১
এখনকার দিনে এই সমস্যাটা সবাই ভোগেন। সেটা হচ্ছে আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না।
কিন্তু এই কিচ্ছু ভালো লাগছে না-টা কখন? যখন আমাদের ডোপামিন কমে গেছে তখন। ডোপামিন একটা হরমোন যেটা আমাদের ভালো লাগার অনুভূতি দেয়। ডোপামিন হরমোন শরীরে বাড়িয়ে নিলে, হঠাৎ ভীষণ ভালো লাগছে এমন মনে হবে। কিন্তু করব কি করে?
মানুষ যখন প্রথম প্রেমে পড়ে তখন কিন্তু ডোপামিনই ক্ষরণ হয়। তাতে হঠাৎ সবকিছু ভালো লাগতে শুরু করে। কিন্তু সেই ভালো লাগাটা ক্ষণস্থায়ী হয়, দু তিন বছর পর কমে যায়। সেই ভালো লাগাটা দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না। কারণ ন্যাচারালি ডোপামিনের নেচারটাই হচ্ছে বাড়ে, কমে। তাহলে আমরা যদি আনন্দে থাকতে চাই সারাদিন, তারজন্য ডোপামিন হ্যাক অ্যাঁ ব্যবহার করতে হবে। এজন্য আমাকে প্রথমে জানতে হবে ডোপামিন কখন ক্ষরণ হয়? যখন আমরা ভাবি কিছু একটা রিওয়ার্ড পাব, তখন। মানে, ধরুন আমি একটা গেম খেলছি। গেমটা শেষ হলে আমি একটি রিওয়ার্ড পাব। তখন আমার কিন্তু ডোপামিন ক্ষরণ হবে। দেখবেন, এইজন্যই আমরা গেম খেলতে খেলতে গেমে অ্যাডিক্টেড হয়ে যাই। বা আমার পছন্দের কোন খাবার একটা রান্না হচ্ছে, সেই খাবারটা খাব, এটা ভাবতে ভাবতেই আমাদের কিন্তু ডোপামিনটা ক্ষরণ হতে লাগে। কিন্ত যখন খেয়ে নিলাম, ওই ভালো লাগা অনুভূতিটা আর থাকে না। কারণ যেই আমি সেটাকে পেয়ে যাই আমার কিন্তু ডোপামিনটা কমে যায়। এই একই ব্যাপার, কাউকে আমি পেতে চাই। এতে আমাদের ডোপামিন বাড়ে। যেই আমি তাকে পেয়ে যাব, সে আমার ওয়াইফ হয়ে গেল, মেয়েদের ক্ষেত্রে আমার হাজবেন্ড হয়ে গেল, আমার কিন্তু আর ডোপামিন ক্ষরণ হবে না তার জন্য। কেন বলুন তো? ডোপামিনটা হচ্ছে রিওয়ার্ড। রিওয়ার্ড দিয়ে দিয়ে এই ডোপামিনটাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে নিত্যদিনের কাজের মধ্যে। তা্জন্য কি করতে হবে?
প্রথমে আজকে আমি এই তিনটা কাজ করতে চাই, তা তালিকা করব,তারপর নিজেকে এটা বলতে হবে যে, যদি আমি সবকটা কাজ ঠিকঠাক করতে পারি, তাহলে আজকে আমার পছন্দের খাবার খাব বা নিজে একটা কিছু কিনব। তাহলে কি হবে? ওই রিওয়ার্ড পাবার আশায় আমার কিন্তু ডোপামিন ক্ষরণ করাবে। এভাবে আপনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো খুব আনন্দের সাথে করতে পারবেন। স্মল, স্মল স্টেপে করতে হবে। আমি আজ থেকে দশ বছর পরে এই কোম্পানির মালিক হব। অতদূর ডোপামিন ভাবতে পারে না। তাই ছোট ছোট গোলগুলো অর্জনের চেষ্টা করতে হবে, এতে ডোপামিন ক্ষরণ হবে। কিন্তু রিওয়ার্ড বা পুরস্কারটা আপনি সত্যি সত্যিই দিবেন, নিজের সাথে প্রতারণা করবেন না। কিন্তু ধরুন একদিন আপনি নির্ধারিত পাঁচটা কাজ করতে পারলেন না, একটা বা দুইটা বাকি থেকে গেল; সেদিন কিন্তু আপনি রিওয়ার্ড বা পুরস্কার দিবেন না। নিজেকে কন্ট্রোল করুন। তাহলে কি, ওই পাঁচটা কাজ করে যে আনন্দটা পাবার ছিল, আপনি পরের দিন কিন্তু আর পাবেন না।এরকম পাঁচটা কাজ হয়তো আপনি রোজ করেন। কিন্তু আপনি ডোপামিনকে কাজে লাগান না। ফলে আমাদের ডোপামিনটা হারিয়ে যায়। এভাবে নিউ, নিউ এক্সাইটিং কাজের মধ্যে দিয়ে সেই ডোপামিনটা ক্ষরণ করতে হবে। তাহলে রিলেশনশিপ ভালো থাকবে, বন্ধুদ্বুও ভালো থাকবে বা কাজগুলোর মধ্যেও আপনি আনন্দ পাবেন।
এই শখগুলো আপনার থাকলে মন খারাপের সময় ডোপামিন বাড়াবে, আপনাকে চনমনে করবে৷
১. পরিচিত শখকে নতুনভাবে করা:
আমরা অনেক সময় একই কাজ করতে করতে বিরক্ত হয়ে যাই। আপনার প্রিয় শখটিই একটু ভিন্নভাবে করুন। যেমন: প্রতিদিন একই রাস্তায় না হেঁটে নতুন কোনো পথে হাঁটুন, অথবা রান্নায় নতুন কোনো রেসিপি ট্রাই করুন। নতুন কিছু করলে মস্তিষ্ক দ্রুত ডোপামিন নিঃসরণ করে।
২. ঠান্ডা পানির থেরাপি:
শুনতে অবাক লাগলেও, খুব ঠান্ডা পানিতে গোসল করা বা মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দেওয়া ডোপামিন বাড়াতে দারুণ কার্যকর। এটি শরীরকে সজাগ করে এবং কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত আপনার মানসিক স্বচ্ছতা ও এনার্জি বজায় রাখে।
৩. সৃজনশীল শরীরচর্চা:
একঘেয়ে জিম না করে এমন কিছু করুন যা মজার। যেমন:
ট্রাম্পোলিনে লাফানো।
নাচ করা।
রক ক্লাইম্বিং বা পাহাড়ে চড়া।
এগুলো শরীর ও মস্তিষ্ক উভয়কেই ব্যস্ত রাখে, ফলে মন দীর্ঘক্ষণ ভালো থাকে।
৪. হাতের কাজ ও বাগান করা:
গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি নিয়ে কাজ করা বা বাগান করা এবং আঁকাআঁকি বা সেলাইয়ের মতো হাতের কাজগুলো আমাদের তৃপ্তি দেয়। কোনো কিছু নিজে তৈরি করার পর যে সাফল্যের অনুভূতি হয়, তা ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
৫. ডিজিটাল ডিটক্স বা ফোন থেকে বিরতি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করলে সাময়িক আনন্দ পাওয়া গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্লান্তিকর। আর্টিকেলটিতে ফোন সরিয়ে রেখে বই পড়া, গোসল করা বা শান্তভাবে কিছুক্ষণ কাটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমে।
৬. ছোট ছোট ভালো কাজ:
কাউকে একটি সুন্দর মেসেজ পাঠানো, পরিচিত কাউকে ছোট উপহার দেওয়া বা কারো জন্য ভালো কিছু করা আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের হরমোন তৈরি করে।
ডোপামিন বাড়াতে হলে শুধু ফোনের স্ক্রিনে সময় না কাটিয়ে বাস্তব জগতের কোনো কাজ, সৃজনশীল শখ বা শরীরের নড়াচড়া হয় এমন কাজে যুক্ত হওয়া জরুরি। এতে আপনি প্রাকৃতিকভাবেই অনেক বেশি সুখী ও কর্মঠ বোধ করবেন।
২
ব্রেনকে একটু রেস্ট দিন, সব প্রশ্নের উত্তর আজই খুঁজতে যাবেন না
আমাদের অনেকেরই একটা বাজে অভ্যাস আছে—আমরা সব কিছুতেই 'কেন' এবং 'কীভাবে' খুঁজতে যাই।
একটু ঝগড়া হলো, আর আপনি সারারাত ভাবলেন—"সম্পর্কটা কি ভেঙে যাবে?"
বস একটু বকা দিল, আর আপনি ভাবলেন—"আমার চাকরিটা বুঝি গেল।"
আপনার এই অতিরিক্ত চিন্তা বা Overthinking একটা ছোট সমস্যাকে পাহাড় সমান বানিয়ে ফেলছে।
বাস্তবে পরিস্থিতি যতটা না খারাপ, আপনার মস্তিষ্ক সেটাকে তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি খারাপ করে দেখাচ্ছে।
মনে রাখবেন, সব প্রশ্নের উত্তর আজকেই পেতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
কিছু উত্তর সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে হয়।
জীবন হলো একটা ক্যানভাস। এখানে ভুল রং লাগলে সেটা মুছে ফেলার চেষ্টা না করে, তার ওপর নতুন রং দিয়ে সুন্দর কিছু আঁকতে হয়।
অযথা টেনশন করে আপনি আগামীকালের সমস্যা কমাতে পারবেন না, শুধু আজকের শান্তিটা নষ্ট করবেন।
সমাধান: কীভাবে এই অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করবেন?
১. ব্রেনকে 'পজ' দিন (Hit the Pause Button)
মেশিন টানা চললে যেমন গরম হয়ে যায়, আমাদের ব্রেনও তাই।
যখনই মাথায় বেশি চিন্তা আসবে, নিজেকে বলুন—"স্টপ! এই বিষয় নিয়ে আমি কাল সকালে ভাবব, এখন না।"
জোর করে চিন্তা থামিয়ে অন্য কাজে মন দিন। ধ্যান করুন, প্রার্থনা করুন, আপনার পছন্দের কিছু করুন বা হাঁটতে বের হন।
২. কাল্পনিক নাটক বন্ধ করুন (Stop Fake Scenarios)
Overthinking-এর সময় আমরা মনে মনে এমন সব ভয়ংকর দৃশ্য কল্পনা করি, যা বাস্তবে কোনোদিন ঘটবেই না।
অযথা ভয়ের জগতে বাস করবেন না।
৩. নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে শিখুন (Let Go of Control)
সব কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না—এটা মেনে নিন।
বৃষ্টি হলে যেমন ছাতা ধরা ছাড়া আপনার কিছু করার থাকে না, তেমনি জীবনের কিছু পরিস্থিতিতে শুধু ধৈর্য ধরা ছাড়া উপায় থাকে না।
স্রোতের বিপরীতে সাঁতার না কেটে মাঝে মাঝে গা ভাসিয়ে দিতে হয়।
শেষ কথা
নিঃশ্বাস নিন, একটু হাসুন। জীবনটা অতটাও জটিল নয়, যতটা আপনি ভাবছেন।
৩
অতিরিক্ত চিন্তা কমিয়ে জীবনকে উপভোগ করুন
১. বর্তমান মুহূর্তকে গুরুত্ব দিন:
অতীতের ভুল আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই দুটোর মাঝখানের নামই হলো জীবন। যা চলে গেছে তা ফেরানো সম্ভব নয়, আর যা আসেনি তা অজানা। তাই এই মুহূর্তে আপনি কোথায় আছেন, কী করছেন—সেদিকে ফোকাস করুন।
২. 'নিয়ন্ত্রণ' এবং 'অনিয়ন্ত্রণ' আলাদা করুন:
নিজেকে প্রশ্ন করুন, "আমি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছি, তা কি আমার নিয়ন্ত্রণে আছে?" যদি উত্তর 'না' হয়, তবে সেটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন। আবহাওয়া, অন্যের আচরণ বা অতীত—এগুলো আপনার হাতে নেই। যা আপনার হাতে নেই, তা নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করা বোকামি।
৩. নিজেকে ব্যস্ত রাখুন:
অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। আপনি যখনই খুব বেশি চিন্তা করতে শুরু করবেন, তখনই নিজেকে কোনো কাজে ব্যস্ত করে ফেলুন। বই পড়ুন, ঘর গোছান, বা প্রিয় কোনো মানুষের সাথে কথা বলুন। কাজের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্ক ফালতু চিন্তা করার সুযোগ পায় না।
৪. নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করুন:
যখনই মনে হবে "সব শেষ হয়ে যাবে" বা "আমি পারব না"—তখনই নিজেকে পাল্টা প্রশ্ন করুন, "এর প্রমাণ কী?" দেখবেন, আপনার ভয়ের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি শুধুই আপনার মনের সৃষ্টি। জীবনটা খুব ছোট। অহেতুক দুশ্চিন্তা করে এই সুন্দর সময়গুলো নষ্ট করবেন না। ভুল সবাই করে, ব্যর্থতা সবার জীবনেই আসে। কিন্তু সেটা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। নিজেকে ক্ষমা করুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। মনের আবর্জনা পরিষ্কার না করলে সেখানে শান্তির চারাগাছ কখনোই জন্মাবে না। আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করুন, আপনি আপনার মনের মালিক হবেন, মন আপনার মালিক হবে না।
৪
ইতিহাস'পাগল'রাই লেখে, বুদ্ধিমানরা শুধু ইতিহাস পড়ে।
Be Crazy Enough to Change the World
আপনি যখন নতুন কিছু শুরু করবেন, তখন সমাজ আপনাকে পাগল বলবে।
রাইট ব্রাদার্স যখন লোহার প্লেন ওড়ানোর কথা বলেছিল, তখন লোকে তাদের পাগল বলেছিল।
এডিশন যখন বাল্ব আবিষ্কারের জন্য হাজারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তখন লোকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল।
কিন্তু আজ? আজ আমরা সেই 'পাগল'দের আবিষ্কারের ওপর ভর করেই বেঁচে আছি। আর যারা তাদের নিয়ে হেসেছিল, তাদের নাম ইতিহাসের কোনো পাতাতেই নেই।
মনে রাখবেন, "পাগলামি মানে মস্তিস্কের বিকৃতি নয়, পাগলামি মানে হলো স্বপ্নের প্রতি তীব্র আসক্তি।"
কেন আপনাকে 'পাগল' হতে হবে? ৩টি কারণ:
১. ভিড় থেকে আলাদা (Stand Out)
সাধারণ বা তথাকথিত 'বুদ্ধিমান' মানুষরা ঝুঁকি নিতে ভয় পায়। তারা নিরাপদ রাস্তায় হাঁটে, ৯টা-৫টার রুটিনে জীবন পার করে দেয়।
কিন্তু যারা ইতিহাস গড়ে, তারা নিরাপদ রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলের পথ বেছে নেয়। লোকে হাসবে কারণ তারা আপনার ভিশন (Vision) দেখতে পাচ্ছে না। তাদের হাসতে দিন, আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান।
২. সমালোচকরা দর্শক মাত্র (Critics are Spectators)
গ্যালারিতে বসে খেলোয়াড়কে গালি দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু মাঠে নেমে খেলাটা কঠিন।
যারা আপনাকে নিয়ে হাসছে, তারা আসলে গ্যালারির দর্শক। আর আপনি হলেন মাঠের খেলোয়াড়।
খেলোয়াড়ের কাজ হলো খেলা, আর দর্শকের কাজ হলো চিৎকার করা। তাদের কাজ তাদের করতে দিন, আপনার ফোকাস শুধু গোলের দিকে রাখুন।
৩. সফলতাই সেরা জবাব
আজ যারা আপনাকে 'পাগল' বলছে, কাল আপনি সফল হলে তারাই আপনাকে 'জিনিয়াস' বলবে।
মানুষের মতামত আবাহাওয়ার মতো বদলায়। তাই তর্কে না গিয়ে কাজে মন দিন।
আপনার সফলতার শব্দে তাদের হাসির শব্দ একদিন ঢাকা পড়ে যাবে।
তাই কেউ যদি আপনাকে পাগল বলে, তবে মুচকি হেসে বলুন—"ধন্যবাদ!"
কারণ আপনি সঠিক পথেই আছেন। স্বাভাবিক মানুষ পৃথিবী চালায়, কিন্তু অস্বাভাবিক (পাগল) মানুষ পৃথিবী বদলায়।
নিজেকে বলুন—
"আমি পাগল হতে রাজি, কিন্তু সাধারণ হতে রাজি নই।"
কারা স্বপ্নের জন্য পাগল হতে রাজি? কমেন্টে লিখুন— "I AM CRAZY"
৫
যত বেশি সহজলভ্য হবেন, মানুষ আপনাকে তত বেশি সস্তা ভাববে
যে আপনাকে 'অপশন' হিসেবে রাখে, তাকে আপনি 'প্রায়োরিটি' বানিয়ে নিজের দাম কমাবেন না; মনে রাখবেন, সস্তা দরে বিক্রি হওয়া জিনিস মানুষ যত্ন করে রাখে না—নিজের মূল্য বাড়ান, দেখবেন অবহেলা করা মানুষটাই লাইন দেবে।
Never Make Someone a Priority When You Are Only an Option to Them
আমরা অনেক সময় ভালোবাসার নামে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ফেলি।
আমরা ভাবি, বেশি ভালোবাসা দেখালে বা সবসময় পায়ের কাছে পড়ে থাকলে মানুষটা আমাদের মূল্য বুঝবে।
কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আপনি যত বেশি সহজলভ্য (Available) হবেন, মানুষ আপনাকে তত বেশি সস্তা ভাববে।
অর্থনীতির নিয়ম হলো—বাজারে যে জিনিসের জোগান বেশি, তার দাম কম। মানুষের ক্ষেত্রেও তাই।
যে আপনার মেসেজের রিপ্লাই দিতে ৫ ঘণ্টা সময় নেয়, আর আপনি কাজ ফেলে ১ সেকেন্ডে রিপ্লাই দেন—ঠিক এই জায়গাটাতেই আপনি নিজের দাম কমিয়ে ফেললেন।
মনে রাখবেন, ভালোবাসা মানে ভিক্ষা করা নয়।
যেখানে সম্মান নেই, সেখান থেকে সরে আসাই হলো নিজের প্রতি সেরা উপহার।
আপনি কারো 'স্পেয়ার চাকা' নন যে আসল চাকা নষ্ট হলেই শুধু আপনার ডাক পড়বে।
আপনি নিজেই একটা ইঞ্জিন, আপনাকে ছাড়া গাড়ি চলবে না—এই বোধটা তৈরি করুন।
কেন নিজেকে সস্তা করবেন না?
