১
ভারতবর্ষের জনজাতি
মানুষের উদ্ভব আফ্রিকাতে। তারা আফ্রিকাতেই কয়েক লক্ষ বছর থেকেছে। তারপর আজ থেকে ৭০-৭২ হাজার বছর আগে খাদ্যের অন্বেষণে একদল মানুষ শুষ্ক শীতল পূর্ব-আফ্রিকা ছেড়ে শুরু করে প্রব্রজন। সেই ছোট্ট গোষ্ঠীর সন্ততিরাই আজ আফ্রিকার বাইরের সমস্ত মানুষের পূর্বজ। আফ্রিকা থেকে বহির্গত সেই জনগোষ্ঠী ভারতবর্ষে প্রথম পদার্পণ করে অন্তত ৬৫ হাজার বছর আগে। তারা ছিল শিকারি ও সংগ্রাহক। দীর্ঘদিন ওই শিকারি-সংগ্রাহকরা ভারতবর্ষে নিরঙ্কুশভাবে থেকেছে। তারাই আদি ভারতীয়। আমরা এদের বলব ‘আন্দামানি শিকারি-সংগ্রাহক’ জনগোষ্ঠী। আজকের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসী ওঙ্গে, সেন্টিনেলিজ, জারোয়ারা ওই প্রাচীনতম জনগোষ্ঠীর নিকটতম প্রতিনিধি। এমনকী আজকের সমগ্র ভারতবর্ষের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ মাতৃক্রমের দিক দিয়ে সেই আফ্রিকা-আগত মায়ের সরাসরি বংশধর। অর্থাৎ ওই সময়ে যে নারীরা সোজাসুজি এদেশে এসেছিলেন আজকের ভারতবর্ষের অধিকাংশ নরনারী মাতৃক্রমে সরাসরি তাদের উত্তরসূরি।
এর পরেও এই দেশে আরও কিছু পরিযান হয়েছে। তারা পূর্বোক্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে গেছে। সেন্ট্রাল স্তেপভূমির ‘ইন্দো-ইউরোপীয়’ জনগোষ্ঠী: এই জনগোষ্ঠী ছিল অর্ধ-যাযাবর পশুপালক। স্তেপভূমি থেকে এরা শুরু করে দ্বিতীয় পরিযান; সিন্ধু নদের তীরে তারা বসবাস শুরু করে। তারা ছিল ‘প্রাচীন ইরানীয় শিকারি-সংগ্রাহক’। । এদের ভাষা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর বৈদিক সংস্কৃত। ভারতের ‘আন্দামানি শিকারি-সংগ্রাহক’ অধিবাসীদের সঙ্গে এদের কিছু মিশ্রণ হয়েছে ৮-৬ হাজার বছর আগে। আনুমানিক ৪.৬ হাজার বছর আগে এই মিশ্র জনগোষ্ঠী শুরু করেছিল হরপ্পীয় সভ্যতা। এরপর প্রায় ৪ হাজার বছর আগে, মধ্য-এশিয়ার স্তেপ অঞ্চল থেকে দলে দলে ইন্দো-ইউরোপীয় পশুপালকরা প্রবেশ করে উত্তর ভারতে, বর্তমানের পাঞ্জাব- লাহোর এই স্থানে।
হরপ্পীয় সভ্যতার মানুষ তখন দেশের দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে পড়েছে; যত দক্ষিণে যাচ্ছে তত মিশ্রিত হচ্ছে প্রাচীন ভারতীয় অধিবাসীদের সঙ্গে। এই মিশ্রিত মানুষ তৈরি করেছে ‘প্রাচীন দক্ষিণ ভারতের মিশ্র জাতি’। প্রায় একই সময়ে উত্তরে, হরপ্পীয় মানুষ স্তেপের পশুপালকদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এই মিশ্রিত মানুষ তৈরি করেছে ‘প্রাচীন উত্তর ভারতের মিশ্র জাতি’। কয়েক হাজার বছর ধরে জনগোষ্ঠীগুলোর এই যে মিশ্রণ চলেছিল, তার মূল চালিকাশক্তি প্রাথমিকভাবে ছিল আগত গোষ্ঠীগুলোতে নারীর অভাব।
ভারতে চারটি মূল ভাষা-পরিবার হল ইন্দো-ইউরোপীয়, দ্রাবিড়, অস্ট্রো–এশিয়াটিক এবং তিব্বতি-বর্মী ভাষা-পরিবার।
অস্ট্রো–এশিয়াটিক জনজাতি
পূর্ব ও মধ্য ভারতের বাইরে ভারতবর্ষের অন্যত্র অস্ট্রো-এশিয়াটিকদের বিশেষ দেখা যায় না। এরা কথা বলেন অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষা-পরিবারের বিভিন্ন ভাষায়। মুণ্ডা, বিরহোর, সাঁওতাল ইত্যাদি হল অস্ট্রো-এশিয়াটিকভাষী জনজাতি গোষ্ঠী।
অস্ট্রো-এশিয়াটিক মুণ্ডাদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের পুরুষদের দুই-তৃতীয়াংশ বহন করে 'O2a1’। এই 'O2a1’ সবচাইতে বেশি পাওয়া যায় দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়াতে। সম্ভবত লাওস থেকে তারা এদেশে প্রবেশ করেছে। বেনারস বিশ্বদ্যালয়ের প্রফেসর জ্ঞানেশ্বর চৌবে ও তার সহকর্মীবৃন্দ মুণ্ডা, খাসি এবং মনিপুর ও বাংলদেশের তিব্বতি-বর্মীদের থেকে বিস্তারিতভাবে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, একসময়ে অস্ট্রো-এশিয়াটিক ও তিব্বতি-বর্মীভাষীরা একত্রিত জনগোষ্ঠী ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে তারা ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। ৭ - ৫ হাজার বছর আগে বিভিন্ন দলে তারা ভারতে প্রবেশ করেছে। আজকে অস্ট্রো-এশিয়াটিকদের ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ’ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা মাতৃক্রমের দিক দিয়ে ভারতীয় ‘আন্দামানি শিকারি-সংগ্রাহক’দের থেকে উদ্ভূত। মুণ্ডা নারীদের ‘মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ’ প্রায় ১০০ শতাংশ দক্ষিণ এশীয় ‘আন্দামানি শিকারি-সংগ্রাহক’ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার পিতৃক্রমের বিচারে তাদের পুরুষদের প্রায় ৬৫ শতাংশ ৭৭ শতাংশ ওয়াই-ক্রোমসোম ডিএনএ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সঙ্গে অভিন্ন। তাদের পুরুষদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ডিএনএর প্রাচুর্য্য প্রমাণ করে যে, অস্ট্রো-এশিয়াটিক পুরুষেরা এসেছে ভারতের উত্তর-পূর্ব দিক থেকে। তবে মুণ্ডাদের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাতৃক্রমের হ্যাপ্লোগ্রুপের সর্বাত্মক অনুপস্থিতি থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে যে, তারা ভারতে এসেছিল পুরুষপ্রধান দল হিসাবে।
তিব্বতি-বর্মী জনজাতি
উত্তর-পূর্ব ভারতে ও বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্তে কিছু আদিবাসীগোষ্ঠী আছে যারা বিভিন্ন তিব্বতি-বর্মী ভাষাতে কথা বলেন। যেমন, ত্রিপুরার ত্রিপুরী, জামাতিয়া, উত্তর-পূর্ব ভারতের নাগা, মণিপুরি বা মেইতেই, মিজো, আরাকানী, বাংলাদেশের চাকমা, মারমা এই শ্রেণীভুক্ত। প্রায় ০.৭ শতাংশ ভারতীয় তিব্বতি-বর্মী ভাষা-পরিবারের অন্তর্গত বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ২.৫ - ১ হাজার বছর আগে পর্যন্ত বিভিন্ন দলে তারা এদেশে প্রবেশ করেছে। তারা কখনও ভারতীয় উপমহাদেশের কেন্দ্রভূমিতে প্রবেশ করেনি। সম্ভবত তাদের সংখ্যা ছিল কম।
২.৬ হাজার বছর আগে তিব্বত-বর্মী জনগোষ্ঠী উত্তর-পশ্চিম চীন থেকে দক্ষিণ দিকে পরিযান শুরু করে। একসময়ে এই দুই ভিন্ন জনগোষ্ঠী দক্ষিণ চীনে একই অঞ্চলে থাকত; পরবর্তীকালে তারা আবার পৃথক হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাগিতিহাস - ভারতবর্ষে পরিযান ও জাতিগোষ্ঠী গঠন, গাঙচিল , ২০২৩, তৃতীয় সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ।
• Gyaneshwer Chaubey et al., “Population Genetic Structure in Indian Austroasiatic Speakers: The Role of Landscape Barriers and Sex-Specific Admixture,” Molecular Biology and Evolution, 28(2), (2011):1013–1024.
• Nurun Nahar Gazi et al., “Genetic Structure of Tibeto-Burman Populations of Bangladesh: Evaluating the Gene Flow along the Sides of Bay-of-Bengal,” PlosOne, (2013).
.• Analabha Basu et al., “Genomic reconstruction of the history of extant populations of India reveals five distinct ancestral components and a complex structure,” PNAS, 113(6), February 9, (2016):1594-1599.
২
যারা বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সাধারণ পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকে।
নিউরোলজিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, যখন একজন পুরুষ কেবল টিকে থাকার জন্য লড়াই করে (Survival), তখন তার মস্তিষ্ক সবসময় Amgydala-Driven State -এ থাকে। এটি ভয় এবং উদ্বেগের কেন্দ্র। এই অবস্থায় শরীর ক্রমাগত Cortisol নিঃসরণ করে, যা আপনার সৃজনশীলতা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাকে ব্লক করে দেয়। এটি আপনাকে কেবল 'নিরাপদ' থাকতে শেখায়।
অন্যদিকে, যখন আপনি একটি বড় লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন (Conquer), তখন আপনার মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex এবং Dopaminergic System সক্রিয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বড় লক্ষ্য বা 'Higher Purpose নিয়ে কাজ করে, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা সাধারণ পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকে। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান বলে, পুরুষের আদিম মস্তিষ্ক ডিজাইন করা হয়েছে নতুন এলাকা জয় করার জন্য, কোনো প্রতিকূলতাকে দমন করার জন্য। আপনি যখন এই প্রবৃত্তিটিকে দমন করে কেবল “সেফ” থাকতে চান, তখন আপনি মানসিকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
কেন অধিকাংশ পুরুষ সারভাইভাল মোডে আটকে থাকে?
১. কমফোর্ট জোন : আধুনিক পুঁজিবাদ আপনাকে সস্তা খাবার, সস্তা বিনোদন আর আরামদায়ক সোফা দিয়ে এক ধরণের মিথ্যা-নিরাপত্তা দিয়েছে। এই আরাম আপনার ভেতরের সেই ক্ষুধাকে মেরে ফেলেছে যা আপনাকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাত।
২. ভয়ের সংস্কৃতি: সমাজ আমাদের শিখিয়েছে—বেশি ঝুঁকি নিও না, সবাই যা করছে তাই করো। এই গড্ডলিকা প্রবাহে মিশে গিয়ে আপনি আপনার অনন্য ম্যাসকুলিন এনার্জি হারিয়ে ফেলছেন।
৩. লক্ষ্যহীনতা (Lack of Purpose): লক্ষ্যহীন পুরুষ হলো এমন এক জাহাজ যার কোনো কম্পাস নেই। সে সাগরে ভাসে ঠিকই, কিন্তু কোনো তীরে পৌঁছাতে পারে না।
জয় করার (Conquer) মানসিকতা অর্জনের উপায়
গবেষণায় দেখা গেছে, Mindsetএবং Extreme Ownership-এর সংমিশ্রণই হলো জয়ের মূল চাবিকাঠি। আপনাকে বুঝতে হবে যে, পরাজয় মানেই শেষ নয়, বরং এটি জয়ের একটি ধাপ।
১. লক্ষ্য স্থির করুন: এমন একটি লক্ষ্য যা আপনাকে বিছানা থেকে টেনে তুলবে।
২. শারীরিক সক্ষমতা: একজন দুর্বল শরীর নিয়ে বড় কিছু জয় করা অসম্ভব। আপনার শারীরিক শক্তিই আপনার মানসিক দৃঢ়তার ভিত্তি।
৩. মানসিক কঠোরতা: সমালোচনা এবং ব্যর্থতাকে গায়ের চামড়া দিয়ে নয়, বরং বর্ম দিয়ে মোকাবিলা করতে শিখুন।
@ Ankur
৩
নেতিবাচক মনোভাবের মানুষদের আশেপাশে থাকা আপনার মেজাজ, চিন্তাভাবনা এবং সামগ্রিক মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আবেগীয় সংক্রমণ নামে পরিচিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আবেগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর অর্থ হলো, নেতিবাচক মনোভাবের মানুষদের আশেপাশে থাকা আপনার মেজাজ, চিন্তাভাবনা এবং সামগ্রিক মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানুষ প্রায়শই অজান্তেই স্বাভাবিকভাবেই তাদের চারপাশের মানুষের আবেগকে অনুকরণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে নেতিবাচকতার সংস্পর্শে থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং এমনকি আচরণেও পরিবর্তন আসতে পারে।
যদিও নেতিবাচকতা "ভাইরাসের মতো" ছড়িয়ে পড়ার ধারণাটি রূপক, এর প্রভাব খুবই বাস্তব হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে সামাজিক পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ক্রমাগত নেতিবাচক মনোভাবের সংস্পর্শে থাকা সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ইতিবাচক পরিবেশ এর বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে, যা অনুপ্রেরণা, সহনশীলতা এবং আবেগীয় স্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করে। নিজেকে সহায়ক এবং আশাবাদী মানুষদের দ্বারা পরিবেষ্টিত রাখলে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
আবেগীয় প্রভাব বোঝা স্বাস্থ্যকর সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং সীমানার গুরুত্ব তুলে ধরে। আপনার পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করা আবেগীয় ভারসাম্য এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
Hedonic Adaptation, এটা হচ্ছে এমন এক অবস্থা: যেটা আপনি খুব করে চান, সেটা পাওয়ার পর কিছুদিন ভালো লাগবে। তারপর আপনার মস্তিষ্ক সেটাকে Normal বানিয়ে ফেলবে। এরপর আপনি আবার নতুন কিছু চাইবেন। অর্থাৎ, আপনি নতুন ফোন চান। ফোন পেলেন। এক মাস যেতে না যেতেই ফোনটা আর Exciting লাগে না, এখন আবার আপনি নতুন Model চান।
আপনি ভাবলেন, একটা Relationship হলেই আমি Complete. Relationship এও জড়ালেন। তিন মাস যেতে না যেতেই আপনি তার মেসেজ সিন করা বন্ধ করে দিলেন। যদিও দোষটা আপনার না। মস্তিষ্ক Literally এমন Behave করে যেন সে কোনোদিনই Satisfied হতে চায় না। সে সবসময় বলে: না না, সুখটা ওটার মধ্যে না। সুখটা Next Level এ আছে। কী সুন্দর Life S'cam! একদিকে আপনি কিছু চান। না পেলে কষ্টও পান, পেয়ে গেলে বিরক্তি। এই কারণেই কিছু মানুষ সব কিছু পেয়েও Unhappy থাকে।
বড় বাড়ি আছে, কিন্তু শান্তি নেই। ভালোবাসার মানুষ আছে, কিন্তু Connection নেই। অনেক Follower আছে, কিন্তু কাউকে Phone দেওয়ার মতো মানুষ নেই। শহর বদলেছে। ফোন বদলেছে। মানুষ বদলেছে। কিন্তু আপনার চিন্তা, ভয়, insecurity সব আগের মতোই আছে।
সত্যিকারের আনন্দ কোথায় জানেন.?
শান্ত ভাবে বসে এক কাপ চা খাওয়া। কাছের মানুষদের সাথে Genuinely হাসতে পারা। যা আছে, সেটা Enjoy করতে শেখা, অথচ আপনি যে মানুষটাকে একসময় পেতে চেয়েছিলেন, আজ তাকে ignore করছেন। আপনি যে জীবনটার জন্য একসময় প্রার্থনা করেছিলেন, আজ সেটাকেই Boring বলছেন।
তাই মাঝেমধ্যে আমাদের একটু থেমে যাওয়া উচিত, এবং নিজের সাথে নিজের কথা বলা উচিত.! অথবা নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত.! আমি সত্যিই আরেকটা নতুন জিনিস চাই, নাকি আমি শুধু নিজের ভেতরের Emptiness থেকে পালাচ্ছি? কারণ যদি হয় দ্বিতীয়টা, তাহলে দুঃখিত। নতুন Phone, নতুন Relationship, নতুন শহর কিছুই আপনাকে Satisfied করতে পারবে না। @ Jahid Hasan
৪
স্লাভ জাতি: পূর্ব ইউরোপের বিশাল এক জাতি-গোষ্ঠীর পরিচয় ও ইতিহাস
ইউরোপের মানচিত্রের দিকে তাকালে একটি বিশাল অংশ জুড়ে এমন এক গোষ্ঠীর মানুষের দেখা পাওয়া যায়, যাদের ভাষা এবং সংস্কৃতিতে এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। এরা হলো স্লাভ (Slavs)। বর্তমানে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই স্লাভিক বংশোদ্ভূত।
১. স্লাভ কারা?
স্লাভরা হলো একটি ইন্দো-ইউরোপীয় নৃতাত্ত্বিক এবং ভাষাগত গোষ্ঠী। এরা মূলত মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের আদি অধিবাসী। যদিও বর্তমানে এরা ধর্ম বা রাজনীতির ভিত্তিতে বিভক্ত, কিন্তু ভাষাগত কাঠামো এবং হাজার বছরের পুরনো লোকজ সংস্কৃতি এদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
২. ভৌগোলিক অবস্থান ও দেশসমূহ:
স্লাভদের মূলত তিনটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়, যা তাদের বর্তমান আবাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত:
প্রধান দেশসমূহ:
পূর্ব স্লাভ: রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ।
পশ্চিম স্লাভ: পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া।
দক্ষিণ স্লাভ: সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, স্লোভেনিয়া, মন্টিনিগ্রো, উত্তর মাকেদোনিয়া (ম্যাসিডোনিয়া)।
৩. ইতিহাস ও আদি নিবাস:
স্লাভদের আদি নিবাস বা 'Urheimat' নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। তবে অধিকাংশের মতে, বর্তমান পোল্যান্ড, বেলারুশ এবং উত্তর-পশ্চিম ইউক্রেনের প্রিপিয়াত জলাভূমি (Pripet Marshes) অঞ্চলে তাদের আদি বসতি ছিল।
বিশাল পরিযান (Migration): খ্রিস্টীয় ৫ম ও ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে জার্মানিক উপজাতিরা পশ্চিম দিকে চলে গেলে স্লাভরা পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের শূন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
মধ্যযুগ: ৯ম শতাব্দীর দিকে 'কিভান রুস' (Kievan Rus') নামক শক্তিশালী এক স্লাভ রাষ্ট্র গঠিত হয়, যা বর্তমান রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।
৪. স্লাভিক ভাষাসমূহ:
স্লাভিক ভাষাগুলো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
লিখন পদ্ধতি: স্লাভিক ভাষাগুলোর জন্য মূলত দুটি লিপি ব্যবহৃত হয়। যারা অর্থোডক্স চার্চের অনুসারী (যেমন: রুশ, সার্বিয়ান) তারা সিরিলিক (Cyrillic) লিপি ব্যবহার করে। অন্যদিকে, যারা ক্যাথলিক অনুসারী (যেমন: পোলিশ, চেক) তারা ল্যাটিন লিপি ব্যবহার করে।
ভাষাগত মিল: একজন পোলিশ এবং একজন চেক নাগরিক আলাদা ভাষায় কথা বললেও তারা একে অপরের কথা অনেকাংশেই বুঝতে পারেন।
৫. ধর্ম ও সংস্কৃতি:
ধর্মীয়ভাবে স্লাভরা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। পূর্ব ও দক্ষিণ স্লাভদের অধিকাংশই ইস্টার্ন অর্থোডক্স খ্রিস্টান। অন্যদিকে পশ্চিম স্লাভরা ঐতিহাসিকভাবে রোমান ক্যাথলিক। এছাড়া বলকান অঞ্চলের কিছু স্লাভ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বসনিয়াকরা মুসলিম; এছাড়া মাকেদোনিয়ান ও বুলগারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম রয়েছে।
তাদের সংস্কৃতিতে লোকসংগীত, রঙিন কারুকাজ করা পোশাক এবং শীতকালীন উৎসবগুলোর এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
স্লাভরা কেবল ইউরোপের একটি বড় জনগোষ্ঠীই নয়, বরং তারা বিশ্ব রাজনীতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞানেও বিশাল অবদান রেখেছে। তলস্তয় বা দস্তয়েভস্কির সাহিত্য থেকে শুরু করে আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান—সবক্ষেত্রেই স্লাভিক প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট। ফুটবলেও স্লাভিক দেশগুলো ভাল অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রতি বিশ্বকাপে কয়েকটি দল সুযোগ করে নেয়। লেওয়ানডস্কি, ডেভর সুকর, লুকা মডরিচ, শেভচেঙ্কো, স্টচকভ সেরা কয়েকজন স্লাভ ফুটবলার। ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা যাই হোক না কেন, তাদের অভিন্ন ইতিহাস আজও তাদের পরিচয়কে শক্তিশালী করে রেখেছে। -@ বইকাল
৫
চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন
পুষ্টি বিজ্ঞানের ভাষায় চা বা কফিতে থাকা ক্যাফেইন মূলত এক ধরনের 'মাইল্ড ডাইইউরেটিক' (Mild Diuretic) হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি প্রস্রাবের মাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে বেশ কিছু দরকারি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বেরিয়ে যায়। তবে এর চেয়েও বড় ক্ষতিটা হয় অন্য জায়গায়। চা এবং কফিতে 'ট্যানিন' এবং 'অক্সালেট' নামক কিছু অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট (Anti-nutrient) বা পুষ্টি-বাধাদানকারী উপাদান থাকে। আপনি যখন পুষ্টিকর খাবারের সাথে বা ঠিক পরপরই চা-কফি খান, তখন এই উপাদানগুলো খাবারের ক্যালসিয়াম ও আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে একটি জটিল যৌগ তৈরি করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে 'চিলেশন' (Chelation) বলা হয়। সহজ কথায়, এরা ক্যালসিয়ামকে এমনভাবে আটকে ফেলে যে আপনার অন্ত্র বা মাইক্রোবায়োম তা আর শোষণ করতেই পারে না।
দিনের পর দিন এই অভ্যাসের ফলে আপনার হাড় ভেতর থেকে পুষ্টিহীন হয়ে পড়তে থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা আপনার হাড়ের স্বাভাবিক গঠন প্রক্রিয়াকে (Bone remodeling) বাধাগ্রস্ত করে আপনার মেটাবলিক হেলথকে দুর্বল করে তোলে।
আয়ুর্বেদিক থেরাপিউটিক নিউট্রিশন অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে 'বাত' দোষ বা রুক্ষতা বাড়িয়ে দেয়, যার সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের জয়েন্টের তরল বা সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের ওপর। এর মানে এই নয় যে আপনাকে চা-কফি পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে সন্ন্যাসী হতে হবে! বরং ফাংশনাল সমাধান হলো, মূল খাবারের অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে বা পরে চা পান করা, যাতে খাবারের পুষ্টি শোষণে কোনো বাধা না আসে। আর চা-কফির কারণে হওয়া হাড়ের এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং জয়েন্টের রুক্ষতা কাটাতে আপনি একটি দারুণ আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া সমাধান বা 'ন্যাচারাল হিলিং' পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।
