কুকুর কামড়ালে তাৎক্ষণিক যা করবেন।
আপনার সচেতনতায় বাঁচবে একটি জীবন !!
পথে ঘাটে হঠাৎ ঘটে যেতে পারে দূ'র্ঘ'ট'না। কামড়াতে পারে কুকুর। কুকুরের কামড় অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক এবং মারাত্মক। কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে। রেবিস নামক ভাইরাস থেকে জলাতঙ্ক রোগ হয়ে থাকে। এটি একটি স্নায়ুজনিত রোগ।
রেবিস ভাইরাস কুকুরের লালা থেকে ক্ষতস্থানে লেগে যায় এবং সেখান থেকে স্নায়ুতে পৌঁছে এই রোগ সৃষ্টি হতে পারে। জলাতঙ্ক হলে স্নায়ুতে সমস্যা হয়ে থাকে। যার কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ দেখা দিতে পারে।
মস্তিষ্কে প্রদাহের সাথে খাদ্যনালীতে তীব্র সংকোচন হতে পারে। রোগী পানি দেখলেই ভয় পায়, যার কারণে এটার নাম হয়েছে জলাতঙ্ক। এছাড়া রোগী কোন আলো বা শব্দ সহ্য করতে পারে না।
এই সকল লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তবে কুকুর কামড়ালে প্রাথমিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। এই কাজগুলো করা হলে মারাত্মক আকার ধারণ করা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্ষত পরিষ্কার করুনঃ
প্রথমে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ক্ষতের স্থানটি চেপে ধরুন। তারপর কুকুরের কামড় দেওয়া স্থানে বেশি করে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা ভাল। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু দূর করে থাকে। তবে ক্ষত পরিষ্কার করার সময় খুব বেশি ঘষাঘষি করবেন না।
রক্ত বন্ধ করুনঃ
ক্ষত স্থানে চাপ দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
ব্যান্ডেজঃ
ক্ষতস্থানটিতে অ্যান্টিবায়েটিক ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে নিন। তারপর একটি গজ কাপড় দিয়ে ভাল করে ব্যান্ডেজ করে ফেলুন। ক্ষত স্থান খোলা থাকলে এতে বিভিন্ন রোগ জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
ডাক্তারের কাছে যাওয়াঃ
প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং তার পরামর্শে র্যাবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে। কুকুর কামড়ানোর পর অব্যশই র্যাবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে। কুকুর কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।
-সংগৃহীত।
কুকুর কামড়ানোর পর প্রথম ১৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক কী কী করবেন?
প্রায়ই দেখা যায় হঠাৎ রাস্তায় বা আশেপাশে কুকুরের আক্রমণের শিকার হন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে দেরি করলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কুকুরে কামড়ানোর পরপরই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, টিস্যুর ক্ষয় হতে পারে, এমনকি র্যাবিসের মতো প্রাণঘাতী রোগও দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কামড়ানোর পর প্রথম ১৫ মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নেওয়া দ্রুত ব্যবস্থা জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।
চলুন জেনে নিই প্রথম অবস্থায় কী কী করতে হবে:
১. রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করুন: যদি কামড়ে প্রচুর রক্তপাত হয়, তাহলে পরিষ্কার কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে আলতো চাপ দিন। তবে খুব বেশি জোরে চাপ দেবেন না; কারণ এতে ব্যাকটেরিয়া আরও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
২. ক্ষত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন: কামড়ানোর জায়গায় অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে পরিষ্কার পানি ঢালুন এবং হালকা সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চিকিৎসকদের মতে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে কুকুরের মুখের লালা, মাটি ও ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে যায়।
৩. অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করুন: ক্ষত ধোয়ার পর পভিডন আইোডিন, হাইড্রোজেন পারক্সাইড বা অ্যালকোহল ভিত্তিক জীবাণুনাশক লাগান। এটি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করে।
৪. ক্ষত ঢেকে রাখুন: স্টেরাইল গজ বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষত আলতো করে ঢেকে দিন। এতে বাইরের সংস্পর্শ থেকে ক্ষত সুরক্ষিত থাকবে। তবে গভীর ক্ষতের ক্ষেত্রে ব্যান্ডেজ খুব টাইট করে বাঁধবেন না। যতক্ষণ না চিকিৎসা পাচ্ছেন ততক্ষণ শুধু সুরক্ষিত রাখুন।
৫. চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন: ক্ষত ছোট মনে হলেও দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। কারণ কুকুরের কামড়ে র্যাবিস, টিটেনাস এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ডাক্তার প্রয়োজনে র্যাবিসের ভ্যাকসিন, টিটেনাস শট বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করবেন।
কেন সচেতনতা জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে কুকুরের কামড়ের পর গুরুতর জটিলতার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রথম ১৫ মিনিটেই সঠিক পদক্ষেপ নিন। এটাই জীবন রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
