শেখাই Public Speaking, Social Skills, Self-Defense, Problem Solving, Managing Emotions, Social Media Awareness- সবকিছু যা একজন টিনেজারের সফল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।নিজ এলাকায় যানজট/জলাবদ্ধতা/অপরিচ্ছন্নতার কারণ ও প্রতিকার নির্ণয়। 

এটাই সেই লাইফ চেঞ্জিং সুযোগ,যা আপনার সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে।

"যদি তুমি নিজের ব্যথা টের পাও তবে তুমি জীবিত। আর যদি তুমি অন্যের ব্যথা টের পাও তবে তুমি মানুষ"।... লিও তলস্তয়। 


প্রবাল প্রাচীর সংরক্ষণে বাড়বে ৫০% অতিরিক্ত মাছ: বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার নতুন সম্ভাবনা

~

পানামার ‘স্মিথসোনিয়ান ট্রপিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের প্রবাল প্রাচীরগুলো যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং মাছের সংখ্যা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

বর্তমানে অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রবাল প্রাচীরগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কমে গেছে।

গবেষকরা দেখেছেন, প্রবাল প্রাচীরের মাছের সংখ্যা যদি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে টেকসই পদ্ধতিতে মাছ আহরণের হার প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

এর ফলে প্রতি বছর কয়েক কোটি অতিরিক্ত মানুষের খাবারের যোগান দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ ক্ষুধা এবং পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, তাদের জন্যে এটি বড় আশার আলো হতে পারে।

এই গবেষণায় জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মহাসাগর সংরক্ষণ কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা দূর করার শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

আমরা যদি প্রবাল প্রাচীরগুলোকে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দেই, তবে বিনিময়ে তারা আমাদের বিশাল পরিমাণ পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান দেবে।


কুমির আর একটি অ্যালিগেটরকে  চিনে নেওয়ার খুব সহজ কিছু উপায়  

​অ্যালিগেটর (বামে) সাধারণত যেমন হয়:

​এর মুখ বা নাক বেশ চওড়া এবং ইংরেজি 'U' অক্ষরের মতো।

​গায়ের রঙ বেশ গাঢ়, প্রায় কালচে।

​মুখ বন্ধ থাকলে এদের দাঁত সাধারণত দেখা যায় না, ভেতরে ঢাকা থাকে।

​কুমির (ডানে) সাধারণত যেমন হয়:

​এর মুখ বা নাক বেশ লম্বা, চিকন এবং ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো।

​গায়ের রঙ হালকা ধূসর-সবুজ বা জলপাই রঙের।

​মুখ বন্ধ থাকলেও এদের দাঁত বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে।

​আরও একটি বড় পার্থক্য হলো: কুমির সাধারণত লোনা পানিতে থাকতে পছন্দ করে, আর অ্যালিগেটররা মিষ্টি পানিতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।


*"আজীবন আইন মেনেছি। মৃত্যুতে আইন ভাঙব কেন"* ?

মহাজ্ঞানী সক্রেটিসের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে সন্ধ্যায়। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সকলেই আর একান্ত শিষ্যরা তার চারপাশ ঘিরে আছেন, কারাগারের অন্ধকার ঘরে ! প্রধান কারারক্ষী এসে শেষ বিদায় নিয়ে গেলেন. তার চোখেও অশ্রু টলমল করছে। হায় কি অদ্ভুত শাস্তি! *যে মরবে সে ধীরস্থির ও শান্ত। আর যে মারবে তার চোখে জল।*

‌‌

কারাগার প্রধান বললেন- *"এথেন্সের হে মহান সন্তান- আপনি আমায় অভিশাপ দিবেন না, আমি দায়িত্ব পালন করছি মাত্র"*।.এতবছর কারাগারে কাজ করতে গিয়ে আপনার মতো সাহসী, সৎ ওজ্ঞানী কাউকে আমি কখনো দেখিনি।

‌‌

মৃত্যুর ঠিক আগে সক্রেটিস তার পরিবারের নারী ও শিশুদের চলে যেতে বললেন। সুন্দর পোষাক পরলেন তিনি। শিষ্যরা সবাই কাঁদছে কিন্তু সক্রেটিস যেন বেপরোয়া। মৃত্যুতে কি কিছুই যায় আসে না তার?  মৃত্যুদন্ডটা চাইলেই তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন !

‌‌

*তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো:- দেবতাদের প্রতি ভিন্নমত প্রকাশ। রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও তরুণদের বিপথগামী হতে উৎসাহ প্রদান।*

‌‌

নিয়ম অনুযায়ী খোলা মাঠে তার বিচার বসেছিলো। বিচারক ছিলেন তৎকালীন সমাজের ৫০০ জন জ্ঞানী মানুষ। এদের অনেকেই ছিলেন গ্রীসের রাজার একান্ত অনুগত। সক্রেটিসের মেধা ও বিশেষত তরুণদের কাছে তার জনপ্রিয়তায় জ্বলন ছিলো তাদের।

‌‌

সক্রেটিসকে খতম করার এমন সুযোগ তারা ছাড়বে কেন ?"""""

‌‌

*তবুও হয়তো প্রাণে বেঁচে যেতেন সক্রেটিস, কিন্তু কাঠ গড়ায় দাঁড়িয়েও বিচারকদের নিয়ে উপহাস করতে ভুললেন না। ফলাফল হেমলক লতার বিষপানে মৃত্যু*।

সক্রেটিস নিজেই তার আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন।  কঠোর যুক্তি দিয়ে বিচারকদের প্রশ্নবাণে জর্জারিত করেছিলেন  বিচারকেরা তার একটি প্রশ্নেরও সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেনি।

‌‌‌‌

*মৃত্যুর আগে একমাস কারাগারে বন্দী ছিলেন তিনি। নিয়ম ছিলো এমন। এই একমাসে কারারক্ষীরাও তার জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে গেলো। তারা তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করতে চাইলো।‌‌সক্রেটিস বিনয়ের সাথে না করে দিলেন। বললেন আজ পালিয়ে গেলে ইতিহাস আমায় কাপুরুষ ভাববে।  তিনি মনে করতেন বীরের মতো মৃত্যু অপমানের জীবনের চাইতে শ্রেষ্ঠ বলে* !

‌‌

ঐদিন সন্ধ্যায় প্রধান কারারক্ষী চলে যাওয়ার পরে জল্লাদ এলো পেয়ালা হাতে,  পেয়ালা ভর্তি হেমলকের বিষ। সক্রেটিস জল্লাদকে বললেন কি করতে হবে আমায় বলে দাও !n‌জল্লাদ বললো পেয়ালার পুরোটা বিষ পান করতে হবে। একফোঁটাও নষ্ট করা যাবেনা। সক্রেটিস বললেন তবে তাই হোক। তিক্ত বিষের পুরো পেয়ালা তিনি জলের মতো করে পান করে ফেললেন। চারপাশে বসে থাকা শিষ্যরা চিৎকার করে কাঁদছেন, এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ ! তখন জল্লাদ আরও কঠোর নির্দেশটি দিলো। বললো নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে এখন কিছুক্ষণ পায়চারী করতে হবে। যাতে বিষের প্রভাব পুরোটা শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হায় হায় করে উঠলেন সবাই।

‌‌

*শুধু ম্লান হাসলেন সক্রেটিস। বললেন আজীবন আইন মেনেছি। মৃত্যুতে আইন ভাঙবো কেন ?* ‌‌দূর্বল পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটলেন কিছুক্ষণ।  যতক্ষণ তার শক্তিতে কুলোয়। এরপর বিছানায় এলিয়ে পড়লেন।  *শিষ্যদের বললেন তোমরা উচ্চস্বরে কেঁদোনা।  আমায় শান্তিতে মরতে দাও।*

‌‌

জল্লাদের পাষাণ মনেও তখন শ্রদ্ধার ভাব বিনয়ে আর লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলো সে। চাদর দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিলেন সক্রেটিস।একবার চাদরটা সরালেন।  একজন শিষ্যকে ডেকে বললেন প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটা মুরগী ধার করেছিলাম আমি। ওটা ফেরত দিয়ে দিও।

‌‌

*ঐদিন সক্রেটিসের মূত্যুর খবর এথেন্সে ছড়িয়ে পড়লে, সাধারণ মানুষেরা বিক্ষোভ  মিছিল সহকারে এথেন্সের রাস্তায় নেমে আসে ও সক্রেটিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা রায় দেওয়া বিচারকদের পিটিয়ে হত্যা করে। কিছু বিচারক ও জল্লাদ অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেছিলো*

‌‌

এই ছিলো তার শেষ কথা। খানিক পরেই অনিশ্চিত যাত্রায় চলে গেলেন মহাজ্ঞানী সক্রেটিস। তার শিষ্যদের মাঝে সেরা ছিলেন প্লেটো। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের এই ঘটনাগুলো প্লেটো তার রচিত বিখ্যাত রিপাবলিক গ্রন্থে লিখে গুরুকে অমর করে গেছেন।

‌‌‌

*প্লেটোর শিষ্য ছিলেন মহাজ্ঞানী এ্যারিষ্টটল। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ দ্যা পলিটিক্স।* এ্যারিষ্টটল ছিলেন সর্বকালের জ্ঞানী মানুষদের সামনের সারির একজন। আর মহাবীর আলেকজ্যান্ডার দ্যা গ্রেটের নাম আমরা সবাই জানি, এই বিশ্বজয়ী আলেকজ্যান্ডারের শিক্ষক ছিলেন এ্যারিষ্টটল।

‌‌

*প্রহসনের বিচারে সক্রেটিসের মৃত্যু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু মৃত্যু তাকে মারতে পারেনি।  শিষ্যদের মাঝে জ্ঞানের আলো দিয়ে বেঁচে রইবেন তিনি অনন্তকাল।*



শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় চকোলেট: ডার্ক নাকি হোয়াইট— কোনটি সেরা?