প্রতিদিন রাতে এক চা চামচ খোসাসহ সাদা তিল আধা গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে উঠে খালি পেটে এই তিলগুলো খুব ভালোভাবে চিবিয়ে খেয়ে নিন এবং পানিটুকুও পান করুন। সাদা তিল হলো প্রকৃতির অন্যতম সেরা 'বায়ো-অ্যাভেইলেবল' (Bio-available) ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের খনি, যা শরীর খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে। এর ভেতরের প্রাকৃতিক তেল জয়েন্টের রুক্ষতা বা বাতের ব্যথা কমিয়ে চমৎকার প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে।
চা-কফির এই ছোট অভ্যাসটিকে কিছুটা রদবদল করে এবং প্রকৃতির এই সহজ উপাদানগুলোকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নিলে আপনার হাড়ের ক্ষয়রোধ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। @ Probal Kumar Mondal
সময় সবার কাছে সমান - দিনে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু গরিবরা সময় ব্যয় করে, ধনীরা সময়ে বিনিয়োগ করে।
৬
সত্য + গল্প
অনেক আগে এক ছোট গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে দুই বোন বাস করত। দুজনেই অপূর্ব সুন্দরী, এতই রূপবতী যে গ্রামবাসী গর্ব করত যে এমন কন্যারা তাদের গ্রামে থাকে। এক বোনের নাম ছিল সত্য আর অন্যজনের নাম গল্প। দুজনে খুব মিলেমিশে হাসিখুশিভাবে সেই গ্রামে থাকত।
একদিন সেই গ্রামে এক ফকির এল। দুই বোন সেই ফকিরের এত সেবা-যত্ন করল যে খুশি হয়ে যাওয়ার সময় তিনি তাদের একটি আয়না উপহার দিয়ে গেলেন। সেই প্রথমবার দুই বোন আয়না দেখল। সবার আগে সত্য আয়নাটা হাতে নিল, নিজেকে দেখল আর অহংকারের সাথে বলল, "আরে, আমি কত সুন্দর! আমার চেয়ে বেশি সুন্দর আর কেউ হতেই পারে না।"
ওর মনে জেদ আর গর্ব চেপে বসল।
এরপর গল্পের পালা। গল্প আয়নাটা নিয়ে নিজেকে দেখল আর বলল, "না, আমিই বেশি সুন্দরী।" এই নিয়ে দুই বোনের মধ্যে ঝগড়া বেঁধে গেল। শেষমেশ একটা বাজি ধরল তারা। ঠিক হলো, দুজনে একে একে গ্রামের মাঝখানের চৌরাস্তা পর্যন্ত হেঁটে যাবে। যাকে দেখে গ্রামের মানুষ বেশি হাততালি দেবে, বাহবা দেবে আর শিস বাজাবে, সেই বোনই জিতে যাবে।
প্রথমেই সত্য বের হলো। মনে ভীষণ গর্ব তার রূপ দেখে তো মানুষ পাগল হয়ে যাবে! কিন্তু যেই সে গ্রামের রাস্তায় পা রাখল, ঠিক উল্টোটা ঘটল। সত্যকে দেখে মানুষ ভয় পেয়ে গেল! যে যার মতো দৌড়ে ঘরে ঢুকে পড়ল, দরজা-জানলা বন্ধ করে খিল তুলে দিল। সত্য খুব অবাক হলো। সে ভাবল এভাবে তো আমি হেরে যাব। হাঁটতে হাঁটতে সে যখন চৌরাস্তায় পৌঁছাল, দেখল পুরো গ্রাম যেন জনশূন্য হয়ে গেছে।
তখন সত্য মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য এক অদ্ভুত ফন্দি আঁটলো। সে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের সব পোশাক খুলে ফেলল। সে ভাবল সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় তাকে দেখলে বোধহয় মানুষ ঘর থেকে বাইরে আসবে। কিন্তু হলো তার ঠিক বিপরীত।
দু-একজন যারা আশেপাশে ছিল, তারাও ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল। সত্য একা দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল।
দূর থেকে গল্প এসব দেখছিল। এবার গল্প সাজগোজ শুরু করল। সে রেশমি লহেঙ্গা পরল, মাথায় লাল ওড়না নিল, চোখে কাজল আর পায়ে নূপুর পরল।
এবার গল্পের পালা।
গল্প যেই গ্রামে প্রথম পা রাখল, তার পায়ের নূপুরের রিনরিন শব্দ বাতাসে ছড়াতে থাকলো।আর সেই শব্দের সাথে সাথে ঘরের বন্ধ খিলগুলো খোলার আওয়াজ আসতে লাগল। গল্প যেখান দিয়ে যাচ্ছিল, মানুষ মুগ্ধ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল। সবাই তার পেছনে নাচতে, গাইতে আর বাহবা দিতে শুরু করল।
হাঁটতে হাঁটতে গল্প সেখানে পৌঁছাল যেখানে সত্য নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। গল্প সবার আগে সত্যের পোশাকগুলো তুলে তাকে পরিয়ে দিল।
তারপর বলল, সত্য, আজ একটা কথা মনে গেঁথে রাখো-মানুষ সত্যি দেখতে একদম পছন্দ করে না, আর নগ্ন সত্য তো একেবারেই নয়।
গল্প সত্যের হাত ধরে পুরো গ্রাম ঘুরল। গ্রামের প্রতিটি শিশু, বৃদ্ধ, এমনকি পশুরাও তাদের পেছনে নাচতে গাইতে লাগল। যেন গ্রামে উৎসব চলছে কোনো।
তখন গল্প সত্যকে বলল, সত্য, যখনই মানুষকে সত্যি দেখানোর প্রয়োজন হবে, তোমাকে গল্পের সৌন্দর্যের আশ্রয় নিতেই হবে। গল্পের অলংকার আর রূপ ছাড়া মানুষ সত্যকে গ্রহণ করতে পারে না। @ Onuvob Ahmed
৭
একিলিস-এর গোড়ালি
হেলেনের জন্য ট্রয়ে যে যুদ্ধ হচ্ছিলো সেই যুদ্ধেরই এক বীরযোদ্ধা ছিলেন যার নাম একিলিস।যাকে কেউ হারাতে পারার কথা না।যার অমর হবার'ই কত ছিলো। কিন্তু তাকেও মরতেই হয়েছিলো।
একিলিসের পিতা মানুষ হলেও মা ছিলেন দেবী।একিলিসের জন্মের পর তার মা এই সত্য মানতে পারলেন না,যেহেতু মানুষ তাই তার দুঃখ,বেদনা,জরা এবং মৃত্যু আছে।
দেবী মা তো অমর।কিন্তু তিনি বেঁচে থাকবেন অথচ পুত্রকে মরতে হবে!তিনি তার পুত্রকেও অমর করতে চাইলেন।
একিলিসকে অমর করার জন্য থেটিস তাকে পাতালের এক নদীতে ডুবিয়েছিলেন। সেই জল একিলিসের শরীরের যে যে অংশ ছুঁয়েছে তাতেই তা রোগ,জরা,ব্যধি ছুঁতে না পারার মত এক বর্মে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু! কিন্তু গোড়ালি ধরে ডুবিয়েছিলেন বলে শরীরের ওই অংশটি শুকনো থেকে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে একিলিসের একমাত্র দুর্বল স্থান।
ফলস্বরূপ যুদ্ধের ময়দানে কেবল গোড়ালিতে বিদ্ধ হওয়া একটি তির একজন বীরের সমস্ত শরীর বিবশ করে দিয়েছিলো।
পৃথিবীতে আপনি যত যা কিছুই করেন না কেনো,মানুষ হয়ে জন্মেছে যে তার ভাগের দুর্ভোগ,তার ভাগের ব্যথা,তার ভাগের যন্ত্রণা থেকে আপনি তাকে বাঁচাতে পারবেন না।
মানুষের নিয়তিই তা'ই।
শোপেনহাওয়ার বলতেন,মানুষের জীবন দুঃখ আর একঘেয়েমির মধ্যে পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকে।
আমি মানি,জীবনে কোনোকিছু নিয়ে অহংকার করবার কিছু নেই।
আপনি হয়তো আপনার জীবন তছনছ করে দিতে পারে এমন একটা দুঃসংবাদ আসা ফোন কলের থেকে,কোনো নির্মম দুর্ঘটনা থেকে,বড় কোনো অসুখের থেকে কয়েক সেকেন্ড দূরত্বে আছেন। @ Onuvob Ahmed
৮
ফ্রান্তজ ফানোঁ
ফ্রান্তজ ফানোঁ (Frantz Fanon, ১৯২৫–১৯৬১) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং বিপ্লবী চিন্তাবিদ। তিনি মূলত উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়াই এবং শোষিত মানুষের মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির একজন প্রধান প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত।
ফানোঁ ১৯২৫ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মার্টিনিক-এ (তৎকালীন ফরাসি উপনিবেশ) জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি ফরাসি প্রতিরোধের হয়ে লড়াই করেন। পরে তিনি ফ্রান্সে চিকিৎসাশাস্ত্র ও মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। তাঁর চিন্তার সবচেয়ে বড় রূপান্তর ঘটে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা চলাকালে, যখন তিনি আলজেরিয়ায় কাজ করতে যান এবং সরাসরি উপনিবেশিক নিপীড়নের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। আলজেরিয়ার একটি হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং সেখানে থাকাকালীন আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে পড়েন।
ফানোঁ দেখিয়েছেন যে, উপনিবেশবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শোষণ নয়, বরং এটি মানুষের মনকে আক্রমণ করে। তাঁর মতে:
মানসিক পরাধীনতা: শোষিত মানুষ অনেক সময় শোষকের সংস্কৃতি ও আচরণকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে থাকে এবং নিজের অস্তিত্বকে তুচ্ছ ভাবে।
সহিংসতা ও মুক্তি: তিনি মনে করতেন, উপনিবেশবাদ যেহেতু শক্তির মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাই এটি থেকে পূর্ণ মুক্তি পেতে অনেক ক্ষেত্রে পাল্টা প্রতিরোধ বা সহিং সতার প্রয়োজন হয় যা শোষিতের মনে সাহস ফিরিয়ে দেয়।
বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ: ফানোঁ-র বিশ্ববিখ্যাত দুটি বই আধুনিক চিন্তাধারাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে:
Black Skin, White Masks (১৯৫২): এতে তিনি বর্ণবাদ এবং কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের ওপর এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
The Wretched of the Earth (১৯৬১): এটি উপনিবেশবাদ বিরোধী বিপ্লবের একটি আকর গ্রন্থ। এর ভূমিকা লিখেছিলেন জঁ-পল সার্ত্র।
ফানোঁ কেবল একজন তাত্ত্বিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ বিপ্লবী। ১৯৬১ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর লেখনী পরবর্তীকালে নেলসন ম্যান্ডেলা, ম্যালকম এক্স এবং চে গেভারা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের পোস্ট-কলোনিয়াল চিন্তাবিদদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
ফানোর মূল ভাবনা ছিল—উপনিবেশবাদ শুধু জমি দখল করে না, মানুষের মনকেও বিকৃত করে। তাই মুক্তি পেতে হলে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, মানসিক মুক্তিও জরুরি। @ বইকাল
৯
Conformity Effect. যে অদৃশ্য শক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে।
আমরা নিজেকে যতটা স্বাধীন মনে করি, সামাজিক ভাবে আমরা আসলে ততটা স্বাধীন নই। অনেক সময় আমরা নিজের চোখে যা সত্য দেখি, তাও অস্বীকার করতে হয় শুধুমাত্র গ্রুপের সাথে মিল বজায় রাখতে। এই প্রবণতাকেই সাইকোলজিতে Conformity Effect বা সামঞ্জস্যতার প্রভাব বলা হয়।
১৯৫১ সালে বিজ্ঞানী সলোমন অ্যাশ, একটা গবেষণা পরিচালনা করেন। একটা ঘরে কয়েকজন লোককে দেখানো হয় বিভিন্ন লাইন। প্রশ্ন ছিল কোন লাইনটা অন্য দুটোর সমান লম্বা? লাইন ছিল মোট ৩টা, | । |
সহজ উত্তর ছিল বাম পাসেরটা। কিন্তু অ্যাশ এক্সপেরিমেন্টটা করার জন্য কিছু পেইড অভিনেতা রেখেছিলেন। এবং যারা আসলে অভিনেতা ছিলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল উত্তর দিতে থাকেন। ফলে আসল পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় নিজের চোখকে অবিশ্বাস করেও শুধুমাত্র গ্রুপের সাথে মিল রাখতে প্রায় ৩৭% মানুষ চাপে পড়ে ভুল উত্তর দিয়েছিল।
বাস্তব জীবনে আপনি নিজেও এমনটা করেন, উদাহরণস্বরূপ: সোশ্যাল মিডিয়ায়; সবাই একটা ট্রেন্ডিং বিষয় নিয়ে নেগেটিভ কথা বলছে, আপনি নিজে পজিটিভ মনে করলেও চুপ করে থাকেন বা তাদের সাথে মিলে যান।
অফিসে: মিটিংয়ে বস যা বলেন, সবাই হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। আপনি জানেন এটা ভুল, কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে চুপ থাকেন।
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলে: সবাই নতুন ট্রেন্ডের জামা পরছে, আপনি নিজে পছন্দ না করলেও কিনে ফেলেন যাতে আউট অফ ট্রেন্ড না হয়ে যান।
এই ইফেক্ট এতটাই পাওয়ারফুল যে, সবাই মিলে একসাথে খারাপ কাজ করলেও তখন সেটা আর খারাপ মনে হয় না।
Conformity আমাদের সামাজিক প্রাণী হিসেবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত Conformity আমাদের নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সততাকে হ-ত্যা করে। তাই আপনার কাছে প্রশ্ন.! আপনি কতটা নিজের মতামতের উপর অটল থাকতে পারেন যখন চারপাশের সবাই বিপরীত কথা বলে? @ সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্ট
১০
ধনী এবং দরিদ্রের ৫টি বাক্য
১৯৩৭ সালে নেপোলিয়ন হিল যখন Think and লিখলেন, তিনি ২০ বছর ধরে ৫০০+ ধনী মানুষকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। অ্যান্ড্রু কার্নেগি, হেনরি ফোর্ড, থমাস এডিসন - এদের সবার মধ্যে একটি মিল ছিল। তারা কিছু কথা কখনোই বলতেন না। অথচ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই কথাগুলো বলে এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই লিখে ফেলে।
আজ আমি তোমাকে সেই ৫টি বাক্য দেখাব যা ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে দেয়াল তৈরি করে।
১. আমার সময় নেই
গরিবরা যা বলে:
আমার সময় নেই নতুন কিছু শিখার। সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকি।
ধনীরা যা জানে:
ওয়ারেন বাফেট দিনে ৫-৬ ঘণ্টা পড়েন। বিল গেটস বছরে ৫০টি বই পড়েন। ইলন মাস্ক রকেট সায়েন্স শিখেছেন শুধু বই পড়ে।
গভীর সত্য:
সময় সবার কাছে সমান - দিনে ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু গরিবরা সময় ব্যয় করে, ধনীরা সময়ে বিনিয়োগ করে।
একজন দিনমজুর ১২ ঘণ্টা কাজ করে ৫০০ টাকা পায়। একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার ৬ মাস শিখে ১২ ঘণ্টা কাজ করে ৫০,০০০ টাকা পায়। পার্থক্যটা সময়ে নয়, সময়ের ব্যবহারে।
যা বলা উচিত:
আমি এর জন্য সময় তৈরি করব।
কার্ল নিউপোর্টের Deep Work থিওরি:
মানুষ দিনে গড়ে ৪৭% সময় নষ্ট করে - সোশ্যাল মিডিয়া, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, মানহীন কন্টেন্ট দেখে। এই সময়টা যদি স্কিল ডেভেলপমেন্টে দাও, ১ বছরে তুমি অন্য মানুষ হয়ে যাবে।
২. এটা আমার জন্য না (বা আমি পারব না)
গরিবরা যা বলে:
বিজনেস আমার জন্য না, আমি চাকরি করেই ভালো আছি।
ইংরেজি শেখা আমার দ্বারা হবে না।
টেকনোলজি বুঝি না, আমার জন্য না।
ধনীরা যা জানে:
জেফ বেজোস প্রথমে ছিলেন একজন হেজ ফান্ডের কর্মচারী। অনলাইন বইয়ের ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। শিখে নিয়েছেন।
স্টিভ জবস প্রোগ্রামিং জানতেন না যতটা স্টিভ ওজনিয়াক জানতেন। কিন্তু ডিজাইন এবং ভিশন দিয়ে অ্যাপল তৈরি করেছেন।
ক্যারল ড্যুয়েকের Mindset থিওরি:
দুই ধরনের মানসিকতা আছে:
Fixed Mindset (স্থির মানসিকতা): আমার যা আছে তাই আছে। পরিবর্তন হবে না।
Growth Mindset (বৃদ্ধির মানসিকতা): আমি শিখতে পারি। আমি বদলাতে পারি।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ৩০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে - যাদের Growth Mindset আছে, তারা ৮০% বেশি সফল হয়েছে।
যা বলা উচিত:
আমি এখনও এটা পারি না, কিন্তু শিখব।
প্রাচীন জাপানি দর্শন - Kaizen:
প্রতিদিন ১% উন্নতি। ১ বছরে ৩৭ গুণ উন্নত হয়ে যাবে (গাণিতিকভাবে)। কিন্তু প্রতিদিন ১% অবনতি হলে? ১ বছরে প্রায় শূন্যে নেমে যাবে।
৩. টাকা সব নয় (যখন তোমার টাকা নেই)
গরিবরা যা বলে:
টাকায় সুখ কেনা যায় না।
টাকা থাকলেই কি সব পাওয়া যায়?
আমরা গরিব কিন্তু সৎ।
ধনীরা যা জানে:
হ্যাঁ, টাকা সব নয়। কিন্তু টাকা হলো বিকল্প (Options)।
চার্লি মুঙ্গার (ওয়ারেন বাফেটের পার্টনার) বলেছেন: যে বলে টাকায় সুখ কেনা যায় না, সে জানে না কোথায় কিনতে হয়।
নিষ্ঠুর সত্য:
- মা-বাবা অসুস্থ হলে ভালো চিকিৎসা টাকায় কেনা যায়
- সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা টাকায় নিশ্চিত হয়
- সময় কিনতে পারো টাকা দিয়ে (গাড়ি, সাহায্যকারী)
- স্বাধীনতা কিনতে পারো (চাকরির দাসত্ব থেকে মুক্তি)
মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের গবেষণা:
একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত (বছরে প্রায় ৭৫,০০০ ডলার বা ৬০-৭০ লাখ টাকা) টাকা বাড়লে সুখও বাড়ে। কারণ মৌলিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিশ্চিত হয়।
টাকা সব নয়, কিন্তু টাকা ছাড়া অনেক কিছুই অসম্ভব।
যা বলা উচিত:
টাকা একটা টুল। আমি এই টুল ব্যবহার করে জীবন সুন্দর করব।
দরিদ্রতা মহিমান্বিত করা বন্ধ করো। দারিদ্র্য কোনো গুণ নয়, এটা একটা সমস্যা যা সমাধান করতে হয়।
৪. ভাগ্যে যা আছে তাই হবে (নিয়তিবাদ)
গরিবরা যা বলে:
আল্লাহ/ভগবান যা দিয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট।
কপালে না থাকলে কিছু হবে না।
ধনী হওয়া আমার ভাগ্যে নেই।
ধনীরা যা জানে:
জ্যাক মা ৩০ বার চাকরির ইন্টারভিউতে বাদ পড়েছিলেন। KFC-তে আবেদন করেছিলেন ২৪ জন, ২৩ জন নেওয়া হয়েছিল, একমাত্র জ্যাক মা বাদ পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি বলেননি ভাগ্যে নেই। আলিবাবা তৈরি করলেন।
ওপরাহ উইনফ্রে জন্মেছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে, শৈশবে নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু বলেননি ভাগ্যে নেই। আজ বিলিয়নেয়ার।
স্টোইক দর্শন - মার্কাস অরেলিয়াস:
You have power over your mind - not outside events. Realize this, and you will find strength.
তুমি বাইরের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারো না, কিন্তু তোমার প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারো।
যা বলা উচিত:
আমি আমার ভাগ্য নিজে তৈরি করব।
বৈজ্ঞানিক সত্য - Locus of Control:
মনোবিজ্ঞানী জুলিয়ান রটার দেখিয়েছেন:
- External Locus of Control: যারা মনে করে সবকিছু বাইরের শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে - তারা কম সফল, বেশি হতাশাগ্রস্ত
- Internal Locus of Control: যারা বিশ্বাস করে নিজের কর্মেই ফল নির্ভর করে - তারা বেশি সফল, মানসিকভাবে শক্তিশালী
৫. সরকার/সিস্টেম/সমাজ দায়ী
গরিবরা যা বলে:
এই দেশে কিছু হয় না।
সরকার যদি সুযোগ দিত...
ধনীদের ছেলেমেয়েরা সব পায়, আমরা কী করব?
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি না থাকলে সফল হওয়া যায় না।
ধনীরা যা জানে:
হ্যাঁ, সিস্টেম অন্যায্য। হ্যাঁ, দুর্নীতি আছে। কিন্তু এই অজুহাতে বসে থাকলে কিছু হবে না।
প্রাক্তন US প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট বলেছিলেন:
Do what you can, with what you have, where you are.
যা পারো তাই করো, যা আছে তাই দিয়ে, যেখানে আছো সেখান থেকেই।
উদাহরণ:
- মার্ক জুকারবার্গ ধনী পরিবারের ছিল? না। হার্ভার্ড ছেড়ে দিয়ে Facebook তৈরি করেছে
- ধীরুভাই আম্বানি পেট্রোল পাম্পে কাজ করতেন
- রতন টাটা এতিম শিশু ছিলেন (adopted)
প্রতিটি দেশে, প্রতিটি সিস্টেমে কিছু মানুষ সফল হয়। প্রশ্ন হলো - তুমি কি অজুহাত খুঁজবে নাকি পথ খুঁজবে?
যা বলা উচিত:
সিস্টেম যেমনই হোক, আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেব।
জর্ডান পিটারসনের ১২ নম্বর নিয়ম:
নিজের ঘর গোছাও তারপর বিশ্ব পরিবর্তনের কথা ভাবো।
তুমি সরকার বদলাতে পারবে না আজ। কিন্তু তুমি নিজেকে বদলাতে পারো আজই। নিজের স্কিল বাড়াও, নিজের মূল্য বাড়াও। তারপর দেখবে সিস্টেম নিজেই তোমাকে জায়গা দেবে।
বোনাস: ধনীরা গোপনে যা বলে, গরিবরা জানেই না
ধনীদের আসল ভাষা:
১. আমি কীভাবে এটা করতে পারি? (সমস্যা = সুযোগ)
গরিবরা বলে: এটা সম্ভব না।
২. আমি এর থেকে কী শিখতে পারি? (ব্যর্থতা = পাঠ)
গরিবরা বলে: আমার ভুল হয়ে গেছে, শেষ।
৩. এই টাকা কীভাবে আরও টাকা বানাবে? (টাকা = বীজ)
গরিবরা বলে: এই টাকা দিয়ে কী কিনব?
৪. আমার নেটওয়ার্কে কে এটা জানে? (সম্পর্ক = সম্পদ)
গরিবরা বলে: আমি একা একাই করব।
৫. আমি কাকে ভ্যালু দিতে পারি? (দান = পাওয়া)
গরিবরা বলে: আমি কী পাব?
উপসংহার: শব্দ থেকে ভাগ্য তৈরি হয়
নিউরোসায়েন্টিস্ট অ্যান্ড্রু নিউবার্গ এবং মার্ক ওয়াল্ডম্যান তাদের Words Can Change Your Brain বইয়ে প্রমাণ করেছেন:
তুমি যে শব্দ বারবার বলো, তোমার মস্তিষ্ক সেই অনুযায়ী পুনর্গঠিত হয়।
তুমি যদি প্রতিদিন বলো আমি পারব না - তোমার মস্তিষ্ক সেভাবে তৈরি হবে।
তুমি যদি প্রতিদিন বলো আমি পারব - তোমার মস্তিষ্ক সেভাবে কাজ করবে।
আজ থেকে তোমার কাজ:
পরবর্তী ৩০ দিন একটি এক্সপেরিমেন্ট করো:
১. এই ৫টি বাক্য সম্পূর্ণ বন্ধ করো:
- আমার সময় নেই
- এটা আমার জন্য না
- টাকা সব নয় (যখন তোমার টাকা নেই)
- ভাগ্যে নেই
- সিস্টেম দায়ী
২. এই ৫টি বাক্য প্রতিদিন বলো:
- আমি এর জন্য সময় তৈরি করব
- আমি শিখব এবং আয়ত্ত করব
- টাকা একটি টুল, আমি এটা ব্যবহার করব
- আমি আমার ভাগ্য নিজে লিখব
- আমি আমার অবস্থান থেকে সেরাটা দেব
৩০ দিন পর তুমি নিজেই পার্থক্য দেখবে।
শেষ কথা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন: যা বলবে তাই হবে।
বিজ্ঞান এখন প্রমাণ করেছে - এটা শুধু কবিতা নয়, এটা সত্য।
তোমার শব্দ তোমার চিন্তা তৈরি করে।
তোমার চিন্তা তোমার কর্ম তৈরি করে।
তোমার কর্ম তোমার অভ্যাস তৈরি করে।
তোমার অভ্যাস তোমার ভাগ্য তৈরি করে।
তুমি কি ধনীর ভাষা শিখবে, নাকি গরিবের ভাষা বলতে থাকবে?
