যেদিন আপনি তিক্ত কথার জবাব না দিয়ে শুধু হেসে ফেলতে পারবেন, সেদিনই বুঝবেন আপনি নিজের সম্মান রক্ষা করতে শিখেছেন। মানুষ কথা বলবে আঘাত দিবে কিন্তু আপনি যদি নিজের শান্তি না হারান তাহলেই আপনি জয়ী।নিজের প্রতি ভালোবাসা আর আত্তসম্মান ধরে রাখা টা ই সব চেয়ে বড় শক্তি। তাই আপমান এর জবাব নয় একটা শান্ত হাসি দেন কারন সেটা ই দেখাবে আপনি এখন নিজের মনের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখেছেন।
পড়াশোনায় উন্নতি করার সেরা ১০ টি ট্রিকস
১। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠুন। ফলে আপনি অন্যদের বেশি সময় পাবেন পড়াশোনার জন্য।
২। প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু না কিছু শিখুন। এটি আপনাকে অন্যদের চেয়ে দিন দিন এগিয়ে নিয়ে যাবে।
৩। আগামীকাল কী পড়বেন তা আগের দিন প্ল্যান করে আলাদা খাতায় লিখে রাখুন এবং পরের দিন সেই প্ল্যান অনুযায়ী পড়ুন। ভাগ ভাগ করে পড়লে পড়তে ভালো লাগবে।(খাতার নাম দিতে পারেন "স্টাডি প্ল্যান খাতা")
৪। প্রতি সপ্তাহ ও মাসে কোন কোন সাবজেক্ট বা বই শেষ করবেন তা প্ল্যান করে খাতায় লিখে রাখুন। এতে করে দ্রুত কোনো বই বা সাবজেক্ট শেষ করতে পারবেন।
৫। কঠিন বিষয়গুলো প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়ুন এবং লিখে লিখে হালকা শব্দ করে পড়ার চেষ্টা করুন। এতে করে কঠিন বিষয়গুলো খুব ভালো করে শেখা হবে এবং বেশি দিন মনে থাকবে।
৬। যে কোনো বিষয়ে কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করে পড়ুন। নিজে নিজে না বুঝলে অন্যের সাহায্য নিন। না বুঝে কোনো কিছু মুখস্থ করবেন না এবং পড়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন।
৭। মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেইসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, ইমোতে কম সময় ব্যয় করুন। এতে করে আপনার পড়ায় বেশি সময় দিতে পারবেন।
৮। অযথা আড্ডা বা ঘুরাফেরা করে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আপনার মাথায় খারাপ ও অনর্থক চিন্তা কম আসবে এবং বেশি করে পড়ার সুযোগ পাবেন।
৯। প্রতিদিন আপনার স্বপ্নটাকে অন্তত সকাল, বিকাল, রাতে ঘুমানোর আগে একবার করে স্মরণ করুন। প্রয়োজনে আপনার স্বপ্নটিকে পড়ার টেবিলে উপর লিখে রাখতে পারেন। যেমন- " আমি বিসিএস ক্যাডার হবো", "আমি ব্যাংকার হবো"। এটি আপনাকে বেশি বেশি পড়তে উৎসাহ জোগাবে।
১০। নেতিবাচক চিন্তাশীল মানুষদের পরিহার করে চলুন এবং যতটুকু সম্ভব ইতিবাচক চিন্তাশীল মানুষদের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন। এর ফলে করে আপনার ভিতরে ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা জাগবে। কখনো হতাশ হবেন না। খারাপ সময়ে ধৈর্য ধারণ করে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করে যান। ভালো ফল পাবেন।
হাঁটা সহজ ব্যায়াম হলেও এর উপকারিতা অনেক গভীর এবং বিস্ময়কর।
হাঁটা ওজন বৃদ্ধির জিনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
হার্ভার্ড হেলথের তথ্য মতে হাঁটা শুধু সাধারণ সুস্থতার জন্যই নয় বরং আরও অনেক অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্য উপকার দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা দ্রুত হাঁটলে ওজন বাড়ার প্রবণতাসংক্রান্ত জিনের প্রভাব অর্ধেকে নেমে আসে। এই ফলাফল বারো হাজারেরও বেশি মানুষকে নিয়ে করা গবেষণায় পাওয়া গেছে।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে পনের মিনিট হাঁটলে মিষ্টি খাবার যেমন চকলেট খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে যায় বিশেষ করে যখন কেউ মানসিক চাপের মধ্যে থাকে।
এই ক্ষুদ্র কিন্তু শক্তিশালী পরিবর্তনগুলো দেখায় যে অল্প হাঁটাও অভ্যাসে পরিবর্তন আনে এবং সার্বিক সুস্থতা বাড়ায়।
আরও আছে। যারা প্রতি সপ্তাহে সাত ঘণ্টা বা তার বেশি হাঁটেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি চৌদ্দ শতাংশ কমে। হাঁটা জয়েন্ট ব্যথা কমায় এবং পেশি মজবুত করার মাধ্যমে আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
শীত এবং ফ্লু মৌসুমে নিয়মিত হাঁটা মানুষ তুলনামূলকভাবে কম অসুস্থ হয় এবং উপসর্গও হালকা থাকে কারণ হাঁটা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ হোক বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা কমানো, রোগের ঝুঁকি কমানো কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে সক্রিয় থাকা হাঁটা এমন এক ব্যায়াম যা সত্যিই আমাদের কাছে একটি প্রাকৃতিক আশ্চর্য ওষুধের মতো।
Source-: Harvard Health Publishing
এমন একটি রোবট যার প্রাণ আছে ও সে বংশবিস্তার করতে পারে!
এটি কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয়, এটি আধুনিক বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর বাস্তবতা! বিজ্ঞানীরা সৃষ্টি করেছেন এক অভূতপূর্ব ধরনের "জীবিত রোবট", যাদের নাম দেওয়া হয়েছে জেনোবট। এগুলি সম্পূর্ণ প্রাণী নয়, আবার সম্পূর্ণ রোবটও নয়, বরং দুয়ের মধ্যকার এক অসাধারণ সংমিশ্রণ।
➤ কীভাবে তৈরি হয় এই জীবন্ত যন্ত্র?
জেনোবট তৈরি করা হয়েছে আফ্রিকান নখরযুক্ত ব্যাঙের ভ্রূণীয় স্টেম সেল থেকে, যেখানে কোনো কৃত্রিম জিন পরিবর্তন করা হয়নি। এর সম্পূর্ণ কার্যপদ্ধতি নির্ভর করে শারীরিক গঠন এবং কোষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার উপর, কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ছাড়াই।
জেনোবট তার চলাফেরা এবং কাজের জন্য শক্তি পায় কোষের ভেতরে সঞ্চিত শক্তি থেকে। যদি হৃদপেশির কোষ ব্যবহার করা হয়, তবে কোষগুলির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এটি নড়াচড়া করে। আর যদি ত্বকের কোষ ব্যবহার করা হয়, তবে সিলিয়া নামক অতি ক্ষুদ্র লোমের সাহায্যে এটি ভেসে চলে।
➤ নিয়ন্ত্রণের অভিনব পদ্ধতি
জেনোবটকে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে পরিচালনা করা হয় না। বরং এর আকৃতিগত নকশা এবং পরিবেশগত পরিস্থিতির মাধ্যমেই এটি নিয়ন্ত্রিত হয়। বিজ্ঞানীরা কোষগুলিকে যে জ্যামিতিক আকারে সাজান, সেই বিন্যাসই নির্ধারণ করে দেয় এর আচরণ ও চলার পথ।
➤ আসল বিস্ময়: নিজেরাই সৃষ্টি করছে নতুন প্রাণ!
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক আবিষ্কার এলো ২০২১ সালে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করলেন যে জেনোবট একদম নতুন এক ধরনের স্ব-প্রজনন করছে! এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় "Kinematic Self-Replication", একটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক পদ্ধতি।
একটি পূর্ণাঙ্গ জেনোবট যখন "পেসার" হিসেবে কাজ করে, তখন এর বিশেষ আকৃতি ব্যবহার করে চারপাশের আলগা স্টেম সেলগুলিকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে একত্রিত করে এবং সেগুলিকে একটি নতুন ছোট্ট জেনোবটের মতো গোলাকার আকারে সংগঠিত করে দেয়।
➤ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বর্তমানে জেনোবট শুধুমাত্র পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ, এখনো মানবদেহে বা বাস্তব জগতে এর ব্যবহার শুরু হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তির মাধ্যমে অসংখ্য সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে: ক্ষত নিরাময় ত্বরান্বিত করা, পরিবেশ থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করা, ক্যান্সার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করা এবং শরীরের ভেতরে ওষুধ সুনির্দিষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।
➤ প্রশ্ন যা আমাদের ভাবায়
চিন্তা করে দেখুন, এমন এক যুগের দোরগোড়ায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বিজ্ঞান নিজের হাতে "জীবন" সৃষ্টি করছে, আর সেই জীবন নিজেরাই আবার নতুন জীবনের জন্ম দিচ্ছে!
এটি কি সত্যিকারের জীবন? নাকি এটি যন্ত্রের নতুন প্রজন্মের সূচনা? জীববিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির মধ্যকার সীমারেখা ক্রমশ মুছে যাচ্ছে, আর আমরা সাক্ষী থাকছি এক অবিশ্বাস্য বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের।
জেনোবট শুধু একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, এটি আমাদের দেখাচ্ছে যে জীবন এবং যন্ত্রের সংজ্ঞা হয়তো আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং বৈচিত্র্যময়।
অটোফ্যাজি” যার অর্থই হলো “নিজেকে খাওয়া”!
যখন আপনি দীর্ঘ সময় (১৪-২৪ ঘণ্টা) না খেয়ে থাকেন, তখন আপনার শরীর একটি আশ্চর্যজনক বায়োলজিক্যাল মোডে প্রবেশ করে। সে সময় শরীর নিজের পুরনো, নষ্ট, কিংবা অসুস্থ কোষগুলো “খেয়ে ফেলে” অর্থাৎ ভেঙে পুনর্ব্যবহার করে!
আর এই প্রক্রিয়ার নাম “অটোফ্যাজি” যার অর্থই হলো “নিজেকে খাওয়া”!
এতে কী হয় জানেন?
বয়সজনিত কোষ দূর হয়
প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষ পরিষ্কার হয়
এমনকি ক্যান্সার বা অ্যালঝেইমারের মতো রোগের কোষও নষ্ট করতে শুরু করে!
এই পুরো প্রক্রিয়াটা শরীরের একটা প্রাকৃতিক ডিটক্স সিস্টেম। কোষের ভেতরের আবর্জনা, খারাপ প্রোটিন, নষ্ট মাইটোকন্ড্রিয়া সব পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে শরীর ভিতর থেকে সতেজ হয়, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে।
এই অসাধারণ প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি, যিনি ২০১৬ সালে পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার।
আর সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে আপনি চাইলেই এই শক্তিশালী প্রক্রিয়াটি শুরু করতে পারেন শুধুই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করে!
শরীরকে ভিতর থেকে সারাতে চান? রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে চান?
তাহলে মাঝে মাঝে না খাওয়াটাই হতে পারে আপনার সুস্থতার চাবিকাঠি।
(সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে রোজা রাখা।)
আমাদের পেটের ভেতর যে “গরর গরর” শব্দ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Borborygmus .
এই শব্দটি তৈরি হয় যখন হজম প্রক্রিয়ার সময় গ্যাস ও তরল পদার্থ অন্ত্রের ভেতর দিয়ে নড়ে চলে। খাবার গিলে ফেলার সময় আমরা সামান্য বাতাসও পেটে নিয়ে যাই, আর হজমের সময় সেই বাতাস ও অন্ত্রের পেশির চলাচল মিলে এই বিশেষ শব্দের জন্ম দেয়।
এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক একটি প্রক্রিয়া যা শুধু ক্ষুধার সময় নয় হজম চলাকালেও শোনা যায়।
বিজ্ঞানীরা বলেন Borborygmus হলো দেহের এক ধরনের হজম সংকেত এটি জানায় যে আমাদের অন্ত্র এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে!
টুনা মাছের জীবন
টুনা মাছের জীবন যেন এক অবিরাম ছুটে চলা। তারা কখনও সাঁতার থামায় না—দিন, রাত, ঝড় কিংবা শান্ত সাগর, চলতেই থাকে তাঁদের অবিরাম সাঁতার কেটে যাওয়া। কারণ থেমে গেলে ফুলকার ভেতর দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, আর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে শ্বাস নেওয়ার পথ সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যাবে।
টুনার শরীর এমনভাবে গঠিত যে, ফুলকার মাধ্যমে অক্সিজেন পেতে হলে পানিকে চলমান থাকতে হবে। তাই বেঁচে থাকার জন্য তাদের সারাক্ষণ সাঁতার কাটতে হয়, যেন প্রতিটি মুহূর্তে ফুলকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় অক্সিজেনসমৃদ্ধ পানি।
সমুদ্রের গভীরে এই অনন্ত যাত্রা একরকম অস্তিত্বের প্রতীক—যেখানে থেমে যাওয়া মানেই মৃত্যু, আর চলতে থাকা মানেই জীবন।
বন্ধ্যা পুরুষ, উর্বর নারী: জো প্রজননের বিস্ময়কর ক্ষমতা
জো (Dzo) হলো এমন এক সংকর প্রাণী, যা ইয়াক এবং গৃহপালিত গরুর মিলনে জন্ম নেয়। এদের প্রধানত মধ্য এশিয়ায় ভারী বোঝা বহনকারী (Pack Animal) প্রাণী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মঙ্গোলিয়ান ভাষায় একে 'খাইনাগ' এবং ইংরেজিতে 'ইয়াকো' বা 'ইয়াটল' নামেও ডাকা হয়।
এই সংকর প্রাণীগুলি তাদের ইয়াক এবং গরু, উভয় পিতামাতার চেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং বড় হয়। যদিও পুরুষ জো (Dzo) প্রজননে অক্ষম বা বন্ধ্যা (Sterile), তবে স্ত্রী জো-কে 'জোমো' (Dzomo) বলা হয়, এবং তারা প্রজনন করতে পারে। জো ও জোমো দুধ ও মাংস উৎপাদনেও বেশি কার্যকর এবং এদের আদি পিতামাতার তুলনায় উঁচু ও শীতল আবহাওয়ায় সহজে কাজ করতে ও বাঁচতে পারে।
অ্যারাপাইমা আমাজনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
আমাজন নদীর গভীরতা থেকে উঠে আসা এক রহস্যময় ও শক্তিশালী প্রাণীর নাম হলো অ্যারাপাইমা। স্থানীয়ভাবে যা পিরারুকু (Pirarucu) নামে পরিচিত, এই বিশাল আকারের মাছটি শুধু এর আকারেই নয়, এর অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং বাস্তুতন্ত্রে এর গুরুত্বের কারণেও এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
অ্যারাপাইমাকে বিশ্বের বৃহত্তম মিঠাপানির মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়। এরা ৪ মিটার (প্রায় ১৩ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ওজন ২০০ কেজিরও বেশি হতে পারে।
অ্যারাপাইমার সবচেয়ে অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো এর বায়ু থেকে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা। এদের একটি বিশেষ ধরনের বায়ুথলি রয়েছে, যা ফুসফুসের মতো কাজ করে। এই কারণে, অ্যারাপাইমা নিয়মিতভাবে পানির উপরে উঠে বাতাস গ্রহণ করে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পরপর এদেরকে পানির উপরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এই অভিযোজন এদেরকে অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশে, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে, টিকে থাকতে সাহায্য করে। স্থানীয় জেলেরা এই শ্বাস নেওয়ার শব্দ শুনেই এদের অবস্থান শনাক্ত করে।
আয়নায় নিজের সঙ্গে কথা বলা, বা ‘মিরর টক’
আয়নায় নিজের সঙ্গে কথা বলা মানে নিজেকে প্রস্তুত করা। এটি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব গঠনের এক ধরনের প্রক্রিয়া।
ঘরের লম্বা আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির সঙ্গে অনর্গল কথা বলেন? নিজেকে বকাঝকা করা, নিজের প্রতি ভালবাসা জানানো, অথবা কোনও ভাষণ প্রস্তুত করা, কিংবা প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার আগে বার বার বলে দেখার কাজেও লাগে? কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, এমন অভ্যাসের কারণ কী?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো অদ্ভুত আচরণ নয়, বরং মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি স্বাভাবিক প্রবণতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়নার সামনে কথা বলা মূলত self-talk বা আত্ম-সংলাপের অংশ। এতে মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, চিন্তাগুলো গোছাতে পারে, এবং মানসিক চাপ কমায়। বিশেষ করে মেয়েরা নিজেদের চেহারা, আবেগ বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে আয়নাকে একধরনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে দেখে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, যদি এই অভ্যাস অতিরিক্ত হয়ে যায় বা আত্মনিন্দার রূপ নেয়, তা উদ্বেগ বা আত্মসম্মানজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। আয়নার সামনে কথা বলা বেশিরভাগ সময় ইতিবাচক মানসিক অনুশীলন, যা নিজেকে বোঝা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায়।
বন্ধুত্বে কুকুর, শক্তিতে নেকড়ে
ওলফডগ (Wolfdog) হলো নেকড়ে আর গৃহপালিত কুকুরের মিশ্র প্রজাতি। এই প্রাণীটি খুবই বিশেষ, কারণ এটি নেকড়ের শক্তি আর কুকুরের বন্ধুত্ব—দুটোই একসাথে বহন করে। অনেক বছর আগে থেকেই মানুষ ওলফডগ পালন করত। ইতিহাস বলে, ১৭৬৬ সালেই প্রথম ওলফডগ প্রজনন শুরু হয়েছিল! তখন তাদের ব্যবহার করা হতো কৃষিকাজে, পাহারায়, এমনকি সামরিক কাজেও। কিছু দেশে এগুলো চিড়িয়াখানায় প্রদর্শন করা হতো, কারণ তারা দেখতে অনেকটা বন্য নেকড়ের মতো হলেও মানুষের সাথেও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এখনো অনেকেই ওলফডগকে বুদ্ধিমান ও সাহসী সঙ্গী হিসেবে ভালোবাসে।
জলের ধারে চলমান চেয়ার: ক্যাপিবারা কেন সবার প্রিয়?