মাহফুজা মিম

প্রকাশ: মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৩ 

  

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে মূলত তিন ধরণের চকোলেট পাওয়া যায়, ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট। একেক চকোলেটের প্রভাব শরীরের ওপর একেক রকম। তাই কেউ যদি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তার প্রতিদিনের ডায়েটে কোন চকোলেটটি থাকা প্রয়োজন তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।

চকোলেট শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় নয়, এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবও অনেকের আগ্রহের বিষয়। তবে সব চকোলেট এক রকম নয়। কোকোর পরিমাণ, চিনি ও দুধের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে শরীরের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। কোন ধরনের চকোলেট খেলে কি হয়- তা জানা থাকলে পছন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দেয়া সম্ভব হয়।

চকোলেট মূলত কোকো বীজ থেকে তৈরি করা হয়। কোকোতে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে সেই উপকার অনেকটাই কমে যায়।

ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট চকোলেটস

বাজারে মূলত তিন ধরণের চকোলেট পাওয়া যায়, ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট। একেক চকোলেটের প্রভাব শরীরের ওপর একেক রকম। তাই কেউ যদি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তার প্রতিদিনের ডায়েটে কোন চকোলেটটি থাকা প্রয়োজন তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।

ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চকোলেটে কোকোর পরিমাণ বেশি থাকে, সাধারণত ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেট খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে। এছাড়া এটি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। আবার কোকো বিনস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও ডার্ক চকলেট শরীরে সেরোটোনিন ও এন্ডোরফিনের নিঃসরণ ঘটায়। এ হরমোনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করে ও মানসিক চাপ কমায়।

ডার্ক চকোলেট

তবে বেশি খেলে ক্যালরি ও ক্যাফেইনের কারণে অনিদ্রা বা ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

মিল্ক চকোলেট
মিল্ক চকোলেটে দুধ ও চিনি বেশি থাকে, কোকোর পরিমাণ তুলনামূলক কম। এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকলেও অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। নিয়মিত বেশি মিল্ক চকোলেট খেলে দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি, ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়া ও ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি ও মেজাজ ভালো করতে পারে।

মিল্ক চকোলেট

হোয়াইট চকোলেট
হোয়াইট চকোলেটে কোকো সলিডস থাকে না, মূলত কোকো বাটার, চিনি ও দুধ দিয়ে তৈরি। ফলে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রায় নেই বললেই চলে। এটি স্বাদে মিষ্টি হলেও স্বাস্থ্যগুণ খুব সীমিত। বেশি খেলে ক্যালরি ও চর্বি বাড়ে, কিন্তু উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না।

হোয়াইট চকোলেট

অতিরিক্ত হোয়াইট চকলেট রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয় (Sugar Rush), যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ডার্ক-মিল্ক বা ফ্লেভারড চকোলেট
এ ধরনের চকোলেটে ডার্ক ও মিল্কের মিশ্রণ বা ফল, বাদাম বা ক্যারামেল যোগ করা হয়। বাদাম থাকলে কিছু ভালো ফ্যাট ও প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে ফ্লেভার বা সিরাপ যোগ হলে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ফ্লেভারড চকোলেট

আর এ ধরণের ফ্লেভারড চকোলেটেও শুগার স্পাইকের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ডায়াবেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিৎ।

মিল্ক চকোলেট আর হোয়াইট চকোলেটের পার্থক্য কি?

মূল উপাদানেই মিল্ক কোলেট ও হোয়াইট চকোলেটের মূল পার্থক্য। মিল্ক চকোলেটে সলিড কোকো থাকে, কিন্তু হোয়াইট চকোলেটে তা থাকে না। হোয়াইট চকোলেটে থাকে শুধুমাত্র কোকো বাটার, দুধ ও চিনি। কোকো বিন না থাকায় এর তিক্ত স্বাদ থাকে না। ফলে এ চকোলেট আরো বেশি মিষ্টি স্বাদের হয়।

কতটা খাওয়া নিরাপদ
স্বাস্থ্য বিবেচনায় দিনে ২০-৩০ গ্রাম উচ্চ কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট। কেনার সময় কোকোর পারিমাণ, চিনি ও উপাদানের তালিকা দেখে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এতোকিছুর পরেও নিয়মিত চকোলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের শরণাপন্নও হওয়া যেতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, চকোলেট খারাপ নয়। ভুল ধরন ও পরিমাণই সমস্যার কারণ। সঠিক ধরন নির্বাচন করলে চকোলেট স্বাদের পাশাপাশি শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে।




ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার ইউএনসি স্কুল অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, জাঙ্ক ফুড মস্তিষ্কের স্মৃতিকেন্দ্রের গঠনকে রীতিমতো বদলে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রভাবিত হয় স্মৃতিশক্তিও।  স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের দূরারোগ্য ব্যাধির মতো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনজনিত রোগের বড় একটি কারণ হলো অতিপ্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি। এর বাইরে মস্তিষ্কের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে জাঙ্ক ফুড খাওয়া। ইঁদুরের ওপর চালানো ওই গবেষণায় দেখা গেছে, টানা উচ্চমাত্রার চর্বিযুক্ত জাঙ্কফুড গ্রহণের কারণে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে (মস্তিষ্কের যে অংশ স্মৃতিশক্তি বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থানিক স্মৃতিশক্তি, শিখন প্রক্রিয়া, আবেগ, আচরণসহ গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রম পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা রাখে) অবস্থিত বিশেষ এক ধরনের কোষকে মাত্র চারদিনের মধ্যেই ব্যাপক মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। এতে হিপোক্যাম্পাসের স্মৃতিগঠন প্রক্রিয়া ব্যাপক মাত্রায় বিঘ্নিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, জাঙ্কফুড তথা উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য (এইচএফডি) গ্রহণের পর মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে অবস্থিত সিসিকে ইন্টারনিউরনস নামে একটি বিশেষ শ্রেণির কোষ অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর কারণ হলো এ ধরনের খাদ্য গ্রহণের কারণে মস্তিষ্কে গ্লুকোজ (চিনি) গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। এতে কয়েক দিনের মধ্যেই হিপোক্যাম্পাসের স্মৃতিগঠন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন শুরু হয়। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটে ভরপুর বার্গার, ফ্রাই খাওয়ার প্রভাবে এ ধরনের সমস্যা বেশি ঘটে।

মস্তিষ্কের কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করে পিকেএম২ নামের একটি প্রোটিন। এই পিকেএম২ প্রোটিন মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।ড. জুয়ান সং বলেন, ‘আমরা জানতাম খাদ্যাভ্যাস ও বিপাক প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণে এত অল্প সময়ের মধ্যেই মস্তিষ্কের এত নির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর কোষে এমন পরিবর্তন দেখা যাবে, তা আমাদের ধারণায় ছিল না। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে গ্লুকোজের ঘাটতি হওয়ায় এসব কোষের কার্যকলাপে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আর এটুকুই স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করার জন্য যথেষ্ট।’  উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মস্তিষ্কের সিসিকে ইন্টারনিউরনকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা ও স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটাতে যথেষ্ট। 



ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি, মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমানো, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাধ্যমে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ঘটিয়ে মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বয়স ৫০-এ কোঠা পেরুলেই জীবনে অদ্ভূত সব রোগ-শোক বাসা বাঁধে। তাদেরই একটি ডিমেনশিয়া। এটি এমন একটি রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরন ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে। এর জেরে চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা ও মনে রাখার ক্ষমতা লোপ পায়।