পছন্দটা তোমার। কিন্তু মনে রাখবে - প্রতিটি শব্দ একটি বীজ। তুমি যা বুনবে, তাই কাটবে।
মনে রেখো: ভাষা বদলালে ভাগ্য বদলায়। @এটিএম মাহফুজ
১১
হরপ্পীয় ও বৈদিক সভ্যতা
হরপ্পীয় সভ্যতা ছিল উপমহাদেশের প্রথম নগরকেন্দ্রিক ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। হরপ্পীয় সভ্যতার ঐতিহ্যের যুগ চলেছে আজ থেকে প্রায় ৪.৬ হাজার বছর আগে থেকে ৩.৯ হাজার বছর আগে পর্যন্ত। তার অন্তত ১ হাজার বছর আগে থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে সিন্ধু নদের পাশে মরশুমি ঘগ্গার-হাকরা নদীর বিস্তীর্ণ অধিত্যকায় নগরকেন্দ্রিক, পরিকল্পিত শহরগুলির অঙ্কুর গড়ে উঠেছিল।
তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা গেছে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান থেকে। সামান্য কিছু তথ্য আমরা জানতে পেয়েছি মেসোপটেমিয় লেখ থেকে।তাদের অর্থনীতি আবর্তিত হত মূলত কৃষিকাজ, শিল্পদ্রব্য নির্মাণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। সুদূর মেসোপটেমিয়ার সঙ্গে তারা সমুদ্র-বাণিজ্য করত।
হরপ্পীয় সভ্যতার প্রত্নস্থলগুলিতে অস্ত্র পাওয়া গেছে সীমিত। আবার পাওয়া গেছে শিশুদের খেলনা, বাণিজ্যের প্রয়োজনে ব্যবহৃত প্রচুর সিল ইত্যাদি। এসবের অস্তিত্ব, বাণিজ্যমুখী শান্ত জীবনের ইঙ্গিত দেয়।
পরবর্তীকালে, প্রায় ৪ হাজার থেকে ৩.৫ হাজার বছর আগে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠীতে, রাশিয়ার স্তেপভূমি থেকে ইন্দো-ইউরোপীয়রা বিভিন্ন দলে এদেশে পরিযান করে। ইন্দো-ইউরোপীয়রা প্রথমদিকে ছিল আধা-যাযাবর পশুপালক। অর্ধ যাযাবর জীবনের প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান বিশেষ পাওয়া যায়নি। তাই তাদের সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে মূল উপাদান বৈদিক সাহিত্য। ঘোড়া, অশ্বমেধ যজ্ঞ, ঘোড়ায় টানা গাড়ির তীব্র গতি ইত্যাদি নিয়ে বেদে শ্লোক রয়েছে। ঋগ্বেদের যুগে পশুচারণ ছিল আর্যভাষীদের প্রধান উপজীবিকা এবং গো-সম্পদ ছিল ধনসম্পত্তির মাপকাঠি। তবে পরবর্তীকালে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে কৃষি ও পশুপালন।
সমুদ্র বাণিজ্যের উল্লেখ বেদে নেই।
খাদ্যাভ্যাস
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন হয়েছে। আবার একই সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যাভাস ছিল ভিন্ন। বিগত একশ বছর ধরে হরপ্পীয় সভ্যতার বিভিন্ন প্রত্নস্থানগুলিতে পাওয়া গেছে প্রভূত পরিমাণে গবাদি পশু, ভারতীয় মহিষ, ভেড়া, ছাগল, পাখি, শূকর ইত্যাদির কঙ্কাল। কঙ্কালের অবশেষ এবং নৃতাত্ত্বিক তথ্যের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, বেশ কয়েকটি গবেষণা মনে করেছে যে, গবাদি পশু এবং মহিষের মাংস তারা খেত। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিভিন্ন প্রত্নস্থল থেকে হরপ্পীয় সভ্যতার সিরামিক পাত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাচীনকালের মাটির বাসনে অনেক সময়ে লেগে থাকে পশু চর্বিজাত লিপিড। তারা মাটির বাসনে লেগে থাকা লিপিড বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, সেই সময়ে হরপ্পীয় জনগোষ্ঠী শূকর, ভেড়া এবং গরু, মহিষের মাংস প্রভূত পরিমাণে খেত।
আবার স্তেপভূমির আর্যভাষীদের মূল খাদ্য ছিল ফল, দুধ, ক্ষীর ও আগুনে ঝলসানো গো ও অন্যান্য মাংস। দেশজদের থেকে এরা পরে কৃষিকাজ শেখে। তবে উপনিষদের যুগে খাদ্যাভাব রুখতে গরু ও ষাঁড়ের মাংস খাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা আসে। এসব হয়েছে গরু ও ষাঁড়কে কৃষির জন্য রক্ষা করার প্রয়োজনে। মনুর সময়ে বর্ণবিভক্ত সমাজে বর্ণবিশেষে খাদ্যও হয়ে যায় ভিন্ন। মনুর বিধান ছিল ব্রাহ্মণের খাদ্য হবে সাত্ত্বিক। সে খাবে ফল, দুধ, মধু, অন্ন। ক্ষত্রিয়র খাদ্য হলো রাজসিক—শিকার করা মাংস। ময়ূর বা হরিণের মাংস রাজসিক গুণসম্পন্ন বলে ধরা হত। অধিকাংশ শূদ্র মাংস খেত।
তবে দরিদ্র মানুষ কখনোই খাদ্যবিচার করে না। সেই বৈদিক যুগেও চণ্ডালরা অনেক সময়ে খেয়েছে কুকুরের মাংস, কারণ একমাত্র এই মাংসই বিনা খরচে পাওয়া যেত।
দুই সভ্যতার আরও কিছু তুলনা
হরপ্পীয় সভ্যতায় একসময়ে লিখিত সিলের ব্যবহার ছিল। মানুষ লিখতে ও পড়তে পারত। পরবর্তীকালে সেই দেশেই কয়েক হাজার বছর ধরে জোর দেওয়া হয় শ্রুতিতে, শোনা কথায়।
বৈদিক যুগে ভারতের নগর পরিকাঠামো উচ্ছেদ হয়। সেই সময়টা হল কৃষি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অবনতির অধ্যায়। শিল্প বাণিজ্য প্রাথমিকভাবে হ্রাস পায়।
এদের থেকেই পরবর্তীকালে বর্ণবিভাজনের সূত্রপাত। সেই প্রথা আজও এ দেশের অভিশাপস্বরূপ বিরাজ করছে। মনুস্মৃতি পড়লে বোঝা যায় আজ থেকে প্রায় ২ হাজার বছর আগে কীভাবে বর্ণভেদ প্রথার উপর ভিত্তি করে সমাজকে বেঁধে ফেলা হল।
দুটি সভ্যতার গাড়ির চাকার তুলনা করলে এদের মূলগত পার্থক্য বোঝা যায়। হরপ্পায় বলদে টানা চাকা ছিল নিরেট। হরপ্পীয়রা বলদে টানা শকট ব্যবহার করত পরিবহনের প্রয়োজনে। প্রতিরোধ বা আক্রমণের জন্য নয়, যুদ্ধের জন্য নয়। বলদে টানা শকটের ছিল না গতি।
ইন্দো-ইউরোপীয়দের রথের চাকা ছিল স্পোক-যুক্ত। দুই চাকার হাল্কা রথ তৈরি করে, তার সঙ্গে অশ্ব জুড়ে দ্রুত গতিতে দিগন্ত-বিস্তৃত প্রান্তর পারাপার করত। শত্রুর ওপরে আক্রমণ করা হত।
ভারতের সংস্কৃতিতে তাদের প্রাথমিক অবদান সুললিত ভাষা, এবং পরবর্তীকালে তাদের সভ্যতার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে সাহিত্য, দর্শন, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, বিজ্ঞানের নানা শাখা, শিল্প, ভাস্কর্য ইত্যাদির চর্চা। দার্শনিক চিন্তা, গণিত, বিজ্ঞান ও অর্থনীতি-রাজনীতির চর্চা এদের সভ্যতা-সঞ্জাত।
ইউরোপে যেভাবে য়াম্নয়ারা ( ভারতে আগত ইন্দো-ইউরোপীয়দের এক শাখা) সংহারক হিসাবে গিয়ে সেখানকার দেশজ জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপিত করেছে, ইন্দো-ইউরোপীয়রা এদেশের প্রাচীন জনগোষ্ঠীকে সংহার করে দেশের মানুষদের সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে উত্তর ভারতে, বিশেষ করে উচ্চ বর্ণের মধ্যে ইন্দো-ইউরোপীয় জিনোমিক প্রোফাইল পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণে। এখানে হয়তো জনগোষ্ঠীর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়নি। ভারতে তারা দেশজ জনগোষ্ঠীকে সমাজে কিছুটা স্থান দিয়েছে। আবার আংশিক প্রতিস্থাপন করেছে।
সে যাহোক, সমাজে ক্ষমতাধর ছিল তারাই। বর্ণপ্রথা সেই ক্ষমতাকে পুরুষানুক্রমিক করে দিয়েছে। তাদের ভাষা যেভাবে সমগ্র উত্তর ভারতে বিস্তৃত হল, তা থেকে বোঝা যায় তারা ছিল সমাজের ক্ষমতার চূড়োয়।
ধর্ম
হরপ্পীয় মানুষ সর্বপ্রাণবাদী ও প্রকৃতিপূজারী ছিল। প্রকৃতিপূজার সঙ্গে পবিত্র আত্মা, প্রেতাত্মা ইত্যাদির ধারণা জড়িত। তারা লিঙ্গপূজাও করত। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে আমরা জানি, পরিবারের সদস্য মারা গেলে হরপ্পীয় মানুষ তাকে মাটিতে কবর দিত। শোকে শান্তি পেতে পাশে রাখত একটু শস্য, দু-চারটে হাঁড়িকুড়ি। হয়তো পরলোকে প্রয়োজনের কথা ভেবে রাখত এইসব খুদকুঁড়ো।
ইন্দো-ইউরোপীয়রা ছিল সুললিত বৈদিক সংস্কৃতভাষী। ভারতে আগত ইন্দো-ইউরোপীয়রা মূর্তিপূজক ছিল না। তারা ঘৃণা করত লিঙ্গপূজাকে। বিশ্বাস করত উপাসনায়। অগ্নিসংস্কার ও যজ্ঞে রাখত আস্থা, আস্থা ছিল বেদের মহত্বে। সরলভাবে দেবতার কাছে করত প্রার্থনা— আমাকে রক্ষা কর, আমি তোমায় পশু বলি দেব। ছন্দ ও ধ্বনির সঙ্গে স্তোত্রগান, ধর্মীয় ক্রিয়া, বলিদান ইত্যাদিকে তারা ফলদায়ী মনে করত। ব্যক্তি মানুষের উপাসনা, সংযম ইত্যাদির গুরুত্ব ছিল। স্বজন হারালে শবদাহ করত। মানুষ নশ্বর, আত্মা অবিনশ্বর। আত্মজন চলে গেলেও জীবন চলবে নিজের ছন্দে।
মিশ্রণ
স্তেপভূমির শ্বেতবর্ণের মানুষের দলে নারীরা সংখ্যায় ছিল কম। এদেশের কালো মেয়েদের তারা গ্রহণ করে, আর ধীরে ধীরে আংশিকভাবে আত্তীকরণ করে দেশের আচার-মূর্তিপূজা, বৃক্ষপূজা, সর্বপ্রাণবাদ । তবে এই আত্তীকরণ সর্বত্র সমানভাবে হয়নি। আত্তীকরণ মাঝেমধ্যে তার বিপরীত প্রক্রিয়াতেও হেঁটেছে। অর্থাৎ মূলে ফেরার তাগিদে পরে অর্জিত ‘অনার্য’ আচার ত্যাগ করার জন্য সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের সম্মুখীন হয়েছে।
বহু শতাব্দী ধরে ধীরে ধীরে হিন্দু ধর্ম আজকের রূপ নিয়েছে। এবার ভাবুন হিন্দুদের প্রধান জীবনচর্যা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান প্রণালীর কথা। হিন্দু ধর্মের অন্নপ্রাশন, বৈবাহিক ও শ্রাদ্ধ ক্রিয়ার মূলে আছে অগ্নিসংস্কার, যজ্ঞ। এছাড়া বিবাহে আছে আরও অনেক স্ত্রী-আচার যেগুলি মূলত হাজার হাজার বছরের দেশজ প্রথা। মৃতদেহ সৎকার হয় বৈদিক প্রথায়।মূর্তি পূজা, ধর্মে বৃক্ষ ও পশুর গুরুত্ব এসেছে হরপ্পীয় সভ্যতা থেকে।
তার সঙ্গে স্থানীয় নানা ছোটো ছোটো জনগোষ্ঠী, বিশেষত অস্ট্রো-এশিয়াটিক জনগোষ্ঠীগুলির নানা আচারও হিন্দুধর্মের নানান স্থানীয় রূপভেদের মধ্যে এসে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আচারসমগ্র এক অনমনীয় ধর্মের রূপ নেয়। তবু আজও খাদ্যাভ্যাস, বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরির নিয়মবিধি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন।
আজকের হিন্দু ধর্ম এদেশের মানুষের দীর্ঘ জীবনচর্যার ফসল। কোনো একক দাবিদার নেই। এই ধর্মে কোনো একটি গ্রন্থে জীবনযাপনের সব সূত্র লেখা নেই। @ মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
তথ্যসূত্র
• V. M. Narasimhan et al., “The formation of human populations in South and Central Asia,” Science, 365(6457), (2019).
• Sheeren Ratnagar, “Understanding Harappa: Civilization in the Greater Indus Valley,” Tulika Book, Chapter 3, October (2002).
• Akshyeta Suryanarayana, “Lipid residues in pottery from the Indus Civilisation in northwest India,” Journal of Archaeological Science, Volume 125, 105291, January (2021).
১২
গিনি ওয়ার্ম
৩,৫০০ বছর ধরে মানুষের শরীর খেকো একটি পরজীবী এবার পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতে চলছে। ১৯৮৬ সালে এই পরজীবী সাড়ে তিন মিলিয়ন মানুষকে আক্রান্ত করেছিল। গত বছর করেছে মাত্র দশজনকে। অথচ এই খবর একটিবারও কোন নিউজে আসেনি।
পরজীবীটির নাম গিনি ওয়ার্ম। ধরুন, কোনো প্রত্যন্ত গ্রামের পুকুরের দূষিত জল পান করলেন। এক বছর পর দেখলেন পায়ে একটি ফোস্কা ফুটে বেরিয়ে আসছে তিন ফুট পর্যন্ত লম্বা একটি কৃমি। এটি থামানোর কোনো ওষুধ নেই, কোনো অস্ত্রোপচারও কাজ করে না। একটি কাঠির চারপাশে কৃমিটি পেঁচিয়ে দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ইঞ্চি ইঞ্চি করে টেনে বার করতে হয়। তাড়াহুড়ো করলে কৃমি ভেঙে শরীরের ভেতরে থেকে যায়। তখন শুরু হয় নতুন সংক্রমণ।
গিনি ওয়ার্ম সুপ্রাচীন। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৫৫০ অব্দে রচিত মিশরীয় চিকিৎসাগ্রন্থ "এবার্স প্যাপিরাস"-এ কাঠি দিয়ে ৭-৮ দিন সময় নিয়ে কৃমি টেনে বার করার বর্ণনা আছে। সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে এটাই ছিল মানুষের পক্ষে চিকিৎসা করার সেরা উপায়।
তারপর ১৯৮৬ সালে জনস্বাস্থ্য কর্মীরা সিদ্ধান্ত নিলেন এই পরজীবীকে নির্মূল করতে হবে। তাঁদের হাতে কোনো ভ্যাকসিন ছিল না, কোনো ওষুধও না। যা ছিল তা হলো সস্তা কাপড়ের ছাঁকনি আর স্বেচ্ছাসেবীদের একটি বিশাল দল, যারা দশকের পর দশক ধরে গ্রামে গ্রামে হেঁটে বেড়াতে রাজি।
পরিকল্পনাটি ছিল সহজ। পুকুরের জল পান করেন এমন সকলকে কাপড়ের ছাঁকনি দাও, যাতে পরজীবী ছড়ানো ক্ষুদ্র "জলজ মাছি" বা "কৃমির লার্ভা" ছেঁকে আলাদা করা যায়। তারপর স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষকে শেখাবেন কী করে ছাঁকনি ব্যবহার করতে হয়। এবং যার শরীর থেকে কৃমি বেরোচ্ছে তাকে জলের কাছে যেতে না দেওয়া।
পরিকল্পনা মাফিক কাজগুলো করা হলো। সাড়ে তিন মিলিয়ন থেকে নেমে এলো মাত্র দশটি কেসে। চারটি চাদে, চারটি ইথিওপিয়ায়, দুটি দক্ষিণ সুদানে। আঙ্গোলা, ক্যামেরুন এবং মালিতে সেই বছর একটিও মানবসংক্রমণ ধরা পড়েনি।
কোনো রোগকে সম্পূর্ণ নির্মূল ঘোষণা করতে হলে পৃথিবীর প্রতিটি দেশকে, এমনকি যেখানে এই রোগ কখনো ছিলই না, তাদেরও "মানব ও পশু সংক্রমণমুক্ত" হিসেবে সার্টিফাইড হতে হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০০টি দেশকে,এলাকা, অঞ্চলকে গিনি ওয়ার্মমুক্ত সার্টিফিকেট দিয়েছে। বাকি মাত্র ছয়টি দেশের সার্টিফিকেশন এখনো বাকি। এই ছয়টি দেশ হলো- চাদ, ইথিওপিয়া, মালি, দক্ষিন সুদান, অ্যাঙ্গোলা এবং সুদান।
এখন সবচেয়ে বড় বাধা প্রাণীজগৎ। ২০২৪ সালে যে ছয়টি দেশে এখনো গিনি ওয়ার্মের নজরদারি চলছে, সেখানে পশুসংক্রমণ ২৫% কমেছে, তবে চাদ ও ক্যামেরুনেই সবচেয়ে বেশি বোঝা। ছোটো প্রাণীদের বেঁধে রাখা হচ্ছে, পুকুরে ওষুধ দিয়ে বাকি কৃমি মারা হচ্ছে। শূন্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত নজরদারি চলবে।
গিনি ওয়ার্মের সংখ্যা শূন্যে ঠেকলে এটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয় রোগ যা মানুষ সম্পূর্ণ মুছে দিতে পেরেছে। প্রথমটি ছিল গুটিবসন্ত। এটি হবে মানুষের নির্মূল করা প্রথম পরজীবী রোগ, এবং ইতিহাসে প্রথম রোগ যা একটিও ওষুধের ডোজ ছাড়াই শেষ হলো। চল্লিশ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবীরা কাপড়ের ছাঁকনি হাতে গ্রামে গ্রামে হেঁটেছেন। @ Better Food, Better Nutrition
১৩
Stoicism: ঝড়ের মধ্যেও শান্ত থাকার দর্শন।
জীবনটা কি এমন হওয়া উচিত, যেখানে সবকিছু আমাদের ইচ্ছামতো চলবে? নাকি এমন হওয়া উচিত, যেখানে সবকিছু ইচ্ছামতো না চললেও আমরা নিজেকে সামলাতে পারব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ বহু শতাব্দী ধরে যে দর্শনের কাছে ফিরে গেছে, তার নাম স্টোয়িসিজম।
স্টোয়িসিজম আমাদের শেখায়: জীবনে সবকিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া, চিন্তা আর সিদ্ধান্ত এসব আমাদের হাতেই।
প্রাচীন রোমের সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াস, দাস এপিকটেটাস, আর ধনী সেনেকা এঁরা সবাই এই দর্শনকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তাঁরা বলতেন: আপনি যা পেয়েছেন, তা হারানোর ভয়ে কাঁপতে থাকবেন না। যা আছে, সেটা পুরোপুরি উপভোগ করুন। যা চলে গেছে, তার জন্য অশ্রু ফেলবেন না। সম্রাট তিনি আরও লিখেছিলেন: তুমি বাইরের ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, কিন্তু নিজের মনকে পারবে।
স্টোয়িসিজম থেকে আমরা শিখতে পারি;
মানুষ আপনাকে অ'পমান করতেই পারে, কিন্তু আপনি অপমানিত হবেন কি না, সেটা আপনার সিদ্ধান্ত।
জীবনে ব্যর্থতা আসতেই পারে, কিন্তু সেটাকে নিজের পরিচয় বানানো বাধ্যতামূলক না। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় থাকবে, কিন্তু সেই ভয়কে জীবনের ড্রাইভার সিটে বসানো বুদ্ধিমানের কাজ না।
আজকের যুগে আমরা প্রতিদিন উদ্বেগ, অন্যের সাথে নিজের তুলনা, প্রত্যাশা আর মানুষ কী ভাববে রোগে আ'ক্রান্ত হয়ে গেছি। যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সবাইকে খুশি রাখা। কী চমৎকার আলাপ! জীবন আপনার নিজের, অথচ জীবনের গল্প লিখতে দিচ্ছেন অন্য মানুষদের.!
আর এখানেই স্টোয়িসিজম হাজির হয়ে বলে:
সবাই আপনাকে বুঝবে না, তাতে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে না। সবসময় নিজেকে শক্তিশালী দেখাতে হবে না, বরং স্থির হওয়াটাই বড় শক্তি। প্রতিটা দিনকে শেষ দিন ধরে বাঁচুন, কিন্তু নাটক-সিনেমার নায়কের মতো না বরং এমনভাবে, যেন আজও আপনার চরিত্রের উপর আপনারই নিয়ন্ত্রণ থাকে।
একজন দার্শনিক বলেছিলেন: আমরা বাস্তবের চেয়ে কল্পনায় বেশি কষ্ট পাই।
সাইকোলজিক্যালি এটা সত্য। Anxiety এর বড় একটা অংশ আসে সেইসব জিনিস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, যেগুলো এখনো ঘটেইনি। আমরা অনেক সময় বাস্তব সমস্যার চেয়ে কল্পিত বিপদকে বেশি ভয় পাই। মস্তিষ্ক তখন ভবিষ্যতের অন্ধকারে এমন সব দানব বানায়, যেগুলো বাস্তবে হয়তো ছিলই না। বা কখনো ঘটবেও না।
তবে স্টোয়িসিজম মানে এই না যে, আপনি রোবট হয়ে যাবেন। কাঁদবেন না, হাসবেন না, কিছু অনুভব করবেন না এটা স্টোয়িসিজমের শিক্ষা হতে পারেনা। প্রকৃত স্টোয়িসিজম হলো: অনুভূতি থাকবে, কিন্তু অনুভূতির দাস হওয়া যাবে না। জীবন পরিচালনা সবসময় সহজ হবে না। মানুষ বদলাবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে না। প্রিয় মানুষ দূরে যাবে। এরপরও যদি নিজেকে শান্ত রাখতে পারেন, তাহলে বাইরের ঝড় আপনার ভিতরটাকে আর সহজে ভাঙতে পারবে না।
তাই এখন একটু থেমে যাওয়া উচিত.! যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, সেটা ছেড়ে দিন। যা আপনার হাতে আছে, সেটার দায়িত্ব নিন এবং একটু নিজের মতো বাঁচুন। Control What You Can. Accept What You Can't.! @ Jahid Hasan
১৪
মেধাবিরা হেরে গেলেও পরিশ্রমীরা হারে না
মানুষের জীবনে সফলতার প্রশ্ন উঠলে প্রথমেই আসে মেধার কথা, কিন্তু বাস্তবতা বলছে সফলতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ধারাবাহিক পরিশ্রম। জন্মগত মেধা একজন মানুষকে শুরুতে এগিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে প্রয়োজন অধ্যবসায়। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের বড় অর্জনগুলো কেবল বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে না বরং নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। মেধাবীরা অনেক সময় দ্রুত সাফল্য পেয়ে আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ে, কিন্তু পরিশ্রমীরা ধাপে ধাপে নিজেদের উন্নত করে যায়। তাই বলা হয়, সাময়িকভাবে মেধাবি হারতে পারে, কিন্তু পরিশ্রমী মানুষ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী অ্যাঞ্জেলা ডাকওয়ার্থের “Grit Theory” অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল উপাদান হলো অধ্যবসায় ও আবেগপূর্ণ পরিশ্রম। তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, IQ নয় বরং ধারাবাহিক চেষ্টা শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের সফলতার বড় পূর্বাভাস। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারল ডুয়েক “Growth Mindset” ধারণায় দেখিয়েছেন, যারা নিজেদের উন্নত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করে এবং কঠোর পরিশ্রম করে, তারা বেশি সফল হয়। অনেক মেধাবী মানুষ ব্যর্থতায় ভেঙে পড়ে কারণ তারা চ্যালেঞ্জের সাথে লড়াইয়ের অভ্যাস তৈরি করে না। অন্যদিকে পরিশ্রমী মানুষ ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে আবার উঠে দাঁড়ায়। ইতিহাসে দেখা যায়, টমাস এডিসন হাজারবার ব্যর্থ হয়ে বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেছিলেন, যা প্রমাণ করে অধ্যবসায় মেধার সীমাকেও অতিক্রম করতে পারে।
সমাজ ও কর্মক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যায়। কর্মজীবনে অনেক মেধাবী ব্যক্তি শুরুতে দ্রুত এগোলেও ধারাবাহিক পরিশ্রমের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ছোট ছোট উন্নতি দীর্ঘমেয়াদে বড় সাফল্য তৈরি করে। পরিশ্রমী মানুষ অভ্যাস গড়ে তোলে, দক্ষতা বাড়ায় এবং সময়ের সাথে অভিজ্ঞতার শক্তি অর্জন করে। তারা প্রতিযোগিতায় হারলেও শেখে, আবার চেষ্টা করে এবং শেষ পর্যন্ত নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নেয়। তাই পরিশ্রম শুধু সফলতার পথ নয়, এটি মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। মেধা মানুষকে সম্ভাবনা দেয়, কিন্তু পরিশ্রম সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়।
মেধা একটি উপহার হলেও পরিশ্রম একটি সিদ্ধান্ত। জীবনের দৌড়ে সাময়িক জয় বা পরাজয়ই শেষ কথা নয়; ধারাবাহিক চেষ্টা মানুষকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। যে মানুষ হাল ছাড়ে না, সে কখনো প্রকৃত অর্থে হারেও না। তাই তরুণ প্রজন্মের উচিত কেবল মেধার উপর নির্ভর না করে শ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়কে জীবনের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করা। শেষ পর্যন্ত বিজয় তাদেরই হয়, যারা প্রতিদিন চেষ্টা করে যায়। @ SAM Motivation
References:
Angela Duckworth – Grit: The Power of Passion and Perseverance
Carol S. Dweck – Mindset: The New Psychology of Success
Ericsson, K. Anders – Deliberate Practice Research
১৫
যে টেবিলে আপনার সম্মান নেই, সেখানে বিরিয়ানি দিলেও খেতে বসবেন না—ক্ষুধা পেটে সওয়া যায়, কিন্তু অপমান নয়!
