থিওরেমটি কি?
থিওরেমটির মূল কথা হচ্ছে, যদি কোনো কাজ করার সম্ভাবনা শূন্য না হয় এবং সেই কাজে যদি অসীম সংখ্যক বার সময় দেওয়া হয়, তাহলে সেই কাজ একসময় অবশ্যই ঘটবে, সফল হবে।
১
'বোঝা এবং খোঁজা' কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
মানুষ অর্থ দিয়ে নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারলেও কখনো স্বভাবের পরিবর্তন করতে পারে না! স্বভাব পরিবর্তন করতে অনেক কিছু জানতে হয়, মানতে হয় এবং চর্চা করতে হয়।
গবেষণা দেখিয়েছে, নিয়মিত ভলান্টিয়ারিং বা ছোট ছোট সাহায্যের কাজ যেমন বন্ধু, পরিবার বা প্রতিবেশীকে সহায়তা করা—মস্তিষ্কের বয়স ধীর করে। এই ধরনের কাজ করলে মন ভালো থাকে যার ফলস্বরূপ স্মৃতি এবং চিন্তার ক্ষমতা ভালো থাকে। তাই প্রতিদিন বড় উদ্যোগের দরকার নেই; ছোট ভালো কাজের ধারাবাহিকতা মস্তিষ্ককে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সহায়ক।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, নিয়মিত মানুষের সাথে কথা না বলা বা সময় না কাটালে আপনার শেখার ক্ষমতা, স্মৃতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া বা ভুলে যাওয়া) মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
এছাড়াও দীর্ঘ সময় একা থাকলে মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছোট হয়ে যায়— যেমন প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (চিন্তা ও পরিকল্পনার জন্য), হিপোক্যাম্পাস (স্মৃতির জন্য), এবং অ্যামিগডালা (আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য)।
এর ফলে আপনি আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন, স্ট্রেস বেশি অনুভব করতে পারেন এবং হুমকি বা নেতিবাচক বিষয়ের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারেন।
একা থাকার কারণে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি মানুষের মুখের অভিব্যক্তি বুঝতে, সহানুভূতি দেখাতে এবং সহজে সম্পর্ক গড়তে আপনার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
যদিও পরে মানুষের সাথে মেলামেশা শুরু করলে অনেকটা উন্নতি সম্ভব, কিন্তু খুব দীর্ঘ সময় ধরে বা ছোটবেলা থেকেই একা থাকলে এর ক্ষতি অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন: সুস্থ মস্তিষ্ক, ভালো মানসিক স্বাস্থ্য এবং তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে মানুষের সাথে অর্থবহ যোগাযোগ রাখা খুব জরুরি।
একটি খাতা অথবা সাদা কাগজ নিন। কলম দিয়ে লিখতে শুরু করুন৷ ফোনে বা ডিভাইসে লিখবেন না। খাতা কলমে লিখতে হবে৷
প্রথমে ওপরে লিখুন- গত সপ্তাহের ভালো কাজসমূহ। তারিখ লিখুন৷ কত তারিখ থেকে কত তারিখ পর্যন্ত।
এবার পয়েন্ট দিয়ে লিখতে শুরু করুন৷ কাকে কাকে উপকার করেছেন৷ কাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। কার মন খারাপে আনন্দের উপলক্ষ হয়েছেন৷ কোন ক্ষুধার্ত প্রাণিকে খাবার দিয়েছেন। কারো কাছে কলম নেই বলে আপনার কলমটি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন৷ আপনার পাশের যাত্রীর কাছে খুচরো নেই বলে আপনি নিজের কাছে থাকা ভাংতি টাকা দিয়ে উপকার করেছেন৷ বাদাম খেয়ে খোসা রাস্তায় না ছড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলেছেন কিনা, প্রতিটি ছোটোখাটো ভালো কাজ লিখবেন৷
তারপর লিখবেন- গত সপ্তাহের খারাপ কাজের তালিকা।
লিখতে শুরু করুন৷ কাকে কাকে গালি দিয়েছেন। বন্ধুদের আড্ডায় তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন। কার নাম বিকৃত উচ্চারণে বলেছেন যা শুনলে সেই ব্যক্তি কষ্ট পাবে। অথবা নামের সাথে বিশেষণ যোগ করে উপহাসের পাত্র বানিয়েছেন। বিড়াল কুকুরকে লাথি মেরেছেন। ভিক্ষুক বা সাহায্যপ্রার্থীর সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন৷ অধীনস্ত কর্মচারী বা কাজের লোককে ধমক দিয়েছেন৷ ছোটখাটো সমস্ত খারাপ কাজের কথা লিখুন৷
ব্যস, আপনার এক সপ্তাহের আমলনামা আপনার সামনে৷ এবার পর্যালোচনা করুন৷ কোন কাজ বাড়ানো উচিৎ, কোন কাজ ত্যাগ করা উচিৎ৷ এভাবে নিজের কাজের বিশ্লেষণ করবেন৷ তাহলে আর অন্যের জীবন যাপন, অন্যের কাজকর্ম নিয়ে গবেষণা করার সময় পাবেন না৷ @ Paint with Ashraf
২
কমফোর্ট জোন ও নিরাপত্তা জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু।
জীবনে একটা সময় আসে, যখন সবকিছু ঠিকঠাক মনে হয়। নিয়মিত আয় আছে, পরিচিত পরিবেশ আছে, ঝামেলা কম। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় জীবন সেটেল। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তখনই থেমে যায় মানুষ। কারণ অতিরিক্ত নিরাপত্তা আর কমফোর্ট জোন মানুষকে লড়াই করতে শেখায় না, শুধু টিকে থাকতে শেখায়।
মানুষ যখন কমফোর্ট জোনে থাকে, তখন সে শেখা বন্ধ করে দেয়। নতুন কিছু চেষ্টা করার তাগিদ আর থাকে না। হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় একই রুটিনে থাকে, তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে কমে যায়। নিরাপদ থাকার অভ্যাস মানুষকে ঝুঁকি নিতে ভয় দেখায়, আর ঝুঁকি ছাড়া জীবনে বড় কিছু হয় না।
বিশ্বের বড় উদ্যোক্তাদের গল্প দেখলে একই সত্য সামনে আসে। জেফ বেজোস নিরাপদ চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত ই কমার্স ব্যবসায় নেমেছিলেন। এলন মাস্ক নিজের সব আরাম ছেড়ে এমন খাতে বিনিয়োগ করেছেন, যেখানে ব্যর্থতার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তারা কেউ নিরাপত্তাকে আঁকড়ে ধরে থাকেননি। কারণ তারা জানতেন, আরামের জায়গায় থেকে ইতিহাস লেখা যায় না।
বাংলাদেশের বাস্তবতায়ও এই চিত্র স্পষ্ট। অনেক মেধাবী মানুষ বছরের পর বছর একই জায়গায় জব আটকে থাকে, শুধু স্থিরতার ভয়ে। পরে যখন চাকরি যায় বা বাজার বদলে যায়, তখন বোঝে এই তথাকথিত নিরাপত্তা আসলে ছিল এক ধরনের ধীর ফাঁদ।
শেষ পর্যন্ত সত্যটা একটাই। কমফোর্ট জোন আপনাকে রক্ষা করে না, শুধু দেরি করায়। নিরাপত্তা জীবনকে বড় করে না, ছোট পরিসরে আটকে রাখে। জীবনে এগোতে চাইলে একদিন না একদিন এই দুই শত্রুর মুখোমুখি হতেই হবে। সাহস করে বেরিয়ে আসতে পারলেই শুরু হয় আসল জীবন। @ নিজাম আকন্দ
কান্ট্রি কোড
কান্ট্রি কোড (Country Code) হলো একটি দেশের ফোন নম্বরকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত সংখ্যাসূচক উপসর্গ (numerical prefix), যা সাধারণত ১ থেকে ৪টি সংখ্যা নিয়ে গঠিত হয় এবং আন্তর্জাতিক ডায়ালিংয়ের সময় দেশের টেলিফোন নম্বরের আগে যোগ করা হয়, যেমন বাংলাদেশের জন্য +880 বা ভারতের জন্য +91।
৩
১০টি অভ্যাস কীভাবে আধুনিক জীবনে উন্নতি আনতে পারে
১. সবকিছুকে যেমন আছে তেমনভাবেই গ্রহণ করুন।
মানুষের যতো কষ্টের মূল কারণ হলো বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। মুসাশি বলেন, পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা নিয়ে অভিযোগ করে শক্তি নষ্ট করবেন না। বর্তমান অবস্থাকে মেনে নিয়ে সেখান থেকে সমাধানের পথ খোঁজা শুরু করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
২. অর্থহীন কাজে সময় নষ্ট করবেন না।
সামুরাই হিসেবে মুসাশি প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আধুনিক জীবনে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বা অপ্রয়োজনীয় কাজে অনেক সময় নষ্ট করি। মুসাশির মতে, আপনার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে না এমন সব কাজ জীবন থেকে ছেঁটে ফেলুন।
৩. জগতকে গুরুত্ব দিন।
নিজের ইমেজ বা অহংকার নিয়ে বেশি পড়ে থাকলে মানুষ মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। আপনার চারপাশের জগতকে বোঝার চেষ্টা করুন। এতে আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে আপনি স্থির থাকতে পারবেন।
৪. সব ধরণের দক্ষতা অর্জন করার চেষ্টা করুন।
মুসাশি কেবল তলোয়ার চালানোই জানতেন না, তিনি একাধারে চিত্রশিল্পী এবং লেখকও ছিলেন। তার মতে, একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে অন্য বিষয়গুলোও বোঝা সহজ হয়। তাই আপনার পেশার বাইরেও নতুন কিছু শিখুন, যা আপনার চিন্তাশক্তিকে শাণিত করবে।
৫. সাময়িক আবেগ দ্বারা পরিচালিত হবেন না।
হুট করে রাগের মাথায় বা খুব বেশি আনন্দের মুহূর্তে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেবেন না। আবেগ যখন কমে যায়, তখন স্থির মস্তিষ্কে সিদ্ধান্ত নিন। আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রায়ই ভুলের কারণ হয়।
৬. অদৃশ্য ঝুঁকি এবং সুযোগগুলো দেখার চেষ্টা করুন।
যা সামনে দেখা যাচ্ছে না, তা বোঝার চেষ্টা করা একজন যোদ্ধার গুণ। কোনো সুযোগ বা সমস্যার গভীর পর্যন্ত দেখুন। দূরদর্শী চিন্তা আপনাকে বিপদে পড়ার আগে সতর্ক করবে এবং অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
৭. অভিযোগ বা অনুযোগ আপনাকে দুর্বল করে।
অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা মানে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে আসা। এটি মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। অভিযোগ না করে নিজের পরিস্থিতির দায়িত্ব নিজে নিন এবং সমাধানের চেষ্টা করুন।
৮. সাফল্য আসে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে।
সংকটকালে শান্ত থাকার সামর্থ্য তৈরি হয় আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে। প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলো যদি শৃঙ্খলার সাথে করেন, তবে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না।
৯. পার্থিব লাভ ও ক্ষতির পার্থক্য বুঝতে শিখুন।
অনেক সময় আমরা যেটাকে 'লাভ' মনে করি, আসলে তার পেছনে বড় কোনো ক্ষতি লুকিয়ে থাকে। যেমন—স্বাস্থ্য নষ্ট করে টাকা উপার্জন করা শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতি। কোনো কাজ শুরু করার আগে তার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল চিন্তা করুন।
১০. অন্যের ওপর জয়ী হওয়ার আগে নিজেকে জয় করুন।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আপনার আসল প্রতিযোগিতা আপনার নিজের সাথেই। গতকালের আপনি কেমন ছিলেন এবং আজকের আপনি তার চেয়ে কতটুকু উন্নত হলেন, সেটাই আসল জয়। প্রতিদিন নিজেকে একটু করে উন্নত করার চেষ্টা করুন।
৪
মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর
১৯৬৫ সাল। মালয়েশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয় সিঙ্গাপুর। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশের জন্য স্বাধীনতা মানে ছিল উৎসব, বিজয় আর আশার নতুন সূচনা। কিন্তু সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে দৃশ্যপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। সেই সময় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা প্রায় একবাক্যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন “এই দেশ পানির অভাবে টিকবে না।”
এই মন্তব্য নিছক হতাশাবাদ ছিল না, বরং বাস্তবতার ওপর দাঁড়ানো এক নির্মম সত্য। সিঙ্গাপুর ছিল একটি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র, যার নিজস্ব কোনো নদী নেই, নেই হ্রদ, নেই পাহাড়ি ঝরনা। চারপাশজুড়ে শুধু সমুদ্র—আর সেই পানি পুরোপুরি লোনা, পান করার অযোগ্য। মাটির নিচে যা পানি ছিল, তাও ছিল লবণাক্ত। অর্থাৎ স্বাধীনতার মুহূর্তে দেশটির কাছে এক ফোঁটা প্রাকৃতিক পানযোগ্য পানিও ছিল না।
তৎকালীন বিশ্লেষকদের চোখে সিঙ্গাপুর ছিল একটি “অচল রাষ্ট্র”। তেল নেই, গ্যাস নেই, খনিজ সম্পদ নেই, কৃষির জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই—তার ওপর আবার ভয়াবহ পানিসংকট। অনেকেই বিশ্বাস করতেন, এমন একটি দেশ বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। পানির অভাব যে একটি রাষ্ট্রকে কতটা অসহায় করে দিতে পারে, সিঙ্গাপুর ছিল তার জীবন্ত উদাহরণ।
কিন্তু ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—সম্পদের অভাব দেশকে ধ্বংস করে না, ধ্বংস করে দূরদর্শিতার অভাব। সিঙ্গাপুরের নেতৃত্ব বুঝেছিল, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই তারা ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ব্যবস্থাপনাকে অস্ত্র বানায়। পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে তারা অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে হাঁটে।
আজ, যে দেশটিকে একসময় “পানিশূন্য ভবিষ্যৎ” বলে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল, সেই সিঙ্গাপুরই বিশ্বকে শেখাচ্ছে কীভাবে পানি বাঁচাতে হয়, কীভাবে সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হয়। সিঙ্গাপুর প্রমাণ করেছে—এক ফোঁটা পানিও না থাকলেও, সঠিক সিদ্ধান্ত আর দৃঢ় মানসিকতা থাকলে একটি দেশ শুধু টিকেই নয়, বিশ্বনেতৃত্বও দিতে পারে।
৫
ইনকা সভ্যতা
ইনকা সাম্রাজ্য উত্তরে বর্তমান কলম্বিয়া থেকে দক্ষিণে চিলি পর্যন্ত প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল। আজকের পৃথিবীতে প্রশাসন মানেই কাগজ, ফাইল, ডেটাবেস। কিন্তু অবাক করা সত্য হলো দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী Inca Empire-এর কোনো লিখিত ভাষাই ছিল না!
তাহলে তারা কর আদায়, জনসংখ্যা গণনা, খাদ্য মজুত বা সামরিক পরিকল্পনা করত কীভাবে?
উত্তর—কিপু (Quipu)।
কিপু ছিল বিভিন্ন রঙের দড়ির সমষ্টি, যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট ধরনের গিঁট দেওয়া থাকত। প্রতিটি গিঁট, রঙ ও অবস্থান মিলিয়ে বোঝানো হতো সংখ্যা, তথ্য এবং কখনো কখনো ঘটনাও। আধুনিক গবেষকরা মনে করেন, এটি শুধু সংখ্যা নয়—এক ধরনের ত্রিমাত্রিক ডেটা স্টোরেজ সিস্টেম ছিল।
ইনকা প্রশাসনে বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মীদের বলা হতো কিপুকামায়ুক। তারা এই গিঁটের ভাষা পড়তে ও ব্যাখ্যা করতে পারত। রাজ্যের খাদ্য ভাণ্ডার থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা—সব তথ্য সংরক্ষিত থাকত কিপুতে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই পুরো সাম্রাজ্য পরিচালিত হতো পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই, অথচ ভুলের হার ছিল অত্যন্ত কম। এমনকি স্প্যানিশ বিজয়ীরা প্রথমে বুঝতেই পারেনি, এই দড়িগুলোই আসলে ইনকাদের “নথিপত্র”।
আজও অনেক কিপুর অর্থ পুরোপুরি বোঝা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কিপুর প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করছেন—হয়তো একদিন আমরা ইনকাদের হারানো ভাষার রহস্য পুরোপুরি ভেদ করতে পারব।
৬
সুখের সাথে একটা 'শর্ত' জুড়ে দেয়া
আমাদের সমস্যা হলো, আমরা সুখের সাথে একটা 'শর্ত' জুড়ে দিই। "আগে গ্রাজুয়েশনটা শেষ হোক, তারপর এনজয় করব।"
"আগে ব্যাংক ব্যালেন্সটা শক্ত হোক, তারপর নিজের শখ পূরণ করব।" কিন্তু নির্মম সত্য হলো—জীবন আপনার প্ল্যান মাফিক চলে না।
আপনি যখন জীবন গোছাতে ব্যস্ত, সময় তখন নিঃশব্দে আপনার আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে। যেদিন আপনার কাছে পর্যাপ্ত টাকা আর সময় হবে, সেদিন হয়তো শরীরে সেই এনার্জি থাকবে না, অথবা সেই মানুষগুলো আর বেঁচে থাকবে না—যাদের জন্য আপনি এত কিছু করছেন। ভবিষ্যতের সুখের আশায় বর্তমানের সুখকে কোরবানি দেওয়াটা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
কেন 'আগামীকালের' অপেক্ষায় থাকবেন না?
১. দামী জামা ও বিশেষ দিন (The Special Occasion Trap)
আলমারিতে এমন অনেক জামা বা শাড়ি আছে যা আমরা তুলে রাখি "কোনো বিশেষ দিনে পরব" বলে।
বছরের পর বছর চলে যায়, সেই বিশেষ দিন আর আসে না। জামাটা পুরোনো হয়, রং জ্বলে যায়।
জীবনটাও ঠিক তাই। নিজেকে ভালো রাখার জন্য কোনো উৎসবের প্রয়োজন নেই। আপনি বেঁচে আছেন—এটাই তো সবচেয়ে বড় উৎসব।
২. বার্ধক্যের আক্ষেপ
বৃদ্ধাশ্রমে বা হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মানুষগুলো টাকার অভাবে কাঁদে না, তারা কাঁদে সময়ের অভাবে। তারা ভাবে—"ইশ! যদি তখন একটু ঘুরতে যেতাম! যদি তখন প্রিয় মানুষটাকে সময় দিতাম!" আপনার অবস্থাও যেন তাদের মতো না হয়।
৩. মরীচিকা (The Mirage)
আমরা ভাবি সব গুছিয়ে নিলে শান্তি পাব। কিন্তু বিশ্বাস করুন, জীবন কোনোদিন পুরোপুরি গোছানো যায় না। এক সমস্যা যাবে, নতুন সমস্যা আসবে।
এই অগোছালো জীবনের মাঝেই সুখ খুঁজে নিতে হয়। অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করবেন না।
শেষ কথা
টাকা জমান, ক্যারিয়ার গড়ুন—সবই ঠিক আছে। কিন্তু রোবট হয়ে যাবেন না। আজ রাতে অন্তত নিজের জন্য, প্রিয়জনের জন্য বা পরিবারের জন্য ১ ঘণ্টা সময় বের করুন । কারণ ক্যালেন্ডারের পাতায় 'আগামীকাল' লেখা থাকলেও, আপনার জীবনে সেটা আসবে কি না—তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। নিজেকে বলুন— "আমি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানকে হত্যা করব না।"
৭
পুতুল নিয়ে খেলা
পুতুল মানেই কি মেয়েদের খেলনা? আর গোলাপি রঙ মানেই কি শুধু মেয়েদের জন্য? বাস্তবে, একটি ছেলে শিশুর বিকাশেও পুতুল খেলা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ যতটা একটি মেয়ে শিশুর জন্য। গবেষণায় দেখা যায়, পুতুল নিয়ে খেলার সময় শিশুর মস্তিষ্কে empathy, cognitive empathy, executive function এবং Theory of Mind তৈরি হয়-অর্থাৎ শিশু বুঝতে শেখে যে তার নিজের মতো অন্যেরও অনুভূতি, ইচ্ছা ও প্রয়োজন থাকতে পারে। যখন একটি শিশু পুতুলকে খাওয়ায়, ঘুম পাড়ায় বা যত্ন নেয়, তখন সে আসলে “অন্যের যত্ন নেওয়া”র মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের হাতে পুতুল দেওয়া হয়, কিন্তু ছেলেদের দেওয়া হয় শুধু গাড়ি বা বন্দুক-যা মূলত প্রতিযোগিতা বা বীরত্ব প্রকাশ শেখায়, যত্ন নেওয়া নয়। এর ফলেই বড় হয়ে অনেক পুরুষ বাবা হওয়ার পর সক্রিয়ভাবে যত্ন নেওয়ার ভূমিকায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, কারণ শৈশবে সেই দক্ষতাগুলো গড়ে ওঠার সুযোগ তারা পায়নি। পুতুল খেলার মাধ্যমে শিশুরা নিজের ভেতরের ভয়, রাগ বা কষ্ট পুতুলের ওপর আরোপ করে, তার সাথে কথা বলে, তাকে সান্ত্বনা দেয়-এভাবে তারা নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, যাকে মনোবিজ্ঞানে emotional regulation বা catharsis বলা হয়। ছেলে শিশুর হাতে পুতুল তুলে দেওয়া মানে তাকে মেয়েলি বানানো নয়; বরং তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ, সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা-যে নিজের আবেগ বুঝতে পারে, প্রকাশ করতে পারে এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখে। যে ছেলেটি আজ পুতুলের যত্ন নিতে শিখবে, সেই ছেলেটিই আগামী দিনে নিজের সন্তানের একজন দায়িত্বশীল, যত্নশীল বাবা হয়ে উঠবে। খেলনা দিয়ে লিঙ্গ বিচার নয়-শৈশব থেকেই মনুষ্যত্বের বিকাশ হোক।
৮
জীবনের পথচলায় ভরসা হয়ে উঠতে পারে এই ১৭টি এশিয়ান প্রবাদ
১. চীনা প্রবাদ:
“গাছ লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ২০ বছর আগে। দ্বিতীয় সেরা সময় হলো এখন।” (দীর্ঘ অপেক্ষার বদলে এখনই শুরু করো।)
২. জাপানি প্রবাদ:
“সাতবার পড়ে যাও, আটবার উঠে দাঁড়াও।” (পরাজয় নয়, দৃঢ়তাই মানুষের সত্যিকার চেহারা।)
৩. ভারতীয় প্রবাদ:
“গাছ কখনো ঝরে পড়া ফুল নিয়ে চিন্তা করে না।” (বিচ্ছেদ বা ক্ষতি মেনে নেওয়াই শক্তি।)
৪. কোরিয়ান প্রবাদ:
“বানরও গাছ থেকে পড়ে যায়।” (সবারই ভুল হতেই পারে, এমনকি সেরা লোকজনেরও।)
৫. ভিয়েতনামি প্রবাদ:
“ভাই-বোন হলো হাত ও পায়ের মতো।” (রক্তের সম্পর্কের শক্ত বন্ধন কখনো দূরে যায় না।)
৬. থাই প্রবাদ:
“লাঠির এক মাথা ধরলে, অন্য মাথাও ধরতেই হবে।” (প্রতিটি কাজেরই ফল থাকে—ভালো কিংবা খারাপ।)
৭. পার্সিয়ান প্রবাদ:
“ঠিক সময়ে ছুঁড়ে মারা পাথর, ভুল সময়ে দেওয়া সোনার চেয়ে উত্তম।” (সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই সবচেয়ে মূল্যবান।)
৮. ফিলিপিনো প্রবাদ:
“যে নিজের অতীত ভুলে যায়, সে গন্তব্যেও পৌঁছাতে পারে না।” (আপনার শেকড় ভুলে গেলে পথ হারাতে হয়।)
৯. চীনা প্রবাদ:
“পথটা জানতে হলে ফিরে আসা যাত্রীকে জিজ্ঞেস করো।” (অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই সবচেয়ে বড় শেখা।)
১০. জাপানি প্রবাদ:
“একটা তীর সহজেই ভাঙে, কিন্তু দশটা একসাথে নয়।” (ঐক্যতেই শক্তি।)
১১. ভারতীয় প্রবাদ:
“জ্ঞান এমন এক ধন, যা সারাজীবন সঙ্গ দেয়।” (জ্ঞানই মানুষকে সত্যিকারের সমৃদ্ধ করে।)
১২. কোরিয়ান প্রবাদ:
“বাঘের ডোরা বাইরে থাকে, মানুষের চরিত্র ভেতরে।” (মানুষ তার চালচলনে নয়, চরিত্রে বড়।)
১৩. ভিয়েতনামি প্রবাদ:
“ফল খাওয়ার সময় সেই ব্যক্তিকে স্মরণ করো, যে গাছ লাগিয়েছিল।” (কৃতজ্ঞতাই মানবতার প্রথম শিক্ষা।)
১৪. থাই প্রবাদ:
“নিজের ছায়াকেই যেন নিজের নিয়ন্ত্রক না বানাও।” (ভবিষ্যৎ সামনে, অতীতের ভয় নয়।)
১৫. মঙ্গোলিয়ান প্রবাদ:
“প্রথম গ্লাস অতিথির জন্য, দ্বিতীয় আনন্দের জন্য, তৃতীয় গণ্ডগোলের জন্য।”
(মাঝেমধ্যে থামা শিখো—সংযমে সৌন্দর্য।)
১৬. তিব্বতীয় প্রবাদ:
“একশো পুরুষালি আর একশো নারীত্বের গুণেই পূর্ণ মানুষ গড়ে ওঠে।” (সামঞ্জস্য ও ভারসাম্যেই আছে সম্পূর্ণতা।)
১৭. চীনা প্রবাদ:
“হাজার মাইলের যাত্রা শুরু হয় একটি মাত্র পা ফেলেই।” (শুরুটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।)
@ ইনার সোল
৯
"ওভারনাইট সাকসেস" বলে পৃথিবীতে কিছু নেই।
আপনি যখন কাউকে স্টেজ-এ ট্রফি নিতে দেখেন, আপনি শুধু তার ওই মুহূর্তটাই দেখেন। কিন্তু এর পেছনের নির্ঘুম রাতগুলোর খবর কি কেউ রাখে? চলুন বাস্তবতাটা একটু মিলিয়ে দেখি..