ক্যাপিবারা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইঁদুর (Rodent), যাকে দেখতে অনেকটা বিশাল আকারের গিনিপিগের (Guinea Pig) মতো লাগে। এদের বাসস্থান হলো দক্ষিণ আমেরিকার নদী ও জলাশয়ের তীরবর্তী অঞ্চলে। এদের শান্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের জন্য এরা এক বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। মজার ব্যাপার হলো, এদেরকে প্রায়ই 'চলমান চেয়ার' বা 'Moving Chairs' নামে ডাকা হয়। কারণ পাখি, খরগোশ, এমনকি বাঁদরের মতো অন্যান্য প্রাণীও প্রায়শই এদের পিঠের ওপর আরামে বসে থাকতে পছন্দ করে! এই শান্ত ও নিরীহ প্রাণীটি প্রমাণ করে যে, বন্ধুত্ব তৈরি করার জন্য আকার কোনো বাধা নয়।
করলা বা উচ্ছে ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি
তিক্ত স্বাদের কারণে অনেকের অপছন্দের তালিকায় থাকা করলা বা উচ্ছে আসলে এক অসাধারণ ঔষধি গুণসম্পন্ন সবজি। গবেষণায় দেখা গেছে, করলায় এমন কিছু প্রাকৃতিক যৌগ আছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে করলায় থাকা চারান্টিন ও মোমরডিসিন নামের উপাদান ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এজন্য এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে বহু দেশে প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া করলায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভার পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত করলা খেলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। তবে অতিরিক্ত করলা খাওয়া শরীরে রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে, তাই সীমিত পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।
স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, করলার তিক্ততার মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রাকৃতিক ওষুধের শক্তি যা সামান্য সচেতনতায় শরীরকে রাখতে পারে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
আপনার কথার মাঝখানে হুট করেই কেউ কথা বলে?
হুট করে কারও কথা কেটে দেওয়া অনেক সময় দ্রুত চিন্তাশক্তি, উদ্বেগ, বা আবেগপ্রবণতার কারণে হয়, এটা ইচ্ছে করে অসম্মান করার জন্য করে না।
কারও চিন্তা এত দ্রুত চলে যে কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, কারও ভয় থাকে, কথা না বললে নিজের ভাবনাটা ভুলে যাবে,
আর যাদের ADHD আছে, তাদের মাথায় এত দ্রুত চিন্তা আসে যে থামা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তাই কেউ মাঝপথে কথা কেটে দিলে রাগ না করে ভাবতে পারেন যে সম্ভবত সে অভদ্র নয়, বরং তার মস্তিষ্কটা আপনার চেয়ে একটু দ্রুত ছোটাছুটি করছে।
মহাকাশের আবর্জনা
স্পেস জাঙ্ক বলতে বোঝায় মানুষের তৈরি এমন যেকোনো জিনিস, যা বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরছে কিন্তু আর কোনো কাজে লাগে না। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে বর্তমানে প্রায় ৫০ লক্ষ টুকরো স্পেস জাঙ্ক মহাকাশে ভাসছে। এর মধ্যে রয়েছে রকেট এবং স্যাটেলাইটের ভাঙা অংশ, পুরনো যন্ত্রপাতি, এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নির্মাণ কাজের সময় হারিয়ে যাওয়া স্প্যানারের মতো সাধারণ জিনিসও।
এই আবর্জনাগুলি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘুরতে থাকে, যা সক্রিয় স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলা করা মহাকাশ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
রাগ বা ক্রোধের মুহূর্তগুলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে
এটা শুনতে অবাক লাগলেও, গবেষণায় দেখা গেছে যে তীব্র রাগ বা ক্রোধের একটি ছোটোখাটো মুহূর্তও আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দুর্বল করে দিতে পারে। যখন আমরা রেগে যাই, তখন আমাদের শরীর কয়েক ধরণের স্ট্রেস হরমোন যেমন: কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ করে। এই হরমোনগুলি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের লড়াই করতে অথবা পালানোর জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে তোলে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনগুলো রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলির কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে।
এর মানে হলো এই যে, একটি ছোটখাটো রাগের পর্বও আমাদেরকে শুধুমাত্র মানসিক চাপই নয় নতুন নতুন সংক্রমণের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। তাই, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শান্ত থাকার কৌশল শেখা কেবল আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: US Nation Library of Medicine (NLM).
ইন্ট্রোভার্ট বনাম এক্সট্রোভার্ট মস্তিষ্কের পার্থক্য কোথায়?
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের ব্যক্তিত্ব শুধু আচরণে নয়, মস্তিষ্কের গঠন ও রাসায়নিক ক্রিয়াতেও ভিন্নতা তৈরি করে। ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের পুরস্কার হরমোন এর প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে ধীর। ফলে তারা শান্ত পরিবেশ, একাকিত্ব বা সীমিত সামাজিক যোগাযোগে বেশি স্বস্তি পান।
অন্যদিকে, এক্সট্রোভার্টরা ডোপামিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তাই তারা মানুষের সঙ্গে মেশা, উৎসব বা জনসমাগমে তীব্র আনন্দ অনুভব করেন। গবেষকরা আরও জানান, ইন্ট্রোভার্টদের মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইলকোলিন সক্রিয় থাকে, যা মনোযোগ, চিন্তা ও গভীর বিশ্লেষণে সাহায্য করে।
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলেন, এই পার্থক্য জন্মগতভাবে মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিটের গঠন থেকে আসে। তাই ইন্ট্রোভার্ট ও এক্সট্রোভার্ট, উভয় ধরণের মস্তিষ্কই ভিন্ন উপায়ে সাফল্য ও সুখ খুঁজে নেয়।
সূত্র: Frontiers in Human Neuroscience
হাতির পরিবার মাতৃতান্ত্রিক
স্ত্রী হাতিকে শুধু “দলের সদস্য” বললে ভুল হবে। পুরো হাতির সমাজ যেন ঘুরে বেড়ায় তার অভিজ্ঞতা স্মৃতি ও সিদ্ধান্তের ওপর। এই কারণেই একটি হাতির পরিবারকে বলা হয় মাতৃতান্ত্রিক দল। যেখানে নেতৃত্ব দেন সবচেয়ে বয়স্ক সবচেয়ে জ্ঞানী স্ত্রী হাতি যাকে বলে ম্যাট্রিয়ার্ক।
এই ম্যাট্রিয়ার্কই ঠিক করে দেয় দল কখন চলবে কোথায় পানি পাওয়া যাবে কোন পথ নিরাপদ আর কোন জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে।
হাতিদের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি থাকে বছরের পর বছর ধরে খরা নদীর পথ, শিকারির আক্রমণ
সবকিছু তার মস্তিষ্কে জমা থাকে মানচিত্রের মতো।
বিপদের মুহূর্তে পুরো দল তার দিকে তাকিয়ে থাকে আর সে এক বিশেষ ধরনের ডাক বা শরীরভঙ্গি দিয়ে সবাইকে দিকনির্দেশনা দেয়।
শিশু হাতিদের লালনপালনেও এই ম্যাট্রিয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলের অন্য স্ত্রী হাতিরাও যুক্ত হয় যেন পুরো দলটাই শিশুদের “সমষ্টিগত মা”।
এই ব্যবস্থাটাই হাতির সমাজকে দেয় টিকে থাকার শক্তি ঐক্যের শিকড় আর বেঁচে থাকার বহু প্রজন্মের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা।
Source: National Geographic .
রেইনবো জালে ঢেকে ফসল বাঁচায় জাপান!"
জাপানের কৃষকরা বহু বছর ধরেই এমন কিছু পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছেন, যেগুলো ফসলকে রক্ষা করে কিন্তু প্রকৃতির কোনো ক্ষতি করে না। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এক উদ্ভাবন হলো—ফসলের বেড বা জমির উপর রঙিন জাল (রেইনবো মেশ) বিছানো। প্রথম দেখায় এটি শুধু সুন্দর মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে কার্যকর বৈজ্ঞানিক কারণ।বিভিন্ন রঙের জাল যেমন লাল, নীল, সবুজ, বা হলুদ—পোকামাকড়ের আচরণ ও দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, হলুদ রঙের প্রতি সাদা মাছি ও এফিড খুব আকৃষ্ট হয়, তাই কৃষকরা এই তথ্য জেনে ফাঁদ তৈরিতে বা রঙ বাছাইয়ে কৌশল ব্যবহার করেন। আবার কিছু নির্দিষ্ট রঙ পোকামাকড়কে বিভ্রান্ত করে দেয় বা তাদের ফসলের কাছে আসতে নিরুৎসাহিত করে।এই রঙিন জাল কেবল রঙের প্রভাবে নয়, শারীরিক সুরক্ষার কাজেও দারুণ কার্যকর। এটি পোকামাকড়ের ফসলের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ আটকায়, ফলে সংক্রমণ ও ক্ষতির ঝুঁকি কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বহুরঙা এই মেশ ব্যবহারে থ্রিপস, হোয়াইটফ্লাই ও এফিডের আক্রমণ ৬০–৭০% পর্যন্ত হ্রাস পায়।সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এই জাল সম্পূর্ণ বিষমুক্ত, ফলে এটি জৈব কৃষি ও সমন্বিত পোকা ব্যবস্থাপনা (IPM)-এর সঙ্গে একদম সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে শুধু ফসলই নয়, মাটির গুণগত মান ও আশপাশের জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকে।প্রকৃতি, ঐতিহ্য আর প্রযুক্তির নিখুঁত মিশ্রণ—এই কথাটাই যেন জাপানি কৃষি উদ্ভাবনের সারাংশ। তাদের এই “রেইনবো মেশ ফার্মিং” কৌশল প্রমাণ করে, বিজ্ঞান আর সচেতনতা মিলেই গড়ে উঠতে পারে টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যতের কৃষি।
পানি ছাড়াই সারা জীবন বেঁচে থাকতে পারে!
জেরেনুক হলো পূর্ব আফ্রিকার শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলের এক আশ্চর্য সুন্দর হরিণজাতীয় প্রাণী।
এর বিশেষত্ব হলো এটি সারা জীবন এক ফোঁটা পানি না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে!
জেরেনুক তার প্রয়োজনীয় সব আর্দ্রতা পায় গাছের পাতা ও কুঁড়ি থেকে। আশ্চর্যের বিষয়, এটি পেছনের দুই পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যাতে উঁচু গাছের ডালেও সহজে পৌঁছে যায় যেখানে অন্য তৃণভোজীরা যেতে পারে না।
এর সরু নাকের গঠন এমনভাবে তৈরি যে শ্বাস নেওয়ার সময় পানির ক্ষয় কম হয়।
আর কিডনি এমনভাবে কাজ করে যে প্রস্রাব হয় অত্যন্ত ঘন যেন শরীরের আর্দ্রতা একটুও নষ্ট না হয়।
এইসব অবিশ্বাস্য অভিযোজনই জেরেনুককে বানিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষ মরু-বাসী তৃণভোজীদের একজন।
কাঠবিড়ালির দাঁত কখনো থামে না!
কাঠবিড়ালিকে দেখেছেন তো? সারাক্ষণ কিছু না কিছু খুঁটছে, কামড়াচ্ছে বা খাচ্ছে!
ভাবছেন, ওরা কি এতই ক্ষুধার্ত?
আসলে এর পেছনে আছে দারুণ এক রহস্য!
কাঠবিড়ালির সামনের দাঁত সারাজীবন ধরে বাড়তেই থাকে — একটুও থামে না!
তাই দাঁত যাতে বেশি বড় না হয়ে যায়, সেজন্য ওদের সবসময় কিছু না কিছু কামড়াতে হয় — বাদাম, ডাল, কাঠ, এমনকি ফলের খোসাও!
যদি কাঠবিড়ালি কিছু না কামড়ায়, তাহলে দাঁত এত লম্বা হয়ে যায় যে,
মুখ বন্ধ করতে পারে না, খেতে পারে না,
এমনকি ক্ষুধায়ও মারা যেতে পারে!
বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
আমাদের অনেকেই ভাবি, স্ট্রোক তো হঠাৎই হয়! কিন্তু জানেন কি, বাথরুমে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি? চলুন সহজভাবে বুঝে নিই কারণগুলো—
১. টয়লেটে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া,কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে অনেকেই জোরে চাপ দেন। এতে শরীরে Valsalva Maneuver নামে একটা অবস্থা তৈরি হয়,পেটে চাপ পড়ে, রক্তনালীর চাপ বেড়ে যায়, আর রক্তচাপ হঠাৎ ৩০-৫০ mmHg পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে দুর্বল রক্তনালী ফেটে স্ট্রোক হতে পারে।
২. গরম পানিতে গোসল,গরম পানি রক্তনালী প্রসারিত করে, ফলে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে "ইস্কেমিক স্ট্রোকের" ঝুঁকি বাড়ে।বিশেষ করে শীতকালে এটা বেশি ঘটে।
৩. একা থাকা ও দেরিতে সাহায্য পাওয়া,বাথরুমে আমরা সাধারণত একাই থাকি। স্ট্রোক হলে তখন কেউ টের পায় না। ফলে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়, যা মৃত্যুহার বাড়ায়।
কীভাবে বাঁচবেন এই ঝুঁকি থেকে:
১.কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলুন — ফাইবারযুক্ত খাবার খান (ডাল, শাকসবজি, ফল)।
২.টয়লেটে জোরে চাপ দেবেন না, সময় নিয়ে ধীরে করুন।
৩.গরম পানিতে ১০ মিনিটের বেশি গোসল করবেন না।
৪.বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য বাথরুমে সাহায্যকারী রাখুন।
৫.রক্তচাপ নিয়মিত পরিমাপ করুন।
সংক্ষেপে বলি:
স্ট্রোক সব জায়গায় হতে পারে, কিন্তু বাথরুমে ঝুঁকি বেশি কারণ সেখানে শরীরে চাপ বাড়ে, গরম পানি রক্তচাপ কমায়, আর সাহায্য পেতে দেরি হয়।
বিজ্ঞান বলছে, সচেতন থাকলে ৮০% স্ট্রোক প্রতিরোধ করা যায়। তাই একটু সতর্ক থাকলেই বাঁচানো যায় একটি জীবন।
সূর্যালোক
সকালের সূর্যালোক শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য বেশ উপকারী, এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি কফির চেয়েও বেশি প্রাকৃতিকভাবে “উজ্জীবিত” প্রভাব দিতে পারে।
সূর্যালোক মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামের “হ্যাপি হরমোন” উৎপাদন বাড়ায়, যা মন ভালো রাখে, ফোকাস বাড়ায় ও মানসিক শক্তি জোগায়।
সকালে আলো পেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি ঠিকভাবে কাজ করে। এতে ঘুমের মান ভালো হয়, ফলে দিনে মনোযোগ ও শক্তি বৃদ্ধি পায়।
সূর্যালোকের UVB রশ্মি ত্বকে ভিটামিন D তৈরি করে, যা হরমোনের ভারসাম্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।অন্যদিকে, সূর্যালোক শরীরের প্রাকৃতিক শক্তি উৎপাদন ও মনোভাবের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মায়ের শরীরে সন্তানের কোষ সারাজীবন থাকে
গর্ভাবস্থায় মা এবং সন্তানের মধ্যে শুধু খাবার আর অক্সিজেনই আদান প্রদান হয় না। তাদের কোষও একে অপরের শরীরে প্রবেশ করে।
সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কিন্তু কোষগুলো থেকে যায়। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, মায়ের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এমনকি ত্বকেও ছড়িয়ে থাকে সন্তানের কোষ। কখনো কখনো মৃত্যু পর্যন্ত।
এই ঘটনাকে বলা হয় মাইক্রোচিমেরিজম। গ্রিক পুরাণের কাইমেরা নামক প্রাণীর মতো, যার শরীরে ছিল বিভিন্ন প্রাণীর অংশ।
আরও অবাক করা বিষয় হলো, এই বিদেশি কোষগুলো নিষ্ক্রিয় নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের শরীরে কোনো ক্ষত হলে সন্তানের কোষগুলো সেখানে ছুটে যায় এবং সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। মায়ের হৃদরোগ হলে সন্তানের কোষ হৃদযন্ত্রের টিস্যু মেরামতে অংশ নেয়।
প্রকৃতি যেন নিশ্চিত করতে চায়, মা এবং সন্তানের বন্ধন শুধু আবেগের নয়, শারীরিকভাবেও তারা চিরকাল সংযুক্ত।
মাতৃত্ব আসলেই এক অলৌকিক বিজ্ঞান।
শারীরিক স্পর্শ আমাদের শরীর এবং মনের উপর প্রভাব ফেলে
বিজ্ঞান এবং অসংখ্য গবেষণায় বারবার এটি নিশ্চিত হয়েছে যে শারীরিক স্পর্শ যেমন আলিঙ্গন, হাত ধরে থাকা, আমাদের শরীর এবং মনের উপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্পর্শ, বিশেষ করে থেরাপিউটিক ম্যাসেজ বা সহানুভূতিশীল স্পর্শ, মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক পদার্থ (যেমন এন্ডোরফিন) নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ব্যথার অনুভূতি কমাতে পারে।
এটি স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। একই সাথে, এটি অক্সিটোসিন যা "ভালোবাসার হরমোন" বা "বন্ডিং হরমোন" নামে পরিচিত, তার নিঃসরণ বাড়ায়। অক্সিটোসিন শান্ত ও নিরাপত্তা বোধ তৈরি করে।
মানুষের সাথে নিরাপদ এবং সহানুভূতিশীল শারীরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্বের অনুভূতি মোকাবিলা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সামাজিক সংযোগের বোধ বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত স্পর্শ এবং ইতিবাচক সম্পর্ক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করতে পারে।
অত্যাশ্চর্য তথ্য
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের জিহ্বা ৫টি মৌলিক স্বাদ শনাক্ত করতে পারে - মিষ্টি (sweet) টক (sour) নোনতা (salty) তেতো (bitter) এবং তুলনামূলক নতুন আবিষ্কৃত স্বাদ উমামি (umami)।
“উমামি” শব্দটি এসেছে জাপানি ভাষা থেকে যার অর্থ সুখকর সুস্বাদু স্বাদ। এটি মূলত প্রোটিনজাত অ্যামিনো অ্যাসিড গ্লুটামেটের স্বাদ যা মাংস, পনির, টমেটো, বা সয়া সসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ উমামিই আমাদের বলে দেয় এই খাবারটি প্রোটিনে ভরপুর শরীরের জন্য উপকারী!
