম তখন পিতার খুব কাছেই ছিলেন, এমনকি ১৬৮১ সাল থেকেই তিনি ছিলেন সম্রাটের অলিখিত উত্তরসূরি। শোকাতুর হৃদয়ে পিতার মরদেহ কাঁধে নিয়ে খুলদাবাদের পবিত্র মাটিতে দাফন সম্পন্ন করেই তিনি নিজেকে মুঘল মসনদের মালিক বলে ঘোষণা করলেন।

কিন্তু তিনি জানতেন, এই ঘোষণা কেবল শুরু, আসল পরীক্ষা তখনো বাকি।

এদিকে সম্রাটের মৃত্যুর খবর যখন কাবুলের বরফশীতল পাহাড়ে অবস্থানরত বড় ভাই মুয়াজ্জমের কানে পৌঁছাল, তখন তাঁর সামনে হাজার মাইলের দুস্তর পথ। অন্যদিকে ছোট ভাই কাম বখশ দাক্ষিণাত্যের সুদূর প্রান্তে নিজের শক্তি গোছাতে ব্যস্ত।

শুরু হলো আগ্রার সিংহাসন দখলের এক রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতা। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মুয়াজ্জম তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ধেয়ে এলেন হিন্দুস্তানের হৃদপিণ্ডের দিকে। ১৭০৭ সালের ১০ জুন জাজাউর তপ্ত মরুপ্রান্তরে দুই ভাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হলো।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, যে আজম শাহ মাত্র ৭৮ দিন আগে নিজেকে সম্রাট ভেবেছিলেন, তিনি মুয়াজ্জমের রণকৌশলের কাছে পরাজিত হলেন। ১৯ জুন ৬৩ বছর বয়সে অভিজ্ঞ মুয়াজ্জম ‘প্রথম বাহাদুর শাহ’ উপাধি নিয়ে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করলেন।

সিংহাসনে বসলেও বড় ভাই হিসেবে বাহাদুর শাহের মনে ছোট ভাই কাম বখশের জন্য দয়া ছিল। তিনি চেয়েছিলেন পিতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কাম বখশ দাক্ষিণাত্যের নিজ এলাকা নিয়ে শান্তিতে থাকুক। কিন্তু কাম বখশের রক্তে তখন টগবগ করছিল বেপরোয়া বিদ্রোহের নেশা। তাঁর একের পর এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বৃদ্ধ সম্রাটকে বাধ্য করল তলোয়ার হাতে নিতে।

প্রায় দুই বছর পর ১৭০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি হায়দ্রাবাদের উপকণ্ঠে আবার যুদ্ধের দামামা বাজল। সেই যুদ্ধে কাম বখশ মারাত্মকভাবে জখম ও পরাজিত হলেন। তবে বিজয়ের সেই মুহূর্তে সম্রাট বাহাদুর শাহ ইতিহাসের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

তিনি মরণাপন্ন ছোট ভাইয়ের শিয়রে বসে নিজ হাতে তাঁর ক্ষতস্থানগুলো ধুয়ে দিলেন এবং পরম মমতায় ভাইয়ের রক্তরঞ্জিত পোশাক বদলে দিলেন। পরদিন কাম বখশ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে সমাপ্তি ঘটে মুঘল ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অথচ করুণ অধ্যায়ের। © History Hunters


৪২

 মাছের নীরব বাহক পাখি

তুন খনন করা একটা পুকুর। চারপাশে শুধু মাটি আর সুনসান নীরবতা। সেই পুকুরের সাথে কোনো নদীর সংযোগ নেই, কেউ এখনো মাছ ছাড়েনি, তবু কয়েক মাস পর হঠাৎ দেখা যায়, জলের ভেতর ক্ষুদ্র ছায়া নড়ে ওঠে। ছোট ছোট মাছ। প্রশ্নটা তখন খুব সাধারণ, আবার খুব গভীর, এই মাছ গুলো এখানে এলো কীভাবে?

