এখনকার দিনে এই সমস্যাটা সবাই ভোগেন। সেটা হচ্ছে আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। 

কিন্তু এই কিচ্ছু ভালো লাগছে না-টা কখন? যখন আমাদের ডোপামিন কমে গেছে তখন। ডোপামিন একটা হরমোন যেটা আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।  ডোপামিন হরমোন শরীরে বাড়িয়ে নিলে, হঠাৎ ভীষণ ভালো লাগছে এমন মনে হবে। কিন্তু করব কি করে? 

মানুষ যখন প্রথম প্রেমে পড়ে তখন কিন্তু ডোপামিনই ক্ষরণ হয়। তাতে হঠাৎ সবকিছু ভালো লাগতে শুরু করে। কিন্তু সেই ভালো লাগাটা ক্ষণস্থায়ী হয়, দু তিন বছর পর কমে যায়। সেই ভালো লাগাটা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না। কারণ ন্যাচারালি ডোপামিনের নেচারটাই হচ্ছে বাড়ে, কমে। তাহলে আমরা যদি আনন্দে থাকতে চাই সারাদিন, তারজন্য ডোপামিন হ্যাক অ্যাঁ ব্যবহার করতে হবে। এজন্য আমাকে প্রথমে জানতে হবে ডোপামিন কখন ক্ষরণ হয়? যখন আমরা ভাবি কিছু একটা রিওয়ার্ড পাব, তখন। মানে, ধরুন আমি একটা গেম খেলছি। গেমটা শেষ হলে আমি একটি রিওয়ার্ড পাব। তখন আমার কিন্তু ডোপামিন ক্ষরণ হবে। দেখবেন, এইজন্যই আমরা গেম খেলতে খেলতে গেমে অ্যাডিক্টেড হয়ে যাই। বা আমার পছন্দের কোন খাবার একটা রান্না হচ্ছে, সেই খাবারটা খাব, এটা ভাবতে ভাবতেই আমাদের কিন্তু ডোপামিনটা ক্ষরণ হতে লাগে। কিন্ত যখন খেয়ে নিলাম, ওই ভালো লাগা অনুভূতিটা আর থাকে না। কারণ যেই আমি সেটাকে পেয়ে যাই আমার কিন্তু ডোপামিনটা কমে যায়। এই একই ব্যাপার, কাউকে আমি পেতে চাই। এতে আমাদের ডোপামিন বাড়ে। যেই আমি তাকে পেয়ে যাব, সে আমার ওয়াইফ হয়ে গেল, মেয়েদের ক্ষেত্রে আমার হাজবেন্ড হয়ে গেল, আমার কিন্তু আর ডোপামিন ক্ষরণ হবে না তার জন্য। কেন বলুন তো? ডোপামিনটা হচ্ছে রিওয়ার্ড। রিওয়ার্ড দিয়ে দিয়ে এই ডোপামিনটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে নিত্যদিনের কাজের মধ্যে। তা্জন্য কি করতে হবে? 

প্রথমে আজকে আমি এই তিনটা কাজ করতে চাই, তা তালিকা করব,তারপর নিজেকে এটা বলতে হবে যে, যদি আমি সবকটা কাজ ঠিকঠাক করতে পারি, তাহলে আজকে আমার পছন্দের খাবার খাব বা নিজে একটা কিছু কিনব। তাহলে কি হবে? ওই রিওয়ার্ড পাবার আশায় আমার কিন্তু ডোপামিন ক্ষরণ করাবে।  এভাবে আপনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো খুব আনন্দের সাথে করতে পারবেন। স্মল, স্মল স্টেপে করতে হবে। আমি আজ থেকে দশ বছর পরে এই কোম্পানির মালিক হব। অতদূর ডোপামিন ভাবতে পারে না। তাই ছোট ছোট গোলগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে, এতে ডোপামিন ক্ষরণ হবে। কিন্তু রিওয়ার্ড বা পুরস্কারটা আপনি সত্যি সত্যিই দিবেন, নিজের সাথে প্রতারণা করবেন না। কিন্তু ধরুন একদিন আপনি নির্ধারিত পাঁচটা  কাজ করতে পারলেন না, একটা বা দুইটা বাকি থেকে গেল; সেদিন কিন্তু আপনি রিওয়ার্ড বা পুরস্কার দিবেন না। নিজেকে কন্ট্রোল করুন। তাহলে কি, ওই পাঁচটা কাজ করে যে আনন্দটা পাবার ছিল, আপনি পরের দিন কিন্তু আর পাবেন না।এরকম পাঁচটা কাজ হয়তো আপনি রোজ করেন। কিন্তু আপনি ডোপামিনকে কাজে লাগান না। ফলে আমাদের ডোপামিনটা হারিয়ে যায়। এভাবে নিউ, নিউ এক্সাইটিং কাজের মধ্যে দিয়ে সেই ডোপামিনটা ক্ষরণ করতে হবে। তাহলে রিলেশনশিপ ভালো থাকবে, বন্ধুদ্বুও ভালো থাকবে বা কাজগুলোর মধ্যেও আপনি আনন্দ পাবেন।