এ রোগের নানাবিধ কারণ থাকলেও ধূমপান ডিমেনশিয়া ঝুঁকির একটি প্রধান কারণ। মূলত ধূমপান ক্তনালীর ক্ষতি, মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমানো, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাধ্যমে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ঘটিয়ে মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।  ধূমপান ত্যাগ করলে মস্তিষ্কের বয়সজনিত হ্রাস অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। এমনকি ধূমপায়ী ব্যক্তি টানা ১০ বছর নিকোটিন গ্রহণ না করলে তার ও অধূমপায়ী ব্যক্তির ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় সমান হয়ে যায়। মধ্যবয়সে ধূমপান ত্যাগ শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য। 


গবেষকেরা দাবি করেছেন, পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষজনই পায়ের শিরায় টান ধরার মতো সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেবল পাতে রাখতে হবে ভিটামিন কে২ সমৃদ্ধ খাবার। গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায় বলে শরীরে জলের ঘাটতি হয়। তাই ঘাটতি হয় পেশির স্থিতিস্থাপকতায়। শীতে আবার জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ফেলেন অনেকে। এতেও শিরায় টান ধরার সমস্যা বাড়ে। আবার হার্টের অসুখ, কিডনির রোগ, পারকিনসন্স ডিজ়িজ় ডায়াবিটিস, লিভার সিরোসিসের মতো রোগ থাকলেও পায়ের শিরায় টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর পরিবর্তে প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা যাবে কয়েকটি খাবার, যেমন— পালং শাক, ব্রোকোলি, বাঁধাকপি, গাজর, সয়াবিন, ডিম, মুরগির মাংস। ডালিমেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। নিয়মিত ডালিমের রস খেতে পারলেও উপকার পাওয়া যাবে। 





নানা কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন—

এছাড়া থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও মলাশয়ের কোনো রোগের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে যেসব শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, অনিদ্রা, চোখের নিচে কালি পড়া, মাথা ঘোরা, কোমর ব্যথাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা যত তীব্র হয়, রোগী তত বেশি দুর্বল ও হীনম্মন্য হয়ে পড়ে। এতে অলসতা বৃদ্ধি ও মনোযোগ হ্রাস পায়। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে চর্মরোগ যেমন চুলকানি, ব্রণ, মুখে ঘা, মেছতা ইত্যাদি হতে পারে। প্রস্রাবের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে প্রধান যে দুটি সমস্যা হয় তা হলো পাইলস ও অ্যানাল ফিশার। ফলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত ও প্রবল যন্ত্রণা অনুভূত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দিনের পর দিন অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের কারণে মলদ্বার দেহের বাইরে চলে আসতে পারে, যাকে বলা হয় রেকটাল প্রোল্যাপস।


খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্যের জটিলতা কিছুটা হলেও কমানো যায়

যেসব খাবার খাওয়া যাবে না





সবকিছু জানলেই বলতে হয় না। সঠিক সময়ে সঠিক কথাটি বলতে পারা যেমন একটা আর্ট, তেমনই প্রয়োজন বোধে চুপ থাকতে পারাটা এক বিশাল প্রজ্ঞা। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন, 



ভিলেজ পলিটিক্স থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার কার্যকর কৌশল

গ্রামের জীবন মানেই সহজ-সরলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা আর আত্মীয়তার বন্ধন এমনটাই আমরা ভাবতে ভালোবাসি। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় এতটা সরল নয়। ছোট পরিসরের সমাজে গড়ে ওঠা ভিলেজ পলিটিক্স অনেক সময় অহেতুক গুজব, পক্ষপাত, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জন্ম দেয়, যা ধীরে ধীরে মানুষের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়।

তাহলে প্রশ্ন হলো এই ভিলেজ পলিটিক্স থেকে নিজেকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়?

১. অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলুন

গ্রামের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইন্ধন আসে কথার লড়াই থেকে। কে কী বললো, কে কার পক্ষে এই আলোচনা যত কম করবেন, তত কম ঝামেলায় জড়াবেন। সব বিষয়ে মতামত দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়; অনেক সময় নীরবতাই সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।

২. নিরপেক্ষ থাকার মানসিকতা গড়ে তুলুন

এক পক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা আর অন্য পক্ষের সঙ্গে দূরত্ব এই বৈষম্যই আপনাকে সহজে টার্গেট বানায়। সবার সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখুন, কিন্তু কারো মুখপাত্র হবেন না। নিরপেক্ষতা আপনাকে অদৃশ্য নিরাপত্তা দেয়।

৩. ব্যক্তিগত তথ্য নিজের মধ্যেই রাখুন

আপনার আয়, জমিজমা, পারিবারিক সমস্যা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবকিছু সবার সঙ্গে শেয়ার করা ঠিক নয়। ভিলেজ পলিটিক্সে তথ্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। যত কম তথ্য বাইরে যাবে, তত কম আপনাকে ব্যবহার করা যাবে।

৪. গুজবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেবেন না

গ্রামে গুজব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ আপনার নামে কিছু বলেছে এমন কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হবেন না। আগে যাচাই করুন। গুজবে কান দেওয়া বা গুজব ছড়ানো দুটোই আপনাকে বিপদের পথে ঠেলে দিতে পারে।

৫. সামাজিক কাজে যুক্ত থাকুন, কিন্তু দলাদলিতে নয়

স্কুল, মসজিদ-মন্দির, মানবিক সহায়তা বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকা সম্মান বাড়ায়। তবে খেয়াল রাখবেন এই কাজগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।

৬. আবেগ নয়, বুদ্ধিকে প্রাধান্য দিন

ভিলেজ পলিটিক্স মূলত আবেগের খেলা। কে কাকে অপমান করলো এই বিষয়গুলো হৃদয়ে ধারণ করলে আপনি সহজেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বেন। আবেগের বদলে যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বিচার করুন।

৭. নিজের লক্ষ্য ও কাজে মনোযোগী থাকুন

শিক্ষা, পেশা, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত উন্নতিতে যত বেশি ব্যস্ত থাকবেন, তত কম সময় থাকবে অপ্রয়োজনীয় রাজনীতির জন্য। সফল ও ব্যস্ত মানুষকে সাধারণত ভিলেজ পলিটিক্সে জড়ানো কঠিন।

৮. প্রয়োজন হলে শান্ত কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নিন

সবসময় চুপ থাকাই সমাধান নয়। কেউ সীমা অতিক্রম করলে সম্মান বজায় রেখে স্পষ্টভাবে “না” বলতে শিখুন। এই দৃঢ়তা অনেক বড় সংঘাত এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

ভিলেজ পলিটিক্স থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা অবশ্যই সম্ভব। সচেতনতা, আত্মসংযম ও দূরদর্শিতাই এখানে সবচেয়ে বড় শক্তি। মনে রাখবেন শান্ত জীবন কোনো দলের নয়; বরং সঠিক সিদ্ধান্তের ফল। @ জুয়েল



কোম্পানিগুলো এখন আর মুখস্থবিদ্যায় পারদর্শী 'তোতাপাখি' খোঁজে না, তারা খোঁজে এমন কাউকে—যে সমস্যার সমাধান করতে পারে।

#CareerGrowthBangla

চাকরি পেতে ডিগ্রির চেয়েও জরুরি যে ৩টি স্কিল:

১. কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ দক্ষতা (Communication)

আপনি হয়তো অনেক জানেন, কিন্তু সেটা যদি সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে না পারেন, তবে আপনার সেই জ্ঞানের দাম জিরো।

কথা বলা, মেইল লেখা এবং প্রেজেন্টেশন দেওয়ার ক্ষমতা—এই একটি গুণ আপনাকে হাজার জন ক্যান্ডিডেট থেকে আলাদা করে দেবে। মনে রাখবেন, "যে কথা বেচতে পারে, সে সব বেচতে পারে।"

২. টেকনোলজি ও টুলস (Tech Savvy)

আপনি ইতিহাস বা সাহিত্য যা নিয়েই পড়ুন না কেন, বর্তমান যুগে কম্পিউটার বা বেসিক টেকনোলজি (যেমন: এক্সেল, পিপিটি, বা AI টুলস) না জানলে আপনি অচল।

অফিসের কাজ এখন আর খাতাকলমে হয় না। তাই ডিগ্রির গর্ব ছেড়ে ইউটিউব দেখে অন্তত বেসিক সফটওয়্যারগুলো শিখে নিন। এটাই আপনার রুটি-রুজির ব্যবস্থা করবে।

#MotivationalQuotesBangla

৩. সমস্যা সমাধানের মানসিকতা (Problem Solving)

বস আপনাকে সমস্যা দেবে, আর আশা করবে আপনি সমাধান নিয়ে আসবেন।

"এটা তো সিলেবাসে ছিল না" বা "আমাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি"—এই অজুহাত কর্পোরেট দুনিয়ায় চলে না।

ডিগ্রি আপনাকে থিওরি শেখায়, কিন্তু রাস্তা ঘাটে বা কাজের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বুদ্ধি খাটিয়ে বিপদ থেকে বের হওয়ার নামই আসল শিক্ষা।

শেষ কথা

তাই রেজাল্ট খারাপ হলে মন খারাপ করবেন না। সার্টিফিকেটের কাগজটা আলমারিতে তুলে রাখুন।

আগামী ৬ মাস নিজেকে সময় দিন। নতুন কিছু শিখুন, নিজেকে দক্ষ করুন।

মনে রাখবেন, "মানুষ সার্টিফিকেটের ওজন মাপে না, মাপে আপনার কাজের ওজন।"

আপনারা কী মনে করেন? ডিগ্রি বড় নাকি দক্ষতা?