Feed Your Soul, Not Just Your Stomach
জীবনে চলার পথে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে আপনাকে আপোষ করতে বলা হয়। হয়তো লোভে পড়ে বা পেটের দায়ে আমরা অনেক সময় মাথা নিচু করে ফেলি।
কিন্তু মনে রাখবেন—পেটের ক্ষুধা কয়েক ঘণ্টা থাকে, কিন্তু অপমানের ক্ষত সারাজীবন থেকে যায়।
রাজপ্রাসাদে বসে যদি গোলামের মতো খেতে হয়, তার চেয়ে নিজের কুঁড়েঘরে বসে লবন-ভাত খাওয়া হাজার গুণ সম্মানের।
কেন আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া মহাপাপ? ৩টি কারণ:
১. মেরুদণ্ড বিক্রি করবেন না
খাবার বা টাকার লোভে যদি একবার নিজের সম্মান বিকিয়ে দেন, তবে মানুষ আপনাকে সস্তা ভাবতে শুরু করবে।
আপনি মানুষকে যা শেখাবেন, তারা আপনার সাথে ঠিক সেটাই করবে। আপনি যদি অপমান সহ্য করে নেন, তবে তারা ভাববে—"এর কোনো ব্যক্তিত্ব নেই, একে যা খুশি বলা যায়।"
ক্ষুধা পেটে ঘুমানো কষ্টের, কিন্তু মেরুদণ্ডহীন হয়ে বেঁচে থাকা লজ্জার।
২. মানসিক বিষক্রিয়া (Mental Poison)
সম্মানহীন টেবিলে অমৃতও বিষের মতো লাগে।
যেখানে আপনার উপস্থিতির কোনো মূল্য নেই, যেখানে আপনার কথার কোনো গুরুত্ব নেই—সেখানে জোর করে টিকে থাকার চেষ্টা করবেন না।
যিনি আপনাকে সম্মান করেন না, তিনি আপনাকে ভালোবাসতেও পারেন না। কারণ সম্মানের নামই ভালোবাসা।
৩. না বলতে শিখুন (Walk Away)
সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো 'না' বলতে পারা। যখনই দেখবেন আপনার আত্মসম্মানে আঁচড় লাগছে, তখনই সেই টেবিল, সেই সম্পর্ক বা সেই চাকরি থেকে উঠে দাঁড়ান। দরজা খোলা আছে। সাহস করে বেরিয়ে আসুন। হয়তো কিছুদিন কষ্ট হবে, কিন্তু দিনশেষে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখতে পারবেন।
জীবনটা খুব ছোট। এটাকে কারো দয়ায় বা করুণায় কাটাবেন না। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন আপনার টেবিলে বসার জন্য মানুষকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। কারো অবহেলার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে, নিজের রাজত্বে একা রাজা হয়ে থাকা অনেক ভালো।
নিজেকে বলুন—"আমার ক্ষুধা আছে, কিন্তু লোভ নেই। আমার অভাব আছে, কিন্তু স্বভাব খারাপ নেই।" @ MotivationalQuotesBangla
১৬
রিকভারি উইন্ডো' (Recovery Window)
প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটা ধরে যে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় আপনি নিজের জন্য রাখবেন, মেটাবলিক ভাষায় একে বলা হয় 'রিকভারি উইন্ডো' (Recovery Window)। এই আধা ঘণ্টা সময়ের জন্য আপনি পৃথিবীর সব দায়িত্ব থেকে ছুটি নেবেন। এই সময়ে আপনি কারও মা-বাবা নন, কারও স্বামী-স্ত্রী বা কর্মী নন—আপনি কেবলই একজন মানুষ, যার একটু বিশ্রামের অধিকার আছে। এই সময়টুকুতে আপনাকে কোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে না, কারও জন্য এক গ্লাস পানিও ঢেলে দিতে হবে না। এই সময়টুকুর মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার শরীর ও মস্তিষ্ককে এই বার্তা দেওয়া যে, "যুদ্ধ শেষ, এখন তুমি শান্ত হতে পারো।"
এই ৩০ মিনিট আপনি এমন কিছু করবেন যা আপনার মনকে ভেতর থেকে স্থির করে। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা ক্যামোমাইল চা নিয়ে বারান্দার গ্রিল ধরে বাইরের আকাশ দেখতে পারেন, কারণ ক্যামোমাইল প্রাকৃতিকভাবে স্নায়ুকে শান্ত করে। আপনার পছন্দের কোনো পুরোনো উপন্যাসের কয়েকটি পাতা উল্টে দেখতে পারেন, হালকা কুসুম গরম পানিতে একটি আরামদায়ক গোসল সেরে নিতে পারেন অথবা চুপচাপ চোখ বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের ওঠানামা অনুভব করতে পারেন। এই ছোট ছোট কাজগুলো আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে 'ফাইট অর ফ্লাইট' (লড়াই করো বা পালাও) অবস্থা থেকে বের করে এনে 'রেস্ট অ্যান্ড ডাইজেস্ট' (বিশ্রাম এবং নিরাময়) অবস্থায় নিয়ে আসে। ফলে আপনার হরমোনগুলো নিজেদের কাজ ঠিকমতো করার পরিবেশ পায়।
তবে এই একান্ত সময়ের সবচেয়ে কড়া মেটাবলিক নিয়মটি হলো—মোবাইল, ল্যাপটপ বা যেকোনো ধরনের স্ক্রিন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা। আমরা অনেকেই মনে করি, শুয়ে শুয়ে ফেসবুক বা ইউটিউব দেখাই বুঝি বিশ্রাম। কিন্তু বিজ্ঞান একে বিশ্রাম বলে না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা নীল আলো (Blue light) এবং অনবরত নতুন তথ্যের স্রোত আপনার মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' (Dopamine)-এর হঠাৎ স্পাইক বা বৃদ্ধি ঘটায়। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করার বদলে উল্টো আরও বেশি ক্লান্ত ও উত্তেজিত করে তোলে।
আমাদের মস্তিষ্কের সাথে শরীরের হরমোন তৈরির গ্রন্থিগুলোর একটি গভীর যোগাযোগের রাস্তা আছে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় এইচপিএ-অ্যাক্সিস (HPA-Axis)। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, ঘুমহীনতা এবং স্ক্রিনের আসক্তি এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এলোমেলো করে দেয়। যখন আপনি সব ধরনের স্ক্রিন দূরে সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ নীরবতায় সময় কাটান, তখন এই এইচপিএ-অ্যাক্সিস আক্ষরিক অর্থেই 'রিস্টার্ট' বা পুনরায় সচল হওয়ার সুযোগ পায়। মস্তিষ্ক তখন ওভারি বা ডিম্বাশয়কে সঠিক সিগন্যাল পাঠাতে পারে, যা পিসিওএস-এর লক্ষণগুলো কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
মনে রাখবেন, নিজেকে সময় দেওয়া মানে স্বার্থপরতা নয়। একটি খালি জগ থেকে যেমন আপনি কাউকে পানি ঢেলে দিতে পারবেন না, তেমনি নিজে ভেতর থেকে সুস্থ না থাকলে আপনি পরিবারকেও ভালো রাখতে পারবেন না। @ Better Food, Better Nutrition
১৭
আমেরিকা থেকে জাহাজে করে বরফ আমদানি
১৮০৬ সালে আমেরিকান ব্যবসায়ী ফ্রেডরিক টিউডর (যাকে 'আইস কিং' বলা হতো) নিউ ইংল্যান্ডের হ্রদ থেকে বরফ সংগ্রহ করে জাহাজে করে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ব্যবসা শুরু করেন।
ভারতে বরফ আমদানি:
১৮৩৩ সালের ১২ মে 'টাসক্যানি' নামক জাহাজ ১৮০ টন বরফ নিয়ে বোস্টন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা কলকাতা বন্দরে পৌঁছায়।
বিলাসপণ্য:
সেই সময়ে এই বরফ ছিল অত্যন্ত দামী এবং বিলাসবহুল পণ্য, যা শুধুমাত্র কলকাতার ধনাঢ্য ব্যক্তি ও ব্রিটিশ সাহেবরা ব্যবহার করতেন।
সংরক্ষণ ও ব্যবহার:
এই বরফ সংরক্ষণের জন্য কলকাতায় 'আইস হাউস' বা বরফঘর তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া, এই ব্যবসার সাথে আমেরিকার আপেল, মাখন ও অন্যান্য পণ্যও আনা হতো।
বাণিজ্যের অবসান:
১৮৭৮ সালে ভারতে প্রথম কৃত্রিম বরফ তৈরির কারখানা (বেঙ্গল আইস কোম্পানি) প্রতিষ্ঠিত হলে আমেরিকা থেকে বরফ আনার এই ব্যবসার সমাপ্তি ঘটে।
উনিশ শতকে এটি ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তথ্য: উইকিপিডিয়া সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
১৮
“বরফ রাখার ঘর” ইয়াখচাল
প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ সালের দিকে পারস্যের মানুষ এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করেছিল যা আজকের দিনেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে অবাক করার মতো। তারা তৈরি করেছিল ইয়াখচাল—এক ধরনের বিশাল গম্বুজ আকৃতির কাঠামো, যা বরফ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো।
ইয়াখচাল শুধু একটা “বরফ রাখার ঘর” না, এটা ছিল অত্যন্ত উন্নত কুলিং সিস্টেম। এর দেয়াল ছিল প্রায় ২ মিটার পুরু, যা তৈরি হতো বিশেষ এক ধরনের মাটি, বালি, চুন, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি মিশিয়ে—যাকে বলা হতো “সারুজ”। এই উপাদান তাপ প্রবেশ করতে দিত না। ভেতরের অংশ মাটির নিচে থাকত, ফলে প্রাকৃতিকভাবেই ঠান্ডা থাকত।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো—শীতকালে তারা কাছাকাছি পাহাড় বা খাল থেকে বরফ এনে জমা করত, আবার অনেক ক্ষেত্রে রাতের ঠান্ডা ব্যবহার করে পানিকে বরফে পরিণত করত। তারপর সেই বরফ গরমের সময় পর্যন্ত টিকে থাকত। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু ইয়াখচাল কয়েক হাজার ঘনমিটার বরফ সংরক্ষণ করতে পারত।
এখন প্রশ্ন আসে—শুধু পারস্যেই কি এই ধারণা ছিল? না। প্রাচীন চীনেও বরফ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। চীনের রাজকীয় দরবারে শীতকালে বরফ কেটে সংরক্ষণ করা হতো, যাতে গরমে তা ব্যবহার করা যায়। একইভাবে রোমান সাম্রাজ্যেও পাহাড় থেকে বরফ এনে জমা করার রীতি ছিল। ধনী রোমানরা বরফ ব্যবহার করত পানীয় ঠান্ডা করতে এবং কিছু বিশেষ খাবারে।
তবে পারস্যের ইয়াখচালকে সবচেয়ে উন্নত বলা হয় কারণ তারা শুধু বরফ জমা রাখেনি, বরং বিজ্ঞানসম্মতভাবে তাপ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। আজকের আধুনিক রেফ্রিজারেশনের আগে এটাকে এক ধরনের “ন্যাচারাল ফ্রিজ” বলা যায়।
মধ্যযুগে এসে এই ধারণা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সালাহউদ্দিন আইয়ুবী-এর সময়, অর্থাৎ ১২শ শতকে, মধ্যপ্রাচ্যে বরফ ছিল এক ধরনের বিলাসবহুল পণ্য। দামেস্ক বা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বরফ সংগ্রহ করে উটের কাফেলায় করে কায়রো-তে আনা হতো। পুরো যাত্রায় কয়েকদিন সময় লাগত এবং পথে বহু জায়গায় থামতে হতো, যাতে বরফ পুরোপুরি না গলে যায়।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই বরফ সবার জন্য ছিল না। এটা মূলত শাসক, অভিজাত শ্রেণি এবং ধনী মানুষের জন্য সংরক্ষিত ছিল। সাধারণ মানুষ তখনও বরফকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করত না।
এরপর ১৮ ও ১৯ শতকে এসে বরফের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তখন আমেরিকা-এ “আইস ট্রেড” বা বরফ ব্যবসা শুরু হয়। একজন ব্যবসায়ী Frederic Tudor এই খাতে বিপ্লব ঘটান। তিনি উত্তর আমেরিকার হ্রদ থেকে বরফ কেটে, কাঠের গুঁড়ো দিয়ে ঢেকে জাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠাতেন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—এই বরফ হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছাত। একটি জাহাজে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ টন বরফ পরিবহন করা হতো, এবং যাত্রাপথে প্রায় ২০–৩০% বরফ গলে যেত। তবুও ব্যবসাটা লাভজনক ছিল, কারণ গরম দেশের ধনী মানুষদের মধ্যে এর চাহিদা ছিল প্রচুর।
১৮৩৩ সালে প্রথম আমেরিকান বরফ কলকাতায় পৌঁছায় বলে জানা যায়। তখন এই বরফ এতটাই মূল্যবান ছিল যে শুধুমাত্র ব্রিটিশ সাহেব আর ধনী ব্যবসায়ীরাই এটি কিনতে পারত। সাধারণ মানুষের কাছে এটা ছিল একেবারে বিলাসিতা।
এখন যদি পুরো বিষয়টা একসাথে দেখা যায়, তাহলে বোঝা যায়—বরফ সংরক্ষণের ইতিহাস আসলে ধাপে ধাপে এগিয়েছে।
১৯
সময় এসেছে সামাজিক ভ্রান্ত রীতি ভাঙার
ছোটবেলার কথা একটু ভেবে দেখুন তো! আমাদের সমাজে একটা মেয়ে যখন একটু বুঝতে শেখে, তার হাতে আমরা প্রথম কী তুলে দিই? সুন্দর সুন্দর পুতুল, ছোট্ট মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কিংবা প্লাস্টিকের কিচেন সেট। আমাদের সমাজ এবং অবচেতন মন মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই শিখিয়ে দেয় "তোমাকে বড় হয়ে কারও ঘরের লক্ষ্মী বউ হতে হবে, রান্নাঘর সামলাতে হবে।"
মেয়েটি হয়তো উঠোনের এক কোণে বসে পুতুলের বিয়ে দেয়, আর বাড়ির ছেলেরা তখন মাঠে গিয়ে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলে ঘাম ঝরায়। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সাধারণ আর মিষ্টি একটা দৃশ্য মনে হলেও, নিউট্রিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই চর্চার পরিণতি কিন্তু ভীষণ গভীর ও ভয়ংকর।
ছেলেদের মাঠে দৌড়াদৌড়ি, গাছে ওঠা আর ভারী খেলার কারণে ছোটবেলা থেকেই তাদের শরীরে শক্তিশালী পেশী বা মাসল (Muscle) তৈরি হতে থাকে। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে পুতুল খেলা বা ইনডোর গেমসের কারণে আমাদের মেয়েদের শরীরে পেশীর গঠন ঠিকমতো হতেই পারে না। আর এখানেই শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত ভুল।
আমাদের বাঙালি বা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জিনগত গড়নই এমন যে, আমরা প্রাকৃতিকভাবেই 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট' হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে থাকি। অর্থাৎ, আমাদের শরীর শর্করা বা সুগারকে খুব একটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে না।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়, পেশী হলো আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় 'গ্লুকোজ সিঙ্ক' বা রক্ত থেকে শর্করা শুষে নেওয়ার জায়গা। যার শরীরে পেশী যত সুগঠিত, তার ইনসুলিন সেনসিটিভিটি তত ভালো। কিন্তু আমাদের মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই কায়িক শ্রম বা পেশী-নির্ভর খেলাধুলার বাইরে রাখার কারণে তাদের শরীরে পর্যাপ্ত পেশীই গড়ে ওঠে না। ফলে কৈশোরে পা দিতে না দিতেই সামান্য শর্করা খেলেও তা শরীরে শক্তির বদলে চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে, রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং পুরো মেটাবলিক সিস্টেম ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে।
আর এই দুর্বল পেশী এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের হাত ধরেই শরীরে নীরবে প্রবেশ করে পিসিওএস (PCOS)-এর মতো হরমোনাল মহামারি। খুব অল্প বয়সেই মেয়েরা অনিয়মিত পিরিয়ড, অতিরিক্ত ওজন, থাইরয়েড, চুল পড়া বা ব্রণের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। আমরা তখন চিন্তায় পড়ে যাই, হাজার হাজার টাকার টেস্ট করাই, কিন্তু একবারও এটা ভেবে দেখি না যে, এই মেটাবলিক বিপর্যয়ের বীজ হয়তো আমরাই বপন করেছিলাম তার শৈশবে তাকে মাঠে খেলতে না দিয়ে।
সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জায়গা হলো, যে সমাজ একটা মেয়েকে 'আদর্শ মা' আর 'গৃহিণী' বানানোর জন্য ছোটবেলা থেকেই হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে বসিয়ে রাখে, সেই সমাজই আসলে তার সুস্থ মা হওয়ার পথকে সবচেয়ে বেশি দুর্গম করে দিচ্ছে। মেটাবলিক দুর্বলতা একজন নারীর গর্ভধারণের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে জটিল করে তোলে। পেশীহীন, দুর্বল আর হরমোনের ভারসাম্যহীন একটা শরীর নিয়ে একজন নারী কীভাবে একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেবেন? @ Probal Kumar Mondal
দেশকে উন্নত জাতি উপহার দিতে চাই শিশু বিকাশে যথাযথ পরিচর্যা অপরিহার্য। তবেই না দেশ উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে...
জার্মানিতে যদি বাচ্চাকে আপনি কখনো মারেন তাহলে আপনি শেষ! বাচ্চা ব্যাথা পেলে যদি অবহেলা করেন তাহলেও আপনি শেষ!! জার্মানিতে আমার বাচ্চা, আপনার বাচ্চা বলতে কিছু নাই। এখানে বাচ্চা মা বাবার হয় না। বাচ্চা হচ্ছে জার্মান সরকারের। আপনি জাস্ট জিম্মাদার! আপনি যদি বাচ্চার ঠিকমত কেয়ার বা পরিচর্যা না করেন, আপনার কারনে যদি বাচ্চার কোন ক্ষতি হয়, তাহলে সেই বাচ্চা আপনার নয়, বাচ্চা নিয়ে যাবে আপনার কাছ থেকে। আপনি কিছুই করতে পারবেন না। বাচ্চাকে অহেতুক বকাঝকা করলে, বা হালকা মারলেও বাচ্চা নিয়ে যাবে। জার্মানিতে এই রকম শত শত ঘটনা আছে বাবা মায়ের ভুলের কারনে বাচ্চা হারিয়ে মা বাবা দুজনের পাগলপ্রায় হয়েছেন। @Pranab Kumar Nandi
২০
টমেটো
tomato আজ বিশ্বজুড়ে সালাদ, সস এবং রান্নার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল, বিশেষ করে ১৬–১৮ শতকের ইউরোপে, যখন টমেটোকে ভয়ংকর বিষাক্ত খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মানুষ একে “poison apple” বলেও ডাকত।
তবে আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, টমেটো আসলে কখনোই বিষাক্ত ছিল না। এই ভয়ের মূল কারণ ছিল একটি ভুল বোঝাবুঝি ও সামাজিক শ্রেণিগত অভ্যাস। তখন ইউরোপের ধনী পরিবারগুলো খাবার খাওয়ার জন্য pewter ব্যবহার করত, যেখানে সীসা (lead) মিশ্রিত থাকত।
টমেটো একটি অ্যাসিডিক ফল হওয়ায় এই সীসাযুক্ত পাত্রের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাত। ফলে খাবারে সীসা দ্রবীভূত হয়ে যেত, যা মানুষের জন্য বিষাক্ত। সেই খাবার খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ত বা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিত। কিন্তু মানুষ তখন ভুলভাবে মনে করত যে সমস্যার উৎস টমেটো নিজেই।
এই ভুল ধারণা দীর্ঘ সময় ধরে টমেটোর বিরুদ্ধে ভয় তৈরি করে রাখে। তবে ধীরে ধীরে বিজ্ঞান ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ার সাথে সাথে বোঝা যায় যে আসল সমস্যা ছিল সীসাযুক্ত পাত্র, টমেটো নয়।
বিশেষ করে ১৮–১৯ শতকে টমেটোর চাষ ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহার বাড়তে থাকে, এবং এটি ধীরে ধীরে ইউরোপ ও পরে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের রান্নায় টমেটো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে এবং আধুনিক সস সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে তোলে।
আজ টমেটোকে স্বাস্থ্যকর, ভিটামিন সমৃদ্ধ ও নিরাপদ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—ভুল বৈজ্ঞানিক ধারণা ও অজ্ঞতার কারণে একটি সাধারণ খাবারও দীর্ঘদিন “বিষ” হিসেবে ভুল বোঝা যেতে পারে। @ Ahmed Pipul
২১
মস্তিষ্কের “ভুল সিগন্যাল” বা স্মৃতির বিভ্রম Déjà vu
নতুন জায়গায় গিয়ে হঠাৎ মনে হওয়া—“আমি তো এখানে আগেও এসেছি!”—এই অদ্ভুত অনুভূতিটাই Déjà vu। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি কোনো রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং মস্তিষ্কের এক ধরনের “ভুল সিগন্যাল” বা স্মৃতির বিভ্রম। গবেষণা বলছে, আমাদের মস্তিষ্ক একসাথে বহু স্তরে কাজ করে—দেখা, শোনা, অনুভব করা, আর সেগুলোকে “পরিচিত” না “নতুন” হিসেবে চিহ্নিত করা। কখনো এই প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সামান্য অসামঞ্জস্য তৈরি হলে, একেবারে নতুন অভিজ্ঞতাকেও মস্তিষ্ক ভুল করে পরিচিত বলে ধরে নেয় ([ScienceInsights][1])। এই অনুভূতি সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের বেশি থাকে না, কিন্তু সেই মুহূর্তে যেন বাস্তবতাই একটু কেঁপে ওঠে।
আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, Déjà vu মূলত স্মৃতি আর উপলব্ধির মধ্যে সূক্ষ্ম বিভ্রান্তির ফল। আমাদের মস্তিষ্কে থাকা টেম্পোরাল লোব ও হিপোক্যাম্পাস অংশ স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করে। কোনো দৃশ্য, শব্দ বা গন্ধ যদি আগে দেখা কোনো কিছুর সাথে সামান্য মিল রাখে, তাহলে মস্তিষ্ক পুরোনো স্মৃতির “ছাপ” সক্রিয় করে ফেলতে পারে—কিন্তু পুরো স্মৃতিটা মনে পড়ে না। ফলে আমরা শুধু পরিচিতির অনুভূতিটা পাই, কিন্তু “কোথায় দেখেছি” সেটা মনে করতে পারি না ([Encyclopedia Britannica][2])। আবার কিছু গবেষণা বলছে, এটি হতে পারে নিউরাল সিগন্যালের ক্ষণস্থায়ী বিলম্ব—একই তথ্য দু’বার পৌঁছানোর মতো অনুভূতি তৈরি হয়, যেন একই মুহূর্ত দু’বার ঘটছে ([Sage Journals][3])।
মজার বিষয় হলো, প্রায় ৯৫–৯৭% মানুষ জীবনে অন্তত একবার Déjà vu অনুভব করে, বিশেষ করে তরুণ বয়সে এটি বেশি দেখা যায় ([ScienceInsights][1])। ক্লান্তি, মানসিক চাপ, বা মনোযোগের অভাবও এর সম্ভাবনা বাড়ায়। বিজ্ঞানীরা এটাকে “familiarity without memory” বলে—অর্থাৎ পরিচিতির অনুভূতি আছে, কিন্তু প্রকৃত স্মৃতি নেই। তাই এটি কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং আমাদের মস্তিষ্কের জটিল কাজের একটি ছোট্ট গ্লিচ, যা মাঝে মাঝে আমাদের বাস্তবতার ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। এই কারণেই Déjà vu একদিকে রহস্যময় মনে হলেও, অন্যদিকে এটি আমাদের মস্তিষ্কের বিস্ময়কর কার্যপ্রণালীর একটি জানালা। @ Science News
২২
ডাইনোসরের এক বিশেষ শাখা হচ্ছে আজকের পাখিরা
৬৬ মিলিয়ন বছর আগে, পৃথিবী ছিল ডাইনোসরের স্বর্গরাজ্য—ভয়ংকর শিকারি, বিশাল তৃণভোজী আর আকাশে উড়ন্ত পালকধারী প্রাণীর এক রঙিন দুনিয়া। কিন্তু হঠাৎই মেক্সিকোর বর্তমান ইউকাটান অঞ্চলে আছড়ে পড়ে এক বিশাল অ্যাস্টেরয়েড, যা মুহূর্তেই বদলে দেয় পৃথিবীর ভাগ্য। আগুন, ভূমিকম্প, সুনামি আর বছরের পর বছর সূর্যের আলোহীন অন্ধকার—এই মহাবিপর্যয়ে পৃথিবীর প্রায় ৭৫% প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। মনে করা হয়, সব ডাইনোসরই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—ডাইনোসরের এক বিশেষ শাখা, অর্থাৎ পাখিরা, এই ধ্বংসযজ্ঞ পেরিয়ে টিকে যায়।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে আসছিলেন—কেন শুধুমাত্র পাখিরাই বেঁচে গেল? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বেঁচে থাকার পেছনে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, আকার—পাখিরা ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট, ফলে তাদের খাদ্যের প্রয়োজন কম ছিল। দ্বিতীয়ত, তাদের উড়তে পারার ক্ষমতা তাদের দ্রুত বিপদ এলাকা থেকে সরে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু আসল পার্থক্য তৈরি করে তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং বাসস্থান। যখন গাছপালা ধ্বংস হয়ে যায়, তখন অনেক প্রাণী খাবারের অভাবে মারা যায়। কিন্তু পাখিরা বীজ খেতে পারত—যা দীর্ঘ সময় মাটিতে টিকে থাকতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাসস্থান। অনেক প্রাচীন পাখি গাছে বাস করত, যা আগুন ও ধ্বংসে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কিন্তু আধুনিক পাখিদের পূর্বপুরুষরা বেশিরভাগই মাটিতে বা পানির কাছাকাছি থাকত—যেখানে ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা দ্রুত বেড়ে উঠত, ফলে প্রজন্ম টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। দাঁতবিহীন ঠোঁট, শক্তিশালী ডানা এবং দ্রুত বৃদ্ধি—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই তাদের বেঁচে থাকার মূল অস্ত্র হয়ে ওঠে।
অ্যাস্টেরয়েডের সেই ধ্বংসযজ্ঞ ছিল যেন এক নির্মম “প্রাকৃতিক নির্বাচন খেলা”—যেখানে টিকে থাকার জন্য কোনো নতুন অভিযোজনের সময় ছিল না, বরং যার হাতে আগে থেকেই সঠিক বৈশিষ্ট্য ছিল, তারাই বেঁচে গেছে। সেই খেলায় জয়ী হয় আধুনিক পাখির পূর্বপুরুষরা। আজকের ১০,০০০-এর বেশি পাখির প্রজাতি সেই বিজয়েরই প্রমাণ—তারা আসলে জীবন্ত ডাইনোসর, যারা এক মহাপ্রলয়ের পর নতুন পৃথিবী গড়ে তুলেছে। @ Science News
তথ্যসূত্র (Sources):
* *Scientific American* (May 2026 Issue)
* Steve Brusatte, *The Story of Birds* (2026)
* Field, D.J. et al. (2020) — গবেষণা on Asteriornis fossil
২৩
প্রকৃতির এক দক্ষ সার্জন
প্রকৃতির জগতে শিকার মানেই দ্রুত হত্যা—এটাই আমরা জানি। কিন্তু মাড ডবার বোলতা সেই নিয়ম ভেঙে দিয়েছে এক ভয়ংকর কিন্তু বিস্ময়কর কৌশলে। স্ত্রী বোলতা তার শিকার, সাধারণত মাকড়সা, সরাসরি মেরে ফেলে না। বরং বিষ প্রয়োগ করে তাকে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতে ফেলে দেয়—মাকড়সা তখন বেঁচে থাকে, কিন্তু নড়তে পারে না। এই অবস্থা তৈরি করে একটি “জীবন্ত ফ্রিজ”—যেখানে মাংস পচে না, তাজা থাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। এরপর সে কাদামাটি দিয়ে ছোট ছোট চেম্বার বানিয়ে সেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত মাকড়সাগুলো ভরে রাখে, যাতে তার লার্ভা জন্মের পর একদম টাটকা খাবার পায়। প্রকৃতির এই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা সত্যিই অবিশ্বাস্য!
আরও অবাক করা বিষয় হলো—এই বোলতারা বেছে নেয় সবচেয়ে বিপজ্জনক ও বড় মাকড়সাগুলোকে। ব্ল্যাক উইডো, ব্রাউন রিক্লুস, কিংবা উলফ স্পাইডার—যেগুলো মানুষও ভয় পায়—সেগুলোকেই লক্ষ্য করে মাড ডবার। কারণ বড় মাকড়সা মানেই বেশি পুষ্টি, যা তার বাচ্চাদের দ্রুত বড় হতে সাহায্য করে। শিকার ধরার আগে সে মাকড়সার জালের গঠন খুঁটিয়ে দেখে, বুঝে নেয় কোন দিকটা নিরাপদ। তারপর হঠাৎ করে আক্রমণ করে—একদম নির্ভুল জায়গায় হুল ফোটায়, যেন একজন দক্ষ সার্জন সঠিক স্নায়ুতে ইনজেকশন দিচ্ছে। এই নিখুঁত শিকার দক্ষতা তাকে প্রকৃতির অন্যতম কার্যকর শিকারিতে পরিণত করেছে। @ Science News
২৪
ছোট শিকার ধরতে প্রয়োজনেই মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ হয়েছে
প্রায় ২ লক্ষ বছর আগে মানব ইতিহাসে এক নিঃশব্দ কিন্তু বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটে—যা শুধু শিকার পদ্ধতিই নয়, আমাদের চিন্তাভাবনাকেও বদলে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাচীন মানব প্রজাতিগুলো ভারী পাথরের হাতিয়ার—যেমন কুঠার, ক্লিভার, স্ক্র্যাপার—ব্যবহার করত বিশালাকৃতির তৃণভোজী প্রাণী (মেগাহার্বিভোর), যেমন প্রাগৈতিহাসিক হাতি বা গণ্ডার শিকার করতে। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ৪ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ বছর আগে ধীরে ধীরে এই বড় প্রাণীগুলোর সংখ্যা কমে যেতে শুরু করে—সম্ভবত অতিরিক্ত শিকারের কারণে। ঠিক এই সময়েই হালকা, সূক্ষ্ম এবং বহুমুখী পাথরের সরঞ্জাম—যেমন ব্লেড ও নিখুঁত স্ক্র্যাপার—প্রচলিত হতে থাকে। আর এই পরিবর্তনের মাঝামাঝি সময়েই আবির্ভূত হয় আধুনিক মানুষ, *𝐇𝐨𝐦𝐨 𝐬𝐚𝐩𝐢𝐞𝐧𝐬*।
ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভ্লাদ লিটোভ ও তাঁর দল ৪৭টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি চমকপ্রদ সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তারা দেখেছেন, যেখানে ভারী পাথরের হাতিয়ার হারিয়ে গেছে, সেখানে ১০০০ কেজির বেশি ওজনের প্রাণীর উপস্থিতিও নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর পরিবর্তে ছোট প্রাণীর সংখ্যা ও তাদের শিকারের উপযোগী হালকা সরঞ্জামের ব্যবহার বেড়েছে। ছোট শিকার ধরতে প্রয়োজন ছিল আরও জটিল পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলগত সমন্বয়—যা মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতা (𝐂𝐨𝐠𝐧𝐢𝐭𝐢𝐨𝐧) বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের মতে, এই চ্যালেঞ্জই মানব মস্তিষ্ককে আরও উন্নত হতে বাধ্য করেছে, ফলে বুদ্ধিমত্তা শুধু ফল নয়, বরং অভিযোজনের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
তবে সব বিজ্ঞানী এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি একমত নন। কিছু গবেষক মনে করেন, মানুষের বুদ্ধিমত্তা আগেই উন্নত হচ্ছিল এবং এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন তারই ফল। তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—খাদ্যসংকট মানব জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। একটি বিশাল হাতির দেহ বহুদিন ধরে একটি গোত্রকে খাদ্য জোগাতে পারত, কিন্তু ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে একই পরিমাণ শক্তি পেতে অনেক বেশি শিকার করতে হতো। ফলে বাড়ে সমন্বিত শিকার কৌশল, উন্নত সরঞ্জাম তৈরি এবং সামাজিক সহযোগিতা। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনই হয়তো নিয়ান্ডারথাল ও আধুনিক মানুষের বড় মস্তিষ্কের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। @ Science News **তথ্যসূত্র (Sources):** ★ Quaternary Science Reviews
২৫
এক অভিনব যন্ত্র বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যেখানে সিলিকন চিপ ও বিদ্যুৎ ছাড়া কম্পিউটার কল্পনাই করা যায় না, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের St. Olaf College এবং Syracuse University-এর গবেষকরা তৈরি করেছেন এক অভিনব যন্ত্র—একটি সম্পূর্ণ মেকানিক্যাল কম্পিউটার, যা কাজ করে একেবারে শূন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এই যন্ত্রে নেই কোনো তার, ট্রানজিস্টর বা মাইক্রোচিপ; বরং এটি গঠিত হয়েছে স্টিলের রড ও স্প্রিংয়ের জটিল বিন্যাসে। পদার্থবিজ্ঞানের সরল নীতিকে কাজে লাগিয়ে এই সিস্টেম তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, লজিক অপারেশন এবং এমনকি মেমোরি সংরক্ষণ করতে সক্ষম। এটি মূলত দেখায়, গণনা করার জন্য সবসময় ইলেকট্রনিক্স প্রয়োজন হয় না—পদার্থের ভৌত আচরণও তথ্য বহন করতে পারে।
এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো “হিস্টেরন” নামের একটি বায়-স্টেবল মেকানিক্যাল ইউনিট, যা নির্দিষ্ট বল প্রয়োগের ফলে দুইটি ভিন্ন অবস্থার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Hysteresis—যেখানে একটি সিস্টেমের বর্তমান অবস্থা তার অতীত অবস্থার ওপর নির্ভর করে। একাধিক হিস্টেরনকে স্প্রিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত করে গবেষকরা তৈরি করেছেন জটিল ইন্টারঅ্যাকশন, যেখানে কিছু ইউনিট একে অপরকে “সহযোগিতা” করে, আবার কিছু ক্ষেত্রে “ফ্রাস্ট্রেশন” তৈরি করে বিপরীত আচরণ করে। এর ফলে এই মেকানিক্যাল নেটওয়ার্ক এমন কিছু আচরণ দেখাতে পারে, যা প্রচলিত গিয়ার-ভিত্তিক মেশিনে সম্ভব নয়—যেমন একমুখী প্রভাব বা নন-রিসিপ্রোকাল ইন্টারঅ্যাকশন।
গবেষণায় এই সিস্টেম দিয়ে তিন ধরনের কম্পিউটেশন দেখানো হয়েছে—একটি কাউন্টার, একটি modulo-2 লজিক গেট (যা বিজোড়-জোড় শনাক্ত করে), এবং একটি ল্যাচিং মেকানিজম যা বলের তীব্রতা “মনে রাখতে” পারে। যদিও এই যন্ত্রগুলো এখনো আধুনিক কম্পিউটারের বিকল্প নয়, তবে এদের রয়েছে এক অনন্য সুবিধা: এগুলো বিদ্যুৎ ছাড়াই কাজ করে এবং চরম পরিবেশ—যেমন উচ্চ তাপমাত্রা, বিকিরণ বা রাসায়নিক ক্ষয়—সহ্য করতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি “স্মার্ট ম্যাটেরিয়াল” তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেখানে কোনো বস্তু নিজেই পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে—যেমন উন্নত কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রতিক্রিয়াশীল স্থাপত্য কাঠামো। @ Science News
**তথ্যসূত্র (Sources):**
* Nature Communications (2026 গবেষণা প্রকাশনা)
* ZME Science (April 15, 2026)
২৬
রকেট সাইন্স
রকেট—আজকের দিনে এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং মানব সভ্যতার সবচেয়ে দুঃসাহসিক স্বপ্নের প্রতীক। কিন্তু এই অসাধারণ যাত্রার শুরুটা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত, প্রায় নাটকীয়। ইতিহাসের গভীরে গেলে দেখা যায়, মানুষের আকাশ ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা যতটা পুরনো, সেই স্বপ্নকে বাস্তবের পথে নিয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপটি ছিল যুদ্ধ, আগুন আর বিনোদনের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। প্রায় এক হাজার বছর আগে প্রাচীন 𝐂𝐡𝐢𝐧𝐚-এর রসায়নবিদরা যখন গানপাউডার আবিষ্কার করেন, তখন সেটি ছিল নিছক কৌতূহল আর পরীক্ষার ফল—কিন্তু সেই আবিষ্কারই ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রার বীজ হয়ে উঠবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। শুরুতে এই গানপাউডার ব্যবহার হতো উৎসবের আতশবাজিতে—মানুষের আনন্দ আর বিস্ময় বাড়াতে। কিন্তু খুব দ্রুতই কেউ একজন বুঝে ফেলল—এই বিস্ফোরণ শুধু আলো আর শব্দ তৈরি করতে পারে না, এটি শক্তি তৈরি করে, আর সেই শক্তিকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে কিছু একটা দূরে ছুঁড়ে ফেলা সম্ভব। সেই উপলব্ধিই মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো “রকেট” ধারণার জন্ম দেয়।
১৩শ শতাব্দীতে এসে এই ধারণা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে। 𝐂𝐡𝐢𝐧𝐚-এর সৈন্যরা “ফায়ার অ্যারো” ব্যবহার শুরু করে—তীরের পেছনে ছোট টিউব, ভেতরে গানপাউডার, আর আগুন লাগানো মাত্র তীর নিজে থেকেই সামনে ছুটে যেত। এটি ছিল নিছক অস্ত্র নয়, বরং মানবজাতির প্রথম কার্যকর রকেট প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে 𝐌𝐢𝐝𝐝𝐥𝐞 𝐄𝐚𝐬𝐭 এবং 𝐈𝐧𝐝𝐢𝐚-তে। আর এখানেই গল্পটি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে—১৮শ শতাব্দীতে ভারতের 𝐌𝐲𝐬𝐨𝐫𝐞 অঞ্চলে শাসক 𝐓𝐢𝐩𝐮 𝐒𝐮𝐥𝐭𝐚𝐧 রকেটকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যান, যা সে সময়ের জন্য অবিশ্বাস্য ছিল। তাঁর বাহিনীর তৈরি লৌহ-নলযুক্ত রকেটগুলো এতটাই শক্তিশালী ও নির্ভুল ছিল যে ব্রিটিশ সেনাদের জন্য তা এক ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধক্ষেত্রে এই রকেটের গর্জন শুধু ধ্বংসই আনেনি, বরং ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের কৌতূহলও জাগিয়ে তোলে—কীভাবে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা যায়?