১. সহজলভ্যতার ফাঁদ (The Trap of Availability)
রাস্তার ধারের কলের জল কেউ টাকা দিয়ে কেনে না, কিন্তু বোতলের জল মানুষ টাকা দিয়ে কেনে। জল একই, তফাৎ শুধু উপস্থাপনায়।
আপনি যখন সবার জন্য সবসময় 'এভেইলেবল' হয়ে যান, তখন মানুষ আপনার গুরুত্ব ভুলে যায়।
মাঝে মাঝে নিজেকে আড়াল করতে হয়, যাতে মানুষ আপনার অভাবটা অনুভব করতে পারে।
২. হারানোর ভয় (Fear of Loss)
আপনি তাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে—সে যাই করুক, আপনি তাকে ছেড়ে যাবেন না।
এই নিশ্চয়তা পেয়েই সে আপনাকে অবহেলা করছে।
তাকে বুঝতে দিন যে, আপনাকে অবহেলা করলে আপনি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
মানুষ তাকেই কদর করে, যাকে হারানোর ভয় তাদের থাকে।
৩. নিজের স্ট্যান্ডার্ড সেট করুন
আপনি নিজেকে যেভাবে ট্রিট করবেন, দুনিয়াও আপনাকে সেভাবেই ট্রিট করবে।
আপনি যদি নিজেকে 'বিকল্প' ভাবেন, মানুষ আপনাকে অপশন হিসেবেই রাখবে।
নিজের মূল্য বাড়ান, নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিত্বের ওপর কাজ করুন।
যে আজ আপনাকে ইগনোর করছে, আপনি সফল হলে সেই মানুষটাই আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবে।
শেষ কথা
তাই কারো পেছনে ঘুরে সময় নষ্ট করবেন না। যে থাকার সে আপনার আত্মসম্মান বজায় রেখেই থাকবে। আর যে যাওয়ার, সে আপনি পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়লেও থাকবে না। মাথা উঁচু করুন, আপনি কারোর দয়ার পাত্র নন।
নিজেকে বলুন—"আমি কারো অবসর সময়ের খেলনা নই, আমি দামী।"
৬
সম্পদ বাড়লে মানুষের আকাঙ্ক্ষাও বেড়ে যায়, যা আরও চাহিদা ও মানসিক অশান্তির জন্ম দেয়।
উক্তিটির পেছনের মূল কারণসমূহ হলো:
অসন্তুষ্ট চাহিদা: ধন-সম্পদ মানুষকে আরও পাওয়ার লোভ তৈরি করে, ফলে চাহিদা কখনোই শেষ হয় না, প্রশান্তিও মেলে না।
মানসিক সন্তোষের অভাব:
প্রকৃত সুখ বা মানসিক সন্তোষ সম্পদের ওপর নির্ভর করে না, বরং অভ্যন্তরীণ শান্তির ওপর নির্ভর করে।
সম্পদের ধরণ:
জ্ঞান বা গুণ ভাগ করলে বাড়ে, কিন্তু ধন বা পার্থিব সম্পদ মানুষকে তা পাওয়ার জন্য অন্যের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার প্রবৃত্তি তৈরি করে।
জটিল সম্পর্ক:
ধনী হওয়ার মানেই সুখী হওয়া নয়, অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে সম্পদ ও সুখের মধ্যে সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক নেই।
মূলত, হার্বার্ট এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, সম্পদ সুখের উপায় নয়, বরং এটি চাহিদার একটি অন্তহীন চক্র তৈরি করে।
জীবনী:
হার্বার্ট ক্লার্ক হুভার (১৮৭৪-১৯৬৪) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম প্রেসিডেন্ট (১৯২৯-১৯৩৩), একজন সফল খনি প্রকৌশলী এবং মানবিক ত্রাণকর্তা। রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা বাণিজ্য সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর আমলে মহামন্দা (Great Depression) শুরু হলে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন এবং ১৯৩২ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন।
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা:
জন্ম:
১০ আগস্ট, ১৮৭৪, আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট ব্রাঞ্চে।
পারিবারিক ইতিহাস: মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি এতিম হন।
শিক্ষা:
তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে খনি প্রকৌশল (Mining Engineering) বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
পেশাজীবন ও মানবিক অবদান:
ইঞ্জিনিয়ার: পড়াশোনা শেষে তিনি আন্তর্জাতিক খনি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং প্রচুর সম্পদ অর্জন করেন।
ত্রাণকর্তা:
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়াম এবং ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে তিনি ‘গ্রেট হিউম্যানিটারিয়ান’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
বাণিজ্য সচিব:
১৯২১ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাণিজ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রেডিও ও বিমান চালনা শিল্পের আধুনিকীকরণে ভূমিকা রাখেন।
প্রেসিডেন্সি (১৯২৯-১৯৩৩):
নির্বাচন: ১৯২৮ সালে তিনি ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
মহামন্দা:
তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ১৯২৯ সালের পুঁজিবাজার ধসে পড়ে, (conservative) নীতি এবং মন্দা মোকাবিলায় ধীরগতির প্রতিক্রিয়ার কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন।
নীতি:
তিনি বিশ্বাস করতেন সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে সংকট আরও বাড়বে, তবে তিনি Hoover Dam নির্মাণসহ কিছু অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছিলেন।
পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু:
প্রেসিডেন্সির পর তিনি রিপাবলিকান পার্টির একজন সমালোচক হিসেবে সরব ছিলেন।
২০ অক্টোবর, ১৯৬৪ সালে ৯০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। হার্বার্ট হুভার একজন সফল ব্যবসায়ী হলেও, মহামন্দার সময় তাঁর নীতিগুলোর জন্য ইতিহাসের পাতায় তিনি মূলত একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট হিসেবেই বেশি পরিচিত।
তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
৭
মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়া কোনো জাদু নয় এটা দৈনিক অনুশীলনের ফল।
যেমন নিয়মিত জিম করলে শরীর শক্ত হয়, তেমনি কিছু মানসিক অভ্যাস আপনার মনকে বানাতে পারে একদম বুলেটপ্রুফ
আপনি যদি আপনার ব্যক্তিত্বকে এক নতুন লেভেলে নিতে চান এবং ভেতর থেকে লোহার মতো শক্ত হতে চান, তাহলে আজ থেকেই এই ৩টি অভ্যাস নিজের জীবনে প্রয়োগ করুন
চারপাশে এমন অনেক কিছু ঘটবে যা আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করতে চাইবে।
কিন্তু আপনি যদি এই তিনটি জায়গায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তাহলে কোনো নেতিবাচক শক্তিই আপনাকে দমাতে পারবে না
১. সমালোচনাকে ‘বর্ম’ বানান মানুষকে কথা বলতে দিন
সত্যিটা হলো
আপনি ভালো করুন বা খারাপ, মানুষ কথা বলবেই।
আপনি যখনই এগিয়ে যাবেন, তখনই আপনার পেছনে গল্প তৈরি হবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম।
যারা আপনার পেছনে কথা বলছে, তারা পেছনেই আছে।
তাদের থামানোর চেষ্টা করা মানে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।
একটা হাতি যখন রাস্তা দিয়ে যায়, তখন অনেক ছোট প্রাণী চিৎকার করে।
কিন্তু হাতি কি থেমে যায়? না।
কারণ সে জানে সে কোথায় যাচ্ছে
মনে রাখবেন:
“মানুষের কাজ কথা বলা,
আর আপনার কাজ ফলাফল দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা।”
২. কমফোর্ট জোন ভাঙুন অস্বস্তির মধ্যেই শক্তি (Seek Discomfort)
আমরা সবাই আরাম চাই।
কিন্তু মনে রাখবেন আরামদায়ক জীবনে কখনো ইতিহাস লেখা যায় না।
আপনি যত বেশি আরাম খুঁজবেন,
আপনার মন তত বেশি দুর্বল হবে।
প্রতিদিন অন্তত একটি কাজ করুন যেটা করতে আপনার অস্বস্তি লাগে
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা,
সবার সামনে কথা বলা,
অথবা বহুদিন ফেলে রাখা কঠিন কাজটা শেষ করা।
কেন এটা জরুরি?
কারণ ভয় আর অস্বস্তির মুখোমুখি হলেই মস্তিষ্ক শক্ত হতে শুরু করে।
এই ছোট ছোট জয়ই একদিন আপনাকে বড় ঝড়ের সামনে অটল রাখবে।
তাই মনে রাখুন
“প্রতিদিন নিজেকে একটু করে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলুন,
যাতে আপনি ভাঙা নয়, বরং গড়া শিখেন।”
৩. আসক্তির দাস হবেন না সুখকে নিয়ন্ত্রণ করুন (Control Your Pleasure)
এই যুগটা ‘ইনস্ট্যান্ট প্লেজার’-এর যুগ।
মোবাইল স্ক্রল, জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত ঘুম
এসব সাময়িক আনন্দ দেয়, কিন্তু ভেতর থেকে ফোকাস ধ্বংস করে দেয়।
আনন্দ যেন আপনাকে কন্ট্রোল না করে,
বরং আপনি যেন আনন্দকে কন্ট্রোল করেন।
যে নিজের জিভ, চোখ আর ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না,
সে কখনো নিজের জীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না
সোশ্যাল মিডিয়া চালাতে ইচ্ছা করলে ৫ মিনিট বই পড়ুন।
আলসেমি লাগলে জোর করে ব্যায়াম করুন।
এই যে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সঠিক কাজটা করা
এটাই প্রকৃত মানসিক শক্তি
নিজেকে বারবার বলুন
“আমি আমার অভ্যাসের গোলাম নই,
আমি আমার নিজের জীবনের মালিক।”
শেষ কথা
মানসিক শক্তি জন্মগত নয় এটা অর্জন করতে হয়।
মানুষের কথায় কান দেওয়া বন্ধ করুন
কঠিন কাজকে আলিঙ্গন করুন
নিজের আনন্দ আর ইচ্ছাকে শৃঙ্খলায় বাঁধুন
যেদিন আপনি এই ৩টি বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন,
সেদিন মানুষের নেগেটিভ কথা আপনার কাছে বৃষ্টির মতো লাগবে
গায়ে পড়বে ঠিকই, কিন্তু আপনাকে ভিজিয়ে দিতে পারবে না
আমিনুল ইসলাম জুয়েল
৮
সময়ের অপচয় হলো নিজের জীবনের একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে ফেলা।
রোমান দার্শনিক সেনেকা সময়কে জীবনের সবচেয়ে বেশী মূল্যবান সম্পদ মনে করতেন। মানুষ টাকা হারালে কাঁদে কারণ তা পুনর্গণনা করা যায়, কিন্তু সময় হারালে হাসে অর্থাৎ আমরা আনন্দ করে জন্মদিন পালন করি, মানে সময় হারানোর আনন্দ করি। সময় হলো ‘অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ’, যা একবার চলে গেলে আর কখনোই ফিরে আসে না, তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই তিনি এই কঠোর সত্যটি বলেছিলেন।
সেনেকা কেন এই কথাটি বলেছিলেন তার পেছনের মূল কারণগুলো হলো:
সময় ও অর্থের পার্থক্য:
টাকা বা সম্পদ হারিয়ে গেলে পুনরায় উপার্জনের সুযোগ থাকে, কিন্তু জীবনের অতিক্রান্ত সময় কোনোভাবেই আর ফিরিয়ে আনা যায় না।
জীবনের সীমাবদ্ধতা:
তিনি বিশ্বাস করতেন, আমাদের জীবন ছোট নয়, কিন্তু আমরাই বেশিরভাগ সময় নষ্ট করে ফেলি।
সচেতনতা বৃদ্ধি:
মানুষ সাধারণত টাকার অপচয় নিয়ে যতটা চিন্তিত, সময়ের অপচয় নিয়ে ততটা নয়। তিনি সময়ের সদ্ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই কঠোর উপমাটি ব্যবহার করেছিলেন।
সংক্ষেপে:
সেনেকার মতে, সময়ের অপচয় হলো নিজের জীবনের একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে ফেলা।
লুসিয়াস অ্যানিয়াস সেনেকা
(Seneca the Younger) ছিলেন প্রাচীন রোমের একজন বিশিষ্ট স্টোইক দার্শনিক, নাট্যকার, এবং রাজনীতিবিদ, যিনি সম্রাট নিরোর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি স্টোইসিজম দর্শনের ওপর অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ ও চিঠিপত্র লিখেছিলেন, যেখানে সুখ, মানসিক শান্তি এবং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি নাটকও লিখেছেন।
সেনেকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
স্টোইক দর্শন:
সেনেকা স্টোইসিজমের প্রবক্তা ছিলেন। তিনি মনে করতেন যে, আবেগ এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত জীবনযাপন করা উচিত।
বিখ্যাত কাজ:
তাঁর সবচেয়ে পরিচিত কাজের মধ্যে রয়েছে Letters from a Stoic (লুসিলিয়াসকে লেখা চিঠিপত্র) এবং বিভিন্ন নৈতিক প্রবন্ধ।
সম্রাট নিরোর উপদেষ্টা:
তিনি সম্রাট নিরোর শৈশবের শিক্ষক এবং পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
জীবন ও মৃত্যু:
তিনি একজন অত্যন্ত ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়ে কর্সিকায় নির্বাসিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে নিরোর আদেশে আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা যান।
জীবন দর্শন:
তাঁর মতে, জীবন খুব ছোট নয়, বরং আমরা একে অপচয় করি। তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও শান্ত থাকার এবং জীবনের ওপর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দিতেন।
সেনেকার কাজগুলি আজও আত্ম-উন্নয়ন এবং মানসিক শান্তির জন্য জনপ্রিয়।
সেনকার প্রাথমিক জীবন ও পরিচিতি:
লুসিয়াস আনায়াস সেনেকা (Seneca the Younger) ৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে স্পেনের কর্ডোবায় একটি ধনাঢ্য রোমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বিখ্যাত বাগ্মী সেনেকা দ্য এল্ডার। শৈশবে রোমে এসে তিনি দর্শন (বিশেষ করে স্টোয়িকবাদ) ও অলংকারশাস্ত্রে কঠোর শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্যগত সমস্যা (সম্ভবত হাঁপানি বা যক্ষ্মা) সত্ত্বেও তিনি রাজনীতি ও আইন পেশায় দ্রুত উন্নতি করেন।
পারিবারিক পটভূমি:
তার পিতা, 'সেনেকা দ্য এল্ডার', রোমান অশ্বারোহী শ্রেণীভুক্ত ছিলেন এবং অলংকারশাস্ত্রের ওপর বই লিখতেন।
শিক্ষা ও দর্শন:
রোমে আসার পর তিনি স্টোয়িক দার্শনিক আত্তালাস (Attalus the Stoic), সোশিওন এবং পাপিরাস ফ্যাবিয়ানাসের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। স্টোয়িক মতাদর্শে তিনি এতটাই অনুপ্রাণিত ছিলেন যে তা তার ব্যক্তিগত জীবন ও দর্শনে গভীর প্রভাব ফেলে।
স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক জীবন:
তিনি খুব শৈশবে রোমে আসেন এবং তার শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘকাল ধরে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন, যা তাকে দর্শনের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তোলে।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা:
তরুণ বয়সেই তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং কোয়েস্টর (quaestor) ও প্রেটর (praetor) পদসহ বিভিন্ন উচ্চপদ অলঙ্কৃত করেন।
নির্বাসন ও ফেরা:
৪১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ক্লডিয়াসের আমলে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগে তাকে কর্সিকায় নির্বাসিত করা হয়েছিল। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং ভবিষ্যতের সম্রাট নিরোর গৃহশিক্ষক ও উপদেষ্টা হন।
তার প্রাথমিক জীবন জ্ঞানার্জন, দর্শনের চর্চা এবং রোমান রাজনীতিতে প্রবেশের প্রচেষ্টায় কেটেছিল, যা পরে তার নাটক ও দার্শনিক রচনার ভিত্তি স্থাপন করে।
সেনকা কেন আত্মহত্যা করেছিলেন?
রোমান দার্শনিক ও সম্রাট নিরোর পরামর্শদাতা সেনেকা ৬৫ খ্রিস্টাব্দে নিরোকে হত্যার পিসোনিয়ান ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে সম্রাট নিরোর আদেশে আত্মহত্যা করেন। যদিও তিনি এই ষড়যন্ত্রে নির্দোষ ছিলেন বলে ধারণা করা হয়, তবুও নিরোর তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন, যা তিনি স্টোইক দার্শনিক হিসেবে শান্তভাবে গ্রহণ করেছিলেন।
সেনেকার আত্মহত্যার প্রধান কারণ ও প্রেক্ষাপট:
সম্রাট নিরোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
৬৫ খ্রিস্টাব্দে গাইউস কালপুরনিয়াস পিসোর নেতৃত্বে নিরোকে হত্যার এক ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস হলে, সেনেকাকে তার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
নিরোর আস্থা হারানো:
নিরো একসময় সেনেকার ছাত্র থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং নিরো সেনেকাকে তার ক্ষমতার জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করতে শুরু করেন।
জোরপূর্বক আত্মহত্যা:
রোমান উচ্চবিত্ত সমাজে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে নিজ ইচ্ছায় বা আদেশে আত্মহত্যার সুযোগ দেওয়া হতো। নিরোর আদেশে সেনেকা তার নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
স্টোইক দর্শন:
সেনেকা একজন Stoic দার্শনিক ছিলেন, যার ফলে তিনি মৃত্যুর আদেশ পেয়েও বিচলিত না হয়ে শান্তভাবে তার শিষ্যদের সামনে জীবন বিসর্জন দেন।
সেনেকা নিজের রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে এবং পরবর্তীতে বাষ্পস্নানের (steam bath) মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছিলেন।
তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
৯
নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়াই আসল স্বাধীনতা
অনেকে স্বাধীনতা মানে মনে করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পছন্দের কাজ করা, কোথায় যেতে হবে তা ঠিক করা। কিন্তু আসল স্বাধীনতা কিছু নয় যদি আপনি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে না জানেন। কারণ দায়িত্ব ছাড়া যে স্বাধীনতা, সেটা ফাঁকা বাতাসের মতো দোলা দেয়, কিন্তু শক্তি দেয় না।
আপনি যদি সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপান—পরিবার, সমাজ, বন্ধু, ভাগ্য তাহলে কোনো অর্জনই সত্যিকারের আপনার হয় না। সফলতা আসে, কিন্তু সেটা আনন্দ দেয় না। কারণ ভিতরে ভয় থাকে আমি কি সত্যিই সক্ষম?