আশ্চর্যের বিষয় হলো প্রতিটি স্বাদের জন্য আলাদা অঞ্চল নয় বরং পুরো জিহ্বা জুড়েই স্বাদ গ্রহণক্ষমতা ছড়িয়ে থাকে।
যখন আমরা কিছু খাই তখন স্বাদ, গন্ধ, তাপমাত্রা ও টেক্সচার সব মিলেই তৈরি করে এক অনন্য ফ্লেভার অভিজ্ঞতা!
Source: Harvard University, Journal of Sensory Studies .
মুখের কোন স্থানে কেন ব্রণ হয়: জানুন এর বৈজ্ঞানিক কারণ
ব্রণ শুধু সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতারও ইঙ্গিত দেয়। মুখের নির্দিষ্ট স্থানে ব্রণ ওঠার পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ কাজ করে, যা অনেক সময় শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
চলুন আজ জেনে নিই সাধারনত মুখের কোন অংশে ব্রন কোন কারনে হয়ে থাকে;
কপালে ব্রণ সাধারণত মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত স্ট্রেসের কারণে হয়। মানসিক অস্থিরতা, ঘুমের অভাব ও কাজের চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ত্বকে ব্রণ দেখা দেয়।
গালের ব্রণ অনেক সময় হজমের সমস্যা বা এসিডিটির ফল। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা শরীরে টক্সিন জমে গেলে রক্তের মাধ্যমে তার প্রভাব ত্বকে পড়ে, বিশেষ করে গালের অংশে ছোট ছোট ফুসকুড়ি দেখা দেয়।
অন্যদিকে, থুতনিতে ব্রণ সাধারণত হরমোনজনিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের সময় বা হরমোন ওঠানামার ফলে থুতনির অংশে ব্রণ দেখা দেয়।
ত্বকের যত্ন নিতে হলে কেবল বাহ্যিক নয়, ভেতর থেকেও যত্ন জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখলে ব্রণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শামুকের মুখে ১০,০০০ দাঁত? রহস্যময় ‘রেডুলা’ কী?
শুনে অবাক লাগলেও, শামুকের দাঁত আছে! তবে মানুষের মতো সারি সারি দাঁত নয়। এদের মুখে প্রায় ১,০০০ থেকে ১২,০০০ পর্যন্ত দাঁত থাকতে পারে। এই দাঁতগুলি এদের ফাইল-এর মতো দেখতে জিহ্বা, যাকে 'রেডুলা' (Radula) বলা হয়, তার উপর সজ্জিত থাকে।
এই দাঁতগুলি অতিক্ষুদ্র এবং এদের কাজ হলো খাবারকে চেবানো নয়, বরং একটি রেতির মতো ব্যবহার করে গাছের পাতা বা অন্যান্য খাদ্যবস্তুকে ঘষে তুলে নেওয়া। যখন শামুক খায়, তখন রেডুলা সামনে-পিছনে নড়াচড়া করে এবং এই হাজার হাজার দাঁত কঠিন খাবারকেও গুঁড়ো করে দেয়। তাই, খাদ্যবস্তু চূর্ণ করার জন্য এর একটি অত্যাধুনিক এবং শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে।
নারী সন্তান জন্মের পর সুস্থতা
অনেক দিন ধরে বলা হতো, একজন নারী সন্তান জন্মের পর প্রায় "৬ সপ্তাহেই পুরোপুরি সেরে ওঠেন", কিন্তু আধুনিক গবেষণা এখন দেখাচ্ছে যে বিষয়টি এত দ্রুত নয়।
গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের সময় নারীর শরীর, হরমোন, পেশি, অস্থি, রক্তচাপ, ঘুমের ধরণ,সবকিছুই গভীরভাবে পরিবর্তিত হয়।এসব পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে গড়ে ১ থেকে ২ বছর সময় লাগতে পারে।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,
পেলভিক মাংসপেশি পুনরুদ্ধার হতে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত লাগে।হরমোনের ভারসাম্য স্থিতিশীল হতে প্রায় ১ বছর লাগে।
চুল পড়া, ত্বকেরপরিবর্তন, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক অবসাদ এসব প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।
২০১৪ সালে Harvard Medical School এবং University of Texas এর গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থার পর নারীর দেহের অস্থি, রক্তনালী, এবং মস্তিষ্কের কিছু পরিবর্তন ১৮ মাস বা তার বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে।
৬ সপ্তাহে শুধু প্রাথমিক শারীরিক সুস্থতা ফিরে আসে কিন্তু সম্পূর্ণ ঠিক হতে ১-২ বছর পর সময় লাগে। @Mind & Science Zone
জীবজগতে সবচেয়ে শক্তিশালী বিষের অধিকারী: ইরুকাঞ্জি
ইরুকাঞ্জি জেলিফিশ হলো এক ধরনের বক্স জেলিফিশ, যা দেখতে প্রায় অঙ্গুষ্ঠের নখের মতো ছোট এবং প্রায় স্বচ্ছ হওয়ায় এটিকে জলে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই ক্ষুদ্র প্রাণীটি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিষগুলির মধ্যে একটি বহন করে।
এর বিষের আক্রমণে 'ইরুকাঞ্জি সিনড্রোম' (Irukandji Syndrome) নামক এক মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হয়। এর ফলে তীব্র ব্যথা, বমি, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
মূলত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী উষ্ণ জলেই এদের দেখা মেলে। সাগরের এই অদৃশ্য আতঙ্কটি আকারে ছোট হলেও এর মারাত্মক ক্ষমতা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সামুদ্রিক প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে
অত্যাশ্চর্য তথ্য: অক্টোপাসের ৯টি মস্তিষ্ক
অক্টোপাস পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ও বুদ্ধিমান সামুদ্রিক প্রাণীগুলোর একটি। আশ্চর্যের বিষয় হলো এর প্রতিটি বাহুর ভেতরেই থাকে একটি করে ‘ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক’!
বিজ্ঞানীরা জানান একটি পূর্ণবয়স্ক অক্টোপাসের মোট ৯টি মস্তিষ্ক থাকে একটি কেন্দ্রীয় মস্তিষ্ক এবং বাকি আটটি ছড়িয়ে থাকে প্রতিটি বাহুর ভেতরে। প্রতিটি বাহুর নিজস্ব স্নায়ুতন্ত্র (neural network) এতটাই উন্নত যে তা প্রায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে! অর্থাৎ, কোনো বাহু খাবার ধরতে গর্তে ঢুকতে বা বিপদ থেকে পালাতে পারে কেন্দ্রীয় মস্তিষ্কের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই।
আরও অবাক করা বিষয় হলো এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্কগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে অক্টোপাসকে করে তোলে চূড়ান্ত বুদ্ধিমান দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল এবং অভিযোজিত এক প্রাণী। এজন্যই অক্টোপাসকে বিজ্ঞানীরা বলেন “distributed intelligence”-এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ ।
Source: National Geographic, Scientific American .
ঘুমে হাঁটা মানুষ কী দেখে? এক নিঃশব্দ যাত্রা
রাতের গভীর নীরবতায়, সবাই ঘুমে ঢলে পড়ে, অথচ কারও কারও শরীর তখনও জেগে থাকে।
চোখ আধো-বন্ধ, মন অচেতন, কিন্তু পা চলছে এক অদ্ভুত নীরব নির্দেশে। এ যেন দেহ জেগে আছে, কিন্তু আত্মা ঘুমিয়ে।
এই ঘটনাকেই বলে সোমনামবুলিজম, বা Sleepwalking।
মানুষ তখন হাঁটে, দরজা খোলে, কখনও কথা বলে কিন্তু কিছুই মনে থাকে না। যেন অবচেতন মনের গভীরে লুকানো এক ছায়া তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, ঘুমের নির্দিষ্ট এক পর্যায়ে Non-REM sleep যখন মস্তিষ্ক বিশ্রামে থাকে, তখন শরীরের মোটর সিস্টেম হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মানুষ চলতে শুরু করে, অথচ মস্তিষ্ক জানে না সে কোথায় যাচ্ছে।
আর রহস্য এখানেই,এই সময় তারা কিছু “দেখে” না, কিন্তু অবচেতনে অনুভব করে কোনো চাপা স্মৃতি, ভয়, বা অসমাপ্ত ইচ্ছা।
যেন ঘুমের ভেতরেও মন নিজের অসমাপ্ত গল্পগুলো বলতে চায়, হাঁটতে হাঁটতে।
একজন ঘুমন্ত মানুষ যখন হাঁটে, সে আসলে নিজের ভেতরের অজানা জগতে চলেছে,যেখানে বাস্তব আর স্বপ্নের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায়।
অবচেতন মনই তখন দিক নির্দেশ করে, আর মানুষ হয়ে ওঠে নিজেরই এক ছায়া,চলমান, কিন্তু নিঃশব্দে বন্দি এক রহস্যের মধ্যে।
চিনি বন্ধ করলে শরীরে কী ঘটে?
চিনি আমাদের শরীরের দ্রুত শক্তির উৎস, কিন্তু অতিরিক্ত খেলে তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ চিনি খাওয়া বন্ধ করলে শরীরে প্রথম কয়েকদিন কিছু অস্বস্তি দেখা দেয়। কারণ মস্তিষ্ক চিনি থেকে পাওয়া ডোপামিন নামের সুখ-হরমোনের অভাবে বিরক্তি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা মন খারাপের মতো উপসর্গ তৈরি করে। এটাকে বলা হয় sugar withdrawal।
প্রথম সপ্তাহে:
রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা কমে যায়, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে হঠাৎ ক্ষুধা বা মিষ্টির আকাঙ্ক্ষা কমতে শুরু করে। অনেকে শুরুতে কিছুটা অবসন্নতা বা মনোযোগের ঘাটতি অনুভব করতে পারেন।
দুই সপ্তাহ পর:
শরীরের শক্তি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়, ঘুমের মান উন্নত হয়, ত্বক পরিষ্কার হয় এবং প্রদাহ কমে। লিভার ও হজমতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
এক মাস পর:
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত চিনি না খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, দাঁতের ক্ষয় ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
পরামর্শ:
চিনি হঠাৎ সম্পূর্ণ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমানো ভালো। ফলের মতো প্রাকৃতিক মিষ্টিজাত খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ পেতে পারে।
ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত মহামারী : নৃত্য মহামারী(Dancing Plague)
মানব ইতিহাসে এমন একটি মহামারী ছিল যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় এক অপ্রতিরোধ্য নৃত্যের মাধ্যমে। চিকিৎসা বিজ্ঞান আজও অনিশ্চিত, কেন এটি ঘটেছিল।
১৫১৮ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি, স্ট্রাসবুর্গে এক কাজের নারী ফ্রাউ ট্রফেয়া হঠাৎ রাস্তায় বেরিয়ে নাচতে শুরু করেন কোনো সঙ্গীত, কোনো উৎসব বা কারণ ছাড়াই। তাঁর শরীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে, অবিরাম ঝাঁপ ও মোচড়ে অস্থির। এর পরের কয়েক দিনে ৩৪ জন, এক সপ্তাহে শতাধিক, এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ এই অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত হয়। নর্তকীদের পা ফেটে রক্ত ঝরত, পোশাক ঘামে ভিজে যেত, অনেকে ক্লান্তিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ত, কিন্তু শরীর থেমে থাকত না। অন্তত ৩৪ জন হৃদরোগ বা স্ট্রোকে মারা গিয়েছিল বলে গণনা করা হয়। চিকিৎসক এবং যাজকরা সবাই ব্যর্থ, এর কোনো প্রতিকার ছিল না।
শহরের কর্তৃপক্ষ একটি অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে: তারা সঙ্গীত এবং সংগঠিত নৃত্যের মাধ্যমে রোগীদের নিরাময় করার চেষ্টা করে। তাই তারা সারা শহরে বাদ্যযন্ত্রীদের দল এবং নৃত্য মঞ্চ স্থাপন করে। তবে এই হস্তক্ষেপের ফলাফল প্রত্যাশার বিপরীত হয়েছিল। নৃত্যের উন্মাদনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, আরও মানুষ আক্রান্ত হয়, এবং সামাজিক মনোযোগ রোগকে আরও তীব্র করে তোলে। শহরের সামাজিক কাঠামো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, এবং মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে।
আজও ইতিহাসবিদরা এর প্রকৃত কারণ নিয়ে অনিশ্চিত। কেউ বলেন এটি ছিল সম্মিলিত মানসিক রোগ-দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ এবং ধর্মীয় ভয়ে বিধ্বস্ত সমাজে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। অন্যরা মনে করেন, এরগট (Ergot) নামের বিষাক্ত ছত্রাক দায়ী ছিল, যা শস্যে জন্মায় এবং মানসিক বিভ্রম ঘটায়। কেউ কেউ এটিকে সামাজিক পরামর্শের শক্তি হিসেবেও দেখেন যে এটিএকটি সংক্রামক নৃত্য মহামারী। সত্য সম্ভবত সবগুলির সংমিশ্রণেই নিহিত।
১৫২০ সালের দিকে এই অসাধারণ ঘটনা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। স্ট্রাসবুর্গ স্বাভাবিকতা ফিরে পায়, কিন্তু ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দাগ রেখে যায়। এই ঘটনা আমাদের দেখায় যে মানুষের মন এবং সমাজ কত অপ্রতিরোধ্য হতে পারে, এক সময় যখন মানুষ রোগে নয়, নৃত্য উন্মাদনায় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় এবং কেউ জানে না কেন।
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া,
এক ধরনের মানসিক ও আচরণগত ব্যাধি যেখানে ব্যক্তি নিজের চুল টানার অপ্রতিরোধ্য প্রবণতা অনুভব করে। মাথার চুল, ভ্রু, চোখের পাপড়ি, বা শরীরের অন্যান্য অংশের চুলও হতে পারে।
সাধারণত এই প্রবণতা চাপ, উদ্বেগ, একাকীত্ব বা মানসিক অস্থিরতার সময় বেড়ে যায়।চুল টানার পর অল্প সময়ের জন্য আরাম বা স্বস্তি অনুভব করা যায়, কিন্তু পরে অনেক সময় দুঃখ বা অপরাধবোধ তৈরি হয়।
এটি একধরনের Impulse Control Disorder, অর্থাৎ নিজের ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা সংক্রান্ত সমস্যা।
চিকিৎসা হিসেবে সাধারণত কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT) ব্যবহৃত হয়, যা এই আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আগুন ওজনহীন নয় - আগুনের ওজন আছে!
আগুন দেখতে হালকা, ভাসমান মনে হয়, কিন্তু জানেন কি? আগুনের আসলেই ওজন আছে!
আমরা মনে করি আগুন ওজনহীন কারণ এটা উপরের দিকে ওঠে। কিন্তু আসলে আগুন উপরে ওঠে না নিজে থেকে - এটাকে গরম বাতাস ঠেলে উপরে তুলে দেয়। মাধ্যাকর্ষণ থাকলে আগুনের শিখা উপরে ওঠে, কিন্তু মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ নেই বলে আগুন গোলাকার হয়ে যায় এবং ভাসতে থাকে।
আগুন আসলে একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া - জ্বলন প্রক্রিয়া। যখন কিছু পোড়ে, তখন জ্বালানি (কাঠ, কাগজ, গ্যাস) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো তৈরি করে। এই বিক্রিয়ায় তৈরি হয় কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, এবং অন্যান্য গ্যাস। আর এই গ্যাসগুলোর ওজন আছে!
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, একটা মোমবাতি জ্বালালে সেই আগুনের প্লাজমা (আয়নাইজড গ্যাস) এবং জ্বলন্ত গ্যাসের ওজন মাপা যায়। যদিও খুবই হালকা - মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম - কিন্তু ওজন আছে!
