১
‘মিনিমালিজম
>>>>>>>>>>
১. গল্পের শুরু: রাফির জিনিসপত্রে ভরা জীবন
রাফির ঘরটা ছিল যেন এক খেলনার দোকান—কিন্তু সেই খেলনাগুলো সবই তার! বয়স ১৬, আর টেবিলের উপর গেম কনসোল, হেডফোন, বই, পারফিউম, পুরনো প্রজেক্ট, ল্যাম্প, মোবাইল স্ট্যান্ড, চকলেটের মোড়ক—সব একসাথে মিশে এক অনিয়ন্ত্রিত জগৎ।
রাফি নিজের ঘরকে ভালোবাসত, কিন্তু মাঝেমাঝেই একটা অদ্ভুত অনুভূতি তাকে কুরে কুরে খেত: এই জিনিসগুলো কি আমাকে খুশি করছে? নাকি আমাকে আটকে রাখছে?
একদিন তার চোখ আটকে গেল একটা ইউটিউব ভিডিওতে: “Minimalism Changed My Life.” সে হেসে ফেলল—“কম থাকা জীবন বদলে দেয়! মশা মারতে কামান চাই, আর জীবন বদলাতে খালি ঘর?”
কিন্তু ভিডিওটা শেষ করতে না করতেই তার মনে একটা প্রশ্ন খচখচ করতে লাগল—“আমি যদি একদিন শুধু দরকারি জিনিসগুলো রেখে দেই, তাহলে কি হালকা লাগবে?”
২. মিতার ব্যাগে একটা জিনিসই থাকে—একটা খালি নোটবুক
মিতা ছিল রাফির স্কুলেরই আর্ট ক্লাব প্রেসিডেন্ট। শান্ত স্বভাব, মাথায় খাটো চুল, আর মুখে প্রায়ই হালকা হাসি। সে সবসময় একটা ছোট খাতা আর এক টুকরো পেনসিল নিয়ে ঘোরে।
একদিন টিফিনের পর রাফি জিজ্ঞেস করল, “তুই তো খুব কম জিনিস নিয়ে চলিস, পারিস কীভাবে?”
মিতা বলল, “সবকিছু রাখা মানে কিন্তু কিছুই না রাখা। যখন ব্যাগ হালকা থাকে, তখন মনও হালকা হয়।”
রাফি একটু ভেবেই বলল, “তোর সব আইডিয়া এই খাতায়?”
মিতা হেসে বলল, “না, সব না। শুধু যেগুলো আমি নিজেকে হারাতে চাই না—ওগুলোই থাকুক। বাকিগুলো চলে যাক।”
সেইদিন থেকেই রাফি ভাবতে লাগল—হয়তো কম থাকা মানেই নয় কিছু না থাকা, বরং বেশি থাকা মানে অপ্রয়োজনীয় কিছুতে নিজেকে ঢেকে ফেলা।
৩. মিনিমালিজম: শুধুমাত্র ডিজাইন নয়, মানসিক অবস্থাও
মিনিমালিজম শব্দটা শুনলেই মনে আসে ফাঁকা ঘর, সাদা দেয়াল, আর কাঠের টেবিল। কিন্তু আসল মিনিমালিজম ডিজাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, এটা একধরনের মানসিক অবস্থান—"আমি কিসে আসল আনন্দ পাই?"
রাফি একটা ছোট্ট খাতা খুলে তাতে এক লাইন লিখল:
“যা আমার নয়, তা আমাকে ভালোবাসে না।”
সে বইয়ের তাকে চোখ বুলাল—পাঁচটা বই সে এখনও খুলেই দেখেনি। মোবাইলে পঁচিশটা অ্যাপ, যার ৮০% সে ব্যবহারই করে না।
সে সিদ্ধান্ত নিল, প্রতিদিন একটা জিনিস সে ছেড়ে দেবে—না ফেলে, না ঘৃণা করে—শুধু "ধন্যবাদ" বলে বিদায় জানিয়ে দেবে।
৪. গল্পে মোড়: মা’র এক কাপ চা
রাফির মা একদিন চুপচাপ এসে বললেন, “আজ দেখলাম, তোর ঘর বেশ ফাঁকা লাগছে। কেমন লাগছে?”
রাফি হাসল, “আসলে মা, মনে হচ্ছে একটু একটু করে আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি।”
মা বললেন, “আমিও একদিন সব কিছু ছেড়ে দিয়ে নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুই তখন ছোট, তাই পারিনি।”
সে রাতে মা চা বানিয়ে নিয়ে এলেন রাফির জন্য। চায়ের কাপের পাশে একটা ছোট্ট নোট:
“সবকিছু না থাকলেও যদি তুমি থাকো, তাহলে আমি পরিপূর্ণ।”
রাফির চোখ ছলছল করে উঠল। জিনিস কমে গেছে, কিন্তু ভালোবাসা বেড়ে গেছে।
৫. বন্ধুত্ব, সম্পর্ক আর হৃদয়ের মিনিমালিজম
রাফি লক্ষ্য করল—তার জীবনে এমন অনেক সম্পর্ক আছে, যেগুলো শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সে মিতাকে বলল, “জানিস, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে শুধু তাদের সাথে সময় কাটাব যারা সত্যিই আমার খোঁজ রাখে।”
মিতা হেসে বলল, “সুন্দর চিন্তা। সম্পর্কও জিনিসের মতো—সব রাখতে হয় না। যেগুলো মন ছুঁয়েছে, সেগুলো রাখলেই চলে।”
সেই দিন তারা একসাথে একটা খালি কাগজে লিখল:
“আমরা শুধু সেই গল্পগুলো রাখব, যেগুলো আমাদের বদলে দেয়।”
৬. পরীক্ষার চাপ, স্বপ্নের ওজন আর হালকা থাকার কৌশল
রাফির পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসছিল। আগের মতোই চাপে সে হাঁপিয়ে উঠল না, বরং তার ডেস্কে এখন কেবল একটা ঘড়ি, একটা বই, আর একটা পেন।
সে মনোযোগ দিয়ে পড়ল, বিরক্ত না হয়ে, বিরতি নিয়ে।
সে বুঝল, মিনিমালিজম মানে শুধু জিনিস ছাঁটাই নয়, মনের ভেতর অপ্রয়োজনীয় চিন্তার বোঝাও নামিয়ে রাখা।
৭. শেষ অধ্যায়: মিতার উপহার
রেজাল্টের দিন, মিতা একটা খালি নোটবুক উপহার দিল রাফিকে। কিন্তু ভেতরে একটা পাতা ভরা ছিল:
“তোর ভেতরের জায়গাগুলো এখন আলোয় ভরা। সেগুলো লিখে রাখ, ভুলে যাস না।”
রাফি খাতা বন্ধ করে তাকাল আকাশের দিকে। পাখি উড়ে যাচ্ছে—বিভ্রান্ত নয়, শুধু গন্তব্যহীন হালকায় ভেসে চলেছে।
সে তখন বুঝল, জীবনটা আসলে ভরাট করার নয়, বরং হালকা রাখার নাম।
উপসংহার: মিনিমালিজম মানে হলো, নিজের মধ্যে জায়গা তৈরি করা
জিনিসের কমতি নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় কিছু ছেড়ে দিয়ে সত্যিকারের দরকারি কিছু আঁকড়ে ধরা—এটাই মিনিমালিজমের আসল সৌন্দর্য। টিনএজ জীবন যেখানে প্রতিদিন দৌড়, তুলনা আর প্রচারের ভিড়, সেখানে মিনিমালিজম এক টুকরো নীরব আশ্রয়। রাফি যেমন বলেছিল: “সব নেই, কিন্তু আমি আছি। এই তো আসল পাওয়া।” @ ইনার সোল
২
আদর্শ হিন্দু হোটেল’ [বই থেকে শেখা] থেকে ৪টি শিক্ষা
জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ বিখ্যাত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত এ বই পড়ে ৪টি শিক্ষা পাওয়া যায়। যা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা জীবনে সফল হতে পারে। বইটি পড়ে শিক্ষাগুলো লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
স্বপ্ন দেখো
স্বপ্ন মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স নেই। আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুর ৪৬ বছর বয়সী একজন রসুয়ে বামুনে তথা একজন রাঁধুনি। তিনি রানাঘাট স্টেশনের পাশে বেচু চক্কত্তির হোটেলে মাত্র ৭ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেন। অর্থবিত্তহীন এই মধ্যবয়সী মানুষটার দুই চোখ ভরা স্বপ্ন। তার স্বপ্ন, একদিন তার নিজের হোটেল হবে। হোটেলের বাইরে লেখা থাকবে ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। ৬ বছর ধরে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ করেন। কিন্তু বেতন তার এক পয়সাও বাড়ে না। তবুও হাজারি ঠাকুর প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন তার নিজের হোটেল হবে। নানা রকম বাধাবিঘ্ন, সংকট, শত অপমান পেরিয়ে একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হয়। ওই রানাঘাটের স্টেশনের পাশেই আদর্শ হিন্দু হোটেল নামে নিজের হোটেল হয়। তারপর রেল স্টেশনের মধ্যে উন্নত মানের আরেকটি হোটেল হয়। বোম্বে থেকে বড় একটি কোম্পানির লোক এসে হাজারি ঠাকুরকে তাদের হোটেলগুলোর রান্না দেখাশোনা করার জন্য দেড় শ টাকা মাইনেতে চাকরি দেয়; সঙ্গে একজন চাকর ও ফ্রি কোয়ার্টার এবং পরবর্তীকালে কোম্পানির অংশীদার করে দেওয়ার অফার দেয়। হাজারি ঠাকুরের জীবন বদলে যায়। ‘বোম্বাই! সে বোম্বাই যাইতেছে! দেড়শো টাকা মাহিনায়! বিশ্বাস হয় না। সব যেন স্বপ্নের মত ঘটিয়া গেল। টাকার জন্য নয়। টাকা এখানে সে মাসে দেড়শো টাকার বেশি ছাড়া কম রোজগার করে না। কিন্তু মানুষের জীবনে টাকাটাই কি সব? পাঁচটা দেশ দেখিয়া বেড়ানো, পাঁচজনের কাছে মান-খাতির পাওয়া, নূতনতর জীবনযাত্রার আস্বাদ—এসবই তো আসল।’
সৎ থাকো
সততা যে মানুষকে অনেক বড় করে তোলে, তার অন্যতম উদাহরণ আদর্শ হিন্দু হোটেলের হাজারি ঠাকুর। হাজারি ঠাকুর জীবনে অনেক অর্থকষ্টে থাকলেও তিনি কখনো অসৎ হননি। রানাঘাটের স্টেশনের পাশে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ করার সময় তার সহকর্মী পদ্ম ঝি হোটেল থেকে বিভিন্ন জিনিস চু*রি করত, খ*দ্দেরকে ঠকাত। সেসব দেখে রসুয়ে-বামুন হাজারি ঠাকুর স্বপ্ন দেখত, একটি হোটেল দেবে; ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। যেখানে কোনো খদ্দেরকে ঠকানো হবে না। সেই হোটেলের খাবার হবে সতেজ-সুস্বাদু-পুষ্টিকর। তা ছাড়া হাজারি ঠাকুরের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বিধর্মা মেয়ে কুসুম, অতসি, নতুন পাড়ের গোয়ালা বাড়ির বউয়ের। কিন্তু তাদের সঙ্গে কখনো অনৈতিক সম্পর্ক করেননি। বরং তাদের নিজের মেয়ের মতো ভালোবেসেছে। তাদের কাছে হাজারি ঠাকুর এতটাই বিশ্বস্ত হয়েছিল যে তারা গোপনে হাজারি ঠাকুরকে টাকা দিয়েছিল, হোটেল দেওয়ার জন্য। সততার কারণে হাজারি ঠাকুর অবশেষে সফল হন। তার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি সফল হন।
বিনয়ী হও
বিনয়ী হতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। হাজারি ঠাকুর যখন হোটেলের কর্মচারী ছিলেন, তখনো যেমন বিনয়ী ছিলেন, পরে হোটেলের মালিক হওয়ার পরও তিনি তেমনি বিনয়ী ছিলেন। সফলতা তার মধ্যে অহংকারের জন্ম দেয়নি। হোটেলের মালিক বেচু চক্কত্তি হাজারি ঠাকুরকে চু*রির অ*প*বাদ দিয়ে জেল খাটালেন, হোটেলের চাকরি থেকে বের করে দিলেন। পদ্ম ঝি সব সময় অপমান, খারাপ ব্যবহার করলেন, নিজে চু*রি করে হাজারি ঠাকুরকে অপবাদ দিয়ে জেল খাটালেন। এদের শত অপমান, বঞ্চনা সহ্য করার পরও হাজারি ঠাকুর যখন সফল হলেন, তখনো তাদের সঙ্গে আগের মতো বিনয়ী ব্যবহার করলেন। এমনকি বেচু চক্কত্তি ও পদ্ম ঝি দুজনেই হাজারি ঠাকুরের হোটেলে চাকরি নিল, সেদিনও হাজারি ঠাকুর আগের মতই বিনয় দেখিয়ে তাদের সঙ্গে ব্যবহার করল। ‘হাজারি বিনীতভাবে বলিল—বাবু একটা কথা বলতে এলাম। বাবু আপনি আমার অন্নদাতা ছিলেন একসময়েও, আজও আপনাকে তাই বলেই ভাবি। আপনার এখানে কাজ না শিখলে আজ আমি পেটের ভাত করে খেতে পারতাম না। আপনি ব্রাহ্মণ, আমার মনিব। আমাকে এভাবে বিপদে না ফেলে যদি বলেন—হাজারি তুই হোটেল উঠিয়ে দাও, তাই আমি দেবো। আপনি হুকুম করুন।’
কর্মঠ হও
হাজারি ঠাকুর ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ একজন ব্যক্তি। তার পারদর্শিতার জায়গা হলো রান্না। তিনি সেই রান্না করেই এক সময় সফল হন। তিনি যখন হোটেলের কর্মচারী ছিলেন, তখনো তিনি কাজে বিন্দুমাত্র ফাঁকি দিতেন না। অন্যরা ফাঁকি দিলেও তিনি আপন মনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজগুলো করে যেতেন। ফলে তার রান্নার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। অনেক দূরদূরান্ত থেকে তার রান্না খাওয়ার জন্য হোটেলে মানুষ আসত। যারা রান্না খেত সকলেই প্রশংসা করত। শুধু প্রশংসা করত না হোটেলের মালিক বেচু চক্কত্তি ও সহকর্মী পদ্ম ঝি। তার মাইনেও বাড়াত না। তবু তিনি আপন মনে কাজ করে যেতেন। আর এই কর্মঠ হওয়ার ফলেই একদিন তিনি তার স্বপ্নের চেয়েও বড় জায়গায় পৌঁছে যান। সততা, পরিশ্রম, বিনয়, স্বপ্ন যার মধ্যে আছে, সে যে একদিন তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের হাজারি ঠাকুর। এটি একটি সামাজিক উপন্যাসের বই হলেও এটি যেন এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা,
৩
ম্যাক্সিম গোর্কি
বরেণ্য রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কি একবার প্যারিসে গিয়েছিলেন, তখনকার দিনে প্যারিস ছিল পৃথিবীর সাংস্কৃতিক রাজধানী।
তিনি শুধু লেখক ছিলেন না; ছিলেন সমাজের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষক। মানুষের কথা শুনতেন, চলাফেরা দেখতেন, ভেতরের গল্পগুলো খুঁজে বেড়াতেন।
একদিন প্যারিসের এক রাস্তায় এক অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে দেখা। কথায় কথায় গোর্কি জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার পেশা কী?"
লোকটি হেসে উত্তর দিল, “বাসে-ট্রামে মেয়েদের বিরক্ত করি, হুটহাট লোকজনকে ধাক্কা দিই, উত্ত্যক্ত করি। মাঝে মাঝে মারও খাই। ও থেকেই রোজগার হয়ে যায়!”
গোর্কিতো বিস্মিত! “মার খাও আর তাতে লাভ! এটা কেমন পেশা?”
লোকটি জানাল, “মার খেলে সাত দিনের এক্সট্রা পয়সা পাই, যদি রক্ত বের হয় তো এক মাসের বোনাস, হাত-পা ভাঙলে তিন মাসের ছুটি, আর গুরুতর আহত হলে বউ-বাচ্চার চাকরিও হয়ে যায়! হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ইনক্রিমেন্ট পাই।”
গোর্কি ভাবলেন এই লোক নির্ঘাত পাগল। কিন্তু তখনই লোকটি পরিচয়পত্র দেখিয়ে বলল, "প্যারিসে আমার মতো আরও তিন হাজার কর্মী আছে!"
গোর্কি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তো ভাল ব্যবসাতেই আছে দেখছি, কিন্তু তোমাকে টাকা দেয় কারা?”
লোকটি হাসল—
“বড় বড় শিল্পপতি আর রাজনীতিকরা। আমরা রাস্তায় বাসে ট্রেনে ট্রামে যে সব ছোটখাট কেচ্ছা ঘটাই তা দেখে লোকে উত্তেজিত হয় আর সারাদিন তা নিয়ে আলোচনা করে। অফিসে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেয়, বাড়িতে বউকে গিয়ে বলে, এই সমাজটা কী খারাপ হয়ে গেছে। এ দেশে আর থাকা চলে না। আর এই সময় শিল্পপতিরা যে ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয় না, কর ফাঁকি দেয়, পুকুর নয় নদী চুরি করে, লোকের জমি ভয় দেখিয়ে কেড়ে নেয়, জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়—সে নিয়ে কোন আলোচনাই হয় না। আমাদের ছোটখাট কেচ্ছা ওদের বড় বড় কেচ্ছাগুলোকে নিপুণভাবে চাপা দিয়ে দেয়। রাজনীতিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেউ টুঁ শব্দটি করে না। আমাদের এই সামান্য নাটক তাদের বিরাট অন্যায় ঢেকে দেয়।"
গোর্কি নির্বাক হয়ে গেলেন।
পুঁজিবাদী সমাজে গণতন্ত্রের আড়ালে কী ভয়ানক পর্দার খেলা চলছে—সেটা ধরতে পেরে গোর্কি স্তব্ধ হয়ে গেলেন!
মাঝেমাঝে যাদের আমরা অপরাধী ভাবি, তারা আসলে শুধু নাটকের চরিত্র। মূল পরিচালক পর্দার আড়ালে। গত ১৮ মাস ধরে প্রতিদিন আমাদের সামনে কত শত ঘটনা যে হাজির করা হলো, ইস্যুর পর ইস্যু এলো! নাহ আগেও এসেছে, কিন্তু এ সময়ে সব সীমা লঙ্ঘন হয়ে গেল! মানুষ পাগলের মত সেসব ইস্যুর পেছনে ছুটল! রেসপন্স করতে করতে ক্লান্ত! দম ফেলার ফুরসত নেই! দিনে দুই তিনটা বিষয় নিয়ে লিখলেও ইস্যু ফুরায় না!
কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেনা, আসল সর্বনাশটা কোথায় হয়ে গেছে…@ সংগৃহিত
৪
সীমাবদ্ধতা স্বীকার করাও বুদ্ধিমত্তা | অ্যাডাম গ্র্যান্টের বই ‘থিংক এগেইন’
[বই থেকে শেখা]
জীবনে আমরা অনেকে এমন কিছু বিশ্বাস ধারণ করি , যা হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুল প্রমাণিত হয় । কিন্তু সেগুলো বদলানোর পরিবর্তে আমরা আরও বেশি নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমাদের চিন্তাই সঠিক । অ্যাডাম গ্র্যান্টের মতে , এটি ‘ জ্ঞানীয় অলসতা ’ — যেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের শেখার পথ রু*দ্ধ করে ফেলি । একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক যদি মনে করেন তাঁর পড়ানোর পদ্ধতিই সেরা , তাহলে তিনি নতুন কোনো কৌশল শিখতে চাইবেন না । এক গবেষণায় দেখা গেছে , দক্ষতা কম থাকা সত্ত্বেও মানুষ যখন নিজেকে খুব দক্ষ ভাবে , তখনই বিপত্তি ঘটে । এটি ডানিং - ক্রুগার ইফেক্ট নামে পরিচিত ।
উদাহরণস্বরূপ : একজন নতুন গাড়িচালক যদি মনে করেন তিনি খুব দক্ষ , তবে তিনি প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেবেন না ; যা দুর্ঘটনার ঝুঁ*কি বাড়ায় । অ্যাডাম গ্র্যান্টের বই ‘ থিংক এগেইন ’ আমাদের শেখায় , কেবল জানাই যথেষ্ট নয় ; বরং শিখতে শেখাই আসল দক্ষতা। আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে কাজ করে যে একবার কোনো তথ্য গ্রহণ করলে , আমরা সেটিকেই চূড়ান্ত ধরে নিই এবং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে ভ*য় পাই । এই মানসিকতা আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে পিছিয়ে দেয় । বিশ্বাস রাখুন , শিখতে থাকুন নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করাও একধরনের বুদ্ধিমত্তা । গ্র্যান্ট একে বলেন , ‘ কনফিডেন্ট হিউমিলিটি'- এটি এমন এক মানসিক অবস্থা , যেখানে আপনি আত্মবিশ্বাসী , কিন্তু নতুন শেখার জন্য উন্মুক্ত । চিন্তার একটি চমৎকার উপায় হলো , জীবনকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মতো দেখা । উদাহরণস্বরূপ : একটি কোম্পানি যদি নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনতে চায় , তবে তারা সরাসরি বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে ছোট স্কেলে পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পারে । এটি তাদের ভুল সংশোধন এবং নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ দেয় ।
মতবিরোধ কি সব সময় খারাপ ? আমরা প্রায়ই মতবিরোধকে নেতিবাচক বলে ধরে নিই । কিন্তু গ্র্যান্ট বলেন , ‘ টাস্ক কনফ্লিক্ট ' বা কাজ সম্পর্কিত মতবিরোধ আসলে একটি ইতিবাচক দিক ; যা সৃজনশীল চিন্তার সুযোগ তৈরি করে দেয় । তবে যদি এটি ‘ ইমোশনাল কনফ্লিক্ট ' হয়ে যায় এবং সেখানে যদি ব্যক্তিগত আ*ক্র*মণ চলে , তখন তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে । স্টিভ জবস এবং তাঁর ডিজাইন টিমের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ হতো , কিন্তু সেটাই অ্যাপল পণ্যের নকশাকে অনন্য করে তুলেছিল । একইভাবে , কর্মজীবনে এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন , যারা আপনার চিন্তার সীমাবদ্ধতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে ।
বিতর্ক কি যু*দ্ধ , নাকি সহবত ? একটি ভালো বিতর্ক যু*দ্ধের মতো নয় , বরং একটি নাচের মতো ; যেখানে দুই পক্ষ একসঙ্গে চিন্তার নতুন পথ তৈরি করে । ভালো বিতর্কের কয়েকটি কৌশল হলো সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করা ; যেমন — উভয় পক্ষই যদি চায় উন্নতি হোক , তাহলে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলোচনা করা সহজ হয় । কম যুক্তি ব্যবহার করা— গবেষণায় দেখা গেছে , বেশি যুক্তি দিলে উল্টো প্রতিপক্ষ প্রতিরোধমূলক আচরণ করে । বেশি প্রশ্ন করা— কোনো বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে প্রশ্নের মাধ্যমে অপরপক্ষকে চিন্তা করতে উৎসাহিত করা ।
শেখার সংস্কৃতি কীভাবে গড়ে তোলা যায় ? বাইনারি বায়াস এড়ান — অনেক সমস্যাকে আমরা হয় ‘ সঠিক ’ নয় ' ভুল ' এই দুইভাবে দেখি , কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল । যেমন— রাজনীতির ক্ষেত্রে শুধু ডান - বামের বিভাজন করলে গভীরতর সমস্যাগুলো আড়ালে থেকে যায় । বৈজ্ঞানিক চিন্তা করুন — শুধু তথ্য গ্রহণ করলেই হবে না , বরং সেটি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ । উদাহরণস্বরূপ , শিশুদের মুখস্থ করানোর পরিবর্তে প্রশ্ন করতে শেখানো উচিত — ‘ এই তথ্যের সোর্স কী ? ’ বা ‘ এটি কোন গবেষণায় প্রমাণিত ? ' । @ সাব্বির হোসেন
৫
মনোযোগের শক্তিকে কাজে লাগানোর কৌশল হাইপারফোকাস
[বই থেকে শেখা]
আমরা প্রতিদিন অনেক কাজ করি । কিন্তু দিন শেষে সত্যিই কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারি ? আমরা কি আসলেই কাজে ডুবে যেতে পারি , নাকি সোশ্যাল মিডিয়া , ই - মেইল কিংবা ছোটখাটো ব্যস্ততায় আমাদের মনোযোগ হারিয়ে যায় ? ক্রিস বেইলি তাঁর বই ‘ হাইপারফোকাস ’ - এ দেখিয়েছেন , মনোযোগের শক্তি কীভাবে আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে । ‘ হাইপারফোকাস ' মানে হলো গভীর মনোযোগ ধরে রেখে নির্দিষ্ট কাজে লেগে থাকা । এটি এমন একটি দক্ষতা , যা সময় ব্যবস্থাপনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ । কারণ , সময় সবার জন্য সমান । কিন্তু মনোযোগ ব্যবহারের ক্ষমতা সবার এক নয় । ক্রিস বেইলির বই থেকে আজ জানব , কীভাবে হাইপারফোকাস আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং বিভ্রান্তি কমিয়ে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
মনোযোগের খেলা গবেষণায় দেখা গেছে , আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫৬৬ বার স্মার্টফোন আনলক করি । দৈনিক প্রায় ৮৮ বার ই - মেইল চেক করি । প্রতিবার মনোযোগ বিভ্রান্ত হলে , আগের কাজের ফোকাস ফিরে পেতে প্রায় ২৩ মিনিট সময় লাগে । এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায় । বেইলি বলেন , ‘ উৎপাদনশীলতা মানে দিনে বেশি কাজ করা নয় , বরং প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক কাজ বেছে নেওয়া ।
তাই হাইপারফোকাসের মূলমন্ত্র হলো , অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে , গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া ।
হাইপারফোকাস হাইপারফোকাস করার জন্য বেইলি চারটি ধাপের পরামর্শ দিয়েছেন ।
• লক্ষ্য বাছাই করুন : এমন একটি কাজ বেছে নিন , যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ । যেমন : পরীক্ষার আগে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া বা প্রজেক্ট ডেডলাইনের আগে রিপোর্ট লেখা ।
বিভ্রান্তি দূর করুন : ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন , টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন । কাজের জায়গা গোছানো থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় ।
• মনোযোগ ধরে রাখুন : কাজের মাঝে বারবার বিরতি নিলে মনোযোগ নষ্ট হয় । এক্ষেত্রে পমোডোরো টেকনিক অনুসরণ করুন । ২৫ মিনিট কাজ করে ৫ মিনিট বিরতি নিন ।
• মন ফিরিয়ে আনুন : কাজ করতে করতে মন অন্য দিকে চলে গেলে আতঙ্কিত হবেন না । ধৈর্য ধরে আবার মূল লক্ষ্যে ফিরে আসুন । একটি কার্যকর কৌশল হলো , প্রতিদিন অন্তত ৯০ মিনিটের জন্য ‘ ডিপ ওয়ার্ক ব্লক ' নির্ধারণ করা , যেখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া হবে ।
স্ক্যাটারফোকাস
হাইপারফোকাস মানে শুধু গভীর
মনোযোগ নয় , মাঝে মাঝে মনকে ঘুরতে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ । একে বলে ‘ স্ক্যাটারফোকাস ' , যা নতুন আইডিয়া তৈরি করতে সাহায্য করে ।
• ক্যাপচার মোড : মনে যা আসে , তা সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলুন । উদাহরণ : একজন লেখক নতুন গল্পের আইডিয়া পেয়ে সেটি নোট করে রাখেন ।
সমস্যা সমাধান মোড : যখন কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজছেন , তখন একটু হাঁটতে বের হন বা নতুন পরিবেশে যান । আইনষ্টাইন তার থিওরির সমাধান পেয়েছিলেন ভেলায় চড়তে চড়তে ।
• অভ্যাসগত মোড : বাগান করা , রান্না করা বা গিটার বাজানোর মতো অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং নতুন আইডিয়া আনতে সাহায্য করে ।
মনোযোগ রিচার্জ
হাইপারফোকাস ধরে রাখতে হলে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি । এক্ষেত্রে বেইলি কিছু সহজ উপায়ের কথা বলেছেন :
শখের কাজ করুন : ছবি আঁকা , সংগীতচর্চা বা বাগান করা আমাদের মনোযোগকে রিচার্জ করতে সাহায্য করে।
ঘুমে গুরুত্ব দিন : প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায় ।
পরিবেশ বদলান : একই জায়গায় বসে কাজ করলে একঘেয়েমি আসে । মাঝে মাঝে নতুন জায়গায় কাজ করুন বা ছোট্ট একটা সফরে যান ।
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি , যেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার অসংখ্য ফাঁদ রয়েছে । কিন্তু যারা হাইপারফোকাসের শক্তি রপ্ত করতে পারে , তারাই সফল হয় । ক্রিস বেইলি বলেন , ‘ আপনি যা দেখেন , তা - ই আপনার বাস্তবতা । তাই দেখার জগৎকে সচেতনভাবে বেছে নিন । ”@সাব্বির হোসেন।
৬
দ্য সাইকোলজি অব মানির ৬ শিক্ষা
বিশিষ্ট লেখক মর্গ্যান হাউসেলের লেখা ‘দ্য সাইকোলজি অব মানি’ বইটি বিশ্বের ৫০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। টাকা মানুষের জীবন ও জগৎকে কীভাবে পাল্টে দিতে পারে, এ বইয়ে লেখক সে বিষয়ে নানা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন। বইটি পড়ে শিক্ষাগুলো লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
ভাগ্য বনাম ঝুঁ*কি
ভাগ্য এবং ঝুঁ*কি হলো পরস্পর ভাই-বোনের মতো। বলা হয়ে থাকে, ভাগ্য হলো আজব কারিগর। কাজের সঙ্গে ভাগ্যেও বিশ্বাস করতে হবে। আর্থিক উন্নতির জন্য দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি। এ জন্য ঝুঁ*কি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এর সঙ্গে ভাগ্য যে বড় ভূমিকা রাখে, সে ব্যাপারে বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের সব কাজের ফল আসবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সফল হলে আমরা আমাদের দক্ষতাকে কৃতিত্ব দিই এবং ব্যর্থ হলে দু*র্ভাগ্যকে দায়ী করি। বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিগতভাবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় বেশি ভাগ্যবান।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
অনেক মানুষের স্বপ্নের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আরও সম্পদ না থাকায় হা-হুতাশ করে। আমরা যদি পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আরও চাই, আরও চাই করতে থাকি; তাহলে আমাদের কখনো যথেষ্ট সম্পদ হবে না। বেশি পাওয়া আমাদের সন্তুষ্ট করবে না, বরং বেশি পাওয়ার লোভ সবকিছু হারানোর ফাঁ*দে ফেলে দিতে পারে। আপনার যা আছে বা যা আপনার নেই, তার জন্য নিরর্থক ঝুঁ*কি নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
কোনো কিছুই বিনা মূল্যে নয়
পৃথিবীর সবকিছুর মূল্য আছে। তবে সবকিছুর মূল্য গায়ে লেখা থাকে না। মূল্য একটা আর্থিক সংখ্যা হলেও সেটির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন না করার আগপর্যন্ত আমরা তার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারি না। পৃথিবীর কোনো কিছু বিনা মূল্যের নয়। এই বাস্তব সত্য মনে থাকলে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে। কথায় আছে—লোভে পাপ, পাপে মৃ*ত্যু। লোভ আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অত্যধিক ঝুঁ*কির দিকে পরিচালিত করতে পারে। তাই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বস্তুর চেয়ে নিজেকে দামি করুন
শুনলে অবাক হবেন, আপনাকে আসলে কেউ কেয়ার করে না। আপনার একটা দামি ও সুন্দর গাড়ি থাকলে সবাই আপনার গাড়ির দিকে তাকাবে, গাড়ির প্রশংসা করবে; কিন্তু কেউ মনে করবে না আপনি গাড়ির মতো দামি ও সুন্দর। এটা বস্তুগত সব জিনিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই কাউকে দেখানোর জন্য, মানুষকে ইমপ্রেস করার জন্য বস্তুগত জিনিস দামি করার চেয়ে নিজেকে দামি হিসেবে তৈরি করা বেশি জরুরি।
টাকা কাজে লাগান
টাকা শুধু সঞ্চয় করলেই আর্থিকভাবে সফল হওয়া যাবে না, বরং বিনিয়োগ করে টাকা বাড়াতে হবে। যত তাড়াতাড়ি এবং অল্প বয়সে বিনিয়োগ করতে পারবেন, ততই আপনি সম্পদশালী হবেন। টাকা সঞ্চয় করে ফেলে রাখলে সম্পদশালী হতে পারবেন না, বরং মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মান কমে যাবে। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী এমন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে টাকা বৃদ্ধি পায়।
স্বাধীন হোন
