‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ থেকে ৪টি শিক্ষা
[বই থেকে শেখা]
জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ বিখ্যাত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত এ বই পড়ে ৪টি শিক্ষা পাওয়া যায়। যা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা জীবনে সফল হতে পারে। বইটি পড়ে শিক্ষাগুলো লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
স্বপ্ন দেখো
স্বপ্ন মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন। স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স নেই। আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুর ৪৬ বছর বয়সী একজন রসুয়ে বামুনে তথা একজন রাঁধুনি। তিনি রানাঘাট স্টেশনের পাশে বেচু চক্কত্তির হোটেলে মাত্র ৭ টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেন। অর্থবিত্তহীন এই মধ্যবয়সী মানুষটার দুই চোখ ভরা স্বপ্ন। তার স্বপ্ন, একদিন তার নিজের হোটেল হবে। হোটেলের বাইরে লেখা থাকবে ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। ৬ বছর ধরে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ করেন। কিন্তু বেতন তার এক পয়সাও বাড়ে না। তবুও হাজারি ঠাকুর প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন তার নিজের হোটেল হবে। নানা রকম বাধাবিঘ্ন, সংকট, শত অপমান পেরিয়ে একদিন তার স্বপ্ন সত্যি হয়। ওই রানাঘাটের স্টেশনের পাশেই আদর্শ হিন্দু হোটেল নামে নিজের হোটেল হয়। তারপর রেল স্টেশনের মধ্যে উন্নত মানের আরেকটি হোটেল হয়। বোম্বে থেকে বড় একটি কোম্পানির লোক এসে হাজারি ঠাকুরকে তাদের হোটেলগুলোর রান্না দেখাশোনা করার জন্য দেড় শ টাকা মাইনেতে চাকরি দেয়; সঙ্গে একজন চাকর ও ফ্রি কোয়ার্টার এবং পরবর্তীকালে কোম্পানির অংশীদার করে দেওয়ার অফার দেয়। হাজারি ঠাকুরের জীবন বদলে যায়। ‘বোম্বাই! সে বোম্বাই যাইতেছে! দেড়শো টাকা মাহিনায়! বিশ্বাস হয় না। সব যেন স্বপ্নের মত ঘটিয়া গেল। টাকার জন্য নয়। টাকা এখানে সে মাসে দেড়শো টাকার বেশি ছাড়া কম রোজগার করে না। কিন্তু মানুষের জীবনে টাকাটাই কি সব? পাঁচটা দেশ দেখিয়া বেড়ানো, পাঁচজনের কাছে মান-খাতির পাওয়া, নূতনতর জীবনযাত্রার আস্বাদ—এসবই তো আসল।’
সৎ থাকো
সততা যে মানুষকে অনেক বড় করে তোলে, তার অন্যতম উদাহরণ আদর্শ হিন্দু হোটেলের হাজারি ঠাকুর। হাজারি ঠাকুর জীবনে অনেক অর্থকষ্টে থাকলেও তিনি কখনো অসৎ হননি। রানাঘাটের স্টেশনের পাশে বেচু চক্কত্তির হোটেলে কাজ করার সময় তার সহকর্মী পদ্ম ঝি হোটেল থেকে বিভিন্ন জিনিস চু*রি করত, খ*দ্দেরকে ঠকাত। সেসব দেখে রসুয়ে-বামুন হাজারি ঠাকুর স্বপ্ন দেখত, একটি হোটেল দেবে; ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’। যেখানে কোনো খদ্দেরকে ঠকানো হবে না। সেই হোটেলের খাবার হবে সতেজ-সুস্বাদু-পুষ্টিকর। তা ছাড়া হাজারি ঠাকুরের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বিধর্মা মেয়ে কুসুম, অতসি, নতুন পাড়ের গোয়ালা বাড়ির বউয়ের। কিন্তু তাদের সঙ্গে কখনো অনৈতিক সম্পর্ক করেননি। বরং তাদের নিজের মেয়ের মতো ভালোবেসেছে। তাদের কাছে হাজারি ঠাকুর এতটাই বিশ্বস্ত হয়েছিল যে তারা গোপনে হাজারি ঠাকুরকে টাকা দিয়েছিল, হোটেল দেওয়ার জন্য। সততার কারণে হাজারি ঠাকুর অবশেষে সফল হন। তার স্বপ্নের চেয়েও অনেক বেশি সফল হন।
বিনয়ী হও
বিনয়ী হতে জানা মস্ত বড় একটা আর্ট। হাজারি ঠাকুর যখন হোটেলের কর্মচারী ছিলেন, তখনো যেমন বিনয়ী ছিলেন, পরে হোটেলের মালিক হওয়ার পরও তিনি তেমনি বিনয়ী ছিলেন। সফলতা তার মধ্যে অহংকারের জন্ম দেয়নি। হোটেলের মালিক বেচু চক্কত্তি হাজারি ঠাকুরকে চু*রির অ*প*বাদ দিয়ে জেল খাটালেন, হোটেলের চাকরি থেকে বের করে দিলেন। পদ্ম ঝি সব সময় অপমান, খারাপ ব্যবহার করলেন, নিজে চু*রি করে হাজারি ঠাকুরকে অপবাদ দিয়ে জেল খাটালেন। এদের শত অপমান, বঞ্চনা সহ্য করার পরও হাজারি ঠাকুর যখন সফল হলেন, তখনো তাদের সঙ্গে আগের মতো বিনয়ী ব্যবহার করলেন। এমনকি বেচু চক্কত্তি ও পদ্ম ঝি দুজনেই হাজারি ঠাকুরের হোটেলে চাকরি নিল, সেদিনও হাজারি ঠাকুর আগের মতই বিনয় দেখিয়ে তাদের সঙ্গে ব্যবহার করল। ‘হাজারি বিনীতভাবে বলিল—বাবু একটা কথা বলতে এলাম। বাবু আপনি আমার অন্নদাতা ছিলেন একসময়েও, আজও আপনাকে তাই বলেই ভাবি। আপনার এখানে কাজ না শিখলে আজ আমি পেটের ভাত করে খেতে পারতাম না। আপনি ব্রাহ্মণ, আমার মনিব। আমাকে এভাবে বিপদে না ফেলে যদি বলেন—হাজারি তুই হোটেল উঠিয়ে দাও, তাই আমি দেবো। আপনি হুকুম করুন।’
কর্মঠ হও
হাজারি ঠাকুর ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ একজন ব্যক্তি। তার পারদর্শিতার জায়গা হলো রান্না। তিনি সেই রান্না করেই এক সময় সফল হন। তিনি যখন হোটেলের কর্মচারী ছিলেন, তখনো তিনি কাজে বিন্দুমাত্র ফাঁকি দিতেন না। অন্যরা ফাঁকি দিলেও তিনি আপন মনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজগুলো করে যেতেন। ফলে তার রান্নার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। অনেক দূরদূরান্ত থেকে তার রান্না খাওয়ার জন্য হোটেলে মানুষ আসত। যারা রান্না খেত সকলেই প্রশংসা করত। শুধু প্রশংসা করত না হোটেলের মালিক বেচু চক্কত্তি ও সহকর্মী পদ্ম ঝি। তার মাইনেও বাড়াত না। তবু তিনি আপন মনে কাজ করে যেতেন। আর এই কর্মঠ হওয়ার ফলেই একদিন তিনি তার স্বপ্নের চেয়েও বড় জায়গায় পৌঁছে যান। সততা, পরিশ্রম, বিনয়, স্বপ্ন যার মধ্যে আছে, সে যে একদিন তার স্বপ্নের সমান বড় হতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের হাজারি ঠাকুর। এটি একটি সামাজিক উপন্যাসের বই হলেও এটি যেন এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা,
সীমাবদ্ধতা স্বীকার করাও বুদ্ধিমত্তা | অ্যাডাম গ্র্যান্টের বই ‘থিংক এগেইন’
[বই থেকে শেখা]
জীবনে আমরা অনেকে এমন কিছু বিশ্বাস ধারণ করি , যা হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুল প্রমাণিত হয় । কিন্তু সেগুলো বদলানোর পরিবর্তে আমরা আরও বেশি নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমাদের চিন্তাই সঠিক । অ্যাডাম গ্র্যান্টের মতে , এটি ‘ জ্ঞানীয় অলসতা ’ — যেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের শেখার পথ রু*দ্ধ করে ফেলি । একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক যদি মনে করেন তাঁর পড়ানোর পদ্ধতিই সেরা , তাহলে তিনি নতুন কোনো কৌশল শিখতে চাইবেন না । এক গবেষণায় দেখা গেছে , দক্ষতা কম থাকা সত্ত্বেও মানুষ যখন নিজেকে খুব দক্ষ ভাবে , তখনই বিপত্তি ঘটে । এটি ডানিং - ক্রুগার ইফেক্ট নামে পরিচিত ।
উদাহরণস্বরূপ : একজন নতুন গাড়িচালক যদি মনে করেন তিনি খুব দক্ষ , তবে তিনি প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেবেন না ; যা দুর্ঘটনার ঝুঁ*কি বাড়ায় । অ্যাডাম গ্র্যান্টের বই ‘ থিংক এগেইন ’ আমাদের শেখায় , কেবল জানাই যথেষ্ট নয় ; বরং শিখতে শেখাই আসল দক্ষতা। আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে কাজ করে যে একবার কোনো তথ্য গ্রহণ করলে , আমরা সেটিকেই চূড়ান্ত ধরে নিই এবং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে ভ*য় পাই । এই মানসিকতা আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে পিছিয়ে দেয় । বিশ্বাস রাখুন , শিখতে থাকুন নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করাও একধরনের বুদ্ধিমত্তা । গ্র্যান্ট একে বলেন , ‘ কনফিডেন্ট হিউমিলিটি'- এটি এমন এক মানসিক অবস্থা , যেখানে আপনি আত্মবিশ্বাসী , কিন্তু নতুন শেখার জন্য উন্মুক্ত । চিন্তার একটি চমৎকার উপায় হলো , জীবনকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মতো দেখা । উদাহরণস্বরূপ : একটি কোম্পানি যদি নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনতে চায় , তবে তারা সরাসরি বড় বিনিয়োগের পরিবর্তে ছোট স্কেলে পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পারে । এটি তাদের ভুল সংশোধন এবং নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ দেয় ।
মতবিরোধ কি সব সময় খারাপ ? আমরা প্রায়ই মতবিরোধকে নেতিবাচক বলে ধরে নিই । কিন্তু গ্র্যান্ট বলেন , ‘ টাস্ক কনফ্লিক্ট ' বা কাজ সম্পর্কিত মতবিরোধ আসলে একটি ইতিবাচক দিক ; যা সৃজনশীল চিন্তার সুযোগ তৈরি করে দেয় । তবে যদি এটি ‘ ইমোশনাল কনফ্লিক্ট ' হয়ে যায় এবং সেখানে যদি ব্যক্তিগত আ*ক্র*মণ চলে , তখন তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে । স্টিভ জবস এবং তাঁর ডিজাইন টিমের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ হতো , কিন্তু সেটাই অ্যাপল পণ্যের নকশাকে অনন্য করে তুলেছিল । একইভাবে , কর্মজীবনে এমন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন , যারা আপনার চিন্তার সীমাবদ্ধতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে ।
বিতর্ক কি যু*দ্ধ , নাকি সহবত ? একটি ভালো বিতর্ক যু*দ্ধের মতো
নয় , বরং একটি নাচের মতো ; যেখানে দুই পক্ষ একসঙ্গে চিন্তার নতুন পথ তৈরি করে । ভালো বিতর্কের কয়েকটি কৌশল হলো সাধারণ ভিত্তি খুঁজে বের করা ; যেমন — উভয় পক্ষই যদি চায় উন্নতি হোক , তাহলে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আলোচনা করা সহজ হয় । কম যুক্তি ব্যবহার করা— গবেষণায় দেখা গেছে , বেশি যুক্তি দিলে উল্টো প্রতিপক্ষ প্রতিরোধমূলক আচরণ করে । বেশি প্রশ্ন করা— কোনো বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে প্রশ্নের মাধ্যমে অপরপক্ষকে চিন্তা করতে উৎসাহিত করা ।
শেখার সংস্কৃতি কীভাবে গড়ে তোলা যায় ? বাইনারি বায়াস এড়ান — অনেক সমস্যাকে আমরা হয় ‘ সঠিক ’ নয় ' ভুল ' এই দুইভাবে দেখি , কিন্তু বাস্তবতা অনেক জটিল । যেমন— রাজনীতির ক্ষেত্রে শুধু ডান - বামের বিভাজন করলে গভীরতর সমস্যাগুলো আড়ালে থেকে যায় । বৈজ্ঞানিক চিন্তা করুন — শুধু তথ্য গ্রহণ করলেই হবে না , বরং সেটি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ । উদাহরণস্বরূপ , শিশুদের মুখস্থ করানোর পরিবর্তে প্রশ্ন করতে শেখানো উচিত — ‘ এই তথ্যের সোর্স কী ? ’ বা ‘ এটি কোন গবেষণায় প্রমাণিত ? ' ।
লেখা: সাব্বির হোসেন
মনোযোগের শক্তিকে কাজে লাগানোর কৌশল হাইপারফোকাস
[বই থেকে শেখা]
আমরা প্রতিদিন অনেক কাজ করি । কিন্তু দিন শেষে সত্যিই কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারি ? আমরা কি আসলেই কাজে ডুবে যেতে পারি , নাকি সোশ্যাল মিডিয়া , ই - মেইল কিংবা ছোটখাটো ব্যস্ততায় আমাদের মনোযোগ হারিয়ে যায় ? ক্রিস বেইলি তাঁর বই ‘ হাইপারফোকাস ’ - এ দেখিয়েছেন , মনোযোগের শক্তি কীভাবে আমাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে । ‘ হাইপারফোকাস ' মানে হলো গভীর মনোযোগ ধরে রেখে নির্দিষ্ট কাজে লেগে থাকা । এটি এমন একটি দক্ষতা , যা সময় ব্যবস্থাপনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ । কারণ , সময় সবার জন্য সমান । কিন্তু মনোযোগ ব্যবহারের ক্ষমতা সবার এক নয় । ক্রিস বেইলির বই থেকে আজ জানব , কীভাবে হাইপারফোকাস আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং বিভ্রান্তি কমিয়ে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