নিজের জীবনের দায়িত্ব মানে নিজের সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করা। সুখের, দুঃখের, ভুলের, সঠিকের সবটাই নিজের। প্রথমে ভয় লাগে। প্রথমবার ভুল হলে মনে হয় ভার ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিটি ভুলই শেখায়, প্রতিটি পদক্ষেপই শক্তি যোগায়।
যেদিন আপনি নিজের জীবনের পরিচালক হয়ে দাঁড়ান, সেদিনই আসল স্বাধীনতা আসে। আর কেউ না বলে, না চাপ দেয়, না সীমা দেয় কারণ আপনি নিজেই জানেন কোথায় যেতে চান, কী মানে আপনার জীবন।
নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়া মানে শুধু বড় হওয়া নয়। এটা মানে আপনার স্বপ্ন, আপনার ত্যাগ, আপনার আনন্দ সবটাই নিজের। কেউ চুরি করতে পারে না। কেউ বাদ দিতে পারে না।
স্বাধীনতা তখনই পূর্ণ, যখন আপনি বলেন আমি আমার জীবনটির একমাত্র দায়িত্বশীল।
এটাই আসল শক্তি।
এটাই আসল স্বাধীনতা।নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়াই আসল স্বাধীনতা
অনেকে স্বাধীনতা মানে মনে করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, পছন্দের কাজ করা, কোথায় যেতে হবে তা ঠিক করা। কিন্তু আসল স্বাধীনতা কিছু নয় যদি আপনি নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে না জানেন। কারণ দায়িত্ব ছাড়া যে স্বাধীনতা, সেটা ফাঁকা বাতাসের মতো দোলা দেয়, কিন্তু শক্তি দেয় না।
আপনি যদি সব দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপান—পরিবার, সমাজ, বন্ধু, ভাগ্য তাহলে কোনো অর্জনই সত্যিকারের আপনার হয় না। সফলতা আসে, কিন্তু সেটা আনন্দ দেয় না। কারণ ভিতরে ভয় থাকে আমি কি সত্যিই সক্ষম?
নিজের জীবনের দায়িত্ব মানে নিজের সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করা। সুখের, দুঃখের, ভুলের, সঠিকের সবটাই নিজের। প্রথমে ভয় লাগে। প্রথমবার ভুল হলে মনে হয় ভার ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিটি ভুলই শেখায়, প্রতিটি পদক্ষেপই শক্তি যোগায়।
যেদিন আপনি নিজের জীবনের পরিচালক হয়ে দাঁড়ান, সেদিনই আসল স্বাধীনতা আসে। আর কেউ না বলে, না চাপ দেয়, না সীমা দেয় কারণ আপনি নিজেই জানেন কোথায় যেতে চান, কী মানে আপনার জীবন।
নিজের জীবনের দায়িত্ব নেওয়া মানে শুধু বড় হওয়া নয়। এটা মানে আপনার স্বপ্ন, আপনার ত্যাগ, আপনার আনন্দ সবটাই নিজের। কেউ চুরি করতে পারে না। কেউ বাদ দিতে পারে না।
স্বাধীনতা তখনই পূর্ণ, যখন আপনি বলেন আমি আমার জীবনটির একমাত্র দায়িত্বশীল।
এটাই আসল শক্তি। এটাই আসল স্বাধীনতা
১০
প্রাচীন রোমান উপাখ্যান কারিতাস রোমানা (Caritas Romana বা Roman Charity)
অনেক দিন আগের কথা। ইতালির রোম নগরীতে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছিল। শহরের প্রহরীরা সিমন নামে এক বৃদ্ধকে রুটি চু'রি'র অ'ভি'যো'গে আ'ট'ক করে। বিচারে সিমনকে কঠিন শা'স্তি দেওয়া হয়। মৃ'ত্যু'বরণ না করা পর্যন্ত অ'না'হা'রে কা'রা'রু'দ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।
বৃদ্ধের যুবতী মেয়ে পেরো বাবার এই নি'ষ্ঠু'র পরিণতি মেনে নিতে পারেনি। সে পোশাকের ভেতর খাবার লুকিয়ে দেখা করতে যায় তার বাবার সাথে। কিন্তু কারারক্ষীরা তার দেহ তল্লাশি করে খাবারগুলো কেড়ে নেয়। আর তাকে এই বলে সতর্ক করে যে, এরপর যদি এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে তাকে আর তার বাবার সাথে দেখা করতে দেওয়া হবে না!
পিতা অন্তঃপ্রাণ পেরো ভিতরে গিয়ে দেখে তার বাবার হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। ক্ষু'ধা তৃ'ষ্ণা'য় ছ'ট'ফ'ট করছেন তিনি। এমন ক'রু'ণ দৃশ্য দেখার পর সদ্য মা হওয়া পেরো আর সহ্য করতে পারে না। বাবাকে বাঁচাতে তখনই নিজের বু'কে'র দু'ধ পা'ন করায় পেরো। এতে কিছুটা বল ফিরে পায় বৃদ্ধ।
বাবার জীবন রক্ষা করার তীব্র আকুলতা থেকে দিনের পর দিন এই কাজ করে যেতে থাকে পেরো। এদিকে দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার পরও সিমন কেন মা'রা যাচ্ছে না তা সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। অ'ব'শে'ষে একদিন হাতেনাতে ধ'রা পড়ে যায় পেরো।
কালবিলম্ব না করে উভয়কে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। বিচারসভায় রোমের বিচারকগণ পুরো ঘটনা জেনে চ'র'ম বে'দ'না অনুভব করেন। ব্যাপারটিকে তারা মানবতার এক অনন্য এক দৃষ্টান্ত বলে রায় দেন।
রায়ের পর শাসকগোষ্ঠীর মনে মানবতাবোধ জাগ্রত হয়। এরপর পেরো এবং তার বাবাকে ব'ন্দী'দ'শা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
হৃদয় নাড়া দেওয়া এই ঘটনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এত বছর পর আজও একটি মেয়ের তার বাবার প্রতি ভালোবাসা কতটা গভীর তার আদর্শ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় পেরোকে। এবং সেই থেকে এই কথাটিও সর্বজন স্বীকৃত হয়ে যায় যে, কন্যাসন্তান আসলে মায়েরই আরেক রূপ! -সংগৃহীত।
১১
মাত্র ৩ দিন ফোন থেকে দূরে থাকলেই ঘটে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন!
জার্মানির গবেষকদের এক চমকপ্রদ পরীক্ষায় দেখা গেছে— ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৫ জন যুবককে ৭২ ঘণ্টা মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
আর MRI স্ক্যানে দেখা যায়— মস্তিষ্কের যে অংশগুলোতে ডোপামিন ও সেরোটোনিন তৈরি হয়, সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।
মানে, কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকলেই মস্তিষ্ক ঠিক সেইভাবে “রিসেট” হয়, যেভাবে কোনো নেশা ছাড়লে শরীর ঠিক হতে শুরু করে!
এক কথায়— ফোন কমানো মানে শুধু সময় বাঁচানো নয়, মস্তিষ্ককে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলা।
-সংগৃহীত।
১২
“সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে, মাঝে মাঝে অন্ধ, মাঝে মাঝে বধির এবং কখনও কখনও বোবা হতে হয়!”
—গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য লুকিয়ে আছে। নিচে এর কিছু সাইকোলজিক্যাল ও বাস্তব ব্যাখ্যা দেওয়া হল:
সাইকোলজিক্যাল বিশ্লেষণ:
১. Selective Perception (নির্বাচিত দৃষ্টি):
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে সবকিছু দেখা, শোনা বা বলা প্রয়োজন হয় না। কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু না দেখা বা না শোনা মানসিক শান্তি রক্ষা করে এবং ঝ'গ'ড়া এড়ায়। একে বলা হয় selective perception— অর্থাৎ যা সম্পর্কের ভারসাম্য ন'ষ্ট করতে পারে, তা এড়িয়ে চলা।
২. Emotional Regulation (আবেগ নিয়ন্ত্রণ):
সম্পর্কের মধ্যে সব সময় প্রতিক্রিয়া দেখালে সমস্যা বাড়ে। কখনো নীরব থাকা (বোবা হওয়া) আবেগ নিয়ন্ত্রণের চর্চা। এটা মানসিক পরিপক্বতার লক্ষণ, কারণ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দিয়ে সময় নিয়ে ভাবলে সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ে।
৩. Empathy and Tolerance (সহানুভূতি ও সহনশীলতা):
সম্পর্ক মানে বোঝাপড়া। মানুষ ভু'ল করবেই। তাই “অন্ধ” বা “বধির” হওয়া মানে সব ভু'ল মেনে নেওয়া নয়— বরং অন্যের অবস্থান বুঝে সহনশীল হওয়া। এটা empathy ও emotional maturity -র চিহ্ন।
৪. Conflict Avoidance vs. Peace Maintenance:
সব তর্কের উত্তর দিলে সম্পর্কের জ্বালানি শে'ষ হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানে বলা হয়, every reaction costs emotional energy. তাই কখনো নীরবতা হলো জয়ের কৌশল, পরাজয় নয়।
বাস্তব জীবনের মানসিক শিক্ষা:
প্রতিটি সম্পর্কই বোঝাপড়া, ধৈর্য ও ত্যাগে গঠিত। অল্প কিছু বিষয় “না দেখা”, “না শোনা”, বা “না বলা” সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে।
নীরবতা কখনো কখনো সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর। ভালো সম্পর্কের জন্য যুক্তির চেয়ে প্রয়োজন বেশি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা (emotional intelligence).
-সংগৃহীত।
১৩
পুরুষ কেন নারীকে বুঝতে বারবার ব্য'র্থ হয়– কার্ল জুঙ্গ
(কার্ল জুঙ্গ: আধুনিক মনস্তত্ত্বের জনক, ফ্রয়েডের যোগ্যতম শিষ্য) সম্পর্কের শুরুটা প্রায়ই রঙিন স্বপ্নের মতো হয়।
নারী যখন তোমার দিকে তাকায়, সে আসলে তোমাকে নয়, বরং তার কল্পনার তৈরি ‘তোমাকে’ দেখে। তুমি হয়তো সেই দৃষ্টিতে আশা কিংবা আকাঙ্ক্ষার ছায়া দেখতে পাও, আর ভাবো— সে বুঝি তোমাকেই চাইছে।
কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। তুমি তখন কেবল একটি “পেইন্টিং”— একটি যাচাইযোগ্য অবজেক্ট। নারী মিলিয়ে নিচ্ছে— সে যা কল্পনা করেছে, তার সঙ্গে তুমি মেলে কি না। অথচ সেই কল্পচিত্র তুমি নও— না ছিলে কখনও।
কার্ল জুঙ্গ এই প্রবণতা নিয়ে আমাদের সতর্ক করেছেন। একজন দার্শনিকের গভীর উপলব্ধি এবং মনোবিদের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ দিয়ে তিনি বলেছিলেন— নারীরা প্রকৃত পুরুষকে নয়, বরং তাদের মনের গোপনে গঠিত একটি “ফ্যান্টাসি পুরুষ”- কে ভালোবাসে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নারীরা নিজেরাও জানে না তারা প্র'তা'রি'ত হচ্ছে। তারা ভাবে, তারা বাস্তব কাউকে নির্বাচন করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা নির্বাচন করছে এমন একজনকে— যার চরিত্র তাদের মনের ভিতর বহু আগেই রচিত হয়েছে। আর সেই নাটকে “তুমি” কেবল একজন নিযুক্ত অভিনেতা।
যখন তোমার বাস্তব রূপ তাদের কল্পনার চরিত্রের সঙ্গে মেলে না, তখনই তারা নতুন ‘অভিনেতা’ খোঁজে। এই কল্পনার পুরুষ-চরিত্রকে জুঙ্গ বলেছিলেন "অ্যানিমাস"— নারীর অন্তরের পুরুষসত্তা। যখন এই অ্যানিমাস নিয়ন্ত্রণহীন হয়, তখন তা এক স্বৈ'রা'চা'রে রূপ নেয় এবং নারীর সিদ্ধান্তকে চালিত করে।
পুরুষও এই ফাঁ'দে পড়ে। তারা ধরে নেয় নারীর আকর্ষণ মানেই আমন্ত্রণ। কিন্তু বাস্তবে তারা একটি মনের নাটকে ঠিক করা চরিত্রে অভিনয় করছে মাত্র।
এই কল্পনার জগৎ যখন ভে'ঙে পড়ে, তখন পুরুষ আ'হ'ত হয়। যদিও তারা দো'ষী নয়। ইয়ুং বলেন, এই মায়াজাল থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো "ইন্ডিভিডুয়েশন"— অর্থাৎ নিজেকে সম্পূর্ণভাবে জানা ও প্রতিষ্ঠা করা।
ইন্ডিভিডুয়েশন মানে নিজের সত্তাকে অন্যের অনুমোদনের উপর নয়, নিজের আত্ম-উপলব্ধির উপর দাঁড় করানো। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা— দুটোই মেনে নেওয়া।
জুঙ্গ বলতেন, প্রকৃত পুরুষ তার অবচেতনের মুখোমুখি হয়—সে আর কারও কল্পনার পুতুল নয়, বরং নিজের বাস্তবতার নি'র্মা'তা।
আধুনিক পুরুষের সবচেয়ে বড় দুঃ'খ হলো— নিজের স্বত্বাকে হা'রি'য়ে অন্যের চাহিদার ‘পুতুল’ হয়ে ওঠা। তুমি একে প্রেম বা সমঝোতা ভাবতে পারো, কিন্তু ইয়ুং বলছেন— এটি আত্ম-প্র'তা'র'ণা। কারণ নারীরা প্রকৃত আকৃষ্ট হয় সেই পুরুষের প্রতি, যে রহস্যময় এবং নিজের পরিচয়ে স্বতন্ত্র।
এই সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে দরকার নিঃসঙ্গতা, নিজের মনের গভীরে যাত্রা, নিজের ভেতরের নারীসত্তা—"অ্যানিমা"—কে চেনা এবং মেনে নেওয়া।
জুঙ্গ বলতেন, এই পথে চললেই তুমি খুঁজে পাবে প্রকৃত স্বাধীনতা, এক নিঃস্বার্থ ও বাস্তব ভালোবাসা— যেখানে কল্পনার কোনো মায়া নেই।
এই পথ কঠিন, অনেকেই মাঝপথে থেমে যায়। কিন্তু যদি সাহস থাকে শেষ অবধি হাঁটার, তাহলে তুমি নিজের জীবনের প্রকৃত রচয়িতা হয়ে উঠবে। কার্ল জুঙ্গ তোমাকে সহজ পথ দেখাননি, বরং দিয়েছেন আত্ম-অনুসন্ধানের এক গভীর চ্যালেঞ্জ।
-সংগৃহীত।
১৪
স্টোয়িক দর্শন বলে— যা তোমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে উদ্বেগ অর্থহীন। ভালোবাসা, বিশ্বাস, সম্পর্ক সবই পরিবর্তনশীল।
জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, হা'রা'নো'র জন্য প্রস্তুত থাকা। আজ যে ভালোবাসে, কাল সে হয়তো ভালোবাসবে না। আজ যাকে বিশ্বাস করছ, আগামীকাল সে-ই হয়তো পিঠে ছু'রি বসাবে।
আজ যা তোমার হাতে, কাল তা হয়তো থাকবে না। শুধু এইটুকু ব্যত্যয় এর জন্য প্রস্তুত থাকা। যে এই অনিত্যতাকে মেনে নিতে পারে, তার কাছে বে'দ'না হয়ে ওঠে প্রজ্ঞা।
মানুষ সবচেয়ে বড় যে ভ্রমে ভুগে তা হচ্ছে, তার যা আছে, বিশ্বাস, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব সব স্থায়ী। মানুষ ভুলে যায়, মানুষ মাত্রই চিরপ্রবাহমান, রূপান্তরশীল, সময়ের স্রোতে বদলে যাওয়া এক চেতনা। সে যে বেশেই আসুক, বদল তার নিয়তি।
এই সত্যকে পাল্টে ফেলা যায়না।
পৃথিবী তার কাছেই নত হয়, যে নিজের জন্য ল'ড়'তে জানে।
যে জানে, কারো জন্য লড়তে গিয়ে নিজের সত্তাকে হা'রা'নো জয় নয়, পরাজয়। জিততে হলে আগে নিজেকে ফিরে পাওয়া লাগে; নিজের সত্য, নিজের শক্তি, নিজের একাকিত্বকে গ্রহণ করা লাগে।
তাই পৃথিবীর সবকিছুর সাথে সম্পর্ক গড়ার আগে নিজের সাথে সম্পর্ক তৈরী করা যে বড় জরুরী। কান্না পেলে নিজের চোখ আগে নিজে মুছতে পারার মত দৃঢ় হওয়া জরুরী।
সক্রেটিস তো বলেই গেছেন নিজেকে জানো। আমি বলি— আত্মসচেতন হও। নিজের আত্মসচেতনতা'ই একমাত্র স্থায়ী আশ্রয়। -সংগৃহীত।
১৫
প্রাচীন মানুষের আঁকা গুহার চিত্র
কস্কয়ার গুহা ( [kɔskɛʁ] )— ফ্রান্সে অবস্থিত আজ অবধি খুঁজে পাওয়া গুহাবাসী মানুষের প্রাচীনতম বাসস্থানগুলির মধ্যে একটি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এটি প্যালিওলিথিক সময়কালে প্রাচীন মানুষের বাসস্থান ছিল। তবে গুহাবাসী মানুষের অন্যান্য বাসস্থানগুলির চেয়ে এটি অনেক ক্ষেত্রেই পৃথক।
আজ অবধি খুঁজে পাওয়া প্রাচীন মানুষের আঁকা সবচেয়ে বেশি গুহার চিত্র খুঁজে পাওয়া গেছে এই গুহায়। গুহার দেয়ালে প্রায় ২৭,০০০ বছর আগের অসংখ্য গুহাচিত্র রয়েছে। গুহার দেয়ালে ২০০ টিরও বেশি প্যারিয়েটাল ফিগার রয়েছে যা আদিম গুহাবাসী মানুষের হাতে আঁকা।
সবচেয়ে আশ্চর্যের যা তা হল, এটিই একমাত্র দেয়ালচিত্রে সজ্জিত গুহা যার প্রবেশপথের মুখ রয়েছে সমুদ্রের নীচে, তাও প্রায় ৩৬ মিটার গভীরে ...
এর সাবমেরিন প্রবেশপথটি ১৯৮৫ সালে একজন পেশাদার ডুবুরি হেনরি কস্কয়ার আবিষ্কার করেছিলেন। গুহায় যাওয়ার জন্য পানির নিচের পথটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গুহা ডুবুরিরা ক্রমান্বয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন , ডুবুরিরা গুহার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
শুধুমাত্র শেষ সময়ে (১৯৯০-৯১) ক্রমবর্ধমান পানির নিচের অনুসন্ধানের সময় গুহার ডুবুরিরা গুহার অ-নিমজ্জিত অংশে আবির্ভূত হয়েছিল। প্রাগৈতিহাসিক চিত্রকর্মগুলি ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে আবিষ্কার করতে পারেনি এবং প্রথমে সাম্পের অপর পাশ থেকে বেরিয়ে আসে।
১৯৯১ সালে যখন গুহার অস্তিত্ব প্রকাশ করা হয়, তখন হেনরি কস্কারের নামে এই গুহার নামকরণ করা হয় , যখন তিনজন ডুবুরি গুহায় হা'রি'য়ে যান এবং মা'রা যান।-সংগৃহীত।
১৬
লিঙচি: চীনা ইতিহাসের নি'ষ্ঠু'র'ত'ম অধ্যায়!