Success বা সফলতা—জিনিসটা আসলে কি জানেন?
আমরা যখন কাউকে জিততে দেখি, আমরা শুধু তাদের ট্রফিটা দেখি, মানুষের হাততালি শুনি আর তাদের গ্ল্যামারাস লাইফস্টাইল দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। আমাদের মনে হয়, "ইশ! লোকটা কত লাকি!" কিন্তু রিসার্চ বলছে ভিন্ন কথা। আপনি যা দেখছেন, তা সাকসেসের মাত্র ১০%। বাকি ৯০%? সেটা থাকে পানির নিচে, লোকচক্ষুর আড়ালে।
এই অদৃশ্য ৯০ পার্সেন্ট আসলে কী?
১. Discipline: যখন কেউ দেখছে না, তখন আপনি কি করছেন।
২. Consistency: টানা ১০০০ দিন ভোর ৫:৩০ এ ঘুম থেকে ওঠা (মুড থাকুক বা না থাকুক)।
৩. Review: প্রতিবার ফেইল করার পর নিজের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া।
৪. Resilience: সাইকোলজিস্টরা যেটাকে বলেন "Valley of Despair"—সবকিছু যখন আপনার বিপক্ষে, তখনো মাটি কামড়ে পড়ে থাকা।
বেশিরভাগ মানুষ (প্রায় ৯২%) ঠিক তখনই গিভ-আপ করে, যখন তাদের গ্রাফটা উপরের দিকে ওঠা শুরু করবে (Compound Curve)। এরা ট্যালেন্টেড না বলে হারে না; এরা হারে কারণ এরা কাজ করার সাথে সাথেই রিওয়ার্ড চায়। এরা বোরিং প্রসেসটা এনজয় করতে পারে না।
কিন্তু যারা আসল উইনার বা বিজয়ী?
তারা ইমোশনের ওপর চলে না। তারা জানে— "Talent gets you started, but consistency gets you finished."
ট্যালেন্ট দিয়ে হয়তো আপনি শুরু করতে পারবেন, কিন্তু ফিনিশ লাইন টাচ করতে হলে কনসিস্টেন্সি লাগবেই। তারা দিনের পর দিন একই কাজ রিপিট করে যায়। কারণ তারা একটা সিম্পল ম্যাথ বোঝে: ছোট ছোট অ্যাকশনগুলো কম্পাউন্ড হয়েই একদিন বিশাল রেজাল্ট তৈরি করে।
কাউকে পাহাড়ের চূড়ায় দেখলে ভাববেন না সে সেখানে লাফ দিয়ে বা প্যারাশুট দিয়ে নেমেছে। সে তিলে তিলে ক্লাইম্ব করে সেখানে পৌঁছেছে। প্রতিটা স্টেপ ছিল পেইনফুল এবং লোনলি।
আপনারা আমার এই পেইজের কনসিস্টেন্সি দেখেন, পোস্টের কোয়ালিটি দেখেন বা এনগেজমেন্ট দেখেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনাদের জন্য এই লেটেস্ট এবং ইউজফুল ইনফো বের করতে আমাকে কতগুলো নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়, কতটুকু সময় নিয়ে রিসার্চ করতে হয়—সেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।
আমি এই এফোর্টটা দেই কারণ আমি আপনাদের সত্যি কেয়ার করি। আপনাদের গ্রোথ দেখলে আমার নিজেরই ভালো লাগে।
তাই শর্টকাট খুঁজবেন না। প্রসেসটাকে ভালোবাসুন। সাকসেস ধরা দেবেই।
১০
সহজলভ্য বা 'অ্যাভেইলেবল' হয়ে যাবেন না You are a Priority, Not an Option
দোকানে কোনো জিনিসের দাম কম হলে মানুষ যেমন সেটা নিয়ে দরাদরি করে, বা অযত্ন করে ফেলে রাখে—সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই।
আপনি যখনই কারও জন্য সবসময় সহজলভ্য বা 'অ্যাভেইলেবল' হয়ে যাবেন, তখনই আপনার গুরুত্ব কমে যাবে।
কেউ আপনাকে তখনই ফোন দেয় যখন তার অন্য কোনো কাজ থাকে না, বা অন্য কেউ তাকে পাত্তা দেয় না। আর আপনি ভাবেন—"সে আমাকে মনে করেছে!"
ভুল ভাবছেন। সে আপনাকে মনে করেনি, সে তার একঘেয়েমি কাটাতে আপনাকে ব্যবহার করছে।
যে আপনাকে তার 'প্রয়োরিটি' লিস্টে রাখে না, তাকে আপনার জীবনের 'ভিআইপি' আসনে বসিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না।
কেন নিজেকে 'ব্যাকআপ প্ল্যান' হতে দেবেন না?
১. অবসর বনাম গুরুত্ব (Free Time vs Make Time)
কেউ "ফ্রি থাকলে" আপনার সাথে কথা বলে, আর কেউ "আপনার সাথে কথা বলার জন্য" টাইম বের করে।
এই দুইয়ের পার্থক্য যে বোঝে না, সে সারাজীবন কষ্ট পায়।
কারও 'টাইমপাস' হওয়ার চেয়ে একা থাকা অনেক সম্মানের। আপনি কোনো খেলনা নন যে ইচ্ছে হলেই খেলবে, আবার ইচ্ছে হলেই ছুঁড়ে ফেলে দেবে।
২. নিজের মূল্য বুঝুন (Know Your Worth)
আপনি যদি নিজেকে সস্তা ভাবেন, পৃথিবী আপনাকে সস্তাই ভাববে।
হীরা কখনো রাস্তায় পড়ে থাকে না, তাকে যত্ন করে রাখতে হয়।
আপনার ভালোবাসা, আপনার সময়—এগুলো দামী জিনিস। ভুল মানুষের পায়ে এগুলো ঢেলে দেবেন না।
যে আপনাকে হারানোর ভয় পায় না, তাকে হারিয়ে ফেলাই আপনার জন্য মঙ্গলের।
৩. ডিলিট বাটন চাপুন
ফোনের মেমোরি ফুল হলে যেমন আমরা অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করি, জীবন থেকেও এমন মানুষগুলোকে ডিলিট করুন।
এতে হয়তো সাময়িক কষ্ট হবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী শান্তি পাবেন।
লাইফটা খুব ছোট, সেটাকে এমন কারও জন্য নষ্ট করবেন না যার কাছে আপনার কোনো মূল্য নেই।
শেষ কথা
আজই সিদ্ধান্ত নিন—হয় আপনি তার জীবনে 'একমাত্র' হবেন, নয়তো 'একেবারেই' থাকবেন না।
মাঝখানের কোনো জায়গায় ঝুলে থাকবেন না।
ঝুলে থাকাটা দুর্বলতা, আর সরে আসাটা আত্মসম্মান।
নিজেকে বলুন—
"আমি রাজহাঁস, আমি শামুক খাওয়ার জন্য জন্মাইনি।"
বেশিরভাগ মানুষ "যথেষ্ট চেষ্টা করেছি" বলে ছেড়ে দেন। কিন্তু সত্য হলো, বিজয় প্রায়ই ঠিক সেই মুহূর্তে আসে যখন আপনি হাল ছাড়ার একদম কাছাকাছি থাকেন। বাস্তবতা হলো, সাফল্য এবং ব্যর্থতার মধ্যে পার্থক্য প্রায়ই শুধু একটা এক্সট্রা প্রচেষ্টা, একটা এক্সট্রা দিন, একটা এক্সট্রা চেষ্টা। যারা থেমে যায়, তারা কখনো জানতে পারে না যে হয়তো পরের বার-ই সফলতা আসতো। কিন্তু যারা লড়াই চালিয়ে যায়, তারা একদিন না একদিন জেতেই। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী আপনার চেয়ে বেশি প্রতিভাবান হতে পারে, কিন্তু যদি আপনি থামেন না এবং তারা থামে জয় আপনারই। তাই কখনো হাল ছাড়বেন না।
১১
গরু, ছাগলের মত তৃণভোজী প্রাণিরা প্রোটিন পায় কোথা থেকে!!
তৃণভোজী প্রাণীদের (যেমন গরু, ছাগল বা হরিণ) প্রোটিন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ চমৎকার। যদিও তারা শুধু ঘাস বা লতা-পাতা খায় যাতে প্রোটিন খুব কম থাকে, তবুও তাদের কখনো প্রোটিনের অভাব হয়না!!
১. তৃণভোজীদের পাকস্থলীতে প্রোটিনের কারখানা!
গরু বা ছাগলের মতো রোমন্থক (Ruminant) প্রাণীদের পাকস্থলীতে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। এর মধ্যে 'রুমেন' (Rumen) নামক অংশে কোটি কোটি জীবাণু এবং প্রোটোজোয়া বাস করে, এই অণুজীবগুলো ঘাস-পাতার সেলুলোজ ভেঙে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন সংশ্লেষ করে নিজেরা বড় হয় এবং প্রচুর বংশবৃদ্ধি করে (দিনে কয়েক কিলো পর্যন্ত)। এই অণুজীবগুলোই প্রাণীগুলোর হজম প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যায় এবং গরু, ঘোড়াদের পাচনতন্ত্র ওই জীবাণুগুলোকেই হজম করে ফেলে, একে বলে Microbial Protein.
তবে ঘোড়া রোমন্থক বা রুমিন্যাণ্ট নয়, ঘোড়ার পাচনতন্ত্রের সিকাম (Caecum) অঙ্গটিই মাইক্রোবিয়াল প্রোটিন তৈরির প্রধান স্থল, এখানে সিকাম হল একটি প্রধান গাঁজন ভ্যাট (fermentation vat), যেখানে অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া) মাধ্যমে খাদ্যের আঁশ বা সেলুলোজ ভেঙে ভোলাটাইল ফ্যাটি অ্যাসিড, এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড এবং প্রোটিন উৎপাদিত হয়।
সিকামের অণুজীবগুলো উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে। যদিও ঘোড়া সিকাম থেকে সরাসরি প্রোটিন ততটা কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে না, তবুও সিকামে উৎপাদিত কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড বৃহদান্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয়ে ঘোড়ার পুষ্টি জোগায়। আবার ঘোড়ার খাবারে থাকা প্রোটিন ক্ষুদ্রান্ত্রে পুরোপুরি হজম হয় না, কিন্তু সিকামে থাকা এনজাইম এবং অণুজীব সেই জটিল প্রোটিনগুলোকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত করে, যা ঘোড়ার শরীর ব্যবহার করতে পারে।
২. উদ্ভিজ্জ প্রোটিন -
ঘাস, পাতা বা বীজের মধ্যে অল্প পরিমাণে হলেও প্রোটিন থাকে, তৃণভোজীরা সারাদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে খাবার খায়, এই বিপুল পরিমাণ ঘাস, পাতা বা বীজে থেকেও অনেকটা প্রোটিন আসে।
৩. নাইট্রোজেন রিসাইক্লিং -
তৃণভোজী প্রাণীদের শরীর নাইট্রোজেন ধরে রাখায় খুব দক্ষ, তারা শরীরের বর্জ্য ইউরিয়াকে পুনরায় লালার মাধ্যমে পাকস্থলীতে পাঠিয়ে দেয়, সেখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া এই ইউরিয়া ব্যবহার করে নতুন প্রোটিন তৈরি করে, অর্থাৎ, তারা তাদের নিজস্ব বর্জ্যকেও প্রোটিন তৈরিতে কাজে লাগাতে পারে। @Alok Śrabak
১২
সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট।
সুলতান সুলেমান আল-কানুনি, পশ্চিমে "দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট" হিসাবে খ্যাত। তিনি হয়েছিলেন সাত সাগরের নিরঙ্কুশ অধিপতি। ভূমধ্যসাগর, (Black Sea) বা কৃষ্ণ সাগর, মারমারা সাগর, এজিয়ান সাগর, আদ্রিয়াটিক সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর।
১৫, ১৬শ শতকের শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগর ছিল তীব্র শক্তি সংঘর্ষের মঞ্চ। ইউরোপীয় শক্তি, বিশেষ করে স্পেন, পোপ ও বিভিন্ন ইতালীয় রাষ্ট্র "প্রভেজার" (Privilege) নীতির নামে মুসলিম বণিক ও নৌবাহিনীকে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশে বাধা দিত। এটি ছিল এক প্রকার সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা, এক অহংকারী ঘোষণা: এই সাগর শুধুই খ্রিস্টানদের।
সুলতান সুলেমান এই চ্যালেঞ্জের উত্তর দিতে সমুদ্রের ঈগল খ্যাত সাহসী ও প্রতিভাবান নৌ-সেনাপতি অটোমান আলজেরিয়ার গর্ভনর কাপুদাই-দরিয়া খাইরুদ্দিন বারবারোসাকে আলজিয়ার্স থেকে ১৫৩৩ সালে ইস্তাম্বুলে আমন্ত্রণ জানিয়ে আনেন। সুলেমান তাকে অটোমান নৌবাহিনীর গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল নিযুক্ত করলেন, সম্রাটের নিজের তরবারি ও আমিরাত দিয়ে। পূর্ণ স্বাধীনতার অনুমতি দিয়ে বলেন: ভূমধ্যসাগরের দায়িত্ব এখন তোমার। পুরো ভূমধ্যসাগরকে অটোমানদের একটা ব্যাক্তিগত হ্রদে পরিণত করো, দেখিয়ে দাও মুসলমানদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলে কী করতে পারে...