এই শখগুলো আপনার থাকলে মন খারাপের সময় ডোপামিন বাড়াবে, আপনাকে চনমনে করবে৷

​•

​১. পরিচিত শখকে নতুনভাবে করা:

​আমরা অনেক সময় একই কাজ করতে করতে বিরক্ত হয়ে যাই। আপনার প্রিয় শখটিই একটু ভিন্নভাবে করুন। যেমন: প্রতিদিন একই রাস্তায় না হেঁটে নতুন কোনো পথে হাঁটুন, অথবা রান্নায় নতুন কোনো রেসিপি ট্রাই করুন। নতুন কিছু করলে মস্তিষ্ক দ্রুত ডোপামিন নিঃসরণ করে।

​২. ঠান্ডা পানির থেরাপি:

​শুনতে অবাক লাগলেও, খুব ঠান্ডা পানিতে গোসল করা বা মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া ডোপামিন বাড়াতে দারুণ কার্যকর। এটি শরীরকে সজাগ করে এবং কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত আপনার মানসিক স্বচ্ছতা ও এনার্জি বজায় রাখে।

​৩. সৃজনশীল শরীরচর্চা:

​একঘেয়ে জিম না করে এমন কিছু করুন যা মজার। যেমন:

​ট্রাম্পোলিনে লাফানো।

​নাচ করা।

​রক ক্লাইম্বিং বা পাহাড়ে চড়া।

এগুলো শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়কেই ব্যস্ত রাখে, ফলে মন দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে।

​৪. হাতের কাজ ও বাগান করা:

​গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি নিয়ে কাজ করা বা বাগান করা এবং আঁকাআঁকি বা সেলাইয়ের মতো হাতের কাজগুলো আমাদের তৃপ্তি দেয়। কোনো কিছু নিজে তৈরি করার পর যে সাফল্যের অনুভূতি হয়, তা ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

​৫. ডিজিটাল ডিটক্স বা ফোন থেকে বিরতি:

​সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করলে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তিকর। আর্টিকেলটিতে ফোন সরিয়ে রেখে বই পড়া, গোসল করা বা শান্তভাবে কিছুক্ষণ কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমে।

​৬. ছোট ছোট ভালো কাজ:

​কাউকে একটি সুন্দর মেসেজ পাঠানো, পরিচিত কাউকে ছোট উপহার দেওয়া বা কারো জন্য ভালো কিছু করা আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের হরমোন তৈরি করে।

​ডোপামিন বাড়াতে হলে শুধু ফোনের স্ক্রিনে সময় না কাটিয়ে বাস্তব জগতের কোনো কাজ, সৃজনশীল শখ বা শরীরের নড়াচড়া হয় এমন কাজে যুক্ত হওয়া জরুরি। এতে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই অনেক বেশি সুখী ও কর্মঠ বোধ করবেন।




সামান্য আঘাতেই ভেঙে পড়ছেন?—আপনার সমস্যাটা 'পরিস্থিতি' নয়, আপনার সমস্যা হলো 'অতিরিক্ত চিন্তা'; ব্রেনকে একটু রেস্ট দিন, সব প্রশ্নের উত্তর আজই খুঁজতে যাবেন না—

আমাদের অনেকেরই একটা বাজে অভ্যাস আছে—আমরা সব কিছুতেই 'কেন' এবং 'কীভাবে' খুঁজতে যাই।

একটু ঝগড়া হলো, আর আপনি সারারাত ভাবলেন—"সম্পর্কটা কি ভেঙে যাবে?"

বস একটু বকা দিল, আর আপনি ভাবলেন—"আমার চাকরিটা বুঝি গেল।"

আপনার এই অতিরিক্ত চিন্তা বা Overthinking একটা ছোট সমস্যাকে পাহাড় সমান বানিয়ে ফেলছে।

বাস্তবে পরিস্থিতি যতটা না খারাপ, আপনার মস্তিষ্ক সেটাকে তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি খারাপ করে দেখাচ্ছে।

মনে রাখবেন, সব প্রশ্নের উত্তর আজকেই পেতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।

কিছু উত্তর সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে হয়।

জীবন হলো একটা ক্যানভাস। এখানে ভুল রং লাগলে সেটা মুছে ফেলার চেষ্টা না করে, তার ওপর নতুন রং দিয়ে সুন্দর কিছু আঁকতে হয়।

অযথা টেনশন করে আপনি আগামীকালের সমস্যা কমাতে পারবেন না, শুধু আজকের শান্তিটা নষ্ট করবেন।

সমাধান: কীভাবে এই অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করবেন?