চীনের ইতিহাসে, কিছু শাস্তি ছিল এমন— যার নাম শুনলেই কাঁপত মানুষ।
চীনের প্রাচীন সাম্রাজ্যিক যুগে শা'স্তি কেবল অ'প'রা'ধে'র প্রতিকার ছিল না— তা ছিল কঠোর শাসনের প্রতীক, ভয়ের ভাষা। আর সেই ভাষার সবচেয়ে নি'র্ম'ম রূপ ছিল লিঙচি— “হাজার কে'টে মৃ'ত্যু”।
ছিং রাজবংশের (১৬৪৪–১৯১১) সময় এটি রাষ্ট্রদ্রোহ, পিতৃ'হ'ত্যা বা সম্রাটকে হ'ত্যা'র ষ'ড়'য'ন্ত্রে'র মতো গুরুতর অ'প'রা'ধে'র ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতো।
লিঙচি শুধু মৃ'ত্যু'দ'ণ্ড নয়, বরং মানুষের মনে আ'ত'ঙ্ক তৈরির এক পরিকল্পিত পদ্ধতি।
এ ক্ষেত্রে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কাঠের ফ্রেমে বেঁধে সরকারি দণ্ডদাতা ধারালো ছু'রি দিয়ে ধীরে ধীরে শরীর থেকে মাংস কে'টে ফেলত। প্রতিটি আ'ঘা'ত ছিল এক য'ন্ত্র'ণা'র অধ্যায়।
মৃ'ত্যু আসত ধীরে, ক'ষ্টে পাগল হয়ে যেত অ'প'রা'ধী। একবারে মৃ'ত্যু নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে মৃ'ত্যু একটু একটু করে এগিয়ে আসত। একদম শেষে গলা বা বুকে শেষ আ'ঘা'ত করা হলেও তা করা হতো বহু সময় পার করে—উদ্দেশ্য ছিল, অপরাধী যেন দীর্ঘক্ষণ ক'ষ্ট পেয়ে তবেই মা'রা যায়।
লিঙচির শা'স্তি'র একটি আধ্যাত্মিক দিকও ছিল। কনফুসীয় বিশ্বাসে, দেহের অখণ্ডতা রক্ষা মানে আত্মার শান্তি নিশ্চিত করা। তাই এই শা'স্তি শুধু শরীরকে টু'ক'রো করত না, বরং মানুষের আত্মাকেও চিরস্থায়ী শাস্তির মধ্যে আবদ্ধ করত।
আর তাই দেহ খ'ণ্ডি'ত করে আত্মারও চিরন্তন ন'র'কে পতন নিশ্চিত করা হতো। এই বিশ্বাসই মানুষের কাছে এই শা'স্তি'টি'কে আরও ভ'য়া'ব'হ করে তুলেছিল, কারণ এটি মৃ'ত্যু-পরবর্তী জীবনের আশা পর্যন্ত কে'ড়ে নিত।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে আধুনিক যুগে আইনের ভাবনায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে, তাই লিঙচির প্রথা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে। অবশেষে ১৯০৫ সালে সম্রাট গুয়াংসু আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নি'ষি'দ্ধ করেন। তবুও, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে আতঙ্ক মানুষের মনে দাগ কেটেছিল, তা ইতিহাসের র'ক্ত'মা'খা স্মৃতি হয়ে আজও বেঁচে আছে।
-সংগৃহীত।
১৭
নমিনি মানেই মালিক না।
সোজা করে বললে, সম্পদে “নমিনি” রাখা মানে হলো—
আপনি আপনার মৃ'ত্যু'র পর আপনার নির্দিষ্ট সম্পদ (যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বীমার টাকা, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি) কার হাতে অস্থায়ীভাবে যাবে, সেটা নির্ধারণ করা।
উদাহরণ:
ধরুন, আপনার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, আর আপনি সেখানে আপনার ছোট বোনকে নমিনি দিয়েছেন—
আপনার মৃ'ত্যু'র পর ব্যাংক প্রথমে সেই টাকা আপনার বোনের হাতে দেবে।
কিন্তু বাংলাদেশের আইনে, নমিনি শুধু “ট্রাস্টি” বা “অস্থায়ী গ্রহীতা” হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, তিনি টাকা বা সম্পদ পাবেন, কিন্তু সেটা আসল উত্তরাধিকারীদের (যেমন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা) মধ্যে ভাগ করতে হবে ইসলামী উত্তরাধিকার আইন বা সিভিল আইন অনুযায়ী।
আবারো সংক্ষেপে:
নমিনি = টাকা/সম্পদ “গ্রহণকারী”
উত্তরাধিকারী = টাকা/সম্পদ “মালিক”
১৮
এক ছেলে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, "বাবা, সফল জীবন কাকে বলে?"
বাবা ছেলের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে বললেন, "চলো, আজ আমরা ঘুড়ি ওড়াব!"
ছেলে অবাক হয়ে বলল, "কি বলছেন বাবা, এই বয়সে আপনি ঘুড়ি ওড়াবেন!"
বাবা তখন ছেলেকে বাড়ির পিছনের মাঠে নিয়ে গেলেন। সেখানে কয়েকটি বাচ্চা ছেলেমেয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিল। বাবা তাদের একজনের কাছ থেকে নাটাইটা চেয়ে নিলেন। তিনি নাটাই থেকে সুতা ছাড়ছেন আর ছেলে মনোযোগ দিয়ে দেখছে।
ঘুড়ি বেশ খানিকটা উপরে উঠে যাবার পর বাবা বললেন, "ওই দেখো, ঘুড়িটা অতো উঁচুতেও কেমন বাতাসে ভেসে আছে। তোমার কি মনে হচ্ছে না এই সুতার কারণে ঘুড়িটা আরো উপরে উঠতে বাধা পাচ্ছে?"
ছেলে বলল, "তা ঠিক, সুতা না থাকলে ওটা আরও উপরে উড়তে পারত!"
বাবা আলগোছে সুতাটা কে'টে দিলেন। ঘুড়িটা সুতার টান থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে কিছুটা উপরে উঠে গেল, কিন্তু একটু পরেই নিচের দিকে নামা শুরু করল আর দূরে গাছপালার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল।
এবার বাবা ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, "শোনো খোকা, জীবনে আমরা যে পর্যায়ে বা উচ্চতায় আছি বা থাকি, সেখানে প্রায়ই আমাদের মনে হয় ঘুড়ির সুতার মতো কিছু কিছু বন্ধন আমাদের উপরে ওঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে। যেমন ঘর, মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, অনুশাসন ইত্যাদি।
আর আমরাও মাঝে মাঝে সেইসব বাঁধন থেকে মুক্ত হতে চাই। বাস্তবে ওই বন্ধনগুলোই আমাদেরকে উঁচুতে টিকিয়ে রাখে, স্থিরতা দেয়, নিচে পড়তে বাধা দেয়। ওই বন্ধনগুলো না থাকলে আমরা হয়তো ক্ষণিকের জন্য কিছুটা উপরে উঠতে পারি, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের পতন হবে ওই বিনা সুতার ঘুড়ির মতোই।"
বাবা বলে চললেন, "তুমি যদি জীবনে সফল হতে চাও, তবে কখনোই ওই পিছুটান বা বন্ধনগুলো ছিঁ'ড়ে ফেলো না। সুতা আর ঘুড়ির মিলিত বন্ধন যেমন আকাশে ঘুড়িকে ভারসাম্য দেয়, তেমনি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনগুলো আমাদের সাফল্যের শিখরে টিকে থাকার শক্তি দেয়। আর এটাই প্রকৃত সফল জীবন।"-সংগৃহীত।
১৯
'পিজন মিল্ক'
আমরা সবাই জানি দুধ দেয় শুধু গরু বা ছাগল। কিন্তু প্রকৃতির এক গোপন কথা হলো, আমাদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো কবুতরও দুধ তৈরি করতে পারে!
বিশ্বাস হচ্ছে না?
—বিজ্ঞানীরা এই দুধকে নাম দিয়েছেন 'পিজন মিল্ক'।
আসলে এটি স্তনগ্রন্থি থেকে আসে না। কবুতরের গলার ভেতরের একটি থলি, যার নাম 'ক্রপ', সেইখানে এটি তৈরি হয়।
এই দুধ প্রোটিন ও অ্যান্টিবডিতে ভরা এক শক্তিশালী তরল, যা ছানাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি করে এবং খুব দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো— কবুতরের মা এবং বাবা (পুরুষ), দুজনেই সমানভাবে এই দুধ তৈরি করে ছানাদের খাওয়ায়!
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পুষ্টিগুণ মানুষের বুকের দুধের সঙ্গেও মেলে। প্রকৃতি তার সন্তানের জন্য কীভাবে এত বুদ্ধি খাটিয়ে খাবার তৈরি করে, ভাবা যায়!
-সংগৃহীত।
২০
প্রোপোলিস
যদি একটি ছোট প্রাণী যেমন একটি ইঁদুর বা একটি গিরগিটি ভুলবশত একটি মৌচাকে প্রবেশ করে, মধুর গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে, মৌমাছিরা সঙ্গে সঙ্গে এবং চরম আ'ক্র'ম'ণা'ত্ম'ক ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা বারবার দং'শ'ন করে প্রাণীটিকে আ'ক্র'ম'ণ করে এবং শেষ পর্যন্ত সেটিকে মে'রে ফেলে।
তবে, যখন অনুপ্রবেশকারী প্রাণীটি মা'রা যায়, তখন একটি নতুন সমস্যা দেখা দেয়: তার মৃ'তদেহটি এতটাই বড় হতে পারে যে মৌমাছিরা সেটিকে মৌচাক থেকে সরিয়ে ফেলতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে মৌমাছিরা তাদের অসাধারণ টিকে থাকার প্রবৃত্তি প্রদর্শন করে। মৃ'তদেহটি পচে ব্যাকটেরিয়া এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টি না করে, সেটিকে একটি বিশেষ পদার্থ দিয়ে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে— যেটাকে বলে প্রোপোলিস।
প্রোপোলিস হলো একধরনের রেজিনজাতীয় মিশ্রণ, যা তারা গাছপালা থেকে সংগ্রহ করে, এবং যার কিছু বিস্ময়কর গুণাবলি আছে:
• এটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিফাংগাল
• এটি আর্দ্রতা প্রতিরোধ করে
• এটি দুর্গন্ধ নিস্তেজ করে এবং টিস্যু শুকিয়ে ফেলতে সাহায্য করে
মৌমাছিরা মৃ'ত প্রাণীটিকে প্রোপোলিস এবং মোমের স্তরে স্তরে ঢেকে ফেলে, ফলে সেটি পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায় এবং মৌচাকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে কোনো ক্ষ'তি করতে পারে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃ'ত দেহটি শুকিয়ে যায় এবং কঙ্কালে পরিণত হয়, যা আর কোনো হুমকি তৈরি করে না।
এই আচরণটি মৌমাছিদের তাদের বাসস্থান পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখার বিস্ময়কর ক্ষমতা তুলে ধরে। এটি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল একটি প্রাকৃতিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার অসাধারণ উদাহরণ।
২১
“Good touch & Bad touch”
‘Good Touch’ ও ‘Bad Touch’ মানে কী?
Good Touch (ভালো ছোঁয়া):
যে ছোঁয়ায় ভালোবাসা, সুরক্ষা বা যত্ন বোঝায়—
যেমন: মা-বাবা, দাদা-দাদী, খালা/নানি আদর করে জড়িয়ে ধরা।
ডাক্তার চেকআপের সময়, মায়ের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করা।
বন্ধু বা শিক্ষক মাথায় হাত রাখা বা পিঠে চাপড়ে উৎসাহ দেওয়া।
এই ছোঁয়া বাচ্চাকে নিরাপদ, আরামদায়ক ও ভালো লাগে।
Bad Touch (খারাপ ছোঁয়া):
যে ছোঁয়ায় অস্বস্তি, ভয় বা কষ্ট লাগে—
যেমন: কেউ গোপন অঙ্গ স্পর্শ করে (নিচের অংশ, বুকে, পেছনে)।
কেউ বলে “এই ব্যাপারটা কাউকে বলো না।”
কেউ জোর করে চুমু খেতে চায় বা শরীরে হাত দেয়।
কেউ এমনভাবে ছোঁয়ায় যাতে বাচ্চা ভয় পায় বা কাঁদে।
এই ছোঁয়া হলে বাচ্চা যেন “না” বলে পালিয়ে আসে ও মাকে/বাবাকে বলে দেয়।
শিশুকে শেখানোর সহজ ও নিরাপদ উপায়:
একদম শুরু করুন পটি ট্রেইনিং সময় এটা নিয়ে কিছু ধারনা দেবেন।
পরবর্তী ধাপে,
বয়স: ৩–৮ বছর (খুব কার্যকর শেখার সময়)
১৷ আয়নার সামনে শরীর চেনানো শেখান:
বলবেন—
“তোমার শরীর খুব সুন্দর, আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন।
কিছু জায়গা আছে যা তোমার একান্ত নিজের, কেউ দেখতে বা ছুঁতে পারবে না।”
“এই জায়গাগুলো হলো— মুখ, বুক, নিচের অংশ (প্যান্টের ভেতর), পেছন দিক।”
শিশুকে সহজ ভাষায় বলুন—
“এই জায়গাগুলো তোমার ‘Private Part’। শুধু মা বা ডাক্তার পরিষ্কার করার সময় ছুঁতে পারে, তাও মায়ের সামনে।”
২️। ‘না’ বলা শেখান (No, Go, Tell নিয়ম):
বলুন তিনটি ছোট নিয়ম—
NO! (না বলবে)— যদি কেউ খারাপভাবে ছোঁয়ায় বা জোর করে।
GO! (সরে যাবে)— সেই জায়গা থেকে পালিয়ে আসবে।
TELL! (বলে দেবে)— মা, বাবা বা যাকে বিশ্বাস করে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বলে দেবে।
এটাকে “No–Go–Tell Rule” বলা হয়।-সংগৃহীত।
২২
প্রাচীন মিশরে মমি তৈরির বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আ'ত্মা'র পরকালীন যাত্রায় দে'হ'কে সংরক্ষিত রাখা, কারণ মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন যে আ'ত্মা (কা'বা) দে'হ'কে চিনতে পারলেই পুনর্জন্ম লাভ করতে পারবে।
নিচে মমি তৈরির বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও তথ্য দেওয়া হলো—
১৷ মমি তৈরির ইতিহাস ও উদ্দেশ্য:
সময়কাল: প্রায় ৩,০০০ বছর ধরে (প্রাক-রাজবংশীয় যুগ, ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে রোমান যুগ, ৩০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) চলেছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস—
মৃ'ত্যু'র পর ওসিরিসের বিচারে দে'হ অক্ষত থাকলে আ'ত্মা অমরত্ব লাভ করবে। দেহের পচন রোধ করা হতো যাতে আ'ত্মা (কা) তার আবাসস্থলকে চিনতে পারে।
২। মমিকরণ প্রক্রিয়া (৭০ দিনের আনুষ্ঠানিকতা):
প্রক্রিয়াটি পেশাদার মমিকরণকারীদের (যারা "অ্যানুবিসের পুরোহিত" নামে পরিচিত ছিলেন) দ্বারা সম্পন্ন হতো:
ধাপ ১: শরীর প্রস্তুতি (দেহ ধোয়া ও মস্তিষ্ক অপসারণ)
ধোয়া: মৃ'ত'দে'হ'কে নীল নদের জলে ধুয়ে শুদ্ধ করা হতো।
মস্তিষ্ক অপসারণ: নাকের মাধ্যমে একটি লোহার হুক ঢুকিয়ে মস্তিষ্ক ভে'ঙে টুকরো টুকরো করে বের করা হতো।
মস্তিষ্ককে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হতো, তাই এটি সংরক্ষণ করা হতো না।
ধাপ ২: অভ্যন্তরীণ অঙ্গ অপসারণ
পার্শ্বচ্ছেদ: বাম পাজরে একটি ছু'রি দিয়ে চিরে ফুসফুস, যকৃত, পাকস্থলী এবং অন্ত্র বের করা হতো।
হৃদয় সংরক্ষণ: হৃদয়কে দেহের মধ্যেই রাখা হতো, কারণ এটিকে বুদ্ধি ও আবেগের কেন্দ্র বলে বিশ্বাস করা হতো।
অঙ্গগুলো সংরক্ষণ: বের করা অঙ্গগুলোকে ন্যাট্রন লবণে শুকিয়ে ক্যানোপিক জার (চারটি বিশেষ পাত্র) এ রাখা হতো। প্রতিটি জারের উপর ছিল চার পুত্র দেবতার (আমসেত, হাপি, দুয়ামুতেফ, কেবেহসেনুফ) মূর্তি।
ধাপ ৩: শুকানো প্রক্রিয়া (ন্যাট্রন লবণ ব্যবহার)
লবণে ঢেকে রাখা: দেহকে ৪০ দিন ধরে ন্যাট্রন লবণে (সোডিয়াম কার্বনেট + বাইকার্বনেট মিশ্রণ) ঢেকে রাখা হতো।
কাজ: লবণ শরীরের সমস্ত আর্দ্রতা শুষে নিত, যার ফলে দেহ সম্পূর্ণ শুকিয়ে যেত।
ফলাফল: দেহের ওজন ৭৫% কমে যেত, ত্বক কালচে বাদামী রঙ ধারণ করত।
ধাপ ৪: ত্বক পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যায়ন
তেল মাখানো: শুকানোর পর দেহে সুগন্ধি তেল, মোম ও রেজিন মাখানো হতো যাতে ত্বক নমনীয় থাকে।
চোখ ও মুখ সাজানো: খালি চক্ষুকোটরে পাথর বা কাঁচের চোখ বসানো হতো। মুখের ভাঁজ এড়াতে ত্বকে রেজিন ইনজেকশন দেওয়া হতো।
কেশ সজ্জা: চুল কাটা বা নকল চুল লাগানো হতো।
ধাপ ৫: পট্টিকে মোড়ানো
লিনেন কাপড় ব্যবহার: দেহকে শত শত মিটার লিনেন কাপড়ে মোড়ানো হতো।
ধর্মীয় প্রতীক: প্রতিটি স্তরের মধ্যে অ্যামিউলেট (তাবিজ) ও ধর্মীয় লিপি রাখা হতো (যেমন "ডেড অফ দ্য ডেড" থেকে উদ্ধৃতি)।
বিশেষ যত্ন: আঙুল ও পায়ের নখ আলাদাভাবে মোড়ানো হতো।
ধাপ ৬: মুখোশ ও সমাধি প্রস্তুতি
স্বর্ণ মুখোশ: মুখে স্বর্ণ বা রঙিন মুখোশ পরানো হতো, যা মৃ'ত ব্যক্তির মুখের হুবহু প্রতিলিপি হতো।
সমাধিস্থ করা: মমিকে তিনটি কফিনের মধ্যে রেখে পিরামিড বা গোরস্থানে সমাধিস্থ করা হতো।
৪। বিভিন্ন শ্রেণীর মমি:
রাজকীয় মমি: যেমন তুতানখামেন, রামসেস দ্বিতীয়- স্বর্ণ মুখোশ ও বিলাসবহুল সমাধি।
সাধারণ মানুষের মমি: সরল পদ্ধতিতে তৈরি, কম ব্যয়বহুল।
প্রাণীদের মমি: বিড়াল, কুকুর, কুমির ইত্যাদিকেও মমি করা হতো ধর্মীয় উদ্দেশ্যে।
৫। মমি তৈরির বৈজ্ঞানিক দক্ষতা:
অ্যানাটমি জ্ঞান: মমিকরণকারীরা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসংস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন।
রসায়ন ব্যবহার: ন্যাট্রন লবণ ও রেজিনের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল।
শল্যচিকিৎসা দক্ষতা: অঙ্গ অপসারণ ও দেহ সেলাই করার কৌশল ছিল অত্যাধুনিক।
৬। আধুনিক গবেষণা ও আবিষ্কার:
সিটি স্ক্যান: আধুনিক প্রযুক্তিতে মমির অভ্যন্তরীণ অঙ্গ পরীক্ষা করে জানা গেছে যে, তাদের মধ্যে হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, প্যারাসাইট ছিল।
ডিএনএ বিশ্লেষণ: তুতানখামেনের ডিএনএ থেকে জানা গেছে তিনি ম্যালেরিয়ায় মারা গিয়েছিলেন।
সংরক্ষণ পদ্ধতি: মমির ত্বকে পাওয়া রেজিনের প্রলেপ আজও অক্ষয়।
৭। মমি তৈরি বনাম স্বাভাবিক সংরক্ষণ:
স্বাভাবিক মমি: মিশরের গরম ও শুষ্ক মরুভূমিতে কিছু দেহ স্বাভাবিকভাবেই মমিতে পরিণত হয়েছে (যেমন গেবেলেইন মমি)।
কৃত্রিম মমি: ধর্মীয় আচার অনুসারে তৈরি, যা অধিক টেকসই।
৮৷ মমি সংস্কৃতির প্রভাব:
গ্রিক-রোমান যুগে: মিশরীয় মমি তৈরি প্রক্রিয়া গ্রিক ও রোমানদের দ্বারা অনুকরণ করা হয়েছিল।
আধুনিক জনপ্রিয়তা: মমি হলিউড সিনেমা, বই ও ভিডিও গেম (যেমন "দ্য মামি") এর অনুপ্রেরণা।
১০৷ মমি তৈরির পতন:
খ্রিস্টধর্মের প্রভাব: রোমান যুগে খ্রিস্টান ধর্ম প্রসারের সাথে মমি তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।
অর্থনৈতিক কারণ: মমি তৈরি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
উপসংহার:
প্রাচীন মিশরে মমি তৈরি ছিল বিশ্বাস, বিজ্ঞান ও শিল্পের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এই প্রক্রিয়া শুধু দেহ সংরক্ষণ নয়, বরং মৃ'ত্যু'র পরবর্তী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
আজও মমি আমাদের প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার চিকিৎসাবিদ্যা, রসায়ন ও দর্শন সম্পর্কে অমূল্য তথ্য দেয়। মিশরের মরুভূমিতে প্রাপ্ত মমিগুলো আজ বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে (যেমন কায়রোর মিশরীয় জাদুঘর, ব্রিটিশ মিউজিয়াম) সংরক্ষিত আছে, যা মানব সভ্যতার এক অমর নিদর্শন।
২৩
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পড়ালেখা আমাদের কোনো কাজে আসে না। তারপরও আমরা কেন পড়ালেখা করি?