এই প্রশ্নটাই বহু বছর আমার মতন একজন সাধারণ মানুষকে যেমন ভাবিয়েছে তেমনি ভাবিয়েছে জীববিজ্ঞানীদের। কারণ প্রকৃতি সাধারণত যুক্তির বাইরে কিছু করে না। তার প্রতিটা বিস্ময়ের পেছনে থাকে নিখুঁত নিয়ম।

২০১৯ সালে PNAS–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখান, এই রহস্যের এক নীরব বাহক আছে, পাখি। পাখি যখন এক জলাশয় থেকে আরেক জলাশয়ে উড়ে যায়, তখন তারা শুধু উড়েই যায় না, তারা বহন করে অদৃশ্য সম্ভাবনাও। কিছু মাছের ডিম এতটাই ক্ষুদ্র ও সহনশীল যে, পাখির পাকস্থলীর অম্ল, হজমকারী এনজাইম আর অন্ত্রের চাপের মধ্য দিয়েও টিকে যেতে পারে। আবার অনেক সময় ডিম লেগে থাকে পাখির পা, পালক বা ঠোঁটে। পাখি উড়ে যায়। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পেরিয়ে যায়। তারপর বসে পড়ে একেবারে নতুন, নিঃসঙ্গ কোনো জলাশয়ের ধারে।

কিংবা আপনার আমার বাড়ির পাশের কোন পরিত‍্যক্ত জলাশয়ে। সেখানেই, পাখির অজান্তে পড়ে যায় ডিম। জল পেলে শুরু হয় পরিবর্তন। ডিম ভেঙে জন্ম নেয় নতুন জীবন। কোনো শব্দ নেই, কোনো দর্শক নেই, শুধু সময় আর পানি।

এভাবেই একদিন শূন্যতা ভরে যায় নড়াচড়ায়। এই গল্পটা শুধু মাছের আগমনের নয়।

এটা আমাদের শেখায়, জীবন কখনও আলাদা হয়ে চলে না। এক প্রজাতির অস্তিত্ব আরেক প্রজাতির হাত ধরে এগোয়। পাখি জানে না সে ভবিষ্যৎ বহন করছে। মাছ জানে না সে একদিন এই পুকুরে জন্মাবে। তাই প্রতিটি প্রজাতির প্রাণীকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং তাদের যত্ন নেওয়া উচিত।

প্রকৃতি জানে তার নকশা জটিল, নীরব আর বিস্ময়ে ভরা। আর সেই কারণেই, দূরের কোনো পাহাড়ি হ্রদে বা আপনার বাড়ির পেছনের নতুন পুকুরে হঠাৎ মাছ দেখা গেলে, সেটা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, ওটা প্রকৃতির ধৈর্যের ফল, আর জীবনের অবিরাম যাত্রা।

৪৩

একা থাকাকালীন নিজের সাথে কথা বলা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং এটি আপনার মেধা ও মানসিক শক্তির লক্ষণ।


​অনেকে মনে করে এটি হয়তো কোনো বদ অভ্যাস। কিন্তু না, এটি কোনো বদভ্যাস নয়, বরং একটি মানসিক শক্তি।

​আমরা অনেক সময় দেখি কেউ ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করছেন বা একা একা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছেন। প্রথম দেখায় এটি অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে এটি মস্তিষ্কের অন্যতম শক্তিশালী একটি টুল।

​১. কথা বলা কেন উপকারী?

​গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের সাথে কথা বলা আমাদের এলোমেলো চিন্তাকে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। কোনো জটিল কাজ করার সময় যখন আমরা জোরে জোরে বলি, "এখন এটা করো" বা "মনোযোগ দাও," তখন মস্তিষ্ক সেই কাজটি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে পারে। এটি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে।

​২. "আমি" নয়, "তুমি" ব্যবহার করুন।

এটি একটি চমৎকার কৌশল। নিজের সাথে কথা বলার সময় "আমি পারব" না বলে "তুমি পারবে" বলা বেশি কার্যকর। যখন আপনি নিজের নাম ধরে বলেন, "রাহুল, শান্ত হও, তুমি এটা করতে পারবে," তখন আপনার মধ্যে একটি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। এটি আপনাকে নিজের বিচারক না হয়ে একজন ভালো 'কোচ' হিসেবে গড়ে তোলে।