একটানা কাজ করতে থাকলে আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

মাথার ভেতর তথ্যের যেন ভিড় জমে যায়।

২০ মিনিটের ছোট্ট ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ মস্তিষ্কের “ক্যাশ মেমোরি” পরিষ্কার করে দেয় এবং নতুন তথ্য নেওয়ার জায়গা তৈরি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিটের বিশ্রাম কাজের ক্ষমতা প্রায় ৩৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

কিন্তু টানা ২ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে উল্টো মনোযোগ কমে যায়, ভুল বাড়ে।

এই ছোট ঘুম স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায়, মনকে শান্ত করে এবং কাজের বিরক্তি দূর করতে সাহায্য করে।

ঘুমের শুরুতে তৈরি হওয়া মস্তিষ্কের বিশেষ তরঙ্গ সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায়।

কেন টানা ২ ঘণ্টা কাজ ভালো নয়?

মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত ৯০–১২০ মিনিটের বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।

বিরতি ছাড়া কাজ করলে মানসিক চাপ বাড়ে, ক্লান্তি আসে এবং কাজের মান নষ্ট হয়।

২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না। বেশি ঘুমালে গভীর ঘুমে চলে যেতে পারেন, ফলে শরীর আরও অলস হয়ে যাবে এবং কাজের গতি কমে যাবে।




যে টেবিলে আপনার সম্মান নেই, সেখানে বিরিয়ানি দিলেও খেতে বসবেন না—ক্ষুধা পেটে সওয়া যায়, কিন্তু অপমান নয়!

Feed Your Soul, Not Just Your Stomach

জীবনে চলার পথে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে আপনাকে আপোষ করতে বলা হয়। হয়তো লোভে পড়ে বা পেটের দায়ে আমরা অনেক সময় মাথা নিচু করে ফেলি।

কিন্তু মনে রাখবেন—পেটের ক্ষুধা কয়েক ঘণ্টা থাকে, কিন্তু অপমানের ক্ষত সারাজীবন থেকে যায়।

রাজপ্রাসাদে বসে যদি গোলামের মতো খেতে হয়, তার চেয়ে নিজের কুঁড়েঘরে বসে লবন-ভাত খাওয়া হাজার গুণ সম্মানের।

#MotivationalQuotesBangla

কেন আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়া মহাপাপ? ৩টি কারণ:

১. মেরুদণ্ড বিক্রি করবেন না

খাবার বা টাকার লোভে যদি একবার নিজের সম্মান বিকিয়ে দেন, তবে মানুষ আপনাকে সস্তা ভাবতে শুরু করবে।

আপনি মানুষকে যা শেখাবেন, তারা আপনার সাথে ঠিক সেটাই করবে। আপনি যদি অপমান সহ্য করে নেন, তবে তারা ভাববে—"এর কোনো ব্যক্তিত্ব নেই, একে যা খুশি বলা যায়।"

ক্ষুধা পেটে ঘুমানো কষ্টের, কিন্তু মেরুদণ্ডহীন হয়ে বেঁচে থাকা লজ্জার।

২. মানসিক বিষক্রিয়া (Mental Poison)

সম্মানহীন টেবিলে অমৃতও বিষের মতো লাগে।

যেখানে আপনার উপস্থিতির কোনো মূল্য নেই, যেখানে আপনার কথার কোনো গুরুত্ব নেই—সেখানে জোর করে টিকে থাকার চেষ্টা করবেন না।

যিনি আপনাকে সম্মান করেন না, তিনি আপনাকে ভালোবাসতেও পারেন না। কারণ সম্মানের নামই ভালোবাসা।

#MotivationalQuotesBangla

৩. না বলতে শিখুন (Walk Away)

সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হলো 'না' বলতে পারা।

যখনই দেখবেন আপনার আত্মসম্মানে আঁচড় লাগছে, তখনই সেই টেবিল, সেই সম্পর্ক বা সেই চাকরি থেকে উঠে দাঁড়ান।

দরজা খোলা আছে। সাহস করে বেরিয়ে আসুন। হয়তো কিছুদিন কষ্ট হবে, কিন্তু দিনশেষে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রাখতে পারবেন।

জীবনটা খুব ছোট। এটাকে কারো দয়ায় বা করুণায় কাটাবেন না।

নিজেকে এমনভাবে তৈরি করুন, যেন আপনার টেবিলে বসার জন্য মানুষকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। কারো অবহেলার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে, নিজের রাজত্বে একা রাজা হয়ে থাকা অনেক ভালো।

নিজেকে বলুন—

"আমার ক্ষুধা আছে, কিন্তু লোভ নেই। আমার অভাব আছে, কিন্তু স্বভাব খারাপ নেই।"




যে ভঙ্গিতে ঘুমানো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর


চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন টানা ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম যেমন শরীর সুস্থ রাখতে জরুরি, তেমনি কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো হচ্ছে সেটিও স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু নির্দিষ্ট ঘুমের ভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, উপুড় হয়ে ঘুমানো, হাঁটু বুকের কাছে মুড়ে রাখা বা চিত হয়ে দুই হাত–পা ছড়িয়ে ঘুমানোর মতো ভঙ্গি নিয়ে আগেও বিতর্ক ছিল। তবে যে ভঙ্গিটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, সেটিই নাকি বহু মানুষের প্রিয়—আর এখানেই লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি।

‘টি-রেক্স স্লিপ পজিশন’ 

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক মানুষ পাশ ফিরে দুই হাত বুকের কাছে মুড়ে বা থুতনির নিচে রেখে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এই ভঙ্গিটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘টি-রেক্স স্লিপ পজিশন’। কারণ, এই অবস্থায় হাতের ভাঁজ ও শরীরের ভঙ্গি দেখতে অনেকটা টি-রেক্স ডাইনোসরের মতো হয়। গবেষকদের মতে, এই ভঙ্গিতে ঘুমানো আরামদায়ক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কী কী ক্ষতি হতে পারে?

রক্ত সঞ্চালনে বাধা:
দুই হাত ভাঁজ করে বুকের নিচে চেপে রাখলে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এতে হাতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যার ফলে পেশি ও কোষে ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘ সময় এভাবে থাকলে হাত ও কাঁধে অসাড়তা ও ব্যথা বাড়ে।

পেশিতে টান ও ঘাড়–কাঁধের ব্যথা:
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ‘টি-রেক্স’ ভঙ্গিতে ঘুমান, তারা ঘাড় ও কাঁধের ব্যথায় বেশি ভোগেন। অনেক ক্ষেত্রে ফ্রোজেন শোল্ডারের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

কারপাল টানেল সিনড্রোমের ঝুঁকি:
কবজি ভাঁজ করে দীর্ঘ সময় রাখলে কবজির পেশিতে প্রদাহ তৈরি হয়। এতে ‘কারপাল টানেল’-এর মধ্য দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে কবজিতে ব্যথা, হাত ঝিনঝিন করা ও আঙুল নড়াচড়া করতে কষ্ট হতে পারে।

ডেড আর্ম বা হাত অবশ হয়ে যাওয়া:
সারা রাত হাত মুড়িয়ে রাখলে অনেকেরই সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত অবশ লাগা, ঝিঁঝিঁ ধরা বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডেড আর্ম’ বলা হয়।

অন্য ক্ষতিকর ভঙ্গিও রয়েছে

চিকিৎসকদের মতে, এক পাশ ফিরে একটি পায়ের হাঁটু বুকের কাছে মুড়ে এবং দুই হাত সামনে প্রসারিত করে ঘুমানোর অভ্যাসও সঠিক নয়। দীর্ঘদিন এভাবে ঘুমালে শরীরের ভার সমানভাবে বিছানায় পড়ে না, ফলে কাঁধ, ঘাড় ও কোমরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।