এই প্রশ্নের খুব সুন্দর একটা জবাব শুনেছিলাম একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মুখে— "গণিত বইয়ের অনুশীলনী থেকে সমাধান করা অংক আমাদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে খুব বেশি কাজে লাগে না। কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধান করি, সেটা আমাদের কল্পনাশক্তিকে শানিত করে, আমাদের চিন্তাকে নিয়মবদ্ধ করে। তাই পরীক্ষার খাতায় উত্তর মেলানোর চেয়ে একটা সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা অনেক বেশি দরকারি!"
লেখাপড়া হলো খাদ্য গ্রহণের মতো। একজন সাধারণ মানুষ দিনে এক থেকে দেড় কেজি খাবার খায়, বছরে যা প্রায় আধা টনের কাছাকাছি। এর অধিকাংশই বর্জ্য হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে গেলেও নির্যাসটুকু শরীরে পুষ্টি জোগায়।
একইভাবে, জীবনে পড়া অসংখ্য বই, টপিক ও সাবজেক্ট থেকে ছেঁকে নেওয়া নির্যাসটুকুই হচ্ছে জ্ঞান।
শরীরকে টিকিয়ে রাখে পুষ্টি আর মনকে বাঁচিয়ে রাখে পড়াশুনার মাধ্যমে অর্জিত ওই জ্ঞান। তাই সময় পেলেই হাতে একটি বই তুলে নিন।-সংগৃহীত।
২৪
ভে'জা'ল
মিষ্টি বিক্রেতা ভাবে— "আমি তো মিষ্টি খাই না, তাই মিষ্টিতে ভে'জা'ল দিলেও আমার কিছু আসে-যায় না।"
বেকারির মালিক ভাবে— "আমি তো নিজের দোকানের বিস্কুট খাই না, প'চা ডিম-ময়দা দিয়ে বানালেও সমস্যা কী?"
ফল বিক্রেতা ভাবে— "আমি তো নিজের দোকানের ফল খাই না, তাই কে'মি'ক্যা'ল দিলে আমার কী এসে যায়?"
মাছ বিক্রেতা ভাবে— "এই মাছ তো আমি খাবো না, একটু ফ'র'মা'লি'ন দিলে ক্ষ'তি কী?"
কিন্তু দিনের শেষে—
মিষ্টি বিক্রেতা মিষ্টি বিক্রি করে বিস্কুট, ফল, মাছ কিনে বাসায় ফেরে।
বেকারির মালিক বিস্কুট বিক্রি করে মিষ্টি, ফল, মাছ কিনে বাসায় ফেরে।
ফল বিক্রেতা ফল বিক্রি করে মিষ্টি, বিস্কুট, মাছ কিনে বাসায় ফেরে।
মাছ বিক্রেতা মাছ বিক্রি করে ফল, বিস্কুট, মিষ্টি কিনে বাসায় ফেরে।
তাহলে?
একজন অন্যজনের দেওয়া বি'ষ খাচ্ছে। নিজের হাতে নিজের পরিবারকে ধীরে ধীরে বি'ষ খাওয়াচ্ছে।
ভেবেছিল কেবল অন্যের ক্ষ'তি করছে, কিন্তু শেষে সবারই ক্ষ'তি হচ্ছে এক ভ'য়'ঙ্ক'র বৃত্তে ঘুরছে সবাই।
নতুন বাস্তবতা:
এখন ভেজালের প্রভাব শুধু অসুস্থতাই নয়— ক্যা'ন্সা'র, ডা'য়া'বে'টি'স, লি'ভা'র-কি'ড'নি বি'ক'ল, এমনকি পরবর্তী প্রজন্মেও জন্ম নিচ্ছে দুর্বলতা ও জেনেটিক রো'গ।
একজনের ভু'ল বা লো'ভে'র সিদ্ধান্ত হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষ'তি করছে।
অন্যের ক্ষ'তি করে কেউ লাভবান হয় না। সমাজের প্রতিটি সদস্য একে অপরের উপর নির্ভরশীল। একজনের ভে'জা'ল সবার ক্ষ'তি'র কারণ হয়। তাই ভে'জা'ল নয়, সততাই হোক ব্যবসার মূলনীতি।
সততা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটা নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষার বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত..!-সংগৃহীত।
২৫
ফ্লাইং ফক্স
এক ধরনের শিয়াল, কিন্তু আসলে ফ্লাইং ফক্স হলো বিশাল আকারের বাদুড়! এদেরকে 'মেগাব্যাটস' বা বড় বাদুড় বলা হয়।
এদের মাথা দেখলে মনে হবে যেন ছোট্ট কান আর বড় বড় চোখওয়ালা একটি শিয়াল। আর তাই এদের নাম হয়েছে 'ফ্লাইং ফক্স' বা উড়ন্ত শিয়াল।
এই বাদুড়গুলো কিন্তু আকারে বেশ বড়। এদের ডানা বা উইং স্প্যান (Wing Span) প্রায় ১.৫ মিটার (৫ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে!
অন্য ছোট বাদুড়েরা রাতের বেলা পোকামাকড় ধরে খায়, কিন্তু ফ্লাইং ফক্সরা দিনের বেলায় বড় গাছের ডালে ঝুলে ঘুমায়। যখন সন্ধ্যা নামে, তখন এরা ফল ও ফুলের মধু খেতে বের হয়।
ফ্লাইং ফক্সরা আমাদের বাস্তুতন্ত্রের জন্য খুব দরকারি, কারণ এরা যখন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে যায়, তখন পরাগায়ণে (Pollination) সাহায্য করে। অনেকটা মৌমাছির মতোই!-সংগৃহীত।
২৬
আমাদের চারপাশের অজানা তথ্য
১। অক্টোপাসের তিনটি হৃদপিণ্ড থাকে, আর রক্তের রঙ নীল।
২। কলা আসলে একটি "বেরি", কিন্তু স্ট্রবেরি বেরি নয়।
৩। পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রায় ৮ মিলিয়ন বজ্রপাত হয়।
৪। মানুষের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশি হলো জিহ্বা নয়, বরং চোয়ালের "ম্যাসেটার" পেশি।
৫। মধু কখনো নষ্ট হয় না, হাজার বছর পরও খাওয়ার উপযোগী থাকে।
৬। মহাকাশে নভোচারীরা কান্না করলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে না, চোখেই ভেসে থাকে।
৭। শামুক তিন বছর পর্যন্ত ঘুমাতে পারে।
৮। মানুষের আঙুলের ছাপের মতো জেব্রার ডোরাও আলাদা আলাদা।
৯। গরুদেরও "সেরা বন্ধু" থাকে, যাদের থেকে আলাদা হলে তারা দুঃখী হয়ে পড়ে।
১০। চাঁদের মাটিতে নভোচারীদের পদচিহ্ন লক্ষ লক্ষ বছর পর্যন্ত মুছে যাবে না, কারণ সেখানে বাতাস নেই।
দুনিয়া যত জানি, ততই বিস্ময় আরও বাড়ে— অজানার খোঁজেই জ্ঞানের পথচলা!-সংগৃহীত।
২৭
তাল গাছ বজ্রকে টেনে নিয়ে আপনাকে বাঁচতে সহায়তা করে
তালগাছ বজ্রপাতকে নিজের মাধ্যমে মাটিতে নামিয়ে দেয়, ফলে আশেপাশের মানুষ ও ঘরবাড়ি রক্ষা পায়। তাই একে “প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক” বলা যায়।
১। তালগাছের উচ্চতা ও গঠন:
তালগাছ সাধারণত অন্যান্য গাছের তুলনায় অনেক উঁচু হয় এবং গ্রামীণ এলাকায় একা দাঁড়িয়ে থাকে। তাই বজ্রপাত হলে তা প্রথমে তালগাছে আঘাত হানে, আশেপাশের মানুষ বা ঘরের পরিবর্তে।
২। তালগাছের ভেতরের গঠন (জলীয় অংশ):
তালগাছের কান্ডে প্রচুর পরিমাণে জলীয় পদার্থ থাকে। এই জল বিদ্যুতের ভালো পরিবাহক। ফলে বজ্রপাত হলে বিদ্যুৎশক্তি সহজে তালগাছের ভেতর দিয়ে মাটিতে চলে যায়, আশেপাশের এলাকাকে রক্ষা করে।
৩৷ প্রাকৃতিক “লাইটনিং রড” হিসেবে কাজ করে:
তালগাছ আসলে একধরনের প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক (lightning conductor) হিসেবে কাজ করে। যেমনভাবে লোহার দণ্ড ব্যবহার করে বজ্রপাতকে মাটিতে প্রবাহিত করা হয়, তেমনি তালগাছও বজ্রের আঘাতকে নিজের ভেতর দিয়ে মাটিতে পাঠিয়ে দেয়।
৪৷ মানুষের জীবনরক্ষায় ভূমিকা:
যেসব এলাকায় তালগাছ আছে, সেখানে বজ্রপাতের শক্তি প্রায়ই গাছেই নেমে যায়, ফলে মাঠে থাকা কৃষক বা গৃহস্থরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।
৫৷ এজন্য সরকার ও বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন:
গ্রামীণ এলাকায় তালগাছ লাগানো বজ্রপাতে মৃত্যুহার কমাতে সহায়ক। বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে ব্যাপকভাবে তালগাছ রোপণ কর্মসূচিও চালু হয়েছে।
এবার কি কোন তাল গাছ লাগিয়েছেন?
যেখানেই বজ্রের ভয়, চলুন সেখানেই তাল গাছ লাগাই!-সংগৃহীত।
২৮
সোনার জিহ্বাওয়ালা এক মমি
২০২১ সালের প্রথম দিকে, মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার পশ্চিমে টাপোসিরিস ম্যাগনা মন্দিরে আবিষ্কৃত হয় সোনার জিহ্বাওয়ালা এক মমি, যা প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো।
সংরক্ষণ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার পরিচয়, সামাজিক মর্যাদা বা মৃ'ত্যু'র কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে মুখের মধ্যে সোনার জিহ্বার আকৃতির তাবিজ পাওয়ায় অনুমান করা যায় যে তিনি হয়তো ধনী বা উচ্চ মর্যাদার কেউ ছিলেন।
যেহেতু তাকে একটি মন্দির চত্বরে সমাহিত করা হয়েছিল, তাই ধারণা করা হয় তিনি হয়তো একজন পুরোহিত ছিলেন বা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন।
কেন তার সোনার জিহ্বা ছিল?
প্রাচীন মিশরীয় ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে দেবতাদের ত্বক সোনা, অস্থি রূপা এবং চুল নীলকান্তমণি পাথরের মতো। এই বিশ্বাস অনুযায়ী, সোনা চিরস্থায়ী ও দেবত্বের প্রতীক।
তাই মমির জিহ্বায় সোনার তাবিজ রাখার উদ্দেশ্য ছিল তাকে পরকালেও কথা বলার ক্ষমতা দেওয়া।
বিশেষ করে, মৃতদের বিচারপর্বে ওসাইরিসের সামনে তাকে স্বচ্ছন্দে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এই সোনার জিহ্বা ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এতে তিনি পরলোকে মিশরীয় বিশ্বাসে স্বর্গে প্রবেশের অনুমতি পেতেন।-সংগৃহীত।
২৯
আক্কেল দাঁত একটা পাওয়ার হাউজ!
যে দাঁত ফেলে দেই, সেটিই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপকরণ!
গবেষকরা বলছেন, আমাদের আক্কেল দাঁতে (Wisdom Teeth) লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য চিকিৎসা সম্ভাবনা।
স্পেনের University of the Basque Country –এর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, এই দাঁতের ভেতরে রয়েছে বিশেষ ধরনের স্টেম সেল, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরায় তৈরি করতে পারে।
এই স্টেম সেলগুলো ভবিষ্যতে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক কিংবা হাড়ের কোষ পুনঃগঠনে ব্যবহার করা যেতে পারে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো!
যে দাঁত আমরা সাধারণত অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিই, সেটিই হতে পারে ভবিষ্যতের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার উৎস!
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আক্কেল দাঁত হতে পারে এক সহজলভ্য ও কম খরচের স্টেম সেল ব্যাংক, যা ভবিষ্যতের রিজেনারেটিভ মেডিসিনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। -সংগৃহীত।
৩০
দক্ষতা বনাম চাটুকারিতা
এক রাজার প্রচন্ড শক্তিশালী অনেকগুলো যুদ্ধবাজ ঘোড়া ছিলো। রাজা'র অনেক যুদ্ধ জয়ে এই যুদ্ধবাজ ঘোড়াগুলোর অসামান্য অবদান ছিলো, চারিদিকে তখন রাজার সুখ্যাতি।
রাজা ঘোড়া পোষার পাশাপাশি অনেকগুলো গাধাও পুষতো। তো ঘোড়ার পেছনে এত খরচ দেখে, উজির-নাজির প্রায়শঃই রাজার কাছে ঘোড়াগুলো নিয়ে অভিযোগ করতোঃ
"ঘোড়াগুলো বেয়াদব, সহজে বাগে আনা যায় না, তার উপর দিনের পর দিন কোন কাজেও লাগছে না, অথচ এদের পেছনে খরচ ঠিকই হচ্ছে"।
রাজা নিজেও লক্ষ্য করেছে আস্তাবলে ঘোড়াগুলোকে দেখতে গেলে ঘোড়াগুলো ঠিকমত সম্মান করে না। অথচ গাধার আস্তাবলে গেলে গাধাগুলো রাজার সারা গা-হাত-পা চাটা শুরু করে।
একদিন উজির-নাজির, রাজাকে পরামর্শ দিলো ঘোড়াগুলোকে বিক্রি করে দিতে, আর ঘোড়া বিক্রির টাকা দিয়ে পুরানো গাধাগুলোকে বেশি আদর যত্ন করতে সাথে বেশি করে আরো নতুন গাধা কিনতে।
তারপর যুদ্ধবাজ ঘোড়াগুলো বেশ দামে পাশের রাজ্যের দুর্বল রাজার কাছে বিক্রি করে দেয়া হল এবং অনেকগুলো গাধা কিনা হল।
কিছুদিন পরের কথা। পাশের রাজ্যের রাজা 'ঘোড়া বেচা রাজা'র রাজ্যকে আক্রমন করলো এবং খুব সহজেই রাজ্য দখল করলো।
রাজ্যের নতুন রাজা, বন্দী রাজাকে জিজ্ঞাসা করলো, "তোমার মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি কেন তুমি এই যুদ্ধে হারলে!"
বন্দী রাজা বললো "কেন?"