১. ব্রেনকে 'পজ' দিন (Hit the Pause Button)

মেশিন টানা চললে যেমন গরম হয়ে যায়, আমাদের ব্রেনও তাই।

যখনই মাথায় বেশি চিন্তা আসবে, নিজেকে বলুন—"স্টপ! এই বিষয় নিয়ে আমি কাল সকালে ভাবব, এখন না।"

জোর করে চিন্তা থামিয়ে অন্য কাজে মন দিন। ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন, আপনার পছন্দের কিছু করুন বা হাঁটতে বের হন।

২. কাল্পনিক নাটক বন্ধ করুন (Stop Fake Scenarios)

Overthinking-এর সময় আমরা মনে মনে এমন সব ভয়ংকর দৃশ্য কল্পনা করি, যা বাস্তবে কোনোদিন ঘটবেই না।

অযথা ভয়ের জগতে বাস করবেন না।

৩. নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে শিখুন (Let Go of Control)

সব কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না—এটা মেনে নিন।

বৃষ্টি হলে যেমন ছাতা ধরা ছাড়া আপনার কিছু করার থাকে না, তেমনি জীবনের কিছু পরিস্থিতিতে শুধু ধৈর্য ধরা ছাড়া উপায় থাকে না।

স্রোতের বিপরীতে সাঁতার না কেটে মাঝে মাঝে গা ভাসিয়ে দিতে হয়।

শেষ কথা

নিঃশ্বাস নিন, একটু হাসুন। জীবনটা অতটাও জটিল নয়, যতটা আপনি ভাবছেন।

অতিরিক্ত চিন্তা কমিয়ে জীবনকে উপভোগ করুন।

অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মুক্তির কিছু কার্যকরী উপায়:

১. বর্তমান মুহূর্তকে গুরুত্ব দিন:

অতীতের ভুল আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই দুটোর মাঝখানের নামই হলো জীবন। যা চলে গেছে তা ফেরানো সম্ভব নয়, আর যা আসেনি তা অজানা। তাই এই মুহূর্তে আপনি কোথায় আছেন, কী করছেন—সেদিকে ফোকাস করুন।

২. 'নিয়ন্ত্রণ' এবং 'অনিয়ন্ত্রণ' আলাদা করুন:

নিজেকে প্রশ্ন করুন, "আমি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছি, তা কি আমার নিয়ন্ত্রণে আছে?" যদি উত্তর 'না' হয়, তবে সেটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন। আবহাওয়া, অন্যের আচরণ বা অতীত—এগুলো আপনার হাতে নেই। যা আপনার হাতে নেই, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করা বোকামি।

৩. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন:

অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। আপনি যখনই খুব বেশি চিন্তা করতে শুরু করবেন, তখনই নিজেকে কোনো কাজে ব্যস্ত করে ফেলুন। বই পড়ুন, ঘর গোছান, বা প্রিয় কোনো মানুষের সাথে কথা বলুন। কাজের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্ক ফালতু চিন্তা করার সুযোগ পায় না।

৪. নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করুন:

যখনই মনে হবে "সব শেষ হয়ে যাবে" বা "আমি পারব না"—তখনই নিজেকে পাল্টা প্রশ্ন করুন, "এর প্রমাণ কী?" দেখবেন, আপনার ভয়ের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি শুধুই আপনার মনের সৃষ্টি।

জীবনটা খুব ছোট। অহেতুক দুশ্চিন্তা করে এই সুন্দর সময়গুলো নষ্ট করবেন না। ভুল সবাই করে, ব্যর্থতা সবার জীবনেই আসে। কিন্তু সেটা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। নিজেকে ক্ষমা করুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। মনের আবর্জনা পরিষ্কার না করলে সেখানে শান্তির চারাগাছ কখনোই জন্মাবে না। আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করুন, আপনি আপনার মনের মালিক হবেন, মন আপনার মালিক হবে না।


লোকে আপনাকে নিয়ে হাসছে? হাসতে দিন! মনে রাখবেন, ইতিহাস তো 'পাগল'রাই লেখে, বুদ্ধিমানরা শুধু ইতিহাস পড়ে।

Be Crazy Enough to Change the World

আপনি যখন নতুন কিছু শুরু করবেন, তখন সমাজ আপনাকে পাগল বলবে।

রাইট ব্রাদার্স যখন লোহার প্লেন ওড়ানোর কথা বলেছিল, তখন লোকে তাদের পাগল বলেছিল।

এডিশন যখন বাল্ব আবিষ্কারের জন্য হাজারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তখন লোকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল।

কিন্তু আজ? আজ আমরা সেই 'পাগল'দের আবিষ্কারের ওপর ভর করেই বেঁচে আছি। আর যারা তাদের নিয়ে হেসেছিল, তাদের নাম ইতিহাসের কোনো পাতাতেই নেই।

মনে রাখবেন, "পাগলামি মানে মস্তিস্কের বিকৃতি নয়, পাগলামি মানে হলো স্বপ্নের প্রতি তীব্র আসক্তি।"

#MotivationalQuotesBangla

কেন আপনাকে 'পাগল' হতে হবে? ৩টি কারণ:

১. ভিড় থেকে আলাদা (Stand Out)

সাধারণ বা তথাকথিত 'বুদ্ধিমান' মানুষরা ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। তারা নিরাপদ রাস্তায় হাঁটে, ৯টা-৫টার রুটিনে জীবন পার করে দেয়।

কিন্তু যারা ইতিহাস গড়ে, তারা নিরাপদ রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের পথ বেছে নেয়। লোকে হাসবে কারণ তারা আপনার ভিশন (Vision) দেখতে পাচ্ছে না। তাদের হাসতে দিন, আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান।