আপনার সময় নিয়ন্ত্রণ করাই হলো সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী অর্থ। সম্পদের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জেগে ওঠা এবং বলার ক্ষমতা যে ‘আমি আজ যা চাই তা-ই করতে পারি’। মানুষ সুখ বাড়ানোর জন্য ধনী হতে চায়। সুখ একটি জ*টিল বিষয়। কারণ, আমরা সবাই আলাদা। তাই সুখের জন্য সর্বজনীন অবদান হলো সময় নিয়ন্ত্রণ। স্বাধীনভাবে পছন্দের কাজটি করতে পারাই হলো সফলতা। তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা
৭
এঞ্জেলিকা মার্কেল
প্রায় ছ'মিনিট করতালি ধ্বনি দিয়ে পুরো জার্মানি বিদায় জানালো এঞ্জেলিকা মার্কেলকে কয়েক দিন আগে, যাকে আঠারো বছর আগে জার্মানির মানুষ বেছে নিয়েছিল তাদের নেত্রী হিসেবে। বিনিময়ে মার্কেল জার্মানির আট কোটি মানুষকে উপহার দিয়ে গেলেন সুশাসন, অর্থনৈতিক বিকাশ, উন্নত জীবন আর নিরাপত্তা।
গত আঠারো বছরে জার্মানিতে তার বিরুদ্ধে একটিও অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠেনি। একটিও স্বজন পোষণের অভিযোগ নেই। এই আঠারো বছরে তিনি একবারের জন্যও টিভিতে বা কোনো জনসভায় নিজের কৃতিত্ব দাবী করেননি। তাঁর ছবি আর বাণী নিয়ে জার্মানির কোনো রাস্তায় কখনো মিছিল বের হয়নি, কারণ শাসন ক্ষমতা জিইয়ে রাখবার জন্য তিনি সসস্ত্র হারমাদ বাহিনী তৈরী করেননি।
আত্মপ্রচার করবার শিক্ষা তার ছিল না। বিরোধীরা নির্ভয়ে তার বিরোধিতা করেছেন, কারণ, তাদের ওপর মার্কেল পুলিশ আর গুন্ডা লেলিয়ে দেননি। তাঁর মুখে মানুষ কখনো হাস্যকর, নির্বোধের মত কথাবার্তা শোনেনি। মানুষকে তিনি মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেন নি। উন্নতির মিথ্যা খতিয়ান দেন নি। বার্লিনের রাস্তায় তিনি নিজের এবং দলের প্রচারের জন্য একটি ছবিও তোলাননি। বিরোধী নেতাদের চরিত্র হনন করেননি।
এঞ্জেলিকা মার্কেলকে বিশ্ব চেনে 'Lady of the world' নামে। বলা হয়, তিনি একাই ষাট লক্ষ পুরুষের সমান।
জার্মানি এবং তার নাগরিকদের উন্নতির শিখরে রেখে এঞ্জেলিকা মার্কেল নিঃশব্দে সরে দাঁড়ালেন, পরবর্তী নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা সঁপে দিয়ে। তার বিদায়কালে মানুষ যে ভাবে আবেগতাড়িত হয়েছেন, জার্মানির ইতিহাসে তা নজিরবিহীন।
সারা জার্মানি জুড়ে মানুষ বাড়ির ব্যালকনিতে এসে প্রায় ছ' মিনিট ধরে তাকে হাত তালি দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন। কেউ তার নামে কবিতা লিখে ছাপায়নি। কোনো চিত্রকর ছবি এঁকে তার প্রচার করেনি। তবু মানুষ আবেগে ভেসে গিয়েছেন। সমস্ত জার্মানি এক হয়ে দাঁড়িয়ে, ভেদাভেদ ভুলে, তাদের নেত্রীকে বিদায় জানিয়েছেন, এমনই সভ্য জাত।
মার্কেল পূর্ব জার্মানির মানুষ। অনাড়ম্বর সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত। ক্ষমতার শিখরে থেকেও তার জীবন অনাড়ম্বরই ছিল। একটি সাধারণ নিজস্ব গাড়ি ছাড়া তার ব্যক্তিগত প্লেন, ইয়ট এমনকি বিলাস বহুল কোনো এপার্টমেন্ট বা বাড়ি নেই।
অন্যান্য ছাপোষা জার্মান নাগরিকের মত তিনি একটি অতি সাধারণ এপার্টমেন্টে থাকেন, রাজনীতিতে আসবার আগে থেকেই।
অবিশ্বাস্য শোনালেও মার্কেলকে মানুষ একই পোশাকে আঠারো বছর ধরে দেখে এসেছে। একটি প্রেস কনফারেন্সে একজন মহিলা সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, তার কি অন্য স্যুট নেই। মার্কেল উত্তরে বলেন, তিনি রাজনীতিবিদ, মডেল নন। অন্য একটি সন্মেলনে সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি এত ব্যাস্ত, তার বাড়ির কাজ কে করেন? তার বাড়িতে কাজের লোক, রান্নার লোক আছে কি না। উত্তরে মার্কেল জানান, তার বাড়িতে একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ কাজের লোক আছে। মহিলাটি তিনি নিজে, এবং পুরুষটি তার স্বামী। সাংবাদিকেরা মজা করে জানতে চান, কাপড় জামা কে ধোয়? তিনি না তার স্বামী? মার্কেল জানান, তিনি কাপড় জামা ওয়াশিং মেশিনে ঢোকান। সাবানের গুড়ো ঢেলে দেন। তার স্বামী মেশিন চালান। তারা রাতে ওয়াশিং মেশিন চালান, কারণ এই সময় বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। এরপর সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি আশা করবেন এ সব অবান্তর প্রশ্ন না করে সংবাদ মাধ্যম যেন তার সরকারের সাফল্য এবং ব্যার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করে। ইনি এঞ্জেলিকা মার্কেল। ইউরোপের সব থেকে শক্তিশালী অর্থনীতির চালিকা। @সংগৃহীত
প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার অভ্যাস মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে—এটা আধুনিক গবেষণায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০–১৫ মিনিট মাঝারি গতিতে হাঁটা শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বন্ধুর সঙ্গে হাঁটার সময় যে সামাজিক যোগাযোগ ও কথাবার্তা হয়, তা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো “ভালো লাগার” হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়, ফলে মন ভালো থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।
এছাড়া নিয়মিত হাঁটা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। গবেষকরা আরও বলছেন, যারা নিয়মিত হাঁটার মতো হালকা শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকে, তাদের মধ্যে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কম এবং সামগ্রিকভাবে জীবনকাল তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়। অর্থাৎ, প্রতিদিন বন্ধুর সঙ্গে সামান্য সময় হাঁটা শুধু শরীরচর্চা নয়—এটি সামাজিক বন্ধন, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য একসঙ্গে বজায় রাখার একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়। রেফারেন্স Harvard T.H. Chan School of Public Health
৮
SMART গোল
পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতিতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত জরুরি । বলা হয় , একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনাই কাজের অর্ধেক । আজ আমরা জানব , কীভাবে এসএসসি পরীক্ষার জন্য একটি SMART পরিকল্পনা করা যায় । কেবল পরীক্ষার জন্যই নয় , যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে SMART গোল সেট করলে সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটিই অনেক ফলপ্রসূ হয়।
SMART- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে:
S = Specific ( সুনির্দিষ্ট ) ,
M = Measurable ( পরিমাপযোগ্য ) ,
A = Actionable ( কার্যকরী ) ,
R = Realistic ( বাস্তবধর্মী ) ,
T = Timely ( নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ) ।
চলো আজকে আমরা ধাপে ধাপে একটি SMART গোল সেট করে নিই :
১। Specific ( সুনির্দিষ্ট ) একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে । যেমন— অস্পষ্ট লক্ষ্য : আমার গণিতের প্রস্তুতি নিতে হবে । সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য : আমি গণিতের ১৪ টি অধ্যায়ের মধ্যে প্রতিদিন একটি অধ্যায়ের সমস্যা সমাধান করব এবং সূত্রগুলো রিভিশন করব ।
২। Measurable ( পরিমাপযোগ্য ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যটি এমনভাবে সেট করতে হবে , যাতে করে তুমি বুঝতে পার ঠিক কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে । উদাহরণস্বরূপ— অপরিমাপযোগ্য লক্ষ্য : আমি গণিতের মডেল টেস্ট দেব । পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য : আমি প্রতিদিন ১ টি অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি , প্রতি সপ্তাহে ১ টি মডেল টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি ট্র্যাক করতে পারব ।
৩। Actionable ( কার্যকরী ) একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে কী কী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সেটা ঠিক করা আবশ্যক।
উদাহরণস্বরূপ— অকার্যকরী লক্ষ্য : আমার গণিতের সিলেবাস শেষ করা আছে , একবার দেখে নিলেই হবে । কার্যকর লক্ষ্য : আমি প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত গণিতের ১ টি অধ্যায় পড়ব , ১০ টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করব । সূত্ৰসমূহ মডেল টেস্ট দেব । নোট করব এবং সপ্তাহ শেষে
৪। Realistic ( বাস্তবধর্মী ) লক্ষ্য ঠিক করার সময় সুনির্দিষ্ট ,পরিমাপযোগ্য , কার্যকরী হওয়ার পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি । লক্ষ্যটি যেন বাস্তবধর্মী হয়। যেমন— অবাস্তব লক্ষ্য : আমি আজকেই গণিতের ৫ টি অধ্যায় শেষ করব । বাস্তবধর্মী লক্ষ্য : আমার পড়ার রুটিন , মোট অধ্যায় সংখ্যার সঙ্গে প্রতিদিনে গণিতের জন্য বরাদ্দ সময় বিবেচনা করে দেখছি , এই লক্ষ্যটি পূরণ করা সম্ভব । ৫। Timely ( নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ) আমরা SMART গোল সেট করার শেষদিকে চলে এসেছি । SMART গোলের জন্য সর্বশেষ যেটি প্রয়োজন , সেটি হচ্ছে একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা ।
উদাহরণস্বরূপ— সময়সীমা ছাড়া লক্ষ্য : পরীক্ষার আগে আমার গণিতের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ হয়ে যাবে । নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য : আমার গণিতের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য ২ সপ্তাহের পরিকল্পনা করেছি । অভিনন্দন ! আমরা ধাপে ধাপে SMART গোল সেট করা শিখে ফেলেছি । এবার এক লাইনের একটি SMART গোল কীভাবে সেট করা যেতে পারে , চলো সেটা দেখে নিই ।
SMART গোল
‘ আমি আগামী ২ সপ্তাহে গণিতের মোট ১৪ টি অধ্যায়ের প্রতিদিন সকাল ৯-১১টা পর্যন্ত ১ টি করে অধ্যায় পড়ব , ১০ টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করব , সূত্রগুলো লিখব এবং সপ্তাহ শেষে মডেল টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে এসএসসি গণিতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করব । ' পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আর SMART গোল নির্ধারণ করার মাধ্যমে পরীক্ষার পূর্বের সময়টাতে পড়াশোনা আরও গোছানো হয় ।
লেখা: আলভী আহমেদ
৯
X-ray. 'রঞ্জন' রশ্মি, বিজ্ঞানী 'রণ্টজেন
স্কুলের ছাত্র, পড়াশোনার নাম গন্ধ নেই, শুধুই দুষ্টুমি করে। শ্রেণী কক্ষের বোর্ডে একশিক্ষক মশাইয়ের কার্টুন ছবি আঁকার জন্য অভিযুক্ত হয়।প্রধান শিক্ষক মহাশয় স্কুল কম্পাউন্ডে তাকে দাঁড় করিয়ে সবার সামনে প্রচণ্ডভাবে বেত্রাঘাত করেন এবং স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেন।কারণ ওর জন্য নাকি স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদিও কার্টুন আঁকা নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল -পরে সেটি জানা যায়।
বাবা ছিলেন কাপড় বিক্রেতা। ছেলেকে অন্য স্কুলে ভর্তি করেন। কিন্তু ছেলের পড়াশোনায় তেমন মন বসতো না।তার ভালো লাগতো গ্রামের পরিবেশ। বনজঙ্গলও তার খুব ভালো লাগত ,আর ভালো লাগত যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে। তাই পরে তিনি প্রকৌশলী হিসেবে ডক্টরেট হন।
বিজ্ঞানী কুণ্ড ছিলেন তাঁর বন্ধু, দু'জনে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে প্রায়ই বেড়াতে বেরুতেন।
তিনি ক্যাথোড রশ্মির প্রভাব নিয়ে কাজ করতেন ডার্করূমে।কদিন ধরে কি যেন একটা অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড লক্ষ্য করছিলেন। কয়েক ফুট দূরে রাখা বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইডের পর্দার উপর মাঝে মাঝে কি যেন একটা দেখা যাচ্ছে! অদ্ভুত ঘটনাটা প্রায়ই ঘটছে। এমন কাণ্ড দেখে তিনি ভাবলেন অন্ধকার ঘরে কাজ করে করে তাঁর মাথাটা বিগড়ে গেছে । কয়েকদিন এইভাবেই কাটল।এরপর আর চুপচাপ না থেকে ডেকে পাঠালেন স্ত্রী আনা'কে।আনা'ও ঠিক একই দৃশ্য দেখতে লাগলেন।আরো আশ্চর্যের ব্যাপার, দেখা গেল আনার হাতের তালুর হাড়গুলো পর্দায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে,আর তার আঙ্গুলের আঙটিটা কালো কয়লার মতো লাগছে।
আবিষ্কার হয়ে গেল এক নূতন রশ্মি।নাম দেওয়া হোল X-ray.আমরা বাঙলায় বলি 'রঞ্জন' রশ্মি, বিজ্ঞানীর নামটি যে 'রণ্টজেন'।
বিজ্ঞানে যুগান্তকারী এই আবিষ্কার পদার্থবিজ্ঞানী রণ্টজেনের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের হাতে তিনি এমন একটি আবিষ্কার তুলে দিয়ে গেছেন যা দিয়ে কোটি কোটি মানুষের চিকিৎসা চলছে। বর্তমান সভ্যতায় গোয়েন্দা বিভাগ, গবেষণাক্ষেত্র, শিল্প ক্ষেত্র প্রভৃতিতে এই আবিষ্কার এক নূতন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
১০
সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতার সন্ধান
||বই থেকে শিক্ষা||
বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে নাভাল রবিকান্ত একটি সুপরিচিত নাম। তিনি শুধু সফল বিনিয়োগকারী নন, একজন দার্শনিকও; যিনি সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করেছেন। তাঁর বই ‘দ্য অ্যালমানাক অব নাভাল রবিকান্ত’ জীবনদর্শনের এক অনন্য সংকলন। বইটি নিয়ে আলোচনা করেছেন সাব্বির হোসেন।
সম্পদ শুধু অর্থ নয়, স্বাধীনতার প্রতীক
নাভাল রবিকান্তের মতে, সম্পদ শুধু টাকা বা সামাজিক মর্যাদা নয়। সত্যিকারের সম্পদ এমন কিছু, যা ঘুমানোর সময়ও উপার্জিত হতে থাকে। এটি মানুষকে আর্থিক ও মানসিক স্বাধীনতা দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, টাকা বানানো একটি দক্ষতা, যা শেখা যায়। শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা উচিত। তিনি পরামর্শ দেন, নিজের সময়ের পরিবর্তে মানসিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করা সঠিক পথ।
ধনী হওয়ার মূলনীতি
নাভাল রবিকান্ত ধনী হওয়ার জন্য কয়েকটি মূলনীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। প্রথমত, নির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জন করুন, যা প্রথাগত শিক্ষা নয়, বরং আপনার কৌতূহল ও প্রতিভার ফল। দ্বিতীয়ত, লিভারেজ ব্যবহার করুন—প্রযুক্তি, পুঁজি ও মিডিয়ার শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করুন। তৃতীয়ত, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন ও বিচক্ষণতা গড়ে তুলুন। চতুর্থত, ধৈর্য ধরুন—দ্রুত সফলতা নয়, সঠিক পথে দীর্ঘ সময় কাজ করুন। পঞ্চমত, সঠিক খেলা খেলুন, অর্থাৎ এমন কাজে মনোনিবেশ করুন, যেখানে সবাই জিততে পারে।
সুখ অভাবের অনুপস্থিতি
নাভাল রবিকান্তের জন্য সুখ মানে কিছু অর্জন করা নয়, বরং অভাবের অনুপস্থিতিতে স্বস্তি বোধ করা। তিনি সুখের জন্য ভালো অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেন, যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান ও সূর্যালোকের সংস্পর্শ। এগুলো মনের প্রশান্তি আনে। এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশা থেকে মুক্ত থাকার কথা বলেন। সমাজের চাপ, বাহ্যিক প্রতিযোগিতা ও অযথা বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সুখী জীবনের চাবিকাঠি।
সত্যিকারের স্বাধীনতা
নাভাল রবিকান্তের মতে, সত্যিকারের স্বাধীনতা হলো, আপনি যা চান না, তা না করা। এটি জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। তিনি ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করার পরামর্শ দেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি বর্তমানকে উপভোগ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা জরুরি, কিন্তু বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নাভাল রবিকান্তের মূল বার্তা
নাভাল রবিকান্তের জীবনদর্শন আমাদের শেখায় যে সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতা শুধু বাহ্যিক সাফল্য নয়, বরং অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির ফল। তিনি বলেন, ‘আপনি একদিন মা*রা যাবেন, তাই এ মুহূর্তকে উপভোগ করুন, ইতিবাচক কিছু করুন, মানুষকে ভালোবাসুন, হাসুন ও নিজের কাজটি করুন।’ তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে আমরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও জীবনবোধের দিক থেকে সমৃদ্ধ হতে পারি। @ আজকের পত্রিকা,
১১
নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার ৮ উপকারিতা
আধুনিককালের উচ্চশিক্ষায় শুধু জ্ঞান অর্জন করা নয়; বরং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গঠনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে, সঠিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আপনি পেশাগত জীবনে অনেক সুযোগ পেতে পারেন। এখানে এমন ৮ টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো, যা আপনার নেটওয়ার্ক বিস্তারে সহায়ক হবে।
সামাজিক সংযোগ গড়ে তোলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে একাধিক সামাজিক সংযোগ তৈরি করা আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ হতে পারে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন বা অনুষ্ঠানে যোগদান করে আপনি নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারেন এবং পেশাদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। এসব সামাজিক পরিবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনার পরিচিতি বৃদ্ধি পায় এবং এটি আপনার নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারিত করে।
ক্যারিয়ার পরিষেবা ব্যবহার করা
বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার পরিষেবা বা চাকরি-সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এসব পরিষেবার মাধ্যমে আপনি ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁদের মেন্টরশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারেন, চাকরি মেলা বা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দিতে পারেন। ক্যারিয়ার পরিষেবা আপনাকে কেবল চাকরি খুঁজতে সহায়তা করবে না; বরং এটি আপনার পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি করতেও সাহায্য করবে।
নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশ নেওয়া
নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিক বা পেশাদার সম্মেলনে অংশ নিয়ে আপনি তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, যাঁরা আপনার ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হতে পারে। এমন ইভেন্টে পরিচিতি গড়ে তুলুন এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা
বর্তমানে LinkedIn, Twitter এবং অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পেশাদার যোগাযোগ স্থাপন করা সহজ হয়েছে। আপনি আপনার শিক্ষাজীবন এবং পেশাদার লক্ষ্যগুলো শেয়ার করে ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার প্রোফাইল নিয়মিত আপডেট করুন এবং সেই অনুযায়ী নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন। LinkedIn-এর মাধ্যমে আপনি অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষকমণ্ডলী এবং পেশাদারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগ পাবেন।
পেশাদারদের সঙ্গে মেন্টরশিপ তৈরি করা
একজন মেন্টর আপনার ক্যারিয়ার গঠনে অমূল্য ভূমিকা রাখতে পারেন। যদি আপনি একাডেমিক অথবা পেশাদার জীবনে উন্নতি করতে চান, তাহলে এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করুন, যিনি আপনাকে গাইড করতে পারেন। এটি হতে পারে আপনার কোনো শিক্ষক, অধ্যাপক অথবা কর্মস্থলে অভিজ্ঞ কোনো পেশাদার। মেন্টরশিপের মাধ্যমে আপনি শুধু তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবেন না; বরং একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কও তৈরি করবেন।
শিক্ষকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা
আপনি যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে গবেষণা করার জন্য আপনার শিক্ষক বা অধ্যাপকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন। শিক্ষকেরা সাধারণত এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকেন এবং তাঁরা আপনাকে গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করতে পারেন। এটি আপনাকে আপনার একাডেমিক নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সহায়তা করবে। তা ছাড়া, শিক্ষকেরা আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্যও সুপারিশ বা রেফারেন্স দিতে পারেন।
শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
আপনার বিষয়ে, যেমন সেমিনার, কনফারেন্স বা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে আপনি একাডেমিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন। এসব কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পারলে আপনি পেশাদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি, আপনি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।
ভলান্টিয়ারিং বা ইন্টার্নশিপ করা
ভলান্টিয়ারিং বা ইন্টার্নশিপ করার মাধ্যমে আপনি একটি পেশাদার পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং এতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হয়। আপনি একদিকে যেমন কাজ শিখবেন, তেমনি অন্যদিকে কর্মস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন। এটি বিশেষ করে পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা,
'হেডোনিক ট্রেডমিল'
মানুষের মস্তিষ্ক কখনো চিরস্থায়ী সুখের জন্য তৈরি হয়নি। আপনি যদি আজ লটারি জেতেন, ৬ মাস পর আপনার ব্রেইন সেই সুখকে 'স্বাভাবিক' ধরে নেবে এবং আপনাকে আবার নতুন কিছুর জন্য তৃষ্ণার্ত করে তুলবে। একে বলে 'হেডোনিক ট্রেডমিল'। মানুষের মস্তিষ্ক আনলিমিটেড ডোপামিন সাপ্লাই দিতে পারে না। প্রকৃতি আপনাকে তৃপ্ত হতে দেয় না, কারণ আপনি তৃপ্ত হয়ে গেলে নতুন কিছুর জন্য দৌড়াবেন না, আর আপনি না দৌড়ালে বিবর্তন থেমে যাবে। আপনার পুরো জীবনটি আসলে একটি অন্তহীন গাধার দৌড়, যেখানে আপনার সামনে একটি মিথ্যে সুখের গাজর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে—যা আপনি কোনোদিন ছুঁতে পারবেন না।
১২
বই পড়তে বসলেই ঘুম আসে
বই পড়তে বসলে ঘুম চলে আসা একটি সাধারণ সমস্যা। এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকে। মনে হয়, বই যেন ঘুমের ওষুধ। তবে কিছু কৌশল আছে, যা আপনাকে বই পড়ার জন্য উৎসাহিত এবং ঘুম দূরে রাখতে সাহায্য করবে। বই পড়তে বসলে ঘুম দূর করার উপায় নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রথমে দেখে নিতে হবে, আপনার ঘুমের অভ্যাস ঠিক আছে কি না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে বই পড়ার সময় চোখের পাতায় ঢুলুনি আসে। তাই প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। সকালের সূর্যের আলোয় দিন শুরু করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে মন প্রাণবন্ত থাকবে, আর বই পড়ার সময় ক্লান্তিবোধ কম হবে।
পড়ার পরিবেশ সুন্দর করুন
একটি ভালো পরিবেশ ঘুমের অনুভূতি দূর করতে সাহায্য করে। অন্ধকার বা শীতল জায়গায় বই পড়লে ঘুমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এমন জায়গায় বই পড়ুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো থাকে এবং ঠান্ডা পরিবেশ না থাকে। আপনি যদি খাটে বা সোফায় বসে পড়েন, তবে সেখানেও ঘুম আসতে পারে। কাজেই সোজা চেয়ারে বা ডেস্কে বসে পড়ার চেষ্টা করুন।
বইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করুন
বইয়ের বিষয়বস্তু যদি খুব একঘেয়ে বা কঠিন হয়, তবে মনোযোগ হারিয়ে ঘুম চলে আসতে পারে। এ জন্য বইটি নির্বাচন করার সময় নিশ্চিত করুন, যে বিষয়বস্তু আপনার আগ্রহের। ঘুম এলে যে বিষয়ে আপনার কাছে সবচেয়ে আনন্দদায়ক লাগে, সেই বিষয়টি পড়ুন। ঘুম এলে একাডেমিক বইয়ের বাইরে গল্প বা রোমাঞ্চকর বই পড়লে মনোযোগ বজায় রাখতে সহজ হবে।
বিরতি নিয়ে পড়ুন
একটানা দীর্ঘ সময় পড়লে চোখ ও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়, ফলে ঘুমের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই ৩০-৪৫ মিনিট পড়ার পর ৫-১০ মিনিটের বিরতি নিন। এই সময় একটু হাঁটাহাঁটি করুন, চোখে পানির ঝাপটা দিন বা হালকা স্ট্রেচিং করুন। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং মনোযোগ ফিরে আসবে।
অ্যাকটিভ রিডিংয়ের কৌশল
শুধু চোখ বুলিয়ে পড়ার চেয়ে ‘অ্যাকটিভ রিডিং’ বেশি কার্যকর। পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশ নোট করুন, বইয়ের বিষয়বস্তু নিজের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করুন। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে সেটি নিয়ে ভাবুন, নিজেকে প্রশ্ন করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করুন। এতে একদিকে পাঠের গভীরতা বাড়বে, অন্যদিকে ঘুমের প্রবণতাও কমে যাবে।
চা বা কফির সাহায্য নিন
অনেকে চা বা কফি পান করলে সতেজ অনুভব করেন। বই পড়ার আগে বা মাঝেমধ্যে এক কাপ চা বা কফি পান করলে ঘুম কেটে যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত ক্যা*ফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে, তাই পরিমিত পান করুন।
শরীর সুস্থ রাখুন
শরীর দুর্বল হলে বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে সহজে ঘুম পেয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। সুস্থ শরীর মানেই সজীব মন, যা আপনাকে পড়ার সময় মনোযোগী রাখবে।
নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন
বই পড়ার উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকলে আগ্রহ বাড়ে। নিজেকে প্রশ্ন করুন—কেন আপনি বইটি পড়ছেন? যদি চাকরির প্রস্তুতির জন্য পড়েন, তবে নিজেকে কল্পনা করুন, কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার পর কেমন লাগবে। ভালো রেজাল্টের জন্য পড়লে সফলতার অনুভূতি কেমন হবে, সেটি ভাবুন। এ ধরনের অনুপ্রেরণা আপনাকে বই পড়ায় আরও উৎসাহী করবে।
বই পড়া একটি আনন্দদায়ক অভ্যাস, কিন্তু এর জন্য দরকার সঠিক পরিবেশ, মনোযোগ এবং সামান্য কিছু কৌশল। তাই পরেরবার যখন বই পড়তে বসবেন, এই কৌশলগুলো অনুসরণ করুন। দেখবেন, ঘুম আপনাকে আর বাধা দিতে পারছে না, বরং বইয়ের জগতে হারিয়ে যাওয়ার আনন্দই আপনাকে মাতিয়ে তুলছে।
১৩
নিজের মূল্য বুঝতে শিখুন: অপ্রয়োজনীয় মানুষ থেকে দূরত্বই হোক সমাধান
আমরা আমাদের জীবনে অনেক মানুষকে জায়গা দিই। কাউকে বন্ধু হিসেবে, কাউকে শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে, আবার কাউকে প্রাণের মানুষ হিসেবে। কিন্তু সময়ের স্রোতে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যায়— সবাই আপনার গুরুত্ব বোঝার ক্ষমতা রাখে না।
কেন দূরে সরা জরুরি?