​৩. আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি হয়।

​যারা নিয়মিত নিজের সাথে কথা বলেন, তারা অন্যদের তুলনায় বেশি সচেতন, সৃজনশীল এবং ব্যর্থতা সামলানোর ক্ষেত্রে বেশি দক্ষ হন। অ্যাথলেট বা শল্যচিকিৎসকরা প্রায়ই চাপের মুখে নিজেকে নির্দেশনা দিয়ে কাজে সফল হন।

​৪. নেতিবাচক কথা পরিহার করুন।

​আমরা অনেক সময় নিজের সমালোচনা করি, যেমন— "আমি কেন এমন?" বা "আমি সব নষ্ট করে ফেলি।" কিন্তু পরামর্শ হলো- এই নেতিবাচক কথাগুলো বদলে ফেলতে হবে। মিথ্যা পজিটিভ কথা না বলে বরং ন্যায়সঙ্গত কথা বলুন। যেমন— "কাজটি কঠিন ছিল, কিন্তু আমি চেষ্টা করেছি।"

​৫. এটি কি কোনো মানসিক সমস্যা?

​একদমই নয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একা একা কথা বলা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। তবে যদি এটি কোনো কাল্পনিক কারো সাথে কথা বলা বা হ্যালুসিনেশনের মতো হয়, তবেই তা চিন্তার বিষয়। স্বাভাবিকভাবে নিজের কাজ গোছাতে কথা বলা সম্পূর্ণ সুস্থ একটি প্রক্রিয়া।

​পরিকল্পনা করতে সহজ হয়।

"প্রথমে এটা করব, তারপর ওটা"—এভাবে বললে কাজ দ্রুত শেষ হয়।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রাগের মাথায় কোনো উত্তর দেওয়ার আগে নিজেকে নিজেই শান্ত করা সহজ হয়।

মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। ভিড়ের মধ্যে বা হট্টগোলে নিজের সাথে কথা বলা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

​পরবর্তী সময়ে যখন আপনি নিজেকে একা একা কথা বলতে দেখবেন, তখন লজ্জিত হবেন না। মনে রাখবেন, আপনি আপনার মস্তিষ্কের একটি 'সুপারপাওয়ার' ব্যবহার করছেন!


৪৪

আলাপচারিতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ১০টি সহজ বাক্যে


নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় অনেকে জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারেন না। এখানে ১০টি সহজ বাক্যের কথা বলা হয়েছে, যা মানুষকে খুশি করে এবং আলাপচারিতা দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে। এই বাক্যগুলো প্রথম আলাপেই মানুষকে মুগ্ধ করবে।

​১. "আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি [বিষয়] সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন..."

কাউকে কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সম্মান দিলে তারা খুশি হন। যেমন: "আপনার হাতে গাছের চারা দেখে মনে হচ্ছে আপনি বাগান করা সম্পর্কে ভালো জানেন। আমার গাছের যত্ন নিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।" এটি অন্য পক্ষকে কথা বলার সুযোগ দেয়।

​২. "আপনার এই [জিনিসটি] খুব সুন্দর! কোথায় পেলেন?"

মানুষ সাধারণত অনেক ভেবেচিন্তে পোশাক বা অনুষঙ্গ নির্বাচন করে। তাদের পছন্দের প্রশংসা করলে তারা আনন্দিত বোধ করেন এবং এর পেছনে কোনো গল্প থাকলে তা বলতে পছন্দ করেন।

​৩. "আমি নাম মনে রাখতে একটু কাঁচা, কিন্তু আপনার নাম যেন কী ছিল...?"

নিজের একটি ছোট দুর্বলতা স্বীকার করা আপনাকে অন্যদের কাছে সহজবোধ্য করে তোলে। এরপর যখন আপনি তার নাম মনোযোগ দিয়ে শুনে পুনরায় বলবেন, তখন অন্য ব্যক্তি নিজেকে মূল্যবান মনে করেন।

​৪. "এখানে কীভাবে আসা হলো?"