২. সমালোচকরা দর্শক মাত্র (Critics are Spectators)

গ্যালারিতে বসে খেলোয়াড়কে গালি দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু মাঠে নেমে খেলাটা কঠিন।

যারা আপনাকে নিয়ে হাসছে, তারা আসলে গ্যালারির দর্শক। আর আপনি হলেন মাঠের খেলোয়াড়।

খেলোয়াড়ের কাজ হলো খেলা, আর দর্শকের কাজ হলো চিৎকার করা। তাদের কাজ তাদের করতে দিন, আপনার ফোকাস শুধু গোলের দিকে রাখুন।

#MotivationalQuotesBangla

৩. সফলতাই সেরা জবাব

আজ যারা আপনাকে 'পাগল' বলছে, কাল আপনি সফল হলে তারাই আপনাকে 'জিনিয়াস' বলবে।

মানুষের মতামত আবাহাওয়ার মতো বদলায়। তাই তর্কে না গিয়ে কাজে মন দিন।

আপনার সফলতার শব্দে তাদের হাসির শব্দ একদিন ঢাকা পড়ে যাবে।

তাই কেউ যদি আপনাকে পাগল বলে, তবে মুচকি হেসে বলুন—"ধন্যবাদ!"

কারণ আপনি সঠিক পথেই আছেন। স্বাভাবিক মানুষ পৃথিবী চালায়, কিন্তু অস্বাভাবিক (পাগল) মানুষ পৃথিবী বদলায়।

নিজেকে বলুন—

"আমি পাগল হতে রাজি, কিন্তু সাধারণ হতে রাজি নই।"

কারা স্বপ্নের জন্য পাগল হতে রাজি? কমেন্টে লিখুন— "I AM CRAZY"


যে আপনাকে 'অপশন' হিসেবে রাখে, তাকে আপনি 'প্রায়োরিটি' বানিয়ে নিজের দাম কমাবেন না; মনে রাখবেন, সস্তা দরে বিক্রি হওয়া জিনিস মানুষ যত্ন করে রাখে না—নিজের মূল্য বাড়ান, দেখবেন অবহেলা করা মানুষটাই লাইন দেবে।

Never Make Someone a Priority When You Are Only an Option to Them

আমরা অনেক সময় ভালোবাসার নামে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ফেলি।

আমরা ভাবি, বেশি ভালোবাসা দেখালে বা সবসময় পায়ের কাছে পড়ে থাকলে মানুষটা আমাদের মূল্য বুঝবে।

কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আপনি যত বেশি সহজলভ্য (Available) হবেন, মানুষ আপনাকে তত বেশি সস্তা ভাববে।

অর্থনীতির নিয়ম হলো—বাজারে যে জিনিসের জোগান বেশি, তার দাম কম। মানুষের ক্ষেত্রেও তাই।

যে আপনার মেসেজের রিপ্লাই দিতে ৫ ঘণ্টা সময় নেয়, আর আপনি কাজ ফেলে ১ সেকেন্ডে রিপ্লাই দেন—ঠিক এই জায়গাটাতেই আপনি নিজের দাম কমিয়ে ফেললেন।

#MotivationalQuotesBangla

মনে রাখবেন, ভালোবাসা মানে ভিক্ষা করা নয়।

যেখানে সম্মান নেই, সেখান থেকে সরে আসাই হলো নিজের প্রতি সেরা উপহার।

আপনি কারো 'স্পেয়ার চাকা' নন যে আসল চাকা নষ্ট হলেই শুধু আপনার ডাক পড়বে।

আপনি নিজেই একটা ইঞ্জিন, আপনাকে ছাড়া গাড়ি চলবে না—এই বোধটা তৈরি করুন।

কেন নিজেকে সস্তা করবেন না?

১. সহজলভ্যতার ফাঁদ (The Trap of Availability)

রাস্তার ধারের কলের জল কেউ টাকা দিয়ে কেনে না, কিন্তু বোতলের জল মানুষ টাকা দিয়ে কেনে। জল একই, তফাৎ শুধু উপস্থাপনায়।

আপনি যখন সবার জন্য সবসময় 'এভেইলেবল' হয়ে যান, তখন মানুষ আপনার গুরুত্ব ভুলে যায়।

মাঝে মাঝে নিজেকে আড়াল করতে হয়, যাতে মানুষ আপনার অভাবটা অনুভব করতে পারে।

২. হারানোর ভয় (Fear of Loss)

আপনি তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে—সে যাই করুক, আপনি তাকে ছেড়ে যাবেন না।

এই নিশ্চয়তা পেয়েই সে আপনাকে অবহেলা করছে।

তাকে বুঝতে দিন যে, আপনাকে অবহেলা করলে আপনি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

মানুষ তাকেই কদর করে, যাকে হারানোর ভয় তাদের থাকে।

#MotivationalQuotesBangla

৩. নিজের স্ট্যান্ডার্ড সেট করুন

আপনি নিজেকে যেভাবে ট্রিট করবেন, দুনিয়াও আপনাকে সেভাবেই ট্রিট করবে।

আপনি যদি নিজেকে 'বিকল্প' ভাবেন, মানুষ আপনাকে অপশন হিসেবেই রাখবে।

নিজের মূল্য বাড়ান, নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিত্বের ওপর কাজ করুন।