মানুষের সাথে মেশা যেমন ভালো গুণ, তেমনি যারা আপনার উপস্থিতি বা আপনার আবেগের মর্যাদা দেয় না, তাদের থেকে সম্মানের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা আরও বড় গুণ। যখন আপনি বুঝতে পারবেন আপনার আন্তরিকতা কারো কাছে কেবল 'সুযোগ' ছাড়া আর কিছু নয়, তখনই থেমে যাওয়া উচিত।
মনে রাখবেন:
মানসিক শান্তি সবার আগে: যে সম্পর্ক আপনাকে কেবল মানসিক চাপ আর অবহেলা উপহার দেয়, সেখানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আত্মসম্মান রক্ষা করা: আপনি নিজেকে কতটা সম্মান করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই অন্যেরা আপনাকে সম্মান করবে। আপনি যদি অবহেলার জায়গাতেও বারবার ফিরে যান, তবে মানুষ আপনাকে সস্তা ভাবতে শুরু করবে। সঠিক মানুষের জন্য জায়গা রাখা: আপনার জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় এবং নেতিবাচক মানুষরা সরে গেলেই কেবল সেই শূন্যস্থানে সঠিক ও গুণী মানুষের আগমন ঘটবে।
জীবনের ছোট কিন্তু বড় শিক্ষা
হীরা চেনার জন্য যেমন জহুরির প্রয়োজন হয়, তেমনি আপনার ব্যক্তিত্ব আর গুণ বোঝার জন্যও মানসিক গভীরতা থাকা প্রয়োজন। যারা অগভীর চিন্তার অধিকারী, তারা কখনোই আপনার গভীরতা অনুভব করতে পারবে না। তাই তাদের ওপর অভিমান করে নিজের সময় নষ্ট করবেন না।
"যেখানে আপনার কদর নেই, সেখানে নিজের উপস্থিতি দিয়ে কারো বিরক্তির কারণ হবেন না। আপনার অনুপস্থিতিই হোক তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ উত্তর।"
নিজে হাসুন, নিজেকে ভালোবাসুন। জীবনের এই ছোট সফরে আনন্দ খুঁজে নিন তাদের মাঝে, যারা আপনার হাসির কারণ হতে চায়। যারা আপনার গুরুত্ব বোঝে না, তাদের প্রতি কোনো ঘৃণা পোষণ করারও প্রয়োজন নেই; শুধু নিজের ভালোর জন্য তাদের থেকে নিভৃতে সরে আসুন। নীরবতা অনেক সময় হাজারো তর্কের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। নিজের গুরুত্ব নিজে বুঝুন, পৃথিবী ঠিকই একদিন আপনার মূল্য বুঝতে বাধ্য হবে।
১৪
মুখের অতিরিক্ত তেল
সকালে ঘুম ভাঙার পর আয়নায় নিজের মুখটা দেখে কি মনে হয়, সারা রাতে কেউ যেন মুখে এক বাটি তেল মেখে দিয়েছে? কপাল, নাক আর গাল ছুঁলে হাতের আঙুল চিপচিপ করে ওঠে। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আপনি হয়তো দিনে পাঁচ-দশবার কড়া ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ঘষে ঘষে পরিষ্কার করেন, ব্যাগে সবসময় টিস্যু বা ব্লটিং পেপার রাখেন। কিন্তু যতই পরিষ্কার করুন না কেন, ঘণ্টাখানেক যেতে না যেতেই সেই পুরোনো চেহারা—ত্বক আবার তেলের খনি হয়ে ওঠে। মেকআপ বেশিক্ষণ টেকে না, গলে পড়ে যায়, আর আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে ভাবেন, "আমার ত্বকটাই বোধহয় খারাপ, এর কোনো নিস্তার নেই।" আমরা অনেকেই মনে করি, মুখের এই অতিরিক্ত তেল বুঝি বাইরের ধুলোবালি বা অপরিচ্ছন্নতার ফল। কিন্তু আসল সত্য হলো, আপনার ত্বক মোটেও তেল তৈরি করে না, এই তেলের কলকাঠি নাড়ছে আপনার শরীরের ভেতরে থাকা হরমোন।
ত্বকের নিচে লুকিয়ে থাকা সিবেসিয়াস গ্ল্যান্ড বা তৈলগ্রন্থিগুলোকে আপনি ছোট ছোট 'অয়েল ফ্যাক্টরি' ভাবতে পারেন।
এই ফ্যাক্টরিগুলো এমনি এমনি চলে না; এগুলোকে চালানোর হুকুম দেয় 'অ্যান্ড্রোজেন' নামের এক ধরণের পুরুষ হরমোন (যা নারীদের শরীরেও অল্প পরিমাণে থাকে)। যখন আপনার শরীরে কোনো কারণে এই হরমোনের দাপট বেড়ে যায় বা ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন সে তৈলগ্রন্থিগুলোকে নির্দেশ দেয়— "আরও বেশি তেল বানাও!" ফলে ত্বক ভেসে যায় অতিরিক্ত সিরাম বা তেলে। এখন আপনি যখন ওপর থেকে বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে সেই প্রাকৃতিক তেলের স্তর জোর করে ধুয়ে ফেলেন, তখন ত্বক ভয় পেয়ে যায়। সে মনে করে তার সুরক্ষা কবচ হারিয়ে গেছে। তাই আত্মরক্ষার জন্য ত্বক তখন 'বিদ্রোহ' করে এবং আগের চেয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে আরও বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে। অর্থাৎ, আপনি তেল তাড়াতে গিয়ে অজান্তেই তেল উৎপাদনের মেশিনটাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছেন।
এই নাছোড়বান্দা তেলের সমস্যা ফেসওয়াশ বদলে সমাধান হবে না, এর সমাধান করতে হবে ভেতর থেকে হরমোনকে শান্ত করে। আর এই হরমোনের লাগাম টানতে পারে 'জিংক' এবং 'ভিটামিন বি-৬'। আপনার খাদ্যতালিকায় কুমড়ার বিচি, লাল চাল, কলা বা পালং শাকের মতো খাবার বাড়ান, যা শরীরে জিংক ও বি-৬ এর জোগান দেবে। এছাড়া পুদিনা পাতার চা (Spearmint Tea) অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোন কমিয়ে আনতে জাদুর মতো কাজ করে। ভেতরের পুষ্টির পাশাপাশি বাইরে থেকে তেলের উৎপাদন কমাতে একটি দারুণ কার্যকরী এবং বৈজ্ঞানিক ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। সেটি হলো— 'গ্রিন টি টোনার' (Green Tea Toner)। এক কাপ গরম পানিতে একটি গ্রিন টি ব্যাগ ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর ঠাণ্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন। মুখ ধোয়ার পর এই ঠাণ্ডা গ্রিন টি তুলোয় ভিজিয়ে মুখে লাগান। গ্রিন টি-তে থাকে ইজিসিজি (EGCG) নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা সরাসরি আপনার ত্বকের তৈলগ্রন্থির ওপর কাজ করে এবং তেল উৎপাদন কমাতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মনে রাখবেন, ত্বকের ওপরের তেল টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলা যায় ঠিকই, কিন্তু হরমোনের এই অতিরিক্ত তেল মুছতে হয় ভেতর থেকে পুষ্টি আর সঠিক বিজ্ঞান দিয়ে।
তাই ত্বককে শত্রু না ভেবে, শরীরের ভেতরের অভাবগুলো পূরণ করুন; দেখবেন আপনার ত্বক আর তেলের খনি নয়, বরং প্রাকৃতিক সজীবতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
১৫
ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশল
সফলতা লাভের জন্য ক্রমাগত পরিশ্রমের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই অনেক আয়োজন করে শুরু করেন কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। ফলে সাফল্য রয়ে যায় অধরা। জীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশল জানিয়েছেন এজাজ পারভেজ
শুরু হোক ছোট পদক্ষেপে
ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে শুরু করতে ছোট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে। আমাদের শরীর ও মন বড় পরিবর্তন হঠাৎ করে গ্রহণ করতে পারে না। সে জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, সেটি যেন প্রতিদিনের চর্চার মধ্যে থাকে। যখন এই ছোট পদক্ষেপটি অভ্যাসে পরিণত হবে তখন আরেকটি ছোট পদক্ষেপ নিন।
আস্থা রাখুন কর্মপ্রক্রিয়ায়
প্রতিটি জিনিসের একটি নিয়ম বা প্রক্রিয়া আছে। যেমন কর্ম তেমন ফল। আপনি বরই গাছ লাগিয়ে আপেল পাবেন না। আবার আপেল গাছে লাগিয়ে পরিচর্যা করলে গাছে আপেলই ধরবে, অন্য কিছু নয়। সে জন্য সফলতা লাভের জন্য তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে অনুসরণ করতে শুরু করুন। অধৈর্য হবে না। কর্মপ্রক্রিয়ায় আস্থা রাখুন। যদি ধৈর্য ধরে না রাখতে পারেন হতাশ হয়ে অনুশীলন বাদ দিলেন। কিন্তু ছিলেন হয়তো সফলতার দ্বারপ্রান্তে।
ছোট ছোট সাফল্যকে আমলে নিন
দৃশ্যমান সাফল্য না থাকলে কাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন। কোনো কাজে নিযুক্ত হলে সাফল্য আসেই। কিন্তু আমরা সেটি গ্রাহ্য করি না কারণ লক্ষ্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। ছোট ছোট সাফল্য রয়ে যায় ধর্তব্যের বাইরে। কিন্তু ছোট ছোট সাফল্যকে আমলে নিলে আপনি উপলব্ধি করবেন আপনার পরিশ্রম বিফলে যাচ্ছে না। তখন কাজে ধারাবাহিক থাকার অনুপ্রেরণা পাবেন।
আবেগিক স্থিতিশীলতা জরুরি
ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আবেগিক স্থিতিশীলতা জরুরি। যা-ই হোক না কেন দিনের নির্দিষ্ট কাজের মাঝে নিজের আবেগকে আসতে দেবেন না। আবেগ যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, আপনি আপনার আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করুন।
কাজকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন
যেকোনো কাজকে কয়েকটি ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করলে হতোদ্যম হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফলে ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।
নিজেকে কোনো ছাড় নয়
অনুশীলনের ক্ষেত্রে মনে কখনোই আজও নয়, কাল এমন মনোভাব আসতে দেবেন না। রুটিন অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিজেকে কোনো ছাড় দেবেন না। রুটিন ধারাবাহিক থাকতে পারলে আজ হোক বা কাল, সাফল্য আপনি পাবেনই।
সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রতা করবেন না
চলার পথে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রতার ফাঁদে পড়বেন না। আজ না কাল করতে থাকলে অনুশীলনে ব্যত্যয় ঘটবে। ধারাবাহিকতা লঙ্ঘিত হবে। চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয় ও কাজে নেমে তা বুঝতে পারেন তাহলে সেটা বদলে আরেকটি সিদ্ধান্ত নিন। এভাবে চেষ্টা ও পুনঃচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়া খুঁজে পাবেন। পথে নামলেই পথের সঠিক হদিস পাবেন।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন
নিজের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে নিজেকেই। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে পারছেন কি না, দৈনন্দিন রুটিন শতভাগ মেনে চলতে পারছেন কি না নিজেকে প্রশ্ন করুন। কেন পারছেন না নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। আত্মসমালোচনা করুন। সংকটের সমাধান বের করুন, কাজে লাগান।
নিজের সাফল্য উদযাপন করুন
নিজের প্রতি শুধু কঠোর হলেই হবে না, সাফল্য লাভ করলে লক্ষ্য অর্জিত হলে নিজেকে পুরস্কৃতও করতে হবে। তাহলে মন প্রশিক্ষিত হবে। কঠোর অনুশীলনের একঘেঁয়ে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আপত্তি করবে না।
সমমনাদের সঙ্গে থাকুন
একা স্রোতের বিরুদ্ধে লড়া যায় না। সবাই যখন ভোরে অকাতরে ঘুমাচ্ছে তখন একা একা প্রাতঃভ্রমণে যাওয়া কঠিনই বটে। কিন্তু যদি এমন একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হন যারা প্রতিদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে যায় তাহলে কষ্টটা আর কষ্ট মনে হবে না। অভিন্ন লক্ষ্য আছে এমন মানুষের সঙ্গে পথচলার চেষ্টা করুন। তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
১৬
পরিবর্তনের জন্য নিজের প্রতি পাঁচ চ্যালেঞ্জ
নিজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিতে হয় পদক্ষেপ, বের হতে হয় দীর্ঘদিনের স্বস্তিকর অভ্যাস থেকে। নিজেকে জানাতে হয় চ্যালেঞ্জ। নিজের পরিবর্তনের জন্য উপকারী এমন পাঁচটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে লিখেছেন লিজা চৌধুরী
অভিযোগবিহীন একুশ দিন
অভিযোগপ্রবণ মানুষ নিজের সব ব্যর্থতার জন্য অন্যের দোষ খুঁজে পায়। অথচ একটু ইতিবাচক হলে সে দেখতে পেত সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের চারপাশেই ছিল নানা উপায়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অঙ্কুরোদগমের জন্য তাই চাই অভিযোগ করার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসা। গবেষকরা বলেন, কোনো অভ্যাস অবচেতনে প্রোথিত হতে সেই কাজটি সচেতনভাবে একুশ দিন চর্চা করতে হয়। তাই অভিযোগ না করার অভ্যাস করতে টানা একুশ দিন কারও প্রতি কোনো অভিযোগ, অনুযোগ না করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।
এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবন
মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইলকে আমরা বলতে পারি বাহুল্যবর্জিত জীবন। যে জিনিসটি না হলেই নয়, শুধু সেটি ক্রয় ও ব্যবহারের জীবনকে বলা যায় এই বাহুল্যবর্জিত জীবন। আমাদের জীবনের অধিকাংশ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণ হলো পণ্য দাসত্ব। পর্যাপ্ত পোশাক থাকার পরও পোশাকের নেশা, বাসস্থান থাকার পরও আরেকটি বাসস্থান লাভের আকাঙ্ক্ষা
প্রভৃতি আমাদের জীবনকে একটি প্রতিযোগিতায় ফেলে দেয়। এই প্রতিযোগিতা আমাদের মনকে বিপর্যস্ত করে, শরীরে বাঁধে অসুখ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের বিকল্প নেই। প্রাথমিকভাবে এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। এই এক মাস সেই জিনিসটি কিনবেন, যা ছাড়া আপনার জীবন অচল হয়ে পড়বে।
আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তী জীবন
নিয়মকে অনেকে বন্দিত্ব মনে করলেও নিয়মানুবর্তিতা আমাদের দেয় স্বাধীনতা। কেউ যদি নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেন তাহলে তিনি উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাস্থ্যের স্বাধীনতা। কিন্তু তিনি যদি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেন তাহলে বন্দি হয়ে পড়বেন অসুস্থতার পরাধীনতা। নিয়মানুবর্তী জীবনের সুফল পরখ করে দেখতে চাইলে নিতে পারেন আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার চ্যালেঞ্জ। এই আড়াই মাস আপনাকে প্রতিদিন চার লিটার পানি পান করতে হবে, দিনে দুবার পৌনে এক ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করতে হবে, সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, প্রতিদিন অন্তত পড়তে হবে দশ পাতা, ঘুমের আগে লিখতে হবে জার্নাল। আড়াই মাস এই রুটিন মেনে চললে নিজের পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন আপনি নিজেই।
সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট (Tech Fast)
সপ্তাহের এক দিন প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে দূরে থাকার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। একে বলতে পারেন সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট। এই দিনটি প্রযুক্তি থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন। এর ফলে অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ার ফলে যে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক শূন্যতা তৈরি হয় তা কিছু পরিমাণে হলেও হ্রাস পায়। দেহ ও মন সুযোগ পায় এই শূন্যতা পূরণে।
বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ
আমরা অনেকেই সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগী হই না। ফলে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে থাকে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিতে পারেন বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ অনুসারে নিজের সামর্থ্য অনুসারে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ সঞ্চয় করতে হবে। যদি আপনি প্রতি সপ্তাহে পাঁচশ টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে ২৬ হাজার টাকা, আর যদি প্রতি সপ্তাহে এক হাজার টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে বায়ান্ন হাজার। এর বেশিও সঞ্চয় করতে পারেন নিজের সামর্থ্য অনুসারে। তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
১৭
গ্যালাক্সির জীবনচক্র ও আমাদের শরীরের কার্বন
মহাবিশ্বের ইতিহাস শুধু দূরের গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রের গল্প নয়, এটা আমাদের শরীরের ভেতরেও লুকিয়ে আছে। আমরা যেসব উপাদান দিয়ে তৈরি, সেগুলোর জন্ম কোনো এক সময় প্রচণ্ড শক্তিশালী মহাজাগতিক ঘটনার মধ্যে। আমাদের দেহের কার্বন, অক্সিজেন, লোহা—এসব উপাদান একসময় জ্বলন্ত নক্ষত্রের কেন্দ্রে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের যাত্রা সেখানেই থেমে যায়নি; তারা মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে বহু দূর ভ্রমণ করেছে। এই দীর্ঘ ভ্রমণের অংশ হিসেবে তারা শুধু নিজ গ্যালাক্সির ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গ্যালাক্সির বাইরের বিশাল অঞ্চলেও ঘুরে বেড়িয়েছে।
বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন যে গ্যালাক্সি কোনো বন্ধ সিস্টেম নয়। নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, বিশেষ করে সুপারনোভা বা নিউট্রন নক্ষত্রের সংঘর্ষ, প্রচুর পরিমাণে ভারী মৌল তৈরি করে এবং সেগুলো প্রচণ্ড গতিতে বাইরে ছুড়ে দেয়। এই উপাদানগুলো গ্যালাক্সির চারপাশে থাকা বিস্তৃত গ্যাসীয় আবরণে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে বলা হয় সার্কামগ্যালাক্টিক মিডিয়াম বা CGM। এই অঞ্চলটি এক ধরনের ভাণ্ডারের মতো কাজ করে, যেখানে গ্যালাক্সি থেকে বের হয়ে যাওয়া পদার্থ জমা থাকে এবং সময়ের সাথে সাথে আবার ভেতরে ফিরে আসে।
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে করা পর্যবেক্ষণে দূরের কোয়াসারের আলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কোয়াসারের আলো যখন কোনো গ্যালাক্সির চারপাশের CGM ভেদ করে আসে, তখন সেই গ্যাসের ভেতরে থাকা উপাদানের স্বাক্ষর আলোতে ধরা পড়ে। এইভাবে গবেষকরা কয়েকটি তারা-উৎপাদনশীল গ্যালাক্সির আশেপাশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বনের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। যেসব গ্যালাক্সিতে এখনো নতুন তারা তৈরি হচ্ছে, তাদের CGM সমৃদ্ধ ভারী উপাদানে ভরা। বিপরীতে, যেসব গ্যালাক্সি অনেকদিন ধরে নিষ্ক্রিয় এবং নতুন তারা তৈরি করছে না, তাদের চারপাশের অঞ্চলে এসব উপাদান তুলনামূলকভাবে কম।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায়, গ্যালাক্সির জীবনচক্রের সাথে এই পদার্থের আদান-প্রদানের গভীর সম্পর্ক আছে। CGM-এ জমা থাকা গ্যাস ও ভারী মৌল ধীরে ধীরে আবার গ্যালাক্সির ভেতরে ফিরে এসে নতুন নক্ষত্র ও গ্রহ গঠনে অংশ নেয়। ফলে গ্যালাক্সি এক ধরনের পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। এই প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে গ্যালাক্সিতে নতুন তারা তৈরির উপাদান কমে যায় এবং সময়ের সাথে সাথে তা নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
কার্বন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জৈব রসায়নের ভিত্তি এই মৌল। আমাদের শরীরের কার্বন পরমাণুগুলো একসময় হয়তো কোনো নক্ষত্রের অন্তরে গঠিত হয়েছিল, তারপর বিস্ফোরণে ছিটকে গ্যালাক্সির বাইরে চলে গিয়েছিল, আবার কোটি কোটি বছর পর ফিরে এসে সূর্য, পৃথিবী এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের অংশ হয়েছে। তাই মানবদেহ শুধু পৃথিবীর উপাদান দিয়ে তৈরি নয়; এটি মহাবিশ্বজুড়ে দীর্ঘ ভ্রমণ করা পদার্থের এক জীবন্ত স্মৃতি।
( দি স্টোরি অফ সাইন্স)
১৮
একা ভ্রমণে ১০ ভুল এড়িয়ে চলুন
একাকী ভ্রমণ মানে স্বাধীনতা। যেখানে যেতে চান কিংবা যা করতে চান, তা আপনার হাতে। তবে একা ঘুরতে গেলে কিছু বিষয়ে সাবধানতা জরুরি। কিছু সাধারণ ভুল যদি এড়িয়ে চলতে পারেন, তাহলে একক ভ্রমণ হবে আরও স্মৃতিময় ও আনন্দদায়ক।
অতিরিক্ত ব্যাগ নেওয়া
যেহেতু একা ভ্রমণ করছেন, সবকিছু বহন করতে হবে নিজেকেই। তাই ব্যাগের সংখ্যা যতটা সম্ভব কম রাখুন। স্বচ্ছন্দে বহন করতে পারেন, এমন ব্যাগ সঙ্গে নেওয়া উচিত।
হাতে সময় না রাখা
কোথাও গিয়ে সবকিছু এক দিনে দেখার চাপ নেবেন না। প্রয়োজনে নতুন গন্তব্যের জন্য নতুন দিন ঠিক করুন। যানজট, স্বাস্থ্যগত কিংবা প্রাকৃতিক কারণে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই হাতে সময় রেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।
বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া ভ্রমণ
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু না-ও ঘটতে পারে। হোটেলের রুম বুকিং বাতিল হতে পারে অথবা আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে ভিড় হতে পারে। তাই বিকল্প পরিকল্পনা থাকা ভালো। মূল গন্তব্যের কাছাকাছি অন্য হোটেল বা দর্শনীয় স্থান দেখা পরিকল্পনায় যোগ করুন।
খরচের হিসাব কম করা
ভ্রমণের জন্য বাজেট তৈরি জরুরি। কোথায় কত টাকা খরচ হবে, সেটি আগে থেকেই পরিকল্পনায় থাকলে বাজেটের মধ্যে ভ্রমণ সহজ হয়। বাজেটের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা রাখুন। যেকোনো সময় সেটি কাজে দেবে।
নিজের জন্য বিলাসিতা না করা
ভ্রমণে গিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার সঙ্গে নিজের সময় বিশেষভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করুন। সামর্থ্য অনুযায়ী একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে এক রাত কাটান অথবা প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে যান। এটি আপনাকে মানসিকভাবে চাঙা রাখবে।
একাকিত্ব ভ*য় পাওয়া
বেশির ভাগ সময় একা থাকতে অভ্যস্ত নয় বলে অনেকে ভ্রমণের সময় একাকিত্বে অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু একা সময় কাটানো অনেক কিছু শেখায়। তাই একাকিত্বে ভয় না পেয়ে সেটি উপভোগ করতে শিখুন। তাতে ভ্রমণ আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
নতুন বন্ধু বানাতে ভ*য় পাওয়া
একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন মানুষের সঙ্গে বুঝে বন্ধুত্ব করা উচিত। তাই বলে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন না, এমন নয়। চাইলে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এতে সময়টা ভালো কাটবে।
পরিবার বা বন্ধুদের গন্তব্য সম্পর্কে না জানানো
একা ভ্রমণে যাচ্ছেন বলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। কোথায় যাচ্ছেন বা কী করছেন, তা পরিবার বা বন্ধুদের কাউকে জানিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে তাঁদের কাছে ভ্রমণের পরিকল্পনা পাঠিয়ে দিন। ভ্রমণের সময় মাঝেমধ্যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।
জীবনের সুযোগগুলো মিস করা
বিজ্ঞাপন দেখে ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হবে না। বেশির ভাগ সময় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় যুগল বা গ্রুপের জন্য। কিন্তু একা হানিমুন প্লেসে ঘুরতে যাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই কমপক্ষে একবার মন যা চায়, একা সেগুলো করুন।
নিজের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস না রাখা
যাত্রাপথে যদি অস্বাভাবিক বা স*ন্দেহজনক কিছু মনে হয়, তাহলে সেসব এড়িয়ে চলা ভালো। কোথায় ঘুরতে যাবেন, তা নিয়ে দ্বি*ধা থাকলে মনের ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিন। এ ছাড়া নিজের অনুভূতির ওপরও বিশ্বাস রাখুন। সূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার
১৯
যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন করবেন যেভাবে
ক্যারিয়ারে সফলতা লাভের জন্য পেশাগত দক্ষতাই এখন যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতারা পদোন্নতির জন্য সফট স্কিলের দক্ষতাকেও বিবেচনা করছেন আগের চেয়ে বেশি। তাই ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জনের জন্য ছাত্রজীবনেই বিভিন্ন সফট স্কিলে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল যোগাযোগে দক্ষতা অর্জনের উপায় জানিয়েছেন শাবাব সোলায়মান
মনোযোগী শ্রোতা হন
কথার মাধ্যমে একজন মানুষ অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবচেয়ে বেশি। তাই কেউ যখন কথা বলবে তার কথাটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অনেকেই প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য কথা শোনেন। এতে বাদানুবাদ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বক্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন তার বক্তব্যকে বোঝার জন্য, প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য নয়।
চোখের দিকে তাকিয়ে বাক্যালাপ করুন
কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে বলুন। তার মানে এই নয় যে, স্থির দৃষ্টিতে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। এটা অসভ্যতা। সাধারণভাবে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে একদিকে যেমন শ্রোতার প্রতি শ্রদ্ধা ও মনোযোগের প্রকাশ ঘটে, তেমনি ফুটে ওঠে বক্তার আত্মবিশ্বাস।
শরীরী ভাষার ব্যবহার
যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে চাইলে শুধু মুখে বক্তব্যটি বলাই যথেষ্ট নয়। বরং, শরীর, মন ও স্বরযন্ত্র দিয়ে বক্তব্য প্রকাশে অভ্যস্ত হতে হবে। যথাযথ মুখভঙ্গি, চোখের অভিব্যক্তি ও হাতের অঙ্গভঙ্গি আপনার বক্তব্যকে দর্শক-শ্রোতার কাছে সহজবোধ্য করে তুলবে।
প্রশ্ন করুন, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন কোনো কথা বুঝতে না পারলে অনুমতি নিয়ে বক্তার কাছে না বোঝা অংশটির ব্যাপারে প্রশ্ন করুন। আর যদি নিজেই বক্তা হন তাহলে, বক্তব্যের একটি অংশ শেষ হলে দর্শক-শ্রোতা বিষয়টি বুঝেছে কি না তা জানতে তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন।
বক্তব্যের মাঝে বাধা দেবেন না
কেউ যখন কথা বলে তখন তার মাঝে কথা বলা ভদ্রতা বিরুদ্ধ আচরণ। এমনটি করবেন না। তা ছাড়া কথার মাঝখানে কথা বললে বক্তা যেমন বিরক্ত হন তেমনি বক্তব্যও থেকে যায় অসম্পূর্ণ। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। হতে পারে বক্তব্যের শেষে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি রয়েছে। যদি উত্তর না পান, তাহলে বক্তার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করুন।
বক্তব্য প্রকাশ করুন সচেতন ও পরিষ্কারভাবে
এলোমেলোভাবে কথা না বলে আপনার বক্তব্যকে উপস্থাপন করুন সুস্পষ্ট ও সচেতনভাবে। এ জন্য সবচেয়ে ভালো হয় বক্তব্য উপস্থাপনের আগে কয়েকবার নিজে নিজে অনুশীলন করে নিলে। বক্তব্য উপস্থাপনের আগে একটি কাগজে লিখে ফেললে নিজের কাছেই বক্তব্যটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। উপস্থাপন সহজ হবে।
বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন অনেক সময় বক্তা নানা কারণে সুস্পষ্টভাবে তার কথা না বললেও নানা ইঙ্গিত দেন। এ জন্য বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বিষয় বা ভাব বোঝার চেষ্টা করুন। এটা বোঝার জন্য কী বলছেন তা মনোযোগ দিয়ে বলা বা বোঝার পাশাপাশি কী বলেননি তা চিহ্নিত করা ও বোঝাও জরুরি।
সহমর্মী হন
আপনি বক্তাই হন বা শ্রোতা, অপরপক্ষের প্রতি সহমর্মী হন। তিনি কোন প্রেক্ষাপটে কথা বলছেন সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। এই সহমর্মী মনোভাব শ্রোতা হিসেবে যেমন বক্তার বক্তব্যকে বুঝতে সাহায্য করবে, তেমনি বক্তা হিসেবে শ্রোতার মনে কাছাকাছি আনবে।
ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করুন
কথা বলার সময় ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করুন। ইতিবাচক শব্দ শ্রোতার মনে সম্ভাবনার আশা জাগায়, উদ্যম সৃষ্টি করে, বক্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশে উৎসাহিত করে।
গঠনমূলক সমালোচনার চর্চা করুন
বক্তার বক্তব্য শোনার পরে অহেতুক সমালোচনা না করে, যদি বক্তা তার বক্তব্যের মূল্যায়ন শুনতে চান তাহলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। অহেতুক সমালোচনা বক্তার মনে বিরক্তি উৎপাদন করে, বিরোধ সৃষ্টি করে। বক্তা হিসেবে শ্রোতার গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করুন।
সত্য তুলে ধরুন
যেকোনো বক্তব্য তুলে ধরার সময় সত্য তুলে ধরুন। আপনার মনোভাব স্বচ্ছভাবে তুলে ধরুন। এর ফলে আপনার বক্তব্যের পরস্পরা রক্ষা যেমন সহজ হবে তেমনি বক্তব্য প্রকাশও করতে পারবেন সহজে। সত্যের এমন একটি ক্ষমতা আছে, যা সহজেই মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
ধৈর্য ধারণ শিখুন
অনেক সময় বক্তার অগোছালো বক্তব্য শুনে শ্রোতা হিসেবে বা শ্রোতার অঙ্গভঙ্গিতে বক্তা হিসেবে আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলি, যা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে। এ সময় ধৈর্য ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কঠিন শব্দ ব্যবহারের লোভ সংবরণ করুন কোনো কথা বলার সময় শ্রোতার বুঝতে সহজ হয় এবং বক্তব্যকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে, এমন শব্দই ব্যবহার করা উচিত। পাণ্ডিত্য বা ভাষার ওপর দখল প্রদর্শনের জন্য অহেতুক কঠিন শব্দের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
২০
কাউকে না জানিয়ে তার চরিত্র বোঝার কয়েকটি গোপন কৌশল!