নতুন রাজা বললেন, তুমি হেরেছ কারণঃ
তোমার রাজা হওয়ার পিছনে যাদের (ঘোড়াদের) অবদান ছিলো, তাদেরকেই তুমি ভুলে গেছ।
তুমি চাটুকার গাধাকে ঘোড়ার চেয়ে বেশী গুরুত্মপূর্ণ মনে করেছ। তোমাকে ঘিরে থাকা গাধাদের কথায় সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছ। (তোমার উজির-নাজির'রাই ছিলো সত্যিকার গাধা)।
সর্বোপরি গাধা প্রয়োজনীয় প্রানী হলেও যুদ্ধবাজ ঘোড়ার কাজ গাধা দিয়ে চালানো যায় না এটা তোমার মাথায় আসেনি। দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন ‘না’ করলে যা হয়।
৩১
একটি পচা ফল যদি ভালো ফলের সাথে রাখা হয়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ভালো ফলটিও পচে যায়।
কেন হয় এমনটা?
কারণ পচা ফলের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ভালো ফলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
জীবনও আসলে অনেকটা এমনই। মানুষের সঙ্গ আমাদের চরিত্র, চিন্তা ও মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলে।
খারাপ মানুষের সঙ্গ যেমন আমাদের ভেতরে নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দেয়, তেমনি ভালো মানুষের সঙ্গ আমাদের অন্তরে প্রশান্তি আনে, ইতিবাচক চিন্তার আলো জ্বালায়।
তাই আমাদের সঙ্গ কাদের সাথে হচ্ছে, সেটা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত!
কারণ ভুল সঙ্গের কারণে আমাদের জীবনেও নষ্টের গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে, আর ভালো সঙ্গ আমাদের জীবনকে সুগন্ধি ও সুন্দর করে তুলতে পারে।
-সংগৃহীত।
৩২
মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর দৈত্য! আবিষ্কৃত হলো ৩৬ বিলিয়ন সূর্যের ভরের কৃষ্ণগহ্বর!
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এক অবিশ্বাস্য সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল, যা হতে পারে এ পর্যন্ত মাপা সবচেয়ে বৃহৎ কৃষ্ণগহ্বর।
যুক্তরাজ্যের University of Portsmouth এবং ব্রাজিলের Universidade Federal do Rio Grande do Sul-এর গবেষকরা একসাথে এই আবিষ্কার করেছেন।
এই বিশাল কৃষ্ণগহ্বরটি অবস্থান করছে এক “Cosmic Horseshoe” নামের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে। এর আকার এতটাই বিশাল যে এটি স্থান-কালের গঠন বাঁকিয়ে দেয় এবং এর ফলে দূরের একটি গ্যালাক্সির আলো বেঁকিয়ে Einstein Ring নামে পরিচিত ঘোড়ার খুর আকৃতির বলয় তৈরি করে।
কত বড় এই কৃষ্ণগহ্বর?
এর ভর প্রায় ৩৬ বিলিয়ন সূর্যের সমান! তুলনামূলকভাবে, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাক হোলের ভর মাত্র ৪ মিলিয়ন সূর্য।
অর্থাৎ, এই নতুন ব্ল্যাক হোলটি আমাদের গ্যালাক্সির কৃষ্ণগহ্বরের তুলনায় প্রায় ১০,০০০ গুণ বেশি ভারী।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় প্রতিটি বৃহৎ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল থাকে এবং তারা কয়েক বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে তাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির সঙ্গে একসাথে বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ করে বৃহৎ উপবৃত্তাকার (elliptical) গ্যালাক্সিগুলিতে কৃষ্ণগহ্বরের ভর সাধারণত নির্ভর করে তারাদের কেন্দ্রীয় গতির ওপর— যা "stellar velocity dispersion" নামে পরিচিত।
এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ কৃষ্ণগহ্বরের ভর মাপা হয়েছে কাছাকাছি গ্যালাক্সিগুলোতে, কারণ দূরের গ্যালাক্সির কেন্দ্রীয় অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এই আবিষ্কারকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
শেষ কথা:
৩৬ বিলিয়ন সূর্যের ভরের এই কৃষ্ণগহ্বর শুধু আকারেই বিশাল নয়, এটি আমাদের মহাবিশ্বের কৃষ্ণগহ্বরের আকারগত সীমা সম্পর্কেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন মহাবিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর দৈত্যদের মধ্যে একটি!-সংগৃহীত।
৩৩
লিও টলস্টয়ের ছোটগল্প Three questions (তিনটি প্রশ্ন)!
এক সময় এক রাজা ছিলেন। তিনি সব সময় ভাবতেন— যদি আমি তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানতাম, তবে কোনো কাজে আমি ব্যর্থ হতাম না।
প্রশ্নগুলো ছিল:
১। কোনো কাজ শুরু করার সঠিক সময় কখন?
২। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কে?
৩। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি?
এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য তিনি রাজ্যের সব জ্ঞানী মানুষকে ডাকলেন। কিন্তু কেউ তাকে সঠিক উত্তর দিতে পারল না।
একদিন রাজা সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি এক সন্ন্যাসীর কাছে যাবেন, যিনি তার জ্ঞানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। সেই সন্ন্যাসী এক জঙ্গলের ভেতর থাকতেন। রাজা সাধারণ পোশাক পরে তার কাছে গেলেন।
সন্ন্যাসী তখন তার কুঁড়েঘরের সামনে মাটি খুঁড়ছিলেন। রাজা তার কাছে গিয়ে প্রশ্নগুলো করলেন। কিন্তু সন্ন্যাসী কোনো উত্তর দিলেন না, শুধু নীরবে মাটি খুঁড়েই চললেন। রাজা তখন তাকে সাহায্য করার প্রস্তাব দিলেন এবং নিজে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করলেন।
সন্ধ্যা হয়ে এলো, কিন্তু রাজা কোনো উত্তর পেলেন না। হতাশ হয়ে তিনি ফিরে যেতে চাইলেন। ঠিক সেই সময়, এক র'ক্তা'ক্ত মানুষ দৌড়ে তাদের কাছে এসে লুটিয়ে পড়ল।
রাজার শত্রুপক্ষের সেই লোকটি রাজাকে মারতে এসেছিল। কিন্তু রাজার দেহরক্ষীরা তাকে আহত করে। রাজা আর সন্ন্যাসী মিলে লোকটির শুশ্রূষা করলেন। রাজা তার কাপড় ছিঁড়ে ক্ষতস্থান বাঁধলেন।
লোকটি সুস্থ হয়ে যখন জ্ঞান ফিরল, সে রাজাকে চিনতে পারল। সে রাজার কাছে ক্ষমা চাইল। রাজা তাকে শুধু ক্ষমাই করলেন না, তার সব সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিলেন।
পরদিন সকালে রাজা সন্ন্যাসীকে আবার তার তিনটি প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞেস করলেন।
সন্ন্যাসী হাসিমুখে বললেন, "আপনি তো আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েই গেছেন, মহারাজ।"
রাজা অবাক হয়ে বললেন, "কীভাবে?"
সন্ন্যাসী বললেন,
"মনে করে দেখুন— গতকাল যদি আপনি আমার জন্য মাটি না খুঁড়ে চলে যেতেন, তাহলে সেই লোকটি আপনাকে আক্রমণ করত। তাই, সেই কাজটি করার সঠিক সময় ছিল সেই মুহূর্তটি।
তখন আমিই ছিলাম আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, কারণ আমার কাছেই আপনি এসেছিলেন। এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি হলো সেই আহত লোকটি।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ছিল তাকে বাঁচানো, কারণ এর মাধ্যমেই আপনার জীবনও রক্ষা পেয়েছে।"
এই গল্পের মাধ্যমে টলস্টয় শেখালেন—
বর্তমানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ শুধু এই সময়ই আমাদের কিছু করার ক্ষমতা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তিনিই, যার সঙ্গে আপনি সেই মুহূর্তে আছেন, কারণ ভবিষ্যতে আপনি কার সঙ্গে থাকবেন, তা কেউ বলতে পারে না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো তার ভালো করা, কারণ এই উদ্দেশ্যেই মানুষ পৃথিবীতে এসেছে।-সংগৃহীত।
৩৪
"পাখি পাকা পেঁপে খায়" ছাড়াও আরো অনেক বাক্য আছে!
আসুন ঝটপট পড়ে ফেলি :
★ বাবলা গাছে বাঘ বসেছে।
★ গম আর চিনা।
★ চাচী তুমি চাঁছা চটা চেঁছ না আচাঁছা চটা চেঁছ।
★ হরলালের রেলগাড়ি।
★ তেলে চুল তাজা জলে চুন তাজা।
★ সুঁচে সুতো ছাতে ছুঁচো।
★ লারা রোড রোলারে লর্ডসে যায়।
★ কাকেরা কা কা করিয়া কাকে কাকা কইছে।
★ কাঁচা পেঁপে পাকা পেঁপে।
★ নলিনী লালনের নোলক নাকে তাল তাকে থাক কাক তাকে খাক।
★ পাতে পটল পড়লেও পড়তে পারে।
★ পাখি পাকা পেঁপে খায়।
★ বারো হাঁড়ি রাবড়ি বড় বাড়াবাড়ি।
★ কাঁচা গাব পাকা গাব।
★ লীনা নিল, নীলা লীলা নিল না।
★ নেরু রেনুর কান টানে, রেনু নেরুর নাক টানে।
★ বাঘার বাড়ি বাবার গাড়ি।
★ লরির ওপর রোলার।
★ টাকে কাক, তাকে কাপ।
★ লেনিন নিলেন লিনেন, লিনেন লেনিন নিলেন, নিলেন লেনিন লিনেন।
★ গাছ কাটা কাটা খাঁজ, খাঁজ কাটা কাটা গাছ।
★ করলার কলে বাড়ে কলেরার কলরব।
★ শ্যমবাজারের শশী বাবু সকাল বেলায় সাইকেল চড়ে শশা খেতে খেতে সশরীরে স্বর্গে গেলেন।
★ পাখি কাঁপে ফাঁদে, পাপী কাঁদে ফাঁকে।
★ এক আনায় আনা যায় কত আনারস।
★ মালির মাথায় মালার ডালা, মালার হাতে মালির মালা।
★ রণে রাণী লড়ে, লনে নারী নড়ে।
★ মাসি মারে মশা, মেসো মারে মাছি।
★ অস্ট্র উষ্ট্রের সাথে অষ্ট অশ্ব।
★ লালুর লড়াই রাবড়ি লড়েন।
★ লাল ল্যানোলিন, নীল ল্যানোলিন।
★ দুর্যোধন জর্দা খেয়ে দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
★ লীলা নিলি নালা নালী।
★ রোমা রল্যা লেড় খায়।
★ লালু লালা নিলী লিলি লীলা লীনা।
★ মনাকে মনার মা মানা করেছে, মনা মায়ের মানা না শুনে চলে গেছে।
★ চল চপলার চকিত চরণে করিছে চরণ বিচরণ।
★ কত না জনতা জানাল যতনে যতনে।
★ কালুদের কুচকুচে কালো কুকুর কাল কচুরিতে কামড় দিয়েছিল।
★ টিপুর টুপি টুপুর টাকে, টুপুর টাকা টিপুর ট্যাঁকে।
★ উৎকটকটমহাশঙ্করকিটকিটাম্বররায়চৌধুরী।
★ লালা রি লোলা রি লিলারি লালারি লু।
★ পাঁক পুকুরের পশ্চিম পাড়ের পাঁচু পাইন পাঁচটি পুলিশ কে পটিয়ে পাঁচটি পাইপ পুঁতিল।
★ হেলিকপ্টারের প্রোপ্রাইটারের প্রপিতামহ প্রপেলারের চোটে পটলপ্রাপ্ত।
★ গড়ের মাঠে গরুর গাড়ি গড় গড়িয়ে যায়।
★ চারুচন্দ্র চক্রবর্তী চটি জুতো চরণে জড়ায়ে চট্টগ্রাম চলে গেছে।
★ রুলারে লড়াই।
★ মিতা আটা হাতে আতা কাটে।
-সংগৃহীত।
৩৫
মদনমোহনের 'শিশুশিক্ষা'।
আমাদের সাধারণ ধারণা হল 'বর্ণপরিচয়' প্রকাশিত হওয়ার পরে 'শিশুশিক্ষা' অপ্রচলিত হয়ে পড়েছিল।
আশিস খাস্তগীর সংগ্রহীত 'বাংলা প্রাইমার সংগ্রহ' থেকে সেই ধারণার পরিবর্তন হয় আমাদের। বিক্রির সংখ্যায় সামান্য পিছিয়ে থাকলেও 'শিশুশিক্ষা' দীর্ঘকাল দাপটের সঙ্গে শিশুপাঠ্য বই রূপে আদৃত ছিল সেদিনের বাংলায়।
পণ্ডিত বিদ্যাসাগর যত বড়ো পণ্ডিত, তার অধিক তিনি ছিলেন মহানুভব। সমগ্র জীবন, যাবতীয় উপার্জনকে বাজি রেখে যেভাবে বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহ এবং নারীশিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তেমনটির তুলনা সেদিন কেন, আজও পাওয়া যায় না।
তবে বিদ্যাসাগরের মতো না হলেও মদনমোহনের কিছু সামাজিক অবদানের কথা জানা যায় মুর্শিদাবাদ জেলায়। নিজের জন্মভূমি নদিয়ায় তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ মদনমোহন করতে পারেননি।
এর প্রধান কারণ হল নিজের কন্যাদের স্কুলে ভর্তি করায় জন্মভূমির হিন্দুসমাজ তাঁকে ব্রাত্য করেছিল। বেথুন স্কুলের প্রথম দিন থেকে সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মদনমোহন তাঁর দুই কন্যাকে ভর্তি করেছিলেন।
কেবল ভর্তি নয়, বিনা বেতনে সেই স্কুলে ছাত্রীদের পড়াতেন। কেবল পড়াতেন বললে ভুল বলা হবে, ছাত্রীদের প্রয়োজনের কথা ভেবেই রচনা করেছিলেন 'শিশুশিক্ষা'।
সমাজ যে তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছিল এবং বেশ শক্তিশালী কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের সঙ্গে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছিল সে-বিষয়ে অনুমান করা যায় 'স্ত্রীশিক্ষা' নিয়ে তাঁর রচিত প্রবন্ধে। লেখক - রজত পাল
৩৬
প্রাচীন বন্দরনগরী পাতারা
রোমান সাম্রাজ্যের সময়, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন বন্দরনগরী পাতারা ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কেন্দ্র।
এই শহরে বিশুদ্ধ পানির জোগান দিতে নির্মাণ করা হয়েছিল এক বিশাল খাল, দৈর্ঘ্যে প্রায় ২২.৫ কিলোমিটার।
এই চমৎকার অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের শাসনামলে (১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ ~ ৫৪ খ্রিস্টাব্দ)।
খালটি পাহাড়ি উৎস থেকে পাতারা পর্যন্ত পানি বয়ে আনত। রোমানদের পানি ব্যবস্থাপনা ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার উন্নতির স্বাক্ষর এটি।
রোমানরা খালটি এমনভাবে নির্মাণ করেছিলেন, যাতে স্বাভাবিক ঢাল ব্যবহার করে পানি প্রবাহিত হয়।
এর কিছু অংশ একেবারে পাথরে খোঁদাই করে বানানো সুড়ঙ্গের মতো ছিল।-সংগৃহীত।
৩৭
মোবাইলের ব্লুটুথ: ইতিহাস ও নামের রহস্য
আমাদের মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির নাম ব্লুটুথ। এটি মূলত দুইটি ডিভাইসকে ওয়্যারলেসভাবে সংযুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু জানো কি, এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ ঐতিহাসিক গল্প?
ব্লুটুথ নামের উৎস
ব্লুটুথ নামটি এসেছে ভাইকিংদের ইতিহাস থেকে। ভাইকিংরা ছিল উত্তর ইউরোপের (বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন) প্রাচীন সাহসী যোদ্ধা ও অভিযাত্রী।
১০ম শতাব্দীতে এক ভাইকিং রাজা ছিলেন যার নাম ছিল হ্যারাল্ড ব্লুটুথ গোর্মসন (Harald "Bluetooth" Gormsson)।
এই রাজার কৃতিত্ব ছিল, তিনি ডেনমার্ক ও নরওয়েকে একত্রিত করেছিলেন।
ঠিক যেমন তিনি দুটি আলাদা জাতিকে একত্রিত করেছিলেন, তেমনি ব্লুটুথ প্রযুক্তিও দুইটি ডিভাইসকে সংযুক্ত করে— তাই তার নামেই এই প্রযুক্তির নামকরণ।
ব্লুটুথ প্রতীকের রহস্য
ব্লুটুথ প্রতীকটি তৈরি করা হয়েছে ভাইকিং ভাষা রুনিক অক্ষর থেকে।
এটি মূলত দুইটি অক্ষরের সমন্বয়:
"ᚼ" (Haglaz) = H
"ᛒ" (Berkanan) = B
এই দুটি অক্ষর একত্রে রাজার নাম Harald Bluetooth-এর আদ্যক্ষর প্রকাশ করে।
সারাংশ:
ব্লুটুথ শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক নাম।
এক ভাইকিং রাজা যেমন দুটি জাতিকে সংযুক্ত করেছিলেন, ব্লুটুথ প্রযুক্তিও তেমনি ডিভাইসকে সংযুক্ত করে।
এর প্রতীক ভাইকিং রুন লিপি থেকে নেওয়া।-সংগৃহীত।
৩৮
“Dancing Plague of 1518” বা “নৃ'ত্য ম'হা'মা'রী”।
১৫১৮ সালের জুলাই মাসে, ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ শহরে এক নারী হঠাৎ করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অদ্ভুতভাবে নাচতে শুরু করেন।
কয়েক ঘণ্টা নয়— কয়েক দিন ধরে তিনি নাচতেই থাকলেন। কিছুদিনের মধ্যেই আরও কয়েক ডজন মানুষ তার সঙ্গে যোগ দিল। আর এক মাসের মধ্যে কয়েকশ মানুষ একইভাবে রাস্তায় নাচতে থাকল।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো— তারা নাচতে চাইছিল না, কিন্তু তাদের শরীর যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। অনেকে এত ক্লা'ন্ত হয়ে পড়েছিল যে অ'জ্ঞা'ন হয়ে যায়, হাড় ভে'ঙে যায়, এমনকি অনেকে মৃ'ত্যু'ব'র'ণ'ও করে।
ইতিহাসে এই অদ্ভুত ঘটনাকে বলা হয় “Dancing Plague of 1518” বা “নৃ'ত্য ম'হা'মা'রী”।
কিন্তু কেন হয়েছিল এটা?