এরপর ধীরে ধীরে রকেট যুদ্ধের হাতিয়ার থেকে বিজ্ঞানীদের কল্পনার কেন্দ্রে চলে আসে। ১৯শ শতাব্দীর শেষভাগ এবং ২০শ শতাব্দীর শুরুতে কিছু দূরদর্শী মানুষ ভাবতে শুরু করেন—যদি এই প্রযুক্তি দিয়ে শুধু শত্রুকে আঘাত করা না গিয়ে, বরং পৃথিবীর বাইরে যাওয়া যায়? এই ভাবনার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেন 𝐊𝐨𝐧𝐬𝐭𝐚𝐧𝐭𝐢𝐧 𝐓𝐬𝐢𝐨𝐥𝐤𝐨𝐯𝐬𝐤𝐲। তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেন যে রকেট বাতাসের ওপর নির্ভর না করেও কাজ করতে পারে, অর্থাৎ শূন্য মহাশূন্যেও এটি চলতে সক্ষম। তাঁর বিখ্যাত রকেট সমীকরণ ভবিষ্যতের সমস্ত মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি হয়ে ওঠে—একটি সমীকরণ, যা মানুষের স্বপ্নকে গণিতের ভাষায় বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়—এই ইতিহাসের এক রহস্যময় ও প্রায় ভুলে যাওয়া চরিত্র আছেন, যিনি এই ধারণাগুলো আরও আগেই কল্পনা করেছিলেন। ১৮৬১ সালে, যখন পৃথিবীতে ঠিকমতো উড়োজাহাজই তৈরি হয়নি, তখন এক স্কটিশ চিন্তাবিদ 𝐖𝐢𝐥𝐥𝐢𝐚𝐦 𝐋𝐞𝐢𝐭𝐜𝐡 তাঁর প্রবন্ধ *𝐀 𝐉𝐨𝐮𝐫𝐧𝐞𝐲 𝐓𝐡𝐫𝐨𝐮𝐠𝐡 𝐒𝐩𝐚𝐜𝐞*-এ এমন একটি যানের কথা বর্ণনা করেন, যা রকেটের সাহায্যে পৃথিবীর বাইরে যেতে পারে। পরে তাঁর বই *𝐆𝐨𝐝’𝐬 𝐆𝐥𝐨𝐫𝐲 𝐢𝐧 𝐭𝐡𝐞 𝐇𝐞𝐚𝐯𝐞𝐧𝐬*-এ এই ধারণা প্রকাশিত হয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো—তিনি শুধু কল্পনা করেননি, বরং 𝐍𝐞𝐰𝐭𝐨𝐧'𝐬 𝐥𝐚𝐰𝐬 𝐨𝐟 𝐦𝐨𝐭𝐢𝐨𝐧 ব্যবহার করে ব্যাখ্যা করেছিলেন কীভাবে রকেট কাজ করে। তিনি বুঝেছিলেন “𝐢𝐧𝐭𝐞𝐫𝐧𝐚𝐥 𝐫𝐞𝐚𝐜𝐭𝐢𝐨𝐧”-এর ধারণা, এবং আরও সাহসীভাবে বলেছিলেন—রকেট শূন্যতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করবে। ভাবুন, এই ধারণা তিনি দিয়েছিলেন প্রায় ৪০ বছর আগে, যখন 𝐑𝐨𝐛𝐞𝐫𝐭 𝐇. 𝐆𝐨𝐝𝐝𝐚𝐫𝐝-এর মতো বিজ্ঞানীদেরও এই সত্য প্রমাণ করতে গিয়ে উপহাস সহ্য করতে হয়েছিল!
তারপর আসে পরীক্ষার যুগ—যেখানে কল্পনা বাস্তবের মাটিতে নামতে শুরু করে। ১৯২৬ সালে 𝐑𝐨𝐛𝐞𝐫𝐭 𝐇. 𝐆𝐨𝐝𝐝𝐚𝐫𝐝 প্রথম সফল তরল জ্বালানিচালিত রকেট উৎক্ষেপণ করেন। এটি ছিল এক নিঃশব্দ বিপ্লব—যেখানে খুব কম মানুষই বুঝতে পেরেছিল, ইতিহাসের এক বিশাল মোড় ঘুরে গেছে। যদিও তাঁর সময়ের অনেকেই তাঁকে পাগল ভাবত, আজ তিনি আধুনিক রকেট বিজ্ঞানের জনক হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কাজই ভবিষ্যতের শক্তিশালী রকেটের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।এরপর ইতিহাস প্রবেশ করে তার সবচেয়ে অন্ধকার অথচ প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে—𝐖𝐨𝐫𝐥𝐝 𝐖𝐚𝐫 𝐈𝐈। 𝐆𝐞𝐫𝐦𝐚𝐧𝐲-তে 𝐖𝐞𝐫𝐧𝐡𝐞𝐫 𝐯𝐨𝐧 𝐁𝐫𝐚𝐮𝐧-এর নেতৃত্বে তৈরি হয় 𝐕-𝟐 রকেট—পৃথিবীর প্রথম দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি ছিল প্রযুক্তির এমন এক দৃষ্টান্ত, যা যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের পথ তৈরি করে দেয়। যুদ্ধ শেষে 𝐔𝐧𝐢𝐭𝐞𝐝 𝐒𝐭𝐚𝐭𝐞𝐬 এবং 𝐒𝐨𝐯𝐢𝐞𝐭 𝐔𝐧𝐢𝐨𝐧 এই প্রযুক্তিকে নিজেদের মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহার করতে শুরু করে। শুরু হয় 𝐒𝐩𝐚𝐜𝐞 𝐑𝐚𝐜𝐞—একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে লক্ষ্য ছিল শুধু জয় নয়, বরং মহাবিশ্বকে ছুঁয়ে দেখা।এই প্রতিযোগিতার প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৫৭ সালে, যখন 𝐒𝐨𝐯𝐢𝐞𝐭 𝐒𝐩𝐚𝐜𝐞 𝐏𝐫𝐨𝐠𝐫𝐚𝐦 উৎক্ষেপণ করে 𝐒𝐩𝐮𝐭𝐧𝐢𝐤 𝟏—মানব ইতিহাসের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ।
এরপর ১৯৬১ সালে 𝐘𝐮𝐫𝐢 𝐆𝐚𝐠𝐚𝐫𝐢𝐧 𝐕𝐨𝐬𝐭𝐨𝐤 𝟏-এ চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন—এটি ছিল সেই মুহূর্ত, যখন মানুষ সত্যিই মহাকাশে পৌঁছে যায়। আর এই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত নাটকীয়তা আসে 𝐍𝐀𝐒𝐀-এর 𝐀𝐩𝐨𝐥𝐥𝐨 𝟏𝟏 মিশনের মাধ্যমে, যখন মানুষ প্রথমবার চাঁদের মাটিতে পা রাখে।এই দীর্ঘ ইতিহাসে একটি কম পরিচিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৯৫০ সালে 𝐂𝐚𝐩𝐞 𝐂𝐚𝐧𝐚𝐯𝐞𝐫𝐚𝐥 থেকে উৎক্ষেপিত 𝐁𝐮𝐦𝐩𝐞𝐫 𝟐 রকেট—যেখানে একটি 𝐕-𝟐 মিসাইলের ওপর আরেকটি রকেট বসানো হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে দেয় যে মানুষ এখন শুধু পরীক্ষা করছে না, বরং সত্যিই মহাকাশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
আজকের দিনে এসে রকেট প্রযুক্তি এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। 𝐒𝐩𝐚𝐜𝐞𝐗 পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করে দেখিয়েছে—মহাকাশ ভ্রমণ শুধু বিজ্ঞানীদের স্বপ্ন নয়, এটি ভবিষ্যতের বাস্তব অর্থনীতি। খরচ কমে গেছে, গতি বেড়েছে, আর নতুন লক্ষ্য স্থির হয়েছে—মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপন।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই বিশাল যাত্রার শুরু হয়েছিল আতশবাজির রঙিন আলো থেকে। একটি সাধারণ উৎসবের আনন্দ থেকে শুরু হয়ে এটি পরিণত হয়েছে মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক অভিযানে। @ Science News
২৭
মুরগির থেকেও ছোট ডাইনোসর
দক্ষিণ আমেরিকার 𝑨𝒓𝒈𝒆𝒏𝒕𝒊𝒏𝒂-এর মরুভূমি অঞ্চলে আবিষ্কৃত এক ক্ষুদ্র ডাইনোসর প্রজাতি বৈজ্ঞানিক জগতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। *𝑨𝒍𝒏𝒂𝒔𝒉𝒆𝒕𝒓𝒊* নামের এই থেরোপড ডাইনোসরটির ওজন ছিল মাত্র প্রায় ১.৫ পাউন্ড—যা একটি সাধারণ মুরগির থেকেও ছোট। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল 𝑵𝒂𝒕𝒖𝒓𝒆-এ, যেখানে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে বিশালাকার ডাইনোসরের যুগেও ক্ষুদ্র প্রাণীদের গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব ছিল।
এই ক্ষুদ্র প্রাণীটি বাস করত এক কঠিন ও প্রতিকূল মরুভূমি পরিবেশে, যা একসময় “𝑲𝒐𝒌𝒐𝒓𝒌𝒐𝒎 𝑫𝒆𝒔𝒆𝒓𝒕” নামে পরিচিত ছিল। এর শরীরের গঠন ছিল অত্যন্ত হালকা, লম্বা পা এবং ভারসাম্য রক্ষাকারী লম্বা লেজ—যা তাকে দ্রুত দৌড়াতে এবং বালুময় ভূমিতে সহজে চলাচল করতে সাহায্য করত। ধারণা করা হয়, এটি ছোট পোকামাকড় বা ক্ষুদ্র প্রাণী শিকার করত। বিশাল ডাইনোসরের ছায়ায় থেকেও *𝑨𝒍𝒏𝒂𝒔𝒉𝒆𝒕𝒓𝒊* নিজের স্বতন্ত্র পরিবেশগত ভূমিকা সফলভাবে পালন করেছিল।
এই আবিষ্কারটি ডাইনোসরের যুগ সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এতদিন মনে করা হতো যে মেসোজোয়িক যুগ শুধুই দৈত্যাকার প্রাণীদের দ্বারা শাসিত ছিল। কিন্তু *𝑨𝒍𝒏𝒂𝒔𝒉𝒆𝒕𝒓𝒊*-এর মতো ক্ষুদ্র শিকারীর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে সেই সময়কার ইকোসিস্টেম ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং ভারসাম্যপূর্ণ। এই গবেষণা ভবিষ্যতে ডাইনোসরের বিবর্তন, বিশেষ করে উড়ন্ত প্রাণীতে রূপান্তরের ধাপগুলো বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। @ Science News
নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র:
* 𝑵𝒂𝒕𝒖𝒓𝒆 𝑱𝒐𝒖𝒓𝒏𝒂𝒍 (𝟐𝟎𝟐𝟔 𝑹𝒆𝒔𝒆𝒂𝒓𝒄𝒉 𝑷𝒖𝒃𝒍𝒊𝒄𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏)
* 𝑰𝒏𝒅𝒊𝒂𝒏 𝑫𝒆𝒇𝒆𝒏𝒄𝒆 𝑹𝒆𝒗𝒊𝒆𝒘 𝑨𝒓𝒕𝒊𝒄𝒍𝒆 (𝑨𝒑𝒓𝒊𝒍 𝟏𝟎, 𝟐𝟎𝟐𝟔)
২৮
পাইথন সাপের মেটাবোলাইট
বিজ্ঞানীরা এবার নজর দিয়েছেন এক বিস্ময়কর প্রাণীর দিকে—পাইথন সাপ। এই সাপ একবার বিশাল খাবার খেয়ে মাসের পর মাস না খেয়েও সুস্থ থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকরা পাইথনের রক্তে এমন একটি বিশেষ যৌগ (pTOS) শনাক্ত করেছেন, যা খাবারের পর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, অথচ শরীরের পেশী ও শক্তি অটুট রাখে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Metabolism জার্নালে, যা ইতিমধ্যেই বৈজ্ঞানিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাইথন যখন খাবার খায়, তখন তার শরীরে বিপুল মাত্রায় বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটে—হৃদপিণ্ড বড় হয়, বিপাকক্রিয়া হাজার গুণ দ্রুত হয়। এই সময় pTOS নামের মেটাবোলাইট প্রায় ১০০০ গুণ বৃদ্ধি পায়। পরীক্ষাগারে ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে, এই যৌগটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে কাজ করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে ওজন কমে কিন্তু কোনো বমি, দুর্বলতা বা পেশী ক্ষয় হয় না—যা বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ওজন কমানোর ওষুধে দেখা যায়।
বর্তমানে বাজারে থাকা জনপ্রিয় GLP-1 ভিত্তিক ওষুধ (যেমন Ozempic বা Wegovy) অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকেই তা বন্ধ করে দেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পাইথনের এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের ওজন নিয়ন্ত্রণ থেরাপি তৈরি করা সম্ভব, যা আরও নিরাপদ ও কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে এই গবেষণা শুধু ওজন কমানো নয়, বয়সজনিত পেশী ক্ষয় (sarcopenia) রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। @ Science News
Sources / References:
* Nature Metabolism (March 19, 2026)
* University of Colorado Boulder Research
২৯
পরিবেশ অনুযায়ী নিজেদের বদলাতে পারার ক্ষমতাই মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল প্রজাতিতে পরিণত করেছে।
মানুষ—𝐇𝐨𝐦𝐨 S𝐚𝐩𝐢𝐞𝐧𝐬—পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য অভিযাত্রী। বরফে ঢাকা আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু করে অক্সিজেন-স্বল্প পাহাড়, এমনকি সমুদ্রের গভীরতাও—প্রায় সব পরিবেশেই আমরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছি। এই ক্ষমতাটাই আমাদের “সুপারপাওয়ার” বলা যায়। তবে বিষয়টা বুঝতে হলে একটা গুরুত্বপূর্ণ সত্য জানা দরকার—
এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় আমাদের গলার গঠনে। মানুষের ল্যারিংক্স বা ভয়েস বক্স অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করে।এই অবস্থানের কারণেই আমরা শব্দকে জটিলভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ভাষা তৈরি করতে পারি—যা আমাদের সভ্যতার ভিত্তি। কিন্তু এর একটি বড় অসুবিধাও আছে। খাবার বা পানি ভুল পথে গেলে সহজেই শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অর্থাৎ আমরা সহজেই শ্বাসরোধে মারা যেতে পারি। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার মানুষ এই কারণে মারা যায়। বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী 𝐉𝐢𝐦𝐢 𝐇𝐞𝐧𝐝𝐫𝐢𝐱-এর মৃত্যুও এই ধরনের একটি ঘটনার উদাহরণ। তাই বলা যায়, কথা বলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য আমরা একটি বাস্তব ঝুঁকি বহন করছি—এটাই “𝐭𝐫𝐚𝐝𝐞-𝐨𝐟𝐟”।
উচ্চ পাহাড়ে গেলে আমরা আরেকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই—কম অক্সিজেন। সাধারণত, শরীর এই সমস্যার সমাধান করে বেশি লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে। এতে রক্ত বেশি অক্সিজেন বহন করতে পারে। কিন্তু এর ফলে রক্ত ঘন হয়ে যায়, যা মাথাব্যথা, দুর্বলতা, এমনকি মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার 𝐀𝐧𝐝𝐞𝐬 অঞ্চলের মানুষ এইভাবেই অভিযোজিত হয়েছে। তাদের ফুসফুস বড়, বুকের খাঁচা প্রশস্ত, এবং রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা বেশি। তবুও, অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভোগেন।
অন্যদিকে, 𝐇𝐢𝐦𝐚𝐥𝐚𝐲𝐚𝐬 অঞ্চলের মানুষের শরীর এই সমস্যার ভিন্ন সমাধান বের করেছে। তাদের শরীরে 𝐄𝐏𝐀𝐒𝟏 নামের একটি জিনের বিশেষ ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, যা অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হতে দেয় না। ফলে তাদের রক্ত ঘন হয় না, এবং তারা তুলনামূলকভাবে কম সমস্যায় উচ্চতায় বসবাস করতে পারে। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই জিনটি এসেছে প্রাচীন মানবগোষ্ঠী 𝐃𝐞𝐧𝐢𝐬𝐨𝐯𝐚𝐧𝐬-এর কাছ থেকে, যাদের সাথে হাজার হাজার বছর আগে মানুষের প্রজনন হয়েছিল। অর্থাৎ, আমাদের শরীরের ভেতরে আজও সেই প্রাচীন ইতিহাসের ছাপ রয়ে গেছে।
সমুদ্রের জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার উদাহরণও কম আশ্চর্যজনক নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজাউ বা সামা জনগোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির নিচে কাটাতে পারে। তাদের শরীরে প্লীহা (𝐬𝐩𝐥𝐞𝐞𝐧) তুলনামূলকভাবে বড়, যা ডাইভ করার সময় অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকা সরবরাহ করে। এতে তারা দীর্ঘ সময় শ্বাস বন্ধ রেখে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, 𝐏𝐃𝐄𝟏𝟎𝐀 নামের একটি জিন এই বৈশিষ্ট্যের সাথে জড়িত। একই সাথে নিয়মিত ডাইভিং-এর অভ্যাসও তাদের শরীরকে আরও দক্ষ করে তোলে। অর্থাৎ, এখানে জেনেটিক অভিযোজন এবং জীবনযাত্রা—দুইটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবকিছু মিলিয়ে, মানুষের শরীর একটি “পারফেক্ট ডিজাইন” নয়—বরং এটি একটি চলমান বিবর্তনের ফল। আমরা কথা বলতে পারি, কিন্তু শ্বাসরোধের ঝুঁকি আছে। আমরা পাহাড়ে বাঁচতে পারি, কিন্তু অসুস্থতার সম্ভাবনা থাকে। আমরা সমুদ্রে ডুব দিতে পারি, কিন্তু তার জন্য শরীরকে বদলাতে হয়। এই বাস্তবতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি—আমরা পরিবেশ অনুযায়ী নিজেদের বদলাতে পারি। আর এই অভিযোজন ক্ষমতাই 𝐇𝐨𝐦𝐨 𝐬𝐚𝐩𝐢𝐞𝐧𝐬-কে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল প্রজাতিতে পরিণত করেছে। @ Science News
তথ্যসূত্র (𝐎𝐩𝐞𝐧-𝐬𝐨𝐮𝐫𝐜𝐞):
𝟏. 𝐋𝐢𝐯𝐞 𝐒𝐜𝐢𝐞𝐧𝐜𝐞 – 𝐇𝐮𝐦𝐚𝐧 𝐞𝐯𝐨𝐥𝐮𝐭𝐢𝐨𝐧 & 𝐚𝐝𝐚𝐩𝐭𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐚𝐫𝐭𝐢𝐜𝐥𝐞𝐬
𝟐. 𝐍𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧𝐚𝐥 𝐈𝐧𝐬𝐭𝐢𝐭𝐮𝐭𝐞𝐬 𝐨𝐟 𝐇𝐞𝐚𝐥𝐭𝐡 – 𝐇𝐢𝐠𝐡 𝐚𝐥𝐭𝐢𝐭𝐮𝐝𝐞 𝐩𝐡𝐲𝐬𝐢𝐨𝐥𝐨𝐠𝐲 𝐫𝐞𝐬𝐞𝐚𝐫𝐜𝐡
𝟑. 𝐍𝐚𝐭𝐮𝐫𝐞 – 𝐄𝐏𝐀𝐒𝟏 𝐠𝐞𝐧𝐞 𝐚𝐧𝐝 𝐃𝐞𝐧𝐢𝐬𝐨𝐯𝐚𝐧 𝐚𝐧𝐜𝐞𝐬𝐭𝐫𝐲 𝐬𝐭𝐮𝐝𝐢𝐞𝐬
৩০
প্রায় ৩.২ মিলিয়ন বছর আগের মানুষ লুসি দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটতেন।
মানব ইতিহাসের গভীর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছেন এক বিস্ময়—𝗟𝘂𝗰𝘆। প্রায় ৩.২ মিলিয়ন বছর আগে, যখন মানুষ পৃথিবীতে আসেনি, তখনই তিনি দুই পায়ে সোজা হয়ে হাঁটতেন। তাঁর চলার ভঙ্গি, শরীরের ভারসাম্য—সবই এতটাই পরিচিত যে দূর থেকে দেখলে হয়তো আজকের মানুষের সাথেই গুলিয়ে ফেলতেন কেউ। কিন্তু বাস্তবটা আরও অবাক করা—তিনি ছিলেন না পুরোপুরি মানুষ, আবার পুরোপুরি বনমানুষও নন।বরং তিনি ছিলেন মানব বিবর্তনের সেই রহস্যময় সেতু,যিনি প্রথমবারের মতো “দুই পায়ে হেঁটে” ইতিহাস তৈরি করেছিলেন ।
১৯৭৪ সালে 𝗛𝗮𝗱𝗮𝗿 অঞ্চলে তাঁর জীবাশ্ম আবিষ্কার হওয়ার পর, বিজ্ঞান জগতে ঘটে যায় এক বিপ্লব। তাঁর কঙ্কালের প্রায় ৪০% অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়—যা এত পুরনো কোনো জীবাশ্মের ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব। তাঁর মেরুদণ্ডের বাঁক, চওড়া পেলভিস, শক্ত হাঁটু—সবই প্রমাণ করে তিনি ছিলেন পূর্ণাঙ্গ দ্বিপদ প্রাণী। অথচ তাঁর মস্তিষ্ক ছিল মাত্র ৪০০–৫০০ সিসি, যা আধুনিক শিম্পাঞ্জির সমান। এর মাধ্যমে একটি বড় ধারণা ভেঙে পড়ে—বুদ্ধি নয়, বরং হাঁটা আগে এসেছে মানব বিবর্তনে। অর্থাৎ, আমরা আগে হাঁটতে শিখেছি, তারপর চিন্তা করতে।
কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো তাঁর দ্বৈত জীবন। তাঁর লম্বা হাত ও বাঁকানো আঙুল ইঙ্গিত দেয় যে তিনি গাছে চড়তেও সমান দক্ষ ছিলেন। দিনে তিনি খোলা প্রান্তরে হেঁটেছেন, আর রাতে বা বিপদের সময় আশ্রয় নিয়েছেন গাছের ডালে। এই অনন্য ক্ষমতাই তাঁর প্রজাতি 𝗔𝘂𝘀𝘁𝗿𝗮𝗹𝗼𝗽𝗶𝘁𝗵𝗲𝗰𝘂𝘀 𝗮𝗳𝗮𝗿𝗲𝗻𝘀𝗶𝘀-কে প্রায় এক মিলিয়ন বছর টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। আজ আমরা যখন তাঁর পুনর্গঠিত মুখের দিকে তাকাই, তখন আসলে আমরা আমাদের নিজের অতীতের প্রতিচ্ছবি দেখি—একটি ক্ষুদ্র দেহে লুকিয়ে থাকা বিশাল ভবিষ্যৎ। @ Science News
**তথ্যসূত্র:**
* 𝗡𝗮𝘁𝘂𝗿𝗲 জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা নিবন্ধ
* 𝗡𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻𝗮𝗹 𝗚𝗲𝗼𝗴𝗿𝗮𝗽𝗵𝗶𝗰 – 𝗟𝘂𝗰𝘆 সম্পর্কিত প্রতিবেদন
৩১
ভবিষ্যতের পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী “নতুন সভ্যতা” গড়ে তুলতে পারে অক্টোপাস!