যে আজ আপনাকে ইগনোর করছে, আপনি সফল হলে সেই মানুষটাই আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবে।

শেষ কথা

তাই কারো পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট করবেন না।

যে থাকার সে আপনার আত্মসম্মান বজায় রেখেই থাকবে।

আর যে যাওয়ার, সে আপনি পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়লেও থাকবে না।

মাথা উঁচু করুন, আপনি কারোর দয়ার পাত্র নন।

নিজেকে বলুন—

"আমি কারো অবসর সময়ের খেলনা নই, আমি দামী।"


সম্পদ বাড়লে মানুষের আকাঙ্ক্ষাও বেড়ে যায়, যা আরও চাহিদা ও মানসিক অশান্তির জন্ম দেয়।

উক্তিটির পেছনের মূল কারণসমূহ হলো:

অসন্তুষ্ট চাহিদা: ধন-সম্পদ মানুষকে আরও পাওয়ার লোভ তৈরি করে, ফলে চাহিদা কখনোই শেষ হয় না, প্রশান্তিও মেলে না।

মানসিক সন্তোষের অভাব:

প্রকৃত সুখ বা মানসিক সন্তোষ সম্পদের ওপর নির্ভর করে না, বরং অভ্যন্তরীণ শান্তির ওপর নির্ভর করে।

সম্পদের ধরণ:

জ্ঞান বা গুণ ভাগ করলে বাড়ে, কিন্তু ধন বা পার্থিব সম্পদ মানুষকে তা পাওয়ার জন্য অন্যের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার প্রবৃত্তি তৈরি করে।

জটিল সম্পর্ক:

ধনী হওয়ার মানেই সুখী হওয়া নয়, অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে সম্পদ ও সুখের মধ্যে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক নেই।

মূলত, হার্বার্ট এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সম্পদ সুখের উপায় নয়, বরং এটি চাহিদার একটি অন্তহীন চক্র তৈরি করে।

জীবনী:

হার্বার্ট ক্লার্ক হুভার (১৮৭৪-১৯৬৪) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট (১৯২৯-১৯৩৩), একজন সফল খনি প্রকৌশলী এবং মানবিক ত্রাণকর্তা। রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা বাণিজ্য সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর আমলে মহামন্দা (Great Depression) শুরু হলে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন এবং ১৯৩২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা:

জন্ম:

১০ আগস্ট, ১৮৭৪, আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট ব্রাঞ্চে।

পারিবারিক ইতিহাস: মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি এতিম হন।

শিক্ষা:

তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে খনি প্রকৌশল (Mining Engineering) বিষয়ে পড়াশোনা করেন।

পেশাজীবন ও মানবিক অবদান:

ইঞ্জিনিয়ার: পড়াশোনা শেষে তিনি আন্তর্জাতিক খনি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং প্রচুর সম্পদ অর্জন করেন।

ত্রাণকর্তা:

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়াম এবং ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে তিনি ‘গ্রেট হিউম্যানিটারিয়ান’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

বাণিজ্য সচিব:

১৯২১ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাণিজ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রেডিও ও বিমান চালনা শিল্পের আধুনিকীকরণে ভূমিকা রাখেন।

প্রেসিডেন্সি (১৯২৯-১৯৩৩):

নির্বাচন: ১৯২৮ সালে তিনি ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

মহামন্দা:

তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ১৯২৯ সালের পুঁজিবাজার ধসে পড়ে, (conservative) নীতি এবং মন্দা মোকাবিলায় ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন।

নীতি:

তিনি বিশ্বাস করতেন সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে সংকট আরও বাড়বে, তবে তিনি Hoover Dam নির্মাণসহ কিছু অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছিলেন।

পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু:

প্রেসিডেন্সির পর তিনি রিপাবলিকান পার্টির একজন সমালোচক হিসেবে সরব ছিলেন।

২০ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে ৯০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হার্বার্ট হুভার একজন সফল ব্যবসায়ী হলেও, মহামন্দার সময় তাঁর নীতিগুলোর জন্য ইতিহাসের পাতায় তিনি মূলত একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবেই বেশি পরিচিত।

তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী


মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া কোনো জাদু নয় এটা দৈনিক অনুশীলনের ফল।

যেমন নিয়মিত জিম করলে শরীর শক্ত হয়, তেমনি কিছু মানসিক অভ্যাস আপনার মনকে বানাতে পারে একদম বুলেটপ্রুফ

আপনি যদি আপনার ব্যক্তিত্বকে এক নতুন লেভেলে নিতে চান এবং ভেতর থেকে লোহার মতো শক্ত হতে চান, তাহলে আজ থেকেই এই ৩টি অভ্যাস নিজের জীবনে প্রয়োগ করুন

চারপাশে এমন অনেক কিছু ঘটবে যা আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করতে চাইবে।