মনোযোগের খেলা গবেষণায় দেখা গেছে , আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫৬৬ বার স্মার্টফোন আনলক করি । দৈনিক প্রায় ৮৮ বার ই - মেইল চেক করি । প্রতিবার মনোযোগ বিভ্রান্ত হলে , আগের কাজের ফোকাস ফিরে পেতে প্রায় ২৩ মিনিট সময় লাগে । এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে যায় । বেইলি বলেন , ‘ উৎপাদনশীলতা মানে দিনে বেশি কাজ করা নয় , বরং প্রতিটি মুহূর্তে সঠিক কাজ বেছে নেওয়া ।
তাই হাইপারফোকাসের মূলমন্ত্র হলো , অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে , গুরুত্বপূর্ণ কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া ।
হাইপারফোকাস হাইপারফোকাস করার জন্য বেইলি চারটি ধাপের পরামর্শ দিয়েছেন ।
• লক্ষ্য বাছাই করুন : এমন একটি কাজ বেছে নিন , যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ । যেমন : পরীক্ষার আগে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া বা প্রজেক্ট ডেডলাইনের আগে রিপোর্ট লেখা ।
বিভ্রান্তি দূর করুন : ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ করুন , টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন । কাজের জায়গা গোছানো থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় ।
• মনোযোগ ধরে রাখুন : কাজের মাঝে বারবার বিরতি নিলে মনোযোগ নষ্ট হয় । এক্ষেত্রে পমোডোরো টেকনিক অনুসরণ করুন । ২৫ মিনিট কাজ করে ৫ মিনিট বিরতি নিন ।
• মন ফিরিয়ে আনুন : কাজ করতে করতে মন অন্য দিকে চলে গেলে আতঙ্কিত হবেন না । ধৈর্য ধরে আবার মূল লক্ষ্যে ফিরে আসুন । একটি কার্যকর কৌশল হলো , প্রতিদিন অন্তত ৯০ মিনিটের জন্য ‘ ডিপ ওয়ার্ক ব্লক ' নির্ধারণ করা , যেখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া হবে ।
স্ক্যাটারফোকাস
হাইপারফোকাস মানে শুধু গভীর
মনোযোগ নয় , মাঝে মাঝে মনকে ঘুরতে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ । একে বলে ‘ স্ক্যাটারফোকাস ' , যা নতুন আইডিয়া তৈরি করতে সাহায্য করে ।
• ক্যাপচার মোড : মনে যা আসে , তা সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেলুন । উদাহরণ : একজন লেখক নতুন গল্পের আইডিয়া পেয়ে সেটি নোট করে রাখেন ।
.
সমস্যা সমাধান মোড : যখন কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজছেন , তখন একটু হাঁটতে বের হন বা নতুন পরিবেশে যান । আইনষ্টাইন তার থিওরির সমাধান পেয়েছিলেন ভেলায় চড়তে চড়তে ।
• অভ্যাসগত মোড : বাগান করা , রান্না করা বা গিটার বাজানোর মতো অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করে এবং নতুন আইডিয়া আনতে সাহায্য করে ।
মনোযোগ রিচার্জ
হাইপারফোকাস ধরে রাখতে হলে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি । এক্ষেত্রে বেইলি কিছু সহজ উপায়ের কথা বলেছেন :
শখের কাজ করুন : ছবি আঁকা , সংগীতচর্চা বা বাগান করা আমাদের মনোযোগকে রিচার্জ করতে সাহায্য করে।
ঘুমে গুরুত্ব দিন : প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে মনোযোগ দুর্বল হয়ে যায় ।
পরিবেশ বদলান : একই জায়গায় বসে কাজ করলে একঘেয়েমি আসে । মাঝে মাঝে নতুন জায়গায় কাজ করুন বা ছোট্ট একটা সফরে যান ।
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি , যেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার অসংখ্য ফাঁদ রয়েছে । কিন্তু যারা হাইপারফোকাসের শক্তি রপ্ত করতে পারে , তারাই সফল হয় । ক্রিস বেইলি বলেন , ‘ আপনি যা দেখেন , তা - ই আপনার বাস্তবতা । তাই দেখার জগৎকে সচেতনভাবে বেছে নিন । ”
লেখা: সাব্বির হোসেন।
দ্য সাইকোলজি অব মানির ৬ শিক্ষা
বিশিষ্ট লেখক মর্গ্যান হাউসেলের লেখা ‘দ্য সাইকোলজি অব মানি’ বইটি বিশ্বের ৫০টির বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। টাকা মানুষের জীবন ও জগৎকে কীভাবে পাল্টে দিতে পারে, এ বইয়ে লেখক সে বিষয়ে নানা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন। বইটি পড়ে শিক্ষাগুলো লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
ভাগ্য বনাম ঝুঁ*কি
ভাগ্য এবং ঝুঁ*কি হলো পরস্পর ভাই-বোনের মতো। বলা হয়ে থাকে, ভাগ্য হলো আজব কারিগর। কাজের সঙ্গে ভাগ্যেও বিশ্বাস করতে হবে। আর্থিক উন্নতির জন্য দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি। এ জন্য ঝুঁ*কি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এর সঙ্গে ভাগ্য যে বড় ভূমিকা রাখে, সে ব্যাপারে বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের সব কাজের ফল আসবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সফল হলে আমরা আমাদের দক্ষতাকে কৃতিত্ব দিই এবং ব্যর্থ হলে দু*র্ভাগ্যকে দায়ী করি। বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিগতভাবে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের তুলনায় বেশি ভাগ্যবান।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
অনেক মানুষের স্বপ্নের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আরও সম্পদ না থাকায় হা-হুতাশ করে। আমরা যদি পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আরও চাই, আরও চাই করতে থাকি; তাহলে আমাদের কখনো যথেষ্ট সম্পদ হবে না। বেশি পাওয়া আমাদের সন্তুষ্ট করবে না, বরং বেশি পাওয়ার লোভ সবকিছু হারানোর ফাঁ*দে ফেলে দিতে পারে। আপনার যা আছে বা যা আপনার নেই, তার জন্য নিরর্থক ঝুঁ*কি নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
কোনো কিছুই বিনা মূল্যে নয়
পৃথিবীর সবকিছুর মূল্য আছে। তবে সবকিছুর মূল্য গায়ে লেখা থাকে না। মূল্য একটা আর্থিক সংখ্যা হলেও সেটির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন না করার আগপর্যন্ত আমরা তার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারি না। পৃথিবীর কোনো কিছু বিনা মূল্যের নয়। এই বাস্তব সত্য মনে থাকলে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে। কথায় আছে—লোভে পাপ, পাপে মৃ*ত্যু। লোভ আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অত্যধিক ঝুঁ*কির দিকে পরিচালিত করতে পারে। তাই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বস্তুর চেয়ে নিজেকে দামি করুন
শুনলে অবাক হবেন, আপনাকে আসলে কেউ কেয়ার করে না। আপনার একটা দামি ও সুন্দর গাড়ি থাকলে সবাই আপনার গাড়ির দিকে তাকাবে, গাড়ির প্রশংসা করবে; কিন্তু কেউ মনে করবে না আপনি গাড়ির মতো দামি ও সুন্দর। এটা বস্তুগত সব জিনিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই কাউকে দেখানোর জন্য, মানুষকে ইমপ্রেস করার জন্য বস্তুগত জিনিস দামি করার চেয়ে নিজেকে দামি হিসেবে তৈরি করা বেশি জরুরি।
টাকা কাজে লাগান
টাকা শুধু সঞ্চয় করলেই আর্থিকভাবে সফল হওয়া যাবে না, বরং বিনিয়োগ করে টাকা বাড়াতে হবে। যত তাড়াতাড়ি এবং অল্প বয়সে বিনিয়োগ করতে পারবেন, ততই আপনি সম্পদশালী হবেন। টাকা সঞ্চয় করে ফেলে রাখলে সম্পদশালী হতে পারবেন না, বরং মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মান কমে যাবে। তাই পরিকল্পনা অনুযায়ী এমন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে টাকা বৃদ্ধি পায়।
স্বাধীন হোন
আপনার সময় নিয়ন্ত্রণ করাই হলো সর্বোচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী অর্থ। সম্পদের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো জেগে ওঠা এবং বলার ক্ষমতা যে ‘আমি আজ যা চাই তা-ই করতে পারি’। মানুষ সুখ বাড়ানোর জন্য ধনী হতে চায়। সুখ একটি জ*টিল বিষয়। কারণ, আমরা সবাই আলাদা। তাই সুখের জন্য সর্বজনীন অবদান হলো সময় নিয়ন্ত্রণ। স্বাধীনভাবে পছন্দের কাজটি করতে পারাই হলো সফলতা।
তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা
SMART গোল
পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতিতে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত জরুরি । বলা হয় , একটি সুচিন্তিত পরিকল্পনাই কাজের অর্ধেক । আজ আমরা জানব , কীভাবে এসএসসি পরীক্ষার জন্য একটি SMART পরিকল্পনা করা যায় । কেবল পরীক্ষার জন্যই নয় , যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে SMART গোল সেট করলে সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটিই অনেক ফলপ্রসূ হয়।
SMART- এর পূর্ণরূপ হচ্ছে:
S = Specific ( সুনির্দিষ্ট ) ,
M = Measurable ( পরিমাপযোগ্য ) ,
A = Actionable ( কার্যকরী ) ,
R = Realistic ( বাস্তবধর্মী ) ,
T = Timely ( নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ) ।
চলো আজকে আমরা ধাপে ধাপে একটি SMART গোল সেট করে নিই :
১। Specific ( সুনির্দিষ্ট ) একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে । যেমন— অস্পষ্ট লক্ষ্য : আমার গণিতের প্রস্তুতি নিতে হবে । সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য : আমি গণিতের ১৪ টি অধ্যায়ের মধ্যে প্রতিদিন একটি অধ্যায়ের সমস্যা সমাধান করব এবং সূত্রগুলো রিভিশন করব । ২। Measurable ( পরিমাপযোগ্য ) সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যটি এমনভাবে সেট করতে হবে , যাতে করে তুমি বুঝতে পার ঠিক কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে । উদাহরণস্বরূপ— অপরিমাপযোগ্য লক্ষ্য : আমি গণিতের মডেল টেস্ট দেব । পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য : আমি প্রতিদিন ১ টি অধ্যায় শেষ করার পাশাপাশি , প্রতি সপ্তাহে ১ টি মডেল টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি ট্র্যাক করতে পারব । ৩। Actionable ( কার্যকরী ) একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে কী কী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে সেটা ঠিক করা আবশ্যক।
উদাহরণস্বরূপ— অকার্যকরী লক্ষ্য : আমার গণিতের সিলেবাস শেষ করা আছে , একবার দেখে নিলেই হবে । কার্যকর লক্ষ্য : আমি প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত গণিতের ১ টি অধ্যায় পড়ব , ১০ টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করব । সূত্ৰসমূহ মডেল টেস্ট দেব । নোট করব এবং সপ্তাহ শেষে
৪। Realistic ( বাস্তবধর্মী ) লক্ষ্য ঠিক করার সময় সুনির্দিষ্ট ,