এই প্রশ্নটি বেশ কার্যকর কারণ এটি খুব ব্যক্তিগত নয়, আবার এর মাধ্যমে অপর ব্যক্তি তার কাজ বা আগ্রহ সম্পর্কে কথা বলার সুযোগ পায়।

​৫. "দেখে মনে হচ্ছে আপনি এই বিষয়টির প্রতি খুব উৎসাহী (Passionate)"

মানুষ যখন তার প্রিয় কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এটি খেয়াল করে প্রশংসা করলে তারা আপনার সাথে কথা বলতে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

​৬. "আমি এই বিষয়ে নতুন, আপনার কাছে কোনো পরামর্শ আছে কি?"

অন্যের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া মানে তাকে সম্মান দেওয়া। মানুষ সাধারণত অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করে, আর এটি দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি সহজ উপায়।

​৭. "আপনার কথা শুনে মনে পড়ল... আপনি কি কখনও...?"

অন্যের অভিজ্ঞতার সাথে নিজের কোনো ছোট অভিজ্ঞতা শেয়ার করা প্রমাণ করে যে আপনি মন দিয়ে তার কথা শুনছেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন আলাপের মূল কেন্দ্রবিন্দু আপনি নিজে না হয়ে যান।

​৮. "আপনার কথা বলার ধরন/এনার্জি আমার খুব ভালো লাগছে"

এটি সরাসরি কিন্তু খুব সুন্দর একটি প্রশংসা। মানুষের স্বভাবজাত প্রাণচাঞ্চল্যের প্রশংসা করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করবেন।

​৯. "এই ব্যাপারে আমাকে আরও একটু বলুন তো"

বর্তমান সময়ের ব্যস্ততায় কেউ মন দিয়ে কথা শুনলে তা অনেক বড় ব্যাপার। এই বাক্যের মাধ্যমে আপনি বুঝিয়ে দেন যে আপনি তার কথায় সত্যিই আগ্রহী।

​১০. "আপনার সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল"

আলাপ শেষ করার সময় আন্তরিক হাসি এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বিদায় নেওয়া খুব জরুরি। পারলে আলাপের মাঝখানের কোনো একটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করে বিদায় জানান (যেমন: "আপনার সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল। ম্যারাথনের জন্য শুভকামনা রইল!")।

ছোটখাটো আলাপ (Small Talk) মোটেও ছোট বিষয় নয়; এটি নতুন সুযোগ এবং গভীর সম্পর্কের দুয়ার খুলে দেয়। আন্তরিকতা এবং অন্যের প্রতি সম্মান থাকলেই যেকোনো সাধারণ আলাপ মনে রাখার মতো হয়ে ওঠে।


জিংরাওয়াই’


ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কংথং গ্রাম একটি অনন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এখানে মানুষেরা কাউকে নাম দিয়ে ডাকে না। প্রতিটি মানুষ জন্মের পর একটি অদ্বিতীয় সুর পায়, যা তার মা নিজেই তৈরি করেন। এই সুরের মাধ্যমে সে পরিচিত হয় সারাজীবন। কথার মাধ্যমে নয় শুধু সুরের মাধ্যমে গ্রামের মানুষজন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এই সুরের ভাষাকে বলা হয় ‘জিংরাওয়াই’। পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে, যেখানে সাধারণ কথার শব্দ অনেক দূর যায় না, এই সুর নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম। প্রতিটি মানুষ জানে, কোন সুরে কোন ব্যক্তি সাড়া দেয়। এই সুরের ব্যবহার শুধুমাত্র পরিচয়ের মাধ্যম নয়; এটি সম্প্রদায়ের এক শক্তিশালী বন্ধন ও নিরাপত্তার প্রতীক। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, বনের অদৃশ্য আত্মারা মানুষের নাম শুনে নষ্ট করতে পারে, তাই এই সুরের মাধ্যমে পরিচয় বজায় থাকে।

কংথং গ্রামের এই প্রথা প্রমাণ করে, কিভাবে মানুষ ভাষা এবং সঙ্গীতের মিশ্রণে সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যকর যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। এটি শুধু সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি প্রমাণ করে যে সঙ্গীত মানব সমাজে কেবল শিল্প নয়, বরং মৌলিক চিহ্ন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সমন্বয়ও হতে পারে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন ভাষার প্রভাব এবং জনসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে এই অদ্বিতীয় ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে। এই প্রথা হারালে শুধু একটি যোগাযোগ পদ্ধতি নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বিলীন হবে।