মানুষ চেনা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। কিন্তু কিছু ছোট ছোট বিষয় খেয়াল করলে আপনি খুব সহজেই সামনের মানুষটির ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে:
জীবনযাত্রার মান: বলা হয়ে থাকে, একজন মানুষের জুতো তার রুচি এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে কথা বলে। পরিষ্কার এবং মানানসই জুতো উন্নত জীবনযাত্রার ইঙ্গিত দেয়। স্বাস্থ্য সচেতনতা: নখের গঠন এবং পরিচ্ছন্নতা দেখে বোঝা যায় মানুষটি নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি কতটা যত্নশীল।
পারিবারিক শিক্ষা: অন্যের উপস্থিতিতে কারও বসার ভঙ্গি বা শিষ্টাচার দেখে তার পারিবারিক মূল্যবোধ ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ বোঝা যায়।
মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গি: মানুষের চোখ কখনো মিথ্যা বলে না। কারও চোখের কোণ বা তাকানোর ধরণ দেখে তার মনের ভেতরের গভীর চিন্তা বা আপনার প্রতি তার মনোভাব আঁচ করা যায়।
সততা: কাউকে ছোট কোনো দায়িত্ব বা আমানত দিয়ে দেখুন। সেটির প্রতি তার যত্নই বলে দেবে সে বাস্তবে কতটা সৎ।
আত্মবিশ্বাস: মানুষ যখন সোজা হয়ে এবং দৃঢ় পায়ে হাঁটে, তখন তা তার প্রবল আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দেয়।
ব্যক্তিত্ব: হাসির ধরণ দেখে বোঝা যায় মানুষটি কতটা প্রাণবন্ত বা সে কি কিছু লুকিয়ে হাসছে (কৃত্রিম হাসি)।
আনুগত্য: আপনার সঙ্গী বা প্রিয়জন ভিড়ের মাঝে বা অন্যদের সাথে কথা বলার সময় আপনার দিকে কীভাবে তাকাচ্ছে, তা তার প্রতি আপনার গুরুত্ব ও আনুগত্য প্রকাশ করে। অন্যদের সাথে ব্যবহার: আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করা মানুষটি যদি রেস্টুরেন্টের ওয়েটার বা রিকশাচালকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, তবে বুঝবেন তার দয়া বা বিনয় কেবল লোক দেখানো। শোনার ধৈর্য: একজন ভালো চরিত্রের মানুষ কথা বলার চেয়ে অন্যের কথা শুনতে বেশি পছন্দ করেন। ধৈর্য ধরে কথা শোনা তার মানসিক পরিপক্কতার লক্ষণ।
মনে রাখবেন: কোনো মানুষকে বিচার করার আগে তাকে সময় দেওয়া প্রয়োজন। এই টিপসগুলো আপনাকে কেবল প্রাথমিক ধারণা পেতে সাহায্য করবে। .সংগৃহীত
২১
পেশাদারিত্বের দীক্ষা নিন ছাত্রজীবনেই
ছাত্রজীবন হলো পেশাজীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের সময়। সেজন্য ছাত্রাবস্থাতেই পেশাদারি আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করতে হয়, বিশেষ করে পড়াশোনার শেষাংশে। ছাত্রাবস্থাতেই যদি পেশাদারি মনোভাব গড়ে ওঠে তাহলে কর্মস্থলে অহেতুক বিব্রত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
পেশাজীবনে কোনো কিছুই ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। যেকোনো কর্মস্থলে সবাই একটি বড় দলে কাজ করে। সেই বড় দলের মধ্যে ছোট ছোট আরও কয়েকটি দল থাকে, কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে। কোনো কাজ যেহেতু কেউ একা করে না ফলে সেই কাজের সমালোচনাকে কখনো নিজের সমালোচনা হিসেবে নেবেন না। দলের একজন সদস্য হিসেবে চিন্তা করবেন কাজের এই সমালোচনাটি যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক। যদি যৌক্তিক হয় তাহলে সমালোচনাকে বিবেচনায় নিয়ে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে কাজের মানকে উন্নত করবেন। আর যদি মনে হয় অযৌক্তিক সমালোচনা তাহলে বাদানুবাদে না জড়ানোই ভালো। তবে যৌক্তিক-অযৌক্তিক এই বিবেচনা করার আগে অবশ্যই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ভাবার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
নতুন কাজকে ভয় পাবেন না
কর্মক্ষেত্রে প্রায় সময় একই ধরনের কাজ করতে হয় এবং সেই কাজটি হয় পেশাসংক্রান্ত। তবে অবস্থার পরিবর্তনে যেকোনো সময় নতুন পরিস্থিতিতে নতুন কাজের দায়িত্ব আসতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কাজকে ভয় পাবেন না। একে দায়িত্ববহির্ভূত কাজ হিসেবে ভাববেন না। নতুন কাজ বা দায়িত্ব সবসময় আত্মোন্নয়ন ও চাকরিতে পদোন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে আসে। তা ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন বিষয় শেখার সুযোগ সহসা মেলে না। অথচ পদোন্নতির জন্য সবসময় একাধিক বিষয়ে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হয়। নতুন কাজকে তাই নিজের ক্যারিয়ারে একটি পালক যুক্ত করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে শিখুন।
উদ্ভাবনী ক্ষমতার ব্যবহার করুন
নানান সমস্যার সমাধানে প্রথাগত সমাধান ব্যবহার না করে নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এর ফলে যদি সমস্যাটি সমাধানে আরও কম সম্পদ, সময় ও লোকবল ব্যবহৃত হয় তাহলে এটিই গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শুধু আপনার কর্মক্ষেত্রেই নয়, ওই পেশাক্ষেত্রে আপনার একটি গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা তৈরি হবে। তবে উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রয়োগের আগে খোঁজ নিতে হবে যে, এটি আগে কেউ ব্যবহার করেছে কি না আর এটি ব্যবহার করলে পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না।
অঙ্গীকার রক্ষা করুন
অঙ্গীকার রক্ষা করার ক্ষমতাকে পেশাদারত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশাল কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন কাজ করেন। মূলত তারা একটি বিশাল কাজকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে নির্দিষ্ট সেই কাজটি করেন। সবার মিলিত কাজের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে চূড়ান্ত ফল। এ কারণে প্রত্যেকেই যার যার কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা খুবই জরুরি। তাই কোনো দায়িত্ব নিলে সেই কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে সুসম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কোনো কাজ নেওয়ার আগে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকলে অঙ্গীকার ভঙ্গের ভয় থাকে না। যেমন কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারবেন কি না, করার জন্য যথেষ্ট লোকবল আছে কি না প্রভৃতি। যদি আপনার সক্ষমতা না থাকে এবং সময় অপর্যাপ্ত থাকে তাহলে কাজটি নেবেন না এবং আপনার অপারগতা প্রকাশ্যে প্রথমেই জানিয়ে দেবেন। কিন্তু একবার কোনো কাজ করার অঙ্গীকার করার পর তা রক্ষা করতেই হবে। কারণ এর ওপর নির্ভর করে গোটা প্রকল্পের সফলতা।
সততা সবার আগে
পেশাজীবনে সততা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তবে শুধু পেশাজীবনে নয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও সততা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তাই জীবনের সবক্ষেত্রে সততার চর্চা শুরু করুন। এতে পেশাজীবনে যেমন সহকর্মীদের শ্রদ্ধা অর্জন করবেন, তেমনি এড়িয়ে যেতে পারবেন নানা জটিলতা। @ শাহরিয়ার নাফিস
২২
স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল শেকসপিয়র
শেকসপিয়রকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গত চার শ বছর ধরে তাঁকে নিয়ে এত লেখা, এত বলা হয়ে গেছে যে, এখন কিছু বলতে গেলে তা চর্বিত চর্বণ হয়ে যাবে। তবু বিশ্বনাটকের কথা বলতে গেলে যার নাম প্রথম উচ্চারিত হয়, তিনি শেকসপিয়র। উইলিয়াম শেকসপিয়র ১৫৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
মাত্র অর্ধশতাব্দী জীবনকালে তিনি ৩৮টি নাটক, ১৫৪টি সনেটসহ দুটি দীর্ঘ আখ্যায়িকা রচনা করেন। মূলত নাট্যকার হলেও তাঁর পরিচয় 'বার্ড অব অ্যাভন' (Bard of Avon) বা অ্যাভনের চারণ কবি হিসেবে।
নাট্যকারের চেয়ে কবি হিসেবে খ্যাতির কারণ তিনি কাব্যনাট্যকার। অভিনেতা হিসেবেও তিনি নাম করেছিলেন।
শেকসপিয়রের নাটকগুলো পৃথিবীর প্রধান সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছেও তিনি অপরিচিত নন।
মূলত, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তাঁর অধিকাংশ নাটক রচিত। কিন্তু তাঁর অতুলনীয় শিল্প সৌকর্য ও অমর কাব্যভাষার গুণে প্রতিটি নাটকই স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
শেকসপিয়র কেন ট্র্যাজেডি এবং কমেডি নাটকের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে রইলেন এ নিয়েও গবেষণা কম হয়নি। এ ব্যাপারে গবেষকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেকসপিয়রের জীবনে যে অস্থিরতা, হতাশা এবং স্বজন বিয়োগের ঘটনা ঘটেছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর নাটকে। শেকসপিয়রের দাম্পত্য জীবন শুরু হয় একজন অসম বয়সি মহিলাকে বিয়ের মাধ্যমে, যার গর্ভে বিয়ের আগেই তাঁর সন্তান অঙ্কুরিত হয়েছিল। শেকসপিয়রের বয়স যখন ১৮ তখন তিনি ২৬ বছর বয়সি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাস পর তাঁদের ঘরে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
এরপর ১৫৮৫ সালে অ্যানি হ্যাথাওয়ে হ্যামলেট নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ১১ বছর বয়সে শেকসপিয়রের পুত্রসন্তানটি মা*রা গেলে তিনি শোকে মু*ষড়ে পড়েন।
১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সাল পর্যন্ত সাতটি বছর ছিল শেকসপিয়রের হারানোর বছর, অথচ এই বেদনাহত বছরগুলোতেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকেনি। নাট্যকারের সঙ্গে অভিনেতার খ্যাতিও এ সময় তিনি অর্জন করেন।
শেকসপিয়র নাট্যকার, অভিনেতা এবং কবি অভিধার সঙ্গে সিয়েটার কোম্পানির স্বত্বাধিকারীও ছিলেন। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে স্বেচ্ছায় বি*চ্ছিন্ন হয়ে যান। আর এরপর তিন বছরের মধ্যেই মৃ*ত্যুবরণ করেন।
শেকসপিয়রকে নিয়ে গত চারশ' বছরে প্রচুর লেখালেখি হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথা খুব বেশি আলোচিত হয়নি।
তিনি ধ*র্মবিশ্বাসে ক্যা*থলিক খ্রি*স্টান হলেও তাঁর জীবনযাপন এবং পিতা-মাতা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো অনুল্লেখ্য থেকেছে প্রায় সব আলোচনায়।
এমনকি শেকসপিয়রের নামে যেসব নাটক প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো সব যে তাঁর লেখা নয়, কোনো কোনো আলোচক এ প্রসঙ্গটি টেনে আনলেও এর তথ্যগত সমাধান দেননি।
তবে শেকসপিয়রকে নিয়ে যত সমালোচনার ঝ*ড় উঠুক, আর তাঁর নাটক নিয়ে যত বিতর্কেরই সৃষ্টি হোক না কেন, ভিক্টোরিয়ান যুগে তিনি যেমন পূজনীয় ছিলেন এখনো তেমনি প্রাণবন্ত এবং প্রাসঙ্গিক আছেন। এর কারণ হলো শেকসপিয়রের সাহিত্যকর্মে অসামান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্ষেপণের সক্ষমতা। তাঁর নাটক এবং কবিতাগুলো যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে পরিবেশন করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যেমন অভিনেতা, নাট্যকার এবং ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর সাহিত্যকর্মেও এসব চরিত্রের সমাবেশ দেখা যায়। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণে তিনি নিজেই শুধু কালজয়ী পুরুষ হয়ে ওঠেননি-কালজয়ী সাহিত্যকর্মও সৃষ্টি করে গেছেন।
আমরা এখানে শেকসপিয়রের সমগ্র নাটক নয়, গোটা কয়েক নাটক নিয়ে আলোকপাত করব। এ নাটকগুলো ১৫৯৫ থেকে তাঁর মৃ*ত্যুর আগের বছরগুলোতে লেখা। উল্লেখ্য, শেকসপিয়র ১৬১৬ সালে মৃ*ত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে শেষের দুই বছর তিনি কোনো নাটক রচনা করেননি। অভিনয়ও করেননি।
শেকসপিয়রকে নিয়ে যত সমালোচনার ঝড় উঠুক, আর তাঁর নাটক নিয়ে যত বিতর্কেরই সৃষ্টি হোক না কেন, ভিক্টোরিয়ান যুগে তিনি যেমন পূজনীয় ছিলেন এখনো তেমনি প্রাণবন্ত এবং প্রাসঙ্গিক আছেন। এর কারণ হলো শেকসপিয়রের সাহিত্যকর্মে অসামান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্ষেপণের সক্ষমতা। তাঁর নাটক এবং কবিতাগুলো যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে পরিবেশন করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যেমন অভিনেতা, নাট্যকার এবং ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর সাহিত্যকর্মেও এসব চরিত্রের সমাবেশ দেখা যায়। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণে তিনি নিজেই শুধু কালজয়ী পুরুষ হয়ে ওঠেননি-কালজয়ী সাহিত্যকর্মও সৃষ্টি করে গেছেন...