পরিমাপযোগ্য , কার্যকরী হওয়ার পাশাপাশি আরেকটা ব্যাপারে খেয়াল রাখা জরুরি । লক্ষ্যটি যেন বাস্তবধর্মী হয়। যেমন— অবাস্তব লক্ষ্য : আমি আজকেই গণিতের ৫ টি অধ্যায় শেষ করব । বাস্তবধর্মী লক্ষ্য : আমার পড়ার রুটিন , মোট অধ্যায় সংখ্যার সঙ্গে প্রতিদিনে গণিতের জন্য বরাদ্দ সময় বিবেচনা করে দেখছি , এই লক্ষ্যটি পূরণ করা সম্ভব । ৫। Timely ( নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ) আমরা SMART গোল সেট করার শেষদিকে চলে এসেছি । SMART গোলের জন্য সর্বশেষ যেটি প্রয়োজন , সেটি হচ্ছে একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা ।
উদাহরণস্বরূপ— সময়সীমা ছাড়া লক্ষ্য : পরীক্ষার আগে আমার গণিতের প্রস্তুতি নেওয়া শেষ হয়ে যাবে । নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য : আমার গণিতের সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য ২ সপ্তাহের পরিকল্পনা করেছি । অভিনন্দন ! আমরা ধাপে ধাপে SMART গোল সেট করা শিখে ফেলেছি । এবার এক লাইনের একটি SMART গোল কীভাবে সেট করা যেতে পারে , চলো সেটা দেখে নিই ।
SMART গোল
‘ আমি আগামী ২ সপ্তাহে গণিতের মোট ১৪ টি অধ্যায়ের প্রতিদিন সকাল ৯-১১টা পর্যন্ত ১ টি করে অধ্যায় পড়ব , ১০ টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করব , সূত্রগুলো লিখব এবং সপ্তাহ শেষে মডেল টেস্ট দেওয়ার মাধ্যমে এসএসসি গণিতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করব । ' পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আর SMART গোল নির্ধারণ করার মাধ্যমে পরীক্ষার পূর্বের সময়টাতে পড়াশোনা আরও গোছানো হয় ।
লেখা: আলভী আহমেদ
সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতার সন্ধান
||বই থেকে শিক্ষা||
বিশ্বজুড়ে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে নাভাল রবিকান্ত একটি সুপরিচিত নাম। তিনি শুধু সফল বিনিয়োগকারী নন, একজন দার্শনিকও; যিনি সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করেছেন। তাঁর বই ‘দ্য অ্যালমানাক অব নাভাল রবিকান্ত’ জীবনদর্শনের এক অনন্য সংকলন। বইটি নিয়ে আলোচনা করেছেন সাব্বির হোসেন।
সম্পদ শুধু অর্থ নয়, স্বাধীনতার প্রতীক
নাভাল রবিকান্তের মতে, সম্পদ শুধু টাকা বা সামাজিক মর্যাদা নয়। সত্যিকারের সম্পদ এমন কিছু, যা ঘুমানোর সময়ও উপার্জিত হতে থাকে। এটি মানুষকে আর্থিক ও মানসিক স্বাধীনতা দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন, টাকা বানানো একটি দক্ষতা, যা শেখা যায়। শুধু কঠোর পরিশ্রম নয়, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা উচিত। তিনি পরামর্শ দেন, নিজের সময়ের পরিবর্তে মানসিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করা সঠিক পথ।
ধনী হওয়ার মূলনীতি
নাভাল রবিকান্ত ধনী হওয়ার জন্য কয়েকটি মূলনীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। প্রথমত, নির্দিষ্ট জ্ঞান অর্জন করুন, যা প্রথাগত শিক্ষা নয়, বরং আপনার কৌতূহল ও প্রতিভার ফল। দ্বিতীয়ত, লিভারেজ ব্যবহার করুন—প্রযুক্তি, পুঁজি ও মিডিয়ার শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় সাফল্য অর্জন করুন। তৃতীয়ত, সঠিক সিদ্ধান্ত নিন ও বিচক্ষণতা গড়ে তুলুন। চতুর্থত, ধৈর্য ধরুন—দ্রুত সফলতা নয়, সঠিক পথে দীর্ঘ সময় কাজ করুন। পঞ্চমত, সঠিক খেলা খেলুন, অর্থাৎ এমন কাজে মনোনিবেশ করুন, যেখানে সবাই জিততে পারে।
সুখ অভাবের অনুপস্থিতি
নাভাল রবিকান্তের জন্য সুখ মানে কিছু অর্জন করা নয়, বরং অভাবের অনুপস্থিতিতে স্বস্তি বোধ করা। তিনি সুখের জন্য ভালো অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেন, যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধ্যান ও সূর্যালোকের সংস্পর্শ। এগুলো মনের প্রশান্তি আনে। এ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশা থেকে মুক্ত থাকার কথা বলেন। সমাজের চাপ, বাহ্যিক প্রতিযোগিতা ও অযথা বাধ্যবাধকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সুখী জীবনের চাবিকাঠি।
সত্যিকারের স্বাধীনতা
নাভাল রবিকান্তের মতে, সত্যিকারের স্বাধীনতা হলো, আপনি যা চান না, তা না করা। এটি জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। তিনি ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করার পরামর্শ দেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি বর্তমানকে উপভোগ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা জরুরি, কিন্তু বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নাভাল রবিকান্তের মূল বার্তা
নাভাল রবিকান্তের জীবনদর্শন আমাদের শেখায় যে সম্পদ, সুখ ও স্বাধীনতা শুধু বাহ্যিক সাফল্য নয়, বরং অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির ফল। তিনি বলেন, ‘আপনি একদিন মা*রা যাবেন, তাই এ মুহূর্তকে উপভোগ করুন, ইতিবাচক কিছু করুন, মানুষকে ভালোবাসুন, হাসুন ও নিজের কাজটি করুন।’ তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে আমরা শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও জীবনবোধের দিক থেকে সমৃদ্ধ হতে পারি।
তথ্যসূত্রঃ আজকের পত্রিকা,
বই পড়তে বসলেই ঘুম আসে
বই পড়তে বসলে ঘুম চলে আসা একটি সাধারণ সমস্যা। এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকে। মনে হয়, বই যেন ঘুমের ওষুধ। তবে কিছু কৌশল আছে, যা আপনাকে বই পড়ার জন্য উৎসাহিত এবং ঘুম দূরে রাখতে সাহায্য করবে। বই পড়তে বসলে ঘুম দূর করার উপায় নিয়ে লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রথমে দেখে নিতে হবে, আপনার ঘুমের অভ্যাস ঠিক আছে কি না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে বই পড়ার সময় চোখের পাতায় ঢুলুনি আসে। তাই প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। সকালের সূর্যের আলোয় দিন শুরু করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে মন প্রাণবন্ত থাকবে, আর বই পড়ার সময় ক্লান্তিবোধ কম হবে।
পড়ার পরিবেশ সুন্দর করুন
একটি ভালো পরিবেশ ঘুমের অনুভূতি দূর করতে সাহায্য করে। অন্ধকার বা শীতল জায়গায় বই পড়লে ঘুমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এমন জায়গায় বই পড়ুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো থাকে এবং ঠান্ডা পরিবেশ না থাকে। আপনি যদি খাটে বা সোফায় বসে পড়েন, তবে সেখানেও ঘুম আসতে পারে। কাজেই সোজা চেয়ারে বা ডেস্কে বসে পড়ার চেষ্টা করুন।
বইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করুন
বইয়ের বিষয়বস্তু যদি খুব একঘেয়ে বা কঠিন হয়, তবে মনোযোগ হারিয়ে ঘুম চলে আসতে পারে। এ জন্য বইটি নির্বাচন করার সময় নিশ্চিত করুন, যে বিষয়বস্তু আপনার আগ্রহের। ঘুম এলে যে বিষয়ে আপনার কাছে সবচেয়ে আনন্দদায়ক লাগে, সেই বিষয়টি পড়ুন। ঘুম এলে একাডেমিক বইয়ের বাইরে গল্প বা রোমাঞ্চকর বই পড়লে মনোযোগ বজায় রাখতে সহজ হবে।
বিরতি নিয়ে পড়ুন
একটানা দীর্ঘ সময় পড়লে চোখ ও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়, ফলে ঘুমের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই ৩০-৪৫ মিনিট পড়ার পর ৫-১০ মিনিটের বিরতি নিন। এই সময় একটু হাঁটাহাঁটি করুন, চোখে পানির ঝাপটা দিন বা হালকা স্ট্রেচিং করুন। এতে শরীর সতেজ থাকবে এবং মনোযোগ ফিরে আসবে।
অ্যাকটিভ রিডিংয়ের কৌশল
শুধু চোখ বুলিয়ে পড়ার চেয়ে ‘অ্যাকটিভ রিডিং’ বেশি কার্যকর। পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশ নোট করুন, বইয়ের বিষয়বস্তু নিজের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করুন। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে সেটি নিয়ে ভাবুন, নিজেকে প্রশ্ন করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করুন। এতে একদিকে পাঠের গভীরতা বাড়বে, অন্যদিকে ঘুমের প্রবণতাও কমে যাবে।
চা বা কফির সাহায্য নিন
অনেকে চা বা কফি পান করলে সতেজ অনুভব করেন। বই পড়ার আগে বা মাঝেমধ্যে এক কাপ চা বা কফি পান করলে ঘুম কেটে যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন, অতিরিক্ত ক্যা*ফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে, তাই পরিমিত পান করুন।
শরীর সুস্থ রাখুন
শরীর দুর্বল হলে বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে সহজে ঘুম পেয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। সুস্থ শরীর মানেই সজীব মন, যা আপনাকে পড়ার সময় মনোযোগী রাখবে।
নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন
বই পড়ার উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকলে আগ্রহ বাড়ে। নিজেকে প্রশ্ন করুন—কেন আপনি বইটি পড়ছেন? যদি চাকরির প্রস্তুতির জন্য পড়েন, তবে নিজেকে কল্পনা করুন, কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাওয়ার পর কেমন লাগবে। ভালো রেজাল্টের জন্য পড়লে সফলতার অনুভূতি কেমন হবে, সেটি ভাবুন। এ ধরনের অনুপ্রেরণা আপনাকে বই পড়ায় আরও উৎসাহী করবে।
বই পড়া একটি আনন্দদায়ক অভ্যাস, কিন্তু এর জন্য দরকার সঠিক পরিবেশ, মনোযোগ এবং সামান্য কিছু কৌশল। তাই পরেরবার যখন বই পড়তে বসবেন, এই কৌশলগুলো অনুসরণ করুন। দেখবেন, ঘুম আপনাকে আর বাধা দিতে পারছে না, বরং বইয়ের জগতে হারিয়ে যাওয়ার আনন্দই আপনাকে মাতিয়ে তুলছে।
ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশল
সফলতা লাভের জন্য ক্রমাগত পরিশ্রমের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই অনেক আয়োজন করে শুরু করেন কিন্তু ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। ফলে সাফল্য রয়ে যায় অধরা। জীবনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশল জানিয়েছেন এজাজ পারভেজ
শুরু হোক ছোট পদক্ষেপে
ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে শুরু করতে ছোট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে। আমাদের শরীর ও মন বড় পরিবর্তন হঠাৎ করে গ্রহণ করতে পারে না। সে জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, সেটি যেন প্রতিদিনের চর্চার মধ্যে থাকে। যখন এই ছোট পদক্ষেপটি অভ্যাসে পরিণত হবে তখন আরেকটি ছোট পদক্ষেপ নিন।
আস্থা রাখুন কর্মপ্রক্রিয়ায়
প্রতিটি জিনিসের একটি নিয়ম বা প্রক্রিয়া আছে। যেমন কর্ম তেমন ফল। আপনি বরই গাছ লাগিয়ে আপেল পাবেন না। আবার আপেল গাছে লাগিয়ে পরিচর্যা করলে গাছে আপেলই ধরবে, অন্য কিছু নয়। সে জন্য সফলতা লাভের জন্য তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে অনুসরণ করতে শুরু করুন। অধৈর্য হবে না। কর্মপ্রক্রিয়ায় আস্থা রাখুন। যদি ধৈর্য ধরে না রাখতে পারেন হতাশ হয়ে অনুশীলন বাদ দিলেন। কিন্তু ছিলেন হয়তো সফলতার দ্বারপ্রান্তে।
ছোট ছোট সাফল্যকে আমলে নিন