ভাবুন তো—একদিন হঠাৎ মানুষ নেই! শহরগুলো ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে, প্রকৃতি আবার নিজের রাজত্ব ফিরে পাচ্ছে… আর ঠিক সেই সময়ে সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে আসছে এক অদ্ভুত বুদ্ধিমান প্রাণী—অক্টোপাস! বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী “নতুন সভ্যতা” গড়ে তুলতে পারে এই রহস্যময় প্রাণীরাই!
গবেষকদের মতে, অক্টোপাসের আছে অসাধারণ সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, টুল ব্যবহার করার দক্ষতা, এমনকি জটিল পরিস্থিতি থেকে পালানোর বুদ্ধি। তাদের স্নায়ুতন্ত্র এতটাই উন্নত যে অনেক সময় মনে হয়, তারা যেন একসাথে বহু “মস্তিষ্ক” দিয়ে চিন্তা করছে! যদি মানুষ একদিন বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে এই বুদ্ধিমত্তা আর অভিযোজন ক্ষমতা তাদের পৃথিবীর নতুন শাসক বানাতে পারে।
তবে সবকিছু এত সহজ নয়। অক্টোপাসরা স্বভাবতই একাকী—তাদের মধ্যে মানুষের মতো সমাজ বা সংস্কৃতি নেই। তাই “অক্টোপাস সিটি” বা পানির নিচে সভ্যতা গড়ে তোলা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিবর্তন যদি নতুন পথে এগোয়, তাহলে অসম্ভবও একদিন সম্ভব হয়ে যেতে পারে! @ Science News
৩২
পৃথিবীতে কোনো প্রাণীরজন্ম হতে সিজার লাগে না, অথচ মানুষের কেনো লাগে?
পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর (গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক) জন্ম হতে সিজার লাগে না, অথচ মানুষের কেনো লাগে? এ বিষয়টিকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখা করতে হলে আগে শ্রোণীচক্র সম্পর্কে জানতে হবে। শ্রোণীচক্র হচ্ছে মানব দেহের কোমর ও উরুর মধ্যবর্তী একটা অংশ (ছবি-১)। ইংরেজিতে একে Pelvis বলা হয়। Pelvis বা শ্রোণীচক্রের ভেতরের ফাঁকা অংশকে বলে জন্মনালি (Birth canal)। এখান দিয়েই সন্তান জন্ম হয়। পৃথিবীর সব মানুষই তার মায়ের এই দরজা দিয়ে বের হয়েছে।
যেহেতু নারীরা সন্তান জন্ম দেয়, তাই পুরুষদের শ্রোণী চক্রের চেয়ে নারীদের শ্রোণীচক্র কিছুটা প্রশস্ত ও চওড়া হয়ে থাকে।তবে গর্ভের শিশুর মাথার তুলনায় শ্রোণীচক্র যে খুব বেশি প্রশস্ত এমনটা নয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক খুবই উন্নত। তাই জন্মের সময়ই শিশুর মাথার আকার প্রায় তার মায়ের শ্রোণীচক্রের সমান হয়ে যায়।জন্মের সময় শ্রোণীচক্রের ভেতর দিয়ে আগে শিশুর মাথা, তারপর কাঁধ, তারপর শরীর বের হয়। শ্রোণীচক্র সরু হলে বাচ্চার মাথা ও কাঁধ বের হতে পারে না। মাথা কোনো রকম বের হলেও কাঁধ আটকে যেতে পারে।কারণ মাথার চেয়ে কাঁধ তুলনামূলকভাবে বেশি চওড়া। ফলে স্বাভাবিক প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে। এটা Homo Sapiens বা মনুষ্য-প্রজাতিদের একটা শারীরবৃত্তীয় সীমাবদ্ধতা বা সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই কখনো কখনো সিজার করা লাগে।
Pelvis বা শ্রোণীচক্রের হাড়গুলোর মাঝখানে জয়েন্ট ও লিগামেন্ট থাকে। গর্ভাবস্থায় নারীর শরীর থেকে Relaxin নামক হরমোন নিঃসৃত হয় যা শ্রোণীচক্রের জয়েন্ট ও লিগামেন্টকে নরম ও নমনীয় করে তোলে।
ফলে প্রসবের সময় শ্রোণীচক্রের ফাঁক ১–২ সেমি পর্যন্ত বেড়ে যায়।এতে বাচ্চা-প্রসব অনেকটা সহজ হয়। কিন্তু ফাঁক যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায় তবে শ্রোণীচক্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (খুব বিরল ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে)। তখন শ্রোণীচক্রে তীব্র ব্যথা হয়, হাঁটতে কষ্ট হয়।
অবশ্য চিকিৎসা করলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
স্তন্যপায়ী (Mammals) প্রাণীদের মধ্যে যাদের মুখ ও মাথার খুলি লম্বা, তাদেরকে বলে ডলিকোসেফালিক (Dolichocephalic)।যেমন: গরু, মহিষ, ছাগল, কুকুর, ঘোড়া, জিরাফ, হরিণ, শিয়াল ইত্যাদি। আর যাদের মুখ অপেক্ষাকৃত ছোটো ও প্রায় গোলাকার, তাদেরকে বলা হয় ব্র্যাকিসেফালিক (Brachycephalic)।যেমন: মানুষ, বানর, বাঘ, বিড়াল ইত্যাদি।
মানুষ দুই পায়ে হাটে। তাই তাদের শ্রোণিচক্র সরু বা সংকীর্ণ। এর চেয়ে বেশি চওড়া হলে হাঁটাচলা করতে কষ্ট হবে। মানুষ ছাড়া প্রায় সব স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই চার পায়ে হাটে। এই শরীরবৃত্তীয় সুবিধার কারণে তাদের
শ্রোণিচক্র অপেক্ষাকৃত বড় ও চওড়া হয়।সেই তুলনায় তাদের বাচ্চাদের মাথা ছোট এবং লম্বাটে। তাই বাচ্চা সহজে বের হয়ে আসে। এ কারণে চারপায়ে হাটা
প্রাণীদের সিজার করা লাগে না। গরু, মহিষ, ঘোড়া, জিরাফ সহ অনেক চতুষ্পদী প্রাণীই তাদের সুবিধা
মতো দাঁড়িয়ে বাচ্চা প্রসব করতে পারে। @ মোঃ সাইফুল ইসলাম ফরহাদ
৩৩
আরবি ভাষা ডানদিক থেকে বাম দিকে লেখা ও পড়ার কারণ
আরবি ভাষা ডানদিক থেকে বাম দিকে (Right-to-Left) লেখা ও পড়ার প্রধান কারণ হলো এর ঐতিহাসিক সেমিটিক ঐতিহ্য এবং প্রাচীন লেখার পদ্ধতি। অধিকাংশ ভাষার লেখা বাম থেকে ডানে হলেও, আরবি, হিব্রু, ফার্সি ও উর্দুর মতো ভাষাগুলো ডানদিক থেকেই শুরু হয়।
এর পেছনে মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
আরবি একটি সেমিটিক ভাষা, যা প্রাচীন আরামাইক এবং ফিনিশীয় লিপি থেকে উদ্ভূত। এই প্রাচীন লিপিগুলো হাজার বছর ধরে ডানদিক থেকে বাম দিকে লেখার ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছে।
ব্যবহারিক কারণ (পাথরে খোদাই):
প্রাচীনকালে মানুষ যখন পাথর বা পার্চমেন্টে খোদাই করে লিখত, তখন ডানহাতি লেখকদের জন্য ডান থেকে বামে খোদাই করা বেশি সুবিধাজনক ছিল। এতে হাত বা হাতুড়ির আঘাতে লেখা মুছে যাওয়ার বা দেখার ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি কম থাকত।
কালির ব্যবহার ও সুবিধা:
কালি দিয়ে লেখার সময় ডান থেকে বামে লিখলে হাতের নিচে লেখা কালি পড়ে মুছে যাওয়ার (smudging) সম্ভাবনা কম থাকে, যা বাম থেকে ডানে লিখলে বেশি হতো।
ঐতিহ্য সংরক্ষণ:
সময়ের সাথে সাথে আরবি এই লেখার শৈলীকে নিজের সংস্কৃতি ও শিল্পের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।
লক্ষ্যণীয়:
যদিও আরবি শব্দ ডান থেকে বামে লেখা হয়, কিন্তু আরবি সংখ্যাগুলো বাম থেকে ডানে লেখা হয়। @ মৃণাল নন্দী
৩৪
পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান হিসেবে গণ্য করা হয় কর্ভিড পরিবারের পাখিদের।
পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান হিসেবে গণ্য করা হয় কর্ভিড পরিবারের পাখিদের, যার মধ্যে রয়েছে কাক, দাঁড়কাক, রুক ইত্যাদি। এই পাখিরা এতটাই বুদ্ধিমান যে এদের বুদ্ধিমত্তার তুলনা প্রায়শই প্রাইমেট বা বানরজাতীয় প্রাণীদের সাথে করা হয়। কাকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এরা সারাজীবন ধরে বিভিন্ন নতুন শব্দ শিখতে পারে। প্রচলিত একটি ধারণা হলো এটি কেবল তাদের শ্বাসনালী বা 'সিরিংক্স'-এর গঠনের জন্য হয়; কিন্তু বাস্তবে এটি মূলত তাদের উন্নত মস্তিষ্কের গঠন এবং সিরিংক্সের পেশীগুলোর স্বাধীন নিয়ন্ত্রণের কারণে সম্ভব হয়। বুদ্ধিমত্তার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো এদের হাতিয়ার ব্যবহারের সক্ষমতা, যা সমগ্র প্রাণীজগতের মাত্র ১ শতাংশ প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়।
ডঃ কেইলি সুইফটের গবেষণা অনুযায়ী, যখন কোনো কাক মারা যায়, তখন অন্য কাকেরা অদ্ভুত আচরণ করে যা দেখতে অনেকটা মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো। একটি মৃত কাক দেখে অন্য একটি কাক বিপদ সংকেত দেয় এবং আশেপাশের কাকদের জড়ো করে একটি বড় দল গঠন করে। তারা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় ধরে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে এবং এরপর যে যার মতো চলে যায়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, মৃত কাক দেখলে তাদের মস্তিষ্কের 'অ্যামিগডালা' বা আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশের বদলে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশ উদ্দীপিত হয়। অর্থাৎ, তারা মৃতদেহটিকে শোক পালনের চেয়ে মূলত বিপদের সংকেত এবং ভবিষ্যতের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবেই বেশি দেখে। গবেষণা চলাকালীন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে কাকদের মৃতদেহের কাছাকাছি এসে কৌতূহল বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেও দেখা গেছে।
কাকেরা মৃতদের জন্য সত্যিই শোক পালন করে কিনা বা তাদের মধ্যে সহানুভূতি কাজ করে কিনা, তা এখনও একটি প্রশ্ন হয়েই আছে। ডঃ সুইফটের মস্তিষ্কের স্ক্যানিং পরীক্ষায় কাকদেরকে কেবল 'অপরিচিত' মৃত কাক দেখানো হয়েছিল, তাই পরিচিত বা দীর্ঘদিনের সঙ্গী মারা গেলে তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশ উদ্দীপিত হতো কিনা তা অজানা রয়ে গেছে। তবে অন্যান্য গবেষণায় র্যাভেনদের মধ্যে 'ইমোশন কনটাজিয়ন' বা অন্যের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই কাকদের এই জমায়েতগুলো প্রাথমিকভাবে বিপদের সতর্কতা হিসেবে প্রমাণিত হলেও, এই অত্যন্ত বুদ্ধিমান পাখিদের যে সহানুভূতি অনুভবের সক্ষমতা থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনাটি বিজ্ঞানীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। @ World Vision (বিশ্ব দর্শন)
৩৫
নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী কি পুরোপুরি এক? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে— না।
ন্যাশনাল একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর বিখ্যাত জার্নাল 'PNAS'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা 'PET ইমেজিং' প্রযুক্তির সাহায্যে সরাসরি জীবন্ত মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরির প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মস্তিষ্কে গড়ে ৫২% বেশি সেরোটোনিন উৎপন্ন হয়! বিশেষ করে মস্তিষ্কের 'কর্টেক্স' এবং 'হিপোক্যাম্পাস'-এর মতো স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রক অংশগুলোতে এই পার্থক্য বেশ স্পষ্ট।
সেরোটোনিনকে বলা হয় মস্তিষ্কের "ফিল-গুড কেমিক্যাল" বা ভালো লাগার রাসায়নিক। আমাদের প্রতিদিনের মেজাজ (Mood) নিয়ন্ত্রণ, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা এবং মানসিক চাপ বা স্ট্রেস মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই হরমোনটির ভূমিকা অপরিহার্য। বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কে কতটুকু সেরোটোনিন জমা আছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, মস্তিষ্ক প্রয়োজনের সময় কত দ্রুত এটি তৈরি করতে পারে।
আমরা প্রায়ই দেখি, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বিষণ্ণতা (Depression), অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা (Anxiety) বা মুড ডিজঅর্ডারের মতো সমস্যাগুলো তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরির এই জন্মগত বা স্বাভাবিক পার্থক্যই হয়তো নারীদের এই মানসিক নাজুকতার পেছনের অন্যতম বড় কারণ।
এই গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়— মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবার জন্য 'একই চিকিৎসা' (One-size-fits-all) পদ্ধতি সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে। শারীরিক ও জৈবিক এই প্রাকৃতিক ভিন্নতাগুলোর কথা মাথায় রেখে রোগীদের জন্য আরও @ AH Abubakkar Siddique
৩৬
ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন লালায় বালিশ ভিজে গেছে! অনেকেই এই ব্যাপারটি নিয়ে বেশ লজ্জা পান বা অস্বস্তি বোধ করেন। ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে লালা পড়া (Drooling) আসলে কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি গভীর এবং আরামদায়ক ঘুমের একটি চমৎকার লক্ষণ হতে পারে।
আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের ঘুমের কয়েকটি পর্যায় থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো 'REM' (Rapid Eye Movement) স্লিপ বা গভীর ঘুমের পর্যায়। এই ধাপে আমাদের শরীর সম্পূর্ণ রিল্যাক্সড বা শিথিল অবস্থায় চলে যায়। এমনকি আমাদের মুখের পেশি এবং গিলতে পারার রিফ্লেক্সও (Swallowing reflex) এই সময়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে মুখের জমানো লালা গলার নিচে না গিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, বিশেষ করে যদি পাশ ফিরে বা উপুড় হয়ে ঘুমান।
শরীর যখন পুরোপুরি বিশ্রামে, মস্তিষ্ক তখন তার সবচেয়ে ভারী কাজগুলো সারে:
১. সারাদিনের মেমোরি বা তথ্যগুলোকে গুছিয়ে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত করে।
২. শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে।
৩. 'গ্লিমফ্যাটিক সিস্টেম' (Glymphatic system) এর মাধ্যমে মস্তিষ্ক তার ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে।
৪. পরের দিনের জন্য শরীর ও মনকে নতুন করে প্রস্তুত করে।
অর্থাৎ, লালা ঝরার মানে হলো স্নায়ুতন্ত্র (Nervous system) ঠিকঠাক মতো 'শাট-ডাউন' হয়েছে এবং কোনো বাধা ছাড়াই রিস্টোরেটিভ ঘুমে আচ্ছন্ন। তাই কাউকে অঘোরে এভাবে ঘুমাতে দেখলে তাকে হুট করে ডেকে তুলবেন না, এতে তার মস্তিষ্কের এই গুরুত্বপূর্ণ মেরামতের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সাধারণত এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে, যদি এর সাথে আপনার তীব্র নাক ডাকার সমস্যা থাকে, বা সকালে উঠে গলা শুকিয়ে থাকে, তবে তা 'স্লিপ অ্যাপনিয়া' (Sleep Apnea) বা সাইনাসের সমস্যার কারণে শ্বাসতন্ত্রে বাধার লক্ষণ হতে পারে। কেবল এমন ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। @ AH Abubakkar Siddique
৩৭
পাপুয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার 'দানি' উপজাতির প্রথা
পৃথিবীতে মানুষ নানাভাবে শোক প্রকাশ করে, কিন্তু পাপুয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার 'দানি' উপজাতির প্রথাটি আপনাকে রীতিমতো অবাক করবে। যুগ যুগ ধরে তারা প্রিয়জন হারানোর কষ্ট বোঝাতে নিজেদের হাতের আঙুলের একাংশ কেটে ফেলত! আদিবাসী এই প্রথাটিকে বলা হতো "ইকিপালিন"।
নৃবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রথার পেছনে গভীর একটি কারণ লুকিয়ে আছে। দানি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ছিল, প্রিয়জন হারানোর অদৃশ্য ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণাকে একটি দৃশ্যমান শারীরিক ক্ষতের রূপ দেওয়া প্রয়োজন। মানসিক কষ্টের চেয়ে শারীরিক কষ্ট অনেক সময় মানুষকে শোক সামলাতে সাহায্য করে—এই ধারণা থেকেই তারা কাজটি করত। পাশাপাশি তাদের একটি ধর্মীয় বিশ্বাসও ছিল যে, এই আত্মত্যাগ মৃ/ত ব্যক্তির আত্মাকে শান্তি দেবে এবং পরিবারকে অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচাবে।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, পরিবারের নারীদেরই মূলত এই কঠিন প্রথার ভেতর দিয়ে যেতে হতো। পাথর বা ধারালো কাঠ দিয়ে আ/ঙুলের ওপরের অংশ কে/টে ফেলা হতো। অনেক সময় শক্ত সুতো দিয়ে আঙুলের ডগা এমনভাবে বেঁধে রাখা হতো যাতে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং টিস্যুগুলো মৃ/ত (Necrosis) হয়ে একা একাই খসে পড়ে। আঙুল কাটার পর তারা মুখে ছাই ও কাদা মেখে শোকের তীব্রতা প্রকাশ করত।
১৯৩৮ সালে রিচার্ড আর্চবোল্ড নামের এক অভিযাত্রী প্রথম এই উপজাতির সন্ধান পান। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় বহুকাল তারা আধুনিক জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। তবে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া সরকার এই অমানবিক প্রথাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাউকে আর আঙুল কাটতে হয় না। কিন্তু উপজাতির বয়স্ক নারীদের কাটা আঙুলগুলো আজও সেই প্রাচীন প্রথা ও গভীর শোকের সাক্ষী হয়ে আছে।
পৃথিবীর একেক সংস্কৃতির শোক প্রকাশের ধরন একেক রকম হতে পারে, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা ও কষ্ট সব মানুষের জন্যই চিরকাল এক ও অভিন্ন। @ AH Abubakkar Siddique
৩৮
দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা নীরবতা আপনার ব্রেইনকে সুপারচার্জ করার জন্য যথেষ্ট!
আমরা সারাদিন কত রকম শব্দের মধ্যে থাকি—গাড়ির হর্ন, ফোনের নোটিফিকেশন, মানুষের কোলাহল। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সব কোলাহল থেকে দূরে প্রতিদিন কিছুটা সময় সম্পূর্ণ চুপচাপ বা নীরবে কাটানো আপনার মস্তিষ্কের জন্য কতটা উপকারী হতে পারে তা নিজেই অবলোকন করেন।
১. নতুন ব্রেইন কোষ তৈরি হয়:
সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, নীরবতা মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা নীরবে থাকলে মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস (Hippocampus) নামক অংশে নতুন কোষ জন্মাতে শুরু করে। মস্তিষ্কের এই অংশটি আমাদের স্মৃতি, আবেগ এবং নতুন কিছু শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কথায়, নীরবতা আপনার স্মৃতিশক্তিকে ধারালো করে তোলে।
২. স্ট্রেস এবং টেনশন কমায়:
ক্রমাগত শব্দ আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন (যেমন কর্টিসল) বাড়াতে থাকে, যা আমাদের মানসিক চাপের কারণ হয়। নীরবতা ঠিক এর উল্টো কাজ করে। মাত্র কয়েক মিনিটের নীরবতাও রক্তচাপ এবং স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
৩. মনোযোগ ও সৃষ্টিশীলতা বাড়ায়:
যখন আমরা সব ধরনের কোলাহল থেকে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিই, তখন এটি নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে আপনার ফোকাস এবং সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা দুটোই বেড়ে যায়।
এক কথায়, আজকের এই কোলাহলপূর্ণ জীবনে প্রতিদিন কিছুটা সময় সম্পূর্ণ নীরবে কাটানো আপনার মস্তিষ্কের জন্য একটি শক্তিশালী টনিকের মতো কাজ করে। এর জন্য আপনাকে বনে-জঙ্গলে যেতে হবে না। নিজের ঘরে বা যেকোনো শান্ত জায়গায় ফোন বা অন্য ডিভাইস দূরে রেখে চুপচাপ বসে থাকুন। আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে! @ AH Abubakkar Siddique
৩৯
আইনস্টাইন ফেল করেছিলেন কারণ তাঁর মস্তিষ্ক ক্লাসরুমে ধরত না
আইনস্টাইনের মাথায় যা ছিল সেটা কোনো পরীক্ষার খাতায় ধরা যেত না — আর আপনার মাথায় যা আছে সেটাও হয়তো কেউ এখনো বোঝেনি
যেখান থেকে সব শুরু হয়েছিল
আইনস্টাইনকে তাঁর শিক্ষক একবার বলেছিলেন এই ছেলে জীবনে কিছু করতে পারবে না। স্কুলের পরীক্ষায় তিনি বারবার খারাপ করতেন। সবাই ভেবেছিল মাথায় গোলমাল আছে। কিন্তু আসলে গোলমালটা ছিল সিস্টেমে। কারণ তাঁর মস্তিষ্ক একটা আলাদা পথে ভাবত যেটার নাম Divergent Thinking।
Divergent Thinking মানে কী সহজ করে বললে
বেশিরভাগ মানুষ একটা প্রশ্নের একটাই উত্তর খোঁজেন। এটাকে বলে Convergent Thinking। কিন্তু কিছু মানুষ একটা প্রশ্নে দশটা পনেরোটা উত্তর খুঁজে পান। নতুন কোণ থেকে দেখেন। অদ্ভুত সংযোগ তৈরি করেন। এটাই Divergent Thinking। আর এই ধরনের মস্তিষ্ক পরীক্ষার খাতায় ভালো করে না কারণ পরীক্ষা চায় একটাই নির্দিষ্ট উত্তর।
বিজ্ঞান কী বলছে
জে পি গিলফোর্ড নামের একজন মনোবিজ্ঞানী ১৯৫০ সালে প্রথম প্রমাণ করেন যে সৃজনশীলতা আর প্রথাগত বুদ্ধিমত্তা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা Divergent Thinking করতে পারেন তারা সমস্যার এমন সমাধান খুঁজে পান যেটা সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষ কল্পনাও করেন না। মজার বিষয় হলো এই ক্ষমতা জন্মগত নয় — অভ্যাসে তৈরি হয়।
আপনার জীবনে এটা কোথায় আছে
ধরুন আপনার বন্ধু অফিসে একটা সমস্যায় পড়েছেন। বাকি সবাই বলছে এটা সমাধান হবে না। কিন্তু আপনি হঠাৎ একটা উল্টো রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন যেটা কেউ ভাবেনি। সবাই আপনাকে বলছে আজব। কিন্তু পরদিন দেখা গেল আপনার রাস্তাটাই কাজ করেছে। এটাই Divergent Thinking এর আসল রূপ।
এখন আপনি কী করবেন
প্রতিদিন একটা সাধারণ জিনিস নিয়ে পাঁচটা অস্বাভাবিক প্রশ্ন করুন। যেমন একটা চেয়ার দিয়ে চেয়ার ছাড়া আর কী করা যায়। উত্তর খুঁজতে বসুন। হাসবেন। তারপর দেখবেন মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নতুন পথ তৈরি করতে শিখছে। আইনস্টাইন প্রতিদিন এই কাজটাই করতেন — তবে তখন এর কোনো নাম ছিল না।
শেষ কথা যেটা মনে রাখবেন
যে সিস্টেম আপনাকে ফেল বলেছে সে সিস্টেম নিজেই হয়তো আপনার মস্তিষ্ক পড়তে পারেনি। নম্বর দিয়ে মানুষ মাপা যায় না — এটা আইনস্টাইন নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। @ পার্থ প্রতিম রায়
৪০
অ্যাডাম স্মিথ
অ্যাডাম স্মিথ, যিনি মূলত আধুনিক অর্থনীতির জনক হিসেবে পরিচিত, তিনি ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর আলোকিতকরণ যুগের (Age of Enlightenment) একজন অন্যতম দার্শনিক। তার এই মন্তব্যের মূল কারণ হলো—যুক্তিবাদী চিন্তাধারা, পর্যবেক্ষণ এবং প্রমাণের মাধ্যমে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করা।
স্মিথ কেন বিজ্ঞানকে কুসংস্কারের প্রতিষেধক বলেছেন, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
যুক্তির ভিত্তি (Rationale):
অন্ধবিশ্বাস অজ্ঞতা ও ভয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কুসংস্কার তৈরি করে। বিজ্ঞান মানুষকে 'কেন' এবং 'কীভাবে'-এই প্রশ্নগুলো করতে শেখায়, যা অযৌক্তিক বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়।
পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ:
বিজ্ঞান ধারণার চেয়ে প্রমাণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যেকোনো ঘটনাকে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ এবং তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞান, যা অলৌকিক বা ভৌতিক ধারণার অবসান ঘটায়।
ভয় ও রহস্য দূরীকরণ:
প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির নানা ঘটনাকে (যেমন- রোগ, ঝড়) রহস্যময় মনে করে ভয় পেত। বিজ্ঞান এই প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর আসল কারণ ব্যাখ্যা করে মানুষের মন থেকে ভয় ও অন্ধবিশ্বাস দূর করে।
আলোকিতকরণ আন্দোলনের প্রভাব:
অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে যে জ্ঞানভিত্তিক আন্দোলন (Enlightenment) হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্যই ছিল কুসংস্কার ও অযৌক্তিক সামাজিক প্রথা দূর করে বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোকে সমাজ গড়া।
মূলত:
বিজ্ঞান হলো সত্যের অনুসন্ধান, যা কুসংস্কারের অন্ধকারকে দূর করে সমাজকে উন্নত ও প্রগতিশীল করার হাতিয়ার।
অ্যাডাম স্মিথ
(১৭২৩–১৭৯০) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত স্কটিশ অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক, যাঁকে আধুনিক অর্থনীতির জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি পুঁজিবাদ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির মূল প্রবক্তা ছিলেন।
অ্যাডাম স্মিথ সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
বিখ্যাত গ্রন্থ:
তাঁর সবচেয়ে প্রভাবশালী বই হলো "দ্য ওয়েলথ অফ নেশনস" (পুরো নাম: An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations), যা ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিকে আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বই হলো "দ্য থিওরি অফ মোরাল সেন্টিমেন্টস" (১৭৫৯)।
অদৃশ্য হাত (Invisible Hand): এটি স্মিথের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারণা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বাজারে মানুষ যখন নিজের স্বার্থে কাজ করে, তখন একটি 'অদৃশ্য হাত' বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সমাজ ও অর্থনীতির সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে।
মুক্তবাজার অর্থনীতি:
স্মিথ মনে করতেন যে, অর্থনীতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ ন্যূনতম হওয়া উচিত এবং বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত।
শ্রম বিভাজন (Division of Labor):
তিনি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কাজের বিশেষায়িত বিভাগ বা শ্রম বিভাজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পেশাগত জীবন:
তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিক দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন এবং স্কটিশ নবজাগরণের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
অ্যাডাম স্মিথের চিন্তাধারা আজও বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তথ্য: উইকিপিডিয়া সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
৪১
এক গ্লাস পানি কত ভারী
একজন মনোবিজ্ঞানী স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পড়ানোর সময় রুমে চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় শ্রোতাদের সামনে এক গ্লাস পানি তুলে ধরলেন। তখন সবাই ভেবে ছিল হয়তো তিনি গ্লাস অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভর্তি এই প্রশ্নটি করবেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি হাসিমুখে প্রশ্ন করলেন ” এই এক গ্লাস পানি কত ভারী ”। উত্তর আসল ২৫০ এমএল থেকে ৩০০ এমএল ভেতর ।