তিনি ক্যা*থলিক খ্রি*স্টান পরিবারের সন্তান। ক্যা*থলিক খ্রি*স্টানরা ছিল ইংল্যান্ডের র*ক্ষণশীল এবং একটি ধ*র্মীয় আচার পালনে কড়াকড়ি করা গোষ্ঠী। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা চার্চে অনুপস্থিত থাকলে জরিমানা করা হতো।
শেকসপিয়রের পিতাকেও জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে শেকসপিয়র ক্যাথলিক চার্চের প্রতি বি*তৃষ্ণ হয়ে প্রো*টেস্ট্যান্ট চার্চের অনুসারী হয়ে যান। গবেষকরা মনে করেন, তাঁর ধ*র্মবিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজস্ব চিন্তাধারায় চলতেন। বিশেষ কোনো মতবাদ বা ধ*র্মের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল না বললেই চলে।
১৬০০ সালে রেজিস্ট্রারিভুক্ত A mid summer nights Dream নাটকটি রচিত হয়েছিল মূলত আমাদের দেশের যাত্রাপালার আদলে। নাটকের দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে জানা যায়, নাটকটি লেখা হয়েছিল বিয়েবাড়িতে আনন্দ অনুষ্ঠানের জন্য।
নাটকটির কাহিনি মনোমুগ্ধকর হলেও এটা শেকসপিয়রের মৌলিক নাটক নয়; কারণ আখ্যানটি তাঁর নিজস্ব নয়। বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে তিনি নিজস্ব আদলে একটি আখ্যান তৈরি করেছেন। শেকসপিয়রের এ নাটকটি প্রথম প্রথম অনেক পণ্ডিত এবং রাজমহলের আমজনতা নিঃসংকোচে গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁরা মনে করেছিলেন এতে অশ্লীলতা আছে। পরবর্তীতে তাঁদের এ ধারণা বদলে যায়। পরবর্তী সময় সমালোচকরা এর প্রশংসা করেছেন। শেকসপিয়রের কমিডি বুঝতে ইংল্যান্ডবাসীর এত সময় নেওয়ার কারণ আজও গবেষণার বিষয়।
শেকসপিয়র ‘উইন্টারস টেল’ রচনা করেন ১৬১০-১২ এর মধ্যে।
সিসিলিয়ার রাজা লিওন্টাস এবং রানী হার্মিয়োর মধ্যে অবিশ্বাসের অহেতুক চিন্তা থেকে এ নাটকের বিস্তার। রানী অনৈতিক কোনো কাজ না করেও রাজার চোখে বিশ্বাসঘাতকিনী এবং কুলটা বলে সাব্যস্ত হন। বোহেমিয়ার রাজাকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অ*বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য দায়ী করেন। রানীর কারাবাস হয় এবং কারাগারে রানী একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। মেয়েটির নাম রাখা হয় পার্ডিটা। যাকে জন্মের পরই সমুদ্রতটে ফেলে দেওয়া হয়। কন্যাটিকে মেষশাবকরা প্রতিপালন করে। এরপর শুরু হয় নাটকের নতুন মোড়। শেষে পার্ডিটার রাজা আর রানীর সঙ্গে মিলন হয়। নাটকটিতে পুনর্মিল*ন, রোমান্স, উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ থাকলেও এর কাহিনি বিন্যাস এমনই বিষাদময় যে, বিষাদের ছায়ায় আনন্দ হারিয়ে যায়।
শেকসপিয়রের ‘হেনরি দ্য ফোর্থ’ ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিক নাটক। এ নাটকে শেষ পর্যন্ত হেনরির ক*রুণ মৃ*ত্যু এবং ফলস্টাফের কারাবরণ নাটকটিকে বিষাদময় করে তোলে।
শেকসপিয়রের সবচেয়ে আলোচিত ট্র্যাজেডি নাটক হচ্ছে হ্যামলেট। এই নাটকটির কাহিনিও শেকসপিয়রের নিজস্ব নয়। নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। ঐতিহাসিক ম্যাক্সের ল্যাটিন ভাষায় রচিত ডেনমার্কের রাজাদের বিবরণ থেকে তিনি এর মূলভাব সংগ্রহ করেছেন। হ্যামলেটের আখ্যানটি Historie of Hamlet Prince of Denmarke - এ যেভাবে পাওয়া যায় তা এরকম-
রাজপুত্র হ্যামলেটের পিতাকে চক্রান্ত করে তার ছোটভাই ক্লডিয়াস। হ্যামলেটের মা গারট্রুডকে বিয়ে করেন তিনি। রানী গারট্রুড স্বামীঘা*তক দেবরকে বিয়ে করতে বাধেনি। ক্লডিয়াস হ্যামলেটের রাজ্য থেকে বিতরণ ও বিনাশ করার নানা ষ*ড়যন্ত্র করে কিন্তু সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত হ্যামলেট ক্লডিয়াসকে হ%ত্যা করে এরপর সে নিজেও ষ*ড়যন্ত্রের শি*কার হয়ে মা*রা যায়।
শেকসপিয়র এই কাহিনিটিই তাঁর হ্যামলেট নাটকে গ্রহণ করেছেন, শুধু রানীর চরিত্রটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। হ্যামলেটের জননীর চরিত্রে নতুনভাবের আমদানি করে শেকসপিয়র এটাকে সম্পূর্ণ নতুন অবয়ব দিয়েছেন। আর শেকসপিয়র বিশ্বে আলোচিত হয়েছেন তার এই অমর নাটকটির জন্য। অবশ্য শেকসপিয়রের অন্যান্য নাটকও যে তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতির পেছনে অবদান রাখেনি, তা কিন্তু নয়। তবে হ্যামলেটের দ্যুতি ও খ্যাতির কাছে সেগুলো ম্লান। সমালোচকরা বলেছেন মনোজগৎ এবং বহির্জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অক্ষমতা নয় বরং অদেখা সক্ষমতাই এই নাটকটির প্রতি দর্শককে দুর্বল করে দেয়। কর্তব্য আবেগ দ্বিধার মধ্যে সংশয় এবং নাটকের শেষ পরিণতি মানবজীবনের বাস্তব নিয়তির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই সমালোচকদের ধারণা হ্যামলেটের অন্তর্নিহিত ভাবনা শুধু হ্যামলেটের ভাবনা নয়, এর সঙ্গে নাট্যকারের নিজস্ব ভাবনাও একাকার হয়ে গেছে। এক সুগভীর রহস্যবোধ স্বতন্ত্র জীবনদর্শন এ নাটকটিকে অনন্য করেছে।
শেকসপিয়রের আর একটি প্রথম দিকে লেখা কমিডি হলো ‘লাভস লেবারস লস্ট’। এখানেও রাজা এবং লর্ডদের প্রতিজ্ঞা। নাভারারের রাজা এবং লর্ডগণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তারা তিন বছর বিদ্যা অর্জন করবেন এবং ওই সময় কোনো নারীর মুখ দেখবেন না। এমনকি কোনো নারীর সঙ্গে মুখ ঢেকে কথাও বলতে পারবেন না।
তাদের এই প্রতিজ্ঞা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি। কারণ ফ্রান্সের রাজকুমারী আর তার দুই সখীকে দেখার পর রাজা আর লর্ডগণ তাদের অজান্তেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন। কিন্তু কেউ স্বীকার করতে চাননি যে তারা শপথ ভেঙেছেন। শেষ পর্যন্ত, তারা বুঝতে পারেন এটা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ নয়, ভালোবাসা, ফরাসি রাজকুমারী আর দুই সখী রাজা আর লর্ডদের বশ করে ফেলেছেন। ট্রয়লাস অ্যান্ড ক্রেসিডা নাটকটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন এটি নিয়ে বিতর্ক ওঠে নাটকটি শেকসপিয়রের রচনা কিনা? এর কারণ হলো, ডেকর এবং চেটল চ্যাপমানের শেকসপিয়রের নাটকের ওপর কলম চালানোর ফল।
অবশ্য এ কথাও অনেক সমালোচক বলে থাকেন যে, ‘Troillus and cressida’ শেকসপিয়রের লেখাই নয়, এটা তাঁর নামে চালানো হয়েছে। সমালোচকদের এ দাবির কোনো জোরালো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে ‘Troillus and cressida’র মূল কাহিনি হচ্ছে রাজপুত্র ট্রয়লাস এবং পুরোহিতকন্যা ক্রেসিডার প্রণয় এবং ব্যর্থতা। ক্রেসিডা ট্রয়লাসের ভালোবাসার মূল্য না দিয়ে গ্রিক যুবককে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করে শুধু ভালোবাসার অমর্যাদা করেনি, বিশ্বাসভঙ্গও করেছে। এই নাটকে কিছু লঘু এবং অনাবশ্যক ঘটনার সমাবেশ ঘটায়, নাটকটি শেকসপিয়রের অন্যান্য নাটকের মতো তীব্র এবং ধা*রালো হয়নি। @ মাখরাজ খান,
২৩
দ্য ৫ এএম ক্লাব থেকে শিক্ষা
বিশ্ববিখ্যাত লেখক রবিন শর্মার লেখা অন্যতম একটি বই হলো দ্য ৫ এএম ক্লাব। ‘দ্য ৫ এএম ক্লাব’ বইটিতে লেখক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা, কর্মক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সর্বোপরি ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠার গুরুত্ব কতখানি। বইয়ের শিক্ষাগুলো তুলে ধরেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
ভোরে ঘুম থেকে উঠুন
দ্য ৫ এএম ক্লাব বইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ভোর ৫টার সময় ঘুম থেকে ওঠা। এটা একটা সফল এবং প্রাকৃতিক অভ্যাস। যাঁরা ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁরা অন্য যাঁরা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন তাঁদের চেয়ে বেশি সময় হাতে পান। সেই অতিরিক্ত সময় জীবনের অগ্রগতির কাজে ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে বইটিতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে জীবনে ডিসিপ্লিনের সেন্স তৈরি হয়; যা একটা মানুষকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়।
রুটিন অনুযায়ী দিন শুরু করুন
বইটির লেখক শর্মা বলেছেন, শুধু ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠা আপনাকে সফল করে তুলবে না, বরং আপনি কীভাবে সকালের সময়টা ব্যয় করতে চান, তাও গুরুত্বপূর্ণ। তার ২০/২০/২০ সূত্র অনুসারে, আপনাকে ২০ মিনিট শারীরিক, ২০ মিনিট মানসিক আর ২০ মিনিট আত্মিক উন্নতির জন্য ব্যয় করতে হবে। শারীরিক উন্নতি করতে হলে ব্যায়াম করতে হবে। মানসিক উন্নতির মধ্যে জার্নালিং, ইবাদত, ধ্যান বা শান্ত চিন্তাভাবনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আর আত্মিক উন্নতির কার্যক্রমগুলোর মধ্যে আপনার জীবনের লক্ষ্যগুলো পর্যালোচনা করা, পত্রিকা বা বই পড়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সঠিক ঘুম চক্রের ভূমিকা
বইটিতে রবিন শর্মা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই জগৎ ধীরে ধীরে নিদ্রাহীনতার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। মানুষ প্রায়ই কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্যকে সারা রাত জেগে থাকার এবং নিজের ধৈর্যের পরীক্ষার ধারণার সঙ্গে জুড়িয়ে দিয়ে ভুল করেন। রাতে দেরিতে ঘুমান আবার সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। ফলে শরীর, মন ঠিক থাকে না এবং কাজে ব্যাঘাত ঘটে। বইটিতে লেখক ঘুমের চক্রের যত্ন নেওয়ার এবং ভোর ৫টায় জীবন শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছেন।
নতুন অভ্যাস তৈরিতে হাল ছাড়বেন না
কখনো কখনো ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। আপনার কষ্ট হতে পারে। তবে হাল ছেড়ে দেওয়া আপনার উচিত হবে না। অন্য যেকোনো নতুন অভ্যাসের মতো, এই রুটিনে অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে। যেকোনো নতুন অভ্যাস রাতারাতি তৈরি হয় না। বইয়ের লেখক রবিন শর্মা উল্লেখ করেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুসারে একটি নতুন অভ্যাস তৈরি করতে প্রায় ৬৬ দিন লাগে। ৬৬ দিন একটানা ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠুন। দেখবেন এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলুন
আমাদের জীবনে চলার পথে বা কাজ করার ক্ষেত্রে নানা রকম বিভ্রান্তি এসে বাগড়া দেয়। কিন্তু কাজে সফল হতে হলে বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলতে হবে। বর্তমান যুগ হলো প্রযুক্তির। ডিজিটাল যুগ। এই যুগে ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রায়ই আপনার সকালকে নিজের মতো ব্যবহার করার পথে এবং আপনাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেতে বাধা দেয়। বইটি সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্যের দ্বারা বিভ্রান্তি এড়াতে আপনার সকালের সময়কে প্রযুক্তিমুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন
রবিন শর্মা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষান্ত থাকলেই চলবে না, বরং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক সময় মানুষ তাঁদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে বা বলকে ঘুরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তাই যত বাধাই আসুক না কেন, নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন। প্রতিশ্রুতির ওপর অটল থাকুন।
জীবনে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা
মানুষ প্রায়ই যেকোনো জিনিস বোঝার জন্য সঠিক মানসিকতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। কিন্তু বইটি কয়েক ধাপ এগিয়ে মানুষের স্বাধীন মন ও আত্মার ধারণার পরিচয় দেয়।
বইটিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে– শরীর, মন ও আত্মাকে সুন্দর ও সতেজ রাখতে জীবনের সবকিছুতে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে। যখন জীবনে সবকিছুতে একটা ভারসাম্য থাকবে, তখন শরীর, মন ও আত্মা সুন্দর থাকবে। আর আমরাও সুখী থাকব। আমাদের সাফল্যের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
পরিবর্তনের শিল্প
বইটি আত্মপ্রতিফলনে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, এর উদ্দেশ্য কী? এই রুটিনের পেছনে ধারণাটি হলো ভুলগুলো প্রতিফলিত করা, শেখা এবং পরিবর্তন হওয়া। পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই আপনার প্রতিদিন নিজের আরও ভালো উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার যে কাজগুলো করা উচিত, তার মধ্যে একটি হলো আপনার কর্ম এবং আগের দিনের বাদ পড়া সুযোগগুলোর দিকে ফিরে তাকানো। সে অনুযায়ী নতুন দিনটি অতিবাহিত করা।
নেতৃত্ব দেওয়া মানে সেবা করা
রবিন শর্মা বলেছেন, সেবার হাতিয়ার হওয়াই প্রকৃত শক্তি। চারপাশের অন্যদের জীবনকে সাহায্য ও উন্নত করার জন্য নিজের জীবনকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা আপনার মাঝে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা আনতে পারে। মানুষের সেবা করার মাধ্যমে আপনি নেতা হয়ে উঠতে পারেন। আশপাশের মানুষকে সেবা করুন। তাহলে আপনার মনে প্রশান্তি থাকবে। মানুষ আপনাকে সম্মান করবে। মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন।
স্বপ্নে অটল থাকুন
যাই হোক না কেন আপনার স্বপ্নে অটল থাকুন। আপনার স্বপ্ন থেকে কখনো পিছপা হবেন না। আপনি যখন বড় স্বপ্ন দেখবেন, তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করবে এবং আপনাকে নিয়ে হাসবে। নিজের সম্পর্কে সন্দেহ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আপনাকে প্রথম পয়েন্টে ফিরে যেতে হবে এবং আবার শুরু করতে হবে। জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, স্বপ্নের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করবেন না। @ আজকের পত্রিকা,
২৪
দুনিয়া জয়ের আগে নিজের বিছানা গোছাও
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল উইলিয়াম হ্যারি মাক্রেভেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের উদ্দেশে ২০১৪ সালে যে স্বাগত বক্তব্য দেন, তা তরুণদের উদ্দীপ্তকারী অন্যতম সেরা ভাষণরূপে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ভাষণটি ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য :
উইলিয়াম হ্যারি মাক্রেভেন আমেরিকান নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা হলেও সারাবিশ্বে আজ শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন। এই ভাষণটি সারাবিশ্বে ‘Make your bed’ নামে পরিচিত। ভাষণে তিনি আত্মোন্নয়নের ক্ষেত্রে ছোট ছোট পরিবর্তনের প্রতি নজর দেওয়ার ওপর জোর দেন। এই বক্তব্যে মাক্রেভেন বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমে নিজের বিছানা গুছাও। এই কাজ সমাপ্ত করার আত্মবিশ্বাস তোমাকে দিনভর কাজের অনুপ্রেরণা দেবে। যদি বিশ্বকে পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে নিজের বিছানা পরিবর্তন করার মাধ্যমে তা শুরু করো। দিনের প্রথম কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রভাব অন্য কাজগুলোর ওপর পড়বে। আশা করা যায় তোমার দিনটি ভালো কাটবে। আর যদি দিনটি খারাপ যায়-ই, তাহলেও ঘরে ফিরে তুমি নিজের বিছানাটি গোছানো অবস্থায় পাবে। ফলে তুমি নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। কিন্তু বাইরের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশ থেকে ফিরে যদি তোমার বিছানাটিও অগোছালো পাও, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই ঘুম থেকে উঠেই নিজের বিছানা গোছানো একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ।’
পরবর্তী সময়ে একই নামে মাক্রেভেনের একটি বইও প্রকাশিত হয়। যথারীতি বইটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বইয়ে তিনি তার বক্তব্য আরও
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সফলতার জন্য লক্ষ্যপানে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপরও কাজ করতে হবে। কারণ যেকোনো একটি বিষয়ের পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হতে পারে গোটা বিষয়টি। সকালে উঠে বিছানা গোছানোও একটি খুঁটিনাটি কাজ, যা দিনের অন্য কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। বিছানা গোছানোর আরও তাৎপর্য রয়েছে। এর মাধ্যমে-
➤নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
➤পরনির্ভরশীলতা কমে।
➤যারা অর্থের বিচারে ছোট কাজ করে তাদের প্রতি উন্নাসিকতা লোপ পায়।
➤সমস্যাকে মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি হয়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জিত হয়।
➤যেকোনো কাজের আনুষঙ্গিক খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে খেয়াল করার প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়।
➤যেকোনো কাজের জন্য পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। ইউটিউবে ‘Make your bed’ লিখে সার্চ দিলে মাক্রেভেন বক্তব্যটি পাবেন। এমন অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যটি শুনতে ভুল করবেন না। হাজারো তরুণের মতো আপনিও লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিশা খুঁজে পেতে পারেন তার বক্তব্য শুনে। @ বিপুল জামান
২৫
জীবনের অর্থহীনতায় লুকানো সৌন্দর্য
দ্য মিথ অব সিসিফাস
দর্শন নিয়ে কথা বলতে গেলে যে বইটির নাম প্রথমেই উঠে আসে, তা হলো অ্যালবার্ট ক্যামুর ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’। বইটি জীবনের অর্থহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর আলোচনা করে।
বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো সিসিফাস, গ্রিক পুরাণের এক বিখ্যাত নাম। সিসিফাসকে শা*স্তিস্বরূপ দেবতারা বিশাল একটি পা*থর পাহাড়ের চূ*ড়ায় ঠে*লে নিয়ে যেতে বা*ধ্য করেন। কিন্তু যতবারই সে পা*থরটিকে চূ*ড়ায় নিয়ে যেতে চায়, ততবারই সেটি গ*ড়িয়ে নিচে নেমে আসে। ফলে সিসিফাসকে একই কাজ বারবার করতে হয়, যা সে জানে কখনোই শেষ হবে না। এই চিরস্থায়ী ও অর্থহীন কাজের মধ্য দিয়েই ক্যামু জীবন*সং*গ্রা*মের দর্শন তুলে ধরেছেন। এই গল্প থেকে আপাতদৃষ্টিতে শেখার তেমন কিছু না থাকলেও, এর মধ্যেই লু*কিয়ে আছে গভীর জীবনবোধ।
জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা এবং তার অর্থহীনতা মেনে নেওয়া
ক্যামুর মতে, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—‘জীবনের কি কোনো মানে আছে?’ এখান থেকেই তাঁর দর্শন শুরু। তিনি বলেন, জীবন অনেক সময় অর্থহীন মনে হতে পারে। আমাদের কাজ, সম্পর্ক, সাফল্য—সবকিছুই যেন কোনো চূ*ড়ান্ত লক্ষ্য ছাড়াই চলমান। সিসিফাসের মতো আমরাও জীবনের অর্থহীন কাজগুলো করে যাই।
তবে এই অর্থহীনতাকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই জীবনের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। অর্থ খোঁজার চেষ্টা বাদ দিয়ে যদি আমরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মেনে নিই, তাহলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।
স্বাধীনতার ধারণা
ক্যামুর মতে, অর্থহীনতাকে মেনে নেওয়া মানেই জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যখন আমরা বুঝতে পারি জীবনের কোনো পূর্বনির্ধারিত অর্থ নেই, তখন জীবনের মালিকানা আমাদের হাতেই চলে আসে। এটি আমাদের শেখায়, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছাড়াও আমরা আমাদের জীবনকে যেভাবে চাই, সেভাবে পরিচালনা করতে পারি। সিসিফাস যেমন তার কাজের প্রতি বিদ্রোহ করেছে, তেমনি আমরাও নিজেদের স্বা*ধীনতা খুঁজে নিতে পারি।
সং*গ্রা*ম ও শক্তি
সিসিফাসের চিরস্থায়ী কাজ আমাদের শেখায়, জীবন কখনোই সহজ হবে না। প্রতিদিন আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ, বাধা ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলোই আমাদের শক্তি জোগায়।
জীবনের প্রতিটি সং*গ্রা*ম আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। একে এড়িয়ে না গিয়ে, বরং তা থেকে শক্তি এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করা উচিত।
নিজের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া
সিসিফাস জানে তার কাজ কখনোই শে*ষ হবে না, তবুও সে তার প*রি*ণতি মেনে নিয়েছে। জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। এটি আমাদের শেখায়, জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছামতো চলবে না। আমাদের ভু*ল, সীমাবদ্ধতা এবং পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই শক্তি অর্জিত হয়।
জীবনকে ভালোবাসা
সর্বশেষ সিসিফাস তার কাজকে ভালোবাসতে শেখে। এটি আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি কাজ, যত ছোট বা তু*চ্ছ মনে হোক না কেন, সেটি আমাদের জীবনেরই অংশ। [ ক্যামুর ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’ আমাদের শিখিয়ে যায়, জীবনের অর্থহীনতাই এর আসল সৌন্দর্য। সং*গ্রা*ম ও বি*দ্রো*হের মধ্য দিয়েই আমরা জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাই। @ মুসাররাত আবির
লাল মাংসঃ অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে অতিরিক্ত পরিমাণে লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আমিষ খাবারে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তনালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর অবস্থা দেখা দিতে পারে। এটি নিউমোনিয়া, কোলন পলিপ, ডাইভার্টিকুলার রোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। প্রতিদিন আমিষ খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত ।
২৬
ইসলামের আগে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সভ্যতার রোজা রাখার সংস্কৃতি
রমজান মাসে মুসলমানরা এক মাস ধরে রোজা পালন করেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো রোজা। তবে ইসলামের আবির্ভাবের আগেও মধ্যপ্রাচ্যে রোজা বা উপবাসের ধারণা প্রচলিত ছিল।
বিবিসি আরবি বিভাগের একটি প্রতিবেদন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতায় রোজার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো।
ফেরাউন বা প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা
প্রাচীন মিশরীয়রা দেবতাদের নৈকট্য অর্জন, সন্তুষ্টি লাভ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করতেন। এর মধ্যে উপবাসও ছিল। তারা বসন্ত উৎসব, ফসল উৎসব এবং নীলনদের প্লাবন উৎসব উদযাপন করতেন। এসবের উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে পাপ ও ত্রুটি থেকে শুদ্ধ করা, যাতে দেবতারা অসন্তুষ্ট না হন।
তবে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের ধরন নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক ও গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, এটি কেবল পুরোহিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আবার কেউ মনে করেন, সাধারণ মানুষও উপবাস পালন করতেন। অন্য কিছু গবেষক আসমানি কিতাবভিত্তিক ধর্মগুলোর রোজার সঙ্গে প্রাচীন মিশরীয়দের উপবাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক খুঁজে পান না।
কিছু গবেষকের মতে, তাদের উপবাস সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলত। এই উপবাসের মেয়াদ তিন দিন থেকে ৭০ দিন পর্যন্ত হতে পারত। এ সময় তারা খাদ্য, পানীয় ও যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতেন।
মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যেও উপবাস পালনের প্রচলন ছিল প্রাচীন মিশরে। আবার এমন উপবাসও ছিল, যেখানে ৭০ দিন ধরে কেবল শাকসবজি ও পানি গ্রহণের অনুমতি ছিল।
জরথুস্ত্রবাদ ও ইয়াজিদি ধর্ম (প্রাচীন পারস্য ও কুর্দিরা)
তিন দিন উপবাসের পর "এজিদি উৎসব" চলাকালীন ইয়াজিদি গ্র্যান্ড শেখ একজন মহিলাকে আশীর্বাদ করছেন। অক্টোবর ২০১৭, ইরাকি কুর্দিস্তানের লালিশ মন্দিরে।
খ্রিস্টপূর্ব তিন হাজার বছরেরও বেশি আগে পারস্য ও আশপাশের অঞ্চলে জরথুস্ত্রবাদ প্রচলিত ছিল। বর্তমানে এই ধর্মের অনুসারীরা ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ভারত, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন।
জরথুস্ত্র নামে এক ধর্মপ্রচারকের শিক্ষা থেকে এই ধর্মের সূচনা। তার চিন্তাধারা দীর্ঘ সময় ধর্মীয় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ধর্মের আবির্ভাবে এই মতবাদের প্রভাব কমে যায়।
জরথুস্ত্রবাদে উপবাসকে নিরুৎসাহিত করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, উপবাস মানুষের শক্তি কমিয়ে দেয় এবং অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়, যা সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ইয়াজিদিদের মধ্যে তিন দিনের রোজা রাখার প্রচলন ছিল। তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি মঙ্গলবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। ইয়াজিদি ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের তুলনায় ১১ দিন আগে শুরু হয়।
এই রোজা সূর্যোদয়ে শুরু হয়ে সূর্যাস্তে শেষ হয়। প্রাচীন ধর্মযাজকেরা টানা তিন দিন রোজা পালন করতেন এবং 'ঈদ ইজি' নামের উৎসবের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করতেন।
ইয়াজিদিদের মধ্যে দুই ধরনের রোজা রয়েছে—একটি সাধারণ মানুষের জন্য, অন্যটি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা বিশেষ শ্রেণির জন্য। শিশু, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের এ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা সাধারণত বিশেষ রোজা রাখতেন। দরিদ্র ব্যক্তিদের মধ্যে যা কোনো মানত করতো তারাও এটি পালন করতো। বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে এই রোজা রাখা যায়। সাধারণ মানুষের জন্য এই বিশেষ রোজা বাধ্যতামূলক নয়, তবে যারা সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য কামনা করেন, তারা পালন করেন।
এছাড়া ইয়াজিদিদের মধ্যে 'সাওম খুদান' নামে আরেক ধরনের রোজা প্রচলিত আছে। এটি সাধু, অলিয়া ও আগ্রহী সাধারণ মানুষ পালন করেন। বেশি দিন রোজা রাখলে তা নিয়ে গর্ব করার রীতিও রয়েছে।
ইহুদিধর্ম
মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ মানুষ তিনটি আসমানি ধর্ম অনুসরণ করেন, পাশাপাশি হাজার বছরের পুরোনো অন্যান্য বিশ্বাসও রয়েছে।
ইহুদিধর্ম, যা আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম, সেখানে 'ইয়োম কিপুর' বা প্রায়শ্চিত্তের দিনে উপবাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইহুদি ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, এই দিনেই নবী মুসা দ্বিতীয়বার সিনাই পর্বত থেকে অবতরণ করেন এবং তার সঙ্গে তাওরাতের ফলক ছিল।
ইয়োম কিপুর ২৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এটি ইহুদিদের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় দিন হিসেবে বিবেচিত।
এই দিনে ইহুদিরা পার্থিব ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থেকে ইবাদত ও আত্মসমালোচনায় সময় ব্যয় করেন। সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ ও পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে তারা সূর্যাস্ত থেকে পরদিন রাত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন।
ইহুদিধর্মে কিছু নিয়ম অনুসরণ করা হয়—
অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীরা উপবাস থেকে অব্যাহতি পান
সাধারণত শনিবার ও ধর্মীয় উৎসবের দিনে উপবাস পালন করা হয় না (ইয়োম কিপুর ব্যতিক্রম)
নিসান মাসে উপবাস পালন করা হয় না, এটি এপ্রিল মাসের কাছাকাছি সময় হয়ে থাকে সাধারণত।
অবশ্য ইহুদি ধর্মের আধুনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং যারা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে আছেন, তাদের কর্মক্ষমতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তারা চাইলে রোজা নাও রাখতে পারেন।
এছাড়া ইহুদি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে স্বেচ্ছা উপবাসেরও প্রচলন রয়েছে, যা পাপের প্রায়শ্চিত্ত, করুণা প্রার্থনা বা নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।
ছবির উৎস,
খ্রিষ্টধর্ম
খ্রিষ্টধর্মে উপবাসের উদ্দেশ্য হলো ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন।
দানিয়েল গ্রন্থে বলা হয়েছে:
"আমি প্রভু ঈশ্বরের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রার্থনা, মিনতি, উপবাস, ছাই ও শোকবস্ত্রসহ তার কাছে নিবেদন করি।"
খ্রিষ্টানদের কাছে উপবাসের গুরুত্ব অনেক। এটি ঈশ্বরের সঙ্গে আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতীক এবং যিশুখ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের অঙ্গীকারের নিদর্শন।
বাইবেলে উপবাসের নির্দিষ্ট সময় বা মাস উল্লেখ নেই। প্রতিটি গির্জা বা সম্প্রদায় তাদের অনুসারীদের জন্য উপবাসের সময় নির্ধারণ করে। ফলে খ্রিষ্টানদের মধ্যে উপবাস পালনের পদ্ধতি ও সময়ে ভিন্নতা রয়েছে।
ইস্টারের আগে ৪০ দিনের উপবাস পালিত হয়, যা গির্জাগুলোর ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে।
এ সময় খ্রিষ্টানরা সাধারণত দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা খাদ্য থেকে বিরত থাকেন। কেউ কেউ আরও দীর্ঘ সময় উপবাস পালন করেন। @ bbc bangla
২৭
রমজান: রোজা যখন রাখেন তখন কী ঘটে আপনার শরীরে
প্রথম কয়েকদিন: সবচেয়ে কষ্টকর
আমরা যে খাবার খাই, পাকস্থলীতে তা পুরোপুরি হজম হতে এবং এর পুষ্টি শোষণ করতে অন্তত আট ঘন্টা সময় নেয় শরীর।
যখন এই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকে যে গ্লুকোজ, সেটা থেকে শক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে, তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
৩ হতে ৭ রোজা: পানিশূন্যতা থেকে সাবধান
প্রথম কয়েকদিনের পর আপনার শরীর যখন রোজায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন শরীরে চর্বি গলে গিয়ে তা রক্তের শর্করায় পরিণত হচ্ছে।
কিন্তু রোজার সময় দিনের বেলায় যেহেতু আপনি কিছুই খেতে বা পান করতে পারছেন না, তাই রোজা ভাঙ্গার পর অবশ্যই আপনাকে সেটার ঘাটতি পূরণের জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে।
৮ হতে ১৫ রোজা: অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শরীর
এই পর্যায়ে এসে আপনি নিশ্চয়ই অনুভব করতে পারছেন যে আপনার শরীর-মন ভালো লাগছে, কারণ রোজার সঙ্গে আপনার শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।
১৬ হতে ৩০ রোজা: ভারমুক্ত শরীর
রমজান মাসের দ্বিতীয়ার্ধে আপনার শরীর কিন্তু পুরোপুরি রোজার সঙ্গে মানিয়ে নেবে।
"এসময় আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পূর্ণ কর্মক্ষমতা ফিরে পাবে। আপনার স্মৃতি এবং মনোযোগের উন্নতি হবে",
"যেহেতু রোজার সময় কেবল দিনের বেলাতেই আপনাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তাই আমাদের শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট খাবার এবং তরল বা পানীয় গ্রহণের সুযোগ থাকছে রোজা ভাঙ্গার পর।
তাহলে রোজা রাখা কি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল?