দৃশ্যমান সাফল্য না থাকলে কাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন। কোনো কাজে নিযুক্ত হলে সাফল্য আসেই। কিন্তু আমরা সেটি গ্রাহ্য করি না কারণ লক্ষ্যের দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে। ছোট ছোট সাফল্য রয়ে যায় ধর্তব্যের বাইরে। কিন্তু ছোট ছোট সাফল্যকে আমলে নিলে আপনি উপলব্ধি করবেন আপনার পরিশ্রম বিফলে যাচ্ছে না। তখন কাজে ধারাবাহিক থাকার অনুপ্রেরণা পাবেন।
আবেগিক স্থিতিশীলতা জরুরি
ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আবেগিক স্থিতিশীলতা জরুরি। যা-ই হোক না কেন দিনের নির্দিষ্ট কাজের মাঝে নিজের আবেগকে আসতে দেবেন না। আবেগ যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, আপনি আপনার আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করুন।
কাজকে ছোট ছোট ভাগ করে নিন
যেকোনো কাজকে কয়েকটি ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করলে হতোদ্যম হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ফলে ধারাবাহিকতা রক্ষা পায়।
নিজেকে কোনো ছাড় নয়
অনুশীলনের ক্ষেত্রে মনে কখনোই আজও নয়, কাল এমন মনোভাব আসতে দেবেন না। রুটিন অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিজেকে কোনো ছাড় দেবেন না। রুটিন ধারাবাহিক থাকতে পারলে আজ হোক বা কাল, সাফল্য আপনি পাবেনই।
সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রতা করবেন না
চলার পথে নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘসূত্রতার ফাঁদে পড়বেন না। আজ না কাল করতে থাকলে অনুশীলনে ব্যত্যয় ঘটবে। ধারাবাহিকতা লঙ্ঘিত হবে। চটজলদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন। যদি সিদ্ধান্ত ভুল হয় ও কাজে নেমে তা বুঝতে পারেন তাহলে সেটা বদলে আরেকটি সিদ্ধান্ত নিন। এভাবে চেষ্টা ও পুনঃচেষ্টার মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়া খুঁজে পাবেন। পথে নামলেই পথের সঠিক হদিস পাবেন।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করুন
নিজের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে নিজেকেই। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে পারছেন কি না, দৈনন্দিন রুটিন শতভাগ মেনে চলতে পারছেন কি না নিজেকে প্রশ্ন করুন। কেন
পারছেন না নিজেকে জিজ্ঞেস করুন। আত্মসমালোচনা করুন। সংকটের সমাধান বের করুন, কাজে লাগান।
নিজের সাফল্য উদযাপন করুন
নিজের প্রতি শুধু কঠোর হলেই হবে না, সাফল্য লাভ করলে লক্ষ্য অর্জিত হলে নিজেকে পুরস্কৃতও করতে হবে। তাহলে মন প্রশিক্ষিত হবে। কঠোর অনুশীলনের একঘেঁয়ে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আপত্তি করবে না।
সমমনাদের সঙ্গে থাকুন
একা স্রোতের বিরুদ্ধে লড়া যায় না। সবাই যখন ভোরে অকাতরে ঘুমাচ্ছে তখন একা একা প্রাতঃভ্রমণে যাওয়া কঠিনই বটে। কিন্তু যদি এমন একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হন যারা প্রতিদিন সকালে প্রাতঃভ্রমণে যায় তাহলে কষ্টটা আর কষ্ট মনে হবে না। অভিন্ন লক্ষ্য আছে এমন মানুষের সঙ্গে পথচলার চেষ্টা করুন।
তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
পরিবর্তনের জন্য নিজের প্রতি পাঁচ চ্যালেঞ্জ
নিজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিতে হয় পদক্ষেপ, বের হতে হয় দীর্ঘদিনের স্বস্তিকর অভ্যাস থেকে। নিজেকে জানাতে হয় চ্যালেঞ্জ। নিজের পরিবর্তনের জন্য উপকারী এমন পাঁচটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে লিখেছেন লিজা চৌধুরী
অভিযোগবিহীন একুশ দিন
অভিযোগপ্রবণ মানুষ নিজের সব ব্যর্থতার জন্য অন্যের দোষ খুঁজে পায়। অথচ একটু ইতিবাচক হলে সে দেখতে পেত সমস্যা সমাধানের জন্য নিজের চারপাশেই ছিল নানা উপায়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অঙ্কুরোদগমের জন্য তাই চাই অভিযোগ করার অভ্যাস থেকে বের হয়ে আসা। গবেষকরা বলেন, কোনো অভ্যাস অবচেতনে প্রোথিত হতে সেই কাজটি সচেতনভাবে একুশ দিন চর্চা করতে হয়। তাই অভিযোগ না করার অভ্যাস করতে টানা একুশ দিন কারও প্রতি কোনো অভিযোগ, অনুযোগ না করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। [fb.com/janaojanaa360]
এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবন
মিনিমালিস্ট লাইফ স্টাইলকে আমরা বলতে পারি বাহুল্যবর্জিত জীবন। যে জিনিসটি না হলেই নয়, শুধু সেটি ক্রয় ও ব্যবহারের জীবনকে বলা যায় এই বাহুল্যবর্জিত জীবন। আমাদের জীবনের অধিকাংশ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণ হলো পণ্য দাসত্ব। পর্যাপ্ত পোশাক থাকার পরও পোশাকের নেশা, বাসস্থান থাকার পরও আরেকটি বাসস্থান লাভের আকাঙ্ক্ষা
প্রভৃতি আমাদের জীবনকে একটি প্রতিযোগিতায় ফেলে দেয়। এই প্রতিযোগিতা আমাদের মনকে বিপর্যস্ত করে, শরীরে বাঁধে অসুখ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের বিকল্প নেই। প্রাথমিকভাবে এক মাসের বাহুল্যবর্জিত জীবনযাপনের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। এই এক মাস সেই জিনিসটি কিনবেন, যা ছাড়া আপনার জীবন অচল হয়ে পড়বে।
আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তী জীবন
নিয়মকে অনেকে বন্দিত্ব মনে করলেও নিয়মানুবর্তিতা আমাদের দেয় স্বাধীনতা। কেউ যদি নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করেন তাহলে তিনি উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাস্থ্যের স্বাধীনতা। কিন্তু তিনি যদি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করেন তাহলে বন্দি হয়ে পড়বেন অসুস্থতার পরাধীনতা। নিয়মানুবর্তী জীবনের সুফল পরখ করে দেখতে চাইলে নিতে পারেন আড়াই মাসের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার চ্যালেঞ্জ। এই আড়াই মাস আপনাকে প্রতিদিন চার লিটার পানি পান করতে হবে, দিনে দুবার পৌনে এক ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করতে হবে, সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে, প্রতিদিন অন্তত পড়তে হবে দশ পাতা, ঘুমের আগে লিখতে হবে জার্নাল। আড়াই মাস এই রুটিন মেনে চললে নিজের পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন আপনি নিজেই।
সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট (Tech Fast)
সপ্তাহের এক দিন প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে দূরে থাকার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। একে বলতে পারেন সাপ্তাহিক টেক ফাস্ট। এই দিনটি প্রযুক্তি থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে পারেন। এর ফলে অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ার ফলে যে শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক শূন্যতা তৈরি হয় তা কিছু পরিমাণে হলেও হ্রাস পায়। দেহ ও মন সুযোগ পায় এই শূন্যতা পূরণে।
বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ
আমরা অনেকেই সঞ্চয়ের প্রতি মনোযোগী হই না। ফলে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে থাকে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিতে পারেন বায়ান্ন সপ্তাহের সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ অনুসারে নিজের সামর্থ্য অনুসারে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ সঞ্চয় করতে হবে। যদি আপনি প্রতি সপ্তাহে পাঁচশ টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে ২৬ হাজার টাকা, আর যদি প্রতি সপ্তাহে এক হাজার টাকা সঞ্চয়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তাহলে বছর শেষে সঞ্চয় হবে বায়ান্ন হাজার। এর বেশিও সঞ্চয় করতে পারেন নিজের সামর্থ্য অনুসারে।
তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
একা ভ্রমণে ১০ ভুল এড়িয়ে চলুন
একাকী ভ্রমণ মানে স্বাধীনতা। যেখানে যেতে চান কিংবা যা করতে চান, তা আপনার হাতে। তবে একা ঘুরতে গেলে কিছু বিষয়ে সাবধানতা জরুরি। কিছু সাধারণ ভুল যদি এড়িয়ে চলতে পারেন, তাহলে একক ভ্রমণ হবে আরও স্মৃতিময় ও আনন্দদায়ক।
অতিরিক্ত ব্যাগ নেওয়া
যেহেতু একা ভ্রমণ করছেন, সবকিছু বহন করতে হবে নিজেকেই। তাই ব্যাগের সংখ্যা যতটা সম্ভব কম রাখুন। স্বচ্ছন্দে বহন করতে পারেন, এমন ব্যাগ সঙ্গে নেওয়া উচিত।
হাতে সময় না রাখা
কোথাও গিয়ে সবকিছু এক দিনে দেখার চাপ নেবেন না। প্রয়োজনে নতুন গন্তব্যের জন্য নতুন দিন ঠিক করুন। যানজট, স্বাস্থ্যগত কিংবা প্রাকৃতিক কারণে ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই হাতে সময় রেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।
বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া ভ্রমণ
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু না-ও ঘটতে পারে। হোটেলের রুম বুকিং বাতিল হতে পারে অথবা আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে ভিড় হতে পারে। তাই বিকল্প পরিকল্পনা থাকা ভালো। মূল গন্তব্যের কাছাকাছি অন্য হোটেল বা দর্শনীয় স্থান দেখা পরিকল্পনায় যোগ করুন।
খরচের হিসাব কম করা
ভ্রমণের জন্য বাজেট তৈরি জরুরি। কোথায় কত টাকা খরচ হবে, সেটি আগে থেকেই পরিকল্পনায় থাকলে বাজেটের মধ্যে ভ্রমণ সহজ হয়। বাজেটের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা রাখুন। যেকোনো সময় সেটি কাজে দেবে।
নিজের জন্য বিলাসিতা না করা
ভ্রমণে গিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার সঙ্গে নিজের সময় বিশেষভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করুন। সামর্থ্য অনুযায়ী একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে এক রাত কাটান অথবা প্রিয় রেস্তোরাঁয় খেতে যান। এটি আপনাকে মানসিকভাবে চাঙা রাখবে।
একাকিত্ব ভ*য় পাওয়া
বেশির ভাগ সময় একা থাকতে অভ্যস্ত নয় বলে অনেকে ভ্রমণের সময় একাকিত্বে অস্বস্তি বোধ করেন। কিন্তু একা সময় কাটানো অনেক কিছু শেখায়। তাই একাকিত্বে ভয় না পেয়ে সেটি উপভোগ করতে শিখুন। তাতে ভ্রমণ আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
নতুন বন্ধু বানাতে ভ*য় পাওয়া
একা ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন মানুষের সঙ্গে বুঝে বন্ধুত্ব করা উচিত। তাই বলে কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন না, এমন নয়। চাইলে বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এতে সময়টা ভালো কাটবে।
পরিবার বা বন্ধুদের গন্তব্য সম্পর্কে না জানানো
একা ভ্রমণে যাচ্ছেন বলে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। কোথায় যাচ্ছেন বা কী করছেন, তা পরিবার বা বন্ধুদের কাউকে জানিয়ে রাখুন। প্রয়োজনে তাঁদের কাছে ভ্রমণের পরিকল্পনা পাঠিয়ে দিন। ভ্রমণের সময় মাঝেমধ্যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।
জীবনের সুযোগগুলো মিস করা