কেউ বলেন এটা ছিল গমে জন্মানো ফাঙ্গাস থেকে বিষক্রিয়া, কেউ বলেন এটা ছিল মানসিক ম'হা'মা'রী— যেখানে দুঃখ-দারিদ্র্য ও কুসংস্কার মানুষের মস্তিষ্ককে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
কিন্তু আজও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি, কেন কয়েকশ মানুষ একসাথে নাচতে নাচতে মৃ'ত্যু'র দিকে এগিয়ে গিয়েছিল।
এটাই ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনা গুলোর একটি। -সংগৃহীত।
৩৯
জন ক্যালহুনের 'ইউনিভার্স ২৫
বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভীতিকর পরীক্ষাগুলোর একটি হলো জন ক্যালহুনের 'ইউনিভার্স ২৫'। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইঁদুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে মানবসমাজকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই পরীক্ষায় ইঁদুরদের জন্য বানানো হয় এক নিখুঁত পরিবেশ- অফুরন্ত খাবার, পানি, বাসা বানানোর উপকরণ, খেলার জায়গা- সবকিছু ছিল হাতের নাগালে।
শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলল, আর জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে লাগল।
কিন্তু সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিল ভয়ানক পরিবর্তন। ইঁদুররা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠল, একা হয়ে গেল, আর নিজেদের এলাকা নিয়ে লড়াই শুরু করল।
মেয়ে ইঁদুররা ক্রমশ একা থাকতে শুরু করল, আক্রমণাত্মক আচরণ দেখাল এবং প্রজননে আগ্রহ হারাল। জন্মহার কমে গেল, আর ছোট ইঁদুরদের মৃত্যুহার বেড়ে গেল।
এরপর দেখা দিল নতুন এক শ্রেণী- সুন্দর ইঁদুর। এরা মেয়ে ইঁদুরদের সঙ্গে মেলামেশা করত না, লড়াই করত না, শুধু খেত আর ঘুমাত। শেষমেশ এদের সঙ্গেই যুক্ত হলো একা থাকা মেয়ে ইঁদুররা, আর তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠল।
কালক্রমে শিশু ইঁদুরদের মৃত্যুহার পৌঁছায় ১০০%-এ, আর জন্মহার নেমে আসে শূন্যে। খাবারের কোনো অভাব না থাকা সত্ত্বেও শুরু হয় স'ম'কা'মি'তা ও স্বজাতি ভ'ক্ষ'ণ।
ক্যালহুন এই পরীক্ষা ২৫ বার করেছেন। প্রতিবারই ফলাফল একই- অতিরিক্ত ভিড়, ভে'ঙে পড়া সামাজিক কাঠামো, আর শেষমেশ বিলুপ্তি।
জন ক্যালহুন তার পরীক্ষার শেষে বলেছিলেন- যখন কোনো সমাজে মানুষের সংখ্যা সামাজিক ভূমিকাগুলোর চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখনই শুরু হয় সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন।
আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, ইঁদুরদের ভিড় থেকে সরিয়ে নিলেও তারা তাদের অস্বাভাবিক আচরণ বদলাতে পারেনি। যেন তাদের ভেতরেই প'চ'ন ধরে গিয়েছিল, যেখানে আর নতুন করে সমাজ গড়ে তোলার ক্ষমতাই ছিল না।
এই পরীক্ষাকে প্রায়ই এক সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়- জনসংখ্যা বিস্ফোরণ ও এর ফলে সম্ভাব্য সামাজিক প'ত'নে'র ঝুঁকি বোঝাতে।
তবে সমালোচকরা বলেন, এই ফলাফলকে সরাসরি মানবসমাজের সঙ্গে মেলানো যায় না। কারণ মানুষ ও ইঁদুরের মধ্যে সামাজিক কাঠামো, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আর আচরণের ধরনে বিশাল পার্থক্য আছে।-সংগৃহীত।
ডিকশনারিতে 'শেষ' বলে কোনো শব্দ নেই। খুঁজে দেখুন 'End' কথাটির অর্থ হচ্ছে 'Effort never dies' অর্থাৎ 'প্রচেষ্টার মৃত্যু নেই'।
৪০
শিক্ষণীয় গল্প: কুড়াল ও ব্লেড
একদিন এক বড় বন্যপথে দেখা হল কুড়াল আর ব্লেডের।
কুড়াল ছিল অনেক শক্তিশালী, মোটা ও ভারী। সে গর্ব করে বলল,
— “আমি এক আঘাতে বিশাল গাছ ফেলে দিতে পারি! আমাকে কেউ হারাতে পারবে না!”
ছোট্ট, পাতলা ব্লেড মৃদু হেসে বলল,
— “তুমি খুবই শক্তিশালী, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু আমি এমন কিছু কাজ করি, যেখানে তোমার শক্তি কোনো কাজে আসে না।”
কুড়াল অবাক হয়ে বলল,
— “তুমি! তুমি আবার কী করো এমন?”
ব্লেড তখন তাকে নিয়ে গেল এক নাপিতের দোকানে। সেখানে এক লোক আয়নার সামনে বসে। ব্লেড দিয়ে সে সুন্দরভাবে দাড়ি কামিয়ে নিচ্ছে। একটুও কষ্ট হচ্ছিল না।
এই দৃশ্য দেখে কুড়াল চুপ করে গেল। সে বুঝতে পারল, তার মতো শক্তি থাকলেও, এমন সূক্ষ্ম কাজে সে কিছুই করতে পারবে না।
তখন ব্লেড বলল,
— “দেখো বন্ধু, আমরা একে-অপরের চেয়ে ভালো না। আমরা শুধু আলাদা কাজে দক্ষ। তুমি গাছ কাটো, আমি দাড়ি কাটবো। আমাদের দুজনেরই গুরুত্ব আছে, কিন্তু আলাদা জায়গায়।”
শিক্ষা:
জীবনে কেউ ছোট, কেউ বড় হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব গুণ ও প্রয়োজনীয়তা থাকে। কেউ খুব শক্তিশালী, কেউ খুব সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। তাই কাউকে তুচ্ছ না করে, সবাইকে সম্মান করতে শিখতে হবে। কারণ, নিজের জায়গায় প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ।-সংগৃহীত।
৪১
হারিয়ে যাওয়া পালকি– একসময়ের ঢাকা ও বাংলার যাতায়াত ঐতিহ্য!
আজ থেকে কয়েকশো বছর আগেও আমাদের ঢাকাসহ পুরো বাংলার শহর ও গ্রামাঞ্চলে এক অতি পরিচিত দৃশ্য ছিল “পালকি”।
ধনীদের আরাম, বিয়ের শোভাযাত্রা কিংবা নারীদের বাহন—সব ক্ষেত্রেই পালকি ছিল গর্বের প্রতীক।
মুঘল আমলে পালকিঃ
বাংলায় পালকির প্রচলন শুরু হয় প্রায় ১৫০০ শতকের দিকে। মুঘল যুগে ঢাকার অভিজাত পরিবারগুলো পালকী ব্যবহার করত। সেই সময় নারী পর্দানশীন থাকায় তারা বাইরে যেতে পারতেন কেবল পালকিতে চড়ে। নবাব পরিবারের বেগমেরা বাজার, মসজিদ কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে পালকি ব্যবহার করতেন।
নবাবি আমলে পালকিঃ
ঢাকা যখন নবাবদের রাজত্বকেন্দ্র, তখন পালকি হয়ে ওঠে এক ধরনের সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। নবাবদের পালকিগুলো বিশেষভাবে সাজানো হতো— কখনও মখমল, কখনও রেশমি কাপড়ে মোড়ানো। এগুলো বহন করতেন কাঁধে তুলে রাখা পালকীবাহকরা।
ব্রিটিশ আমলে পালকিঃ
ব্রিটিশ আমলেও পালকির ব্যবহার বহাল ছিল। তবে তখন ধীরে ধীরে ঘোড়ার গাড়ি এবং রিকশার প্রচলন শুরু হওয়ায় শহুরে জীবনে পালকি কমতে থাকে। তবুও অভিজাত পরিবার, জমিদারবাড়ি ও বিয়ের শোভাযাত্রায় পালকি রয়ে গিয়েছিল।
পাকিস্তান আমলে ও স্বাধীনতার পরঃ
১৯৪৭ সালের পরও বাংলার গ্রামাঞ্চলে বিয়েশাদী, বিশেষ করে কনের গৃহে প্রবেশের জন্য পালকি ব্যবহার হতো। ঢাকার শহরে তখন রিকশা, গাড়ি এগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় পালকি একেবারেই গ্রামীণ ঐতিহ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
গত ৩০-৪০ বছর আগেওঃ
এমনকি আজ থেকে মাত্র ৩০-৪০ বছর আগেও গ্রামের বিয়ে-শাদীতে কনেকে পালকিতে করে নিয়ে যাওয়ার প্রচলন ছিল। চার-পাঁচজন পালকীবাহক কাঁধে তুলে পালকি বহন করত, আর আশেপাশের মানুষ উল্লাস করত। এটা ছিল বাংলার বিবাহ সংস্কৃতির এক অনন্য দৃশ্য।
কিভাবে পালকি হারিয়ে গেল:
পরিবহনের আধুনিকায়ন (রিকশা, ভ্যান, মোটরযান)।
সময় বাঁচানোর প্রয়োজনে মানুষ দ্রুত যানবাহনের দিকে ঝুঁকলো।
গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তা হওয়ার পর পালকির প্রয়োজন শেষ হয়ে গেল।
আজ পালকি শুধুই ইতিহাসের অংশ— কোনো কোনো জাদুঘরে অথবা বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জায় প্রতীকীভাবে দেখা যায়।
পালকির শুরুর ইতিহাসঃ
পালকি ভারতবর্ষে প্রচলিত হয়েছিল প্রায় ১৫০০ শতাব্দীতে। ধারণা করা হয়, প্রথমে এটি রাজপরিবার ও অভিজাতদের ব্যবহারের জন্য বানানো হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিয়েশাদীর সময়, কনে পরিবহনের জন্য এটি ব্যবহার শুরু করে।
আজকের তরুণ প্রজন্ম হয়তো কখনো বাস্তবে পালকি দেখেইনি। অথচ কয়েক দশক আগেও এটা ছিল আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। “হারিয়ে যাওয়া পালকি” তাই শুধু এক বাহন নয়, বরং বাংলার সামাজিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত সাক্ষী।
-সংগৃহীত।
সবসময় মনে রেখো— হীরক আসলে একখণ্ড কয়লা, যে শুধু চাপের মধ্যেও নিজেকে ধরে রেখে উজ্জ্বল হয়েছে।
অর্থাৎ, জীবনের কঠিন সময়, দুঃখ-কষ্ট কিংবা চাপ— এসবই তোমাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নয়, বরং গড়ে তোলার জন্য।
ধৈর্য, চেষ্টা আর সহনশীলতা থাকলে একদিন তুমিও হয়ে উঠবে নিজের ভেতরের হীরক।
৪২
সাপলুডো
অনেকেরই জানা নেই ত্রয়োদশ শতকে ভারতের সন্ত জ্ঞানদেব শিশুদের খেলাচ্ছলে শিক্ষাদানের প্রচেষ্টায় সাপলুডো খেলাটি চালু করেন। এর মূল নাম ছিল মোক্ষপতম। পরে বৃটিশরা Snake & Ladder নামটি দেন।
মূলখেলায় ১০০ ঘরের বোর্ডটিতে দ্বাদশ ঘরটি ছিল ধর্ম বা বিশ্বাস৷ ৫১তম ঘরটি ছিল নির্ভরযোগ্যতা। ৫৭ তম ঘরটি ছিল ঔদার্য্য । ৭৬তম ঘরেছিল জ্ঞান। ৭৮তম ঘরেছিল আস্তিকতা৷ এই ঘর গুলিতে এলেই সিঁড়ি বা মই পাওয়া যেত যা বেয়ে দ্রুত উর্ধগতি লাভ হত।
সাপের মুখে পরে দ্রুত পতনের জন্য ছিল নিচের ঘরগুলি। ৪১ তম ঘরটি ছিল অবাধ্যতা। ৪৪ তম ঘরে ছিল দূর্বিনীত স্বভাব। ৪৯ তম ঘরে ছিল কুশ্রীতা। ৫৮ তম ঘরে ছিল মিথ্যাচার৷ ৬২ তম ঘরে ছিল উন্মত্ততা৷ ৬৯ ঘরে ছিল ঋন। ৭৩ তম কক্ষে হত্যা। ৮৪ তম কক্ষে ছিল ক্রোধ। ৯২ তম কক্ষে লোভ। ৯৫ তম কক্ষে ছিল অহংকার। ৯৯ তম কক্ষে কাম।
১০০ তম ঘরটি ছিল নির্বান বা মোক্ষ। পরে এটি ৭২ কক্ষের খেলায় পরিবর্তিত হয়।-সংগৃহীত।
৪৩
২৩ টি না
১। নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না। এতে আপনি ছোট হবেন।
২। ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখান। "Thank you", "Please" এই কথাগুলো বলতে দ্বিধা করবেন না।
৩। কারো কাছে নিজের সিক্রেট শেয়ার করবেন না বা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।
৪। অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা করতে যাবেন না।
৫। প'র্ণে আসক্ত হবেন না। এতে করে আপনি ক্ষণস্থায়ী সুখের জন্য সুন্দর জীবন হারাবেন।
৬। পরচর্চা করবেন না। যে ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের নিন্দা করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে আপনার নিন্দা করে।
৭। গাধার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। তর্কের শুরুতেই গাধা আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে, তারপর আপনাকে সবার সামনে অপদস্থ করবে।
৮। পরে করব ভেবে কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না। আপনি যদি তা করেন শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভাবনা কাজটি আপনি আর কখনোই করতে পারবেন না।
৯। 'না' বলতে ভয় পাবেন না।
১০। স্ত্রীর কারণে বাবা-মাকে বা বাবা মায়ের কারণে স্ত্রীকে অবহেলা করবেন না।
১১। সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। এতে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব হারাবেন।
১২। ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না। তাই জীবনে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে ভয় পাবেন না।
১৩। স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না। গুগলে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন না।
১৪। মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না। কারণ, এই একটি কাজের বিলম্বের জন্য আপনি সারাজীবন পস্তাতে পারেন।
১৫। রিলেশনসিপে অসুখী হলে সেটা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। যে সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণা দেয়, ভেতরে অশান্তি সৃষ্টি করে তা জীবন থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন।
১৬। আপনি কখনোই জানেন না যে আপনি স্বপ্নপূরণের ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই, কখনোই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না। বেশিরভাগ মানুষ সাফল্য লাভের কাছাকাছি গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়।
১৭। অকারণে শত্রু বাড়াবেন না।
১৮। কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলবেন না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।
১৯। বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না। তার সাথে আপনার বিয়ে হবেই বা সে আপনাকে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল করবে না এটা আপনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন না।
২০। যে আপনার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত নয়, তাকে কিছু শেখাতে যাবেন না। সে ঠকবে, ভুল করবে, ধাক্কা খাবে; তারপর একসময় ঠিকই আপনার মূল্য বুঝতে পারবে।
২১। নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন না। যেখানে আপনার সম্মান নেই সেখান থেকে এখনই নিজেকে গুটিয়ে নিন।
২২। টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে প্রিয়জনদের বঞ্চিত করবেন না।
২৩। যেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না।-সংগৃহীত।
৪৪
'স্যান্ডউইচ' (Sandwich) কোথা থেকে এসেছে?
এই মুখরোচক খাবারের জন্ম কিন্তু একজন জু'য়া'ড়ি'র টেবিল থেকে!
১৭৬২ সালে ইংল্যান্ডে জন মন্টেগু, চতুর্থ আর্ল অব স্যান্ডউইচ ছিলেন এক অভিজাত ব্যক্তি।
তিনি ছিলেন একজন ঘোর জু'য়া'ড়ি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জুয়ার টেবিলে বসে সময় কাটাতেন। কিন্তু জু'য়া'র বিরতি দিয়ে খেতে গেলে তার খেলার ব্যাঘাত ঘটত।
তাই তিনি তার রাঁধুনিকে রুটির দুটি টুকরোর মাঝে মাংসের টুকরো দিয়ে এমন একটি খাবার বানাতে বলেন, যা সহজেই এক হাতে ধরে খাওয়া যাবে।
এতে তিনি জু'য়া খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন এবং তার হাতও নোংরা হতো না।
এই নতুন ধরনের খাবারটি জু'য়া'ড়ি'দে'র মধ্যে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায় যে, তারাও একই ধরনের খাবার অর্ডার করে বলতে শুরু করে, "সেই একই জিনিস দাও, যেটা স্যান্ডউইচ খাচ্ছে!"