কোন ভঙ্গি তুলনামূলক ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাম পাশ ফিরে ঘুমানো শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো। এতে গ্যাস–অম্বল ও এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে, হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে এবং পেশির ব্যথাও তুলনামূলক কম হয়।



ল ৭টি ধাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো এখানে আলোচনা করা হলো।

​১. আপনার লক্ষ্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট হোন।

​ম্যানিফেস্টেশনের প্রথম ধাপ হলো আপনি আসলে কী চান তা স্পষ্টভাবে জানা।

​অস্পষ্ট ইচ্ছা কাজ করে না। যেমন: "আমি অনেক টাকা চাই"। এটা কোনো সুনির্দিষ্ট ইচ্ছা না৷ অসম্পূর্ণ ইচ্ছা। আগা নেই, মাথা নেই৷ আপনাকে  সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করতে হবে৷ টাকা যে চান, কোন কাজের মাধ্যমে সেই টাকাটা পেতে চান, বা কোন সেক্টর থেকে টাকাটা আসবে তার সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত প্ল্যানিং থাকতে হবে৷ যেমন: "আমি আগামী এক বছরের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পদে পদোন্নতি চাই"। তাহলে সেই পদোন্নতির জন্য যা করা লাগে, ধারাবাহিকভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনাকে সেটা করতে হবে৷

​এর জন্য একটি 'ভিশন বোর্ড' তৈরি করুন বা আপনার লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে ডায়েরিতে লিখুন।

​২. ভয় এবং সন্দেহ দূর করুন।

​আপনার অবচেতন মনে যদি ভয় বা নিজেকে অযোগ্য ভাবার প্রবণতা থাকে, তবে ম্যানিফেস্টেশন কাজ করবে না।

​আপনার ভেতরে থাকা 'লিমিটিং বিলিফ' বা সীমাবদ্ধ চিন্তাভাবনাগুলো চিহ্নিত করুন। "আমি এটা পারব না" এই চিন্তাটি কেন আসছে, তার মূলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

​নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ইতিবাচক বাক্য ব্যবহার করুন।

​৩. নিজের আচরণ বা কাজকে লক্ষ্যের সাথে মেলান।

​শুধু ভেবে বসে থাকলে হবে না, আপনার কাজকেও লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

​আপনি যে মানুষটি হতে চান, তার মতো করে আচরণ করা শুরু করুন। আপনার অভ্যাস এবং সিদ্ধান্তগুলো যেন আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের প্রতিফলন হয়।

​প্রতিদিন ছোট ছোট এমন কিছু কাজ করুন যা আপনাকে আপনার লক্ষ্যের এক ধাপ কাছে নিয়ে যায়।

​৪. মহাবিশ্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন।

​লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বাধা বা প্রলোভন আসবেই। এগুলোকে লেখিকা 'মহাবিশ্বের পরীক্ষা' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​অনেক সময় আপনি যা চান তার চেয়ে একটু কম ভালো কিছু আপনার সামনে আসবে। দ্রুত সেটা গ্রহণ না করে আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্যের জন্য ধৈর্য ধরুন।

​নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখুন এবং সস্তা বা সাময়িক কোনো সুযোগের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ত্যাগ করবেন না।

​৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

​কৃতজ্ঞতা হলো ইতিবাচক শক্তির চাবিকাঠি।

​আপনার যা নেই তা নিয়ে আফসোস না করে, আপনার যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ হোন। এটি আপনার মানসিক অবস্থাকে 'অভাব' থেকে 'প্রাচুর্য'-এর দিকে নিয়ে যায়।

​প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত ৩টি জিনিসের নাম লিখুন যার জন্য আপনি সেদিন কৃতজ্ঞ ছিলেন।

​৬. ঈর্ষাকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করুন।

​অন্যের সাফল্য দেখে হীনম্মন্যতায় না ভুগে সেটাকে ইতিবাচকভাবে নিন।

​কেউ যদি আপনার কাঙ্ক্ষিত কিছু অর্জন করে থাকে, তবে বুঝবেন সেটি আপনার জন্যও অর্জন করা সম্ভব। ঈর্ষা আপনার ইতিবাচক শক্তি কমিয়ে দেয়।

​সফল ব্যক্তিদের প্রতি ঈর্ষান্বিত না হয়ে তাদের থেকে শেখার চেষ্টা করুন।

​৭. স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস রাখুন।

​সবশেষে, নিজের প্রচেষ্টার পর ফলাফল পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরুন।

​"কখন হবে?" বা "কিভাবে হবে?"—এই নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করুন। নিজের কাজের ওপর এবং সঠিক সময়ের ওপর আস্থা রাখুন।

​নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছা ছেড়ে দিয়ে বর্তমান কাজে মনোনিবেশ করুন।

​•

​রক্সি নাফুসির মতে, ম্যানিফেস্টেশন মানে কেবল জাদুর মতো কিছু পাওয়া নয়, বরং এটি আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং ইতিবাচক মানসিকতার একটি সমন্বয়। আপনি নিজেকে কতটা যোগ্য মনে করেন, জীবন আপনাকে ঠিক ততটুকুই দেবে।


বন্ধুত্ব করবার ক্ষমতা

ফ্রিডরিখ নিৎসে

বন্ধুত্ব করবার ক্ষমতা সবার একরকম হয় না। যাদের এই বিশেষ গুণ আছে, তাদের মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমভাগে মইয়ের মতো মানুষ, যারা জীবনে ক্রমাগত উন্নতির দিকে এগিয়ে যায়। তারা তাদের জীবনের প্রতিটি ধাপের জন্যে আলাদা বন্ধু খুঁজে নেয়। এইসব বন্ধু ও তার নিজের মধ্যে কোনো মিল থাকে না। সে নিজে যত বদলে যায়, তার বন্ধুরাও তত বদলে যায়। আগের বন্ধুদের সঙ্গে পরের বন্ধুদের কোনো মিল পাওয়া যায় না। এই ধরনের মানুষকে মই বলা যেতে পারে, কারণ তারা জীবনের একেকটা ধাপ পার হবার জন্যে একেকজন বন্ধুকে বেছে নেয়। দ্বিতীয় ভাগে বৃত্তের মতো মানুষ, যারা খুব সহজেই নানা রকমের মানুষকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারে। তারা অনেক বন্ধু তৈরি করে এবং তার মাধ্যমেই এই আলাদা স্বভাবের সব বন্ধু পরস্পর মিলেমিশে এক হয়ে যায়। সে সবাইকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। এই ধরনের মানুষকে বৃত্ত বলা যেতে পারে, কারণ তার মাঝেই সব ধরনের মানুষের মিলেমিশে থাকবার ক্ষমতা লুকিয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হল অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ভালো বন্ধু পাবার ভাগ্য তাদের যত ভালো, নিজে ভালো বন্ধু হয়ে উঠবার গুণটা ঠিক ততটাই কম। ভাষান্তর: নির্ঝর নৈঃশব্দ্য Human, All Too Human বই থেকে)



লুই ব্রেইল। আজ তাঁর জন্মজয়ন্তী। এই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব ব্রেইল দিবস’ হিসেবে—অন্ধকারের ভেতর জ্ঞানের আলো জ্বালানোর এক ঐতিহাসিক স্মরণে।

১৮০৯ সালের এই দিনে ফ্রান্সের এক ছোট্ট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন লুই ব্রেইল। শৈশবেই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা। মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার চামড়ার কর্মশালায় কাজ করতে গিয়ে একটি ধারালো সুঁইয়ের আঘাতে তিনি এক চোখ হারান। সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্য চোখেও। অল্প সময়ের মধ্যেই আলো নিভে যায় তাঁর জীবনের দিগন্ত থেকে। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হারালেও, হার মানেনি তাঁর কৌতূহল, অধ্যবসায় আর শেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষা।

পরবর্তীতে লুই ভর্তি হন প্যারিসের ‘রয়্যাল ইনস্টিটিউট ফর ব্লাইন্ড ইয়ুথ’-এ। সেখানে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত জটিল ও ধীরগতির। উঁচু হরফে ছাপা বই পড়তে সময় লাগত অনেক, আর ভুলের সম্ভাবনাও ছিল বেশি। এই সীমাবদ্ধতাই তরুণ লুইকে ভাবিয়ে তোলে। কীভাবে দৃষ্টিহীন মানুষ সহজে, দ্রুত এবং স্বাধীনভাবে পড়তে পারবে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি উদ্ভাবন করেন এক অভিনব পদ্ধতি, যা পরে তাঁর নামেই পরিচিত হয় ‘ব্রেইল’ নামে।