যুদ্ধের সুত্রপাত: সাল ১৫৩৮, ২৮শে সেপ্টেম্বর। প্রেভেজার নীল জলরাশিতে একদিকে ছিল উসমানীয়দের ১২২টি জাহাজ, আর অন্যদিকে পুরো খ্রিষ্টান বিশ্বের সম্মিলিত বিশাল নৌ-বহর (Holy League), যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আন্দ্রে ডোরিয়া। তাদের জাহাজের সংখ্যা ছিল ৩০০-এর বেশি। বিশাল বিশাল গ্যালিওন আর কামান নিয়ে খ্রিষ্টান জোট ঘিরে ফেলেছে বারবারোসাকে।
কিন্তু বারবারোসা ছিলেন যুদ্ধের এক জাদুকরের মতো। তিনি তার বহরকে এমন এক কৌশলে সাজালেন যা ইতিহাসে 'কা-ফাতইনি' বা ক্রিসেন্ট ফরমেশন নামে পরিচিত। বারবারোসার কমান্ডে উসমানীয় গোলন্দাজরা যখন একযোগে কামান দাগা শুরু করল, পুরো সমুদ্র যেন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হলো। খ্রিষ্টানদের বিশালাকার জাহাজগুলো উসমানীয়দের ক্ষিপ্র গতির কাছে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। সূর্যাস্তের আগেই সম্মিলিত পুরো খ্রিষ্টান বিশ্বকে এমন এক ভয়াবহ পরাজয়ের সম্মুখীন হলো যে, পুরো ভূমধ্যসাগর উসমানীয়দের একচ্ছত্র হ্রদে (Ottoman Lake) পরিণত হলো।
সংগৃহীত: Jvm..J..Mehmed
দুর্বল ঘুম বিপাক প্রক্রিয়াকে পাল্টে দেয়, যার ফলে একই খাদ্য ফ্যাট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
ঘুমের অভাব ঘ্রেলিন এবং লেপটিন -এর মতো হরমোনগুলিকে ব্যাহত করে, যা ক্যালোরির প্রয়োজন না থাকলেও ক্ষুধা বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে, কর্টিসল বেড়ে যায়, যা শরীরকে শক্তি সঞ্চয় করার সংকেত দেয়। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ক্যালোরিকে শক্তি বা পেশী মেরামতের পরিবর্তে ফ্যাটে (চর্বিতে) জমা হতে চালিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে,, যারা শুধুমাত্র ৫.৫ ঘণ্টা ঘুমাতেন, তারা একই ধরনের খাদ্য গ্রহণ করেও যারা ৮.৫ ঘণ্টা ঘুমাতেন তাদের তুলনায় ৫৫% কম ফ্যাট হারান এবং ৬০% বেশি পেশী হারান।
১৩
আমরা যখন আরব আমলে র স্বর্ণ যুগের কথা ভাবি, তখন 750 সাল থেকে সুলতানরা রাজ্য বিস্তার ছেড়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা এ মন দেন এবং লেখক, বিজ্ঞানী, দের প্রচুর অর্থ সাহায্য ও করতে থাকেন l একজন গুরুত্বপূর্ণ সুলতান ছিলেন হারুন এল রশিদ l তিনি জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে অনেক উৎসাহ দেন l তৈরী হয় বিখ্যাত জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র, লাইব্রেরি অফ নলেজ, বাগদাদ এ l অনেকে বলেন Alexandria এর পুড়ে যাওয়া লাইব্রেরি থেকে ও অনেক বই এখানে স্থান পায় l গ্রিক দার্শনিক Aristotle, Plato এর দর্শন ও ঢুকে যায় l আবির্ভূত হন ইবনে সিনা এর মতো সুফি শন্তের ,যারা ইসলামে ভক্তি মার্গ কে প্রতিষ্ঠিত করেন। এনা র মাধ্যমে ইসলামী সুফি বাদ আত্ম প্রকাশ করে l এনার সময়কাল ছিল 980 CE to 1037 CE l আসেন ওমর খৈয়াম এর মতো mathematics algebra এর সমাধান কার ই ব্যক্তি l
আরও আসেন khawarjimi , যিনি algebra equation তৈরী করেন l ভারতের চালু ( ব্রাহ্মী লিপি র) নাম্বারগুলি নিয়ে (0 to 9) নিয়ে তিনি আরবী নাম্বার লেখেন, এবং এই নাম্বার গুলি রোমান পদ্ধতির চেয়ে অনেক সহজ ছিল এবং তা অবশেষে ইউরোপে পৌঁছায় l ভারত থেকে জ্ঞান আহরণ করে উনি সারা বিশ্বে সেটি ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন l বই টি ছিল (books on Indian numerals ) ইংরেজিl ভাষায়। উনি সৃষ্টি করেন algebra ( from Al -jabr)(830 CE ) l Algorithm কথাটি algebra থেকেই এসেছে l,
উনি তার গ্রন্থে এটি প্রকাশ করেন l ব্যালান্স সমেত ওজন পদ্ধতি উনি ভারত এর বৌদ্ধ দের কাছ থেকে নিয়ে সেটি আরব এও চালু করেন l ওনার algebra কে আরও এগিয়ে নিয়ে যান সুজা আসলাম তার বইতে l
এরপর আমরা আসব আল বিরুনীর কথায় l আল বিরুনি একজন এমন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন যে তিনি ভারতে এসেছেন ,সংস্কৃত শিখেছেন পুস্তক গুলির অনুবাদ করেছেন আরবিতে এবং সেগুলি আবার আরবি ভাষায় আরবি ভাষায় লিপিবদ্ধ করেছেন। উনি ভারতীয় জ্ঞান কে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন l উনি খোরাসান অঞ্চলের জন্মগ্রহণ করেন,1017 খ্রিস্টাব্দে l উনি ওই অঞ্চলে এক নামী পন্ডিত হিসেবে,খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। পরে তিনি মাহমুদ গজনীর সঙ্গে ভারতে আসেন l ভারতের জ্ঞান বিজ্ঞান কে ই নি অধ্যয়ন করেন ,তার আসল কাজ ছিল ভারতের জ্যোতির্বিজ্ঞান ,দর্শন ও যোগার উপর। ওনার কিতাব উল হিন্দ বইটি ভারতের ইতিহাসের এক এক মূল্যবান গ্রন্থ। ভারতে উনি কতগুলো বই অনুবাদ করেন আরবী তে, এবং এর জন্য তাকে নূতন ভাষা সংস্কৃত শিখতে হয়। প্রথমেই তিনি আর্যভট্টের প্রশংসা করে( এটি ৪৯৯ ADতে।) লেখা হয়েছিল l গ্রহ , উপগ্রহ এর গতি ও চলার পথ পরিষ্কার করে বোঝেন ও ডেসিমাল সিস্টেম কে ও অধ্যয়ন করেন , এবং সেটি আরবী জ্ঞান এর সঙ্গে মিলিয়ে নেন l ব্রহ্ম গুপ্ত এর , ব্রহ্ম সিদ্ধান্ত (628 AD) তে ভারতীয় বিক্রম সম্পত এর সঙ্গে আরবী হিজরা কে সংযুক্ত করে ক্যালেন্ডার তৈরী করেন l আবার বরাহ মিহির জ্যোতি র বিজ্ঞান এর সহায়তা য় পৃথিবীর পরিধি নির্ধারণ করেন, যেটি আধুনিক সময়ে র বিচারের খুবই কাছাকাছি হয়েছিল l অবশ্য উনি পুরাণের সমতল পৃথিবীর ধারণা কে বাতিল করেন l আবার পতঞ্জলির যোগা( 400CE ) তিনি অধ্যয়ন করেন। এবং দর্শন শাস্ত্র নিয়ে ও পড়াশোইউনেস্কো দ্বারা সেই জন্য তিনি না করেন l এটি তিনি আরব দেশে প্রচারিত সুফি মতবাদ এর সঙ্গে কাছাকাছি ভাবেন। উনি কিন্তু বিচার করে,পরীক্ষা করে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন। পরবর্তীকালে এটাই বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হয়ে দাঁড়ায়। ইউনেস্কো দ্বারা সেই জন্য তিনি পরবর্তীকালে ইউনিভার্সাল স্কলার হিসেবে পরিচিত হন।
কাব্যগ্রন্থ রচনাতে এই সময় আরবীরা অনেক সুসিদ্ধি লাভ করেছিল। গ্রীক persian ও ও ভারতীয় কাব্য সমগ্র কে আরবিতে অনুবাদ করার একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। পার্শিয়ান গল্প thousands and one night এখন পৃথিবী বিখ্যাত l ভারত থেকেও জ্ঞান-বিজ্ঞান শাখা পালি প্রাকৃত হয়ে ধরে। বাগদাদে পৌঁছেছিল। চরকের পুস্তক ও আরবি ভাষা তে অনুবাদ হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা হয়েছিল হারুন আল রশিদ এর সময়। নবিহারের বৌদ্ধ বিহারের জ্ঞান ,চিকিৎসা বিদ্যা আরবে পৌঁছেছিল। একজন ভারতীয় চিকিৎসক ধন্বন্তরি র উল্লেখ্য পাওয়া যায় যিনি নাকি বাগদাদে হাসপাতালে চিকিৎসা করেছিলেন। তার নাম আবার আমরা নালন্দা মহাবিহার এ চিকিৎসক হিসেবে পাই। কঙ্কা নামে এক ভারতীয় চিকিৎসকের উল্লেখ আরবি সাহিত্যে আছে। আল বিরুনী কিছু জাতক কথা ও অনুবাদ করেছিলেন। খ্রিস্টান ধর্মে পাওয়া দুজন বিখ্যাত bodhisattva উল্লেখ পাওয়া যায় । যাদের নাম ছিল জুয়াসাফ ও বারলাম ও আরবী সাহিত্য এ আছে বিষ বিদ্যা , সর্প বিদ্যা ভারত থেকেই আরব এ যায় ।আবার পঞ্চতন্ত্র ও অনুবাদ হয়। সাধারণত বলকান প্রদেশ এই জ্ঞান বিজ্ঞান বাগদাদে পৌঁছে। ভারত সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা অ্যালবোডিনের বই কিতাব উল হিন্দ থেকে জানতে পেরেছি। মোটামুটি এই হল ইসলামের জ্ঞান বিজ্ঞানের কাহিনী। যতদূর জানা যায় শিয়ারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎসাহ দিতেন,কিন্তু সুন্নিরা ছিলেন অনেক প্রাচীনপন্থী ।
১৪
জাপানের জুহাতসু বা স্বেচ্ছায় নিখোঁজ
জীবনে যখন সবকিছু অসহ্য মনে হয়, তখন সব ছেড়েছুড়ে কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। এমন অনুভূতি অনেকেরই হয়। এই অনুভূতি থেকে অনেকেই নিজেদের জীবন, চাকরি, বাড়ি ও পরিবার ছেড়ে স্বেচ্ছায় উধাও হওয়ার পথ বেছে নেন। আশ্চর্যজনকভাবে, জাপানে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা টাকার বিনিময়ে সবকিছু থেকে হারিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সাহায্য করে। টাকার বিনিময়ে স্বেচ্ছায় উধাও হয়ে যাওয়া জাপানে কোনো অপরাধ নয়। রয়েছে এর আইনি স্বীকৃতিও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন জাপানের কিছু মানুষ স্বেচ্ছায় উধাও হয়ে যেতে চায়?
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বলা হয় জুহাতসু (Jōhatsu)। জাপানি এই শব্দটির অর্থ ‘বাষ্পীভবন’। চুলায় পানি জ্বাল দিলে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে হারিয়ে যায়। জুহাতসুরাও স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জীবন থেকে কোনো চিহ্ন না রেখে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। এই ঘটনা জাপানে বেশ পরিচিত। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এমন ঘটনা দেখা যায়।
জাপানের সমাজ ও কর্মক্ষেত্র অন্য অনেক দেশের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নিয়ম মানা ও ব্যক্তিগত সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া জাপানের মানুষ কাজপ্রিয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমী তাঁরা। একসময় এই কাজের চাপ থেকে বের হতে পারেন না অনেকেই। আবার জাপানে অনেক মানুষ একা থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক আবহ কম পান তাঁরা। এসব কারণে জুহাতসুর মতো ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। জাপানি সংস্কৃতিতে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বা কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়াকে লজ্জাজনক মনে করা হয়। এ ধরনের সামাজিক চাপ থেকে জন্ম নেওয়া মানসিক কষ্ট এত তীব্র হতে পারে যে অনেকেই তা আর সহ্য করতে পারেন না।
জাপানে কারোশি মানে অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনাও দেখা মেলে। এগুলো জাপানের গভীর সামাজিক সমস্যার একটি দিক। এই মানুষগুলো মনে করেন এভাবে উধাও হয়ে গেলে তাঁরা নিজেদের সম্মান বাঁচাতে পারবেন। সঙ্গে পরিবারও আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি পাবে।জাপানে এমন কিছু কোম্পানি আছে, যারা সবকিছু ছেড়ে চিরতরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সাহায্য করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাপানি ভাষায় বলা হয় ইয়োনিগে-ইয়া। ইংরেজিতে ‘নাইট মুভিং সার্ভিস’, অর্থাৎ রাতের বেলায় উধাও হয়ে যাওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। যেখানে তারা কোনো চিহ্ন না রেখে গোপনে একজন ব্যক্তিকে তার বর্তমান জীবন থেকে গায়েব করে দিতে পারে। এর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয় সেই নাইট মুভিং সার্ভিস কোম্পানিকে।
নাইট মুভিং সার্ভিসের জন্য খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৫৪ হাজার ৭৪৭ থেকে ৩ লাখ ১৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে টাকার পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন, সম্পত্তির পরিমাণ, গন্তব্যের দূরত্ব, রাতের বেলা ভ্রমণ, শিশুদের সঙ্গে নেওয়া বা ঋণ আদায়কারীদের থেকে পালানোর মতো বিষয়গুলো। অনেকেই অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুসরণ করে নিজেই নিখোঁজ হন।
জাপানে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া মানুষদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় ব্যক্তিগত গোয়েন্দা সংস্থা দিয়েও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায় না। এর প্রধান কারণ জাপানের কঠোর গোপনীয়তা আইন। কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা না ঘটলে পুলিশ এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। তা ছাড়া, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় তাঁদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
যারা নিখোঁজ হন, তাঁদের অনেকেই টোকিও বা ওসাকার মতো এলাকায় আশ্রয় নেন। এসব এলাকায় পরিচয়পত্র ছাড়াই নগদ অর্থে কাজ করা যায়। তাই তাঁরা সেখানে সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব এলাকা অনেক সময় জাপানি অপরাধ চক্র ইয়াকুজাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জুহাতসু শব্দটি ১৯৬০-এর দশকে প্রথম ব্যবহৃত হয়। তখন এটি সেইসব মানুষ প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হতো যাঁরা আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের ঝামেলা এড়াতে অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে হঠাৎ করে পালিয়ে যেতেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকে জাপানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেয়। এই সময়ে বহু মানুষ চাকরি হারান এবং বিপুল ঋণে জড়িয়ে পড়েন। এর থেকেই জুহাতসুর প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় জাপানে। অর্থাৎ, শব্দটি বিবাহবিচ্ছেদ এড়ানো থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বা সামাজিক চাপ থেকে পালানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে।
জাপানে জুহাতসু একটি স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় বিষয়। সাধারণত প্রকাশ্যে আলোচনা করা হয় না এ বিষয়ে। প্রতিবছর ঠিক কত মানুষ নিখোঁজ হন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ধারণা করা হয়, প্রতিবছর লক্ষাধিক জাপানি উধাও হন।
যদিও ২০১৫ সালে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা ৮২ হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকে নথিভুক্ত করেছিল। তবে জাপানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হয়। মিসিং পারসনস সার্চ সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের জানিয়েছে প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হন জাপানে। ২০২৪ সালে এ বিষয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানান জার্মান পরিচালক আন্দ্রেয়াস হার্টম্যান ও আরাতা মোরি। জুহাতসুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও এই কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে সিরিজটি। সূত্র: বিবিসি
১৫
প্রতিদিন সকালে ১ গ্লাস পানি পানের বিস্ময়কর উপকারিতা দেখে আপনি অবাক হবেন
আপনার শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত টক্সিনগুলো আপনার অজান্তেই কি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করছে? অবহেলা করলে এই বিষ ধীরে ধীরে আপনার রক্তে মিশে গিয়ে অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচাতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখা আপনার জীবনের সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে।
অবাক করার মতো তথ্য হলো যে কেবল এক গ্লাস পানি আপনার শরীরের সম্পূর্ণ সতেজতা ফিরিয়ে আনতে পারে। পানির এই জাদুকরী শক্তি আপনার মেটাবলিজমকে এক নিমিষেই চাঙ্গা করে দেয়। মাত্র সাত দিন এই নিয়মটি পালন করলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা দেখে আপনি নিজেই বিস্মিত হয়ে যাবেন।
২০২০ সালে বিশ্ববিখ্যাত 'হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল' তাদের 'ইমপ্যাক্ট অফ হাইড্রেসন অন মেটাবলিজম' নামক গবেষণায় পানির জাদুকরী বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছে। পানি শরীরের কোষের ভেতরের বর্জ্য পরিষ্কার করে ধমনীতে রক্ত প্রবাহকে সহজতর ও মসৃণ করে দেয়। গবেষণার ভিত্তিতে সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানি চুমুক দিয়ে পান করা সবথেকে কার্যকর নিয়ম।
আপনার লিভার এবং কিডনিকে সচল রাখতে আজ থেকেই এই অভ্যাসটি শুরু করা জরুরি। সকালে ব্রাশ করার আগেই পানি পান করার চেষ্টা করুন যাতে মুখের লালা পাকস্থলীতে গিয়ে হজমে সাহায্য করে। নিয়মিত এই পদ্ধতিতে পানি পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চিরতরে মিটে যাবে।
নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া কোনো কঠিন কাজ নয় বরং একটি সুন্দর সদিচ্ছার বিষয়। সুস্থ থাকার এই ছোট্ট পদক্ষেপটি আপনার দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হতে পারে। আজই এই অভ্যাসটি আয়ত্ত করুন এবং একটি রোগমুক্ত সুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে চলুন।
১৬
স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-কন্ট্রোল
১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওয়াল্টার মিশেল একটি অদ্ভুত পরীক্ষা করেন। তিনি একটি ৪ বছরের বাচ্চাকে একটি ঘরে বসিয়ে তার সামনে একটি মারশম্যালো রাখেন। শর্ত ছিল একটি:
"আমি বাইরে যাচ্ছি। আমি ফিরে আসা পর্যন্ত যদি তুমি এটি না খেয়ে অপেক্ষা করো, তবে তোমাকে আরও একটি মারশম্যালো দেওয়া হবে।"
অধিকাংশ বাচ্চাই লোভ সামলাতে না পেরে কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি খেয়ে ফেলে। কিন্তু কিছু বাচ্চা ঠিকই ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে দ্বিতীয় মারশম্যালোটি অর্জন করে।
গবেষক দল এই বাচ্চাদের পরবর্তী ৪০ বছর পর্যবেক্ষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, যারা দ্বিতীয় মারশম্যালোর জন্য অপেক্ষা করতে পেরেছিল, তারা বড় হয়ে পড়াশোনায় ভালো করেছে, তাদের আত্মবিশ্বাস বেশি ছিল এবং তারা অন্যদের চেয়ে সফল হয়েছে।
পেছনের বিজ্ঞান: Delayed Gratification
এই ক্ষমতার নাম হলো স্ব-নিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-কন্ট্রোল। যখন কোনো বাচ্চা সাময়িক আনন্দ বিসর্জন দিয়ে ভবিষ্যতের বড় অর্জনের জন্য ধৈর্য ধরতে শেখে, তখন তার ব্রেইনের Prefrontal Cortex (যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে) অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
এটি কি কেবল ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা?
সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা (২০১৮ সালের স্টাডি) বলছে, বিষয়টি শুধু বাচ্চার ইচ্ছাশক্তি নয়, বরং 'আস্থা' বা বিশ্বাসের ওপরও নির্ভর করে। বাচ্চা যদি মনে করে যে বাইরের জগত বা মানুষটি নির্ভরযোগ্য নয় এবং সে ২য় মারশম্যালোটি শেষ পর্যন্ত পাবে না, তবে সে দেরি না করে প্রথমটিই খেয়ে ফেলে। অর্থাৎ, বাচ্চার ধৈর্যের ভিত্তি তৈরি হয় আপনার সাথে তার আস্থার সম্পর্কের ওপর।
বাবা-মা বা বড় ভাই-বোন হিসেবে আপনার করণীয়:
• আস্থার পরিবেশ গড়ুন: বাচ্চাকে দেওয়া ছোট ছোট কথা বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন। সে যখন জানবে যে "অপেক্ষা করলে বাবা-মা বা বড় ভাই-বোন কথা রাখে", তখন তার মধ্যে ধৈর্য ধরার ক্ষমতা তৈরি হবে।
• ধৈর্যের চর্চা: "আগে খাবার শেষ করো, তারপর কার্টুন" বা "আগে গুছিয়ে রাখো, তারপর খেলা" - এই ধরণের ছোট ছোট প্র্যাকটিস বাচ্চার ব্রেইনকে বড় লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে।
• লেবেলিং করবেন না: কোনো বাচ্চা মারশম্যালোটি খেয়ে ফেললে তার মানে এই নয় যে সে জীবনে অসফল হবে। ধৈর্য একটি দক্ষতা যা সঠিক পরিবেশ ও অনুশীলনের মাধ্যমে বাড়ানো সম্ভব।
১৬
জাতি, পুষ্টি এবং জীবনযাত্রার উন্নত মানের কারণে উচ্চতা বাড়ে
জাতি, ভৌগোলিক অবস্থান, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার উন্নত মানের ভিন্নতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় উচ্চতায় ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি এবং নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, যা বিশ্ব রেকর্ড। ডাচদের পরেই দীর্ঘতম জনসংখ্যার তালিকায় রয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে বলকান এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের। ৬ ফুট গড় উচ্চতার তালিকায় আছে মন্টিনিগ্রো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ডেনমার্ক ও আইসল্যান্ড, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা ৬ ফুট। এই দেশগুলোতে নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি থেকে ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির মধ্যে। এছাড়াও পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া, ইউক্রেন, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও লাটভিয়ার মতো দেশগুলোর পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে খর্বকায় জনসংখ্যার সন্ধান মেলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। এই তালিকায় সর্বনিম্ন গড় উচ্চতা নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে পূর্ব তিমুর, যেখানে পুরুষদের গড় উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট।বাংলাদেশ, নেপাল, ইয়েমেন, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক ও মাদাগাস্কারের পুরুষদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির বাংলাদেশ ও নেপালে নারীদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট।
১৭
Your Network is Your Future
একটা প্রবাদ আছে—"আপনি হলেন সেই ৫ জন মানুষের গড়, যাদের সাথে আপনি সারাদিন মেশেন।"
লক্ষ্য করে দেখবেন, বাজপাখি সবসময় একা ওড়ে অথবা অন্য বাজপাখির সাথে ওড়ে। সে কখনোই কবুতর বা ছোট পাখিদের দলের সাথে ওড়ে না।
কারণ, ছোট পাখিরা ওড়ে নিচুতে, আর বাজপাখি ওড়ে মেঘের ওপরে।
আমাদের জীবনটাও ঠিক তেমনই। আপনি যদি এমন বন্ধুদের সাথে মেশেন যাদের জীবনে কোনো বড় স্বপ্ন নেই, যারা সারাদিন শুধু আড্ডা, গসিপ আর নেতিবাচক কথা বলে সময় কাটায়—তবে আপনি চাইলেও বড় কিছু করতে পারবেন না। তাদের ছোট চিন্তাধারা অজান্তেই আপনাকে নিচে নামিয়ে আনবে। বড় হতে হলে, বড় চিন্তার মানুষদের সাথে মিশতে হবে।
কেন সঙ্গ বা পরিবেশ পরিবর্তন করা জরুরি?