এভাবেই জন মন্টাগুর পদবী 'স্যান্ডউইচ' হয়ে ওঠে এই বিখ্যাত খাবারটির নাম।
আজ সারা বিশ্বে এই খাবারটি পরিচিত।-সংগৃহীত।
৪৫
মানুষকে বিচার করুন গুণে, রূপে নয়: একটি জীবনমুখী দর্শন।
“মানুষকে বিচার করুন গুণে, রূপে নয়”— এই প্রবাদটি বাংলা সংস্কৃতির একটি গভীর দার্শনিক উক্তি, যা আমাদের জীবনযাপনের একটি মূল্যবান শিক্ষা দেয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কোনো ব্যক্তির প্রকৃত মূল্য তার বাহ্যিক চেহারা বা রূপের মধ্যে নয়, বরং তার গুণ, চরিত্র, জ্ঞান, এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে নিহিত।
এই প্রবাদটি আমাদের সমাজে বিদ্যমান পক্ষপাতিত্ব, বিচারের ভুল দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এই নিবন্ধে আমরা এই প্রবাদের তাৎপর্য, এর সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব, এবং জীবনে এর প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
প্রবাদের তাৎপর্য:-
মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে গুণের গুরুত্ব অপরিসীম। গুণ বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে একজন মানুষের চরিত্র, সততা, দয়া, জ্ঞান, কর্মদক্ষতা, এবং সমাজের প্রতি তার অবদান। রূপ বা বাহ্যিক চেহারা ক্ষণস্থায়ী এবং প্রায়ই প্রতারণামূলক হতে পারে, কিন্তু গুণ একজন মানুষের স্থায়ী পরিচয় তৈরি করে।
এই প্রবাদ আমাদের শেখায় যে, কাউকে বিচার করার সময় তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তে তার অভ্যন্তরীণ গুণাবলীর ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।
উদাহরণস্বরূপ:
একজন সাধারণ চেহারার মানুষ হয়তো অসাধারণ দয়া, সততা বা বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হতে পারেন। অপরদিকে, একজন সুদর্শন ব্যক্তির চরিত্র বা আচরণ নেতিবাচক হতে পারে।
এই প্রবাদ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সংশোধন করে এবং আমাদের শেখায় যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে অভ্যন্তরীণ গুণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রবাদের প্রভাব:-
আধুনিক সমাজে, যেখানে চেহারা এবং বাহ্যিক উপস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, এই প্রবাদটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
সামাজিক মাধ্যম, বিজ্ঞাপন, এবং গণমাধ্যম প্রায়ই সৌন্দর্যের একটি কৃত্রিম মানদণ্ড তৈরি করে, যা মানুষকে তাদের চেহারার ভিত্তিতে বিচার করতে প্ররোচিত করে। এর ফলে অনেকেই নিজেদের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট বোধ করেন এবং সমাজে এক ধরনের অসমতা ও পক্ষপাতিত্ব তৈরি হয়।
এই প্রবাদ আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য তার চেহারা, পোশাক, বা সামাজিক অবস্থানে নয়, বরং তার কাজ, সততা, এবং অন্যদের প্রতি তার আচরণে।
উদাহরণস্বরূপ:
একজন শিক্ষক, যিনি সাধারণ জীবনযাপন করেন, কিন্তু ছাত্রদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন, তিনি সমাজের জন্য একজন ধনী বা সুদর্শন ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান হতে পারেন।
ব্যক্তিগত জীবনে প্রবাদের প্রয়োগ:-
এই প্রবাদটি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা যখন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ি— তা বন্ধুত্ব, প্রেম, বা পেশাগত সম্পর্কই হোক— তখন এই দর্শন আমাদের সঠিক পথ দেখায়। কাউকে শুধুমাত্র তার চেহারা বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পছন্দ বা অপছন্দ করা আমাদের ভুল সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ:
একজন ব্যক্তি যিনি দেখতে খুব আকর্ষণীয় নন, কিন্তু তিনি সৎ, দায়িত্বশীল এবং সহানুভূতিশীল, তিনি একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী বা বন্ধু হতে পারেন। অপরদিকে, কেউ যদি শুধুমাত্র চেহারার জন্য বেছে নেওয়া হয়, তবে তার চরিত্র বা মূল্যবোধের অভাব সম্পর্কটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এই প্রবাদ আমাদের শেখায় যে, সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে গুণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
প্রবাদের শিক্ষা ও আধুনিক প্রেক্ষাপট:-
আধুনিক যুগে, যেখানে প্রযুক্তি এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবে মানুষের চেহারা এবং উপস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়, এই প্রবাদটি আমাদের সঠিক পথ দেখায়।
সামাজিক মাধ্যমে আমরা প্রায়ই ফিল্টার করা ছবি, সম্পাদিত ভিডিও, এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনা দেখি, যা মানুষের প্রকৃত চরিত্র বা গুণকে প্রতিফলিত নাও করতে পারে।
এই প্রবাদ আমাদের সতর্ক করে যে, এই বাহ্যিক চাকচিক্যের পেছনে ছুটে না গিয়ে আমাদের মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
এছাড়া, এই প্রবাদ আমাদের নিজেদের বিকাশের ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণা দেয়। এটি আমাদের উৎসাহিত করে যে, আমরা যেন আমাদের চেহারার চেয়ে আমাদের জ্ঞান, দক্ষতা, এবং চরিত্রের উন্নতির দিকে বেশি মনোযোগ দিই। নিজের গুণাবলী বিকাশের মাধ্যমে আমরা সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারি এবং অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারি।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে প্রবাদের উপস্থিতি:-
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এই প্রবাদের মতো দর্শন বারবার প্রকাশ পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এবং অন্যান্য কবি-সাহিত্যিকরা তাদের লেখনীতে মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
উদাহরণস্বরূপ:
রবীন্দ্রনাথের অনেক কবিতা ও গল্পে আমরা দেখি যে, তিনি চরিত্রের গভীরতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া, বাংলা লোকগীতি ও প্রবাদে এই ধরনের দর্শন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়ে এসেছে।
উপসংহার:-
“মানুষকে বিচার করুন গুণে, রূপে নয়”— এই প্রবাদটি শুধু একটি উক্তি নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। এটি আমাদের শেখায় যে, মানুষের প্রকৃত মূল্য তার বাহ্যিক চেহারায় নয়, বরং তার অভ্যন্তরীণ গুণাবলীতে।
এই দর্শন আমাদের সমাজে সমতা, ন্যায়বিচার, এবং সহানুভূতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। আমরা যদি এই প্রবাদের শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করি, তবে আমরা আরও সুন্দর, সহনশীল, এবং মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। তাই আসুন, আমরা মানুষকে তাদের গুণের মাধ্যমে বিচার করি এবং নিজেদের গুণাবলী বিকাশে মনোযোগ দিই।-সংগৃহীত।
৪৬
অবহেলা মানেই বিপদ।
মানুষ যতই অভিজ্ঞ হোক, রাস্তাঘাটের বিপদ কখনো একেবারে এড়িয়ে চলা যায় না। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় ঘটনা মনে করিয়ে দেয়— অবহেলা মানেই বিপদ।
তাই জীবনে বুদ্ধি ও সতর্কতাই আমাদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে যে বিষয়গুলো মেনে চললে হয়তো এক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব, সেগুলি হলো-
১। বাস বা ট্রেনে জানালার পাশে মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুনঃ
ভিড়ের শহরে চলাফেরা মানেই অসংখ্য অপরিচিত মানুষের ভিড়। জানালার পাশে বসে যদি মোবাইল হাতে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, মুহূর্তের মধ্যে সেটি আপনার হাত থেকে চলে যেতে পারে। বাইরে থেকে কেউ টান মেরে নিয়ে যাবে, আর আপনি বুঝতেই পারবেন না।
২। অচেনা লোকের থেকে খাবার বা পানীয় খাবেন নাঃ
দূরপাল্লার যাত্রায় সাথে শুকনো খাবার রাখুন। পাশের যাত্রী যতই ভদ্র মনে হোক, তার দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না। অনেক ছি'ন'তা'ই'কা'রী ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে যাত্রীকে অচেতন করে সর্বস্ব লু'ট করে নেয়।
৩। বান্ধবী বা স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে গেলে বাড়তি সতর্ক থাকুনঃ
অনেক সময় কিছু ছেলে ইচ্ছে করেই উ'ত্য'ক্ত করবে। তারা ঝগড়ায় জড়াতে চায়, পরে কোনো ভুয়া নেতা এনে আপনাকে ফাঁসাবে। ফল— আপনার মানসম্মানও যাবে, সাথে টাকাও। তাই অযথা উত্তেজিত হবেন না, বরং পরিস্থিতি এড়িয়ে যান।
৪। ট্রেনে দরজার কাছে দাঁড়াবেন নাঃ
সি'গা'রে ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকাটা হয়তো রোমান্টিক মনে হতে পারে, কিন্তু ছি'ন'তা'ই'কা'রী দল সবচেয়ে বেশি সুযোগ নেয় এই জায়গাতেই। অনেকের জীবন শেষ হয়েছে দরজা বা ছাদে দাঁড়িয়ে। মনে রাখবেন, তারা অত্যন্ত নি'র্ম'ম।
৫। নতুন বিবাহিত হলে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ছবি রাখুনঃ
অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রমাণ হাতের কাছে থাকলে বিপদ কমবে।
৬। রিকশায় বসে কোলে ব্যাগ রাখবেন নাঃ
এটা শহরের সবচেয়ে সাধারণ ছি'ন'তা'ই কৌশল। পাশ থেকে মোটরসাইকেলে থাকা কেউ ব্যাগ টেনে নিয়ে গেল, রিকশাচালকও কিছু করতে পারবে না। ব্যাগ কাঁধে বা বুকের কাছে ধরে রাখুন।
৭। আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখুনঃ
দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় অ'জ্ঞা'ন হয়ে গেলে উদ্ধারকারীরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে।
৮। কুলি ভাড়া আগে ঠিক করুনঃ
স্টেশন বা ঘাটে বোঝা নামানোর সময় অনেকেই সুযোগ নেয়। দরদাম ঠিক না করলে কয়েকশো টাকা বাড়তি দিতে হতে পারে।
৯। মার্কেট বা ভিড় এলাকায় কেনাকাটায় ধৈর্য ধরুনঃ
একবার দাম জিজ্ঞেস করলে দোকানদাররা আপনাকে জোরাজুরি করবে। তর্ক করলে তারা দল বেঁধে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঠান্ডা মাথায়, দরদাম বুঝে কেনাকাটা করুন।
১০। পকেটমার থেকে সাবধানঃ
বাসে ভিড়ের সময় পেছনের পকেটে ফোন বা মানিব্যাগ রাখবেন না। সামনের পকেট বা সেফ ব্যাগ ব্যবহার করুন।
১১। পার্ক বা মেলায় খাবার কিনে খাওয়ার আগে দাম জেনে নিনঃ
অনেক সময় খাবারের দাম অতিরিক্ত ধরে বসে। একটি সিঙ্গারা খেয়ে কয়েকশ টাকা দিতে হতে পারে।
১২। রাতে অকারণে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুনঃ
ছি'ন'তা'ই'কা'রী তো আছেই, কিছু অসাধু পুলিশও (সবার কথা নয়) সুযোগ নিতে পারে। নির্দোষ হলেও তারা আপনাকে ফাঁসাতে পারে।
১৩। অপরিচিত গাড়িতে উঠবেন নাঃ
কোনো মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার যদি অল্প ভাড়ায় নামিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, এড়িয়ে যান। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা বি'প'জ্জ'ন'ক।
১৪। ফোন চাইলে অপরিচিতকে দেবেন নাঃ
ভদ্রবেশী হলেও কেউ যদি ফোন চাই, সাবধান। মুহূর্তে বাইকে উঠে পালিয়ে যাবে।
১৫। ছি'ন'তা'ই হলে জীবন আগে, জিনিস পরেঃ
মোবাইল বা মানিব্যাগ হারালে কষ্ট লাগবে, কিন্তু জীবন গেলে কিছুই আর ফিরবে না। ছি'ন'তা'ই'কা'রী'রা অনেক সময় মাদকাসক্ত থাকে। তাই বিরোধিতা না করে যা আছে দিয়ে দিন।
মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান হলো আপনার জীবন। এক মুহূর্তের অসতর্কতায় যে ক্ষতি হতে পারে, তা আর কোনো কিছু দিয়ে পূরণ হবে না। তাই চোখ-কান খোলা রাখুন, ভ্রমণে বের হওয়ার আগে দোয়া পড়ে বের হন, আর সবসময় সচেতন থাকুন।
নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন। আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতেই।-সংগৃহীত।
৪৭
এক্স-রে, সিটি এবং এমআরআই এর মধ্যে পার্থক্য কি জানেন?
এক্স-রে:
দ্রুত এবং সাধারণ ছবি
সবচেয়ে সস্তা এবং সবচেয়ে বিখ্যাত চেক
ফ্র্যাকচার, নিউমোনিয়া এবং কিছু টিউমার শনাক্ত করার জন্য চমৎকার
একটি হালকা বিকিরণ অনুপাত রয়েছে নিয়মিত চেক-আপের জন্য উপযুক্ত।
সিটি-স্ক্যান:
সাধারণ বিমের চেয়ে আরো সঠিক এবং ব্যাপক
এটা ৩৬০° কোণ থেকে শরীরের ছবি তোলে এবং একটি 3D ছবি দেয়
অঙ্গ, টিস্যু এবং হাড়ের সমস্যা শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়
বিক্রিকরণের শতাংশ এক্স-রে থেকে বেশি জটিল বা জরুরী পরিস্থিতিতে প্রায়ই অনুরোধ করা হয়।
এমআরআই :
সর্বোচ্চ নির্ভুলতা, বিশেষ করে মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড এবং পেশীতে
কখনো বিকিরণ নয় (চুম্বক এবং রেডিও ঢেউয়ের সাথে কাজ করে)
এটা সময় নেয়, এবং সামান্য খরচ হয়
স্নায়ু এবং নরম টিস্যু জন্য আদর্শ
যাদের শরীরে ধাতব যন্ত্র লাগানো আছে তাদের জন্য হারাম (যেমন পেসমেকার)।
পিইটি-স্ক্যান:
একটি সাধারণ তেজস্ক্রিয় পদার্থের সাথে ইনজেক্ট করা হয়েছে
ক্যান্সার সনাক্ত এবং ছড়াতে ব্যবহৃত
কোষের কার্যকলাপ পরিমাপ করে এবং শরীর কতটা চিকিৎসায় সাড়া দেয়
কেমোথেরাপি বা বিকিরণ এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য খুব দরকারী
দ্রুত সারসংক্ষেপ:
এক্স-রে = দ্রুত এবং প্রাকৃতিক
সিটি = আরো সঠিক, পূর্ণ, কিন্তু আরো বিকিরণ আছে
এমআরআই = কোন বিকিরণ এবং সর্বোচ্চ টিস্যু নির্ভুলতা নেই
পিইটি = ক্যান্সার এবং কোষের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ-সংগৃহীত।
৪৮
পায়ের মাংসপেশীকে "দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড" বলা হয় কেন?
পায়ের মাংসপেশীকে "দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড" বলা হয় কারণ তারা শরীরের রক্ত সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরের নিম্নভাগ থেকে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনবিহীন রক্ত পাম্প করতে সাহায্য করে।
পায়ের পেশী সংকুচিত হওয়ার সাথে সাথে শিরাস্থ ভালভগুলি খোলে এবং বন্ধ হয়ে, রক্তের পশ্চাদমুখী প্রবাহ রোধ করে, যা হৃদপিণ্ডে রক্ত ফেরাতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ভেইন কেয়ার।
পায়ের মাংসপেশীকে "দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড" বলার কারণগুলি হল—
রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা:
পায়ের মাংসপেশীগুলি সংকুচিত হওয়ার সময়, তারা শিরাগুলির মধ্য দিয়ে রক্তকে হৃদপিণ্ডে পাম্প করতে সাহায্য করে। এটি শরীরের নিম্নাংশ থেকে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রত্যাগমনে সহায়তা করে।
ভালভগুলির ভূমিকা:
পায়ের শিরাগুলিতে ভালভ থাকে যা রক্তের একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করে। যখন পায়ের মাংসপেশী সংকুচিত হয়, তখন এই ভালভগুলি খুলে যায় এবং রক্ত হৃদপিণ্ডের দিকে প্রবাহিত হয়। যখন মাংসপেশী শিথিল হয়, তখন ভালভগুলি বন্ধ হয়ে যায়, যা রক্তের বিপরীত দিকে যাওয়া রোধ করে according to some health articles.
অক্সিজেনবিহীন রক্ত সঞ্চালন:
শরীরের নিম্নাংশ থেকে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেনবিহীন রক্ত প্রবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে পায়ের মাংসপেশী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই কারণে, পায়ের মাংসপেশীকে শরীরের দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা রক্ত সঞ্চালনে একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে according to some health professionals.-সংগৃহীত।
৪৯
থাই পাঙাশের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা
বাংলাদেশে থাই পাঙাশের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা আসে ১৯৯৩ সালে। পরে এই পাঙাশ দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়।
কিন্তু এই জায়গা দখলে নিতে পারত দেশের নদ-নদীতে পাওয়া সুস্বাদু দেশি প্রজাতির পাঙাশ। কেননা, দেশি পাঙাশের কৃত্রিম প্রজননও সফল হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি আর আলোর মুখ দেখেনি।
কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশি পাঙাশকে সাধারণের জন্য সহজলভ্য করার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন সে সময়কার তরুণ মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান।
১৯৮৮ সালে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁদপুরের নদী কেন্দ্রে যোগ দেন তিনি। যোগদানের বছরই দেশি পাঙাশের কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ কৌশল প্রণয়নের দায়িত্ব পড়ে তাঁর ওপর।
দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিশ্রমে ২০০৪ সালের জুনে দেশি পাঙাশের প্রজনন ঘটিয়ে পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়। কিন্তু চার মাসের মাথায় এই পোনা পুকুর থেকে ‘রহস্যজনকভাবে’ চুরি হয়ে যায়।
এরপর এই উদ্যোগ আর সফল হয়নি। এ জন্য কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও গবেষণার ধারাবাহিকতা রক্ষা না করাকে দায়ী করেন ড. মোঃ খলিলুর রহমান।
অন্যদিকে, ১৯৯০ সালে থাইল্যান্ড থেকে আনা পাঙাশের পোনার কৃত্রিম প্রজননের দায়িত্বও খলিলুর রহমানকে দেওয়া হয়।
তিন বছরের মধ্যে সে কাজে সফল হন তিনি। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৩ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় পদক পান।
-সংগৃহীত।
৫০
২০টি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো, যা ব্যক্তি জীবনে, পেশাগত জীবনে এবং সমাজে আপনার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে:
১। কাজের দক্ষতা বাড়ান– যে কাজে আপনি আছেন বা করতে চান, সেটায় এক্সপার্ট হন।
২। নতুন কিছু শিখুন– নিয়মিত নতুন স্কিল, টেকনোলজি, ভাষা বা জ্ঞান অর্জন করুন।
৩। সময়ের মূল্য দিন– সময়কে গুরুত্ব দিলে অন্যরাও আপনাকে গুরুত্ব দেবে।
৪। কথা বলার ধরন উন্নত করুন– পরিষ্কার, আত্মবিশ্বাসী ও সম্মানজনকভাবে কথা বলুন।
৫। আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন– নিজের উপর বিশ্বাস রাখলে অন্যরাও বিশ্বাস করে।
৬। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন– রাগ, লোভ, ভয় ইত্যাদির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন।
৭। বই পড়ার অভ্যাস গড়ুন– জ্ঞানের ভাণ্ডার বাড়িয়ে আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।
৮। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন– সুস্থ দেহ মানেই ভালো মন ও ইতিবাচক প্রভাব।
৯। পজিটিভ থাকুন– নেতিবাচক না হয়ে সবসময় সমাধানমুখী হন।
১০। ভালো শোনার অভ্যাস গড়ুন– সবাই শুনতে চায়, কিন্তু শুনতে শিখলে আপনি আলাদা হবেন।
১১। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন– যা বলেন, সেটা পালন করুন।
১২। দায়িত্ব নিন– সমস্যা এড়াবেন না, বরং সমাধানে অংশ নিন।
১৩। নিজেকে সাজিয়ে রাখুন– পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উপযুক্ত পোশাকে নিজেকে উপস্থাপন করুন।
১৪। পরিশ্রমী হোন– অলসতা ভ্যালু কমায়, কঠোর পরিশ্রম ভ্যালু বাড়ায়।
১৫। নির্ভরযোগ্য হোন– আপনার উপর যেন অন্যরা ভরসা করতে পারে।
১৬। ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি করুন– ভালো মানুষদের সাথে যুক্ত থাকলে নিজেও ভালো হবেন।
১৭। মানসিক উন্নয়ন করুন– ধৈর্য, সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা চর্চা করুন।
১৮৷ ব্যর্থতা থেকে শিখুন– ভুল করলে নিজেকে দোষ না দিয়ে শিক্ষা নিন।
১৯। উদাহরণ সৃষ্টি করুন– নিজের আচরণে এমন কিছু করুন যাতে অন্যরা আপনাকে অনুসরণ করে।
২০। আল্লাহর ভয় ও পরকালের চিন্তা রাখুন– নৈতিকতা বজায় রেখে চললে সম্মান বাড়ে।-সংগৃহীত।