বিজ্ঞাপন দেখে ভ্রমণে যাওয়া ঠিক হবে না। বেশির ভাগ সময় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় যুগল বা গ্রুপের জন্য। কিন্তু একা হানিমুন প্লেসে ঘুরতে যাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই কমপক্ষে একবার মন যা চায়, একা সেগুলো করুন।
নিজের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস না রাখা
যাত্রাপথে যদি অস্বাভাবিক বা স*ন্দেহজনক কিছু মনে হয়, তাহলে সেসব এড়িয়ে চলা ভালো। কোথায় ঘুরতে যাবেন, তা নিয়ে দ্বি*ধা থাকলে মনের ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিন। এ ছাড়া নিজের অনুভূতির ওপরও বিশ্বাস রাখুন।
সূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড লেজার
যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন করবেন যেভাবে
ক্যারিয়ারে সফলতা লাভের জন্য পেশাগত দক্ষতাই এখন যথেষ্ট নয়। নিয়োগদাতারা পদোন্নতির জন্য সফট স্কিলের দক্ষতাকেও বিবেচনা করছেন আগের চেয়ে বেশি। তাই ক্যারিয়ারে সফলতা অর্জনের জন্য ছাত্রজীবনেই বিভিন্ন সফট স্কিলে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সফট স্কিল যোগাযোগে দক্ষতা অর্জনের উপায় জানিয়েছেন শাবাব সোলায়মান
মনোযোগী শ্রোতা হন
কথার মাধ্যমে একজন মানুষ অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবচেয়ে বেশি। তাই কেউ যখন কথা বলবে তার কথাটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অনেকেই প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য কথা শোনেন। এতে বাদানুবাদ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বক্তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন তার বক্তব্যকে বোঝার জন্য, প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য নয়।
চোখের দিকে তাকিয়ে বাক্যালাপ করুন
কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে বলুন। তার মানে এই নয় যে, স্থির দৃষ্টিতে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। এটা অসভ্যতা। সাধারণভাবে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে একদিকে যেমন শ্রোতার প্রতি শ্রদ্ধা ও মনোযোগের প্রকাশ ঘটে, তেমনি ফুটে ওঠে বক্তার আত্মবিশ্বাস।
শরীরী ভাষার ব্যবহার
যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করতে চাইলে শুধু মুখে বক্তব্যটি বলাই যথেষ্ট নয়। বরং, শরীর, মন ও স্বরযন্ত্র দিয়ে বক্তব্য প্রকাশে অভ্যস্ত হতে হবে। যথাযথ মুখভঙ্গি, চোখের অভিব্যক্তি ও হাতের অঙ্গভঙ্গি আপনার বক্তব্যকে দর্শক-শ্রোতার কাছে সহজবোধ্য করে তুলবে।
প্রশ্ন করুন, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন কোনো কথা বুঝতে না পারলে অনুমতি নিয়ে বক্তার কাছে না বোঝা অংশটির ব্যাপারে প্রশ্ন করুন। আর যদি নিজেই বক্তা হন তাহলে, বক্তব্যের একটি অংশ শেষ হলে দর্শক-শ্রোতা বিষয়টি বুঝেছে কি না তা জানতে তাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন।
বক্তব্যের মাঝে বাধা দেবেন না
কেউ যখন কথা বলে তখন তার মাঝে কথা বলা ভদ্রতা বিরুদ্ধ আচরণ। এমনটি করবেন না। তা ছাড়া কথার মাঝখানে কথা বললে বক্তা যেমন বিরক্ত হন তেমনি বক্তব্যও থেকে যায় অসম্পূর্ণ। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। হতে পারে বক্তব্যের শেষে আপনার প্রশ্নের উত্তরটি রয়েছে। যদি উত্তর না পান, তাহলে বক্তার অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন করুন।
বক্তব্য প্রকাশ করুন সচেতন ও পরিষ্কারভাবে
এলোমেলোভাবে কথা না বলে আপনার বক্তব্যকে উপস্থাপন করুন সুস্পষ্ট ও সচেতনভাবে। এ জন্য সবচেয়ে ভালো হয় বক্তব্য উপস্থাপনের আগে কয়েকবার নিজে নিজে অনুশীলন করে নিলে। বক্তব্য উপস্থাপনের আগে একটি কাগজে লিখে ফেললে নিজের কাছেই বক্তব্যটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। উপস্থাপন সহজ হবে।
বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন অনেক সময় বক্তা নানা কারণে সুস্পষ্টভাবে তার কথা না বললেও নানা ইঙ্গিত দেন। এ জন্য বক্তব্যের অন্তর্নিহিত বিষয় বা ভাব বোঝার চেষ্টা করুন। এটা বোঝার জন্য কী বলছেন তা মনোযোগ দিয়ে বলা বা বোঝার পাশাপাশি কী বলেননি তা চিহ্নিত করা ও বোঝাও জরুরি।
সহমর্মী হন
আপনি বক্তাই হন বা শ্রোতা, অপরপক্ষের প্রতি সহমর্মী হন। তিনি কোন প্রেক্ষাপটে কথা বলছেন সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। এই সহমর্মী মনোভাব শ্রোতা হিসেবে যেমন বক্তার বক্তব্যকে বুঝতে সাহায্য করবে, তেমনি বক্তা হিসেবে শ্রোতার মনে কাছাকাছি আনবে।
ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করুন
কথা বলার সময় ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করুন। ইতিবাচক শব্দ শ্রোতার মনে সম্ভাবনার আশা জাগায়, উদ্যম সৃষ্টি করে, বক্তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশে উৎসাহিত করে।
গঠনমূলক সমালোচনার চর্চা করুন
বক্তার বক্তব্য শোনার পরে অহেতুক সমালোচনা না করে, যদি বক্তা তার বক্তব্যের মূল্যায়ন শুনতে চান তাহলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। অহেতুক সমালোচনা বক্তার মনে বিরক্তি উৎপাদন করে, বিরোধ সৃষ্টি করে। বক্তা হিসেবে শ্রোতার গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করুন।
সত্য তুলে ধরুন
যেকোনো বক্তব্য তুলে ধরার সময় সত্য তুলে ধরুন। আপনার মনোভাব স্বচ্ছভাবে তুলে ধরুন। এর ফলে আপনার বক্তব্যের পরস্পরা রক্ষা যেমন সহজ হবে তেমনি বক্তব্য প্রকাশও করতে পারবেন সহজে। সত্যের এমন একটি ক্ষমতা আছে, যা সহজেই মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে।
ধৈর্য ধারণ শিখুন
অনেক সময় বক্তার অগোছালো বক্তব্য শুনে শ্রোতা হিসেবে বা শ্রোতার অঙ্গভঙ্গিতে বক্তা হিসেবে আমরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলি, যা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে। এ সময় ধৈর্য ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কঠিন শব্দ ব্যবহারের লোভ সংবরণ করুন কোনো কথা বলার সময় শ্রোতার বুঝতে সহজ হয় এবং বক্তব্যকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে, এমন শব্দই ব্যবহার করা উচিত। পাণ্ডিত্য বা ভাষার ওপর দখল প্রদর্শনের জন্য অহেতুক কঠিন শব্দের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: দেশ রূপান্তর,
নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার ৮ উপকারিতা
আধুনিককালের উচ্চশিক্ষায় শুধু জ্ঞান অর্জন করা নয়; বরং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গঠনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে, সঠিক মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে আপনি পেশাগত জীবনে অনেক সুযোগ পেতে পারেন। এখানে এমন ৮ টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো, যা আপনার নেটওয়ার্ক বিস্তারে সহায়ক হবে।
সামাজিক সংযোগ গড়ে তোলা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে একাধিক সামাজিক সংযোগ তৈরি করা আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ হতে পারে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন বা অনুষ্ঠানে যোগদান করে আপনি নতুন বন্ধু তৈরি করতে পারেন এবং পেশাদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। এসব সামাজিক পরিবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনার পরিচিতি বৃদ্ধি পায় এবং এটি আপনার নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারিত করে। [fb.com/janaojanaa360]
ক্যারিয়ার পরিষেবা ব্যবহার করা
বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার পরিষেবা বা চাকরি-সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়। এসব পরিষেবার মাধ্যমে আপনি ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁদের মেন্টরশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারেন, চাকরি মেলা বা নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দিতে পারেন। ক্যারিয়ার পরিষেবা আপনাকে কেবল চাকরি খুঁজতে সহায়তা করবে না; বরং এটি আপনার পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি করতেও সাহায্য করবে।
নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে অংশ নেওয়া
নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট বা কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি, একাডেমিক বা পেশাদার সম্মেলনে অংশ নিয়ে আপনি তাঁদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন, যাঁরা আপনার ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হতে পারে। এমন ইভেন্টে পরিচিতি গড়ে তুলুন এবং সম্ভাব্য সুযোগগুলো সম্পর্কে জানুন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা
বর্তমানে LinkedIn, Twitter এবং অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পেশাদার যোগাযোগ স্থাপন করা সহজ হয়েছে। আপনি আপনার শিক্ষাজীবন এবং পেশাদার লক্ষ্যগুলো শেয়ার করে ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনালদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার প্রোফাইল নিয়মিত আপডেট করুন এবং সেই অনুযায়ী নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন। LinkedIn-এর মাধ্যমে আপনি অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষকমণ্ডলী এবং পেশাদারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সুযোগ পাবেন।
পেশাদারদের সঙ্গে মেন্টরশিপ তৈরি করা
একজন মেন্টর আপনার ক্যারিয়ার গঠনে অমূল্য ভূমিকা রাখতে পারেন। যদি আপনি একাডেমিক অথবা পেশাদার জীবনে উন্নতি করতে চান, তাহলে এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করুন, যিনি আপনাকে গাইড করতে পারেন। এটি হতে পারে আপনার কোনো শিক্ষক, অধ্যাপক অথবা কর্মস্থলে অভিজ্ঞ কোনো পেশাদার। মেন্টরশিপের মাধ্যমে আপনি শুধু তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করবেন না; বরং একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কও তৈরি করবেন।
শিক্ষকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা
আপনি যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, সে বিষয়ে গবেষণা করার জন্য আপনার শিক্ষক বা অধ্যাপকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন। শিক্ষকেরা সাধারণত এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে থাকেন এবং তাঁরা আপনাকে গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করতে পারেন। এটি আপনাকে আপনার একাডেমিক নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে সহায়তা করবে। তা ছাড়া, শিক্ষকেরা আপনার ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্যও সুপারিশ বা রেফারেন্স দিতে পারেন।
শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