১. চিন্তাধারার সংক্রমণ (Mindset is Contagious) ভাইরাস যেমন ছড়ায়, মানসিকতাও তেমন ছড়ায়। আপনার বন্ধুরা যদি সারাদিন ক্যারিয়ার, বিজনেস বা নতুন আইডিয়া নিয়ে কথা বলে, তবে আপনিও অজান্তেই কাজ করার উৎসাহ পাবেন। আর যদি তারা শুধু অন্যের সমালোচনা আর সময় নষ্ট করা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তবে আপনিও ধীরে ধীরে অলস হয়ে পড়বেন। সঙ্গ দোষে লোহাও ভাসে, আবার সঙ্গ গুণে লোহাও সোনা হয়।
২. কমফোর্ট জোন থেকে বের হওয়া- যারা আপনাকে শুধু "আরাম কর" বা "এত খেটে কী হবে" বলে—তারা আপনাকে তাদের স্তরেই আটকে রাখতে চায়। আপনার এমন বন্ধু দরকার যারা আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে, যারা আপনার ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলবে—"তুই এর চেয়েও ভালো কিছু করতে পারবি।"
৩. ভবিষ্যতের আয়না-নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে চান? জ্যোতিষীর কাছে যাওয়ার দরকার নেই। শুধু আপনার কাছের ৫ জন বন্ধুর দিকে তাকান। তাদের অভ্যাস, তাদের আয় এবং তাদের চিন্তাভাবনা—আগামী ৫ বছর পর আপনার অবস্থাও ঠিক তেমনই হবে। যদি সেই ছবিটা আপনার পছন্দ না হয়, তবে আজই সার্কেল বদলানোর সময়।
শেষ কথা
বন্ধু কমানো কোনো অপরাধ নয়, তবে ভুল মানুষের সাথে মেশাটা নিজের জীবনের প্রতি অপরাধ। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন, কিন্তু নিজের স্বপ্নের চাবিটা শুধু তাদের হাতেই দিন, যারা আপনাকে উড়তে সাহায্য করবে, ডানা কাটতে আসবে না।
নিজেকে বলুন—"আমি ভিড়ের অংশ হতে আসিনি, আমি নেতৃত্ব দিতে এসেছি।"
১৮
পুরুষের আচরণ সরাসরি একজন নারীর শরীর ও মনে প্রভাব ফেলে
একজন নারীর হরমোন, মুড, ঘুম, পিরিয়ড ও মানসিক স্থিতি সবকিছুর সঙ্গে তার emotional safety গভীরভাবে জড়িত। এই নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি আসে তার জীবনের কাছের মানুষের, বিশেষ করে স্বামী বা সঙ্গীর আচরণ থেকে। নারীদের হরমোন খুব সংবেদনশীল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই নরম কথা, সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা পেলে শরীরে oxytocin বাড়ে, যা মন শান্ত করে এবং হরমোনগুলোকে ভারসাম্যে রাখে। এতে পিরিয়ড নিয়মিত থাকে, ঘুম ভালো হয়, দুশ্চিন্তা কমে।
অন্যদিকে অবহেলা, রূঢ় কথা বা ভালোবাসার অভাব শরীরকে চাপের মধ্যে ফেলে। তখন cortisol বাড়ে, যার ফলে মুড সুইং, ঘুমের সমস্যা, পিরিয়ডের গোলমাল ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ একজন পুরুষের আচরণ সরাসরি একজন নারীর শরীর ও মনে প্রভাব ফেলে। ভালোবাসা ও সম্মান শুধু আবেগ নয় এটাই একজন নারীর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বড় শক্তি।
১৯
থরের মরুভূমিতে ফসলের ১০ শতাংশ তুলে রাখে বন্যপ্রাণীর জন্য
"বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষদের কথা সকলের জানা উচিত । তারা তাদের ফসলের ১০ শতাংশ তুলে রাখে বন্যপ্রাণীর জন্য। তারা কোনো প্রাণী হত্যা করে না, এমনকি জীবিত গাছ কাটাও তাদের ধর্মে নিষিদ্ধ। তাদের কাছে কোনো আহত প্রাণীকে সাহায্য না করা মানে এক পরিত্যক্ত শিশুকে উপেক্ষা করা।" তারা বিশ্বাস করে-
'মরুভূমিতে অতিথি হয়ে আসে বন্যপ্রাণী'
বৃষ্টি এলে মরুভূমি শুধু ভিজে না—বাঁচে।
থর মরুভূমির বালির বুকে যখন বৃষ্টি নামে, তখন মানুষ যেমন বেঁচে যাওয়ার আনন্দে শ্বাস নেয়, তেমনি দূর আকাশ ভেঙে নেমে আসে হাজার হাজার অতিথি—ডেমোয়েজেল সারস। হিমালয়ের পথে দীর্ঘ যাত্রায় তারা থামে কিচান গ্রামের কাছে। আর তখনই শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য মানবিকতার গল্প।
এদের গ্রামে মানুষ নিজের খাবার কমিয়ে দেয়, গুদামের শস্য খুলে দেয়—শুধু এই পাখিদের খাওয়ানোর জন্য। কোনো লাভ নেই, কোনো প্রত্যাশা নেই। আছে শুধু একটুকু আত্মিক তৃপ্তি—জীবন বাঁচানোর আনন্দ। কারণ এই পাখিরা আজ অতিথি, কাল আবার আকাশের পথিক।
কিন্তু থরের মরুভূমিতে সহমর্মিতা এখানেই শেষ নয়। এখানে বাস করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়—৫০০ বছরের পুরনো এক দর্শনের অনুসারী মানুষ। তারা তাদের ফসলের ১০ শতাংশ তুলে রাখে বন্যপ্রাণীর জন্য। তারা কোনো প্রাণী হত্যা করে না, এমনকি জীবিত গাছ কাটাও তাদের ধর্মে নিষিদ্ধ। তাদের কাছে কোনো আহত প্রাণীকে সাহায্য না করা মানে এক পরিত্যক্ত শিশুকে উপেক্ষা করা।
বিষ্ণোইরা গাছ লাগায়, পানি দেয়, মৃত গাছ ছাড়া কাঠ ব্যবহার করে না। গবেষণায় দেখা গেছে—যেসব অঞ্চলে তারা থাকে, সেখানে মরুভূমিও বেশি জীবন্ত, বেশি বৈচিত্র্যময়। এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি রক্ষা আইন দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে হয়।
( বিবিসিএ তথ্যচিত্র অবলম্বনে লিখেছেন Shadman Shahriar)
২০
স্বাধীন বঙ্গের রাজধানী ছিল কোটালিপাড়া, সে সময় বঙ্গের স্বর্ণমুদ্রার নাম- ‘দিনার’
আজকের ‘বাংলা’ শব্দটির প্রচলন অনেক পরের ঘটনা। প্রাচীনকালে এই ভূখণ্ড ছিল বিভিন্ন স্বাধীন জনপদে বিভক্ত, যার মধ্যে অন্যতম প্রধান ছিল ‘বঙ্গ’। মূলত বর্তমানের বৃহত্তর ঢাকা ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল (সাথে পটুয়াখালী) মিলিয়েই ছিল এই বঙ্গের অবস্থান। আধুনিক বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভিত্তির অনেকটা অংশই রচিত হয়েছিল এই প্রাচীন বঙ্গ জনপদকে কেন্দ্র করে।
মৌর্য আমলেই বাংলার এই জনপদগুলো প্রথমবারের মতো একটি কেন্দ্রীয় মগধ সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায় এবং নিজেদের স্বাধীন সত্তা হারায়। মৌর্যদের পতনের পর এই অঞ্চলে শুঙ্গ এবং পরবর্তীতে কুষাণদের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় ছিল। চতুর্থ শতাব্দী থেকে শুরু হয় বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের আধিপত্য। এভাবে প্রায় ৮০০ বছর বাংলা কোনো না কোনো বহির্দেশীয় কেন্দ্রীয় শক্তির অধীনে শাসিত ছিল।
ষষ্ঠ শতাব্দীতে হূণদের আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় যখন শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে, সেই বিশৃঙ্খলার সুযোগে প্রাচীন বঙ্গ জনপদ আবার তাদের হারানো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি নিয়ে স্বাধীন বঙ্গের সিংহাসনে বসেন গোপচন্দ্র। তাঁর পর একে একে শাসন করেন ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব। এই স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র বা রাজধানী ছিল ‘নব্য-অবকাশিকা’, যা বর্তমান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া অঞ্চলে অবস্থিত ছিল বলে ঐতিহাসিকরা নিশ্চিত করেছেন। তৎকালীন সময়ে কোটালিপাড়া ছিল একটি বিশাল দুর্গবেষ্টিত শহর, যার প্রাচীন নাম ছিল ‘চন্দ্রবর্মা কোট’। এর ভৌগোলিক অবস্থান এমন ছিল যেখান থেকে জলপথে দক্ষিণ ও পূর্ব বাংলার বাণিজ্য সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যেত। এই স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের স্থায়িত্ব ছিল মোটামুটি ৬০ থেকে ৭০ বছর। পরবর্তীতে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের উত্থানে বঙ্গের এই স্বাধীন সত্তা সাময়িকভাবে বিলুপ্ত হয়।
এই সময়ের ‘বঙ্গ’ বিষয়ে পড়তে গিয়ে সবচেয়ে চমকপ্রদ যে তথ্যটি সামনে আসে, তা হলো তাদের স্বর্ণমুদ্রার নাম- ‘দিনার’। দিনার বলতেই আমাদের চোখে এখন আরব্য দেশগুলোর ছবি ভেসে উঠলেও, দেড় হাজার বছর আগে বঙ্গের মুদ্রা কেন দিনার হবে? একটু গভীরে গিয়ে দেখা যায়, এই শব্দের আদি উৎস ল্যাটিন শব্দ ‘দেনারিউস’ (Denarius)। এটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের প্রধান রৌপ্য মুদ্রা। রোমানদের সাথে প্রাচীন ভারতের নিবিড় বানিজ্যের ফলে এই শব্দটি এবং মুদ্রার ধারণাটি ভারতে প্রবেশ করে। ভারতে স্বর্ণমুদ্রার ব্যাপক প্রচলন শুরু হয় কুষাণ সম্রাটদের হাত ধরে, যাঁরা রোমান স্বর্ণমুদ্রার অনুকরণে মুদ্রা তৈরি করেন। পরবর্তীতে গুপ্ত সম্রাটরা বড় আকারের স্বর্ণমুদ্রা চালু করলে নথিপত্রে সেগুলোকে ‘দিনার’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। স্বাধীন বঙ্গের শাসকরা গুপ্তদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সেই মুদ্রার নাম ও মান বজায় রেখেছিলেন। আরবরা বরং এই নামটি গ্রহণ করে আরও পরে, সপ্তম শতাব্দীর শেষ দিকে (৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দে), যখন খলিফা আবদুল মালিক প্রথম ইসলামি স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন।
স্বাধীন বঙ্গের আরেকটি আধুনিক দিক ছিল তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা। সাধারণ নাগরিকরা জমি কিনতে পারতেন এবং সেই পদ্ধতি ছিল অনেকটা আজকের ‘রেজিস্ট্রি’ অফিসের মতোই সুশৃঙ্খল। জমি ক্রেতা প্রথমে স্থানীয় জেলা প্রশাসক বা ‘বিষয়পতি’র কাছে আবেদন জানাতেন। আবেদন পাওয়ার পর সরকারি মহাফেজখানায় যাচাই করা হতো জমিটি ‘খাস’ কি না। এই রেকর্ড অফিসারকে বলা হতো ‘পুস্তকপাল’। সবকিছু ঠিক থাকলে মূল্য নির্ধারিত হতো স্বর্ণমুদ্রা বা দিনারে। সেই সময় মাত্র ৩ দিনারের বিনিময়ে ১ ‘কুল্যবাপ’ (প্রায় ৫ একর) জমি পাওয়া যেত। এই সব তথ্য আমরা জানতে পারি কোটালিপাড়া থেকে আবিষ্কৃত ষষ্ঠ শতাব্দীর বিখ্যাত ‘ফরিদপুর তাম্রশাসন’ বা তামার পাতের লিপিগুলো থেকে। এই ইতিহাসের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় ড. রমেশচন্দ্র মজুমদারের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন যুগ)’ এবং নীহাররঞ্জন রায়ের ‘বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)’ গ্রন্থে।
২১
'রাইস ব্র্যান অয়েল'
যেরকম সরিষা, তিল, নারকেল, বাদাম এসবের তেল হয়, রাইসব্র্যান তেল সেরকম কিছু না! কারণ ধান কোনো তেলবীজ না। সরিষা, তিল, নারিকেল, বাদাম এসব বীজ তেল ধারণ করে, তাই মানুষ হাজার বছর ধরে এগুলো প্রেস করে তেল বের করেছে।
রাইস ব্র্যান অয়েল মূলত ২০ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হতে শুরু করে। রাইস মিলগুলোতে প্রচুর পরিমাণ রাইস ব্র্যান জমত। নিকৃষ্ট সলভেন্ট এক্সট্র্যাকশন প্রযুক্তি আসার পর রাইস ব্র্যান থেকে বড় পরিমাণে তেল বের করা সম্ভব হয় এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
বাংলাদেশে ২০১০ সালের পর থেকে রাইস ব্র্যান অয়েল বাজারে আসতে শুরু করে এবং হেলদি বলে প্রচার করার ফলে সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।
রাইসমিলে মোটাচাল প্রসেস করার সময় বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে তুষ বা রাইসব্র্যান পাওয়া যায়। প্রতি ১০০০ কেজিতে ২৫-৩০ কেজির মতো।
রাইসমিলে বিশাল পরিমাণ চাল উৎপাদন মানেই বিশাল পরিমাণ ব্র্যান জমে যাওয়া।
এই রাইস ব্র্যান খুব আনস্ট্যাবল জিনিস। ধান ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এতে এনজাইমেটিক রিঅ্যাকশন শুরু হয়, ফ্যাট দ্রুত ভেঙে গিয়ে দুর্গন্ধ ও র্যানসিডিটি সৃষ্টি করে! প্রাকৃতিকভাবে এটা এমনই যে, স্থানীয় মানুষ কখনোই এটা দিয়ে ভোজ্যতেল বানানোর কথা ভাবেনি। রাইস ব্র্যান ব্যবহার হতো পশুখাদ্য বা সার হিসেবে।
কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজম এসে এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্যকে প্রোডাক্টে রূপান্তর করলো!
রাইস ব্র্যান থেকে তেল বের করার কোনো প্রাকৃতিক বা ঐতিহ্যবাহী উপায় নেই। এটাকে প্রেস করলে তেল বের হয় না।
একমাত্র উপায় ফ্যাক্টরিতে সলভেন্ট এক্সট্রাকশন!
হেক্সেনের মতো পেট্রোলিয়াম-জাত সলভেন্ট ব্যবহার!
এই পদ্ধতিতে ব্র্যানকে সলভেন্টের সাথে মিশিয়ে তেল টেনে বের করা হয়। তারপর সেই সলভেন্ট বাষ্পীভূত করে তেল আলাদা করা হয়। এই পর্যায়ে যে তেল পাওয়া যায় সেটা দুর্গন্ধযুক্ত, গাঢ় রঙের, উচ্চ ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরা এক ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অয়েল! যা সরাসরি খাওয়ার উপযোগী না! এটাকে খাওয়ার মতো বানাতে একের পর এক এগ্রেসিভ রিফাইনিং প্রসেস চালানো হয়!
ডিগামিং, নিউট্রালাইজেশন, ব্লিচিং, ডিওডোরাইজেশন!
এই পুরো প্রক্রিয়ায় তেল আর মানুষের 'খাদ্য' থাকে না, এটা হয়ে ওঠে একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যাট ফ্লুইড!
এভাবে যেই তেল হয় সেটা মানবস্বাস্থ্যের পক্ষে নিকৃষ্ট তেল!
এভাবেই কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজম রাইসব্র্যান থেকে তেল বানিয়ে হেলদি প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। এই তেল নাকি হার্ট-ফ্রেন্ডলি!
এটা কখনোই স্বাস্থ্যকর তেল না! এটা মানুষের খাওয়ার উপযোগী কোনো তেলই না! যে জিনিসটা কখনোই মানুষের খাবার ছিল না, সেটাকে মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মানুষের রান্নাঘরে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে! @ Captain Green
২২
লিও তলস্তয়
(১৮২৮-১৯১০) ছিলেন একজন বিখ্যাত রুশ লেখক, যিনি 'যুদ্ধ ও শান্তি' ও 'আন্না কারেনিনা'-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস লিখেছেন; অভিজাত পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও আধ্যাত্মিকতার পথে হেঁটেছেন, যা তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে এবং তাঁর জীবন ছিল বিচিত্র, যা তাঁকে বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে, যদিও তিনি সাহিত্যে নোবেল পাননি।
জন্ম ও শৈশব:
জন্ম: ১৮২৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার তুলা প্রদেশের ইয়াসনায়া পলিয়ানা গ্রামে, অভিজাত পরিবারে।
অল্প বয়সে বাবা-মা মারা যাওয়ায় আত্মীয়-স্বজনের কাছে বড় হয়েছেন।
সাহিত্য জীবন ও কর্ম:
শুরুর দিক: সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর লেখালেখি শুরু করেন এবং 'চাইল্ডহুড' (১৮৫২) নামে আত্মজীবনীমূলক প্রথম খণ্ড প্রকাশ পায়।
শ্রেষ্ঠ কাজ:
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'যুদ্ধ ও শান্তি' (১৮৬৩-১৮৬৯) এবং 'আন্না কারেনিনা' (১৮৭৫-১৮৭৭) প্রকাশিত হয়।
নাটক, ছোটগল্প ও প্রবন্ধেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
জীবন দর্শন ও পরিবর্তন:
অভিজাত জীবন ত্যাগ: ধীরে ধীরে তিনি আভিজাত্য ও প্রচলিত বিশ্বাস ত্যাগ করে প্রথাবিরোধী জীবনধারা গ্রহণ করেন।
শান্তিবাদ:
যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা (ক্রিমিয়ার যুদ্ধ) এবং গিলোটিনে মানুষ হত্যা দেখে তিনি শান্তিবাদী হয়ে ওঠেন।
মৃত্যু:
১৯১০ সালের ২০ নভেম্বর রাশিয়ার আস্তাপোভো নামক এক প্রত্যন্ত রেলওয়ে স্টেশনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
উল্লেখযোগ্য দিক:
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য একাধিকবার মনোনীত হলেও তিনি পুরস্কার পাননি, যা বিতর্কিত ছিল। @ তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
২৩
আলাউদ্দিন খিলজি'
নাম তার আলাউদ্দিন খিলজি' যাঁর কাছে মঙ্গোল আতঙ্ক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তলাল অধ্যায় রচনা করেছিল যে মঙ্গোল বাহিনী, তাদের রক্তপিপাসু থাবা থেকে বিংশ শতাব্দীর আগে কোনো মহাদেশই রক্ষা পায়নি। ৬ কোটিরও বেশি মানুষের প্রাণ হরণ করে তারা শুধু রাজ্য নয়, পুরো সভ্যতার নিশ্বাস বন্ধ করে দিয়েছিল। আব্বাসীয় খিলাফতের মতো সুপারপাওয়ার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল তাদের হাতে। সময়ের চেয়ে ৫০০ বছর এগিয়ে থাকা ইসলামিক এক সোনালি যুগের অগ্রযাত্রাকে তারা থামিয়ে দিয়েছিল চিরতরে।
আর ঠিক সেই সময়, যখন মঙ্গোলদের গণহত্যার মেশিন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে ধেঁয়ে আসছিল, এক ব্যক্তি নিজের জীবন বাজি রেখে দাঁড়ালেন মানুষের জীবনের দেয়াল হয়ে। তিনি আলাউদ্দিন খিলজি, ভারতীয় উপমহাদেশের সেই অগ্নিপ্রতিম সেনানায়ক, যিনি মঙ্গোলদের নয়টি যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এই অঞ্চলকে নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। প্রতিটি যুদ্ধে তিনি কৌশল, সাহস এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।
১. ১২৯৬-৯৭ খ্রিস্টাব্দের প্রথম আক্রমণ: সদ্য সিংহাসনে আরোহণ করেই আলাউদ্দিনকে প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কাদারের নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনী ভারত সীমান্তে আক্রমণ চালায়। খিলজি তার সামরিক সংস্কার শুরু করেন এবং সীমান্ত রক্ষাব্যূহ সুদৃঢ় করতে নির্দেশ দেন।
২. ১২৯৭-৯৮ খ্রিস্টাব্দের জলন্ধর যুদ্ধ: জাফর খানের নেতৃত্বে দিল্লি সুলতানাতের বাহিনী জলন্ধরে মঙ্গোলদের পরাজিত করে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করে যে খিলজির ভারতীয় বাহিনী মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে অনায়াসে জয়লাভ করতে পারে। ৩. ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দের কিলি যুদ্ধ: এটি আলাউদ্দিনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কুতলুঘ খোয়ার নেতৃত্বে ২,০০,০০০ মঙ্গোল সৈন্য দিল্লির দিকে অগ্রসর হয়। আলাউদ্দিন সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং কুতলুঘ খোয়াকে হ#ত্যা করে মঙ্গোল বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেন।
৪. ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের দিল্লি অবরোধ: তার্গিরের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা দিল্লি অবরোধ করে। শহরের দেয়ালের ভেতরে থেকে আলাউদ্দিন রণকৌশল প্রয়োগ করেন এবং শেষ পর্যন্ত মঙ্গোলরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
৫. ১৩০৪ খ্রিস্টাব্দের অ্যামবালা যুদ্ধ: আলি বেগ ও তার্তকের যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে আলাউদ্দিনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।
৬. ১৩০৫-০৬ খ্রিস্টাব্দের রবি নদীর তীরে যুদ্ধ: ইকবালমান্দ ও তার্তকের নেতৃত্বে মঙ্গোল বাহিনীকে আলাউদ্দিনের সেনাপতি মালিক কাফুর ও গাজী মালিক সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেন। হাজার হাজার মঙ্গোল সৈন্য বন্দী হয় খিলজির হাতে।
৭. ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দের সীমান্ত যুদ্ধ: এই বছর আলাউদ্দিনের বাহিনী তিনটি পৃথক মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করে। ৮. ১৩০৭-০৮ খ্রিস্টাব্দের শেষ বড় আক্রমণ: আলাউদ্দিনের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে মঙ্গোলদের শেষ বড় আক্রমণ ব্যর্থ হয়।
৯. ১৩০৯ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী বছরগুলোর ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়' আলাউদ্দিনের রাজত্বের শেষ বছরগুলোতেও মঙ্গোলরা ছোটখাটো আক্রমণ চালায়, কিন্তু সবকটিতেই তারা পরাজিত হয়।
তিনি হাতির পায়ে পিষ্টে ফেলেছিলেন মঙ্গোল দূতদের: ১৩১০-১১ খ্রিস্টাব্দ। মঙ্গোল খান ওলজাইতু দূত পাঠালেন আলাউদ্দিন খিলজির দরবারে। নির্দেশ আসল আমরা আপনার বশ্যতা আর অনুগত্য স্বীকার করব, আর আপনার সাথে আত্মীয়তা করতে চাই এবং প্রমাণস্বরূপ হিসেবে খিলজি রাজপরিবার থেকে একজন শাহজাদিকে আমাদের খানের হেরেমে পাঠাও। কিন্তু আলাউদ্দিন খিলজি ছিলেন আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার মূর্তপ্রতীক। তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে আদেশ দিলেন এই ১৮ জন দূতকে হাতির পায়ের নিচে ফেলে হাতির পায়ে পিষ্ট করে হ*ত্যা করে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলো।
দিল্লির রাজপথে সেই দৃশ্য দেখে মঙ্গোলদের হৃদয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শাসক যিনি মঙ্গোলদেরকে চরম অপমানজনক মৃত্যুদন্ড দিতে পিছপা হননি। এরপর থেকে মঙ্গোলরা আর কখনো ভারত জয় করার স্বপ্ন দেখার সাহস পায়নি।
আলাউদ্দিন খিলজি যে সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন, তার ঋণ শুধু ভারত নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মানব সভ্যতার। তিনি না দাঁড়ালে আজ দক্ষিণ এশিয়ার এই বাদামি জাতিটা পৃথিবীর ইতিহাস থেকে মুছে যেত। যেমনভাবে তারা পৃথিবীর ইতিহাস থেকে ৬ কোটি মানুষকে মুছে দিয়েছে। তাদের হাত থেকে বাদ যায়নি ততকালীন পৃথিবীর সুপার পাওয়ার সিংহাসনে বসা আব্বাসীয়রাও।
নয়টি যুদ্ধে নয়টি বিজয়' এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি ছিল সুপরিকল্পিত রণকৌশল, অদম্য মনোবল এবং অসীম সাহসিকতার ফল।
সংগৃহীত: Jvm..J..Mehmed
২৪
মানসিক শান্তি এবং সুখের জন্য ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ছোট ছোট অভ্যাস
১. ছোট ছোট অভ্যাসে নিজেকে স্থির রাখুন: জীবন যখন অস্থির মনে হবে, তখন ছোট কাজ যেমন—বিছানা গোছানো, গাছে পানি দেওয়া বা নিজের থালাবাসন ধোয়ার মতো সহজ কাজের মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
২. জীবনের কোলাহল বা অপ্রয়োজনীয় শব্দ বাদ দিন: সবাই কী বলছে তাতে কান না দিয়ে, কার কথা আপনার জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা বেছে নিন। সবার আওয়াজ শোনার প্রয়োজন নেই।
৩. নিজের ভালোর জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিন: আপনার বর্তমান জীবন আপনার প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের ফল। জীবন পছন্দ না হলে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা শুরু করুন।
৪. ব্যস্ত থাকার চেয়ে ফলদায়ক কাজ করুন: সারাদিন দৌড়ঝাঁপ করলেই উন্নতি হয় না। খেয়াল করুন আপনি কি শুধু নড়াচড়া করছেন, নাকি আসলেই সামনের দিকে এগোচ্ছেন?