ব্রেইল কোনো ভাষা নয়; এটি একটি সর্বজনীন লিখনপদ্ধতি। একটি ছোট আয়তাকার কোষে বিন্যস্ত ছয়টি উঁচু বিন্দুর সুনির্দিষ্ট বিন্যাসের মাধ্যমে তৈরি হয় অক্ষর, সংখ্যা, এমনকি গণিত ও সংগীতের চিহ্নও। এই ছয়টি বিন্দুর অসীম সম্ভাবনার ভেতর দিয়েই দৃষ্টিহীন মানুষ আঙুলের ডগা দিয়ে স্পর্শ করে পড়ে নিতে পারে জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার। বিন্দুর এই জাদুই বদলে দেয় অন্ধত্বের সংজ্ঞা—অন্ধকার আর অজ্ঞানতার সমার্থক থাকে না।

তবে ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো, লুই ব্রেইল তাঁর জীবদ্দশায় এই আবিষ্কারের প্রকৃত স্বীকৃতি পাননি। ১৮৫২ সালে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে বিশ্ব বুঝতে শুরু করে, দৃষ্টিহীনদের শিক্ষায় ব্রেইলই সবচেয়ে কার্যকর ও মানবিক পথ। তাঁর মৃত্যুর ঠিক একশ বছর পর, ১৯৫২ সালে, ফ্রান্স সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে তাঁর দেহাবশেষ স্থানান্তর করে প্যারিসের ‘প্যানথিওন’-এ—যেখানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চিরস্মরণীয় করে রাখা হয়।

বর্তমান বিশ্বে ব্রেইলের গুরুত্ব আরও বিস্তৃত ও গভীর। ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ জানুয়ারিকে ‘বিশ্ব ব্রেইল দিবস’ হিসেবে পালন করছে। এই দিবস দৃষ্টিহীন মানুষের মানবাধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এবং শিক্ষায় সমান সুযোগের বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ব্রেইল ব্যবহারের মাধ্যমে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিও এই দিবসের অন্যতম তাৎপর্য।

ডিজিটাল যুগে অডিও বুক, স্ক্রিন রিডার কিংবা রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লের মতো প্রযুক্তি অনেক দূর এগিয়েছে। তবু আঙুলের স্পর্শে বিন্দুর ওপর দিয়ে পড়ার যে মৌলিক অনুভূতি, ভাষা ও বানান শেখার যে দৃঢ় ভিত্তি—তা আজও ব্রেইল পদ্ধতির মাধ্যমেই সবচেয়ে গভীর ও কার্যকরভাবে সম্ভব।

লুই ব্রেইল আমাদের শিখিয়েছেন, দেখার জন্য চোখই সব নয়—মনের জানালাই সবচেয়ে বড় আলো। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই জ্ঞান, শিক্ষা কিংবা স্বপ্নের পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না। আজ বিশ্ব ব্রেইল দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত এমন এক মানবিক পৃথিবী গড়া, যেখানে কেউ অন্ধকারে পড়ে থাকবে না—কারণ প্রত্যেক মানুষের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার অধিকার সমান।@ রাকিব আমিন



ভেক্স কিং-এর লেখা 'গুড ভাইবস, গুড লাইফ' বইটি বিশ্লেষণ করে কিছু পরামর্শ এখানে তুলে ধরা হলো৷ কথাগুলো আপনার কাজে লাগবে।

১. ঘৃণা, হিংসা বা নেতিবাচক চিন্তা আপনার শক্তি কমিয়ে দেয়। নিজের শক্তি বৃদ্ধির জন্য সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করুন।

​২. ​নিজেকে ভালোবাসা মানে কেবল সুন্দর দেখানো নয়, বরং নিজের ভালো মন্দের দায়িত্ব নেওয়া।

৩. ​আপনার চেহারা বা ব্যক্তিত্ব যেমনই হোক, তাকে গ্রহণ করতে শিখুন।

৪. ​নিজের সীমানা নির্ধারণ করুন। যারা আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করে, তাদের 'না' বলতে শিখুন।

​৫. প্রতিদিন অন্তত তিনটি জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।

​৬. অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বর্তমানকে উপভোগ করুন।

​৭. প্রতিদিন কিছু সময় একা এবং শান্তভাবে কাটান।

৮. ​আপনার চারপাশের মানুষ এবং পরিবেশ আপনার চিন্তাধারায় বড় প্রভাব ফেলে।

​যারা আপনাকে ছোট করে বা সবসময় নেতিবাচক কথা বলে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন।

৯. ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয় তুলনা বা নেতিবাচক সংবাদ দেখা বন্ধ করুন।

​১০. ​আমরা যা বিশ্বাস করি, আমাদের জীবন ঠিক সেভাবেই গড়ে ওঠে। নিজেকে ইতিবাচক কথা বলুন। যেমন: "আমি সফল হব", "আমি শক্তিশালী"

এটি আপনার অবচেতন মনকে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করে।

১১. আপনি যা হতে চান বা যা অর্জন করতে চান, তা নিয়ে স্পষ্ট স্বপ্ন দেখুন।

​১২. ​শুধু ইতিবাচক চিন্তা করলেই হবে না, সেই অনুযায়ী কাজও করতে হবে।

​অর্থাৎ ভেতর থেকে যে কাজের তাগিদ অনুভব করেন, দেরি না করে তা শুরু করুন।

মূল বার্তা হলো- আপনি যখন নিজের ভেতরটা পরিবর্তন করবেন, তখন আপনার বাইরের পৃথিবীটাও নিজে থেকেই বদলে যাবে। @ আশ্রাফ




​খুশি থাকা কোনো গন্তব্য নয়, বরং এটি একটি জীবনযাত্রা যা আপনার চিন্তার ওপর নির্ভর করে।

প্রোডাক্টিভিটি মানে কেবল সারাদিন ব্যস্ত থাকা নয়, বরং মানসিক শান্তি বজায় রেখে কাজ করা। নিজের দিনটিকে আরও কার্যকর ও শান্তিময় করতে আপনি নিচের অভ্যাসগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

​১. সকালের একটি রুটিন মেনে চলুন: প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট কিছু কাজ (যেমন: প্রার্থনা, হালকা ব্যায়াম বা বই পড়া) করার অভ্যাস করুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে শান্ত রাখে এবং সারাদিনের জন্য প্রস্তুত করে।

​২. স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা: সকালে পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীরে শক্তি পাওয়া যায় এবং কাজে মনোযোগ বাড়ে। এটি আপনার মেজাজও ভালো রাখতে সাহায্য করে।

​৩. আগের রাতে কাজের তালিকা তৈরি করুন: পরের দিন কী কী করবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখলে সকালে উঠে দ্বিধায় পড়তে হয় না। তবে তালিকাটি যেন বাস্তবসম্মত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

​৪. ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ: বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। ছোট ছোট জয় আপনাকে বড় কাজ শেষ করার আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

​৫. বিশ্রামের জন্য সময় রাখুন: টানা কাজ না করে মাঝে মাঝে ছোট বিরতি নিন। বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং কাজের গতি বাড়ানোর জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

​৬. কাজ জমিয়ে রাখবেন না: কোনো কাজ সামনে এলে তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করুন। কাজ ফেলে রাখলে তা মাথায় বাড়তি চাপ তৈরি করে।

​৭. সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখুন: কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানো এবং কাজ শেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে বের হওয়া শৃঙ্খলার পরিচয় দেয়। এটি কাজের বাইরে আপনার ব্যক্তিগত জীবনকেও সুন্দর করে।

​৮. অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন: যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। কেবল প্রয়োজনীয় বিষয়ে মনোযোগ দিন।

​৯. স্ক্রিন টাইম বা মোবাইল ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার আপনার শক্তি এবং মনোযোগ নষ্ট করে। তাই কাজের সময় ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

​১০. দিন শেষে কৃতজ্ঞতা ও মূল্যায়ন: দিন শেষে নিজেকে প্রশ্ন করুন আজ আপনি কী কী শিখলেন বা কী কী ভালো হলো। ছোট ছোট উন্নতিতেও সন্তুষ্ট থাকুন।

​একটি ফলপ্রসূ দিন মানে আপনি কত বেশি কাজ করলেন তা নয়, বরং আপনি কতটা ভারসাম্য বজায় রেখে কাজগুলো করলেন সেটাই আসল। আজ থেকেই যেকোনো একটি ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন!________________সূত্র: মিডিয়া


'দ্য ইনার ওয়ার্ক' (The Inner Work) বইটি থেকে কিছু কথা আলোচনা করবো আজ, যা আপনার জীবন সহজ করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