পানিশূন্যতার লক্ষ্মণ ও করণীয়
সামান্য পানিশূন্যতার লক্ষ্মণ:
• তৃষ্ণার্ত অনুভূতি
• খিটখিটে মেজাজ
• মাথা ব্যথা
• অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া
• মুখ শুকিয়ে যাওয়া
• মনোযোগে সমস্যা
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত পানি পান করুন।
মাঝারি পানিশূন্যতার লক্ষ্মণ:
• তীব্র মাথা ব্যথা
• মাথা চক্কর দেওয়া
• প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
• দ্রুত হৃৎস্পন্দন হওয়া
• শ্বাস নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়া
• রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া
এই লক্ষ্মণ গুলো দেখা দিলে দ্রুত ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রা*ণঘা&তী পানিশূন্যতার লক্ষ্মণ:
• উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর (১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি)
• চিন্তায় বিভ্রান্তি, প্রলাপ বকা
• খিচুনি
• জ্ঞান লোপ পাওয়া
এই লক্ষ্মণ গুলো দেখা দিলে-
➤দ্রুত ৯৯৯ কল করুন
➤পানি ঢেলে শরীর ঠাণ্ডা করুন
হাইড্রেটেড থাকার উপায়:
• পর্যাপ্ত পানি পান করুন, চলার পথে সঙ্গে রাখুন পানি
• শরীরচর্চা করার পর অথবা অতিরিক্ত ঘাম হলে ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় পান করুন
• পানিশূন্যতার আশঙ্কা থাকলে ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল পরিহার করুন
• বাইরে কাজ করতে হলে যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলুন (সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা)
• নাশতা হিসেবে রসালো ফল খাওয়া যেতে পারে
• অতিরিক্ত পানিশূন্যতা দেখা দিলে আইভি স্যালাইন ও মেডিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
মার্শফিল্ড ক্লিনিকের গাইডলাইন অবলম্বনে লিখেছেন এস এম তাহমিদ
আপানার সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারে এই প্রাথমিক চিকিৎসা
শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে (চকিং) কী করবেন– বয়স অনুযায়ী জরুরী প্রাথমিক চিকিৎসা:
খাবার গলায় আটকে গেলে শিশুর শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই সব বাবা-মায়ের উচিত এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত তা জানা ও প্রয়োগ করতে পারা। নিচে বয়স অনুযায়ী বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হলো:
০–১২ মাস বয়সী শিশু (শিশু এখনো হাঁটতে শেখেনি)
লক্ষণ:
কাশি বন্ধ হয়ে গেছে
মুখ নীলচে হয়ে গেছে
কোনো শব্দ করছে না বা শ্বাস নিতে পারছে না
প্রাথমিক চিকিৎসা (চেস্ট থ্রাস্ট ও ব্যাক ব্লো):
১। ব্যাক ব্লো (৫ বার):
শিশুকে হাতে নিয়ে তার বুক নিচের দিকে ও মাথা সামান্য নিচু করে রাখুন (উপুড় করে হাঁটুর উপর রাখতে পারেন)।
আপনার হাতের গোড়ালি অংশ দিয়ে পিঠের মাঝ বরাবর (কাঁধের মাঝখানে) ৫ বার থাপ দিন।
২। চেস্ট থ্রাস্ট (৫ বার):
শিশুকে চিত করে নিজের হাতে রাখুন,বা শক্ত জায়গায় শোয়ান মাথাটা যেন একটু নিচু থাকে, এবার বুকে (স্তনবৃন্তের ঠিক নিচে) ২ আঙুল দিয়ে ৫ বার নিচে চাপ দিন (প্রতিবার মাঝারি জোরে)।
যদি শিশু কোনো বস্তুকে বের করে না ফেলে ও নিঃশ্বাস না নেয়, তাহলে এই ব্যাক ব্লো ও চেস্ট থ্রাস্ট পালাক্রমে চালিয়ে যান যতক্ষণ না:
বস্তু বের হয়
শিশুটি নিঃশ্বাস নেয় বা
পেশাদার মেডিকেল সাহায্য আসে
১–৫ বছর বয়সী শিশু
প্রাথমিক চিকিৎসা (Heimlich Maneuver):
১। শিশুকে দাঁড় করান বা কোলে রাখুন।
২। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরুন (বড় শিশুর ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে), এক হাত দিয়ে মুষ্টি করুন ও নাভির একটু উপর অংশে রাখুন।
৩। অন্য হাত দিয়ে মুষ্টিটি ধরে হঠাৎ করে উপরের দিকে চাপ দিন ( দ্রুত ধাক্কা)। এটা ৫ বার করুন।
তবে খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে (১ বছরের কাছাকাছি), এই চাপ হালকা রাখতে হবে।
যখন জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে:
শিশুর জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে
কোনো প্রতিক্রিয়া নেই
খিঁচুনি শুরু হয়েছে
মুখ নীল বা ধূসর হয়ে গেছে
ঘন ঘন বমি বা গলা ফুলে যাচ্ছে
চকিং প্রতিরোধে সচেতনতা:
শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার টুকরো করুন
ছোট বীজ, বাদাম, আঙ্গুর, কাঁচা গাজর বা হার্ড ক্যান্ডি এড়িয়ে চলুন (৫ বছর বয়স পর্যন্ত)
শিশু হাঁটাহাঁটি বা খেলার সময় যেন কিছু মুখে না দেয়, খাওয়ার সময় যেন বসে থাকে
কখনোই শিশুকে শুয়ে শুয়ে খাওয়াবেন না
শিশুর সামনে ছোট বস্তু রাখা থেকে বিরত থাকুন (বোতামের ব্যাটারি, মার্বেল, কয়েন ইত্যাদি) হাতের একদম বাইরে রাখুন।
টিপস: CPR এবং choking প্রাথমিক চিকিৎসা শেখা প্রত্যেক পিতা-মাতার জন্য একটি দায়িত্ব। আপনি চাইলে এই বিষয়ে স্থানীয় কোনো কোর্সেও অংশ নিতে পারেন।
এই প্রাথমিক চিকিৎসা অনেক সময় একটা শিশুর প্রান বাঁচাতে পারে। আমরা বেশি বেশি সচেতন হই। ইউটিউবেও ভালো ভিডিও পেয়ে যাবেন,
নিজে জানুন, অন্যকে জানান।
-সংগৃহীত।