৫. প্রতিদিন ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নিন: আপনার যদি দিনে মাত্র ১৫ মিনিট সময় থাকে, তবে সেই সময়টুকুতেই ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন। অলস বসে থাকার চেয়ে সামান্য কাজ করাও অনেক ভালো।
৬. নেতিবাচকতা থেকে দূরে নয়, ইতিবাচকতার দিকে এগোন: কোনো খারাপ জিনিস থেকে পালানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ভালো কোনো কিছুর দিকে মনোযোগ দেওয়া।
৭. সহজ নয়, সঠিক কাজটি করুন: কোনো কাজ সহজ বলেই সেটি করবেন না, বরং যেটি সঠিক সেটিই করুন। এটি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ কমায়।
৮. নিজের তুলনা শুধু নিজের সাথেই করুন: অন্য কে কোথায় আছে তা নিয়ে ভাববেন না। আপনি গতকাল যেখানে ছিলেন, আজ তার চেয়ে একটু উন্নত হওয়ার চেষ্টা করুন।
৯. ভিন্নমতের মানুষের প্রতি সহনশীল হন: যারা আপনার মতো করে চিন্তা করে না, তাদের সাথেও ভদ্র আচরণ করুন। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব ও দয়ার পরিচয় পাওয়া যায়।
১০. ক্ষমা ও নম্রতাকে প্রাধান্য দিন: তর্কে জেতার চেয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা এবং মনে শান্তি রাখা বেশি জরুরি। জেদ ধরে না রেখে নমনীয় হতে শিখুন।
১১. প্রতিদানের আশা ছাড়া দান করুন: সবাই আপনার মতো করে ভাববে না। তাই কাউকে কিছু দিলে বা সাহায্য করলে বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করবেন না। এতে হতাশ হতে হবে না।
১২. নিজে যেমন পরিবর্তন চান, তেমন হয়ে উঠুন: আপনি অন্যদের সাথে যেমন আচরণ করবেন, নিজের সম্পর্কেও আপনার ধারণা তেমন হবে। হাততালি পাওয়ার জন্য নয়, বরং ভালো মানুষ হওয়ার জন্য কাজ করুন।
১৩. বর্তমানে বাঁচুন: স্মার্টফোন বা গ্যাজেটের দুনিয়ায় হারিয়ে না গিয়ে আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলুন, সরাসরি চোখে তাকিয়ে কথা শুনে বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করুন।
১৪. কথার চেয়ে কাজে ভালোবাসা প্রকাশ করুন: প্রিয় মানুষকে শুধু মুখে ‘ভালোবাসি’ না বলে, আপনার কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করুন।
১৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন: আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। কৃতজ্ঞতা কোনো জাদুকরী বিষয় নয়, এটি একটি সচেতন পছন্দ।
১৬. অভিযোগ করা কমান: ‘আমাকে এই কাজটি করতে হবে’—এভাবে না বলে বলুন ‘আমি এই কাজটি করার সুযোগ পেয়েছি’। আপনার যা আছে, তা অনেকের কাছেই স্বপ্ন।
১৭. নতুন অভিজ্ঞতা ও সুযোগের জন্য তৈরি থাকুন: অনিশ্চয়তার ভয়ে পিছিয়ে থাকবেন না। নতুন কিছু করা বা নতুন জায়গায় যাওয়ার মাধ্যমে জীবনের নতুন সম্ভাবনাগুলো খুঁজে নিন।
১৮. জীবনের ছোটখাটো বিরক্তিগুলো ছেড়ে দিন: প্রতিদিনের ছোটখাটো ঝামেলা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। নিজের মনোযোগ কোন দিকে দেবেন, তা আপনার নিয়ন্ত্রণে।
১৯. জীবনের শিক্ষাগুলোকে গ্রহণ করুন: ভুল করা বা সমস্যায় পড়া মানেই আপনি থেমে নেই, বরং কিছু করার চেষ্টা করছেন। প্রতিটি সমস্যা আপনাকে কিছু না কিছু শেখায়।
২০. যা আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে তাতে মনোযোগ দিন: সব কিছু জোর করে হয় না। আপনার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করার পর ফলাফল ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিন। ভুল দিয়ে নিজেকে বিচার করবেন না, বরং সামনের দিকে তাকান।
সুখ বা শান্তি বড় কোনো অর্জনে নয়, বরং প্রতিদিনের এই ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। Source: Marc and Angel Hack Life
২৫
এই ১১টি অভ্যাস থাকলে, তিনি খুবই নীচু মানের মানুষ!
আপনি হয়তো জীবনে এমন একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যিনি প্রথমে চমৎকার মনে হয়েছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রকৃত চরিত্র ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে। কখনও কখনও প্রিয় মানুষটি হঠাৎই আপনাকে হতাশ করতে পারে, আর বুঝতে সময় লাগে যে তিনি আদর্শ নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিছু আচরণ স্পষ্ট সংকেত দেয় যে একজন পুরুষ নীচু মানের হতে পারে।
এমন ১১টি লক্ষণ:
১. মহিলাদেরকে “উচ্চমানের পুরুষের জন্য যথেষ্ট নয়” বলার প্রবণতা
যে পুরুষরা অন্যদের ছোট করে দেখায় বা তাদেরকে “উচ্চমানের” কাউকে পাওয়ার যোগ্য নয় বলে মনে করে, তারা বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়।
২. নিজেকে ‘ভাল মানুষ’ হিসেবে দাবী করা
যদি কেউ নিজের ভালো চরিত্র বা সদাচরণ প্রমাণ করতে বারবার ঘোষণা করে, তবে তার প্রকৃত চরিত্র সন্দেহজনক। প্রকৃত মহান মানুষকে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় না; তার কাজই যথেষ্ট।
৩. হঠাৎ সম্পর্ক ছিন্ন করা (Ghosting)
কারো সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করা বা অগ্রাহ্য করা একজন নীচু মানের মানুষের চিহ্ন। বিবেচনাপূর্ণ মানুষ সম্পর্ক শেষ হলে তা সংক্ষিপ্ত হলেও জানাতে চেষ্টা করে।
৪. অতিরিক্ত অভিযোগ ও নেতিবাচকতা
যে মানুষ সবকিছুকে নেতিবাচক দিক থেকে দেখে বা অন্যের আনন্দ নষ্ট করে, তার সঙ্গে থাকা মানসিক চাপ বাড়ায়।
৫. দায় স্বীকারে অস্বীকৃতি
নিজের ভুল অন্যের উপর চাপানো একজন নীচু মানের মানুষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যারা দায় নেয় না, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিকর হতে পারে।
৬. অন্যদের ব্যবহার করে গর্ব করা
যদি কেউ অন্যদের ঠকিয়ে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করে এবং তা গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করে, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়।
৭. ছোটখাটো মিথ্যা বলা
ছোট মিথ্যাও বড় অখণ্ডতার ইঙ্গিত দেয়। সম্পর্কের ভিত্তি হলো সততা, তাই এটি খুব বড় সতর্কবার্তা।
৮. সবকিছু গ্রহণ, কিছু না দেওয়া
যে মানুষ সবসময় নিজের স্বার্থে অন্যদের ব্যবহার করে, সে মানসিক ও আবেগিকভাবে ক্ষতিকর।
৯. শুধু নিজের পছন্দের মহিলাদের প্রতি খেয়াল রাখা
যদি কেউ শুধুমাত্র আকর্ষণীয় মহিলাদের দিকে মনোযোগ দেয় এবং অন্যদের উপেক্ষা করে, তিনি স্বার্থপর এবং নীচু মানের।
১০. কৃপণতা
অর্থে অতিরিক্ত কৃপণতা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। কৃপণ মানুষ সাধারণত সহানুভূতিহীন এবং বিশ্বাসঘাতকতার প্রবণতা রাখে।
১১. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা
ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানানো ছোট হলেও গুরুত্বপূর্ণ আচরণ। যারা অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতে ব্যর্থ, তারা সহজেই বিশ্বাসঘাতক হতে পারে।
শেষে বলা যায়, জীবনেও এমন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখা এড়ানো উচিত। নীচু মানের মানুষের সঙ্গে থাকা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২৬
সুখী থাকার ছোট ছোট অভ্যাস যা আপনাকে সব সময় সতেজ রাখে
সুখ মানে বিলাসিতা নয়, সুখ মানে প্রতিদিন নিজেকে একটু ভালো রাখা। অনেক মানুষ ভাবে বড় কিছু পেলেই সুখী হওয়া যায়, কিন্তু বাস্তবতা হলো সুখ লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট অভ্যাসের ভেতর। যারা এই ছোট বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়, তারা জীবনেও হালকা থাকে, মনেও সতেজ থাকে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় তারা সবসময় ইয়ং, কিন্তু আসলে তারা নিজেদের যত্ন নিতে জানে।
প্রথম অভ্যাস হলো দিনের শুরুটা ধীরভাবে নেওয়া। ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল স্ক্রল করা, দুশ্চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা তাড়াহুড়ো শুরু করলে মন আগেই ক্লান্ত হয়ে যায়। বরং সকালে কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখুন। গভীরভাবে শ্বাস নিন, একটু চুপচাপ বসুন বা জানালার বাইরে তাকান। এই ছোট মুহূর্তগুলোই সারা দিনের মানসিক টোন ঠিক করে দেয়।
দ্বিতীয় অভ্যাস হলো নিজের শরীরের কথা শোনা। ক্ষুধা পেলে খাওয়া, ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নেওয়া এবং অসুস্থ লাগলে অবহেলা না করা। আমরা অনেক সময় কাজের চাপে শরীরকে উপেক্ষা করি, কিন্তু শরীর অবহেলিত হলে মনও ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। নিজের শরীরকে সম্মান করলে আপনি অজান্তেই নিজেকে সতেজ রাখছেন।
তৃতীয় অভ্যাস হলো অপ্রয়োজনীয় তুলনা বন্ধ করা। অন্যের জীবন, সাফল্য বা সুখের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে কখনোই শান্তি পাওয়া যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে ছবির পেছনের বাস্তবতা আমরা দেখি না। নিজের যাত্রা, নিজের গতি আর নিজের সক্ষমতাকে মেনে নিতে পারলেই মন হালকা থাকে।
চতুর্থ অভ্যাস হলো প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করা। সেটা কারও পাশে দাঁড়ানো হতে পারে, কারও কথা মন দিয়ে শোনা হতে পারে, কিংবা নিজেকেই একটু সময় দেওয়া হতে পারে। ভালো কাজ মানুষের ভেতরে এক ধরনের শান্তি তৈরি করে, যা মুখে ও আচরণে ফুটে ওঠে। এই শান্তিই মানুষকে ভেতর থেকে তরুণ রাখে।
পঞ্চম অভ্যাস হলো দিনের শেষে কৃতজ্ঞ হওয়া। আপনার জীবনে যা আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ হতে শিখলে অভাববোধ কমে যায়। সবকিছু নিখুঁত না হলেও, কিছু ভালো বিষয় সবসময় থাকে। সেগুলো খেয়াল করলে মন ভারী হয় না, বরং জীবনের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
সবশেষ অভ্যাস হলো নিজেকে ক্ষমা করা। ভুল সবার হয়, কিন্তু নিজেকে দোষারোপ করতে করতে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নিজের ভুল থেকে শেখা জরুরি, কিন্তু নিজেকে ছোট করা নয়। যে মানুষ নিজেকে ক্ষমা করতে পারে, সে মনেও হালকা থাকে, জীবনেও সতেজ থাকে।
এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত মানলে আপনি বুঝতেই পারবেন না, কবে জীবনটা একটু বেশি সুন্দর, একটু বেশি শান্ত আর একটু বেশি ইয়ং হয়ে উঠেছে।
২৭
প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস:
বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মরক্কোর আল-কারাওইন (Al-Qarawiyyin) (৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম, যা একটি মসজিদ হিসেবে শুরু হয়ে বিশ্বের প্রথম ও প্রাচীনতম চলমান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত, এরপর ইউরোপে ইতালির বোলোগনা (Bologna) (১০৮৮) ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড (Oxford) (১০৯৬) এবং স্পেনের সালামাঙ্কা (Salamanca) (১১৩৪) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ধর্মতত্ত্ব, আইন ও দর্শনের কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে বৈশ্বিক শিক্ষা ও গবেষণার মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Qarawiyyin), মরক্কো (৮৫৯ খ্রিস্টাব্দ): ফাতিমা আল-ফিহরি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, এটি ইউনেস্কো ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত। শুরুতে একটি মসজিদ ও মাদরাসা হিসেবে থাকলেও পরে এটি ধর্মতত্ত্ব, আইন, বিজ্ঞান ও ভাষা শিক্ষার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Azhar University), মিশর (৯৭০ খ্রিস্টাব্দ): এটিও প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি, যা ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Bologna), ইতালি (১০৮৮): ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, যা 'শিক্ষার nourishing mother' নামে পরিচিত এবং এটি কখনো বন্ধ থাকেনি। ডক্টরাল স্টাডিজ থেকে শুরু করে এখন বিভিন্ন স্তরের প্রোগ্রাম অফার করে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (University of Oxford), যুক্তরাজ্য (১০৯৬): বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত ও প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, যার শিক্ষাদান ১০৯৬ সাল থেকে শুরু হয়। এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহু নোবেল বিজয়ী ও বিশ্বনেতা রয়েছেন।
সালামাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Salamanca), স্পেন (১১৩৪): স্পেনের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মতো ব্যক্তিত্বদেরও আকৃষ্ট করেছিল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায়শই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান (মসজিদ বা চার্চ) হিসেবে গড়ে উঠত এবং ধর্মতত্ত্ব, আইন, দর্শন ও ভাষা শিক্ষায় জোর দিত। সময়ের সাথে সাথে এই কেন্দ্রগুলো আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়
২৮
.বিভিন্ন দেশের অবাক করা কিছু নিয়ম::
সিঙ্গাপুর:
চুইংগাম আমদানি ও বিক্রি করা নিষিদ্ধ।
রাস্তায় থুথু ফেললে বড় অঙ্কের জরিমানা।
জাপান:
ট্রেনে জোরে কথা বলা বা ফোনে কথা বলা অশোভন।
অফিসে দেরি করলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া সামাজিকভাবে স্বাভাবিক।
সুইজারল্যান্ড:
রাত ১০টার পর টয়লেট ফ্লাশ করাও কিছু এলাকায় নিষিদ্ধ।
পোষা প্রাণী (যেমন গিনিপিগ) একা রাখা বেআইনি।
থাইল্যান্ড:
দেশের রাজাকে অপমান করলে কঠোর শাস্তি।
টাকা বা নোটে পা দেওয়া অপরাধ (কারণ নোটে রাজার ছবি থাকে)।
অস্ট্রেলিয়া:
কিছু রাজ্যে রাতের বেলা কালো পোশাক পরে বাইরে হাঁটা সন্দেহজনক হিসেবে ধরা হয়।
খরগোশ পালন নিষিদ্ধ (কিছু অঞ্চলে)।
ফ্রান্স:
দোকানিরা ইচ্ছামতো দোকান বন্ধ করতে পারে না।
কাজের সময়ের বাইরে অফিসিয়াল ইমেইল উত্তর না দেওয়া আইনসম্মত।
জার্মানি:
অটোবানে (হাইওয়ে) গাড়ি থামানো বেআইনি (জ্বালানি শেষ হলেও!)।
রবিবার দোকানপাট বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক।
ইতালি:
ভেনিসে কবুতরকে খাবার দিলে জরিমানা।
কিছু শহরে দুপুরে উচ্চ শব্দে কথা বলাও নিষিদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্র:
কিছু অঙ্গরাজ্যে আইসক্রিম খেতে খেতে হাঁটা বেআইনি।
কোথাও কোথাও বৃষ্টির সময় ছাতা ছাড়া হাঁটা নিষিদ্ধ (পুরনো আইন)।
দক্ষিণ কোরিয়া:
সরকারি ভবনে ট্যাটু প্রদর্শনে সীমাবদ্ধতা।
পরীক্ষার দিনে সকল বিমান উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয় (ছাত্রদের জন্য!)।
২৯
অষ্টম এডওয়ার্ড ও ওয়ালিস সিম্পসন
ব্রিটেনের রাজপরিবারের ইতিহাসে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড ও ওয়ালিস সিম্পসনের প্রেমকাহিনী এক অনন্য অধ্যায়—যেখানে রাজকীয় দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত অনুভূতির সংঘর্ষ ঘটে সবচেয়ে নাটকীয়ভাবে।
১৯৩৬ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন এডওয়ার্ড অষ্টম। কিন্তু তাঁর হৃদয় তখন রাজপ্রাসাদের নিয়ম-কানুনে বাঁধা নয়। তিনি গভীরভাবে প্রেমে পড়েন আমেরিকান সমাজকন্যা ওয়ালিস সিম্পসনের সঙ্গে—যিনি ছিলেন দু’বার বিবাহবিচ্ছিন্ন।
ব্রিটেনের চার্চ ও সরকার এই সম্পর্ককে মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। রাজা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব ছিল দেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিধান ও সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। অথচ এডওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে গেল কঠিন এক প্রশ্ন—মুকুট না ভালোবাসা?
শেষ পর্যন্ত তিনি ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ৩২৬ দিনের রাজত্বের পর, ১৯৩৬ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এডওয়ার্ড বলেছিলেন, “আমি সেই নারীর সাহায্য ছাড়া রাজা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করতে পারব না, যাকে আমি ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যই তাঁর জীবনের সিদ্ধান্তকে চিরকাল স্মরণীয় করে রেখেছে।
সিংহাসন ছাড়ার পর তিনি ডিউক অব উইন্ডসর উপাধি গ্রহণ করেন এবং ১৯৩৭ সালে ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করেন। তারা রাজকীয় ক্ষমতা হারালেও পেয়েছিলেন নিজেদের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা। তবে এই ভালোবাসার মূল্যও কম ছিল না- রাজপরিবার থেকে দূরত্ব, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাব এবং সারাজীবন এক ধরনের নির্বাসিত জীবন।
এডওয়ার্ড অষ্টম ও ওয়ালিস সিম্পসনের প্রেমকাহিনী প্রমাণ করে, কখনো কখনো ভালবাসার কাছে রাজ সিংহাসন রাজ মুকুট তুচ্ছ বিষয় হতে পারে।
৩০
Lucid Dream : স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ
লুসিড ড্রিম বলতে এমন এক ধরনের স্বপ্ন বুঝায় যেখানে একজন মানুষ চাইলে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ, পরিবর্তন করতে পারেন। একজন লুসিড ড্রিমার স্বপ্নের মাঝেও জেগে থাকেন এবং তিনি যে স্বপ্ন দেখছেন তা বুঝতে পারেন। স্বপ্ন দেখার সময় কোনো কিছু চিনে ফেলা হচ্ছে লুসিড ড্রিম এর প্রথম পর্যায়। আমরা যখন স্বপ্নে কাউকে চিনে ফেলি তখন আমাদের মস্তিষ্কের dorosolateral prefrontal cortex এ সাড়া জাগে এবং তা ঘুমের রেম পর্যায়ে যেতে সাহায্য করে। এখন প্রশ্ন হলো ঘুমের রেম পর্যায় আবার কি? এই পর্যায়ে কেন মানুষ লুসিড ড্রিম দেখে?