মজার ব্যাপার হলো, আগুন আসলে একটা প্লাজমা অবস্থা। পদার্থের চারটা অবস্থা আছে - কঠিন, তরল, গ্যাস আর প্লাজমা। আগুন হলো গ্যাস আর প্লাজমার মিশ্রণ। এই প্লাজমায় আছে ইলেকট্রন, আয়ন, এবং গরম গ্যাস কণা - যাদের সবার ওজন আছে।
তাহলে কেন আমরা মনে করি আগুন ওজনহীন? কারণ জ্বলনের ফলে তৈরি গরম গ্যাস আশেপাশের ঠান্ডা বাতাসের চেয়ে হালকা, তাই উপরে ওঠে। এটা দেখে মনে হয় আগুন ভারহীন। কিন্তু বাস্তবে আগুনের প্রতিটি কণার ভর আছে, তাই ওজনও আছে।
নিয়মিত বাদাম খাওয়া মস্তিষ্কের বার্ধক্য কমায়, নতুন গবেষণার চমকপ্রদ ফলাফল!
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন বাদাম খেলে মস্তিষ্কের বার্ধক্য প্রায় দুই বছর কমানো সম্ভব। গবেষকরা বলছেন, বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষকে সুরক্ষা দেয়, প্রদাহ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। ফলে স্মৃতি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি ধরে রাখা সহজ হয়।
গবেষণাটি কয়েক হাজার ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। যারা নিয়মিত বাদাম খান, তাদের বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা জ্ঞানহ্রাসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে, তাই পরিমিত খাওয়া জরুরি।
ডায়বেটিসের জন্য কি আসলে চিনিই দায়ী? চিনি এবং ডায়াবেটিস: একটি অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক
বিশ্বব্যাপী প্রতি দশ সেকেন্ডে একজন মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণে গুরুতর জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এই রোগের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আমরা যা বিশ্বাস করি তার বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ভুল। চিনি এটি করে না অথবা, অন্তত সম্পূর্ণ গল্পটি এটি নয়।
মানবদেহে দুটি ভিন্ন ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলি ধ্বংস করে। এ ক্ষেত্রে চিনি সম্পূর্ণ নির্বিষ। কিন্তু টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্য গল্প ,শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, কিন্তু কোষগুলি তা গ্রহণ করে না। এটাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়, এবং এখানেই চিনির ভূমিকা শুরু।
ক্রমাগত অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শরীরে চর্বি জমা হয়। এই চর্বি ইনসুলিন রিসেপ্টরগুলিকে ব্লক করতে শুরু করে, ফলে ইনসুলিন আর কাজ করতে পারে না। অগ্ন্যাশয় এই সমস্যার সমাধান করতে আরও বেশি ইনসুলিন তৈরি করে, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বছরের পর বছর এই চাপে অগ্ন্যাশয় ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তখনই ডায়াবেটিস।
চিনি আসলে একক অপরাধী নয়। মোটাপন, নিষ্ক্রিয়তা, স্ট্রেস এবং জিনগত প্রবণতা সবকিছুই একসাথে কাজ করে। চিনি শুধু সবচেয়ে দৃশ্যমান এবং সবচেয়ে মিষ্টি ভূমিকা পালন করে। সমাধান সহজ: চিনি সম্পূর্ণ এড়ানো অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু অপরিমিত গ্রহণ সবচেয়ে বিপজ্জনক। সংযম এবং সচেতনতা এটাই আপনার স্বাস্থ্যের সেরা রক্ষক।
কাঁচা লবণ খাওয়া কি ক্ষতিকর?
কাঁচা লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্ষতি, হৃদরোগ, পেটে ক্যান্সার, স্থূলতা এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে. অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই পরিমিত পরিমাণে লবণ গ্রহণ করা এবং কাঁচা লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলাই উত্তম।
কাঁচা লবণ খাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব:
অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়ায়, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। কিডনিকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ফিল্টার করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির কার্যকলাপের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিডনি ফেইলিওর বা কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ পেটের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
যদিও লবণ ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, অতিরিক্ত
লবণ খেলে শরীরে পানি জমতে পারে, যা ওজন বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ শরীর থেকে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে পারে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি করতে পারে।
কাঁচা লবণ খেলে পেটে জ্বালাপোড়া হতে পারে।
সতর্কতা:
খাবারে অতিরিক্ত লবণ ছিটিয়ে খাওয়া পরিহার করুন।
বাইরের খাবার, যাতে অতিরিক্ত লবণ থাকে, যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের কাঁচা লবণ এড়িয়ে চলা উচিত।
নিকোলা টেসলা — আলোর সন্তান
একজন মানুষ দিনে ঘুমাতেন মাত্র চার ঘণ্টা। বাকি ২০ ঘণ্টা কাটতো তার অবিরাম কাজের মধ্যে। বছরের পর বছর ধরে তিনি সৃষ্টি করেছেন এমন সব আবিষ্কার, যেগুলো ছাড়া আজ তোমার ফোন, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, এমনকি এক কাপ কফিও বানানো যেত না।
কিন্তু জানো কি? এই মানুষটা মারা গিয়েছিলেন প্রায় নিঃস্ব অবস্থায়, এক অন্ধকার ঘরে, একা, নিঃশব্দে— যখন পৃথিবী প্রায় ভুলেই গিয়েছিল তার নাম।
হ্যাঁ, এটাই সেই রহস্যময় প্রতিভার গল্প—
বিশ্বের সবচেয়ে পাগল বিজ্ঞানী, নিকোলা ১৮৫৬ সালের ১০ জুলাই।
এক ঝড়ের রাতে, সার্বিয়ার ছোট্ট গ্রাম স্মিলজানে জন্ম নিল এক শিশু।বজ্রপাত আর অন্ধকারে আকাশ ফেটে যাচ্ছিল—
গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো গুঞ্জন।
দাইমা বলেছিল, “এই ছেলে অন্ধকার নিয়ে এসেছে পৃথিবীতে।” কিন্তু শিশুটির মা দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, “না— আমার ছেলে অন্ধকার নয়, আলো নিয়ে আসবে।” সেই ছোট্ট শিশুটিই একদিন আলোয় ভরিয়ে দিয়েছিল পৃথিবী-
নিকোলা টেসলা।
বাবার ব্যায়ামের প্রভাব শুধু তার শরীরে নয়, সন্তানের জিনেও!
বাবারা শুধু ভালো অভ্যাসই নয়, তাদের ব্যায়ামের উপকারিতাও সন্তানের মধ্যে স্থানান্তরিত করেন জিনের মাধ্যমে!
চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, নিয়মিত ব্যায়াম বাবার শুক্রাণুতে (sperm) এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যা ভবিষ্যতের সন্তানদের মেটাবলিজম, সহনশক্তি ও পেশি গঠনে প্রভাব ফেলে।
অর্থাৎ, বাবা যদি ফিট থাকেন, সেই ফিটনেসের জৈব স্মৃতি (biological memory) সন্তানের শরীরেও বহন হয় যেন সুস্থ জীবনের এক প্রাকৃতিক উপহার।
এই গবেষণা দেখায়, একজন বাবার ফিটনেস শুধু তার নিজের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যেরও ভিত্তি গড়ে দেয়।
ব্যায়াম করুন, কারণ আপনি শুধু নিজেকে নয় আপনার আগামী প্রজন্মকেও শক্তিশালী করতে ভুমিকা রাখছেন!
ওভারথিঙ্কিং কেন হয়, আর কীভাবে ছেড়ে দিবেন!
কখনো কি একটা ছোট্ট কথা মনে আটকে যায়, আর রাত জেগে ভাবতে থাকেন—ও কি এটা বলে আমাকে অপমান করল? আমি কি ভুল বুঝলাম? একটা মেসেজের রিপ্লাই আসেনি বলে মনে হয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে রাগ! এই যে অহেতুক চিন্তার চক্র—এটাই ওভারথিঙ্কিং। মন যেন একটা চাকা, ঘুরতেই থাকে, থামতে চায় না।
ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে এটাকে বলে রুমিনেশন—যেন মনের ভেতর একটা পুরনো গান বারবার বাজছে। গবেষণা বলে, এটা উদ্বেগ, ডিপ্রেশন, এমনকি ঘুমের সমস্যার বড় কারণ। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার? এই চিন্তাগুলোর ৯০% কখনো সত্যি হয় না! তবু আমরা বিশ্বাস করি।
কেন হয়?
মন চায় নিয়ন্ত্রণ। অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না।ছোটবেলা থেকে শেখা: সবকিছু ভেবে রাখলে ভুল হবে না।
সোশ্যাল মিডিয়া: সবাইকে পারফেক্ট দেখে মনে হয়, আমি কেন পারছি না?
কিন্তু এই চক্র ভাঙা যায়। এই তিনটা সহজ ট্রিক ট্রাই করুন:
চিন্তাকে নাম দিন: মনে হলে বলুন, আহা, আবার ওভারথিঙ্কিং শুরু, নাম দিলে মনটা একটু হালকা হয়।
৫-মিনিটের রুল: চিন্তা এলে বলুন, ঠিক আছে, ৫ মিনিট ভাবি। তারপর ছেড়ে দিই। টাইমার লাগান। দেখবেন, ৫ মিনিটেই ক্লান্ত হয়ে যায়।
শরীরকে নাড়ান: উঠে হাঁটুন, পানি খান, গান শুনুন। মন যখন শরীরের সাথে ব্যস্ত, চিন্তা পালায়।
একটা মজার খেলা: পরের বার যখন মন ঘুরতে শুরু করবে, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—
এই চিন্তা কি আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে বলতাম?যদি না, তাহলে নিজেকেও বলবেন না।
ওভারথিঙ্কিং মানে আপনি সেন্সিটিভ, যত্নশীল। শুধু এই শক্তিটা সঠিক জায়গায় লাগান। আজ থেকে শুরু করুন,একটা গভীর শ্বাস নিন, আর বলুন, ঠিক আছে, যা হয়েছে হয়েছে। এখন আমি এখানে আছি।
টিয়া পাখি কীভাবে কথা বলতে পারে?
মানুষের কণ্ঠনালী আছে যা দিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু টিয়ার কণ্ঠনালী নেই! তাদের আছে "সাইরিংস" - এটা শ্বাসনালীর একটা বিশেষ অঙ্গ যা ফুসফুসের কাছে অবস্থিত। এই সাইরিংসে আছে পেশি যা দিয়ে তারা বাতাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন শব্দ তৈরি করতে পারে।
মজার ব্যাপার হলো, টিয়ার জিহ্বা খুবই মোটা এবং নমনীয়। এই জিহ্বা দিয়ে তারা মুখের ভেতরে বাতাসের দিক বদলায়, ঠিক যেমন মানুষ করে। এজন্যই তারা "প", "ত", "ক" এরকম শব্দ স্পষ্ট করতে পারে।
কিন্তু শুধু শারীরিক গঠন যথেষ্ট নয়। টিয়া অসম্ভব বুদ্ধিমান পাখি। তাদের মস্তিষ্কের একটা অংশ আছে যার নাম "নিউক্লিয়াস SPM" - এটা শব্দ শেখার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। মানুষের শিশুরা যেমন শুনে শুনে কথা শেখে, টিয়াও তেমনি।
টিয়া কিন্তু অর্থ বুঝে কথা বলে না - তারা শুধু নকল করে। তারা বারবার যে শব্দ শোনে সেটা মনে রাখে এবং পুনরাবৃত্তি করে। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকান গ্রে টিয়া অর্থ বুঝে কথা বলতে পারে! একটা টিয়া "অ্যালেক্স" ১৫০টি শব্দ জানত এবং রঙ, আকার, সংখ্যা চিনতে পারত।
আরেকটা কারণ হলো, টিয়া সামাজিক পাখি। বন্যে তারা ঝাঁক বেঁধে থাকে এবং একে অপরের ডাক শুনে শেখে। মানুষের সাথে থাকলে তারা মানুষকে তাদের ঝাঁকের অংশ মনে করে, তাই মানুষের শব্দ শেখে।
একটা ভালো জিনিস সবকিছুকে সুন্দর করে দেয়!
আচ্ছা, খেয়াল করেছেন কখনো? ক্লাসের এক ছেলেকে সবাই খুব পছন্দ করে, কারণ সে দেখতে সুন্দর আর হাসিটা মিষ্টি। সবাই ভাবে, “এই ছেলে তো পড়াশোনাতেও নিশ্চয়ই দারুণ!” কিন্তু যখন রেজাল্ট বের হয়, দেখা যায় পুরো উল্টো।এই যে, একজনের একটা ভালো দিক দেখে আমরা ধরে নিচ্ছি সে সব দিক থেকেই ভালো – একেই বলে হ্যালো ইফেক্ট।
হ্যালো ইফেক্ট মানে কী?
যখন আমরা কারো একটা ভালো গুণ দেখে তার সবকিছু ভালো ভেবে নিই, সেটাই হ্যালো ইফেক্ট। যেন তার মাথার ওপর একটা আলো জ্বলছে, যা তার সব দোষ ঢেকে দিচ্ছে।
একটা সহজ উদাহরণ:
ধরুন, অফিসে নতুন একজন এসেছে। খুব স্মার্ট, সুন্দর কথা বলে। বস মনে করলেন,এই ছেলেটা নিশ্চয়ই দারুণ কাজ জানে।কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা গেল, সে কাজের মধ্যে প্রচুর ভুল করছে। তবুও সবাই ভাবে, আরে না, ও তো ভালো মানুষ।এই যে প্রথমে ভালো ইম্প্রেশন দেখে সবকিছু ভালো মনে হচ্ছে – সেটাই হ্যালো ইফেক্ট।
কোথা থেকে এসেছে এই ধারণা?
১৯২০ সালে মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড থর্নডাইক প্রথম এই ব্যাপারটা খেয়াল করেন। তিনি দেখেছিলেন, সেনাবাহিনীতে অফিসাররা সৈনিকদের রেটিং দিতে গিয়ে যাদের দেখতে ভালো লাগে, তাদের বুদ্ধি, সাহস, নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই বেশি নম্বর দেন। অথচ বাস্তবে তারা সবসময় সেরা ছিল না।
আমরা জীবনে কোথায় দেখি:
চাকরির ইন্টারভিউ: যে প্রার্থী সুন্দরভাবে কথা বলে, তাকে আমরা অনেক বেশি যোগ্য ভাবি।
সেলিব্রিটি: কোনো তারকা একবার ভালো কিছু করলেই আমরা তার পুরোনো ভুলগুলো ভুলে যাই।
এটা কি ভালো না খারাপ:
সবসময় খারাপ নয়, কিন্তু এটা আমাদের বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করতে বাধা দেয়।যখন কারো একটিমাত্র ভালো দিক দেখে তার সবকিছু ভালো ভাবি, তখন বাস্তব মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে যায়।
উল্টো দিক:
হলো হ্যালো ইফেক্টের উল্টো দিক। যদি কারো একটিমাত্র খারাপ গুণ দেখি, আমরা ভাবি সে সবদিক থেকেই খারাপ। যেমন, কেউ একটু রাগী হলে, অনেকে ধরে নেয় সে ভালো মানুষই না।
কীভাবে এ থেকে বাঁচবেন:
পরের বার কাউকে বিচার করার আগে একটু ভাবুন–আমি কি শুধু তার হাসি বা কথার জন্য ওকে ভালো ভাবছি, নাকি সত্যিই তার কাজ দেখে বলছি?নিজেকে এই প্রশ্নটা করলে, আপনি অনেক বেশি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে পারবেন।
দাদা-দাদি বা নানা-নানির সঙ্গে শিশুর ঘনিষ্ঠ
বস্টন কলেজের একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, যে-সকল শিশুরা তাদের দাদা-দাদি বা নানা-নানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মানসিক সংযোগ বজায় রাখে, তাদের পরবর্তী জীবনে বিষণ্নতা এবং দীর্ঘস্থায়ী চাপে ভোগার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ কম।
১৫০০টিরও বেশি পরিবারের ডেটা বিশ্লেষণ করার পর গবেষকরা দেখেছেন যে, শক্তিশালী আন্তঃপ্রজন্মগত বন্ধন মানসিক স্থিতিশীলতা এবং গভীর অনুভূতি এনে দেয়। দাদা-দাদি/নানা-নানির কাছ থেকে নিয়মিত কথোপকথন, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং মানসিক সমর্থন শিশুদের মানসিক শক্তি বিকাশে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পারিবারিক সম্পর্কগুলি লালন করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী আবেগিক সুস্থতা অনেক বাড়ানো যেতে পারে।
কবুতর এর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার পর অনেক দিন বাচ্চা গুলো চোখে দেখে না, এবং দানাদার খাবারও খেতে পারে না, সেই সময় বাবা মা কবুতর এর পাকস্থলী থেকে একধরনের ক্রিম এর মত দুধ বের হয়, সেগুলো বাচ্চা কবুতর খায়।( এই খাবার এ প্রয়োজনীয় আমিষ, ভিটামিন, খনিজ ও লবণ থাকে)।
স্টেম সেল (Stem Cell) কী:
স্টেম সেল হলো এমন এক ধরনের বিশেষ কোষ, যা নিজের মতো আরও কোষ তৈরি করতে পারে এবং শরীরের যেকোনো ধরনের কোষে রূপ নিতে সক্ষম। অর্থাৎ, এগুলো হলো শরীরের “মৌলিক কোষ” যেগুলো থেকে নতুন টিস্যু বা অঙ্গ তৈরি হতে পারে।
স্টেম সেলের ব্যবহার:
1. রোগ নিরাময়ে — রক্তের ক্যান্সার (লিউকেমিয়া), অ্যানিমিয়া, ও কিছু স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
2. অঙ্গ পুনর্গঠনে — ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ বা টিস্যু (যেমন: হার্ট, লিভার, ত্বক) পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
3. গবেষণায় — নতুন ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়।
4. দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় — নতুন ত্বক তৈরি করে পোড়া জায়গা নিরাময়ে সহায়তা করে।
শেক্সপিয়ারের কিছু উক্তি সমূহ :
● যা তুমি দেখাও, তার চেয়ে বেশি তোমার থাকা উচিত। যা তুমি জান, তার তুলনায় কম কথা বলা উচিত।!