"শরীরের ওজন কমানোর জন্য একটানা রোজা রাখা কোন উপায় হতে পারে না। কারণ একটা সময় আপনার শরীর চর্বি গলিয়ে তা শক্তিতে পরিণত করার কাজ বন্ধ করে দেবে। রমজান মাসের পর মাঝে মধ্যে অন্যধরণের উপোস করা যেতে পারে। যেমন ৫:২ ডায়েট (পাঁচদিন কম খেয়ে দুদিন ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করা)। যেখানে কয়েকদিন রোজা রেখে আবার স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাওয়া-দাওয়া করা যেতে পারে।
২৮
গান গাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী
যিনি গান গাইছেন তিনি যেমন এক রকম ভালোলাগা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার তার নিজের অজান্তেই তার স্বাস্থ্যকেও তিনি চাঙ্গা করে তুলছেন।
মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে হৃদ্যন্ত্র পর্যন্ত—গান গাওয়া নানামুখী উপকার বয়ে আনে বলে প্রমাণ মিলেছে, বিশেষ করে যখন তা দলবদ্ধভাবে গাওয়া হয়।
এটি মানুষকে কাছাকাছি আনে, রোগ প্রতিরোধে শরীরকে প্রস্তুত করে এবং এমনকি ব্যথাও কমাতে পারে।
মস্তিষ্কের আঘাত থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের সেরে উঠতে সংগীত কীভাবে সহায়তা করতে পারে সে বিষয়ে গবেষণা করেছেন অ্যালেক্স স্ট্রিট। কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট ফর মিউজিক থেরাপি রিসার্চের এই গবেষক বলেন, "গান গাওয়া একটি জ্ঞানগত, আবেগীয়, শারীরিক ও সামাজিক কাজ"।
মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই বিস্মিত হয়ে দেখছেন, আরো কয়েকজনের সঙ্গে একসাথে গান গাওয়া কীভাবে মানুষদের মধ্যে শক্তিশালী সামাজিক সংহতির অনুভূতি তৈরি করে। এমনকি সবচেয়ে অনিচ্ছুক কণ্ঠশিল্পীরাও গানের মাধ্যমে একাত্ম হয়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এক ঘণ্টা একসাথে গান গাওয়ার পর সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষদের মধ্যেও অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপের উন্নতি ঘটায়। এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তবে এটা মূলত দলীয় বা কোরাসে গান গাওয়ার মাধ্যমে সম্ভব, শুধু গান শুনে সেটা সম্ভব নয়।
এর পেছনে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। জীববৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণা করা হয়, গান গাওয়া মস্তিষ্ক, হার্ট ও পরিপাক তন্ত্রের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী নার্ভকে সক্রিয় করে, যা সরাসরি স্বরযন্ত্র ও গলার পেছনের পেশির সঙ্গে যুক্ত।
গান গাওয়ার সময় দীর্ঘ ও নিয়ন্ত্রিত নিঃশ্বাস এন্ডরফিন নিঃসরণ করে, যা আনন্দ, সুস্থতা ও ব্যথা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গান গাওয়া মস্তিষ্কের উভয় পাশে বিস্তৃত নিউরনের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে। ভাষা, নড়াচড়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সাথে গান গাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাসের মনোযোগ মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে মানসিক চাপ কমানোর কার্যকর উপায়।
কিছু নৃতত্ত্ববিদের মতে, আমাদের মানব-সদৃশ পূর্বপুরুষরা কথা বলা শেখার আগেই গান গাইত, তারা প্রকৃতির শব্দ অনুকরণ করতে বা অনুভূতি প্রকাশ করতে কণ্ঠস্বর ব্যবহার করত। "শিশুদের ঘুম পাড়াতে যেমন গান গাওয়া হয়, আবার মৃত্যুর সময়ও গাওয়া হয় গান,""আমরা ছড়া কেটে গুনে নামতা শিখি, আর তাল ও সুরের মাধ্যমে শিখি আমাদের এবিসি"।
২৯
বার্ট্রান্ড রাসেলের এই দর্শনটি মূলত মুক্তচিন্তা
(Free Thinking) এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, কোনো বিষয়কে অন্ধভাবে গ্রহণ করার চেয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতাই মানুষকে প্রকৃত সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়। রাসেলের এই ভাবনার মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা:
অধিকাংশ মানুষ সামাজিক চাপ বা অভ্যাসবশত অন্যদের কথা মেনে নেয়। রাসেল মনে করেন, কোনো কিছু 'জনপ্রিয়' হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি 'সঠিক'। গণমানুষের মতামত বা 'Common Sense' অনেক সময় কুসংস্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে।
কেন-র অনুসন্ধান (The 'Why' Factor):
কারো মতামতের সঙ্গে একমত হওয়ার আগে তার পেছনের কারণ বা যুক্তি খোঁজা জরুরি।
যখন আপনি প্রশ্ন করেন "তিনি কেন এটি বলছেন?" বা "এর সপক্ষে প্রমাণ কী?" তখনই আপনার বুদ্ধিমত্তা কাজ করতে শুরু করে।
বার্ট্রান্ড রাসেল সবসময় প্রশ্ন করাকে বেশী গুরুত্ব দিতেন:
জ্ঞান অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো কৌতূহলী হওয়া এবং সঠিক প্রশ্ন করা শেখা। প্রশ্ন করা চিন্তাশক্তি বাড়ায়, নতুন ধারণা পরিষ্কার করে এবং শেখাকে সহজ ও দ্রুততর করে। জানার আগ্রহ থাকলে প্রশ্ন করার মাধ্যমে তথ্য ও অভিজ্ঞতা থেকে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা যায়। তিনি বিশ্বাস করতেন কার্যকর প্রশ্ন করার কৌশল ও নিয়মিত চর্চা জ্ঞানবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন করা শেখার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের উপায়সমূহ:
কৌতূহল বজায় রাখুন:
"কেন", "কীভাবে" এবং "যদি" দিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করুন। জানার আগ্রহ থাকলে জ্ঞান সব জায়গাতেই পাওয়া যায়।
সুচিন্তিত প্রশ্ন করুন:
বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তর খুঁজলে জ্ঞান অর্জিত হয়।
ভুল থেকে শিখুন:
ভুল করা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলগুলো কেন হলো এবং কীভাবে তা সংশোধন করা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রকৃত প্রজ্ঞা বিকশিত হয়।
পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ:
বিষয়বস্তু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং এর পেছনের কারণ খুঁজতে প্রশ্ন করুন।
অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন:
মেন্টর বা বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন করে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখুন
বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা:
রাসেলের মতে, প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হলে নিজেকে প্রথাগত চিন্তার শেকল থেকে মুক্ত করতে হবে। বুদ্ধিমত্তা কেবল তথ্য মুখস্থ করা নয়, বরং সেই তথ্যকে যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা।
সন্দেহবাদ (Skepticism):
রাসেল একজন প্রখ্যাত গণিতবিদ ও দার্শনিক হিসেবে 'গঠনমূলক সন্দেহবাদ'-এ বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলতেন, কোনো বিষয় পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সত্য বলে ধরে না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক এবং যুক্তিবাদী ছিলেন। আপনার পর্যবেক্ষণ একদম সঠিক-তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের কঠোর সমালোচক ছিলেন। তবে রাসেলের এই বিরোধিতার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট দার্শনিক ও নৈতিক কারণ ছিল।
রাসেল কেন ধর্মীয় বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করতেন, তার মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রমাণের অভাব (Lack of Evidence):
রাসেল বিশ্বাস করতেন যে কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে তার সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ থাকা জরুরি। তিনি মনে করতেন ঈশ্বর বা অলৌকিক ঘটনার কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। তার বিখ্যাত "টি-পট" (Russell's Teapot) উপমাটি এই
যুক্তিরই বহিঃপ্রকাশ:
যদি কেউ দাবি করেন যে পৃথিবী এবং মঙ্গলের মাঝখানে একটি চায়ের কেটলি ভাসছে, তবে সেটা মিথ্যা প্রমাণ করার দায়িত্ব অন্যের নয়; বরং যিনি দাবি করছেন, প্রমাণ করার দায়িত্ব তারই।
ভয় এবং নিষ্ঠুরতা:
রাসেল তার বিখ্যাত প্রবন্ধ "Why I Am Not a Christian"-এ যুক্তি দিয়েছেন যে, অধিকাংশ ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে রয়েছে ভয়-প্রকৃতির ভয়, মৃত্যুর ভয় বা অজানার ভয়। তিনি মনে করতেন, ধর্ম মানুষকে মানসিকভাবে পরাধীন করে রাখে এবং অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসে ধর্মের নামে চরম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে।
বুদ্ধিবৃত্তিক সততা:
তিনি মনে করতেন, কোনো বিষয়কে কেবল "পবিত্র" বলে প্রশ্নাতীত করে রাখা বুদ্ধিবৃত্তিক অপরাধ। তার মতে, সত্যকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সংশয়বাদ (Skepticism) অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলতেন:
"আমি কোনো কিছুর জন্য মরতে চাই না, কারণ আমি ভুলও হতে পারি।"
নৈতিক প্রগতিতে বাধা:
রাসেলের মতে, ধর্ম অনেক সময় সামাজিক সংস্কার ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যৌনতা, শিক্ষা এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো আধুনিক মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে বলে তিনি বিশ্বাস করতেন।
রাসেলের মূল দর্শন:
রাসেল ধর্মকে ঘৃণা করলেও মানুষকে ঘৃণা করতেন না। তিনি মনে করতেন, মানুষের উচিত ধর্মের পরিবর্তে যুক্তি, সহানুভূতি এবং বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা।
সংক্ষেপে:
রাসেলের এই উক্তিটি আমাদের শেখায় যে, স্রেফ 'ভীড়ের অংশ' হওয়া বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং ভীড় যেদিকে যাচ্ছে তার যৌক্তিকতা বিচার করতে পারাই হলো একজন প্রকৃত জ্ঞানীর পরিচয়। আপনি কি রাসেলের এই দর্শনটিকে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া বা 'ইনফরমেশন ওভারলোড'-এর যুগে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক মনে করেন? আমি চাইলে এই বিষয়ে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে আরও বিশ্লেষণ করতে পারি। @মৃণাল নন্দী
৩০
হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন' {একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির জন্য}
ব্রাজিলের মিনেইরোস শহরের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী যমজ সন্তানের জন্ম দেন। পিতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য যখন বাচ্চাদের ডিএনএ টেস্ট করা হয়, তখন দেখা যায় যমজ দুই শিশুর বায়োলজিক্যাল বাবা সম্পূর্ণ আলাদা দুজন ব্যক্তি! চিকিৎসকদের মতে, এটি ওয়ান-ইন-এ-মিলিয়ন বা লাখে একটি ঘটার মতো ঘটনা।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যমজ বাচ্চার বাবা আলাদা হয় কীভাবে? বিজ্ঞানের ভাষায় এই অত্যন্ত বিরল ঘটনাকে বলা হয় 'হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন'।
সাধারণত নারীদের মাসিক চক্রে একটি ডিম্বাণু নির্গত হয়, তবে মাঝে মাঝে একই সাথে দুটি ডিম্বাণুও নির্গত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ডিম্বাণু নির্গমনের (Ovulation) কাছাকাছি সময়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে (যেমন একই দিনে) যদি কোনো নারী একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়ান, তবে তার ওই দুটি আলাদা ডিম্বাণু দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে।
ব্রাজিলের এই তরুণীর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। তিনি একই দিনে দুজন ভিন্ন পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। ফলে তার গর্ভে বেড়ে ওঠা যমজ শিশুরা একই মায়ের গর্ভ এবং জেনেটিক্স শেয়ার করলেও, তাদের বাবা ভিন্ন।
বাচ্চাদের বয়স যখন আট মাসের কাছাকাছি, তখন পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ দূর করতে ওই তরুণী প্রথম ব্যক্তির ডিএনএ টেস্ট করান। ফলাফলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তির ডিএনএ-র সাথে কেবল একটি শিশুর জিন মিলেছে। এরপর তরুণী দ্বিতীয় ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার টেস্ট করানো হলে অন্য শিশুটির সাথে তার ডিএনএ হুবহু মিলে যায়!
ডা. তুলিও হোর্হে ফ্রাঙ্কো নামের ওই তরুণীর চিকিৎসকের মতে, পৃথিবীতে এ যাবৎকালে এমন ঘটনা খুব কমই রেকর্ড করা হয়েছে, যার সংখ্যা মাত্র ২০টির মতো। @ বিজ্ঞান ঘর
৩১
রডক্লিফ রেখা: এক রক্তাক্ত মানচিত্রের ব্যবচ্ছেদ
১৯৪৭ সালের সেই অভিশপ্ত জুলাই মাস। ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল রডক্লিফকে ভারত ও পাকিস্তান বিভাজনের এক দুঃসাধ্য ও বিতর্কিত দায়িত্ব দিয়ে দিল্লিতে আনা হলো। ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস এই যে, যে মানুষটির কাঁধে কয়েক কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের ভার দেওয়া হলো, তিনি এর আগে কখনো ভারতের মাটিতে পা-ই রাখেননি। ফলে এই অঞ্চলের জটিল ভূগোল, হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি কিংবা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক আবেগ সম্পর্কে তাঁর ন্যূনতম কোনো ধারণা ছিল না। ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগের তীব্র তাড়াহুড়ো আর প্রবল রাজনৈতিক চাপের মুখে রডক্লিফকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র পাঁচ সপ্তাহ। এই অসম্ভব সময়সীমার মধ্যে ১৯৪১ সালের পুরোনো ও অসম্পূর্ণ আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে তিনি টেবিলের ওপর মানচিত্র বিছিয়ে এক অন্ধ কলমের আঁচড় দিতে শুরু করলেন।
রডক্লিফ রেখা কেবল একটি কৃত্রিম ভৌগোলিক সীমানা ছিল না; এটি ছিল বাংলার হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী ক্ষত। রডক্লিফ সাহেব মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তবধর্মী জরিপ বা পরিদর্শন ছাড়াই কেবল ম্যাপ আর স্কেলের ওপর নির্ভর করে এমন এক বিভাজন রেখা টানলেন, যা জন্ম দিল অদ্ভুত ও ট্র্যাজিক সব পরিস্থিতির। কোথাও দেখা গেল মানুষের শোবার ঘর ভারতে পড়েছে তো রান্নাঘর পাকিস্তানে, আবার কারো শস্যক্ষেত এক দেশে হলেও তার বসতবাড়ি রয়ে গেছে অন্য দেশে। এই বিভাজন ছিল চরম পর্যায়ের অসঙ্গতিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৯৮ শতাংশ অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে তুলে দেওয়া হলো পূর্ব পাকিস্তানের হাতে। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে মুর্শিদাবাদ গেল ভারতের ভাগে, আর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও খুলনাকে যুক্ত করা হলো পাকিস্তানের সঙ্গে। এই খামখেয়ালি ভাগাভাগিতে হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধূলিসাৎ হয়ে গেল এবং জনপদগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল।
রডক্লিফ রেখা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছিল এর ঘোষণার সময়কাল নিয়ে। মানচিত্র তৈরির কাজ ১৪ আগস্টের আগেই শেষ হলেও ব্রিটিশ সরকার এক রহস্যময় গোপনীয়তা বজায় রাখে। অবশেষে ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার দুদিন পর, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট ১৯৪৭ তারিখে মানচিত্রটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। ততক্ষণে গোটা উপমহাদেশ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত। লাখ লাখ মানুষ জানত না ঠিক কোন দেশটি তাদের আবাসভূমি। এই চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগে সীমান্তের দুই প্রান্তে শুরু হয় ইতিহাসের নৃশংসতম দাঙ্গা ও ভিটেমাটি ছেড়ে পালানোর দীর্ঘ মিছিল। শোনা যায়, রডক্লিফ সাহেব নিজেও এই রক্তক্ষয়ী পরিণাম দেখে এতটাই বিচলিত ও অনুতপ্ত হয়েছিলেন যে, তিনি দেশভাগের সমস্ত দাপ্তরিক নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলেছিলেন এবং কাজ শেষে ভারত সরকারের দেওয়া পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন। সেই কালজয়ী কলমের আঁচড় আজও কাঁটাতারের বেড়া হয়ে বাংলার আকাশে-বাতাসে বিচ্ছেদ আর হাহাকারের করুণ সুর বয়ে নিয়ে বেড়ায়, যা আজও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক বেদনাদায়ক ক্ষত।
৩২
স্ট্রেস কমানো
১৫-২০ মিনিট বিছানায় শুয়ে থাকার পরেও ঘুম না আসলে জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে বিছানা থেকে উঠে পড়ুন। Verywell Health জানায়, বিছানায় জেগে থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে "জাগ্রত থাকা"র সাথে যুক্ত করে ফেলে। অন্য রুমে গিয়ে কম আলোতে বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজ করুন এবং ঘুম ভাব আসলে তবেই বিছানায় ফিরে যান।
করণীয়:
বিছানা ছাড়ুন: বিছানায় শুয়ে ছটফট না করে উঠে পড়ুন।
শান্ত কাজ: মৃদু আলোতে বই পড়া, গান শোনা বা হালকা কিছু করুন।
স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন: ফোন, ল্যাপটপ বা টিভির নীল আলো থেকে দূরে থাকুন।
নিয়মিত সময়: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
৩৩
অল্প বয়সেই যৌবন শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন ?
৪০ থেকে ৬০ এর মধ্যেই সব শেষ কেন ?
*******†***********************************
মানুষ সাধারণত ভাবে শরীরের শক্তি কমে গেলে সেটা বয়সের কারণে হয়। কিন্তু বাস্তব সত্যটা সম্পূর্ণ আলাদা। শরীরের শক্তি, যৌবনের তেজ , আত্মবিশ্বাস , সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই সব কিছুর মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে শরীরের ভিতর একটি অদৃশ্য system এ। যেটাকে আমরা সাধারণত হরমোন system বলি। আর এই হরমোন system কোনো একা কাজ করে না , এটা গভীর ভাবে যুক্ত থাকে , তোমার পেটের ভিতরের পরিবেশ আর তোমার মস্তিষ্কের সাথে। এই তিনটের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হলেই শুরু হয় অল্প বয়সে যৌবন ফুরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
আজকের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা এমন একটা জীবন যাপন করছি , যেখানে শরীরের ভিতরের এই সূক্ষ্ম যোগাযোগ ব্যবস্থা , প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে। রাত জেগে মোবাইল দেখা , অনিয়মিত ঘুম , সারাক্ষণ মানসিক চাপ , স্পাইসি খাবার , চিনি আর কৃত্রিম তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার, অ্যালকোহল সেবন, এই সবকিছু একসাথে পেটের ভিতরের ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে। আর এই ব্যাকটেরিয়া গুলো নষ্ট হলেই প্রথম আঘাত টা লাগে হরমোনের উপর। শরীর তখন আর ঠিক ভাবে টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন , সেরেটোনিন তৈরি করতে পারে না। এর ফল খুব ধীরে আসে তাই মানুষ টের পায় না। প্রথমে শুধু একটু ক্লান্ত লাগে , তারপর সকালে উঠতে ইচ্ছে করে না , তারপর মনোযোগ কমে যায় , তারপর আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরে , তারপর একটা সময়ে এসে মানুষ ভাবে আমি আগের মতো নেই কেন? কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই অবস্থাতে শরীর বেঁচে থাকে ঠিকই কিন্তু ভিতর থেকে সে আর শক্তিশালী থাকে না। বাইরে থাকে হাসি ভিতরে থাকে ফাঁকা , বাইরে থাকে স্বাভাবিক ভিতরে থাকে ক্লান্ত , এই অবস্থা তে অনেকেই depression ভেবে ভুল করে , আসলে এটা অনেক সময় Hormonal crash. । যখন পেট ঠিক ঠাকে না , তখন মস্তিষ্ক সংকেত পায় না। মস্তিষ্ক যখন বিভ্রান্ত হয় তখন হরমোন গ্ৰন্থি গুলো ভুল সিদ্ধান্ত নেয় । তখন শরীর সারাক্ষণ survival mood এ চলে যায় , এই mood এ শরীর বলে আগে বাঁচি পরে শক্তি দেখাবো। ফলে যৌবনের শক্তি , পেশীর শক্তি , মানসিক তেজ , সবকিছু ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এটাই কারণ আজ এতো কম বয়সে মানুষ নিজেকে দুর্বল মনে করে। সে বুঝতে পারে না সমস্যা তার ইচ্ছে শক্তি তে নয় , সমস্যা তার ভিতরের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। যৌবন শেষ হয় বয়সে নয় , যৌবন শেষ হয় ভুল life style এ।
কিন্তু এখানেই গল্পো শেষ নয় , শরীরের এই system ভাঙা যেমন সম্ভব , কিন্তু তেমনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলাও সম্ভব। শরীর অবিশ্বাস্য রকমের বুদ্ধিমান। তাকে যদি সঠিক পরিবেশ দেওয়া যায় সে নিজেই নিজেকে ঠিক করতে শুরু করে। শুধু দরকার বোঝার ক্ষমতা কোথায় ভুল হচ্ছে , আর কোথা থেকে ঠিক করা শুরু করতে হবে। আমাদের প্রথম পরিবর্তন টা শুরু হয় পেট থেকে , । কারণ পেট হলো হরমোন system এর foundation .। যখন পেটের ভিতরের পরিবেশ পরিষ্কার হয় তখন মস্তিষ্ক পরিষ্কার ভাবে কাজ করে। তখন হরমোন আবার নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে। এই পরিবর্তন একদিনে হয় না , কিন্তু যেদিন শুরু হয় সেদিন শরীর ভিতর থেকে শক্ত হতে থাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই প্রক্রিয়াটি তে কোনো ম্যাজিক নেই , কোনো ওষুধের উপর নির্ভরতা নেই , কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি নেই , আছে শুধু নিয়ম , বোঝাপড়া আর ধৈর্য্য। যারা এটা বুঝে নেয় তারা এই হারানো শক্তি টা আবার ফিরে পায়। যারা বোঝে না তারা শুধু ভাবতেই থাকে আমার সাথে এমন হচ্ছে কেন , এই কারণেই আজ এই এতো জরুরি কথা গুলো জানা।এই কারণেই এখনও যদি তুমি অল্প বয়সে থাকো তবে এটা তোমার জন্য সতর্কবার্তা , আর যদি মনে করো তুমি অল্প বয়স পেরোতে না পেরোতেই মাঝবয়সে গিয়ে পড়েছো ,আর তুমি আগের মতো নেই, তাহলে তোমার জন্য এটা ফিরে আসার দরজা।
যখন শরীরের ভিতর হরমোন system ভাঙতে শুরু করে , তখন মানুষ সাধারণত একটা বড় ভুল করে , সেভাবে সমাধান টা বাইরে কোথাও আছে , কেউ suppliment খোঁজে , কেউ Gym এ যায় , কেউ motivational vdo দেখে নিজেকে জোর করে টেনে তুলতে চায়। কিন্তু বাস্তবে এই সবকিছু সমস্যা কে আরও গভীর করে তোলে । কারণ শরীর তখন এমন অবস্থায় থাকে সেখানে সে জোর করে এতো চাপ নিতে পারে না। সে আগে চায় নিরাপত্তা। আগে এটা বুঝতে হবে , শরীরের চাহিদা কি? শরীরের প্রথম চাহিদা শক্তি নয় , শরীরের প্রথম চাহিদা হলো ভারসাম্য। যখন ভারসাম্য নষ্ট হয় তখন শরীর সব শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে চায়। সে তখন যৌন শক্তি কমিয়ে দেয়, পেশী বাড়ানো বন্ধ করে দেয় , ফ্যাট জমাতে শুরু করে , তার কাছে তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেঁচে থাকা। এই অবস্থায় তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন শরীর তোমার কথা শুনবে না। এই কারনেই মানুষের পেট বের হয়ে যায় , মুখে ক্লান্তির ছাপ বসে যায় , চোখে আলো কমে যায় আর মনের ভিতরে একটা অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়। এটা অলসতা নয় , এটা চরিত্রের দুর্বলতা নয় , এটা শরীরের একটা সংকেত , সে সংকেত দিচ্ছে, যে তার ভিতরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই সংকেত গুলো আমরা প্রতিদিন উপেক্ষা করি। আমরা সকালে ক্লান্ত থাকা কে স্বাভাবিক ধরে নিই , দুপুরে ঘুম পেলে সেটাকে কাজের চাপ বলে উড়িয়ে দিই, আসলে এই সকলে এক সাথে একটা গল্পো বলছে , তোমার শরীর আর তোমার life style একে অপরের সাথে লড়াই করছে, মনে রাখবেন শরীর কখনোই হঠাৎ ভেঙে পড়ে না , সে ধাপে ধাপে ভাঙে , প্রথমে নষ্ট হয় ঘুমের ছন্দ , তারপর নষ্ট হয় ক্ষুধার সংকেত , তারপর নষ্ট হয় আনন্দের অনুভূতি , তারপর আত্মবিশ্বাস । একদিন হঠাৎ আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয় আমি কি সত্যিই এমন ছিলাম , তখন মানুষ শুধু বাইরের চেহারা দেখে ভিতরের কারন টা বোঝে না। এখানেই আসে পেট আর মস্তিষ্কের সেই অদৃশ্য সংযোগ। পেটের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া গুলো শুধু খাবার হজম করে না , তারা মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় , তারা বলে শরীর নিরাপদ আছে নাকি বিপদে আছে । যখন ভুল খাবার , অতিরিক্ত চিনি , অতিরিক্ত মদ্যপান , অতিরিক্ত নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন , অনিয়মিত ঘুম আর দীর্ঘ মানসিক চাপ এই ব্যাকটেরিয়া গুলো কে ধ্বংস করে , তখন মস্তিষ্ক সবসময় বিপদের সংকেত পেতে থাকে। আর বিপদের সংকেত মানেই হরমোন বন্ধ। এই অবস্থায় মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন সে আগের মতো feel করতে পারে না। সমস্যা টা তার ইচ্ছায় নয় , সমস্যা টা তার শরীরের ভিতরের পরিবেশে। যতদিন তুমি শরীরকে নিরাপদ অনুভব করাতে না পারবে ততোদিন সে তোমাকে শক্তি দেবে না।
এখানেই এবার আমি আশার আলো জ্বালাই , শরীরের এই system একবার বুঝে ফেললে পরিবর্তন হয় খুব গভীর জায়গা থেকে , তুমি যদি পেটের পরিবেশ ঠিক করতে শুরু করো , নিয়মিত ঘুম দাও , মানসিক চাপ কমাও তখন শরীর আবার বিশ্বাস করতে শুরু করে, সে ভাবে এখন আর যুদ্ধ নেই , যুদ্ধটা এখন থেমে গেছে , এবার শক্তি ফেরানোই যায়। এই মুহূর্ত থেকেই মানুষের ভিতরে পরিবর্তন শুরু হয় প্রথমে, ঘুম একটু গভীর হয় , তারপর সকালে উঠতে কষ্ট কমে , তারপর মনোযোগ ফিরে আসে , তারপর আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এই পরিবর্তন বাইরে থেকে ছোটো মনে হলেও ভিতরে এটা একটা বিপ্লব। মনে রাখবেন যৌবন কোনো বয়স নয় , যৌবন একটা অভ্যন্তরীণ অবস্থা। সেই অবস্থা টা তৈরি হয় শরীরের ভিতরের ভারসাম্য থেকে। তুমি যদি সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারো তাহলে বয়স কোনো বাধা নয়।
এই জায়গায় এসেই মানুষ সবচেয়ে বড় ভুল টা করে , তারা মনে করে সমস্যা টা খুব জটিল , শুধুই ডাক্তারি বিষয়, এটা তারা বুঝতে ভুল করে , আসলে হরমোন নষ্ট হওয়ার পিছনে বেশিরভাগ সময়ই কোনো রহস্য থাকে না , আছে কিছু বাজে অভ্যাস যেগুলো আমরা প্রতিদিন করি , আর সেগুলো কে আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নিই। রাতের পর রাত আলো জ্বলছে , জেগে থাকছে , মস্তিষ্ক ভাবে এখনো বোধ হয় দিন , ফলে ঘুমের হরমোন তৈরি হয় না , আর ঘুম না হলে শরীর নিজেকে ঠিক করার সুযোগ পায় না। আর যে শরীর নিজেকে ঠিক করতে পারে না , সে কখনও শক্তি, যৌবন বা আকর্ষণ ধরে রাখতে পারে না। ঘুমের অভাব মানে শুধু ক্লান্তি নয় , ঘুমের অভাব মানে শরীরের ভিতর মেরামত বন্ধ। অনিয়মিত পরিবেশে শরীর যে কাজ টা প্রথমেই বন্ধ করে দেয় তা হলো প্রজনন আর শক্তির হরমোন । কারণ তার কাছে তখন বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
এরপর আসি খাবারের বিষয় টা , আধুনিক খাবার দেখতে সুন্দর , স্বাদে তীব্র সুস্বাদু , শরীরের কাছে সেটা অচেনা , । চিনি জাতীয় , অ্যালকোহল জাতীয় খাবার পেটের ভিতরের ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে দেয় । যখন এই ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলো কমে যায় তখন সে আর বুঝতেই পারে না , কখন সে তৃপ্ত , আর কখন সে নিরাপদ। ফলে মানুষ বারবার খায় তবুও সন্তুষ্ট হয় না , পেট ভরে কিন্তু মস্তিষ্ক ভরে না , এই অবস্থায় শরীর সবসময় stress hormone চালু রাখে। আর যতক্ষণ এই stress hormone চালু থাকে ততক্ষণ যৌবন শক্তি , আত্মবিশ্বাস আর পেশী গঠনের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। আর এক ঘাতক হলো মানসিক চাপ। আর এই মানসিক চাপ শুধু মনের বিষয় নয়, এটা পুরো শরীরের উপর আক্রমণ। দীর্ঘ দিন ধরে চিন্তা, ভয় , আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলে শরীর ভাবে সে যুদ্ধ ক্ষেত্রে আছে। আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে শরীর কখনোই বিলাসী হয় না , সে শুধু বাঁচতে চায়। এই অল্প বয়সে মানুষ হাসে কম , উত্তেজিত হয় কম , তারা বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও ভিতরে তারা খুব ই ক্লান্ত , । ভয়ংকর বিষয় হলো মানুষ এটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করে ভাবে বয়স বাড়ছে তাই এমন হচ্ছে। ভাবে এটাই জীবন। না এটা জীবন নয় , এটা সতর্ক সংকেত। শরীর যখন দীর্ঘ দিন উপেক্ষিত হয় সে আরও জোরে সংকেত পাঠায়। কেউ মোটা হয়ে যায় , কেউ চুল হারাতে শুরু করে , কেউ কোনো কারণ ছাড়াই বিষন্ন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে তুমি যদি নিজেকে দুর্বল , নিস্তেজ, ক্লান্ত মনে করো তাহলে ভেবে নিও শরীর সাহায্য চাইছে। তুমি যদি ভুল গুলো চিনতে পারো তবে ঠিক করার পথ ও আছে। শরীর শত্রু নয় , সে তোমার বিশ্বস্ত সঙ্গী শুধু এতো দিন তুমি তার ভাষা শোনো নি।
তবে এখন তুমি বুঝে ফেলেছো আসল সমস্যা টা কোথায় ? এখন শুধু একটাই প্রশ্ন এই ভাঙা অবস্থা থেকে শরীর কি আবার ফিরে আসতে পারে ? , তাকে পূর্ণতা দিতে পারো ? উত্তর টা হলো হ্যাঁ। অবশ্যই শরীর ফিরে আসতে পারে , যদি তাকে আবার নিরাপদ মনে করানো যায়। তাই শরীরকে নিরাপদ বোঝাতে হলে সকালে চোখ খুলেই ফোনের আলো , তাড়াহুড়ো , চিন্তা , তাহলে শরীর বুঝে নেয় আজও বিপদ। তাই তাকে ভালো সংকেত দিতে হবে , তাকে বোঝাতে হবে তুমি নিরাপদ । কিন্তু দিনের শুরু টা যদি শান্ত , প্রকৃতির আলোয় ভরা হয় , তাহলে শরীর ভালো সংকেত পায়। সূর্যের আলো চোখে পড়া মানে , শুধু মাত্র ভিটামিন নয় এটি হরমোনের ঘড়ি ঠিক করে। সূর্যের আলো চোখে পড়লেই শরীর বুঝতে পারে কখন জাগতে হবে কখন কাজ করতে হবে , কখন বিশ্রাম নিতে হবে , এই অভ্যাস টা ঘুমের হরমোন তৈরি করে। আর ঘুম ঠিক হলেই শরীরের অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। আর নিয়মিত সময় খাবার খাওয়া , তখন শরীর আবার নিজেকে নিরাপদ মনে করে। তখন আবার যৌবনের হরমোন , শক্তির হরমোন , মস্তিষ্কের স্বচ্ছতা সব আবার ধীরে ধীরে ফিরতে থাকে। শরীর বিশ্বাসে চলে আর বিশ্বাস চলে ধারাবাহিকতায়। একদিন করলে হবে না , প্রতিটি দিন করতে হবে। তাই শরীরের সাথে সম্পর্ক ঠিক করা , সামঞ্জস্য রাখা আগে প্রয়োজন । এতো দিন তুমি তার প্রতি অবহেলা করেছো , এখন সময় এসেছে তাকে সহযোগী বানানোর । এই সহযোগিতার ফল ধীরে হলেও গভীর। @ মৌঝুরী
৩৪
আমাদের শরীরের 'দ্বিতীয় হার্ট' বা দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড কোনটি জানেন কি?