কিন্তু আপনি যদি এই তিনটি জায়গায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে কোনো নেতিবাচক শক্তিই আপনাকে দমাতে পারবে না

১. সমালোচনাকে ‘বর্ম’ বানান  মানুষকে কথা বলতে দিন

সত্যিটা হলো

আপনি ভালো করুন বা খারাপ, মানুষ কথা বলবেই।

আপনি যখনই এগিয়ে যাবেন, তখনই আপনার পেছনে গল্প তৈরি হবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম।

যারা আপনার পেছনে কথা বলছে, তারা পেছনেই আছে।

তাদের থামানোর চেষ্টা করা মানে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।

একটা হাতি যখন রাস্তা দিয়ে যায়, তখন অনেক ছোট প্রাণী চিৎকার করে।

কিন্তু হাতি কি থেমে যায়? না।

কারণ সে জানে সে কোথায় যাচ্ছে

মনে রাখবেন:

“মানুষের কাজ কথা বলা,

আর আপনার কাজ ফলাফল দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা।”

২. কমফোর্ট জোন ভাঙুন  অস্বস্তির মধ্যেই শক্তি (Seek Discomfort)

আমরা সবাই আরাম চাই।

কিন্তু মনে রাখবেন আরামদায়ক জীবনে কখনো ইতিহাস লেখা যায় না।

আপনি যত বেশি আরাম খুঁজবেন,

আপনার মন তত বেশি দুর্বল হবে।

প্রতিদিন অন্তত একটি কাজ করুন যেটা করতে আপনার অস্বস্তি লাগে

ভোরে ঘুম থেকে ওঠা,

সবার সামনে কথা বলা,

অথবা বহুদিন ফেলে রাখা কঠিন কাজটা শেষ করা।

কেন এটা জরুরি?

কারণ ভয় আর অস্বস্তির মুখোমুখি হলেই মস্তিষ্ক শক্ত হতে শুরু করে।

এই ছোট ছোট জয়ই একদিন আপনাকে বড় ঝড়ের সামনে অটল রাখবে।

তাই মনে রাখুন

“প্রতিদিন নিজেকে একটু করে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলুন,

যাতে আপনি ভাঙা নয়, বরং গড়া শিখেন।”

৩. আসক্তির দাস হবেন না  সুখকে নিয়ন্ত্রণ করুন (Control Your Pleasure)

এই যুগটা ‘ইনস্ট্যান্ট প্লেজার’-এর যুগ।

মোবাইল স্ক্রল, জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত ঘুম

এসব সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু ভেতর থেকে ফোকাস ধ্বংস করে দেয়।

আনন্দ যেন আপনাকে কন্ট্রোল না করে,

বরং আপনি যেন আনন্দকে কন্ট্রোল করেন।

যে নিজের জিভ, চোখ আর ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না,

সে কখনো নিজের জীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না

সোশ্যাল মিডিয়া চালাতে ইচ্ছা করলে ৫ মিনিট বই পড়ুন।

আলসেমি লাগলে জোর করে ব্যায়াম করুন।

এই যে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সঠিক কাজটা করা

এটাই প্রকৃত মানসিক শক্তি

নিজেকে বারবার বলুন

“আমি আমার অভ্যাসের গোলাম নই,

আমি আমার নিজের জীবনের মালিক।”

শেষ কথা

মানসিক শক্তি জন্মগত নয় এটা অর্জন করতে হয়।

মানুষের কথায় কান দেওয়া বন্ধ করুন

কঠিন কাজকে আলিঙ্গন করুন

নিজের আনন্দ আর ইচ্ছাকে শৃঙ্খলায় বাঁধুন

যেদিন আপনি এই ৩টি বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন,

সেদিন মানুষের নেগেটিভ কথা আপনার কাছে বৃষ্টির মতো লাগবে

গায়ে পড়বে ঠিকই, কিন্তু আপনাকে ভিজিয়ে দিতে পারবে না

আমিনুল ইসলাম জুয়েল 


রোমান দার্শনিক সেনেকা সময়কে জীবনের সবচেয়ে বেশী মূল্যবান সম্পদ মনে করতেন। মানুষ টাকা হারালে কাঁদে কারণ তা পুনর্গণনা করা যায়, কিন্তু সময় হারালে হাসে অর্থাৎ আমরা আনন্দ করে জন্মদিন পালন করি, মানে সময় হারানোর আনন্দ করি। সময় হলো ‘অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ’, যা একবার চলে গেলে আর কখনোই ফিরে আসে না, তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই তিনি এই কঠোর সত্যটি বলেছিলেন।

সেনেকা কেন এই কথাটি বলেছিলেন তার পেছনের মূল কারণগুলো হলো:

সময় ও অর্থের পার্থক্য:

টাকা বা সম্পদ হারিয়ে গেলে পুনরায় উপার্জনের সুযোগ থাকে, কিন্তু জীবনের অতিক্রান্ত সময় কোনোভাবেই আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

জীবনের সীমাবদ্ধতা:

তিনি বিশ্বাস করতেন, আমাদের জীবন ছোট নয়, কিন্তু আমরাই বেশিরভাগ সময় নষ্ট করে ফেলি।