মানুষ গড়ে প্রতিদিন ঘুমের মাঝে ৪ থেকে ৬ বার স্বপ্ন দেখে। আমাদের ঘুমকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। একটি হলো Rapid Eye Movement (REM) এবং অন্যটি হলো Non Rapid Eye Movement (Non-REM)। মানুষ সাধারণত ঘুমের রেম পর্যায়েই লুসিড ড্রিম দেখে। ঘুমের এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। লুসিড ড্রিম দেখার জন্য মানুষের মস্তিষ্কের ল্যাটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দায়ী। মস্তিষ্কের এই অংশ মানুষের যুক্তিতর্ক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। রেম ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্কের ল্যাটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সাধারণত নিষ্ক্রিয় ই থাকে। কিন্তু অনেক সময় এই অংশটি সক্রিয় থাকে যার ফলে আমরা যুক্তি দিয়ে বিচার করে স্বপ্ন দেখি এবং তা নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। science bee
কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরা লুসিড ড্রিম ঘটাতে পারি। এতোক্ষণে আমরা জেনেছি যে লুসিড ড্রিম হয় ঘুমের রেম পর্যায়ে, এই সময়ে মস্তিষ্ককে সজাগ রাখলে লুসিড ড্রিম দেখা যাবে। এর জন্য আপনার একবার ঘুমানোর ঠিক পাঁচ ঘন্টা পর জেগে উঠতে হবে, তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়তে হবে। এর ফলে আপনি সরাসরি ঘুমের রেম পর্যায়ে চলে যাবেন এবং লুসিড ড্রিম দেখতে পারবেন। অন্য একটি পদ্ধতি হলো MILD (Mnemonic Induction of Lucid Dreams)। এটি এক ধরনের আবেশ পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আপনি প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে মনে মনে বার বার বলবেন "আমি আজ লুসিড ড্রিম দেখবো"। এছাড়া আরো একটি পদ্ধতি হচ্ছে নিজের দেখা স্বপ্নগুলো ডায়েরি তে লিখে রাখা এবং প্রতিদিন একবার করে সেগুলো পড়া। এইসব পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার লুসিড ড্রিম দেখার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
তবে যাদের মানসিক অসুস্থতা রয়েছে তাদের জন্য লুসিড ড্রিম ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ ঘুমানোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া, কিন্তু লুসিড ড্রিম এর ফলে আপনি ঘুমের মাঝেও জেগে থাকবেন। যা আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলবে। এর ফলে যারা বিষণ্ণতায় ভুগেন তাদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্যও লুসিড ড্রিম ক্ষতিকর। © Nishat Tasnim (Science Bee)
৩১
জীবনের লক্ষ্য, সমাজব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎহীনতার দর্শন
মানুষের জীবনের লক্ষ্য কী—এ প্রশ্নের উত্তর দর্শনশাস্ত্র যুগে যুগে ভিন্নভাবে দিয়েছে। অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইউডাইমোনিয়া—নৈতিক উৎকর্ষের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ জীবন। প্লেটো বিশ্বাস করতেন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ছাড়া ন্যায়পরায়ণ মানুষও টিকতে পারে না। অর্থাৎ ব্যক্তির নৈতিকতা ও সমাজব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু যখন সমাজব্যবস্থাই নৈতিকতাবিরোধী হয়ে ওঠে, তখন ব্যক্তিগত সততা, মেধা ও পরিশ্রম কেবলই ব্যতিক্রম—ব্যবস্থার পরিবর্তনকারী শক্তি হতে পারে না। ম্যাক্স ওয়েবার দেখিয়েছেন, আধুনিক রাষ্ট্র আমলাতান্ত্রিক হলেও যদি নৈতিক নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তা রূপ নেয় এক ধরনের Iron Cage এ—যেখানে মানুষ বন্দি হয় নিয়মে, কিন্তু ন্যায় অনুপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশের মতো দেশে সমস্যা মূলত ব্যক্তির অভাব নয়; সমস্যা হলো এমন এক সমাজব্যবস্থা, যেখানে মূল্যবোধ নয়—ক্ষমতাই টিকে থাকার একমাত্র মাপকাঠি। কার্ল মার্ক্স বলেছিলেন, যে সমাজে উৎপাদন ও ক্ষমতার সম্পর্ক বিকৃত, সেখানে নৈতিকতা শাসক শ্রেণির হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এখানে সততা পুরস্কৃত হয় না, বরং শাস্তিযোগ্য হয়ে দাঁড়ায়।
মিশেল ফুকো আমাদের বলেছেন, ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রে থাকে না—তা সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে। শিক্ষা, ধর্ম, প্রশাসন, মিডিয়া সর্বত্র একই বাস্তবতা। যখন এই ক্ষমতার নেটওয়ার্ক সম্মিলিতভাবে সত্যকে চাপা দেয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে অন্ধকারকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে শেখে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমরা সেটাই দেখি—অন্যায় এখানে দোষারূপের নয়, বরং নিয়ম।
কনফুসিয়াস বলেছিলেন, রাষ্ট্র সুন্দর হয় তখনই, যখন শাসক নৈতিক হন এবং শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু যেখানে প্রায় শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ প্রকৃত শিক্ষা ও মনুষ্যত্বের আলো থেকে বঞ্চিত, সেখানে নাগরিক তৈরি হয় না—শুধু জনসংখ্যা তৈরি হয়। আর জনসংখ্যা দিয়ে গণতন্ত্র হয় না; হয় কেবল সংখ্যার রাজনীতি।
অস্তিত্ববাদী দার্শনিক সার্ত্র বলেছিলেন, মানুষ স্বাধীন হতে বাধ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো কোন স্বাধীনতা? যে সমাজে মানুষ ছোটবেলা থেকেই ভয়, আপস ও সুবিধাবাদের মধ্যে বড় হয়, সেখানে স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ। এমন সমাজে জীবনের লক্ষ্য হয়ে ওঠে টিকে থাকা; মানুষ হওয়া নয়।
এই কারণেই বাংলাদেশের মতো একটি দেশে সহসা সুন্দর কিছু আশা করা কঠিন। কারণ এখানে সমস্যাটি ব্যক্তি বা একটি নির্বাচনের নয়; সমস্যাটি বহু দশকের লালিত এক সিস্টেমের, যা অন্ধকারকে ভালোবাসতে শিখেছে—যেখানে অন্যায় দেখে চুপ থাকাই বুদ্ধিমত্তা, আর প্রশ্ন করাই অপরাধ।
তাই বলা যায়, এই সমাজব্যবস্থার ভেতরে থেকে জীবনের লক্ষ্য যদি নৈতিক, সুন্দর বা মানবিক কিছু হয়, তবে তা প্রায় অসম্ভব এক সংগ্রাম। সিস্টেমের ভেতরে যারা আছে, তারাই জয়ী হবে—এটাই স্বাভাবিক। আর যারা মানুষ হয়ে থাকতে চায়, তাদের ভাগ্যে জোটে পরাজয়, নিঃসঙ্গতা কিংবা নির্বাসন—ভৌগোলিক হোক বা মানসিক।
এটা হতাশা নয়; এটা বাস্তবতার দর্শন—যাপিত জীবনের রূঢ় বাস্তবতার দর্শন। @ — আজিজুল রমিজ
৩২
ভেড়ার খাবার ঘাস নয়, বরং সামুদ্রিক শৈবাল
স্কটল্যান্ডের নর্থ রোনাল্ডসে (North Ronaldsay) দ্বীপের ভেড়া হলো এক বিরল ও প্রাচীন প্রজাতি, ধারণা করা হয় এদের উৎপত্তি ভাইকিং যুগে।
এরা মূলত স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের স্থানীয় ভেড়া। জেনেটিক দিক থেকেও এরা আলাদা— এদের মধ্যে অনেক ভেড়ার মাথায় চারটি শিং গজায়, যাকে বলা হয় পলিসেরাটি।
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এদের প্রধান খাবার ঘাস নয়, বরং সামুদ্রিক শৈবাল। ১৮৩০ সালের দিকে দ্বীপে একটি দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল, যার ফলে তারা ভেতরের জমিতে চারণ করতে পারতো না। তখন থেকেই তারা সমুদ্রের পাড়ে জন্মানো শৈবাল খেয়ে বেঁচে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। সময়ের সাথে সাথে তাদের পরিপাকতন্ত্র এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে তারা শৈবালের অতিরিক্ত আয়োডিনও সহজে হজম করতে পারে— যা অন্য কোনো গৃহপালিত প্রাণীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
এক সময় বাসস্থান সংকট আর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ভেড়ারা বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সংরক্ষণ প্রকল্প আর প্রজনন প্রচেষ্টার কারণে আজ আবার তাদের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে এই ভেড়াগুলো তাদের অনন্য উল, পরিবেশগত গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক মূল্যবানতার জন্য সমাদৃত। এগুলো শুধু কৃষি ও জেনেটিক দিক থেকেই নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও এরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ —কারণ এদের মাধ্যমে আজও ভাইকিং যুগের ঐতিহ্যের সরাসরি যোগসূত্র টিকে আছে।
৩২
জম্বুদ্বীপ
হিন্দুস্তান, আর্যাবর্ত এবং জম্বুদ্বীপ হলো ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নাম। জম্বুদ্বীপ Wikipedia হলো প্রাচীনতম নাম, যা সনাতন সৃষ্টিতত্ত্বে মানুষের বাসস্থান বোঝাত এবং জামগাছের আধিক্য থেকে এই নাম এসেছে । আর্যাবর্ত হলো উত্তর ভারতের নাম, অর্থাৎ আর্যদের ভূমি। হিন্দুস্তান Wikipedia শব্দটি এসেছে ফারসি থেকে, যা সিন্ধু নদের অববাহিকার অঞ্চলকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো ।
বিশদ বিবরণ:
জম্বুদ্বীপ: প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এবং সম্রাট অশোকের সময়ে, ভারত উপদ্বীপ বা মহাদেশ বোঝাতে "জম্বুদ্বীপ" শব্দটি ব্যবহৃত হতো, যার আক্ষরিক অর্থ "জাম গাছের দ্বীপ" ।
আর্যাবর্ত: এটি মূলত হিমালয় এবং বিন্ধ্য পর্বতমালার মধ্যবর্তী এবং গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নাম, যা "আর্যদের ভূমি" বা সভ্য মানুষের স্থান নির্দেশ করে।
হিন্দুস্তান: পার্সিয়ানরা সিন্ধু নদের পূর্ব দিকের ভূমিকে 'হিন্দু' বলত এবং পরবর্তীতে এটি পুরো ভারতীয় ভূখণ্ডের নাম হিসেবে প্রচলিত হয় ।
ভারতবর্ষ: পুরাণ এবং ঋগ্বেদ অনুসারে, রাজা ভরতের নামানুসারে এই ভূখণ্ডের নাম ভারতবর্ষ বা ভারতখণ্ড। এই নামগুলো সময়কাল এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি ভেদে বিভিন্ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।
৩৩
সুস্থ থাকতে দুপুরে ঠিক কতটুকু ভাত খাওয়া নিরাপদ
দুপুরের প্লেট ভর্তি সাদা ভাত কি আপনার শরীরের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়াচ্ছে? অতিরিক্ত শর্করা সেবনের ফলে আপনার রক্তে সুগার বেড়ে গিয়ে হার্ট এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সামান্য ভাতের নেশা আপনার অজান্তেই আপনার আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে যা নিয়ে আপনি হয়তো আজ পর্যন্ত ভাবেননি।
অবাক করা তথ্য হলো যে ভাতের সঠিক পরিমাণ জানলে আপনি ওজন কমিয়েও সারা জীবন সুস্থ থাকতে পারেন। ভাত কোনো বিষ নয় বরং এর সঠিক এবং পরিমিত ব্যবহার আপনাকে ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধি থেকে চিরতরে রক্ষা করতে সক্ষম। কীভাবে মাত্র এক বাটি ভাতের মাধ্যমে আপনি পূর্ণ তৃপ্তি পেতে পারেন সেই রহস্যটি জানলে আপনি আজই চমকে উঠবেন।
২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ওবেসিটি তাদের ভাত এবং মেটাবলিক সিনড্রোম নামক গবেষণায় ভাতের গ্লাইসেমিক লোড নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে দুপুরের খাবারে এক কাপ বা ১৫০ গ্রাম সাদা ভাত শরীরের ইনসুলিন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে ভাতের সাথে তিন গুণ বেশি সবুজ শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
সুস্থ থাকতে দুপুরের খাবারে প্লেটভর্তি ভাতের বদলে সবজি এবং মাছ বা মাংসের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। ভাতের পরিমাণ কমিয়ে ছোট বাটিতে খাওয়া শুরু করলে আপনার মস্তিস্ক খুব দ্রুত তৃপ্তির সংকেত দেবে এবং আপনি অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বেঁচে যাবেন। এই ছোট জীবনযাত্রার পরিবর্তন আপনাকে অকাল বার্ধক্য এবং জটিল সব রোগ থেকে মুক্তি দিতে জাদুর মতো কাজ করবে।
আপনার সুস্থতা আপনার হাতের মুঠোয় এবং এটি কেবল সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। একটি পরিকল্পিত খাদ্যতালিকা আপনাকে দীর্ঘকাল কর্মক্ষম এবং প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে যা আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আজ থেকেই দুপুরের খাবারের এই বিশেষ গাইডটি অনুসরণ করুন এবং একটি রোগমুক্ত সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।
৩৪
ইরান: দূরের দেশ, নাকি আমাদেরই আরেক প্রতিবেশী?
ভৌগোলিকভাবে ইরান বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে মনে হলেও, বাস্তবে দেশটি আমাদের থেকে খুব একটা বিচ্ছিন্ন নয়। সংস্কৃতি, ধর্ম, ভাষা, নৃতত্ত্ব সবকিছু মিলিয়ে ইরান উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
ইসলাম-পূর্ব যুগে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে জরথুস্ত্রী ইরানিদের একটি অংশ ভারতীয় উপমহাদেশে অভিবাসন করে। এদেরই একটি ধারাবাহিকতা আজকের পারসি জনগোষ্ঠী। যদিও কেবল ধর্মীয় নিপীড়ন নয়, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার কারণেও এই অভিবাসন হয়েছিল এটি আজ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
বাংলাকে একত্রিত করে যে প্রথম স্বাধীন মুসলিম সুলতানাত গড়ে ওঠে, তার প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ইতিহাসবিদদের বড় অংশের মতে ইরানের সিস্তান অঞ্চল থেকে আগত একটি পরিবারের বংশধর। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রথম ভিত্তিতেই ইরানি ইতিহাসের ছায়া রয়েছে।
পরবর্তী মোগল আমলেও বহু সুবেদার ও প্রশাসক ছিলেন ইরানি বা পারসিয়ানাইজড এলিট শ্রেণির মানুষ। কেউ কেউ বলে জিয়া এবং খালেদা জিয়া মায়ের দিক থেকে মীর জুমলার বংশধর। যিনি ছিলেন ইরানী বংশোদ্ভুত। এটা সত্য কিনা প্রমান না করা গেলেও আমাদের অনেকের শরীরে যে ইরানী রক্ত আছে - এটা নিশ্চিত।।
শুধু তাই নয়- সুলতানি যুগ থেকে মোগল, এমনকি ব্রিটিশ শাসনের প্রথম পর্যায় পর্যন্ত ফার্সি ছিল প্রশাসন ও আদালতের ভাষা। ১৮৩৭ সালে ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে ফার্সিকে প্রশাসনিক ভাষা থেকে সরিয়ে দেয়। তার আগে বাংলার মুসলিম সমাজে ফার্সির মর্যাদা ছিল প্রায় আজকের ইংরেজির মতো।
উর্দু ভাষার উৎপত্তিও এই ঐতিহ্যের ফল। হিন্দুস্তানি ব্যাকরণ কাঠামোর ওপর ফার্সি ও আরবি শব্দভাণ্ডারের সংমিশ্রণ। ফলে বাংলা ভাষাতেও আজ অসংখ্য ফার্সি শব্দ জীবন্ত হয়ে আছে।
পারস্য থেকে ইরান:
ইউরোপীয়দের কাছে দেশটি পরিচিত ছিল পারসিয়া, মুসলিম বিশ্বে খোরাসান, কিন্তু নিজেদের কাছে তারা সবসময়ই ইরানি। ইতিহাসের প্রথম আন্তমহাদেশীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাইরাস দা গ্রেট। গ্রিক আক্রমণে সেই সাম্রাজ্য ভেঙে পড়লেও, ইরানিরা বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ইসলাম-পূর্ব যুগের শেষ ইরানি সাম্রাজ্য ছিল সাসানিদ বংশ। তখন জরথুস্ত্রী ধর্ম রাষ্ট্রধর্মে পরিণত হয়। রাজধানী ছিল তেসিফোন। আজকের ইরাক অঞ্চলে। মুসলিম বিজয়ের পর সাসানিদ সাম্রাজ্যের পশ্চিমাংশ ধীরে ধীরে আরবায়িত হয়ে আজকের ইরাক ভূখণ্ডে রূপ নেয়।
উমাইয়া আমলে ইরানিরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হলেও তারা সমান নাগরিক অধিকার পায়নি। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই খোরাসানভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে আব্বাদীয় খেলাফতের উত্থান ঘটে। শর্ত ছিল- নতুন মুসলিমদের সমঅধিকার। এখানেই ইরানিদের রাজনৈতিক ভূমিকার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
আব্বাসীয় যুগে মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ গড়ে ওঠে। ইমাম গাজ্জালী (তুস), ইবনে সিনা এরা সবাই পারসিয়ান সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল থেকে উঠে আসা মনীষী।
কেন ইরান শিয়া হলো: রাজনীতি বনাম ধর্ম
মুসলিম যুগে মজার ব্যাপার হলো ইরানের বহু শাসক বংশই ছিল তুর্কি অরিজিনের। কিন্তু ইরানিদের ধর্মীয় পরিচয় তখনও মূলত সুন্নি।
এই সমীকরণ বদলে যায় সাফাদিদের উত্থানের মাধ্যমে (১৫০১)। রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে তারা ১২ ইমামের শিয়া মতবাদকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে।
এটি ছিল একটি সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। চারদিকে শক্তিশালী সুন্নি শক্তি, পশ্চিমে অটোমান, পূর্বে মোগল, উত্তরে চেঙ্গিসিদ শাসন। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে শিয়া পরিচয় ও ফার্সি সংস্কৃতি সাফাভিদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবার কেউ আবার “শাহেনশাহ” উপাধি ধারণ করে। সেখান থেকেই ইরানের শিয়া পরিচয়ের সূচনা। যা আজও রাষ্ট্রীয় বৈধতার মূল ভিত্তি।
মোসাদ্দেক থেকে ১৯৭৯:
২০শ শতকে ইতিহাসে প্রথমবার একজন ইরানি গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসেন মোহাম্মদ মোসাদ্দেক। তিনি তেল জাতীয়করণ করেন। এতে ব্রিটেন ও পশ্চিমা শক্তির স্বার্থে আঘাত লাগে।
১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সি আই এ ও ব্রিটেনের এম আই সিক্স যৌথভাবে পরিচালিত অপারেশন এজাক্সের মাধ্যমে মোসাদ্দেককে উৎখাত করা হয়। ভাড়া করা বিক্ষোভ, প্রচারযুদ্ধ, এলিটদের কিনে নেওয়া। সবকিছুই আজ ডিক্লাসিফায়েড ডকুমেন্টে প্রমাণিত।
এরপর শুরু হয় বিদেশনির্ভর শাহ শাসন। যার পরিণতি ১৯৭৯ সালের বিপ্লব। শুরুতে এটি কোনো ইসলামী বিপ্লব ছিল না। বাম, উদারপন্থী, ধর্মীয় সবাই রাজপথে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ইরান গণতান্ত্রিক বিশ্বধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
আজকের ইরান, আর বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা
আজ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। প্রশ্ন উঠছে এটা কি অর্গানিক, নাকি বাইরের ইঞ্জিনিয়ারিং?