অনেকেই হয়তো অবাক হবেন, কিন্তু আমাদের পায়ের কাফ পেশি (হাঁটুর নিচের পেছনের দিকের পেশি)-কে বিজ্ঞানের ভাষায় শরীরের "দ্বিতীয় হৃদপিণ্ড" বলা হয়! কিন্তু কেন? চলুন জেনে নিই মজার এই বিষয়টি।
আমাদের মূল হৃদপিণ্ড যখন ধমনীর মাধ্যমে রক্ত পাম্প করে, তখন তা খুব সহজেই শরীরের নিচের অংশে বা পায়ে পৌঁছে যায়। কারণ, এখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি রক্তকে নিচে নামতে সাহায্য করে। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জটা শুরু হয় যখন পা থেকে রক্তকে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ঠিক বিপরীতে, অর্থাৎ নিচ থেকে উপরের দিকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসতে হয়! এত নিচ থেকে সম্পূর্ণ রক্ত টেনে তোলার জন্য আমাদের মূল হৃদপিণ্ডের একার টান যথেষ্ট নয়।
ঠিক এখানেই পাম্পের মতো কাজ করে আমাদের পায়ের কাফ পেশি। আমরা যখন হাঁটি বা পা নাড়াই, তখন এই পেশিগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। এই সংকোচন শিরার ওপর চাপ ফেলে এবং রক্তকে সজোরে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এভাবেই ধাপে ধাপে রক্ত আবার আমাদের হৃদপিণ্ডে ফিরে যায়। তাই দীর্ঘক্ষণ পা না নাড়িয়ে একটানা দাঁড়িয়ে থাকলে রক্ত উপরের দিকে ঠিকমতো উঠতে পারে না। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সুস্থ থাকার কিছু সহজ টিপস:
একটানা অনেকক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু উঠে হাঁটাহাঁটি করুন।
পায়ের পেশি সচল রাখতে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন।
৩৫
মগ জলদস্যুর চরম নিষ্ঠুরতা
“মগরা মানুষের মাংস খায়”—একসময় বাংলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে এই গুজব ত্রাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি আক্ষরিক অর্থে গুজব হলেও মগ জলদস্যুরা বাস্তবে ছিল চরম নিষ্ঠুর। তাদের এই নিষ্ঠুরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় যখন পর্তুগিজ ‘হার্মাদ’ জলদস্যুরা তাদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করে।
এরা কেবল সম্পদ লুটপাট করত না, এদের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষ ধরে দাস হিসেবে বিক্রি করা। বন্দীদের পালানোর পথ বন্ধ করতে দস্যুরা এক বীভৎস পদ্ধতি অবলম্বন করত। তারা বন্দীদের হাতের তালু ছিদ্র করে তার মধ্য দিয়ে চিকন বেত ঢুকিয়ে দিত। এরপর অনেক মানুষকে একসাথে গেঁথে জাহাজের ডেকের নিচে অন্ধকার কুঠুরিতে গাদাগাদি করে ফেলে রাখা হতো। এই অবস্থায় তাদের কোনো ন্যূনতম মানবিক সুবিধা দেওয়া হতো না। দিনের পর দিন তাদের কেবল অর্ধসিদ্ধ চাল খেতে দেওয়া হতো, ঠিক যেভাবে পাখিকে খাবার ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এই অমানুষিক নির্যাতনে অনেক বন্দী জাহাজের ভেতরেই মারা যেত এবং তাদের মৃতদেহ সাগরে ছুড়ে ফেলা হতো। দস্যুরা যে অঞ্চল দিয়েই যেত, সেই জনপদ জনশূন্য হয়ে পড়ত। মানুষ ভয়ে জঙ্গলে পালাত। যারা পালাতে পারত না, তারা অনেক সময় মৃতদেহের ভান করে পড়ে থাকত, কারণ মৃতদেহের বাজারমূল্য না থাকায় দস্যুরা তাদের নিত না। উপকূলীয় এলাকার মানুষ রাতে আগুন বা আলো জ্বালাত না, পাছে সেই আলো দেখে দস্যুরা লোকালয় শনাক্ত করে ফেলে।
দস্যুদের এই তাণ্ডব ঠেকাতে মুঘল সম্রাটরা বিভিন্ন সময়ে পদক্ষেপ নিলেও নদীমাতৃক বাংলার ভূ-প্রকৃতির কারণে তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন। মুঘলরা মূলত স্থলযুদ্ধে পারদর্শী ছিল, কিন্তু হার্মাদ ও মগদের মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী নৌবাহিনী বা 'নওয়ারা'। বাংলার উপকূলীয় দস্যুতার অবসান ঘটে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর অসামান্য কূটনৈতিক ও সামরিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে। ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ দেন এবং দস্যু দমনের বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেন।
১৬৬৬ সালের জানুয়ারিতে শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেন। তার পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁর নেতৃত্বে মুঘল স্থলবাহিনী জঙ্গল পরিষ্কার করে এগিয়ে যায়, আর নদীপথে ইবনে হোসেনের নেতৃত্বে নওয়ারা অগ্রসর হয়। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় তিন দিনব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধের পর মগ ও আরাকানি বাহিনী পরাজিত হয়। চট্টগ্রামের দুর্গ 'আন্দরকিল্লা' মুঘলদের দখলে আসে। শায়েস্তা খাঁ চট্টগ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'ইসলামাবাদ' বা শান্তির শহর।
৩৬
"হাইমেনের বিশেষ কোনো গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ফাংশন আছে কী?
না থাকলে সময়ের সঙ্গে অবলুপ্ত হলো না কেন?" {একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির জন্য}
বাস্তবে যোনিচ্ছদ বা হাইমেন কোন পরিকল্পনা করে কেউ তৈরি করেনি, হাইমেন মানুষ ছাড়াও মহাবানর (শিম্পাঞ্জি-গরিলা…)দের মধ্যেও পাওয়া যায়।
হাইমেন নারীদের যোনির বিকাশ প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট অংশ হিসাবে বিবেচিত হয় (লেফ্টওভার), এবং হাইমেনকে “সতীচ্ছদ” বলাও ভুল
হাইমেন কন্যা ভ্রূণের বিকাশের সময় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত মুলেরিয়ান নালী (Müllerian duct) এবং এন্ডোডার্ম থেকে উদ্ভূত ইউরোজেনিটাল সাইনাসের (urogenital sinus) সংযোগস্থলে তৈরি হয়, ৭ম থেকে ১২তম সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হতে শুরু করে এবং সাধারণত ১২তম সপ্তাহের মধ্যে এটি পূর্ণরূপ পায়।
শুরুতে যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা কোশের একটি নিরেট দণ্ড হিসেবে থাকে, পরবর্তীতে এই দণ্ডটি ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ছিদ্রযুক্ত বা ফাঁপা হয়ে একটি নালী বা পথ তৈরি করে। এই নালী তৈরি হওয়ার পর এর প্রবেশদ্বারে যে অবশিষ্ট পাতলা টিস্যু থেকে যায়, সেটিই হলো হাইমেন।
যখন মুলেরিয়ান নালী ইউরোজেনিটাল সাইনাসের দিকে বৃদ্ধি পায়, তখন এটি সাইনাসের এপিথেলিয়াম স্তরকে সামনের দিকে ঠেলে দেয়, ফলে একটি স্ফীতি তৈরি হয়, পরবর্তীতে এতে কানেক্টিভ টিস্যু বা সংযোজক কলা প্রবেশ করে এবং হাইমেনের গঠন সম্পন্ন হয়।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এটা স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে যে হাইমেনের কোন জৈবিক বা শারীরিক কাজ নেই। অনেক ক্ষেত্রে শিশু অবস্থায় এটি যোনিপথের সুরক্ষায় সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
সংক্ষেপে, হাইমেন হলো ভ্রূণের বিকাশের সময় যোনিপথ গঠনের প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট থেকে যাওয়া একটি অংশ, যার কোনো সুনির্দিষ্ট শারীরিক প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঐতিহাসিকভাবে বা সামাজিকভাবে হাইমেনকে কুমারীত্বের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এটি কোনো নারীর কুমারীত্বের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা নয়।
এটা ভুল ধারণা যে হাইমেন যোনির প্রবেশ পথকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে, প্রকৃত সত্য হল হাইমেন সাধারণত যোনিপথের প্রবেশদ্বারের চারপাশে একটি পাতলা ঝিল্লির মতো থাকে, যা পথটিকে সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে না, এটি সাধারণত আংটি বা অর্ধচন্দ্রাকৃতির হয় এবং এতে প্রাকৃতিকভাবেই এক বা একাধিক ছিদ্র থাকে যাতে মাসিক যৌনচক্রের রক্ত বাইরে আসে।
আবার গড়ে প্রতি ১০,০০০ জন কন্যার মধ্যে একজনের হাইমেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থায় জন্ম হতে পারে, আবার কোন কোন কন্যা হাইমেন ছাড়াই জন্মগ্রহণ করতে পারে।
ইমপারফোরেট হাইমেন বা ছিদ্রহীন হাইমেন এমন একটি অবস্থা যেখানে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে যখন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে, বয়ঃসন্ধিকালে যখন যৌনচক্র শুরু হয়, তখন ছিদ্র না থাকার কারণে রক্ত বাইরে বের হতে পারে না, এই রক্ত যোনিপথের ভেতরে জমা হতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'হেমাটোকলপোস' (hematocolpos) বলা হয়, এছাড়া রক্ত জরায়ুতেও জমা হতে পারে (hematometra), যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, কিশোরীদের মাসিক যৌনচক্রের অনুপস্থিতি (amenorrhea) এবং পেটে তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, এই অবস্থায় সাধারণত একটি ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাইমেনের এই বন্ধ ঝিল্লিটি কেটে বা অপসারণ (excision) করে রক্ত বেরোনোর একটি পথ তৈরি করে দেওয়া হয়।
হাইমেনে রক্তনালীর সংখ্যা খুব কম থাকে, তাই এটি ছিঁড়ে গেলেও সব সময় রক্তপাত হয় না, অনেক সময় পর্যাপ্ত পিচ্ছিলতা সৃষ্টি না হওয়ার কারণে যোনিপথের দেয়ালে ক্ষত হয়ে রক্তপাত হতে পারে, যাকে ভুল করে হাইমেন ছিঁড়ে যাওয়ার রক্তপাত মনে করা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম যৌন মিলনের পর অনেক নারীরই কোন রক্তপাত হয় না।
প্রকৃত সত্য হল হাইমেন অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক বা ইলাস্টিক হয়, যা যৌন মিলনের সময় না ছিঁড়ে কেবল প্রসারিত হতে পারে, এক গবেষণায় দেখা গেছে, যৌন মিলনের অভিজ্ঞতা আছে এমন ৫২% কিশোরীর হাইমেনে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন পাওয়া যায়নি, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে "Intact" (অক্ষত) বা "Broken" (ফাটা/ছেঁড়া) শব্দগুলো ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এগুলো বিভ্রান্তিকর।
যৌন মিলন ছাড়াও ব্যায়াম, খেলাধূলা, হস্তমৈথুন বা দুর্ঘটনাজনিত আঘাতের কারণেও হাইমেনের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে , আবার বয়সের সাথে সাথে হরমোনের প্রভাবেও এর আকৃতি ও পুরুত্বের স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে।
নবজাতকের ক্ষেত্রে হাইমেন পুরু ও ভাঁজযুক্ত থাকার প্রধান কারণ হলো মায়ের শরীরের হরমোনের প্রভাব। নবজাতক কন্যা জন্মের সময় তার মায়ের শরীরের ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে থাকে, এই হরমোনের উদ্দীপনার কারণেই নবজাতকের হাইমেন টিস্যুটি বেশ পুরু এবং স্থিতিস্থাপক হয়, অনেক সময় 'রিডানডেন্ট' বা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিস্তৃত থাকে, এর ফলে হাইমেন অনেক সময় যোনিপথের বাইরে প্রক্ষিপ্ত বা বের হয়ে আসতে দেখা যায়। জন্মের পর প্রথম দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত শিশুর শরীরে হরমোনের এই প্রভাব বজায় থাকতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে (সাধারণত ৩ থেকে ৪ বছর বয়সের পর) হরমোনের এই প্রভাব কমে যায় এবং হাইমেনটি ধীরে ধীরে পাতলা ও মসৃণ প্রান্তযুক্ত ঝিল্লিতে পরিণত হয়।
আবার মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর শরীরে হরমোন উৎপাদন কমে যাওয়ায় হাইমেন পাতলা ও ছোট হয়ে যেতে পারে, বেশি বয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, হাইমেনে কানেক্টিভ টিস্যু বা সংযোজক কলার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, বার্ধক্যে এই তন্তুগুলো বেশ শক্ত ও অনমনীয় হয়ে যায়। সংক্ষেপে, হাইমেন একটি গতিশীল টিস্যু যা হরমোনের প্রভাব, বয়স এবং শারীরিক পরিবর্তনের সাথে সাথে তার পুরুত্ব, আকৃতি এবং স্থিতিস্থাপকতা পরিবর্তন করে।
হাইমেন সময়ের সাথে অবলুপ্ত না হওয়ার মূল কারণ হলো, এটি একটি কার্যকারী অঙ্গ নয়, বরং ভ্রূণের বিকাশের সময় অবশিষ্ট টিস্যু। হাইমেন থাকা প্রাণীদের ফিটনেসকে কোনভাবেই প্রভাবিত করেনা, আসলে জীবেদের সেই বৈশিষ্ট্যগুলোই বিলুপ্ত হয় যেগুলো তাকে প্রজনন করতে দেয়না, প্রাপ্তবয়স্ক হতে দেয়না, বংশবিস্তার করার আগেই মৃত্যুর কারণ হয়। কিন্তু হাইমেন এরকম কোন বাধার সৃষ্টি করেনা।
৩৭
পচা খাবার বা পচা জিনিস থেকে যেমন দুর্গন্ধ বের হয়,
তেমনি পচে যাওয়া সম্পর্ক থেকেও একধরনের অদৃশ্য দুর্গন্ধ বের হয়।
কিন্তু খাবার পচলে আমরা ফেলে দিই কিন্তু সম্পর্ক পচলে আমরা আঁকড়ে ধরি। দুর্গন্ধটা টের পাওয়ার আগেই অনেক সময় আমরা পটল তুলি- শরীরের আগে মন মরে যায়।
আমাদের সম্পর্কগুলো এমন জটিল ধাঁধার মতো প্যাঁচানো যে,সারাজীবন কেটে যায় সেই রাধাচক্রে ঘুরতেই ঘুরতে।
আমরা জীবন দিয়ে চেষ্টা করি সেটা টিকিয়ে রাখতে।
কারণ ছোটবেলা থেকেই আমারা শিখতে শিখতে বড় হয়েছি, যে কোনো মূল্যে সম্পর্ক বাঁচাতে হয়, নিজেকে না।
বিশেষ করে মেয়েদের শেখানো হয় “লাল শাড়ি পরে স্বামীর ঘরে যেতে হয় আর সাদা কাফন পরে বেরুতে হবে” অর্থাৎ, বিয়ের পর তোমার ঘর একটাই, তোমার জীবন একটাই সম্পর্কে বন্দী, বের হওয়ার একটাই উপায় আর সেটা হলো তোমার মৃত্যু।
এটা প্রেমের শিক্ষা না, এটা সহ্যের সংস্কৃতি।
যে দুর্গন্ধ আমরা নাকে এক মুহূর্ত সহ্য করতে পারি না,সে দুর্গন্ধ আমাদের মন সহ্য করে বছরের পর বছর।
কিন্তু কেন?
কারণ এটা শুধু দুর্বলতা না এটা মানুষের মনস্তত্ত্ব, সামাজিক শিক্ষা, ভয়- ভীতি সবকিছুর মিশ্রণ।
হারানোর ভয়-
পরিচিত কষ্ট অপরিচিত ভবিষ্যতের চেয়ে নিরাপদ মনে হয়।
ইনভেস্টমেন্টের ফাঁদ-
“এত বছর দিলাম… এখন ছাড়ব?” যদিও ভেতরটা অনেক আগেই ফাঁকা হয়ে গেছে।
সামাজিক শর্ত-
সম্পর্ক ভাঙা মানে ব্যর্থতা।”স্বামীর ভাত খাইতে পারলো না” আঙুলটা আগে মেয়ের দিকেই ওঠে।
“মানিয়ে নাও”, “সহ্য করো”, “সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে”এ কথাগুলো আত্মসম্মানের চেয়ে বড় হয়ে যায়।
একাকীত্বের ভয়-
মানুষ মনে হয় একা হয়ে যাওয়াকে সবচেয়ে বেশী ভয় পায় আর তাই খারাপ সঙ্গ অনেক সময় একা থাকার চেয়ে কম ভয়ের মনে হয়।
আশা নামের নেশা-
একদিন বদলাবে, ওই একদিনের আশায় পুরো জীবন কেটে যায়।
কিন্তু সত্যিটা আসলেই কঠিন। সব সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে যদি নিজেকে হারাতে হয়, তাহলে সেটা সম্পর্ক না, এটা ধীরে ধীরে আত্মহত্যা।
আমদের শেখানো হয়েছে সম্পর্ক ধরে রাখতে হয়।কিন্তু কেউ শেখায়নি, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে হয়, সব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা মহত্ব না।
কিছু সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা,এটাই বেঁচে থাকা। @ Shafia Shama
৩৮
ব্যাঙের ত্বক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার এই অসাধারণ ক্ষমতাটি সত্যিই প্রকৃতির এক বিস্ময়। আপনার দেওয়া অনুচ্ছেদটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো:
ব্যাঙের ত্বকীয় শ্বসন ব্যাঙের তাদের ত্বকের মাধ্যমে সরাসরি অক্সিজেন এবং পানি শোষণ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে, যা ত্বকীয় শ্বসন (cutaneous respiration) নামে পরিচিত। তাদের ত্বক পাতলা, আর্দ্র এবং প্রচুর রক্তনালী সমৃদ্ধ, যা অক্সিজেনকে সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে সাহায্য করে। এই অভিযোজনটি বিশেষ করে তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন ব্যাঙ পানির নিচে থাকে বা শীতনিদ্রায় (hibernation) যায়, কারণ তখন ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া সীমিত বা বন্ধ থাকে। ত্বকের নিরবচ্ছিন্ন আর্দ্রতা অক্সিজেন দ্রবীভূত করতে সাহায্য করে, যা গ্যাসীয় আদান-প্রদানকে আরও দক্ষ করে তোলে। এই অনন্য পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাঙ জলজ এবং স্থলজ উভয় পরিবেশেই অসাধারণ নমনীয়তার সাথে বেঁচে থাকতে পারে।@ What if Science
৩৯
মানুষ আপনাকে ভালোবাসে না, মানুষ আপনার থেকে পাওয়া 'সুবিধা'গুলোকে ভালোবাসে।
যতদিন আপনি তাদের প্রয়োজনে 'হ্যাঁ' বলছেন, ততদিন আপনি তাদের চোখের মণি। কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনার পকেট খালি হবে, বা আপনি তাদের কোনো কাজে আসবেন না—দেখবেন, তাদের ভালোবাসার রং গিরগিটির মতো বদলে গেছে।
People don't love you, they love what you can do for them.
খুব নিষ্ঠুর শোনালেও এটাই আজকের দিনের বাস্তবতা।
আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা মৌমাছির মতো। যতক্ষণ আপনার কাছে মধু (টাকা, ক্ষমতা, সময়) আছে, ততক্ষণ তারা ভনভন করবে।
মধু শেষ?
তাদের দেখা পাওয়াও তখন দুস্কর হবে।
তারা আপনার সাথে সম্পর্ক রাখে না, সম্পর্ক রাখে আপনার 'পজিশন' বা 'অ্যাভেইলেবিলিটি'-র সাথে।
এটা ভালোবাসা নয়, এটা এক ধরণের অঘোষিত ব্যবসায়িক লেনদেন।
আপনি আবেগের বশবর্তী হয়ে সব উজাড় করে দিচ্ছেন, আর তারা সেটাকে আপনার 'দায়িত্ব' মনে করে আরামসে ভোগ করছে।
মনে রাখবেন, স্বার্থের পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ হওয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।
কীভাবে বুঝবেন এবং নিজেকে বাঁচাবেন?
১. 'না' বলে পরীক্ষা করুন (The 'NO' Test)
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই তাদের ছোটখাটো আবদারে 'না' বলুন।
দেখবেন, যারা আপনাকে সত্যিই ভালোবাসে, তারা বুঝবে।
আর যারা শুধু সুবিধাবাদি, তারা রেগে যাবে অথবা আপনাকে দোষারোপ করা শুরু করবে। চিনে রাখুন এদের।
২. সম্পর্ক কিনবেন না (Don't buy relationships)
উপহার, টাকা বা অতিরিক্ত সময় দিয়ে কাউকে ধরে রাখার চেষ্টা করবেন না।
যে থাকার, সে আপনার শূন্য পকেটেও পাশে থাকবে।
আর যে যাওয়ার, সে পকেট ভরলেও থাকবে না।
৩. নিজের যত্ন নিন (Prioritize Yourself)
অন্যের বাতি জ্বালাতে গিয়ে নিজেকে পুড়িয়ে মোমবাতি হবেন না।
আলো সবাই উপভোগ করে, কিন্তু গলে যাওয়া মোমটার দিকে কেউ তাকায় না।
শেষ কথা
চোখ খুলুন।
যারা আপনার বিপদে অজুহাত দেখায়, আর নিজের বিপদে আপনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে—তাদের জীবন থেকে ছাঁটাই করুন।
একা থাকা অনেক ভালো, স্বার্থপরদের ভিড়ে থাকার চেয়ে।
নিজেকে বলুন—
"আমি কারো ব্যবহারের সামগ্রী নই, আমি মানুষ।"
৪০
মেরুদণ্ডীদের দৃষ্টিব্যবস্থার বিবর্তন
আজ আমরা মানুষ। দুই চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখি, মোবাইল স্ক্রল করি, আর মাঝে মাঝে চশমা খুঁজে পাই না। কিন্তু ভাবুন তো, আমাদের প্রায় 518 মিলিয়ন বছর আগে পূর্বপুরুষদের কারো যদি চারটা চোখ থাকতো?
শুনলে সাই-ফাই মনে হলেও বিজ্ঞান বলছে এটা সত্যিই ঘটেছিল।
হ্যা, ক্যাম্ব্রিয়ান যুগ!
ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের সমুদ্রে বাস করতো একদল ছোট চোয়ালবিহীন মাছ Myllokunmingiidae। বর্তমানে এরা বিলুপ্ত। দেখতে খুব সাধারন, কিন্তু Evolutionary ইতিহাসে এরা ছিল সুপারস্টার। কারণ এদেরকেই ধরা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিতি মেরুদন্ডী (vertebrates) প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। মানুষের মতো সব vertebrate প্রাণীর বিবর্তনীয় ইতিহাসে এরা প্রায় একেবারে শুরুর দিকের সদস্য।
আজকের এই আর্টিকেলে Myllokunmingiidae দের জীবাশ্মে রেখে যাওয়া অসাধারন ম্যাসেজ তুলে ধরা হবে। তাই এই চার চোখওয়ালা মাছটি সম্পর্কে জানতে;
চলেন ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে একটু উঁকি মারি।
এই যে আজকের সমুদ্র যতটা সুন্দর দেখছেন ক্যাম্ব্রিয়ান যুগের তখনকার সমুদ্র ছিল তার ঠিক ততটা উল্টা। একেবারে সারভাইভাল মুড অ্যাক্টিভ করা।
নতুন নতুন প্রাণী জন্ম নিচ্ছে, অদ্ভুদ আকৃতির প্রাণী ঘুড়ে বেড়াচ্ছে, আর বেচারা নরমদেহী প্রাণীদের প্রতিদিনই জীবন বাঁচানোর পরিক্ষা দিতে হচ্ছে।
এই বিপজ্জনক দুনিয়াতেই Myllokunmingiid-রা সাঁতার কাটত। উহু, কোনো সিকিউরিটি নাই। একে তো ছোট শরীর, চোয়াল নেই, শক্ত বর্ম নেই। শিকারিদের কাছে এরা পুরাই চপস্টিক নুডলস্ হয়ে বসে আছে।
তাই বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির কাছ থেকে যেন এক বিশেষ সুবিধা হাতিয়ে নেয়। দুই না, চার চোখ!