​১. 'ক্লোকিং' বা দমবন্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ:

​চাপের মুখে অনেক সময় দক্ষ খেলোয়াড় বা পেশাজীবীরাও ভুল করে বসেন। যখন আমরা কোনো কাজে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেলি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারায়। তাই চাপ না নিয়ে রিলাক্স থাকুন৷ ধরা যাক চাকরির ভাইভা বোর্ডে আপনি বসেছেন৷ আপনার মনে যদি থাকে, চাকরিটা আপনার পেতেই হবে, যে কোনো মূল্যে ভাইভাতে ভালো করা লাগবে, আপনি জেনে রাখুন ওই চাকরি আপনার হবে না। কারণ আপনার ভাইভা ভালো হবে না। আপনি চাপের মধ্যে আছেন। প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে আপনি দিতেই পারবেন না৷ নার্ভাস হয়ে যাবেন, কথা এলোমেলো হয়ে যাবে৷

অথচ আপনি যদি 'চাকরি হবে না' ভেবে বোর্ডে ঢোকেন, দেখবেন কী দারুণ পারফরম্যান্স আপনার! কারণ আপনার মাথায় চাকরি পাওয়ার চাপ নেই৷ দিলে দিক, না দিলে না দিক। আপনার মতো আপনি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবেন সাবলীলভাবে। চাকরিটা আপনার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ কারণ আপনি চাপ নেননি। আপনার মস্তিষ্ক ঠিকঠাক কাজ করেছে৷ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রিলাক্সড থাকবেন, পরিস্থিতি যা হোক, অতিরিক্ত চাপ নেবেন না। চাপ নিলেই মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেবে৷ সমস্যার সমাধান হবে না। রিলাক্স থাকুন। দেখবেন সমাধান বের হয়েছে কতটা সহজে।

​২. ইগো বা অহংবোধের প্রভাব:

​'ইগো' আমাদের শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। নিজেকে সবসময় 'সেরা' প্রমাণ করার চেষ্টা না করে, একজন 'শিক্ষার্থী' হিসেবে ভাবুন। ভুল স্বীকার করার মানসিকতা আপনার উন্নতির পথ প্রশস্ত করে।

​৩. গ্রোথ মাইন্ডসেট:

​সাফল্য কোনো স্থায়ী বিষয় নয়, বরং এটি নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল। নিজের দক্ষতাকে স্থিতিশীল মনে করবেন না। বিশ্বাস করুন যে কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে যেকোনো সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

​৪. ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করা:

​ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং এটি পরবর্তী ধাপে যাওয়ার একটি তথ্য বা ডেটা।

​কোনো কাজে ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে বিশ্লেষণ করুন কেন এমন হলো। এই বিশ্লেষণই আপনাকে ভবিষ্যতে নিখুঁত হতে সাহায্য করবে।

​৫. বর্তমান মুহূর্তে থাকা:

​ভবিষ্যতের ফলাফল বা অতীতের ভুল নিয়ে ভাবলে বর্তমানের কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

​আপনার নিয়ন্ত্রণে যা আছে (যেমন: আপনার চেষ্টা বা মনোযোগ), কেবল সেটুকুর ওপর দৃষ্টি দিন। ফলাফলের দুশ্চিন্তা আপনার পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়।

​৬. উদ্দেশ্য এবং অর্থ খুঁজে পাওয়া:

​আপনি কেন কাজটি করছেন, তার একটি গভীর উদ্দেশ্য থাকা প্রয়োজন।

​কেবল টাকা বা স্বীকৃতির জন্য কাজ না করে, কাজের পেছনের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটি খুঁজুন। এটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী অনুপ্রেরণা জোগাবে।

​'দ্য ইনার ওয়ার্ক' আমাদের শেখায় যে বাইরের জগতের লড়াই জেতার আগে নিজের ভেতরের লড়াইটা জেতা জরুরি। যখন আপনি আপনার চিন্তাভাবনা এবং মানসিক অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবেন, বাইরের সাফল্য তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।



যারা সত্যিকার অর্থে ধনী কিন্তু সেটা লোকচক্ষুর সামনে জাহির করেন না, তাদের ৮টি বিশেষ অভ্যাসের কথা এখানে বলা হয়েছে। দেখুন তো আপনার সাথে মেলে কিনা৷

​১. তারা লোক দেখানোর চেয়ে স্বাধীনতার গুরুত্ব দেন বেশি।

​প্রকৃত ধনীরা এমনভাবে জীবন সাজান যাতে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা কম থাকে। তারা দামি গাড়ি বা ব্র্যান্ডের পেছনে না ছুটে নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেন। তারা সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন কারণ এটি তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেয়।

​২. প্রয়োজন ছাড়া টাকা নিয়ে কথা বলেন না।

​তারা কত আয় করেন বা কত সম্পদ আছে তা কাউকে বলে বেড়ান না। তাদের কাছে টাকা তাদের পরিচয় নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম মাত্র। তারা টাকা-পয়সার চেয়ে বিভিন্ন আইডিয়া বা অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতে বেশি পছন্দ করেন।

​৩. নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে খরচ করেন, বাকিগুলো এড়িয়ে চলেন।

​শান্ত সম্পদের অধিকারীরা কিপটে নন, বরং সচেতন। তারা স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অকাতরে খরচ করেন। কিন্তু ট্রেন্ড অনুসরণ করতে বা কাউকে ইমপ্রেস করতে অপ্রয়োজনীয় খরচ তারা করেন না।

​৪. তারা বিলাসিতার চেয়ে গুণমানকে (Quality) প্রাধান্য দেন।

​তারা এমন জিনিস কেনেন যা দীর্ঘস্থায়ী এবং নির্ভরযোগ্য। তারা দামি লোগো দেওয়া পোশাকের চেয়ে আরামদায়ক ও টেকসই পোশাক পছন্দ করেন। তাদের কাছে কোনো জিনিসের গুণমান মানে হলো সেটা নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করার মানসিক প্রশান্তি।

​৫. তারা প্রচার এড়িয়ে চলেন।

​বেশি প্রচার মানেই মানুষের প্রত্যাশা এবং বিচার-বুদ্ধির মুখে পড়া। শান্ত ধনীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের সফলতা বা সম্পদ নিয়ে খুব একটা পোস্ট করেন না। তারা নিজেদের জীবনকে আড়ালে রেখে শান্তিতে থাকতে পছন্দ করেন।

​৬. সামাজিক মর্যাদার চেয়ে মানসিক নিরাপত্তাকে বড় মনে করেন।

​যাদের আত্মবিশ্বাস কম থাকে, তারা সম্পদ দেখিয়ে মানুষের বাহবা পেতে চায়। কিন্তু যারা সত্যিকার অর্থে ধনী, তারা নিজেদের অবস্থানে স্থির ও নিরাপদ বোধ করেন। তাদের মূল্যে অন্যের প্রশংসার ওপর নির্ভর করে না, তাই তারা খুব শান্ত মেজাজের হয়ে থাকেন।

​৭. তারা দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করেন।

​তারা কয়েক মাস বা বছরের লাভ না দেখে দশকের পর দশক পরের কথা ভাবেন। তারা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। বিনিয়োগ বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা ধৈর্য ধরেন এবং ধীরে ধীরে উন্নতির ওপর বিশ্বাস রাখেন।

​৮. তারা ধনী সাজার বদলে সম্পদ ধরে রাখায় মনোযোগ দেন।

​অনেকে ধনী দেখানোর জন্য টাকা খরচ করে নিঃস্ব হয়ে যান। কিন্তু এই শ্রেণির মানুষ তাদের সম্পদ ধরে রাখার জন্য বিনিয়োগ, সঞ্চয় এবং স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের যত্ন নেন। তাদের কাছে ধনী 'দেখা যাওয়ার' চেয়ে ধনী 'থাকা' বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

​•

শান্ত সম্পদ মানে টাকা লুকিয়ে রাখা নয়, বরং টাকাকে নিজের স্বভাব নষ্ট করতে না দেওয়া। যারা এই দর্শনে বিশ্বাসী, তারা অন্যের স্বীকৃতির পরোয়া না করে নিজের শর্তে বাঁচতে পছন্দ করেন।

___________________

সূত্র: সিলিকন ক্যানেলস


মেধা থাকলেই সাফল্য পাওয়া যায়, সব সময় এমন নাও হতে পারে। অনেক সময় মানুষের কিছু অভ্যাস ও মানসিকতা এগিয়ে যাওয়ার পথ আটকে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, প্রত্যেক মানুষের মধ্যে অপ্রকাশিত সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু কিছু অভ্যাস অনেকের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই নতুন বছরের শুরু থেকে বাদ দিন ৭ অভ্যাস।