● সততার কাছে দুর্নীতি কোন দিন জয়ী হতে পারে না।
● দুটো জিনিস খুবই কষ্টদায়ক। একটি হচ্ছে, যখন তোমার ভালোবাসার মানুষ তোমাকে ভালোবাসে কিন্তু তা তোমাকে বলে না। আর অপরটি হচ্ছে, যখন তোমার ভালোবাসার মানুষ তোমাকে ভালোবাসে না এবং সেটা তোমাকে সরাসরি বলে দেয়।
● বিপদের সময়ে যে হাত বাড়িয়ে দেয় সেই সত্যিকারের বন্ধু।
● দু:খ কখনও একা আসে না, যখন আসে তখন তার দলবল নিয়ে-ই আসে।
● আমি সবসময় নিজেক সুখী ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না, কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা সবসময় এই দুঃখের কারণ হয়ে দাড়ায়।
● অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায়, ভালবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।
● কাউকে সারা জীবন কাছে পেতে চাও। তাহলে প্রেম দিয়ে নয় বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রেখো। কারন, প্রেম একদিন হারিয়ে যাবে কিন্তু বন্ধুত্ব কোনদিন হারায় না।
● যে তার ভালবাসা প্রকাশ করতে পারে না, সে ভালোবাসতেই জানে না।
● আনন্দ ও কাজ সময়কে সংক্ষিপ্ত করে।
● সাফল্যের ৩টি শর্তঃ - অন্যের থেকে বেশী জানুন! - অন্যের থেকে বেশী কাজ করুন! - অন্যের থেকে কম আশা করুন!
● তোমার একটু অভিমানের জন্য যদি কারো চোঁখে জল আসে, তবে মনে রেখো, তার চেয়ে বেশি কেউ তোমাকে ভালোবাসে না।
● তোমার বন্ধু যখন বিপদে থাকবে, তখন সে না ডাকলেও তাকে সাহায্য কর। কিন্তু, যখন সে খুশিতে থাকবে, তখন সে না ডাকলে যেওনা।
● শেক্সপিয়ার কে একজন জিজ্ঞেস করলো "তুমি বিয়ে করেছ তোমার চেয়ে বেশি বয়সের একটি মেয়েকে। তোমার লজ্জা করেনা।" শেক্সপিয়ার তাকে একটি ক্যালেন্ডার এনে দেখালেন আর বললেন "আপনি বলতে পারবেন সপ্তাহের সাতটি দিনের মধ্যে কোনটা যুবক আর কোনটা বৃদ্ধ?" আসলে ভালবাসার কোন বয়স হয়না আপনি যে কাউকেই ভালবাসতে পারেন।
● প্রয়োজন খারাপ কেও ভাল করে তোলে।
● মহত্ত্বের প্রতীক হচ্ছে ক্ষমাশীলতা।
● জীবন-জীবন মানেই অনিশ্চিত ভ্রমণ।
● আমি নষ্ট করেছি সময়, এখন সময় নষ্ট করছে আমায়।
● ভীরুরা তাদের প্রকৃত মৃত্যুর আগেই বহুবার মরে, কিন্তু সাহসীরা জীবনে মাত্র একবারই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে থাকে।
শামুক ৩ বছর ঘুমাতে পারে - পৃথিবীর সবচেয়ে অলস প্রাণী!
আপনি যদি ভাবেন সারাদিন ঘুমানো মানেই অলসতা, তাহলে শামুকের কথা শুনুন। এরা একটানা ৩ বছর ঘুমাতে পারে!
হ্যাঁ, ৩ বছর। এটা কোনো রূপকথা নয়, বৈজ্ঞানিক সত্য। শামুক যখন বুঝতে পারে পরিবেশ তার জন্য উপযুক্ত নয় - যেমন খুব শুষ্ক আবহাওয়া, খাবার নেই, বা তাপমাত্রা ঠিক নেই - তখন সে নিজেকে একটা প্রতিরক্ষামূলক আবরণে ঢেকে ফেলে এবং গভীর ঘুমে চলে যায়।
এই ঘুমকে বলে "এস্টিভেশন" - গ্রীষ্মকালীন হাইবারনেশন। শামুক তার খোলসের মুখ একটা শক্ত শ্লেষ্মা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এটা একটা সিল তৈরি করে যা আর্দ্রতা ভেতরে আটকে রাখে এবং বাইরের শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। তারপর শামুক তার বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ করে দেয় এবং শক্তি সাশ্রয় মোডে চলে যায়।
এই অবস্থায় শামুক না খায়, না নড়াচড়া করে, এমনকি শ্বাসও নেয় খুবই কম। শরীর শুধু বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম শক্তি খরচ করে। আর এভাবে মাস, বছর কেটে যেতে পারে।
যখন আবহাওয়া ভালো হয়, বৃষ্টি হয়, আর্দ্রতা বাড়ে - তখন শামুক আবার জেগে ওঠে। সিল ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং স্বাভাবিক জীবন শুরু করে। যেন কিছুই হয়নি!
মজার ব্যাপার হলো, শামুক দৈনিক ১৩-১৫ ঘণ্টাও ঘুমায়। তার মানে সক্রিয় থাকার চেয়ে ঘুমিয়েই বেশি সময় কাটায়। আর যদি পরিবেশ খারাপ হয়, তাহলে তো ৩ বছরের ঘুম!
বয়স বাড়লে মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে ছোট হয়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মস্তিষ্ক আস্তে আস্তে আকারে ছোট হতে থাকে। এ প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক—নিউরন বা স্নায়ুকোষের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়, এবং মস্তিষ্কের কিছু অংশে ঘনত্ব কমে আসে। তবে গবেষণাগুলো দেখিয়েছে, এই পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে সমান নয়। পুরুষদের মস্তিষ্ক গড় হিসেবে নারীদের তুলনায় দ্রুত হারে ভলিউম হারায়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ পার্থক্যের পেছনে হরমোন, জিনগত গঠন ও জীবনযাপনের ধরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট্রোজেন ও অন্যান্য হরমোন নারীদের মস্তিষ্কে এক ধরনের সুরক্ষা তৈরি করে, যা নিউরনের ক্ষয়কে কিছুটা ধীর করে দেয়। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার সঙ্গে স্নায়ুপ্রবাহে স্থিতিশীলতা হ্রাস পায়, যার ফলে ভলিউম লস আরও স্পষ্ট হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এ পরিবর্তন সরাসরি বুদ্ধিমত্তা বা স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় না। বরং মস্তিষ্কের নমনীয়তা বা “নিউরোপ্লাস্টিসিটি” নতুন সংযোগ তৈরি করে অনেকটা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। তাই বয়স বাড়লেও নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক অনুশীলন ও পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
মস্তিষ্কের অপর নাম পানি! কেন জানেন কি?
আপনার মস্তিষ্কের প্রায় ৭৫%ই পানি!
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! আমাদের মস্তিষ্কের তিন-চতুর্থাংশই আসলে পানি দিয়ে তৈরি। এ কারণেই শরীরে পানির সামান্য ঘাটতিও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
যখন শরীরে পানির অভাব হয়, তখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে যায়, নিউরনগুলো সঠিকভাবে সংকেত পাঠাতে পারে না, ফলে মনোযোগ কমে, মাথা ব্যথা শুরু হয়, এমনকি মুডও খারাপ হয়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে — মাত্র ২% পানিশূন্যতা মস্তিষ্কের পারফরম্যান্স ২০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে!
তাই যদি চান মস্তিষ্ককে সতেজ, সৃজনশীল ও ফোকাসড রাখতে — প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
এক গ্লাস পানি হয়তো আপনার মনোযোগ, মুড, এমনকি মেমোরিও ফিরিয়ে দিতে পারে।
ছোট টিপস: সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং কাজের ফাঁকে এক গ্লাস পানি পান করুন —
কুমির ৬ মাস না খেয়ে বাঁচতে পারে - মেটাবলিজম স্লো করে
কুমির পৃথিবীর সবচেয়ে ধৈর্যশীল শিকারি। কারণ এরা প্রয়োজনে ৬ মাস পর্যন্ত না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে!
এটা সম্ভব হয় তাদের অবিশ্বাস্য মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার কারণে। খাবার না পেলে কুমির নিজের শরীরের বিপাকক্রিয়া প্রায় বন্ধ করে দিতে পারে। তাদের হৃদস্পন্দন কমে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যায়, শরীর একদম লো-পাওয়ার মোডে চলে যায়।
মানুষ যেখানে দিনে তিনবার খেতে হয়, সেখানে কুমির বছরে মাত্র ৫০ বার খেলেই চলে! একবার একটা বড় খাবার খেলে সেটা হজম হতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। আর সেই শক্তি দিয়ে মাসের পর মাস চলতে পারে।
আরেকটা মজার ব্যাপার হলো, কুমির ঠান্ডা রক্তের প্রাণী। তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিজে থেকে তৈরি হয় না, পরিবেশের তাপমাত্রা অনুযায়ী চলে। তাই তাদের শক্তি খরচ অনেক কম। মানুষের শরীর যেখানে সারাক্ষণ তাপ তৈরি করতে ক্যালোরি পোড়ায়, কুমিরের সেই ঝামেলা নেই।
এজন্যই কুমির পানিতে স্থির হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে পারে। কোনো নড়াচড়া নেই, শক্তি খরচ নেই। শুধু অপেক্ষা - কখন শিকার কাছে আসবে। তারপর এক লাফে আক্রমণ।
তাই কুমিরকে অলস ভাববেন না। এরা আসলে শক্তি সাশ্রয়ের মাস্টার!
আপনি কি জানেন, মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একবার ছোট একটা “হ্যাঁ” আদায়
ধরুন, কেউ আপনাকে বলে, “শুধু এক মিনিট সময় দিন।” আপনি রাজি হয়ে গেলেন, কিছুদিন পর সে আবার বলে, “চলুন না, আজ পুরো বিকেলটা আমার সাথে থাকুন।” আপনি ভাবছেন, এটা আপনার নিজের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আসলে এটি আপনার মস্তিষ্কের এক সূক্ষ্ম ফাঁদ। মনোবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় “𝙁𝙤𝙤𝙩-𝙞𝙣-𝙩𝙝𝙚-𝙙𝙤𝙤𝙧 𝙏𝙚𝙘𝙝𝙣𝙞𝙦𝙪𝙚”। এটি এমন এক মনস্তাত্ত্বিক খেলা, যেখানে ছোট একটি অনুরোধে রাজি করিয়ে আপনাকে ধীরে ধীরে বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়।
১৯৬৬ সালে মনোবিজ্ঞানী 𝙁𝙧𝙚𝙚𝙙𝙢𝙖𝙣 ও 𝙁𝙧𝙖𝙨𝙚𝙧 এক গবেষণায় দেখান, যারা প্রথমে জানালায় ছোট “𝘿𝙧𝙞𝙫𝙚 𝙎𝙖𝙛𝙚𝙡𝙮” স্টিকার লাগাতে রাজি হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৭৬% মানুষ পরবর্তীতে বড় সাইনবোর্ড লাগাতেও রাজি হন! আর যারা প্রথম অনুরোধেই না করেছিলেন, তাদের মধ্যে রাজি হয়েছিলেন মাত্র ১৭%।
কেন এমন হয়? কারণ আমাদের মস্তিষ্ক নিজের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। একবার ‘হ্যাঁ’ বললে, পরেরবার ‘না’ বলা মানে নিজের সত্তার বিরোধিতা। তাই আমরা অজান্তেই একই পথে হেঁটে যাই, যত বড় অনুরোধই আসুক না কেন। এই কৌশলটি ব্যবহার হয়,
মার্কেটিং এ ("ফ্রি ট্রায়াল" থেকে "প্রিমিয়াম"), রাজনীতিতে ("ছোট সমর্থন" থেকে "বড় আন্দোলন"), এমনকি সম্পর্কেও (“শুধু একবার দেখা করুন” থেকে "মানসিক নির্ভরতা")।
আপনি ভাবছেন, আপনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে, আপনার মস্তিষ্কই ধীরে ধীরে প্রশিক্ষিত হচ্ছে “হ্যাঁ” বলার জন্য।
লাভ বোম্বিং - অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা
সম্পর্কের শুরুতেই সে আপনাকে বলছে "তুমি আমার জীবন", প্রতিদিন ১০০টা মেসেজ, অসংখ্য গিফট, সারাক্ষণ প্রশংসা। মনে হচ্ছে সিনেমার মতো পারফেক্ট ভালোবাসা, তাই না? সাবধান! এটা হতে পারে লাভ বোম্বিং।
লাভ বোম্বিং হলো একটা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল যেখানে কেউ অতিরিক্ত ভালোবাসা, মনোযোগ আর প্রশংসা দিয়ে আপনাকে ইমোশনালি নির্ভরশীল করে তোলে। তারপর যখন আপনি পুরোপুরি তার উপর নির্ভরশীল হয়ে যান, তখন আসল চেহারা বের হয়।
সাইকোলজিস্টরা বলছেন, এটা নার্সিসিস্ট এবং ম্যানিপুলেটিভ মানুষদের প্রিয় অস্ত্র। তারা দ্রুত আপনার বিশ্বাস অর্জন করে, তারপর ধীরে ধীরে আপনাকে কন্ট্রোল করতে শুরু করে। বন্ধুবান্ধব, পরিবার থেকে আলাদা করে ফেলে। আপনার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়।
লাভ বোম্বিংয়ের লক্ষণগুলো:
খুব দ্রুত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া - প্রথম সপ্তাহেই "আই লাভ ইউ" বলা। অতিরিক্ত প্রশংসা - আপনাকে "পারফেক্ট" বলা। সারাক্ষণ মেসেজ, কল - একটু দেরি হলেই রাগ। ফিউচার প্ল্যান করা - এখনই বিয়ে, বাচ্চার কথা বলা। আপনার সবকিছু জানতে চাওয়া - প্রাইভেসি নেই।
মজার ব্যাপার হলো, যখন আপনি ফাঁদে পড়ে যান, তখন হঠাৎ সব বদলে যায়। অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকে ঠান্ডা আচরণ, অবহেলা, এমনকি মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। আর আপনি ভাবেন "আগের মতো ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে হবে" - এইভাবে আটকে যান।
গবেষণায় দেখা গেছে, লাভ বোম্বিংয়ের শিকার মানুষরা পরে ট্রমা, ডিপ্রেশন আর অ্যাংজাইটিতে ভোগেন। কারণ তারা বুঝতেই পারেন না কী হলো - যে এত ভালোবাসত সে কীভাবে এমন হলো?
মনে রাখবেন, স্বাভাবিক ভালোবাসা ধীরে ধীরে বাড়ে, বিশ্বাস তৈরি হয় সময় নিয়ে। কেউ যদি খুব দ্রুত "টু গুড টু বি ট্রু" মনে হয় এমন ভালোবাসা দেখায়, সাবধান হন।
আগুন দেখলেই জ্বলন্ত ডালপালা মুখে নিয়ে দাবানল ছড়ায় ৩ প্রজাতির পাখি!
অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের লোককাহিনীতে পাখিদের আগুন ছড়ানোর গল্প বহু আগে থেকেই প্রচলিত। ২০১১-২০১৭ এর মাঝে অস্ট্রেলিয়ার জঙ্গলে প্রথম এমন ঘটনা চাক্ষুষ দেখতে পান দমকলকর্মীরা।
তিন প্রজাতির পাখি এ কাজ করে। কালো চিল (Milvus migrans), শিষ বাজানো চিল (Haliastur sphenurus) এবং বাদামি বাজ (Falco berigora)। এদের 'ফায়ারহক' বলে।
কোথাও আগুন লাগলে সেখান থেকে জ্বলন্ত ডালপালা তুলে নেয় এরা। যেসব ঘাসযুক্ত স্থানে আগুন পৌঁছেনি, সেখানে নিয়ে ফেলে দেয় সেগুলোকে।
পোকামাকড়, সরীসৃপ, ছোট ছোট স্তন্যপায়ী এই পাখিদের খাবার। দাবানলে এরা বাইরে ছোটাছুটি করে। এদের শিকার করতেই মূলত এ কাজ করে পাখিগুলো।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিকশন -কেন আমরা স্ক্রল করতে থাকি?