আপনার বিষয়ে, যেমন সেমিনার, কনফারেন্স বা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে আপনি একাডেমিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারেন। এসব কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পারলে আপনি পেশাদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি, আপনি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।
ভলান্টিয়ারিং বা ইন্টার্নশিপ করা
ভলান্টিয়ারিং বা ইন্টার্নশিপ করার মাধ্যমে আপনি একটি পেশাদার পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং এতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হয়। আপনি একদিকে যেমন কাজ শিখবেন, তেমনি অন্যদিকে কর্মস্থলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন। এটি বিশেষ করে পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা,
পেশাদারিত্বের দীক্ষা নিন ছাত্রজীবনেই
ছাত্রজীবন হলো পেশাজীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের সময়। সেজন্য ছাত্রাবস্থাতেই পেশাদারি আচরণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করতে হয়, বিশেষ করে পড়াশোনার শেষাংশে। ছাত্রাবস্থাতেই যদি পেশাদারি মনোভাব গড়ে ওঠে তাহলে কর্মস্থলে অহেতুক বিব্রত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
পেশাজীবনে কোনো কিছুই ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। যেকোনো কর্মস্থলে সবাই একটি বড় দলে কাজ করে। সেই বড় দলের মধ্যে ছোট ছোট আরও কয়েকটি দল থাকে, কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে। কোনো কাজ যেহেতু কেউ একা করে না ফলে সেই কাজের সমালোচনাকে কখনো নিজের সমালোচনা হিসেবে নেবেন না। দলের একজন সদস্য হিসেবে চিন্তা করবেন কাজের এই সমালোচনাটি যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক। যদি যৌক্তিক হয় তাহলে সমালোচনাকে বিবেচনায় নিয়ে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে কাজের মানকে উন্নত করবেন। আর যদি মনে হয় অযৌক্তিক সমালোচনা তাহলে বাদানুবাদে না জড়ানোই ভালো। তবে যৌক্তিক-অযৌক্তিক এই বিবেচনা করার আগে অবশ্যই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ভাবার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
নতুন কাজকে ভয় পাবেন না
কর্মক্ষেত্রে প্রায় সময় একই ধরনের কাজ করতে হয় এবং সেই কাজটি হয় পেশাসংক্রান্ত। তবে অবস্থার পরিবর্তনে যেকোনো সময় নতুন পরিস্থিতিতে নতুন কাজের দায়িত্ব আসতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন কাজকে ভয় পাবেন না। একে দায়িত্ববহির্ভূত কাজ হিসেবে ভাববেন না। নতুন কাজ বা দায়িত্ব সবসময় আত্মোন্নয়ন ও চাকরিতে পদোন্নতির সম্ভাবনা নিয়ে আসে। তা ছাড়া কাজের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন বিষয় শেখার সুযোগ সহসা মেলে না। অথচ পদোন্নতির জন্য সবসময় একাধিক বিষয়ে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হয়। নতুন কাজকে তাই নিজের ক্যারিয়ারে একটি পালক যুক্ত করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে শিখুন।
উদ্ভাবনী ক্ষমতার ব্যবহার করুন
নানান সমস্যার সমাধানে প্রথাগত সমাধান ব্যবহার না করে নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এর ফলে যদি সমস্যাটি সমাধানে আরও কম সম্পদ, সময় ও লোকবল ব্যবহৃত হয় তাহলে এটিই গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শুধু আপনার কর্মক্ষেত্রেই নয়, ওই পেশাক্ষেত্রে আপনার একটি গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা তৈরি হবে। তবে উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রয়োগের আগে খোঁজ নিতে হবে যে, এটি আগে কেউ ব্যবহার করেছে কি না আর এটি ব্যবহার করলে পরিস্থিতি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না।
অঙ্গীকার রক্ষা করুন
অঙ্গীকার রক্ষা করার ক্ষমতাকে পেশাদারত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশাল কর্মক্ষেত্রে প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন কাজ করেন। মূলত তারা একটি বিশাল কাজকে বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে নির্দিষ্ট সেই কাজটি করেন। সবার মিলিত কাজের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে চূড়ান্ত ফল। এ কারণে প্রত্যেকেই যার যার কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা খুবই জরুরি। তাই কোনো দায়িত্ব নিলে সেই কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে সুসম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। কোনো কাজ নেওয়ার আগে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা থাকলে অঙ্গীকার ভঙ্গের ভয় থাকে না। যেমন কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে করতে পারবেন কি না, করার জন্য যথেষ্ট লোকবল আছে কি না প্রভৃতি। যদি আপনার সক্ষমতা না থাকে এবং সময় অপর্যাপ্ত থাকে তাহলে কাজটি নেবেন না এবং আপনার অপারগতা প্রকাশ্যে প্রথমেই জানিয়ে দেবেন। কিন্তু একবার কোনো কাজ করার অঙ্গীকার করার পর তা রক্ষা করতেই হবে। কারণ এর ওপর নির্ভর করে গোটা প্রকল্পের সফলতা।
সততা সবার আগে
পেশাজীবনে সততা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তবে শুধু পেশাজীবনে নয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও সততা বজায় রাখা খুবই জরুরি। তাই জীবনের সবক্ষেত্রে সততার চর্চা শুরু করুন। এতে পেশাজীবনে যেমন সহকর্মীদের শ্রদ্ধা অর্জন করবেন, তেমনি এড়িয়ে যেতে পারবেন নানা জটিলতা। লিখেছেন শাহরিয়ার নাফিস
স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল শেকসপিয়র
শেকসপিয়রকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গত চার শ বছর ধরে তাঁকে নিয়ে এত লেখা, এত বলা হয়ে গেছে যে, এখন কিছু বলতে গেলে তা চর্বিত চর্বণ হয়ে যাবে। তবু বিশ্বনাটকের কথা বলতে গেলে যার নাম প্রথম উচ্চারিত হয়, তিনি শেকসপিয়র। উইলিয়াম শেকসপিয়র ১৫৬৪ সালের ২৩ এপ্রিল ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
মাত্র অর্ধশতাব্দী জীবনকালে তিনি ৩৮টি নাটক, ১৫৪টি সনেটসহ দুটি দীর্ঘ আখ্যায়িকা রচনা করেন। মূলত নাট্যকার হলেও তাঁর পরিচয় 'বার্ড অব অ্যাভন' (Bard of Avon) বা অ্যাভনের চারণ কবি হিসেবে।
নাট্যকারের চেয়ে কবি হিসেবে খ্যাতির কারণ তিনি কাব্যনাট্যকার। অভিনেতা হিসেবেও তিনি নাম করেছিলেন।
শেকসপিয়রের নাটকগুলো পৃথিবীর প্রধান সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের কাছেও তিনি অপরিচিত নন।
মূলত, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তাঁর অধিকাংশ নাটক রচিত। কিন্তু তাঁর অতুলনীয় শিল্প সৌকর্য ও অমর কাব্যভাষার গুণে প্রতিটি নাটকই স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে উঠেছে।
শেকসপিয়র কেন ট্র্যাজেডি এবং কমেডি নাটকের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে রইলেন এ নিয়েও গবেষণা কম হয়নি। এ ব্যাপারে গবেষকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেকসপিয়রের জীবনে যে অস্থিরতা, হতাশা এবং স্বজন বিয়োগের ঘটনা ঘটেছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর নাটকে। শেকসপিয়রের দাম্পত্য জীবন শুরু হয় একজন অসম বয়সি মহিলাকে বিয়ের মাধ্যমে, যার গর্ভে বিয়ের আগেই তাঁর সন্তান অঙ্কুরিত হয়েছিল। শেকসপিয়রের বয়স যখন ১৮ তখন তিনি ২৬ বছর বয়সি অ্যানি হ্যাথাওয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাস পর তাঁদের ঘরে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
এরপর ১৫৮৫ সালে অ্যানি হ্যাথাওয়ে হ্যামলেট নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ১১ বছর বয়সে শেকসপিয়রের পুত্রসন্তানটি মা*রা গেলে তিনি শোকে মু*ষড়ে পড়েন।
১৫৮৫ থেকে ১৫৯২ সাল পর্যন্ত সাতটি বছর ছিল শেকসপিয়রের হারানোর বছর, অথচ এই বেদনাহত বছরগুলোতেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকেনি। নাট্যকারের সঙ্গে অভিনেতার খ্যাতিও এ সময় তিনি অর্জন করেন।
শেকসপিয়র নাট্যকার, অভিনেতা এবং কবি অভিধার সঙ্গে সিয়েটার কোম্পানির স্বত্বাধিকারীও ছিলেন। ১৬১৩ সালে তিনি নাট্যজগৎ থেকে স্বেচ্ছায় বি*চ্ছিন্ন হয়ে যান। আর এরপর তিন বছরের মধ্যেই মৃ*ত্যুবরণ করেন।
শেকসপিয়রকে নিয়ে গত চারশ' বছরে প্রচুর লেখালেখি হলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথা খুব বেশি আলোচিত হয়নি।
তিনি ধ*র্মবিশ্বাসে ক্যা*থলিক খ্রি*স্টান হলেও তাঁর জীবনযাপন এবং পিতা-মাতা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো অনুল্লেখ্য থেকেছে প্রায় সব আলোচনায়।
এমনকি শেকসপিয়রের নামে যেসব নাটক প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো সব যে তাঁর লেখা নয়, কোনো কোনো আলোচক এ প্রসঙ্গটি টেনে আনলেও এর তথ্যগত সমাধান দেননি।
তবে শেকসপিয়রকে নিয়ে যত সমালোচনার ঝ*ড় উঠুক, আর তাঁর নাটক নিয়ে যত বিতর্কেরই সৃষ্টি হোক না কেন, ভিক্টোরিয়ান যুগে তিনি যেমন পূজনীয় ছিলেন এখনো তেমনি প্রাণবন্ত এবং প্রাসঙ্গিক আছেন। এর কারণ হলো শেকসপিয়রের সাহিত্যকর্মে অসামান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্ষেপণের সক্ষমতা। তাঁর নাটক এবং কবিতাগুলো যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে পরিবেশন করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যেমন অভিনেতা, নাট্যকার এবং ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর সাহিত্যকর্মেও এসব চরিত্রের সমাবেশ দেখা যায়। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণে তিনি নিজেই শুধু কালজয়ী পুরুষ হয়ে ওঠেননি-কালজয়ী সাহিত্যকর্মও সৃষ্টি করে গেছেন।
আমরা এখানে শেকসপিয়রের সমগ্র নাটক নয়, গোটা কয়েক নাটক নিয়ে আলোকপাত করব। এ নাটকগুলো ১৫৯৫ থেকে তাঁর মৃ*ত্যুর আগের বছরগুলোতে লেখা। উল্লেখ্য, শেকসপিয়র ১৬১৬ সালে মৃ*ত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে শেষের দুই বছর তিনি কোনো নাটক রচনা করেননি। অভিনয়ও করেননি।
শেকসপিয়রকে নিয়ে যত সমালোচনার ঝড় উঠুক, আর তাঁর নাটক নিয়ে যত বিতর্কেরই সৃষ্টি হোক না কেন, ভিক্টোরিয়ান যুগে তিনি যেমন পূজনীয় ছিলেন এখনো তেমনি প্রাণবন্ত এবং প্রাসঙ্গিক আছেন। এর কারণ হলো শেকসপিয়রের সাহিত্যকর্মে অসামান্য পর্যবেক্ষণ প্রক্ষেপণের সক্ষমতা। তাঁর নাটক এবং কবিতাগুলো যেন নিজের মধ্যে ধারণ করে পরিবেশন করেছেন। তিনি একই সঙ্গে যেমন অভিনেতা, নাট্যকার এবং ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর সাহিত্যকর্মেও এসব চরিত্রের সমাবেশ দেখা যায়। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সংমিশ্রণে তিনি নিজেই শুধু কালজয়ী পুরুষ হয়ে ওঠেননি-কালজয়ী সাহিত্যকর্মও সৃষ্টি করে গেছেন...