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এখানে পুরোপুরি খাটে না।
প্রথমত, ইরানে হাজার বছরের পুরনো ধর্মীয় শাসন কাঠামো আছে। যা বৈধতার ভিত্তি। বাংলাদেশে “মুজিববাদ” ছিল নতুন, জোর করে চাপানো মতাদর্শ।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী বিদেশে সম্পদ ও আশ্রয় গড়ে রেখেছিল। ইরানের নেতৃত্বের সেই বিলাসী এক্সিট অপশন নেই।
তৃতীয়ত, ইরানে দমনমূলক শাসনের মধ্যেও সমাজে কিছু “রিলিভিং স্পেস” আছে, নিজেদের বাসাতে তারা পাশ্চাত্যের বেশিরভাগ কাজ যা হয়তো ধর্ম সাপোর্ট করে না উপভোগ করতে পারে। ওদের কিছু হলেও গনতন্ত্র আছে।
ইরানের মানুষ মুক্তি পাবে কি না - তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে ভুল মানুষকে দায়িত্ব দিলে, বিপ্লবও অভিশাপে পরিণত হতে পারে। গনমানুষের আন্দোলন যেভাবে এক পক্ষ কুক্ষিগত করেছে, আমরা যেন সেই ভুল না করি। এটাই মানুষের কাছে প্রত্যাশা.... সৌজন্য : মোঃ সুবাইল বিন আলম
৩৫
কলিঙ্গ যুদ্ধ
"কলিঙ্গ" (Kalinga) সাধারণত প্রাচীন ভারতের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চলের নাম, যা বর্তমান ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল। এর সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. কলিঙ্গ যুদ্ধ (২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ): এটি ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছিল, যা মৌর্য সম্রাট অশোক এবং কলিঙ্গ রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল [১]। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং অহিংসার পথ বেছে নেন।
২. ভৌগোলিক অবস্থান: কলিঙ্গ বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এটি একটি শক্তিশালী নৌ-শক্তি এবং সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
৩. স্থাপত্য ও সংস্কৃতি: এই অঞ্চলের স্থাপত্যশৈলী (যেমন: কোনার্ক সূর্য মন্দির বা ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দির) বিশ্ববিখ্যাত।
৪. আধুনিক উল্লেখ: বর্তমানে 'কলিঙ্গ' নামটি ওড়িশার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্টেডিয়াম (কলিঙ্গ স্টেডিয়াম) এবং পুরস্কারের (ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার) সাথে যুক্ত।
সফট-ড্রিংক, সোডা, কিংবা মিষ্টি শরবত, চিনিযুক্ত যে কোনো পানীয় চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
চীনের গবেষক শি শিয়াও-জিন দেখান, দিনে ৩০০ মিলিলিটারের বেশি চিনিযুক্ত তরল চুল পড়ার সম্ভাবনা বাড়ায় ৪২ শতাংশ। গবেষণাটি ১৮-৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের ওপর করা হয়। চিনি ভাতের মতো 'কমপ্লেক্স সুগার' নয়, বরং সরল সুগার। এগুলো তরল অবস্থায় রক্তে দ্রুত মেশে। দিনে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত তরল হরমোনাল ইমব্যালেন্স ও ইনসুলিন প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে, যা চুলের ফলিকল দুর্বল করে দেয়। তাছাড়া যারা প্রচুর সফট-ড্রিংক পান করেন, তাদের দেহ পুষ্টিকর খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না। ফলে চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়।উল্লেখ্য, চুল পড়ার আরও কারণ রয়েছে, যা চিনির সাথে সম্পর্কিত নয়। তথ্য উপস্থাপন: বিজ্ঞানপ্রিয়।
৩৬
বাংলা সালতানাতের ইতিহাসে ৬ জন প্রভাবশালী সুলতান
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২–১৩৫৮): তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তার শাসনামলে লখনৌতি, সোনারগাঁ ও সাতগাঁ একত্রিত হয়ে একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। তার এলাকা পশ্চিমে বারাণসী থেকে পূর্বে আসাম এবং উত্তরে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ।
সিকান্দার শাহ (১৩৫৮–১৩৯০): ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দার শাহের সময়ে সালতানাত আরও সুসংহত হয়। তিনি দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলার স্বাধীনতা বজায় রাখেন । তার সময়ে পান্ডুয়া ছিল প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র ।
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯০–১৪১১): তিনি শিল্প, সাহিত্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য বিখ্যাত ছিলেন । তার শাসনামলে বাংলার প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এবং চীনের সাথে বাণিজ্যের মাধ্যমে আরও সুদূরপ্রসারী হয়।
জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ (১৪১৫–১৪১৬, ১৪১৮–১৪৩৩): রাজা গণেশের পুত্র এই সুলতান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন । তার শাসনামলে বাংলা সালতানাতের সীমানা শীর্ষে পৌঁছায় । তিনি উত্তরে নেপাল, পূর্বে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা এবং পশ্চিমে জৌনপুর ও বারাণসী পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন।
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫–১৪৫৯): তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের পুনরুদ্ধার করেন । তার সময়ে রাজধানী পান্ডুয়া থেকে পুনরায় গৌড়ে স্থানান্তরিত হয় এবং দক্ষিণ বাংলার বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সালতানাতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৪–১৫১৯): তাকে মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান মনে করা হয় । তার সময়ে সালতানাতের সীমানা পশ্চিমে বিহার ও ওড়িশা থেকে পূর্বে কামরূপ ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার অধীনে ওড়িশা, আরাকান এবং ত্রিপুরাও করদ রাজ্য বা মিত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল । @ bokul
৩৭
প্রতিদিনের যে ৫ অভ্যাস অজান্তেই দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে
১. জোরে জোরে দাঁত মাজা
অনেকেই মনে করেন জোরে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়, এটা মোটেও সত্য নয়। দাঁত মাজা মানে দাঁতের সঙ্গে যুদ্ধ করা নয়। এতে দাঁতের এনামেল বা বাইরের সুরক্ষাস্তর ক্ষয়ে যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে দাঁতকে ‘সেনসিটিভ’ বা দুর্বল করে দিতে পারে।
২. অ্যাসিডিক ও মিষ্টি খাবার-পানীয়
কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, চা, কফি, ফলের রস, আইসক্রিম ও মিষ্টিজাতীয় বিভিন্ন খাবার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। এ ধরনের খাবার নিয়মিত খেতে থাকলে এনামেল ক্রমে দুর্বল হতে পারে। তাই প্রতিবার চা, কফি বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পর মুখ ভালো করে কুলি করে নিন।
৩. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
ঠান্ডা-গরম পানীয়, কফি বা অ্যালকোহল বেশি খেলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই পানি কম পায়। ফলে থুতু কম তৈরি হয়। থুতু মুখের ভেতরের অ্যাসিডিক খাবারকে নিরপেক্ষ করে ও এনামেলকে সুরক্ষা দেয়। থুতু কম তৈরি হলে তাই দাঁত দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের টোটকা অনুসরণ করে দাঁত সাদা করেন ঠিকই, তবে এতে এনামেল ক্ষয়ে দাঁত সেনসিটিভ ও দুর্বল হয়ে যেতে পারেছবি: আনস্প্ল্যাশ
৪. দাঁত সাদা করার জনপ্রিয় ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেমন জুস, বেকিং সোডা বা অ্যাকটিভেটেড চারকোল দিয়ে হোয়াইটেনিং বা দাঁত সাদা করার পদ্ধতিগুলোর মিলিয়ন ভিউ। সেসব অনেকেই অনুসরণ করে দাঁত সাদা করেন ঠিকই, তবে এতে এনামেল ক্ষয়ে দাঁত সেনসিটিভ ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
৫. কেবল দাঁত মাজাকেই যথেষ্ট মনে করা
সকালে দাঁত ব্রাশ করার থেকেও রাতে ব্রাশ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণছবি: পেক্সেলস
সকালে দাঁত ব্রাশ করার থেকেও রাতে ব্রাশ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ঘুমানোর আগে আর সকালে ঘুম থেকে উঠে—এই দুই বেলা দাঁত মাজায় কোনো হেলাফেলা করবেন না। অনেক টুথপেস্ট শুধু ফ্রেশিং বা দাঁত সাদা করাকে গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ‘এনামেল-প্রটেকশন ফরমুলেশন’ ছাড়া দাঁত নিরাপদে রাখা কঠিন। সূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ
৩৮
২০৩০ সালে মুসলিম বিশ্ব একই সঙ্গে দুটি রমজান মাস পাবে।
আমরা জানি ইংরেজি বা সৌর বছর ৩৬৫ দিনে হয়, কিন্তু হিজরি বা চান্দ্রবর্ষ নির্ভর করে চাঁদের ওপর, যা বঙ্গাব্দ ও গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জীর তুলনায় ১০ বা ১১ দিন ছোট হয়। এই ছোট পার্থক্যের কারণে প্রতি বছর ইসলামি মাসগুলো ইংরেজি ক্যালেন্ডারে কিছু দিন করে এগিয়ে আসে। এই এগিয়ে আসার ফলে মাঝে মাঝে এমন কিছু বিরল বছর আসে, যখন একই ইংরেজি বছরে আমরা একাধিকবার একই ধর্মীয় উৎসব পালন হতে দেখি।
এরকমই একটি বছর হতে যাচ্ছে ২০৩০ সাল। ২০৩০ সালে মুসলিম বিশ্ব একই সঙ্গে দুটি রমজান মাস পাবে। হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ বা ৫ তারিখ ১৪৫১ হিজরির রমজান শুরু হবে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ বা ৪ তারিখ ঈদুল ফিতর পালিত হবে। এরপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আবার ডিসেম্বরের ২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে ১৪৫২ হিজরির রমজান মাস শুরু হবে। অর্থাৎ, ২০৩০ সালের শুরুতে এবং শেষে—উভয় সময়েই রমজান মাস পাওয়া যাবে।
এর চেয়েও বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছে ২০৩৯ সালে। এই এক বছরে পালিত হবে দুটি হজ এবং তিনটি ঈদ! বছরের শুরুতে জানুয়ারির ৪ বা ৫ তারিখ (৯ জিলহজ, ১৪৬০ হিজরি) হজ ও ৫ বা ৬ তারিখ ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অক্টোবর মাসের দিকে ঈদুল ফিতর পালিত হবে। আবার বছরের একদম শেষে ডিসেম্বরের ২৫ বা ২৬ তারিখে দ্বিতীয়বারের মতো হজ ও ২৬ বা ২৭ তারিখে ঈদুল আজহা ফিরে আসবে। অর্থাৎ, চন্দ্রবর্ষের সময়ের এই ব্যবধানের কারণে ২০৩৯ সালে মুসলিম বিশ্ব তিনটি ঈদ উদযাপনের বিরল সুযোগ পাবে। @রাশিক আজমাইন
৩৯
‘ঘরকুনো’ বা ‘অসামাজিক’ নাকি ‘হোমবডি’ ?
শুক্রবারের সন্ধ্যায় যখন বন্ধুরা আড্ডা, পার্টি বা লং ড্রাইভের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন অনেক মানুষই মনে মনে চায় আজ যদি ঘরেই থাকা যায়! নিজের ঘর, প্রিয় কম্বল, বই বা সিরিজ এই নিরিবিলিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সমাজে এদের অনেক সময় ‘ঘরকুনো’ বা ‘অসামাজিক’ বলা হলেও, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এরা পরিচিত ‘হোমবডি’ নামে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে থাকতে ভালোবাসা কোনো দুর্বলতা নয়। বরং হোমবডিরা ইচ্ছাকৃত নির্জনতা উপভোগ করেন, যা একাকিত্বের সঙ্গে এক নয়। একাকিত্ব মানে সঙ্গের অভাব, আর নির্জনতা মানে নিজের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিক শান্তি পাওয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্ট্রোভার্ট বা হোমবডিদের জন্য ঘরই এক ধরনের ‘রেস্টোরেটিভ স্পেস’, যেখানে তারা মানসিক শক্তি ফিরে পায়।
মনোবিজ্ঞানীরা আরও লক্ষ্য করেছেন, হোমবডিদের মধ্যে আত্মসচেতনতা, সৃজনশীলতা ও গভীর সম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা বেশি থাকে। তাদের বন্ধুর সংখ্যা কম হলেও সম্পর্কগুলো হয় অর্থবহ ও দীর্ঘস্থায়ী। এমনকি কিছু গবেষণা বলছে, উচ্চ বুদ্ধিমত্তার মানুষেরা ভিড় এড়িয়ে চলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সব মিলিয়ে, ঘরে থাকতে ভালোবাসা মানেই একঘেয়ে বা হতাশ জীবন নয়। বরং এটি হতে পারে মানসিক সুস্থতা, আত্মপরিচয় ও শান্তির এক শক্তিশালী প্রকাশ। সমাজের চাপ নয়, নিজের স্বাচ্ছন্দ্যকেই গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সোর্স:Psychology Today @মামুন রহমান
৪০
পেশাদারিত্ব নষ্ট করে এমন ৭টি অভ্যাস:
১. অতিরিক্ত কথা বলা – সবকিছু শেয়ার করতে হবে না। প্রয়োজনীয় কথাগুলোই বলুন।
২. দেরিতে মেসেজের উত্তর দেওয়া – ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জবাব দিন, শুধু ‘পেয়েছি’ লিখলেও চলবে।
৩. সবকিছুতেই ‘হ্যাঁ’ বলা – সময় এবং শক্তি আছে কি না, আগে ভেবে নিন তারপর হ্যাঁ বলুন।
৪. ব্যক্তিগত কথা বেশি বলা – ব্যক্তিগত বিষয় সীমিত রাখুন, কথাবার্তা ইতিবাচক রাখুন।
৫. অজুহাত দেওয়া – নিজের ভুল মেনে নিন, তা ঠিক করতে মন দিন।
৬. অভিযোগ করতে থাকা – সমস্যা দেখলে সমাধান নিয়ে ভাবুন, শুধু অভিযোগ করলে কিছু হবে না।
৭. যথাসময়ে না পৌঁছানো – ১০ মিনিট আগে বের হলে সময়মতো পৌঁছানো যায়। ইম্প্রেশন ভালো হয়, স্ট্রেসও কমে।
৪১
লিডারশিপ বা নেতৃত্বের ২০টি অপ্রিয় সত্য
১. শীর্ষস্থান খুব নিঃসঙ্গ (Lonely at the top): আপনি যখন লিডার হবেন, তখন আপনার বন্ধুর সংখ্যা কমে যাবে। আপনি চাইলেই অধস্তনদের সাথে সব কথা শেয়ার করতে পারবেন না। দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে।
২. সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না: আপনি যতই ভালো লিডার হোন, কিছু মানুষ আপনাকে ঘৃণা করবে। সবার প্রিয় হতে চাইলে আইসক্রিম বিক্রি করুন, লিডার হবেন না।
৩. ক্রেডিট দিতে হবে, ব্লেম নিতে হবে: ভালো কিছু হলে কৃতিত্ব টিমকে দিতে হবে, আর খারাপ কিছু হলে দায়ভার একা কাঁধে নিতে হবে। এটাই লিডারশিপের নিষ্ঠুর নিয়ম।
৪. কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়: মাঝেমধ্যে বাজেট কমানো বা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা আপনার রাতের ঘুম হারাম করে দেবে।
৫. আপনি কারো গল্পের ভিলেন: আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও, কারো না কারো স্বার্থে আঘাত লাগবে এবং তার কাছে আপনি ভিলেন হয়ে থাকবেন।
৬. আবেগ লুকানো: আপনার নিজের মন খারাপ বা ভয় থাকলেও টিমের সামনে হাসিমুখে এবং কনফিডেন্ট থাকতে হবে। লিডারের দুর্বলতা দেখাতে নেই।
৭. শ্রোতা হতে হয়: লিডারদের কাজ বলা নয়, শোনা। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ শোনার ধৈর্য রাখে না বলেই ভালো লিডার হতে পারে না।
৮. উদাহরণ তৈরি করা (Lead by Example): আপনি দেরি করে অফিসে এসে টিমকে সময়ের মূল্য বোঝাতে পারবেন না। আপনাকে টিমের চেয়ে বেশি কাজ করে দেখাতে হবে।
৯. কৃতজ্ঞতা আশা করবেন না: আপনি কারো ক্যারিয়ার গড়ে দিলেও সে আপনাকে মনে রাখবে না। অকৃতজ্ঞতা সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে।
১০. ফিডব্যাক নেওয়া কঠিন: নিজের সমালোচনা মুখের ওপর শোনা খুব কঠিন, কিন্তু একজন ভালো লিডারকে সেই তিতা ওষুধ গিলতে হয়।
১১. সবাই লিডার হতে পারে না: "সবাই লিডার"—এটা মোটিভেশনাল কথা। বাস্তবে কিছু মানুষ শুধু ফলোয়ার হিসেবেই ভালো থাকে, লিডারশিপের চাপ তারা নিতে পারে না।
১২. ধৈর্যের পরীক্ষা: টিম মেম্বাররা বারবার ভুল করবে, বোকার মতো কাজ করবে। তখন রাগ না করে তাদের শিখিয়ে দেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
১৩. মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট বিষ: আপনি সব কাজ নিজে করতে চাইলে বা খুঁতখুঁত করলে টিম বিরক্ত হবে। কাজ ডেলিগেট (Delegate) করতে না পারলে আপনি লিডার নন, আপনি শুধুই একজন ব্যস্ত কর্মী।
১৪. ভিশন বিক্রি করা: মানুষ কাজ করে টাকার জন্য, কিন্তু সেরাটা দেয় স্বপ্নের জন্য। লিডারকে সেই স্বপ্ন বা ভিশন বিক্রি করতে জানতে হয়।
১৫. ইগো বিসর্জন: লিডার হলে "আমিই বস, আমিই সেরা"—এই ইগো ছাড়তে হয়। জুনিয়রের কাছ থেকেও শেখার মানসিকতা থাকতে হয়।
১৬. পরিবর্তন মেনে নেওয়া: পরিস্থিতি পাল্টালে প্ল্যান পাল্টাতে হয়। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা সবসময় ভালো গু্ণ নয়, এটাকে একগুঁয়েমি বলে।
১৭. স্বাস্থ্যঝুঁকি: লিডারশিপের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
১৮. পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন: বড় দায়িত্ব মানেই বেশি সময়। অনেক লিডার তাদের সন্তানদের বড় হতে দেখার সময়টুকু পান না।
১৯. নিরপেক্ষতা: পছন্দের কর্মীর ভুল মাফ করা আর অপছন্দের কর্মীকে শাস্তি দেওয়া—এই পক্ষপাতিত্ব লিডারশিপের কবর রচনা করে।
২০. বিকল্প তৈরি করা: আপনি যেদিন আপনার চেয়ারে অন্য কাউকে বসিয়ে দিয়ে যেতে পারবেন (Succession Planning), সেদিনই আপনি
সফল লিডার। নিজের চেয়ার আঁকড়ে থাকা লিডারশিপ নয়।
লিডার হওয়া মানে শুধু হুকুম দেওয়া নয়, লিডারশিপ হলো কাঁটার মুকুট পরা।...সংগৃহীত
শূন্যের নিচের জীবন (Life below zero): Below zero মানে শুধু কষ্ট, ক্লান্তি আর মানসিক চাপ নিয়ে কোনোমতে টিকে থাকা।
শূন্যের মধ্যে জীবন (Life at zero): At zero মানে সমস্যা আছে ঠিকই, কিন্তু বড় ভাঙন নেই—একটা “চলছে” অবস্থা।
শূন্যের উপর জীবন (Life above zero): Above zero হলো সেই জায়গা, যেখানে মানুষ শুধু কষ্ট এড়িয়ে চলে না, বরং অর্থ, আনন্দ, সম্পর্ক আর নিজের সক্ষমতা নিয়ে বাঁচে। The study of strength and virtue—এই স্টেজে সুন্দরভাবে ফুটে উঠে।
৪২
হিডেন হাঙ্গার বা লুকানো ক্ষুধা!
আজকের দুনিয়ায় ক্ষুধা মানেই আর খালি পেট নয়! কারণ অনেক সময় পেট ভরা থাকলেও শরীর ভেতরে ভেতরে অনাহারে থাকে। এই অবস্থাকেই বলা হয় হিডেন হাঙ্গার বা লুকানো ক্ষুধা!
মানুষ নিয়মিত খাবার খাচ্ছে, প্রচুর খাচ্ছে, ক্যালোরির অভাব নেই; কিন্তু আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন–এ, বি–কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম এই সূক্ষ্ম কিন্তু অপরিহার্য উপাদানগুলোর ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে দেহে! এর মূল কারণ আমরা আমাদের খাবারের বৈচিত্র্য হারিয়ে ফেলেছি!
ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ হাজার বছর ধরে কখনো এক বা দুইটা খাবারের ওপর নির্ভর করে বাঁচেনি। মানুষ খেত অসংখ্য শস্য, ফল, কন্দ, শাক, বীজ, বিভিন্ন জীব, মাছ, মাংস ইত্যাদি। একেক অঞ্চলে একেক রকম ফুড কালচার গড়ে উঠেছিল স্থানীয় মাটি ও জলবায়ুর সাথে মানিয়ে।
অপুষ্টি তখনও ছিল, কিন্তু আজকের মতো সার্বজনীন “হিডেন হাঙ্গার” ছিল না!
এই সংকট তীব্র হয় শিল্পবিপ্লবের পর। খাবার তখন আর শুধু পুষ্টির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে পণ্য। ট্রান্সপোর্ট সহজ করতে, শেল্ফ লাইফ বাড়াতে, প্রফিট বাড়াতে খাবারকে ধীরে ধীরে প্রসেসড, রিফাইন্ড করা হয়েছে।
কৃষিকে একমুখী করা হলো। হাজারো স্থানীয় শস্য, ডাল, শাক, সবজি হারিয়ে গিয়ে জায়গা নিল কয়েকটা হাই-ইয়েল্ড বা উচ্চ ফলনশীল ফসল।
কৃষক এগুলো ফলাতে গিয়ে জীববৈচিত্র্যর সর্বনাশ করলো। হাজারো স্থানীয় মাছ, পোকামাকড় হারিয়ে গেল। ঘাস ধ্বংস করে পশুপালনের স্বনির্ভরতা হারিয়ে ফেললো।
এই জায়গায় এসে আজকের হিডেন হাঙ্গার দাঁড়িয়ে আছে। শিশু ঠিকমতো বড় হচ্ছে না, নারীরা রক্তস্বল্পতায় ভুগছে, তরুণরা ক্লান্ত ও মনোযোগহীন, বয়স্করা দ্রুত ভেঙে পড়ছে; অথচ সবাই কিন্তু নিয়মিত, পেটভরে খাচ্ছে! সমস্যাটা কোয়ান্টিটিতে না, কোয়ালিটিতে! পেট ভরাচ্ছি, শরীরকে পুষ্ট করছি না। বর্তমানে এর সমাধানে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আংশিক, অসম্পূর্ণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমেরই চাপিয়ে দেওয়া। ভিটামিন ট্যাবলেট, সাপ্লিমেন্ট, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ফোর্টিফাইড চাল, তেল, আটা!
কিন্তু এগুলো কোনোটাই সমস্যার গোড়ায় পৌঁছায় না। কারণ এগুলো মানুষকে সেই আবারও নির্ভরশীলই করে তোলে কর্পোরেটের ওপর।
পুষ্টিকে পন্য বানিয়ে সমস্যাকেই জিইয়ে রাখা হচ্ছে। আসলে সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার খাবারের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার করা!
আগে মানুষ পরদেশি সুপারফুড খুঁজত না; কারণ তারা তো নিজেদের অজস্র বৈচিত্র্যই সামাল দিতে পারত না।
নিজ দেশের মাটিতে মৌসুম অনুযায়ী যা ফলে সেটাই সুপারফুড। ফুনিজের মাটিতে, নিজের আবহাওয়ায় যেটা জন্মায় সেটাই সত্যিকারের সুপারফুড! এটাই ফ্যাক্ট! সার বি/ষ মেরে ফলানো বা বারোমাসি বা আমদানিকৃত এসব বেশিরভাগই আসলে ভন্ডামি, ঠকবাজি!
এটাই ফ্যাক্ট!
খাবারের সাথে প্রকৃতি, ঋতু আর ঐতিহ্য জড়িত ছিল। আজ যদি আমরা সত্যিই হিডেন হাঙ্গার থেকে বের হতে চাই, তাহলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে এই বৈচিত্র্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে। তার মানে এই না যে আমরা আধুনিকতা ছেড়ে গুহায় ফিরে যাব। বরং আধুনিক জ্ঞান ব্যবহার করে স্থানীয় খাবার, বন্য খাদ্য, হারিয়ে যাওয়া শস্য, সহজ প্রোটিন সোর্স এসবকে আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।
নিজ অঞ্চলে যা জন্মায়, সেটাকে মূল্যবান হিসেবে ভাবতে শিখতে হবে।
পুষ্টি কোনো একক সমাধানের বিষয় না। এটা একটা জীবন্ত সিস্টেম। যখন খাবারের বৈচিত্র্য থাকে, তখন শরীর নিজেই ভারসাম্য খুঁজে নেয়। আর যখন সেই বৈচিত্র্য নষ্ট হয়, তখন হাজার রকম সাপ্লিমেন্ট দিয়েও ঘাটতি পূরণ করা যায় না।
হিডেন হাঙ্গারের সমাধান মানে শুধু বেশি বেশি খাদ্য উৎপাদন না; এটার মানে ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করাও। আমরা কী খেতাম, কেন খেতাম, কীভাবে প্রকৃতির সাথে ছন্দ মিলিয়ে বাঁচতাম এই জ্ঞান-কান্ডজ্ঞান আবার জীবন্ত করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পুষ্টি বিপ্লব।
৪৩
জাপানিদের ছুটি বরাদ্দ আছে, নেওয়ার সাহস নেই।
জাপানের ওয়ার্ক কালচারে ঢুকলে আরেকটা জিনিস চোখে পড়ে। সেটা হলো জাপানে,ছুটি নেওয়াটাও একধরনের সাহসিকতার কাজ।
শুরুতেই কমপক্ষে ১০ দিন। সময় যত বাড়ে, ছুটিও বাড়ে।সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত।
গড়ে বছরে একজন কর্মচারীর হাতে থাকে প্রায় ১৭–১৮ দিনের মতো পেইড লিভ।মানে আপনার সাপ্তাহিক ছুটির বাইরেই এই ছুটি। মানে এই ছুটি কাটালেও আপনি ওইদিন কাজ করলে যেই টাকা পেতেন,সেটা পাবেন।
এখন আপনি ভাববেন “ওহ! জাপানে তো ছুটি কম না তাহলে!! সমস্যা হলো ছুটি আছে, কিন্তু নেওয়ার মানুষ কম।
জাপানিরা একটু বেশি পোলাইট ,সরকারি জরিপ অনুযায়ী, গড়ে ১৭.৬ দিনের মধ্যে মানুষ নেয় মাত্র ১০.৯ দিন। মানে ছুটি ব্যবহার হার প্রায় ৬২%।
অথচ বাংলাদেশে যদি এমন ব্যাবস্থা থাকতো ,তাইলে ১১০%ছুটি কাটাইতো সবাই। মানে ছুটির ও ওভারটাইম করতো।
অনুমতি না নিয়ে অফিসে না আসা,লেট করা,কাজের মধ্যে হঠাৎ ছুটি নেয়া ,এসব তো বাংলাদেশ এ দুধ ভাত। সকল সরকারি ,বেসরকারি অফিস,আদালত সব বন্ধ।জাপানে বা উন্নত দুনিয়ায় এমনটা কল্পনাও করা যায়না।
তারাভাবে-“ছুটি তো আমার অধিকার।” কিন্তু “আমি ছুটি নিলে টিমের কষ্ট হবে না তো?”