রাত ১২টা, শুয়ে আছেন বিছানায়। ভাবছেন এখনই ঘুমাবেন। কিন্তু হাতে ফোন তুলে "শেষবার একটু দেখি" বলে ফেসবুক খুললেন। চোখ তুলে দেখলেন রাত ২টা! কীভাবে ২ ঘণ্টা কেটে গেল বুঝলেনই না। এটা কোনো কাকতাল নয়, এটা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিকশন।
আসলে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার মস্তিষ্কের সাথে একটা খেলা খেলছে। প্রতিবার আপনি স্ক্রল করেন, নতুন পোস্ট দেখেন, লাইক বা কমেন্ট পান - তখন মস্তিষ্ক ডোপামিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে। এই ডোপামিনই আপনাকে ভালো লাগার অনুভূতি দেয়, ঠিক যেমন নেশা করলে হয়।
মজার ব্যাপার হলো, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো এটা জেনে বুঝেই তৈরি করেছে। তারা হাজার হাজার সাইকোলজিস্ট ও নিউরোসায়েন্টিস্ট নিয়োগ দিয়েছে শুধু একটা কাজের জন্য - কীভাবে মানুষকে আসক্ত করা যায়।
ইনফিনিট স্ক্রল - স্ক্রল করতেই থাকুন, শেষ নেই। পুল টু রিফ্রেশ - টানলেই নতুন কন্টেন্ট, ঠিক স্লট মেশিনের মতো। নোটিফিকেশন - লাল বাটন দেখলেই চেক করতে ইচ্ছা করে। এসবই ডিজাইন করা হয়েছে আপনাকে আটকে রাখতে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন মানুষ দিনে ১৫০ বার ফোন চেক করে। প্রতি ৬ মিনিটে একবার! আর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনে গড়ে ২.৫ ঘণ্টা ব্যয় করে। এক বছরে ৩৮ দিন শুধু স্ক্রলিং করে কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা।
আরও ভয়ংকর হলো, এই অ্যাডিকশন মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করছে। ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, একাকীত্ব, ঘুমের সমস্যা - সবই বাড়ছে। কারণ আমরা ভার্চুয়াল জগতে এত ডুবে যাচ্ছি যে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি।
সমাধান? নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য। শোবার ১ ঘণ্টা আগে ফোন রেখে দিন। মনে রাখবেন, আপনার সময় আপনার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটা স্ক্রলিংয়ে নষ্ট করবেন না।
আমরা যে অক্সিজেন শ্বাস নিচ্ছি, তার বেশিরভাগই আসে গাছ থেকে নয় — বরং সমুদ্রের শৈবাল ও ক্ষুদ্র জীবদের থেকে!
পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় ৫০–৮০% উৎপন্ন হয় সমুদ্রের শৈবাল, ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়া (Cyanobacteria) নামের অতি ক্ষুদ্র জীবের মাধ্যমে।
এরা এতটাই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না, কিন্তু তাদের ভূমিকা বিশাল — সূর্যের আলো ব্যবহার করে ফটোসিনথেসিসের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে, যা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের জীবনের মূল জ্বালানিতে পরিণত হয়।
ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনকে বলা যায় সমুদ্রের “অদৃশ্য বন”। তারা প্রতিনিয়ত অক্সিজেন উৎপন্ন করছে, আবার একই সঙ্গে সমুদ্রের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি কোনো একদিন সমুদ্রের এই ক্ষুদ্র প্রাণীরা কাজ বন্ধ করে দেয়, তাহলে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়বে!
Source: NOAA (National Oceanic
৩টি এফেক্ট
১. বাইস্ট্যান্ডার এফেক্ট (Bystander Effect):
যখন কোনো বিপদের সময় সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখন যত বেশি লোক উপস্থিত থাকে, এককভাবে সাহায্য করার সম্ভাবনা তত কম হয়। কারণ সবাই ভাবে অন্য কেউ সাহায্য করবে।
২. চেতনাহীন সিদ্ধান্ত (Unconscious Decisions):
আমাদের দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের প্রায় ৯৫% পর্যন্ত অচেতনভাবে নেওয়া হয়। মস্তিষ্ক শক্তি বাঁচাতে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে মানসিক শর্টকাট ব্যবহার করে।
৩. নিউরোপ্লাস্টিসিটি (Neuroplasticity):
আপনার মস্তিষ্ক স্থির নয়। নিউরোপ্লাস্টিসিটির মাধ্যমে মস্তিষ্ক সারা জীবন নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি করতে পারে, যা শেখা ও অভ্যাসের মাধ্যমে গঠিত হয়।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সতর্কতা: ১৩ বছরের আগে স্মার্টফোন ব্যবহারের ঝুঁকি।
শিশুদের হাতে স্মার্টফোন এখন সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু গবেষণা বলছে, ১৩ বছরের আগে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ঝুঁকিগুলো কী কী?
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ, তুলনা, এবং সাইবার বুলিং শিশুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।ঘুমের সমস্যা: রাতে স্ক্রিন টাইম বেশি হলে ঘুমের গুণগত মান কমে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
মনোযোগ হ্রাস: অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীল চিন্তার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।সামাজিক দূরত্ব: বাস্তব জীবনের সম্পর্কের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটানো শিশুদের সামাজিক বিকাশে বাধা দেয়।
কী করা যায়?
বয়স-উপযোগী নিয়ম: ১৩ বছরের আগে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর সীমা নির্ধারণ করুন।
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: দিনে ১-২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম এড়িয়ে চলুন।
বিকল্প কার্যক্রম: খেলাধুলা, পড়াশোনা, বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর মতো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।
খোলামেলা কথা: শিশুদের সাথে স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করুন।
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের হাতে। আসুন সচেতন হই, তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করি।
দাঁড়িওয়ালা শকুন বা বিয়ার্ডেড ভালচার
দাঁড়িওয়ালা শকুন বা বিয়ার্ডেড ভালচার হলো একটি অনন্য পাখি যাদের খাদ্যের প্রধান অংশ হলো হাড় বা অস্থি। বেশিরভাগ পাখির মতো, এরা মাংস বা প্রাণীর নরম অংশগুলিতে আগ্রহী নয়। বরং, এরা হাড় খুঁজে বের করে এবং তা আস্ত গিলে ফেলে। এটি বেশ আশ্চর্যজনক, কারণ হাড় শক্ত এবং চিবানো কঠিন, কিন্তু দাঁড়িওয়ালা শকুন এই অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।
দাঁড়িওয়ালা শকুনের একটি মজার তথ্য হলো, এদের পাকস্থলীর অ্যাসিড অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী—যা ব্যাটারির অ্যাসিডের চেয়েও বেশি তীব্র। এই শক্তিশালী অ্যাসিড এদের খাওয়া হাড় হজম করতে সাহায্য করে। একবার হাড় পাকস্থলীতে পৌঁছালে, অ্যাসিড সেগুলোকে দ্রবীভূত করতে শুরু করে, যা শকুনদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি আহরণে সক্ষম করে। হাড় খাওয়ার এই ক্ষমতা তাদের একটি সুবিধা দেয়, কারণ এর মাধ্যমে তারা এমন খাবার খুঁজে নিতে পারে যা অন্য অনেক প্রাণী খেতে পারে না।
দাঁড়িওয়ালা শকুন তাদের বাস্তুতন্ত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাড় খেয়ে তারা পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, হাড় জমতে বাধা দেয় এবং পুষ্টি উপাদানগুলিকে আবার মাটিতে ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করে।
অ্যালার্জি - শরীর নিরীহ জিনিসকে শত্রু ভাবে কেন?
ফুলের রেণু, চিংড়ি মাছ, বাদাম - এগুলো সাধারণ জিনিস। কিন্তু কারো কারো জন্য এগুলো মারাত্মক বিপদ হয়ে উঠতে পারে। কেন?
আসলে অ্যালার্জি হলো আমাদের ইমিউন সিস্টেমের একটা ভুল সিদ্ধান্ত। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন একটা নিরীহ জিনিসকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া মনে করে আক্রমণ শুরু করে, তখনই অ্যালার্জি হয়।
মজার ব্যাপার হলো, বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন কেন কিছু মানুষের এটা হয় আর কারো হয় না। একটা জনপ্রিয় থিওরি হলো "হাইজিন হাইপোথিসিস" - আমরা এখন খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকি। ছোটবেলায় শরীর যথেষ্ট জীবাণুর সংস্পর্শে আসে না, তাই ইমিউন সিস্টেম ঠিকমতো ট্রেনিং পায় না। পরে সে নিরীহ জিনিসকেও শত্রু ভেবে বসে।
গ্রামের বাচ্চাদের তুলনায় শহরের বাচ্চাদের অ্যালার্জি ৫ গুণ বেশি হয়। যারা ছোটবেলায় পোষা প্রাণীর সাথে বড় হয়েছে, তাদের অ্যালার্জি কম হয়। কারণ তাদের ইমিউন সিস্টেম শিখে গেছে কোনটা আসল শত্রু আর কোনটা নয়।
আরেকটা মজার তথ্য - অ্যালার্জি বংশগত। যদি বাবা-মায়ের অ্যালার্জি থাকে, তাহলে সন্তানের ৭০% সম্ভাবনা থাকে একই সমস্যা হওয়ার।
সবচেয়ে ভয়ংকর হলো অ্যানাফাইল্যাক্সিস - যখন পুরো শরীর প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া দেখায়। গলা ফুলে যায়, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। মিনিটের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। তাই অনেকে সাথে EpiPen রাখেন।
তাই মনে রাখবেন, অ্যালার্জি কোনো বাহানা নয়। এটা শরীরের একটা আসল যুদ্ধ, যেখানে শত্রু আসলে বন্ধু!
উটের চোখের পানি ২৬ প্রজাতির সাপের বিষ নিস্ক্রিয় করতে পারে!
সম্প্রতি একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এক অভূতপূর্ব তথ্য তুলে ধরেছেন,উটের চোখের একফোঁটা পানিতে এমন জৈব রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা প্রায় ২৬টি মারাত্মক বিষধর সাপের বিষকে নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম। এই তথ্য শুধুমাত্র বিস্ময়করই নয়, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বারও উন্মোচন করেছে।
উট মরুভূমিতে বাস করে বলে তার দেহে ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে গঠিত হয়েছে বিশেষ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। বিশেষত, তার চোখের পানি শুধু চোখকে ধুলাবালি ও সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে না, বরং তাতে এমন কিছু বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান থাকে যেগুলো শক্তিশালী নিউরোটক্সিন ও হেমোটক্সিন (সাপের বিষের প্রধান উপাদান) নিষ্ক্রিয় করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, উটের চোখের পানি এই বিষাক্ত উপাদানগুলোর প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্র বা রক্তপ্রবাহে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে।
এই অস্বাভাবিক বিষনাশক ক্ষমতা ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিভেনম তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে এমন অঞ্চলগুলোতে, যেখানে সাপের কামড়ে মৃ’ত্যুর হার বেশি এবং অ্যান্টিভেনম সহজলভ্য নয়, সেখানে উটের অশ্রু থেকে উদ্ভূত উপাদান জীবনরক্ষাকারী ওষুধে রূপ নিতে পারে।
তবে এই তথ্য এখনো গবেষণার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একে কার্যকর অ্যান্টিভেনম হিসেবে ব্যবহার করতে হলে আরও বিস্তারিত গবেষণা, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং বৈজ্ঞানিক অনুমোদন প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও, এই আবিষ্কার প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
ইমোশনাল নাম্বিং - যখন আবেগ মরে যায়
কখনো কি এমন হয়েছে যে, খুব খুশির খবর শুনেও কিছু অনুভব করলেন না? বা কেউ কাঁদছে আপনার সামনে, কিন্তু মন একদম ফাঁকা? এটাকে বলে ইমোশনাল নাম্বিং।
এটা মূলত মস্তিষ্কের একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যখন আপনি অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ট্রমা বা দীর্ঘদিনের কষ্টের মধ্যে থাকেন, তখন মস্তিষ্ক নিজেকে রক্ষা করতে আবেগ অনুভবের সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। ঠিক যেমন শরীর অতিরিক্ত ব্যথায় অবশ হয়ে যায়।
সাইকোলজিস্টরা বলছেন, এই অবস্থায় মানুষ আনন্দ, দুঃখ, রাগ কিছুই অনুভব করতে পারে না। সবকিছু দেখে মনে হয় একটা সিনেমা চলছে, কিন্তু আপনি শুধু দর্শক। নিজের জীবনেই আপনি যেন বাইরের মানুষ।
এটা ডিপ্রেশন, পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD), বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারেও এমন হতে পারে।
ভালো খবর হলো, এটা স্থায়ী নয়। থেরাপি, মেডিটেশন আর নিজেকে সময় দিলে আবেগ আবার ফিরে আসে। তবে এটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে সম্পর্ক আর জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব পড়ে।
আপনি কি কখনো এমন অনুভব করেছেন?
চেংগিস খানের কৌশলের সূত্র: রাজকুমারীদের কূটনীতি
চেংগিস খান কেবল বাহন ও যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, কৌশলগত বিবাহও ব্যবহার করে তার সাম্রাজ্য বিস্তৃত করেছিলেন। চল্লিশের দশকে খান উপাধি অর্জনের পর তাঁর সন্তানসংখ্যা দশটির বেশি দাঁড়ায়। তিনি মেয়েদের কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে বিবাহ দেন
সেসব বিবাহ বাৎসরিক মিত্র ও মিত্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে করা হতো। পরবর্তীতে এই জামাতদের মধ্যে অনেককে সামরিক অভিযানে পাঠানো হয় এবং অনেকে ফিরে আসেনি; ফলশ্রুতিতে মেয়েরা নিজেদের সৌজন্যে ও ক্ষমতায় নতুন রাজ্যগুলোর কার্যত নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতেন। এভাবে চেংগিস খান সরাসরি যুদ্ধ না করেও নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তার করতেন। ইতিহাসে দেখা যায়, তাঁর মেয়েরা কেবল সাজসজ্জার জন্য নন বরং তারা দক্ষ প্রশাসক ও কূটনীতিক হিসেবেও কাজ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, চেংগিস খানের সফলতা কেবল সৈন্যদল নয়, পারিবারিক ও সামাজিক কৌশলেও গভীরভাবে নিহিত ছিল।
কেন কম ওজন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ?
গবেষকরা এর জন্য কয়েকটি কারণের কথা বলেছেন, যার মধ্যে একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রিভার্স কজেশন Reverse Causation এর মানে হলো
কম ওজন সম্ভবত কোনো অন্তর্নিহিত রোগের ফল। অনেক মানুষ ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, হজমের সমস্যা, বা অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতার কারণে ওজন হারায়। এই রোগগুলোই আসলে অকাল মৃত্যুর কারণ, আর কম ওজন কেবল তার একটি লক্ষণ।
কম ওজনের কারণে পুষ্টির অভাব Malnutrition রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ফ্যাট রিজার্ভের অভাব দেখা দেয়, যা অসুস্থতার সময় শরীরকে আরও দুর্বল করে তোলে।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
বডি মাস ইনডেক্স BMI ওজন পরিমাপের একটি সহজ পদ্ধতি হলেও, এটি শরীরের চর্বি ও পেশির অনুপাত বা ফ্যাট কোথায় জমা আছে তা বলতে পারে না। তাই, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু শুধুমাত্র BMI এর উপর নির্ভর করে না, বরং শারীরিক কার্যকলাপ, খাদ্যাভ্যাস, হৃদযন্ত্রের ফিটনেস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির উপরও নির্ভর করে।
সুতরাং, আপনি যে তথ্যটি দিয়েছেন, তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্যের জন্য কেবল অতিরিক্ত ওজনই নয়, খুব কম ওজনও মারাত্মক ঝুঁকি বহন করে।
ম্যান্ডেলা ইফেক্ট - কেন মিথ্যা স্মৃতি মনে হয় সত্যি?
আপনি কি কখনো এমন কিছু মনে করেছেন, যা পরে বুঝেছেন আসলে ভুল ছিল? যেমন ধরুন, কোনো সিনেমার সংলাপ আপনার যেভাবে মনে রেখেছেন,আসলে সেটা একটু অন্যরকম ছিল। বা কোনো লোগো বা ব্র্যান্ডের চিহ্ন তোমার মনে আছে একভাবে, কিন্তু এখন দেখছো সেটা পুরোই আলাদা। এই অদ্ভুত ঘটনাকেই বলা হয় ম্যান্ডেলা ইফেক্ট।এই নামটা এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা-এর নাম থেকে। অনেকে মনে করতেন, তিনি ১৯৮০-এর দশকেই মারা গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ২০১৩ সালে মারা যান। অনেক মানুষ একসাথে একই ভুল স্মৃতি মনে রাখছিলেন। এই ঘটনাই প্রথম সবাইকে ভাবতে বাধ্য করে— কীভাবে এত মানুষ একই ভুলটা করতে পারে?
আসলে আমাদের মস্তিষ্ক অনেক জটিলভাবে কাজ করে। এটা সব সময় ছবি, শব্দ, ঘটনা, অনুভূতি—সব মিলিয়ে একটা গল্প তৈরি করে। কিন্তু যখন কোনো তথ্য হারিয়ে যায়, মস্তিষ্ক নিজেই সেই ফাঁকা জায়গা পূরণ করে নিজের মতো করে। তখনই তৈরি হয় “মিথ্যা স্মৃতি”। আর যখন অনেক মানুষ একই তথ্য বা ঘটনার প্রভাবে একই ভুল করে, তখন সেটাই হয়ে যায় ম্যান্ডেলা ইফেক্ট।
উদাহরণ দিই:
অনেকেই মনে রাখে “Monopoly” গেমের লোকটার চোখে একটা মনোকল (চশমা) ছিল, কিন্তু আসলে ছিল না।
“Star Wars”-এর বিখ্যাত সংলাপ “Luke, I am your father” আসলে “No, I am your father”।
“Pikachu”-র লেজের আগা কালো মনে আছে? বাস্তবে সেটা পুরো হলুদ।
এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায়, আমরা যা দেখি বা মনে রাখি, সব সময় তা পুরো সত্য নাও হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে আমাদেরই সঙ্গে খেলা করে।
তাই পরের বার কিছু মনে পড়লে একটু ভেবে দেখো— এটা সত্যি, নাকি ম্যান্ডেলা ইফেক্টের আরেকটা উদাহরণ?