১. অতীতে আটকে থাকা:

আপনাকে সব সময় একই থাকতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জীবনের কোনো এক সময়ে কেউ হয়তো আপনার গণিতে দুর্বলতা নিয়ে কথা বলেছে। কোনো আত্মীয় হয়তো আপনাকে অলস বলেছে। কিন্তু তাই বলে সেসব মন্তব্য মাথায় নিয়ে বসে থাকার কোনো কারণ নেই। মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা সব সময় এক থাকে না। সময়ের সঙ্গে, চেষ্টা করলে অনেক কিছু বদলে ফেলা যায়। অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, এসব মন্তব্য মানুষ করবেই। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন আমরা সেই ধারণাগুলোকে নিজের পরিচয় বলে ধরে নিই। অনেকে মনে করেন, নিজেকে বদলাতে হলে আগে আত্মবিশ্বাস বা সঠিক সময় দরকার। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

ফলে নতুন বছর শুরু করুন ইতিবাচকতা দিয়ে। বদলে ফেলুন নিজের অতীতমুখিতা।

২. সবাইকে খুশি করার ভয়:

সফল হতে চাইলে আগে এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে যে, সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না। জীবনে যতই ভালো কাজ করুন না কেন, এমন মানুষ থাকবে যারা আপনাকে ভুল বুঝবে বা সমালোচনা করবে। তাই সব সময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গেলে অনেক সময় উল্টো ফল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সবার মন জোগানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক মানুষ দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভোগে। সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলার অভ্যাস মানুষকে ভেতরে-ভেতরে নিঃশেষ করে দেয়। এই মানসিক চাপ কাজের মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যতদিন নিজেকে না বদলাচ্ছেন, তত দিন নতুন করে এসব কথা শুনতেই হবে আপনাকে। তার চেয়ে ভালো বরং নিজেকে বদলে ফেলা—অন্যের ক্ষতি না করে নিজের মতো করে চলা।

৩. নিজের সক্ষমতার চেয়ে কম করে কাজ করা:

বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনের বেশি চেষ্টা করে না। যতটুকু করলে চলে ততটুকুতেই থেমে যায়। কিন্তু এতে জীবন এগোয় না। এভাবে চলতে থাকলে অজান্তেই মানুষ পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। জীবনে সব সময়ই প্রতিযোগিতা থাকে। তাই থেমে গেলে চলবে না। নিজের সামর্থ্য বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত উন্নতির চেষ্টা করতে হবে। ধারাবাহিক পরিশ্রম আর নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা ছাড়া প্রকৃত সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

৪. পরিস্থিতিকে দোষ দেওয়া:

ব্যর্থ মানুষেরা সাধারণত সমস্যাকে স্থায়ী এবং নিজেদের অযোগ্যতার ফল বলে মনে করে। অন্যদিকে সফল মানুষেরা ব্যর্থতাকে সাময়িক ও পরিস্থিতিগত বিষয় হিসেবে দেখে। ‘আমার প্রতিভা নেই’ বা ‘পরিবেশ অনুকূলে নয়’—এসব আসলে মানসিক অজুহাত। যখন আপনি এসব ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে পারবেন, দেখবেন নিজে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সাফল্য পেতে।

৫. কাজ অর্ধেক রেখে দেওয়া:

সফল মানুষদের একটি সাধারণ অভ্যাস হলো, কাজ শেষ করা। অ্যালেক্স ম্যাথার্স বলেন, ছোট কাজ থেকেই শুরু করা উচিত। যেমন বাসন ধোয়া হলে পুরো শেষ করা, ঘর পরিষ্কার করলে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। এই অভ্যাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পুরো কাজ শেষ করতে পারার মানসিকতা তৈরি হয়, যা জীবনের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

৬. একঘেয়েমিকে ভয় পাওয়া:

অনেকে একটু একঘেয়েমি লাগলেই মোবাইল ফোন হাতে তুলে নেন। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢোকেন বা কখনো ভিডিও দেখে সময় কাটান। মনে হয়, এতে বিরক্তি কমবে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাস আসলে মানুষকে আরও অস্থির ও অসন্তুষ্ট করে তোলে। সফল মানুষেরা বিষয়টা অন্যভাবে দেখে। তারা সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চায় না। একটু নীরবতা, একটু একঘেয়েমিকে তারা মেনে নিতে শেখে। এই সময়েই তাদের মন শান্ত হয়, আর নতুন আইডিয়া আসার সুযোগ তৈরি হয়।

৭. সাফল্যকে প্রয়োজন মনে না করা:

অ্যালেক্স ম্যাথার্সের মতে, যদি সাফল্যকে আপনি শুধু সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন, তাহলে গড়পড়তা জীবনই আপনার ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়াবে। সাফল্যকে নিজের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে। আপনার কাছে সাফল্যের মানে কী, তা স্পষ্টভাবে ঠিক করে সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলাই এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

_________________

সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস



আধুনিক জীবনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে কীভাবে নিজের মানসিক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হলো৷ কাজে লাগতে পারে৷

​১. নিয়ন্ত্রণের সীমা বোঝা:

​আপনার জীবনের সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। আবহাওয়া, অন্যের মতামত বা ট্রাফিক জ্যাম—এসব আপনি বদলাতে পারবেন না। শুধুমাত্র নিজের চিন্তাভাবনা এবং কাজের ওপর মনোযোগ দিন। যা আপনার হাতে নেই, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বাদ দিলে আপনি প্রকৃত শান্তি পাবেন।

​২. সকালে নিজের জন্য সময় রাখা:

​দিন শুরু করার আগে কয়েক মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। আজ কী কী চ্যালেঞ্জ আসতে পারে তা ভাবুন এবং ঠিক করুন আপনি সেগুলোর বিপরীতে শান্ত থাকবেন। নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে আপনি আজ কেবল আপনার নিজের আচরণের জন্য দায়ী।

​৩. নেতিবাচক পূর্বানুমান:

​মাঝে মাঝে কল্পনা করুন যে আপনার প্রিয় কিছু হারিয়ে গেছে বা কোনো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি আপনাকে হতাশ করার জন্য নয়, বরং বর্তমানের প্রাপ্তিগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে।

​৪. বাধাগুলোকে সুযোগে রূপান্তর:

​যখন কোনো সমস্যা আসে, তখন বিরক্ত না হয়ে ভাবুন এটি আপনাকে নতুন কী শেখাতে পারে। কোনো বাধা আসলে থেমে না গিয়ে সেটিকে আপনার ধৈর্য বা সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পথ হিসেবে ব্যবহার করুন।

​৫. প্রতিক্রিয়ার আগে বিরতি নেওয়া:

​কেউ আপনাকে অপমান করলে বা কোনো খারাপ খবর শুনলে সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। উদ্দীপনা এবং প্রতিক্রিয়ার মাঝে একটি ছোট বিরতি নিন। এই কয়েক সেকেন্ডের চিন্তা আপনাকে রাগের বদলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

​৬. অপ্রয়োজনীয় জিনিসের মোহ ত্যাগ:

​মাঝে মাঝে বিলাসিতা ত্যাগ করার অভ্যাস করুন। যেমন—খুব সাধারণ খাবার খাওয়া বা মেঝেতে ঘুমানো। এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে আপনার সুখ বাইরের দামি জিনিসের ওপর নির্ভর করে না, বরং আপনার মানসিক শক্তির ওপর নির্ভর করে।

​৭. বর্তমান মুহূর্তে বাস করা:

​অতীতের অনুশোচনা বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা বর্তমানকে নষ্ট করে। আপনার হাতে কেবল বর্তমান মুহূর্তটিই আছে। তাই যা করছেন, তাতে পূর্ণ মনোযোগ দিন।

​৮. ডায়েরি বা জার্নাল লেখা:

​দিন শেষে নিজের কাজের বিচার করুন। আজ কোথায় আপনি ভালো করেছেন? কোথায় আরও উন্নত করা যেত? এটি আত্মউন্নয়নের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

​৯. মৃত্যুর কথা স্মরণ রাখা:

​শুনে নেতিবাচক মনে হলেও, 'একদিন মরতে হবে' এই চিন্তাটি আপনাকে জীবনের সঠিক মূল্য বোঝাতে সাহায্য করে। এটি আপনাকে তুচ্ছ বিষয়ে সময় নষ্ট না করে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মন দিতে উৎসাহ দেয়।

​•

এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে আপনি বাইরের পরিস্থিতির দাসে পরিণত না হয়ে নিজের জীবনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন।

__________________

সূত্র: মিডিয়াম