ইউরোপের অনেক দেশে মানুষ ৮০–৯০% ছুটি ব্যবহার করে।আমেরিকায় ছুটি কম হলেও যারা পায়, তারা তুলনামূলক বেশি নেয়।
আর জাপানে? ছুটি আছে, কিন্তু ছুটি নেওয়ার কালচার এখনো আধা-সিদ্ধ। এর নামই জাপান। @ শাহীন আকন
৪৪
জ্যাক মার "জিরো থেকে হিরো" হওয়ার পেছনের গল্প
প্রাইমারিতে দু’বার ফেল করেছি। মাধ্যমিকে তিনবার ফেল করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তিনবার ব্যর্থ হয়েছি। চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছি প্রায় ৩০ বার-প্রতিবারই ফিরেছি হতাশ হয়ে। একবার এমনও হয়েছে-চীনে কেএফসি-তে চাকরির জন্য ২৪ জন আবেদন করেছিল। ২৩ জনের চাকরি হলো। একজন বাদ পড়ল-সেই একজন ছিলাম আমি। আবার কোথাও পাঁচজন আবেদন করলে চারজনের চাকরি হতো, আর বাদ পড়তাম শুধু আমি।
প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যান-এটাই ছিল আমার জীবনের নিয়মিত গল্প। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছি ১০ বার। ১০ বারই “না” শুনেছি।
এতক্ষণ যে মানুষটার গল্প বললাম, তিনি আর কেউ নন- পৃথিবীর অন্যতম বড় অনলাইন কোম্পানির মালিক "Jack Ma"। আলিবাবা ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। চীনের শীর্ষ ধনী ও বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা হয়েছেন। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ না হয়েও নিজের স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী চিন্তায় তিনি জিরো থেকে হিরো হওয়ার এক অসামান্য অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জ্যাক মার "জিরো থেকে হিরো" হওয়ার পেছনের মূল বিষয়সমূহ:
অদম্য ধৈর্য ও প্রত্যাখ্যান:
চাকরির জন্য ৩০টির বেশি জায়গায় আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, এমনকি কেএফসি (KFC)-তেও তাকে নেওয়া হয়নি। তিনি কখনো হাল ছাড়েননি, বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন।
স্বপ্ন ও দূরদৃষ্টি:
ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও তিনি এর ভবিষ্যৎ ক্ষমতা বুঝতে পেরেছিলেন। ১৯৯৯ সালে ১৭ জন বন্ধুকে নিয়ে নিজস্ব বাসায় তিনি আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন, যখন অনেকেই তার ধারণাকে 'স্টুপিড আইডিয়া' বলেছিল।
লক্ষ্য স্থির রাখা:
তিনি বিশ্বাস করতেন, "আজকের দিনটি কঠিন, আগামীকাল আরও কঠিন, কিন্তু পরশুদিন সুন্দর হবে"।
গ্রাহককেন্দ্রিক চিন্তা:
প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে আলিবাবাকে বিশ্বের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করেন।
জ্যাক মার জীবন প্রমাণ করে যে, সম্পদ বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও কেবল হার না মানার মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব। তথ্য সংগ্রহ: মৃণাল নন্দী
৪৫
শীতকালে নলকূপের পানি গরম, গরমকালে ঠান্ডা—কেন?
শীতকালে নলকূপের (টিউবওয়েল) পানি হাতে নিলে গরম মনে হয়, আর গরমকালে একই পানি ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে—নলকূপের জলের প্রকৃত তাপমাত্রা সারা বছর প্রায় একই থাকে।
প্রকৃত তাপমাত্রা কত?
ভূগর্ভস্থ নলকূপের জলের তাপমাত্রা সাধারণত ২৩°–২৮° সেলসিয়াস, গড়ে প্রায় ২৫°–২৬° সেলসিয়াস। গভীর ভূগর্ভের পানি বাইরের আবহাওয়ার প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে, তাই এর তাপমাত্রা খুব একটা ওঠানামা করে না।
তাহলে অনুভূতিটা বদলায় কেন?
গরমকালে পানি ঠান্ডা লাগে কেন?
গ্রীষ্মকালে আমাদের অঞ্চলে তাপমাত্রা প্রায় ৩৫°–৪২° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। তখন আমাদের শরীরের বাইরের অংশও তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে। সেই সময় ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি স্পর্শ করলে তা শরীরের তুলনায় অনেক ঠান্ডা লাগে। অর্থাৎ, শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনামূলক পার্থক্যের কারণেই পানি ঠান্ডা মনে হয়।
শীতকালে পানি গরম লাগে কেন?
শীতকালে আমাদের দেশে তাপমাত্রা নেমে আসে প্রায় ১০°–২০° সেলসিয়াসে। তখন আমাদের ত্বকও ঠান্ডা থাকে। এই অবস্থায় ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানি স্পর্শ করলে তা তুলনামূলকভাবে উষ্ণ মনে হয়।
শীতকালে সকালে প্রথমে নলকূপ চাপলে পানি বেশি ঠান্ডা মনে হয়। কারণ—উপরের পাইপলাইনে থাকা জল সারারাত ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে থাকে।
কিছুক্ষণ পানি তোলার পর গভীরের স্থিতিশীল তাপমাত্রার পানি উঠতে শুরু করে। তখন তুলনামূলকভাবে গরম মনে হয়।
গরমকালে আবার উল্টো ঘটনা ঘটে—উপরের পাইপের জল কিছুটা গরম হয়ে থাকে, পরে গভীরের পানি উঠলে তা ঠান্ডা অনুভূত হয়।
অর্থাৎ, পানি বদলায় না—বদলায় আমাদের অনুভূতি।
৪৬
দক্ষিণ কোরিয়ার ভাসমান শহর...
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঝুঁকি বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বুসান উপকূলে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম টেকসই ভাসমান শহর।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ডিজাইন সংস্থা OCEANIX এবং জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি (UN-Habitat)। জাতিসংঘের সহায়তায় গড়ে ওঠা এই শহরটি হবে সম্পূর্ণ বন্যা-প্রতিরোধী। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যতই বাড়ুক না কেন, শহরের ভাসমান প্ল্যাটফর্মগুলো পানির সঙ্গে সঙ্গে উপরে উঠবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা থাকবে না।
কেমন হবে এই ভাসমান শহর?
শহরটি তৈরি হবে পানির উপর ভাসমান ষড়ভুজ (হেক্সাগন) আকৃতির একাধিক প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম সমুদ্রতলের সঙ্গে শক্তভাবে নোঙর করা থাকবে, যাতে সুনামি ও ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগও মোকাবিলা করা যায়।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শহরে প্রায় ১০,০০০ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা থাকবে। শহরটি ৩০০ জনের ছোট ছোট পাড়া বা কমিউনিটিতে বিভক্ত থাকবে, যাতে সামাজিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনযাপন:-
এই ভাসমান শহর হবে খাদ্য, শক্তি ও পানির দিক থেকে স্বনির্ভর। ভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। যাতায়াতের জন্য থাকবে আধুনিক নৌযান।
খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে। অ্যারোপনিক ও অ্যাকুয়াপনিক চাষাবাদ, গ্রিনহাউস এবং খোলা খামারের মাধ্যমে জৈব খাদ্য উৎপাদন করা হবে। বাসিন্দাদের প্রধানত উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করা হবে, যাতে সীমিত জায়গা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। প্ল্যাটফর্মের নিচে বিশেষ খাঁচায় স্ক্যালপ, সামুদ্রিক শৈবাল (কেল্প)সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে।
পরিবেশবান্ধব নির্মাণ:-
শহর নির্মাণে ব্যবহার করা হবে স্থানীয় ও দ্রুত নবায়নযোগ্য উপকরণ, যেমন বাঁশ। প্ল্যাটফর্মগুলো চুনাপাথরের আবরণ দিয়ে তৈরি করা হবে, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।
৪৭
এল নিনো ও লা নিনা (ENSO) কী?
ENSO কী?
ENSO (El Niño–Southern Oscillation) হলো বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের ওঠানামার প্রক্রিয়া।
এর দুটি বিপরীত দশা আছে—
El Niño (উষ্ণ দশা)
La Niña (শীতল দশা)
সাধারণত ৯–১২ মাস স্থায়ী হয়, তবে কখনও কখনও কয়েক বছরও চলতে পারে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধের শীতে এর প্রভাব সর্বাধিক হয়।
El Niño (এল নিনো)
সংজ্ঞা:- বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব অংশে সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি হলে তাকে El Niño বলে।
এটি ENSO-র উষ্ণ দশা।
নামের উৎস
পেরুর জেলেরা প্রথম লক্ষ্য করেন। স্প্যানিশ শব্দ El Niño অর্থ → ছোট ছেলে।
বৈশিষ্ট্য
অনিয়মিতভাবে ২–৭ বছর অন্তর ঘটে।
El Niño চলাকালীন—
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুচাপ কমে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুচাপ বাড়ে। সাধারণত ১ বছরের বেশি স্থায়ী হয় না।
Oceanic Niño Index (ONI) দিয়ে El Niño-র তীব্রতা নির্ণয় করা হয়।।
El Niño-র প্রভাব:-
অতিবৃষ্টি। দক্ষিণ আমেরিকায় (পেরু, ইকুয়েডর) অতিবৃষ্টি। বন্যা, ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি। খরা ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা।
জলাধার শুকিয়ে যায়। কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমুদ্রের উপর প্রভাব:-
উষ্ণ জলের কারণে Upwelling কমে ফলে মাছ ধরার পরিমাণ কমে। রোগব্যাধি, বন্যার ফলে → কলেরা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া।
খরার ফলে → বনআগুন ও শ্বাসকষ্ট।
ইতিবাচক দিক:-
আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেন কম হয়
La Niña (লা নিনা) সংজ্ঞা
বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব অংশে সমুদ্রের অস্বাভাবিক শীতলতা হলে তাকে La Niña বলে।
এটি ENSO-র শীতল দশা।
নামের অর্থ
La Niña অর্থ → ছোট মেয়ে, একে Anti-El Niño-ও বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য:-
সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৯°F বা বেশি কমে, সাধারণত ১–৩ বছর স্থায়ী হয়। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে উচ্চ বায়ুচাপ। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে নিম্ন বায়ুচাপ।
La Niña-র প্রভা
অস্ট্রেলিয়া → ভয়াবহ বন্যা। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা → বেশি বৃষ্টি। পেরু ও ইকুয়েডর → খরা। পশ্চিম দক্ষিণ আমেরিকায় মাছ ধরা বৃদ্ধি।
উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে হারিকেন বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে টর্নেডো বৃদ্ধি।
ইউরোপ
উত্তর ইউরোপে তুলনামূলক উষ্ণ শীত। দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপে শীত বেশি, তুষারপাত।
ENSO ও ভারত-বাংলাদেশ
দুর্বল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। খরা ও কম বৃষ্টিপাত। কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব।
La Niña ও ভারত-বাংলাদেশ
মৌসুমী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, উত্তর-পশ্চিম ভারত ও বাংলাদেশে বেশি বৃষ্টি, কৃষি ও অর্থনীতির জন্য উপকারী, শীত বেশি পড়ে। ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে
মনে রাখার পয়েন্ট
El Niño = উষ্ণতা + খরা (ভারত-বাংলাদেশ)
La Niña = শীতলতা + বেশি বৃষ্টি (ভারত-বাংলাদেশ))
৪৮
রংধনু
রংধনু আসলে একটি পূর্ণ বৃত্তাকার আলোকবৃত্ত, যা সূর্যের আলো বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে প্রবেশ করে প্রতিসরণ, প্রতিফলন এবং পুনরায় প্রতিসরণের ফলে সৃষ্টি হয়। মাটি থেকে দাঁড়িয়ে দেখলে আমরা সাধারণত এর উপরের অংশই দেখতে পাই, কারণ দর্শকের নিচে বৃষ্টি থাকে না এবং ভূমি দৃষ্টিপথকে আড়াল করে দেয়। তাই রংধনুটি ধনুকের মতো বা অর্ধবৃত্তাকার আকারে দেখা যায়।
কিন্তু যখন কেউ উঁচুতে থাকে—যেমন পাহাড়ের চূড়ায়, উঁচু টাওয়ারে বা বিমানে—এবং চারপাশে বা নিচে বৃষ্টি থাকে, তখন সম্পূর্ণ গোলাকার রংধনু দেখা সম্ভব হয়। এই অবস্থায় দর্শকের চারপাশে থাকা অসংখ্য বৃষ্টির ফোঁটা সমানভাবে আলো প্রতিসরিত ও প্রতিফলিত করে, ফলে এক অসাধারণ পূর্ণ বৃত্তাকার রংধনু চোখে ধরা দেয়।
৪৯
হর্সশু কাঁকড়া : পৃথিবীর সবচেয়ে দামী রক্তের প্রাণী...
হর্সশু কাঁকড়া ডাইনোসরেরও আগে পৃথিবীতে এসেছে! সময়ের পরীক্ষায় টিকে থেকে এরা আজও বেঁচে আছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এদের রক্ত নীল, এরা উল্টো হয়ে সাঁতার কাটতে পারে এবং তাদের শরীরে আছে প্রায় নয়টি চোখ।
৪৫০ মিলিয়ন বছরের পুরনো প্রাণী:-
হর্সশু কাঁকড়ার উৎপত্তি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে। অর্থাৎ, ডাইনোসরেরও প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর আগে তারা পৃথিবীতে এসেছে। এদের বলা হয় “লিভিং ফসিল” বা জীবন্ত জীবাশ্ম। গবেষকরা এদের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন অর্ডোভিসিয়ান যুগের শেষ দিকে, যখন পৃথিবীতে প্রথম প্রাচীন মাছ দেখা দিয়েছিল।
হর্সশু কাঁকড়া আসলে কাঁকড়া নয়:-
হর্সশু কাঁকড়া হলো সামুদ্রিক আর্থ্রোপড। এদের খোলস ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে, তাই এ নামকরণ। তবে নামের মধ্যে “কাঁকড়া” থাকলেও এরা আসল কাঁকড়া নয়। এরা বরং মাকড়সা ও বিচ্ছুর মতো আরাকনিড গোষ্ঠীর কাছাকাছি।
বিশ্বে হর্সশু কাঁকড়ার মাত্র চারটি প্রজাতি আছে। এদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মেক্সিকো উপসাগর এবং আমেরিকার উপকূলে পাওয়া যায়। ফিলিপাইনে কেবল পালাওয়ান দ্বীপেই এদের দেখা মেলে। দেখতে ভিনগ্রহের মতো হলেও শান্ত স্বভাবের এদের লম্বা কাঁটা-ওয়ালা লেজ দেখে অনেকে ভয় পান। কিন্তু আসলে এরা খুবই শান্ত প্রাণী। লেজ তারা ব্যবহার করে শুধু সাঁতারের সময় দিক বদলাতে বা ঢেউয়ে উল্টে গেলে আবার সোজা হতে। তাই লেজ ধরে কখনোই এদের ধরা উচিত নয়, এতে প্রাণীটি আহত হয়।
নীল রক্তের রহস্য:-
আমাদের রক্ত লোহায় ভরপুর হিমোগ্লোবিনের জন্য লাল হয়। হর্সশু কাঁকড়ার রক্ত নীল, কারণ এতে থাকে তামাযুক্ত হিমোসায়ানিন। এ প্রোটিন শরীর জুড়ে অক্সিজেন বহন করে। তাদের রক্তে থাকে আমিবোসাইট নামের বিশেষ কোষ, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। হর্সশু কাঁকড়ার কোনো পূর্ণাঙ্গ রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। যখনই শরীরে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস প্রবেশ করে, তখন এই কোষগুলো ফেটে গিয়ে আক্রমণকারী জীবাণুর চারপাশে জেলি জাতীয় আবরণ তৈরি করে এবং প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়।
এই কোষগুলি এতটাই সংবেদনশীল যে ই. কোলাই (E. Coli) ধরনের জীবাণুকেও সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করতে পারে। তাই এদের রক্ত থেকে তৈরি করা হয় LAL (Limulus Amebocyte Lysate), যা চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে এবং ভ্যাকসিন ও ওষুধ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়।
এক লিটার হর্সশু কাঁকড়ার রক্তের দাম প্রায় ১৫,০০০ ডলার বা তার বেশি। এজন্যই এ রক্ত পৃথিবীর অন্যতম দামী তরল পদার্থ।
নয়টি চোখ:-
হর্সশু কাঁকড়ার শরীরে মোট নয়টি চোখ থাকে। এদের খোলসের উপর দু’টি বড় যৌগিক চোখ আছে, যা সঙ্গী খুঁজতে সাহায্য করে। উপরিভাগে আরও পাঁচটি চোখ থাকে, যেগুলো সূর্যালোক ও অতিবেগুনি আলো শনাক্ত করতে পারে। নিচের দিকে দু’টি চোখ থাকে, যা সাঁতারের সময় তাদের দিক নির্ধারণে সাহায্য করে। এমনকি লেজের উপরও আলোক সংবেদী অঙ্গ আছে, যা তাদের মস্তিষ্ককে দিন-রাতের ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
উল্টো হয়ে সাঁতার কাটে কেন?
হর্সশু কাঁকড়া সাধারণত উল্টো হয়ে সাঁতার কাটে। এভাবে তারা অন্য প্রাণীদের থেকে দূরে থাকতে পারে এবং শিকারি প্রাণী এড়াতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে অল্পবয়সি হর্সশু কাঁকড়াদের এভাবে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত গভীর সমুদ্রতলে খাদ্য খুঁজে বেড়ায়।
প্রজনন ও জীবনচক্র:-
মেয়ে হর্সশু কাঁকড়া আকারে বড় হয়। চাঁদের পূর্ণিমা রাতে বা উষ্ণ মৌসুমে এরা কাদামাটি বা বালুকাবেলায় ডিম পাড়ে। একটি মেয়ে প্রায় ৬০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ ডিম পাড়তে পারে। ডিমের বড় অংশই পাখি, মাছ ও সরীসৃপের খাদ্য হয়। কেবল কয়েকটি ডিম থেকেই বাচ্চা ফোটে, যারা প্রথমে জোয়ার-ভাটার তটে থাকে, পরে গভীর সমুদ্রে চলে যায় এবং ৮-১০ বছরে পূর্ণবয়স্ক হয়।
মানুষের কারণে বিপন্ন:-
প্রায় অর্ধেক বিলিয়ন বছর ধরে টিকে থাকলেও হর্সশু কাঁকড়া এখন বড় বিপদের মুখে। চিকিৎসা শিল্পে রক্ত সংগ্রহ, অতিরিক্ত শিকার, উপকূল ধ্বংস এবং খাবারের জন্য ব্যবহার তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে। একসময় এদের সার ও পশুখাদ্য বানাতো মানুষ। বর্তমানে চিকিৎসা শিল্পেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বিকল্প পথ খুঁজছেন—যাতে এই অসাধারণ প্রাণীগুলোকে রক্ষা করা যায়। বহু দশক ধরে মানুষ এদের কাছে ঋণী, কারণ এদের নীল রক্ত আমাদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে।
৫০
শিশুর মুখাবয়বের আকর্ষণ ও ‘বেবি স্কিমা’:
মানুষ সাধারণত শিশুদের অত্যন্ত মিষ্টি, আকর্ষণীয় ও আদুরে বলে মনে করে। এর পেছনে শুধু আবেগ নয়, রয়েছে একটি গভীর বৈজ্ঞানিক কারণ। শিশুদের মুখে বড় বড় চোখ, ছোট নাক, গোলাকার মাথা ও মোটা গাল—এই বৈশিষ্ট্যগুলির সমন্বয়কে বলা হয় ‘বেবি স্কিমা’ (Baby Schema)।
বেবি স্কিমা কী?
‘বেবি স্কিমা’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন অস্ট্রিয়ান প্রাণিবিজ্ঞানী কনরাড লরেঞ্জ (Konrad Lorenz)। তাঁর মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের মনে মমতা, স্নেহ, রক্ষা করার প্রবণতা ও যত্ন নেওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো মূলত শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।
শিশুদের যেসব শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাদের বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তোলে, সেগুলি হলো—
তুলনামূলকভাবে বড় ও গোল চোখ। ছোট ও চাপা নাক, গোলাকার মাথা, ফোলা বা মোটা গাল,নরম ও কোমল মুখভঙ্গি....এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা শিশুর প্রতি আকৃষ্ট হয়।
অভিযোজন:
বেবি স্কিমা শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা আবেগের বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবর্তনমূলক অভিযোজন (Evolutionary Adaptation)। মানবশিশু জন্মের পর দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণভাবে অসহায় থাকে। তারা নিজের খাবার, নিরাপত্তা বা যত্নের ব্যবস্থা করতে পারে না। তাই যদি প্রাপ্তবয়স্করা স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের প্রতি আকৃষ্ট না হতো, তাহলে শিশুর বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত। এই কারণেই প্রকৃতি এমনভাবে শিশুদের গঠন করেছে যেন—
প্রাপ্তবয়স্করা তাদের দেখেই ভালোবাসা অনুভব করে। তাদের রক্ষা করার প্রবণতা জাগে। যত্ন ও পরিচর্যা করতে আগ্রহী হয়। ফলে শিশুরা প্রয়োজনীয় খাদ্য, সুরক্ষা ও স্নেহ পায় এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
মানসিক ও সামাজিক প্রভাব :
বেবি স্কিমার প্রভাব শুধু বাবা-মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় অপরিচিত মানুষও একটি শিশুকে দেখে—হাসে, কথা বলতে চায়, আদর করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। এটি প্রমাণ করে যে বেবি স্কিমা মানুষের মধ্যে একটি সার্বজনীন মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শিশুদের মুখের মিষ্টতা বা আকর্ষণ কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি প্রকৃতির এক অসাধারণ পরিকল্পনা, যা মানবজাতির টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেবি স্কিমা মানুষের মধ্যে স্নেহ, মমতা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলে শিশুদের যত্ন নিশ্চিত করে—এবং এর মাধ্যমেই মানবসভ্যতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
শিক্ষা মানে শুধু স্কুল-কলেজ নয়। শিক্ষা মানে—সহনশীলতা শেখা, ভিন্ন মতকে সম্মান করা,মানবিক হওয়া