সচেতনতা বৃদ্ধি:

মানুষ সাধারণত টাকার অপচয় নিয়ে যতটা চিন্তিত, সময়ের অপচয় নিয়ে ততটা নয়। তিনি সময়ের সদ্ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই কঠোর উপমাটি ব্যবহার করেছিলেন।

সংক্ষেপে:

সেনেকার মতে, সময়ের অপচয় হলো নিজের জীবনের একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে ফেলা।

লুসিয়াস অ্যানিয়াস সেনেকা

(Seneca the Younger) ছিলেন প্রাচীন রোমের একজন বিশিষ্ট স্টোইক দার্শনিক, নাট্যকার, এবং রাজনীতিবিদ, যিনি সম্রাট নিরোর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি স্টোইসিজম দর্শনের ওপর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ও চিঠিপত্র লিখেছিলেন, যেখানে সুখ, মানসিক শান্তি এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি নাটকও লিখেছেন।

সেনেকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:

স্টোইক দর্শন:

সেনেকা স্টোইসিজমের প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মনে করতেন যে, আবেগ এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত জীবনযাপন করা উচিত।

বিখ্যাত কাজ:

তাঁর সবচেয়ে পরিচিত কাজের মধ্যে রয়েছে Letters from a Stoic (লুসিলিয়াসকে লেখা চিঠিপত্র) এবং বিভিন্ন নৈতিক প্রবন্ধ।

সম্রাট নিরোর উপদেষ্টা:

তিনি সম্রাট নিরোর শৈশবের শিক্ষক এবং পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

জীবন ও মৃত্যু:

তিনি একজন অত্যন্ত ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়ে কর্সিকায় নির্বাসিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে নিরোর আদেশে আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা যান।

জীবন দর্শন:

তাঁর মতে, জীবন খুব ছোট নয়, বরং আমরা একে অপচয় করি। তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও শান্ত থাকার এবং জীবনের ওপর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দিতেন।

সেনেকার কাজগুলি আজও আত্ম-উন্নয়ন এবং মানসিক শান্তির জন্য জনপ্রিয়।

সেনকার প্রাথমিক জীবন ও পরিচিতি:

লুসিয়াস আনায়াস সেনেকা (Seneca the Younger) ৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে স্পেনের কর্ডোবায় একটি ধনাঢ্য রোমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বিখ্যাত বাগ্মী সেনেকা দ্য এল্ডার। শৈশবে রোমে এসে তিনি দর্শন (বিশেষ করে স্টোয়িকবাদ) ও অলংকারশাস্ত্রে কঠোর শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যগত সমস্যা (সম্ভবত হাঁপানি বা যক্ষ্মা) সত্ত্বেও তিনি রাজনীতি ও আইন পেশায় দ্রুত উন্নতি করেন।

পারিবারিক পটভূমি:

তার পিতা, 'সেনেকা দ্য এল্ডার', রোমান অশ্বারোহী শ্রেণীভুক্ত ছিলেন এবং অলংকারশাস্ত্রের ওপর বই লিখতেন।

শিক্ষা ও দর্শন:

রোমে আসার পর তিনি স্টোয়িক দার্শনিক আত্তালাস (Attalus the Stoic), সোশিওন এবং পাপিরাস ফ্যাবিয়ানাসের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। স্টোয়িক মতাদর্শে তিনি এতটাই অনুপ্রাণিত ছিলেন যে তা তার ব্যক্তিগত জীবন ও দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে।

স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক জীবন:

তিনি খুব শৈশবে রোমে আসেন এবং তার শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন, যা তাকে দর্শনের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলে।

রাজনৈতিক জীবনের সূচনা:

তরুণ বয়সেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং কোয়েস্টর (quaestor) ও প্রেটর (praetor) পদসহ বিভিন্ন উচ্চপদ অলঙ্কৃত করেন।

নির্বাসন ও ফেরা:

৪১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগে তাকে কর্সিকায় নির্বাসিত করা হয়েছিল। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং ভবিষ্যতের সম্রাট নিরোর গৃহশিক্ষক ও উপদেষ্টা হন।

তার প্রাথমিক জীবন জ্ঞানার্জন, দর্শনের চর্চা এবং রোমান রাজনীতিতে প্রবেশের প্রচেষ্টায় কেটেছিল, যা পরে তার নাটক ও দার্শনিক রচনার ভিত্তি স্থাপন করে।

সেনকা কেন আত্মহত্যা করেছিলেন?

