জেন্টল প্যারেটিং নিয়ে আত্ম উপলব্ধি
জেন্টল প্যারেটিং নিয়ে আত্ম উপলব্ধি
জেন্টল প্যারেটিং নিয়ে আত্ম উপলব্ধি ও প্রশ্ন উত্তর প্রতিযোগিতা ৫০ টি আদব কায়দা ও নৈতিকতা বিষয়ক তথ্যাবলী সম্বলিত একটি ১৬ পৃষ্ঠার পুস্তিকা
কিভাবে বুঝবেন আপনি 'ওভারপ্যারেন্টিং' বা বাচ্চাকে অতিরিক্ত শাসন/যত্ন করছেন কিনা৷
১. বাচ্চার সব সমস্যার সমাধান আপনি করে দেন: বাচ্চা কোনো ছোট সমস্যায় পড়লে বা কারো সাথে ঝগড়া করলে আপনি নিজেই তা মিটিয়ে দেন। এতে বাচ্চা নিজে থেকে সমস্যা সমাধান করতে শেখে না।
২. ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়া: আপনি যদি বাচ্চার ছোটখাটো ভুল বা কম নম্বর পাওয়াকে বড় বিপর্যয় মনে করেন, তবে বাচ্চা ঝুঁকি নিতে ভয় পাবে এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।
৩. সবসময় তদারকি করা: বাচ্চা কখন কী করছে, কার সাথে মিশছে—সবসময় গোয়েন্দার মতো নজর রাখা। এতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়।
৪. অতিরিক্ত ব্যস্ত রুটিন: বাচ্চার সারাদিনের প্রতিটি মুহূর্ত পড়াশোনা বা এক্সট্রা কারিকুলাম দিয়ে ভরে রাখা। তাদের নিজেদের মতো চিন্তা করার বা অলস সময় কাটানোর সুযোগ না দেওয়া।
৫. ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া: বাচ্চার পরিশ্রম বা শেখার চেয়ে পরীক্ষায় কত নম্বর পেল বা ট্রফি জিতল কি না—সেটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
২
প্রাচী
বাচ্চাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার উপায়:
ভুল করতে দিন: বাচ্চাকে ছোটখাটো ভুল করতে দিন এবং সেই ভুল থেকে সে কী শিখল তা নিয়ে আলোচনা করুন। এটি তাকে ভবিষ্যতে বড় বাধা সামলাতে সাহায্য করবে।
ফলাফলের চেয়ে প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিন: সে জিতেছে কি না তার চেয়ে বড় কথা সে কতটা চেষ্টা করেছে। তার পরিশ্রমের প্রশংসা করুন।
নিজে সমাধান না করে পথ দেখান: কোনো সমস্যায় পড়লে তাকে সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করুন— "তোমার কী মনে হয় এটা কীভাবে ঠিক করা যায়?" এতে তার চিন্তাশক্তি বাড়বে।
ঘরের কাজে যুক্ত করুন: ছোটবেলা থেকেই ঘরের ছোট ছোট দায়িত্ব (যেমন: নিজের খেলনা গোছানো বা খাবার টেবিল গোছানো) দিলে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।
তাদের কথা মন দিয়ে শুনুন: বাচ্চার আবেগ বা ভয়কে উড়িয়ে দেবেন না। তাদের কথা মন দিয়ে শুনলে তারা নিজেদের মূল্যবান মনে করে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
বাচ্চাকে জীবনের কঠিন পথ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে, বরং তাকে কঠিন পথ চলার মতো শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলাই হলো আসল অভিভাবকত্ব।
সূত্র: সিএনবিসি, কৃতজ্ঞতা: ড. জেনিফার ওয়ালেস
প্রাচী
৭ বছরের আগে ৩টি ভাষা? এটি কি বাচ্চাকে কনফিউজড করে দেবে নাকি তাকে আরও মেধাবী করবে?
অনেক বাবা-মা ভাবেন, বাচ্চাকে একসাথে বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষা শেখালে তার ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়বে। সে হয়তো কোনোটিই ঠিকমতো শিখতে পারবে না। কিন্তু নিউরোসায়েন্স বলছে একদম উল্টো কথা।
বিজ্ঞান বলছে, ৭ বছর বয়সের আগে একটি বাচ্চার ব্রেইন একটি 'লিঙ্গুইস্টিক স্পঞ্জ' (Linguistic Sponge) এর মতো কাজ করে। তারা অনায়াসেই ৩ থেকে ৪টি ভাষা একসাথে আয়ত্ত করতে পারে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।
পেছনের বিজ্ঞান: Critical Period Hypothesis
১. নিউরোপ্লাস্টিসিটি (Neuroplasticity): জন্মের পর থেকে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার মস্তিষ্কে ভাষার জন্য নিউরাল কানেকশনগুলো সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং নমনীয় থাকে। তারা ব্যাকরণ মুখস্থ না করেই সরাসরি ব্রেইনের লজিক্যাল এবং ইমোশনাল উভয় অংশ ব্যবহার করে ভাষা শিখতে পারে।
২. এক্সিকিউটিভ ফাংশন (Executive Function): গবেষণায় দেখা গেছে (যেমন: ডক্টর এলেন বিয়ালিস্টক-এর স্টাডি), বহুভাষী শিশুদের ব্রেইনের 'এক্সিকিউটিভ ফাংশন' বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি হয়। একাধিক ভাষা সামলানোর সময় তাদের ব্রেইন সবসময় সচল থাকে, যা তাদের আইকিউ (IQ) বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. ভুল উচ্চারণ ও ফ্লুয়েন্সি: প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ভাষা শিখলে সাধারণত একটি দেশি টান (Accent) থেকে যায়। কিন্তু ৭ বছরের আগে ভাষা শিখলে বাচ্চা সেটি একদম স্থানীয় মানুষের মতো নির্ভুল উচ্চারণে বলতে পারে।
বাচ্চাকে কনফিউশন থেকে বাঁচানোর উপায়:
বাচ্চা যেন ভাষাগুলো গুলিয়ে না ফেলে, সেজন্য জনপ্রিয় একটি বৈজ্ঞানিক মেথড হলো 'One Person, One Language' (OPOL)।
উদাহরণস্বরূপ: বাবা সব সময় বাংলায় কথা বলবেন এবং মা সব সময় ইংরেজিতে।
এতে বাচ্চার ব্রেইন খুব দ্রুত আলাদা করে নিতে পারে কোন পরিস্থিতিতে কোন ভাষাটি ব্যবহার করতে হবে।
আমাদের জন্য শিক্ষা: বাচ্চার ওপর জোর না দিয়ে তাকে বিভিন্ন ভাষার অডিও, ভিডিও বা গল্পের বইয়ের সংস্পর্শে রাখুন। এটি তার জন্য কোনো চাপ নয়, বরং তার মস্তিষ্কের জন্য একটি চমৎকার ব্যায়াম।