তখন মনোবিজ্ঞানী বললেন এর অরজিনাল ওজন এখানে কোন ব্যাপার না, ব্যাপারটা হলো আমরা গ্লাসটিকে কতক্ষন ধরে রাখছি, ওজনটাও সেটার উপর নির্ভর করছে।
যদি আমি এটাকে এক মিনিটের জন্য ধরে রাখি, তবে কোন সমস্যা হবে না। যদি এটাকে এক ঘন্টা ধরে রাখি তবে আমার হাতে ব্যাথা অনুভূত হবে। আর যদি একদিনের জন্য এভাবে ধরে থাকি তবে আমি পক্ষঘাতগ্রস্থ বোধ করব। প্রতিটা ক্ষেত্রে এর আসল ওজনে কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু ধরে রাখার সময় বাড়ার সাথে সাথে এটি ভারী থেকে ভারী লাগতে শুরু করে।
তিনি আরো বিশদে গিয়ে বলেন আমাদের জীবনের চাপ এবং উদ্বেগগুলো এই গ্লাসের পানির মত। যা নিয়ে কিছুক্ষন ভাবলে তেমন কোন কিছু হবে না। কিন্তু এই চাপ আর উদ্বেগ যদি আমরা সারাদিনের জন্য ধরে রাখি, মনে রাখি ।তবে তা আমাদের কোন কিছু করার সামর্থ্যটা কেড়ে নিতে পারে। তাই চাপ কখনো অধিক সময় পর্যন্ত টানতে যাবেন না। এটাকে খুব অল্প সময়ে ছেড়ে দিতে হবে। অর্থাৎ গ্লাস নামিয়ে রাখতে হবে মনে করে।
শিক্ষাঃ
১. আপনি কোন একটা বিষয় নিয়ে অধিক সময় নেতি বাচক ভাবলে হতাশ হবেন ।
২. জীবনের চাপ এবং উদ্বেগগুলো বেশি সময় ধরে রাখা ঠিক হবে না । @ Nusrat Chowdhury
৪২
২১টি সেরা সেরা উপদেশ
১. নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না। এতে আপনি ছোট হবেন।
২. ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখান। "Thank you", "Please" এই কথাগুলো বলতে দ্বিধা করবেন না।
৩. কারো কাছে নিজের সিক্রেট শেয়ার করবেন না বা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।
৪. অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা করতে যাবেন না।
৫. পর্ণে আসক্ত হবেন না। এতে করে আপনি ক্ষণস্থায়ী সুখের জন্য সুন্দর জীবন হারাবেন।
৫. পরচর্চা করবেন না। যে ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের নিন্দা করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে আপনার নিন্দা করে।
৬. গাধার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। তর্কের শুরুতেই গাধা আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে, তারপর আপনাকে সবার সামনে অপদস্থ করবে।
৭. পরে করব ভেবে কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না। আপনি যদি তা করেন শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভাবনা কাজটি আপনি আর কখনোই করতে পারবেন না।
৮. 'না' বলতে ভয় পাবেন না।
৯. স্ত্রীর কারণে বাবা-মাকে বা বাবা মায়ের কারণে স্ত্রীকে অবহেলা করবেন না।
১০. সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। এতে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব হারাবেন।
১১. ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না। তাই জীবনে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে ভয় পাবেন না।
১২. স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না। গুগলে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন না।
১৩. মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না। কারণ, এই একটি কাজের বিলম্বের জন্য আপনি সারাজীবন পস্তাতে পারেন।
১৩. রিলেশনসিপে অসুখী হলে সেটা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। যে সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণা দেয়, ভেতরে অশান্তি সৃষ্টি করে তা জীবন থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন।
১৪. আপনি কখনোই জানেন না যে আপনি স্বপ্নপূরণের ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই, কখনোই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না। বেশিরভাগ মানুষ সাফল্য লাভের কাছাকাছি গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়।
১৫. অকারণে শত্রু বাড়াবেন না।
১৬. কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলবেন না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।
১৭. বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না। তার সাথে আপনার বিয়ে হবেই বা সে আপনাকে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল করবে না এটা আপনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন না।
১৮. যে আপনার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত নয়, তাকে কিছু শেখাতে যাবেন না। সে ঠকবে, ভুল করবে, ধাক্কা খাবে; তারপর একসময় ঠিকই আপনার মূল্য বুঝতে পারবে।
১৯. নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন না। যেখানে আপনার সম্মান নেই সেখান থেকে এখনই নিজেকে গুটিয়ে নিন।
২০. টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে প্রিয়জনদের বঞ্চিত করবেন না।
২১. যেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না। @ Nusrat Chowdhury
৪৩
চাম্পু থেকে শ্যাম্পুর যাত্রা
১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে হিন্দি শব্দ চাম্পু থেকে ইংরেজি শব্দ শ্যাম্পুর উদ্ভব ঘটে। হিন্দি চাম্পু শব্দটি তেল বা তৈলাক্ত কোনো পদার্থ দিয়ে মাথা ম্যাসাজ করাকে বোঝানো হতো।
পরবর্তীকালে একজন ভারতীয়ই প্রথম চুলে শ্যাম্পু করার বিষয়টি সকলের সামনে নিয়ে আসেন, তাঁর নাম ছিল দীন মোহাম্মদ এবং তাঁর হাত ধরেই ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখে শ্যাম্পু।
১৮০০ দশকের শুরুর দিকে দীন মোহাম্মদ স্টিম বাথ-এর প্রচলন শুরু করেন। সেই সময় তিনি তাঁর আইরিশ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে “মোহাম্মদ’স স্টিম অ্যান্ড ভ্যাপার সি ওয়াটার মেডিকেটেড বাথস” নামে ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে একটি পার্লার খোলেন। সেই পার্লারে যে সমস্ত গ্রাহকরা আসতেন তারা সেখানে তুর্কিদের স্টাইলে বাষ্পস্নান বা টার্কিশ বাথের মতো স্নানের সুবিধা পেতেন এবং তার সাথে তাদের চুলের যত্নও নেওয়া হতো। সেক্ষেত্রে দীন মোহাম্মদ ভারতীয় চাম্পি পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। ব্রিটিশরা চাম্পু শব্দটি উচ্চারণ করতে পারত না। তারা চাম্পুকে শাম্পু বলতেন, আর তাই দীন মোহাম্মদ যে পদ্ধতিতে ম্যাসাজ করতেন, সেই পদ্ধতির নাম হয়ে গিয়েছিল শ্যাম্পুইং। এটা অনেকটা বড় চুলের থেরাপিমূলক ম্যাসাজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভারতীয় জড়িবুটি থেকে তৈরি দীন মোহাম্মদের আবিষ্কৃত ভেষজ উপাদান গ্রাহকের মাথা সহ সারা শরীরে লাগিয়ে দেওয়া হতো। তারপর চলত ভারতীয় মালিশ, আর তার ফলে চুল থেকে নখ সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যেত। এরপর বাষ্পস্নান করে তারপর গ্রাহকরা পার্লার ছাড়তেন, আর চাম্পি করার পর বড় বড় চুলের জট ছেড়ে গিয়ে চুল পরিষ্কার হয়ে যেত।
দীন মোহাম্মদের এই চাম্পি পদ্ধতি সেই সময় সাফল্যের মুখ দেখেছিল। ব্রিটেনের কাগজগুলোতে এসব নিয়ে বহু লেখালেখিও হয়েছিল, আর তারপরেই রাজা চতুর্থ জর্জ এবং চতুর্থ উইলিয়াম জর্জ দুজনের মাথায় চাম্পি করার জন্য তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছিল এবং তাঁর পদের নাম ছিল শ্যাম্পুইং সার্জন।
১৮২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি Shampooing or Benefits Resulting from the Use of Indian Medical Vapour Bath নামে একটি বই লেখেন।
পরবর্তীকালে জার্মান রসায়নবিদ হ্যান্স শোয়ার্জকফ আজকের তরল শ্যাম্পু, যেটা আমরা ব্যবহার করি, সেটা আমাদের হাতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিলেন। @ কাকলি পাল বিশ্বাস
৪৪
মাত্র ২০ সেকেন্ডে আপনার শরীর ঘুরে আসে এক ফোঁটা রক্ত, শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটি সত্য।
আমাদের হৃদয় এক মুহূর্তের জন্যও থামে না। এটি প্রতি মিনিটে গড়ে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয় এবং প্রতিবারই রক্তকে সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। এই নিরবচ্ছিন্ন পাম্পিংয়ের কারণেই অক্সিজেন ও পুষ্টি শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায়।
রক্ত শরীরে এত দ্রুত ঘোরার কারণ হলো আমাদের রক্তনালীর জটিল নেটওয়ার্ক। ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালী মিলিয়ে একটি বিশাল পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যার মাধ্যমে রক্ত অবিরাম চলাচল করে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, একটি লাল রক্তকণিকা প্রায় ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো শরীর একবার ঘুরে আসতে পারে। এই দ্রুত চলাচলই আমাদের শরীরকে সক্রিয় রাখে।
আরেকটি লুকানো তথ্য হলো, আমাদের শরীরে প্রায় ১ লক্ষ কিলোমিটার লম্বা রক্তনালী রয়েছে। যদি এগুলো একসাথে সোজা করে রাখা হয়, তাহলে পৃথিবীকে প্রায় দুইবার ঘুরে আসা সম্ভব।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি এত নিখুঁতভাবে কাজ করে যে আমরা সাধারণত এটি অনুভবই করি না। কিন্তু এর সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেই শরীরে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রতিটি স্পন্দন, প্রতিটি রক্তপ্রবাহ আমাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই নিজের শরীরের এই অসাধারণ সিস্টেমকে যত্নে রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। @বিজ্ঞান নিউজ
৪৫
শিশুদের খাবারে নরম, প্রক্রিয়াজাত এবং ব্লেন্ড করা খাবারের আধিক্য, যেভাবে ডেকে আনছে বিপদ
আজকাল অনেক শিশুরই দাঁত উঁচু হয়ে যাচ্ছে, একটা দাঁতের উপর আরেকটা দাঁত উঠে যাচ্ছে বা চোয়ালের গড়ন ঠিকমতো বিকশিত হচ্ছে না। বাবা-মা হিসেবে এই বিষয়টা নিয়ে আমরা প্রায়ই চিন্তায় পড়ে যাই। অনেকেই ভাবেন, এটা বোধহয় কেবলই জিনগত বা বংশগত সমস্যা। কিন্তু জিনগত কারণের বাইরেও আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। চলুন, খুব সহজে এর মূল কারণগুলো একটু জেনে নিই।
প্রথম এবং সবচেয়ে বড় কারণটি লুকিয়ে আছে আমাদের বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে। আজকাল শিশুদের খাবারে নরম, প্রক্রিয়াজাত এবং ব্লেন্ড করা খাবারের আধিক্য অনেক বেশি। আগেকার দিনে শিশুরা শক্ত খাবার চিবিয়ে খেত— যেমন পেয়ারা, আখ, বা হাড়যুক্ত মাংস। একটি শিশুর চোয়ালের হাড় ঠিকমতো চওড়া এবং বিকশিত হওয়ার জন্য এই 'চিবানো' বা মেকানিক্যাল প্রেসারের খুব দরকার। পর্যাপ্ত চিবানোর অভাবে চোয়ালের হাড় সরু থেকে যায়, ফলে সবগুলো দাঁত ওঠার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না এবং দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো পুষ্টির ঘাটতি। হাড় ও চোয়ালের সঠিক গঠনের জন্য শুধু ক্যালসিয়ামই যথেষ্ট নয়। ফ্যাট-সলিউবল ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন ডি (Vitamin D), ভিটামিন কে২ (Vitamin K2) এবং ভিটামিন এ (Vitamin A)-এর দারুণ প্রয়োজন। এই পুষ্টি উপাদানগুলো ক্যালসিয়ামকে সঠিক জায়গায় (অর্থাৎ হাড়ে ও দাঁতে) পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে এই অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলোর অভাব থাকলে চোয়ালের গঠন দুর্বল ও সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া পেটের স্বাস্থ্য বা গাট মাইক্রোবায়োম ঠিক না থাকলেও শরীর খাবার থেকে এই পুষ্টিগুলো ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না।
তৃতীয়ত, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস। এটি অত্যন্ত মারাত্মক কিন্তু প্রায়ই আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অনেক শিশুরই অ্যালার্জি, টনসিল বা এডিনয়েড বড় হয়ে যাওয়ার কারণে নাক বন্ধ থাকে, ফলে তারা মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের জিহ্বা উপরের তালুর সাথে লেগে থাকে, যা তালুকে চওড়া হতে সাহায্য করে। কিন্তু মুখ দিয়ে শ্বাস নিলে জিহ্বা নিচে নেমে যায়। দীর্ঘ দিন এমন চললে উপরের চোয়াল সরু ও উঁচু হয়ে যায় এবং নিচের চোয়াল পেছনের দিকে দেবে যায়।
এছাড়া কিছু ছোটবেলার বদভ্যাসও দাঁত উঁচু হওয়ার জন্য দায়ী। যেমন— দীর্ঘ সময় ধরে আঙুল চোষা, ফিডারে দুধ খাওয়া বা প্যাসিফায়ার (চুষনি) ব্যবহার করা। এই অভ্যাসগুলো ক্রমাগত সামনের দাঁতগুলোকে বাইরের দিকে ঠেলতে থাকে এবং চোয়ালের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। ঢোক গেলার সময় জিহ্বা দিয়ে সামনের দাঁতে ধাক্কা দেওয়ার (Tongue thrusting) অভ্যাস থাকলেও দাঁত উঁচু হতে পারে।
তাহলে আমাদের করণীয় কী?
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই প্রাকৃতিক এবং শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে উৎসাহিত করতে হবে। খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখতে হবে যা ভিটামিন ডি, কে২ এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানে ভরপুর।
পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে শিশু ঘুমের মধ্যে বা জেগে থাকা অবস্থায় মুখ দিয়ে শ্বাস নিচ্ছে কি না। যদি নেয়, তবে এর পেছনের কারণ (যেমন- অ্যালার্জি বা পুষ্টির ঘাটতিজনিত প্রদাহ) খুঁজে বের করে প্রাকৃতিক উপায়ে তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
আমাদের শরীর একটি সমন্বিত সিস্টেম। দাঁত বা চোয়ালের সমস্যা শুধু মুখের ভেতরের সমস্যা নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং জীবনযাপনেরই একটি প্রতিচ্ছবি। একটু সচেতনতা আর সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে আমাদের শিশুদের সুন্দর হাসি ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে। @ Probal Kumar Mondal
৪৬
দক্ষিণ এশিয়ার জাতি ভিত্তিক বৈবাহিক সম্পর্কের প্রথা ও জেনেটিক সমস্যা।
একটি চিকিৎসক দলের গবেষণা-
দক্ষিণ এশিয়া বা ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত জেনেটিক সমস্যাগুলো বোঝার জন্য একটি গবেষণা হয়েছে, আরও হবে, এটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান গবেষণা জেনেটিক কারণে বংশপরম্পরা চলতে থাকা নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বিষয়ে। এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয় ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হলে। নানা কারণে গোটা দক্ষিণ এশিয়াতেই এই সমস্যাটি বেশ প্রবল।
আমাদের শরীরে কাজকর্মের সবটাই নিয়ন্ত্রিত হয় জিনের মাধ্যমে এই কথা আমরা নানা সংবাদমাধ্যমের সূত্রে এখন সবাই জানি।
এই নিয়ন্ত্রণ বোঝার সুবিধের জন্য মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করে নেওয়া যায়। বাহ্যিক বা ফেনোটাইপ আর আভ্যন্তরীণ জেনোটাইপ। বাহ্যিক হলো শরীরের গঠন যেমন লম্বা-বেঁটে চুল কোঁকড়া -সোজা, নাক খাড়া-চ্যাপ্টা এইসব। তবে এগুলো পরিবেশের প্রভাবে এবং খাদ্যাভ্যাসের বদলে যেতে পারে।
ফেনোটাইপ এর বেশিরভাগটাই, সবটা না, আমরা দেখতে ও বুঝতে পারি। জেনোটাইপের বেলা সেটা সম্ভব নয়।
জেনোটাইপ বুঝতে হলে পরীক্ষাগারে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট পড়তে হবে।
জেনোটাইপ আর ফেনোটাইপ দুটোই আসে আমাদের মা-বাবার থেকে। তাদের জিন থেকেই তো সবকিছুর শুরু।
এই মা-বাবার থেকে আসা প্রতিটি মূল জিনের আবার দুটো আলাদা নিয়ন্ত্রক ভার্সন থাকে যেমন আমাদের উচ্চতা সম্বন্ধীয় জিনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সেই জিনের দুটো ভার্সন আছে। একটি লম্বা হবার অপরটি লম্বা না হওয়ার অথবা বেঁটে হবার।
এই একই জিনের দুটো ভিন্ন রূপকে বলা হয় অ্যালিল। অর্থাৎ এক জিনের দুটো ভিন্ন ভার্সন হলো দুটো অ্যালিল।
তাদের কাজের ধরন অনুযায়ী দুটো অ্যালিল এর নাম দেওয়া হয়েছে প্রকট বা ডমিন্যান্ট আর অন্যটি প্রচ্ছন্ন বা রেসেসিভ।
নাম শুনে তাদের চরিত্র বা কাজকর্মের ধরন নিয়ে ধারণা করা যাবে।
বাবা এবং মায়ের থেকে সন্তানের কাছে উচ্চতা সংক্রান্ত জিনের যে দুটি অ্যালিল এসেছে সে দুটোই যদি প্রকট বা ডমিনান্ট হয় তাহলে সন্তান লম্বা হবে। আবার সেই দুটোই যদি প্রচ্ছন্ন হয় তবে সন্তান বেঁটে হবে।
এবার ধরা যাক মা এবং বাবার একজনের থেকে প্রকট ও একজনের থেকে প্রচ্ছন্ন অ্যালিল এসেছে।
সেক্ষেত্রে সন্তানের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ৭৫ শতাংশ আর বেঁটে হবার সম্ভাবনা থাকবে ২৫ শতাংশ।
একটি জিন তার অ্যালিল সহ বসে থাকে ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট স্থানে যাকে বলা হয় লোকাস। এবার বাবা-মা দুজনের থেকেই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন অ্যালিল পেলে তারা একই লোকাসে থাকবে। এই পাশাপাশি একই ধরনের অ্যালিল থাকাটাই হল হোমোজাইগোসিটি বা সমজাতীয়তা।
হোমোজাইগোসে মা-বাবার থেকে পাওয়া সমজাতীয় অ্যালিলগুলোর পাশে বসে যাবে দাদা দাদি নানা নানি থেকে পাওয়া সমজাতীয় অ্যালিল। ফলে হোমোজাগোসটি লম্বায় বেশ বড় হবে। (আনবিক দৈর্ঘ্য)। এই দৈর্ঘ্য দেখে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারেন কত প্রজন্ম ধরে হোমোজাইগোসের ধারাবাহিকতা চলছে এই বংশে। বা কত প্রজন্ম ধরে বংশটি একই বংশে বৈবাহিক সম্পর্ক ঘটিয়ে যাচ্ছে।
আবার বাবা মা, দাদা দাদি নানা নানি এনাদের থেকে পাওয়া ভিন্ন ভিন্ন অ্যালিল থাকলে তাদেরকে বলা হয় হেটেরোজাগোস।
উপরে বলা লম্বা হওয়ার উদাহরণ কেবলমাত্রই উদাহরণ। লম্বা হবার মত করে সব রকম শারীরিক বৈশিষ্ট্যই নিয়ন্ত্রিত হয় জিন ও তার অ্যালিলের দ্বারা।
এখানে আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছি শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা ফেনোটাইপ কিন্তু পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাস নির্ভর।
ধরা যাক সন্তানের লম্বা হওয়ার প্রকট অ্যালিল ছিল মা বাবা দুজনেরই থেকে। কিন্তু কোন কারনে তার বৃদ্ধি হবার সময় উপযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য জোটেনি তাই সে আর লম্বা হতে পারল না। সে বেঁটে থেকে যাবে।
হোমোজাইগোস বংশপরম্পরায় শুধু দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে এমন না একই ভাবে বংশ পরম্পরায় রোগব্যাধিও নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ মা-বাবা দুজনেরই প্রকট অ্যালিল নিয়ে কোন বিশেষ রোগের হোমোজাইগোস থাকলে সন্তানের সেই বিশেষ রোগটি হবেই।
ফলে হোমোজাইগোস থাকা বংশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিশেষ কোন রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো এই রোগগুলো প্রতি প্রজন্মে আরো বাড়তে থাকে। রোগ তখন দুরারোগ্য হয়ে ওঠে।
একইভাবে হোমোজাগোস থাকা বংশে প্রতি প্রজন্মে সন্তানের বিকলাঙ্গ হবার সম্ভাবনাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।
হেটেরোজাগোসে যেমন দৈহিক বৈশিষ্ট্যতার সুনিশ্চিত আশ্বাস দেবেনা তেমনি রোগ বা বিকলাঙ্গতা বহন করবে না। বরং প্রতি প্রজন্মে বংশগত রোগ ও বংশগত বিকলাঙ্গতার সম্ভাবনা কমতে থাকবে।
ফলে এটা সহজেই বোঝা যায় যে হোমোজাইগোস অনাকাঙ্ক্ষিত। আর হোমোজাইগোস আটকানোর উপায় হল ঘণিষ্ঠদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক না ঘটতে দেওয়া।
হোমোজাইগোস সৃষ্টির মতো ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনা পারিবারিক পর্যায়ে হতেই পারে এই জ্ঞান আমাদের রয়েছে। শুধু ঘণিষ্ঠের সীমা জানা দরকার। জানা থাকলে নানা পদ্ধতিতে সেটা আটকানো সম্ভব ।
পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা বিষয়ে ইংরেজিতে ফাস্ট কাজিন ও সেকেন্ড কাজিন শব্দ ব্যবহার করা হয়। বাংলায় কাজিন কে তুতো ভাই বলতে পারি কিন্তু ওই ফাস্ট বা সেকেন্ড কাজিন বলার মত কোন শব্দ বাংলায় আছে বলে আমার জানা নেই । তাই আমি ফার্স্ট কাজিনকে ঘনিষ্ঠ তুতো ভাই আর সেকেন্ড কাজিন কে দুরের তুতো ভাই বলেছি।
সাধারণত ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বর্তমানে সহোদর ভাই বোনে বৈবাহিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। তবে নিকট ও দুরের তুতো ভাইবোনের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক বিষয়ে গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে কোন একক নিয়ম বা প্রথা প্রচলিত নেই। জনসম্প্রদায় বিশেষে তার পরিবর্তন ঘটে।
এই ধরনের সম্পর্ক বিষয়ে আমাদের মতামত বহুলাংশে আমাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নির্ভর। আমাদের নিজেদের ও পরিচিত সম্প্রদায়ের প্রচলিত প্রথাই আমাদের জ্ঞানের সীমা।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন পারিবারিক সীমা ছাড়াও হোমোজাইগোস সৃষ্টি হতে পারে যদি একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমাগত মিলন হতে থাকে। তার অর্থ হল ঘনিষ্ঠতা কেবল পারিবারিক পর্যায়ে নয় জনগোষ্ঠীগত বা সাম্প্রদায়গত পর্যায়েও হতে পারে।
ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবেই একটি বিশাল এলাকা। তাছাড়া এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল। তার চেয়েও বড় সত্য হলো এই এলাকাতে সমগ্র জনসমষ্টি কোন একক জনসমষ্টি নয় বরং ধর্ম বর্ণ জাতি ভাষা ইত্যাদি নানা ভাবে বিভক্ত কয়েক হাজার বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টির সমাহার।
এই কয়েক হাজার জনসম্প্রদায় পাশাপাশি অথচ পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছে শত শত বছর বা সহস্র সহস্র বৎসর। তারা নিজেদের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিচ্ছিন্নতা রক্ষার জন্য বেছে নিয়েছে আপন সম্প্রদায়ের মধ্যেই বৈবাহিক সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখার পদ্ধতি। @ তুষার মুখার্জি
৪৭
যুদ্ধ
যারা যুদ্ধে মারা যায় তারা বোধহয় বেঁচে যায়। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহ মৃত্যুর মাঝে যারা বেঁচে থাকে। তারা? প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি আর শরীরের যুদ্ধের দগদগে ঘা নিয়ে বেঁচে থাকে। তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী মানুষ। একটা গল্প বলি।
সাদাকোর গল্প।
যে মেয়েটা হিরোশিমার পরমাণু বোমার আঘাতেও বেঁচে ছিল , আশ্চর্য তবুও বেঁচে ছিল। কিন্তু যুদ্ধ থেমে গেলেও যুদ্ধের ক্ষত যে রয়ে যায়। যে মেয়েটা 2 বছর বয়সে পরমাণু বোমা পড়তে দেখলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশের মানুষ গুলোকে ধুলোর সঙ্গে মিশে যেতে দেখলো সেই মেয়েটা তারপরেও বাঁচতে চাইলো।।
1945 সাল। হিরোশিমা শহরে আমেরিকা তার লিটিল বয় কে ফেলল জাপানকে শিক্ষা দেবে বলে। দুটো শহরকে জাস্ট কয়েক মুহূর্ত ধ্বংস করে দিলো। অদ্ভুত ভাবে সেদিন তার মা আর ভাইয়ের সঙ্গে বেঁচে গেছিল 2 বছরের ছোট সাদাকো । সে তখন জানেনা পরমাণু বোমা কি? মুহূর্তের মধ্যে নিজের শহরকে মিশে যেতে দেখেও মার হাত ধরে পালিয়ে এলো সদাকো। সেই সময় তার বাবাও ছিল অন্য শহরে, ভাগ্যক্রমে সেও বেঁচে ছিল। অভাব অনটন আর একটা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেশের নাগরিকরা যেভাবে বেঁচে থাকে সে ভাবে সেও একটু একটু করে বেড়ে উঠছিল।
কিন্তু পরমাণু বোমার হাত থেকে তখন কয়েকজন বেঁচে গেলেও তার ভয়ংকর তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রভাব রয়ে গেছিল কয়েক প্রজন্ম ধরে। হিরোশিমা নাগাসিকার আশেপাশের শহরের বেশিরভাগ শিশু আক্রান্ত হয়েছিল লিউকোমিয়া রোগে। জাপানিরা একে বলতো পারমাণবিক বোমা রোগ। ছোট সাদেকো আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে।একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে সে এগিয়ে যাচ্ছিল।
1955 সাল। রেড ক্রস ইয়ুথ ক্লাব সারা পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে শান্তির ব্যর্থ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল।তারা পৌঁছালো সাদাকর হাসপতালে। সেখানে তারা ছোট সাদাকো কে একটা সাদা কাগজের অরিগামি সারোস উপহার দেয়।
জাপানি লোকগাথা অনুসারে অরিগামি সারোস এক হাজার বছর বাঁচে। কেউ যদি প্রতি সারসের আয়ুর প্রতিটি বছরের জন্য একটা করে সাদা সারস ভাঁজ করে তবে তার ইচ্ছে পূরণ হয়।
ছোট সাদাকো ভাবলো সত্যি বুঝি এমন হয়। যুদ্ধের পরেও মানুষ সারসের মত ইচ্ছে পূরণ করে।
সে মহাখুশীতে সারা হাসপাতাল জুড়ে ছোট ছোট কাগজের টুকরো সংগ্রহ করে ভাঁজ করে অরিগামি সারস বানাতে লাগলো। সে 1300 টা অরিগামি সারস বানিয়ে ছিল।
কিন্তু সেই মেয়েটা 13 টা দিনও বেঁচে থাকতে পারেনি। মাত্র 12 বছরেই মারা যায়। যেদিন সে মারা যায় তার মাথার উপর ১৩০০ সাদা সারস ঝুলছিল। তবুও সাদাকোর দু চোখ খুলে আরেকটিবার পৃথিবী দেখেনি।
জাপানের চিলড্রেনস ডে পিস মোমেন্ট এ এরকম সাদা সারসের রেপ্লিকা বসানো আছে। যে রেপ্লিকা মনে করায় এমন হাজার হাজার সাদাকোর কথা।
পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ সাদাকো যুদ্ধ বিধ্বস্ত পৃথিবীর বুকে উড়িয়ে দেয় হাজার হাজার সাদা সারস। ওরা বাঁচতে চায় কিন্তু আমরা যে চাই না। আমরা চাই ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি। তাই আজও যুদ্ধ করি। আমার অপছন্দের প্রতিপক্ষ হারলে খুশি হই, তাদের রক্ত দেখলে উল্লাসে ফেটে পড়ি।
ইরান , ইজরায়েল, আমেরিকা , রাশিয়া আসলে কেউ কারুর প্রতিপক্ষ নয়। প্রধান প্রতিপক্ষ মানুষের সীমাহীন লোভ।
যুদ্ধ কোনদিন কোন অবস্থায় ভালো হতে পারে না। আমাদের সবার একটাই পক্ষ হোক , শান্তির, সৃষ্টির, ভালোবাসার। @ সায়েরী ঘটক
৪৮
ইস্টার আর গুড ফ্রাইডে, শোকের উৎসব না আনন্দের?