রোমান দার্শনিক ও সম্রাট নিরোর পরামর্শদাতা সেনেকা ৬৫ খ্রিস্টাব্দে নিরোকে হত্যার পিসোনিয়ান ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সম্রাট নিরোর আদেশে আত্মহত্যা করেন। যদিও তিনি এই ষড়যন্ত্রে নির্দোষ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, তবুও নিরোর তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন, যা তিনি স্টোইক দার্শনিক হিসেবে শান্তভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

সেনেকার আত্মহত্যার প্রধান কারণ ও প্রেক্ষাপট:

সম্রাট নিরোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

৬৫ খ্রিস্টাব্দে গাইউস কালপুরনিয়াস পিসোর নেতৃত্বে নিরোকে হত্যার এক ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস হলে, সেনেকাকে তার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

নিরোর আস্থা হারানো:

নিরো একসময় সেনেকার ছাত্র থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং নিরো সেনেকাকে তার ক্ষমতার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করতে শুরু করেন।

জোরপূর্বক আত্মহত্যা:

রোমান উচ্চবিত্ত সমাজে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নিজ ইচ্ছায় বা আদেশে আত্মহত্যার সুযোগ দেওয়া হতো। নিরোর আদেশে সেনেকা তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।

স্টোইক দর্শন:

সেনেকা একজন Stoic দার্শনিক ছিলেন, যার ফলে তিনি মৃত্যুর আদেশ পেয়েও বিচলিত না হয়ে শান্তভাবে তার শিষ্যদের সামনে জীবন বিসর্জন দেন।

সেনেকা নিজের রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে এবং পরবর্তীতে বাষ্পস্নানের (steam bath) মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন।

তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী


নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়াই আসল স্বাধীনতা

অনেকে স্বাধীনতা মানে মনে করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পছন্দের কাজ করা, কোথায় যেতে হবে তা ঠিক করা। কিন্তু আসল স্বাধীনতা কিছু নয় যদি আপনি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে না জানেন। কারণ দায়িত্ব ছাড়া যে স্বাধীনতা, সেটা ফাঁকা বাতাসের মতো দোলা দেয়, কিন্তু শক্তি দেয় না।

আপনি যদি সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপান—পরিবার, সমাজ, বন্ধু, ভাগ্য তাহলে কোনো অর্জনই সত্যিকারের আপনার হয় না। সফলতা আসে, কিন্তু সেটা আনন্দ দেয় না। কারণ ভিতরে ভয় থাকে আমি কি সত্যিই সক্ষম?

নিজের জীবনের দায়িত্ব মানে নিজের সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করা। সুখের, দুঃখের, ভুলের, সঠিকের সবটাই নিজের। প্রথমে ভয় লাগে। প্রথমবার ভুল হলে মনে হয় ভার ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিটি ভুলই শেখায়, প্রতিটি পদক্ষেপই শক্তি যোগায়।

যেদিন আপনি নিজের জীবনের পরিচালক হয়ে দাঁড়ান, সেদিনই আসল স্বাধীনতা আসে। আর কেউ না বলে, না চাপ দেয়, না সীমা দেয় কারণ আপনি নিজেই জানেন কোথায় যেতে চান, কী মানে আপনার জীবন।

নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়া মানে শুধু বড় হওয়া নয়। এটা মানে আপনার স্বপ্ন, আপনার ত্যাগ, আপনার আনন্দ সবটাই নিজের। কেউ চুরি করতে পারে না। কেউ বাদ দিতে পারে না।

স্বাধীনতা তখনই পূর্ণ, যখন আপনি বলেন আমি আমার জীবনটির একমাত্র দায়িত্বশীল।

এটাই আসল শক্তি।

এটাই আসল স্বাধীনতা।নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়াই আসল স্বাধীনতা

অনেকে স্বাধীনতা মানে মনে করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পছন্দের কাজ করা, কোথায় যেতে হবে তা ঠিক করা। কিন্তু আসল স্বাধীনতা কিছু নয় যদি আপনি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে না জানেন। কারণ দায়িত্ব ছাড়া যে স্বাধীনতা, সেটা ফাঁকা বাতাসের মতো দোলা দেয়, কিন্তু শক্তি দেয় না।

আপনি যদি সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপান—পরিবার, সমাজ, বন্ধু, ভাগ্য তাহলে কোনো অর্জনই সত্যিকারের আপনার হয় না। সফলতা আসে, কিন্তু সেটা আনন্দ দেয় না। কারণ ভিতরে ভয় থাকে আমি কি সত্যিই সক্ষম?

নিজের জীবনের দায়িত্ব মানে নিজের সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করা। সুখের, দুঃখের, ভুলের, সঠিকের সবটাই নিজের। প্রথমে ভয় লাগে। প্রথমবার ভুল হলে মনে হয় ভার ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিটি ভুলই শেখায়, প্রতিটি পদক্ষেপই শক্তি যোগায়।

যেদিন আপনি নিজের জীবনের পরিচালক হয়ে দাঁড়ান, সেদিনই আসল স্বাধীনতা আসে। আর কেউ না বলে, না চাপ দেয়, না সীমা দেয় কারণ আপনি নিজেই জানেন কোথায় যেতে চান, কী মানে আপনার জীবন।

নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়া মানে শুধু বড় হওয়া নয়। এটা মানে আপনার স্বপ্ন, আপনার ত্যাগ, আপনার আনন্দ সবটাই নিজের। কেউ চুরি করতে পারে না। কেউ বাদ দিতে পারে না।

স্বাধীনতা তখনই পূর্ণ, যখন আপনি বলেন আমি আমার জীবনটির একমাত্র দায়িত্বশীল।

এটাই আসল শক্তি।

এটাই আসল স্বাধীনতা