বিজ্ঞান বলে, আমাদের স্মৃতি নিখুঁত নয়, কিন্তু ভুল থেকেই আমরা শিখি।
সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্ট॥
1.হিউমান সাইকোলজি সবসময় মানুষের কৌতূহলের বিষয় ছিল। কোন ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে অথবা কোন নতুন বিষয় নিয়ে জানতে সাইকোলজি কাজ করে থাকে। মানুষ সাইকোলজির অনেক কিছুই বোঝে না। আজকের আর্টিকেলে সাইকোলজি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট তুলে ধরা হবে।।
2.গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে, আপনি যদি আপনার জীবনের লক্ষ্যের কথা কাউকে বলে দেন তাহলে হরমোন নি:সৃত হয় যা আপনাকে আনন্দ পেতে সহায়তা করে। পরবর্তী সময়ে ওই কাজ করার পেছনে মোটিভেশন কমে যায়।
3.মাতৃভাষা ব্যতীত যদি দ্বিতীয় ভাষায় আমরা কোন কিছু চিন্তা করি তাহলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গবেষণায় এমনটি বলা হয়েছে। সারাদিন নিজের রুমে না থেকে সূর্যের আলোর স্পর্শ পাওয়ার জরুরী। সূর্যের আলো আপনার মনে আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং আপনার মনকে সতেজ রাখে।
4.আপনি যদি অতিরিক্ত ঘুমান তাহলে আপনার শরীর এবং মনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে। আপনি অতিরিক্ত ঘুমালে আপনার সাইকোলজি এমনভাবে কাজ করবে যেন আপনি কম ঘুমিয়েছেন। সেজন্য পরিমিত ঘুম মানুষের জন্য যথেষ্ট।
5.দুশ্চিন্তার কারণে রাতে ঘুমাতে না পারলে একটি কাগজে আপনার সব মনের অনুভূতি লিখে ফেলুন। এতে আপনার মন হালকা হবে এবং রিলাক্স মোডে ঘুমানো সম্ভব হবে।
6.হিউমান সাইকোলজি এভাবে কাজ করে যে আপনি যদি কোন ফুলের ঘ্রান নেন তাহলে হয়তো পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাবে। মানুষ মারা যাওয়ার পর ৭ মিনিট ধরে ব্রেইন সচল থাকে। সে সময় ব্রেইন পুরনো স্মৃতি নিয়ে কাজ করে।
7.মানুষকে কোন কাজ করার জন্য অনুরোধ করলে সে না করতে পারে না। তবে সে কাজটি করতে পারবে কিনা বলে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে নেতিবাচক উত্তর আসতে পারে। অচেনা কাউকে জানতে হলে তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে চলে যান। রেস্টুরেন্টের স্টাফদের সাথে তার আচরণ কেমন তা পর্যবেক্ষণ করুন।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
১. ফেরোমোনস Pheromones মানুষসহ অনেক প্রাণীই এক ধরণের রাসায়নিক সংকেত নিঃসরণ করে, যা ফেরোমোনস নামে পরিচিত। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা এখনও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়, কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে এই গন্ধহীন রাসায়নিকগুলি অবচেতনভাবে আমাদের আকর্ষণ এবং সঙ্গী নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
২. এম.এইচ.সি MHC জিন আমাদের শরীরে এক ধরণের জিনের সেট আছে, যার নাম Major Histocompatibility Complex MHC এই জিনগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ এমন সঙ্গীর গন্ধের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়, যার MHC জিনগুলো তাদের নিজেদের থেকে যতটা সম্ভব আলাদা। এর কারণ হলো, ভিন্ন MHC জিনের মিলন হলে তাদের সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়। এই পছন্দটি সম্পূর্ণ অবচেতনভাবে ঘটে, যার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখে গন্ধ।
৩. ঘ্রাণ এবং স্মৃতি Smell and Memory আমাদের মস্তিষ্কের ঘ্রাণ-সংক্রান্ত অংশটি olfactory bulb সরাসরি আবেগ এবং স্মৃতি নিয়ন্ত্রক অংশগুলির amygdala এবং hippocampus সাথে সংযুক্ত। এই কারণে, একটি নির্দিষ্ট গন্ধ খুব শক্তিশালী এবং তাৎক্ষণিক আবেগ ও স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে পারে। প্রথম দেখায় কারো গন্ধে আকৃষ্ট হলে সেই স্মৃতিটি খুব গভীর হয়।
সুতরাং, চেহারার আকর্ষণ একটি তাৎক্ষণিক ব্যাপার হলেও, গন্ধ অবচেতনভাবে আমাদের সঙ্গী নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জৈবিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনেক ক্ষেত্রে এই জৈবিক গন্ধের বিচার আমাদের 'ভালবাসার' প্রথম অনুভূতির ভিত্তি তৈরি করে।
বাচ্চার জেদ নিয়ন্ত্রণে টিপস
১. শান্ত থেকে কথা বলুন
বাচ্চা জেদ করলে চিৎকার না করে শান্তভাবে বলুন, “আমি তোমার কথা বুঝতে চাই, কিন্তু
আগে একটু শান্ত হও।”এতে বাচ্চাও ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়।
২. মনোযোগ দিয়ে শুনুন
তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলুন, “তুমি কি কিছু বলতে চাও?”সে বুঝবে, তার অনুভূতি আপনি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
৩. অন্য বিকল্প দিন
সে যদি আইসক্রিম চায়, আপনি বলুন, “আইসক্রিম নয়, কিন্তু তুমি ফল বা দই পেতে পারো, কোনটা খাবে?”এতে বাচ্চা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সে নিজেকে সিদ্ধান্তের অংশ মনে করে।
৪. নিয়ম তৈরি করুন, শাস্তি নয়
আগে থেকেই বলুন, “টিভি দেখার সময় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, এরপর আর নয়।”এতে সে জানবে কোন কাজ কখন করতে হবে।
৫. জেদের পেছনের কারণ বুঝুন
হয়ত সে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বা ঘুমাচ্ছে না। এমন সময় সহজেই জেদ বাড়ে।
তার আবেগ ও শারীরিক অবস্থা বুঝে প্রতিক্রিয়া দিন।
৬. ভালো আচরণের প্রশংসা করুন
সে শান্তভাবে খেলছে? বলুন, “তুমি আজ অনেক ভালো behaved করছো, খুব গর্ব হচ্ছে!”এতে ভালো আচরণ বাড়ে, জেদ কমে।
৭. ধৈর্য ধরে সময় দিন
সে জেদ করলে কিছুক্ষণ একা থাকতে দিন বা বলুন, “আমরা পরে আবার কথা বলব।”
একা থাকলে সে নিজে ঠান্ডা হতে শিখে।
৮. আদর দিয়ে বোঝান
বকা না দিয়ে জড়িয়ে ধরুন আর বলুন, “আমি তোমায় খুব ভালোবাসি, কিন্তু এইভাবে জোরে চিৎকার করা ঠিক না।”
এতে সে ভালোবাসা থেকে শিখে, ভয় থেকে নয়।
৯. খেলনার মাধ্যমে শেখান
পুতুল বা গাড়ি দিয়ে নাটক করে শেখান: “এই পুতুলটা খুব জেদ করত, কিন্তু সে বুঝে গেছে কথা শুনলে কত ভালো হয়।”শিশুরা খেলতে খেলতে সবচেয়ে বেশি শিখে।
১০. নিজে ভালো উদাহরণ দিন
আপনি রেগে না গিয়ে ধৈর্য ধরলে, বাচ্চাও শেখে কিভাবে শান্ত থাকতে হয়।
বাচ্চা সব সময় আপনাকে অনুকরণ করে।
এই কৌশলগুলো ধীরে ধীরে প্রয়োগ করলে বাচ্চার জেদ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
নিজের সীমাবদ্ধতা ভাঙার মনস্তত্ত্ব
আমরা সবাই নিজের চারপাশে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে রাখি। বলি, আমি এটা পারবো না, ওটা আমার জন্য নয়, এটা আমার সাধ্যের বাইরে। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতাগুলো আসলে কোথা থেকে আসে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো আমাদের মনের তৈরি বাধা, বাস্তবের নয়।
মনোবিজ্ঞানে একে বলে লার্নড হেল্পলেসনেস বা শেখানো অসহায়ত্ব। ছোটবেলায় কোনো কাজে ব্যর্থ হলে বা কেউ বলে দিলে তুমি পারবে না, সেই বিশ্বাস মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। এরপর আর চেষ্টাই করি না। মনে করি, এটা আমার জন্য না।
মজার ব্যাপার হলো, সার্কাসের হাতিকে ছোট দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে। হাতি চাইলে সহজেই ছিঁড়ে ফেলতে পারে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে বাঁধা থাকায় মনে করে পারবে না। আমরাও অনেকটা সেই হাতির মতো।
আসল সত্য হলো, মানুষের মস্তিষ্ক অসীম সম্ভাবনার আধার। নিউরোপ্লাস্টিসিটি বলে একটা বৈশিষ্ট্য আছে মস্তিষ্কে। যেকোনো বয়সে নতুন কিছু শিখতে পারি, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারি। শুধু দরকার চেষ্টা আর বিশ্বাস।
সীমাবদ্ধতা ভাঙতে হলে প্রথমে চিনতে হবে কোনগুলো সত্যিকারের বাধা আর কোনগুলো মনের তৈরি। বেশিরভাগ বাধাই আসলে ভয়ের ছদ্মবেশ। ব্যর্থ হওয়ার ভয়, অপমানিত হওয়ার ভয়, অন্যরা কী বলবে সেই ভয়।
একবার ছোট একটা সীমা ভেঙে দেখুন। হয়তো ভাবতেন পাবলিক স্পিকিং পারবেন না, একবার করে দেখুন। হয়তো ভাবতেন আঁকতে পারবেন না, তুলি হাতে নিয়ে দেখুন। প্রথম পদক্ষেপটাই সবচেয়ে কঠিন। এরপর দেখবেন দেয়ালটা আসলে কাগজের তৈরি ছিল।
মনে রাখবেন, আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু আপনার ভেতরের সেই কণ্ঠস্বর যা বলে তুমি পারবে না। সেই কণ্ঠস্বরকে চ্যালেঞ্জ করুন। কারণ সীমাবদ্ধতা ভাঙার শক্তি আপনার ভেতরেই লুকিয়ে আছে, শুধু জাগাতে হবে।
কানের ময়লা
আমরা ভাবি, কটন বাড কান পরিষ্কার করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ঠিক এর উল্টোটা! এটি কানের ময়লাকে ঠেলে কানের পর্দার আরও কাছে নিয়ে যায়, যা সাধারণ প্রক্রিয়ায় আর বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলাফল?
১. ময়লা জমতে জমতে কানের ভেতরে শক্ত জট (Impacted Wax) তৈরি হয়, যা আপনার শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং কানে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
২. কানের ভেতরের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। কটন বাডের সামান্য আঘাতেও সেখানে ঘা হতে পারে। এই ক্ষত থেকে রক্তপাত, চুলকানি এবং মারাত্মক ইনফেকশন (Otitis Externa) হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৩. অসাবধানতাবশত সামান্য জোরে খোঁচা লাগলেই কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। মারাত্মক ক্ষেত্রে, এটি কানের ভেতরের সূক্ষ্ম হাড়গুলোকে পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা আপনাকে সাময়িক বা এমনকি স্থায়ীভাবে বধির করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট!
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের কানের ময়লা বা খোল (Earwax) আসলে কানের সুরক্ষা কবচ। এটি বাইরে থেকে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়াকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কান প্রাকৃতিক নিয়মেই নিজে থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়, তাই আলাদা করে পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই।
এরপরও কানে বেশি অস্বস্তি হলে বা কম শুনলে, নিজে চিকিৎসা না করে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
কেন ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তন আনে
আমরা সবাই বড় স্বপ্ন দেখি। ওজন কমাবো, নতুন ভাষা শিখবো, ব্যবসা শুরু করবো। কিন্তু কয়দিন পরেই হাল ছেড়ে দিই। কারণ লক্ষ্যটা এত বড় যে শুরুতেই ভয় পেয়ে যাই। আসলে সমস্যা লক্ষ্যে নয়, সমস্যা আমাদের পদক্ষেপে।
মস্তিষ্ক বড় পরিবর্তন পছন্দ করে না। হঠাৎ জীবনে বিশাল বদল আনতে গেলে মস্তিষ্ক সেটাকে হুমকি মনে করে। তখন প্রতিরোধ তৈরি হয়, মন চায় পুরনো অভ্যাসে ফিরে যেতে। এজন্যই নববর্ষের সংকল্প ব্যর্থ হয় ফেব্রুয়ারিতেই।
কিন্তু ছোট পদক্ষেপ মস্তিষ্ককে ভয় পাইয়ে দেয় না। প্রতিদিন দশটা পুশআপ করা কঠিন মনে হলে একটা দিয়ে শুরু করুন। একটা বই পড়া কঠিন লাগলে একটা পাতা দিয়ে শুরু করুন। এত ছোট যে মস্তিষ্ক বুঝতেই পারবে না আপনি বদলাচ্ছেন।
বিজ্ঞান একে বলে কাইজেন পদ্ধতি। জাপানি এই শব্দের অর্থ ক্রমাগত উন্নতি। প্রতিদিন মাত্র এক শতাংশ উন্নতি করলে এক বছরে আপনি সাঁইত্রিশ গুণ ভালো হবেন। হিসাবটা অবিশ্বাস্য শোনালেও এটাই সত্য।
ছোট পদক্ষেপের আরেকটা শক্তি হলো, এটা আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। একটা কাজ সফল হলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। এই সুখানুভূতি আমাদের আরো করতে উৎসাহ দেয়। একটা সফলতা আরেকটা ডেকে আনে।
মনে রাখবেন, সমুদ্র পাড়ি দেওয়া জাহাজও একটা একটা ঢেউ পেরিয়ে যায়। মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা পর্বতারোহীও একটা একটা পা ফেলে উপরে ওঠেন। বড় কিছুই একদিনে হয় না, হয় ছোট ছোট প্রতিদিনের জমাটে।
আজ থেকে শুরু করুন। এত ছোট একটা পদক্ষেপ নিন যে না করার কোনো অজুহাত থাকবে না। কারণ পথ তৈরি হয় হাঁটতে হাঁটতে, স্বপ্ন পূরণ হয় করতে করতে। ছোট শুরুই বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
কিছু সাইকোলজিকাল ফ্যাক্ট!
১.আপনি যদি কারও কাছ থেকে সত্যিটা জানতে চান, রাতে জিজ্ঞেস সাধারণত মানুষ যখন ক্লান্ত থাকে, তখন সত্যি কথা বলে। শারীরিকভাবে পরিশ্রান্ত অবস্থায় মানুষের পক্ষে চট করে ভেবে বা সাজিয়ে মিথ্যা বলা কঠিন।
২. কারও কাছে সত্যিটা জানতে চাইলে আগে তাঁকে হাসান। তারপর তাঁকে প্রশ্ন করুন। আপনার সঙ্গে হাসাহাসি করার ফলে তিনি আপনার সামনে সহজ–স্বাচ্ছন্দ্য হয়ে যাবেন।
৩. কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে নিজের পুরো নাম বলুন। প্রশ্নকর্তা আপনাকে ‘সিরিয়াসলি’ নেবেন।
গান আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে
৪. প্রতিদিন ৫ থেকে ১০টি গান শুনুন। এই অভ্যাস আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। নিয়মিত পছন্দের গান শোনার অভ্যাস হতাশা কাটাতে সাহায্য করে। এমনকি শারীরিক ব্যথা উপশমেও সহায়তা করে।
৫.কেউ যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেন, অল্প সময়ের ভেতর কিছু করে ফেলতে বলেন, সেই অফার বা চুক্তিটি সম্ভবত ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ। হুলুস্থুল করে এই ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না।
ভাই/বোনের সাথে মারামারি করেন তো?
আপনি কি জানেন! ভাই/বোনের সাথে মারামারি করলে অনেকাংশে সামাজিক দক্ষতা বাড়ে।ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী যাদের ভাই/বোন আছে এবং মারামারি করে বা ঝগড়া করে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি পরিমাণে সামাজিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং কথা বলায় বেশি দক্ষ হয়। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, পরে তারা ঝামেলা মিটিয়ে নেয় এবং এভাবে তাদের মধ্যে ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং অভিযোজনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এমনকি নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও তা এই উন্নতিগুলোর অন্তরায় হতে পারে না।
শিশুদের কল্পনাশক্তির জাদুকরী দুনিয়া।
শিশুদের কল্পনাশক্তি একটা অদ্ভুত জিনিস, তাই না? এক মুহূর্তে তারা বাড়ির বসার ঘরে বসে থাকা একটা সাধারণ শিশু, আর পরক্ষণেই তারা হয়ে ওঠে জঙ্গলের রাজা, মহাকাশের অভিযাত্রী, কিংবা রূপকথার রাজকন্যা! এই কল্পনাশক্তি শুধু খেলার জন্য নয়, এটা তাদের মানসিক বিকাশের একটা বড় অংশ। আজকে আমরা এই বিষয়ে একটু গল্প করবো, যাতে আমরা সবাই বুঝতে পারি এই জাদুকরী দুনিয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।
কল্পনাশক্তি কীভাবে শিশুদের বড় করে?