তিনি ক্যা*থলিক খ্রি*স্টান পরিবারের সন্তান। ক্যা*থলিক খ্রি*স্টানরা ছিল ইংল্যান্ডের র*ক্ষণশীল এবং একটি ধ*র্মীয় আচার পালনে কড়াকড়ি করা গোষ্ঠী। এই সম্প্রদায়ের লোকেরা চার্চে অনুপস্থিত থাকলে জরিমানা করা হতো।
শেকসপিয়রের পিতাকেও জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে শেকসপিয়র ক্যাথলিক চার্চের প্রতি বি*তৃষ্ণ হয়ে প্রো*টেস্ট্যান্ট চার্চের অনুসারী হয়ে যান। গবেষকরা মনে করেন, তাঁর ধ*র্মবিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজস্ব চিন্তাধারায় চলতেন। বিশেষ কোনো মতবাদ বা ধ*র্মের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল না বললেই চলে।
১৬০০ সালে রেজিস্ট্রারিভুক্ত A mid summer nights Dream নাটকটি রচিত হয়েছিল মূলত আমাদের দেশের যাত্রাপালার আদলে। নাটকের দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে জানা যায়, নাটকটি লেখা হয়েছিল বিয়েবাড়িতে আনন্দ অনুষ্ঠানের জন্য।
নাটকটির কাহিনি মনোমুগ্ধকর হলেও এটা শেকসপিয়রের মৌলিক নাটক নয়; কারণ আখ্যানটি তাঁর নিজস্ব নয়। বিভিন্ন লেখকের লেখা থেকে তিনি নিজস্ব আদলে একটি আখ্যান তৈরি করেছেন। শেকসপিয়রের এ নাটকটি প্রথম প্রথম অনেক পণ্ডিত এবং রাজমহলের আমজনতা নিঃসংকোচে গ্রহণ করতে পারেননি। তাঁরা মনে করেছিলেন এতে অশ্লীলতা আছে। পরবর্তীতে তাঁদের এ ধারণা বদলে যায়। পরবর্তী সময় সমালোচকরা এর প্রশংসা করেছেন। শেকসপিয়রের কমিডি বুঝতে ইংল্যান্ডবাসীর এত সময় নেওয়ার কারণ আজও গবেষণার বিষয়।
শেকসপিয়র ‘উইন্টারস টেল’ রচনা করেন ১৬১০-১২ এর মধ্যে।
সিসিলিয়ার রাজা লিওন্টাস এবং রানী হার্মিয়োর মধ্যে অবিশ্বাসের অহেতুক চিন্তা থেকে এ নাটকের বিস্তার। রানী অনৈতিক কোনো কাজ না করেও রাজার চোখে বিশ্বাসঘাতকিনী এবং কুলটা বলে সাব্যস্ত হন। বোহেমিয়ার রাজাকে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অ*বৈধ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য দায়ী করেন। রানীর কারাবাস হয় এবং কারাগারে রানী একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন। মেয়েটির নাম রাখা হয় পার্ডিটা। যাকে জন্মের পরই সমুদ্রতটে ফেলে দেওয়া হয়। কন্যাটিকে মেষশাবকরা প্রতিপালন করে। এরপর শুরু হয় নাটকের নতুন মোড়। শেষে পার্ডিটার রাজা আর রানীর সঙ্গে মিলন হয়। নাটকটিতে পুনর্মিল*ন, রোমান্স, উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ থাকলেও এর কাহিনি বিন্যাস এমনই বিষাদময় যে, বিষাদের ছায়ায় আনন্দ হারিয়ে যায়।
শেকসপিয়রের ‘হেনরি দ্য ফোর্থ’ ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিক নাটক। এ নাটকে শেষ পর্যন্ত হেনরির ক*রুণ মৃ*ত্যু এবং ফলস্টাফের কারাবরণ নাটকটিকে বিষাদময় করে তোলে।
শেকসপিয়রের সবচেয়ে আলোচিত ট্র্যাজেডি নাটক হচ্ছে হ্যামলেট। এই নাটকটির কাহিনিও শেকসপিয়রের নিজস্ব নয়। নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত। ঐতিহাসিক ম্যাক্সের ল্যাটিন ভাষায় রচিত ডেনমার্কের রাজাদের বিবরণ থেকে তিনি এর মূলভাব সংগ্রহ করেছেন। হ্যামলেটের আখ্যানটি Historie of Hamlet Prince of Denmarke - এ যেভাবে পাওয়া যায় তা এরকম-
রাজপুত্র হ্যামলেটের পিতাকে চক্রান্ত করে তার ছোটভাই ক্লডিয়াস। হ্যামলেটের মা গারট্রুডকে বিয়ে করেন তিনি। রানী গারট্রুড স্বামীঘা*তক দেবরকে বিয়ে করতে বাধেনি। ক্লডিয়াস হ্যামলেটের রাজ্য থেকে বিতরণ ও বিনাশ করার নানা ষ*ড়যন্ত্র করে কিন্তু সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত হ্যামলেট ক্লডিয়াসকে হ%ত্যা করে এরপর সে নিজেও ষ*ড়যন্ত্রের শি*কার হয়ে মা*রা যায়।
শেকসপিয়র এই কাহিনিটিই তাঁর হ্যামলেট নাটকে গ্রহণ করেছেন, শুধু রানীর চরিত্রটি ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। হ্যামলেটের জননীর চরিত্রে নতুনভাবের আমদানি করে শেকসপিয়র এটাকে সম্পূর্ণ নতুন অবয়ব দিয়েছেন। আর শেকসপিয়র বিশ্বে আলোচিত হয়েছেন তার এই অমর নাটকটির জন্য। অবশ্য শেকসপিয়রের অন্যান্য নাটকও যে তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতির পেছনে অবদান রাখেনি, তা কিন্তু নয়। তবে হ্যামলেটের দ্যুতি ও খ্যাতির কাছে সেগুলো ম্লান। সমালোচকরা বলেছেন মনোজগৎ এবং বহির্জগতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অক্ষমতা নয় বরং অদেখা সক্ষমতাই এই নাটকটির প্রতি দর্শককে দুর্বল করে দেয়। কর্তব্য আবেগ দ্বিধার মধ্যে সংশয় এবং নাটকের শেষ পরিণতি মানবজীবনের বাস্তব নিয়তির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই সমালোচকদের ধারণা হ্যামলেটের অন্তর্নিহিত ভাবনা শুধু হ্যামলেটের ভাবনা নয়, এর সঙ্গে নাট্যকারের নিজস্ব ভাবনাও একাকার হয়ে গেছে। এক সুগভীর রহস্যবোধ স্বতন্ত্র জীবনদর্শন এ নাটকটিকে অনন্য করেছে।
শেকসপিয়রের আর একটি প্রথম দিকে লেখা কমিডি হলো ‘লাভস লেবারস লস্ট’। এখানেও রাজা এবং লর্ডদের প্রতিজ্ঞা। নাভারারের রাজা এবং লর্ডগণ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তারা তিন বছর বিদ্যা অর্জন করবেন এবং ওই সময় কোনো নারীর মুখ দেখবেন না। এমনকি কোনো নারীর সঙ্গে মুখ ঢেকে কথাও বলতে পারবেন না।
তাদের এই প্রতিজ্ঞা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি। কারণ ফ্রান্সের রাজকুমারী আর তার দুই সখীকে দেখার পর রাজা আর লর্ডগণ তাদের অজান্তেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন। কিন্তু কেউ স্বীকার করতে চাননি যে তারা শপথ ভেঙেছেন। শেষ পর্যন্ত, তারা বুঝতে পারেন এটা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ নয়, ভালোবাসা, ফরাসি রাজকুমারী আর দুই সখী রাজা আর লর্ডদের বশ করে ফেলেছেন। ট্রয়লাস অ্যান্ড ক্রেসিডা নাটকটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন এটি নিয়ে বিতর্ক ওঠে নাটকটি শেকসপিয়রের রচনা কিনা? এর কারণ হলো, ডেকর এবং চেটল চ্যাপমানের শেকসপিয়রের নাটকের ওপর কলম চালানোর ফল।
অবশ্য এ কথাও অনেক সমালোচক বলে থাকেন যে, ‘Troillus and cressida’ শেকসপিয়রের লেখাই নয়, এটা তাঁর নামে চালানো হয়েছে। সমালোচকদের এ দাবির কোনো জোরালো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। যে ‘Troillus and cressida’র মূল কাহিনি হচ্ছে রাজপুত্র ট্রয়লাস এবং পুরোহিতকন্যা ক্রেসিডার প্রণয় এবং ব্যর্থতা। ক্রেসিডা ট্রয়লাসের ভালোবাসার মূল্য না দিয়ে গ্রিক যুবককে প্রেমিক হিসেবে গ্রহণ করে শুধু ভালোবাসার অমর্যাদা করেনি, বিশ্বাসভঙ্গও করেছে। এই নাটকে কিছু লঘু এবং অনাবশ্যক ঘটনার সমাবেশ ঘটায়, নাটকটি শেকসপিয়রের অন্যান্য নাটকের মতো তীব্র এবং ধা*রালো হয়নি। লেখা: মাখরাজ খান,
দ্য ৫ এএম ক্লাব থেকে শিক্ষা
বিশ্ববিখ্যাত লেখক রবিন শর্মার লেখা অন্যতম একটি বই হলো দ্য ৫ এএম ক্লাব। ‘দ্য ৫ এএম ক্লাব’ বইটিতে লেখক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা, কর্মক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সর্বোপরি ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠার গুরুত্ব কতখানি। বইয়ের শিক্ষাগুলো তুলে ধরেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন।
ভোরে ঘুম থেকে উঠুন
দ্য ৫ এএম ক্লাব বইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ভোর ৫টার সময় ঘুম থেকে ওঠা। এটা একটা সফল এবং প্রাকৃতিক অভ্যাস। যাঁরা ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠেন, তাঁরা অন্য যাঁরা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন তাঁদের চেয়ে বেশি সময় হাতে পান। সেই অতিরিক্ত সময় জীবনের অগ্রগতির কাজে ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে বইটিতে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে জীবনে ডিসিপ্লিনের সেন্স তৈরি হয়; যা একটা মানুষকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়।
রুটিন অনুযায়ী দিন শুরু করুন
বইটির লেখক শর্মা বলেছেন, শুধু ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠা আপনাকে সফল করে তুলবে না, বরং আপনি কীভাবে সকালের সময়টা ব্যয় করতে চান, তাও গুরুত্বপূর্ণ। তার ২০/২০/২০ সূত্র অনুসারে, আপনাকে ২০ মিনিট শারীরিক, ২০ মিনিট মানসিক আর ২০ মিনিট আত্মিক উন্নতির জন্য ব্যয় করতে হবে। শারীরিক উন্নতি করতে হলে ব্যায়াম করতে হবে। মানসিক উন্নতির মধ্যে জার্নালিং, ইবাদত, ধ্যান বা শান্ত চিন্তাভাবনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আর আত্মিক উন্নতির কার্যক্রমগুলোর মধ্যে আপনার জীবনের লক্ষ্যগুলো পর্যালোচনা করা, পত্রিকা বা বই পড়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সঠিক ঘুম চক্রের ভূমিকা
বইটিতে রবিন শর্মা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই জগৎ ধীরে ধীরে নিদ্রাহীনতার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। মানুষ প্রায়ই কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্যকে সারা রাত জেগে থাকার এবং নিজের ধৈর্যের পরীক্ষার ধারণার সঙ্গে জুড়িয়ে দিয়ে ভুল করেন। রাতে দেরিতে ঘুমান আবার সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। ফলে শরীর, মন ঠিক থাকে না এবং কাজে ব্যাঘাত ঘটে। বইটিতে লেখক ঘুমের চক্রের যত্ন নেওয়ার এবং ভোর ৫টায় জীবন শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছেন।
নতুন অভ্যাস তৈরিতে হাল ছাড়বেন না
কখনো কখনো ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে। আপনার কষ্ট হতে পারে। তবে হাল ছেড়ে দেওয়া আপনার উচিত হবে না। অন্য যেকোনো নতুন অভ্যাসের মতো, এই রুটিনে অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে। যেকোনো নতুন অভ্যাস রাতারাতি তৈরি হয় না। বইয়ের লেখক রবিন শর্মা উল্লেখ করেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবর্তনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞান অনুসারে একটি নতুন অভ্যাস তৈরি করতে প্রায় ৬৬ দিন লাগে। ৬৬ দিন একটানা ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠুন। দেখবেন এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলুন
আমাদের জীবনে চলার পথে বা কাজ করার ক্ষেত্রে নানা রকম বিভ্রান্তি এসে বাগড়া দেয়। কিন্তু কাজে সফল হতে হলে বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলতে হবে। বর্তমান যুগ হলো প্রযুক্তির। ডিজিটাল যুগ। এই যুগে ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি করে। প্রায়ই আপনার সকালকে নিজের মতো ব্যবহার করার পথে এবং আপনাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেতে বাধা দেয়। বইটি সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্যের দ্বারা বিভ্রান্তি এড়াতে আপনার সকালের সময়কে প্রযুক্তিমুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন
রবিন শর্মা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষান্ত থাকলেই চলবে না, বরং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক সময় মানুষ তাঁদের প্রতিশ্রুতিতে অটল থাকতে বা বলকে ঘুরিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এটি। তাই যত বাধাই আসুক না কেন, নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন। প্রতিশ্রুতির ওপর অটল থাকুন।
জীবনে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা
মানুষ প্রায়ই যেকোনো জিনিস বোঝার জন্য সঠিক মানসিকতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। কিন্তু বইটি কয়েক ধাপ এগিয়ে মানুষের স্বাধীন মন ও আত্মার ধারণার পরিচয় দেয়।
বইটিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে– শরীর, মন ও আত্মাকে সুন্দর ও সতেজ রাখতে জীবনের সবকিছুতে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে। যখন জীবনে সবকিছুতে একটা ভারসাম্য থাকবে, তখন শরীর, মন ও আত্মা সুন্দর থাকবে। আর আমরাও সুখী থাকব। আমাদের সাফল্যের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
পরিবর্তনের শিল্প
বইটি আত্মপ্রতিফলনে দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, এর উদ্দেশ্য কী? এই রুটিনের পেছনে ধারণাটি হলো ভুলগুলো প্রতিফলিত করা, শেখা এবং পরিবর্তন হওয়া। পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তাই আপনার প্রতিদিন নিজের আরও ভালো উন্নতির চেষ্টা করা উচিত। ঘুম থেকে ওঠার পর আপনার যে কাজগুলো করা উচিত, তার মধ্যে একটি হলো আপনার কর্ম এবং আগের দিনের বাদ পড়া সুযোগগুলোর দিকে ফিরে তাকানো। সে অনুযায়ী নতুন দিনটি অতিবাহিত করা।
নেতৃত্ব দেওয়া মানে সেবা করা
রবিন শর্মা বলেছেন, সেবার হাতিয়ার হওয়াই প্রকৃত শক্তি। চারপাশের অন্যদের জীবনকে সাহায্য ও উন্নত করার জন্য নিজের জীবনকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা আপনার মাঝে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা আনতে পারে। মানুষের সেবা করার মাধ্যমে আপনি নেতা হয়ে উঠতে পারেন। আশপাশের মানুষকে সেবা করুন। তাহলে আপনার মনে প্রশান্তি থাকবে। মানুষ আপনাকে সম্মান করবে। মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন।
স্বপ্নে অটল থাকুন
যাই হোক না কেন আপনার স্বপ্নে অটল থাকুন। আপনার স্বপ্ন থেকে কখনো পিছপা হবেন না। আপনি যখন বড় স্বপ্ন দেখবেন, তখন মানুষ আপনাকে নিয়ে ঠাট্টা করবে এবং আপনাকে নিয়ে হাসবে। নিজের সম্পর্কে সন্দেহ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আপনাকে প্রথম পয়েন্টে ফিরে যেতে হবে এবং আবার শুরু করতে হবে। জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, স্বপ্নের সঙ্গে কমপ্রোমাইজ করবেন না। তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা,
দুনিয়া জয়ের আগে নিজের বিছানা গোছাও
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল উইলিয়াম হ্যারি মাক্রেভেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের উদ্দেশে ২০১৪ সালে যে স্বাগত বক্তব্য দেন, তা তরুণদের উদ্দীপ্তকারী অন্যতম সেরা ভাষণরূপে সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ভাষণটি ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিয়ে লিখেছেন বিপুল জামান
উইলিয়াম হ্যারি মাক্রেভেন আমেরিকান নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা হলেও সারাবিশ্বে আজ শিক্ষাবিদ ও জনপ্রিয় অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, অস্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ছাত্রদের উদ্দেশে একটি ভাষণ দেন। এই ভাষণটি সারাবিশ্বে ‘Make your bed’ নামে পরিচিত। ভাষণে তিনি আত্মোন্নয়নের ক্ষেত্রে ছোট ছোট পরিবর্তনের প্রতি নজর দেওয়ার ওপর জোর দেন। এই বক্তব্যে মাক্রেভেন বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমে নিজের বিছানা গুছাও। এই কাজ সমাপ্ত করার আত্মবিশ্বাস তোমাকে দিনভর কাজের অনুপ্রেরণা দেবে। যদি বিশ্বকে পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে নিজের বিছানা পরিবর্তন করার মাধ্যমে তা শুরু করো। দিনের প্রথম কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার প্রভাব অন্য কাজগুলোর ওপর পড়বে। আশা করা যায় তোমার দিনটি ভালো কাটবে। আর যদি দিনটি খারাপ যায়-ই, তাহলেও ঘরে ফিরে তুমি নিজের বিছানাটি গোছানো অবস্থায় পাবে। ফলে তুমি নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী দিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। কিন্তু বাইরের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিবেশ থেকে ফিরে যদি তোমার বিছানাটিও অগোছালো পাও, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই ঘুম থেকে উঠেই নিজের বিছানা গোছানো একটি প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ।’
পরবর্তী সময়ে একই নামে মাক্রেভেনের একটি বইও প্রকাশিত হয়। যথারীতি বইটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বইয়ে তিনি তার বক্তব্য আরও
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সফলতার জন্য লক্ষ্যপানে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপরও কাজ করতে হবে। কারণ যেকোনো একটি বিষয়ের পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হতে পারে গোটা বিষয়টি। সকালে উঠে বিছানা গোছানোও একটি খুঁটিনাটি কাজ, যা দিনের অন্য কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। বিছানা গোছানোর আরও তাৎপর্য রয়েছে। এর মাধ্যমে-
➤নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
➤পরনির্ভরশীলতা কমে।
➤যারা অর্থের বিচারে ছোট কাজ করে তাদের প্রতি উন্নাসিকতা লোপ পায়।
➤সমস্যাকে মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি হয়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জিত হয়।
➤যেকোনো কাজের আনুষঙ্গিক খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে খেয়াল করার প্রশিক্ষণ পাওয়া যায়।
➤যেকোনো কাজের জন্য পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা যায়। ইউটিউবে ‘Make your bed’ লিখে সার্চ দিলে মাক্রেভেন বক্তব্যটি পাবেন। এমন অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যটি শুনতে ভুল করবেন না। হাজারো তরুণের মতো আপনিও লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দিশা খুঁজে পেতে পারেন তার বক্তব্য শুনে।
জীবনের অর্থহীনতায় লুকানো সৌন্দর্য
দ্য মিথ অব সিসিফাস
দর্শন নিয়ে কথা বলতে গেলে যে বইটির নাম প্রথমেই উঠে আসে, তা হলো অ্যালবার্ট ক্যামুর ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’। বইটি জীবনের অর্থহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং জীবনের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গভীর আলোচনা করে।
বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো সিসিফাস, গ্রিক পুরাণের এক বিখ্যাত নাম। সিসিফাসকে শা*স্তিস্বরূপ দেবতারা বিশাল একটি পা*থর পাহাড়ের চূ*ড়ায় ঠে*লে নিয়ে যেতে বা*ধ্য করেন। কিন্তু যতবারই সে পা*থরটিকে চূ*ড়ায় নিয়ে যেতে চায়, ততবারই সেটি গ*ড়িয়ে নিচে নেমে আসে। ফলে সিসিফাসকে একই কাজ বারবার করতে হয়, যা সে জানে কখনোই শেষ হবে না। এই চিরস্থায়ী ও অর্থহীন কাজের মধ্য দিয়েই ক্যামু জীবন*সং*গ্রা*মের দর্শন তুলে ধরেছেন। এই গল্প থেকে আপাতদৃষ্টিতে শেখার তেমন কিছু না থাকলেও, এর মধ্যেই লু*কিয়ে আছে গভীর জীবনবোধ।
জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা এবং তার অর্থহীনতা মেনে নেওয়া
ক্যামুর মতে, আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—‘জীবনের কি কোনো মানে আছে?’ এখান থেকেই তাঁর দর্শন শুরু। তিনি বলেন, জীবন অনেক সময় অর্থহীন মনে হতে পারে। আমাদের কাজ, সম্পর্ক, সাফল্য—সবকিছুই যেন কোনো চূ*ড়ান্ত লক্ষ্য ছাড়াই চলমান। সিসিফাসের মতো আমরাও জীবনের অর্থহীন কাজগুলো করে যাই।
তবে এই অর্থহীনতাকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই জীবনের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। অর্থ খোঁজার চেষ্টা বাদ দিয়ে যদি আমরা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মেনে নিই, তাহলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।
স্বাধীনতার ধারণা
ক্যামুর মতে, অর্থহীনতাকে মেনে নেওয়া মানেই জীবনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যখন আমরা বুঝতে পারি জীবনের কোনো পূর্বনির্ধারিত অর্থ নেই, তখন জীবনের মালিকানা আমাদের হাতেই চলে আসে। এটি আমাদের শেখায়, নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছাড়াও আমরা আমাদের জীবনকে যেভাবে চাই, সেভাবে পরিচালনা করতে পারি। সিসিফাস যেমন তার কাজের প্রতি বিদ্রোহ করেছে, তেমনি আমরাও নিজেদের স্বা*ধীনতা খুঁজে নিতে পারি।
সং*গ্রা*ম ও শক্তি
সিসিফাসের চিরস্থায়ী কাজ আমাদের শেখায়, জীবন কখনোই সহজ হবে না। প্রতিদিন আমাদের নতুন চ্যালেঞ্জ, বাধা ও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলোই আমাদের শক্তি জোগায়।
জীবনের প্রতিটি সং*গ্রা*ম আমাদের কিছু না কিছু শেখায়। একে এড়িয়ে না গিয়ে, বরং তা থেকে শক্তি এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করা উচিত।
নিজের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া
সিসিফাস জানে তার কাজ কখনোই শে*ষ হবে না, তবুও সে তার প*রি*ণতি মেনে নিয়েছে। জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে পালানোর কোনো উপায় নেই। এটি আমাদের শেখায়, জীবন সব সময় আমাদের ইচ্ছামতো চলবে না। আমাদের ভু*ল, সীমাবদ্ধতা এবং পরিস্থিতিকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই শক্তি অর্জিত হয়।
জীবনকে ভালোবাসা
সর্বশেষ সিসিফাস তার কাজকে ভালোবাসতে শেখে। এটি আমাদের শেখায়, জীবনের প্রতিটি কাজ, যত ছোট বা তু*চ্ছ মনে হোক না কেন, সেটি আমাদের জীবনেরই অংশ। [
ক্যামুর ‘দ্য মিথ অব সিসিফাস’ আমাদের শিখিয়ে যায়, জীবনের অর্থহীনতাই এর আসল সৌন্দর্য। সং*গ্রা*ম ও বি*দ্রো*হের মধ্য দিয়েই আমরা জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পাই।
লেখা: মুসাররাত আবির