ইস্টারের দুদিন আগে গুড ফ্রাইডে। ইস্টার আনন্দের উৎসব, অথচ গুড ফ্রাইডেতে থাকে শোকের আবহ। আবার সেই দিনটাকেও শুভ দিন ধরা হয়- "গুড" ফ্রাইডে। কিন্তু শোকের সাথে উৎসবের আনন্দ কীভাবে মিশে গেল, আর মৃত্যুর দিনই বা শুভদিন কীভাবে হল?
এর কারণ খৃষ্টান ধর্মে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মার্টিরডম- শহীদত্ব। ক্রিসমাস বাদ দিলে প্রায় সমস্ত খৃষ্টান উৎসব হয় শহীদদের স্মরণে, বা অন্ততঃ মৃতদের স্মরণে- হ্যালোউইন, ভ্যালেন্টাইনস ডে, বিভিন্ন সেইন্টদের ফিস্ট ডে, আর অবশ্যই গুড ফ্রাইডে। শহীদদের মৃত্যুদিনকেই তাদের জন্মদিন হিসেবে ধরা হয়- কারণ মৃত্যুর মাধ্যমেই শাহদাতের জন্ম, শহীদের জন্ম। খৃষ্টধর্মের প্রথমযুগে যীশুর জন্মদিন পালন করা হত না, এমনকি তাঁর জন্মদিন কবে জানাও ছিল না। কারণ তিনি মানুষের প্রিয় হয়েছিলেন তাঁর শহীদত্বের মাধ্যমে- আর সেযুগে রাজা-অভিজাত ছাড়া আর কেউ জন্মদিন পালন করত না - এমনকি জন্মদিনের হিসাবও রাখত না।
৩৫৪ অব্দে "ক্রোনোগ্রাফ অফ ফিলোকালাস" নামক রোমান পঞ্জিকায় প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় যে যীশুর জন্ম পচিঁশে ডিসেম্বর। কিন্তু এই দিনটি আসলে রোমান সূর্যদেবতা সোল ইনভিক্টাস-এর পূজার দিবস- মূলতঃ উত্তরায়ণ শুরুর দিন। যীশুর জন্মদিন পালন শুরু হয় চতুর্থ শতকে বা তারও পরে। খৃষ্টানদের হাতে প্রাচীন রোমান ধর্মের বিলুপ্তি হলেও, তারা রোমান সূর্যপূজার পরম্পরা ধরে রেখেছিল ক্রিসমাস পালনের মাধ্যমে।
যীশুর জন্মদিন সত্যিই কারো জানা ছিল না। বাইবেলে এর কোনো উল্লেখ নেই, আর খৃষ্টান ধর্মের প্রথম তিনশো বছরে যীশুর জন্মদিন পালনের কোনো নজিরও নেই। বাইবেলের বিবরণ পড়ে মনে হয় না যীশু শীতকালে জন্মেছেন - বরং বসন্তকালের সঙ্গে তা বেশি মেলে।
অন্যদিকে যীশুর মৃত্যুদিন নিয়ে সংশয় ছিল না। কারণ মৃত্যুর সময়ে যীশু জেরুজালেমে সুপরিচিত ছিলেন, আর তাঁর মৃত্যু হয় ইহুদীদের একটি বড় উৎসব (পেশাহ্ বা পাসোভার) চলাকালীন।
ক্রিসমাস নয়- খৃষ্টান ধর্মে প্রথম সাড়ে তিনশো বছর গুড ফ্রাইডেই (এবং তার দুদিন পর ইস্টার) ছিল প্রধান উৎসব। অবশ্য গুড ফ্রাইডেকে ঠিক উৎসবের মতো করে উদযাপন করা হয় না, উৎসবের দিন হল ইস্টার সানডে - এই দিনটিই কবর থেকে যীশুর পুনরুত্থানের দিন- তাই এটি আনন্দের দিন। মোটকথা খৃষ্টান ধর্মের শুরুর যুগে খৃষ্টান আর ইহুদীদের প্রধান উৎসব ছিল একই- ইহুদীদের পেশাহ্ (পাসওভার) আর খৃষ্টানদের ইস্টার একই সঙ্গে হত- খালি উপলক্ষ আলাদা ছিল। ইহুদীদের জন্য এটি ছিল মিশর থেকে ইসরায়েলে প্রত্যাবর্তনের সূচনার দিন, আর খৃষ্টানদের জন্য এটি ছিল যীশুর প্রত্যাবর্তনের উৎসব। দুটো আলাদা উপলক্ষ, কিন্তু একসাথে মিশে গিয়েছিল, কারণ পেশাহ্ চলাকালীন যীশু জেরুজালেমে বিজয়ীরূপে প্রবেশ করেন, আর তার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
মোটামুটিভাবে চতুর্থ শতক অবধি এই পেশাহ্ আর ইস্টার- দুটো সমাপতিত উৎসব- ইহুদী ও খৃষ্টান- এই দুই আব্রাহামিক ধর্মের প্রধান উৎসব ছিল। এমনকি ইস্টারের নাম তখন ইস্টার ছিল না - খৃষ্টানরা এই উৎসবকে পাসচা বলত- যেটা হিব্রু পেশাহ্ শব্দ থেকেই আগত। ইস্টার শব্দটা জার্মান ভাষা থেকে এসেছে - যার সঙ্গে খৃষ্টান ধর্মের সম্পর্ক নেই। প্রাচীন জার্মান দেবী এস্ট্রের উৎসব এই বসন্তের শেষে অনুষ্ঠিত হত- সেখান থেকে ইস্টার নাম এসে থাকতে পারে। যদিও এই জার্মান উৎসবের সঙ্গে ইহুদীদের পেশাহ্ উৎসবের কোনো সম্পর্ক নেই - কিন্তু দুটোরই উদযাপন হত বসন্ত বিষুবকে ঘিরে।
খৃষ্টান, ইহুদী আর ইসলাম - এই তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের মধ্যে প্রথম দুটির প্রধান উৎসব দীর্ঘদিন ধরে ছিল এই পেশাহ্ বা ইস্টার। ইসলামেও কি তাইই ছিল প্রথম দিকে? সেই সম্ভাবনা আছে - কারণ, কুরআনে মাত্র একবারই ঈদ শব্দটা ব্যবহার হয়েছে আর সেটা যীশুর একটি মিরাকেলের প্রেক্ষাপটে - আর ঘটনাটা সম্ভবতঃ যীশুর লাস্ট সাপারের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রসঙ্গ দেখা যায় কুরআনের সুরা ৫:১১৪তে।
এখানে শিষ্যরা যীশুকে অনুরোধ করছে ঈশ্বরের কাছে এক টেবিল খাবার চাইতে- এবং সেই টেবিলকেই তারা ঈশ্বরের প্রমাণ হিসেবে দেখবে। যীশু তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন- হে ঈশ্বর আমাদের এক টেবিল খাদ্য পাঠাও- সেই খাবারই হবে আমাদের ঈদ (অর্থাৎ উৎসব)। কুরআনে ঈদের উল্লেখ এই একবারই পাওয়া যায়। এই ঈদ সম্ভবতঃ লাস্ট সাপারের কাহিনী।
এছাড়াও লক্ষণীয় - খৃষ্টানরা যেরকম গুড ফ্রাইডের আগে চল্লিশ দিন লেন্টের উপোস রাখে, মুসলিমরাও এক মাস উপোস রাখে ঈদ উল ফিতরের আগে।
আবার বকর-ঈদের মূল ঘটনা অর্থাৎ আব্রাহামের পুত্রবলিদানের ঘটনাও পাসওভারের দিনই হয়েছিল বলে ধরা হয়। অর্থাৎ অতীতে কোনো এক সময়ে তিনটি আব্রাহামিক ধর্মের প্রধান উৎসব ছিল এই পাসওভারের দিনটিই। @ সুদীপ্ত পাল
৪৯
লিবিয়ার গাদ্দাফি এবং ফ্রন্ট পেজ স্টোরি
হিলারি ক্লিনটনের উপদেষ্টা সিডনি ব্লুমেনথালের ২০১১ সালের ২রা এপ্রিলের ফাঁস হওয়া ই-মেইল পড়লে পরিষ্কার বোঝা যায়—লিবিয়া আক্রমণের অন্যতম মূল কারন ছিলো গাদ্দাফির লুকানো ১৪৩ টন সোনা, গণতন্ত্র কিংবা বাকস্বাধীনতা না।
উইকিলিকসের ফাঁস হওয়া হিলারির সেই ই-মেইলগুলো আজ যেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'ক্রাইম ডকুমেন্ট'!
গাদ্দাফি চেয়েছিলেন 'গোল্ড দিনার' চালু করে আফ্রিকার তেল-গ্যাস নিজস্ব মুদ্রায় কেনাবেচা করতে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন 'ইউনাইটেড স্টেটস অফ আফ্রিকা'র, যা সফল হলে ফরাসি মুদ্রা (CFA franc) এবং মার্কিন ডলারের একাধিপত্য চিরতরে ধসে পড়ত। নব্য উপনিবেশবাদ টিকিয়ে রাখতে আফ্রিকার ১৪টি দেশের জিডিপির প্রায় ৫০-৬৫% টাকা আজও ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়।
গাদ্দাফি এই শিকল ভাঙতে চেয়েছিলেন বলেই তিনি পশ্চিমাদের এক নম্বর টার্গেটে পরিণত হন। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি দেখুন—ফরাসি প্রেসিডেন্ট সারকোজি নিজের নির্বাচনের সময় গাদ্দাফির কাছ থেকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নিজের বেইমানির সব প্রমাণ মুছে ফেলতেই তিনি লিবিয়া আক্রমণের প্রধান প্রবক্তা হয়ে দাঁড়ান। সারকোজির আজ দুর্নীতির দায়ে জেল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু গাদ্দাফি আজ নেই, নেই সেই সমৃদ্ধ লিবিয়াও।
গাদ্দাফির সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রজেক্ট ছিল 'গ্রেট ম্যান-মেড রিভার' (GMR)। সাহারা মরুভূমির তলদেশ থেকে প্রাচীন সুপেয় পানির স্তরের সন্ধান পেয়ে তিনি ৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। একে বলা হয় 'বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য'। এর মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন ৬৫ লক্ষ কিউবিক মিটার পানি লিবিয়ার শুষ্ক শহরে পৌঁছে দিতেন। মজার ব্যাপার হলো, লিবিয়ার কোনো ঘরে পানির বিল দিতে হতো না, পানি ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি! এটি পশ্চিমা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর 'পানির ব্যবসা'র জন্য ছিল এক বিরাট হুমকি।
যে লিবিয়াতে নবদম্পতিদের ঘর গোছানোর জন্য সরকার থেকে ৫০ হাজার ডলার (৬০ হাজার দিনার) নগদ অনুদান দেওয়া হতো, যেখানে কোনো লোডশেডিং ছিল না, শিক্ষার হার ছিল আফ্রিকার সর্বোচ্চ এবং চাল-ডালের ওপর বিপুল ভর্তুকি ছিল—সেই লিবিয়াকে স্রেফ ডলারের সাম্রাজ্য রক্ষা করতে ধ্বংস করা হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোকে প্রতি বছর ৫০০ মিলিয়ন ইউরো স্যাটেলাইট ভাড়া দিতে হতো ইউরোপকে। গাদ্দাফি নিজের ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে 'র্যাসকম' (RASCOM) স্যাটেলাইট বানিয়ে পুরো আফ্রিকাকে ইউরোপের এই ডিজিটাল দাসত্ব থেকে মুক্তি দিচ্ছিলেন।
আচ্ছা, যুদ্ধের পর ভল্টে থাকা সেই ১৪৩ টন সোনা কোথায় গেল? ভল্ট তো আজ খালি! এই সোনার পাহাড় কারা লুট করল, সেই হিসাব কি কোনো মেইনস্ট্রিম মিডিয়া দিয়েছে?
ইতিহাসের এই নির্মম প্যাটার্নটা খেয়াল করুন—সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দেওয়া হলো 'ওয়েপন্স অফ ম্যাস ডেস্ট্রাকশন' (গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র) রাখার মিথ্যা অজুহাতে। অথচ কয়েক বছর পর মার্কিন সিনেট রিপোর্টেই বলা হলো সেখানে কিছুই পাওয়া যায়নি। গাদ্দাফিকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো 'মানবাধিকার লঙ্ঘনের' নাটক সাজিয়ে। আর সিরিয়ার বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করা হলো 'শিয়া কাফের' ট্যাগ দিয়ে। সিরিয়া যুদ্ধের আসল কারণ ছিল কাতার থেকে ইউরোপ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন বসানোর প্রস্তাবে আসাদের 'না' বলা। সেই এক 'না'-এর পর থেকেই রাতারাতি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (যেমন কানাডিয়ান ইন্টেলিজেন্স) শামীমা বেগম কিংবা জিহাদী জনদের মতো উগ্রপন্থীদের সিরিয়ায় ঢোকার ব্যবস্থা করে দিল।
২০২৬-এ এসে যখন আমরা খামেনিকে হত্যার খবর শুনি, তখন সেই একই পুরনো 'পরমাণু বোমা তৈরীর চেষ্টার' অজুহাত দেওয়া হয়। আসলে ধর্ম, মানবাধিকার বা পরমাণু বোমা—এগুলো স্রেফ ফ্রন্ট পেজ স্টোরি। ভেতরের আসল সত্য হলো সম্পদ দখল, পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের একাধিপত্য রক্ষা করা। যে নেতা পশ্চিমা অর্থনৈতিক দাসত্ব মানবে না, তাকেই কোনো না কোনো ট্যাগ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে। @ Saiful Islam Shamim
৫০
দেবদাসী প্রথা
সুদূর অতীতে আর্য অধিকারভুক্ত অঞ্চলে যে গোড়ালিচালু ছিল, তা কালক্রমে আধুনিকযুগের ভারতে দেবদাসী প্রথা কিভাবে নিম্ন জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল । ইতিহাস বলে যে, স্বাধীনতার পরেও মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটকের মন্দিরে ব্যাপকভাবে দেবদাসী নিয়োগ করবার প্রথা চালু ছিল। সরকারি রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, স্বাধীনতা সমকালীন মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চলের পতিতালয়গুলিতে নিয়মিতভাবে এই দেবদাসী সম্প্রদায় থেকে মেয়েদের পাঠানো হত; এমনকি কলকাতা, মাদ্রাজ ও দিল্লিও তখন এই চক্রের বাইরে ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যের বহু অঞ্চলে ভারতীয় শ্রমিকরা যে উপনিবেশ স্থাপন করেছেন—তাঁদের, এবং স্থানীয় নবধনিকদের প্রয়োজন মেটাবার জন্য স্বাধীনতার পরেও একটা দীর্ঘসময় ধরে যেসব নারীরা ভারতবর্ষ থেকে বাইরে চালান হয়েছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ এই দেবদাসী সম্প্রদায়ই ছিলেন। এমনকি খোদ ভারতের কেরল অঞ্চলের সমুদ্রবেলা কোভালম ও গোয়ার সমুদ্রবেলার বিভিন্ন ছোটবড়ো হোটেলে অর্দ্ধাবৃত যৌননৃত্য ‘ক্যাবারে’ আধুনিকযুগে প্রায় স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে উঠেছিল। কিছুকাল আগেও এসব জায়গায় ক্যাবারে আর্টিস্ট হিসাবে যেসব নারীরা নিযুক্ত হতেন, তাঁদের কাজই ছিল যৌন উদ্দীপনাময় নৃত্যপ্রদর্শন এবং সময়ে সময়ে বেশ্যাবৃত্তি করা। অন্যদিকে ধনদেবতা কুবেরের নব মন্দিরের এই নতুন দেবদাসীদের তখন মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হত। অতীতে সচরাচর উচ্চশ্রেণীর মানুষেরাই দেবদাসীদের রক্ষক ও উপভোক্তা হতেন;
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল যে, স্বাধীন ভারতে দক্ষিণ ভূখণ্ডে শুধুমাত্র নিম্নজাতীয়দের মধ্যেই প্রচলিত থাকা এই দেবদাসী প্রথা ‘মাঙ্গ’ ও ‘মাহার’ জাতির মধ্যে আবদ্ধ ছিল! বরাবরই এই জাতির মানুষদের প্রধান উপাস্য দেবী হলেন ‘ইয়ালাম্মা’ বা ‘ইয়েলাম্মা’। আজও কর্ণাটকের বেলগাও জেলার সৌন্দাতী (Saundatti)–তে (ইয়েলেম্মার মন্দিরে যাওয়ার পথে) একটি প্রাচীন মতঙ্গী মন্দির অ পুকুর পাওয়া যায়। সেখানেই নারি-পুরুষ সবাইকে নগ্ন হয়ে স্নান সেরে প্রথমে পূজা দিতে হয়, আর এরপরে ইয়েলেম্মার মন্দিরে যেতে হয়।
শুধু ‘মাঙ্গ’ বা ‘মাহার’ জাতির মানুষরা নন, বরং ‘গেল্লার’ ও ‘নায়ক’ জাতির লোকেরাও দক্ষিণ ভারতের মন্দিরগুলিতে নিজেদের ঘরের নারীদের দেবদাসীরূপে উৎসর্গ করতেন, তবে দক্ষিণ ভারতে দেবদাসী নিয়োগের গৌণ কারণগুলির মধ্যে কতগুলি অবশ্য নিম্নজাতীয়দেরই লোকাচার বা সংস্কারপ্রসূত ছিল। যেমন—
(১) একটা পরিবারে অনেকগুলি কন্যা সন্তান থাকলে তাঁদের মধ্যে অন্ততঃ একটিকে দেবতার কাছে দিতে হবে, এটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ ছিল। আর এজন্য মেয়েটির মা-বাবাও বিশেষ দুঃখিত হতেন না।
(২) কোনো দম্পতি সন্তানহীন হলে মানত করে প্রথম কন্যা সন্তানটিকে দেবতার কাছে উৎসর্গ করাটা দক্ষিণ ভারতে দীর্ঘসময় ধরে একটা প্রাচীন রীতি হিসেবে প্রচলিত ছিল। আর এই রীতি অনুসারে এধরণের কন্যা সন্তানকে তখন সাত-আট বছর বয়সের মধ্যেই মন্দিরে উৎসর্গ করতে হত।
(৩) সবথেকে উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল যে, দেবদাসী হিসেবে উৎসর্গীকৃত কন্যা নিজের পরিবারে অ সমাজে পুত্রসন্তানের মর্যাদা লাভ করত। আর কন্যাকে দেবদাসী হিসেবে মন্দিরে উৎসর্গ করবার সময়ে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অন্ততঃ পাঁচজন ‘জোগতি’কে আহ্বান করতে হত, এবং তাঁদের ভিক্ষাপাত্রে সৌখিন পুরুষদের যে অর্থ ও অন্যান্য উপহারসামগ্রী জমা পড়ত, সেসবও এই দেবদাসীর পরিবারেরই প্রাপ্য হত। তাছাড়া পাততাবৃত্তিলব্ধ অর্থ পরিবার প্রতিপাদনের কাজে লাগত বলে পরিবারের সবথেকে সুন্দরী নারীটিকেই দেবদাসীর জন্য বেছে নেওয়া হত,— আবার একইসাথে অবশ্য শারীরিক কোন ত্রুটির ফলে যেসব নারীর বিবাহযোগ্য পাত্র জুটত না, তাঁদেরও যেমন মন্দিরে দেবদাসী হিসেবে উৎসর্গীকৃত করা হত।
এসব ছাড়াও দক্ষিণ ভারতে একটা দীর্ঘসময় ধরে আরো কতগুলি সংস্কার চালু ছিল। যেমন—শুকনো কূপে জল নিয়ে আসবার জন্য দেবদাসী মানত করা; আকস্মিকভাবে কারো মাথার চুলে জট পড়লে সেটাকে দেবতার প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত বলে বিবেচনা করে, সেই বালিকাটিকে দেবদাসী হিসেবে উৎসর্গ করা ইত্যাদি। তবে শেষোক্ত সংস্কারটিকে আরো বেশি বদ্ধমূল বেশি ছিল—। কারণ, হঠাৎই সুন্দ্রী কোন মেয়ে একলা পেলে প্রেমিক পুরুষরা বিভিন্ন চিটচিটে পদার্থ (মধু, হলুদ জল) মেয়েটির চুলে লাগিয়ে দিতো। আর বেশিরভাগক্ষেত্রেই কোন কন্যার পিতামাতাই রাতে ঘুমের সময় টাকা ইনকামের লোভে নিজেরাই একাজ করতেন।
গ্রামের প্রধান ব্যক্তি; স্থানীয় পুরোহিত ও পণ্ডিতেরাও প্রকাশ্যেই এ প্রথাকে সমর্থন করতেন। কারণ, এর মাধ্যমে তাঁরাও নিজেরা ভোগ করতে পারতেন ও দেবদাসীর উপার্জনের একটা অংশ এঁরাও তখন নিয়মিতভাবেই লাভ করতেন। তাছাড়া, ধর্মের আবরণে একাজ করা হত বলে আইন কোনভাবেই এঁদের নাগাল পেত না। কর্ণাটকের ইয়েলেম্মা ছাড়া কর্ণাটকের কামলাপুরের কমলেশ্বরী, মহারাষ্ট্রের খান্ডোবার ভাগ্যমুরলী, গোয়ার মঙ্গেশীর শান্তা দুর্গা ও অন্যান্য লোকদেবীদের মন্দিরেও এই দেবদাসী প্রথা চালু ছিল। এমনকি দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন হনুমান মন্দির ও জমদগ্নি মন্দিরেও একটা দীর্ঘসময় ধরে দেবদাসী প্রথা চালু ছিল,
অন্যদিকে কর্ণাটকের বেলগাঁও জেলার সৌন্দত্তী শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সৌন্দত্তী মন্দিরে (ইয়েলাম্মা গুড্ডা) কিছুকাল আগেও দেবদাসী উৎসর্গ করবার প্রথা চালু থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরে এখানে গণসচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। এই সৌন্দত্তীর কাছেই অবস্থিত উগারগোলের ইয়েলাম্মা পাহাড়ের কোলে অবস্থিত মন্দিরে একসময়ে রমরমিয়ে দেবদাসী উৎসর্গ করবার প্রথা চালু থাকলেও, পরে অবশ্য সৌন্দত্তী শহরের ক্রমবর্ধমান উন্নতির ফলে এখানে দেবদাসী প্রথার ব্যাপকতা কমে গিয়ে ধর্মের আবরণ ছাড়াই বেশ্যাবৃত্তি অবাধে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুরূপভাবে কর্ণাটকের বেলগাঁও জেলার রামদুর্গ তালুকে স্বাধীনতার পরে ১০২টি গ্রাম ছিল, তখন যেগুলির লোকসংখ্যা প্রায় একলক্ষেরও বেশি ছিল। আর এ অঞ্চলে ১৯৮১ সালের সরকারি হিসাব অনুসারে ৩০০ জন দেবদাসী ছিলেন; এবং প্রতি বছর নতুন আরো অনেকে এঁদের দলে যোগ দিতো। বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা হাজার ও হাজার। তবে স্থানীয় ছাড়াও বেলগাঁও, বিজাপুর, বোম্বাই এসব অঞ্চলের শহর বা শহরতলী থেকে অনেকে এসেও এখানকার মন্দিরগুলিতে এই বৃত্তিতে নুজেকে উৎসর্গ করত।
আবার কর্ণাটকের রামদুর্গ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গোন্নগর নামের একটি গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছিল যে, এই গ্রামের হরিজন পাড়ার ১৯টি পরিবারের মধ্যে ১১টি পরিবারের নারীরাই দেবদাসী বৃত্তিতে নিযুক্ত । সমীক্ষা অনুসারে বেলগাঁও জেলার তামাক উৎপাদন কেন্দ্র নিপানীতে শ্রমিক হিসেবে যে ২৭,০০০ জন মানুষ নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই ছিলেন হরিজন সমাজের নারী; এই অঞ্চলটিই প্রধানতঃ বোম্বাই বাজারে পতিতা সরবরাহের কেন্দ্র ছিল। তাঁরা দৈনিক যে টাকা মজুরি পেতেন,তাতে জীবন চালাতে পারতেন না বলেই রাতে বেশ্যাবৃত্তি করতেন ।
তাছাড়া সরকারি তথ্য থেকে একথাও জানা যায় যে, দীর্ঘকাল ধরে কর্ণাটকের মুগলকোড, মাঙ্গসুলী, কোকটনুর, তেরদাল কুড়চি এবং আঠানী শহরের কাছে অবস্থিত শংকর হাট্টি, থাবুর ইত্যাদি গ্রামে ব্যাপকভাবে দেবদাসী উৎসর্গ করবার প্রথা চালু ছিল। শুধু তাই নয়, এসব জায়গার মধ্যে মাঙ্গসুলী তো তখন মাঙ্গ জাতীয় পতিতাদের একটা বড় উৎসর্গকেন্দ্র ছিল। বিজাপুর শহর ও বিজাপুর জেলার সমস্ত তালুকেই একসময়ে দেবদাসীপ্রথা প্রবলভাবে প্রচলিত ছিল। আজও এই জেলার প্রধান শহরগুলিতে পতিতাপল্লীগুলি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আর এখানকার শহর ছাড়া কাছাকাছি থাকা গ্রামগুলিতেও দেবদাসী ও অন্য পতিতাদের ব্যাপক সমারোহ লক্ষ্য করা যায়। কম শারীরিক পরিশ্রম করে বেশি টাকা উপার্জন করা সহজ ছিল বলে এসব জায়গার নারীরা তখন যেমন ইচ্ছাকৃতভাবে এপথে পা বাড়িয়েছে। @ রানা দাসগুপ্ত