বিবর্তনের এই সুপার-ডুপার ফিচার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন মেরুদন্ডী প্রাণীরা পেয়েছিল, যাদের বহু দূরের বংশধর আমরা নিজেরাই।
তবে বিষয়টি জানার আগে এদের নিয়ে ধারনা কি ছিল? আগে তো জানা ছিল না, হঠাৎ কোথা থেকে উঠে আসলো এত সুন্দর তাজা নিউজ? জ্বি বলছি, ধৈর্য্য নিয়ে পড়ুন। সবুরে মেওয়া ফলে কি না!
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এদের জীবাশ্মে মাথার মাঝখানের ছোট গঠনগুলোকে তেমন পাত্তা দেন নি। মনে করা হতো, হয়তো কোনো ঘ্রাণসংবেদন বা সাধারণ সেন্সরি অঙ্গ। কিন্তু সম্প্রতি 2026 সালে প্রকাশিত একটি নতুন বৈজ্ঞানিক স্টাডি অনুযায়ী, চীনের চেংজিয়াং জীবাশ্মস্তর থেকে পাওয়া অসাধারনভাবে সংরক্ষিত নমুনাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করার মাধ্যমে এ ধরনের দীর্ঘদিনের ধারণার বিরতি ঘটিয়েছে।
ওগুলো আসলে চোখ!
নাহ্, শুধু চোখই না। ছবি তৈরি করতে সক্ষম, লেন্সযুক্ত, সত্যিকারের ক্যামেরা ধরনের চোখ।
দুটি বড় চোখ মাথার দুই পাশে, যেমনটা আমরা আজকের মাছ বা মানুষের চোখে দেখি। কিন্তু মাঝখানে ছিল আরও দুটি চোখ, যেন প্রকৃতি অতিরিক্ত নজরদারির জন্য আলাদা ব্যবস্থা করে রেখেছিল। চারদিকে বিপদে ভরা সমুদ্রে এটি ছিল নিখুঁত সুবিধা। এক ধরনের প্রাগৈতিহাসিক 360 ডিগ্রি ভিউ।
জিবাশ্মে পাওয়া গেছে মেলানিন রঞ্জক, আলো শোষণকারী কোষীয় গঠন, এমনকি লেন্সের মতো বৃত্তাকার কাঠামোও। ভাবা যায়, এত নরম অঙ্গ কোটি কোটি বছর ধরে টিকে আছে। প্রকৃতি মানুষদের দেখানোর জন্য লকারে ফেলে রেখেছিল মেবি! (কিডিং)
প্রকৃতির এই বিশেষ সংরক্ষণ আজ খুলে দিয়েছে আমাদের নিজস্ব ইতিহাসের এক নতুন এক অধ্যায়।
আর সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টিও আসে এখানেই।
আধুনিক মেরুদন্ডী প্রাণীদের মস্তিষ্কে একটি ছোট অঙ্গ আছে, পাইনাল গ্রন্থি। যা আলো বুঝে ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রন করে। কিছু সরীসৃপে এটাকে মজার ছলে ”তৃতীয় চোখ” বলা হয়। নতুন গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অঙ্গটি একসময় সত্যিকারের চোখ ছিল। শুধু তাই নয়, Myllokunmingiid দের ক্ষেত্রে সম্ভবত এটি ছিল চোখের একটি জোড়া। অর্থাৎ তৃতীয় নয়, চতুর্থ চোখও।
ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে Myllokunmingiidদের কপালে জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ-এর মতো অবস্থায় এই চার চোখই শত্রু আসার আগেই দেখে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
বির্বতনের দীর্ঘ যাত্রায় এই অতিরিক্ত চোখগুলো ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়, দৃষ্টি শক্তি হারায় এবং শেষে ঘুম নিয়ন্ত্রণের মতো ভিন্ন কাজে বিশেষায়িত হয়। আমাদের শরীর তাই এখনো বহন করে চলেছে সেই প্রাচীন চোখের নিঃশব্দ স্মৃতি।
ভাবলে মজাই লাগে! আজ আমরা দুই চোখ নিয়ে পৃথিবী দেখি, কিন্তু আমাদের বহু দূরের পূর্বপুরুষ হয়তো চার চোখে সমুদ্রের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করত। তারা মোটেও অন্ধকারে পথ হারানোর মতো সরল ল্যাদা বাচ্চা ছিল না; বরং তারা ছিল বিপজ্জনক পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে অভিযোজিত একদল জীব।
এবার একটু ভাবেন, কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাচীন vertebrate-রা কতটা উন্নতা ছিল!
চোখের বিবর্তন শুরুতেই কতটা জটিল ছিল!
আমাদের “তৃতীয় চোখ” ধারণার ইতিহাস কি নতুন ভাবে লিখা প্রয়োজন নয়?
বাঁচতে হলে, ভাবতে হবে…@ Arif
৪১
গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস গণতন্ত্র সম্পর্কে ২০০০ বছরেরও বেশি আগে যা বলেছিলেন
তা বর্তমান সময়ে একদম স্পষ্ট, তিনি বলেছিলেন, গণতন্ত্র শেষ পর্যন্ত পতন হবে, কারণ এটি সবার মন রক্ষা করার চেষ্টা করবে।
গরিবরা ধনীদের সম্পদ চাইবে, আর গণতন্ত্র তা তাদের দিয়ে দেবে।
যুবকেরা চাইবে যেন তাদেরকে বয়স্কদের মতো সম্মান করা হয়, আর গণতন্ত্র তা তাদের দিয়ে দেবে।
নারীরা চাইবে পুরুষদের মতো হতে, আর গণতন্ত্র তা তাদের দিয়ে দেবে।
বিদেশিরা চাইবে স্থানীয়দের অধিকার, আর গণতন্ত্র তা তাদের দিয়ে দেবে।
চোর ও প্রতারকরা চাইবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব, আর গণতন্ত্র তা তাদের দিয়ে দেবে।
আর তখন চোর প্রতারকরা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসবে। কারণ খারাপ ও অসৎ লোকেরা ক্ষমতা চাইবে।তখন এমন এক স্বৈরশাসন আসবে, যা যে কোনো রাজতন্ত্র বা ধনী গোষ্ঠীর শাসনের চেয়েও বেশি খারাপ হবে!!
৪২
পৃথিবীর আসল ধনকুবের সেই ব্যক্তি নয় যার সিন্দুক ভর্তি টাকা বা গ্যারেজ ভর্তি দামী গাড়ি আছে।
প্রকৃত ধনী তো সেই— যার হাসার জন্য খুব সামান্য কিছুর প্রয়োজন হয় এবং যে অন্যকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
আধুনিক দুনিয়া তোমাকে শেখাবে যে তোমার যত বেশি থাকবে, তুমি তত বেশি সফল। কিন্তু তারা তোমাকে এটা বলবে না যে, তুমি যত বেশি চাওয়া-পাওয়ার নেশায় পড়বে, তুমি তত বেশি দাসে পরিণত হবে। চাহিদা যত কমবে, তোমার স্বাধীনতা তত বাড়বে।
একইসাথে, যার কাছে অন্যকে পথ দেখানোর এবং অনুপ্রাণিত করার মতো তেজ আছে, সে-ই হলো সত্যিকারের প্রভাবশালী। কারণ টাকা দিয়ে কেনা আনুগত্য কাল চলে যেতে পারে, কিন্তু চরিত্র আর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে জয় করা সম্মান কখনও ম্লান হয় না।
তোমার যা নেই তার জন্য দীর্ঘশ্বাস না ফেলে, যা আছে তাই নিয়ে গর্বের সাথে বুক চিতিয়ে দাঁড়াও। অন্যকে সাহায্য করো, পথ দেখাও। দেখবে তোমার ভেতরের রাজকীয়তা কোনো ধনী-এলিটের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
তুমি কি কাল থেকে এই মানসিকতা নিয়ে দিন শুরু করতে প্রস্তুত? নাকি এখনো ‘আরও চাওয়া'র সেই গোলকধাঁধায় আটকে থাকতে চাচ্ছো?@ Red Pill 2
৪৩
মাসের শেষে পকেটে ১০ টাকাও থাকে না? ইনকাম বাড়াতে হবে না, শুধু এই ৩টি 'ফালতু খরচ' আজই বন্ধ করুন!
It's Not About How Much You Earn, It's About How Much You Save
মাসের ১ তারিখে স্যালারি বা হাতখরচ পাওয়ার পর আমরা নিজেকে রাজা মনে করি। রেস্তোরাঁ, শপিং, আর আড্ডা—টাকা যেন জলের মতো খরচ হয়।
কিন্তু মাসের ২৫ তারিখ পেরোলেই শুরু হয় হাহাকার। তখন ১০ টাকার জন্যও বন্ধুর কাছে হাত পাততে হয়।
আপনি ভাবছেন—"আমার ইনকাম কম, তাই এমন হয়।"
ভুল! আপনার ইনকাম কম নয়, আপনার পকেটের 'ছিদ্র' বড়। বালতিতে ছিদ্র থাকলে আপনি যতই জল ঢালুন, বালতি ভরবে না।
আজ থেকেই এই ৩টি 'ফালতু খরচ' (Money Leaks) বন্ধ করুন, দেখবেন মাস শেষে আপনার পকেট আর খালি থাকছে না।
কোন ৩টি খরচ আপনাকে গরিব বানিয়ে রাখছে?
১. লোক দেখানো খরচ (Show-off Spending)
পাশের বাড়ির বন্ধু দামি আইফোন কিনেছে, তাই লোন করে হলেও আপনাকে কিনতে হবে—এই মানসিকতা আপনাকে শেষ করে দিচ্ছে।
যাদের ইমপ্রেস করার জন্য আপনি এই টাকাগুলো ওড়াচ্ছেন, বিপদের সময় তারা আপনার ফোনও ধরবে না।
অন্যের চোখে বড়লোক সাজার চেয়ে, গোপনে ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানো অনেক বেশি স্মার্ট কাজ। মনে রাখবেন, "গরিবরা টাকা খরচ করে বড়লোক সাজে, আর ধনীরা টাকা জমিয়ে সাধারণ থাকে।"
২. ছোট ছোট অদৃশ্য খরচ (The Latte Factor)
"মাত্র তো ২০ টাকা!"—এই ভেবে আমরা দিনে কতবার চা, সিগারেট বা স্ট্রিট ফুড খাই?
হিসাব করে দেখুন—দিনে ৫০ টাকার ফালতু খরচ মানে মাসে ১৫০০ টাকা, আর বছরে ১৮,০০০ টাকা!
এই ছোট ছোট ছিদ্রগুলোই আপনার বড় জাহাজ ডুবিয়ে দিচ্ছে। আজ থেকে বাইরের এই অপ্রয়োজনীয় খাওয়া বা নেশা বন্ধ করুন।
৩. অফারের ফাঁদ (The Trap of Sales)
"৫০% ছাড় চলছে!"—এটা দেখলেই আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি এমন জিনিস কিনতে, যা আমাদের আসলে দরকারই নেই।
মনে রাখবেন, যে জিনিসের দরকার নেই, সেটা ১০ টাকায় পেলেও কেনা লস।
অফার দেখে নয়, প্রয়োজন দেখে কিনুন। শপিং অ্যাপের নোটিফিকেশন অফ করে রাখুন।
শেষ কথা
ইনকাম বাড়ানোর আগে খরচ করার অভ্যাস বদলান।
আজকের জমানো টাকা কাল আপনার বিপদের দিনের সেরা বন্ধু হবে।
মাস শেষে যেন কারোর কাছে হাত পাততে না হয়, সেই প্রতিজ্ঞা আজই নিন।
নিজেকে বলুন—"আমি টাকার গোলাম নই, আমি টাকার মালিক হবো।"
৪৪
ডিমেনশিয়া
ডিমেনশিয়া (Dementia) মূলত কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া কয়েকটি লক্ষণের সমষ্টি। এর ফলে মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়
ডিমেনশিয়ার প্রধান লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
স্মৃতিভ্রম বা ভুলে যাওয়া: এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘটনা, কিছুক্ষণ আগের খাওয়া খাবার বা পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া।
পরিচিত কাজ করতে অসুবিধা: প্রতিদিনের সাধারণ ও অভ্যস্ত কাজগুলো করতে সমস্যা হওয়া। যেমন- চা বানানো, হিসাব মেলানো বা টিভি রিমোটের ব্যবহার ভুলে যাওয়া।
কথা বলতে বা শব্দ খুঁজতে সমস্যা: কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, বাক্য শেষ করতে না পারা বা একই কথা বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলা।
সময় ও স্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তি: আজকের তারিখ কত, এখন দিন না রাত, বা খুব চেনা রাস্তা ভুলে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়া।
মেজাজ ও আচরণের হঠাৎ পরিবর্তন: অকারণে রেগে যাওয়া, কাছের মানুষকে সন্দেহ করা, ভয় পাওয়া, হতাশ হয়ে পড়া বা আগের চেয়ে অনেক বেশি চুপচাপ হয়ে যাওয়া।
জিনিসপত্র অদ্ভুত জায়গায় রাখা: দরকারি জিনিস যেমন চাবি, চশমা বা টাকা এমন জায়গায় রাখা যা সাধারণত কেউ রাখে না (যেমন- ফ্রিজের ভেতর চশমা রেখে দেওয়া) এবং পরে তা খুঁজে না পাওয়া।
৪৫
মৃ'ত্যুর পর গায়ে থুতু দেয়ার জন্য তাঁর ম'রদেহ বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছিল
বলছি ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কথা
যদি জিজ্ঞেস করি কে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাব রাখেন?
সেই ইতিহাস আমরা অনকেই মনে রাখি নি।। ইতিহাসে যিনি আড়ালেই থেকে গেলেন।। আসুন একটু জেনে নিই-
পাকিস্তান স্বাধীন হয় ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই আগস্ট।। মাত্র ছয় মাসের মাথায় করাচিতে ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে যিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি তুলেন - “বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা হোক”, সেই মানুষটির নাম ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’।।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ছিলেন।। ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সেই দাবি পাকিস্তান পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়।। তারপরই ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘‘পূর্ব পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাংলায় কথা বলে, তাই আমার বিবেচনায় বাংলা হওয়া উচিত রাষ্ট্রভাষা।।’’ তার এই বক্তব্যকে জিন্নাহর ‘‘উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা’’ ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বলা যায়।। সুতরাং তাঁকে ‘ভাষা আন্দোলনের জনক’ বললেও অত্যুক্তি হবে না।।
আজ আমরা উনাকে মনে রাখি না।। অথচ পাকিস্তানের শাসকেরা তাঁকে মনে রেখেছিল।।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের ২৯শে মার্চ পাক-আর্মিরা ধরে নিয়ে ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিষ্ঠুরভাবে হ'ত্যা করে।। ৮৪ বছর বয়সী মানুষটিকে হাত-পা ভে'ঙ্গে প'ঙ্গু এবং দুই চোখে কলম ঢুকিয়ে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।। মৃ'ত্যুর পর গায়ে থুতু দেয়ার জন্য তাঁর ম'রদেহ বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছিল।।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সহ সকল শহীদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।। @ সংগৃহীত
৪৬
“বিয়ে” এবং “ভালোবাসা” একই জিনিস নয়,
ভালোবাসলে বিয়ে করতে হবে বা বিয়ে করলেই একজন আরেকজনকে ভালোবাসবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
ভালোবাসার কারনে বিয়ের জন্ম হয়নি বরং বিয়ে নামক ইনস্টিটিউশনের তৈরি হওয়ার বড় কারণ ছিল সম্পদ ও জমির বন্টন বা দখলদারিত্ব, বংশ ও উত্তরাধিকার, রাজনৈতিক পারিবারিক জোট, শ্রম ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
প্রাচীন যুগে সম্পদ ও উত্তরাধিকার কাঠামোর কেন্দ্র ছিল কৃষিভিত্তিক সমাজ, সেখানে জমি ও পশু ছিল মূল সম্পদ। সেই সময়ে সন্তান কার এটা নিশ্চিত করা খুবই জরুরী ছিল, যাতে উত্তরাধিকার ঠিক থাকে।
প্রাচীন আইনে যেমন হাম্মুরাবির বিধানে বিয়ের চুক্তি, যৌতুক, তালাক সবই সম্পদ ও দায়দায়িত্ব ঘিরে লেখা।
যেমন, জমির মালিক চাইবে তার সম্পদ নিজের কাছে রাখতে।
কিন্তু এটা নির্ধারণ করবে কিভাবে?
যৌন সম্পর্ককে সামাজিক আইনের মাধ্যমে একটা ইনস্টিটিউশন কাঠামো তৈরী হয় আর এটাই বিয়ে।
তাহলে বিয়েতে ভালোবাসা কোথায়?
রোমান্টিক ভালোবাসাকে বিয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা শুরু হয়েছে তুলনামূলক আধুনিক যুগে ইউরোপে ১৮–১৯ শতক থেকে ধীরে ধীরে। শিল্পায়ন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার সাথে মানুষ সঙ্গী বাছাইয়ে ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে।
আজকের সমাজে বিয়ে ভালোবাসার(থাকতে পারে নাও থাকতে পারে) সাথে আইনি ও সামাজিক কাঠামো জড়িত।
কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে বিয়ে ছিল ইনস্টিটিউশন। ভালোবাসা ছিল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যা কখনও মিলেছে, কখনও মিলেনি।
তবে মানুষ যেহেতু কেবল অর্থনৈতিক সত্তা না। মানুষের নিজের প্রয়োজনে আবেগ, নিরাপত্তা ও সঙ্গির দরকারে বিয়েকে টিকিয়ে রেখেছে।
বিয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে আপনি কোন ফাংশনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তার ওপর। Adv Tamanna Afrin
৪৭
সা"বধান! আপনার ঘুমের ভ'ঙ্গি কি আপনার আ'য়ু কমি'য়ে দিচ্ছে?
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুম যেমন জ'রুরি, ঠিক তেমনি সঠিক ভ'ঙ্গিতে ঘুমানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! ছবিতে দেখানো ভ'ঙ্গিগুলো একটু খেয়াল করুন। আপনি কি জানেন, দিনের পর দিন ভুল ভ'ঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে আপনার শরীরে মা"রাত্মক ক্ষ"তি হতে পারে, যা দীর্ঘমে'য়াদে আপনার সুস্থ আ"য়ু কমিয়ে দিতে পারে?
চলুন জেনে নিই কোন ভ'ঙ্গিটি আপনার জন্য ক্ষ"তিকর এবং কোনটি স্বাস্থ্যকর
উপু'ড় হয়ে ঘুমানো : এটি সবচেয়ে ক্ষ'তিকর ভ'ঙ্গি! এভাবে ঘুমালে ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের ওপর অস্বা"ভাবিক চা'প পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ঘাড় ব্যথা, পিঠে ব্যথা, পেশির টান এবং স্না'য়ুর মা'রাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া এতে ফুস'ফুসের ওপরও চা'প পড়ে, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যা'ঘাত ঘটে।
অতিরিক্ত গুটিসুটি মেরে ঘুমানো : মা'য়ের পে'টে শিশুরা যেভাবে থাকে (Fe'tal Position), অনেকেই সেভাবে ঘুমাতে ভালোবাসেন। তবে খুব বেশি গু"টিসুটি মেরে শুলে ডা'য়াফ্রাম বা ম'ধ্যচ্ছদার ওপর চাপ পড়ে, ফলে গ'ভীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এটি পিঠ ও হাঁটুর জয়েন্টেও ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে।
চিৎ হয়ে ঘুমানো : এটি মেরুদণ্ডের জন্য বেশ ভালো একটি ভ'ঙ্গি। তবে যাদের নাক ডাকার অভ্যাস বা স্লিপ অ্যাপ'নিয়া (Sleep Apnea) সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি বি"পজ্জনক হতে পারে। কারণ এতে শ্বাস"নালী সরু হয়ে যায়।
তাহলে সবচেয়ে নিরাপদ ঘুমের ভ'ঙ্গি কোনটি?
চিকিৎসকদের মতে, বাম পাশ ফিরে ঘুমানো, তবে শরীর আরেকটু সোজা রেখে) হলো সবচেয়ে নিরা'পদ এবং স্বাস্থ্যকর ভ'ঙ্গি।
কেন বাম পাশ ফিরে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো?
মে'রুদণ্ডের সুর'ক্ষা: ঘাড় এবং মে'রুদণ্ড স্বাভাবিক লাইনে থাকে, ফলে ঘাড় বা পিঠে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
হজমশক্তি ও গ্যাস্ট্রিক: বাম পাশ ফিরে ঘুমালে পা'কস্থলী সঠিক অবস্থানে থাকে। এটি খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে এবং বুক জ্বা"লাপোড়া বা গ্যা"স্ট্রিকের সমস্যা ম্যা'জিকের মতো কমিয়ে দেয়।
হার্টের স্বাস্থ্য: এই ভ'ঙ্গিতে ঘুমালে হার্টে র'ক্ত চলাচল সবচেয়ে স্বাভাবিক ও সহজ হয়, যা হার্টকে সুস্থ রাখে।
প্রো-টিপস: পাশ ফিরে ঘুমানোর সময় দুই হাঁটুর মা"ঝখানে একটি পাতলা বা"লিশ দিয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ডের ভারসাম্য সবচেয়ে ভালো থাকে। ঘাড় যেন খুব বেশি উঁচু বা নিচু না থাকে, সেজন্য সঠিক মাপের বা'লিশ বেছে নিন।
৪৮
কুড়িটি গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার
পরের অধিকারে
১. কাউকে তার বেতন, বয়স বা ওজন জিজ্ঞেস করা ঠিক নয়।
২. যা ধার নিয়েছেন, তা ফেরত দিন আগের অবস্থায়—যেন নিজের জিনিস ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
৩. যখন কেউ কথা বলছেন, তখন চুপ করে শোনাটাই শ্রেয়।
৪. কেউ নিজের ফোন দেখালে, সেটা নিজের হাতে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না।
৫. পরের ব্যক্তিগত জায়গাকে সম্মান জানান—শারীরিকও, মানসিকও।
শালীনতা
৬. আমন্ত্রণে গেলেও খালি হাতে যাওয়া ভদ্রতা নয়।
৭. ছোট্ট একটি উপকারের জন্যও 'ধন্যবাদ' জানাতে ভুলবেন না।
৮. কোনো গোপন কথা যদি শোনেন, তবে সেটা আপনাকেই পাহারা দিতে হবে।
৯. কারও দিকে তাকিয়ে থাকা ভালো অভ্যাস নয়।
১০. যেখানেই যান, জায়গাটাকে আগের চেয়ে একটু সুন্দর করে আসুন।
সচেতনতা
১১. সিনেমা হলে নিজের কথা বলার চেয়ে পর্দার গল্প শোনাই শ্রেয়।
১২. ভেতরে ঢোকার আগে যারা বের হতে চান, তাদের পথ দিন।
১৩. সবার সামনে মোবাইলের স্পিকারফোন চালিয়ে অসুবিধা তৈরি করবেন না।
১৪. বিলের টাকার ওপর নয়, পরিষেবার সন্তুষ্টি থেকেই বকশিশ দিন।
১৫. হেডফোন পরা মানে তিনি নিজের জগতে আছেন—তাকে সেভাবেই থাকতে দিন।
সম্মানবোধ
১৬. কোনো দম্পতিকে সন্তান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন।
১৭. খাওয়ার সময় ফোন সরিয়ে রেখে পাশের মানুষটিকে সময় দিন।
১৮. কারও বাহ্যিক রূপ নিয়ে মজা করা অন্তরের দারিদ্র্য প্রকাশ করে।
১৯. 'ডিস্টার্ব করবেন না' লেখা দেখলে—সেটা দরজায় হোক বা কারও আচরণে—মানে রাখা শিখুন।
২০. অনলাইনে প্রকাশিত সবকিছু আপনার জানার জন্য নয়—কিছু জিনিস অজানাই থাকুক।
৪৯
পরিমিত আহার: সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর গোপন চাবিকাঠি
খনার সেই কালজয়ী দর্শন—"ঊনো ভাতে দুনো বল, অতি ভাতে রসাতল"—আজকের আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রমাণিত। এর মূল কথা হলো, কম বা পরিমিত খেলে শরীরে দ্বিগুণ শক্তি পাওয়া যায়, আর অতিরিক্ত খেলে শরীর ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
১. অতিরিক্ত আহার কেন ক্ষতিকর?
আমাদের শরীর অনেকটা মালবোঝাই গাড়ির মতো। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি পণ্য চাপালে যেমন গাড়ি কাদায় আটকে যায়, আমাদের পরিপাকতন্ত্রও তেমনি অতিরিক্ত খাবারে অচল হয়ে পড়ে।
বিপাকীয় জট: অতিরিক্ত খাবার শরীর শক্তি হিসেবে খরচ করতে পারে না, ফলে তা মেদ বা চর্বি হিসেবে জমা হয়।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: বারবার ও পেট ভরে শর্করা খেলে রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। একে সামলাতে শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের জন্ম দেয়।
ফ্যাটি লিভার: বাড়তি শর্করা যকৃতে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা মেটাবলিক সিনড্রোমের মূল কারণ।
২. পরিমিত আহারের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা
যখন আমরা কিছুটা ক্ষুধা রেখে খাবার খাই, তখন শরীর নিজেই নিজেকে মেরামত করার সুযোগ পায়।
অটোফেজি (Natural Healing): কম খেলে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। তখন কোষগুলো নিজেদের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য ও মৃত অংশগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় 'অটোফেজি' বলে।
মাইটোকন্ড্রিয়া উদ্দীপন: পরিমিত আহার কোষের শক্তিঘর বা মাইটোকন্ড্রিয়াকে সচল করে, যা আমাদের শরীরে 'দুনো বল' বা দ্বিগুণ জীবনীশক্তি যোগায়।
তারুণ্য রক্ষা: এই প্রক্রিয়ায় শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার হয় বলে দীর্ঘকাল তারুণ্য বজায় থাকে।
৩. বিশ্বজুড়ে একই দর্শন সুস্থ থাকার এই নিয়মটি শুধু বাংলার খনাই বলেননি, বরং পৃথিবীর দীর্ঘজীবী মানুষেরাও এটি মেনে চলেন।
জাপানের 'হারা হাচি বু': দীর্ঘায়ুর জন্য বিখ্যাত জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের মানুষ পেটের ৮০ ভাগ পূর্ণ হলে খাওয়া বন্ধ করে দেন।
মনের প্রশান্তি: পাকস্থলীকে কিছুটা বিশ্রাম দিলে শরীর হালকা লাগে এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়।
সারকথা: খাবার প্লেটে কিছুটা জায়গা খালি রাখা নিজেকে বঞ্চিত করা নয়, বরং শরীরকে সুস্থ রাখার এক মহৌষধ। @ Food Fun
৫০
ইসবগুল খাওয়া
ইসবগুল জল শোষণ করে, একটি জেল তৈরি করে, ভর যোগ করে এবং স্বাভাবিকভাবেই মলত্যাগ সহজ করে তোলে। এটি আপনার অন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করে না বরং এর সাথে কাজ করে, যার অর্থ এটি অভ্যাস গঠনের প্রভাব তৈরি করে না। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে প্রতিদিন ইসবগুল খাওয়া ক্ষতিকারক। বাস্তবে, এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, বিশেষ করে যদি আপনার খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবারের অভাব থাকে। বেশিরভাগ ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় 30 গ্রাম ফাইবারের প্রয়োজন হয়, এবং অনেকেই ঘাটতি বোধ করেন। ইসবগুল এই ঘাটতি সহজেই পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে। র্যালস্টন বলেন যে প্রতিদিন ব্যবহার ঠিক আছে যতক্ষণ না এটি পর্যাপ্ত জলের সাথে গ্রহণ করা হয়। ।
একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হল এটি শুকিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলা, কারণ এটি শ্বাসরোধ বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এটি নিরাপদে প্রসারিত হতে এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে সাহায্য করার জন্য সর্বদা এক গ্লাস জল পান করুন। প্রতিদিন ১ চা চামচ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করাই সর্বোত্তম পন্থা।