৩ থেকে ৬ বছর বয়সের শিশুদের মাথায় যেন একটা কল্পনার কারখানা চলে। এই সময়ে তারা "প্রিটেন্ড প্লে" বা ভান করে খেলায় মেতে ওঠে। ধরো, একটা শিশু একটা ঝাড়ুকে ঘোড়া বানিয়ে তাতে চড়ে বেড়াচ্ছে। এটা দেখে হয়তো আমরা হাসি, কিন্তু এই খেলার মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক কিছু:
সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা: যখন একটা শিশু কল্পনা করে সে একটা দুর্গ বানাচ্ছে, তখন সে শুধু বালিশ আর কম্বল জড়ো করছে না। সে ভাবছে, কীভাবে দুর্গটা মজবুত হবে, কোথায় দরজা থাকবে, কীভাবে শত্রুদের ঠেকাবে। এই সবই তার সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।
সামাজিক দক্ষতা: তুমি কি লক্ষ্য করেছ, শিশুরা যখন দল বেঁধে খেলে, তখন তারা নিজেরাই নিয়ম ঠিক করে? যেমন, তুমি রাজা হবে, আমি সৈনিক হবো।এই খেলায় তারা শেখে কীভাবে অন্যদের সঙ্গে মিশতে হয়, কীভাবে ঝগড়া এড়িয়ে সমঝোতা করতে হয়। এটা তাদের ভবিষ্যতে বন্ধুত্ব গড়তে বা দলে কাজ করতে সাহায্য করে।
আবেগ বোঝা: কল্পনার খেলায় শিশুরা বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। একবার হয়তো সে একজন ডাক্তার, যে রোগীকে সুস্থ করছে। এর মাধ্যমে তারা শিখছে অন্যের কষ্ট বুঝতে, সহানুভূতি দেখাতে। এটা তাদের মানসিক বুদ্ধিমত্তা বাড়ায়।
শিশুদের কল্পনার জগৎকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরা কিছু সহজ জিনিস করতে পারি:
খেলার সময় দাও: তাদের ফ্রি সময় দাও, যাতে তারা নিজের মতো করে গল্প বানাতে পারে।
খেলনা না, সাধারণ জিনিস: দামি খেলনার চেয়ে একটা পুরোনো কার্টন বা কাপড়ের টুকরো তাদের কল্পনাকে বেশি উসকে দেয়।
তাদের গল্পে যোগ দাও: তাদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে তুমিও একটা চরিত্র হয়ে যাও। এতে তারা আরও উৎসাহ পাবে।
কল্পনার শক্তি আমাদের সবার মধ্যে
শুধু শিশুরাই নয়, আমরাও তো কল্পনা করি। একটা নতুন প্রজেক্ট শুরু করার আগে আমরা কল্পনা করি সেটা কেমন হবে। শিশুদের এই কল্পনার জগৎ থেকে আমরা শিখতে পারি—ভয় না করে নতুন কিছু চেষ্টা করতে, আর একটু মজা করে জীবনকে দেখতে।
অস্তিত্বের ক্লান্তি Existential Fatigue কী?
অস্তিত্বের ক্লান্তি হলো একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি কেবল শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি অনুভব করে না, বরং জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য এবং মূল্য নিয়ে গভীর এক অবসাদ ও শূন্যতা অনুভব করে। একে প্রায়শই একটি 'নীরব অসুস্থতা' বলা হয়, কারণ এটি বিষণ্নতার মতো স্পষ্টভাবে বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ব্যক্তিকে গ্রাস করে নেয়।
মূল বৈশিষ্ট্য ও উপসর্গ
এটি সাধারণ ক্লান্তি থেকে আলাদা। এর প্রধান উপসর্গগুলো হলো:
গভীর উদ্দেশ্যহীনতা মনে হয় জীবন অর্থহীন বা যা কিছু করা হচ্ছে তার কোনো দীর্ঘমেয়াদী মূল্য নেই।
বিচ্ছিন্নতা নিজের কাজ, সম্পর্ক বা সমাজের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করা।
অনুভূতির শূন্যতা কোনো কিছুতেই আনন্দ বা উদ্দীপনা খুঁজে না পাওয়া।
অত্যধিক চিন্তা জীবন মৃত্যু, স্বাধীনতা, দায়িত্ব এবং অস্তিত্বের চূড়ান্ত বিষয়গুলি নিয়ে ক্রমাগত এবং অসহনীয় চিন্তা করা।
কর্মক্ষমতার অভাব দৈনন্দিন কাজ, যা আগে স্বাভাবিক মনে হতো, তা করতেও অনেক বেশি মানসিক শক্তি প্রয়োজন হওয়া।
অতিরিক্ত চাপ বিশেষ করে যারা দীর্ঘকাল ধরে উচ্চ চাপযুক্ত পরিবেশে বা মানসিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
নীরব অসুস্থতা কেন?
এই অবস্থাকে নীরব অসুস্থতা বলা হয় কারণ ভুল ব্যাখ্যা অনেকে এটিকে শুধুমাত্র মানসিক চাপ, কর্ম-ক্লান্তি Burnout বা সাধারণ অলসতা বলে ভুল করে। লুকানো এই ক্লান্তি আসে জীবনের গভীর প্রশ্নগুলো থেকে, যা সহজে অন্যের কাছে প্রকাশ করা যায় না। ব্যক্তি সামাজিক মেলামেশার সময়ও ভেতরের এই শূন্যতা লুকিয়ে রাখে।
বেরিয়ে আসার ৩টি চাবিকাঠি The 3 Keys to Exit
মনস্তত্ত্ববিদরা সাধারণত এই ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিমৌলিক দিকের উপর জোর দেন:
১. অর্থ পুনঃস্থাপন Re-establish Meaning
উদ্দেশ্য খুঁজুন: নিজের কাছে সত্যিই মূল্যবান এমন ছোট বা বড় কাজ চিহ্নিত করুন। এমন কোনো কাজে নিয়োজিত হোন যা আপনাকে বৃহত্তর কোনো কিছুর অংশ মনে করায়—তা হোক সমাজসেবা, শিল্পচর্চা বা কোনো শখের পেছনে সময় দেওয়া।
ছোট লক্ষ্যে ফোকাস: জীবনের বিশাল উদ্দেশ্যের বোঝা না নিয়ে, আজকের দিনের জন্য বা এই সপ্তাহের জন্য একটি ছোট, অর্জনযোগ্য লক্ষ্য ঠিক করুন।
২. সংযোগ ও সম্পৃক্ততা Connection and Engagement
গভীর সম্পর্ক শুধু পরিচিতি নয়, বরং অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। এমন বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান যেখানে আপনি আপনার দুর্বলতাগুলোও প্রকাশ করতে পারেন এবং যেখানে আপনার উপস্থিতি সত্যি মূল্যবান বলে মনে হয়।
বর্তমানে বাঁচা মনকে অতীত বা ভবিষ্যতের চিন্তা থেকে সরিয়ে এনে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দিতে শেখা। ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস এক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।
৩. জীবনবোধকে গ্রহণ করা Accepting Existential Givens
অস্থিরতা মেনে নেওয়া: জীবনের কিছু দিক যেমন মৃত্যু, একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তা এগুলো অনিবার্য।
এই বাস্তবতাগুলোকে ভয় না পেয়ে বরং মেনে নিতে শেখা।
দায়িত্বশীলতা: নিজের জীবন এবং পছন্দগুলির দায়িত্ব নেওয়া। যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনিই আপনার জীবনের চালক, তখন অসহায়ত্বের অনুভূতি কমে আসে এবং পরিবর্তনের ক্ষমতা তৈরি হয়।
এই ক্লান্তি একটি গভীর মানসিক অবস্থা, তাই যদি এটি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও জীবনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে, তবে একজন পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন কিছু মানুষ সবার কাছে আকর্ষণীয় লাগে
আপনার চারপাশে এমন মানুষ নিশ্চয়ই আছে যারা ঘরে ঢুকলেই সবার নজর কেড়ে নেয়। তারা হয়তো খুব সুন্দর নয়, কিন্তু তবুও সবাই তাদের দিকে তাকায়, তাদের কথা শোনে। এর পেছনে আছে মনোবিজ্ঞানের কিছু গোপন সূত্র।
আত্মবিশ্বাস হলো প্রথম চাবিকাঠি। যে মানুষ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখে, তার শরীরের ভাষা আলাদা হয়। তারা সোজা হয়ে দাঁড়ায়, চোখে চোখ রেখে কথা বলে, হাসিতে দ্বিধা থাকে না।
শোনার ক্ষমতা আরেকটা বড় গুণ। আকর্ষণীয় মানুষেরা শুধু নিজের কথা বলে না, অন্যের কথাও মনোযোগ দিয়ে শোনে। তারা প্রশ্ন করে, চোখে চোখ রাখে, মাথা নাড়ায়।
ইতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে দেওয়া মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়। যারা অভিযোগ কম করে, হাসিখুশি থাকে, সমস্যায়ও সমাধান খোঁজে, তাদের কাছে মানুষ যেতে চায়। কারণ ইতিবাচকতা সংক্রামক, সেটা ছড়িয়ে পড়ে।
রহস্য রাখাও একটা শিল্প। যারা নিজের সবকিছু প্রথম দেখাতেই বলে দেয় না, তারা বেশি কৌতূহল জাগায়। মানুষ জানতে চায়, বুঝতে চায়। একটু রহস্যময়তা আকর্ষণ বাড়ায়।
আসল কথা হলো, আকর্ষণ শুধু চেহারা বা পোশাকের ব্যাপার নয়। এটা একটা অনুভূতি যা আপনি অন্যদের মধ্যে তৈরি করেন। মানুষ ভুলে যায় আপনি কী বলেছিলেন, কিন্তু ভোলে না আপনি তাদের কেমন অনুভব করিয়েছিলেন।
কীভাবে ছোট পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলে!
জানেন কি? আপনার দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের পেছনে একটি লুকানো শক্তি কাজ করে! এটি হলো "নাজিং" – একটি মনোবিজ্ঞানের কৌশল, যা আপনাকে বাধ্য না করে, আলতোভাবে সঠিক পথে নিয়ে যায়। উদাহরণ:
সুপারমার্কেটে ফল-মূল ও সবজি কাউন্টারের সামনে রাখলে আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারেন।
অফিসের ক্যাফেটেরিয়ায় ছোট প্লেট রাখলে আপনি কম খাবার নষ্ট করেন।
ফোনের অ্যাপে রিমাইন্ডার সেট করলে আপনি সময়মতো কাজ শেষ করেন।
কীভাবে কাজ করে নাজিং?
নাজিং আমাদের মনের অলস প্রকৃতিকে কাজে লাগায়। আমরা প্রায়ই সহজ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাই। ছোট পরিবর্তন, যেমন ডিফল্ট অপশন সেট করা বা আকর্ষণীয়ভাবে বিকল্প উপস্থাপন, আমাদের পছন্দকে প্রভাবিত করে।
বাস্তবে এর ব্যবহার:
সরকার ব্যবহার করে নাগরিকদের ট্যাক্স সময়মতো দেওয়ার জন্য।
স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে আকৃষ্ট করতে।
এমনকি আপনার ফ্রিজে স্বাস্থ্যকর খাবার সামনে রাখাও এক ধরনের নাজিং!
আপনার জীবনে নাজিং কীভাবে ব্যবহার করবেন?
ঘরে ফলের বাটি টেবিলের মাঝখানে রাখুন।
সঞ্চয়ের জন্য অটো-সেভিং অপশন চালু করুন।
ফোনে স্ক্রিন টাইম রিমাইন্ডার সেট করুন।
Dugong – সমুদ্রের গরু ‘Sea Cow’!
Dugong হলো এক ধরনের সমুদ্রের তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী, যাকে অনেকে ভালোবেসে বলে “Sea Cow”।
এর দেহ গোলগাল ও নরম দেখায়, মাথা গোল আর নাক নিচের দিকে বাঁকা। লেজটা দেখতে অনেকটা ডলফিনের মতো, আর এটি মূলত সমুদ্রের নিচে ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকে। শান্ত, ধীর আর নিরীহ এই প্রাণীগুলো সাধারণত অগভীর উপকূলীয় পানিতে দেখা যায়।
দেখতে যেমন আদুরে, স্বভাবেও তেমন শান্ত — প্রকৃতির সত্যিকারের ভদ্র দৈত্য।
আক্কেল দাঁত একটা পাওয়ার হাউজ!
যে দাঁত ফেলে দেই, সেটিই হতে পারে জীবন বাঁচানোর উপকরণ!
গবেষকরা বলছেন, আমাদের আক্কেল দাঁতে (Wisdom Teeth) লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য চিকিৎসা সম্ভাবনা।
স্পেনের University of the Basque Country–এর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, এই দাঁতের ভেতরে রয়েছে বিশেষ ধরনের স্টেম সেল, যা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনরায় তৈরি করতে পারে।
এই স্টেম সেলগুলো ভবিষ্যতে হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক কিংবা হাড়ের কোষ পুনর্গঠনে ব্যবহার করা যেতে পারে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো
যে দাঁত আমরা সাধারণত অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিই, সেটিই হতে পারে ভবিষ্যতের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার উৎস!
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আক্কেল দাঁত হতে পারে এক সহজলভ্য ও কম খরচের স্টেম সেল ব্যাংক, যা ভবিষ্যতের রিজেনারেটিভ মেডিসিনে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
যমজ সন্তান হওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি ??
যমজ সন্তান ২ ধরনের হয়ে থাকে। আইডেন্টিক্যাল টুইন এবং নন আইডেন্টিক্যাল টুইন।প্রাকৃতিকভাবে প্রতি ঋতুচক্রে মেয়েদের ওভ্যুলেশন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডিম্বাশয় বা ওভারি থেকে একটি করে ডিম্বানু বেরিয়ে আসে। সেই ডিম্বানু শুক্রানুর দ্বারা নিষিক্ত বা ফার্টিলাইজড হলে ভ্রুণের জন্ম হয়।ডিম্বানু এবং শুক্রানুর মিলনে তৈরি হয় জাইগোট। সেই জাইগোট অনেক ক্ষেত্রে দুভাগে ভাগ হয়ে যায়। তখন দুটি ভ্রুণ তৈরি হয় এবং তা মাতৃগর্ভে বড় হতে থাকে। এই ধরনের যমজ সন্তানকে বলে আইডেন্টিক্যাল টুইন।এই ধরনের যমজ বাচ্চারা দেখতে একই রকমের দেখতে হয়ে থাকে। আবার এই ধরনের যজম সন্তান অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই লিঙ্গের হয়। অর্থাৎ ছেলে হলে দুজনই ছেলে বা মেয়ে হলে দুজনই মেয়ে।কিন্তু অনেক সময় মহিলাদের ওভ্যুলেশনের সময় একটির পরিবর্তে দুটি ডিম্বানু বেরিয়ে আসে। সেই দুই ডিম্বানু যদি দুটি শুক্রানু দ্বারা ফার্টিলাইজ হয়, তাহলেও যমজ সন্তান হয়। এই ধরনের যমজ সন্তানদের নন-আইডেন্টিক্যাল টুইন বলে। তবে এই যমজ সন্তান দেখতে আলাদা হয়।
পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসবে না! ম্যাজিক?
যখন আপনি পেঁয়াজ কাটেন, তখন সেটি syn-propanethial-S-oxide নামের এক ধরনের গ্যাস নির্গত করে। এই গ্যাস স্বাভাবিকভাবেই আর্দ্রতার দিকে আকৃষ্ট হয়, তাই এটি সরাসরি আপনার চোখের দিকে চলে আসে। চোখের আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে সালফিউরিক অ্যাসিডজাতীয় যৌগ তৈরি করে, যা চোখে জ্বালা ও পানি আনায়।
একটা সহজ উপায়?
কাটিং বোর্ডের পাশে এক বাটি পানি রাখুন।
গ্যাসটি আগে সেই পানির দিকে আকৃষ্ট হয়ে তাতে মিশে যাবে ফলে চোখে আর পৌঁছাতে পারবে না। পানি একপ্রকার “ফাঁদ” হিসেবে কাজ করে, গ্যাসটিকে আপনার চোখ থেকে দূরে রাখে।
এটি কোনো ম্যাজিক নয় পুরোটাই বৈজ্ঞানিক কিচেন ট্রিক, যা পেঁয়াজ কাটার সময়কে অনেক বেশি আরামদায়ক করে তোলে।
জনসমাগমে ছবি তুলতে লজ্জা এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ।
মানুষ সামাজিক প্রাণী হলেও অনেকেই জনসমাগমে ছবি তুলতে অস্বস্তি বোধ করে বা লজ্জা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে মানসিক ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। যখন কেউ বুঝতে পারে আশেপাশে অনেক মানুষ তাকিয়ে আছে, তখন মস্তিষ্কের amygdala ও prefrontal cortex সক্রিয় হয়। Amygdala ভয় ও সতর্কতার সংকেত পাঠায়, ফলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, হাত কাঁপে, মুখ শুকিয়ে যায়।
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন social anxiety বা সামাজিক উদ্বেগ। এতে মনে হয়, সবাই তাকিয়ে বিচার করছে, যদিও বাস্তবে অন্যরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান বলছে, প্রাচীনকালে গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানেই ছিল বিপদের সম্ভাবনা। তাই অন্যদের নজর সম্পর্কে সচেতন থাকা ছিল বেঁচে থাকার কৌশল। সেই প্রবণতাই আজও কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর শ্বাস নেওয়া, ছোট দলে ছবি তোলা ও আত্মবিশ্বাস চর্চা করলে এই অস্বস্তি ধীরে ধীরে কাটানো যায়। জনসমাগমে ছবি তুলতে লজ্জা পাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এটি মানুষের প্রাকৃতিক মানসিক প্রতিক্রিয়া